Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আগুনবেলা – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প575 Mins Read0
    ⤷

    দাউদাউ আগুন – ১

    এক

    এখানে রাত নামে সন্ধের গায়ে গায়ে। পক্ষটা যদি শুক্ল না হয় তাহলে অন্ধকার হামলে পড়ে। খানিক বাদেই চরাচর কুচকুচে অন্ধকার। রাত দশটার আগেই আলো নিভিয়ে যে যার বিছানায়। তারপর সেই সূর্য ওঠার সময় হওয়া পর্যন্ত শান্তির ঘুম।

    ওপাশে চায়ের বাগান এপাশে গঞ্জ। ছোটখাটো দোকান, কাঠ চেরাই-এর কল, একটা জুনিয়ার স্কুল, চায়ের দোকান, সেলুন এবং ভাটিখানা। গঞ্জের পেটকাটা রাস্তা দিয়ে আজকাল বাস যাচ্ছে সকাল থেকে সন্ধে। তাই দোকানপাট বাড়ছে, বাড়ছে লোকসংখ্যাও। ডাক্তারখানা বন্ধ করে যখন ডাক্তার বনবিহারী পথে নামেন তখন ঘুটঘুটে অন্ধকারে ছেয়ে গেছে পথঘাট। এই এলাকার পঁচিশ মাইলের মধ্যে একমাত্র চিকিৎসক হলেন তিনি। মানুষের সেবা করা হল একজন চিকিৎসকের ধর্ম। এই তত্ত্বে বিশ্বাস করেন বলেই বনবিহারী সংসারী হননি। যদ্দিন তাঁর মা জীবিত ছিলেন তদ্দিন তাঁকে সংসারী করার চেষ্টা করে গিয়েছিলেন। কিন্তু বনবিহারী তাঁকে বোঝাতে চেষ্টা করেছিলেন, ‘দ্যাখো, আমি তো আর পাঁচটা সংসারী মানুষের মতো সকালসন্ধে বাড়িতে বসে থাকতে পারি না। রাত দুপুরেও ডাক এলে ছুটতে হয় আমাকে। যাকে বউ করে এই সংসারে আনবে সে তো জ্বলে পুড়ে মরবে। তুমি আমার মা বলে যেটা মেনে নাও তা বাইরের মেয়ে মানবে কেন?’

    মা শেষ চেষ্টা করেছেন, ‘তোর কথা ঠিক হলে পৃথিবীর কোনও ডাক্তার বিয়ে করত না।’

    ‘অন্যেরা কীভাবে ম্যানেজ করে জানি না কিন্তু ডাক্তার হিসেবে আমার কাছে পেশেন্টের দাবি স্ত্রীর থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ।’ বনবিহারী বলেছিলেন।

    এসব অনেক আগের কথা। এখন মা নেই। বাড়ি সামলায় কালীচরণ। তাঁর থেকে বড়জোর বছর পাঁচেকের ছোট। তবে কালীচরণ বিয়ে করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বউ তাকে নেয়নি। ছাব্বিশ বছর আগে মায়ের আশ্রিত হয়ে এই বাড়িতে এসেছিল সে। এখন তার হাতেই সব ভার। সেসময় বনবিহারী তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘কালীচরণ, এতদিন শুনতাম, মেয়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে ফিরে এসেছে কারণ স্বামী তাকে নেয় না। কিন্তু কখনও কোনও স্বামীকে বউ নেয় না বলে একা থাকতে দেখিনি।’

    কালীচরণকে ঈশ্বর অবহেলা করেছেন। মুখাবয়ব অনেকেরই সুন্দর হয় না কিন্তু ওর পিঠে কুঁজ দেওয়ার কি প্রয়োজন ছিল তাঁর? সেই সঙ্গে বাঁ-পা সামান্য ছোট করে দিয়েছেন বলে বেচারাকে লেংচে হাঁটতে হয়। কালীচরণের বাবার চায়ের দোকান ছিল সদরে। ভালো বিক্রি হত। তিন ভাই মিলে বাবাকে সাহায্য করত। বড় ছেলে কালীকে সংসারী করতে পাত্রী খুঁজলেন তার বাবা। হিরের আংটি বাঁকা হলেও তার মূল্য কমে না বলে শেষ পর্যন্ত এক গরিব বাপের মেয়েকে পাওয়া গেল। বিয়ের পরই মেয়ের বিরূপ প্রতিক্রিয়া শুরু হল। সে স্বামীর সঙ্গে একসঙ্গে শোবে না। বছর খানেকের মধ্যে কালীচরণের বাবা মারা যেতেই বউ তার দেওরের প্রেমে পড়ে গেল। এবং এ ব্যাপারে তার লাজলজ্জা ছিল না। দেওরও বউদিকে বউ ভাবতে পছন্দ করল। একটুও প্রতিবাদ করেনি কালীচরণ। চুপচাপ সংসার ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিল পথে। ভাসতে-ভাসতে এসে ঠেকেছিল এই গঞ্জে। বনবিহারী তখন তরুণ ডাক্তার। এই গঞ্জের প্রথম। তাঁর ডাক্তারখানায় তখন দু-বেলা ভিড়। একদিন কয়েকজন ধরাধরি করে নিয়ে এল কালীচরণকে। অসুস্থ, ধুঁকছে। লোকটা নাকি দিন চারেক এই গঞ্জে এসেছে। কাজ চেয়েছিল কয়েকটা দোকানে, কিন্তু চেহারা দেখে কেউ তাকে পছন্দ করেনি। বনবিহারী পরীক্ষা করে বুঝলেন কয়েকদিন অভুক্ত থাকায় ওর ওই অবস্থা হয়েছে। বাড়ি নিয়ে গিয়ে একটু-একটু করে খাবার দেওয়ার পর কালীচরণ দুদিনেই চাঙ্গা হয়ে উঠল। ওর সঙ্গে কথা বলে মা খুব খুশি। থেকে গেল সে এই বাড়িতে।

    প্রশ্ন শুনে কালীচরণ ম্লানমুখে বলেছিল, ‘সবার কপাল তো সমান হয় না বাবু। ওসব নিয়ে আর আমি ভাবি না।’

    ছোট্ট টর্চটার ব্যাটারির আয়ু প্রায় শেষ। বনবিহারীর বেশ খিদে পেয়ে গিয়েছিল। দুপাশে কোনও দোকান খোলা নেই। সেই দুপুরের পর আর খাওয়া জোটেনি। হনহনিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন বাড়ির দিকে। এখন রাত্রে জলে সামান্য শিরশিরানি এলেও স্নান করবেন প্রথমে। তারপর কালীচরণের হাতে গড়া তিনটি রুটি, ডাল আর আলুর তরকারি। রাত্রে মাছ-ডিম খেতে চান না তিনি।

    খিদে পেলেও মন প্রফুল্লও ছিল তাঁর। শেষ পর্যন্ত জমিটার টাকা পাওয়া গেল। মুখার্জির শ-মিলের পেছনে আগাছায় ভরতি হয়ে পনেরো বিঘে জমি পড়েছিল আদ্যিকাল থেকে। তিন শরিকের ঝগড়ায় জমি বিক্রি হচ্ছিল না। অথচ ওই জমি ছাড়া পিচরাস্তার কাছাকাছি আর কোনও বড় জমি এই গঞ্জে নেই যেখানে একটা হেলথ সেন্টার খোলা যায়। গত দশ বছর ধরে অনেকবার বনবিহারী ছুটাছুটি করেছেন সদরে। সরকারি কর্তাদের বোঝাতে চেয়েছেন এই গঞ্জে একটি হেলথ সেন্টারের প্রয়োজন কতখানি? শেষ পর্যন্ত কর্তারা রাজি হয়েছেন একটা শর্তে। জমি তাঁদের হাতে তুলে দিতে হবে বিনামূল্যে, বাকিটা তাঁরা করে নেবেন। পনেরো বিঘের দাম যা তিন শরিক শেষ পর্যন্ত মিলিত হয়ে দাবি করল তার পরিমাণ প্রচুর। বনবিহারী সঞ্চয়ী নন। চিকিৎসা করে মোটা ফি নেওয়া দূরের কথা, যে যা দেয় তাতে না বলেন না। অনেকে দিতেও পারে না। কাঠ চেরাই কলের মালিকেরা যে ডোনেশন দিয়েছিলেন তাতে অর্ধেক দাম হয়েছিল। বাকিটা তিন বছরে রুগিদের কাছ থেকে নিয়েছেন বনবিহারী। অসুখ সেরে গেলে রুগিকে অন্তত দু’টাকা জমিকেনার বাক্সে ফেলতে হবে। আজ গঞ্জের বড় মাড়োয়ারি ব্যবসায়ী এসে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, বাকি টাকাটা তিনি দিয়ে দিতে রাজি আছেন যদি তাঁর মায়ের নামে হেলথ সেন্টারের পরিচিতি হয়। বনবিহারী বলেছিলেন, ‘আপনার সেন্টিমেন্ট বুঝতে পারছি। কিন্তু এতদিন ধরে যাঁরা চাঁদা, ডোনেশন দিয়েছেন, তাঁদের কি জবাব দেব আমি?’

    ‘তাদের বলুন, আমি তো বেশির ভাগ টাকাই দিচ্ছি।’ ব্যবসায়ী বলেছিলেন।

    ‘না ভাই। এ ব্যাপারে সবাই সমান। এই গঞ্জের নামেই হেলথ সেন্টার হবে। হয়তো আমি দেখে যেতে পারব না, পরে কেউ না কেউ করবে।’

    ব্যবসায়ী কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থেকে উঠে দাঁড়িয়েছিলেন, ‘আপনি আজব লোক তা জানি। কিন্তু এতটা আজব তা জানতাম না। ঠিক আছে, টাকাটা পাবেন।’

    মাথার ওপর থেকে একটা পাহাড় নেমে গেল যেন। এর পরে আজ যত রুগি এসেছে তাদের কারও কাছ থেকে ফি নেননি। বলেছিলেন, ‘আমাকে যা দিতে ইচ্ছে করছে তা আজ ওই হেলথ সেন্টারের বাক্সে ফেলে দাও।’

    স্নান সেরে খেতে বসলেন বনবিহারী। মাটিতে আসন পেতে খাওয়াই তাঁর পছন্দ। তাতে তাড়াতাড়ি হজম হয়। রুটির টুকরো ডালে ভিজিয়ে মুখে পুরে বললেন, ‘কালী, আজ আমার স্বপ্ন সার্থক হয়েছে। জমির দাম দিতে আর অসুবিধে হবে না। বুঝলি!’

    ‘বুঝলাম। কিন্তু রাত প্রায় বারোটা বাজে।’

    ‘অ।’ একটু হোঁচট গেলেন বনবিহারী, ‘তুই নিশ্চয়ই খেয়ে নিয়েছিস?’

    কালীচরণ জবাব না দিয়ে রান্নঘর গোছাতে চলে যেতেই বাইরের দরজায় শব্দ হল। সেই সঙ্গে গলা শোনা গেল, ‘ডাক্তারবাবু! ডাক্তারবাবু!’

    বনবিহারী ব্যস্ত হলেন। কালীচরণকে ডাকার কথা ভেবে শেষ পর্যন্ত নিজেই এঁটো হাতে উঠে বাইরের ঘরের দরজা খুললেন। দুটি ছেলেকে ঘর থেকে বেরিয়ে আসা আলোয় আবছা দেখে তিনি চিনতে পারলেন না।

    বনবিহারী জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কি হয়েছে?’

    ‘আপনি ডাক্তারবাবু?’ ছেলেদের একজন জিজ্ঞাসা করল।

    হেসে ফেললেন বনবিহারী। এই এলাকা তো বটেই, আশেপাশের যে-কোনও মানুষ তাঁকে ভালো ভাবে চেনে। এরা নিশ্চয়ই বাইরের ছেলে। বললেন, ‘কি দরকার, বলতে পারো।’

    ‘আপনাকে এক্ষুনি যেতে হবে। একজন খুব অসুস্থ।’ দ্বিতীয় ছেলেটি বলল।

    ‘কোথায়?’

    ‘নাথুয়ার রাস্তায়।’

    ‘কি হয়েছে তাঁর?’

    ‘আমরা ঠিক বুঝতে পারছি না।’

    ‘তোমরা কারা?’

    ‘আমরা ওর বন্ধু। প্লিজ কথা বলে সময় নষ্ট করবেন না। চলুন।’

    একটু দাঁড়াও।’

    বনবিহারী হাত ধুয়ে ফেলে জামা গলালেন মাথায়। কালীচরণ ছিটকে এল তাঁর সামনে, ‘একি! না খেয়ে যাচ্ছেন যে! না না। আগে খেয়ে নিন।’

    ‘ওদের তাড়া আছে। নিশ্চয়ই কেউ খুব অসুস্থ।’ ব্যাগটা নিলেন তিনি, ‘ওগুলো তুলে রাখো। আমি যাব আর আসব।’

    দরজার দিকে এগোলেন বনবিহারী।

    কালীচরণ পেছন-পেছন বেরিয়ে এসে বলল, ‘বাবুকে আপনারা খেতেও দিলেন না।’

    বনবিহারী বিরক্ত হয়ে বললেন, ‘আঃ, থামো তো।’ তারপর গলার স্বর বদলে বললেন, চলো।’

    দুটো সাইকেল পাশে রাখা ছিল। সে দুটোয় দুজন উঠে বসল। একজন বলল, ‘উঠুন।’

    ‘সাইকেলে?’ বনবিহারী ইতস্তত করল।

    ‘অনেকটা পথ। হেঁটে গেলে অনেক দেরি হয়ে যাবে।’

    ‘ও।’

    সেই অন্ধকার মধ্যরাতে বনবিহারীকে সাইকেলের রডে বসিয়ে ছেলেটি বেশ জোরেই প্যাডেল ঘোরাতে লাগল। ঘুমন্ত গঞ্জের মধ্যে দিয়ে, স্কুলের মাঠ পেরিয়ে, শ-মিলগুলোকে ডিঙিয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই সাইকেল দুটো ঢুকে পড়ল খুঁটিমারির জঙ্গলে। তারপর বড় রাস্তা ছেড়ে সরু জঙ্গুলে পথ দিয়ে সাইকেল চলল কিছুক্ষণ। হঠাৎ সামনে চলা সাইকেলের ছেলেটি চিৎকার করল, ‘আমরা। ডাক্তার নিয়ে আসছি।’ সঙ্গে-সঙ্গে কিছু পাখি ডেকে উঠল, কাঁচা ঘুম ভাঙা বানরগুলো বিরক্ত হয়ে চেঁচিয়ে নিল খানিক। সাইকেল থামল একটা বাতিল কাঠের ঘরের সামনে। সেখানে এই অন্ধকারেও আরও দুটো ছেলেকে দেখা যাচ্ছিল।

    সাইকেলের রডে বসে কোমরে ব্যথা জন্মেছিল, বনবিহারীর কয়েক সেকেন্ড লাগল শরীরটাকে সচল করতে। দাঁড়িয়ে থাকা ছেলে দুটোর একজন বলল, ‘আপনাকে এখানে আসার জন্যে ধন্যবাদ। আসুন।’

    মাথা নীচু করে বনবিহারী ছেলেটির সঙ্গে ভেতরে ঢুকে দেখলেন একটা কুপি জ্বলছে। ঘরের এককোণে বাঁশের মাচার ওপর শুয়ে আছে যে তার পরনে শালোয়ার কামিজ। পেট ভয়ঙ্কর উঁচু। ওরা ঘরে ঢোকামাত্র মেয়েটি কাতরে উঠল, ‘আঃ।’

    ‘কি হয়েছে?’ বনবিহারী মেয়েটিকে লক্ষ করছিলেন।

    ‘বাচ্চা হবে। কিন্তু হচ্ছে না। একটু আগে খুব যন্ত্রণা পেয়ে চিৎকার করছিল।’

    ‘এখানে ফেলে রেখেছ কেন?’

    ‘অন্য কোথাও নিয়ে যাওয়ার উপায় নেই, তাই।’

    ‘আমি ওকে পরীক্ষা করব। বাইরে যাও।’ গম্ভীর গলায় বললেন বনবিহারী।

    ছেলেটি দ্রুত বাইরে চলে গেল। বনবিহারী মেয়েটির কাছে গেলেন। প্রচণ্ড ঘেমে গেছে মেয়েটি। জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কখন থেকে যন্ত্রণা হচ্ছে?’

    মেয়েটি একবার তাঁর দিকে তাকাল, তারপর অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে দাঁতে দাঁত চাপল।

    এই গঞ্জ এলাকায় শিশু জন্মায় আঁতুর ঘরে। গ্রাম্য দাই সেই সময় সাহায্য করে। যাদের মনে আশংকা আছে তারা কিছুকাল আগে সদরে গিয়ে হাসপাতালের সাহায্য নেয়। এই প্রসব সংক্রান্ত ব্যাপারে বনবিহারীর কোনও ভূমিকা সচরাচর থাকে না। তিনি ডাক্তার জানা সত্ত্বেও এটা তাঁর বিষয় নয় তা এলাকার মানুষ জেনে গেছে।

    আজ একটু অসহায়বোধ করলেন বনবিহারী। তিনি অনুমান করছেন, মেয়েটির প্রসব যন্ত্রণা যদি শুরু হয়ে গিয়ে থাকে তাহলে শিশুর জন্মপথ সংকীর্ণ হওয়ায় বেরুনো সম্ভব হচ্ছে না। যদি হাড়ের গঠনের কারণে শিশু বেরিয়ে না আসতে পারে তাহলে একমাত্র উপায় মায়ের পেট কেটে ওকে বের করে আনা। সেটা সদরের হাসপাতাল ছাড়া সম্ভব নয়। বনবিহারী পরীক্ষা করে দেখলেন মেয়েটির শালোয়ার সিক্ত হয়নি। অর্থাৎ এখনও কিছু সময় পাওয়া যাবে। তিনি বাইরে এসে দাঁড়াতেই সেই ছেলেটি এগিয়ে এল। এই অন্ধকার জঙ্গলে এখন আকাশের আলো একটি ভৌতিক পরিবেশ তৈরি করেছে। ছেলেটির মুখাবয়ব স্পষ্ট নয়। বনবিহারী বললেন, ‘আর দেরি না করে এখনই সদরের হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।’

    ছেলেটি হাসল, অল্প শব্দ হল, ‘আপনি অবাস্তব কথা বলছেন।’

    ‘তার মানে?’

    ‘হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া যদি সম্ভব হত তাহলে আপনাকে বিরক্ত করতাম না।’

    ‘কিন্তু হাসপাতাল ছাড়া ও বাঁচবে না। ওর এখনই অপারেশন দরকার।’ বনবিহারী বিরক্ত হলেন এবার। ‘আমি বুঝতে পারছি না এর মধ্যে অবাস্তবতা কোথায়? একটা গাড়ি জোগাড় করে ওকে নিয়ে গেলে কত সময় লাগবে?’

    মাথা নাড়ল ছেলেটি, ‘প্রথম কথা আমাদের পক্ষে এত রাত্রে গাড়ি জোগাড় করা সম্ভব নয়। জঙ্গলে কারও গ্যারাজ নেই। গঞ্জে যাদের গাড়ি আছে তারা এতরাত্রে বিশ্বাস করবে না আমাদের, কারণ আমরা অপরিচিত। গায়ের জোরে হয়তো ওদের গাড়ি দিতে বাধ্য করতে পারি, কিন্তু সেটা বোকামি হবে। তাছাড়া আমাদের পক্ষে ওকে নিয়ে সদরে যাওয়া আত্মহত্যার সামিল হবে।’

    হঠাৎ মেয়েটি আর্তনাদ করে উঠল। কোনও কথা নয়, একটা জান্তব ধ্বনি ওই ঘর থেকে ছিটকে জঙ্গলে ছড়িয়ে পড়ছে। দুটো ছেলে দ্রুত ঢুকে গেল ভেতরে। তারপরেই বোঝা গেল ওরা ওর মুখ চেপে ধরেছে।

    বনবিহারী এবার প্রশ্ন করলেন, ‘তোমরা কারা? এই জঙ্গলে লুকিয়ে আছ কেন? এই মেয়েটি কি তোমাদের কারও স্ত্রী?’

    যে ছেলেটি কথা বলছিল সে মাথা নাড়ল, ‘আপনি একসঙ্গে অনেক প্রশ্ন করে ফেলেছেন। প্রথম দুটো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন মনে করছি না। তৃতীয় প্রশ্নের জবাবে বলছি, ও আমাদের কারও স্ত্রী নয়। ও অবিবাহিতা। ধরে নিচ্ছি আমাদের কেউ ওর ভাবী সন্তানের বাবা। কেউ যখন স্বীকার করতে চাইছেই না, তখন আমরা শিশুর জন্যে অপেক্ষা করছি। বাবার চেহারার আদল কিছুটা হলেও যদি সন্তানের মধ্যে থাকে তাহলে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আপনি এক কাজ করুন। গঞ্জে গিয়ে গাড়ি চাইলে যে কেউ আপনাকে খুশি হয়ে দিয়ে দেবে। সেই গাড়িতে আমরা ওকে তুলে দিচ্ছি। আপনি সদরের হাসপাতালে ওকে নিয়ে যান।’

    ‘আমি?’

    ‘আমরা শুনেছি আপনি মানুষের উপকার করেন।’

    ‘কিন্তু আমি একে চিনি না। এই জঙ্গলের গভীরে ও এই অবস্থায় কেন পড়ে আছে তাও আমার অজানা। কিন্তু মেয়েটি এই অবস্থায় এখানে থাকলে নির্ঘাত মারা যাবে। ওর কথা একবার ভাবো।’

    ‘ভাবছি বলেই আপনাকে ডেকে এনেছি।’ ছেলেটি বলল, ‘আপনার কাছে আমাদের অনুরোধ ওকে সদরের হাসপাতালে ভরতি করিয়ে দিন। ও যদি এখানে মারা যায় তাহলে আপনি দায়িত্ব এড়াতে পারবেন না।’

    ‘তোমরা কি পুলিশের ভয়ে এখানে লুকিয়ে আছ?’

    ‘ভয়ে নয়। ধরা দিয়ে ওদের সুবিধে করে দিতে চাই না।’

    গোঙানি একটু কমেছিল, আচমকা বেড়ে গেল।

    বনবিহারী আর পারলেন না। বললেন, বেশ। আমাকে গঞ্জে পৌঁছে দাও। দেখি গাড়ির জোগাড় করতে পারি কিনা।’

    ছেলেটির নির্দেশে একজন সাইকেলে বসিয়ে বনবিহারীকে নিয়ে গঞ্জে চলে এল। এখন মধ্যরাত। চারধার নিস্তব্ধ। বনবিহারীর কথামতো তাঁকে একজন করাতকলের মালিকের বাড়ির সামনে সাইকেল থেকে নামিয়ে দিয়ে ছেলেটি বলল, ‘একটা কথা আপনাকে বলা দরকার। আপনার সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে বুঝেছি যে আপনাকে বিশ্বাস করা যায়। কিন্তু আপনি যদি বিশ্বাসঘাতকতা করেন তাহলে আগামীকাল দিনের আলো ফুরোবার আগেই আপনাকে মারতে বাধ্য হব।’ কথাগুলো বলে সাইকেল ঘুরিয়ে ছেলেটি অন্ধকারে মিলিয়ে গেল।

    ব্যাপারটা বনবিহারী এতক্ষণে বুঝে গিয়েছিলেন। দেশজুড়ে সরকার বিরোধী যে সশস্ত্র আন্দোলন বিক্ষিপ্তভাবে চলছে তার খবর তিনি রাখেন, কিন্তু এই তল্লাটে সেরকম ঘটনা এখনও ঘটেনি। স্কুল পোড়ানো, মূর্তি ভাঙা, সেপাইদের গলা কাটা, জোতদারদের খুনের ঘটনা মানুষের আর পছন্দ হচ্ছে না। ওরা যে এত কাছের জঙ্গলে আস্তানা গেড়েছে এই খবরটাই অজানা ছিল। কিন্তু আগামীকাল ওরা মেরে ফেলতে পারে তাঁকে এই ভয়ে তিনি ভীত নন। এখন বাড়ি ফিরে বিছানায় শুলেও তিনি ঘুমোতে পারবেন না। যন্ত্রণাকাতর মেয়েটি তাঁকে কিছুতেই ঘুমাতে দেবে না। ওকে হাসপাতালে না নিয়ে যাওয়া পর্যন্ত তাঁর শান্তি নেই।

    অন্ধকার বাড়ি। দরজায় ধাক্কা দিচ্ছিলেন বনবিহারী। বেশ কিছুক্ষণ বাদে একটা গলা শোনা গেল, জানতে চাইছে কে?

    বনবিহারী চেঁচিয়ে বললেন, ‘আমি ডাক্তারবাবু।’

    যে লোকটি দরজা খুলল তাকে এ বাড়ির গাড়ি চালাতে দেখেছেন তিনি। বললেন, ‘জানি পালমশাই ঘুমাচ্ছেন। কিন্তু উপায় নেই, ওঁকে খবর দাও।’

    মিনিট তিনেক বাদে হন্তদন্ত হয়ে বলরাম পাল নেমে এলেন লুঙ্গির গিঁট আঁটতে-আঁটতে। খুব অবাক হয়ে বললেন, ‘কি ব্যাপার? আপনি! এখন!’

    ‘খুব বিপদে পড়ে বাধ্য হয়েছি আসতে।’

    ‘সে তো বুঝতেই পারছি।’

    ‘আপনার গাড়িটাকে পাওয়া যাবে? একজন পেশেন্টকে বাঁচাতে হলে এখনই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া দরকার।’

    নিশ্চয়ই। শম্ভু! গাড়ি বের করে ডাক্তারবাবু যেখানে যেতে বলবেন সেখানে যাও। আপনি কোনও দ্বিধা করবেন না। যান।’

    ‘ধন্যবাদ। কিন্তু আপনি জিজ্ঞাসা করলেন না পেশেন্ট কে?’

    ‘আপনি কারও উপকার করতে চাইছেন যার গাড়ি নেই। আমি তো আপনাকে জানি। তাহলেই হবে।’ পালবাবু বললেন।

    বনবিহারী মাথা নাড়লেন, ‘তবু আপনাকে জানানো আমার কর্তব্য। একটি আসন্নপ্রসবা মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে অপারেশন না করালে সে মারা যাবে। তাই আমি তাকে নিয়ে যেতে আপনার সাহায্য চাইলাম। মেয়েটির সঙ্গে আমার কোনও পূর্ব পরিচয় নেই।’

    ‘ও। ঠিক আছে। আর দেরি করবেন না। শম্ভু গাড়ি বের করে ফেলেছে।’

    গাড়ি চালু করে পাশে বসা বনবিহারীকে শম্ভু জিজ্ঞাসা করল, ‘কোনদিকে যাব?’

    ‘খুঁটিমারি ফরেস্টে। ওখানেই পেশেন্ট আছে।’

    সেদিকে গাড়ি ঘোরাল শম্ভু। লোকালয় ছাড়বার পরে জঙ্গলে ঢোকার মুখে ছোট্ট সেতুর মুখে দুটো সাইকেলে তিনটি মুর্তি দেখা গেল গাড়ির হেডলাইটে। ছেলে দুটো হাত নেড়ে থামতে বলছিল। তৃতীয়জন মাটিতে বসেছিল। গাড়ি থামামাত্র ওরা পেছনের দরজা খুলে বসে থাকা মেয়েটিকে সন্তর্পণে তুলে দিয়ে বলল, ‘শো, শুয়ে পড়।’

    তারপর দরজা বন্ধ করে বনবিহারীকে বলল, ‘কৃতজ্ঞ থাকলাম।’

    বনবিহারী জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোমরা কেউ যাবে না?’

    ‘সম্ভব নয়। আপনি তো আছেন। ও হ্যাঁ, এটা রাখুন।’ ছেলেটি পকেট থেকে কিছু টাকা বের করে এগিয়ে ধরল।

    তোমরা যখন যাচ্ছ না তখন আর ওগুলো আমাকে দিচ্ছ কেন?’

    ‘হাসপাতালেও তো মিনিমাম খরচ লাগবে অপারেশনের জন্যে।’

    বনবিহারী বললেন, ‘শম্ভু, গাড়ি ঘুরিয়ে সোজা সদরে চল।’

    শম্ভু বলল, ‘ডাক্তারবাবু, ছোটমুখে বড় কথা বলছি বলে কিছু মনে করবেন না। ওরা যখন দিতে পারছে তখন নেবেন না কেন? নইলে তো আপনাকেই দিতে হবে। আর যদি পুরোটা খরচ না হয় আমাদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ফান্ডে চাঁদা বাবদ দিয়ে দেবেন। টাকাটা নিন।’

    অতএব নিতান্ত অনিচ্ছায় টাকা নিলেন বনবিহারী।

    শম্ভু গাড়ি ঘুরিয়ে সদরমুখো হল।

    কিছুক্ষণ পরে মেয়েটি আবার গোঙাতে লাগল। নির্জন রাস্তা, দুপাশে জঙ্গল, চাষের মাঠ আর গাড়ির ইঞ্জিনের শব্দ ছাপিয়ে ওঠা মেয়েটির যন্ত্রণার শব্দ অদ্ভুত পরিবেশ তৈরি করছিল। শম্ভু গম্ভীর মুখে গাড়ি চালাচ্ছে। ওর দিকে একবার তাকিয়ে চোখ বন্ধ করলেন বনবিহারী। মেয়েটি কে, ছেলেগুলো কোত্থেকে এল এসব স্বাভাবিক প্রশ্ন শম্ভু একবারও করেনি। পালবাবু একজন বুদ্ধিমান ড্রাইভার পেয়েছেন।

    যে-কোনও হাসপাতালেই ভোরের দিকে ঘুমঘুম ভাব জড়ানো থাকে। মফস্বলের হাসপাতালে তো কথাই নেই। বনবিহারীর আশংকা হচ্ছিল গর্ভস্থ শিশুর চারপাশে যে জলের আড়াল আছে তা যদি ভেঙে যায় তাহলে ওকে জীবিত অবস্থায় বের করা খুব মুশকিল হয়ে পড়বে।

    সদরে পৌঁছতে প্রায় ভোর। হাসপাতালের আলোগুলো এখন হলুদ। চারধার চুপচাপ। গাড়ি থেকে নেমে দ্রুত ইমার্জেন্সিতে চলে গেলেন বনবিহারী। সেখানে একটি তরুণ ডাক্তার চেয়ারে বসেই ঘুমাচ্ছিলেন। তাঁকে ডেকে তুলে পেশেন্টের কথা জানালেন। তরুণ ডাক্তার বললেন, ‘সকাল দশটার আগে কিছুই করা যাবে না।’

    ‘কেন?’

    ‘অপারেশন যিনি করবেন তিনি শহরে ওই সময় ফিরবেন।’

    ‘ততক্ষণ তো পেশেন্ট বাঁচবে না।’

    এইসময় একজন পিওন গোছের লোক ঘরে ঢুকে বনবিহারীকে দেখতে পেয়ে কাছে এগিয়ে এল, ‘ডাক্তারবাবু আপনি এখানে? কি হয়েছে?’

    বনবিহারী সংক্ষেপে সমস্যার কথা জানালেন। লোকটা তরুণ ডাক্তারকে বলল, ‘উনি শুধু ডাক্তারই নন, এই জেলার সবাই ওঁকে শ্রদ্ধা করে। আপনি নতুন এসেছেন বলে ওঁকে জানেন না। ওঁকে ফিরিয়ে দিলে বড় সাহেবরা খুব অসন্তুষ্ট হবেন।’

    তরুণ ডাক্তার বললেন। ‘ও। আমি ভরতি করে নিচ্ছি। কিন্তু আপনি বললেন অপারেশন করতে হবে, সেটা তো এখনই সম্ভব নয়।’

    ‘কেন?’

    ‘সার্জেন আসবেন দশটার পরে। অ্যানাসথেসিস্টকে খবর দিয়ে আনতে হবে। অপারেশন থিয়েটার রেডি করতেও সময় লাগবে।’

    ‘কেন? এখানে রোজ অপারেশন হয় না?’ বনবিহারী জিজ্ঞাসা করলেন।

    ‘গতকাল হয়নি।’

    পিওনটি বলল, ‘আপনি এদিকের ব্যবস্থা করুন, আমি ওকে ভেতরে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করছি।’

    মেয়েটিকে ভেতরে নিয়ে যাওয়া হল। সমানে ককিয়ে কেঁদে এখন বোধহয় সেই শক্তিটাও হারিয়ে ফেলেছে।

    হাসপাতালের খাতায় পেশেন্টের নাম লেখার সময় বিপদে পড়লেন বনবিহারী। মেয়েটির নাম ওরা তাঁকে বলে দেয়নি। অত ভোরে কাজ করতে হচ্ছে বলে কিছুটা বিরক্ত কেরানিটি বনবিহারীর পরিচয় শুনে কলম ধরেছিল, সে অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করল, ‘পেশেন্টকে নিয়ে এসেছেন অথচ তার নাম আপনি জানেন না?’

    ‘এটা সত্যি কথা। আমি জানি না।’

    ‘ঠিকানা?’

    ‘আমি খুঁটিমারি জঙ্গলের ভেতরে ওকে এই অবস্থায় প্রথম দেখি। ওই জঙ্গল নিশ্চয়ই ওর ঠিকানা হতে পারে না। না, ঠিকানাও জানি না।’ মাথা নাড়লেন বনবিহারী।

    ‘আশ্চর্য! ডাক্তারবাবু, ধরুন পেশেন্ট মারা গেল, তাহলে আমরা কী জবাব দেব? তখন তো হাতে দড়ি পড়বে। আপনার নাম আমি শুনেছি কিন্তু এই কাজটা ঘোরতর অন্যায় বলে কি মনে হচ্ছে না আপনার?’ কেরানি জিজ্ঞাসা করল।

    ‘তাহলে কি করা যায়?’ বনবিহারী চিন্তিত।

    ‘এমন অচেনা পেশেন্টকে আপনি বাঁচাতে চাইছেন কেন?’

    কোনও মানুষকে বিনা চিকিৎসায় মরে যেতে আমি দিতে পারি না।’

    ‘তাহলে কোনও নার্সিংহোমে নিয়ে যান অথবা মিথ্যে কথা বলুন।’

    ‘তার মানে?’

    ‘নার্সিংহোমে গেলে ওরা বেশি টাকা নিয়ে অপারেশন করে দেবে। আর আপনি যদি ওর নামধাম মিথ্যে করে এখানে বলেন তাহলে আমি তাই খাতায় লিখে নেব। অপারেশন হয়ে যাবে।’ কেরানি উপদেশ দিল।

    ‘নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়ার টাকা আমার কাছে নেই। ওরা আমাকে এই টাকা দিয়েছে।’ টাকাগুলো গুনলেন বনবিহারী, ‘বারোশো টাকা। আপনি এক কাজ করুন। পুলিশকে ব্যাপারটা জানান।’

    ‘পুলিশ? পুলিশ কিন্তু আপনাকে জড়াবে!’

    ‘কী করা যাবে? তাতে যদি মেয়েটি বাঁচে তাহলে আমার আপত্তি নেই।’ এইসময় একজন নার্স এসে বলল, ‘ডেলিভারি কেস কে নিয়ে এসেছেন?’

    বনবিহারী মাথা নাড়লেন, ‘আমি।’

    ‘পেশেন্টের অবস্থা খুব খারাপ। এখনই কিছু না করলে বাঁচানো যাবে না। খুব গম্ভীর গলায় ঘোষণা করল নার্স।

    অসহায় চোখে তাকালেন বনবিহারী। এইসময় আর একজন ডাক্তার যিনি এখন দায়িত্বে আছেন, এগিয়ে এলেন। নার্স বলল, ‘ওনার পেশেন্ট।’

    ভদ্রলোক বললেন, ‘দেখুন, দশটার আগে তো এখানে কিছু করা সম্ভব নয়। আপনি ওকে ইমিডিয়েটলি কোনও নার্সিংহোমে নিয়ে যান।’

    নার্স বলল, ‘এই অবস্থায় নেওয়া খুব ঝুঁকি হয়ে যাবে। তাছাড়া সেখানে গিয়ে ডাক্তার জোগাড় করে ব্যবস্থা করতেও তো সময় লাগবে।’

    বনবিহারী এগিয়ে গেলেন, ‘দেখুন, আমি একজন ডাক্তার। আপনিও। আমি জেনারেল প্র্যাকটিস করি, সার্জারির সঙ্গে অনেককাল সম্পর্ক নেই। কিন্তু এই রকম ক্ষেত্রে, যেখানে মরাবাঁচার প্রশ্ন, সেখানে কিছুটা চেষ্টা তো করতে পারি!’

    অন্য ডাক্তারটি ইতস্তত করতে লাগলেন। তারপর বললেন, ‘আপনি সরকারি ডাক্তার নন। আপনাকে যদি অপারেশন থিয়েটারে কাজ করতে দেওয়া হয় তাহলে কর্তৃপক্ষ আমার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেবে। তারপর পেশেন্ট যদি মারা যায় তাহলে তো কথাই নেই। তাছাড়া আপনি অ্যানাসথেসিস্টকে তো পাচ্ছেন না এখন।’

    এইসময় একটি আয়া গোছের মহিল ছুটে এসে বলল, ‘বাচ্চার মাথা দেখা যাচ্ছে, কিন্তু বেরুচ্ছে না।’

    বনবিহারী উত্তেজিত গলায় বললেন, ‘আর সময় নষ্ট করবেন না। ওদের ওটিতে নিয়ে চলুন। মাথা দেখা যাচ্ছে যখন তখন ফরসেপে চেষ্টা করা যাক।’

    ডাক্তার বেশ নার্ভাস হয়ে গিয়ে মাথা নেড়ে ইশারা করলেন নার্সকে। নার্স ছুটে গেল।

    পাঁচ মিনিটের মাথায় ওরা মেয়েটিকে ঘিরে অপারেশন টেবিলের সামনে দাঁড়িয়েছিল। মেয়েটি এখন নিঃসাড়ে পড়ে আছে। বনবিহারী ওর পালস দেখলেন। খুব দুর্বল। তিনি ওকে জাগাবার চেষ্টা করলেন।

    নার্স ফরসেপ রেডি করছিল। ডাক্তার ভদ্রলোক সেটা হাতে নিয়ে শিশুকে গর্ভ থেকে বের করার চেষ্টা শুরু করলেন।

    বনবিহারী বললেন, ‘সতর্ক থাকবেন। যদি নাড়ি শিশুর গলায় জড়িয়ে গিয়ে থাকে তাহলে বিপদ হবে।’

    প্রায় পনেরো মিনিট ধৈর্য ধরে চেষ্টার পরে মাথাটা বের করে আনতে পারল যন্ত্র। না, গলায় নাড়ি জড়িয়ে নেই। ধীরে-ধীরে বাকি শরীর বাইরে আনার পর ডাক্তারের মুখে হাসি ফুটল। হাসিমুখে নার্স বাচ্চাটাকে তোয়ালেতে জড়িয়ে একটু চেষ্টা করতেই শিশু কেঁদে উঠল।

    বনবিহারী দেখলেন মেয়েটি ধীরে ধীরে চোখ খুলছে। তাঁর সঙ্গে পরামর্শ করে ডাক্তার ওর শরীরে ইঞ্জেকশন দিলেন।

    বাইরে বেরিয়ে বনবিহারী ডাক্তারকে অনেক ধন্যবাদ দিলেন। ডাক্তার এখন খুশি। বললেন, ‘ভাগ্যিস সিজার করতে হয়নি। তাহলে আর বাঁচানো যেত না।’

    এইসময় কেরানি এসে জিজ্ঞাসা করল, ‘বেবির মায়ের নাম কী লিখব?’

    বনবিহারী হাসলেন, ‘খানিক বাদে মেয়েটিকে জিজ্ঞাসা করে আপনাকে বলব।’

    দশ মিনিট পরে যখন খোঁজ নিতে বনবিহারী নার্সের কাছে যাচ্ছেন তখন দেখা গেল সে-ই হন্তদন্ত হয়ে আসছে। বনবিহারী জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কেমন আছে ওরা?’ নার্স বলল, ‘বেবি ভালো আছে। কিন্তু ওর মা যে বোবা তা এতক্ষণে বুঝতে পারলাম।

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅর্জুন সমগ্র ৫ – সমরেশ মজুমদার
    Next Article বুকের ঘরে বন্দি আগুন – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }