Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আগুনবেলা – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প575 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    দাউদাউ আগুন – ১০

    দশ

    বনবিহারী বললেন, ‘বসুন।’ শরীরে যন্ত্রণা নিয়েও ভদ্রমহিলা রিকশায় উঠেছেন, নেমেছেন, মুখে মেকআপ করেছেন যাতে ওঁকে সুন্দরী দেখায়। হেসে ফেললেন বনবিহারী। ডাক্তারি পড়ার সময়ের একটা ঘটনার কথা মনে পড়ল। তাঁদের একজন অধ্যাপক ছিলেন যিনি রসিকতা পছন্দ করতেন। একদিন ক্লাসে বললেন, ‘অদ্ভুত অদ্ভুত সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে তোমাদের। মাথা ঠান্ডা করে তৎক্ষণাৎ একটা সমাধান করে ফেলতে হবে। ধরো একজন মহিলার প্রসববেদনা উঠেছে। তাঁকে নিয়ে আসা হয়েছে লেবাররুমে। হঠাৎ ওই যন্ত্রণার মধ্যেও মহিলা অনুরোধ করতে লাগলেন, তাঁকে একটা চিরুনি আর পাউডার পাফ দিতে। নার্স অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করল, এই সময় ওসবের কি দরকার? ভদ্রমহিলা বললেন, চুল না আঁচড়ালে আর মুখে না পাউডার দিলে আমাকে বিশ্রী দেখায়, আমার স্বামী বলেছেন। প্লিজ আমাকে দিন। নার্স রেগে গিয়ে বলল, এখানে আপনাকে কে দেখতে আসছে?

    উঃ মাগো, বলে ব্যথা সামলে ভদ্রমহিলা বললেন, পেট থেকে যে বের হবে সে তো কখনও আমাকে দ্যাখেনি। এই চেহারায় প্রথম দেখলে কি খারাপ ভাববে বলুন তো! ছি ছি।

    নার্স ডাক্তারের দিকে তাকাল। ডাক্তার কী বলেছিলেন বল তো?’

    প্রফেসারের প্রশ্নের জবাব দিতে সবাই আকাশ-পাতাল ভেবেছিল। অধ্যাপক হেসে বলেছিলেন, ‘ডাক্তার বলেছিলেন, ম্যাডাম, আপনার কোনও চিন্তা নেই। জন্মাবার পর শিশুর দৃষ্টিশক্তি তৈরি হতে অনেকটা সময় লাগে। ও আপনাকে দেখতেই পাবে না।’

    গল্পটা অনেক বছর পরে মনে পড়তেই হেসে ফেললেন বনবিহারী।

    টেবিলের উলটোদিকে বসে ভদ্রমহিলা বললেন, ‘আমি যন্ত্রণায় মরে যাচ্ছি আর আপনি হাসছেন ডাক্তারবাবু?’

    ‘না না। আপনার কথা ভেবে নয়। নিজের অসহায়ত্বের কথা ভেবে হাসলাম। ভগবানের দেওয়া শরীরে মানুষ অসুখবিসুখ তৈরি করে নেয়। আমরা ডাক্তাররা সেই অসুখ সারাতে চেষ্টা করি, কিন্তু কোনও-কোনও অসুখ কিছুতেই বশ্যতা মানে না।’ বনবিহারী বললেন।

    ‘তার মানে, আপনি বলছেন, আমি কিছুতেই সারব না?’

    ‘না। তা বলিনি। আপনার দুই হাঁটুতে বাত হয়েছে। নিয়মিত ওষুধ খেলে কষ্ট কম পাবেন। অবশ্য—!’

    ‘অবশ্য কি?’

    ‘দুটো হাঁটু পালটে ফেললে আর কষ্ট থাকবে না।’

    ‘হাঁটু পাল্টাব?’

    ‘হ্যাঁ! অপারেশন করে দুই লাখ টাকা খরচ। কলকাতায় যেতে হবে।’

    ‘উরে ব্বাবা! অত টাকা আমি পাব কোথায়?’ আঁতকে উঠলেন ভদ্রমহিলা।

    ‘আজ ব্যথাটা কোথায় বেশি?’

    ‘কোথায় নয়! দুই পায়ে, হাঁটুতে, কোমরে। চলতে ফিরতে পারছি না। একটা কিছু করুন ডাক্তারবাবু, এর চেয়ে মরে যাওয়া ভালো।’

    ‘আপনি একটু হাঁটাহাঁটি করার চেষ্টা করুন।’

    ‘ধরুন, আপনার মেয়ের বাড়ি থেকে বেরিয়ে আমার বাড়ি পর্যন্ত?’

    ‘অসম্ভব! এই এখন বারান্দা থেকে মোড়ায় পা দিয়ে রিকশায় উঠেছি, আর আপনার এখানে কোনওমতে নামলাম।’

    ‘তাহলে তো মুশকিল হয়ে গেল।’ বনবিহারী গম্ভীর গলায় বললেন।

    ‘কেন? কি হয়েছে ডাক্তারবাবু।’

    ‘থাক ও কথা। আপনার ব্লাড সুগার আছে?’

    ‘না।’ মাথা নাড়লেন ভদ্রমহিলা।

    ‘ভালো। আপনাকে ওষুধ লিখে দিচ্ছি। কিছুদিন খেয়ে দেখুন।’ একটা প্যাড নিয়ে লিখতে গিয়ে থামলেন বনবিহারী, ‘নামটা—?’

    ‘সুনয়নী দত্তগুপ্ত।’

    একবার তাকিয়েই মুখ নামাতে নামাতে দেখলেন সুনয়নী কপাল থেকে চুল সরাচ্ছেন আলতো আঙুলে। ওষুধ লিখে দিয়ে ভালো করে বুঝিয়ে দিলেন তিনি, কোনটা কখন খেতে হবে।

    ‘এখানে এসব পাওয়া যাবে?’

    ‘বোধহয় যাবে। নইলে জামাইকে বলবেন শহর থেকে আনিয়ে দিতে।’

    ‘আমি ওষুধ খেয়ে হাঁটতে পারব তো?’

    ‘আপনি এখনই একটু কষ্ট হলেও হাঁটতে পারবেন।’

    ‘আপনি এত কাঠ কাঠ কথা বলেন কেন?’

    ‘সত্যি কথা আপনার কাছে কাঠ কাঠ বলে যদি মনে হয় তাহলে আমার কিছু বলার নেই। আপনি আমার বাড়িতে তো নিজের পায়ে হেঁটে এসেছিলেন।’

    ‘মরিয়া হয়ে ব্যথা সহ্য করতে না পেরে—।’

    ‘ওইরকম মরিয়া চেষ্টা সকাল-বিকেল করুন।’

    ‘বেশ। তাই করব। মরে গেলেও করব।’

    ‘আপনি তাতে উপকৃত হবেন সুনয়নীদেবী।’

    ‘ওমা! আবার দেবী কেন? আমি আপনার চেয়ে বয়সে কত ছোট। চোদ্দো বছরে বিয়ে হয়েছিল, পনেরোতে মেয়ে এল। মেয়ের বয়স এখন সাতাশ। তাহলে আমি বিয়াল্লিশ। এই বয়সে কেউ এত ব্যথা পায়? বলুন! ও হ্যাঁ, কি সমস্যার কথা বলছিলেন? আমি কি সাহায্য করতে পারি?’

    ‘আমার এক ভাগনিজামাই বিদেশে গেল বছর দুয়েকের জন্যে। বোন তো নেই। তাই আমার কাছে ভাগনি আর তার বাচ্চাকে রেখে গেল। ভাগনির গলায় একটা অপারেশন হয়েছিল। কথা বলা নিষেধ। আমি আর কালীচরণ বাচ্চাটাকে নিয়ে হিমশিম খাচ্ছি। ভাবছি একটা আয়া রেখে দেব।’ বনবিহারী কথাগুলো সাজাতে চেষ্টা করলেন।

    ‘ওমা! তাই! বাচ্চা আমার খুব ভালো লাগে। আপনি চিন্তা করবেন না। আমি দু-বেলা গিয়ে দেখে আসব। মেয়ে তো বাড়ির কোনও কাজ আমাকে করতে দেয় না।’

    ‘কি করে দু-বেলা আসবেন? আগে সেরে উঠুন, ব্যথা কমুক। তারপর না হয়—! ঠিক আছে, কেমন আছেন তা জামাইকে দিয়ে বলে পাঠাবেন।’

    সুনয়নী উঠে দাঁড়ালেন, ‘আপনাকে কত দিতে হবে?’

    ‘কিছু না। আপনি প্রতিবেশী। তাছাড়া মুখ ফুটে উপকার করার কথা তো বলেছেন। ক’জন আজকাল বলে! নমস্কার।’

    ‘জামাই কেন, ভালো থাকলে আমি নিজেই আপনাকে বলে আসব।’

    সুনয়নী যত কষ্ট করে রিকশা থেকে নেমেছিলেন তত কষ্ট করে উঠলেন না। বনবিহারী ওঁর চলে যাওয়া দেখলেন। এছাড়া কোনও উপায় ছিল না। মামণিকে নিয়ে চিন্তা নেই, কালীচরণকে শিখিয়ে দিতে হবে। এই মিথ্যেটা যদি প্রতিবেশীদের কৌতূহল মুছে দেয় তাহলে এটাই চলুক। একটু সবল হলে শিশুটিকে তো ঘরের ভেতর আটকে রাখা যাবে না। তাই একটা মাটি তৈরি থাক।

    ভাগনির গল্পটা মুখে-মুখে ছড়িয়ে পড়বে কয়েকদিনের মধ্যে। সুনয়নী কতটা বিশ্বাস করলেন তা বড় কথা নয় কিন্তু তিনি খবরটা চেপে রাখতে চাইবেন না, এটা পরিষ্কার। নিজেকে একটু হালকা লাগল বনবিহারীর। একটা ছোট্ট মিথ্যে যদি খুব বড় উপকারে লাগে তাহলে তার সাহায্য নেওয়াতে অন্যায় নেই।

    ছেলেটিকে ডেকে চেম্বার বন্ধ করতে বলে বাইরে পা বাড়াতেই পুলিশের জিপটা তাঁর সামনে এসে দাঁড়াল। ও.সি. ড্রাইভারের পাশে বসে তাঁকে হাত নেড়ে দাঁড়াতে বললেন। তারপর নীচে নেমে এসে বললেন, ‘শুনেছিলাম আপনি রবিবারের বিকেলে চেম্বারে বসেন না। আপনার সঙ্গে দেখা করতে বাড়িতে যাচ্ছিলাম। দূর থেকে দেখতে পেলাম চেম্বার খোলা, আজ হঠাৎ নিয়ম ভাঙলেন যে?’

    বনবিহারী বললেন, ‘সকালে আসতে পারিনি। শরীর ভালো ছিল না।’

    ‘ডাক্তার হয়েও যদি আপনার শরীর খারাপ হয় তাহলে আমরা কোথায় যাব।’

    ডাক্তারও তো রক্তমাংসের মানুষ।’

    ‘তা অবশ্য। তবে লোকে তো আপনাকে ভগবানের কাছাকাছি ভাবে।’

    কথাগুলো যে বলার জন্যে বলা তা বুঝে বনবিহারী জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হঠাৎ আমার বাড়িতে যাচ্ছিলেন! আবার কি হল?’

    ‘খুব বিপদে পড়েছি ডাক্তারবাবু।’ ও.সি. বললেন।

    ‘আপনি বিপদে পড়েছেন?’ বনবিহারী অবাক।

    ‘হ্যাঁ। একটা কিছু করতে না পারলে নির্ঘাত সাসপেন্ড হয়ে যাব আমি।’ বেশ করুণ হয়ে যাচ্ছিল বড়বাবুর মুখ।

    আশেপাশে যারা হেঁটে যাচ্ছিল তারা ও.সি.-কে ডাক্তারবাবুর সঙ্গে কথা বলতে দেখে কৌতূহলী হয়ে দাঁড়িয়ে যাচ্ছিল। তল্লাটের মানুষের ধারণা ওই ও.সি. অতি ভয়ংকর অফিসার।

    ‘আপনি কি চেম্বারের ভেতরে বসে কথা বলবেন?’

    ‘চেম্বারে? না না, পাবলিক আসা-যাওয়া করবে। তার চেয়ে আপনার বাড়িতে বসে কথা বলি। সেখানে তো আপনার চাকর ছাড়া তৃতীয় ব্যাক্তি নেই।’

    ‘আছে। মানে আজই এসেছে। আমার ভাগনি, ভাগনিজামাই আর তাদের বাচ্চা।’

    ‘কোথায় থাকে তারা?’

    ‘মা-মালদা।’ নামটা চট করে মাথায় আসছিল না বনবিহারীর।

    ‘আর আসার সময় পেল না! ঠিক আছে, গাড়িতে উঠুন। ফাঁকা জায়গা তো অনেক পাওয়া যাবে। ডাক্তারবাবু, আপনার সাহায্য না পেলে আমি শেষ হয়ে যাব।’

    জিপে ওঠার ইচ্ছে ছিল না। কিন্তু উঠতে হল।

    পাঁচ মিনিটের মধ্যে জিপ চলে এল জঙ্গলের ধারে নদীর গায়ে। আশেপাশে কোনও মানুষ নেই। শুধু দূরে ঘাস খেতে আসা গরুদের গলায় ঘণ্টি বাজছে।

    ড্রাইভারকে একটু ঘুরে আসতে বললেন ও.সি.। সে চলে গেলে বনবিহারীর দিকে তাকিয়ে ও.সি. বললেন, ‘জ্যান্ত মানুষের চেয়ে তার ভূত বেশি ডেঞ্জারাস হয় একথা আগে জানতেন?’

    বনবিহারী বললেন, ‘এরকম কথা এখনও জানি না।’

    ‘ওই যে ছেলেটি যার লাশ চা-বাগানের ভেতরে পড়েছিল তার পরিচয় আমি জানতাম না। লাশ তো আমি সদরে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম পোস্টমর্টেম করার জন্যে। আজ সকালে এসপি সাহেব ডেকে পাঠিয়েছিলেন। ডাইরেক্ট আই.পি.এস.। বয়স বেশি নয়। বললেন, ছেলেটির খুনিকে দিন সাতেকের মধ্যে খুঁজে বের করতে হবে।’

    বুকের ভেতরে একটা চিনচিনে অনুভুতি হল বনবিহারীর। শুকনো গলায় বললেন, ‘ও।’

    ‘কেন জানেন? ওই ছোকরা, যার লাশ দেখে খুশি হয়ে ভেবেছিলাম আমার এই এলাকায় আর অশান্তি হবে না, সে-ব্যাটা মন্ত্রীর ভাইপো। মন্ত্রী নিজের ভাইপোকে কব্জায় রাখতে পারেনি, খুন হয়ে গেছে বলে খুনিকে শাস্তি দিতে চান।’

    ‘ছেলেটা যে ওইরকম উগ্রপন্থী হয়ে গিয়েছিল তা মন্ত্রী জানতেন না?’

    ‘শুনলাম, জানতেন না। কলেজ হোস্টেলে থেকে ও কি করছে তা বাড়ির কেউ জানতে পারেনি। কিন্তু ছেলের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে বেশ ভেঙে পড়েছে বলে মন্ত্রীকাকা নির্দেশ দিয়েছেন সাতদিনের মধ্যে খুনিকে ধরা চাই। এখন আপনি বলুন, আমি কোথায় খুনিকে খুঁজে পাব!’ ও.সি. মাথা নাড়লেন।

    ‘আমি—আমি কি করে জানব—!’

    ‘আপনি তো দেখেছেন ছেলেটাকে একটা বড় পাথর ছুড়ে মারা হয়েছে। ওই পাথর তো দুর্বল মানুষ ছুড়তে পারে না।’ ও.সি. তাকালেন।

    ‘হ্যাঁ। তা তো বটেই।’

    ‘অথচ ওর সঙ্গে যার ঝামেলা হয়েছিল সে পুরুষ নয়।’

    ‘অ।’ বুকের ব্যথাটা বোধহয় আর একটু বাড়ল বনবিহারীর।

    ‘পাথরের গায়ে যে ফিঙ্গার প্রিন্ট পাওয়া গেছে সেটা মেয়েদের হাতের। এর মধ্যে আমি আর একবার স্পটে গিয়েছিলাম। একটা জামার বোতাম চা গাছের নীচে কুড়িয়ে পেয়েছিলাম। ওই বোতাম ছেলেদের জামায় ব্যবহার করা হয় না। মেয়েটি যদি পাথরটা না ছুড়তে পারে তাহলে সে একা ছিল না। কিন্তু তাও তো মানা যাচ্ছে না। কারণ মন্ত্রীর ভাইপো ওকে রেপ করতে গিয়েছিল বলে মনে হচ্ছে। তৃতীয় ব্যক্তি থাকলে তাতে রেপের ব্যাপারটা কেমন যেন ম্যাড়মেড়ে হয়ে যাচ্ছে।’

    ‘তা তো বটেই।’ বনবিহারীর বাড়ি ফিরে যেতে ইচ্ছে করছিল।

    ‘আমার মনে হচ্ছে ওই মন্ত্রীর ভাইপো আর এই মেয়েটি বেশ পরিচিত। নইলে কোনও মেয়ে অত রাতে চা-বাগানের ভেতরে অচেনা ছেলের সঙ্গে কখনই যাবে না। সমস্যাটা এখানেও। ছেলেটা বাইরে থেকে এসে জঙ্গলে দলের সঙ্গে লুকিয়ে ছিল। স্থানীয় কোনও মেয়ের সঙ্গে এমন ভাব হওয়ার সুযোগ সে পেল কি করে যে ডাক পেলেই জঙ্গলে দেখা করতে যাবে! আপনাদের এই গঞ্জে সেরকম স্বাস্থবতী স্মার্ট আনম্যারেড মেয়ে আছে?’

    ‘আমি দেখিনি।’

    ‘দ্যাখেননি! তার মানে মেয়েটিও এখানকার নয়। বাইরে থেকে এসেছিল!’

    ‘আমার মাথায় কিছু ঢুকছে না।’

    ‘ঢুকছে না বললে আপনার কিছু হবে না। আমার চাকরিটা যাবে। এই মন্ত্রী খুব পাওয়ারফুল। যে করেই হোক একজন খুনিকে খুঁজে বের করতেই হবে আমাকে। আমার সমস্যাটা বুঝুন।’

    ‘হুঁ।’ মাথা নাড়লেন বনবিহারী।

    ‘আমি একটা খবর পেয়েছি।’ তাকালেন ও.সি.। সেই দৃষ্টি দেখে বুকের ভেতরটা বাতাসবন্ধ হয়ে গেল বনবিহারীর।

    ‘ভেবেছিলাম সবক’টা উগ্রপন্থী মরে গেছে। উঁহু। একজন এখনও মরেনি। ক’দিন আগেই খবরটা পেয়েছিলাম। একজন তো কোনও ক্ষতি করতে পারবে না ভেবে মাথা ঘামাইনি। তাছাড়া এস.পি-র কাছে রিপোর্টও পাঠিয়েছিলাম সবাই খতম হয়ে গেছে বলে। আবার যদি বলি আর একজন বেঁচে আছে তাহলে আগের রিপোর্টটা ভুল হয়ে যাবে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে ও ব্যাটাকে ধরা দরকার।’

    একটু স্বস্তি পেলেন বনবিহারী, ‘অবশ্যই।’

    ‘আপনি তো বললেন অবশ্যই, কিন্তু ধরব কি করে? এত বড় জঙ্গল, তার ওপর ফরেস্ট ডিপার্টমেন্ট কীরকম ঠান্ডা মেরে আছে। ঠিকঠাক সহযোগিতা যেমন করছে না আবার মুখে না বলছে না। তাছাড়া যদি ছেলেটা টের পায় তাহলে এখান থেকে হাওয়া হয়ে যেতে কতক্ষণ! তখন আঙুল চুষতে হবে আমাকে। ডাক্তারবাবু, একটু বুদ্ধি দিন।’ ও.সি. বললেন।

    বনবিহারী বললেন, ‘কি দেব বলুন তো! আমি কোনওদিন ডিটেকটিভ গল্পের ভক্ত ছিলাম না যে—!’

    ‘কিন্তু আপনি পারেন।’

    ‘আমি?’

    ‘আপনার কাছে একটা সত্যি কথা বলিনি ডাক্তারবাবু।’

    ‘কী কথা?’

    ‘সদর থেকে ফেরার সময়ে আমি আপনার বাড়িতে গিয়েছিলাম।’

    ‘আমার বাড়িতে?’

    ‘হ্যাঁ। দরজা বন্ধ ছিল। আপনি বাড়ির ভেতরে আছেন ভেবে নক করেছিলাম। তৃতীয়বারের পর সম্ভবত আপনার কাজের লোক এসে দরজা খুলে আমাকে বলল, আপনি চেম্বারে চলে এসেছেন। তেষ্টা পেয়েছিল খুব তাই এক গ্লাস জল খাওয়াতে বললাম। সে জল আনতে গেলে একটা কচি বাচ্চা কেঁদে উঠল ভেতরের কোনও ঘর থেকে। সঙ্গে সঙ্গে এদিকের ঘর থেকে একটি লম্বা, স্বাস্থ্যবতী যুবতীকে ছুটে যেতে দেখলাম। তারপরেই বাচ্চার কান্না থেমে গেল। জল খেয়ে সোজা চলে এলাম আপনার চেম্বারে।’ ও.সি. হেসে বললেন, ‘আমি জানতাম আপনার বাড়িতে চাকর ছাড়া আর কেউ থাকে না।’

    ‘মেয়েটি আমার ভাগনি। সে আর তার স্বামী এসেছে বাচ্চা নিয়ে। আপনাকে বলেছি।’

    ‘এ তো হতেই পারে। মামার কাছে তো আসতেই পারে।’

    বনবিহারী কীরকম দিশেহারা হয়ে গেলেন। ও.সি. কি বলতে চাইছেন?’

    ‘আপনার ভাগনিজামাই আর ভাগ্নী কি এখানে কিছুদিন থাকবে?’

    ‘না ভাগনিজামাই কাল সকালে ফিরে যাবে। ওকে চাকরিসূত্রে বিদেশে যেতে হচ্ছে। আত্মীয়-স্বজনের কাছে ভাগনিকে রাখতে অসুবিধে বলে আমার কাছে রেখে যাচ্ছে।’

    ‘বাঃ খুব ভালো হল। ডাক্তারবাবু, আপনি আমার উপকার করুন। প্লিজ। আমি সারাজীবন আপনার কাছে কৃতজ্ঞ থাকব!’

    ‘আমি কীভাবে—!’

    ‘বলছি। কাল সকালে জামাই চলে যাবে বললেন, তাই তো?’

    ‘হ্যাঁ।

    ‘কাল দুপুরে আপনি আপনার ভাগনিকে নিয়ে একটা রিকশায় চেপে জঙ্গলে যাবেন। ওকে বলবেন জঙ্গলটা দেখার মতো, তাই দেখাতে নিয়ে যাচ্ছেন। আপনি প্রৌঢ মানুষ, একটু হেঁটে ক্লান্তি বোধ করবেন। ওকে বলবেন চারপাশে ঘুরে বেড়িয়ে দেখতে। তারপর ওকে নিয়ে ফিরে আসবেন।’ ও.সি. বললেন।

    ‘এতে কি লাভ হবে? বনবিহারী অবাক হলেন।

    ‘যে ছেলেটা ওই জঙ্গলে ঘুরে বেড়াচ্ছে সে যদি আপনার ভাগনিকে দেখতে পায় তাহলে, আমরা ধারণা, আলাপ করার চেষ্টা করবে।’

    ‘সেকি! আপনি কি বলছেন? ছেলেটা উগ্রপন্থী—!’

    ‘রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে, পুলিশের বিরুদ্ধে ওরা উগ্র। কিন্তু সুন্দরী মেয়েকে দেখলে এত নরম হয়ে যাবে যে ওকে ধরতে আমার অসুবিধে হবে না।’ ও.সি. বললেন।

    ‘কিন্তু, আপনি ওকে টোপ হিসেবে ব্যবহার করতে বলছেন?’

    ‘একটা ছাগলকে যখন ফাঁদের মধ্যে বাঘের টোপ হিসেবে রাখা হয় তখন সে বুঝতে পারে মৃত্যু আসন্ন। ভয়ে কাঁপতে থাকে। আপনার ভাগনি টেরও পাবে না যে আমাদের অন্য উদ্দেশ্য আছে।’

    ‘না অফিসার, আমার ভালো লাগছে না।’

    ‘ডাক্তারবাবু, আপনি আমাকে বাঁচান।’ ‘আশ্চর্য! ছেলেটা হয়তো তখন জঙ্গলের অন্য প্রান্তে থাকবে। সে দেখতে বা জানতেই পারবে না মামণিকে। এটা ভেবেছেন?’

    ‘হতে পারে। আবার নাও হতে পারে। একটা জঙ্গলে একা কোনও মানুষের পক্ষে বেশিদিন বাস করা সম্ভব নয়। তার খাবার দরকার। ঘুম দরকার। আমার মনে হচ্ছে এই ছেলেটি জঙ্গলের ভেতরে কাঠ কুড়োতে আসা আদিবাসীদের সাহায্য পাচ্ছে। তাই পুলিশ রেইড করলেই সে জেনে যাচ্ছে এবং গোপন আস্তানায় চলে যাচ্ছে। পুলিশের কথা যদি সে জানতে পারে তাহলে একজন সুন্দরী মহিলা জঙ্গলে ঘুরে বেড়াচ্ছে এই খবরটাও তার কাছে পৌঁছে যাবে বলে আমার ধারণা।’ ও.সি. বললেন।

    ‘মামণির যদি কোনও ক্ষতি হয় তাহলে আমি কি জবাব দেব!’

    ‘কোনও ক্ষতি হবে না। তাছাড়া আপনাকে তো রোজ ওকে নিয়ে জঙ্গলে যেতে বলছি না। শুধু কাল দুপুরে, একবার চলুন।’

    ও.সি. বনবিহারীকে নিয়ে জিপে উঠলেন। তখন সন্ধে নেমে গেছে। বনবিহারীর বাড়ির সামনে তাঁকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দিয়ে ও.সি. বললেন, ‘আজ বেশ দেরি হয়ে গেছে তাই আর আপনার ভাগনিজামাই-এর সঙ্গে আলাপ করলাম না। ডাক্তারবাবু, মনে রাখবেন আমি শুধু নিই না, ফিরিয়েও দিই। আপনার বিপদে আমি আপনার পাশে থাকব।’

    জিপ চলে গেল।

    আধা অন্ধকারে বাড়ির দিকে পা বাড়াতেই চিৎকার শুনতে পেলেন বনবিহারী, ‘ডাক্তার—বা—বু।’

    অবাক হয়ে দেখলেন খোঁড়াতে খোঁড়াতে সুনয়নী সামনে এসে দাঁড়ালেন, ‘মরে যাচ্ছি ডাক্তারবাবু। আপনার কথা শুনে হাঁটতে বেরিয়েছিলাম, উঃ কি ব্যথা, কি ব্যথা!’

    ‘আস্তে আস্তে অভ্যেস হয়ে যাবে। চেষ্টা ছাড়বেন না।’

    ‘হুঁ! আচ্ছা, আমি আপনার চেয়ে কত ছোট। আমাকে আপনি বলবেন না তো। আপনার মুখে আপনি শুনলে বড় লজ্জা করে।’

    বনবিহারী মুখ ফেরালেন, ‘আচ্ছা, আসি।’

    ‘আপনার চাকরটা খুব বেয়াদব। বাচ্চাটাকে দেখতে গিয়েছিলাম, বলল, মা-বাচ্চা দুজনেই নাকি ঘুমাচ্ছে। এই সময় কোন মা ঘুমায়?’ সুনয়নী পেছন থেকে বললেন।

    বনবিহারী জবাব দিলেন না। কথায় কথা বাড়ে। একেই তাঁর বুকে এখন ঝড় চলছে। এই ঝড় কি করে থামানো যায়!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅর্জুন সমগ্র ৫ – সমরেশ মজুমদার
    Next Article বুকের ঘরে বন্দি আগুন – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }