Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আগুনবেলা – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প575 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    দাউদাউ আগুন – ১৫

    পনেরো

    ব্যাপারটা এত সহজে হয়ে যাবে ভাবতেই পারেননি বনবিহারী। হোটেলে ফেরার পথে তাঁর যেমন খুব হালকা লাগছিল তেমনি অস্বস্তিও বাড়ছিল একসঙ্গে। কালীচরণকে জানাতে হবে। সে সঙ্গে না থাকলে আজকাল বেশ অসুবিধে হয়। দীর্ঘদিনের অভ্যেস থেকে বেরিয়ে আসা খুব কঠিন। ভেবেছিলেন, ওকে চলে আসতে বলবেন। কিন্তু কালীচরণ এলে ওই বাড়িটার কি হবে? বাড়িটাকে বিক্রি করতে তিনি যদি ফিরে যান তাহলে কথা উঠবেই। ওই পালবাবু বা তার ড্রাইভার শম্ভুই প্রচার করবে। বাড়ি বিক্রি করতে গিয়ে পুলিশের হাতে পড়তে হবে। আবার কালীচরণ যদি চলে আসে তাহলে বন্ধ বাড়িটা যে দুদর্শায় পড়বে তা কল্পনা করে শিহরিত হলেন বনবিহারী। যে বাড়িটায় এতকাল কাটিয়েছেন, তার ওপর যে মায়া তাঁর আছে তাতে ওটাকে পোড়োবাড়ি বলে ভাবতেই পারছেন না। আর মানুষ যদি বাস না করে তাহলে পাঁচভূতে বাড়িটা লুটেপুটে খাবে। কিন্তু তিনি নিয়মিত টাকা পাঠালেও কালীচরণ বেশিদিন ওখানে একা থাকতে চাইবে না।

    হোটেলে ঢুকতেই একজন বেয়ারা বলল, ‘দিদি এখনও ফেরেননি।’

    ‘ফেরেনি মানে? কোথায় গিয়েছে?’

    ‘জানি না। বাচ্চাটা ঘুমাচ্ছিল। আপনাদের ফ্লোরের বেয়ারাকে ইশারায় ডেকে বসতে বলে চুপচাপ বেরিয়ে গেছেন। বেয়ারা কোনও কাজ করতে পারছে না। ওখানে আটকে গেছে।’

    বনবিহারী দ্রুত ওপরে উঠে এলেন।

    ঘরে ঢুকে দেখলেন বেয়ারা মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে। তাঁকে দেখেই তড়াক করে উঠে দাঁড়িয়ে বলল, ‘ওঃ কি বিচ্ছু বাচ্চা! কিছুক্ষণ পরপর চোখ খুলে দেখছে আমি আছি কিনা। না দেখতে পেলেই হাত-পা ছুড়ে কাঁদছে। আপনি এসে গেছেন, আমি যাচ্ছি।’

    বেয়ারা চলে যেতে বাচ্চা চোখ খুলল। বনবিহারীকে দেখে একগাল হেসে পা ছুড়ল। দৃশ্যটি এত ভালো লাগল বনবিহারীর যে ওর পাশে না বসে পারলেন না। নীচু হয়ে বললেন, ‘আর একবার হাসো বাবু, ঈশ্বরদর্শন করি।

    হাসির বদলে কান্না দেখা দিল। ঠোঁট ফুলিয়ে কেঁদে উঠল বাচ্চা। দ্রুত ওকে কোলে তুলে নিয়ে দোলাতে লাগলেন বনবিহারী, ‘আহা-হা! কেঁদো না কেঁদো না, মা এখনই এসে যাবে।’

    বলামাত্র খেয়াল হল। মামণি কোথায় গেল? কলকাতার রাস্তায় অনভ্যস্ত একটি বোবা মেয়ে যদি পথ গুলিয়ে ফেলে তাহলে ফিরে আসা মুশকিল হয়ে যাবে। তাছাড়া এই শিশু জন্মাবার পরে কালীচরণের যত্নে মামণি যথেষ্ট সুন্দরী হয়ে উঠেছে। কলকাতায় লোভী নারীশিকারিদের অভাব নেই। বনবিহারী ভেবে পাচ্ছিলেন না মেয়েটা এভাবে বাইরে বের হল কেন?

    তখনই তাঁর মাথায় আর একটা ভাবনা হুড়মুড়িয়ে ঢুকে পড়ল। এই শিশুকে তাঁর জন্যে ফেলে রেখে মামণি চিরদিনের জন্যে চলে যায়নি তো? কালীচরণ মাঝে মাঝে গজরাত, ‘এ কেমন মা, ছেলেটা সারারাত হেগেমুতে শুয়ে থাকল, একবারও উঠে দ্যাখেনি।’ এক-এক সময় বনবিহারীরও সেরকম মনে হত কিন্তু আবার মাঝে মাঝেই শিশুর ওপর ওর প্রবল স্নেহের দৃশ্যও দেখেছেন।

    কিন্তু যে শিশু ওর শরীরে এসেছিল হঠাৎই, যাকে বহন করতে ও বাধ্য হয়েছিল অন্য কোনও পথ জানা না থাকায়, তার কাছ থেকে নিষ্কৃতি পেতে ও চাইতেও পারে। গঞ্জে সেটা সম্ভব ছিল না। মামণি জানত বাড়ির বাইরে বের হলেই সে অনেক ঝামেলায় পড়বে। প্রশ্নের জবাব দিতে হবে তাকে। তাই সেই চেষ্টা সে করেনি। এই কলকাতার হোটেলে এসে সে সুযোগের সদ্ব্যবহার করল।

    শীত করতে লাগল বনবিহারীর। এরকম হলে তিনি মামণিকে আদৌ বুঝতে পারেননি। শুধু বুদ্ধিমতী নয়, অত্যন্ত চতুর না হলে এরকম অভিনয় তাঁর সঙ্গে করে যেতে পারত না। কে জানে, হয়তো এই কলকাতা শহরে ওর পরিচিত কেউ আছে, সেই ছেলে ওদের দলের হওয়াও অসম্ভব নয়। মামণি মেনকার মতো শকুন্তলাকে ফেলে রেখে তার কাছে চলে যেতেই পারে।

    প্রায় দেড় ঘণ্টা কেটে গেল। বাচ্চাটা এখন চুপচাপ ঘুমাচ্ছে। বনবিহারী ছটফট করছেন। মাঝে-মাঝে মনে হচ্ছে তিনি যা ভাবছেন তা সত্যি নাও হতে পারে। হয়তো পথ হারিয়ে ফেলে এলোমেলো ঘুরছে মামণি। কিন্তু ও লিখতে জানে। এই হোটেলের নামটা মনে রাখলে সে লিখে পুলিশের কাছে সাহায্য চাইতে পারে। তা যখন চাইছে না তখন ভাবনাটা মিথ্যে নয়। এতদিন মেয়েটা তাঁর সঙ্গে আছে, একবারও লিখে ওর ঠিকানাটা জানায়নি। এমন কি নামও! নিজের ইতিহাস সযত্নে গোপন রেখে গেছে যে মেয়ে তার মাথায় এরকম মতলব থাকাই স্বাভাবিক। ওইটুকু মেয়ে কীরকম বোকা বানিয়ে দিল তাঁকে!

    এখন তিনি কি করবেন? এইটুকু বাচ্চাকে সামলানো তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। সুন্দরবনে যে কাজের জন্যে যাচ্ছেন সেখানে একে রাখবেন কোথায়? কে দেখবে একে? ঘুমন্ত শিশুর মুখের দিকে তাকালেন তিনি। আদুরে ভঙ্গিতে ঘুমাচ্ছে বেচারা। দেখলেই মায়া মনে আসে। বেচারা কোনওদিন জানবে না ওর বাবা কে ছিল, মায়ের সঠিক পরিচয় কি?

    এখন কালীচরণকে চলে আসতে বলা ছাড়া কোনও উপায় নেই। সে এসে কিছুদিন ঠেকা দিক তারপরে বিকল্প ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

    কিন্তু কালীচরণকে চিঠি লিখে জানিয়ে তার আসার জন্যে অপেক্ষা করার মতো সময় তাঁর হাতে নেই। অন্তত দিন পাঁচ-ছয় হোটেলে থাকতে হবে তাঁকে। অথচ নতুন চাকরিতে তাঁকে অনেক আগেই জয়েন করতে হবে। আরজেন্ট টেলিগ্রাম করলে কালীচরণ কালই জেনে যাবে। যদি বুদ্ধি করে কাল রাত্রে ট্রেন ধরে তাহলে পরশু পৌঁছে যাবে কলকাতায়। কালীচরণের নামে টেলিগ্রাম গেলে গঞ্জের লোক তা জেনে যেতে পারে আবার নাও পারে। সেই ঝুঁকি নিতেই হবে। বনবিহারী উঠলেন। একজন বেয়ারাকে ডেকে অনুরোধ করবেন যাতে সে কিছুটা সময় বাচ্চার পাশে বসে। এই ফাঁকে তিনি টেলিগ্রামটা করে আসতে পারবেন।

    কিন্তু দরজা খুলতেই তিনি ম্যানেজারকে দেখতে পেলেন। হন্তদন্ত হয়ে এসে ভদ্রলোক বললেন, ‘আপনাকে এখনই বউবাজার থানায় যেতে হবে।’

    ছ্যাঁক করে উঠল বুক, গলা শুকিয়ে গেল বনবিহারীর, ‘কেন?’

    ‘তা জানি না। থানা থেকে ফোন এসেছিল। আপনার নাম করে বলল, এখনই ওই ভদ্রলোককে চলে আসতে বলুন।’ ম্যানেজার বললেন।

    ‘ও।’

    ‘কথায় বলে পুলিশে ছুঁলে ছত্রিশ ঘা। কোনও ক্রিমিন্যাল ব্যাপার হলে কিন্তু আপনাকে হোটেল ছেড়ে দিতে হবে।’

    ‘থানাটা কোথায়?’

    হদিশ জেনে নিয়ে বনবিহারী অনুরোধ করলেন তিনি না ফেরা পর্যন্ত যদি কেউ বাচ্চাকে দ্যাখে তাহলে কৃতজ্ঞ হয়ে থাকবেন। ম্যানেজার অনিচ্ছাসত্ত্বেও রাজি হলেন।

    বনবিহারী থানায় গেলেন। পরিচয় দেওয়ার পর বড়বাবুর ঘরে ঢোকার অনুমতি পেলেন। ঘরে ঢুকে নমস্কার করতেই মধ্যবয়সি ভদ্রলোক বললেন, ‘বসুন। আপনার মেয়ের নাম মামণি? নর্থবেঙ্গল থেকে এসেছেন?’

    প্রথম প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সহজ ছিল না। দ্বিতীয় প্রশ্নটি থাকায় বললেন, ‘হ্যাঁ।’ তারপরেই উদ্বিগ্ন হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কি হয়েছে ওর?’

    ‘ওর তেমন কিছু হয়নি। কিন্তু দুটো ছেলেকে বেশ জখম করেছে।’

    ‘বুঝলাম না!’

    ‘ও যখন কথা বলতে পারে না তখন ওকে একা ছেড়েছিলেন কেন?’

    ‘আমার অজান্তেই ও বেরিয়ে যায়। এই প্রথম কলকাতায় এসেছে। বোধহয় কৌতূহলে—! কিন্তু কি হয়েছিল?’ বনবিহারীর উত্তেজনা কমে গিয়েছিল। না, গঞ্জের পুলিশ কোনও খবর পাঠায়নি।

    ‘সিনেমাহলের সামনে দাঁড়িয়ে হোর্ডিং দেখছিল। হিরো-হিরোইনের ছবি। ওকে একা পেয়ে দুটো ছেলে কাছে ঘেঁষতে চায়। কোনও প্রস্তাব দেয়। সম্ভবত ও হেসেছিল তাতে ছেলে দুটোর মনে হয় প্রশ্রয় পাচ্ছে। একটা ট্যাক্সি দাঁড় করিয়ে ওকে উঠতে বলে। ও সেটা উপেক্ষা করায় একজন কাছে গিয়ে ওর হাত ধরে। সঙ্গে সঙ্গে ও হাত চালায়। ছেলে দুটো কিছু বুঝে ওঠার আগেই বেদম ঠ্যাঙায়। পাবলিক ভিড় করে এই দৃশ্য দ্যাখে। সেসময় আমাদের একটা পেটল জিপ ওখান দিয়ে যাচ্ছিল। তিনজনকেই তুলে আনা হয় থানায়। কথা বলতে গিয়ে বুঝতে পারলাম ও বোবা। কি ঘটেছিল মুখে না বলতে পারলেও লিখে দিয়েছে। তখনই জানতে পারলাম ও হোটেলে উঠেছে, ওর নাম মামণি, নর্থ বেঙ্গল থেকে যাঁর সঙ্গে এসেছে তাঁর নাম বনবিহারী। হোটেলে ফোন করলে ম্যানেজার বলল আপনি মামণির বাবা।’ বড়বাবু বললেন।

    ‘এখন—!’

    ‘এখন আপনারা ছেলে দুটোর বিরুদ্ধে ইভটিজিং করেছে বলে ডায়েরি করতে পারেন। কিন্তু ওরাও মামণির বিরুদ্ধে মারধোরের নালিশ করতে পারে। আমি বলছি, যথেষ্ট শাস্তি পেয়ে গেছে ছেলে দুটো। আপনি আপনার মেয়েকে নিয়ে চুপচাপ হোটেলে যান। সোজাসুজি যাবেন না। একটু ঘুরপথে ট্যাক্সি নিয়ে যাবেন যাতে ছেলেদুটো হদিশ না পায়। ওদের আমি আরও একঘণ্টা বাদে ছাড়ব।’ বড়বাবু বললেন।

    ‘ওরা কি প্রতিশোধ নিতে পারে?’ বনবিহারী চিন্তিত।

    ‘সেটাই স্বাভাবিক। এদের তো কোনও পিছুটান নেই।’

    ‘মামণি কোথায়?’

    ‘আপনি একটা ট্যাক্সি ডেকে নিয়ে থানার সামনে আসুন, আমার এক মহিলা কনস্টেবল ওকে ট্যাক্সিতে তুলে দেবে। আপনার সঙ্গে মেয়েটাকে কেউ দেখুক আমি চাইছি না।’ বড়বাবু বললেন।

    বড়বাবুকে ধন্যবাদ জানিয়ে থানার বাইরে আসতেই একটা ট্যাক্সি দেখতে পেলেন বনবিহারী। কোনও যাত্রী নেই। ড্রাইভারকে যাবে কিনা জিজ্ঞাসা করলে সে মাথা নাড়ল, ‘যাব বলেই তো দাঁড়িয়ে আছি। কোথায় যাবেন?’

    হোটেলের রাস্তাটা বলতে লোকটা হাসল। ‘মিটার ডাউন করতেই পৌঁছে যাবেন। এত কম রাস্তায় পোষায় না। আপনি পাঁচ টাকা বেশি দেবেন।’

    ‘আমি সোজা হোটেলে যাচ্ছি না, একটু ঘুরে যাব।’

    ‘তাহলে এক্সট্রা দিতে হবে না।’

    বনবিহারী পেছন ফিরে দেখলেন একজন মহিলা মামণিকে সঙ্গে নিয়ে থানা থেকে বেরিয়ে আসছে। কাছাকাছি এসে মামণি হাসল। বনবিহারী গম্ভীর গলায় বললেন, ‘ওঠো।’

    ট্যাক্সিওয়ালাকে ধর্মতলায় যেতে বললেন বনবিহারী। গাড়ি চলতে শুরু করলে মামণি হাউমাউ করে নিজের ডান হাতের কবজি দেখাতে লাগল। বনবিহারী দেখলেন সেখানে কালশিটে পড়ে গেছে। এক নাগাড়ে মুখাভিনয় করে যেতে লাগল মামণি। কীভাবে ছেলেটা ওকে ধরেছিল, কীভাবে সে ওদের মেরেছে। তারপর হঠাৎই চুপ করে গিয়ে খানিকক্ষণ তাকিয়ে থেকে হাত নেড়ে জিজ্ঞাসা করল সে ঠিক করেছে কিনা!

    কী বলবেন ভাবতে সময় লাগল। তারপর বনবিহারী ডান হাত ওর মাথায় রেখে ঈষৎ চাপ দিলেন। সঙ্গে সঙ্গে কাছে চলে এল মামণি।

    বনবিহারী বললেন, ‘যা করেছ ঠিক করেছ। কিন্তু কাউকে না বলে হোটেল থেকে বেরিয়ে গেলে কেন? ছেলেটার কথা একবারও চিন্তা করলে না? বেচারা সমানে কেঁদে গেছে। ভুলে যেও না, তুমি একজন মা। আর মাকে না পেলে সন্তান ভালো থাকে না।’

    মামণি চুপ করে থাকল। কলকাতার খানিকটা ঘুরিয়ে মামণিকে নিয়ে হোটেলে ফিরে এলেন বনবিহারী।

    কালীচরণকে এখনই আসতে বলার আর দরকার নেই। অ্যাপয়ন্টমেন্ট লেটার নিয়ে বনবিহারী জানলেন দুরকম পথে তাঁর কর্মস্থলে যেতে পারেন। টেনে লক্ষ্মীকান্তপুরে নেমে বাস ধরতে হবে। অথবা ধর্মতলা থেকে রামগঙ্গার সরাসরি বাস পাওয়া যায়। সকাল সাতটায় ছেড়ে সেটা রামগঙ্গায় পৌঁছয় বেলা এগারোটায়। আবার দুপুর একটায় কলকাতার পথ ধরে।

    দিনটা কেনাকাটা করে কাটালেন। মামণি তাঁর কথা শুনে হোটেলের ঘর ছেড়ে বের হয়নি। মেয়েটার সম্পর্কে যা ভেবেছিলেন তা ঠিক নয়। ও এখনও শিশুসুলভ কৌতূহলে উলটোপালটা কাজ করে, মোটেই মতলববাজ নয়। এমনকী মহিলাসুলভ আচরণ করার ব্যাপারেও ও সতর্ক নয়। হোটেলের ঘরে জামাকপড় ছাড়ার সময় বনবিহারীর উপস্থিতি গ্রাহ্যের মধ্যে আনেনি। উলটে লজ্জা পেয়েছেন বনবিহারী। অকারণে বাথরুমে ঢুকে গেছেন।

    সকাল সাতটার সরকারি বাস র্ধ্মতলা ছাড়লে বনবিহারী স্বস্তি পেলেন। থানায় বড়বাবুর কথাটা কানে ছিল। কলকাতার গুন্ডা ছেলেছোকরাদের বিশ্বাস নেই। কিন্তু তারা নিশ্চয়ই মামণির সন্ধান পায়নি। এখন কলকাতা ছেড়ে চলে যাচ্ছেন মানে ওদের সম্পর্কে ভয় পাওয়ার আর কোনও কারণ নেই। জানলার পাশে ছেলেকে কোলে নিয়ে বসে বাইরে তাকিয়ে ছিল মামণি। ছেলের ঘাড় একটু শক্ত হয়েছে। বনবিহারী বললেন, ‘ওই দ্যাখো, ওটাকে মনুমেন্ট বলে। আমাদের বাঁ-পাশে এবার ময়দান। ইংরেজিতে বলে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড।’

    যেতে যেতে বনবিহারী জায়গাগুলোকে চেনাচ্ছিল। কলকাতা ছাড়িয়ে যাওয়ার পর তিনি মুখ বন্ধ করলেন। এখন থেকে তাঁর অজানা জায়গাগুলো আসছে।

    ডায়মন্ডহারবার, নামখানা হয়ে ওঁরা যখন রামগঙ্গার দিকে এগোচ্ছেন তখন বিরাট বাসটাকে নৌকো বলে মনে হচ্ছিল। গতি খুব কম, বাঁদিক-ডানদিকে দুলছে খারাপ রাস্তার জন্যে। মামণি বাচ্চাকে কোলে নিয়ে জানলায় মাথা রেখে ঘুমাচ্ছে। ডায়মন্ডহারবারে বাস কিছুক্ষণ থামায় ওকে পুরি-তরকারি খাইয়ে দিয়েছিলেন। এতকাল বাইরের খাবার একদম খেতেন না বনবিহারী। আজ বাধ্য হয়ে দুটো রসগোল্লা খেয়েছেন। রসগোল্লা দেখে মামণি ঠোঁট বেঁকিয়েছিল।

    রাস্তা একটু ভালো হতেই বাস গতি বাড়াল। সরু রাস্তা। আশে পাশে চাষের খেত, দূরে গ্রামের ঘরবাড়ি। এতক্ষণে সুন্দরবনের কাছাকাছি এসে যাওয়ার কথা। বনবিহারী লক্ষ করলেন যাত্রীদের সংখ্যা ক্রমশ কমছে। লক্ষ্মীকান্তপুরের মোড় ছাড়াবার পরে তো তাঁদের নিয়ে জনা পাঁচেক যাত্রী বাসে রয়েছেন।

    শেষপর্যন্ত দূরে জঙ্গলের আভাস পাওয়া গেল। বাতাসে অন্যতর গন্ধ। মোটামুটি গঞ্জমতন একটা জনপদে বাস গিয়ে থামল। কন্ডাক্টর হাঁকলেন, ‘রামগঙ্গা।’

    মামণিকে জাগিয়ে স্যুটকেস এবং ব্যাগ নিয়ে নীচে নামলেন বনবিহারী। বাচ্চাকে নিয়ে নেমে আসতে একটুও অসুবিধে হল না। বনবিহারী দেখলেন চারপাশে গ্রাম্য দোকান, একটা গ্যারেজ, রাস্তা মাটির। মাটির রং দেখেই বোঝা যাচ্ছে, এখানে পলিমাটি জমে আছে।

    ‘নমস্কার।’

    বনবিহারী পেছন ফিরে দেখলেন লুঙ্গি এবং শার্ট পরা এক মধ্যবয়সি মানুষ হাতজোড় করে দাঁড়িয়ে আছেন। বনবিহারী মুখেই বললেন, ‘নমস্কার!’

    ‘আপনি কি ডাক্তারবাবু?’ লোকটি বিনীত ভঙ্গিতে জিজ্ঞাসা করল।

    ‘হ্যাঁ। আমি ডক্টর বনবিহারী—।’

    ‘সুস্বাগতম, সুস্বাগতম! আমি পরেশ মণ্ডল স্যার। কালই কলিকাতা অফিস থেকে খবর পেয়েছি। আপনার আসার অপেক্ষায় এখানে দাঁড়িয়ে আছি। দিন, স্যুটকেসটা আমাকে দিন।’

    ‘না না। এটাকে নিতে কষ্ট হচ্ছে না।’ বনবিহারী প্রতিবাদ করলেন।

    ঘনঘন মাথা নাড়তে লাগল পরেশ মণ্ডল। ‘বদনাম হয়ে যাবে। লোকে আমাকে প্রচুর কুকথা শোনাবে। এই বাদা অঞ্চলে আপনি এখন থেকে ওদের কাছে ভগবান। বলবে—।’ কথা শেষ না করে চিৎকার করল সে, ‘অ্যাই ছোট্টু—। জলদি আয়। জলদি।’ একটি যুবক, যার পরনে শার্ট-ফুলপ্যান্ট, দৌড়ে এল।

    পরেশ মণ্ডল বলল, ‘প্রণাম কর। স্যার এসে গেছেন। এর নাম ছোট্টু। ভালো নাম, ভালো নামটা যেন কি?’

    ছোট্টু বনবিহারীকে প্রণাম করে মামণির পায়ের দিকে হাত বাড়াতেই মামণি তিড়িং করে লাফিয়ে অন্যপাশে সরে গেল। হাল ছেড়ে দিয়ে ছোট্টু সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বলল, ‘আজ্ঞে কামাখ্যাচরণ।’

    ছোট্টুর শরীরে শক্তি আছে। অতএব স্যুটকেস-ব্যাগের দায়িত্ব তাকেই দিতে হল।

    হাঁটতে হাঁটতে পরেশ মণ্ডল বলল, ‘এই জায়গার নাম রামগঙ্গা। আপনি আসছেন শুনে তড়িঘড়ি কাল ব্রজ মণ্ডলের দোতলা ভাড়া নিয়েছি। মাসে আড়াইশো দেবেন। আমাদের যাবতীয় কাজ-কারবার এই রামগঙ্গায়। অফিসটাও এখানে। কিন্তু সমস্যা হল, এখানে এখনও ইলেকট্রিক আসেনি। সন্ধের পর মোমবাতি বা হ্যারিকেন জ্বালতে হয়।’

    ‘সর্বনাশ। এই গরমকালে পাখা ছাড়া মানুষ থাকে কি করে?’

    ‘অভ্যাস স্যার। অভ্যাসে কত কি সম্ভব হয়ে যায়।’ পরেশ মণ্ডল বলল, ‘অথচ দেখুন নদীর ওই পারে ইলেকট্রিক আছে। আলো জ্বলছে পাখা ঘুরছে।’

    ‘ওপারের নাম কি?’

    ‘আজ্ঞে পাথরপ্রতিমা। নামটা নিশ্চয়ই শুনেছেন?’

    বনবিহারীর মনে হল সেকথা। না শুনলেও খবরের কাগজে বোধহয় পড়েছেন।

    একটা ছোটখাটো দোতলা বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে পরেশ মণ্ডল হাঁকল, ‘বজ্রদা, অ ব্রজদা। বাইরে এসো।’

    খাটো চেহারার একটি মানুষ লুঙ্গি পরে খালি গায়ে বাইরে বেরিয়ে এসেই থমকে গেলেন। নগ্নবুকে হাত বোলালেন হেঁ হেঁ, বলবে তো, হেঁ, হেঁ—।’

    ‘ডাক্তারবাবু এসে গেছেন। তোমার কপাল কি ভালো। এখন বাড়িতেই ডাক্তারবাবু থাকলে রাতবিরেতে হাহুতাশ করতে হবে না। নাও, দরজা খুলে দাও।’ পরেশ মণ্ডল বলল।

    ব্রজ মণ্ডল গলা তুলল, ‘পুঁটির মা চাবিটা নিয়ে এসো।’

    তৎক্ষণাৎ ঘোমটায় মুখ ঢাকা এক মহিলা ভেতর থেকে বেরিয়ে এসে চাবি দিয়ে দিলেন। দোতলার সিঁড়ি বাড়ির ভেতর দিয়ে নয় দেখে স্বস্তি পেলেন বনবিহারী। ওপরের ঘরের সাইজ বেশ ছোট। দুটো ঘর, একটা রান্নাঘর আর বাথরুম। ব্রজ বলে যেতে লাগল, ‘রাম গঙ্গায় যে তিনটে বাড়িতে পাম্প আছে তারা জেনারেটার চালিয়ে জল তোলে। আমার জেনারেটার নেই। লোক ঠিক করে দেব, দু-বেলা খাওয়ার জল, রান্নার জল, স্নানের জল তুলে দিয়ে যাবে। ওসব নিয়ে মোটেই ভাববেন না। এখন বলুন, সব পছন্দ হয়েছে তো?

    ‘ঠিক আছে।’ বনবিহারী বলতে বাধ্য হলেন।

    ‘খাট-বিছানা নিয়ে আসা সম্ভব নয়।’

    পরেশ মণ্ডল বলল, ‘দুটো তক্তাপোশ আর বিছানা বিকেলের মধ্যে ভাড়া করে পাঠিয়ে দেব। আমি বলি কি আজ দুপুরের স্নানখাওয়া আপনি, মানে আপনার লঞ্চেই করুন।’

    ‘লঞ্চ?’

    ‘হ্যাঁ। আমাদের কোম্পানির লঞ্চ। রোজ সকালে ওটায় চড়ে তো যেতে হবে বিভিন্ন গ্রামে পেশেন্ট দেখতে।’ পরেশ মণ্ডল বলল।

    তৃতীয় জানলায় গিয়ে দাঁড়াতে বিরাট নদী চোখে পড়ল। নৌকো পারাপার করছে। বনবিহারী জিজ্ঞাসা করলেন, ‘এই নদীর নাম কি?’

    পরেশ মণ্ডল বলল, ‘কালজিরে।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅর্জুন সমগ্র ৫ – সমরেশ মজুমদার
    Next Article বুকের ঘরে বন্দি আগুন – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }