Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আগুনবেলা – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প575 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    দাউদাউ আগুন – ১৬

    ষোলো

    ব্রজ মণ্ডল একটা বিড়ি বের করল লুঙ্গির ভাঁজ থেকে। সেটার দু’দিকে দু’বার টান দিয়ে পরেশ মণ্ডলকে বলল, ‘আগুন আছে?’

    পরেশ মণ্ডল অসন্তুষ্ট হল, ‘আচ্ছা, কেউ শুধু নিজের জন্যে আগুন চায়?’

    ‘কি করব! একটার বেশি তো নেই। থাকলে দাও নইলে পুঁটির মাকে ডাকতে হয়।’

    পরেশ মণ্ডল অনিচ্ছায় দেশলাই এগিয়ে দিল। দুটো কাঠি খরচ করে বিড়িটা ধরিয়ে বেশ জোরে টান দিয়ে ব্রজ মণ্ডল জিজ্ঞাসা করল, ‘মেয়েটা ডাক্তারের কে হয়?’

    ‘কি হতে পারে?’

    ‘মেয়ে হতে পারে। মেয়ের বাচ্চা যখন আছে তখন জামাই কোথায়? আবার বেশি বয়সের বউও হতে পারে। তবে সেটা না বলেই মনে হয়।’ ব্রজ মণ্ডল মাথা নাড়ল। ‘কেন?’

    ‘অল্পবয়সি বউ হলে এর মধ্যে কত খুঁত ধরত। ঘ্যানঘ্যান করত। এ তো কথাই বলে না। ঠোঁট সেলাই করে বসে আছে।’

    এই সময় বনবিহারী ওদের কাছে এগিয়ে এলেন, ‘পরেশবাবু, চলুন জায়গাটা একবার দেখে আসি। নদীর কাছে যেতে ইচ্ছে করছে।’

    ‘বেশ তো চলুন তবে দয়া করে আমাকে বাবু বলবেন না ডাক্তারবাবু। আপনি সম্মানিত লোক, বয়সেও বড়, আমাকে পরেশ বলেই ডাকবেন।’

    ‘বেশ তাই ডাকব।’

    ব্রজ মণ্ডল বলল, ‘এতদূর রাস্তা ভেঙে এলেন। এখনই বের হবেন? একটু বিশ্রাম নিলে হত না? এই জায়গা আর নদী তো পালিয়ে যাচ্ছে না।’

    ‘না না, আমার এমন কিছু পরিশ্রম হয়নি যে বিশ্রাম নিতে হবে।’ বনবিহারী কথা শেষ করে দেখলেন পুঁটির মা প্রায় দৌড়ে ওপর থেকে নেমে আসছে। তাকে মামণির কাছে যেতে দেখে তিনি চলে এসেছিলেন। নীচে নেমে পুঁটির মা ইশারায় ব্রজ মণ্ডলকে ডেকে ভেতরে ঢুকে গেল উত্তেজিত ভঙ্গিতে। কৌতূহলী ব্রজ মণ্ডল দ্রুত তাকে অনুসরণ করল।

    পরেশ মণ্ডল অবাক হয়ে বলল, ‘এটা কি হল?’

    বনবিহারী বললেন, ‘মনে হচ্ছে ভদ্রমহিলা খুব উত্তেজিত হয়েছেন।’

    ততক্ষণে বেরিয়ে এসেছে ব্রজ মণ্ডল ‘আচ্ছা, ওই মহিলা আপনার মেয়ে বোধহয়, কথা বলতে পারে না?’ বোবা?’

    ‘হ্যাঁ, ও বাকশক্তিরহিত।’

    ‘আহা! ভগবানের কী লীলা! পুঁটির মা বলল শুধু গোঙানি ছাড়া কোনও শব্দ উচ্চারণ করতে পারে না।’ ব্রজ মণ্ডল সহানুভূতিতে মাথা নাড়ল।

    ‘হ্যাঁ। ওকে ওর মতো থাকতে দিলে ও ভালো থাকবে। চলুন পরেশ।’ পা বাড়ালেন বনবিহারী। মাঝখানে অনেকটা খোলা জায়গা, চারপাশে ছোটখাটো দোকান। বেশিরভাগই নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের। পাশাপাশি দুটো মাছ ধরার আড়ৎ। কিন্তু তার ঝাঁপ বন্ধ। পরেশ বলল, ‘এখানে তো ইলেকট্রিক নেই। পাইকাররা মাছ কিনে ট্রাকে চাপিয়ে পাঠাত। পাথরপ্রতিমা থেকে বরফ নিয়ে আসা হত লঞ্চে চাপিয়ে। অসুবিধে হচ্ছিল খুব। তাই ওই বেচাকেনা চলছে পাথরপ্রতিমাতেই।’

    ‘পাথরপ্রতিমা!’ বনবিহারী মাথা নাড়লেন, ‘জায়গাটার নাম কাগজে পড়েছি।’

    পরেশ হাসল, ‘মোটামুটি বর্ধিষ্ণু জায়গা। তবে আর একটি কারণে খ্যাতি আছে।’

    ‘কি কারণ?’

    ‘পাথরপ্রতিমার মেয়েরা পরিশ্রম করতে পারে। ডায়মন্ডহারবার-কলকাতা তো বটেই, দিল্লি-বোম্বেতেও ওরা চলে যাচ্ছে বাড়ির কাজ করতে। হাজার দেড় হাজার পাঠাচ্ছে বাড়িতে প্রতি মাসে। এরকমটা বোধহয় আর কোথাও দেখা যায় না।’ পরেশ বলল।

    সামনেই একটা মন্দির। তিনজন লোক তার চাতালে বসো। বনবিহারী জিজ্ঞাসা করলেন, ‘মন্দির দেখছি। এখানকার বেশির ভাগ মানুষ কি হিন্দু?’

    ‘মিলিয়ে মিশিয়ে। তবে হিন্দুরা বোধহয় সংখ্যায় বেশি।’

    ‘এই যে পরেশবাবু। শুনছ—!’ একটা চিৎকার ভেসে আসতে পরেশ পাশ ফিরল। বনবিহারী দেখলেন লাঠি হাতে এক প্রৌঢ় একটু খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে এগিয়ে আসছেন।

    ‘বলুন হালদারমশাই।’

    ‘ব্যথাটা যে কমছে না। একটা ভালো মলম দাও।’

    ‘আপনি বরং ডায়মন্ডহারবারে গিয়ে ভালো ডাক্তার দেখান। আর অবহেলা করবেন না। তেমন বুঝলে কলকাতাতেই যান।’

    ‘আঃ। জ্ঞান দিও না তো। তুমি তো নিজের পকেটের পয়সায় কেনা ওষুধ আমাকে দিচ্ছ না। গৌরী সেনের টাকায় ওষুধ আসছে। খালে-বিলে বিলোচ্ছ, আমাকে দিলে তোমার পুণ্যি হবে। ইনি কে?’ প্রৌঢ় বনবিহারীকে দেখালেন।

    ‘ইনি আমাদের নতুন ডাক্তারবাবু, আজ এইমাত্র এসেছেন।’

    ‘আরে, এ তো দারুণ খবর। নমস্কার নমস্কার। দেখুন তো হাতের কাছে বাড়া ভাতের থালা আর পরেশ আমাকে ধান চাষ করতে মাঠে পাঠাচ্ছে। হ্যাঁ, ডাক্তারবাবু, আপনার চেহারা দেখে আমার সমীহ হচ্ছে। আপনার দেওয়া ওষুধে কাজ হবে। ওহো, পরেশ, হাঁ করে দাঁড়িয়ে আছ কি, আমার পরিচয়টা ওঁকে দাও।’ প্রৌঢ় লাঠিটা শূন্যে ঝুলিয়ে নিতে নিতে বললেন।

    ‘ডাক্তারবাবু, ইনি হলেন মাধবচন্দ্র হালদার। প্রচুর জমিজমা ছাড়া এখানকার পঞ্চায়েতের সবচেয়ে বড় পরামর্শদাতা। নিজে পঞ্চায়েতের নির্বাচনে দাঁড়ান না, কিন্তু যারা নির্বাচিত হয় তারা সবাই ওঁর পছন্দের মানুষ। তিনটি বাস, চারটে টাক আছে। খুব বর্ধিষ্ণু পরিবারের কর্তা ইনি।’ পরেশ বলল।

    ‘ভটভটিগুলোর কথা বললে না?’ মনে করিয়ে দিলেন মাধবচন্দ্র।

    ‘ও হ্যাঁ। ঘাটে গেলে দেখবেন সবসময় একটা করে ভটভটি নৌকো যাত্রী নিয়ে কালজিরের বুকে ছুটে যাচ্ছে। এর সত্তরভাগের মালিক ইনি।’ পরেশ বলল।

    ‘তাহলে তো আপনি রীতিমতো ধনী ব্যাক্তি।’ বনবিহারী হাসলেন।

    ‘আজকাল কাউকে ধনী বললে গালাগালের মতো শোনায়। মনে হয় লোকটা গরিবের রক্ত চুষে ধনের ভাণ্ডার বাড়াচ্ছে। আমি তার উলটো। ওই যে ভটভটিগুলো, যারা চালায় তাদের বলেছি, তোরাই এখন থেকে নৌকোগুলোর মালিক। ডিজেল কিনবি, মেশিনটা ঠিকঠাক রাখবি। কত কামাচ্ছিস তা আমি দেখব না। দিন গেলে দুশো টাকা আমাকে দিলেই কৃতার্থ বোধ করব। ভাড়া বাবদ যা পাবি তার বাকিটা তোদের। ওরা খুব খুশি।’ সগর্বে বললেন মাধবচন্দ্র, ‘ছাড়ুন এসব কথা। আপনি এসে গেছেন বলে খুব ভরসা পাচ্ছি। আমার দুটো অসুখ আছে। যদি সারিয়ে দিতে পারেন তাহলে—!’

    ‘এখনই উনি এলেন, ওকে একটু স্থিতু হতে দিন। তারপর বলবেন।’ পরেশ বাধা দিল।

    ‘বেশ, বেশ। তাহলে আজ রাত্রের আহারটা আমার বাড়িতেই হোক।’ বললেন মাধবচন্দ্র।

    বনবিহারী হাসলেন, ‘আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ। নিশ্চয়ই যাব আপানার বাড়িতে। তার আগে সবকিছু বুঝে নিই। আমি এখানে নতুন, একটু পুরোনো হয়ে নিই।’

    পরেশকে হাঁটতে দেখে বনবিহারী অনুসরণ করলেন। মাধবচন্দ্র বিরক্ত চোখে তাদের যেতে দেখলেন। হাঁটতে হাঁটতে বনবিহারী জিজ্ঞাসা করলেন, ‘ভদ্রলোক কি বাতের রোগী?’

    ‘ইউরিক অ্যাসিড খুব বেশি। তবু নিয়মিত ওষুধ খাবেন না। ভাবেন মলম মালিশ করলেই ব্যথা কমে যাবে। দু-দুবার বিয়ে করেছিলেন, ভাগ্যে স্ত্রী নেই। দুই ছেলে, দুই মেয়ে। তাদের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। বছরখানেক হল ছোট মেয়ের মাসশাশুড়িকে বিয়ে করেছেন। ভদ্রমহিলা বিধবা ছিলেন। তাই নিয়ে খুব অশান্তি। ছেলে-মেয়েরা বছরখানেক হল রামগঙ্গায় আসছে না। কিন্তু বাপের প্রচুর স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি থাকায় নিয়মিত খোঁজ খবর রাখছে।’ পরেশ জানাল।

    ‘জামাই-এর মাসিকে বিয়ে করেছেন?’

    ‘আজ্ঞে। বছর চল্লিশকে বয়স। নিজেকে ইতিমধ্যেই রামগঙ্গার ফার্স্ট লেডি বলে মনে করছেন। এই যে, কালজিরের সামনে এসে গেছি।’ পরেশ হাত তুলল।

    এখন বিকেল ফুরিয়ে যেতে যেতেও ফুরায়নি। বিরাট নদীটাকে কি চমৎকার মায়াময় বলে মনে হল বনবিহারীর। স্রোত রয়েছে। ঘোলাজল বয়ে যাচ্ছে সমুদ্রের দিকে। সামনেই বাঁধানো ঘাট। সেখানে দুটো ভটভটি নৌকো দাঁড়িয়ে। যাত্রীরা বসে আছে। ডানদিকে একটা বড় গাছের ডালে একটা মাঝারি লঞ্চ বাঁধা রয়েছে।

    ভটভটি থেকে কেউ চিৎকার করল, ‘ও পরেশদা, যাবে নাকি?’

    ‘না হে। ডাক্তারবাবুকে সব ঘুরিয়ে দেখাতে এনেছি।’ পরেশ চিৎকার করে বলল।

    ‘ডাক্তারবাবু? নতুন ডাক্তারবাবু?’

    ‘হ্যাঁ হে।’

    ‘নমস্কার ডাক্তারবাবু।’ একটা লোক ভটভটির ওপর উঠে দাঁড়িয়ে মাথার ওপর হাতজোড় করল। বনবিহারী হাত জোড় করলেন। ভটভটি চলতে শুরু করল।

    পরেশ বলল, ‘এই হল আপনার বাহন। এতে করে আপনাকে সুন্দরবন চষে বেড়াতে হবে। আসুন আমার সঙ্গে।’

    পাড় থেকে একটা তক্তা উঠে গেছে লঞ্চের ডেকে। পরেশ তাঁকে হাত ধরে তার ওপর দিয়ে হাঁটিয়ে নিয়ে আসতেই ডেকের ওপর জনা পাঁচেক মানুষ চলে এল। পরেশ বলল, ‘আমাদের নতুন ডাক্তারবাবু।’

    সঙ্গে সঙ্গে ওরা নীচু হয়ে বনবিহারীর পায়ে হাত দিতে লাগল। বনবিহারী লক্ষ করলেন এদের বয়স পঁয়ত্রিশের বেশি নয়।

    ‘এ হচ্ছে রতন। লঞ্চের পাইলট। দুর্দান্ত চালায়। জল-ঢেউ ওর কথা শোনে। এ হচ্ছে গৌরাঙ্গ, রতনের অ্যাসিস্টেন্ট। গুরুর কাছে ভালো তালিম পাচ্ছে। এ হচ্ছে সোনা। লঞ্চের কুক। ওর বাবা ফাটাফাটি রান্না করত। ও তার অর্ধেকটা পারে। এ হচ্ছে ছোটু আর ও হিরো। ওষুধের নাম ওদের মুখস্থ। হিরো ভালো ব্যান্ডেজ বাঁধতে পারে, ছোটুর ইনজেকশন দেওয়ার হাত চমৎকার, এই দুজন আপনার সহকারী।’

    বনবিহারী জিজ্ঞাসা করলেন, ‘ওষুধের স্টক কীরকম?’

    ছোটু বলল, ‘ওই তো মুশকিল। যা আছে তাতে হচ্ছে না। আগের ডাক্তারবাবু একটা লিস্ট দিয়ে গিয়েছিলেন পরেশদাকে—।’

    পরেশ বাধা দিল, ‘এসে গেছে বাবা এসে গেছে। আজ সন্ধায় পাথরপ্রতিমায় পৌঁছে যাবে। রাত্রে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করব। কাল সকালে কাজে লাগাস। চলুন, লঞ্চটা ঘুরে দেখবেন।’

    সিঁড়ি ভেঙে নীচে নামলেন। রতন আলো জ্বালিয়ে দিল। দুপাশে দুটো কেবিন। একজন লোক এক-একটা কেবিনে শুতে পারে। বালিশ-বিছানা রয়েছে। মাঝখানের ঘরে টেবিল। সম্ভবত এখানেই পেশেন্ট দেখা হয়। দুপাশের আলমারিতে ওষুধ সাজানো রয়েছে। পেছনে রান্নাঘর এবং কর্মীদের শোওয়ার জায়গা। দুটো টয়লেট রয়েছে লঞ্চে।

    বনবিহারী হিরোকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘ছোটখাটো অপারেশন কীভাবে করো তোমরা?’

    ‘আমরা তো করি না। আগের ডাক্তারবাবু শুধু পাকা ফোঁড়া কাটতেন। পুঁজ বের করে ব্যান্ডেজ করে দিতাম আমি।’ হিরো বলল।

    ‘এটা তো সুন্দরবনের শুরু। যেসব গ্রাম বনের ভেতরে আছে সেখানে নিশ্চয়ই বাঘ বা কুমিরের কামড়ে আহত হয় মানুষ। তাদের জন্যে কি ব্যবস্থা?’ বনবিহারী জিজ্ঞাসা করলেন।

    পরেশ বলল, ‘তাদের জন্যে ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টের লঞ্চ আছে। তাড়াতাড়ি নিয়ে আসে পাথরপ্রতিমায় বা ডায়মন্ডহারবারে।’

    ঘুরে লঞ্চের সামনের দিকের ডেকে উঠলেন বনবিহারী। তাঁর মুখ থেকে বেরিয়ে এল, ‘বাঃ! সুন্দর।’

    রতন বলল, ‘রামগঙ্গা ছাড়িয়ে কিছুটা গেলে, এখানে বসলে চোখ জুড়িয়ে যাবে।’

    একটা চওড়া বসার জায়গা দেখলেন বনবিহারী। স্বচ্ছন্দে দুটো লোক ওখানে শুতে পারে। বললেন, ‘এখানেও তো শোওয়া যায়।’

    ‘যায়। কিন্তু আমরা শুই না।’ রতন বলল।

    ‘কেন?’

    ‘রাতে খুব ঠান্ডা হাওয়া বয়। অসুখ করে যেতে পারে। তাছাড়া ভাটার টানে লঞ্চ পাড়ের দিকে চলে গেলে বাঘ স্বচ্ছন্দে চলে আসবে এখানে।’

    সন্ধের অন্ধকার নেমে আসছিল নদীর ওপর। পরেশ বলল, ‘এখন ফিরে চলুন। কাল সকাল সকাল বেরুতে হবে আপনাদের। লঞ্চেই খাওয়ার ব্যবস্থা। স্নানও এখানেই করতে পারবেন। সকাল আটটায় বের হলে সন্ধের মুখে ফিরতে পারবেন।’

    ‘এখান থেকে কতটা দূরে যাব আমরা?’

    ‘মুখে বললে ঠিক বুঝতে পারবেন না। জল ভেঙে তো যাওয়া। মোটামুটি ষোলটা গ্রাম ঘুরতে হয় আমাদের। ডাক্তারবাবু যখন চলে গেলেন তখনও ওষুধ দিয়ে আসতে হয়েছে আমাদের। তা ধরুন, দিনে তিনটে গ্রাম ঘুরতে পারলেই এক হপ্তার কাজ হয়ে যায়।’ পরেশ বলল।

    ‘ওইসব গ্রামের নাম, কবে কোথায় যাচ্ছি—।’

    ‘কোনও চিন্তা করবেন না। কাল সকালেই আপনার হাতে রুটিন ধরিয়ে দেব। কবে কোন গ্রামে যেতে হবে। আপনাকে শুধু একটাই কাজ করতে হবে। খাতায় গ্রামের নামের পাশের ফাঁকা জায়গায় লিখবেন কজন পেশেন্ট দেখলেন। তাদের কি ধরনের অসুখ, কি কি ওষুধ দিতে হল আর কি কি ওষুধ দিতে পারলে উপকার হত কিন্তু সঙ্গে না থাকায় দিতে পারলেন না। আপনার এই রিপোর্ট হেড অফিসে পাঠাতে হবে। তারা ঠিকঠাক ছবি পাবেন। নতুন ওষুধ এসে যাবে তারপরেই।’

    হাওয়া দিচ্ছিল। লঞ্চের ওপর দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন বনবিহারীরা। নদীর উলটো পাড়ে পাথরপ্রতিমায় আলো জ্বলছে এখন। ঝকমকাচ্ছে ইলেকট্রিক। এপাড় রামগঙ্গা ওর তুলনায় খুব ম্যাড়মেড়ে। কুপি বা লণ্ঠনের আলো যেমন হয় আর কি! বনবিহারীর খুব ভালো লাগছিল। জঙ্গল, চা-গাছের দেশ ছেড়ে এই জলের দেশে প্রথম আসার পর যে বৈচিত্র্য তা তো লাগবেই কিন্তু তার সঙ্গে বুনো গন্ধ টের পাচ্ছেন তিনি। মনে হচ্ছে এখানে তিনি খুব নিরাপদ।

    ‘তাহলে এবার ফেরা যাক। ডাক্তারবাবু ঝাল-মিষ্টি কি বেশি রান্নায় খান তা তোমরা জেনে নাও। সেই বুঝে কাল রাঁধবে।’ পরেশ বলল।

    ‘আমি সবকিছুই খাই, বেশি বাড়াবাড়ি রকমের না হলেই হল। বুঝলে পরেশ, আমার তো ইচ্ছে করছে এই লঞ্চের কেবিনেই থেকে যাই। যেখানে জন্মেছি, বড় হয়েছি, কাজ করেছি সেখানকার কেউ কখনও লঞ্চের দেখা পায়নি। বই-এ পড়েছি।’ বনবিহারী বেশ খুশি খুশি গলায় বললেন।

    ‘এক-আধদিন থাকতে পারেন। আমি বলব তার বেশি উচিত হবে না।’

    ‘কেন? এখানে তো সবই আছে।’

    ‘তা আছে। কিন্তু আপনি তো একা থাকবেন না। কোনও মহিলার পক্ষে ওই ছোট কেবিনে দিনের পর দিন বাস করা খুব কঠিন ব্যাপার। তাছাড়া শিশু আছে। ঠান্ডা জলীয় বাতাস লাগবেই।’ পরেশ হাসল, ‘আপনি এখানে থাকতে চাইলে রতনরা অস্বস্তিতে পড়বে। বুঝতেই পারছেন।’

    বনবিহারী পেছনে দাঁড়ানো রতনদের দিকে তাকালেন। ওরা হাসার চেষ্টা করল।

    অন্ধকারে যেতে অসুবিধে হবে বলে লঞ্চের আলো জ্বালিয়ে ওরাই নামিয়ে দিল বনবিহারীকে। এখনও ভটভটি যাত্রী নিয়ে আসা-যাওয়া করছে। বনবিহারী জিজ্ঞাসা করলেন, ‘ভটভটি সার্ভিস কখন বন্ধ হয়?’

    ‘গরমকালে রাত ন’টায় শেষ নৌকো যায়, শীতে সাড়ে সাতটায়।’

    ‘ঝড়বাদলে অসুবিধে হয় না?’

    ‘খু-উব। তবে এরা খুব এক্সপার্ট। তেমন বুঝলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকে। তখনই তো ঝামেলা লেগে যায়।’ পরেশ বলল।

    ‘কীরকম?’

    ‘মাধবদা কোনও যুক্তি শুনতে চান না। তাঁর প্রাপ্য দুশো টাকা তাঁকে দিতে হবেই। এরা বলে আবহাওয়ার জন্যে নৌকো বন্ধ ছিল। রোজগার হয়নি, দেবে কোত্থেকে? মাধবদার যুক্তি হল, চুক্তি মানে চুক্তি। যখন ভোর থেকে রাত ন’টা পর্যন্ত গাদাগাদা টাকা এরা রোজগার করে তখন তো দুশোর বেশি দিতে আসে না।’ পরেশ বলল।

    ‘তারপর?’

    ‘চিৎকার-চেঁচামেচি, গালাগালি। শেষে একটা রফা হয়ে যায়।’

    রামগঙ্গা এখন অন্ধকারে মোড়া। কয়েকটা দোকানে হ্যারিকেন জ্বলছে। মন্দিরে কাঁসর বাজছে। বনবিহারী শ্বাস নিলেন, ‘যাই বলো, লঞ্চে একটা রাত কাটাতেই হবে।’

    ‘সেটা দেখবেন আপনি হয়ে যাবে। তবে সারাদিন ওরা আপনাকে সমীহ করে চলবে, সেবা-যত্ন করবে। তারপরেও যদি পাকাপাকি আপনি লঞ্চে থেকে যান তাহলে ওদের স্বাধীনতা বলে কিছু থাকবে না। একটু-আধটু ফুর্তি করা বন্ধ হয়ে যাবে।’ পরেশ হাসল, ‘হাড়ভাঙা খাটুনির পর আপনার সামনে বাংলা নিয়ে কি করে বসবে?’

    ‘ও।’ গম্ভীর হলেন বনবিহারী।

    বুঝতে পেরে পরেশ বলল, ‘তাই বলে ভাববেন না ওরা মদ খেয়ে মাতলামি করে! লঞ্চে বসে মদ খাওয়া ঠিক নয়। হেড অফিস জানলে ওদের চাকরি চলে যাবে। কিন্তু বাড়াবাড়ি করে না যখন তখন ও ব্যাপারে মাথা ঘামাই না। আপনিও হয়তো কোনওদিন জানতে পারবেন না। কিন্তু আপনি তো আর হেড অফিসের লোক নন, তাই বললাম।’

    এইসময় একজন লোক অন্ধকার ফুঁড়ে সামনে এসে দাঁড়াল, ‘পরেশদা, দিয়ে এলাম।’

    ‘আবার আমার খরচা বাড়াবি ভাই। আমি তো পৌনে ন’টার ভটভটিতে চাপব। যেতে যেতে সোওয়া ন’টা। ততক্ষণে ঠিক পচে যাবে।’

    ‘না গো। তোমাকে দিইনি আজ। খবর পেলাম নতুন ডাক্তারবাবু এসেছেন। তা দুটো দেড় কেজির ভেটকি পেয়েছিলাম। একটা দিয়ে এলাম।’ লোকটি বলল।

    ‘সর্বনাশ। কাকে দিলি?’

    ‘ওই যে, ব্রজদার বউকে। ডাক্তারবাবুরা তো আজ রান্নাবান্না করছেন না। তাই ব্রজদার বউ বলল, তিনিই রান্না করে দেবেন।’

    ‘দামটা তিনিই দেবেন তো?’

    ‘ছি ছি ছি। কি যে বলো! ডাক্তারবাবু প্রথম এলেন রামগঙ্গায়। আজ আমি তাঁকে ওটা না হয় এমনি খেতে দিলাম।’

    ‘তাহলে নমস্কার করে ফ্যাল। ইনিই সেই ডাক্তারবাবু!’

    ‘তাই বল।’ ধুপ করে প্রণাম করল লোকটা, ‘আমি মাখন।’

    ‘কিন্তু মাখন, বিনা পয়সায় মাছ দেবে কেন? কত দাম বলো?’

    ‘তা হয় না ডাক্তারবাবু। এই যে ব্রজদার বউ রেঁধে দেবেন, আপনি সেই রান্নার দাম নিশ্চয়ই দেবেন না। আচ্ছা চলি।’ লোকটা যেমন এসেছিল তেমনি উধাও হয়ে গেল।

    পরেশ বলল, ‘তাহলে আজ চলি। অফিস বন্ধ করতে হবে।’

    ‘কাল সকালে লঞ্চে দেখা হবে। বনবিহারী বললেন।

    ‘না। আমি ডাঙার লোক। লঞ্চে ওঠার হুকুম নেই। আমি যখন ভটভটিতে এখানে আসব ততক্ষণে আপনার লঞ্চ অনেক দূরে।’ পরেশ নমস্কার করল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅর্জুন সমগ্র ৫ – সমরেশ মজুমদার
    Next Article বুকের ঘরে বন্দি আগুন – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }