Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আগুনবেলা – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প575 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    দাউদাউ আগুন – ১৭

    সতেরো

    ব্রজ মণ্ডল ভাড়া দিয়েছে তার বাড়ির দোতলা। সেখানে শোওয়ার ঘর, একটা তক্তাপোশ আর তোশক রয়েছে। পেছনের বারান্দা ঘিরে রাখা হয়েছে রান্নার ব্যবস্থা করতে। স্নান বা টয়লেটের বন্দোবস্ত নীচে।

    দোতলায় উঠে এলেন বনবিহারী। ঘরে একটা হ্যারিকেন জ্বলছে। তক্তাপোশের ওপর নিঃসাড়ে ঘুমাচ্ছে মা ও ছেলে। একটা চাদর পাতা হয়েছে তক্তাপোশের ওপর। খুব হাওয়া ঢুকছে ওপাশের জানলা দিয়ে। বনবিহারী চিন্তায় পড়লেন। রাতের খাবারের কি ব্যবস্থা করা যায়! তালে-গোলে রান্নার কোনও জিনিস কলকাতা থেকে নিয়ে আসা হয়নি। কাল সকালে এখান থেকে কিনে নিতে হবে। কেরাসিন তেল পাওয়া গেলে আপাতত স্টোভেই চলে যাবে। কিন্তু মামণি ওই রান্না ঠিকঠাক পারবে তো? কালীচরণ উনুন ধরিয়ে সবকিছু হাতের সামনে সাজিয়ে দিলে এক-আধটা পদ রেঁধে ফেলা যায় কিন্তু দু-বেলা নিয়ম করে রান্নাবান্না ওর দ্বারা কি সম্ভব হবে? বাচ্চাটাও একটু একটু করে বাড়ছে। মায়ের দুধ ছাড়াও গরুর দুধের স্বাদ ওকে পাইয়ে দিয়েছিল কালীচরণ। সেটারও ব্যবস্থা করতে হবে।

    বনবিহারী ঠিক করলেন আজ কেনা খাবার খাবেন। লঞ্চ ঘাটের কাছে কয়েকটা দোকান দেখেছিলেন। কিছু না পান মিষ্টি আর দুধ কিনে আনলেই হবে।

    ‘ডাক্তারবাবু আছেন নাকি?’

    নীচ থেকে গলা ভেসে এল। বনবিহারী ঘর থেকে বেরিয়ে সিঁড়ির মুখে দাঁড়ালেন। ঘুটঘুটে অন্ধকারে টিমটিমে কিছু আলো। নীচে নামতেই সেই আলোয় ব্রজ মণ্ডলকে দেখতে পেলেন।

    ব্রজ মণ্ডল বলল, ‘আজ্ঞে বলছিলাম কি, গিন্নি জিজ্ঞাসা করছেন মাছের ঝোল আর ভাত হলেই চলবে না সঙ্গে ডালতরকারি লাগবে?’

    দ্রুত মাথা নাড়লেন বনবিহারী, ‘একি! আপনারা কেন ব্যস্ত হচ্ছেন! আজকের রাতটা মিষ্টি খেয়ে চালিয়ে নেব। কাল সকালে জিনিষপত্র কিনে নিয়ে রান্নার ব্যবস্থা করব।’

    ‘তা তো ভালোই। কিন্তু আমার বাড়িতে এসে প্রথম রাতে শুধু মিষ্টি খেয়ে থাকবেন, তা কি হয়? তাছাড়া পরেশ মণ্ডল বলে গেছে আপনি যতদিন না গুছিয়ে নিতে পারছেন ততদিন রাত্রে আমার এখান থেকে খাবার যাবে। দিনের বেলায় লঞ্চে রান্না হবে। আপনি কোনও সঙ্কোচ করবেন না।’ ব্রজ মণ্ডল বলল।

    ‘সঙ্কোচ তো হবেই ব্রজবাবু। আত্মীয়তা দূরের কথা, চেনাজানাও নেই, ভাড়াটে হয়ে আপনার বাড়িতে এসেছি, খামোকা খরচ বাড়াব কেন?’ বনবিহারী বললেন।

    এইসময় ব্রজ মণ্ডলের স্ত্রী, পুঁটির মায়ের গলা ভেসে এল, ‘বাইরে দাঁড়িয়ে এসব কথা না বলে ঘরের ভেতর বসে বললেই তো হয়।’

    ‘ও হ্যাঁ, হ্যাঁ। আসুন, ভেতরে আসুন।’ ব্রজ মণ্ডল ঘরে ঢুকল।

    ‘ওপরে ওরা ঘুমাচ্ছে, দরজা খোলা।’

    ‘নিশ্চিন্তে থাকুন। রামগঙ্গায় চুরি করে কেউ পালাতে পারেনি আজ পর্যন্ত। কালজিরে নদীতে ডুবে মরতে হয় তাকে। আর আপনার ওখানে দামি কিছু থাকলেও চোর তার সন্ধান নিশ্চয়ই পায়নি। আসুন।’

    অতএব ঘরের ভেতরে এলেন বনবিহারী। তক্তাপোশে বসিয়ে ব্রজ মণ্ডল বলল, ‘এই সেদিনও এসব জায়গা ছিল পাণ্ডববর্জিত। ওই ঘাট পার হতে লোকে এখানে পা দেয়। ইলেকট্রিকের জন্যে কত জনদরখাস্ত দেওয়া হল, কোনও কাজ হয়নি। আপনার আগে কোনও ডাক্তার তার ফ্যামিলি নিয়ে এখানে আসেনি। মাস ফুরাবার আগেই তারা পালিয়ে গেছে। অথচ অসুখ-বিসুখ তো লেগেই আছে। তাই পরেশ মণ্ডল যখন বলল আপনি ফ্যামিলি নিয়ে আসছেন তখন বিশ্বাস করতে পারিনি।’

    ‘কেন?’

    ‘কেন আসবেন এখানে?’ ছেলেছোকরা ডাক্তার হলে আসার কারণ থাকে। শহরে রুগি পায় না, পসার নেই, এসব জায়গায় এসে হাত পাকাতে চায়। কিন্তু আপনার তো বয়স হয়েছে। পরেশ মণ্ডল বলল আপনি ডাক্তার হিসেবেও ভালো। তাই আসার কারণটা বোধগম্য হয়নি।’ ব্রজ মণ্ডল হাসল।

    ‘কোনও রহস্য নেই। সারা জীবন পয়সা নিয়ে ডাক্তারি করেছি। এই এন জিও-র বিজ্ঞাপন দেখে মনে হল গরিব মানুষের উপকার করি। বিনা পয়সায় চিকিৎসা শুরু করলে বেঁচে থাকব কি করে? তা এঁরা একটা মাসোয়ারা দেবেন আর আমি মনের সুখে রুগি দেখতে পারব, তাই চলে এলাম।’ বনবিহারী হাসলেন। আজকাল মিথ্যে বলতে আগের মতো অসুবিধে হয় না।

    ‘ভালো করেছেন। কিন্তু পরেশ মণ্ডল বলছিল আপনি লঞ্চে করে দুপাশের জঙ্গলের মধ্যে যে গ্রামগুলো আছে সেখানে গিয়ে রুগি দেখবেন। আপনার কোম্পানি সেইজন্যে আপনাকে এনেছে। রামগঙ্গা বা পাথরপ্রতিমার রুগি দেখবেন না তাই কি?’

    ‘দেখুন ওঁরা যে জন্যে আমাকে ডেকেছেন সেই কাজটা আগে করতেই হবে। তাই বলে আমার অবসর সময়ে এখানকার কোনও অসুস্থ মানুষ যদি আসে তাহলে আমি মুখ ফিরিয়ে কি নিতে পারি?’

    ‘বাঃ। ভালো। নিশ্চিন্ত হওয়া গেল।’

    পুঁটির মা ঘরে এল, ‘আমি তোমাকে বলেছিলাম, দেখলেই বোঝা যায় ওঁর মন খুব বড়। নইলে কেউ বোবা মেয়েকে আশ্রয় দেয়?’

    ব্রজ মণ্ডল মাথা নাড়ল, ‘খুব বেদনার কথা। আপনি যখন বাইরে গিয়েছিলেন তখন পুঁটির মা ওপরে গিয়েছিল। ফিরে এসে বলল অত সুন্দর মেয়েটা নাকি বোবা। পুঁটির মায়ের কোনও প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি।’

    পুঁটির মা হাসল, ‘না না। দুটো প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে। বাচ্চাটাকে দেখিয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, ও কি তোমার ছেলে? তাতে মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলেছে। আর জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তুমি রান্নাবান্না জানো তো? সঙ্গে সঙ্গে মাথা নেড়ে না বলেছে।’

    ‘সেকি!’ ব্রজ মণ্ডল বলল, ‘রান্না না জানলে চলবে কি করে? তুমি ওকে হাতে ধরে শিখিয়ে দিও।’

    ‘ও নিয়ে ভেবো না। মেয়েমানুষ হয়ে জন্মেছে যখন তখন ঠিক শিখে যাবে রাঁধতে। ওহো, তখন থেকে কথাই বলে যাচ্ছি, চা খাবেন?’ পুঁটির মা জিজ্ঞাসা করল।

    ‘না, না। চায়ের নেশা আমার নেই। আচ্ছা—!’

    বনবিহারী আর মিষ্টির সন্ধানে না গিয়ে ওপরে উঠে এলেন।

    আজ দুপুরের খাওয়া হয়েছিল বেশ দেরিতে। পরেশ মণ্ডলের ইচ্ছে ছিল সবাই লঞ্চে গিয়ে খাবে। কিন্তু বাচ্চাটাকে কাশতে দেখে বনবিহারী আর ওকে বের করতে চাননি। লঞ্চের রান্না খাবার পরেশ বাড়িতে পাঠিয়েছিল। প্রচুর মশলা দেওয়া রান্না। বনবিহারীর খেতে খুব অসুবিধে হয়েছিল কিন্তু মামণি বেশ চেটেপুটে খেয়ে নিয়েছিল।

    দুটো তক্তাপোশ বোধহয় জোগাড় করতে পারেনি পরেশ, একটা পাঠিয়েছে, সঙ্গে তোশক-বালিশ। কাল থেকে রান্না করতে হবে। এর ওর বাড়ি থেকে খাবার এলে তারা ক্রমশ ব্যক্তিগত ব্যাপারে নাক গলাতে চাইবে। মামণির সঙ্গে কথা বলবেন তিনি।

    বারান্দায় উঠে বাঁ-দিকে তাকাতেই কালজিরে নদীর একাংশ চোখে পড়ল। এই অন্ধকারে জল দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু একটা ডিঙি নৌকো হ্যারিকেন জ্বালিয়ে জলের ওপর দিয়ে চলে যেতে নদীর অস্তিত্ব বোঝা গেল। সুন্দরবনের নদীতে কামট, কুমির গিজগিজ করছে বলে এতকাল শুনেছেন। নিশ্চয়ই দেখতে পাবেন। মাতলা, বিদ্যেধরীর মতো ভয়ংকর নদী সুন্দরবনে আছে, কালজির বোধহয় তাদের তুলনায় বেশ শান্ত।

    ঘরে ঢুকেই দৃশ্যটি দেখলেন। মা এবং ছেলেটর ঘুম ভেঙে গেছে। ছেলের পাশে বসে মামণি অপলক তাকিয়ে আছে। ছেলেও মাকে দেখার চেষ্টা করছে। মাঝে-মাঝে পা ছুড়ছে। তারপর তার গলায় একটু কান্না ফুটতে মা তাকে কোলে তুলে নিল। এবার ছেলে শান্ত। বনবিহারী বললেন, ‘তোমাদের দুজনের দেখছি একটা ব্যাপারে বেশ মিল।’

    মামণি চোখ তুলে উৎসুক ভঙ্গিতে তাকাল।

    ‘কারও তো খিদে পাচ্ছে বলে মনে হয় না।’

    মামণি হাসল। তারপর ডানহাতের বুড়ো আঙুলটা শূন্যে উঁচিয়ে মুখের মধ্যে পুরে বের করে নিল। বনবিহারী বললেন, ‘এটা তোমারই দোষ। নিজের জন্যে না বলতে পারো ছেলের দুধের কথা আমাকে মনে করিয়ে দাওনি কেন?’

    মামণি আঙুল তুলে ছোট্ট টুলের ওপর প্লেটে ঢাকা বাটি দেখিয়ে দিল। তার পাশে ফিডিং বোতল রয়েছে।

    ‘বাঃ। কিন্তু দুধ পেলে কি করে?’

    মামণি হাতের ইশারায় নীচের তলা বুঝিয়ে দিল।

    বনবিহারী মাথা নাড়লেন, ‘ঠিক আছে। আজ প্রথম দিন। ওদের সাহায্য নিতে হচ্ছে। কিন্তু কাল থেকে আর নয়। নিজেদের যা যা দরকার তা সকাল থেকেই গুছিয়ে নিতে হবে।’ তক্তাপোশের এক কোণে এসে বসলেন বনবিহারী, ‘দুটো ডাল-ভাত আর একটু মাছের ঝোল, তুমি রাঁধতে পারবে না?’

    সঙ্গে সঙ্গে মামণি ঠোঁট মোচড়াল। তার গলা দিয়ে একটা অবোধ্য শব্দ বের হল। হাতের ইশারায় সে পেছনের কাউকে ডেকে আনার কথা বলল। বনবিহারী জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তুমি কালীচরণের কথা বলছ?’

    সঙ্গে সঙ্গে একগাল হাসল মামণি। হেসে মাথা নাড়ল।

    ‘কালীচরণ এলে ওখানকার বাড়িঘর কে দেখবে? আমরা কেন এতদূরে চলে এলাম তা নিশ্চয়ই তুমি বুঝতে পেরেছ?’ কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থেকে নিজের বুকে হাত রেখে মামণি বোঝাল সে জানে তার জন্যেই বনবিহারীকে চলে আসতে হয়েছে।

    ‘তুব আমি কালীচরণকে চিঠি লিখব। কয়েকদিনের জন্যে নাহয় এসে ঘুরে যাক সে। কিন্তু তুমি যদি রান্না না করো তাহলে আমাদের লঞ্চের খাবার খেতে হবে রোজ। ওই রান্না আমার বেশিদিন সহ্য হবে না।’ বনবিহারী বললেন।

    আবার কয়েক সেকেন্ড চুপচাপ বসে থাকার পর মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলল মামণি। খুশি হলেন বনবিহারী।

    দরজার বাইরে শব্দ হল। পুঁটির মায়ের গলা পাওয়া গেল, ‘খাবার এনেছি।’

    বনবিহারী উঠতে যাচ্ছিলেন কিন্তু তার আগেই বাচ্চাটাকে তুলে বনবিহারীর কোলে শুইয়ে দিয়ে মামণি ছুটল দরজার দিকে। পুঁটির মায়ের হাত থেকে একটা সসপ্যান আর বড় বাটি নিয়ে ইশারায় ভেতরে আসতে বলল সে। পুঁটির মা বলল, ‘না, এখন আর ভেতরে যাব না। প্লেট তো ধোয়া আছে, কুঁজোর জল আছে তো? না থাকলে ওঁকে বলছি ভরে দিয়ে যেতে।’

    মামণি কয়েকবার মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলে বোঝাল। কুঁজোয় জল আছে। পুঁটির মা একগাল হেসে চলে গেল।

    এখানে সন্ধের আয়ু বড় কম। ঝুপ করে রাত নেমে যায়। একেই জায়গাটা চুপচাপ, রাত নামলে সে নৈঃশব্দ্য প্রবল হয়ে ওঠে। মাছের ঝোল দিয়ে ভাত খেয়ে চিলতে রারান্দায় দাঁড়িয়ে বনবিহারী দেখলেন রামগঙ্গায় দু-তিনটে আলো এখনও টিমটিম করছে। খামোকা রাত না জেগে এখানকার লোকজন রাতের খাওয়া সেরে বিছানায় চলে গেছে. মামণি নীচ থেকে ঘুরে বেরিয়ে আসামাত্র ব্রজ মণ্ডলের গলা শুনলেন, ‘গিন্নির রান্না কেমন?’

    ‘ভালো, খুব ভালো।’

    ‘ওরা তো বাঙাল। বাপের দেশ ছিল বরিশালে। যাই বলুন, বাঙালরা ঘটিদের চেয়ে অনেক ভালো রাঁধে।’

    সঙ্গে সঙ্গে ভেতর থেকে পুঁটির মায়ের গলা ভেসে এল, ‘ঝাল লাগেনি তো?’

    ‘না না। চমৎকার খেলাম।’

    ‘আমাদেরও খাওয়া শেষ।’ ব্রজ মণ্ডল বলল, ‘এখানে রাত নটাই প্রায় মাঝরাত। কিছু দোকানদার আর তাসুড়ে ছাড়া লোক খুঁজে পাবেন না। কিন্তু আপনাদের একটা সমস্যা যে এখন হবে!’

    বনবিহারী বুঝতে না পেরে অপেক্ষা করলেন।

    ‘ওই ছোট তক্তাপোশে তিনজন তো কিছুতেই হবে না।’

    ‘না না, তিনজন কেন, মা-ছেলের তো হয়ে যাবে। আর একটা তক্তাপোশ না পাওয়া পর্যন্ত আমি নীচেই শোব।’ বনবিহারী বললেন।

    ‘পরেশ মণ্ডল যখন নিজে দুটো জোগাড় করতে পারল না তখন আমাকে বলতে পারত। বিদেশ-বিভুঁইতে এসে আপনি মাটিতে শোবেন, এ কেমন কথা। পুঁটির মা বলছিল, বাচ্চাটার যদি রাত্রে কান্নাকাটির অভ্যেস না থাকে তাহলে ওকে নিজের কাছে নিয়ে শুতে পারে।’ ব্রজ মণ্ডল বলল।

    ‘না না, তার কোনও দরকার হবে না। আচ্ছা চলি।’ বনবিহারী দ্রুত ওপরে উঠে এসে দাঁড়াতেই ব্রজ মণ্ডলের গলা শুনতে পেলেন, ‘পুঁটি, পুঁটি, এই পুঁটি! আর কতক্ষণ জেগে থাকব?’

    পুঁটির মায়ের গলা শুনতে পেলেন, ‘তুমি শুয়ে পড়ো, আমি দেখছি।’

    ‘একটা ছেলেকে দুপুরে ঘুরঘুর করতে দেখেছি। তার সঙ্গে বোধহয়—!’

    ‘তোমাকে অত ভাবতে হবে না। ওই যে, এসে গেছে। আয় পুঁটি।’

    বনবিহারী বারান্দা থেকে উঁকি মেরে দেখলেন একটি সাদা বেড়াল লণ্ঠনের আলোর আওতায় এসে মিঁয়াও বলে জানান দিল।

    তাহলে পুঁটির মায়ের নামকরণ এই কারণে। মহিলা নিঃসন্তান, বেড়ালকেই সন্তান ভেবে নিয়েছেন।

    ঘরে ঢুকে তাঁর চোখ বড় হল। মেঝেতে বিছানা করে ফেলেছে মামণি। এবং সেখানে ছেলেকে কোলে নিয়ে বসে আছে। বনবিহারী প্রতিবাদ করলেন, ‘একি! তুমি ওকে নিয়ে নীচে শোবে নাকি? মাথা খারাপ হয়ে গেছে তোমার।’

    ওই প্রসঙ্গে না গিয়ে মামণি বাচ্চাটাকে তুলে ধরল ওপরে, বনবিহারীকে নিতে বলল ইশারায়। বনবিহারী বাচ্চাটাকে কোলে তুলতেই অস্ফুট শব্দ বের হল গলা থেকে। চোখ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে বনবিহারীকে দেখছে। শিশু। বনবিহারী ওকে মুখের কাছে এনে বললেন, ‘কি? চোখে ঘুম নেই?’

    শিশু নিঃশব্দে হাসল। এই হাসি দেখে মন ভালো হয়ে গেল বনবিহারীর। ঈশ্বরের হাসি নিশ্চয়ই এর চেয়ে পবিত্র নয়। এবার এর একটা নাম দেওয়া দরকার। ঝট করে কয়েকটা নাম মাথায় চলে এলেও বনবিহারী চটজলদি সিদ্ধান্ত নিলেন না। তক্তাপোশের ওপর বসে শিশুর মুখ থেকে দৃষ্টি সরাতেই থতমত হয়ে গেলেন তিনি। ঘরের এক কোণে দাঁড়িয়ে পোশাক বদলাচ্ছে মামণি। রাতে শোওয়ার কামিজটা ইতিমধ্যে পরে ফেলেছে কিন্তু হাঁটুর নীচে কিছু নেই। ছাড়া পোশাকগুলো ভাঁজ করে রেখে মামণি এগিয়ে এসে হাত বাড়াল শিশুর জন্যে।

    বনবিহারী বিরক্ত হলেন, ‘তুমি এই ভাবে ঘুমাবে নাকি?’

    হাত শূন্যে ঘোরাল মামণি যার অর্থ তাতে অসুবিধে কোথায়?

    ‘খারাপ দেখাচ্ছে! লোকে দেখলে কুকথা বলবে। পাজামা-টাজামা যা আছে তা পরে নাও। কালই দুটো পা ঢাকা সেমিজ গোছের কিছু কিনে আনব।’

    মামণি হাত নেড়ে জিজ্ঞাসা করল, এই ঘরে লোক কোথায় যে দেখে কুকথা বলবে? ছেলেকে তক্তাপোশে শুইয়ে দিয়ে সে নীচের বিছানায় পাশ ফিরে শুয়ে পড়ল।

    মহা ম্যাসাদে পড়লেন বনবিহারী। তাঁকে যদি বাচ্চাটার পাশে শুতে হয় তাহলে সারারাত জেগে থাকতে হবে। কেবলই মনে হবে ও জলবিয়োগ করে ভিজে একসা হয়ে আছে। তিনি মামণিকে কয়েকবার ডাকলেন। সে কোনও সাড়া দিল না।

    বিছানায় শোওয়ামাত্র বাচ্চা চোখ বন্ধ করল। অতএব বাধ্য হয়ে বাচ্চার বিছানা মেঝে থেকে তুলে তক্তাপোশে এনে তার ওপর ওকে শুইয়ে দিলেন। ঘরের দরজা বন্ধ করে রান্নার জায়গায় গিয়ে পোশাক পালটে হ্যারিকেনের দিকে তাকালেন। সারারাত হ্যারিকেন জ্বালিয়ে রাখা ঠিক নয়। কার্বন ডাই অক্সাইড বেড়ে যেতে পারে। কিন্তু ওটা নিভিয়ে দিলে অন্ধকারে কিছু দেখা যাবে না। হ্যারিকেনটা রান্নার জায়গায় নিয়ে গিয়ে আলো একেবারে কমিয়ে রেখে দিলেন। ঘর অন্ধকার হয়ে গেল বটে কিন্তু একটা আবছা আলো তার সঙ্গে মিশে রইল।

    শিশুর পাশে সন্তর্পণে শুয়ে পড়লেন বনবিহারী। সঙ্গে সঙ্গে সর্বাঙ্গে অপূর্ব আরাম ছড়িয়ে পড়ল। সেই ভোরবেলায় শরীরটা বিছানা ছাড়ার পর আর বিশ্রামের সুযোগ পায়নি। এখন ঘুম পাচ্ছে কিন্তু অঘোরে ঘুমালে চলবে না। শিশুর ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। কোনও বাচ্চাকে কোলের পাশে নিয়ে কখনও ঘুমাননি। তাই বেশ অস্বস্তি হচ্ছে তাঁর। ঘুমের ঘোরে যদি ওর শরীরে তাঁর শরীরের চাপ পড়ে তাহলে আর দেখতে হবে না। একেবারে তক্তাপোশের কিনারে নিয়ে গেলেন শরীরটা। কিন্তু ক্লান্তি এত প্রবল ছিল যে ঘুম চলে এল আচমকা।

    কিন্তু সেই ঘুম ভাঙল। ঠিক কতক্ষণ পরে তা বনবিহারী জানেন না। চোখ খুলতেই মনে হল চারধারে কুয়াশা। আর সেই কুয়াশার আড়াল থেকে কারও ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্না ভেসে আসছে। প্রথমে ভাবলেন তিনি স্বপ্ন দেখছেন। কিন্তু কান্না যখন নীচ থেকে আসছে তখন আর স্বপ্ন বলে মনে হল না। উঠে বসলেন বনবিহারী। বুঝতে পারলেন মামণি কাঁদছে। এবং এই প্রথম অনুভব করলেন যারা কথা বলতে পারে না তারা কান্নার সময় স্বাভাবিক মানুষের মতো কাঁদতে পারে। খুব নীচু গলায় তিনি ডাকলেন, ‘মামণি?’

    কোনও সাড়া এল না, ফোঁপানিও থামল না।

    বিপাকে পড়লেন বনবিহারী। গোটা পৃথিবীর কোথাও কোনও শব্দ নেই। নীচু গলায় কথা বললেও দূরের মানুষ শুনতে পাবে। এক্ষেত্রে কান্নার আওয়াজ তো আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে। বনবিহারী তক্তাপোশ থেকে নেমে মামণির পাশে দাঁড়িয়ে ঝুঁকে ওর মাথায় হাত রাখলেন, ‘কি হয়েছে? কাঁদছ কেন? মন খারাপ লাগছে?’

    উত্তর এল না। কিন্তু কান্নাটা একটু মিইয়ে গেল। বনবিহারী বললেন, ‘এই জায়গাটা বোধহয় তোমার ভালো লাগছে না। দেখি, কি করা যায়।’

    অন্ধকারেই মাথা নেড়ে আপত্তি জানাল। মামণি, ঠিক কথা নয়।

    বাধ্য হয়ে ওর মাথার পাশে বসে মাথায় হাত রাখলেন বনবিহারী, ‘তাহলে কি জন্যে কষ্ট পাচ্ছ তা আমাকে বল।’

    হঠাৎ এদিকে পাশ ফিরে দু-হাত দিয়ে বনবিহারীকে জড়িয়ে ধরে তাঁর কোলের ওপর মাথা তুলে স্থির হয়ে গেল মামণি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅর্জুন সমগ্র ৫ – সমরেশ মজুমদার
    Next Article বুকের ঘরে বন্দি আগুন – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }