Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আগুনবেলা – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প575 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    দাউদাউ আগুন – ১৮

    আঠারো

    বনবিহারী স্থির হয়ে বসেছিলেন। মামণির দুটো হাত তাঁর কোমরকে সাপের মতো জড়িয়ে ধরে আছে। ফোঁপানি বন্ধ হয়েছে। কিন্তু ওর শরীরের চাপ ক্রমশ বিভ্রান্ত করছিল তাঁকে। তারপর মনে হল মেয়েটা মা হয়ে গেলেও ওর মনের শৈশব কাটেনি। দুঃখ পেলে, আবেগে কান্না এলে কাউকে জড়িয়ে ধরে নিজেকে শান্ত করতে চায়। তাই এই মুহূর্তে ওর সঙ্গে বাবার মতো ব্যবহার করা উচিত। সঙ্গে সঙ্গে অনেকটা সহজ হয়ে গেলেন তিনি। আবার ওর মাথায় হাত রাখলেন। গলায় সহানুভূতি এনে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কি হয়েছে?’

    নিজের ডান হাত বনবিহারীর কোমর থেকে ওপরে তুলে গলা, গাল ছুঁয়ে ঠোঁটের ওপর এসে একটা আঙুল যেখানে চেপে ধরল মামণি যার অর্থ হল, কথা বলো না। আবার হাত নামিয়ে কোমর জড়িয়ে ধরে শুয়ে থাকল মামণি। বনবিহারী কি করবেন বুঝতে পারছিলেন না। কয়েক সেকেন্ড পাথরের মতো বসে থাকার পর তাঁর অস্বস্তি শুরু হল। মামণির ঊর্ধ্বাঙ্গের চাপ তাঁর পায়ের ওপরে। নরম, তুলতুলে সেই অনুভূতিকে একটু একটু করে আরাম জড়াচ্ছে। জীবনে এমন অভিজ্ঞতা তাঁর হয়নি। কোনও নারীশরীর কখনও এমন ঘনিষ্ঠ হয়ে তাঁর জীবনে আসেনি। বনবিহারী চোখ বন্ধ করলেন। মেয়েটা নিশ্চয়ই খুব ক্লান্ত, কাঁদলে শরীর আরও কাহিল হয়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ও ঘুমিয়ে পড়বে। আর তখন সন্তর্পণে ওকে কোল থেকে নামিয়ে উঠে যাবেন তিনি।

    ঘটনা যে ওঁর ভাবনামতো ঘটবে তা নিজেই আশা করেননি বনবিহারী। ঘুমে কাদা হয়ে যাওয়া মামণির শরীরটাকে নীচে নামিয়েও কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলেন। তারপর নিঃশব্দে উঠে চলে এলেন ঘেরা বারান্দায় যেখানে রান্নার ব্যবস্থা হয়েছে। গ্রিলের এপাশে ত্রিপল টাঙানো হলেও একদিকের ছিলতে ফাঁক গলে আকাশ দেখা যাচ্ছে। সেই আকাশ দেখতে দেখতে শ্বাস ফেললেন বনবিহারী। একটা ভয়ংকর সমস্যা থেকে উদ্ধার পেয়েছেন বলে মনে হচ্ছিল। মেয়েটা যে তাঁর কাছে আশ্রয় চাইছিল, পেয়ে নিশ্চিন্ত হয়ে ঘুমাচ্ছে তা তিনি বুঝতেই পারেননি। মামণি স্বাস্থ্যবতী। ওর শরীরের প্রবল স্পর্শে যে মাদকতা আছে তা তাঁকে প্রায় টলিয়ে দিয়েছিল। যদি নিজেকে সংযত রাখতে না পারতেন, যদি—যদি—! চোখ বন্ধ করে ফেললেন বনবিহারী। তাঁর ভেতরে যে একটা ভয়ঙ্কর ক্ষুধার্ত প্রাণী ঘুমিয়েছিল তা আজ স্পষ্ট টের পাচ্ছেন।

    ঘরে ফিরে কুঁজো থেকে এক আঁজলা জল নিয়ে মুখেঘাড়ে বোলালেন তিনি। তারপর তক্তাপোশের ওপর বসলেন। নীচের বিছানায় পরম শান্তিতে ঘুমাচ্ছে মামণি। ও কি করে মা হল? শিশুর মতো মনের গড়ন যার, মেয়ে হয়েও শরীর সম্পর্কে উদাসীন এই মেয়ে ঘর ছাড়ল কি করে?

     

     

    শুয়ে পড়লেন বনবিহারী। কিন্তু ঘুম এল না সহজে। এতটা কাল প্রকৃত ব্রহ্মচারীর মতো জীবন যাপন করেছেন। কখনও শরীরের প্রতি আকর্ষণ বোধ করেননি। সমস্ত মেয়ে বা মহিলা, দশ থেকে নব্বই হলেও সবাইকে মা বলে সম্বোধন করেছেন। অথচ আজ কেন মনে হচ্ছে অযথা নিজেকে বঞ্চিত করে রেখেছিলেন। এখন এই বয়সে পৌঁছে আর পেছনে তাকাবার কোনও মানে হয় না। এই বয়সে মানুষকে মুখোশ পরে থাকতে হয়, মুখ দেখালে কুৎসা ছড়াবে।

    কখন ঘুমিয়ে পড়েছিলেন বনবিহারী জানেন না, ভোর রাতে বাচ্চার চিৎকারে ধড়মড়িয়ে উঠে বসলেন। আধা অন্ধকারে অস্পষ্ট দেখলেও তাঁর চোখ বিস্ফারিত হল। চিৎ হয়ে শুয়ে থাকা শিশু শুধু উপুড় হয়নি একেবারে তাঁর শরীরের কাছে চলে এসে কাঁদছে। ঝটপট কোলে তুলে নিয়ে বিছানা হাতড়ে বুঝলেন বেশ কয়েকটি জায়গা এখনও ভিজে রয়েছে। অর্থাৎ জলবিয়োগ করেই শিশু কাঁদেনি। পা ছুড়ে শরীর সরিয়েছে। এর আগে ওকে কখনই নিজে নিজে উপুড় হতে দ্যাখেননি বনবিহারী। আজ থেকে এ শরীর নাড়াতে শিখল। ফলে তক্তাপোশ মোটেই নিরাপদ জায়গা নয় যদি না দুটো দিক উঁচু করে দেওয়া হয়।

    শিশু কেঁদেই যাচ্ছিল। ওকে কোলে নিয়ে বনবিহারী মামণির কাছে এসে ডাকলেন। দ্বিতীয়বারে চোখ মেলল মামণি। বনবিহারী শিশুটিকে দেখিয়ে বললেন, ‘বেচারার খিদে পেয়েছে। নাও, ওকে খাওয়াও।’

     

     

    সজোরে মাথা নাড়ল মামণি। না। তারপর বুকের ওপর হাত ছুঁইয়ে আঙুল নেড়ে বোঝাল সেখানে কিছু নেই।

    বনবিহারী স্তম্ভিত। এই মেয়ের শিশুর মস্তিষ্ক! নইলে খোলাখুলি তাঁকে কি করে জানাল যে বুকে দুধ নেই।

    সকাল আটটার মধ্যেই মোটামুটি বাজার করা হয়ে গেল। স্টোভ, কেরোসিন, রান্নার জিনিসপত্র থেকে সবজি, মশলা কিনে কয়েক দফায় বাড়িতে পৌঁছে দিলেন তিনি। তাই দেখে গালে হাত দিল মামণি। সে ভেবে পাচ্ছিল না এসব কি করে সামলাবে। বনবিহারী সবকিছু গুছিয়ে রেখে মামণিকে স্টোভ জ্বালাতে শিখিয়ে দিলেন। প্রথমে একটা সসপ্যানে জল গরম করতে স্টোভের ওপর বসিয়ে দেওয়া হল।

    বনবিহারী ভাবছিলেন মাছ কিনে আনবেন কি না। এক বিঘৎ লম্বা পার্শে মাছ এখানে চল্লিশ টাকা কিলোয় বিক্রি হচ্ছে। আড়াইশো মাছ আনলেই তাঁদের চলে যাবে। তিনি মামণিকে জিজ্ঞাসা করলেন তরকারি কাটতে পারবে কিনা? মামণি ইশারায় জানাল কি দিয়ে সে কাটবে? হেসে ফেললেন বনবিহারী। সব কিনেছেন কিন্তু বঁটি কিনতে ভুলে গেছেন। আবার বের হলেন তিনি। এই যে নতুন সংসার পাতার ব্যাপারটা তাঁর খুব ভালো লাগছিল। কালীচরণ দেখলে নিশ্চয়ই অনেক খুঁত বের করত। তাঁকে কিছুই করতে দিত না। কিন্তু এসব নিজে করলে যে আনন্দ পাওয়া যাচ্ছে তা থেকে বঞ্চিত হতেন।

     

     

    সিঁড়িতে পা দিতেই পরেশ মণ্ডলকে দেখতে পেলেন, হন্তদন্ত হয়ে আসতে। সে কথা বলার আগেই ব্রজ মণ্ডল তাকে ধরল, ‘এই যে পরেশবাবু, আপনি কাল একটা খাট পাঠিয়েছেন? তিনজনের শরীর ওই ছোট্ট খাটে ধরবে?’

    পরেশ পকেট থেকে রুমাল বের করে ঘাড় মুছল, ‘কাল একটাই পেয়েছিলাম। আজ পাথরপ্রতিমা থেকে আনিয়ে দেব। মাসে কুড়ি টাকা ভাড়া।’

    ব্রজ মণ্ডল মাথা নাড়ল, ‘ভালো কথা। তা ডাক্তারবাবুকে দেখলাম সকাল থেকেই বাজারহাট করছেন। রান্নাবান্না শুরু হয়ে গেছে নাকি?’

    পরেশ মণ্ডল চোখ কপালে তুলল, ‘একি! এর মধ্যেই রান্না করে খাবেন কেন? দুপুরে লঞ্চে আপনাদের জন্যে রান্নার ব্যবস্থা হয়েছে। রাত্রে ব্রজবাবুর সঙ্গে কথা হয়ে গেছে, যা খরচ হবে তার দাম ধরে দিলেই হবে।’

    বনবিহারী বললেন, ‘লঞ্চের রান্না বেশ ভালো তবে অত মশলা আমার যে সহ্য হয় না।’

     

     

    ‘ঠিক আছে ডাক্তারবাবু, বলে দিলে আপনি যেমন চান তেমনই পাবেন। স্নান হয়ে গেছে?’

    ‘স্নান? না তো!’

    ‘ও হো, আমার উচিত ছিল কালই আপনাকে বলে যাওয়া! ঠিক আছে ওটা লঞ্চেই সেরে নেবেন। ভালো বাথরুম আছে ওখানে। আর দেরি করলে ফিরতে রাত হয়ে যাবে। চলুন।’

    ‘যাব? কোথায়?’

    ‘তেঁতুলতলার ঘাট, বিরাটবাজার, অচিন্ত্যনগর, বুড়োবুড়ির তট, ঘনশ্যামনগর আর রাখালপুরে এই সপ্তাহে লঞ্চ নিয়ে যাবেন। আজ তিনটে জায়গায় বলা হয়েছে আপনি যাবেন আর সেই মতো রুগিরা লঞ্চে এসে আপনাকে দেখাবে। মনে হচ্ছে আজ দু-জায়গার বেশি যেতে পারবেন না। কাল থেকে সকাল সাতটা সাড়ে সাতটায় বেরুতে পারলে প্রোগ্রাম ঠিক থাকবে। আপনার জন্যে সবাই লঞ্চে অপেক্ষা করছে।’ পরেশ মণ্ডল বলল।

     

     

    ‘বেশ। আমি এক মিনিটের মধ্যে আসছি।’ ওপরে উঠতে গিয়ে থেমে গেলেন বনবিহারী। ঘুরে বললেন, ‘লঞ্চ নিশ্চয়ই এখন ফিরবে না, তাহলে ওদের দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা—।’

    ‘আহা,’ বনবিহারীকে থামিয়ে দিল পরেশ মণ্ডল, ‘ওদের নিয়ে চলুন। ভেতরে কেবিন আছে। সেখানে বিশ্রাম নেবে।’

    ভেতর থেকে পুঁটির মায়ের গলা ভেসে এল, ‘ভালো করে বাচ্চাকে কাপড়ে ঢেকে রাখবেন। নদীর হাওয়া যেন গায়ে না লাগে।’

    কালজিরে নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে মামণি মুগ্ধ। চোখে-মুখে আলো ফুটল। লঞ্চ থেকে নেমে এসেছিল ছোটু। সে-ই শিশুকে কোলে নিয়ে তক্তাপোশের ওপর দিয়ে তরতর করে হেঁটে ওপরে উঠে গেল। ওপাশে ভটভটি নৌকো আসা-যাওয়া করছে। পায়ের তলায় তক্তা, কাঁধ বরাবর দড়ি টাঙানো, মামণি স্বচ্ছন্দে তাদের সাহায্যে লঞ্চে উঠে গেলেও বনবিহারী থমকালেন। পা পিছলালেই জলে পড়তে হবে। সারেঙ রতন ডেকে দাঁড়িয়ে বলল, ‘আমি যাব ডাক্তারবাবু?’

    ‘না না ঠিক আছে।’ বনবিহারী দড়ি ধরে সন্তর্পণে পা ফেললেন। ওইটুকু দূরত্ব পার হতে গিয়ে তাঁর মনে হল শরীরটা আর নিজের দখলে নেই।

     

     

    শিশুকে নিয়ে ছোটু নেমে গেছে লঞ্চের পেটে। মামণি সিঁড়ি বেয়ে ছাদে চলে গেছে ছোটুর সঙ্গে। রতনের সহকারী গৌরাঙ্গ লঞ্চ ছাড়ল। দড়ির বাঁধন থেকে তাকে মুক্তো করতেই সেটা এগিয়ে যেতে লাগল দ্রুতগতিতে।

    বনবিহারী রতনকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘পরেশবাবু উঠেছেন?’

    ‘না। উনি লঞ্চে যান না। অফিসে থাকেন।’ রতন বলল।

    ‘নদী যখন ভয়ংকর হয় তখন লঞ্চ ডুবে যায় না তো?’

    ‘না না। আমি নদীর স্বভাব-চরিত্র জানি। তাই আগে থেকে সাবধান হয়ে যাই। আপনি এর আগে লঞ্চে উঠেছেন?’

    ‘অনেক আগে ছেলেবেলায়। সেটা বিশাল লঞ্চ। জাহাজ বলতে পারো। মনিহারি সকরিকলিঘাটে যাতায়াত করত।’ বনবিহারী হাসলেন।

    ওঁরা এখন লঞ্চের পেটের বড় ঘরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। রতন বলল, ‘আপনি বসুন। এখানে বসে রুগি দেখতে পারেন, নয় তো মাটিতে টেবিল-চেয়ার পেতে দেব। আর ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই আমরা বিরাটবাজারে পৌঁছে যাব।’

     

     

    ‘এই কালজিরে কি এই এলাকার একমাত্র নদী?’

    ‘না। আরও আছে। যেমন, মৃদঙ্গভাঙা, চালতাধনিয়া। থাকতে থাকতে সব চিনে যাবেন।’ রতন ওপরে উঠে গেল।

    নদীর দিকে তাকালেন বনবিহারী। কলকাতার অফিস বলেছিল, ‘লঞ্চে যখন থাকবেন তখন আপনার ইচ্ছাই শেষ কথা।’ কিন্তু কিছু না জেনে শেষ কথা বলার মতো মুর্খ তিনি নন। ইতিমধ্যে নদীর ওপারে জঙ্গল শুরু হয়ে গেছে। এদিকের জানলায় গিয়েও একই দৃশ্য দেখলেন। লঞ্চ যাচ্ছে নদীর মাঝখান দিয়ে। মাঝে-মাঝে ভটভটি নৌকো তার পাশ কাটিয়ে যাওয়া-আসা করছে। ওই জঙ্গল যখন সুন্দরবনের তখন নিশ্চয়ই বাঘ রয়েছে ভেতরে। লঞ্চ থেকে কোনও প্রাণীকেই দেখা যাচ্ছে না।

    এই সময় লঞ্চের কুক সোনা এল দুটো প্লেট নিয়ে। টেবিলে নামিয়ে বলল, ‘জলখাবার খেয়ে নিন ডাক্তারবাবু। দিদি কোথায়?’

    বনবিহারী দেখলে গোটা পাঁচেক লুচি আর সুজি রয়েছে প্লেটে। বললেন, ‘সে বোধহয় ওপরে গিয়ে জল দেখছে।’

     

     

    সোনা সিঁড়ির মুখে গিয়ে চেঁচাল, ‘অ্যাই ছোটু, দিদিকে নিয়ে নীচে আয়। জলখাবার দিয়েছি। অ্যাই ছোটু।’

    ওপর থেকে সাড়া ভেসে এলে সোনা টেবিলের কাছে ফিরে এল। বনবিহারী বললেন, ‘তোমাকে একটা কথা বলি। আমি পেটের রুগি। ওষুধ খাই। বেশি মশলা দিয়ে আমার জন্যে রান্না করো না।’

    ‘ও। শুধু সেদ্ধ করে দেব?’

    ‘অ্যা? না না। ঝোল-টোল করতে পারো তবে যতটা কম মশলা দেবে ততটা আমার উপকার হবে।’ বনবিহারী বললেন।

    এই সময় ছোটু নেমে এসে বলল, দিদি নামতে চাইছে না।’

    ‘কী বলল? ওপরেই খাবার খাবে?’

    ‘কি করে বলবে? দিদি তো কথা বলতে পারে না।’

     

     

    ‘অ্যাঁ!’ সোনা তাকাল বনবিহারীর দিকে। তারপর সামলে নিয়ে একটা প্লেট তুলে দিল ছোটুর হাতে, ‘নিয়ে যা। ওপরেই খেয়ে নিক।’

    বনবিহারী জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোমরা এখানে কী জল খাও?’

    ‘টিউবয়েলের জল এনে সেদ্ধ করে নিই।’ সোনা বলল।

    খুশি হলেন বনবিহারী। সোনা চলে গেলে জলখাবার খেতে খেতে নদীর দিকে তাকালেন। নদী চওড়া হচ্ছে। কয়েকদিন আগেও তিনি ভাবেননি এইভাবে লঞ্চে নদীর ওপর দিয়ে রুগি দেখতে যাবেন। কোথায় উত্তর বাংলার একটা সাধারণ গঞ্জ আর কোথায় সুন্দরবনের নদী! মধ্য পঞ্চাশে এসে এভাবে শেকড় তুলে আবার শেকড় নামানো কতখানি সম্ভব হবে তা এখনও বুঝতে পারছেন না। তবে যা করছেন তা নিতান্ত বাধ্য হয়েই। সাদা কথায় পুলিশের হাত থেকে রক্ষা পেতে। নিজে কোনও অপরাধ না করেও তো অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে গেলেন। এখন মনে হল যদি পুলিশকে সবকথা খুলে বলতেন তাহলে কি হত? দুই-এক বছরের জন্যে জেলে থাকতে হত। লোকে তাঁর সম্পর্কে দুর্নাম ছড়াত। তার বেশি কিছু নিশ্চয়ই হত না। কিন্তু ওই বোবা মেয়েটাকে নিশ্চয়ই পুলিশ আরও বেশি শাস্তি দিত! বাচ্চাটা মানুষ হত অনাথ আশ্রমে। এইটে চাননি বলেই তাঁকে চলে আসতে হল এত দূরে।

     

     

    হু-হু করে হাওয়া বইছে। লঞ্চের ছাদের ওপর পাতা চৌকিতে বসে মুগ্ধ হয়ে চারপাশ দেখছিল মামণি। ছোটু তার সামনে জলখাবারের প্লেট ধরলে সেটাকে চৌকির ওপর রাখতে ইশারা করল সে। আর সঙ্গে সঙ্গে একটা দমকা হাওয়া এসে লুচিগুলোকে উড়িয়ে নিয়ে নদীর বুকে ফেলে দিল। ছোটু চেঁচিয়ে উঠল, ‘এই যাঃ। তখন থেকে বলছি খেয়ে নিন, খেয়ে নিন অথচ কানেই তুলছেন না। গেল তো সব! বোবারা কানে কালা হয় নাকি?’

    ইঞ্জিনঘর থেকে কথাটা শুনতে পেয়ে জানলা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে রতন বলল, ‘এই ছোটু কার সঙ্গে কথা বলছিস তা ভুলে যাস না।’

    ‘আমি অন্যায় কী বলেছি? লুচিগুলো খেয়ে নিলে তো উড়ে যেত না।’

    ‘তাই বলে যে বোবা তাকে কালা বলবি? রতন ধমকাল, ‘ডাক্তারবাবু শুনলে কি ভাববেন? সোনাকে গিয়ে বল আর একটা প্লেট বানিয়ে দিতে।’

    হঠাৎ মামণি লাফিয়ে উঠল। দূরে জলের ভেতর থেকে কিছু একটা উঠছে নামছে। ছোটু হেসে বলল, ‘ওটা শুশুক।’

     

     

    মামণি রতনের দিকে তাকিয়ে শুশুকটাকে হাত বাড়িয়ে চিহ্নিত করে গোঙাতে লাগল। রতন জিজ্ঞাসা করল, ‘কী বলছেন বুঝতে পারছি না।’

    মামণি হাত দিয়ে লঞ্চটাকে দেখিয়ে বুঝিয়ে দিল সে ওই প্রাণীর কাছে যেতে চায়। রতন মাথা নাড়ল। লঞ্চের গতিপথ পরিবর্তন করল সে।

    ছোটু হাসল, ‘ওখানে যাওয়ার আগেই ওটা পালিয়ে যাবে।’

    লঞ্চ এগোতেই শুশুকটা ডুবে গেল জলের গভীরে। দৌড়ে রেলিং-এর পাশে চলে গিয়েও তাঁকে খুঁজে পেল না মামণি। খুব হতাশ হল সে।

    ছোটু চেঁচাল, ‘অত ঝুঁকে দাঁড়িও না। জলে পড়ে গেলে তোলা যাবে না।’ কথাটা কানেই গেল না মামণির।

    রতন চেঁচাল, ‘ওনাকে নীচে নিয়ে যা।’

    ছোটু পাশে গিয়ে ইশারা করল নীচে যাওয়ার জন্যে।

    ব্যাপারটাকে পাত্তাই দিল না মামণি।

    ছোটু রতনের দিকে তাকিয়ে চেঁচিয়ে বলল, ‘দেখলে?’

    ‘ভালো করে বল।’ বাতাস টপকে কথা বলল রতন।

    ‘কি বলে ডাকব? ছোটু জিজ্ঞাসা করল।

    তোর যা ইচ্ছে তাই বল।’

    ‘ডাক্তারবাবুর কে হয় তা জানো?’

    ‘না।’

    ‘ওইটুকু বাচ্চার মা যখন তখন বউ হতে পারে না।’

    ‘কি করে বুঝলি? অনেকে বেশি বয়সেও বিয়ে করে।’

    ‘ধ্যাৎতেরিকা’, ছোটু বলল, ‘তাহলে দিদিই বলি।’

    ‘তাই বল।’

    ছোটু চেঁচাল পাশে দাঁড়িয়ে, ও দিদি, দিদি?’

    তার দিকে তাকাল মামণি। ছোটু বলল, ‘আপনাকে ডাক্তারবাবু নীচে ডাকছে। বাচ্চাটা কাঁদছে বোধহয়। চলুন।’

    মাথার চুল হওয়ায় এলোমেলো, মুখে বিরক্তি। কিন্তু নীচের দিকে পা বাড়াল মামণি। কাঠের সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত নামাতে গিয়ে পিছলে যাচ্ছিল, পেছন থেকে ছোটু ধরে ফেলায় আছাড় খেলো না।

    নীচের ঘরে বসে জল দেখছিলেন বনবিহারী। তাঁর সামনে গিয়ে ইশারায় জানতে চাইল, মামণি, কেন ডাকছেন?

    ‘খাওয়া হয়েছে।’ বনবিহারী জিজ্ঞাসা করলেন।

    সঙ্গে-সঙ্গে হাসিতে উচ্ছল হল মামণি। লুচি উড়ে যাওয়ার দৃশ্যটা প্রায় নাচের ভঙ্গি করে দেখাতে লাগল। ছোটু বুঝিয়ে দিতে মাথা নাড়লেন বনবিহারী। ছোটু বলল, ‘উনি রেলিং-এর কাছে গিয়ে বেশি ঝুঁকছিলেন। বিপদ হতে পারত। আমার কথা কানেই তুলছিলেন না।’

    হঠাৎ মামণির মনে পড়ল বাচ্চাটার কথা। চারপাশে তাকিয়ে সে বনবিহারীকে জিজ্ঞাসা করল হাতের ইশারায়। বনবিহারী বললেন, ‘যাক, শেষ পর্যন্ত মনে পড়ল। ছোটু ওই কেবিনটা ওকে দেখিয়ে দাও।’

    কেবিনের দরজাটা খোলাই ছিল। ছোটু দেখিয়ে দিতে সেখানে গিয়ে গালে হাত রাখল মামণি। অবাক হয়ে দেখতে লাগল। তাই দেখে বনবিহারী উঠে এলেন। কেবিনের বিছানায় উপুড় হয়ে একসঙ্গে দুটো হাত আর দুটো পা ছুড়ছে শিশু। আর সেইসঙ্গে মুখ থেকে মাঝে মাঝে অস্ফুট শব্দ বের করছে।

    মামণি এগিয়ে গিয়ে কোলে তুলে নিতেই চিৎকার শুরু হল। কিছুতেই কোলে থাকবে না সে। বিরক্ত মামণি বিছানায় নামিয়ে দিতেই সে উপুড় হল। হয়ে আগের মতো হাত-পা ছুড়তে লাগল। এখন চিৎকার বন্ধ। বনবিহারী বললেন, ‘সামনেই জীবনের মহাসমুদ্র। তাই এখনই সাঁতার শেখার চেষ্টা করছে। ভালো, খুব ভালো।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅর্জুন সমগ্র ৫ – সমরেশ মজুমদার
    Next Article বুকের ঘরে বন্দি আগুন – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }