Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আগুনবেলা – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প575 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    দাউদাউ আগুন – ১৯

    উনিশ

    ছোটু এসে বলল, ‘তেঁতুলতলার ঘাট এসে গেছে। আপনি ওপরে যাবেন?’

    বনবিহারী মাথা নেড়ে সিঁড়ি ভেঙে ওপরে উঠে দাঁড়াতেই দেখলেন লঞ্চ পাড়ের দিকে এগোচ্ছে। এদিকের জঙ্গল বেশ পাতলা। পেছনে বাঁধের মতো উঁচু জমি। বাড়িঘর দেখা যাচ্ছে না কিন্তু বাঁধের এপাশে জনা পঁচিশেক মানুষ তীর্থের কাকের মতো দাঁড়িয়ে রয়েছে। পাশে দাঁড়িয়ে ছোটু বলল, ‘উঃ, আজ দেখছি পেশেন্টের সংখ্যা বেড়ে গেছে।’

    বনবিহারী জিজ্ঞাসা করলেন, ‘ওরা, সবাই পেশেন্ট?’

    ‘হ্যাঁ। নইলে আধ-মাইল রাস্তা ঠেঙিয়ে নদীর ধারে কেউ আসবে না।’

    লঞ্চ পাড়ের কাছাকাছি গিয়ে থেমে গেল। এদিকে জল কম, কাদা বেশি। পাড় এবং লঞ্চের মধ্যে অন্তত দশ হাতের ব্যাবধান। বনবিহারী দেখলেন গৌরাঙ্গ আর হিরো লঞ্চের ওপর থেকে লম্বা কাঠের পাটাতন নামিয়ে সেতু তৈরি করার চেষ্টা করল। কিন্তু দেখা গেল তখনও হাতখানেক জায়গা ভরাট হচ্ছে না। ওদের চেঁচামেচিতে পাড় থেকে দুটো লোক জলে নেমে পাটাতন শক্ত করে ধরল।

    ছোটু বলল, ‘আস্তে আস্তে ওটার ওপর দিয়ে হেঁটে নেমে যান ডাক্তারবাবু। কোনও ভয় নেই। শেষটায় একটু লাফিয়ে নামতে হবে। দু-ধারে কোনও রেলিং নেই, তিন ফুট চওড়া পাটাতনটার ওপর হাঁটা মানে সার্কাসের তারে হাঁটার মতো বলে মনে হল বনবিহারীর। তাঁকে ভরসা দিতে হিরো একটা চেয়ার কাঁধে তুলে স্বচ্ছন্দে হেঁটে শেষ অবধি চলে গিয়ে পাড়ের একজনের হাতে চেয়ারটা ধরিয়ে লাফিয়ে নেমে গেল।

    অগত্যা পা বাড়ালেন বনবিহারী। জলের দিকে না তাকিয়ে গুটিগুটি চলে এলেন শেষ পর্যন্ত। এক হাত লাফাতে কোনও অসুবিধে হল না। মুখ ফিরিয়ে লঞ্চের দিকে তাকালেন। সারেঙ রতন দাঁত বের করে হাসছে। মামণিকে দেখতে পেলেন না তিনি। নিশ্চয়ই ছেলের পশে শুয়ে পড়া অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়েছে।

    চেয়ারে বসলেন বনবিহারী। তাঁর বাঁ-দিকে সোনা। সোনার হাতে খাতা। ডানদিকে ওষুধের বড় বাক্স নিয়ে ছোটু দাঁড়িয়ে গেল।

    লোকগুলো প্রায় ঘাড়ের ওপর এসে পড়েছিল। সোনা চেঁচাল, ‘আপনারা সবাই লাইন দিয়ে দাঁড়ান : লাইন দিয়ে। না-হলে নতুন ডাক্তারবাবু আপনাদের কাউকে দেখবেন না।’

    ধীরে-ধীরে মানুষগুলো লাইনে দাঁড়ালে দেখা গেল দুজন মানুষ মাটির ওপর হাঁটুতে মাথা রেখে বসে আছে। তারা যে খুব অসুস্থ এবং লাইনে দাঁড়াবার শক্তি নেই বুঝে বনবিহারী প্রথমজনের সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন।

    ‘কি হয়েছে আপনার?’ জিজ্ঞাসা করতেই বুঝলেন মানুষটির নিত্যদিন আহার জোটে না। হাড়জিরজিরে শরীরে কোনও প্রতিরোধক্ষমতা নেই। মুখ তুলল লোকটা। ফ্যাকাশে চোখ, শুকনো ঠোঁট। চিঁচি করে বলল, ‘পেটে ব্যথা, খুব ব্যথা।’

    পেটে আঙুল চেপে পরীক্ষা করতে হলে লোকটাকে মাটির ওপর শোয়াতে হয়। কাজটা সোনাই করে দিল। জীবনে অনেক রুগি দেখেছেন বনবিহারী কিন্তু এভাবে কাউকে দ্যাখেননি। পরীক্ষা করে কোনও সিদ্ধান্তে আসতে পারলেন না বনবিহারী। এখনই আলট্যাসোনোগ্রাফ করা দরকার। তিনি ছোটুকে বললেন, ‘ওকে হাসপাতালে ভরতি করতে হবে। আমাদের লঞ্চে নিয়ে যাওয়া যাবে?’

    ছোটু বলল, ‘অনেক দিনের পেশেন্ট। আগের ডাক্তারবাবুও দেখেছেন। না খেয়ে না খেয়ে পেটের ভেতর ঘা হয়ে গেছে। হাসপাতালে ভরতি করালে ওর ওষুধ কিনে দেবে কে? দেখাশোনা করার জন্যেও কেউ যাবে না।’

    ভেবেচিন্তে ওষুধ দিলেন যাতে ব্যথা কমে, পেটের ভেতরের ঘায়ে প্রলেপ পড়ে। তারপর পকেট থেকে কুড়িটা টাকা বের করে লোকটির হাতে দিয়ে বললেন, ‘কদিন চিড়ে ভালো করে ভিজিয়ে জলে চিনি দিয়ে চারবার খাবে।’

    দ্বিতীয় লোকটির সর্বাঙ্গ কাঁপছে। অসুখটা বুঝতে পেরে হতাশ হয়ে নার্ভের ওষুধ দিতে বললেন ছোটুকে।

    শেষ পেশেন্টকে দেখে উঠতে দুপুর গড়িয়ে শেষ। বেশির ভাগের ক্ষেত্রে অসুখ আন্দাজে ঠিক করতে হচ্ছে। রক্ত বা পায়খানা পরীক্ষা অথবা এক্সরে করাবার কথা এরা চিন্তাও করতে পারে না। এখান থেকে নদী বেয়ে অতদূরে যাওয়ার ক্ষমতাও কারও নেই। আর ওই পরীক্ষা ছাড়া সঠিক রোগ নির্দ্ধারণ করা অসম্ভব।

    উঠে দাঁড়াতেই একটি মেয়েমানুষ এগিয়ে এল। বোধহয় কিছুটা দূরে অপেক্ষা করছিল সে। এর চেহারা দেখলে বোঝা যায় দু-বেলা ভালো খেতে পায়। রঙিন শাড়িও ময়লাটে নয়। বনবিহারী জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কি হয়েছে?’

    মুখ নামিয়ে মেয়েমানুষটি বলল, ‘আমার বাঁ-দিকের বুকের ভেতর কিছু হয়েছে। টিপলেই শক্ত মতো কিছু আঙুলে ঠেকছে।’

    ‘কতদিন হয়েছে।’

    ‘দু-মাস।’

    ‘কতখানি জায়গা?’

    ‘এক সিকি।’

    ‘তুমি হাসপাতালে যাও। ওখানে মেয়ে ডাক্তার আছেন। না দেখে তো কোনও চিকিৎসা করা যাবে না।’ বনবিহারী বললেন।

    ‘আপনি ওষুধ দিন।’

    ‘আমি কি করে দেব?’

    ‘কেন? আপনি তো ডাক্তার।’

    ‘হ্যাঁ। কিন্তু তোমার যেখানে হয়েছে তা তুমি আমাকে দেখাবে কি করে?’

    ‘ওদের সরে যেতে বলুন। আমি দেখাচ্ছি।’

    ছোটু বলল, ‘ডাক্তারবাবু দিদিকে বলুন দেখতে।’

    দিদি! ফাঁপরে পড়লেন বনবিহারী। মামণি কি বুঝবে? তাছাড়া ব্যাপারটা ওকে বোঝাতেই হিমশিম খেতে হবে। বোঝার পরেও ওটা টিউমার কিনা তা কোনও সাধারণ জ্ঞানের মানুষের পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়।

    শেষ পর্যন্ত দ্বিধা ঝেড়ে ফেলে বললেন, ‘তোমরা ওকে লঞ্চে নিয়ে এসো।’ তারপর সহকর্মীদের সাহায্যে চলে এলেন লঞ্চের ভেতরে।

    সিঁড়ি দিয়ে নীচে নেমে বাঁ-দিকের কেবিনে উঁকি মারলেন বনবিহারী। মা আর ছেলে বেঘোরে ঘুমাচ্ছে। ডাকতে গিয়েও ডাকলেন না তিনি।

    সোনা এসে দাঁড়াল। হেসে বললে, ‘দিদিকে ভাত খাইয়ে দিয়েছি।’

    ‘আমাদের কথা জিজ্ঞাসা করেনি?’ বনবিহারী তাকালেন।

    ‘করেছিল। আপনি পেশেন্ট দেখছেন শুনে গা করল না। খাওয়া শেষ করে আবার শুয়ে পড়ল। অনেক বেলা হয়ে গেছে। আপনার ভাত দিয়ে দিই।’ সোনা বলল।

    খেয়াল হল বনবিহারীর। এখন প্রায় চারটে বাজে। তিনি একা নন, ছোটু হিরো তো না খেয়ে আছে। নাঃ, এভাবে চলবে না। এখন থেকে বেলা বারোটার মধ্যে প্রথম লটের পেশেন্ট দেখে লাঞ্চব্রেক দিয়ে আবার দেড়টা থেকে পরের ঘাটে যেতে হবে।

    ছোটু নেমে এল, ‘মেয়েছেলেটা এসেছে।’

    সোনা খেপে গেল, ‘বসতে বল। ডাক্তারবাবু আগে ভাত খেয়ে নিক?’

    মাথা নাড়লেন বনবিহারী, ‘তোমরা খেয়ে নাও। ডাকো ওকে।’

    মেয়েমানুষটি এগিয়ে এল।

    বনবিহারী তাকে মামণি আর বাচ্চা যে কেবিনে শুয়ে আছে সেখানে ঢুকতে বললেন, ‘ওখানে গিয়ে দাঁড়াও। শব্দ করো না, ঘুম ভেঙে গেলে বাচ্চাটা কাঁদবে।’ কেবিনে উঁকি মেরে এসে মেয়েছেলেটি বলল, ‘ভেতরে তো ভালো করে দাঁড়াবার জায়গা নেই। আর কোনও ঘর নেই?’

    ‘আমার কোনও অসুবিধে হবে না।

    তুমি ভেতরে গিয়ে জামার বোতাম খোলো। হিরো, গ্লাভস আছে?’ বনবিহারী জিজ্ঞাসা করলেন।

    হিরো বলল, ‘আছে।’

    দ্রুত গ্লাভস এনে দিল সে। হাতে গলিয়ে কেবিনের দারজায় গিয়ে দাঁড়ালেন বনবিহারী। মেয়েমানুষটি তখন খাটে ঠেস দিয়ে জামার বোতাম খুলে শাড়ি সরাল। হতদরিদ্র এই বনভূমির মানুষগুলো যেখানে খাদ্যাভাবে শুকিয়ে গেছে সেখানে এমন উদ্ধত নিটোল স্তন কি করে মেয়েটি বহন করছে ভাবতে পারলেন না বনবিহারী।

    ‘কোন বুকে?’

    আঙুলে বাঁ-বুক দেখানের সময় মেয়েমানুষটির ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটল।

    যেন পেশেন্টের হাত-পা অথবা মাথা পরীক্ষা করছেন এমন ভঙ্গিতে বনবিহারী স্তন পরীক্ষা করতে করতে জিজ্ঞাসা করলেন ‘ব্যথা লাগছে?’

    মেয়েমানুষটি নিঃশব্দে মাথা নেড়ে না বলল।

    ততক্ষণে বুঝে ফেলেছেন বনবিহারী, ‘জামা ঠিক করে নাও। বলে হাত থেকে গ্লাভস খুলে হিরোর হাতে দিয়ে ডাইনিং টেবিলে গিয়ে বসলেন।

    অভিজ্ঞতা বলছে এক্ষুনি অপারেশন করা দরকার। টিউমার তো বটেই এবং সেটা বেশ বড়সড়ো। এক্সরে করলেই স্পষ্ট হবে। সেই টিউমারের চেহারা দেখলে তিনি আন্দাজ করতে পারবেন ওটা ম্যালিগন্যান্ট কিনা। বায়াপসি রিপোর্টের সঙ্গে তাঁর মতামতের খুব বেশি ফারাক হবে না।

    ইতিমধ্যে সোনা তাঁর সামনে ভাতের থালা, ডাল, তরকারি আর মাছের ঝোল বাটিতে সাজিয়ে দিয়ে দিয়েছে। সেদিকে তাকিয়ে বনবিহারী শরীরে অস্বস্তি এল। এই অবেলায় এতসব খেতে পারবেন না তিনি।

    ছোটু এসে জিজ্ঞাসা করল, ‘ডাক্তারবাবু, ওকে কী বলব?’

    বনবিহারী মুখ তুলে দেখলেন মেয়েমানুষটি ঊর্ধ্বাঙ্গে আঁচল জড়িয়ে কেবিনের বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। একটু ভাবলেন তিনি। তারপর জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কি নাম?’

    ‘মালতী।’

    ‘স্বামী কোথায়?’

    ‘বাঘ খেয়ে ফেলেছে।’

    হোঁচট খেলেন যেন বনবিহারী। তারপর জিজ্ঞাসা করেন, ‘বাড়িতে কে আছে?’

    ‘একজনের সঙ্গে থাকি। সেটা না থাকার মতন।’

    ‘কেন?’

    ‘ওই বাইরে দাঁড়িয়ে আছে, জিজ্ঞাসা করুন।’

    সোনা বলল, ‘ডাক্তারবাবু খেয়ে নিন।’

    ‘আমি এত খেতে পারব না এখন। এই, তুমি কখন খেয়েছ?’

    ‘সেই সকালে। দু-মুঠো পান্তা।’

    ‘সোনা, ওকে অর্ধেক তুলে দাও। তোমরাও খেয়ে নাও।’ বনবিহারী বললেন।

    ওঁর খাওয়া শেষ হওয়ার অনেক আগেই মালতীর খাওয়া শেষ হয়ে গিয়েছিল। জল খেয়ে সোনাকে সে জিজ্ঞাসা করল, ‘তোমরা মুখ ধোও কোথায়?’

    সোনা বাথরুম দেখিয়ে দিতে সে চলে গেল। সোনা নীচু গলায় বলল, ‘মেয়েমানুষটাকে খাবার না দেওয়াই ঠিক ছিল।’

    সোনা, ও যদি এখানে পড়ে থাকে তাহলে আর মাসখানেকও বাঁচবে না।’

    বনবিহারীর কথা শোনামাত্র সোনার মুখের চেহারা বদলে গেল, ‘ও ব্বাবা!’

    হাত-মুখ ধুয়ে বনবিহারী ওপরে উঠে আসতেই সারেঙ রতন বলল, ‘আজ আর অন্য ঘাটে যাওয়া যাবে না ডাক্তারবাবু, রোদ সরে আসছে।’

    বনবিহারী বললেন, ‘প্রথম দিন তো, একটু ভুলভ্রান্তি হয়ে গেছে। কাল থেকে আর হবে না।’

    ‘জোয়ার আসছে। আধঘণ্টার মধ্যে এখান থেকে সরতে হবে।’ রতন জানাল।

    বনবিহারী পাড়ের দিকে তাকালেন। অসুস্থ মানুষগুলো বাড়ি ফিরে গেছে কিন্তু একটা লোক দাঁড়িয়ে আছে। জোয়ারের কারণে জল বেড়ে যাওয়ায় লঞ্চ এখন পাড়ের কাছাকাছি চলে এসেছে। পাটাতনটা পাড়ের মাটি ছুঁয়েছে।

    বনবিহারী লোকটাকে হাত নেড়ে কাছে ডাকতেই সে লেংচে লেংচে এগিয়ে এল। তাকে দেখেই প্রশ্নটা ছিটকে বের হল মুখ থেকে, ‘কি হয়েছিল তোমার?’

    ‘আজ্ঞে, বাঘের আদর খেয়েছিলাম যে!’

    লোকটির বাঁ-দিকের মুখে কোনও মাংস নেই। চওড়া হাড়ের ওপর সেঁটে আছে। বোঝাই যায় অপারেশন হয়েছিল। বাঁ-দিকের কাঁধ-বুকেও অপারেশন করা হয়েছে। ফলে তার শরীরটা আর স্বাভাবিক নয়। এখন হাফপ্যান্ট পরে থাকায় হাঁটুর ওপরেও অপারেশনের দাগ দেখা যাচ্ছে।

    বনবিহারী জিজ্ঞাসা করলে, ‘এসব কি করে হল?’

    ‘কপালে লেখা ছিল, হয়ে গেছে।’

    রতন জোরে ধমক দিল, ‘অ্যাই ডাক্তারবাবুকে ঠিকঠাক বল।’

    ‘মধুর জন্যে গিয়েছিলাম। দলে ছিলাম পাঁচজন। আমার যাওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু বট বলল, কালী তুইও চল, রাজি হয়ে গেলাম। বট কে জানেন?’

    রতন চেঁচাল, ‘ডাক্তারবাবু জানবে কি করে?’

    ‘ওই মালতীর বর। তা নৌকো খাড়িতে ঢোকার পর আমরা নামলাম। মাথার পেছনে মানুষের মুখ আঁকা মুখোশ পরে নিলাম। তারপর জলকাদায় হাঁটছি। বট মাসখানেক আগে যে গাছে চাক বাঁধতে দেখে এসেছে সেদিকে যেতে ভুল হচ্ছিল না। হঠাৎ দেখি সামনে তিনি। কি বলব ডাক্তারবাবু, মোষের চেয়ে বড় শরীর আমাকে লক্ষ করে লাফ দিচ্ছে বুঝে সঙ্গে সঙ্গে জলকাদায় শুয়ে পড়লাম। বাঘটা আমার ওপর দিয়ে গিয়ে পড়ল বটর ওপর। দাঁড়িয়ে থাকলে এখন—! যাক গে, বটর টুঁটি দাঁতে চেপে ও যখন লাফাবার জন্যে তৈরি হচ্ছে তখন বাকি তিনজন পগার পার। বটটা মরে যাচ্ছে দেখে প্রাণের মায়া ভুলে লাঠি হাতে ঝাঁপিয়ে পড়লাম বাঘের ওপর। বাঘটা বটকে ছেড়ে মারল আমার মাথায়, কাঁধে এক থাপ্পড়। ওইটুকুতেই আমাকে হাসপাতালে শুয়ে থাকতে হয়েছিল নয় মাস।’ লোকটা থুথু ফেলল সশব্দে, তারপর বলল, ‘আমি তো চিৎ হয়ে পড়ে গেলাম কাদায়। বাঘটা ঘুরে এসে আমার পায়ে দাঁত বসাতে বুঝলাম আয়ু শেষ। এখনই মরে যাব। ব্যথার কষ্ট ভুলে গিয়ে চোখের সামনে বাঘের অণ্ডকোষ দেখতে পেয়ে ডান হাতে যতটা জোরে সম্ভব সেটা চেপে ধরলাম। সঙ্গে সঙ্গে বাঘ পা থেকে মুখ সরিয়ে নিয়ে যেন আর্তনাদ করে উঠল। আমি কিছুতেই অণ্ডকোষ ছাড়ছিলাম না। কিন্তু প্রাণভয়ে মরিয়া হয়ে সে লাফ দিতেই আমি অজ্ঞান হয়ে গেলাম।’ লোকটি হাসল।

    ‘তারপর?’ রতন জিজ্ঞাসা করল।

    ‘ওই তিনজন একটু পরে ভয়ে ভয়ে ফিরে এসে দ্যাখে আমি পড়ে আছি কিন্তু বট নেই। আমাকে নৌকোয় তুলে কিছুদূর আসতেই একটা লঞ্চের দেখা পেয়ে ওরা তুলে দিয়েছিল। সেই লঞ্চ আমাকে হাসপাতালে পৌঁছে দেয়।’

    ‘ওই বাঘ ফিরে এসে তোমাকে না তুলে বটকে কেন নিল।’

    ‘ওই বাঘ ফিরে আসেনি ভাই। অণ্ডকোষ ফেটে যাওয়ায় মরে গিয়েছিল ওটা। ফরেস্ট ডিপার্টের লোক ওর শরীর নিয়ে আসে ওখান থেকে। বটকে নিয়েছে অন্য কোনও বাঘ। এখন ভাবি, আমাকে নিলেই পারত। এই ভাবে বেঁচে মরে থাকার চেয়ে তখন বাঘের পেটে গেলে ভালো হত।’

    বনবিহারী জিজ্ঞাসা করলেন, ‘বটর বউ মালতীকে তুমি বিয়ে করেছ?’

    বটর লাশ দ্যাখেনি বলে মালতী বিধবা হতে চাইল না। সধবা হয়েই থাকল। একা থাকলে পাঁচ পুরুষ বিরক্ত করবে বলে জোর করল ওর বাড়িতে থাকতে হবে। বন্ধুকে বাঁচাতে পারিনি। তাই বন্ধুর বউকে বাঁচাতে থেকে গেলাম। আমার নিজের তো সংসার ছিল না। গাঁয়ের সবাই জানে আমার শরীরে কিছু নেই। হাসপাতালে সব রেখে এসেছি। তাই কেউ কিছু বলে না।’ অদ্ভুত গলায় বলল লোকটা।

    বনবিহারী জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোমার নাম কালী?’

    ‘আজ্ঞে কালীচরণ।’

    ‘শোনো, মালতী তোমার বউ হোক বা না হোক, তার সঙ্গে তুমি থাকো। ধরে নিচ্ছি ভাইবোনের মতো থাকো। মালতীর খুব বিপদ। তার বুকে টিউমার হয়েছে। এক্ষুনি অপারেশন করা দরকার। তুমি ওকে নিয়ে হাসপাতালে চলে যাও।’ বনবিহারী বোঝাবার ভঙ্গিতে বললেন।

    ‘ডাক্তারবাবু, আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল অজ্ঞান অবস্থায়। বাঘ আক্রমণ করেছে বলে হাসপাতালে আমার অপারেশন, চিকিৎসা হয়েছিল বিনা পয়সায়। কিন্তু মালতীকে তো বাঘ কিছু করেনি। ওর চিকিৎসার জন্যে তো পয়সা লাগবে। আমার তো কোনও সঞ্চয় নেই, শরীরে বলও নেই যে রোজগার করব। আমি কি করে ওকে নিয়ে হাসপাতালে যাব?’ কালীচরণ বলল।

    বনবিহারী রতনের দিকে তাকালেন। রতন বলল, ‘এরকম সমস্যা এখানকার ঘরে, ঘরে। এই যে আমরা ওষুধ দিচ্ছি এটা ওদের কাছে বিশাল ব্যাপার। ক’জনের দুঃখ দূর করা যায় বলুন।’

    কথাটা ঠিকই। কিন্তু বনবিহারীর চোখের সামনে উদ্ধত স্তন ভেসে উঠল। ঈশ্বর নিজের হাতে যা গড়েন তা নিজেই নষ্ট করে দেন বারে বার। মালতীকে দেখলে কেউ বুঝতেই পারবে না যে মৃত্যু ওর শরীরে বাসা বেঁধেছে। এই মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করা যায়। হয় তো ভাগ্য ভালো হলে তাকে দূরে সরিয়ে দেওয়াও সম্ভব। বনবিহারী সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলেন। রতনকে বললেন, ‘ওকে তুলে নাও।’

    ‘নিয়ে যেতে চান?’

    ‘হ্যাঁ। পাথরপ্রতিমার ব্লক হাসপাতালে অপারেশন হয়?

    ‘না বোধহয়। কাকদ্বীপের সরকারি হাসপাতলে হয় বলে শুনেছি।’

    ‘তাই যাবে। ওকে আসতে বলো।’

    রতন ডাকতেই পাটাতনের ওপর দিয়ে লেংচে লেংচে উঠে এল কালীচরণ। পাটাতন সরিয়ে নিল গৌরাঙ্গ। রতন লঞ্চ নদীর ভেতর নিয়ে যেতে লাগল।

    বুঝতে পেরে কালীচরণ চেঁচিয়ে উঠল, ‘একি! কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন?’

    গৌরাঙ্গ গম্ভীর গলায় বলল, ‘চুপ! ডাক্তারবাবুকে প্রণাম কর। অনেক ভাগ্য করে এসেছিস বলে এই লঞ্চে যেতে পারছিস।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅর্জুন সমগ্র ৫ – সমরেশ মজুমদার
    Next Article বুকের ঘরে বন্দি আগুন – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }