Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আগুনবেলা – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প575 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    দাউদাউ আগুন – ২৫

    পঁচিশ

    ভিড় করে থাকা মানুষগুলো বনবিহারীকে দেখে নড়ে উঠল। একজন এগিয়ে এসে নীচু গলায় বলল, ‘বারবার অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছে, একটু দেখুন।’

    ‘কে?’ খসখসে গলায় জিজ্ঞাসা করলেন বনবিহারী।

    ‘পুঁটির মা।’

    বনবিহারীকে এগোতে দেখে ভিড় রাস্তা করে দিল। নামটা শোনামাত্র বুকে জমে ওঠা চাপটা কমে গেল। তিনি চোখ তুলে মামণিকে দেখতে পেলেন না। নীচের ঘরে ঢুকে ওদের দেখতে পেলেন। হ্যারিকেনের আলোয় পুঁটির মায়ের মাথার পাশে বসে থাকা মামণিকে দেখে জিজ্ঞাসা করলেন, কি হয়েছে? ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকা দুজন মহিলার একজন বলল, ‘বিকেলে খবরটা আসা মাত্র মাটিতে পড়ে গেল। যখনই জ্ঞান ফিরছে কেঁদে উঠছে, কাঁদলেই অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছে।’

    বনবিহারী বুঝলেন বাড়িওয়ালা ব্রজ মণ্ডল আর বেঁচে নেই। সকালেই শুনে গেছেন ওঁকে অ্যাঞ্জিওগ্রাফি করাতে শহরে নিয়ে যাওয়া হবে। মনে হয়নি হঠাৎ চলে যাবেন। বনবিহারী ঝুঁকে পুঁটির মায়ের পালস দেখলেন। খুব দুর্বল। স্টেথো চেপে বুকের শব্দ শুনলেন। এই অবস্থায় জ্ঞান ফিরিয়ে এনে কোনও কাজ হবে না।

    ‘কি বুঝছেন?’ পেছন পেছন আসা একজন প্রশ্ন করল।

    ‘বজ্রবাবুর শরীর এখন কোথায়?’

    ‘পাথরপ্রতিমার হাসপাতাল থেকে নিয়ে আসতে গিয়েছে কয়েকজন। এত দেরি হচ্ছে কেন বুঝতে পারছি না। ঘাটও তো বন্ধ হয়ে গিয়েছে।’

    ‘যদি নিয়ে আসে তাহলে এখনই কি দাহ করবেন?’

    ‘নিয়ে এলে ওটা না করে তো উপায় নেই। মড়া বাসি করা উচিত নয়।’

    ‘তাহলে হাসপাতালে ফোন করে দিন যেন কাল সকালে নিয়ে আসে। এই মহিলার শরীরের যে অবস্থা তাতে জ্ঞান ফিরিয়ে স্বামীর কাজ করানো যাবে না। চেষ্টা করলে ওঁর ভালো হবে না। আমি ওঁকে একটা ঘুমের ইনজেকশন দিচ্ছি। সারারাত ঘুমিয়ে থাকলে নার্ভের ওপর চাপ কমবে।’ ব্যাগ খুললেন বনবিহারী।

    লোকটা চলে গেল। ঘুমের ইনজেকশন পুঁটির মাকে দিয়ে বনবিহারী উঠে দাঁড়ালেন, ‘আপনাদের কেউ যদি রাত্রে এঁর কাছে থাকেন তাহলে ভালো হয়!’

    মহিলা দুজন পরস্পরকে দেখলেন। মামণি মাথা নাড়ল। তারপর হাত বুকে ঠেকিয়ে বুঝিয়ে দিল সে রাত্রে পুঁটির মায়ের কাছে থাকবে। বাইরে বেরিয়ে এসে বনবিহারী লক্ষ করলেন ভিড় বেশ পাতলা হয়ে গিয়েছে। হঠাৎ সন্তানের কথা মনে পড়ল তাঁর। মামণি তো নীচে বসে আছে, সন্তান কোথায়? ওকে ঘুম পাড়িয়ে ওপরে রেখে এলে এতক্ষণে তার জেগে উঠে চেঁচামেচি করার কথা। কিন্তু ওপর থেকে কোনও আওয়াজ ভেসে আসছে না। বনবিহারী দ্রুত ওপরে এসে দেখলেন দরজা ভেজানো। ভেতরে অন্ধকার। আলো জ্বালাতে শূন্য বিছানা চোখে পড়ল। সন্তান ঘরে নেই। কোথায় গেল বাচ্চাটা? মামণি কি আশেপাশের কারও বাড়িতে ওকে রেখে এসেছে?

    নীচে নেমে আসতেই একজন জিজ্ঞাসা করল, ‘আপনি ছেলেকে খুঁজছেন তো?’

    চমকে উঠলেন বনবিহারী। কিন্তু দ্রুত সামলে নিয়ে মাথা নাড়লেন, হ্যাঁ।

    কোনও চিন্তা করবেন না। ওকে আমার বাড়িতে নিয়ে গিয়েছি। এসব দেখে খুব কাঁদছিল। এখন মজা করে খেলছে।’ লোকটি হাসল।

    ‘খেলছে?’

    ‘ওখানে আরও দুটো বাচ্চাকে পেয়ে গেছে তো।’

    ‘ও, অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। ওর এখন খেয়ে শোওয়ার সময় হয়ে গিয়েছে। যদি ওকে নিয়ে আসেন তাহলে—।’ কথা শেষ করলেন না বনবিহারী।

    ‘না-না, ও নিয়ে আপনি চিন্তা করবেন না ডাক্তারবাবু। ওইটুকুনি বাচ্চা, যা খাবে তা আমার ওয়াইফ ঠিক করে দেবে। ওর বাচ্চার খুব শখ। নিজের নেই তো।’

    ‘এই যে বললেন ওখানে আরও দুটো বাচ্চা রয়েছে—!’

    ‘পাশের বাড়ির বাচ্চা। আমার ওয়াইফের কাছে এলে ভালো থাকে বলে দিয়ে যায়।’ মাথা নাড়ল লোকটি, ‘আপনার ছেলেকে নিয়ে কোনও চিন্তা করবেন না। ওর মা তো আজ রাত্রে ব্রজদার ওয়াইফের পাশে থাকবেন। আপনি একা পুরুষমানুষ বাচ্চাকে সামলাবেন কি করে! তাই আজকের রাতটা ও আমার ওয়াইফের কাছেই থাকুক। দুজনে ভালো থাকবে!’

    পাশে দাঁড়ানো এক বৃদ্ধ বললেন, ‘ঠিক কথা। ডাক্তারবাবু, আপনি চিন্তা করবেন না। বউমার কাছে বাচ্চারা ভালো থাকে কেন জানেন? তিনি ওদের গল্প বলেন, গান শোনান। আপনার ছেলের কপাল খারাপ, সে মায়ের মুখে ঘুমপাড়ানি গান শোনার সুযোগ পায়নি। ভগবান ওর মায়ের মুখ থেকে কথা কেড়ে নিয়েছেন, কি করা যাবে। আপনি কোনও চিন্তা করবেন না। যান, বিশ্রাম করুন।’

    ওপরে যাওয়ার আগে ব্রজ মণ্ডলের স্ত্রীকে আর একবার দেখে গেলেন বনবিহারী। গভীর ঘুমে রয়েছেন। নাড়ি আগের থেকে অনেক স্থির। এক ফাঁকে মামণির দিকে তাকাতে সে মুখ ঘুরিয়ে নিল। বনবিহারী কিছু না বলে ওপরে উঠে এলেন।

    সন্ধে পেরিয়ে রাত নামল। বনবিহারী ঘরে ঢুকে স্বস্তি পাচ্ছিলেন না। তাঁর শরীরে একটা অস্বস্তি তীব্র হচ্ছিল। নিয়ম ভেঙে তিনি স্নান করলেন। স্নান সেরে খাটে বসে টের পেলেন তাঁর খিদেবোধটাই নেই। সন্তানের বিছানার দিকে তাকালেন। এখানকার মানুষ ওকে তাঁর ছেলে বলে ভাবছে। স্বাভাবিক ভাবে মামণি যদি ওর মা হয় তাহলে তিনি ওদের চোখে মামণির স্বামী। বয়সের এত পার্থক্য থাকা সত্ত্বের মামণিকে তাঁর স্ত্রী বলে ভেবে নিতে পেরেছে ওরা। ওদের কোনও দোষ নেই। একঘরে দুজন নারীপুরুষ বাচ্চা নিয়ে দিনের পর দিন সংসার করে থাকলে অন্য সম্পর্কের কথা মাথায় আসবে কেন? তিনি মেয়ে বা পুত্রবধূকে সন্তানসহ এখানে এনে একঘরে থাকছেন বলে তো কেউ ভাববে না।

    কিন্তু এই ভাবনা শেষ পর্যন্ত মামণির ক্ষতি করবে! ডাক্তার বনবিহারীর স্ত্রী না হয়েও ওই পরিচয়ে পরিচিত হলে ভবিষ্যতে তিক্ত অভিজ্ঞতা হওয়াই স্বাভাবিক। তাছাড়া এভাবে চললে সন্তানের পরিচয় কি হবে? সবাই জানছে সন্তানের বাবা তিনি। এটা যে-কোনওভাবেই বৈধ নয় তা ওর ভবিষ্যতের কথা ভেবে তিনি বলতেও পারবেন না। এক্ষেত্রে একটাই রাস্তা রয়েছে। মামণি এবং সন্তানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কটা অবিলম্বে বৈধ করে নেওয়া উচিত। কিন্তু কীভাবে? পুরোহিত ডেকে মন্ত্র পড়ে বিয়ে করা এই বয়সে সম্ভব নয়। আজকাল ওই বিয়েকে আইনসঙ্গত বলে মনে করাও হয় না। ম্যারেজ রেজিস্টারের কাছেই যেতে হবে। খোঁজ করলে পাথরপ্রতিমা বা ডায়মন্ডহারবারে ম্যারেজ রেজিস্টার পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু সেখানে গেলে খবরটা এখানে চলে আসবে চটপট। তাতে আর এক ধরনের সমস্যা তৈরি হবে। বনবিহারী সিদ্ধান্ত নিলেন ব্যাপারটা কলকাতায় গিয়ে সারবেন। একজন শিক্ষিত মানুষ হিসেবে তিনি জানেন এই বিয়ে করতে হলে আগে নোটিশ দিতে হয়। সেই নোটিশে দুজনকেই সই করতে হবে। অর্থাৎ নোটিশ দেওয়ার জন্যে একবার আর বিয়ে নথিভুক্ত করতে আর একবার তাঁদের কলকাতায় যেতে হবে।

    এই জীবনে অকৃতদার থাকবেন বলে ভেবেছিলেন বনবিহারী। কিন্তু বিধাতার যদি ভিন্ন ইচ্ছে হয় তাহলে সেটা না মেনে উপায় কি! মামণি এবং সন্তানকে এখানে ফেলে রেখে তিনি উধাও হতে পারেন না। হঠাৎ অন্য একটা কথা মনে আসতেই কিঞ্চিৎ প্রফুল্ল হলেন বনবিহারী। গঞ্জের বেশিরভাগ মানুষ মামণিকে দ্যাখেনি। দেখেছে পালবাবুর ড্রাইভার শম্ভু আর তাঁর বাড়ির কালীচরণ। কালীচরণ বিশ্বাসঘাতকতা করবে না। শম্ভু এখনও পালবাবুর গাড়ি চালাচ্ছে কিনা জানা নেই। চালালেও ওইটুকু ঝুঁকি নিতেই পারেন। বিয়ের পর তাই মামণি আর সন্তানকে নিয়ে যদি গঞ্জে ফিরে যান তাহলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। পাঁচজনে জানবে বনবিহারী বেশি বয়সে বিয়ে করেছেন। আড়ালে একটু হাসাহাসি করবে হয়তো তার ওপর বাচ্চা সমেত বউ এনেছেন বলে একটু বাঁকা কথাও বলাবলি হবে। কিন্তু এগুলো থিতিয়ে যেতে সময় লাগবে না। আর একবার থিতিয়ে গেলে এখনকার থেকে অনেক শান্তির জীবন যাপন করা যাবে।

    বনবিহারী নিশ্চিত প্রস্তাবটা শুনে মামণি খুব খুশি হবে। ও তো তাই চায়। তিনি দূরত্ব রেখেছেন বলে ওর অভিমান বেড়েছে। হঠাৎ লজ্জা পেলেন বনবিহারী। বিয়ের পর তো আর তাঁকে দূরত্ব রাখতে দেবে না মামণি। তখন তিনি কী করবেন? একটা বড় শ্বাস ফেলে বিছানায় শরীর এলিয়ে দিলেন তিনি। তখন যা হওয়ার তা হবে। যা স্বাভাবিক তাই মেনে নিতে হবে।

    কিছুক্ষণ ঘুমিয়েছিলেন বনবিহারী, হঠাৎ চিৎকারটা কানে ঢোকা মাত্র তাঁর ঘুম ভেঙে গেল। বলো হরি, হরি বোল, বলো হরি, হরি বোল। চিৎকারটা ক্রমশ তীব্র হয়ে এগিয়ে আসছে। ধড়মড়িয়ে উঠে বসলেন তিনি। তাহলে ওরা এই রাত্রে নদী পেরিয়ে ব্রজ মণ্ডলের মৃতদেহ নিয়ে এল?

    বনবিহারী বিছানা থেকে নামলেন। তৈরি হয়ে নীচে নামতেই শুনলেন ওরা এখনই শ্মশানে যেতে চাইছে। মড়া বাসি করে লাভ নেই, রাত থাকতে থাকতে দাহ করে ফেলা উচিত। কেউ জিজ্ঞাসা করল, ‘মুখাগ্নি করবে কে?’

    ‘আমি।’ বনবিহারী দেখলেন মামণিকে ধরে দরজায় এসে দাঁড়িয়েছে পুঁটির মা।

    একজন বলল, ‘না না, আপনার শরীর ভালো নেই, আপনাকে যেতে হবে না।’

    আর একজন বলল, ‘মেয়েছেলেরা তো শ্মশানে যায় না।’

    ‘যার কেউ নেই সে যায়। অমি যাব।’ পুঁটির মা দুর্বল গলায় বলল।

    যার বাড়িতে সন্তান রয়েছে সে জিজ্ঞাসা করল, ‘ডাক্তারবাবু কী বলেন? ওঁর কি এই শরীর নিয়ে শ্মশানে যাওয়া উচিত?’

    ‘শ্মশান কতদূরে?’ বনবিহারী জিজ্ঞাসা করলেন।

    ‘বেশিদূর নয়, নদীর ওই ধারে।’

    ‘গেলে যদি উনি শান্তি পান—, তবে হেঁটে না গিয়ে ভ্যান রিকশায় যাওয়া উচিত।’ বনবিহারী বললেন।

    একটা ভ্যান রিকশা নিয়ে আসা হল। তাতে পুঁটির মাকে নিয়ে উঠে বসল মামণি। বলো হরি, হরি বোল ধ্বনি দিতে দিতে ব্রজ মণ্ডলকে নিয়ে চলে গেল সবাই। একজন অতিবৃদ্ধ লোক মাটিতে হাঁটুমুড়ে বসেছিল। বনবিহারী আকাশের দিকে তাকলেন। এই মধ্যরাতের আকাশে এখন অজস্র তারার ভিড়। মনে হচ্ছে অনেকটা নীচে নেমে এসেছে ওরা। ব্রজ মণ্ডলের আত্মা কি ওই আকাশে মিলিয়ে যাবে? লোকটা ভালো ছিল। বাড়িওয়ালা হিসেবে কখনও নিজেকে জাহির করেনি।

    ‘কে? কে ওখানে?’ মিনমিনে গলায় প্রশ্ন ভেসে আসতে বনবিহারী তাকালেন। সেই বৃদ্ধ মানুষটি চোখের ওপর হাত রেখে তাঁকে দেখার চেষ্টা করছে। কাছে গিয়ে বনবিহারী বললেন, ‘আমি ডাক্তারবাবু।’

    ‘অ। নতুন ডাক্তার! শোনো, আমার খিদে পেয়েছে। খেতে দাও।’

    ‘রাত্রে কিছু খাননি?’

    ‘না। দিনরাতে একবার খেতে দেয় বউটা। আমার বউসোহাগী ছেলের বউ। পাঁচ বাড়ির বাচ্চা জড়ো করে খাওয়ায়, গান শোনায় কিন্তু বুড়ো শ্বশুর খেতে চাইলে মুখ ঘুরিয়ে নেয়। খেতে দাও।’ বুড়ো মাথা দোলাল।

    যতক্ষণ ব্রজ মণ্ডলকে নিয়ে ভিড়টা এখানে ছিল ততক্ষণ বুড়োকে দেখতে পাননি বনবিহারী, কথাও শোনেননি। বুঝলেন এর বউমার কাছেই সন্তান আজ ঘুমোচ্ছে।

    ‘এখানে কীভাবে এলেন?’

    ‘হেঁছড়ে হেঁছড়ে। ব্রজ চলে গেল বলে এলাম। মাঝে-মাঝে আমাকে খেতে দিত ব্রজ। তা তুমি কীরকম ডাক্তার যে ওকে বাঁচাতে পারলে না? অবশ্য কি বা করতে পারো তুমি! ভগবান যাকে নেবে বলে ঠিক করে তাকে কে রাখতে পারে! তা তুমি কি খেতে দেবে না শুধু কথা বলাবে?’ বুড়ো রেগে গেল।

    বনবিহারী ওপরে উঠলেন। যেখানে খাবার থাকে সেখানে গিয়ে ঢাকনা সরিয়ে সরিয়ে দেখলেন ভাত আর ডিমের ঝোল রাঁধা আছে। তা থেকে একটা ছোট থালায় কিছুটা তুলে নেমে এলেন। নিঃশব্দে বুড়োকে দিলেন তিনি।

    খাবার দেখে খুশিতে মুখ উজ্জ্বল হল বুড়োর, ‘বাঃ। ডিম এনেছ! কতদিন ডিম খাইনি।’ দ্রুত হাত চালিয়ে খাবারটা পেটে চালান করে দিয়ে বুড়ো প্লেটটা সামনে রেখে বলল, ‘যাই।’

    ‘জল খাবেন? এনে দেব?’

    ‘না। জল খেলে গলা থেকে ডিমের স্বাদ চলে যাবে। এখন আমি শুয়ে শুয়ে আকাশ দেখব। আচ্ছা ডাক্তার, বেঁচে থাকা আর মরে যাওয়ার তফাত কি?’

    ‘অনেক তফাত। বেঁচে আছেন বলে আপনি খেতে পারলেন, মরে গেলে পারতেন না।’

    ‘দূর! কারও কারও কোনও ফারাক নেই। আমি কি বেঁচে আছি? কবে মরে গেছি!’

    শরীরটাকে মাটির ওপর দিয়ে হেঁচড়ে হেঁচড়ে চলে গেল বুড়ো।

    বিছানায় শুয়েও ঘুম আসছিল না। বারংবার বৃদ্ধের কথা মনে আসছিল। একটা মানুষ নিজেকে মৃত ভেবে নিয়ে পৃথিবীতে বাস করছে। লোকটার খাওয়ার ধরন দেখে বুঝতে অসুবিধে হয়নি ও ক্ষুধার্ত, পেটে খাবার চালান করার জন্যে খাচ্ছে, উপভোগ করছে না। ব্রজ মণ্ডলের মরে যাওয়া নিশ্চয়ই মরে বেঁচে যাওয়া নয়, আবার এই বুড়োর বেঁচে থাকা মানে বেঁচে থেকে মরে যাওয়া নয়। বুড়ো মৃত্যুকে বেশ উপভোগ করছে।

    কিছুক্ষণ উশখুশ করার পর বনবিহারীর মনে হল দীর্ঘক্ষণ অভুক্ত থাকার জন্যে তাঁর ঘুম আসছে না। অন্য রাত বা সময় হলে এখন খাওয়ার কথা তিনি ভাবতেনই না। মধ্যরাতে খেলে তাঁর অম্বল হতে পারে। কিন্তু এখন সেটাকে আমল দিলেন না। খাট থেকে নেমে বেশ ঠান্ডা হয়ে থাকা ডিমের ঝোল আর ভাত খেতে লাগলেন চোখ বন্ধ করে।

    মামণি চলে গেল শ্মশানে। পুঁটির মায়ের সঙ্গে অন্য কোনও স্ত্রীলোক তো যেতে পারত! বনবিহারী খেতে খেতে মাথা নাড়লেন। গেছে যাক। এর ফলে ওর মনে যদি নরম অনুভূতিগুলো ধীরে ধীরে বেড়ে যায় তাহলে একসঙ্গে বাস করে তিনি শান্তি পাবেন।

    ভোরের দিকে ঘুম ভেঙে গেল তাঁর। বলো হরি হরি বোল ধ্বনি দিতে দিতে শ্মশানযাত্রীরা ফিরে এল। নীচে তাদের কথাবার্তা শোনা যাচ্ছে। বনবিহারী ভাবলেন একবার নেমে ওদের সঙ্গে দেখা করে আসবেন। কিন্তু ক্লান্তি তাঁকে বাধা দিল। এখন নিশ্চয়ই মামণি ওপরে উঠে আসবে। তাঁকে না বলে শ্মশানে যাওয়ার জন্যে তিনি কোনও কটু কথা বলবেন না ওকে। বিয়ের সিদ্ধান্তটা ওকে জানাতে হবে। তবে এই শ্মাশান ফেরা ভোরের সময়ে নিশ্চয়ই নয়। কাল একটা ভালো মুহূর্ত বেছে নিয়ে বলতে হবে। মামণি কি তখন খুব লজ্জা পাবে?

    নীচের কথাবার্তা থেমে গেল। বোঝা গেল যারা এসেছিল তারা ফিরে গেছে যে যার বাড়িতে। কিন্তু মামণি ওপরে আসছে না কেন? নাকি পুঁটির মা একা থাকবে বলে তার কাছেই থেকে গেছে! সেটাই স্বাভাবিক ভেবে আবার ঘুমের চেষ্টা করলেন বনবিহারী। এখন তাঁর শরীর-মনে কোনও অস্থিরতা নেই।

    একটু বেলায় ঘুম ভাঙল তাঁর। আর সেটা এমনি এমনি নয়, সোনার ডাকে। দরজার বাইরে থেকে সোনা ডাকছিল, ‘ডাক্তারবাবু, ডাক্তারবাবু!’

    দরজা খুলে সোনাকে দেখে অবাক হলেন, ‘কি ব্যাপার? তুমি!’

    ‘আটটা বেজে গেছে। আজ বালিচরণপুরে যেতে হবে। আপনি আসছেন না দেখে রতনদা আমাকে খোঁজ নিতে পাঠাল।’ সোনা বলল।

    একটু লজ্জিত হলেন বনবিহারী, ‘যাও, আমি আসছি।’

    তৈরি হয়ে নীচে নেমে এসে দেখলেন বাড়িওয়ালার দরজা বন্ধ। একটু ইতস্তত করে বাইরে থেকে বেশ জোরে জোরে বললেন, ‘আমি কাজে যাচ্ছি। তাড়াতাড়ি ফিরব।’ তারপর হাঁটতে শুরু করলে সোনা জিজ্ঞাসা করল, ‘আপনি কি দিদিকে কথাগুলো বললেন?’

    ‘হ্যা।’ মাথা নাড়লেন বনবিহারী।

    ‘দিদি তো এখানে নেই। ভোরের প্রথম ফেরিতে পাথরপ্রতিমায় চলে গেছেন।’ সোনা বলল।

    শোনামাত্র দুটো পা থেমে গেল বনবিহারীর। কী বলছে সোনা?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅর্জুন সমগ্র ৫ – সমরেশ মজুমদার
    Next Article বুকের ঘরে বন্দি আগুন – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }