Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আগুনবেলা – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প575 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    দাউদাউ আগুন – ৩০

    ত্রিশ

    যুগ যুগান্ত থেকে মানুষ বিশ্বাস করে এসেছে এই পৃথিবী ঈশ্বর সৃষ্টি করেছেন। পাহাড় নদী গাছ প্রাণীর পরে তিনি যখন মানুষ সৃষ্টি করলেন তখন অত্যন্ত আনন্দিত হলেন। কিন্তু মানুষকে অমর করার বাসনা তাঁর ছিল না। তার আয়ুসীমা সীমিত করে তিনি অন্য মানুষদের সৃষ্টির পথ খোলা রেখেছেন। মানুষ যতদিন জীবিত থেকেছে ততদিন ঈশ্বর নির্লিপ্ত থেকেছেন। মানুষ তার জীবন ইচ্ছেমতন যাপন করেছে। ঈশ্বর লক্ষ করেছেন অধিকাংশ মানুষ ভালো খাওয়া, থাকার জন্যে নিরাপদ জায়গা পেলেই খুশি। এদের বাইরে কিছু মানুষ সুখী হতে চায়। কিন্তু তাদের অনেকেই জানে না কীসে সুখ পাওয়া যেতে পারে। আবার কিছু মানুষ সাফল্য পেতে চায়। সেই সাফল্য তাকে নেতা হতে সাহায্য করবে। কিন্তু যারা সুখ এবং সাফল্য একসঙ্গে কামনা করে তারাই পড়ে বিপাকে। সুখ যদি সোনা হয় তাহলে সাফল্য হল পাথরের বাটি। দুটো একসঙ্গে চাইলে সোনার পাথরবাটি তৈরি করে দিতে হয় যা দেওয়া ঈশ্বরের পক্ষে অসম্ভব।

    বনবিহারী কখনও চিকিৎসক হিসেবে খ্যাতি চাননি। ডক্টর নলিনীকান্ত সরকার, ডক্টর বিধানচন্দ্র রায় দূরের কথা ডক্টর আবীরলাল মুখোপাধ্যায়ের মতো খ্যাতিমান হওয়ার বাসনা তাঁর ছিল না। তিনি শহর থেকে দূরে ছোট্ট জনপদে মানুষের সেবা করে গেছেন চিকিৎসাশাস্ত্র পড়ে। বনবিহারী সুখ চাননি। সুখের সন্ধানে সম্পত্তি বাড়াতে চাননি, অর্থের পাহাড় তৈরি করার ইচ্ছা তাঁর ছিল না। সুখ মাঝে-মাঝে এসেছে আপনা-আপনি। যখন কোনও রোগীকে চিকিৎসা করে রোগমুক্ত করেছেন তখন যে আনন্দ তাকেই সুখ বলে মনে করেছেন। কিন্তু সে-সুখ বাতাসের মতো, মাঝে-মাঝে বয়, বইলেও অনেকসময় টের পাওয়া যায় না।

    কিন্তু বনবিহারী শান্তিতে জীবনযাপন করতে চেয়েছিলেন। যতদিন তাঁর মা জীবিত ছিলেন ততদিন বাড়িতে ফিরে এসে সেই শান্তি অনুভব করতেন। মা চলে যাওয়ার পরে তিনি অশান্তি আসুক এমন কাজ করতেন না। তাঁর ধারণা ছিল, সুখ বা সাফল্য সুদূরের কিন্তু শান্তি মানুষ ইচ্ছে করলে তৈরি করে নিতে পারে।

    কিন্তু মামণিকে সেই জঙ্গলে দেখার পর থেকেই বনবিহারীর জীবন থেকে সেই শান্তিও উধাও। যার জন্যে সব ছেড়ে সুন্দরবনের গভীরে চলে এসেছিলেন এখন তা অর্থহীন ছিল বলে মনে হচ্ছে তাঁর। হাসপাতালে মামণি সন্তান প্রসব করার পর তিনি যদি কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দিতেন প্রসুতির নাম-ধাম জানেন না, কল পেয়ে জঙ্গলে গিয়ে অবস্থা খারাপ দেখে তুলে নিয়ে এসেছেন হাসপাতালে তাহলে কি সমস্যা হত? হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবশ্যই পুলিশকে জানাতেন। পুলিশ এসে জেরা করে তাঁর কাছ থেকে বাড়তি তথ্য বের করতে পারত না। শম্ভু ড্রাইভার সাক্ষী দিত। সে বলত গাড়ি নিয়ে ডাক্তারবাবু জঙ্গলের দিকে গিয়েছিলেন। সেখানে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়েছিল কয়েকটা ছেলে যারা মেয়েটাকে গাড়িতে তুলে দিয়েছিল। পুলিশ বুঝতে পারত তাঁর সঙ্গে আগেই ওদের যোগাযোগ হয়। হতেই পারে। কেউ যদি রোগী দেখার জন্যে যেতে বলে ডাক্তার হিসেবে তাঁর যাওয়া কর্তব্য। এক্ষেত্রে পুলিশ মামণিকে গ্রেপ্তার করত। ওর বাবা-মায়ের ঠিকানা পেলে বাচ্চাকে সেখানে পাঠিয়ে দিত। মামণি উগ্রপন্থীদের সঙ্গে ছিল এই অপরাধে জেল হত কি হত না তা জানার দরকার তাঁর ছিল না। তিনি যেমন ছিলেন তেমন শান্তিতে থাকতে পারতেন। হঠাৎ সেই ভোরে তাঁর মনে মামণির জন্যে মায়া কেন এল তা এখন বুঝতে পারছেন না। কিন্তু তাঁর জীবন থেকে শান্তি তখন থেকেই চলে গিয়েছিল।

    দুটো দিন এইভাবে কাটল। সন্তানকে মালতী অনেকটাই শান্ত করে রেখেছে। রাত্রে ওকে ঘুম পাড়িয়ে মালতী নীচে নেমে যায়। বাড়িওয়ালির একটা ঘরে শুয়ে পড়ে। ভোর হলেই উঠে আসে ওপরে। বাজারহাট যা করার সে-ই করে। বনবিহারী টাকা দিয়ে দেন।

    তৃতীয় দিনে মালতী মুখ খুলল, ‘ওর মাকে খুঁজে পেলেন?’

    ‘কেন?’

    ‘এভাবে বাচ্চাটা কতদিন থাকবে?’

    ‘ওর মা আর ফিরে আসবে না। বোধহয় ওরা দেশে চলে গেছে।’

    ‘তাহলে?’

    ‘ক’দিন থেকে এই কথাই ভাবছি মালতী। আমার মনে হয় এবার তোমার দেশে চলে যাওয়া উচিত। তবে যাওয়ার আগে হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষা করিয়ে যেও।’

    ‘দেশে গিয়ে আমি কি করব?’

    ‘তা আমি কি করে বলব? অ্যাদ্দিন যা করছিলে তাই করো।’

    ‘এতদিন তো খোকা আমার কাছে ছিল না।’

    চমকে উঠলেন বনবিহারী। মালতী নীচু গলায় বলল, ‘ওকে ছেড়ে থাকতে পারব না।’

    কয়েক মুহূর্তে মাথায় এল কথাগুলো ‘বেশ তো, সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে চলে যাও।’

    অবাক হয়ে তাকাল মালতী, ‘একি বলছেন!’

    ‘দ্যাখো গর্ভধারিণী যাকে ত্যাগ করেছে অবলীলায়, তাকে ছেড়ে তুমি থাকতে পারবে না বলছ। তাহলে তো তুমি যেখানে থাকবে সেখানে তার থাকা উচিত।’

    ‘কিন্তু সেখানে আমার নিজেরই দু-বেলা ঠিকঠাক খাবার জোটে না, এই দুধের বাচ্চাকে খাওয়াব কি করে? ও কি আটাগোলা খেয়ে বাঁচাতে পারবে? তা হয় না। আপনি যদি অনুমতি দেন তাহলে এখানে থেকেই ওকে মানুষ করতে পারি।’

    কথা বাড়াননি বনবিহারী। কিন্তু সেই মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নিলেন আর সুন্দরবনে থাকবেন না। যা হওয়ার হবে, তিনি উত্তর বাংলার গঞ্জে ফিরে যাবেন। বাচ্চা দেখে লোকে প্রশ্ন করবেই। যা হোক ভেবে উত্তরটা দিয়ে দেবেন। শিশুর গায়ে উগ্রপন্থীর ছাপ থাকে না। পুলিশ নিশ্চয়ই সন্তানকে নিয়ে মাথা ঘামাবে না। কালীচরণ হয়তো বিরক্ত হবে। এই বয়সে শিশুর ঝামেলা ঘাড়ে নিতে চাইবে না আবার না নিয়েও পারবে না। কালীচরণকে তিনি চেনেন।

    পরেশ মণ্ডলকে ডেকে পদত্যাগ পত্রটি ধরিয়ে দিলেন বনবিহারী। ওটা পড়ে সে অবাক। জিজ্ঞাসা করল, ‘আপনার কি অসুবিধে হচ্ছে ডাক্তারবাবু?’

    বনবিহারী মাথা নাড়লেন, ‘অসুবিধে কেন হবে! শরীর ভালো যাচ্ছে না। এখানকার জল সহ্য হচ্ছে না। লঞ্চে চেপে এত যাওয়া-আসার ধকল নিতে পারছি না।’

    ‘সেটা অবশ্য আলাদা কথা। একটু দাঁড়ান, আমি হেড অফিসের সঙ্গে কথা বলি। যদি আপনার পরিশ্রম একটু কমিয়ে দেওয়া যায়—!’

    ‘না ভাই। এমাসের শেষে আমি চলে যেতে চাই।’

    পরেশ মণ্ডল কথা না বাড়ালেও রতন সোনা ছোটু হিরো প্রায় ঝাঁপিয়ে পড়ল। কোনও অবস্থাতেই তারা ডাক্তারবাবুকে ছাড়বে না। রতন বলল, ‘কিছু করতে হবে না আপনাকে। লঞ্চে উঠে কেবিনে গিয়ে শুয়ে পড়বেন। খাওয়ার সময় খাবেন। আর লঞ্চ যে ঘাটে রোগী দেখার জন্যে ভিড়বে সেখানে কুড়িজনের বেশি দেখবেন না।’

    বনবিহারী হেসে মাথা নাড়লেন। সেদিন মৃদঙ্গভাঙা নদী ধরে যাওয়ার কথা ছিল। বনবিহারী লঞ্চে উঠলেন। দেখলেন ছেলেগুলো মুখ কালো করে আছে । ক’দিনের চেনাশোনা, তাতেই ওরা তাঁকে এত ভালোবেসেছে?

    চেয়ারে বসে জল দেখছিলেন। হিরো এসে দাঁড়াল, ‘ডাক্তারবাবু!’

    বনবিহারী তাকালেন।

    ‘এখানে ডাক্তাররা সহজে আসতেই চায় না। আপনি চলে গেলে আমরা বেকার হয়ে যাব। লঞ্চ না ছাড়লে তো আমরা টাকা পাই না।’

    ‘মানে? তেমরা মাস মাইনেতে নেই?

    ‘শুধু রতনই মাস মাইনেতে আছে। আবার কবে কোন ডাক্তার আসবেন, লঞ্চ বের হবে তদ্দিন বেকার বসে থাকতে হবে আমাদের।’

    ‘হু।’

    ‘আপনি যাবেন না ডাক্তারবাবু।’

    ‘হু!’

    কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে হিরো চলে গেল।

    খানিক পরে সোনা এসে দাঁড়াল। ‘আমরা ঠিক করলাম আজ থেকে আপনার জন্যে আলাদা রান্না করে দেওয়া হবে। ঝাল মশলা একদম কম যাতে শরীর খারাপ না হয়।’

    ‘আরে সেজন্যে নয়।’

    ‘একটা কথা বলব যদি কিছু মনে না করেন?’ সসঙ্কোচে বলল সোনা।

    ‘কী কথা?’

    দিদি চলে গেছে বলে আপনার মন খারাপ হয়ে গেছে। তাই এখানে আর থাকতে চাইছেন না। তাই তো?’

    ‘সব মিলিয়েই, আমার শরীরটাও ভালো নেই।’

    সোনা চলে গেলে মাথা নাড়লেন বনবিহারী। ধরা পড়ে গেছেন। সোনার মতো বাচ্চা ছেলেও বুঝে গিয়েছে তাঁর চলে যাওয়ার কারণ।

    রতনদের আপত্তি সত্ত্বেও তিরিশজনকে পরীক্ষা করলেন আজ। কোনওরকম এক্সরে বা রক্তপরীক্ষার সাহায্য না নিয়েই বুঝলেন এদের অন্তত আটজনের শরীরে যক্ষ্মা জাঁকিয়ে বসেছে। সাতদিনের ওষুধ দিয়ে কোনও কাজ হবে না। এদের পক্ষে ওষুধ কেনাও সম্ভব নয়। তাছাড়া নিয়মিত ভালো পথ্য করা দরকার। যাদের দুবেলা ভাত জোটে কি জোটে না তারা পথ্য পাবে কোথায়? এভাবে রোগী দেখে লাভ কি? এদের রোগ নির্মূল করার অস্ত্র তাঁর জানা আছে কিন্তু এখানে তিনি নিধিরাম সর্দার। একজনের কানের নীচে বিশাল টিউমার হয়েছে। তার ভারে মুখ বেঁকে গেছে। ম্যালিগন্যান্ট হোক বা না হোক অবিলম্বে অপারেশন করা দরকার। কে করবে? ফিরতে ফিরতে রাত হয়ে গেল। ওঁরা তাঁকে বাড়ি অবধি পৌঁছে দিয়ে গেল। তিনি সিঁড়িতে পা রাখতেই গলা শুনতে পেলেন, ‘ডাক্তারবাবু।’

    ফিরে দেখলেন অন্ধকারে কেউ দাঁড়িয়ে আছে। জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কে?’

    লোকটি চাপা গলায় বলল, ‘একটু এদিকে আসুন।’

    সন্দেহজনক মনে হল বনবিহারীর। লোকটি ইচ্ছে করেই অন্ধকার ছেড়ে আসছে না। তিনি কয়েক পা এগিয়ে গেলেন। লোকটি চাপা গলায় বলল, ‘বাবা মুর্শেদ আমাকে পাঠিয়েছেন। তিনি আপনার সঙ্গে কথা বলতে চান। যাবেন আর আসবেন।’

    ‘তিনি কোথায়?’

    ‘সাইকেলে দশ মিনিট।’

    বনবিহারী চারপাশে তাকালেন। অন্ধকারে কিছুই দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু কোথাও কেউ না কেউ ঘাপটি মেরে আছে। নইলে গতবার বাবা মুর্শেদের আসার কথা পুলিশের কাছে কি করে পৌঁছাল। যাবেন কিনা ইতস্তত করছিলেন কিন্তু তখনই তাঁর মুখগুলো মনে পড়ে গেল। আজ দুপুরে দেখে আসা অসুস্থ মানুষের মুখগুলো। তিনি বললেন, ‘চলুন।’

    খানিকটা হেঁটে একটা গাছের গুঁড়িতে হেলান দিয়ে রাখা সাইকেল তুলে নিয়ে লোকটা বলল, ‘পেছনে বসুন। কষ্ট হবে না।’

    সেই নির্জন রাতে সাইকেলের পেছনে বসে বনবিহারীর মনে হচ্ছিল, পথটা কোথায় শেষ হবে। আধমাইল যাওয়ার পর কালজিরে নদীর মাছধরাদের ঘাটের গায়ে সাইকেল থামাল লোকটা। সেখানে দুজন অপেক্ষা করছিল। তাদের একজন বলল, ‘আসুন।’

    লঞ্চে যেতে-আসতে এই ঘাটটা চোখে পড়েছে বনবিহারীর। নৌকো, টলার এখানে রাতের বেলায় জিরোয়। সাধারণ যাত্রীরা এই ঘাটে আসে না কারণ এখান থেকে পারাপার হয় না। লোকটার পিছু পিছু নদীর ধারে নেমে এলেন বনবিহারী। একটা টলারের গায়ে সিঁড়ি লাগানো। লোকটা সেই সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে এল বনবিহারীকে নিয়ে। ভেতরে ছাউনির নীচে দুজন মানুষ বসে। বনবিহারীকে দেখে একজন উঠে দাঁড়াল।

    ‘আসুন ডাক্তারবাবু, আপনাকে কষ্ট দিলাম কিন্তু এছাড়া উপায় ছিল না। পুলিশের এখন কোনও কাজ নেই শুধু বাবা মুর্শেদকে ধরে চালান করা ছাড়া। বসুন।’

    বনবিহারী বসলেন। দাঁড়িয়ে ওঠা লোকটি এবার টলারের এক প্রান্ত থেকে একটা থালা আর গ্লাস নিয়ে এসে বনবিহারীর পাশে রাখলেন। টলারের ভেতর আলো কমানো হ্যারিকেন জ্বলছে।

    ‘খেয়ে নিন ডাক্তারবাবু।’ বাবা মুর্শেদ বলল।

    ‘না না—।’

    ‘সঙ্কোচ করবেন না। সারাদিন লঞ্চে ঘুরেছেন, পেশেন্ট দেখেছেন। নিশ্চয়ই খুব খিদে লেগেছে। বাড়িতে গিয়ে তো খেতেনই। এখানেই খেয়ে নিন। এই, ডাক্তারবাবুকে হাত ধোওয়ার জল দাও।’ বাবা মুর্শেদ হুকুম করল।

    এর পর কথা চলে না। হাত-ধুয়ে নিয়ে তিনটে রুটি, তরকারি আর মাছের ঝোল তৃপ্তি করে খেলেন বনবিহারী। একটু মশলা বেশি, কি করা যাবে।

    খাওয়া শেষ হলে হাত মুখ ধোওয়ার পর বাবা মুর্শেদ জিজ্ঞাসা করল, ‘একটা খারাপ খবর শুনলাম। খবরটা কি সত্যি?’

    বনবিহারী চুপ করে থাকলেন। খবরটা কার কাছে খারাপ? বাবা মুর্শেদের কাছে? বাবা মুর্শেদ বলল, ‘আপনাকে এখানকার মানুষ ভালোবেসে ফেলেছে। ভেতরের গ্রামগুলোতেও লোকে আপনার প্রশংসা করে। আপনি চলে গেলে এরা অনাথ হয়ে যাবে ডাক্তারবাবু।’

    ‘কিন্তু আর আমি পারছি না। আমার শরীর ভালো যাচ্ছে না। হয়তো এখানকার আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারছি না।’

    ‘আপনি বোধহয় নিজের চিকিৎসা করেন না।’

    বনবিহারী হাসলেন। বললেন, ‘তাছাড়া যখনই লঞ্চে রোগী দেখতে যাই তখনই নিজেকে খুব অসহায় মনে হয়। সুন্দরবনের গভীরে হাজার হাজার মানুষ বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে। আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার সামান্য সুযোগ নেওয়ার ক্ষমতা ওদের নেই। হাজার টাকার ওষুধ মাসখানেক খেলে যে রোগমুক্ত হত তাকে বাধ্য হয়ে মৃত্যুকে গ্রহণ করতে হচ্ছে। আমি রোগী দেখছি, ওষুধের কথা বলছি কিন্তু সেই ওষুধ কেনার সামর্থ্য লোকটির নেই এবং আমার পক্ষেও ওই ওষুধ ওকে দেওয়া সম্ভব নয়। তাহলে ডাক্তার হিসেবে আমি রোগী দেখছি কেন? কি অধিকার আছে লোকটাকে আশা দেখাবার? আপনি বলেছিলেন, তেমন পেশেন্ট থাকলে আপনাকে বলতে যাকে হাসপাতালে এনে অপারেশন করাতে হবে। আপনি তার দায়িত্ব নেবেন। ইতিমধ্যে একজনের দায়িত্ব নিয়েছেন। কিন্তু সব কেস তো অপারেশনের আওতায় পড়ে না। আজ আমি কয়েকজন টিবি রোগীকে দেখলাম। নিয়মিত ওষুধ এবং ভালো পথ্য পেলে বেঁচে যাবে। তাদের হাসপাতালে আসার দরকার নেই। এদের কি হবে?’

    ‘কোন গ্রাম আর পেশেন্টের নামগুলো কি আপনার সঙ্গীরা লিখে রেখেছে?’

    ‘হ্যাঁ।’

    ‘বেশ, ওরা যাতে ওষুধ এবং পথ্য পায় আমি তা দেখব। প্রেসক্রিপশন করেছেন?’

    ‘করেছি কিন্তু ওদের দিয়ে কি হবে? লঞ্চের খাতায় লেখা আছে। হেড অফিসকে লিখতে হবে ওষুধ পাঠাবার জন্যে। যদি পাঠায় তখন কম্পাউন্ডার গিয়ে ইনজেকশন দিয়ে আসবে। না। এভাবে হয় না।’ বনবিহারী মাথা নাড়লেন।

    ‘মানছি এভাবে হওয়া মুশকিল। কিন্তু আপনি থাকলে তবু কিছু হবে।’

    হাতজোড় করলেন বনবিহারী, ‘দয়া করে আমাকে থাকতে বলবেন না।’

    বাবা মুর্শেদ একটু ভাবল। তারপর বলল, ‘আপনি যে মেয়েটিকে আশ্রয় দিয়েছিলেন সে তার মায়ের সঙ্গে পাথরপ্রতিমাতেই আছে। যে মাস্টারের বাসায় তারা উঠেছিল তাকে বলা হয়েছে আমি না বলা পর্যন্ত তারা যাওয়ার চেষ্টা না করে। রিকশাওয়ালা বলেছে মেয়েটির মা আপনাকে খুব অপমান করেছিল। মেয়েটি কে?’

    ‘জঙ্গলে পড়েছিল সন্তান-সম্ভাবনা নিয়ে। উগ্রপন্থীদের সঙ্গী ছিল। আমি ওকে হাসপাতালে ভরতি করি। উগ্রপন্থীরা পুলিশের গুলিতে মারা যায়। ও বোবা বলে ঠিকানা জোগাড় করতে না পেরে নিজের কাছেই সন্তানসহ রেখে দিই। নাম না জানায় ওকে মামণি বলে ডাকি। হয়তো আমার কাছে থাকাটা ওর সহ্য হচ্ছিল না তাই এতদিন পরে মাকে খবর দিয়ে আনিয়েছে। না না। ওদের আপনি ছেড়ে দিন। পাখির ডানা কেটে নিলে তাকে আর পাখি বলে না।’

    বাবা মুর্শেদ হাসল, ‘আপনাকে আমার সেলাম। আর আপনাকে আটকাব না।’

    যেভাবে এসেছিলেন ঠিক সেইভাবে ফিরে গেলেন বনবিহারী। সিঁড়িতে পা রাখতেই ব্রজ মণ্ডলের বউ-এর গলা পেলেন, ‘বাচ্চাকে নিয়ে মালতী নীচের ঘরে শুয়েছে।’ কথা না বলে ওপরে উঠে এলেন তিনি। হঠাৎ মনে হল সুন্দরবনে আসা একদম বিফলে যায়নি। এখানে বাবা মুর্শেদের মতো মানুষ রয়েছে। এখন প্রশ্ন, বাবা মুর্শেদ সরকারের চোখে সমাজবিরোধী কিন্তু কোন সমাজের?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅর্জুন সমগ্র ৫ – সমরেশ মজুমদার
    Next Article বুকের ঘরে বন্দি আগুন – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }