Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আগুনবেলা – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প575 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    দাউদাউ আগুন – ৩১

    একত্রিশ

    সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলেন বনবিহারী। মামণির চলে যাওয়ার খবর এখন আর কারও জানতে বাকি নেই। রাস্তায় বের হলেই প্রশ্ন শুনতে হচ্ছে, কোথায় গেল? কেন গেল? একটা দুধের বাচ্চাকে ফেলে রেখে চলে যাওয়ার কি কারণ ঘটেছিল?

    বনবিহারী উত্তর দিয়েছেন যখন যেমন মনে এসেছিল। আর তাতেই শেষ প্রশ্নটা জোরদার হয়েছিল, ‘যে ছিল সে ডাক্তারবাবুর কে?’ মেয়ে? বোন? বা স্ত্রী? মামণি যখন ছিল তখন এসব নিয়ে কেউ মাথা ঘামায়নি, চলে যাওয়ার পর কৌতূহল প্রবল হয়ে বনবিহারীকে প্রায় ভিলেন করে তুলল।

    এই অবস্থায় এখানে থাকাটা অসহ্য হয়ে উঠছিল। সমস্যা হল, তিনি একা সন্তানকে নিয়ে ফিরে যেতে পারেন কিন্তু মালতী সন্তানকে ছাড়তে চাইছে না। এই কয়দিনে সন্তানের ওপর তার মায়া এত বেড়ে গেছে যে ছেড়ে থাকার কথা ভাবতেই রাজি হচ্ছে না। তাকে তার গ্রামে ফিরে যেতে বললে সে রাজি হচ্ছে না। তার বক্তব্য হল, সন্তানকে বড় করতে হলে কোনও না কোনও মহিলাকে প্রয়োজন হবেই, তাহলে সে কেন বঞ্চিত হবে? বনবিহারী তাকে বুঝিয়েছেন। সন্তানকে নিয়ে তিনি যেখানে যাবেন সেই জায়গা এখান থেকে কয়েকশো মাইল দূরে। সেখান থেকে ঘনঘন গ্রামে আসাযাওয়া করতে পারবে না মালতী। এই সব যুক্তি উড়িয়ে দিয়েছে মালতী, গ্রামে তার এমন কেউ নেই যে তার টানে সে ফিরে আসবে! গ্রামে থাকলে সতীত্ব বজায় রাখতে চাইলে বেশিরভাগ দিনেই এক বেলার খাবার জুটতো। সন্তানের কাছে আসার পর থেকে তো দু-বেলা পেট ভরে খেতে পারছে।

    শেষ পর্যন্ত পরেশ মণ্ডল জানাল, কলকাতা থেকে চিঠি এসেছে। হেড অফিস খুব দুঃখের সঙ্গে তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করলেও অনুরোধ করেছে পুনর্বিবেচনা করতে। শুনে হাসলেন বনবিহারী, কিছু বললেন না।

    ফিরে আসার আগের দিন তিনি মালতীকে পাঠালেন হাসপাতালে। অপারেশনের জায়গাটা কেমন আছে দেখিয়ে আসার জন্যে। ব্রজ মণ্ডলের স্ত্রীর কাছে বাচ্চাকে রেখে মালতী গেল নিতান্ত অনিচ্ছায়।

    লঞ্চের সবার মুখ ভার। ডাক্তার-বাবুর চলে যাওয়াটা কেউ মেনে নিতে পারছে না। আজ শেষবার ডাক্তার বনবিহারী বেরিয়েছেন রোগী দেখতে। প্রতিদিনের মতো তরতর করে ছুটছে না লঞ্চ। যেন যেতে ইচ্ছে করছে না, যেতে হয় তাই যাওয়া। বনবিহারী তাঁর চেয়ারে বসে ছোটুকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কি রে? লঞ্চের কি হল? এত আস্তে যাচ্ছে কেন?’

    ছোটু বলল, ‘লঞ্চেরও মন খারাপ।’

    বনবিহারী লক্ষ করছিলেন। লঞ্চের সমস্ত কর্মী আজ গম্ভীর, কাজ করতে হবে বলে করছে। ধীরে-ধীরে বনবিহারীর মনও বিষণ্ণতায় আক্রান্ত হল। হিরো এসে খাবার দিয়ে গেলে একবার তাকিয়ে দেখলেন, খেতে ইচ্ছে করছিল না। তিনি বললেন, ‘হিরো, এখন নিয়ে যাও, পরে খিদে লাগলে বলব।’

    অন্যদিন হলে হিরো জোর করত খাওয়ার জন্যে, আজ চুপচাপ খাবার নিয়ে ফেরত চলে গেল। এভাবে যাওয়া ওর স্বভাববিরুদ্ধ তা বনবিহারী জানেন, বিষণ্ণতা আরও বেড়ে গেল। দুপুরে যে ঘাটে লঞ্চ ভিড়ল সেখানে আগে কখনও আসেননি তিনি।

    লঞ্চের ডেকে দাঁড়িয়ে দেখলেন ঘন জঙ্গল পেরিয়ে যেখানে লঞ্চ থামল সেখানে থকথকে কাদা। কাদার ওপারে উঁচু জমিতে জনা পনেরো-কুড়ি মানুষ দাঁড়িয়ে হাত নাড়ছে। রতন জিজ্ঞাসা করল, ‘ওদের লঞ্চে আসতে বলব? আপনি নামতে চাইলে তক্তা ফেলতে হবে। যা বলেন।’

    ‘ওরা আসবে কীভাবে?’

    ‘কাদা মাড়িয়ে আসবে। ওদের অভ্যেস আছে।

    বনবিহারী তাকালেন। তাঁর মনে হল হাঁটু পর্যন্ত ডুবে যাবে ওই কাদায় পা ফেললে। কোনও অসুস্থ মানুষ ওইভাবে এলে তার অসুস্থতা অবশ্যই বেড়ে যাবে। তিনি মাথা নেড়ে বললেন, ‘না। তক্তা ফেলতে বলো। আমি যাব।’

    মিনিট পাঁচেকের মধ্যে তক্তা ফেলে ফেলে রাস্তা তৈরি করে দিল ওরা। বনবিহারী নীচে নেমে এলেন সন্তর্পণে, সঙ্গে ছোটু আর হিরো। হিরো চেঁচাল, ‘যারা ডাক্তারবাবুকে দেখাতে চাও তারা লাইন দিয়ে দাঁড়াও।’

    হুটোপুটি পড়ে গেল লাইন তৈরি করতে। বনবিহারী লক্ষ করলেন জনা চারেক বৃদ্ধা বা প্রৌঢা ছাড়া কোনও অল্প-মধ্যবয়সি মহিলা ওদের মধ্যে নেই। ছোটুকে জিজ্ঞাসা করলেন তিনি। ছোটু মাথা নাড়ল, ‘অসুখ করলেও ওরা আসবে না।’

    ‘কেন?’

    ‘পুরুষ ডাক্তারকে নিজের অসুখের কথা বলবে না।’

    সুন্দরবনের গভীরে বাস করা মেয়েদের মনে এই সংকোচ এতদিন লক্ষ করেননি বনবিহারী। শুধু এই জায়গায় ব্যতিক্রম কেন তা আর জানতে চাইলেন না। রোগী দেখা আরম্ভ করলেন। অন্য গ্রামে গিয়ে যা দেখেছেন এখানেও অসুস্থতার কারণ একই। অনাহার, অর্ধাহারের কারণে অসুস্থতা। মুশকিল হল ওদের বলাই যাবে না ভালো পথ্য করতে। সেটা ওদের কাছে আকাশকুসুম ব্যাপার। ভিটামিন ট্যাবলেট দিয়ে কাজ সারতে হচ্ছে। প্রথম যে বৃদ্ধা তাঁর সামনে এল তাকে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কি কষ্ট হচ্ছে?’

    বৃদ্ধা মুখ নামিয়ে বলল, ‘ওই সময় খুব যন্ত্রণা হয়। মনে হয় কাটা ঘায়ে লবণ দিয়েছে কেউ। আটদিনের আগে কমতে চায় না।’

    বৃদ্ধার মুখের দিকে তাকালেন বনবিহারী। অনাহারে শরীর যতই ভাঙুক পঞ্চাশের ওপরে ওর বয়স এ ব্যাপারে তাঁর সন্দেহ হল না।

    ‘আপনার এখনও মাসিক হয়?’ স্পষ্ট জিজ্ঞাসা করলেন তিনি।

    মাথা নাড়ল বৃদ্ধা, ‘না।’

    ‘তাহলে? যা বললেন তাতে—।’

    ‘আমার মেয়ের কথা—!’

    ‘কত বয়স তার?’

    ‘তিরিশ। বিধবা। বর কাঁকড়া ধরত। বাঘে নিয়ে গিয়েচে।

    ‘ওকে আনেননি কেন?’

    ‘এখানে তো মেয়ে ডাক্তার আসে না।’

    কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থেকে জিজ্ঞাসা করলেন বনবিহারী, ‘মেয়েকে নিয়ে পাথরপ্রতিমায় যেতে পারবেন? ওখানকার হাসপাতালে দেখাতে হবে।’

    ‘কি করে যাব?’ বৃদ্ধা সাদা চোখে তাকাল।

    লাইন থেকে সরে একটু দূরে দাঁড়াতে বলে পরের রোগীকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে লাগলেন বনবিহারী। তাকে দেখে ছোটুকে ওষুধ দিতে বলে বৃদ্ধার কাছে গেলেন তিনি, ‘আপনার মেয়েকে এখন এখানে নিয়ে আসতে পারবেন?

    ‘কেন?’

    ‘ওকে সুস্থ হতে হলে পাথরপ্রতিমায় যেতে হবে। ওখানকার হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা না করলে দিন দিন কষ্ট আরও বেড়ে যাবে। আপনারা এই লঞ্চে সেখানে যেতে পারেন।’

    ‘ওখানে পয়সা লাগবে না?’

    ‘যাতে না লাগে তার ব্যবস্থা করে দেব।’

    একটু ভেবে বৃদ্ধা চলে গেল। ছোটু বলল, ‘বিপদ।’

    ‘কীসের বিপদ?’ বনবিহারী বিরক্ত হলেন।

    ‘এখান থেকে হেঁটে গ্রামে যেতে আসতে সন্ধে হয়ে যাবে ওর।’

    ‘অনেক দূরে গ্রাম?’

    ‘নদী থেকে অনেক দূরে!’

    শেষদিন যে ক’জনকে দেখলেন তাদের তিনজনকে অপারেশন করানো দরকার। কাগজে সেটা লিখে দিয়ে তাঁর কর্তব্য শেষ করলেন বনবিহারী। খবরটা যদি বাবার কাছে পৌঁছয় এবং তিনি যদি ব্যবস্থা করেন তাহলে এরা বেঁচে যাবে।

    বিকেল ফুরিয়ে আসছিল তবু রোগীরা দাঁড়িয়ে আছে। ছোটু ওদের বলেছে যে এই ডাক্তারবাবুর আজই এখানে প্রথম এবং শেষ আসা। কাল নিজের দেশে ফিরে যাবেন তিনি। অচেনা-অজানা একজন মানুষ যে তাদের ওষুধ দিতে এসেছে তার জন্যে কাতর হওয়া স্বাভাবিক ব্যাপার নয়। কিন্তু লোকগুলো মুখ শুকিয়ে দাঁড়িয়েছিল।

    লঞ্চ ছাড়ার সময় হয়ে গিয়েছিল। রতন তাড়া দিচ্ছে। জোয়ার এলে খুব সমস্যা হবে। এই সময় সেই বৃদ্ধাকে দেখা গেল উদ্ভ্রান্তের মতো ছুটে আসতে। বনবিহারী জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কি হল? আপনার মেয়ে কোথায়?’

    ‘আসতে চাইল না।’

    ‘কেন?’

    ‘বলল, ওর বাঁচার শখ নেই। স্বামীকে বাঘে খেয়েছে, ওকে রোগে খেলে খাক।’

    ‘কী নাম আপনার মেয়ের?’

    ‘মায়া।’

    বনবিহারী ছোটুকে বললেন নামটা লিখে রাখতে।

    ধীরে ধীরে ফিরে যাচ্ছিল লঞ্চ। রোদ মরে গেছে অনেকক্ষণ। ছায়া ঘন থেকে ঘনতর হচ্ছে। বনবিহারী চোখ বন্ধ করে বসেছিলেন। এই সুন্দরবনের গহনে মানুষেরা কি ভয়ঙ্কর লড়াই করে আজও বেঁচে আছে। সভ্যতার সুযোগের কণামাত্র তাদের কাছে পৌঁছয় না। সভ্য মানুষের চেয়ে বন, বাঘ কুমির কাঁকড়া আর চাকের মধু ওদের কাছে অনেক আপন। অল্পই হয়তো সুযোগ হত, কিন্তু কাল এদের ছেড়ে তাঁকে চলে যেতে হবে।

    হঠাৎ সোনা এসে তাঁর সামনে বসল, ‘ডাক্তারবাবু!’

    ‘বলো সোনা।’

    ‘আপনি কেন চলে যাচ্ছেন?’

    স্পষ্ট দেখলেন বনবিহারী। আচমকা নিজেকে প্রশ্ন করলেন, ‘আমি কেন চলে যাচ্ছি?’ উত্তরটা নিজের কাছেই গুলিয়ে উঠল বলে মুখে প্রশ্ন করলেন, ‘তুমি কেন জিজ্ঞাসা করছ সোনা?’

    ‘আপনি না থাকলে আমরা আবার বেকার হয়ে যাব।’

    ‘একথা বলছ কেন? নিশ্চয়ই আর একজন ডাক্তার আসবেন।’

    ‘এখানে কেউ আসতে চায় না। যদি আসে তো কবে আসবে তার ঠিক নেই। তদ্দিন আমরা মাইনে পাব না। আপনাকে আমরা সবাই ভালোবেসে ফেলেছি। আপনার কি এখানে থাকতে খুব কষ্ট হচ্ছে?’ সোনা জিজ্ঞাসা করল।

    ‘না। কষ্ট কি! তবে আমার বাড়িঘর তো সব ওখানে পড়ে আছে।’

    ‘আপনি তো বলেছিলেন ওখানে আপনার কেউ নেই—!’

    ‘তা নেই।’

    ছোটু সোনার নাম ধরে ডাকতে সে অনিচ্ছা নিয়ে উঠে গেল। বনবিহারী নদীর দিকে তাকালেন। জলের রং কালো। ওপারের ডেক থেকে কেউ চিৎকার করে উঠল, ‘কুমির কুমির!’

    বনবিহারী ভালো করে তাকিয়েও কিছু দেখতে পেলেন না। হাওয়া শীতল হয়েছে, আকাশে ফুরফুরে মেঘ। এই সময় রতন দৌড়ে নীচে নেমে এল, ‘ঝড় আসছে, খুব বড় ঝড়, রেডিওতে বলল।’

    উঠে দাঁড়ালেন বনবিহারী, ‘ঠিক কী বলল?’

    ‘সাগরে নাকি একটা গভীর নিম্নচাপ তৈরি হয়েছিল। কাল থেকে তো রেডিও খুলিনি তাই জানতে পারিনি। ঘাটের কেউ কেউ বলাবলি করছিল। এরকম তো প্রায়ই শুনি তাই গ্রাহ্য করিনি। এখন শুনলাম ষাট-সত্তর মাইল বেগে ঝড় ছুটে আসছে। সমুদ্রে মাছ ধরতে যেতে নিষেধ করেছে। নদীর বুক থেকে ঘাটে চলে যেতে বলেছে সব লঞ্চ, নৌকোকে।’ রতন বেশ উত্তেজিত।

    বনবিহারী আকাশের দিকে তাকালেন। ফুরফুরে মেঘের গায়ে কালচে রং। কিন্তু ঝড় আসছে বলে মনেই হল না।

    সেটা লক্ষ করে রতন বলল, ‘আমরা ঝড়ের আগে পৌঁছতে পারব কিনা জানি না। তেমন বুঝলে বাঁ-দিকের পাড়ের কাছে লঞ্চ নিয়ে যাব।’

    ‘যা ভালো বোঝো তাই করো।’ বনবিহারী বললেন।

    আগে আকাশ নয়, নদীর জল জানান দিল। হঠাৎই ফুলে ফুলে উঠল নদী। ঢেউ ছোবল মারতে শুরু করল লঞ্চের শরীরে। তীব্র বেগে ছুটছে লঞ্চ। ওপাশ থেকে আলো জ্বেলে আসছিল এটা টলার। ঢেউ তাকে নিয়ে লোফালুফি শুরু করল। বনবিহারীর মনে হল যে কোনও মুহূর্তে টলার ডুবে যাবে। ভয়ঙ্কর দুলুনি শুরু হয়ে গেল লঞ্চে। ছোটু সোনা হিরো নেমে এল নীচে।

    সোনা চিৎকার করল, ‘মাঝখানে চলে আসুন ডাক্তারবাবু, মাঝখানে।’

    কোনওরকমে টলতে টলতে লঞ্চের মাঝ বরাবর চলে এলেন বনবিহারী। ততক্ষণে একটা লোহার বিমের সঙ্গে চেয়ার বেঁধে ফেলেছে ছোটু। বলল, ‘এখানে ধরে বসে থাকুন।’

    বনবিহারী বসলেন। লঞ্চের ওপরে রাখা যাবতীয় জিনিস একবার এপাশ আর একবার ওপাশে যাচ্ছে। হিরো চেঁচাল, ‘যাঃ। আকাশ মেঘে ঢেকে গেছে।’

    বড্ড আওয়াজ করছিল লঞ্চের ইঞ্জিন। ঢেউগুলো তার টুঁটি চেপে ধরতে চাইছিল আর সে নিজেকে মুক্ত করতে ছটফট করছে। এইসময় দূরে আলো দেখা গেল। সোনা চেঁচাল, ‘এসে গেছি, এসে গেছি।’

    ছোট লঞ্চটাকে লুফতে লুফতে ঢেউ ছুটে যাচ্ছে পাগলের মতো। রতন যখন কোনওমতে লঞ্চটাকে ঘাটে ভেড়াল তখনই হাওয়া ঝাঁপিয়ে পড়ল বঙ্গোপসাগর থেকে, উন্মাদের মতো। লঞ্চ কাত হতে হতে পাড়ের মাটিতে আটকে গিয়ে স্থির হল। তার একটা দিক উঁচিয়ে রইল, অন্যদিক মাটিতে গেঁথে গেল। চেয়ার থেকে ছিটকে পড়লেন বনবিহারী। সড়সড় করে নামতে নামতে আটকে গেলেন লঞ্চের প্রান্তে এসে। এমন ভয়ংকর বাতাসের শব্দ তিনি কখনও শোনেননি। এই শব্দ তাঁকে মনে করিয়ে দিল সন্তান একা রয়েছে। তিনি চিৎকার করলেন, ‘আমাকে নামিয়ে দাও।’

    সোনা সমান চেঁচাল, ‘লঞ্চ উলটে আছে, নামা যাবে না।’

    বনবিহারী দেখলেন ঘাটের যেপাশে তক্তা ফেলে তিনি আসা-যাওয়া করেন সেখান দিয়ে নামা এখন আর সম্ভব নয়। কিন্তু লঞ্চের এই প্রান্ত তো নীচু হয়ে মাটিতে লেগে রয়েছে। না হয় সেখানে কিছু বুনো ঝোপঝাড় রয়েছে কিন্তু সেগুলো তো মাটির ওপর দাঁড়িয়ে। কথা না বলে রেলিং টপকে ওপাশে যেতেই বিদ্যুৎ চমকাল। বনবিহারী লাফ দিলেন। মাটিতে দুটো পা পড়ল কিন্তু শরীরের অগ্রভাগ সোজা হয়ে থাকতে না পারায় দু-হাত বাড়িয়ে তাঁকে ভার সামলাতে হল। সঙ্গে সঙ্গে পায়ের ওপর দিয়ে সড়সড় করে কিছু চলে গেল পাঁচ সেকেন্ড ধরে। স্থির হয়ে রইলেন তিনি।

    এখন ঘনঘন বাজ পড়ছে, বিদ্যুৎ ঝলসাচ্ছে। বনবিহারী যখন সেই ঝোপঝাড় থেকে বেরিয়ে এলেন তখন তাঁর পোশাক ছিন্নভিন্ন, হাত-পা রক্তাক্ত। খানিকটা আন্দাজে হেঁটে এসে বুঝতে পারলেন তিনি উলটোদিকে চলে এসেছেন। আকাশ যেন সিংহের গর্জনকে ছাপিয়ে ঘনঘন হুঙ্কার দিচ্ছে। বাতাস এর মধ্যে ছিন্নভিন্ন করেছে গাছের শরীর। পথ সামলে বনবিহারী যখন বাড়ির সামনে পৌঁছলেন তখন মানুষের চিৎকার-কান্নায় কান পাতা দায়। অনেকের ঘরের চাল উড়েছে, কেউ কেউ চাপা পড়ে আছে তার তলায়। ওপরে উঠতেই মালতী ছুটে এল, ‘আপনার কিছু হয়নি তো? আমার যে কী ভয় করছিল?’

    ‘সন্তান কেমন আছে?’

    ‘ও এতক্ষণ ঘুমাচ্ছিল, এখন উঠে বসে খেলছে।’

    স্বস্তি পেলেন বনবিহারী। লণ্ঠনের আলোয় মালতী তাঁর হাত-পা দেখতে পেয়ে ব্যস্ত হল, ‘একি আপনার তো সারাশরীর কেটে গেছে, রক্ত বেরুচ্ছে।’

    ‘পথ ছাড়ো।’ বনবিহারী বারান্দায় গিয়ে বালতি থেকে একমগ জল তুলে সোজা হয়ে দাঁড়াতেই বিদ্যুতের আলোয় ভয়ংকর দৃশ্যটি দেখতে পেলেন। নদী উঠে এসেছে ওপরে। একতলা বাড়িগুলো ধীরে-ধীরে ডুবে গেল তার জলে। এইসময় দরজায় শব্দ হচ্ছিল খুব। মালতী সেটা খুলতে হুড়মুড়িয়ে ঢুকে পড়ল ব্রজ মণ্ডলের বউ এবং আরও পাঁচজন।

    বাইরে মানুষের চিৎকার আর শোনা যাচ্ছে না। জল এই দোতলা বাড়ির দুপাশ দিয়ে শোঁ শোঁ করে ছুটে যাচ্ছে স্থলভূমিকে গ্রাস করতে। বনবিহারী ঘরে ঢুকে সন্তানকে কোলে তুলে নিয়ে বারান্দায় দাঁড়ালেন। এই সময় বৃষ্টি শুরু হল। এইরকম ভয়ঙ্কর বৃষ্টির শব্দ, হাওয়ার শব্দ, জলের শব্দ বনবিহারী কখনও শোনেননি। ঘরের অন্য মানুষগুলো জড়সড়ো হয়ে বসে আছে মেঝের ওপর। যদি দোতলা ভেঙে পড়ে তাহলে মরে যাওয়া ছাড়া অন্য কিছু কল্পনা করা যাচ্ছে না।

    বিদ্যুৎ চমকাল। এবং বনবিহারীকে অবাক করে দিয়ে হেসে উঠল সন্তান। দু-হাত এক করে তালি দিল একবার। তারপর ভয়ংকর জলের ধারার দিকে আঙুল তুলে হাসতে হাসতে শরীর নাচাতে লাগল, বায়না করতে লাগল, তাকে ওই জলের ধারায় নিয়ে যেতে হবে।

    চোখ বন্ধ করলেন বনবিহারী। হয়তো এতক্ষণে পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এই ভূখণ্ড। আগামীকাল ফিরে যাওয়ার কোনও পথ অবশ্যই খোলা থাকবে না। সোনা জিজ্ঞাসা করেছিল, ‘কেন যাবেন?’ এখন মনে হচ্ছে আদৌ কি যেতে পারবেন? যে-কোনও মুহূর্তে জল আর বাতাস মিলে এই দোতলাটাকে আছাড় মারলেই শরীর ভাসবে কালজিরে নদীতে।

    অন্যমনস্ক হয়েছিলেন। হঠাৎ বিদ্যুৎ ঝলসাতেই সন্তান সজোরে হেসে জলের দিকে লাফাতে চাইল বনবিহারীর কোল থেকে। শেষ মুহূর্তে তাকে ধরে ফেলতে পারলেন বনবিহারী। বুকের ভেতর হৃদপিণ্ড জানান দিল। ছেলেটা জল দেখে ভয় পাচ্ছে না, প্রলয় দেখে হাসছে। বনবিহারী জানেন না ওকে কতদিন এইভাবে ধরে রাখতে পারবেন!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅর্জুন সমগ্র ৫ – সমরেশ মজুমদার
    Next Article বুকের ঘরে বন্দি আগুন – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }