Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আগুনবেলা – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প575 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কাঠকয়লার আগুন – ৩

    তিন

    জায়গাটাকে বেশ ভালো লেগে গেল সুজয়ের। সামান্য উঁচু-নীচু রাস্তায় রিকশা চলছিল শ্লথ গতিতে। দুপাশে লম্বা লম্বা গাছ। আকাশে মেঘ জমায় সূর্যের তেজ নেই। একটা চড়াই ভাঙতে রিকশাওয়ালাকে কষ্ট করতে দেখে সে বলল, ‘একটু দাঁড়াও ভাই।’

    রিকশাওয়ালা থামলে সে নীচে নেমে বলল, ‘এখান থেকে স্কুল কত দূরে?’

    ‘দূর আছে।’

    ‘রাস্তাটা কি এরকম উঁচু-নীচু?’

    ‘না। আর একটু পরেই সমান রাস্তা পাওয়া যাবে।’

    ‘তাহলে সেই অবধি আমি হেঁটে যাচ্ছি, তুমি রিকশা নিয়ে চলো।’

    ‘আরে! আপনি হেঁটে যাবেন কেন?’ রিকশাভাড়া করে কেউ কি হেঁটে যায়?’

    ‘আমি যাব কারণ তোমাকে অত কষ্ট করা দেখতে চাই না।’

    ‘আপনি তো আজব লোক।’

    ‘কথা না বাড়িয়ে চলো।’

    ‘আপনি উঠে বসুন। এই রাস্তায় রোজ রিকশা চালাই। আমার অভ্যেস আছে।’

    ‘কেন কথা বাড়াচ্ছ?’ সুজয় হাঁটা শুরু করল।

    রিকশাওয়ালা বলল, ‘আপনার মতলবটা খুলে বলুন তো? ভাড়া কম দেবেন বলে কি হেঁটে যাচ্ছেন? তাহলে শুনুন, আমি ভাড়া কম নেব না।’

    সুজয় হেসে ফেলল, ‘না, যা ন্যায্য ভাড়া তাই তুমি পাবে।’

    রিকশাওয়ালা প্যাডেলে চাপ দিল, যদিও তার মুখ থেকে সন্দেহের ছাপ যাচ্ছিল না।

    সেক্রেটারির বাড়ি স্কুলের কাছে নয়। সেখানে পৌঁছে রিকশা ছেড়ে দিল সুজয়। লোকটা যা ভাড়া চাইল তাই দিল দরাদরি না করে। কাঠের গেট খুলে বাগান পেরিয়ে একতলার যে ঘরের দরজায় সুজয় পৌঁছল সেখানে চারজন মানুষ গল্প করছেন। তাকে দেখে একজন গলা তুলে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কী চাই?’

    ‘স্কুলের সেক্রেটারি এই বাড়িতে থাকেন?’

    ‘হ্যাঁ। থাকেন।’

    ‘তাঁর সঙ্গে একটু কথা বলতে চাই।’

    ‘বলে ফেলুন!’

    ‘আপনিই কি—?’

    ‘হ্যাঁ।’ মাথা নাড়লেন টাকমাথার ভদ্রলোক।

    ব্যাগ থেকে খামটা বের করে এগিয়ে ধরল সুজয়। সেটি নিয়ে ভেতরের কাগজ বের করে চোখ বুলিয়ে নিয়ে সেক্রেটারি চাপা গলায় বললেন, ‘তোমার মেয়ের কপাল পুড়ল নন্দলাল।’

    ‘মানে?’ পাশে বসা নাদুসনুদুস লোকটির কপালে ভাঁজ পড়ল।

    ‘ডেপুটেশন ভ্যাকেন্সির মেয়াদ শেষ হয়ে গেল। আজ যখন এসেছে তখন আজকের মাইনেটাও ওকে দেওয়া হবে।’ বলে সেক্রেটারি সুজয়ের দিকে তাকালেন, ‘এখন কি সরাসরি কলকাতা থেকে আসা হচ্ছে?’

    ‘আজ্ঞে হ্যাঁ।’

    ‘কথাটা সত্যি বলে মনে হচ্ছে না। অতদূর থেকে ট্রেনে এলে জামাকাপড়ে তার ছাপ পড়বেই। নোংরা হবেই। আপনি তো সবে পাটভাঙা পরেছেন।’

    ‘আপনি ঠিক বলেছেন। এখানে নেমে একটি কিশোরের সঙ্গে আলাপ হয়েছিল। সে যখন জানল আমি আপনার সঙ্গে দেখা করতে এসেছি তখন বলল ওই পোশাক দেখলে আপনি বিরক্ত হবেন। ওদের বাড়িতেই একটু পরিষ্কার হয়ে পোশাক বদলে নিয়েছি।’ সুজয় নরম গলায় বলল।

    ‘অদ্ভুত তো! প্রথম আলাপেই বাড়িতে নিয়ে গিয়ে—, ছেলেটির বাবার নাম কী?’

    ‘ওর বাবার নাম জানি না কিন্তু ওর দাদু ডাক্তার। চৌমাথায় চেম্বার—!’

    ‘ডাক্তার বনবিহারীর নাতি সে?’

    ‘হ্যাঁ।’

    ‘বুঝলাম। ঠিক আছে, আপনি স্কুলে গিয়ে হেডমাস্টারের সঙ্গে দেখা করুন। কবে থেকে জয়েন করতে পারবেন?’

    ‘যদি বলেন আজ থেকে তাতেও অসুবিধে নেই।’

    পকেট থেকে কলম বের করে সুজয়ের দেওয়া চিঠির এককোণে নাম সই করে দিয়ে ওটা ফেরত দিলেন সেক্রেটারি, ‘আমাদের এখানে চেনাজানা কেউ আছে?’

    ‘আজ্ঞে না।’

    ‘এই যে হুট করে চলে এলেন, থাকবেন কোথায়?’

    ‘না এসে উপায় ছিল না। চাকরিটা খুব দরকার। এখানে কি মেস আছে?’

    ‘আমার অন্তত জানা নেই। দেখুন। যান স্কুলে।’

    বাইরে বেরিয়ে আসতে কানে এল, ‘লোকটা জেনুইন কিনা যাচাই করলেন না?’

    ‘চিঠিটা জাল নয়। লোকটা যদি জাল হয় তাহলে আজ নয় কাল ধরা পড়বেই।’

    সুজয় বাইরে এসে দেখল রিকশাওয়ালাটা দাঁড়িয়ে আছে। তাকে দেখে সোজা হয়ে বলল, ‘চলুন।’

    সুজয় জিজ্ঞাসা করল, ‘আমি যে রিকশায় যাব তা জানলে কী করে? এখান থেকে স্কুলের পথটুকু আমি হেঁটেই যেতে পারব।’

    ‘না বাবু, ওই দুটো বোঝা নিয়ে হাঁটবেন কেন? আপনাকে ভাড়া দিতে হবে না, আমি পৌঁছিয়ে দিচ্ছি।’

    ‘তুমি বলছ বটে কিন্তু পৌঁছে ভাড়া চাইলে মুশকিলে পড়ব। আমার কাছে বেশি টাকা নেই।’ সুজয় রিকশায় উঠল।

    হেডমাস্টারমশাই তার আপাদমস্তক দেখে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘এর আগে কোথায় পড়িয়েছেন? অভিজ্ঞতা আছে?’

    ‘আজ্ঞে না। কিন্তু কোনও অসুবিধে হবে না।’

    ‘অ। আত্মবিশ্বাস থাকা ভালো তবে বাড়াবাড়িটা ভালো নয়। একটা সাইকেল চালাতে চাইলে প্র্যাকটিস করতে হয়, কয়েকবার আছাড়ও খায় লোকে। ঠিক আছে, কাল সকালে জয়েন করবেন। স্কুল শুরু হয় এগারোটায়, ‘আপনি সাড়ে দশটার মধ্যে আসবেন। কাগজপত্র তৈরি রাখা হবে।’ হেডমাস্টার বললেন।

    ‘এখানে কোনও মেস নেই?’

    ‘মেস? নাঃ।’ মাথা নাড়লেন হেডমাস্টারমশাই।

    বাইরে বেরিয়ে এসে সুজয় দেখল রিকশাওয়ালাটা চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। কাছে যাওয়ামাত্র লোকটা জিজ্ঞাসা করল, ‘কোথায় যাবেন বাবু?’

    ‘সেটাই তো ভেবে পাচ্ছি না। এখানে কোনও মেস নেই যে গিয়ে কথা বলব। আচ্ছা, এখানে নিশ্চয়ই ঘর ভাড়া পাওয়া যায়, ভাড়া কীরকম জানো?’ সুজয় জিজ্ঞাসা করল।

    ‘বাবুদের বাড়ির ভাড়া হাজার-দু-হাজার, আমাদের ওখানে দেড়-দুশো টাকায় ঘর পাওয়া যায়।’

    ‘দেড়শো-দুশো?’

    প্রশ্ন শুনে মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলল লোকটা।

    ‘কীরকম ঘর?’

    ‘চিনের চাল, বাখারির দেওয়াল, ভালো। আড়াইশো দিলে সিমেন্টের মেঝে পাবেন। কিন্তু কল-পায়খানা একসঙ্গে। আপনি গিয়ে দেখতে পারেন।’

    ‘চলো।’ সুজয় মালপত্র নিয়ে রিকশায় উঠল। আপাতত মাথা গোঁজার একটা আস্তানা দরকার। লোকটা যে ভাড়ার কথা বলল তাতে ঘরের চেহারা কী হবে ভগবান জানে। ওখানে ক’দিন থাকলে স্কুলের সহকর্মীদের সঙ্গে পরিচয় হয়ে যাওয়ার পর নিশ্চয়ই একটা ভালো ব্যবস্থা হয়ে যাবে।

    রিকশা ক্রমশ বাজার এলাকা ছেড়ে নির্জন পথ ধরল। ক্রমশ ফাঁকা মাঠ আর ছোট ছোট পুকুর পেরিয়ে পাহাড়ের দিকে এগিয়ে বাঁক নিতেই বেশ কয়েকটা ঘর দেখতে পেল। চেহারার সঙ্গে কলোনির খুব মিল। একটা বাড়ির সামনে রিকশা দাঁড় করিয়ে লোকটা বলল, ‘একটু বসুন, আমি গিয়ে কথা বলি।’

    লোকটা সামনের দরজা দিয়ে না ঢুকে বাড়ির পাশ দিয়ে চোখের আড়ালে গেল। সুজয় দেখল গোটা পাঁচেক শিশু বালক দূরে দাঁড়িয়ে অবাক চোখে তাকে দেখছে। ওদের একজন ছুটে ভেতরে চলে যাওয়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই দুজন মাঝবয়সি মহিলা দৌড়ে এসে একটু আড়ালে থেকে তাকে দেখতে লাগলেন।

    রিকশাওয়ালা ফিরে এল, ‘বাবু, আপনার সঙ্গে মা-বউ কেউ থাকবে তো?’

    ‘মানে?’ হকচকিয়ে গেল সুজয়।

    ‘বুড়োবুড়ি আইবুড়ো ছেলেকে একা ঘর দেবে না। আমি তাই বলে এলাম আপনি একা থাকবেন না, ওঁরাও থাকবেন। আসুন।’

    রিকশাওয়ালা মালপত্র নিয়ে বাড়ির পাশ দিয়ে একটা উঠোনমতো জায়গায় তাকে নিয়ে এল, ‘এই যে কাকা, কথা বলুন।’

    ‘ও কী কথা বলবে? যা বলার আমি বলব। ঘর চাইছেন?’ বুড়ির বয়স অনুমান করা যাচ্ছে না। কথায় নাকিস্বর মেশানো। সুজয় বলল, ‘হ্যাঁ। কিন্তু আমাকে আপনি বলবেন না। আমি বয়সে অনেক ছোট।’

    ‘অ। তা নাম কী? পুরো নাম বলো!’

    ‘সুজয় সেনগুপ্ত।’

    ‘সেনগুপ্ত? তার মানে বদ্যি বামুন। শুনলাম ইস্কুলে পড়াতে এসেছ?’

    ‘হ্যাঁ। নতুন চাকরি পেয়ে আজই এখানে এসেছি।’

    ‘এর আগে চাকরি করতে না?’

    ‘আজ্ঞে না।’

    ‘সে কী! বেকার অবস্থায় বে-থা করেছ?’

    ‘না, না। আমি, মানে, আমার বিয়ে হয়নি।’

    ‘তাই বলো। তাহলে তোমার সঙ্গে থাকবে কে? আমরা তো কোনও ব্যাটাছেলেকে একলা থাকলে ভাড়া দেব না!’ ঘনঘন মাথা নাড়তে লাগলেন বৃদ্ধা।

    ‘আহা, কাকিমা, উনি একা থাকবেন কেন? ওঁর মা আসবেন।’ রিকশাওয়ালা বলল।

    ‘তাই বলো। তা ভাড়ার কথাটা ওকে বলেছ?’ বলেই স্বামীর দিকে তাকালেন। ঘরের দাওয়ায় হাঁটুর ওপর চিবুক রেখে কথাবার্তা শুনছিলেন বৃদ্ধ, মুখ তুললেন।

    ‘টাকাপয়সার ব্যাপারটা ছেলেদের বলা উচিত।’

    ‘দুটো ঘর খালি আছে। একটা দুশো, আর একটা আড়াইশো। ইলেকট্রিক নিলে আলো প্রতি দশ টাকা, ফ্যান চালালে কুড়ি টাকা। তো হল গিয়ে দুশো তিরিশ কিংবা দুশো আশি।’ বৃদ্ধ ঘোষণা করলেন।

    বৃদ্ধা বললেন, ‘ঘর দেখে নাও। দরজা খোলাই আছে।’

    রিকশাওয়ালা তাকে মেঝেতে সিমেন্ট করা ঘরে নিয়ে গেল। বেশ পরিষ্কার ঘর। একটা খাটিয়া আর টেবিল-চেয়ার রয়েছে। চার-চারটে বাখারির জানলা। রিকশাওয়ালা বলল, ‘দুশোরটা এর কাছে আসে না। এটাই নিয়ে নিন।’

    ‘এখন কত দিতে হবে?’

    ‘ওই তো, একমাসের অগ্রিম ভাড়া আর একমাসের জমা। তার মানে পাঁচশো। আলো-পাখার জন্যে এখন দিতে হবে না।’

    সুজয় ঢোঁক গিলল। আগামীকাল স্কুলে জয়েন করে সামনের মাসের মাইনে থেকে অগ্রিম টাকা চাইলে হেডমাস্টার দেবে কিনা তাতে সন্দেহ আছে। আজ লোকটির কথাবার্তা মোটেই ভালো লাগেনি তার।

    সে রিকশাওয়ালার সঙ্গে বাইরে এসে বৃদ্ধ-বৃদ্ধার সামনে গিয়ে দাঁড়াল, ‘ওই আড়াইশো টাকারটাই নেব। কিন্তু, আজ নয় আমি কাল থেকে এখানে থাকব।’

    বৃদ্ধা জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কাল থেকে কেন?’

    ‘কাল থেকে স্কুলের চাকরি শুরু হবে। শুরু না করলে তো অ্যাডভান্স পাব না। ঢোকার সময় আপনাদের তো পাঁচশো টাকা দিতে হবে।’

    বৃদ্ধ ক্যাটকেটে গলায় জিজ্ঞাসা করলেন, ‘পকেটে কিছু নিয়ে আসোনি?’

    ‘থাকলে নিয়ে আসতাম। আমি কাল স্কুল ছুটির পর আসব।’ সুজয় তার ব্যাগের দিকে তাকাল, ‘এটা এখানে রেখে যেতে পারি?’

    বৃদ্ধা মাথা নাড়লেন, ‘রেখে যেতে হবে না। থেকেই যাও। তবে আজ থেকে নয়, কাল থেকে তোমাকে ভাড়াটে বলে ভাবব।’

    মালপত্র ঘরে ঢুকিয়ে রিকশাওয়ালা বলল, ‘বাঁদিক দিয়ে গেলে দশ মিনিট হাঁটলেই চৌমাথায় পৌঁছে যাবেন। সেখানে একটাই ভাতের হোটেল আছে। আপনাকে তো চাল-ডাল-আলু-পেঁয়াজের সঙ্গে একটা জনতা স্টোভ কিনতে হবে। ওই চৌমাথার দোকানেই সব পেয়ে যাবেন। সঙ্গে একটা হ্যারিকেন নেবেন। আর হ্যাঁ, ওসব জ্বালাতে যে কেরাসিন দরকার হবে তা কাকিমাকে বললে পেয়ে যাবেন।’

    ‘কী করে?’

    ‘এই কলোনির একজন কেরাসিন বিক্রি করে, বললেই ঘরে দিয়ে যাবে।’

    ‘তোমার ভাড়াটা নাও।’ পকেটে হাত ঢোকাল সুজয়।

    ‘নেব। মাইনে পান, হাতে টাকা আসুক তখন চেয়ে নেব।’ রিকশাওয়ালা চলে গেল।

    স্নান কুয়োর জলে, জায়গাটা ঘেরা। পাশেই পায়খানা। সারাদিনে একবারই যেতে হবে। এ নিয়ে মনে অসন্তোষ রাখার কোনও মানে হয় না।

    বৃদ্ধ-বৃদ্ধা একইভাবে বারান্দায় বসেছিলেন। বৃদ্ধা চেঁচিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘সঙ্গে তালা আছে? যদিও এখানে চুরিচামারি হয় না তবু সাবধানের মার নেই।’

    ‘এখন খোলা থাক। ফেরার সময় নিয়ে আসব।’

    ‘অ। যাচ্ছ কোথায়?’

    ‘চৌমাথায়।’

    বৃদ্ধ বললেন, ‘খেতে যাচ্ছ বোধহয়। তাড়াতাড়ি যাও। দুটোর সময় ওই ভাতের হোটেল বন্ধ হয়ে যায়। আমাদের তো এবেলার খাওয়া হয়ে গেছে নইলে তোমাকে দু-মুঠো দেওয়া যেত। যাও।’

    বেরিয়ে আসতে আসতে কানে এল, বৃদ্ধা ধমক দিচ্ছেন, ‘বড্ড বাজে কথা বলো তুমি। কতবার বলেছি বেশি কথা বলবে না। বেশি বললেই বাজে কথা বলবে। ঘরে যে এবেলায় খাবার নেই তা ওকে বলার কি দরকার ছিল? অ্যাঁ?’

    সুজয় হেসে ফেলল।

    সাত টাকায় ডালভাত ভাজা এবং তরকারি হয়ে গেল। এই প্রথম সুজয় কোনও হোটেলওয়ালাকে বলতে শুনল, ‘নিরামিষ খেতে পারলে বসুন, মাছ-মাংস দিতে পারব না।’

    ‘কেন?’ বেঞ্চিতে বসে জিজ্ঞাসা করল সুজয়।

    ‘রুইমাছ দুটো পিস পড়ে আছে। ল্যাজা, তাও ভেঙে গেছে। মাংস শেষ। ওই মাছ নিজেরাই খেতে পারব না, খদ্দেরকে কেন দেব?’

    রান্না ভালো, বেশ তৃপ্তি করে খেয়ে নিল সুজয়। এখন দোকানে খদ্দের বলতে শুধু সে। ওদিকে ঝাঁপ বন্ধ হচ্ছে। বোঝাই যায় খুব কম খদ্দের এই দোকানে আসে।

    দাম দেওয়ার সময় সে জিজ্ঞাসা করল, ‘একার জন্যে থালা-বাসন, জনতা স্টোভ ইত্যাদি কিনব। দোকানটা কোথায়?’

    হোটেলওয়ালা বেশ চর্বিওয়ালা মানুষ। গেঞ্জি ভিজে শরীরের সঙ্গে সেঁটে গেছে। জিজ্ঞাসা করল, ‘এখানে নতুন মনে হচ্ছে!’

    ‘হ্যাঁ। আজই এসেছি।’

    ‘কী করা হয়?’

    ‘এখানে স্কুলে শিক্ষকতার চাকরি পেয়েছি।’

    ‘অ। উঠেছেন কোথায়?’

    ‘ওই ওপাশের কলোনিতে ঘর নিয়েছি।’

    হোটেলওয়ালার চোখ পিটপিট করল, ‘পুরো নামটা জানতে পারি?’

    ‘সুজয় সেনগুপ্ত।’

    ‘এত জায়গা থাকতে ওখানে কেন গেলেন! ওখানে বামুন, কায়েত, বদ্যি একঘরও পাবেন না। যাক গে, নিজে রান্না করে খাওয়ার কী দরকার, এখানে মাসচুক্তিতে খেলে পরিশ্রম বাঁচবে, খরচও বেশি হবে না।’

    ‘অতদূর থেকে রাতবিরেতে আসা, তারপর শুনেছি এখানে খুব বৃষ্টি হয়!’

    ‘তা হয়। রাতটা বাদ দিন। স্কুলে যাওয়ার পথে এখানে খেয়ে যেতে পারেন। নিরামিষ খেলে মাসে দুশো দশ হয়, আপনি একশো নব্বুই দেবেন। আমি নিজে বদ্যি বামুন বলে আপনাকে এত কথা বলছি।’ টাকা নিলেন হোটেলওয়ালা।

    রাস্তায় দাঁড়িয়ে হাসল সুজয়। ছেলেবেলা থেকে কথাটা সে শুনে আসছে। বদ্যিকে বদ্যি না দেখিলে দেখিবে কে? যিনি চাকরি দেবেন তিনি যদি দেখেন আবেদনকারীদের মধ্যে বদ্যি আছেন তাহলে তাকে চাকরি দিতে যদি কিছু বেনিয়ম কাজ করতে হয় তাও করবেন। অথচ তার এত দুর্ভাগ্য আজ পর্যন্ত কোনও বদ্যি ব্রাহ্মণের দেখা পায়নি যিনি উপকারের হাত বাড়িয়ে দেবেন। আজ দেখা হল। এক ধাক্কায় কুড়ি টাকা কমে গেল সেই কারণে।

    জিনিসপত্র যা দরকার তার সবটা কেনা হওয়ার আগেই পকেটের টাকা প্রায় শেষ হয়ে গেল। কাল যদি স্কুল থেকে অগ্রিম না পাওয়া যায় তাহলে—। নাঃ, কালকের কথা আজ ভাববে না সে।

    ঘরে ফিরে এসে খাটিয়ার ওপর বিছানা করে আরাম করে বসল সে। এইসময় বৃদ্ধার গলা শুনতে পেল, ‘এই নাও।’

    সে ঝটপট দরজা খুলে দেখল বৃদ্ধা এক হাতে একটা কুঁজো আর অন্য হাতে ছিপি আঁটা বোতল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। বললেন, ‘কুঁজো কিনে ফেরোনি দেখলাম। এটা পরিষ্কার, বাড়তি। কুয়ো থেকে জল ভরে নাও। গ্লাস কিনেছ?’

    মাথা নাড়ল সে, হ্যাঁ। বৃদ্ধা বললেন, ‘বেশ। আর এতে যে কেরাসিন আছে তাতে কাল অবধি চলে যাবে তোমার। যে লোক কেরাসিন বিক্রি করে সে আজ আসতে পারবে না। কাল ওর কাছ থেকে কিনে এই শিশিতে ফেরত দিও।’ বৃদ্ধা বস্তু দুটো বারান্দায় রেখে ফিরে গেলেন।

    আধঘণ্টা পরে চেয়ারে বসে টেবিলের ওপর ডায়েরি রেখে কলম বের করল সুজয়। ডায়েরির অর্ধেকটা ইতিমধ্যে ভরে গেছে। তারপরে আজকের তারিখ দিয়ে সে লেখা শুরু করল, পৃথিবীর অন্য দেশগুলোয় যেখানে বিপ্লব সম্ভব হয়েছে সেখানকার আবহাওয়া (প্রাকৃতিক নয়) নিশ্চয়ই বিপ্লবের অনুকূলে ছিল। নিষ্পেষিত হতে হতে যখন দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যায় তখন সামনের দিকে হাত আপনি উঠে যায়। বাঁচার জন্য মানুষ যখন মরিয়া হয় তখন তার হারাবার ভয়ডর থাকে না। একজন থেকে দশজন, দশ থেকে একশো, হাজার, লক্ষে তখন সেই মরিয়াভাব সংক্রামিত হয়, তখন তাকে কোনও পশুশক্তি দমন করতে পারে না।

    এসব তথ্য বই থেকে জানা। কিন্তু আমি জানি না সেইসব দেশের গরিব মানুষরা কীরকম জীবনযাপন করত। আবার ভারতবর্ষের বেশির ভাগ মানুষ জানে না তারা নিষ্পেষিত কিনা! তারা জানেই না কেউ তাদের শোষণ করছে কিনা! তারা নিজেদের মতো করে বাঁচার ব্যবস্থা করে নেয়। তাতেই ভালো থাকে। যার তেমন কিছু নেই সে আবেগে আক্রান্ত হয়ে তার চেয়ে নিঃস্বকে দান করে অনায়াসে।

    হঠাৎ বাইরে থেকে একটা গলা ভেসে এল, ‘আচ্ছা, নতুন মাস্টার কি এখানে থাকেন?’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅর্জুন সমগ্র ৫ – সমরেশ মজুমদার
    Next Article বুকের ঘরে বন্দি আগুন – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }