Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আগুনবেলা – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প575 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কাঠকয়লার আগুন – ৪

    চার

    ওপাশ থেকে বৃদ্ধার গলা ভেসে এল, ‘বললাম তো সে ওই ঘরে আছে। আমার কথা অবিশ্বাস করে আবার জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে, নতুন মাস্টার কি এখানে থাকেন?’

    পুরুষকণ্ঠ বলল, ‘না, না, অবিশ্বাস করব কেন? হুট করে ঘুরে ঢুকব তাই জানান দিলাম।’

    ‘ঘরে কোনও মেয়েছেলে নেই যে অত ভদ্রতা করবে। এই যে ভালো-মানুষের ছেলে, বেরিয়ে এসো। ঘরে ঢুকতে না ঢুকতেই লোক আসছে খোঁজ করতে।’ বৃদ্ধার গলা শুনতে পেল সুজয়। সে টেবিল ছেড়ে দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই হোটেলওয়ালাকে দেখতে পেল। দোকানে লুঙ্গি আর গেঞ্জি পরে ছিলেন। এখন ধুতি আর লংক্লথের পাঞ্জাবি যেটা চর্বি বৃদ্ধির কারণে শরীরে সেঁটে রয়েছে। সুজয় বলল, ‘আরে! আপনি? আসুন, আসুন।’

    ঘরে ঢুকে চেয়ারটাকে এগিয়ে দিল সে, ‘বসুন।’

    চেয়ারে বসে ভদ্রলোক বললেন, ‘ঘরটি মন্দ নয়। তবে—। যাক গে আমার পরিচয় দেওয়া হয়নি দুপুরবেলায়। আমার নাম সদানন্দ দত্তগুপ্ত। ভাগ্যান্বেষণে বাবা এসেছিলেন হাওড়া থেকে এখানে। ভালো নাম লোকে ভুলে গেছে, সদুবাবুর হোটেল বললে একশো মাইলের মধ্যে সবাই চেনে। হোটেলের খ্যাতি বাড়ে ভালো রাঁধুনি থাকলে আর বাসি খাবার না খাওয়ালে। ওই কর্মটি আমি কখনই করি না। চিংড়ি, ইলিশ, চেতল ইত্যাদি দামি মাছ হলে আমি নিজে হেঁসেলে ঢুকি। লোকে খেয়ে সুখ্যাতি করে।’ হাসলেন সদানন্দবাবু।

    ‘বলুন এত কষ্ট করে কেন আসতে হল?’

    ‘আর আপনি বলতে পারছি না। বয়সে অনেক ছোট, তুমি বলছি ভাই!’

    ‘নিশ্চয়ই! আপনি তো আমার বাবার বয়সি।’

    ‘তাই? বাঃ। সুখের কথা।’ মাথা নাড়লেন সদানন্দ, ‘আজ খুব বকুনি খেয়েছি ভাই!’

    অবাক হল সুজয়! সেটা লক্ষ করে সদানন্দ বললেন, ‘তুমিই ছিলে আজ দুপুরের শেষ খদ্দের। হোটেল বন্ধ করে বাড়ি গিয়ে স্নান সেরে খেতে বসে তোমার কথা বলেছি গিন্নিকে। নতুন মাস্টারিতে এসেছ, রোজ সকালে স্কুলে যাওয়ার পথে হোটেল থেকে দুটো ভাত খেয়ে যাবে। এখানে আমাদের জাতের কেউ নেই, তুমিই দ্বিতীয় হলে। ব্যস, শোনামাত্র ফোঁস করে উঠল, ‘তুমি ছেলেটার কাছে দাম নিলে?’ যত বলি দাম নিয়েছি নাম শোনার আগে। তা ছাড়া খদ্দেরের কাছ থেকে দাম নিয়ে কি অপরাধ করেছি?’ তা সে কী বলল জানো? বলল, এইজন্যেই লোকে তোমাকে সদানন্দ দত্তগুপ্ত না বলে সদু হোটেলওয়ালা বলে। হরির কাছে সব শুনেছি। খেয়েছে তো নিরামিষ। মাস্টার বলে কথা, প্রথম দিন এল, একটু খাতির করবে না?’

    ‘হরি কে?’

    ‘তাঁর খোচ। হাতাও বলতে পারো। হোটেলে কখন কী হচ্ছে তার সব সে বাড়ি গিয়ে লাগায়। কতবার ভেবেছি ছাড়িয়ে দেব, শুধু অশান্তির ভয়ে দিইনি। তা নতুন মাস্টার, দয়া করে যে দামটা দিয়েছ তা ফেরত নিয়ে আমাকে উদ্ধার করো।’ পকেট থেকে টাকা আর খুচরো বের করতে চেষ্টা করলেন সদানন্দবাবু।

    ‘ছি, ছি, এ কী করছেন!’

    ‘ফেরত দেওয়ার জন্যে সে-ই আমাকে পাঠিয়েছে।’

    ‘বুঝতে পারছি। আপনি ফেরত দিলেন, আমিও নিয়ে নিলাম।’

    ‘মানে?’

    ‘উনি তাই জানবেন।’

    ‘কিন্তু এ তো মিথ্যে কথা।’

    ‘একটু ঘুরিয়ে বলবেন যুধিষ্ঠিরের মতো।’

    ‘বলবেন, নিতে চাইছিল না কিছুতেই, কেরোসিন কিনছিল, তার দামটা দিয়ে দিলাম।’

    ‘কেরোসিন?’ সদানন্দ হতভম্ব, ‘ভাতের দাম যা দিয়েছ তাতে তো কেরোসিন কেনা যাবে না। এক বোতলের দাম—!’

    ‘আহা আপনাকে দাম দিতে কে বলেছে। আপনি বলবেন কিনে দিয়েছেন। ব্যস!’

    ‘তোমার কেরোসিন লাগবে?’

    ‘লাগবে না? স্টোভ কিনে এনেছি। জ্বালব কী করে?’

    ‘তা বটে। বাড়ি কোথায়?’

    ‘কলকাতায়।’

    ‘সংসারে কে কে আছেন?’

    ‘মা, বাবা, ভাই, দাদা।’

    ‘দাদার নামটা ভাইয়ের পরে বললে কেন?’

    ‘আমরা কেউ কাউকে পছন্দ করি না। তাই।’

    ‘কেন?’

    ‘উত্তর দিতে হলে ব্যক্তিগত কথা বলতে হবে।’

    ‘অ।’ সদানন্দ এবার সরাসরি জিজ্ঞাসা করলেন, ‘বিয়ে করেছ?’

    ‘পাগল!’

    ‘হু! শোনো, এই জায়গাটা তোমার স্কুল থেকে বেশ দূরে। এখন যে আবহাওয়া দেখছ তা কিছুদিনের মধ্যেই বদলে যাবে। শীতের সময় আর বর্ষার সময় রাস্তায় কুকুর দেখা যায় না। কয়েকটা বাঁধা খদ্দের আছে বলে আমি বেঁচে আছি। সে সময় এখানে থাকলে তুমি সমস্যায় পড়ে যাবে।’

    ‘খুব ঠান্ডা পড়ে?’

    ‘মারাত্মক। হাত-পায়ের চামড়া ফেটে যায়।’ সদানন্দ বললেন, ‘বর্ষার সময়ে একবার বৃষ্টি শুরু হলে সাতদিন চলে। কী তার দাপট! তা ছাড়া এখানে আর একটা কারণে থাকা ঠিক হবে না।’

    ‘বলুন।’

    ‘দুপুরে বলেছিলাম এখানে বামুন, কায়েত, বদ্যি একজনও খুঁজে পাবে না। এই কলোনির সবাই নীচের শ্রেণির মানুষ। অবশ্য চাকরির বাজারে এরা অনেক বেশি সুযোগসুবিধে পাচ্ছে। কিন্তু তুমি এখানে থাকলে লোকে বলবে নাম ভাঁড়িয়ে আছ। তোমার পদবি সেনগুপ্ত নয়।’

    ‘বলে বলুক, আমি ওসব কেয়ার করি না।’

    ‘আজ করছ না, কাল করবে। যেমন স্কুলের সব মাস্টার প্রাইভেট টিউশুনি করেন, কোচিং ক্লাস করেন। তাতে মোটা রোজগার হয়। এখানে থাকলে তোমার সম্পর্কে সন্দেহ হবেই। তখন দেখবে কেউ তোমাকে ছাত্র পড়াতে ডাকছে না।’

    ‘কেন?’

    ‘নীচু জাতের মাস্টারের কাছে ছেলেমেয়েকে দেবে না।’

    ‘আশ্চর্য! স্কুলের খাতায় তো আমার পদবি লেখা থাকবে।’

    ‘কে দেখতে যাচ্ছে। তা ছাড়া কোর্টে গিয়ে তো পদবি বদলানো যায়। পি ডব্লু ডি-তে দত্ত বলে একটা লোক কাজ করত। তার সিডিউল কাস্ট সার্টিফিকেট থাকায় তাড়াতাড়ি প্রমোশন হয়ে গেল। তার মানে ওর আসল পদবি অন্য ছিল। যাক গে, তোমার ভালো হবে যদি আমাদের ওদিকে ঘর ভাড়া নাও।’ সদানন্দ বললেন।

    ‘ওদিকে ঘর পাওয়া যাবে?’

    ‘খোঁজ করেছ?’

    ‘না। তবে রিকশাওয়ালা বলেছে দু-হাজারের নীচে পাওয়া যায় না।’

    ‘তোমার তো বড় বাড়ির দরকার নেই। একটা কি দুটো ঘর হলেই চলে যাবে। তাই তো?’

    ‘একটাতেই হয়ে যাবে।’

    ‘না। তোমার আত্মীয়স্বজন এলে কি রাস্তায় থাকবে? মনে হচ্ছে আমাদের পাড়াতেই ওরকম দুটো ঘর পেয়ে যাবে। তবে একটা মুশকিল, তোমার সঙ্গে কোনও মহিলা নেই।’

    ‘মহিলা না থাকলে আমি বদলোক হয়ে যাব?’

    ‘লোকে ভরসা পায় না। বিশেষ করে যে বাড়িতে মহিলারা আছেন।’

    ‘তাহলে আর ভেবে লাভ কী!’

    ‘কোনও লাভ হত না যদি শুধু আমি ভাবতাম। চলো!’

    ‘যাব? কোথায়?’

    ‘ঘর দেখতে। আহা, তোমার ভালোর জন্যে বলছি!’

    বিন্দুমাত্র ইচ্ছে ছিল না তবু যেতে হল।

    ওপাশে মূলবাড়ি। তার গায়ে বাগান। বাগানের একপ্রান্তে দুটো ঘর, বাথরুম, টয়লেট এবং ছোট রান্নার ঘর। সবচেয়ে সুবিধে হল বাড়িতে ঢোকার পথ দুটো। একটা ওপাশের রাস্তা দিয়ে বড়বাড়ির পাশ দিয়ে বাগান পেরিয়ে এই বাড়িতে আসা, নয়তো সরাসরি দরজা খুলে এপাশের রাস্তায় পা দেওয়া।

    সদানন্দ জিজ্ঞাসা করলেন, ‘পছন্দ হল?’

    ‘পছন্দ হলেই তো চলবে না, ভাড়াটা কত তার ওপর নির্ভর করছে।’

    ‘হাজারখানেক পারবে?’

    ‘দেখুন, হাতে পাব বড়জোর হাজার সাতেক।’

    ‘তাতে কী হয়েছে। খাটলে আরও সাত টিউশুনি, কোচিং থেকে পাবে।’

    ‘হুঁ। কয় মাসের অ্যাডভান্স দিতে হবে? আমার কাছে কিন্তু এই মুহূর্তে কিছু নেই।’

    ‘তুমি তো আশ্চর্য ছেলে। সব ব্যাপারে হাত তুলে বসে আছ!’

    ‘যা সত্যি তাই বললাম। যেখানে আছি তাঁদের বলেছি কাল স্কুলে জয়েন করে অ্যাডভান্স নিয়ে টাকা দেব।’

    ‘ও। তাই এখানে দিও।’

    ‘সেটা নির্ভর করছে কত টাকা স্কুল অ্যাডভান্স দেয়, তার ওপর।’

    ‘আমার মাথা খারাপ করে দেবে তুমি। যাক গে, মালপত্র নিয়ে এসো।’

    ‘বাড়িওয়ালার সঙ্গে কথা বলুন আগে।’

    ‘বাড়িওয়ালা বলে কিছু নেই। এই বাড়ির শেষ কথা বলেন বাড়িওয়ালি। মানে আমার স্ত্রী। কিন্তু ওখানে রাত্রিবাস করলে তোমাকে মাসের ভাড়া দিয়ে আসতে হবে। আর কাল স্কুলে গিয়ে হেডমাস্টারের সামনে আমাকে কথা দেবে স্কুল থেকে টাকা পেলেই আমাকে ভাড়ার টাকা মিটিয়ে দেবে।’ সদানন্দ গম্ভীর গলায় বললেন।

    কলোনি থেকে জিনিসপত্র নিয়ে আসার সময় অবাক হল সুজয়। ভেবেছিল বাধা পাবে, খুব ঝগড়াঝাঁটি হবে। পাড়ার লোকজন ভিড় করে আসবে। কিন্তু ঘর লাগবে না শুনে বৃদ্ধ বললেন, ‘বেশ তো, বাঁচালে, চলে যাও।’

    বৃদ্ধা বললেন, ‘বাঁচা মানে বুক থেকে পাথর নেমে যাওয়া। আইবুড়ো ব্যাটাছেলে নাকের ডগায় থাকলে চিন্তায় ভালোভাবে ঘুমাতে পারতাম না।’

    সন্ধের মুখে বনবিহারী চেম্বারে ছিলেন। নন্দলালবাবু উদ্বিগ্ন মুখে তাঁর কাছে এলেন। ‘আপনাকে একবার বাড়িতে যেতে হবে ডাক্তারবাবু।’

    বনবিহারী একজনের প্রেসক্রিপশন দেখছিলেন, জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কেন? কী হয়েছে?’

    ‘আর বলবেন না! আমার মেয়ে স্কুলে পড়াচ্ছিল এতদিন। ডেপুটেশন ভ্যাকেন্সিতে। খুব ভালো পড়াচ্ছিল, সুনামও হয়েছিল বেশ।’

    ‘জানি, দেখেছি তাকে।’

    ‘তা আজ হঠাৎ আকাশ ফুঁড়ে একজন নতুন মাস্টার এসে হাজির হয়েছে সরকারি চিঠি নিয়ে, তাকে চাকরি দেওয়া হয়েছে। ফলে মেয়ের চাকরি খতম। এটা শোনামাত্র মেয়ে সেই যে বিছানায় শুয়ে চোখ বন্ধ করেছে আর চোখ খোলেনি। বার বার দাঁতে দাঁত লেগে যাচ্ছে। বুঝতেই পারছেন ওর মা খুব ভয় পেয়ে গেছেন।’ নন্দলালবাবু বললেন।

    ‘সে কী!’

    ‘আর আমাদের সেক্রেটারি সাহেবের কাণ্ড দেখুন, চিঠি দেখে লোকটাকে পাঠিয়ে দিলেন হেডমাস্টারের কাছে। লোকটা জাল কিনা তার খোঁজখবর করলেনই না। বললেন, জাল হলে পরে ধরা পড়বেই। বুঝুন। যাচাই করা পর্যন্ত ছেলেটা যদি অপেক্ষা করত তাহলে আমার মেয়ের মনে ধাক্কাটা এভাবে লাগত না। ও হ্যাঁ, এই নতুন মাস্টার বলেছে আপনার বাড়ি থেকে পোশাক বদলে এসেছে।’

    ‘আমার বাড়ি থেকে?’ অবাক হয়ে তাকালেন বনবিহারী।

    ‘তাই তো বলল। সত্য-মিথ্যা জানি না। কিন্তু সত্য হলে আপনি জানতেন, তাই না? আপনার মুখ দেখে মনে হচ্ছে খবরটা এই প্রথম শুনলেন?’

    ‘হ্যাঁ। বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞাসা করতে হবে।’

    ‘ওঃ। তাহলে চলুন—।’

    ‘আমার যাওয়া না যাওয়াতে কোনও তফাত হবে না নন্দলালবাবু। ও মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ায় এমনটা হয়েছে। জোর করে তুলে খাওয়াদাওয়া করতে বলুন। একটা ওষুধ লিখে দিচ্ছি, খাইয়ে দেবেন।’

    ‘আপনি গেলে ভালো হত।’ নন্দলালবাবু হাল ছাড়ছিলেন না।

    হেসে ফেললেন বনবিহারী। তারপর বললেন, ‘আপনার মানসিক শান্তির জন্যে আমাকে যেতে হচ্ছে।’

    রিকশায় চেপে নন্দলালবাবুর বাড়িতে গিয়ে দেখলেন তাঁর মেয়ে বিছানায় উঠে বসেছে। পাশে চেয়ার টেনে বললেন বনবিহারী, ‘কী হয়েছে মা?’

    মুখ নামাল মেয়ে। কোনও কথা বলল না।

    ‘জীবনে চড়াই-উৎরাই সবসময় আছে। মেঘ দেখে ভেবো না সব অন্ধকার হয়ে গেল, মনে রেখো ওই মেঘের আড়ালে সূর্য রয়েছে। তুমি তো জানতে ডেপুটেশন ভ্যাকেন্সিতে ঢুকছ। ভ্যাকেন্সিটা তিন মাস হতে পারে আবার নয় মাসও। এটা তোমার তো অজানা ছিল না। আমি বলছি এবার পাকা চাকরি পেয়ে যাবে তুমি। আমরা সবাই চেষ্টা করব তোমার জন্যে।’

    ‘কিন্তু—, আমি এখন কী করব?’

    ‘টিউশুনি করবে। কোচিং স্কুলে গিয়ে কোচ করবে! তার ব্যবস্থা হয়ে যাবে।’

    ‘আমার চাকরি খুব দরকার।’ দুর্বল গলায় বলল মেয়ে। বনবিহারীর ইশারায় মেয়ের বাবা-মা ঘর থেকে বেরিয়ে গেলে কথাটা ভাঙল মেয়ে। সে বাকি জীবনটা অবিবাহিতা থাকতে চায়। কারও ওপর নির্ভর করবে না। সেকারণে একটা চাকরির খুব প্রয়োজন।

    বনবিহারী অবাক হলেন, ‘কেন মা? স্রোতের বিপরীতে যাওয়ার ইচ্ছে কেন? সব মেয়েই তো চায় বিয়ে করে স্বামীর সংসারে গিয়ে ছেলেমেয়ের মা হতে!’

    ‘আমার পক্ষে সেটা সম্ভব নয়। মরে গেলেও নয়। চাকরি না থাকলে বাবা জোর করবেন বিয়ে করতে। পয়সা না থাকলে তখন কোথায় যাব আমি?’

    ‘ঠিক কথা। আমাকে যখন এসব কথা বললে তখন কিছুদিন সময় দাও। একটা কিছু ব্যবস্থা করতে পারি কিনা দেখি।’

    ডাক্তার বনবিহারী পেশেন্ট দেখার জন্যে এখন কোনও টাকা নিলেন না। বাইরে বেরিয়ে এসে নন্দলালবাবুকে বললেন, ‘ওকে কিছুদিন বিয়ে-থা-র কথা বলবেন না। থাক না।’

    রাত্রে বাড়ি ফিরে এসে জামাকাপড় ছেড়ে কালীচরণকে ডাকলেন, ‘সন্তান কোথায়?’

    ‘পড়ছে।’

    ‘কে এসেছিল আজ?’

    ‘কে? ও, এখানে মাস্টারি করতে এসেছেন একজন, ভালোমানুষ।’

    ‘চেনো?’

    ‘না। আজই প্রথম দেখলাম।’

    ‘তাতেই মনে হল ভালো মানুষ? কীভাবে এল?’

    ‘খোকন, এই রে, সন্তান নিয়ে এসেছিল।’

    ‘এই রে মানে?’ অবাক হলেন বনবিহারী।

    ‘সে আমাকে নিষেধ করেছে খোকন বলে ডাকতে।’

    ‘হুঁ। তা লোকটার সঙ্গে ওর পরিচয় কী করে হল? আর সে নিয়ে এল বলে তাকে বাড়ির ভেতর ঢুকতে দিলে? চোর-ডাকাত কিনা জানতে?’

    ‘আমি তো আপত্তি করেছিলাম। সন্তান জোর করতে আমি বলেছিলাম বাইরের ঘরে গিয়ে জামা বদলে নিতে। বলেছিলাম, উটকো লোকের তো কত বদ মতলব থাকতে পারে। তাতে সে বলল, আমার মন ভালো না বলে সবাইকে খারাপ ভাবি। লোকটা এখান থেকে পাজামা-পাঞ্জাবি কেচে চা খেয়ে স্কুলে গেল।’ কালীচরণ বলল।

    রাত্রের খাবার খেতে খেতে বনবিহারী সন্তানকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘নতুন মাস্টারের সঙ্গে কোথায় দেখা হল তোমার?’

    ‘জঙ্গলের দিকের রাস্তায়। ভুল করে বাস থেকে নেমে পড়েছিলেন।’

    ‘তাঁকে বাড়িতে আনলে কেন?’

    ‘ওঁর জামাকাপড় খুব ময়লা হয়ে গিয়েছিল। জার্নি করে আসলে যেমন হয়। ওই পোশাকে গেলে স্কুলের সেক্রেটারি খুব অপছন্দ করতেন। তাই পালটে নিতে বলেছিলাম। উনি পোশাক কেচে নতুন পোশাক পরে গিয়েছেন।’

    ‘লোকটা যদি স্কুলমাস্টার না হয়ে ডাকাত হত?’

    ‘মানে?’

    ‘বাড়ির ভেতর ঢুকে সে যদি রিভলভার বের করে সব লুঠ করে নিয়ে যেত তাহলে তুমি তো কিছুই করতে পারতে না। এরপর কোনও অজানা মানুষকে গায়ে পড়ে সাহায্য করতে যেও না। ব্যাপারটা আমার খুব খারাপ লেগেছে।’ বনবিহারী বললেন।

    ‘বেশ। কিন্তু উনি সত্যি মাস্টার তো?’

    ‘সেটা দিনের বেলায় যাচাই করতে পারতে। করোনি কেন?’

    ‘আমি এখানকার স্কুল ছাড়ার পর বাজারের দিকে যাই না।’

    ‘কেন?’ অবাক হলেন বনবিহারী।

    ‘এখানে আমার সঙ্গে পড়ত এমন কয়েকটা ছেলে খুব টিজ করার চেষ্টা করে।’

    ‘তোমাকে টিজ করে? কেন?’

    ‘জানি না।’

    ‘কী বলে তারা?’

    ‘গুডি বয়! মা-বাপ নেই।’

    ‘ওরা মন্দ ছেলে তাই তোমাকে গুডি বয় বলে। তাতে উত্তেজিত হবে কেন?’

    ‘আমার মা বা বাবা নেই তাতে ওদের কী?’

    ‘ওদের সৌজন্যবোধ না থাকায় এসব বলে।’ দ্রুত খাওয়া শেষ করলেন বনবিহারী, ‘আমি উঠছি।’

    ‘একটা কথা তুমি আমাকে কখনওই স্পষ্ট করে বলো না—!’

    বনবিহারী জানেন সেই অস্বস্তিকর মুহূর্তটা আসছে। বেশ কয়েকবার যে প্রশ্ন সন্তান তাঁকে করেছে এখন তার জবাব দিতে হবে। যখন ওর বয়স কম ছিল তখন একটা কিছু বলে ম্যানেজ করেছেন।

    ‘খেয়ে নিয়ে হাত ধুয়ে আমার ঘরে এসো।’ বনবিহারী দাঁড়ালেন না।

    আধঘণ্টা চলে গেল তবু সন্তান এল না দেখে বেশ অবাক হলেন বনবিহারী। বয়স বাড়ছে, বেশিক্ষণ ট্রেনশন সহ্য করতে পারেন না। কেউ সমস্যায় পড়েছে দেখলে আগবাড়িয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে তাকে শান্ত করেন। পরে কীভাবে সমাধান করবেন ভেবে কূল পান না। আজ যেমন নন্দলালবাবুর মেয়েকে শান্ত করতে তাঁর ওপর ভরসা রাখতে বলে এলেন কিন্তু ওকে একটা চাকরি পাইয়ে দেওয়ার ক্ষমতা তাঁর নেই। এখন যত দিন যাবে তত ট্রেনশন বাড়বে তাঁর। কী দরকার ছিল—!

    শেষ পর্যন্ত নিজের ঘর থেকে গলা তুলে বনবিহারী ডাকলেন, ‘সন্তান!’

    আধমিনিটের মধ্যে সন্তান এসে দাঁড়াল দরজায়।

    ‘তোমাকে এখানে আসতে বলেছিলাম—!’

    ‘হ্যাঁ। আমি একটা প্রশ্ন করেছিলাম বলে—, পরে মনে হল ওটা জিজ্ঞাসা করার কোনও মানে হয় না।’ সন্তান বলল।

    ‘কেন?’

    ‘কারণ তুমি উত্তর দিতে পারবে না। জানলেও পারবে না।’

    ‘বেশ। তবে জেনো, উত্তরটা যখন দেওয়ার সময় আসবে তখন আমি নিজেই দেব। তোমাকে জিজ্ঞাসা করতে হবে না।’

    ‘বেশ। শুধু একটা কথা জিজ্ঞাসা করছি, ওঁদের ঠিকানা কি তুমি জানো?’

    ‘না। আমি জানি না।’

    ‘আমাদের ঠিকানা ওঁরা জানেন?’

    ‘বোধহয়।’

    সন্তান চলে গেল তার ঘরে। চুপচাপ বসে রইলেন বনবিহারী। মুখ ফুটে আজ বলতে পারলেন না, বলতে ইচ্ছে করল না, ওর বাবা পুলিশের গুলিতে মারা গিয়েছে। কোনওদিন তার দেখা পাওয়া যাবে না।

    কিন্তু ছেলেটার মুখের অভিব্যক্তি তাঁর ভালো লাগল না। অন্যরকম একটা অস্বস্তি আচমকা বুকে জন্ম নিল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅর্জুন সমগ্র ৫ – সমরেশ মজুমদার
    Next Article বুকের ঘরে বন্দি আগুন – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }