Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আগুনবেলা – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প575 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কাঠকয়লার আগুন – ৬

    ছয়

    রাতের অন্ধকারে আকাশটা কালো হয়ে গেল। তিরতিরিয়ে মেঘগুলো চারপাশ থেকে চুপিসাড়ে চলে এসে যেই পরস্পরকে জড়িয়ে ধরল অমনি বাতাসে হিম মিশল। মাটির বুক থেকে উঠে আসা শ্বাস সেই মেঘের দঙ্গলকে ছুঁতে চাইল। টিমলিং পাহাড়ের চুড়োর টানে সেই মেঘেরা জমাট হল এই ছোট্ট জনপদের ওপর। তারপর রাগি বাইসনের চেহারা নিয়ে পরস্পরকে এত আঘাত করতে লাগল যে আকাশে আগুন ঝলসাল। শব্দ বাজল ভয়ংকর। এবং তারপরেই বৃষ্টি নামল। যেন আকাশ ফুটো করে জলের ধারা ক্রমাগত নেমে আসছিল আজকের মাঝরাতে।

    মেঘের আওয়াজে ঘুম ভেঙেছিল বনবিহারীর। ভাবলেন ভুল শুনেছেন। বাড়ি ফেরার সময়েও তো মনে হয়নি আকাশে মেঘ রয়েছে। অবশ্য তিনি মুখ তুলে আকাশ দেখেননি, অকারণে আকাশ দেখার কথাও নয়। তারপরেই বৃষ্টির আওয়াজ কানে আসতেই খাট থেকে নেমে জানলা বন্ধ করতে গেলেন। এখনও ঘরে ছাঁট আসছে না, কিন্তু আসবেই। ভাসিয়ে দেবে ক’দিন ধরে।

    দরজায় আওয়াজ হল। কালীচরণ ডাকছে। বনবিহারী দরজা খুললেন, দেখলেন লণ্ঠন হাতে কালীচরণ দাঁড়িয়ে, ‘জানলাটা বন্ধ করে দিতে হবে।’

    ‘দেব। কিন্তু হাতে লণ্ঠন কেন?’

    ‘লাইন চলে গিয়েছে।’

    ‘অ। সন্তানের ঘরে গিয়ে দ্যাখো—।’

    ‘আমি জানলা বন্ধ করে দিয়েছি।’

    ‘ঠিক আছে। ঘুমাতে যাও।’

    ‘লণ্ঠনটা এখানে রেখে যাচ্ছি। দরজা বন্ধ না করলেই ভালো।’

    ঠিক সেই সময় কোথাও বাজ পড়ল। শব্দটা এত জোরে এবং আকস্মিকভাবে হল যে চমকে উঠেছিলেন বনবিহারী! কালীচরণ আলো কমিয়ে লণ্ঠন নামিয়ে রাখতেই সন্তানের গলা শোনা গেল, ‘দাদু!’

    ‘বলো!’

    ‘আমি তোমার ঘরে শুতে পারি?’

    ‘এসো।’

    সন্তান দ্রুত বনবিহারীর ঘরে ঢুকে গেল। কালীচরণ চলে গেলে বনবিহারী ঘরে ঢুকে দেখলেন সন্তান খাটের ওপাশে দেওয়াল ঘেঁষে শুয়েছে। অর্থাৎ যথেষ্ট জায়গা রেখেছে তাঁর শোওয়ার জন্যে।

    বনবিহারী শুয়ে পড়লেন। পড়তেই মনে পড়ল জানলাটা বন্ধ করা হয়নি। সেদিকে তাকাতেই বিদ্যুতের ঝলসানি দেখতে পেলেন। এর একটা অন্যরকম সৌন্দর্য আছে। বুনো সৌন্দর্য। জল যখন ঘরে আসছে না তখন না হয় একটু অপেক্ষা করা যাক। একটু শীত-শীত ভাব ঘরে ছড়িয়েছে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ‘গায়ে চাদর দেবে?’

    ‘না।’ উলটোদিকে মুখ করে বলল সন্তান। তারপর বলল, ‘প্রকৃতির শক্তির কাছে মানুষ কিছু নয়, না?’

    ‘ঠিক। মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করেও পুরোটা জিততে পারেনি। নদীতে বাঁধ দিয়ে বন্যা বন্ধ করেছে তবু নদী মাঝে-মাঝেই সেই বাঁধ ভাঙে। যখন খরা হয়, ফসল জ্বলে যায় অথবা হয় না তখন মানুষ চেষ্টা করলেও বৃষ্টি নামবে না। ভূমিকম্প হওয়ার আগে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন না ওটা হবে। আগ্নেয়গিরির মুখ থেকে যখন লাভার স্রোত নেমে আসে তখন মানুষকে পালিয়ে যেতে হয়, সেটা আটকাতে পারে না।’ কথাগুলো বলতে বলতে হঠাৎ বনবিহারীর মনে হল সুজয়ের কথা। এই নতুন জায়গায় ভয়ংকর বৃষ্টিতে অসুস্থ ছেলেটা একা পড়ে আছে। সদানন্দ বা তার স্ত্রী নিশ্চয়ই ওর পাশে এখন নেই। ছেলেটার জ্বর না কমলে কাল সেক্রেটারিকে অনুরোধ করবেন নীচের হাসপাতালে পাঠিয়ে দিতে। এখানে প্রথম বৃষ্টি নামলে সহজে বন্ধ হতে চায় না। একা পড়ে থাকলে নির্ঘাত মারা যাবে ছেলেটা।

    এবার কথাটা না বলে পারলেন না বনবিহারী, ‘ঘুমিয়ে পড়েছ?’

    ‘না।’

    ‘কিছু ভাবছ?’

    ‘না।’

    ‘ওই যে নতুন মাস্টার; যাঁকে তুমি এ-বাড়িতে নিয়ে এসে সাহায্য করেছিলে, তিনি বেশ অসুস্থ। আমি তাঁকে ওষুধ দিয়ে এসেছি।’

    ‘কী হয়েছে ওঁর?’

    ‘সম্ভবত টাইফয়েড।’ বনবিহারী হালকা হলেন, ‘বেশ জ্বর এসেছে।’

    উঠে বসল সন্তান, ‘কোথায় আছেন উনি?’

    ‘সদানন্দবাবুর বাড়িতে ঘরভাড়া করে আছেন।’

    ‘সঙ্গে কেউ আছে তো?’

    ‘একা লোক, সঙ্গে কে থাকবে! কাল অবস্থা বুঝে নীচের হাসপাতালে পাঠিয়ে দেব।’

    সন্তান কয়েক সেকেন্ড কিছু ভাবল। তারপর আবার শুয়ে পড়ল। বনবিহারী শ্বাস ফেললেন। খবরটা শোনামাত্র ছেলেটা যেভাবে উঠে বসল, প্রশ্ন করল তা তাঁর ভালো লাগল না। কেন লাগল না তা তিনি নিজেই জানেন না।

    সকাল হল কিন্তু সূর্য উঠল না। জল ঝরছে ঝমঝমিয়ে। টিমলিঙের পাহাড় কুয়াশায় ঢাকা বলে মনে হচ্ছে। এখানে জল জমার কোনও সুযোগ নেই বলে পথ পরিষ্কার। এই জল ঢালু জমি বেয়ে হু-হু করে নেমে যাচ্ছে নীচের দিকে। নীচের নদীগুলো খানিক বাদেই ফুলে ফেঁপে উঠবে।

    সকাল দশটা নাগাদ বর্ষাতি এবং ছাতা নিয়ে বাইরে বেরুবার আগে বনবিহারী কালীচরণের সামনে সন্তানকে ডেকে বললেন, ‘যতক্ষণ বৃষ্টি পড়বে ততক্ষণ বাড়ির বাইরে পা দেবে না।’

    ‘কেন?’ মুখ তুলল সন্তান।

    ‘এই জলে ভিজলেই তোমার অসুখ করবে। স্কুল খুলতে বেশি দেরি নেই।’ বনবিহারী বললেন, ‘উপায় নেই বলে আমাকে যেতে হচ্ছে। নইলে পাগলেও বের হবে না।’

    ‘কেউ কেউ হবে।’

    ‘মানে? কাদের কথা বলছ?’

    ‘যাদের খাবার নেই, খুব খিদেতে আছে, তারা।’

    চমকে উঠলেন বনবিহারী। গলার স্বরে অস্বস্তি হল তাঁর। কিন্তু আর কথা না বাড়িয়ে তিনি বাইরে পা বাড়ালেন। বৃষ্টির যা জোর তা ছাতি আটকাতে হিমসিম খাচ্ছে। সঙ্গে হাওয়ার তেজ মেশায় ছাতি ধরে রাখাও মুশকিল হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত ছাতি বন্ধ করে বর্ষাতির ওপর নির্ভর করলেন বনবিহারী। এখন রাস্তায় একটা কুকুরও নেই। মেঘ-বৃষ্টিতে পৃথিবী জুড়ে ঘন ছায়া। যাদের খাবার নেই, খুব খিদেতে আছে তাদের কথা সন্তানের মনে কেন এল! নাঃ, এটা ঠিক নয়। তবে কি ওর ক্ষেত্রে রক্ত কথা বলছে? যে ছেলেগুলো পুলিশের গুলিতে মারা গিয়েছিল তারা তো সমাজ এবং রাষ্ট্র#য় ব্যবস্থা পালটাতে উন্মাদ হয়েছিল! বনবিহারীর মনে খচখচ করছিল কথাগুলো।

    গঞ্জের কাছাকাছি যেতেই পেছনে গাড়ির ইঞ্জিনের শব্দ পেলেন তিনি। রাস্তার একপাশে দাঁড়িয়ে দেখলেন নীচ থেকে রোজকার মতো বাস ওপরে উঠে আসছে। ওটা যখন পাশ দিয়ে গেল তখন বুঝলেন বাসে যাত্রীর সংখ্যা খুবই কম।

    চেম্বারে না গিয়ে সোজা সদানন্দের বাড়িতে চলে এলেন বনবিহারী। বাড়ির সব জানলা-দরজা বন্ধ। কয়েকবার কড়া নাড়লেন কিন্তু ভেতর থেকে কোনও আওয়াজ এল না। বাঁ-দিকের টিনের দরজা খুলে বাগানে ঢুকলেন তিনি। তারপর উঠোন পেরিয়ে যে ঘরে সুজয় ছিল সেই ঘরের দিকে এগিয়ে দেখলেন দরজা খোলা।

    দরজায় দাঁড়াতেই দেখতে পেলেন সদানন্দের স্ত্রী হাতপাখা নাড়ছে। তাঁকে দেখতে পেয়ে দ্রুত সরে গেল ওপাশে, বলল, ‘খুব জ্বর তাই ভাবলাম বাতাস করি।’

    বনবিহারী বিছানার পাশে বসে কপালে গলায় হাত রেখে বুঝলেন জ্বর বেশ ভালোই। জিজ্ঞাসা করলেন, ‘রাত্রে কোনও অসুবিধে হয়েছিল?’

    ‘জানি না।’

    শুনে বনবিহারী তাকাতেই সদানন্দর স্ত্রী বলল, ‘উনি বাইরে থেকে দরজা ভেজিয়ে দিয়ে গিয়েছিলেন। রাত্রে এদিকে আসেননি। বৃষ্টি পড়ছিল তো!’

    ‘ওষুধ খাওয়ানো হয়েছে?’

    ‘হ্যাঁ। সকালে খাইয়ে দিয়েছি।’

    ‘খালি পেটে? কিছু খেয়েছিল?’

    ‘বিস্কুট। খেতে চাইছিল না।’

    ‘ঠিক আছে, আমি দুপুরে ফেরার পথে এসে দেখে যাব।’

    বনবিহারী বাইরে বেরুবার জন্যে পা বাড়িয়েছিলেন, সদানন্দের স্ত্রী পেছন থেকে ডাকল, ‘ডাক্তারবাবু!’

    বনবিহারী দাঁড়ালেন। সদানন্দের স্ত্রী বলল, ‘আপনি যে এসেছিলেন, এসে এ-ঘরে আমাকে দেখেছেন তা যদি ওকে না বলেন—।’ বেশ কাতর শোনাল গলা।

    বনবিহারী একটু ভাবলেন। তারপর মাথা নেড়ে বেরিয়ে এলেন। হাঁটতে হাঁটতে বৃষ্টির জলের কথা খেয়াল থাকল না তাঁর। কেবলই মনে হতে লাগল মানুষের মতো বিচিত্র প্রাণী সৃষ্টি করে ঈশ্বর কী আনন্দ পেয়েছিলেন? সদানন্দকে দেখে মনেই হয় না যে ওর মনে এত অন্ধকার আছে।

    বাস থেকে নেমেছিল জনাতিনেক লোক। দুজন স্থানীয় মানুষ, তৃতীয়জন নবাগত। মধ্যতিরিশের সেই লোকটির পরনে জিনস আর টি-শার্ট, কাঁধে ভারী ঝোলা। বৃষ্টির ছাঁট থেকে বাঁচতে দৌড়ে একটি মিষ্টির দোকানে ঢুকে পড়ল সে। তাতেই ভিজে গেছে চুল, টি-শার্টের কিছুটা। আঙুল দিয়ে চুল ঠিক করতে করতে সে দোকানদারকে জিজ্ঞাসা করল, ‘এখানকার স্কুলটা কতদূরে?’

    দোকানদার বলল, ‘মিনিট দশ-পনেরো হাঁটতে হবে।’

    নবাগত বাইরে তাকাল, ‘বৃষ্টি না থামলে তো যাওয়া যাবে না।’

    ‘আজ বৃষ্টি থামবে না।’ গম্ভীর মুখে বলল দোকানদার।

    ‘মানে?’

    ‘সবে গতরাত্রে বৃষ্টি নেমেছে। প্রথম বৃষ্টি একবার নামলে তিন-চারদিনে থামে না। পড়তেই থাকে। ব্যবসা লাটে ওঠে।’

    ‘সর্বনাশ!’

    ‘এই বৃষ্টিতে স্কুল বসবে না। ছুটি দিয়ে দিয়েছে। কার কাছে যাবেন?’

    ‘ওখানে আমার পরিচিত একজন সবে কাজে জয়েন করেছেন। মাস্টারির।’

    ‘তাই নাকি? হয়তো হবে। শুনিনি আমি। এখানে কিছু হলে সবাই জানতে পায়। তা কার বাড়িতে উঠেছেন জানেন?’

    ‘না।’

    দোকানদার আর একজনকে জিজ্ঞাসা করল, ‘হ্যাঁরে, কোনও নতুন মাস্টার স্কুলে এসেছে কিনা জানিস?’

    ‘না তো!’

    একজন বসে সিঙাড়া খাচ্ছিল, বলল, ‘হ্যাঁ, হ্যাঁ, সদানন্দের হোটেলে ওকে দেখেছি। এখনও ক্লাস শুরু করেনি।’

    দোকানদার বলল, ‘আপনি সদানন্দর হোটেলে চলে যান।’

    ‘কোথায় সেটা?’

    ‘এই তো, তিনমিনিট দূরে।’

    ‘একটু চা পাওয়া যাবে?’

    ‘চা বিক্রি হয় না এখানে। বসুন, আনিয়ে দিচ্ছি।’

    ঘণ্টাখানেক পরে বৃষ্টির জোর সামান্য কমলে দোকানদার দয়া করে একজনকে বললে, ছাতার তলায় নবাগতকে সদানন্দর হোটেলে পৌঁছে দিতে। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখা গেল দোকানে মাত্র দুজন কর্মচারী আছে। সদানন্দ নাকি বাড়িতে চলে গেছে। জানা গেল ওর বাড়িতে একজন খুব অসুস্থ। সেই লোকটা হয়তো নতুন মাস্টারও হতে পারে।

    নবাগত আর দেরি করল না। ছাতাধারীকে অনেক অনুরোধ করে আধাভেজা হয়ে চলে এল সদানন্দর বাড়িতে।

    দরজা খুলল সদানন্দ। নতুন লোক দেখে জিজ্ঞাসা করল, ‘কী চাই?’

    ‘আপনার এখানে সুজয় আছে?’

    ‘হ্যাঁ। কেন?’

    ‘আমাকে সুজয় দাদা বলে। আমার নাম পরিমল।’

    ‘পরিমল কী?’

    ‘মুখার্জি।’

    ‘অ। ওপাশের টিনের গেট খুলে বাগান পেরিয়ে ঘর দেখতে পাবেন।’

    ‘অনেক ধন্যবাদ।’

    ‘আপনি কোথায় থাকেন?’

    ‘কলকাতায়।’

    ‘অ। আপনার ভাই খুব অসুস্থ। আমার মনে হয় ওকে এখনই হাসপাতালে ভর্তি করা উচিত। আপনি যখন এসেই পড়েছেন তখন ওকে নিয়ে যান।’

    ‘কিন্তু যা বৃষ্টি পড়ছে, নিয়ে যাব কী করে?’

    ‘বৃষ্টি?’ আরে মশাই, ভাই বেঘোরে মারা পড়ুক নিশ্চয়ই চান না?’

    ‘না।’

    ‘গাড়ি ভাড়া পাওয়া যায়, তাতেই নিয়ে যান।’

    ছাতাধারীর সঙ্গে বাগান পেরিয়ে সুজয়ের দরজায় পৌঁছে ছেড়ে দিল পরিমল। ভেজানো দরজা খুলে সুজয়কে দেখে চমকে উঠল সে। পাশে বসে কপালে হাত রেখে বুঝল জ্বর ভালোই। সে ডাকল, ‘সুজয়, এই সুজয়?’

    চোখের পাতা নড়ল। শেষ পর্যন্ত অনেক ডাকাডাকির পর চোখ খুললে সুজয়। লাল চোখ। খানিকক্ষণ তাকিয়ে থেকে নিস্তেজ গলায় বলল, ‘পরিমলদা—!’

    ‘কোনও ভয় নেই। আমি এসে গেছি। ওষুধ খেয়েছিস?’

    মাথা নাড়ল সুজয়। তারপর আবার ঘুমিয়ে পড়ল। পরিমল ওষুধগুলো দেখল। তিনটি ক্যাপসুল, দুটো করে প্রত্যেকটা। চিকিৎসাশাস্ত্র সম্পর্কে কোনও স্বচ্ছ জ্ঞান নেই পরিমলের। সে কী করবে বুঝতে পারছিল না। এই ঘরে সুজয় এল কী করে? ও কি ঘরটা ভাড়া নিয়েছে?

    ছাতা মাথায় সদানন্দ এল, ‘এখন কীরকম? চোখ তো খুলছে না।’

    ‘না। আমার ডাকে খুলেছিল।’

    ‘অ। দেখুন, আমি ওর ভালো করতে চেয়েছিলাম। সেই দূরের কলোনিতে ঘর ভাড়া করতে চেয়েছিল, আমি আমার এখানে নিয়ে এলাম যাতে আরামে থাকতে পারে। তখন কি জানতাম এসেই অসুখ বাধাবে!’ সদানন্দ বলল।

    ‘আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। ডাক্তার এসেছিলেন বুঝতে পারছি।’

    ‘হ্যাঁ। আমিই ডেকে এনেছিলাম। ওষুধপত্র আমিই কিনে দিয়েছি। প্রচুর খরচ হয়ে গেছে মশাই। অসুস্থ লোকের কাছে তো দাম চাইতে পারি না।’

    ‘ডাক্তারবাবুর সঙ্গে কথা বলতে পারি?’

    ‘না পারার কিছু নেই। তবে এই বৃষ্টিতে তিনি বাড়ি থেকে বের হবেন বলে মনে হয় না। ও হ্যাঁ, ওর জন্যে সাবু তৈরি করেছে আমার স্ত্রী, ওকে

    যদি খাইয়ে দিতে পারেন তাহলে এনে দিতে পারি। তারপর ডাক্তারের কাছে যাবেন।’

    মাথা নাড়ল পরিমল, ‘বেশ তো!’

    বনবিহারী বুঝলেন আজ চেম্বার খুলে কোনও লাভ নেই। কোনও অসুস্থ মানুষ অথবা তার বাড়ির লোক বৃষ্টিতে ভিজে তাঁর চেম্বারে আসতে চাইবে না। অতএব তিনি আর চেম্বার না খুলে সেক্রেটারির বাড়ির দিকে গেলেন। এখন হাওয়া বন্ধ আছে তাই ছাতা খুলতে পেরেছেন। বর্ষাতি থাকা সত্ত্বেও পাঞ্জাবির অনেকটা ভিজে গেছে, টের পাচ্ছেন।

    সেক্রেটারি সব শুনে বললেন, ‘খুব কঠিন ব্যাপার। চাকরি করতে এসে ছেলেটা বেঘোরে মারা যাবে, এটা হতে দেওয়া যায় না। আপনি বলছেন সদানন্দর ওখানে ওর কোনও সেবাযত্ন হচ্ছে না?’

    ‘সেটা অস্বাভাবিক নয়। উনি ঘর ভাড়া দিয়েছিলেন। নার্সিংহোম খোলেননি। নিজের হোটেল ব্যবসায় ব্যস্ত থাকেন। স্ত্রী একজন অপরিচিত যুবকের সেবা করতে সংকোচ বোধ করতেই পারেন। আমার মনে হয় নীচের শহরের হাসপাতালে ওকে ভর্তি করে বাড়িতে খবর দেওয়া উচিত কাজ হবে।’ বনবিহারী বললেন।

    ‘এখন তো গাড়ি ভাড়া পাওয়া যাবে না। আমার ড্রাইভারকে বলি, ও পৌঁছে দিয়ে আসুক।’

    ‘ড্রাইভারের ওপর ছেড়ে দেওয়া কি ঠিক হবে? আমাদের একজনের যাওয়া উচিত।’

    ‘ও। বেশ তো, আপনিও আমার সঙ্গে চলুন। রতন ড্রাইভারকে বলো গাড়ি বের করতে।’ চেঁচিয়ে হুকুম দিয়ে সেক্রেটারি উঠলেন, ‘আপনি একটু বসুন। আমি তৈরি হয়ে আসি।’

    কিন্তু তিনি ঘর থেকে বেরুবার আগেই ড্রাইভার রতন এসে দাঁড়াল দরজায়, ‘কোথায় যাবেন বাবু?’

    ‘শহরে।’

    ‘বোধহয় যেতে পারবেন না। একটু আগে শুনলাম ঝড়ে গাছ পড়ে ব্রিজ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। নদীর জলও খুব বেড়েছে।’ রতন জানাল।

    ‘সর্বনাশ! তাহলে কী হবে ডাক্তারবাবু?’ সেক্রেটারি বললেন।

    ‘একটা বাস দেখলাম নীচ থেকে উঠে এল। ইম্পর্টেন্ট রাস্তা কি সরকার বেশিক্ষণ আটকে থাকতে দেবে? গিয়েই দেখা যাক।’

    সেক্রেটারির গাড়িতে চেপে ওঁরা সদানন্দের বাড়িতে এলেন। দরজা খুলে সদানন্দ খুব আপ্যায়ন করে বলল, ‘একটু চা নিশ্চয়ই খাবেন?’

    ‘আমরা এসেছি সুজয়বাবুকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে। কোথায় তিনি?’ সেক্রেটারি জিজ্ঞাসা করলেন। সদানন্দ তাঁদের নিয়ে গেল সুজয়ের ঘরে। ঘরে ঢুকে বলল, ‘ইনি নতুন মাস্টারের দাদা। একটু আগে কলকাতা থেকে এসেছেন।’

    সেক্রেটারি জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কী করে এলেন? রাস্তা তো বন্ধ।’

    পরিমল বলল, ‘বাস তো এল। আপনারা?’

    পরিচয় করিয়ে দিল সদানন্দ। বনবিহারী আবার পরীক্ষা করলেন সুজয়কে। বললেন, ‘জ্বর এখন আগের থেকে কমেছে। যদি এখানে প্রপার সেবাযত্ন দেওয়া যেত তাহলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার দরকার হত না।’

    পরিমল বলল, ‘আমার হাতে কিছুদিন সময় আছে। ওর খাওয়াদাওয়ার ব্যাপারটা ছাড়া বাকিটা আমি করতে পারব।’

    বনবহারী বললেন, ‘বাঃ। তাহলে তো কোনও সমস্যাই নেই। সেক্রেটারি সাহেব, আপনি ওষুধগুলো দোকান থেকে আনিয়ে দিন। আমি বিকেল থেকে লোক মারফত খাবার পাঠাব।’

    সেক্রেটারি বললেন, ‘বেশ তো। সদানন্দবাবু, আপনি এদের এবেলার খাওয়ার ব্যবস্থা দয়া করে করবেন। খরচ স্কুল দেবে।’

    সদানন্দ হাতজোড় করল, ‘অবশ্যই, অবশ্যই।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅর্জুন সমগ্র ৫ – সমরেশ মজুমদার
    Next Article বুকের ঘরে বন্দি আগুন – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }