Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আগুনবেলা – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প575 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কাঠকয়লার আগুন – ৯

    নয়

    সুজয় অবাক হল। অচেনা এক যুবতী তাকে কেমন আছেন জিজ্ঞাসা করছে। এই ডাক্তারবাবুর বাড়িতে কোনও মহিলা থাকেন না। সে উঠে বসার চেষ্টা করতেই কালীচরণ ধমকাল, ‘না না, ওটা চলবে না। বাবু আসুক, কী কী করতে হবে তাঁর মুখ থেকে শুনি, তারপর—।’

    হতাশ হয়ে সুজয় শুয়ে পড়ল আবার। সন্তান শিবানীকে একটা চেয়ার এগিয়ে দিল, ‘বসুন।’

    শিবানী বলল, ‘না, বসব না। উনি কেমন আছেন তাই জানতে এসেছিলাম।’

    কালীচরণ বলল, ‘আচ্ছা মেয়ে তো! এই প্রথম বাড়িতে এলে, শুকনো মুখে চলে গেলে এই বাড়ির অকল্যাণ হবে না? ভালো মেয়ের মতো ওখানে বসো। আমি চা নিয়ে আসছি।’ কালীচরণ চলে গেলে সুজয় মুখ ফিরিয়ে বলল, ‘বসুন।’

    শিবানী বসল। বলল, ‘আপনি এখানে এসেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে আলাপ হয়নি। আপনি জয়েন করার আগে একজন টিচারের প্রয়োজন ছিল স্কুলের। আমি ডেপুটেশন ভ্যাকান্সিতে কয়েকমাস কাজ করেছিলাম। এখানেই জন্মেছি কিন্তু পড়াশুনা করেছি শহরের স্কুলে। মামার বাড়িতে থেকে।’

    ‘তাহলে তো আমি এসে আপনাকে কর্মচ্যুত করেছি।’

    ‘আমি জানতাম কাজটা সাময়িক। যখনই একজন শিক্ষক পাকাপাকি জয়েন করবেন তখনই আমার মেয়াদ শেষ হবে। তাই হতাশ হওয়ার কোনও কারণ ছিল না।’ শিবানী বলল।

    সন্তান শুনছিল কথাগুলো, বলল, ‘তাহলে আপনি আর দিদিমণি নন?’

    হেসে ফেলল শিবানী, ‘না থাকারই কথা ছিল কিন্তু আরও কিছুকাল আমাকে পড়াতে বলা হয়েছে। তুমি তো নীচের স্কুলে পড়ছ?’

    ‘হ্যাঁ।’

    ‘কীরকম রেজাল্ট হচ্ছে?’

    ‘ভালো।’

    ‘স্কুল এখন বন্ধ?’

    ‘হ্যাঁ। সামনের সোমবারে খুলবে।’

    শিবানী সুজয়ের দিকে তাকাল, ‘নিশ্চয়ই খুব কাহিল হয়ে আছেন।’

    ‘আর বলবেন না। এই প্রথম এত বড় অসুখে পড়লাম।’

    ‘বাড়িতে জানানো হয়েছে?’

    ‘মাথা খারাপ! বাড়ি বলতে তো শুধু মা। খবর পেলে ছুটে আসবে। আমি তো ভালো হয়ে যাচ্ছি।’ সুজয় হাসবার চেষ্টা করল, ‘ভালো লাগছে এই ভেবে যে আমার আসার কারণে আপনাকে স্কুল থেকে চলে যেতে হয়নি।’

    এই সময় কালীচরণ চা নিয়ে এল। এক কাপ চা।

    শিবানী জিজ্ঞাসা করল, ‘ওঁকে দেবেন না?’

    ‘না, একটু পরে কমপ্ল্যান দেব। শরীর সারাতে হবে না?’

    সুজয় হাসল, ‘ইনি আমাকে একেবারে শিশু করে রেখেছেন।’

    চা খেতে খেতে শিবানী জিজ্ঞাসা করল, ‘কবে জয়েন করতে পারবেন?’

    কালীচরণ আগ বাড়িয়ে জবাব দিল, ‘উনি কী করে বলবেন? বাবু যখন অনুমতি দেবেন তখন স্কুলে যাবেন।’

    শিবানী মাথা নাড়ল, ‘এটা ঠিক কথা।’

    চা খেয়ে উঠে দাঁড়াল শিবানী, ‘আচ্ছা, আমি এখন চলি।’

    ‘এই তো এলেন।’ সুজয় বলল।

    ‘একটু পরে অন্ধকার নেমে গেলে সমস্যা হবে।’

    ‘কীরকম সমস্যা? এখানে তো ভয়ের কিছু নেই!’ সুজয় আধশোওয়া হল।

    ‘না—না, অন্ধকারে আমার বেশ অস্বস্তি হয়। নমস্কার।’

    ‘পারলে আবার আসবেন।’

    ‘দেখি।’

    শিবানীর সঙ্গে সন্তানও বেরিয়ে এল ঘর থেকে। পাশাপাশি হাঁটছিল সে। শিবানী বলল, ‘ওমা, তুমি কোথায় যাচ্ছ?’

    ‘আপনাকে এগিয়ে দিয়ে আসছি।’

    ‘আরে না! তোমাকে আর যেতে হবে না।’

    ‘যদি মাঝরাস্তায় অন্ধকার নেমে আসে?’

    শব্দ করে হাসল শিবানী, ‘আমি বাড়িতে পৌঁছাবার অনেক পরে অন্ধকার নামবে।’

    ‘তবু, যাই না আমি!’

    ‘যেতে ইচ্ছে করছে কেন?’

    ‘অনেকদিন বাজারের দিকে যাইনি। আমাকে যেতে দেওয়া হয় না।’

    ‘কিন্তু ফিরবে কী করে?’

    ‘দাদুর সঙ্গে ফিরে আসব।’

    ‘উনি যদি রাগ করেন!’ শিবানী বলল, ‘ওঁর চেম্বার তো অনেক দেরিতে বন্ধ হয়।’

    এইসময় পেছন থেকে কালীচরণের ডাক ভেসে এল। শিবানী পেছন দিকে তাকিয়ে বলল, ‘ওই দ্যাখো, তোমাকে ডাকছে। এক কাজ করো। তুমি কবে নীচে যাবে?’

    ‘রবিবার সকালে।’

    ‘তাহলে শনিবারের সকালে আমি তোমাকে নিয়ে একটু ঘুরে বেড়াব।’

    ‘ঠিক আছে।’

    ওর মাথায় আঙুল ছুঁইয়ে শিবানী এবার জোরে হাঁটতে লাগল। সেদিকে তাকিয়ে ছিল সন্তান। শিবানীকে তার খুব ভালো লাগছিল। সুজয় স্যার বলেছেন পৃথিবীতে দুটোই জাত আছে। পুরুষ এবং স্ত্রী। এখন মনে হল স্ত্রীজাত যদি না থাকত তাহলে একটুও ভালো লাগত না। তাদের বাড়িতে কোনও স্ত্রীজাতির মানুষ নেই। থাকলে কী ভালোই না হত।

    কালীচরণ সামনে এসে দাঁড়াল, ‘কোথায় যাচ্ছ?’

    ‘কোথাও না। এখানে দাঁড়িয়ে আছি।’

    ‘অ। আমি ভাবলাম দিদিমণির সঙ্গে কোথাও যাচ্ছ। আর বাইরে থেকো না, সন্ধে নামবে একটু পরেই। চলে এসো।’ কালীচরণ ফিরে গেল।

    সন্তানের খুব রাগ হল। হোস্টেলে তাকে নিয়ম মেনে থাকতে হয়। কী কী করা যাবে না তা তাদের বলা হয়েছে। ফলে যা যা করা যাবে তা একেবারে নিয়ম মেনে করতে হয়। বাড়িতে এসেও সেই একই ব্যাপার। সে বড় হয়ে গেলে এসব একদম মানবে না।

    যেন প্রতিবাদ জানাতেই সন্তান মাঠের মাঝখানে বসে পড়ল। ওদিকের বাড়িতে কারা যেন যাচ্ছে। দূর থেকে তাদের দেখল সন্তান। এক ভদ্রমহিলার সঙ্গে একটা বাচ্চা ছেলে। নিশ্চয়ই বেড়াতে এসেছে। দূর থেকে ওদের দেখতে দেখতে সন্তানের মনে হল তারও তো মা ছিল। কালীচরণ বা বনবিহারী বলেন সেই মা আর নেই। মায়ের কোনও ছবিও বাড়িতে নেই। মা না হয় নেই, বাবা কোথায় গেল? তার জবাবে সে শুনেছে, বাবাও নেই। হঠাৎ বুকে ভার জমল তার। এই সময় কালীচরণের গলা ভেসে এল, ‘সন্ধে হয়ে গেছে। চলে এসো।’ সন্তান উঠে পড়ল।

    কালীচরণের কাছে বনবিহারী জানতে পারলেন সকালে চেম্বারে বেরিয়ে গেলেই সন্তান পড়া ছেড়ে সুজয়ের ঘরে গিয়ে গল্প করে। আবার বিকেল থেকে সেই গল্প শুরু হয়। কালীচরণ ধমক দিয়ে ওকে পড়ার ঘরে নিয়ে যায়। এত কথা রুগির সঙ্গে বললে তার দুর্বলতা কাটবে কী করে!

    বনবিহারী বললেন, ‘কী কথা বলে ওরা? পড়াশুনার বিষয়?’

    কালীচরণ বলল, ‘আমি অতশত বুঝি না। মাঝে-মাঝে নতুন মাস্টার কবিতা বলে। দেহে প্রাণ যতক্ষণ থাকবে ততক্ষণ জঞ্জাল সরাবে। তাই শুনে আমি ঘরের দরজায় গিয়ে প্রশ্ন করেছিলাম, ‘জঞ্জাল সরানোর কাজ তো জমাদার করে, আপনি কেন করবেন?’ শুনে দুজনের কী হাসি! খোকা বলল, ‘এই জঞ্জাল সেই জঞ্জাল নয়।’ নতুন মাস্টার মাথা নাড়ল।’

    বনবিহারীর চোয়াল শক্ত হল। নতুন মাস্টার নিশ্চয়ই সুকান্তর ছাড়পত্র কবিতাটি আবৃত্তি করেছিল। কিন্তু সন্তান কী করে বুঝল জঞ্জালের মানে? খুব অস্বস্তি হচ্ছিল তাঁর। অমঙ্গলের গন্ধ পাচ্ছিলেন তিনি।

    সকালে চা দিতে এসে কথাগুলো বলেছিল কালীচরণ। চা খেয়ে তিনি সন্তানের ঘরে গেলেন। সে তখন পড়ার টেবিলে। বনবিহারীকে দেখে অবাক হল, ‘কিছু বলবে?’

    ‘দেখতে এলাম কেমন পড়াশুনা হচ্ছে!’

    ‘ভালো।’

    ‘ফাঁকি দিচ্ছ না তো? ফাঁকি দিলে নিজেই বিপদে পড়বে।’

    ‘আমি জানি।’

    ‘শুনলাম নতুন মাস্টার নাকি তোমাকে কবিতা শোনান!’

    ‘হ্যাঁ। এসব আমি জানতামই না।’

    ‘তোমার বয়সে যা জানার তা নিশ্চয়ই স্কুলে জানছ, বইয়ে পড়ছ।’

    ‘না, না, পড়ার বাইরের কথা।’

    ‘যেমন?’

    ‘যেমন, পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি। আমি কতবার চাঁদ দেখেছি। চাঁদকে ঝলসানো রুটি বলে কখনও মনেই হয়নি।’

    ‘এর মানে তুমি বুঝতে পেরেছ?’

    ‘নিজে পারিনি, স্যার বুঝিয়ে দিয়েছেন।’

    ‘কী বুঝিয়েছেন?’

    ‘যাদের পেটে খিদে থাকে, যাদের খাবার জোটে না তাদের কাছে পূর্ণিমার চাঁদ ঝলসানো রুটির সমান।’

    ‘এটা জেনে তোমার কি লাভ হয়েছে?’

    ‘লাভ হয়নি। আমার আর চাঁদ দেখতে ইচ্ছে হচ্ছে না।’

    ‘কেন?’

    ‘পৃথিবীতে গরিব মানুষের সংখ্যাই বেশি। তাদের অনেকেই খেতে পায় না। তাদের কাছে চাঁদ দেখার কোনও মানে নেই। অথচ দ্যাখো, সেই ছেলেবেলায় চাঁদ নিয়ে লেখা কত ছড়া পড়েছি। এখন ওগুলোর কথা ভাবলে হাসি পায়।’

    ‘হাসি পায়? কোন ছড়ার কথা বলছ?’

    ‘ওই যে, চাঁদ উঠেছে ফুল ফুটেছে কদমতলায় কে? কী বোকা বোকা কথা!’ বলে সন্তান, ‘আমি ওই সুরে একটা ছড়া লিখেছি। শুনবে?’

    ‘তুমি যখন লিখেছ তখন অবশ্যই শুনব।’

    সন্তান একটা খাতা বের করল। তারপর পাতা খুলে পড়ল, ‘চাঁদ ওঠেনি ফুল ফোটেনি, কদমতলায় কেউ যায়নি—!’

    ‘তারপর?’

    ‘তারপর ভাবছি। এখনও লিখিনি। কেমন হয়েছে?’

    ‘ভালোই তো। নাও, তুমি এখন পড়ো।’

    বনবিহারী সন্তানের ঘর থেকে বেরিয়ে সুজয়ের ঘরের দরজায় এলেন, মুখ বাড়িয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আজ কেমন আছেন?’

    ‘আমাকে এখনও আপনি বলছেন!’

    ‘ওটা আমার স্বভাব, বলেইছি তো।’

    ‘অনেকটা ভালো আছি। আপনি যদি অনুমতি দেন তাহলে আজ বাড়ির সামনে একটু হাঁটাহাটি করব।’ সুজয় বিছানায় বাবু হয়ে বসল।

    ‘বেশ তো। যতক্ষণ শরীর দুর্বল না হবে, হাঁটবেন।’

    ‘আমার মনে হয় সামনের সপ্তাহে স্কুলে জয়েন করতে পারব।’

    ‘আপনার শরীরের উন্নতি যেরকম দ্রুত হচ্ছে তা পারবেন।’ বনবিহারী চেয়ারে বসলেন, ‘আপনার বাড়িতে কে কে আছেন?’

    ‘মা ছাড়া কেউ নেই।’

    ‘তিনি এখন একলা আছেন?’

    ‘হ্যাঁ। তবে আমার দুজন বন্ধু ওঁর দেখাশোনা করে।’

    ‘বাঃ, ভালো তো।’

    ‘বাবা?’

    ‘তিনি অনেককাল আগে গত হয়েছেন।’

    ‘শুনলাম আপনি সুকান্তর খুব ভক্ত। ওঁর কবিতা খুব ভালো লাগে?’

    ‘না, মানে, কবিতা হিসেবে হয়তো প্রথম শ্রেণির নয় কিন্তু ওঁর বক্তব্য খুব জোরালো। শিক্ষিত মানুষের হয়ে কথা বলেছেন তিনি।’

    ‘সেকথা রবীন্দ্রনাথও বলেছেন, তাই না? ওঁর প্রশ্ন কবিতাটি পড়েছেন?’

    ‘হ্যাঁ। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ বড় নরম ভাষায় বলেছেন।’

    ‘আমি আপনার সঙ্গে একমত নই। ‘যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু নিভাইছে তব আলো, তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো।’ এর মধ্যে নরম কী দেখলেন?’

    সুজয় হাসল, ‘আসলে অ্যাপ্রোচটাই তো পৃথক। ভগবান কোথায় থাকেন? তাঁর কাছে আবেদন করে কী লাভ হবে? সরাসরি মানুষের কাছে মানুষের কথা না বললে তা জোরালো হয় না।’

    ‘আপনি কি কোনও বিশেষ রাজনীতিতে বিশ্বাসী?’

    ‘না। তবে যাদের নেই তাদের দলে, যাদের আছে তাদের নয়।’

    ‘এইখানেই মুশকিল হয়ে গেল। যাক গে, আমার মনে হয় আপনি কাল আপনার ভাড়া করা বাসায় ফিরে যেতে পারেন। অবশ্য আজ হাঁটাহাঁটি করে দেখুন শক্তি পান কিনা, তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।’

    ‘কিন্তু ওখানে খাওয়াদাওয়া মানে, সদানন্দবাবু বোধহয় রাজি হবেন না।’

    বনবিহারী হাসলেন, ‘আপনি এখানে চাকরি করতে এসেছেন, ঘর ভাড়া করেছেন থাকার জন্যে, নিজের খাওয়ার ব্যবস্থা তো আপনাকেই করে নিতে হবে। একজন পার্টটাইম রান্নার লোক রেখে দিলে তো সমস্যা থাকবে না।’

    ‘রান্নার লোক পাওয়া যাবে?’

    ‘নিশ্চয়ই।’

    ‘কীরকম মাইনে নেয়?’

    ‘এই দেখুন, একটু আগে আপনি বললেন যাদের কিছু নেই তাদের সঙ্গে আছেন। অথচ একটা গরিব মানুষকে কাজ দিতে গিয়ে তার মাইনে নিয়ে চিন্তা করছেন।’ বনবিহারী মাথা নাড়লেন, ‘আপনার ক্ষমতার মধ্যেই কাজের লোক পেয়ে যাবেন।’

    রবিবারের এখনও ক’দিন বাকি। বনবিহারী প্রচণ্ড অস্বস্তিতে পড়লেন। তাঁর কেবলই মনে হচ্ছিল সুজয়কে এই বাড়িতে নিয়ে আসা খুব ভুল হয়ে গেছে। স্কুলের নতুন মাস্টার অসুস্থ, দেখাশোনার কেউ নেই বলে তিনি মানবিক কারণে বাড়িতে জায়গা দিয়েছিলেন। বামপন্থায় বিশ্বাস যে কেউ করতে পারেন। কিন্তু সেই পন্থার মাধ্যমে উগ্রতায় পৌঁছে গেলে সর্বনাশ হয়ে যাবে। চোখের সামনে তিনি নকশাল আন্দোলনের জন্ম ও মৃত্যু দেখেছেন। ভারতবর্ষের কোটি-কোটি সর্বহারা ওই আন্দোলন সম্পর্কে নিস্পৃহ ছিল। নতুন মাস্টার যে ইতিমধ্যেই সন্তানের মনে প্রভাব ফেলেছেন তাতে কোনও সন্দেহ নেই। এইটে তিনি কখনও চাননি।

    মানুষ তার বাবা-মায়ের রক্তের ধারা বহন করে। চিকিৎসক হিসেবে তিনি এরকম কিছু অসুখের কথা জানেন। যার বাবা পুলিশের গুলিতে মারা গিয়েছে, যার মা নিজের শিশুকে পরিত্যাগ করে আবার ফিরে গিয়েছে পুরোনো জীবনে, যে জীবন শুধু অনিশ্চয়তায় ভরা, যে জীবন শুধু বিপ্লবের অলীক স্বপ্ন দেখায়, তার শরীরের রক্ত কি একই পথে তাকে নিয়ে যাবে? নইলে এত তাড়াতাড়ি সন্তান মুগ্ধ হয় কী করে? হয়তো ব্যাপারটা সাময়িক, সুজয়ের সান্নিধ্য না পেলে সে ভুলে যাবে। কিন্তু ওইটুকু ছেলে এতদিনের পুরোনো ছড়াকে নস্যাৎ করে লিখেছে, চাঁদ ওঠেনি ফুল ফোটেনি, কদমতলায় কেউ যায়নি? কী করে লিখতে পারল! তিনিও তো তাঁর বাল্যকাল থেকে ওই ছড়াটা শুনে আসছেন, তাঁর মাথায় তো এমন উলটো ভাবনা কখনও আসেনি।

    বনবিহারীর মনে হচ্ছিল এই মুহূর্তে সন্তানকে নিয়ে নীচের শহরে চলে গেলে ভালো হত। কিন্তু রবিবারের আগে হোস্টেল খুলবে না। তিনি কালীচরণকে ডেকে কিছু নির্দেশ দিলেন। কালীচরণ প্রথমে বুঝতে পারছিল না। তিনি বিরক্ত হয়ে বললেন, ‘ওর বাপ-মা যে পথে গিয়েছে ও সে পথে যাক তা তুমি চাও?’

    দুপাশে মাথা নেড়েছিল কালীচরণ, ‘না-না, কক্ষনো না।’

    ‘ওকে আটকাবার জন্যে তো চেষ্টা করতে হবে।’

    ‘বুঝে গিয়েছি। ওই নতুন মাস্টার সব সময় ওর কানে কীসব মন্ত্র ঢালে। ঠিক আছে, আমি সবসময় ওদের সঙ্গে থাকব।’ কালীচরণের গলার স্বর বদলে যায়।

    সকালে চেম্বারে গিয়ে বনবিহারী খবর পাঠালেন সেক্রেটারিকে, দুপুরে বাড়ি ফেরার সময় ওঁর সঙ্গে কথা বলতে চান। সেক্রেটারি তখন ব্যস্ত থাকলে সেটা বিকেলেও হতে পারে। তারপর রুগি দেখতে শুরু করা মাত্র একজন লোক দৌড়ে চেম্বারে এল, ‘ডাক্তারবাবু তাড়াতাড়ি চলুন, সদানন্দদার বউ কীসব খেয়ে ফেলেছে।’

    ‘কী খেয়েছে?’ বনবিহারী জিজ্ঞাসা করলেন।

    ‘তা জানি না। সদানন্দদা বললেন তাড়াতাড়ি আপনাকে নিয়ে যেতে।’

    প্রয়োজনীয় জিনিসভরা ব্যাগটা নিয়ে লোকটির নিয়ে আসা রিকশায় উঠলেন তিনি।

    লোকটি রিকশাওয়ালাকে তাড়া লাগাল, ‘যেখান থেকে এসেছিলাম সেখানে তাড়াতাড়ি চল।’ বনবিহারী জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আপনি কে?’

    ‘আমি সদানন্দদার খুড়তুতো ভাই। কাল এসেছি।’

    ‘কী হয়েছিল?’

    ‘আমি ঠিক জানি না।’

    ‘কিছু শোনেননি?’

    ‘ওই একটু-আধটু ঝগড়া, বকাঝকা। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যা হয়ে থাকে।’

    ‘কী অবস্থায় দেখে এসেছেন?’

    ‘মাটিতে পড়ে আছে।’

    আত্মহত্যা করার ঘটনা এখানে তেমন ঘটেনি।

    বনবিহারী সদানন্দর বাড়ির সামনে পৌঁছে দেখলেন কোনও ভিড় নেই। অর্থাৎ প্রতিবেশীরা এখনও কিছু জানতে পারেনি। এরকম ঘটনা ঘটেছে জানলে মানুষ কৌতূহলী হয়ে ছুটে আসে। সদানন্দ দাঁড়িয়েছিল ভেতরের দরজায়। তাঁকে দেখে ভেজা কাকের মতো বলল, ‘ওকে বাঁচান ডাক্তারবাবু, আমার একমাত্র ওয়াইফ চলে গেলে আমি কী করে থাকব! উঃ, কেন যে বকতে গেলাম, রাগলে কেন যে মাথার ঠিক থাকে না!’

    ততক্ষণে মহিলার পাশে বসে পড়েছেন বনবিহারী। মুখ ফ্যাকাশে, চোখের মণিতে ঘোর। জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কী খেয়েছে?’

    ‘বিষ। আরশোলা মারার বিষ।’ সদানন্দ চাপা গলায় বলল।

    ‘কখন খেয়েছে?’

    ‘এই তো একটু আগে।’

    ‘বাড়িতে তেঁতুল আছে?’

    ‘আছে।’

    ‘একটা সমপ্যানে তাই জলে গুলে নিয়ে আসুন।

    ‘তেঁতুলগোলা জল খেতে চাইছিল না সদানন্দর স্ত্রী। দাঁতে দাঁত লেগে গেছে। ব্যাগ থেকে একটা যন্ত্র বের করে দাঁত ছাড়িয়ে গ্লাসে সেই জল নিয়ে জোর করে খাইয়ে দিতে চাইলেন বনবিহারী। জল উপচে পড়ল চিবুকে, বুকে। কিন্তু হাল ছাড়লেন না বনবিহারী। একটু একটু করে খানিকটা খাওয়াতেই শরীর নড়ে উঠল। শোওয়া অবস্থাতেই বমি করল সদান্দর বউ। বমিটা ভালো করে দেখলেন বনবিহারী। বুঝলেন যা খেয়েছিল তা এখনও হজম হয়নি অথবা প্রায় অটুট রয়েছে। তিনবার বমি করালেন তিনি। তারপর ব্যাগ থেকে রবারের নল বের করে খানিকটা পরিষ্কার জল খাইয়ে গলার ভেতর দিয়ে পেটে ঢুকিয়ে দিলেন। হাঁফাচ্ছিল সদানন্দর বউ। গলার অস্বস্তি হচ্ছিল। পাম্প করে সেই জল বের করে দেখলেন তা প্রায় স্বাভাবিকের পর্যায়ে চলে এসেছে।

    দুই গালে আলতো চড় মেরে বনবিহারী জিজ্ঞাসা করলেন, ‘এখন কেমন লাগছে?’

    সদানন্দর বউ উত্তর দিল না।

    বনবিহারী আবার জিজ্ঞাসা করলেন। এবার মাথা ওপর-নীচ হল।

    বনবিহারী বললেন, ‘ইচ্ছে হলে ওকে নীচের হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা করাতে পারেন। নইলে মেঝে থেকে তুলে বিছানায় শুইয়ে দিন। যতক্ষণ ওর খিদে না হবে খেতে ডাকবেন না। একটু ঘুমিয়ে থাকুক। আপনার কপাল ভালো, এ যাত্রায় শ্রীঘরে যেতে হচ্ছে না।’

    বাড়ি থেকে বেরুবার সময় বন

    বিহারী নিশ্চিত মেয়েটি বেঁচে যাবে। আরশোলা মারা বিষ যদি খেয়ে থাকে তা ও আধচামচের বেশি খায়নি। খেয়ে ভয়ে আধমরা হয়েছিল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅর্জুন সমগ্র ৫ – সমরেশ মজুমদার
    Next Article বুকের ঘরে বন্দি আগুন – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }