Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আগুনবেলা – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প575 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কাঠকয়লার আগুন – ১০

    দশ

    সদানন্দর বউ আত্মহত্যা করতে চেয়েছিল এই খবর গঞ্জের সবাই জেনে গিয়েছে কিন্তু কেন করতে চেয়েছিল তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়ে গেল। পরের দিন দোকানে গিয়ে বসতে না বসতেই সদানন্দ অস্বস্তিতে পড়ল। গায়ে পড়ে তাকে এসে জিজ্ঞাসা করছে, ‘কী হয়েছিল ভাই? ঝগড়া হয়েছিল খুব? মারধোর করোনি তো? এখন কেমন আছে? হাঁটা-চলা করছে?’

    ‘কী হয়েছিল জানি না, মারধোর দূরের কথা, ঝগড়াটগড়া হয়নি। এখন ভালো আছে।’ এই কথাগুলো বলতে বলতে ক্লান্ত হয়ে গেল সদানন্দ। সে লক্ষ করছিল উত্তর শোনার পরেও প্রশ্নকর্তার ঠোঁটের কোণে হাসি লেগেই থাকে। তারা বোধহয় অন্য কোনও রহস্যের গন্ধ খোঁজে।

    বেলা এগারোটা নাগাদ থানার মেজবাবু এলেন জিপে চড়ে। তখন জনাচারেক লোক ডাল-ভাত-তরকারি খাচ্ছে। দোকানে ঢুকেই মেজবাবু সদানন্দের সামনে এগিয়ে গেলেন। তাঁকে দেখে দ্রুত উঠে দাঁড়িয়ে সদানন্দ নমস্কার জানাল।

    ‘সদানন্দবাবু, আপনার দেখছি অনেক হিতৈষী আছে!’

    বুঝতে না পেরে ঘাড় নেড়ে হ্যাঁ বলল সদানন্দ।

    ‘তারাই খবরটা পাঠিয়েছে বলে আমাকে আসতে হল।’

    ‘আজ্ঞে, বসুন।’ নিজেই চেয়ার এগিয়ে দিল সদানন্দ।

    ‘না। বসব না। প্রথমে বলুন, আপনার স্ত্রী আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন?’

    গলা শুকিয়ে গেল সদানন্দর। দ্রুত মাথা নেড়ে বলল, ‘না, ঠিক আত্মহত্যা নয়, ভুল করে কিছু খেয়ে ফেলেছিল। দশ মিনিটের মধ্যে ঠিক হয়ে গেছে।’

    হাসলেন মেজবাবু, ‘ভুল করে কি কেউ বিষ খায়?’

    ‘না, ভয়ানক বিষ নয়, ওই আরশোলা মারার ওষুধকে কি বিষ বলা যায়?’

    ‘বলা হয়েছে ডাক্তারবাবু তখনই ছুটে না গেলে ভদ্রমহিলা বাঁচতেন না। মরে গেলে ল্যাটা চুকে যায়। স্বামীর অত্যাচারে বউ বিষ খেয়েছে কিনা তা প্রমাণ করা যায় না। কিন্তু মরতে গিয়েও যদি না মরে তাহলেই হয় সমস্যা।’ মেজবাবু যখন কথাগুলো বলছেন তখন একে একে অনেক মানুষ ঢুকে গেছে দোকানে, কৌতূহলে। তাদের দিকে তাকিয়ে আচমকা ধমকে উঠলেন মেজবাবু, ‘একী! আপনারা এখানে ভিড় করেছেন কেন? যান, বেরিয়ে যান।’

    মেজবাবুর সঙ্গে আসা সেপাই সবাইকে বাইরে বের করে দিল। যে চারজন খাচ্ছিল তারাও পায়ে-পায়ে বেরিয়ে গেল বাইরে। সদানন্দ সেটা লক্ষ করেও মুখ খুলল না। মেজবাবু বললেন, ‘আমার কাছে খোলাখুলি বলুন মশাই। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি হয়ই। আমার স্ত্রী সেটা হলেই বাপের বাড়িতে চলে যান। আপনি কী এমন করেছিলেন যার জন্যে তিনি বিষ খেলেন?’

    ‘আমি জানি না, বিশ্বাস করুন।’

    ‘মারতেন নাকি?’

    ‘না, না, কক্ষনো না।’

    ‘সন্দেহ করতেন?’

    ‘সন্দেহ?’

    ‘হ্যাঁ। ওর চরিত্র নিয়ে সন্দেহ ছিল?’

    ‘কী যে বলেন!’

    ‘বাড়িতে আর কে কে থাকেন?’

    ‘আমরা দুজনই থাকি।’

    ‘আপনি যখন এই হোটেলে আসেন তখন তিনি একাই থাকেন?’

    মাথা নাড়ল সদানন্দ, ‘হ্যাঁ, কেন?’

    ‘সেই সময় তিনি কী করছেন, কাদের সঙ্গে কথা বলছেন তা নিশ্চয়ই জানতে পারেন?’

    ‘না, না, সে ওই ধরনের মেয়েই নয়।’

    ‘তার মানে আপনি ওঁকে সন্দেহ করেন না?’

    ‘সন্দেহজনক কোনও কাজ তো করেনি।’

    ‘গুড। আপনার দিকটা জানা হয়ে গেল। কিন্তু এবার যে ওঁর সঙ্গে দেখা করতে হবে!’

    ‘ওর সঙ্গে? কেন?’

    ‘দেখুন আত্মহত্যা করা একটা অপরাধের মধ্যে পড়ে। আত্মহত্যার চেষ্টা করে সফল না হলে অপরাধটা আরও বেড়ে যায়। আপনি কোনও দুঃখ-কষ্ট না দেওয়া সত্ত্বেও উনি কেন আত্মহত্যা করতে গেলেন তা জানাটা জরুরি।’ মেজবাবু বললেন।

    ‘স্যার, ও ঘরের বউ, একটা ভুল না জেনে করে ফেলেছে–, আপনার সঙ্গে কথা বলতেই লজ্জা পাবে। ওকে ছেড়ে দিন স্যার।’

    ‘সেটা ওঁর সঙ্গে কথা না বলে তো হতে পারে না। চলুন।’

    অগত্যা মেজবাবুর সঙ্গে জিপে উঠল সদানন্দ। সঙ্গে সঙ্গে মুখে মুখে রটে গেল সদানন্দকে পুলিশ অ্যারেস্ট করেছে।

    গাড়িতে উঠেই মেজবাবু বললেন, ‘আমরা ডাক্তারবাবুর চেম্বার হয়ে যাব।’

    সকালবেলায় বনবিহারী সুজয়কে নিয়ে যখন সদানন্দর বাড়িতে পৌঁছেছিলেন তখন সে দোকানে চলে গেছে। সদানন্দের বউ দরজার আড়াল থেকে বেরিয়ে খবরটা দিয়েছিল। বনবিহারী বলেছিলেন, ‘সুজয়বাবু এখন বেশ সুস্থ। ওঁকে নিয়ে এলাম। ওঁর ঘরের দরজা কি খোলা আছে?’

    ‘হ্যাঁ। আজ সকালে ঝাঁট দেওয়া হয়েছে।’

    বনবিহারী সুজয়কে বললেন, ‘যান, ঘরে গিয়ে বিশ্রাম করুন। ক’টা দিন এখানে থাকুন। সদানন্দকে বলব হোটেল থেকে দু-তিনদিন খাবার পাঠিয়ে দিতে। আর ওর যদি আপনাকে ঘরভাড়া দিতে আপত্তি থাকে তাহলে এই মাসের ভাড়া দিয়ে সামনের মাসে অন্যত্র বাড়ি খুঁজে নেবেন। যান।’ সুজয় টিনের দরজা দিয়ে নিঃশব্দে ভেতরে চলে গেলে বনবিহারী সদানন্দর বউকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘শরীর এখন কেমন?’

    ‘ভালো।’ গম্ভীর মুখে বলল সদানন্দর বউ।

    আর কথা না বাড়িয়ে রিকশায় চেম্বারে চলে এসে একজন রুগি দেখতে না দেখতেই মেজবাবুর জিপ এসে দাঁড়াল। মেজবাবু সদানন্দকে বললেন, ‘আপনাকে নামতে হবে না। আমি কয়েকটা কথা বলেই ফিরে আসছি।’

    মেজবাবুকে দেখে বনবিহারী জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কী ব্যাপার?’

    ‘আর বলবেন না। এখানকার লোক কমপ্লেন করেছে বলে আসতে হল। আপনি তো কাল সদানন্দর বউকে বাঁচালেন। কী খেয়েছিলেন ভদ্রমহিলা?’

    হেসে ফেললেন বনবিহারী, ‘পুলিশ ডিপার্টমেন্টের কাজকর্ম দেখছি খুব কমে গেছে। এই একটা সামান্য ব্যাপার নিয়ে তদন্ত করতে ছুটে এসেছেন?’

    ‘না, আত্মহত্যার চেষ্টা—!’

    মেজবাবুকে থামিয়ে দিলেন বনবিহারী, ‘কে বলেছে আত্মহত্যা?’

    ‘তাই তো খবর পেলাম।’

    হাসলেন বনবিহারী। জিপের পেছনে বসা সদানন্দর মুখটা এইসময় দেখতে পেলেন। বোঝাই যাচ্ছে বেশ ভয় পেয়ে গেছে। মেজবাবু একটা চেয়ার নিয়ে পেশেন্টের পাশে বসলেন। ঘরের অন্য রুগিরা পুলিশ দেখে মুখ বন্ধ করে বসে আছে।

    বনবিহারী আবার কথা বললেন, ‘বলুন, কী করতে পারি?’

    ‘আপনি সব ব্যাপারটা গুলিয়ে দিচ্ছেন কেন? আপনি তো ওদের বাড়িতে গিয়েছিলেন!’

    ‘হ্যাঁ, গিয়েছিলাম।’

    ‘গিয়ে কী দেখলেন?’

    ‘মেয়েটি খুব নার্ভাস হয়ে ভয় পেয়ে কান্নাকাটি করছে।’

    ‘কান্নাকাটি করছে? অজ্ঞান হয়ে পড়ে ছিল না?’

    ‘আধ চা-চামচ পুরোনো আরশোলা মারার ওষুধ জিভে ঠেকালে কেউ অজ্ঞান হয়ে যায় না। সেটা ব্যবহার করা সত্ত্বেও আরশুলা মরছিল না বলে বোকার মতো জিভে ঠেকিয়ে দেখতে চেয়েছিল ওটা নষ্ট হয়ে গেছে কিনা। তারপর খেয়াল হয়েছিল, ওটা বিষ ভেবে এত নার্ভাস হয়ে গেল যে মনে করেছিল মরে যাবে। আমার যাওয়ার দরকার ছিল না। এক গ্লাস জলে মুখ ধুয়ে নিলেই চলত।’ বনবিহারী বললেন।

    ‘তাহলে আপনি কোনও চিকিৎসা করেননি?’

    ‘করেছিলাম। সে আধচামচ জিভে দিয়েছে না দু-হাতা খেয়েছে তা জানা না থাকায় ব্যবস্থা নিতেই হয়েছিল। জল খাইয়ে বমি করিয়ে দেখলাম পেটে কিছুই যায়নি। ব্যস। কিন্তু অফিসার, আমার এইসব পেশেন্টদের দেখে প্রেসক্রিপশন লেখা অনেক জরুরি কাজ। এরা তো এখানে বেড়াতে আসেনি, ওষুধের জন্যে এসেছে।’

    ‘হুম। ঠিক আছে, আপনি যখন বলছেন! আমাদের বড়বাবুও আপনাকে খুব রেসপেক্ট করেন। আপনি নিশ্চয়ই মিথ্যা বলছেন না। আচ্ছা, চলি।’

    মেজবাবু বাইরে বেরিয়ে ইশারায় সদানন্দকে নামতে বললেন জিপ থেকে। সদানন্দ নেমে এলে বললেন, ‘এ যাত্রায় এই ডাক্তারবাবুর কল্যাণে বেঁচে গেলেন। উনি যখন বলছেন ওটা আত্মহত্যার ঘটনা নয়, তখন আমি মেনেই নিলাম।’

    মেজবাবু জিপে উঠে বসতেই সেটা দ্রুত বেরিয়ে গেল। সদানন্দ কয়েক সেকেন্ড ফ্যালফ্যাল চোখে তাকিয়ে দ্রুত চেম্বারের সিঁড়িতে উঠে আবেগে বলে উঠল, ‘ডাক্তারবাবু।’

    একজনের নাড়ি দেখতে-দেখতে বনবিহারী ধমক দিলেন, ‘খবরদার! এখানে কোনও নাটক নয়। আমি রুগি দেখছি।’

    মাথা নাড়ল সদানন্দ। তারপর নিজের হোটেলের দিকে হাঁটতে লাগল। সেখানে পৌঁছাতে রাজ্যের লোক তাকে ঘিরে ধরল! মেজবাবু তাকে অ্যারেস্ট করে নিয়ে গিয়েও ছেড়ে দিলেন কেন? বদলে ওর স্ত্রীকে ধরেছেন কিনা ইত্যাদি প্রশ্নে তাকে জেরবার করতে লাগল। শেষ পর্যন্ত দু-হাত ওপরে তুলে সদানন্দ চ্যাঁচাল, ‘সেসব কিস্যু হয়নি। আমাকে ধরেনি আর আমার স্ত্রীকে জেরাও করেনি। যাও তোমরা।’

    সদানন্দ দোকানের ভেতরে ঢুকে গেলে লোকজন সিদ্ধান্তে আসল সদানন্দ নিশ্চয়ই টাকা খাইয়ে মেজবাবুকে ম্যানেজ করে ফেলেছে। এরকম কেস হাতে পেয়েও পুলিশ কি এমনি এমনি ছেড়ে দেবে? টাকায় কী না হয়?

    ভিড় হালকা হয়ে গেলে কর্মচারীদের দায়িত্ব বুঝিয়ে সদানন্দ রিকশায় চেপে বাড়িতে চলে এল। বন্ধ দরজার কড়ায় শব্দ করতে বউয়ের গলা ভেসে এল, ‘কে? এখন বাড়িতে নেই, দোকানে আছে, সেখানে যান।’

    সদানন্দ হাসল। বউটা ভালোই। সে মিছিমিছি মাথা গরম করত। গলা তুলে বলল, ‘আমি, সদানন্দ।’

    দরজা খুলে দিয়ে চলে যাচ্ছিল বউ, সদানন্দ ডাকল, ‘আরে শোনো! অল্পের জন্যে তোমার আমার জেলের ভাত খাওয়া হল না!’

    বউ অবাক হয়ে ফিরে তাকাল। ‘তার মানে?’

    ‘পুলিশ এসেছিল। থানার মেজবাবু। এসেছিল আমাকে অ্যারেস্ট করতে। আমি নাকি তোমার ওপর এত অত্যাচার করেছি যে তুমি আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলে। যত বলি আমি কিছু করিনি তো বিশ্বাস করে না। তোমাকে জেরা করতে আসতে চাইছিল। বলল, আত্মহত্যা করতে চাওয়াও আইনের চোখে অপরাধ। তার জন্যে জেলে যেতে হয়।’

    ‘তারপর?’

    ‘তারপর কী হবে? আমি ম্যানেজ করে ফেললাম।’ সদানন্দ হাসল, ‘কী কাণ্ড হত যদি তুমি মরে যেতে! বাকি জীবনটা জেলে কাটাতে হত। এই বাড়ি, দোকান তখন লুঠ হয়ে যেত। উলটোটাও ভাবো, আমাকে ছেড়ে দিয়ে যদি তোমাকে ধরে নিয়ে যেত, যেতই, তুমি জেলে থাকতে কী করে?’

    ‘কেন? সেখানে খেতে দেয় না?’

    ‘দেয়। ভালো খাবার নিশ্চয়ই দেয় না।’

    ‘যাই দিক তা আমাকে শাস্তি দিচ্ছে বলে দিতে বাধ্য হচ্ছে। আমাকে তো কারও দয়ায় খেতে হচ্ছে না।’ বউ জিজ্ঞাসা করল, ‘কীভাবে ম্যানেজ করলে?’

    ‘ওসব কথা ছেড়ে দাও। দয়া করে আর আত্মহত্যার চেষ্টা কোরো না।’ সদানন্দ ভেতরের ঘরে যেতেই জানলা দিয়ে বাগান দেখতে পেল। ভালো পেঁপে হয়েছে গাছে। তারপরই নজরে পড়ল ওদিকের ঘরের দরজা খোলা। সে জিজ্ঞাসা করল, ‘পরিষ্কার করার পর ওদিকের ঘরের দরজা বন্ধ করোনি? বেড়াল ঢুকে নোংরা করবে জানো না।’

    ‘ঘরে লোক আছে।’

    ‘অ্যাঁ? লোক? লোক কোত্থেকে এল?’

    ‘নতুন মাস্টার, যিনি ভাড়া নিয়েছেন। ফিরে এসেছেন।’

    ‘ফিরে এসেছে? বললেই হল। ওটা ওর বাবার সম্পত্তি নাকি? অসুখ করুক আর যাই করুক, একবার যখন বেরিয়ে গেছে তখন আর আমার ভাড়াটে নয়। একটা টাকা এখনও দেয়নি। ভাড়াটে বললেই হল।’ পেছনের দিকে যাওয়ার দরজা খুলতে গেল সদানন্দ উত্তেজিত হয়ে।

    ‘ওদিকে যাচ্ছ কেন? কিছু বলার থাকলে ডাক্তারবাবুকে গিয়ে বলো।’

    থমকে দাঁড়াল সদানন্দ। ‘ডাক্তারবাবু? এর মধ্যে তিনি কোত্থেকে আসছেন?’

    ‘তিনিই সঙ্গে করে ওঁকে পৌঁছে দিয়ে গিয়েছেন। বলেছেন তুমি যদি না চাও মাস শেষ হলে অন্য জায়গায় ভাড়া নিয়ে চলে যেতে।’

    ‘হ্যাঁ। ঢোক গিলল সদানন্দ, ‘তাহলে অবশ্য আলাদা কথা। থাক তাহলে। ডাক্তারবাবুর সম্মানে আমি আপাতত কিছু বলছি না।’

    এই সময় বাইরে থেকে একটা গলা ভেসে এল, ‘সদানন্দ আছ নাকি?’

    ‘কে?’

    আমি নন্দলাল। শুনলাম ডাক্তার বনবিহারী নাকি তোমাকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন পুলিশের থাবা থেকে। খুব উপকার করেছেন তোমার। নইলে শ্রীঘরে যেতে হত। চলি।’

    সদানন্দর দিকে তাকাল তার বউ। সদানন্দ বলল, ‘ওই তো, বললাম না। আমি ডাক্তারবাবুকে দিয়ে ম্যানেজ করেছি মেজবাবুকে। হে-হে!’ বউ দ্রুত সরে গেল সামনে থেকে।

    সদানন্দ বুঝতে পারল নন্দলাল যখন জেনে গেছেন তখন খবরটা আর চাপা থাকবে না। ডাক্তারবাবু তাদের জেল যাওয়া থেকে রক্ষা করেছেন অতএব তার উচিত ওঁর কথা মান্য করা। সে পেছনের দরজা খুলে বাগান পেরিয়ে এসে ডাকল, ‘নতুন মাস্টার আছো নাকি?’

    ‘সুজয় তার তক্তাপোশে শুয়ে বই পড়ছিল; উঠে বসল। ততক্ষণে ঘরের ভেতর পৌঁছে গিয়েছে সদানন্দ, ‘থাক থাক, শুয়ে থাকো, অসুস্থ মানুষ, উঠতে হবে না।’

    ‘আমি এখন অনেকটাই সুস্থ।’ সুজয় বলল।

    ‘হতেই হবে। যিনি তোমার চিকিৎসা করছেন তাঁর তুলনা নেই।’

    সুজয় সোজা হয়ে বসে বলল, ‘আপনি এসে ভালো করেছেন। কথা ছিল।’

    ‘অবশ্যই। বলো না।’

    ‘আমি সামনের মাসে এক তারিখে স্কুল থেকে অ্যাডভান্স পাব, পেয়ে আপনার এই ক’দিনের বাড়িভাড়া মিটিয়ে দেব। এর মধ্যে অন্য কোথাও ঘর নিশ্চয়ই পেয়ে যাব।’

    ‘এসব কী বলছ ভাই, আমি বুঝতে পারছি না।’

    ‘আমার অনুমান আপনি চাইছেন না আমি এখানে ভাড়াটে হয়ে থাকি!’

    ‘কে বলল?’ হাসল সদানন্দ।

    ‘অ্যাঁ?’ চোখ বড় হল সুজয়ের।

    ‘তুমি এরকম ভাবলে কী করে? এত বড় বাড়িতে আমরা দুজন প্রাণী থাকি। দুজনে কতক্ষণ আর কথা বলা যায়। এদিকের এই ঘর তো খালিই পড়ে থাকে। তোমার মতো একজন ভদ্রমাস্টারমশাই যদি আমাদের সঙ্গে বাস করে তাহলে দুটো কথা বলে বাঁচব। হ্যাঁ, প্রথমে একটু—’, থামল সদানন্দ, চারদিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করল, ‘তোমার সেই দাদাটিকে দেখছি না, বেরিয়েছেন নাকি?’

    ‘তিনি তাঁর কাজে চলে গিয়েছেন।’

    ‘তাহলে তো হয়েই গেল।’

    ‘আপনি ঠিক বলছেন তো?’

    ‘অবশ্যই। দ্যাখো, ডাক্তারবাবুর মতো মানুষ তোমাকে অসুস্থ অবস্থায় নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে সুস্থ করে তুললেন। খারাপ লোক হলে করতেন? তা ছাড়া তিনি যখন নিজে তোমাকে এই ঘরে নিয়ে এসেছেন তখন তাঁর ওপর আমি কথা বলতে পারি? বুঝলে, তিনি আমার কাছে, যাকে বলে ভগবান!’

    কথাগুলো বলে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে যেতে আবার ফিরে দাঁড়াল সদানন্দ, ‘থাকার সমস্যা তো থাকছে না, খাবে কোথায়?’

    ‘দুবার বেরুতে হবে। আপনার হোটেল থেকে খেয়ে নেব।’

    ‘সর্বনাশ।’

    ‘বুঝলাম না।’

    ‘এখনও তো বেশ দুর্বল দেখাচ্ছে। হোটেলের শুকনো লঙ্কা আর বেশি মশলা দেওয়া রান্না পেটে সইবে? একবার পেটের রোগ ধরে গেলে সারাজীবন ভোগাবে মশাই। দিতে হয় একটা কিছু ধরে দেবে, আমি আমার বউকে বলছি দু-বেলা ডাল-ভাত করে দিতে। দুজনের রান্না থেকে তিনজনের অনায়াসে হয়ে যায়। আরে, তোমার জন্যে তো আলাদা কিছু করতে হচ্ছে না।’ সদানন্দ বেরিয়ে গেলে সুজয় ভেবেই পাচ্ছিল না, লোকটার এত পরিবর্তন হল কী করে? একেই কি বলে একশো আশি ডিগ্রি ঘুরে যাওয়া? কিন্তু একটা কিছু ধরে দেবে বললে তো হবে না, অঙ্কটা আগেই ঠিক করে নিতে হবে। ইনি আবার ডিগবাজি খাবেন কিনা কে জানে!

    সদানন্দের বউ প্রস্তাব শুনে অবাক হয়ে গেল। সেটা বুঝতে পেরে সদানন্দ বোঝানোর ভঙ্গি করে বলল, ‘ডাক্তারবাবু কী মনে করবেন ভেবে দ্যাখো! অসুস্থ ছেলেটা এখান থেকে অতদূরের দোকানে খেতে যাবে, আসবে, অথচ আমরা বাড়িতে বাড়ির রান্না খাব, এটা ওঁর ভালো লাগবে? মুখে কিছু বলবেন না কিন্তু আমরা তো পাষাণ নই।

    ‘বুঝলাম। কিন্তু ভাতের থালা ওই ঘরে পৌঁছে দেবে কে?’ সদানন্দর বউ জিজ্ঞাসা করল, ‘তুমি তো দেড়টা নাগাদ ঘরে ফেরো, ততক্ষণ অসুস্থ লোকটা না খেয়ে থাকবে?’

    ‘একটা কাজের মেয়ে থাকলে ভালো হত।’

    ‘তাকে তো মাইনে দিতে হত।’

    ‘তা অবশ্য।’

    ‘বিনা মাইনের এই আমি যদি গিয়ে দিয়ে আসি?’

    ‘ঢোঁক গিলল সদানন্দ। ‘তা ভাইয়ের মতো তো। দিনে দুবার গিয়ে দিয়ে আসা! তাতে নিশ্চয়ই মহাভারত অশুদ্ধ হবে না।’ সে অন্যদিকে মুখ ঘোরাতেই তার বউয়ের ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি চলকে উঠল।

    ছুটি শেষ হওয়ার দিনে সন্তানকে নিয়ে বনবিহারী বাসে উঠলেন ওর জিনিসপত্র সমেত। প্রতি বছর এই যাওয়ার দিনে সন্তানের মুখ ভার হত। বোঝাই যেত, যেতে তার ইচ্ছে করছে না। বাসস্টপে কালীচরণের কনুই ধরে থাকত শক্ত করে। এবার তা করল না। বেশ সহজ স্বাভাবিক দেখাচ্ছিল তাকে যেটা বনবিহারীর ভালো লাগল না। গতকাল সন্তান সদানন্দর বাড়িতে গিয়ে সুজয়ের সঙ্গে দেখা করে এসেছে তাঁকে কিছু না বলে। কালীচরণও জানতে পারেনি। আশেপাশে বেড়াতে যাওয়ার নাম করে চলে গিয়েছিল। রাত্রে খেতে বসে নিজেই বলেছিল সন্তান। খুব বিরক্ত হলেও কিছু বলেননি বনবিহারী। যাওয়ার মুখে ওকে বকাবকি করতে ইচ্ছে হয়নি।

    নীচের শহরে পৌঁছে রিকশা নিয়ে ওর স্কুল হোস্টেলে গিয়ে দেখলেন বেশ কয়েকজন আবাসিক এর মধ্যে এসে গেছে। হোস্টেলের ভেতরে অভিভাবকদের যাওয়া কর্তৃপক্ষ পছন্দ করেন না। স্বাভাবিক মুখে তাঁর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে সন্তান ভেতরে চলে গেল। পেছনে দারোয়ান, ওর মালপত্র নিয়ে।

    হোস্টেলের অফিস ঘরে গেলেন বনবিহারী। যিনি সুপার তিনি স্কুলেরই শিক্ষক। সুপার হাতজোড় করলেন, ‘আসুন ডাক্তারবাবু। নাতি এসে গেছে।’

    ‘হ্যাঁ। এইমাত্র এল।’

    ‘ছেলেরা আগের দিন এলে আমাদের তো হয়ই, ওদেরও সুবিধে হয়। এই কথাটা অনেক অভিভাবক বুঝতে পারেন না। কেমন আছেন?’

    ‘ভালো। আপনাকে একটা অনুরোধ জানাতে এলাম।’

    ‘বলুন।’

    ‘আমি বা আমার কাজের লোক কালীচরণ ছাড়া আর কেউ যদি সন্তানের সঙ্গে দেখা করতে আসে আপনি অনুমতি দেবেন না।’

    ‘অবশ্যই। কখনও বলেননি, এবার কি কিছু হয়েছে?’

    ‘এখনও হয়নি, আর কারও সঙ্গে দেখা না করলে ওরই মঙ্গল হবে। আচ্ছা! নমস্কার!’ বনবিহারী খানিকটা স্বস্তি নিয়ে বেরিয়ে এলেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅর্জুন সমগ্র ৫ – সমরেশ মজুমদার
    Next Article বুকের ঘরে বন্দি আগুন – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }