Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আগুনবেলা – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প575 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কাঠকয়লার আগুন – ১৮

    আঠারো

    স্কুল থেকে বেরিয়ে বনবিহারী বুঝতে পারছিলেন না তাঁর কী করা উচিত? তারপর একটা রিকশা ডেকে থানায় যেতে বললেন। সন্তানের কী হল তা না জেনে তিনি বাড়িতে স্থির থাকতে পারবেন না। রিকশা চলছিল মফসসল শহরের পথ দিয়ে। সন্তানের শেষ প্রশ্নটা আবার মনে এল তাঁর। ছেলেটা কী করে জানল সুন্দরবনে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং তাদের সঙ্গে একজন মহিলা ছিল! কালীচরণ যে এ কথা বলতে পারে না সে-ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত। তাহলে? এমন কেউ নিশ্চয়ই আছে যে তাঁদের সুন্দরবনে দেখেছে এবং এই তল্লাটে পৌঁছে গেছে। এতগুলো বছর পরে সেই লোক কী করে এখানে এল? তাঁর এখন কী করা উচিত? সোজা হয়ে বসলেন বনবিহারী। নাঃ, আর লুকোচাপা করে কোনও লাভ নেই। যা সত্যি তা খোলাখুলি সন্তানকে বলে দেওয়া উচিত। বয়স বেশি না হলেও ও পরিণত বয়স্ক মানুষের মতোই কথা বলেছে। সত্যি কথা শুনলে নিশ্চয়ই ছেলেমানুষের মতো প্রতিক্রিয়া দেখাবে না।

    কিন্তু ঠিক কী বলবেন তিনি? তোমার বাবা এবং মা উগ্রপন্থীদের দলে ছিল। এনকাউন্টারে তোমার বাবা মারা যায়। তোমার মাকে হাসপাতালে ভরতি করি আমি। সেখানে তোমার জন্ম হয়। তোমরা আমার বাড়িতেই ছিলে। কিন্তু একসময় দেখা গেল তোমার বাবা-মায়ের সঙ্গীরা পিছু ছাড়ছে না। পুলিশ জানতে পারলে আমরা বিপদে পড়ে যাব বলে সব ছেড়ে তোমাদের নিয়ে সুন্দরবনে চলে গিয়েছিলাম। সেখানে এক এনজিও-তে ডাক্তারি করতাম। হঠাৎ একদিন তোমার মা তোমাকে ফেলে রেখে আগের পরিচিত কারও সঙ্গে উধাও হয়ে গিয়েছিল। সেই থেকে তুমি আমার কাছেই থেকে গেছ। তোমাকে আমি যত্ন করে বড় করছিলাম। আশ্চর্য ব্যাপার, তুমি যখন হোস্টেলে থেকে ওইসব ব্যাপারে জড়িয়ে যাচ্ছ ঠিক তখনই তোমার মা ফিরে এল আমার বাড়িতে। ওকে কোনও প্রশ্ন করলে লাভ হয় না। কারণ সে কথা বলতে পারে না।

    এসব শোনার পরে সন্তানের কী প্রতিক্রিয়া হবে? যে মা তাকে ত্যাগ করে চলে গিয়েছিল তার সঙ্গে কী সম্পর্ক হবে তার? যাই হোক, বনবিহারী ঠিক করলেন, যা সত্যি তা আর লুকোবেন না। একমাত্র সমস্যা, পুলিশ যদি জানতে পারে তাহলে তাঁকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। উগ্রপন্থী দলের একটি মেয়েকে শেল্টার দেওয়ার অপরাধে তাঁকে জেলেও যেতে হতে পারে। কী করবেন তিনি? তারপরেই মনে হল, সন্তান যেমন সব খবর একটু একটু করে জানছে, যারা জানাচ্ছে তারা তো পুলিশকেও জানিয়ে দিতে পারে। কার কাছে লুকোবেন তিনি?

    থানায় ঢোকা মাত্র একজন সাবইন্সপেক্টর জিজ্ঞাসা করলেন, ‘বলুন, কী চাই?’

    ‘সেকেন্ড অফিসার কি থানায় আছেন?’

    ‘ওঁকে চেনেন?’

    ‘আজই পরিচয় হয়েছে। ওঁর নাম তো রমেন দত্ত।’ বনবিহারী বললেন, ‘আমার নাম বনবিহারী, পেশায় ডাক্তার।’

    ‘ও। বসুন। উনি এখন জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। ওই চেয়ারে বসুন।’

    অপেক্ষার যেন আর শেষ নেই। ঘণ্টা দেড়েক কেটে যাওয়ার পর বনবিহারী যখন আর ধৈর্য রাখতে পারছেন না তখন রমেন দত্ত বেরিয়ে এলেন, ‘একী! আপনি এখানে বসে আছেন?’

    ‘ছেলেটাকে থানায় রেখে যাই কী করে!’ বনবিহারী বললেন।

    একটা চেয়ার টেনে নিয়ে বনবিহারীর সামনে বসে সিগারেট ধরালেন রমেন দত্ত, ‘আপনি যার জন্যে এত উদ্বিগ্ন হয়ে আছেন তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, ডক্টর বনবিহারী তোমার কে হন? সে জবাব দিয়েছে, উনি আমার অভিভাবক ছিলেন। কোনও রক্তের সম্পর্ক নেই। কথাটা কি সত্যি?’

    ম্লান হাসলেন বনবিহারী, ‘হ্যাঁ। কিন্তু রক্তের বাইরের কোনও কোনও সম্পর্ক রক্তের সম্পর্কের থেকেও বেশি আপন হয়ে ওঠে।’

    মাথা নাড়লেন রমেন দত্ত, ‘হয়। কিন্তু সন্তানের কথার ধরন থেকে সেটা মনে হল না। আচ্ছা, সত্যি ও আপনার কেউ হয় না?’

    ‘রক্তের সম্পর্কের কেউ নয়।’

    ‘কোথায় পেয়েছিলেন ওকে?’

    শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা এল। বনবিহারী খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নিলেন, আর মিথ্যে বলবেন না। বললেন, ‘ওর মা তখন গর্ভবতী। প্রসব বেদনা উঠেছে কিন্তু প্রসব হচ্ছে না। আমাকে কল দেওয়া হয়েছিল। একটু পরীক্ষা করে বুঝতে পারলাম সিজার করতে হবে। অপারেশন না করলে বাচ্চা ও মা কেউ বাঁচবে না। এটা জানাতেই মেয়েটির সঙ্গীরা যেন বিপাকে পড়ল। ডাক্তার এবং মানুষ হিসেবে ওর দায়িত্ব না নিয়ে পারলাম না। সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলাম ওকে। সেখানে অপারেশনের পর সন্তানের জন্ম হল। কিন্তু ওদের নিয়ে যাওয়ার জন্যে কেউ এগিয়ে এল না। ভর্তির সময় হাসপাতালের খাতায় অভিভাবক হিসেবে আমার নাম না লিখে উপায় ছিল না।’

    সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়লেন রমেন দত্ত, ‘ওর সঙ্গীদের আপনি চিনতেন?’

    ‘না। আমি কখনও দেখিনি।’

    ‘তারা কোথায় থাকত তা জেনেছেন?’

    ‘আমাকে একটা জঙ্গলের ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। বাচ্চা হওয়ার পর তাদের আর দেখিনি। শুনেছি পুলিশের গুলিতে তারা মারা যায়।’

    ‘আই সি। মেয়েটি উগ্রপন্থীদের একজন!’

    ‘আমার জানার কোনও উপায় ছিল না।’

    ‘কেন? মেয়েটির সঙ্গে কথা বললেই তো—।’

    ‘জানা যেত না। মেয়েটি বাকশক্তিরহিত। ওর নাম পর্যন্ত আমি জানি না।’

    ‘ব্যাপারটা থানায় জানিয়েছিলেন?’

    মাথা নাড়লেন বনবিহারী, ‘না। মনে হয়েছিল পুলিশ তো মেয়েটির সঙ্গীদের যা শাস্তি দেওয়ার দিয়েই দিয়েছে। যে বাচ্চা জন্মেছে সে তার মাকে ছেড়ে বাঁচতে পারে না। মেয়েটিকে দেখে বুঝতে পেরেছিলাম সে কাউকে ভালোবেসে ওই দলে ছিল, নিজে কোনও অন্যায় করতে পারে না। তা ছাড়া সেসময় খুব ধরপাকড় চলছিল। আমি ভয় পেয়েছিলাম, পুলিশ আমাকে বুঝতে না পেরে গ্রেপ্তার করবে ওদের সাহায্য করার অভিযোগে। কিন্তু বিশ্বাস করুন, একটি মেয়েকে মরে যেতে দেখেও আমি যদি ফিরে আসতাম তাহলে পরের দিন অন্য কোনও পেশেন্টকে দেখতে পারতাম একজন ডাক্তার হয়ে?’

    ‘হয় তো। তবু বলব, আপনি কাজটা ঠিক করেননি। পুলিশকে জানানো উচিত ছিল। সন্তানের সঙ্গে তার মায়ের সম্পর্ক কীরকম?’

    ‘সম্পর্ক তৈরি হওয়ার কোনও সুযোগ হয়নি। ওর হামাগুড়ি দেওয়ার আগেই মেয়েটি উধাও হয়ে গিয়েছিল। কেন গিয়েছিল তা জানি না। হঠাৎ কয়েকদিন হল, এতগুলো বছর পরে সে ফিরে এসেছে।’

    ‘সন্তানের মায়ের নাম কী?’ রমেন দত্ত সিগারেট শেষ করলেন।

    ‘জানি না। আমরা তার নাম রেখেছি মামণি।’

    ‘আমরা মানে?’

    ‘আমি আর আমার কাজের লোক, কালীচরণ।’

    ‘ওই মহিলার আচরণ কীরকম?’

    ‘একদম স্বাভাবিক।’

    ‘এই যে উনি আবার ফিরে এসেছেন, এতদিন কোথায় ছিলেন আপনি জানেন না। ওঁর উগ্রপন্থী সঙ্গীরা এখনও যোগাযোগ রেখে চলেছে কিনা তা আপনি জানেন?’

    ‘বোধহয় যোগাযোগ নেই। উলটে সে সঙ্গীদের ভয় পাচ্ছে বলে কালীচরণের কাছে শুনেছি। কালীচরণকে এড়িয়ে কেউ ওর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে না।’

    ‘কিন্তু ডাক্তারবাবু, আপনার উচিত ছিল, এবারে ও আসার পর থানায় গিয়ে সব কথা খুলে বলা। জেলে ও বেশি নিরাপদ থাকত। আচ্ছা, সুজয় মাস্টারকে তো আপনি চেনেন। আপনার বাড়িতে অসুস্থ অবস্থায় কিছুদিন ছিল। তার কী ভূমিকা?’

    ‘কী ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেন?’

    ‘সন্তানের ব্যাপারে।’

    ‘ব্যাপারটা আমার কাছে অস্পষ্ট। তবে ওদের মধ্যে কথা হয়েছে। বিশেষ করে সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতার খবর সন্তান ওর কাছেই জানতে পায়।’ বনবিহারী বললেন।

    ‘সুজয় মাস্টার স্কুলে এসে সন্তানের সঙ্গে দেখা করেছেন।’

    ‘হ্যাঁ। খবরটা আজই শুনলাম।’

    ‘দেখুন ডাক্তারবাবু, সন্তানকে এখনই ছেড়ে দিতে পারছি না। ওকে আরও জেরা করা প্রয়োজন। কিন্তু আপনি ভেবে দেখুন কী করবেন। আমার মনে হয় ফিরে গিয়ে আপনাদের থানায় পুরো ব্যাপারটা লিখিত ভাবে জানিয়ে দিন।’ রমেন দত্তের কথা শেষ হওয়া মাত্র থানার ভেতর থেকে চিৎকার ভেসে এল, ‘ধর-ধর, পালাচ্ছে, পালিয়ে যাচ্ছে।’

    রমেন দত্ত দ্রুত দৌড়ে গেলেন ভেতরে। বনবিহারী বুঝলেন কোনও ধৃত ব্যক্তি পালাবার সুযোগ করে নিয়েছে। হঠাৎ তাঁর মনে হল এত কথা খোলাখুলি অফিসারকে না বললেই হত। সঙ্গে-সঙ্গে মাথা নাড়লেন তিনি, না, বলে ঠিক কাজই করেছেন। থানা থেকে কিছু লোক দৌড়ে বেরিয়ে গেল। রমেন দত্ত ফিরে এলেন চিন্তিত মুখে, ‘ডাক্তারবাবু, আমাকে একদম বোকা বানিয়ে দিল ছেলেটা।’

    ‘মানে?’

    ‘ওর বিরুদ্ধে কোনও চার্জ এখন পর্যন্ত নেই, কথা বলার জন্যে থানায় নিয়ে এসেছি তাই বন্দিদের যেভাবে রাখা হয় তা রাখিনি। সেই সুযোগটা নিয়ে পেছনের উঠোনে নেমে পাঁচিল টপকে পালিয়ে গেল। আরে পালিয়ে তুই কোথায় যাবি? এখন তো ওর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ তৈরি হয়ে গেল।’ রমেন দত্ত সিগারেট ধরালেন।

    ‘সন্তান থানা থেকে পালিয়ে গিয়েছে!’ উঠে দাঁড়ালেন বনবিহারী।

    ‘হ্যাঁ। কোথায় যেতে পারে বলে আপনার ধারণা।’

    ‘আমি কী বলব! আমার মাথা কাজ করছে না। ও পালাল কেন? ওইটুকুনি ছেলে! আঃ। ঈশ্বর!’ বনবিহারী ছটফট করছিলেন।’

    ‘আরে! এখন ঈশ্বরকে ডেকে কী হবে। শুনুন। সন্তান যদি আপনার বাড়িতে যায় তাহলে ওকে আটকে রেখে থানায় খবর দেবেন। আপনার লোকাল থানাকে সব জানিয়ে দিচ্ছি। আমার বিশ্বাস সে বাড়িতে ফিরবেই। যান।’ রমেন দত্ত ভেতরে চলে গেলেন।

    আজ স্কুল ছুটি। সুজয় ভাতেভাত বসিয়ে দিয়েছিল স্টোভে। রাতের খাবার সে এইভাবেই সারে। সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় সদানন্দর হোটেলে একবেলা খাওয়ার মাসচুক্তি করে নিয়েছে।

    দরজায় শব্দ হল। বলাইচাঁদবাবুর স্ত্রী ঘরে এসে দাঁড়িয়ে একটা হাত কোমরে রাখলেন, ‘কি! হাত পুড়িয়ে রান্না হচ্ছে?’

    সুজয় হাসল, ‘রান্না হচ্ছে, তবে হাত পোড়েনি।’

    ‘একটা বিয়ে করলেই তো হত। বউ রেঁধে দিত।’ মুখে পান বাড়িওয়ালির।

    ‘কপালে না থাকলে যা হয়—। বলুন।’

    ‘কী আর বলব। দেখতে এলাম। কোনও অসুবিধে হচ্ছে না তো?’

    ‘বিন্দুমাত্র না। বলাইবাবু কেমন আছেন?’

    ‘থাকা আর না থাকা। তবে হ্যাঁ, ও আছে বলে আমি অনেক সমস্যা থেকে বেঁচে আছি। ভগবানকে রোজ বলি, হাঁটতে না পারুক, এমনকী কথা যদি না বলতে পারে তাও আচ্ছা, কিন্তু লোকটাকে প্রাণে মেরো না।’ হাসলেন মহিলা।

    ‘সে কী!’

    ‘আমি তো এখনও বুড়ি হয়ে যাইনি। অনেক দেরি সেটা হতে। মাথার ওপর পুরুষ মানুষ থাকা মানে একটা ছাদ থাকা। কাক চিল শকুন ঠোকরাতে পারবে না। স্বামী কথা না বলতে পারুক, এই সিঁদুর-শাঁখা হল বর্মের মতো। আপনি জানেন না, এখানকার বিবাহিত লোকদেরই নোলা বেশি। আহা, এলাম, বসতে বলছেন না যে?’

    সুজয় উঠে দাঁড়াল, ‘সরি। বসুন। এটা তো আপনারই বাড়ি।’

    ‘বাড়িটা আমার তাতে সন্দেহ নেই।’ বাড়িওয়ালি সুজয়ের তক্তাপোশের একপাশে শরীর রাখলেন, ‘কিন্তু ঘরটা তো আপনার। যদ্দিন ভাড়া দেবেন তদ্দিন এই দরজার এপাশে বিনা অনুমতিতে ঢোকার অধিকার আমার নেই।’

    ‘বাঃ। বেশ সুন্দর কথা বলেন তো।’

    ‘যাক গে, আমি এলাম একটু সাবধান করে দিতে।’

    ‘আমি কি কোনও অন্যায় করেছি!’

    শব্দ করে হেসে উঠলেন মহিলা, ‘এ যে ঠাকুরঘরে কে-র মতো হল। না, আপনি কেন অন্যায় করবেন! এখানকার আইবুড়ো মেয়েগুলো আপনাকে একা পেলে চিবিয়ে খেয়ে নিতে রাজি। ওই ঠিকে মাস্টারনি তো এর মধ্যেই গলা অবধি ডুবে গেছে। আমি বলে দিয়েছি, দেখা করতে হলে বাইরে গিয়ে দেখা করো, আমার বাড়িতে এসে লীলা করা চলবে না। হয়তো কথাটা শুনে আপনার খারাপ লাগছে—!’

    ‘না। প্রত্যেক বাড়ির নিজস্ব নিয়ম থাকে। এটাও তেমনি।’

    ‘ঠিক। তা ছাড়া একজনকে আসতে দিলে অন্যদের ঠেকাবো কী করে?’

    সুজয় লক্ষ করছিল মহিলার একটা মুদ্রাদোষ আছে। কথা বলার সময় মাঝে মাঝেই বুকের আঁচল টানেন। আর যতবার টানেন ততবার সেটা আরও এলিয়ে পড়ে। মধ্যতিরিশের এই মহিলার শরীর-স্বাস্থ্য বেশ মজুবত, বুকের গড়নে টোল পড়েনি বলেই মনে হচ্ছিল। মহিলা জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আমার নাম জানা আছে?’

    ‘বলাইচাঁদবাবুর স্ত্রী বলেই সবাই—।’

    ‘উঃ। আমার বাবা-মা একটা নাম রেখেছিলেন। শিউলি। স্কুলের নাম ছিল শেফালিকা। আপনি আমাকে শিউলি বউদি বলে ডাকবেন।’

    ‘বেশ। এটাই ভালো হল।’

    ‘কী রান্না হল?’

    ‘দুরকমের সেদ্ধ আর ভাত।’

    ‘ওম্মা! এই জোয়ান বয়সে বিধবার খাবার কেন? ঠিক আছে, আমি তরকারি আর মাছ পাঠিয়ে দিচ্ছি। আজ আমার পার্লার বন্ধ।’

    ‘কেন?’

    ‘বেস্পতিবার যে। চুলে নখে কাঁচি ছোয়াবে না মা-ঠাকরুনেরা। আচ্ছা, চলি।’ উঠে পড়লেন শিউলি। এক পা এগিয়ে সুজয় বলল, ‘সময় পেলে আসবেন।’

    ‘পার্লারের বাইরে তো মুখ বন্ধ করে বসে থাকি। আসতে বললে তো কথা বলে বাঁচব। তখন তাড়িয়ে দেবে না তো!’ চোখ ঘোরালেন শিউলি।

    ‘কী যে বলেন!’

    ‘এই যা। তোমাকে তুমি বলে ফেললাম। আচ্ছা, তুমিও আমাকে তুমি বোলো। কাল রাত্রে দেখলাম অনেক রাত পর্যন্ত জেগেছিলে, আলো জ্বলছিল।

    ‘হ্যাঁ। পড়ছিলাম।’

    ‘আমি জেগে থাকি। ঘুম আসে না বলে। তখন চলে এসে তোমার সঙ্গে জমিয়ে গল্প করব। রাজি?’

    ‘নিশ্চয়ই।’

    শিউলির চলে যাওয়া দেখল সুজয়। আচমকা যেন মহিলার শরীরের বয়স অনেক কমে গিয়েছে।

    ঠিক দুপুর দুটোয় সুজয়ের কানে এল, ‘উনি ওই ঘরে আছেন। যান।’ সম্ভবত কাজের লোকের গলা। তারপরেই দরজায় টোকা পড়ল।

    দরজা খুলল সুজয়। খুলেই অবাক হল, ‘একী! তুমি?’

    টুক করে ঘরে ঢুকে পড়ল সন্তান। নিজেই দরজা ভেজিয়ে বলল, ‘সুজয়দা, আমি পালিয়ে এসেছি। বাঁচান।’

    ‘কোত্থেকে পালিয়ে এলে? হোস্টেল থেকে?’

    ‘না। থানা থেকে।’

    ‘থানা?’

    তক্তাপোশে বসে পুরো ব্যাপারটা বলল সন্তান।

    ‘খুব অন্যায় করেছ। পুলিশ যখন তোমাকে অ্যারেস্ট করেনি তখন তুমি পালাতে গেলে কেন?’ চিন্তিত হল সুজয়।

    ‘আমাকে এমন চাপ দিচ্ছিল অফিসারটা যে মনে হচ্ছিল বেশি চাপ দিলে সব কথা বলে ফেলব। জয়ন্তদা মারা গিয়েছে কিন্তু অন্যদের নাম ঠিকানা জানতে চাইছিল। আপনার কথাও। তখন পালাবার কথা ভাবলাম।’ সন্তান বলল।

    ‘কাজটা ঠিক করোনি। তোমার বিরুদ্ধে ওদের কাছে কোনও অভিযোগ ছিল না। অনুমানে তোমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছিল। এখন তো অভিযোগ তৈরি হয়ে গেল। তুমি এখানে কীভাবে এলে?’ সুজয় তাকাল।

    ‘বাসে।’

    ‘চৌমাথায় নেমে এখানে হেঁটে এলে?’

    ‘না। গঞ্জে ঢোকার আগেই বাস থেকে নেমে জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে এসেছি। কেউ দেখতে পায়নি। জঙ্গল থেকে বেরিয়ে এখানে আসার সময় দু-তিনজন দেখেছে।’

    ‘এখান থেকে কোথায় যাবে?’

    ‘জানি না।’

    ‘আশ্চর্য! তুমি ছেলেমানুষ কিন্তু এতটা তা ভাবিনি।’ সুজয় বলল, ‘এক কাজ করো। তুমি ফিরে যাও। যে থানা থেকে এসেছ সেখানে গিয়ে বলো মাকে দেখতে খুব ইচ্ছে হয়েছিল বলে না বলে চলে গেছ। ওরা তোমাকে একটু-আধটু মারধোর করতে পারে। সহ্য করবে। কিন্তু হাজার যন্ত্রণা দিলেও কোনও কথা, যা তুমি জানো, ওদের বলবে না। তোমাকে ওরা একসময় ছেড়ে দেবেই। তোমাকে পালিয়ে বেড়াতে হবে না। সঙ্গে টাকাপয়সা আছে?’ সুজয় জিজ্ঞাসা করল।

    ‘না।’ মাথা নাড়ল সন্তান।

    সুজয় ব্যাগ খুলে কুড়িটি টাকা সন্তানকে দিল, ‘যাও। সোজা গিয়ে বাস ধরো। পরে যোগাযোগ করবে। এখানে যে এসেছিলে তা ওদের বলবে না।’

    ‘মায়ের, মানে যিনি আমাকে পৃথিবীতে এনেছিলেন, তাঁর সঙ্গে দেখা করব না?’

    ‘সময় নষ্ট করার কী দরকার?’

    ‘কিন্তু ওরা তো জিজ্ঞাসা করবে মায়ের সঙ্গে কী কথা হল?’

    ‘ডাক্তারবাবুর বাড়িতে যে মহিলা আছেন তিনি কথা বলতে পারেন না।’

    ‘সেকী! আপনি জানলেন কী করে?’

    ‘সেটা জানার দরকার নেই তোমার। তুমি বলবে বাড়িতে গিয়ে দেখেছ দরজা বন্ধ। অনেক শব্দ করলেও কেউ দরজা খোলেনি। তাই ফিরে এসেছ। যাও।’

    সন্তান একটু দ্বিধা নিয়ে তাকাল। তারপর দ্রুত বেরিয়ে গেল ঘর থেকে। সুজয়ের মনে হল তার এখনই কিছু করা উচিত। যে-কোনও সময় পুলিশ তার কাছে আসতে পারে। তারপরেই সে শ্বাস ফেলল। আশ্চর্য। এখন পর্যন্ত সে আইনের চোখে যা অন্যায় তেমন কোনও কাজ করেনি।

    বিকেল চারটের সময় স্কুলের দারোয়ান এল, ‘মাস্টারমশাই, প্রেসিডেন্ট সাহেব আপনাকে এখনই যেতে বললেন।’

    ‘কেন? অবাক হল সুজয়।

    ‘জানি না।’ দারোয়ান বলল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅর্জুন সমগ্র ৫ – সমরেশ মজুমদার
    Next Article বুকের ঘরে বন্দি আগুন – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }