Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আগুনবেলা – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প575 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    দাউদাউ আগুন – ৭

    সাত

    শিশুর মুখের দিকে তাকিয়ে বসে ছিলেন বনবিহারী। খানিকটা জল পেটে যেতেই আবার সে চোখ বন্ধ করেছে। কি নির্মল প্রশান্তি তার গালে, চিবুকে। এই শিশু আজ জানতেও পারল না সে মাতৃহারা হল। ওর মা যে আর ফিরে আসবে না এ ব্যাপারে বনবিহারীর কোনও সন্দেহ নেই।

    বনবিহারীকে ওইভাবে বসে থাকতে দেখে কালীচরণ বলল, ‘উঠুন। অনেক রাত হয়ে গিয়েছে। যা হওয়ার তা তো হয়েই গেল।’

    বনবিহারী তাকালেন, ‘কালীচরণ, এই শিশুর কি হবে?’

    ‘যার কেউ নেই তার জন্যে ভগবান আছেন। তিনিই একে দেখবেন। আর ও তো ভালো জায়গায় যাচ্ছে, আদরেই থাকবে।’

    ঘণ্টাখানেক বাদে এই বাড়ির সব আলো নিভে গেলেও শিশুর ঘরে একটা নীচু শক্তির আলো জ্বলছিল। বনবিহারী আজ এই ঘরের খাটে, শিশুর শরীর বাঁচিয়ে শুয়েছিলেন। তাঁর ঘুম আসছিল না।

    আজ পর্যন্ত তিনি কোনও জটিলতায় জড়াননি। সকাল থেকে মাঝরাত পর্যন্ত রুগি দেখতে দেখতে বিয়ের বয়সও কাটিয়ে দিয়েছেন। বিয়ে করে একজন ভদ্রমহিলাকে জীবনে আনলে দিনগুলো জটিল হয়ে যেত বলে এখন তাঁর মনে হয়। এই গঞ্জের মানুষের পাশে নিঃস্বার্থভাবে দাঁড়াবার চেষ্টা করেছেন তিনি। একটা ভালো হেলথ সেন্টার হলে এখানকার মানুষ উপকৃত হবে। সেটা প্রায় সম্ভব হতে চলেছে। এছাড়া তাঁর কোনও দুশ্চিন্তা নেই। হঠাৎ ওই বোবা মেয়েটি তাঁর জীবনটাকে অন্যরকম করে দিয়ে গেল। এরা তাঁর মনে বাৎসল্যরস এনে দিয়েছে। শিশুর মুখের দিকে তাকালে মনে বড় মায়া জাগে! উলটোদিকে পুলিশ যদি জানতে পারে তাহলে তারা তাঁকে উগ্রপন্থীদের সাহায্য করার অপরাধে জেলে পুরবে। একজন ডাক্তার এবং মানুষ হিসেবে তিনি কর্তব্য করেছেন এই যুক্তি পুলিশ মানবে না।

    চোখ বন্ধ করলেন বনবিহারী। গত দু’বছর ধরে পশ্চিম বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা, অন্ধ্রপ্রদেশে এই যে আন্দোলন প্রবল হয়ে উঠেছিল, এখন সেটা অনেকটাই স্তিমিত। প্রচুর ভালো ছেলে মারা গিয়েছে পুলিশের গুলিতে। এই একাত্তরের শেষে এসে তাঁর কেবলই মনে হয় এইসব মেধাবী ছেলেগুলো কি নিজেদের ভবিষ্যত, আন্দোলনের ভবিষ্যত কি হবে তা জানত না?’

    ভারতবর্ষ স্বাধীনতা পেয়েছিল কোনও যুদ্ধ না করে। নিরানব্বুই ভাগ ভারতবাসী মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করেনি। স্বাধীনতা দরকার এই বোধ অনেকেরই ছিল না। যদি থাকত তাহলে আজাদ হিন্দ বাহিনী যখন এগিয়ে আসছিল তখন লক্ষ লক্ষ ভারতবাসী এগিয়ে যেত তাদের স্বাগত জানাতে। খাওয়া-পরার মধ্যেই যাদের জীবনের শান্তি তাদের অনেকেই বলেছে, ব্রিটিশ আমল ভালো ছিল। যেহেতু মহাত্মা গান্ধী পুরোভাগে ছিলেন তাই কংগ্রেস ক্ষমতায় এসেছিল। স্বাধীনতার কুড়ি বছর পর পশ্চিম বাংলায় তাদের সরিয়ে বিরোধীরা একত্রিত হয়ে ক্ষমতায় এসেছিল কিছুদিনের জন্যে। এই দুই দলের শাসন ব্যবস্থা অসন্তুষ্ট করেছিল যাদের তারা বিপ্লব চাইল। দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক কাঠামো পালটাতে চাইল চিনের আদর্শে। প্রথম প্রথম সাধারণ মানুষ এদের বুঝতে চাইল, কেউ কেউ মনে মনে সমর্থন করেছিল কিন্তু ক্রমশ স্পষ্ট হল এদের পক্ষে বিপ্লব আনা অসম্ভব।

    বিপ্লব কি কারও বা কোনও দলের পক্ষে এই ভারতবর্ষে করা সম্ভব? এত বড় দেশের এতগুলো প্রদেশের মানুষের ভাষা, আচার, ব্যবহার, ভাবনায় এত পার্থক্য যে সবাই এক হয়ে আন্দোলনে নামবে তা স্বপ্নেও ভাবা যায় না। তাছাড়া পাইপগান বা পেটো নিয়ে শিক্ষিত মিলিটারিদের সঙ্গে লড়াই করা যে আত্মহত্যার সামিল সেটা যখন একটা শিশুও বুঝতে পারে তখন এই ছেলে-মেয়েগুলো ঘর ছাড়ে কোন উন্মাদনায়?

    একাত্তর সাল শেষ হতে বেশি দেরি নেই। বনবিহারী শ্বাস ফেললেন। আজ থেকে দশ বছর পরে এই ছেলেগুলোর কথা ভারতবর্ষের মানুষ মনে রাখবে কিনা সন্দেহ।

    অন্ধকারে সাইকেলটা পিচের রাস্তা ছেড়ে চা-বাগানের মধ্যে ঢুকে পড়ল। এখন পথ মসৃণ নয়। এবড়ো-খেবড়ো মাটির ওপর বুনো ঘাস। সাইকেলের চাকা লাফাচ্ছিল খুব। শেষ পর্যন্ত সাইকেলের রডে বসে থাকা মামণি প্রতিবাদ করল। তার মুখ থেকে গোঙানি বেরিয়ে এল। জোরে সাইকেলের হ্যান্ডেল ধরে নাড়াতে লাগল সে।

    ছেলেটি বলল, ‘কি হচ্ছে? পড়ে যাব এরকম করলে।’

    কিন্তু মামনি নাছোড়বান্দা। সাইকেল থামতেই সে নেমে পড়ে পেটে হাত দিয়ে উবু হয়ে বসল। এখানে যেটুকু আলো তা দূরের তারাদের শরীর থেকে চুঁইয়ে নামছে। তাতে দুটো মানুষের শরীর স্পষ্ট হচ্ছে না। ছেলেটি বিরক্ত হয়ে জিজ্ঞাসা করল, ‘কি হল তোর? শরীর খারাপ লাগছে?’

    মামণি মাথা নেড়ে পেটে হাত দিল। বোঝাল, পেটে ব্যথা করছে।

    ‘একটু বেশি ঝাঁকুনি লেগেছে। বোধহয় পেটের নাড়ি এখনও ভালো করে শুকোয়নি। আচ্ছা, আর একটু কষ্ট কর। সামনের ঝরনা পেরুলেই জঙ্গলের পথ। ওখানে উঁচু-নীচু নেই। ঝাঁকুনি লাগবে না।’ ছেলেটি বলল।

    উত্তরে মামনি মাথা নাড়ল। সে যাবে না!

    ‘তার মানে? তুই এখানে বসে থাকবি?’ ছেলেটি চেঁচাল।

    মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলল মামণি।

    ‘আচ্ছা মুশকিলে পড়া গেল। শোন, এখান থেকে যত তাড়াতাড়ি চলে যেতে পারি তত আমাদের মঙ্গল। একবার জঙ্গলে ঢুকে যেতে পারলে রাতারাতি এই থানার এলাকার বাইরে চলে যেতে পারব। ওঠ!’

    মামণি কোনও প্রতিক্রিয়া দেখাল না। চুপচাপ বসে রইল।

    ছেলেটি সাইকেলটা দাঁড় করিয়ে মেয়েটার পাশে এসে বসল। নরম গলায় বলল, ‘বাচ্চার জন্যে মন কেমন করছে?’

    প্রশ্নটা শোনামাত্র মামণি মাথা নেড়ে জানাল করছে।

    হাসল ছেলেটি, ‘ধ্যুস। ক’দিন আগেও তুই ওটাকে দেখিসনি। ওর জন্যে মন খারাপ করার কোনও মানে আছে? ধর কারও পেটে টিউমার হয়েছে। ডাক্তার সেটা অপারেশন করে বের করে দিল। এও সেরকম। টিউমারটার জন্যে কারও মন খারাপ হয়? বোকা মেয়ে! চল, আস্তে আস্তে যাব।’

    মামণি এবার রেগে গেল। যে ধ্বনি তার গলা থেকে ছিটকে এল তাতে রাগ স্পষ্ট। ছেলেটি ওর দিকে তাকিয়ে বলল, ‘তোর মতলব কি বল তো?’

    মামণি মুখ ফিরিয়ে নিল উলটোদিকে।

    ছেলেটি কয়েক সেকেন্ড দেখল, তারপর দু-হাতে মামণিকে জড়িয়ে ধরতে চাইল। মামণি অবাক হয়ে তাকাতে ছেলেটি বলল, ‘তোকে ছেড়ে আমি যেতে পারি না। শোন, আমি তোকে ভালোবাসি। ভগবান মানি না, কিন্তু পুলিশ আর সবাইকে মেরেছে তোকে-আমাকে মারতে পারেনি যখন তখন আমাদের একসঙ্গে থাকা উচিত।’

    শুনতে শুনতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠছিল মামণি। প্রচণ্ড ধাক্কা দিয়ে ছেলেটিকে ঠেলে ফেলে সে উঠে দৌড়তে শুরু করল। কোথায় যাচ্ছে তা বোঝার চেষ্টা করল না। ছেলেটা সামলে নিল দ্রুত। তারপর মামণির পেছনে দৌড়াতে লাগল।

    চায়ের বাগানের মধ্যে ছুটতে গিয়ে নালায় পা পড়ে হোঁচট খেল মামণি। কিন্তু উঠে দাঁড়াবার আগেই তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল ছেলেটি। দু-হাতে শক্ত করে ধরে হিসহিস করল, ‘আমার কথা কানে যাচ্ছে না? তোর জন্যে এতদিন এখানে ঝুঁকি নিয়ে পড়ে থাকলাম, এই জন্যে? অ্যাঁ!’

    নিস্তেজ হয়ে গেল মামণি। তার তলপেটে ব্যাথা তীব্র হচ্ছিল। মুখ নীচু করে মামণির ঠোঁটে নিজের ঠোঁট চেপে ধরল ছেলেটি। কয়েক সেকেন্ড। তারপর তার হাত উঠে এল বুকের ওপর। নিষ্কৃতি পাওয়ার জন্যে সে মরিয়া হয়ে উঠল। সেই সঙ্গে প্রতিবাদের গোঙানি ছিটকে বেরুল মুখ থেকে। অর্ধভুক্ত, জঙ্গলে কাটানো ছেলেটির শরীর দুর্বল হয়ে পড়ায় মামণি তাকে ঠেলে সরিয়ে দিতে পারল নিজের শরীর থেকে। ছেলেটি আবার হাত বাড়াতে যেতেই পাশে পড়ে থাকা একটা বড় পাথর দু-হাতে তুলে সজোরে ছেলেটার দিকে ছুড়ে দিল মামণি। তারপর দৌড়ে চলে এল সাইকেলটার কাছে। তার পেটে যন্ত্রণা হচ্ছিল। শ্বাস নিতে নিতে পেছন ফিরে তাকিয়ে ছেলেটাকে দেখতে পেল না। খোলা রাতের আকাশের নীচে দাঁড়িয়ে সে জান্তব গলায় কেঁদে উঠল। সেই শব্দে চা বাগানের শেডটি থেকে কয়েকটা পাখি ভয় পেয়ে ডেকে উঠেই থেমে গেল।

    পেট চেপে ধরে ধীরে ধীরে পা ফেলল মামণি। মেঘ জমছিল আকাশে, তারারা নিভল।

    ঝিমুনি এসেছিল বনবিহারীর। আচমকা সম্বিত ফিরতে দেখলেন শিশু কাঁদছে। তাড়াতাড়ি ওকে শান্ত করতে চেষ্টা করতেই বুঝলেন বেচারা জলবিয়োগ করে ভেজা তোয়ালেতে শুয়ে থাকতে চাইছে না। সেটা পালটাতে না পালটাতেই বৃষ্টি নামল। কান্নার আওয়াজে ঘুম ভেঙেছিল কালীচরণের। এঘরে এসে সে দেখল ডাক্তারবাবু শিশুকে কোলে নিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করছেন।

    কালীচরণ বলল, ‘এখন আবার দুধ গরম করতে হবে।’

    ‘কেন? বনবিহারী তাকালে।

    ‘বুঝতে পারছেন না? ওর খিদে পেয়েছে।’

    ‘ও। তাড়াতাড়ি কর।’

    ‘হয়ে গেল। এভবে চললে দিনরাত এক হয়ে যাবে।’

    ঠিক তখনই আওয়াজ ভেসে এল। বনবিহারীর মনে হল ঝড়ে কোনও খোলা জানলা নড়ছে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কোনও জানলা খুলে গেছে দ্যাখো।’

    ‘জানলায় শব্দ হচ্ছে না।’ কান পাতল কালীচরণ, ‘বাইরের দরজায় বোধহয় শব্দ হচ্ছে। কিন্তু ওখানে তো হাওয়া আসবে না। যাই দুধ গরম করি।’

    এবার আওয়াজটা প্রবল হল। কালীচরণ দরজায় পৌঁছে বলল, ‘মনে হচ্ছে, কেউ এসে দরজায় শব্দ করছে।’

    চকিতে থানার ও.সি.-র মুখ মনে পড়ল বনবিহারীর। এত রাত্রে একমাত্র পুলিশের পক্ষেই আসা সম্ভব। তাহলে নিশ্চয়ই ওরা ধরা পড়ে গিয়েছে। ধরতে পারলে পুলিশ ওদের পেট থেকে কথা বার করবেই। মামণি বোবা হতে পারে কিন্তু ছেলেটি কতক্ষণ মুখ বন্ধ রাখবে?

    বনবিহারী বুঝলেন তাঁর আর কিছু করার নেই। এই বাড়ির পেছন-দ্বার দিয়ে পালানো যায় কিন্তু পালিয়ে তিনি কোথায় যাবেন? তাঁর যাওয়ার কোনও জায়গা নেই। তার চেয়ে সোজা ধরা দেওয়াই ভালো। তারপর চেষ্টা করবেন নিজেকে নিরপরাধ প্রমাণ করতে। ভাগ্যে যা লেখা আছে তাই হবে। শিশুটির কান্না তখনও থামছিল না। তাকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে তিনি খাট থেকে নেমে বললেন, ‘কালীচরণ, আমি যদি এখানে না থাকি তাহলে তুমি ওকে ততদিন দেখবে যতদিন শম্ভু এসে না নিয়ে যায়!’

    ‘মানে? আপনি কোথায় যাবেন?’ কালীচরণ অবাক।

    নিজেকে শক্ত করে হাঁটলেন বনবিহারী। বৃষ্টির শব্দ, কান্নার আওয়াজ তাঁর এই হেঁটে যাওয়ার মুহূর্তে আবহসঙ্গীতের মতো কাজ করছিল।

    দরজা খুলতেই বিদ্যুতের ঝলসানিতে চোখ বন্ধ করতে হল। চোখ খুলে প্রথমে কাউকে দেখতে না পেয়ে অবাক হলেন তিনি। দ্বিতীয়বারের বিদ্যুতের আলোয় দেখতে পেলেন দরজার একপাশে একটি মানুষ কুঁকড়ে পড়ে আছে। ঝুঁকে দেখতে গিয়ে তৃতীয় বিদ্যুৎ সাহায্য করল। চিৎকার করে মামণিকে দু-হাতে তুলে নিলেন বনবিহারী। সমস্ত শরীর ভিজে গেছে মেয়েটার। জ্ঞান হারিয়েছে।

    কালীচরণ ছুটে এসে দরজা বন্ধ করল। মেয়েটাকে নিয়ে শোওয়ার ঘরে ঢুকে খাটে শুইয়ে দিয়ে বনবিহারী হাঁপাতে লাগলেন। একটি পূর্ণবয়স্কা যুবতীর শরীর বহন করার মতো শক্তি তাঁর শরীরে ছিল না। ওকে তোলার সময়ে নিজের বয়স ভুলে গিয়েছিলেন। হাঁপাতে হাঁপাতে বললেন, ‘ওর গায়ের ভেজা কাপড় বদলে দাও।’

    ‘আমি?’ আঁতকে উঠল কালীচরণ, ‘না না। আমি ওসব পরাতে জানি না। তাছাড়া আমার পরানো ঠিক নয়। আপনি ডাক্তার, আপনি পরান। আমি দুধ গরম করে আনছি।’ টুক করে সরে গেল কালীচরণ।

    জ্ঞানহীন যুবতী শরীরে পোশাক খুলে নতুন পোশাক পরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা হল না বনবিহারীর। ভেজা পোশাক তিনি কোনওরকমে শরীরমুক্ত করতে পারলেন। তাড়াতাড়ি একটা কম্বল ওই নগ্ন শরীরের ওপর ছড়িয়ে দেওয়ার ফাঁকে তিনি জীবনে প্রথমবার নারীর যৌবন দেখতে পেয়ে কয়েক মুহূর্তের জন্যে আড়ষ্ট হলেন। খুব দ্রুত নিজেকে সামলে মামণির ভেজা চুল থেকে জল মুছে নিয়ে তাকে কয়েকবার ডাকলেন। কোনও সাড়া নেই। যদিও নাড়ি সচল, বুকের স্পন্দন বোঝা যাচ্ছে, একটা চামচ টেবিলে পড়েছিল। সেটা নিয়ে আসতে গিয়ে দেখলেন শিশুটি কান্না থামিয়ে স্থির হয়ে তাকাবার চেষ্টার করছে। কি আশ্চর্য ব্যাপার! এতক্ষণ যে কেঁদে অস্থির হয়েছিল, সে কি মায়ের গন্ধ পেয়ে গেছে?

    দাঁতে দাঁত লেগেছিল। অনেক চেষ্টায় দুটো পাটিকে আলাদা করতে পারলেন বনবিহারী। দুই গালে মৃদু চড় মেরেও হুঁশ ফিরল না। তখন খাট থেকে নেমে নিজের জুতোর পেছনের অংশ আগুনে সামান্য পুড়িয়ে সেটা মামণির নাকের সামনে ধরলেন। উৎকট গন্ধ শরীরে যেতেই অস্ফুট শব্দ উচ্চারণ করল মামণি।

    কালীচরণ বোতলে গরম দুধ নিয়ে ঘরে ঢুকতেই হাত বাড়িয়ে বোতলটা নিলেন বনবিহারী। তারপর নিপল ঢুকিয়ে দিলেন মামণির মুখে। কালীচরণ অবাক হল, ‘ওকি করছেন! বাচ্চার দুধ মাকে দিচ্ছেন কেন?

    ‘দুধটা এখন ওর দরকার। তুমি আবার দুধ গরম করে আনো।’

    একটু একটু করে দুধের বোতল অর্ধেক খালি হতেই চোখ মেলল মামণি। কয়েক সেকেন্ড লাগল তার, চিনতে পেরে নিঃশব্দে কাঁদতে লাগল।

    বনবিহারী বললেন, ‘আর কোনও ভয় নেই। তুমি তোমার ছেলের কাছে ফিরে এসেছ। আমি তোমাকে আর কোথাও যেতে দেব না।’

    সঙ্গে সঙ্গে হাঁ হাঁ করে উঠতে যাচ্ছিল মামণি। সম্ভবত ছেলে শব্দটা কানে যেতেই এই পরিবর্তন। শরীর থেকে কম্বল সরে গেছে, ঊর্ধ্বাঙ্গ অনাবৃত কিন্তু সেটা তার খেয়ালে নেই। জোর করে তাকে শুইয়ে দিয়ে কম্বল কাঁধ পর্যন্ত ঢেকে দিলেন বনবিহারী। তারপর শিশুকে তুলে মায়ের বুকের কাছে পৌঁছে দিলেন। শিশুকে জড়িয়ে ধরল মা। শিশু মাতৃদুগ্ধ পান করতে লাগল প্রবলভাবে। কালীচরণ কৌটোর দুধ গরম করে ঘরে ঢুকতে বনবিহারী বললেন, ‘এখন ওটার প্রয়োজন হবে না।’

    পরদিন সকালেও বৃষ্টি। এরমধ্যে মামণি কোনওমতে বোঝতে পেরেছে যে তার পেটে ব্যথা হচ্ছে। বনবিহারী তাকে জিজ্ঞাসা করেননি ছেলেটা কোথায় নিয়ে গিয়েছিল তাকে। সে ফিরেই বা এল কীভাবে! কারণ তাঁর ধারণা এসব ইঙ্গিতে বোঝানো সম্ভব না। ব্যথা উপশমের ট্যাবলেন তিনি দিয়েছেন। কিন্তু বিশ্রাম নিয়েও যদি ব্যথা না কমে তাহলে সদরে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা করানো ছাড়া উপায় নেই।

    সকালে মামণি একবার উঠেছিল পোশাক পরে বাথরুমে গিয়েছিল পেট চেপে ধরে পায়ে পায়ে। ব্যথার ওষুধ খাওয়ার পর সে গভীর ঘুমে আছন্ন। শিশু কেঁদেছে এবং কালীচরণ তাকে সামলেছে।

    বেলা দশটায় বৃষ্টি থামলে বনবিহারী ঠিক করলেন এবার চেম্বারে যাবেন। কালীচরণকে ডেকে বললেন, ‘ও যখন ঘুম থেকে উঠবে উঠুক, ডাকতে হবে না। আর সেই ছেলেটা যদি ফিরে আসে তাহলে দরজা খোলার দরকার নেই।’

    কালীচরণ মাথা নাড়ল, ‘ও এলে আমি ওর মাথা ভাঙব।’

    ‘কিছু করতে হবে না। দরজা না খুললেই হল। চেম্বারে যাচ্ছি, তাড়াতাড়ি ফিরে আসব। রাত জেগে শরীরটা ঢিসঢিস করছে।’ বনবিহারী বললেন।

    ‘না গেলেই তো হয়। দুপুর পর্যন্ত ঘুমিয়ে নিন না?’

    ‘না। কখনও সকালে চেম্বার বন্ধ থাকে না, রুগিদের অসুবিধে হবে। তাছাড়া লোকে ভাবতে পারে আমার হয়তো শরীর খারাপ হয়েছে।’

    বৃষ্টি থামলেও ছাতা সঙ্গে নিলেন বনবিহারী। নির্জন রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে তাঁর মনে হল এতদিনের জীবনটা আচমকা এই ক’দিনে কীরকম বদলে গেল। এই মেয়েটা, যাকে তিনি মামণি বলে ডাকছেন, কোন অজানা জায়গা থেকে এসে তাঁকে জড়িয়ে ফেলল। ভোরে ওষুধ খাওয়ার পর থেকে যন্ত্রণা কমে যাওয়ার ও এখন মড়ার মতো ঘুমাচ্ছে যখন তখন ব্যথার কারণটা খুব উদ্বেগজনক নয়। কিন্তু ওই ব্যথাটাই বা হল কেন? ছেলেটা ওকে যেভাবে নিয়ে গিয়েছিল তা তিনি মানতে পারেননি। ভয়ে মুখ বন্ধ রেখেছিলেন। কিন্তু ও ফিরে এসেছে দেখে তিনি খুশি হয়েছিলেন খুব। অতবড় শরীরটাকে পাঁজাকোলা করার কথা তা না হলে ভাবতেও পারতেন না। কিন্তু ও ফিরে আসায় আর একটা সমস্যা বাড়ল। শম্ভু শিশুটিকে ওর আত্মীয়র কাছে তুলে দেবে দত্তক হিসেবে। তাঁর কথাতেই শম্ভু রাজি হয়েছে। এখন শম্ভুকে তিনি কী বলবেন? মা তো শিশুকে আর কিছুতেই কাছ-ছাড়া করবে না! মাথা নাড়লেন বনবিহারী। এত ঝামেলায় তিনি কখনও পড়েননি।

    ‘ডাক্তারবাবু।’ চিৎকার ভেসে আসতেই বনবিহারী দেখলেন, ডানদিকের বাড়ির দরজায় একজন মহিলা তাঁর দিকে তাকিয়ে আছেন।

    ‘বলুন।’ এগিয়ে গেলেন বনবিহারী, ‘উনি কেমন আছেন?’

    ‘সদরের হাসপাতালে আছে। বলছে আজ ছেড়ে দেবে। এলে আপনি এসে একবার দেখে যাবেন?’ মহিলা জিজ্ঞাসা করলেন।

    ‘নিশ্চয়ই। আমি বিকেলে চেম্বারে যাওয়ার সময় ঘুরে যাব।’

    হাঁটতে শুরু করলেন বনবিহারী। দুলাল বিশ্বাস ক্যানসারে ভুগছিলেন। তাঁকে হাসপাতাল ছেড়ে দেবে মানে কি ওরা আর রাখতে চাইছে না!

    চেম্বারে ভিড় ছিল। এসেই রুগি দেখতে বসে গিয়েছিলেন বনবিহারী। এখন সর্দিজ্বর হচ্ছে খুব। আবহাওয়ার পরির্বতনের কারণেই হচ্ছে।

    বেলা সাড়ে বারোটায় পুলিশের জিপ তাঁর চেম্বারের সামনে এসে দাঁড়াল। হাসিমুখে বড়বাবু নেমে এসে দরজায় দাঁড়িয়ে বললেন, ‘ডাক্তারবাবু, আপনাকে একটু বিরক্ত না করে উপায় নেই।’

    তখনও তিনজন রুগি ছিল অপেক্ষাতে। বনবিহারী বললেন, ‘বলুন।’

    ‘আপনাকে আধঘণ্টার জন্যে একটু যেতে হবে আমার সঙ্গে।’

    ‘কোথায়?’

    ‘আসুন। বলছি।’

    রুগিদের কাছে দুঃখপ্রকাশ করে তাদের অপেক্ষা করতে বলে বনবিহারী বড়বাবুর সঙ্গে জিপে উঠলেন। জিপ ছুটল চা-বাগানের দিকে।

    ‘কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন বলুন তো?’

    ‘চা বাগানে। ঘণ্টাখানেক আগে খবরটা পেয়ে ছুটে এসেছিলাম। দেখে মন শান্ত হল। খুব উদ্বেগে ছিলাম এতদিন। এখন আর আমার এলাকায় কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু নিশ্চন্ত হতে আপনাকে নিয়ে যাচ্ছি।’ বড়বাবু হাসলেন।

    বনবিহারী তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করছিলেন।

    ‘একটা ডেডবডি পাওয়া গিয়েছে। চা-বাগানের মধ্যে। যে ছেলেটাকে আমরা এতদিন খুজছিলাম, মনে হচ্ছে ওটা তারই লাশ। আপনি তো ওকে দেখেছেন, কথা বলেছেন। তাই আপনাকে দিয়ে ভেরিফাই করাতে চাইছি।’

    চিনতে অসুবিধে হল না। চিৎ হয়ে পড়ে থাকা শরীরটাকে চারজন সেপাই পাহারা দিচ্ছে। মাথা থেঁতলে গেছে কিন্তু মুখ অবিকৃত। বনবিহারী শনাক্ত করলেন।

    বড়বাবু বললেন, ‘বাঁচালেন মশাই। কিন্তু ওর সঙ্গে রিভলভার থাকা সত্ত্বেও ও এভাবে মারা পড়ল কেন? কে ওকে খুন করতে পারে?’

    বনবিহারীর শ্বাস কয়েক মুহূর্তের জন্যে বুকের মধ্যে আটকে রইল।

    বড়বাবু বললেন, ‘যে-ই করুক, সে আমাদের উপকার করেছে। উগ্রপন্থীদের চ্যাপ্টারটা এই লাশ পাওয়ার পরে ক্লোজ করে দেব।’ রক্তমাখা পাথরটাকে পুলিশ লাশের সঙ্গে তুলে নিল।

    বনবিহারী দুশ্চিন্তায় পড়লেন। ওই পাথরে কি পুলিশ ফিঙ্গার প্রিন্ট খুঁজবে?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅর্জুন সমগ্র ৫ – সমরেশ মজুমদার
    Next Article বুকের ঘরে বন্দি আগুন – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }