Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আগুনবেলা – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প575 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    দাউদাউ আগুন – ৮

    আট

    আজ হাটবার। ভোর থেকে ট্রাকে করে সবজি, মাছ নিয়ে ব্যাপারীরা চলে আসছে এই গঞ্জের হাটে। চওড়া পিচের বাসরাস্তার দু-ধারের মাঠে ত্রিপল টাঙিয়ে দোকান বসছে আজকের জন্যে। আশে-পাশের গ্রাম থেকে চাষিরা বয়ে নিয়ে আসছে পাট। হাটে ঢোকার মুখেই পাইকাররা ছোঁ মেরে একপাশে নিয়ে গিয়ে দরাদরি করে কিনে নিচ্ছে সেগুলো। একটু বেলা হলে চাষিরা বয়ে নিয়ে আসছে সবজির ঝুড়ি। বেলা দশটার মধ্যেই হাট জম-জমাট।

    বনবিহারী কখনও হাটে গিয়ে কেনাকাটা করেন না। এ ব্যাপারে কালীচরণের ঘোর আপত্তি আছে। তার ধারণা সবাই ওঁকে ঠকিয়ে বেশি দাম নিয়ে বাজে জিনিস গছিয়ে দেবে। সাধারণত হাটের দিন দুপুরের পর বনবিহারী চেম্বারে যান না। বিকেলটা বাড়িতেই বইপত্র পড়ে কাটান।

    আজ সকালে চেম্বারে যাওয়ার জন্যে যখন তৈরি হচ্ছেন তখন হঠাৎ দেখলেন মামণি তাঁর ঘরে ঢুকেছে। ছেলেটির মৃতদেহ দেখে আসার পর থেকে তিনি একটু গম্ভীর হয়ে ছিলেন। মামণিও আতঙ্ক ভুলতে পারছিল না কিছুতেই।

    মামণি সোজা এসে বনবিহারীর সামনে দাঁড়াল। মুখ তুলে দেখল। তারপর আঙুল নেড়ে কিছু জিজ্ঞাসা করল যা গোঙানি ছাড়া অন্য কোনও অর্থ বনবিহারীর বোধগম্য হল না। মেয়েটা তাঁকে কিছু জিজ্ঞাসা করছে কিন্তু সেটা কি তা তিনি বুঝতে পারছেন না। হাত নেড়ে ইশারায় সেটা বুঝিয়ে দিলেন তিনি।

    মামণি তাঁর দিকে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থেকে একটা আঙুল বনবিহারীর দিকে তুলে নিজের বুকে ঠেকিয়ে মুখ ফোলাল। বনবিহারী বুঝলেন। তিনি রাগ করেছেন কিনা তা জানতে চাইছে মেয়েটা। হাসি পেল তাঁর। মাথা নেড়ে না বললেন।

    সঙ্গে সঙ্গে বনবিহারীর ডান হাত তুলে নিজের মাথার ওপর চেপে অন্য হাতে ইশারা করল মামণি। অর্থাৎ মাথা ছুঁয়ে কথাটা বলতে হবে।

    ‘তুমি নিজের প্রাণ বাঁচাতে যা করেছ তার জন্যে আমি একটুও রাগ করিনি।’ বনবিহারী বললেন।

    এবার হাসি ফুটল মামণির মুখে।

    দরজার ওপাশ থেকে কালীচরণ বলে উঠল, ‘বাঃ শেষ পর্যন্ত মেঘ কেটে গেল। আজ বাজার থেকে ভালো ভালো জিনিস কিনে এনে রান্না করতে হবে।’

    কানে ঢোকা মাত্র লাফাল মামণি। তারপর কালীচরণের দিকে তাকিয়ে ইশারায় জানাল সে নিজে রান্না করবে।

    কালীচরণ অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করল, ‘তুমি রান্না করতে জানো?’

    মাথা হেলিয়ে মামণি জানিয়ে দিল, সে জানে।

    বনবিহারী বললেন, ‘দেখি আজ দুপুরে কেমন খাওয়া হয়! দাও বাজারের ব্যাগ। আজ আমি নিজে বাজার করব।’ কালীচরণ প্রতিবাদ করল, ‘সর্বনাশ! আপনাকে বাজারে যেতে হবে না। আপনার চেম্বার তো খোলা। নিশ্চয়ই সেখানে রোগীরা এসে গেছে।’

    ‘আসুক। আমি খবর পাঠাচ্ছি বিকেলে বসব। মামণি যখন রাঁধতে চেয়েছে তখন নিজের হাতে বাজার করব। দাও ব্যাগটা।’

    কিছুটা মিনমিনে আপত্তির পর কালীচরণ বলল, ‘আমি সঙ্গে যাই?’

    ‘না না। মেয়েটা একা থাকবে নাকি! অনেকদিন জলখাবারে লুচি খাইনি, লুচি আর বেগুনভাজা কর, ফিরে এসে খাব।’ ব্যাগ নিয়ে বাজারে বেরিয়ে গেলেন বনবিহারী। অনভ্যস্ত এই যাত্রা তাঁকে প্রফুল্ল করছিল।

    বনবিহারীরা যে পাড়ায় থাকেন সেটা গঞ্জ থেকে কিছুটা দূরে। বাড়ির সামনে একটা মাঠ, তারপর বাসরাস্তা। আশে-পাশের বাড়িগুলো যেন পরপর এক লাইনে দাঁড়িয়ে। মাঠ পেরিয়ে তিনি যখন হাঁটছেন হাটের উদ্দেশে তখন পাশের বাড়ির শিবশঙ্করের বউ তাদের বারান্দায় অলসভাবে দাঁড়িয়েছিল। বউটির নাম সুলতা। তার স্বামী ব্যাবসাদার, চা-বাগানগুলোতে জ্বালানি কাঠ থেকে যাবতীয় প্রয়োজনীয় বস্তু জোগান দেয়। স্বামীর ওপর সুলতার প্রভাব নিয়ে এ পাড়ায় লোকে হাসি-মস্করা করে। বছর দেড়েক হল সুলতা তার বিধবা মা সুনয়নীকে নিজের কাছে এনে রেখেছে। সুনয়নী যৌবনেই বিধবা হয়েছিলেন এক মেয়ে এবং এক ছেলেকে নিয়ে। থাকতেন ছেলের কাছে কিন্তু যেহেতু শাশুড়ির সঙ্গে সুলতার সম্পর্ক ভালো ছিল না তাই সে ভাই-এর আপত্তি সত্ত্বেও মাকে এই সংসারে নিয়ে এসেছিল। তাতে কাজও হল। শাশুড়ি মাসখানেকের মধ্যে সেই যে শহরে অন্য ছেলের বাড়িতে গিয়েছেন আর ফিরে আসেননি। ব্যাপারটা শিবশঙ্করকে ক্ষুণ্ণ করেছিল কিন্তু মেনে নেওয়া ছাড়া তার অন্য উপায় ছিল না।

    বনবিহারীকে বাজারের ব্যাগ হাতে নিয়ে হাঁটতে দেখে সুলতা চিৎকার করে তার মাকে ডাকল, ‘মা, মা, তাড়াতাড়ি এখানে এসো, তাড়াতাড়ি।’

    উত্তেজনা সুনয়নীর খুব পছন্দ। একমুখ কৌতূহল নিয়ে তিনি ছুটে এলেন বারান্দায়! ‘কি রে?’

    ‘দেখো।’

    ‘ডাক্তারবাবু?’

    ‘হ্যাঁ গো। ব্যাগ হাতে বাজারে যাচ্ছে! কি ব্যাপার বলো তো?’

    ‘বোধহয় চাকরটা, কি যেন নাম, হ্যাঁ, কালীচরণ, শরীর খারাপ হয়েছে!’

    ‘নাগো। একটু আগে দেখেছি বাড়ির গেটের সামনে দাঁড়িয়েছিল।’ সুলতা মাথা নাড়ল, ‘আজ পর্যন্ত কোনওদিন ওকে হাটে যেতে দেখিনি।’ সুলতা বলল, ‘বয়স হয়েছে তা বোঝা যায় না।’

    ‘নিশ্চয়ই বাড়িতে লোক খাওয়াবে তাই নিজে বাজার করতে যাচ্ছে।’

    ‘লোক খাওয়াবে? রাঁধবে কে? ওই কালীচরণ তো নমঃ নমঃ করে রান্না সারে। একদিন আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিল পোস্ত কি করে রাঁধতে হয়।’ হাসল সুলতা।

    ‘কি জানি। বেশ ক’দিন দেখছি ওদের বাড়ির এদিকের জানলাগুলো বন্ধ। যেন ওই বাড়িতে কেউ থাকে না। আগে তো সব খোলামেলা ছিল।’ সুনয়নী বললেন।

    ‘জানলা খোলা রাখলে ধুলো ঢোকে। কালীচরণকে সেটা পরিষ্কার করতে হয় বলে জানলা বন্ধ রেখেছে। কুঁড়ের হদ্দ। বাড়িতে কোনও মেয়েছেলে থাকলে ও টের পেত!’ সুলতা বলল।

    ‘বিয়ে করেনি কেন বল তো?’

    ‘কি জানি? এসে অবিধি তো এইরকম দেখছি।’ সুলতা হাসল, ‘রোগ ঘেঁটে ঘেঁটে আর সংসার করা হয়নি। এই বয়সে আর কে মেয়ে দেবে?’

    ‘কত বয়স ওর?’

    ‘পঞ্চাশ-ষাট হবে। তবে শক্তপোক্ত আছে। তোমার জামাই তো ওর প্রশংসায় পঞ্চমুখ। বলে অমন মানুষ হয় না।’ সুলতা ঘরের দিকে ফিরছিল এই সময় মতির মাকে দেখল। হনহনিয়ে আসছে। বাড়ি বাড়ি ঘুরে বাসনমাজা ওর কাজ।

    ‘আজ তাড়াতাড়ি এলে যে?’ সুনয়নী একটু বিরক্ত।

    ‘যখন সময় হবে তখন তো আসব। মেয়ে এসেছেন, সে তো ছাড়তেই চাইছিল না। তা সাতসকালে মা-মেয়ের হাতে কোনও কাজ নেই নাকি? সরো।’ মতির মা ভেতরে পা বাড়াতে সুনয়নীকে সরে দাঁড়াতে বলল।

    ‘কাজ থাকবে না কেন? বড্ড মুখ তোর! পাশের বাড়ির ডাক্তারবাবু কখনও হাটে যান না, আজ গেলেন বলে দেখতে এসেছিলাম।’ সুনয়নী হাসলেন। হঠাৎ খেয়াল হল মতির মায়ের। কপালে ভাঁজ পড়ে গেল তার, ‘আচ্ছা, ওই বাড়িতে আত্মীয়স্বজন এসেছেন নাকি? কোনওদিন কাউকে আসতে দেখিনি, এই প্রথম মনে হল।’

    ‘মনে হল মানে? কাউকে দেখলি?’

    ‘না না, দেখিনি। কাল কাজ সেরে যাওয়ার সময় মনে হল ও বাড়ি থেকে বাচ্চার কান্না ভেসে আসছে। একেবারে কচি বাচ্চা।’ মতির মা বলল।

    ‘সত্যি? তাহলে নিশ্চয়ই কেউ বউবাচ্চা নিয়ে এসেছে ও বাড়িতে। ঠিক শুনেছিস?’

    ‘আঃ। আমার কান তোমার চেয়ে অনেক পরিষ্কার।’ মতির মা ভেতরে ঢুকে গেল।

    চুপচাপ কথাবার্তা শুনছিল সুলতা, এবার মায়ের কাছে এসে বলল, ‘কি গো?’

    ‘সুনয়নী বললেন, ‘মাথায় ঢুকছে না। বাচ্চা নিয়ে কারা এল ওই বাড়িতে?’

    ‘আমি কি করে জানব? আর যদি আসেই বা জানলা বন্ধ করে রাখবে কেন?’

    ‘একবার খোঁজ নিতে যাবে?’ সুলতার চোখে কৌতূহল।

    ‘ও বাড়িতে কোনও মেয়ে-ছেলে নেই, যাবি কোন অজুহাতে?’

    ‘আমার যাওয়া ঠিক হবে না, তুমি যাও।’

    ‘যাঃ। লজ্জা পেলেন সুনয়নী, ‘আমি গিয়ে কী বলব?’

    ‘বলবে, তোমার কোমরে ব্যথা হয়েছে, হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে, চেম্বারে যেতে পারবে না বলে বাড়িতে দেখাতে এলে। এতে কারও কিছু মনে করার নেই।’ সুলতা বলল।

    ‘যদি সত্যি সত্যি পরীক্ষা করে? এম্মা!’ গালে রক্ত জমল সুনয়নীর।

    ‘উঃ! কারও কোমরে ব্যথা হলে কি কোনও ডাক্তার কাপড় খুলে পরীক্ষা করে? তোমার না যত লজ্জা! যাও না এখন?’

    ‘এখন? এখন তো উনি নেই।’

    ‘নেই তো কি হয়েছে? এটাই তো সুযোগ। কালীচরণকে ম্যানেজ করে ভেতরে ঢুকে দেখে আসতে পার কে এসেছে।’

    ‘যদি ঢুকতে না দেয়?’ সুনয়নী মাথা নাড়লেন, ‘এই মতির মায়ের কথা বিশ্বাস করা ঠিক হবে না। বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে লোকজন ও বাড়িতে ঢুকল আর তুই বা আমি তাদের দেখতে পেলাম না?’

    সুলতা রেগে গেল। কথা না বলে ভেতরের দিকে পা বাড়াল সে। সুনয়নী পেছনে যেতে যেতে বললেন, ‘আচ্ছা বাবা আচ্ছা। ডাক্তার হাট থেকে ফিরে আসুক তারপর যাব। এই শাড়ি পরে কি যাওয়া যায়!’

    হাটে ঢুকে বনবিহারী চারপাশে তাকালেন। সবজির ব্যাপারীরা ইতিমধ্যে জাঁকিয়ে বসেছে। সেদিকে পা বাড়ালেন তিনি। যে লোকটি শাক বিক্রি করছিল তার সামনে দাঁড়াতে সে বলল, ‘ভালো কলমি শাক আছে বাবু।’

    বনবিহারী দেখলেন। কুমড়ো, লাউ, লালশাক, কলমি থেকে শুরু করে কি নেই। হঠাৎ চোখ পড়ল শুঁড় বাঁকানো ঢেঁকির শাকের ওপর। বেশ কচি এবং ডাগর বললেন, ‘দাও দেখি পাঁচ আঁটি ঢেঁকির শাক।’

    লোকটি হেসে পাঁচ আঁটি শাক বনবিহারীর বাজারের ব্যাগে ঢুকিয়ে দিয়ে বলল, ‘এ শাক তো বনে-বাদাড়ে পাওয়া যায় বাবু। আপনি দুটো টাকা দিন।’

    খুশি হলেন বনবিহারী। মা চলে যাওয়ার পর আর ঢেঁকির শাক খাওয়া হয়নি। মায়ের হাতে প্রায় অমৃত ছিল পেঁয়াজ-রসুন দিয়ে ঢেঁকির শাকের ছেঁচকি। কালীচরণ একবার চেষ্টা করেছিল, মুখে তোলা যায়নি।

    ‘একি ডাক্তারবাবু! আপনি হাটে এসেছেন?’ জুনিয়ার হাইস্কুলের ভুগোল শিক্ষক বাদলবাবু সামনে এসে দাঁড়ালেন, ‘কোনওদিন দেখিনি তো!’

    ‘চলে এলাম।’ হাসলেন বনবিহারী।

    ‘চেম্বার বন্ধ?’

    ‘ও বেলায় যাব।’

    ‘কি শাক কিনলেন?’

    ‘ঢেঁকির শাক।’

    ‘ঠকে গেলেন। এ তো রাস্তার দুপাশের জঙ্গলে পাওয়া যায়।’

    ‘যায়। কিন্তু সেগুলো বুনো, স্বাদও ভালো নয়।’

    ‘ওদিকে ব্যাপার-স্যাপার শুনেছেন?’

    ‘কোনটা বলুন তো?’

    ‘একজন উগ্রপন্থীকে চা-বাগানের ভেতরে কেউ খুন করে গিয়েছিল। তার বডি পেয়ে পুলিশ আর মাথা ঘামায়নি। ঝামেলা চুকে গিয়েছে বলে হাত ধুয়ে বসেছিল। কিন্তু এসপি সাহেব অর্ডার দিয়েছেন ছেলেটার খুনিকে খুঁজে বের করতে হবে।’

    ‘ও।’

    ‘আমাদের হেডমাস্টার মশাই-এর ছেলেকে থানায় ডেকে পাঠিয়েছিলেন ও.সি., প্রশ্ন করে জেরবার করে দিয়েছেন ওকে?’

    ‘সেকি! ধরে রেখেছে নাকি?’ বনবিহারী চমকে উঠলেন।

    ‘না। ছেড়ে দিয়েছে।’

    ‘ওকে কেন ডাকল?’

    ‘যে রাত্রে ছেলেটি খুন হয় সেই রাত্রে ওকে নাকি কেউ কেউ রাস্তায় দ্যাখে। সন্দেহ বোধহয় সেই কারণে! কি অবস্থা বলুন তো!’

    ‘হ্যাঁ। এসব একদম ভালো লাগছে না।’ বনবিহারী এগিয়ে গেলেন। তাঁর মনে তোলপাড় শুরু হয়ে গেল। এসপি সাহেব যদি আবার তদন্ত করতে বলেন এবং ও.সি. যদি—! নাঃ এতটা ভাবতে পারছিলেন না তিনি।

    এলোমেলো বাজার করে মাছের দোকানগুলোতে পৌঁছে ভাবনাটাকে সরাতে পারলেন বনবিহারী। অনেকদিন পরে পাথরঠোকা মাছ দেখতে পেলেন। দেড় আঙুল লম্বা একটি শিরদাঁড়ার কাঁটাবিহীন মাছ, ভারী মিষ্টি। ছেলেবেলায় খুব খেতে ভালোবাসতেন। কালীচরণ কখনই এই মাছ কেনে না। কিনলে যে ওর কেরামতি ধরা পড়ে যাবে। বনবিহারী জিজ্ঞাসা করলেন, ‘ওই মাছ কত করে বিক্রি করছ?’

    ‘কোনটা? এই ছিলামাছ?’

    ‘ছিলামাছ? আমি তো পাথরঠোকা বলে জানি।’ বনবিহারী হাসলেন, ‘পাথরের গায়ে যে শ্যাওলা থাকে তাই খেয়ে বাঁচে।’

    ‘হ্যাঁ, ডাক্তারবাবু, এখন লোকে একে ছিলামাছ বলে। কত নেবেন।’

    ‘পাচশো দাও।’

    মাছ পাল্লায় তোলা হল। দেখা গেল তিনশোর বেশি হল না। সংখ্যায় অনেক কিন্তু ওজনে হালকা। এইসময় পেছন থেকে একটা গলা ভেসে এল, ‘কি রে! ডাক্তারবাবুকে ঠকাচ্ছিস না তো?’ পালবাবু পাশে এসে দাঁড়ালেন।

    ‘না না বাবু। ঠকাব কেন?’ মাছের দোকানদার মাথা নাড়ল।

    পালবাবু বললেন, ‘কি মাছ নিলেন? অ্যাঁ। ছিলা! রুই-কাতলা ছেড়ে আপনি ছিলা নিচ্ছেন ডাক্তারবাবু? কি ব্যাপার?’

    অনেককাল খাওয়া হয়নি, তাই।’

    ‘আমার আবার বড়সড় মাছ না হলে মন ভরে না। চলুন একটু চা খাই।’ পালবাবু হাত বাড়িয়ে হাটের জন্যে তৈরি চায়ের দোকান দেখালেন।

    ‘আমি চা দিনে দুবার খাই পালবাবু।’ বনবিহারী বললেন।

    ‘আমিও তাই। কিন্তু হাটে এলে আর এক কাপ না খেলে ঠিক জমে না। যাঁরা নিয়মিত হাটে আসেন তাঁদের দেখবেন চা না খেয়ে বাজারের ব্যাগ বাড়িতে নিয়ে যান না। আসুন আসুন।’ পালবাবু চায়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘খুব ভালো করে চা বানাও বৈরাগী। দুধ না দিয়ে লেবু দাও। চিনি খান তো ডাক্তারবাবু?’

    ‘অল্প।’ বেজার মুখে বললেন বনবিহারী।

    চায়ের ভাঁড়ে চুমুক দিয়ে পালবাবু গলা নামালেন, ‘বাড়ির খবর ঠিক আছে তো?’

    বনবিহারী বুঝতে পারলেন না, ‘কোন খবর?’

    ‘মেয়েটার কথা কেউ জানতে পারেনি তো?’ গলা আবার নামালেন পালবাবু।

    ‘না।’ গম্ভীর হয়ে গেলেন বনবিহারী। চায়ের ভাঁড় তাঁর হাতে, খেতে ইচ্ছে হল না।

    ‘পাচার করে দিন। বাড়িতে যুবতী মেয়েছেলেকে হয়তো লুকিয়ে রাখতে পারেন কিন্তু বাচ্চাকে কি করে পারবেন? সে তো কান্নাকটি করবেই। তখন আশেপাশের বাড়ির লোক নাক গলাবে। এদিকে শুনছি এসপি সাহেব আবার তদন্তের আদেশ দিয়েছেন। আমার হয়েছে খুব মুশকিল।’ ভাঁড় ফেলে দিলেন পালবাবু।

    মুশকিলটা কি জানার চেষ্টা করলেন না বনবিহারী।

    হাসলেন পালবাবু ‘পেটের ভেতর কোনও কথা বেশিদিন চেপে রাখতে পারি না আমি। সবসময় ফুটতে থাকে কথাগুলো। কিন্তু বের করলে বেচারা শম্ভু যে বিপদে পড়বে। আমি তো ভাবছি ওকে বলব চাকরি খুঁজে অন্য কোথাও চলে যেতে।’

    ‘কেন?’

    ‘এতদিনের লোককে চোখের সামনে পুলিশ ধরে নিয়ে যাবে দেখতে কি ভালো লাগবে! ও চোখের আড়ালে চলে গেলে সেই সমস্যা থাকবে না!’

    ‘আপনি পুলিশকে ব্যাপারটা বলে দেবেন?’ অবাক হয়ে তাকালেন বনবিহারী।

    ‘যাচ্চলে! আমি কেন পুলিশের কাছে যাব! পেটে কথা চেপে রাখতে পারি না। বেরিয়ে গেলে আশেপাশের লোকের কানে ঢুকবে। তারপর কানাকানি হতে হতে পুলিশের কানে পৌঁছে তো যেতে পারে।’ পালবাবু হাত নাড়লেন।

    ‘আপনি এসব কী বলছেন পালবাবু?’

    ‘আমি কিছুই বলছি না ডাক্তারবাবু। শুধু ভয় পাচ্ছি।’

    ‘আশ্চর্য! আপনি জানেন এতে শম্ভু বা আমার কোনও দোষ ছিল না। নেহাত মানবিকতার কারণে জড়িয়ে পড়েছি আমি। মেয়েটা এবং তার বাচ্চাটাকে পথে ফেলে দিতে পারিনি। আপনার কাছে সবই তো স্পষ্ট।’

    ‘কোনও ওষুধ আছে?’ তাকালেন পালবাবু।’

    ‘কীসের ওষুধ?’ বনবিহারীর এই প্রশ্ন আশা করেননি।

    ‘কী যে বলি! মুখটা বন্ধ রাখতে হলে তাকে শাসাতে হবে।’

    ‘আপনি কি আমাকে ব্ল্যাকমেইল করতে চাইছেন?’

    ‘ছি ছি! এ আপনি কী বলছেন?’

    ‘তাহলে?’

    ‘আমার একটা বড় দুর্বলতা আছে। যদি সেটা দূর করে দেন।’

    ‘আমি আপনার কথা বুঝতেই পারছি না।’

    ‘তাহলে বলেই ফেলি।’ আশপাশে তাকিয়ে নিলেন পালবাবু, ‘আমার বয়স এখন একষট্টি। আগেকার দিন হলে বলত ঘাটের মড়া। কিন্তু এখন মানুষ দীর্ঘজীবী হয়। নব্বুই পর্যন্ত এখন অনেকেই বাঁচে ঠিক কিনা বলুন?’

    মাথা নাড়লেন বনবিহারী। হ্যাঁ।

    ‘এখনও আমার শরীর-স্বাস্থ্য বেশ ভালো! মন তো পঁচিশ-ছাব্বিশের যুবকের চেয়েও, যাকে বলে রোমান্টিক, ঠিক তাই। কিন্তু মুশকিল হয়ে গেছে একটা কারণে।’ কথাগুলো বলে একটু চুপ করলেন পালবাবু।

    ‘আপনার কথা শেষ করুন।’ বনবিহারী বললেন।

    ‘আর কি! আমি শেষ হয়ে গেছি ডাক্তারবাবু। শরীর আর আমার কথা শুনছে না। বারংবার হেরে যাচ্ছি। লজ্জায় মুখ দেখাতে পারছি না। আপনি আমাকে সাহায্য করুন। এই সাহায্য পেলে মুখ চিরকালের জন্যে বন্ধ করে রাখব।’

    ‘আপনার কথা এখনও বোধগম্য হচ্ছে না।’

    ‘ধ্যেৎ! আপনি কি! বিয়ে করেননি বলে এসব জানেন না বললে কেউ মানতে চাইবে! আমার সব ঠিকঠাক থাকা সত্ত্বেও যাকে বলে সেক্স তা করতে অক্ষম হয়ে পড়েছি। বাইরে থেকে কেউ বুঝবে না। কিন্তু যারা বোঝার তারা তো হাসাহাসি করে। আপনি এর ওষুধের ব্যবস্থা করে দিন।’ পালবাবু করুণ স্বরে বললেন।

    ‘এসব কী বলছেন পালবাবু! আপনার যথেষ্ট বয়স হয়েছে। প্রচুর ভোগ করেছেন। আপনার স্ত্রীর চিকিৎসা আমি করেছি। তিনি এখন যে বয়সে পৌঁছেছেন তাতে এসব তাঁর কাছে অবান্তর। একেবারে মা জননীর রূপ তাঁর। আপনি যে ওষুধ চাইছেন তা জানলে ওঁর পক্ষে সহযোগিতা করা তো সম্ভবই হবে না। উলটে দুঃখ পাবেন এরকম বাসনার জন্যে।’ পালবাবুকে বোঝাতে চাইলেন বনবিহারী।

    ‘সত্যি, আপনি ভালো ডাক্তার হতে পারেন কিন্তু বাস্তববুদ্ধি নেই। স্ত্রী এখন, আরে আমরা ভাইবোনের মতো জীবন-যাপন করি। তিনি পুজোআর্চা নিয়ে থাকেন। আর আমি, এখনও আমার মনে বাসনা ছটফট করছে। আর সেটা পূর্ণ করার জন্যে মহিলার অভাব নেই। বুঝেছেন! ওষুধটা আনিয়ে দিন। আমি নাম শুনেছি। ভ্যা, ভায়াগ্রা। যা দাম হবে দেব। সাতদিনের মধ্যে আনিয়ে দেবেন। ততদিন মুখ কিছুতেই খুলব না।’ পালবাবু কথাগুলো বলেই হনহন করে চলে গেলেন।

    বাজার করা আর হল না বনবিহারীর।

    বাজারের ব্যাগ থেকে ঢেঁকির শাক আর ছিলামাছ নামিয়ে কালীচরণ কপালে হাত দিল, এই বাজার করলেন এতক্ষণ ধরে!’

    ‘বাকিটা তুমি নিয়ে এসো।’ বনবিহারী বাথরুমের দিকে যাচ্ছিলেন কিন্তু বাইরের দরজায় শব্দ হতে ঘুরে দাঁড়ালেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅর্জুন সমগ্র ৫ – সমরেশ মজুমদার
    Next Article বুকের ঘরে বন্দি আগুন – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }