Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আদিবাসী লোককথা : ২য় খণ্ড – দিব্যজ্যোতি মজুমদার

    April 27, 2026

    বৈদ্যুতিক চুল্লি – শঙ্কর চ্যাটার্জী

    April 27, 2026

    সিদ্ধিগঞ্জের মোকাম – মিহির সেনগুপ্ত

    April 27, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আদিবাসী লোককথা : ২য় খণ্ড – দিব্যজ্যোতি মজুমদার

    দিব্যজ্যোতি মজুমদার এক পাতা গল্প153 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সাবাই ঘাসের জন্মকথা

    সে অনেককাল আগের কথা। এক গাঁয়ে ছিল সাত ভাই। আর তাদের ছিল এক আদরের বোন। ভাই-বোনে খুব মিল ছিল। হবে না কেন? সাত ভাইয়ের একটাই বোন।

    একবার সাত ভাই ঠিক করল, তারা একটা পুকুর কাটবে। জলের বড় অভাব। লেগে গেল কাজে। সারা দিনমান কাজ করে। অনেক কষ্ট হল, অনেক পরিশ্রম হল। পুকুরও হল অনেক গভীর। কিন্তু তবু জলের দেখা নেই। এতটা মাটি তোলা হল, জল বের হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু পুকুরের তলায় তেমনি শক্ত লালচে মাটি। জল নেই, জলের দেখা নেই। পুকুরে ভিজে ভিজে মাটি নেই। পুকুর শুকনোই রইল।

    একদিন সাতভাই পুকুরের পাড়ে বসে রয়েছে। নানা চিন্তা, কত রকমের কথা। কেন জল নেই পুকুরে? অথচ এত গভীর পুকুর। এখন কি করা উচিত? এইসব। হঠাৎ তারা দেখতে পেল, দূরের পথ দিয়ে একজন যোগী এদিকেই আসছেন। তার হাতে একটা লোটা।

    পুকুরের কাছে আসতেই সাত ভাই যোগীকে প্রণাম করে জিজ্ঞেস করল, “আমরা অনেক কষ্টে অনেক দিন ধরে এই পুকুর কেটেছি। দেখুন, কত গভীর করে কেটেছি। তবু জল উঠছে না। কি করি বলুন তো? আপনি তো অনেক কিছু জানেন। কত দেশে দেশে বনে বনান্তরে ঘুরে বেড়ান। অনেক কিছু দেখেছেন। আপনি বলে দিন,—কি করলে পুকুরে জল আসবে? টলটলে জলে পুকুর ভরে যাবে?

    যোগী কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেন। তারপরে সব ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘তোমাদের একটা বোন আছে। আদরের বোন। পুকুরের নামে তাকে যদি উৎসর্গ করো, পুকুর জলে ভরে উঠবে। টলটলে জলে ভরে উঠবে।

    যোগী আর কোন কথা বললেন না। সাত ভাই কি বলবে তা শুনবার জন্য অপেক্ষা করলেন না। দূর বনের পথে এগিয়ে গেলেন।

    যোগী চলে যেতেই সাত ভাই চমকে উঠল। এ কি করে সম্ভব? বোন যে তাদের বড় আদরের। একমাত্র বোন। তাকে উৎসর্গ করতে হবে? বোন তো মরে যাবে। তবে? কিন্তু পুকুরেও যে জল নেই। এত পরিশ্রম ব্যর্থ হবে? তারাই বা কি করবে? দেখাই যাক না কি হয়। যোগীর কথামতো একবার চেষ্টা করেই দেখা যাক। সলাপরামর্শ চলল। একবার মত হয়, আবার মত পালটায়। শেষে বোনকে উৎসর্গ করাই ঠিক হল। সবাই রাজি হল।

    দুপুরে বোন যখন পুকুরে আমাদের খাবার নিয়ে যাবে তখন ওকে খুব সাজিয়ে পাঠাবে। সবচেয়ে ভালো পোশাক পরতে দেবে। আমাদের খাবার দেবে নতুন পাত্রে।

    আর বোনের সঙ্গে দেবে একটা নতুন মাটির লোটা। সে ওই লোটাতে করে আমাদের জন্য খাবার পরে জল বয়ে আনবে। ভুলে যেয়ো না কিন্তু।

    সাত ভাই রওনা দিল পুকুরের দিকে। পথে কেউ কারও সঙ্গে কোন কথা বলল না। মন খারাপ হয়ে আছে। আহা! তাদের আদরের বোন। কিন্তু উপায কি?

    দুপুর হল। বনে-মাঠে-আকাশে আগুন। বোন আসছে। দূর থেকে দেখা যাচ্ছে। সাত ভাই বোনকে দেখে মাথা নিচু করে ফেলল। বুকের মধ্যে যেন মাদল বাজছে। কষ্টের মাদল। বোন হাসতে হাসতে কাছে এল। কি সুন্দর লাগছে বোনকে। ঝলমলে। পোশাক, হাতে-গলায়-কানে ঝকঝকে গয়না, পরিপাটি চুলে ফুলের বাহার। বোনকে উৎসর্গ করতে হবে? বোন আর বেঁচে থাকবে না? তাদের চোখে জল টলটল করতে লাগল। বুক ফাঁকা ফাঁকা লাগছে।

    ভাইদের চোখে জল দেখে আদরের বোন উতলা হল। তাড়াতাড়ি জিজ্ঞেস করল, “কি হয়েছে? তোমরা কাঁদছ কেন?

    ভাইরা নিজেদের সামলে নিল। কষ্টের হাসি হেসে বলল, “দূর পাগলি। কই কিছু হয়নি তো? এমনি।

    খাবার নিল তারা। নতুন মাটির লোটা নিয়ে বোনকে পুকুরে নামতে বলল। খাবার পরে জল দরকার। বোন তো কিছুই জানে না। লোটা নিয়ে হালকা পায়ে পুকুরের দিকে গেল। উঁচু পাড়ে উঠতেই পুকুরের তলার মাটি থেকে জল উঠতে লাগল। কুলকুল করে জল উঠছে। নেমে গেল পুকুরের ঢালু বেয়ে। জলের কিনারে যেতেই জল এসে লাগল তার পায়ের পাতাতে। টলটলে জল। সে নতুন মাটির লোটা হাতে নিচু হল—জল বাড়ছে, জল বাড়ছে, আরও বাড়ছে। লোটা ডোবাল জলে, অনেক জল তবু লোটা ডুবল না। এ কি, এত জল, তবু লোটায় কেন জল ঢুকছে না। আদরের বোন পুকুরের মাঝখান থেকে মিষ্টি সুরে গেয়ে উঠল,

    ভাই
    জল বাড়ছে জল বাড়ছে জল বাড়ছে,
    ডুবছে ডুবছে পায়ের পাতা ডুবছে।
    ভাই!
    তবু রইল খালি রইল খালি হাতের লোটা,
    জলের তলে ডুবছে না তো হাতের লোটা?

    জল আরও বেড়ে চলেছে। আরও টলটলে হয়েছে জল। জল আদরের বোনের হাঁটু ডুবিয়ে দিল। লোটা তবু ভরল না। আদরের বোন পুকুরের মাঝখানে থেকে মিষ্টি সুরে গেয়ে উঠল,

    ভাই
    জল বাড়ছে জল বাড়ছে জল বাড়ছে,
    ডুবছে ডুবছে পায়ের পাতা ডুবছে।
    ভাই!
    তবু রইল খালি রইল খালি হাতের লোটা,
    জলের তলে ডুবছে না তো হাতের লোটা?

    জল বাড়ছে। টলটলে জল বাড়ছে। জল আদরের বোনের কোমর ডুবিয়ে দিল। লোটা তবু ভরল না। আদরের বোন পুকুরের মাঝখান থেকে মিষ্টি সুরে গেয়ে উঠল,

    ভাই
    জল বাড়ছে জল বাড়ছে জল বাড়ছে,
    ডুবছে ডুবছে পায়ের পাতা ডুবছে।
    ভাই!
    তবু রইল খালি রইল খালি হাতের লোটা,
    জলের তলে ডুবছে না তো হাতের লোটা?

    জল বাড়ছে। আরও টলটলে জল। আদরের বোনের গলা ডুবিয়ে দিল। লোটা তবু ভরল না। আদরের বোন পুকুরের মাঝখান থেকে মিষ্টি সুরে গেয়ে উঠল,

    ভাই
    জল বাড়ছে জল বাড়ছে জল বাড়ছে,
    ডুবছে ডুবছে পায়ের পাতা ডুবছে।
    ভাই!
    তবু রইল খালি রইল খালি হাতের লোটা,
    জলের তলে ডুবছে না তো হাতের লোটা?

    শেষকালে জল আরও বেড়ে চলল। টলটলে জল অল্প অল্প ঢেউ তুলে আদরের বোনের চোখ-কপাল-চুল ডুবিয়ে দিল। জল মাথার ওপর দিয়ে বয়ে গেল। আর তখনি নতুন মাটির লোটা টলটলে জলে পূর্ণ হয়ে উঠল। বোন এখন জলের তলায়। হাওয়ার দোলায় জল ছোট ছোট ঢেউ তুলে পুকুরময় ছড়িয়ে পড়ছে। শুকনো পুকুরে টলটলে জল,—আদরের বোন জলের তলায়। বোন ডুবে গেল। জলের তলায় আদরের বোন হারিয়ে গেল।

    এখন হয়েছে কি, এই দুঃখী বোনের আগেই বিয়ে ঠিক হয়ে গিয়েছিল। বিয়ের শুভদিনও ঠিক হয়ে গেল। আর সেই দিনের বেশি দেরি ছিল না। সেই দিন এসে গেল। সেদিন সকালে বিয়ের ঘটক এসে মেয়ের ভাইদের জানাল,— বর আসছে, একটু পরেই রওনা দেবে। বিয়ের সব ব্যবস্থা যেন ঠিকঠাক থাকে। ভাইদের মাথায় বর্ষাদিনের বাজ আছড়ে পড়ল।

    বর এল। সঙ্গে অনেক বরযাত্রী। বর এল সুন্দর সাজানো পালকিতে। তারা গায়ের বাইরে এসে থামল। খবর পেয়েই সাত ভাই সেখানে গেল। বরকে বরণ করল। তারপরে শুরু হল খাওয়া-দাওয়া, নাচ-গান। আনন্দ, আনন্দ–মাদলের মিষ্টি সুরে গান আর নাচ।

    অনেকক্ষণ এভাবে কেটে গেল। তবু কেন কনে আসছে না? এতক্ষণ তো আসা উচিত ছিল। সাত ভাইও তো তেমন কিছু বলছে না। বরযাত্রীরা কনের কথা জানতে চাইল। আর কতক্ষণ অপেক্ষা করা যায়। এবার কনে আসুক। ভাইরা নানা অজুহাত দেখাতে লাগল। এই তো আসবে। আসলে বোন তার বন্ধুদের সঙ্গে একটু দূরের বনে গিয়েছে, শুকনো কাঠ কুড়োতে। তাই একটু দেরি হচ্ছে। আসলে বোন গিয়েছে কিছু দূরের নদীতে, জল আনতে গিয়েছে। তাই একটু দেরি হচ্ছে। আর কিছুক্ষণ চলুক গান আর নাচ।

    আরও অনেক সময় কেটে গেল। কনে তবু এল না। বর ক্লান্ত হয়ে পড়েছে, বরযাত্রীদের বড় একঘেয়ে লাগছে। বিয়ের আনন্দে কনে না থাকলে কি ভালো লাগে? এবার তারা ভীষণ রেগে গেল। সাত ভাইকে যা-তা বলতে লাগল। বিয়ে করতে এসে এমন ব্যবহার কেউ করে? দরকার নেই বিয়ের। তারা এ বিয়ে মানে না। তারা বিরক্ত হয়ে রেগে গিয়ে বাড়ির পথে রওনা দিল। সাত ভাই জলভরা চোখে তাদের যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে রইল। অন্যেরা জানবে কি করে, তাদের বুকের মধ্যে কত ব্যথা! হায়! আজ তাদের আদরের বোন তাদের কাছে নেই। দুঃখী বোন হারিয়ে গিয়েছে, তাদের দোষেই হারিয়ে গিয়েছে।

    বরের পালকি আর বরযাত্রীর দল মাঠের পথ বেয়ে চলে যাচ্ছে। সেই পুকুরের পাশ দিয়ে তারা যাচ্ছে, যে পুকুরে আদরের বোন জলের তলায় হারিয়ে গিয়েছে।

    হঠাৎ তারা দেখল, পুকুরের মাঝখানে একটা সুন্দর ফুলের গাছ। আর সেখানে একটিমাত্র ফুল ফুটে রয়েছে –এমন সুন্দর ফুল তারা জীবনে দেখেনি। রঙের কি বাহার।

    বর পালকি থেকে সে ফুল দেখতে পেল। পালকির পাশে চলছিল একজন। সে মাদল বাজাচ্ছিল। বর তাকে বলল, “ওই সুন্দর ফুল আমার চাই।

    সে নেমে গেল পুকুরে। বুক জলে এসে হাত বাড়াল ফুলের দিকে। ফুল নড়ে উঠল, ওপাশে সরে গেল। ফুল চলে গেল নাগালের বাইরে। হঠাৎ ফুল গান গেয়ে উঠল,

    ফুল দেব ফুল নাও, বন্ধু,
    ভেঙো না ভেঙো না ডাল, বন্ধু।

    মাদল-বাদক চমকে উঠল। ফুল কথা কইছে? ফুল সরে যাচ্ছে? জল থেকে উঠে এল তক্ষুনি। বরকে এসে বলল,— ফুল যে গান গাইছিল। ধরতে গেলে সরে যাচ্ছে। বর অবাক হল। তাহলে সে একবার চেষ্টা করুক। দেখাই যাক না, কি হয়!

    পুকুরের পাড়ে এল বর। তাকিয়ে রইল ফুলের দিকে। জলের ধারে নামতে যাবে,—এমন সময় দুলতে দুলতে জল কেটে ফুলের গাছ এগিয়ে আসতে লাগল বরের দিকে। ছোট্ট ছোট ঢেউয়ের মাঝখান দিয়ে সুন্দর ফুল মাথা নেড়ে দুষ্ট মেয়ের মতো এগিয়ে আসছে। তার সামনে এসে থেমে গেল ফুলের গাছ। জলের তলায় হাত ডুবিয়ে মাটি থেকে শেকড় সমতে ফুলের গাছ তুলে আনল বর। ফুল সমেত গাছ নিয়ে পালকির ভেতরে গিয়ে বসল। আজকের দিনে মনে যে ক্লান্তি এসেছিল, বিয়ে করতে এসে যেভাবে বিরক্ত হয়েছিল,—এখন সে সবকিছু ভুলে গেল।

    বর চলেছে পালকিতে, পাশে পাশে বরযাত্রীর দল। সবাই ক্লান্ত। যারা পালকি বইছিল, হঠাৎ তারা অবাক হল। এ কি! পালকি হঠাৎ এত ভারী হয়ে উঠল কেন? তারা ক্লান্ত বলে কি? কিন্তু না। পালকি আগের চেয়ে অনেক ভারী। একজন পাশে এসে দরজার ফাঁক দিয়ে ভেতরে চেয়ে দেখল। বরের পাশে ফুঠফুটে বউ বসে রয়েছে। ঝলমলে পোশাক দেহে, কানে-হাতে-গলায় ঝকঝকে গয়না। মাথায় ফুলের বাহার। হলুদ রঙের শাড়িতে কি সুন্দর মানিয়েছে বউকে। ফুল হল কনে, বরের বউ।

    হবেই বা না কেন? ওই সুন্দর হলুদ রঙের ফুলই তো সাত ভাইয়ের আদরের বোন, দুঃখী বোন। সেই বোন যে জলের তলায় হারিয়ে গিয়েছিল।

    বিকেল গড়িয়ে গিয়েছে। আলো-আঁধারিতে বেজে উঠল মাদল। বনে বনে অনেক পাখির কিচির-মিচির গান। পাগুলো নেচে উঠল নাচের ছন্দে। গলায় বিয়ের গান। আনন্দে তারা গায়ের দিকে চলল বর আর নতুন বউকে নিয়ে। আনন্দ, আনন্দ—চারিদিকে আনন্দ। সুখের সংসার।

    সাত ভাই গাঁয়ে থাকে। তারা এসব কিছুই জানে না। এমনি করে দিন যায়। সাত ভাইয়ের জীবনে দুঃখ নেমে এল। চরম দুঃখ। জমি গেল, ফসল ঘরে আসে না। পেট চলে না, অনাহার। তাই তারা বনে কাঠ কুড়োতে লাগল। সেই কাঠ মাথায় করে গাঁয়ে গাঁয়ে বিক্রি করে। তারা বনে বনে শালপাতা কুড়োতে লাগল। কাঠিতে গেঁথে গেঁথে শালের পাতার থালা তৈরি করে। মাথায় করে গাঁয়ে গাঁয়ে বিক্রি করে। গাঁয়ের মধ্যে তাদের মতো গরিব আর কেউ ছিল না। হায়! সাত ভাই।

    এমনি করে কষ্টে দিন চলে। চড়া রোদ্দুরে অনেক দূরের দূরের গাঁয়ে তাদের যেতে হয়। যতক্ষণ বিক্রি না হয়, ততক্ষণ ঘোরে। বিক্রি হলেই পেটের খাবার জোটে, নইলে নয়।

    ঘুরতে ঘুরতে সাত ভাই একদিন এসেছে এক নতুন গাঁয়ে। গায়ের পথে হেঁকে চলেছে শুকনো কাঠ, শালপাতার থালা। গাঁয়ের পথে একজন তাদের একটা বাড়িতে যেতে বলল। সে বাড়িতে কদিন পরেই একটা বিয়ের উৎসব হবে। তাই চাই অনেক কাঠ, অনেক শালপাতার থালা। বাড়ির পথ দেখিয়ে দিল সে। তারা চলল সেই বাড়ির পথে। হ্যাঁ, ঠিকই। সে বাড়িতে এসব দরকার।

    মাথার বোঝা নামিয়ে তারা বসেছে। দরদাম, গোনাগাথা চলছে। হঠাৎ দাওয়ার ওপরে একটি বউ এল। বউ সাতভাইকে দেখে চমকে উঠল, বুক ঠেলে কান্না এল। তার ভাইদের এ কি অবস্থা। দেহে ছেড়াখোড়া কাপড়, তাও এক চিলতে। কোনরকমে কোমরে জড়ানো। দেহ রোদে পুড়ে পুড়ে উনুনের কাঠের মতো কালো হয়েছে। তাতে খড়ি উঠছে, ফেটে ফেটে গিয়েছে চামড়া, ঠিক যেন কুমিরের দেহের মতো। ভাইদের এমন দশা কেমন করে হল?

    বোন উঠোনের পাশে গাছতলায় নামল। আরও কয়েকজন মেয়ে এল তার পাশে। তারা দূর থেকে কাঠ-পাতা কেনা দেখছে। বউ কাঁদতে লাগল, চেপে চেপে কাঁদছে। চোখ বেয়ে গাল বেয়ে জল পড়ছে। বন্ধুরা অবাক হল। বউ কাঁদছে কেন? কি হয়েছে? বউ বলল, “কিছুই হয়নি তো। ওই ঘরের চাল থেকে একটুকরো খড় চোখে পড়েছে তাই।

    বন্ধুরা ঘরের চাল থেকে বেরিয়ে আসা খড়ের ডগা ভেঙে দিল। তবু বউ কাঁদছে, চেপে চেপে কাঁদছে। আবার কি হল? আবার কেন চোখে জল?

    বউ বলল, ‘ও কিছু নয়। একটা পাথর রয়েছে মাটিতে, দেখিনি তো। পায়ে লেগেছে আঘাত। তাই।

    বন্ধুরা মাটি থেকে পাথরটা টেনে তুলল। ফেলে দিল দূরে। তবু বউ কাঁদছে, এবার ঝরঝর করে কাঁদছে। চোখের জলে বুক ভেসে যাচ্ছে। আবার কি হ? আবার কান্না কেন?

    এবার বউ আর মিথ্যে কথা বলতে পারল না। সে কাদতে কাঁদতে বলল, “কেন কাদছি? না কেঁদে থাকি কেমন করে? ওই যারা শুকনো কাঠ বিক্রি করছে, ওই যারা শালপাতা বিক্রি করছে—ওরা কারা জানো? ওই ছেড়াখোঁড়া লেংটি-পরা লোকগুলো কে জানো? ওরা আমার আপন ভাই। আমি ওদের আদরের বোন। কেন এমন দশা হল? আর বলতে পারলনা বউ, কাঁদতে কাঁদতে বসে পড়ল মাটিতে।

    খবর শুনল বউয়ের শ্বশুর-শাশুড়ি। সে কি কথা? ওরা সবাই বউমার ভাই? ওরা যে ঘরের অতিথি, আদরের অতিথি! বউকে কাঁদতে নিষেধ করল, তাদের বাড়িতে যখন একবার এসেছে তখন কোন ভাবনা নেই। বউ শান্ত হল। বড় ভালো শ্বশুরশাশুড়ি।

    সাত ভাইকে তখুনি তারা অনেকটা তেল দিল। কাছের নদীতে গিয়ে গায়ে ভালোভাবে তেল মেখে স্নান করে আসুক। এদিকে খাওয়ার তৈরি হয়েই আছে।

    সেই সাত সকাল থেকে মাথায় বোঝা নিয়ে সাত ভাই গাঁ থেকে গাঁয়ে ঘুরছে। এখন দুপুর। প্রচণ্ড খিদে। পেট ভেতরে ঢুকে গিয়েছে। চোখে অন্ধকার, মাথা ঘুরছে। খিদের সময় কি কাণ্ডজ্ঞান থাকে? নদীর পথে যেতে যেতে তারা গায়ে তেল মাখার তেল খেয়ে ফেলল। গায়ের নোংরা ওঠাবার জন্য শ্বশুর-শাশুড়ি তেলের সঙ্গে খৈল দিয়েছিল। তাও তারা খেয়ে ফেলল।

    ফিরে এল বোনের বাড়ি। দেহের চামড়া তেমনি খসখসে খড়িওঠা রয়েছে। সব বুঝল তারা। আবার দিল তেল আর খৈল। কিন্তু এবার সঙ্গে দিল বাড়ির একজনকে। তার সঙ্গে তারা চলল নদীর পথে। ভালোভাবে তেল মেখে, জলে নেমে খৈল দিয়ে দেহ পরিষ্কার করে সাত ভাই স্নান করল। উঠে এল ওপরে। বাড়িতে এলে তাদের নতুন কাপড় দেওয়া হল। নতুন কাপড় পরে তারা বসল। এতক্ষণে সাত ভাইকে মানুষের মতো মনে হচ্ছে। কি যে অবস্থা হযেছিল তাদের! তাদের দিকে তাকিয়ে বোন একটু শান্তি পেল।

    এবার ঘরে আসন পাতা হল। আমাদের সমাজের নিয়ম মতো বয়স অনুযায়ী সাত ভাই বসল। প্রথমে বড় ভাই, তারপর পরপর ব্যস বুঝে অন্য ভাইরা বসল, একেবারে শেষে ছোট ভাই। সবার সামনে শালপাতার থালা। থালায় ধোয়া-ওঠা গরম ভাত আর গরম সুস্বাদু শুয়োরের মাংস। এমন পরিপাটি করে কেউ তাদের অনেক কাল খেতে দেয়নি। তারা খেতে শুরু করল। সামনে বসে রয়েছে তাদের আদরের ছোট বোন। তারা খাচ্ছে।

    বোন আস্তে আস্তে বলল, ‘ভাইরা, কতদিন পরে তোমাদের সঙ্গে দেখা হল। আজ খাবার জন্য তোমরা আমার বাড়িতে এলে। তোমাদের কি দশাই হয়েছে। আমারই বাড়িতে বসে তোমরা কত সুখে খাচ্ছ, নতুন কাপড় পরে খাচ্ছ। আর এই তোমরাই আমাকে পুকুরে উৎসর্গ করে দিলে। পারলে কি করে? বোনের দুচোখ বেয়ে জল পড়ছে।

    সাত ভাই লজ্জায় মুখ নিচু করল। এ তারা কি করেছিল? সত্যি, আজ ভাবতে অবাক লাগে, এ কাজ তারা করল কীভাবে? তাদেরই তো আদরের ছোট বোন! হায়! এ তারা কি করেছিল? লজ্জায় তারা মরে যাচ্ছে। সামনে বোন কাঁদছে।

    সাত ভাই আকাশের দিকে চাইল। সেখানে পালাবার পথ নেই, আকাশের পথে মুক্তির পথ নেই। তারা চোখ নামাল। মাটির দিকে চাইল, পৃথিবীতে পালাবার পথ খুঁজল। হঠাৎ সামনের মাটি দুফাঁক হয়ে ফেটে গেল, পৃথিবী দ্বিধা হল। তারা গভীর খাদের মধ্যে ঢুকতে চাইল। লজ্জা থেকে বাঁচতে চাইল। ঢুকে পড়ল গভীর পৃথিবীর মধ্যে। একে একে। হারিয়ে যাচ্ছে একের পর এক ভাই। বোনের চোখের সামনে মাটির গভীরে ভাইরা হারিয়ে যাচ্ছে, অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে। বোন পাগলের মতো হয়ে গেল। এ কথা সে কেন বলল ভাইদের? মনে বড় দুঃখ হয়েছিল তাই। কিন্তু ভাইরা এ কি করল? বোন একথা কেন বলল? হায়! হায়! হায়!

    ছোট ভাই ছিল বোনের সবচেয়ে কাছে। সে যখন ঢুকে চলেছে গভীর ফাঁকের মধ্যে, বোন আর সহ্য করতে পারল না। বুক ফেটে যাচ্ছে। মরিয়া হয়ে ছোট ভাইকে ধরতে গেল, সে ঢুকে পড়েছে, বোন হাত দিয়ে চেপে ধরল ভাইয়ের চুলগুলো। চিৎকার করে কেঁদে উঠল, ‘ভাই, ফিরে আয়, ভাই আমার। প্রচণ্ড গতিতে ছোট ভাইও হারিয়ে গেল। বোনের হাতের মুঠোয় রইল ভাইয়ের কয়েকটি চুল।

    চোখের সামনে চুলগুলো ধরে হাউ,হাউ করে কেঁদে উঠল আদরের বোন, ঘরের বউ। এ কথা সে কেন বলল? এ কাজ কেন করল? হায়!

    কান্না থামিয়ে বোন উঠল। তাদের সুন্দর সাজানো বাগানের এক পাশে গেল। ছোট ভাইয়ের স্মৃতি, হাতের মাঠোয় ধরা চুলগুলো যত্ন করে চোখের জলে ভিজিয়ে পুঁতে দিল মাটিতে। নরম হাতের স্পার্শে আলতো করে চাপা দিল ঝুরঝুরে মাটি। ভাইয়ের ভাইয়ের স্মৃতি থাক ওইখানে, ওই বাগানে।

    একদিন সেই মাটি-চাপা স্মৃতির চুলগুলো থেকে সুন্দর ঘাস গজিয়ে উঠল। মানুষের চুল থেকে ঘাস। ভাইয়ের চুল থেকে ঘাস। বোনের হাতে-বোনা ঘাস। আজকের সাবাই ঘাসই হল সেই ঘাস। এমনি করেই সাবাই ঘাস জন্মাল। সবাই বলে, এই হল সাবাই ঘাসের জন্মকথা।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবৈদ্যুতিক চুল্লি – শঙ্কর চ্যাটার্জী
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আদিবাসী লোককথা : ২য় খণ্ড – দিব্যজ্যোতি মজুমদার

    April 27, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আদিবাসী লোককথা : ২য় খণ্ড – দিব্যজ্যোতি মজুমদার

    April 27, 2026
    Our Picks

    আদিবাসী লোককথা : ২য় খণ্ড – দিব্যজ্যোতি মজুমদার

    April 27, 2026

    বৈদ্যুতিক চুল্লি – শঙ্কর চ্যাটার্জী

    April 27, 2026

    সিদ্ধিগঞ্জের মোকাম – মিহির সেনগুপ্ত

    April 27, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }