Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আদিবাসী লোককথা : ২য় খণ্ড – দিব্যজ্যোতি মজুমদার

    April 27, 2026

    বৈদ্যুতিক চুল্লি – শঙ্কর চ্যাটার্জী

    April 27, 2026

    সিদ্ধিগঞ্জের মোকাম – মিহির সেনগুপ্ত

    April 27, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আদিবাসী লোককথা : ২য় খণ্ড – দিব্যজ্যোতি মজুমদার

    দিব্যজ্যোতি মজুমদার এক পাতা গল্প153 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ট্যাটন

    সে অনেক কাল আগের কথা। এক বিধবা মাযের একটিমাত্র ছেলে ছিল। মা বিধবা, তাই ছেলেকে নিয়ে থাকত বাপের বাড়িতে। ছেলেটির ছয় মামা। এমনি করে দিন যায়।

    পাহাড়ি নদীতে ঢল নেমেছে। নীচের দিকে টলটলে জল তরতর করে বয়ে চলেছে। মামারা বলল, “চলো ভাগ্নে, মাছ ধরতে যাই। বাঁশের ফাঁদ পেতে আসি। ছেলের মহাফুর্তি। সে সঙ্গে সঙ্গে রাজি।

    ছয় মামা নদীর ওপারের দিকে সুন্দর করে বাঁশের জালের আটল বাঁধল। সুন্দর ফাঁদ তৈরি হল। এ ফাঁদ এমনই, মাছ ঢুকবে কিন্তু বেরুতে পারবে না। ছেলেটি কিছুটা নীচের দিকে জালের আটল বাঁধল। সেখানে খুব স্রোত। সে ছোট, ভালো কাজ জানে না। যেমন তেমন করে ফাঁদ পেতে বাড়িতে ফিরে এল।

    পরের দিন সকাল হতেই সাতজন গেল তাদের নিজের নিজের ফাঁদের কাছে। আশ্চর্য। তার মামারা কতো ভালোভাবে ফাঁদ পেতেছিল, কিন্তু বাঁশের জালে আটকে পড়েছে কয়েকটা কুচো চিংড়ি। আর কোন মাছ নেই। আর ছেলেটির বাঁশের জালে মাছ ভর্তি। অনেক মাছ। তাদের ছটফটানিতে এই বুঝি জাল ভেঙে যায়। মামারা অবাক হল।

    মামারা বলল, ‘ভাগ্নে, এবার আমরা এখানে ফাঁদ পাতি। তুই আরও নীচে নেমে যা। ওইখানে ফাঁদ পেতে রাখ। ভাগ্নে রাজি। মামারা ভাগ্নের জায়গায় ফাঁদ পাতল। খুব ভালোভাবে আটল বাঁধল। অনেকক্ষণ ধরে কাজ করল। ছেলেটি নদীর নীচের দিকে অনেকটা নেমে গেল। সেখানে আরও বেশি স্রোত। পা রাখাই দায়। পরের দিন সকালে সেই একই কাণ্ড। আরও মজার কাণ্ড। আজ মামাদের ফাঁদে একটা মাছও ঢোকেনি। একটা কুচো চিংড়িও নয়। আর ছেলেটির ফাঁদভর্তি মাছ। চকচকে রুপোলি মাছে তার ঝুড়ি ভর্তি হয়ে গেল। মামাদের চ্যাঙারি শূন্য।

    এমনি করে মামারা প্রতিদিন নতুন করে ভাগ্নের জায়গায় ফাঁদ পাতে, আর ভাগ্নেকে পাঠিয়ে দেয় নদীর আরও নীচের দিকে। সকালে ছেলেটির ঝুড়ি ভরে যায় মাছে, মামারা পায় অল্প কিছু মাছ। কোনদিন কিছুই পায় না। প্রত্যেক দিন ছেলেটিকে জায়গা পালটাতে হয়। একদম ভালো লাগে না। কিন্তু কি করবে সে? সে যে ছোট, মামারা বড়। সে যে বিধবা মায়ের অনাথ ছেলে।

    এমনি করে দিন যায়। শেষকালে নতুন নতুন জায়গায় ফাঁদ পেতে ছেলেটি ক্লান্ত হয়ে গেল। এক কাজ নিত্যিদিন ভালো লাগে? একদিন সে রেগেমেগে জলের তলায় আর ফাঁদ পাতল না। এক জায়গায় বড় বড় ঘাসের ঘন ঝোপ হয়ে ছিল। তার মধ্যে বাঁশের ফাঁদটিকে ঢুকিয়ে দিয়ে বাড়ি ফিরে এল। মামারা জানে না ভাগ্নে কোথায় রেখেছে তার ফাঁদ।

    পরের দিন সকালে মামারা ভাগ্নেকে ডাকল। নদীর কাছে যেতে হবে। ফাঁদে কেমন মাছ পড়ল দেখতে হবে। ছেলেটি অনেক দিন পরে মুখ খুলল। বলল, কালকে তো আমি ফাঁদ পাতি নি। আমার ফাঁদ জলের তলায় বসাই নি। ঠিক আছে, আমি তোমাদের সঙ্গে যাচ্ছি। এমনি যাচ্ছি। মামারা খুশি হল। ছেলেটি মামাদের পেছন পেছন চলল।

    নদীর তীরে এসে মামারা নামল জলে। আর ছেলেটি গেল ঘন ঘাসের ঝোপের কাছে। আরে! ভেতরে একটা বনের ঘুঘু পাখি! ঠোঁট দিয়ে বাঁশের সরু কাঠিগুলো ভাঙার চেষ্টা করছে। ছেলেটি বুনো লতা ছিড়ে আনল। হাত ঢুকিয়ে ঘুঘুকে বের করল আর তার পায়ে লতার ফাস দিয়ে আনন্দে চলল বাড়ির দিকে। আজ সে নতুন কিছু ধরেছে। খুব ভালো লাগল তার।

    এই অনাথ ছেলেটির ছিল গোরুর একটা বাছুর। যেমন নাদুস-নুদুস তেমনি মসৃণ চিক্কণ কোমল তার দেহ। অমন সুন্দর বাছুর এ এলাকায় আর কারও ছিল না। ছেলেটি খুব ভালোবাসত তাকে। মামারা হিংসেয় জ্বলে-পুড়ে যেত। তাদের বাছুরগুলো কেন ও রকম সুন্দর নয়? একদিন সুযোগ পেল তারা। ছেলে গিয়েছে বনে। তারা বাছুরটাকে মেরে ফেলল। হিংসে বেশি হলে মানুষ সব পারে।

    ছেলে বাড়ি ফিরে দেখে, পাশের বাঁশঝাড়ে তার বাছুর পড়ে রয়েছে। মাটি বেয়ে রক্ত গড়িয়ে যাচ্ছে। কি আর করবে সে! বসে বসে বাছুরের ছাল ছাড়িয়ে ফেলল। কষ্ট হল মনে, কিন্তু উপায় কি? বাছুরের একটা ঠ্যাং কেটে ফেলল। সেটা নিয়ে গিয়ে লুকিয়ে রাখল এক ধনীর বাড়ির গোলাঘরের নীচে। এই লোকটির খুব দেমাক, সে নাকি খুব উঁচুজাতের মানুষ। গোরুর মাংস খাওয়া তো দূরের কথা, ছোঁয়ও না।

    ছেলেটি তার বাড়ির এপাশ-ওপাশ ঘুরছে, এমন সময় দেখা হল ধনী লোকটির সঙ্গে। মুখোমুখি হতেই ছেলেটি বলল, “এঃ, আপনার বাড়ির ভেতর থেকে কেমন যেন গোরুর মাংসের গন্ধ ছড়াচ্ছে।

    ভীষণ চটে গেল সে। এতবড় কথা? রাগে কাঁপতে কাঁপতে বলল, “শয়তান হতচ্ছাড়া বদমাইস কোথাকার। আমার বাড়িতে গোরুর মাংসের গন্ধ? তোর খুব আস্পর্ধা বেড়েছে। আমি হলাম গিয়ে উঁচুজাতের লোক। আমি কি ওসব খাই? হতচ্ছাড়া পাজি, তোকে বাঘ খায় না কেন? খোঁজ। খুঁজে দেখ। কোথায় গোরুর মাংস। যদি খুঁজে না পাস, তোকে মেরেই ফেলব। এতবড় কথা! রাগে সে কাঁপছে দুলছে। ঠিক আছে, খুঁজে দেখি। বোকা-বোকা চোখে ছেলেটি বলল। এমন ভাব করল যেন সে কিছুই জানে না।

    ছেলেটি আলগা পায়ে উঠোনের মধ্যে ঢুকল। এলোমেলো এধার-ওধার ঘুরতে লাগল। নাঃ, পাওয়া তো যাচ্ছে না। একটু দূরে দাঁড়িয়ে রয়েছে ধনী মানুষটি। আস্তে আস্তে তার মুখে হাসি ফুটছে। ছেলেটি কোমর বেঁকিয়ে নিচু হয়ে নানা জায়গায় উঁকি মারছে। ছেলেটি জানে কোথায় আছে গোরুর ঠ্যাং, কোথা থেকে গোরুর মাংসের গন্ধ বেরুচ্ছে। সে আস্তে আস্তে গোলাঘরের কাছে গেল, নিচু হল। চিৎকার করে উঠল, ‘আমি ঠিক বলেছিলাম। এই তো গোরুর মাংস ৷ লোকটির বুক কেঁপে উঠল। নিচু থেকে ছেলেটি ঠ্যাংটা বের করে আনল। সামনে তুলে ধরল।

    লোকটি ভীষণ ভয় পেয়ে গেল। গায়ে একথা জানাজানি হয়ে গেলে তার সর্বনাশ হবে। উঁচুজাতের দেমাক আর থাকবে না। সবার সঙ্গে সমান হয়ে যেতে হবে। হায় কপাল। এ তার কি হল? সে আস্তে আস্তে ছেলেটির কাছে গেল। তাকে গোলাঘরের আড়ালে ডেকে নিয়ে গেল। ছেলেটির গায়ে-মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করে বলল, “বাছা, তুই বড় অনাথ রে। তা বাবা, কাউকে যেন একথা বলিস না। সোনা ছেলে আমার। আমি তোকে অনেক সোনা-রুপো দেব। বলবি না তো? তাড়াতাড়ি ঘরের মধ্যে গিয়ে লোকটি অনেক রুপো নিয়ে এল। থলে ভর্তি করে ছেলের হাতে দিল। লোকটি কেমন যেন ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গিয়েছে। ছেলেটি কোন কথা বলল না। জিনিস নিয়ে বাড়ির পথে হাঁটা দিল। গোরুর ঠ্যাংটা পথে ঘন ঝোপের মধ্যে ফেলে দিল।

    বাড়ি পৌছিয়েই ছেলে মাকে ডাকল। বলল, মা, মামারা বেতের যে কুনকেতে ধান মাপে সেটা নিয়ে এসো।

    মা ভাইদের কাছে গিয়ে বলল, “দেখ, তোদের ভাগ্নে কুনকেটা চাইছে। কেন চাইছে তা তো বাপু জানি না। ছোট মামা কুনকে নিয়ে দিদির সঙ্গে এল। ভাগ্নে রুপোর চাকতিগুলো কুনকেতে ভরে মাপতে লাগল। এত রুপো? ভাগ্নে পেল কোথা থেকে? ফিরে এসে অন্য ভাইদের বলল, ‘আশ্চর্য! ভাগ্নে অনেক রুপোর চাকতি নিয়ে এসেছে। সেগুলো সব মাপছে। কোথায় পেল কে জানে! অনেক অনেক রুপো!

    মাপা হয়ে গেলে মা কুনকে ফিরিয়ে দিতে এল। ভাইরা বলল, ‘ভাগ্নেকে একবার পাঠিয়ে দাও তো।

    মা ফিরে এসে ছেলেকে বলল, “তোর মামারা তোকে এখুনি ডাকছে। কি সব কথা আছে তোর সঙ্গে। যা দেখা করে আয়।

    ছেলেটি ঠোঁটের ফাঁকে হাসল। গেল মামাদের ঘরে। মামারা একসঙ্গে বলে উঠল, ‘তা ভাগ্নে, এত রুপো পেলি কোথায়? হ্যারে, কোথায় পেলি? মামাদের চোখ চকচক করছে।

    ছেলেটি খুব শান্তভাবে বলল, এগুলো গোরুর মাংসের দাম। তোমারা আমার যে বাছুরটাকে মেরে ফেলেছিলে, তার মাংস বিক্রি করে এই দাম পেলাম। হাটের লোকজন বলল, খুব ভালো মাংস। আরও চাই। আমাকে আরও মাংস আনতে পাঠিয়ে দিল। তাই এলাম। আবার যাব?

    মামারা সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠল, “আচ্ছা, আমরা যদি গোরুর মাংস হাট নিয়ে যাই, ওরা কিনবে তো? মানে আমাদের কাছ থেকে মাংস কিনবে তো?

    ছেলেটি উৎসাহ দিয়ে বলল, কেন কিনবে না? নিশ্চয়ই কিনবে। ওরা তো বসে রয়েছে। মাংস কিনবে বলেই বসে রয়েছে। তোমাদের তো অনেক অনেক গোরু আছে। সেগুলোকে মেরে তাদের সব মাংস যদি হাটে নিয়ে যাও, তবে কত টাকাই না পাবে। আমার তো মোটে একটা বাছুর। তাতেই কত পেলাম। তোমাদের তো ঘর ভরে যাবে। ছেলেটি হঠাৎ চুপ করে গেল। নিজের ভাঙা ঘরে ফিরে গেল।

    এক ভাই তক্ষুনি একটা গোরুকে কেটে ফেলল। বড় বড় ঝুড়িতে চাপিয়ে ছয় ভাই রওনা দিল। ভাগ্নে তাদের ডেকে বলল, “শোনো মামা, গায়ের ওখানে এক ধনী লোক থাকে। তাকে তো চেনোই। তার বাড়ির কাছে গিয়ে তার কাছে মাংস বেঁচতে চাইবে।

    তার বাড়ির কাছে গিয়ে চিৎকার করে হাঁকবে— কে নেবে গোরুর মাংস? খুব ভালো মাংস। মনে রেখো।

    ছয় ভাই পথ দিয়ে এগিয়ে চলেছে। সবার মাথায় মাংসের ঝুড়ি। একটা বড় গোরুর অনেক মাংস। সেই ধনী মানুষের বাড়ির সামনে এসে হাঁক দিল, “আমাদের গোরুর মাংস আছে। কে নেবে গোরুর মাংস? ভালো মাংস।

    অনেক লোক বাড়ি থেকে বেরিয়ে এল। হাঁক শুনে বলল, ‘হ্যাঁ গোরুর মাংস নেব। নামাও এখানে। অনেক লোক জড়ো হয়ে গেল। ছয় ভাই তখন ঢুকে পড়েছে ধনী লোকটির উঠোনে। লোকজনও সেখানে ঢুকল। ছয় ভাইকে তক্ষুনি দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলল আর সবাই মিলে বেদম প্রহার করল। একসঙ্গে বলে উঠল, “হতচ্ছাড়া পাজি কোথাকার! আমাদের পাড়ায় এসেছিস গোরুর মাংস বিক্রি করতে? জানিস না আমরা কত উঁচু জাতের লোক? আমরা খাব গোরু! তোরা এখানে ঢুকলি কি বলে? মাংস বিক্রি করতে সাহস পেলি কেমন করে? বলছে আর মারছে। বেশ কিছুক্ষণ পরে তারা ছয় ভাইকে পাড়া থেকে দূর করে দিল।

    ছয় ভাই ফিরে আসছে বাড়ির পথে। সারা দেহে ব্যথা। চোখ-মুখ ফুলে গিয়েছে, মাথার চুল ছিড়ে গিয়েছে। পথে যেতে যেতে নিজেদের মধ্যে তারা বলাবলি করছে, ‘ওঃ! কি সাংঘাতিক ভাগ্নে! কীভাবেই না আমাদের বোকা বানালো! অমন সুন্দর গোরুটাকে কেটে ফেললাম? কিছুই বুঝতে পারি নি আগে। শয়তান কোথাকার। গোরুও গেল, মারও খেলাম। ঠিক আছে, দেখাচ্ছি মজা। বাড়ি গিয়েই ওর ঘর পুড়িয়ে দেব। ওকে ঘরছাড়া করব। আমাদের কাছেই থাকবে আর আমাদেরই জ্বালাবে?

    বাড়ি ফিরে এসেই তারা আর কোনদিকে তাকাল না। আগুন জ্বালিয়ে দিল ভাগ্নের ঘরে। বাঁশ আর কাঠের তৈরি ঘর। দাউদাউ করে জ্বলে উঠল। অল্পক্ষণ পরেই ঘর মাটির সঙ্গে মিশে গেল। শুধু পড়ে রইল ছাইয়ের গাদা। কি আর করবে ছেলেটি! ছোট দুটাে ঝুড়ি ছিল তার। সেই দুটাে ঝুড়িতে বাড়ি-পোড়া ছাই ভর্তি করে নিল। তারপরে রওনা দিল দূরের এক গ্রামের পথে।

    ছেলেটি আগেই শুনেছিল, এই গ্রামে সবার ভীষণ চোখের ব্যামো হয়েছে। লাল হয়ে উঠছে চোখ, সবসময় কটকটু করে, অসহ্য যন্ত্রণা। কিছুতেই চোখের এই রোগ সারছে না। কত লতা-পাতার রস লাগাচ্ছে, কত টোটকা ওষুধ দিচ্ছে—কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। ছেলেটি গেল সেই গাঁয়ে। ছেলেটিকে গাঁয়ে ঢুকতে দেখে কয়েকজন জিজ্ঞেস করল, “ভিন গাঁয়ের ছেলে মনে হচ্ছে। তা কোন কাজ আছে নাকি? কাকে চাই?

    ছেলেটি খুব নম্রভাবে বলল, “না কাউকে চাই না। আমি এসেছি আপনাদেরই কাছে। শুনলাম, আপনাদের গায়ের সবার চোখের ব্যামো হয়েছে। বড্ড কষ্ট পাচ্ছেন। কিছুতেই নাকি সারছে না? তাই ওষুধ নিয়ে এলাম। খুব ভালো ওষুধ। চোখের রোগ সারবেই।’

    সবার মুখে হাসি ফুটল। বড় ভালো ছেলে, ভিন গাঁয়ের ছেলে হয়েও কত উপকারী। তারা গাঁয়ের সবাইকে ডেকে আনল। কষ্ট আর সহ্য করা যায় না। সবাই এল তাড়াতাড়ি। জড়ো হল এক জায়গায়। যার যা সামার্থ্য তাই দিল ছেলেটিকে। অনেক টাকা। হাতের থলে ভরে গেল। কেনই বা দেবে না? চোখের যন্ত্রণা তো সারবে।

    ছেলেটি বলল, “এক্ষুনি কিন্তু আপনারা এই ওষুধ চোখে লাগাবেন না। এ লাগাবার বিশেষ সময় আছে। দৈব ওষুধ তো! আমি কিছুটা পথ যাওয়ার পরে যেই চিৎকার করে বলব,–এবার ওধুধ চোখে লাগান, তখন ওষুধ চোখে দেবেন। চোখে দিয়ে ঘষবেন।

    বাড়ি-পোড়া ছাইয়ের বদলে অনেক টাকা-ভার্তি থলিটা ছেলেটি পিঠের ওপরে ফেলল। ভালোভাবে জুত করে রাখল। ছুটতে হবে তো? হাঁটছে ছেলেটি। পেছন থেকে শুনতে পেল, ‘এখন কি চোখে ওষুধ দেব? ছেলেটি জোরে পা চালালো, ‘এখনও নয়, একটু পরে। এমনি করে পেছন থেকে কথা ভেসে আসে, তারা অনুমতি চায়। আর দূর থেকে সেই গাঁয়ের মানুষগুলো শুনতে পায়, “এখনও নয়।

    অনেক এগিয়ে গিয়েছে ছেলেটি। এবার যদি গায়ের লোক তাড়াও করে তবু তাকে ধরতে পারবে না। আর কোন ভয় নেই। দূরের পথ থেকে ছেলেটির গলা ভেসে এল, ‘এবার ওষুধ লাগান। বলেই দৌড় দিল ছেলেটি। পিঠে ভারি বোঝা, দৌড়তে গেলে বোঝা দুলছে এধার-ওধার। কিন্তু গ্রামবাসীরা অনেক পেছনে। খুব জোরে না দৌড়লেও চলবে। তবু যত তাড়াতাড়ি পারে সে পথ চলছে।

    এদিকে গাঁয়ের সবাই তখন শতগুণ যন্ত্রণায় ছটফট করছে। পোড়া ছাই চোখে ঢুকে ব্যাথা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। তারা ভালো হয়ে উঠবে ভেবে অনেকটা ছাই চোখে দিয়েছিল। উঃ, কি সর্বনাশ। চোখ ফুলে লাল হয়ে একাকার। এখনকার কষ্ট অনেক বেশি। আগের যন্ত্রণা কিছুই নয়। এ কি হল তাদের? নিজেদের মধ্যে বলাবলি করল, ‘টাকাও গেল, চোখের ব্যামোও বেড়ে গেল। কি ঠকবাজ ছেলে? কীভাবে ঠকিয়ে গেল? আসুক না আর একবার। হাত-পা বেঁধে এমন মার দেব জীবনে ভুলবে না। বলছে আর চোখ কচলাচ্ছে। ভীষণ যন্ত্রণা।

    ফিরে এল বাড়িতে। মাকে পাঠালো মামাদের বেতের কুনকে আনতে। মা কুনকে নিয়ে এল। দিদির পেছনে পেছনে এল ছোট ভাই। ভাগ্নে কেন কুনকে চাইছে? দেখতে হবে সে কি করে। এসে দেখে—ভাগ্নে মেঝেতে ছড়িয়ে রেখেছে অনেক অনেক টাকা। আর কুনকে দিয়ে সেইসব টাকা গুনছে। অবাক হল ছোট মামা। ছুটে এল দাদাদের কাছে। সব বলল। ভাগ্নে ফিরে এসেছে। আরও অনেক টাকা। অনেক অনেক টাকা।

    সেবারের চেয়েও বেশি।

    ছয় ভাই অবাক হল। গেল ভাগ্নের কাছে। জিঙ্গেস করল, ‘ভাগ্নে, কোথা থেকে এত টাকা পেলি? বল না ভাগ্নে?

    ছেলেটি শান্ত চোখে মামাদের দিকে তাকিয়ে বলল, “বাড়ি-পোড়া ছাইয়ের বদলে এই টাকা পেলাম। যে বাড়ি তোমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলে তার ছাই বিক্রি করে এই টাকা পেলাম। যে গাঁয়ে ছাই বিক্রি করে এলাম, সেখানকার মানুষজন বলছে—আরও ছাই চাই, এত কম ছাই দিয়ে কি হবে? আরও ছাই নিয়ে এসো। আমার ঘরখানা তো ছিল ছোট, তা থেকে আর কত ছাই হবে। তা আমি আর কোথায় বেশি ছাই পাব।

    তোমদের অনেকগুলো ঘর। ঘরগুলো অনেক বড় বড়। ভেবে দেখ, কত ছাই হবে। উঃ, ভাবতেই পারছি না। অত ছাই বিক্রি করলে তো টাকা বয়েই আনতে পারবে না। আর ভাবতে পারছি না।

    ছয় ভাই চলে এল। পরামর্শ করল, “আমাদের ঘরগুলো পুড়িয়ে দি। কত টাকাই পাব। তখন আবার ঘর ছেয়ে নেব। বলামাত্রই কাজ শুরু হয়ে গেল। দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে উঠল। বাঁশঝাড়ের মাথা ছাড়িয়ে শিখা ওপরে উঠল। বাঁশ আর কাঠের বাড়ি জ্বলছে। মাটির সঙ্গে মিশে গেল ঘরগুলো। অনেক ছাই। এত ছাই বয়ে নিয়ে যাওয়া অসম্ভব! তাও ছয়জন মিলে যতটা পারে চেপে ঝুড়িতে রাখল। ঝুড়িও অনেক বড়। মাথায় চাপিয়ে রওনা দিল।

    ভাগ্নে তখন তাদের কাছে গিয়ে উৎসাহ দিয়ে বলল, ‘শোনো মামা, ওই গাঁয়ে যাবে। ওই গাঁয়ে সবার চোখের ব্যামো হয়েছে। গায়ে ঢুকেই চিৎকার করে হাক দেবে,—ছাই নেবে গো? চোখের ব্যামো একদম সেরে যাবে। মনে রেখো।

    মাথায় ভীষণ ভারি বোঝা। তবু তাড়াতাড়ি চলেছে ছয় ভাই। আঃ! কত টাকাই না মিলবে। চোখ বুজে মাঝেমধ্যে ভাবছে সেই কথা। পথ চলছে আনন্দে। এসে গেল সেই গাঁ, এই গাঁয়েই সবার চোখের ব্যামো হয়েছে, এখানেই ভাগ্নে ছাই বিক্রি করে অনেক টাকা ঘরে নিয়ে ফিরেছে। গায়ে ঢুকেই তারা হাঁক দিল, “ছাই নেবে গো? চোখের ব্যামো একদম সেরে যাবে।

    পিলপিল করে গাঁয়ের লোক ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এল। তখনও তাদের চোখের জ্বালা একটুও কমেনি। ধাক্কা মেরে ফেলে দিল ছয় ভাইকে। মাথার ঝুড়ি কোথায় ছিটকে পড়ল, দামি ছাই কোথায় হাওয়ায় গেল উড়ে। মোটা মোটা দড়ি এনে তারা বেঁধে ফেলল ছয় ভাইকে। আষ্টেপিষ্ঠে বাঁধল। তারা যে ছাই এনেছিল তা এনে খুব করে তাদের চোখে ঘষে দিল, আর কয়েকজন মিলে শুরু করল বেদম প্রহার। সবারই রাগ, সবারই চোখ জ্বলছে। সবাই মারতে শুরু করল। পালা করে মারছে আর চোখে ছাই ঢুকিয়ে দিচ্ছে। অনেকক্ষণ ধরে চলল এই অত্যাচার। গায়ের লোকের রাগ শেষকালে কমল। তারা ক্লান্ত হয়ে পড়ল। ছেড়ে দিল ছয় ভাইকে। খোড়াতে খোড়াতে চোখ কচলাতে কচলাতে ছয় ভাই বাড়ি ফিরল। হায় কপাল!

    বাড়িতে ঢুকেই চেপে ধরল ভাগ্নেকে। এবার আর রক্ষা নেই। ওকে মেরেই ফেলবে তারা। এতবড় শয়তান। ওর জন্য ওদের সুন্দর ঘর পুড়ল, দেহের এই হাল হল। ভাগ্নেকে ধরেই ওরা একটা লোহার খাঁচায় পুড়ল। শক্ত করে দরজা এঁটে দিল। ভেতর থেকে খোলার কোন উপায় নেই। ছয়জন মিলে মাথায় করে বয়ে নিয়ে চলল সেই খাঁচা। খাঁচার মধ্যে ভাগ্নে। অসহায়ভাবে এদিক-ওদিক চাইছে। নাঃ, এবার আর বাঁচার উপায় নেই। ঘন জঙ্গলের পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে পাহাড়ি নদী। সেই নির্জন জায়গায় গিয়ে তারা থামল। ধপাস করে ফেলে দিল খাঁচা। তারপরে বলল, ‘নদীর জলে ডুবিয়ে তোকে মারব। খাঁচাসমেত তোকে জলে ফেলে দেব। দেখি কে বাঁচায় তোকে। অনেক হয়েছে, আর নয়। এবার তুই মরবি। একটু পরেই মরবি।

    খাঁচা তো ভালোভাবে বাঁধাই রয়েছে। খুব খিদে পেয়েছে। কিছু খাওয়া দরকার। খেয়ে এসে ওকে জলে ডোবালেই চলবে। তারা গেল গাছের ফল খুঁজতে। একটু দূরে। খাঁচার মধ্যে বসে বোকাবোকা চোখে চেয়ে আছে ছেলেটি। দু-একবার হাত দিয়ে দরজা নাড়ল। না, বেরিয়ে যাবার কোনই উপায় নেই। এবার বুঝি মরতেই হবে।

    এমন সময় ছেলেটি একজন লোককে দেখতে পেল। খুব সাবধানে পা ফেলে এদিক ওদিক চেয়ে সে জঙ্গলের ভেতর দিয়ে আসছে। সে একজন বিরাট সর্দারের ছেলে, সর্দারকে সবাই রাজা বলে। রাজার ছেলে শিকার করতে বেরিয়েছে। অনেক দূরের পাহাড়ি গাঁয়ে তার বাড়ি। শিকার খুঁজতে খুঁজতে সে অনেক দূরে চলে এসেছে। হঠাৎ শিকারি রাজপুত্রের চোখে পড়ল এক অদ্ভুত দৃশ্য। এমন জিনিস সে আগে কখনও দেখেনি। খাঁচার মধ্যে বসে রয়েছে পাখি নয়, জন্তু নয়—একটা মানুষ। কাছে এল সে। জিজ্ঞেস করল, “কি ব্যাপার? তুমি লোহার খাঁচার মধ্যে কেন? কে তোমায় খাঁচায় বন্দি করে রেখেছে?

    ছেলেটি দুঃখের নিশ্বাস ছেড়ে বলল, “আর বলেন কেন। আমার মামাদের একটা মেয়ে আছে। তার মতো সুন্দরী এই এলাকায় আর কেউ নেই। অন্য কোথাও নেই। কি রূপ তার! মামারা তার সঙ্গে আমার বিয়ে দিতে চায়। কিছুতেই ছাড়বে না। আর আমার তো এই চেহারা। ওকে যদি বিয়ে করি, আমার তো ভীষণ হিংসে হবে। কি রূপ তার। লোকে আড়ালে আমাকে হাসি-ঠাট্টাও করতে পারে। কি বউয়ের কি বর! আমি তাই ওকে কিছুতেই বিয়ে করতে চাই না। মামারাও ছাড়বে না। তাই আমার এই হাল হয়েছে। মত দিলে তবেই নাকি খাঁচার দরজা খুলবে। কি যে করি! ওঃ! মেয়ের রূপ যদি আপনি দেখতেন।

    রাজপুত্র অবাক হয়ে বলল,“আমি তো তাহলে মেয়েটাকে বিয়ে করতে পারি। কি বল তুমি?

    ছেলেটি একটু চুপ করে রইল। তারপর বলল, তা পারেন। আপনার উপযুক্ত মেয়েই বটে। খুব মানাবে। মামারাও অরাজি হবে না।

    রাজপুত্র বলল, কেমন করে বিয়ে হবে? তুমি ঠিকঠাক বলে দাও। ছেলেটি এবার আরও উৎসাহ করে বলল, “আপনি এই খাঁচার মধ্যে বসে থাকবেন। চুপটি করে বসে থাকবেন। অল্পক্ষণ পরেই মামারা এসে পড়বে। তারা এসেই আপনাকে জিজ্ঞেস করবে,— তোমার কি আর কিছু বলার আছে? তারা যখন আপনাকে এই প্রশ্ন করবে, আপনি জবাব দেবেন—মামা, আমার বলার কথা একটাই আছে, আমি রাজি, আমি আপনাদের মেয়েকে বিয়ে করব। আমার মত হয়েছে। ব্যাস, তাহলেই সুন্দরী মেয়ের সঙ্গে আপনার বিয়ে হয়ে যাবে।

    শিকারি রাজপুত্র আনন্দে ডগমগ হয়ে বলল, তাহলে তো খুবই ভালো হয়। খুব ভালো।

    এবারে ছেলেটি তাড়াতাড়ি বলল, “দেখুন, আর একটা কথা আছে। আপনি যদি শিকারের ওই পোশাকে খাচার মধ্যে বসে থাকেন, তবে মামারা ঠিক আপনাকে চিনে ফেলবে। বুঝবে, এ তো তাদের ভাগ্নে নয়। তাহলে বিয়েও পণ্ড হয়ে যাবে। আমি খাঁচা থেকে বেরিয়ে আপনার পোশাক পরি, আর আপনি আমার পোশাক পরে খাঁচায় ঢুকে পড়ুন। ব্যাস, তাহলেই হবে। একটু তাড়াতাড়ি করাই ভালো। মামাদের আসার সময় হয়ে এল। এই এল বলে।

    রাজপুত্রের মন উতলা হয়ে উঠল। সে তাড়াতাড়ি খাঁচার দরজা খুলে দিল। বেরিয়ে এল ছেলেটি। পোশাক খুলে ফেলল তাড়াতাড়ি। রাজপুত্রকে দিল তার পোশাক।

    রাজপুত্র দিল নিজের নতুন ঝকমকে পোশাক, গলার হার, হাতের বালা। ছেলেটি পরে নিল সেসব। রাজপুত্র পরে নিল ছেলেটির অতি সাধারণ পোশাক। ঢুকে পড়ল খাঁচার মধ্যে। ছেলেটি বাইরে থেকে লোহার খাঁচার দরজাটি খুব ভালোভাবে সাবধানে এটে দিল।

    সুন্দর নতুন ঝকমকে পোশাকে গলায় হার হাতে বালা পরে ছেলেটি রাজপুত্রের বেশে বাড়ির পথে হাটা দিল। কি সুন্দর লাগছে তাকে দেখতে।

    এখন হয়েছে কি, গাছের ফল খেয়ে নদীর জল খেয়ে মামারা ফিরে এল নদীর তীরে সেই জঙ্গলের কাছে। ওখানেই রয়েছে খাঁচায় বন্দি তাদের ভাগ্নে। এসে দেখে, না খাঁচা ঠিক আছে। ভেতরে বসে রয়েছে তাদের ভাগ্নে। মুখটা নিচু করে বসে রয়েছে। মামারা এসেই ঠাট্টা করে বলল, ‘ভাগ্নে, তোর কিছু বলার আছে?

    রাজপুত্র হাসিহাসি মুখে বলল, ‘মামা ঠিক আছে, আমি রাজি। আমি ওকেই বিয়ে করব।

    তার কথা মামারা শুনল কি শুনল না, ধাক্কা মেরে উলটে দিল খাঁচা, একবার গড়িয়ে গেল, আবার ধাক্কা, আবার গড়িয়ে গেল। শেষকালে ঝপ করে গিয়ে পড়ল নীচের নদীতে। ভাগ্নে কি যেন বলতে চাইল, মামারা শুনতে পেল না, শুনতে চায়ও না। জলের ওপরে অনেক বুদবুদ দেখা গেল, আবার জলেই সেগুলো মিলিয়ে গেল। নদীর জল যেমন বইছিল তেমন বয়ে চলল।

    মামারা ফিরে আসছে জঙ্গলের পথে বাড়ির দিকে। মনে খুব আনন্দ। নিজেরা নিজেদের মধ্যে বলছে, “কি ভোগান্তিই না ভুগিয়েছে ভাগ্নে। ওঃ, কি পাজি শয়তান। এখন মরে গিয়ে শান্তি হল। আর জ্বালাতে আসবে না। তারা বাড়ি ফিরল।

    বাড়ির উঠোনে পা দিয়েই তারা চমকে উঠল। এ কি কাণ্ড! ভাগ্নে তো মরেনি। দাওয়ায় বসে পা নাচাচ্ছে। সুন্দর ঝলমলে পোশাক, গলায় হার, হাতে বালা। যেন রাজপুত্র বসে রয়েছে। ও তো মরেনি। আশ্চর্য! আরও সুন্দর হয়েছে।

    তারা আস্তে আস্তে ভাগ্নের কাছে এল। জিঙ্গেস করল, ‘ভাগ্নে, তোকে জলে ডুবিয়ে দিয়ে এলাম। খাঁচার দরজা বন্ধ। তা এত তাড়াতাড়ি এলি কেমন করে?

    ছেলেটি তৃপ্তিভরে হাসল। শেষকালে বলল, “আমি কি আর একা এখানে ফিরে আসতে পারতাম? খাঁচা তো বন্ধ, জল তো অনেক। আমার দাদু-দিদিমারা আমাকে আবার এখানে পাঠিয়ে দিল। পালকি করে পাঠিয়ে দিল। পালকি চড়ে তাই এত তাড়াতাড়ি চলে এলাম। খুব মজা?

    মামারা তাকিয়ে রয়েছে অবাক চোখে। ভাগ্নে বলে চলেছে, “জলের তলায় ঢুকে যেতেই দাদু-দিদিমারা কাছে চলে এল, খাঁচা খুলে দিল। সঙ্গে সঙ্গে এই নতুন পোশাক, গলার হার আর হাতের বালা। পরে নিলাম। ফিরে এলাম। খুব মজা। ও, বলতে ভুলে গেছি, দাদু-দিদিমারা একটা কথা বলে দিয়েছে। ওঃ, একেবারে ভুলে গেছি। অনেকদিন তোমাদের দেখেনি, তাই একবার তোমাদের ছয়জনকে দেখতে চেয়েছে। এই কথা বলে দিয়েছে। আর তোমাদের জন্য এই সোনার ভোজালি পাঠিয়ে দিয়েছে, সোনার ভোজালি। হাতে নিয়ে দেখ।

    মামাদের হাতে সে সোনার ভোজালিটা তুলে দিল। এমন সোনার বড় ভোজালি ভাগ্নে পাবে কোথা থেকে? জলের তলায় দাদু-দিদিমা না দিলে? সত্যিই, সোনার ভোজালি। মামারা অবাক হল, হিংসেতে ফেটে পড়ল।

    একটু পরে জিজ্ঞেস করল, “তাহলে, ওখানে যাওয়া যায় কেমন করে? ভাগ্নে, বল তো, কেমন করে দেখা করব বাবা-মায়ের সঙ্গে?

    ছেলেটি চোখের কোণে হাসির ঝিলিক টেনে বলল, ‘খুব সোজা। মামা, সেখানে যাওয়া খুব সোজা। তোমরা এক একজনে একটা করে লোহার খাঁচা বানাও। নদীর তীরে জঙ্গলের পাশে সেগুলোকে নিয়ে যাও। ঢুকে পড় তার মধ্যে। ব্যাস, হয়ে গেল। পৌঁছে যাবে দাদু দিদিমাদের দেশে।

    কথামতো কাজে লেগে গেল ছয় মামা। লোহার খাচা তৈরি করল। মাথায় করে বয়ে নিয়ে গেল নদীর তীরে জঙ্গলের পাশে। ঢুকে পড়ল যে যার খাঁচার মধ্যে। পেছনে পেছনে চলছিল ভাগ্নে। সে ভালোভাবে সাবধানে ছয়জনের খাঁচার দরজা বন্ধ করে দিল। পাশাপাশি রয়েছে ছটা খাঁচা। ভেতরে ছয় মামা হাসছে। মনে আনন্দ। এখুনি পৌছে যাবে বাবা-মায়েদের দেশে। নতুন ঝলমলে পোশাক পাবে, গলায় হার পরবে আর হাতে বালা। তার ওপরে পাবে সোনার ভোজালি। খুব মজা হবে।

    বড় মামার খাঁচা গড়িয়ে দিল ভাগ্নে। কয়েকবার গড়িয়ে সেটা গিয়ে পড়ল গভীর জলে। অনেক বুদবুদ উঠল জলের ওপরে। আবার মিলিয়ে গেল। ভাগ্নে চিৎকার করে উঠল, ‘মামারা, তাকিয়ে দেখ। বড় মামা দাদু-দিদিমাদের কাছে যেতেই তারা তাকে অনেকটা ধেনো মদ খেতে দিয়েছিল। তাড়াতাড়ি পচাই খেয়ে দেখ বড় মামা কেমন ভকভক করে বমি করছে, জলে কত বুদবুদ। ইস, কি বমিই না হল।

    তারপরে মেজ মামার খাঁচা ঠেলতে লাগল। খাঁচা গড়াতে লাগল। মেজ মামার মুখে হাসি, মনে আনন্দ। ঝপ করে খাঁচা গিয়ে পড়ল নদীর গভীর জলে। আবার অনেক বুদবুদ। এমনি করে ছয় মামার ছটি খাঁচাই হারিয়ে গেল নদীর জলে। জল এখন শান্ত, নদী আগের মতোই বয়ে চলেছে। জঙ্গলে আর কোন খাঁচা নেই। ভাগ্নে ফিরে চলল বাড়ির পথে।

    বাড়ির উঠোনে পা দিতেই ছয় মামি ভাগ্নেকে একসঙ্গে জিজ্ঞেস করল, “তোর মামারা ফিরবে কখন?

    ভাগ্নে আড়চোখে মামিদের দিকে তাকিয়ে বলল, “মামি, খুব তাড়াতাড়ি তো ফিরতে পারবে না। একটু তো দেরি হবেই। সবে মামারা তাদের বাবা-মায়ের কাছে পৌঁছেছে। কত দিন পরে দেখা-সাক্ষাৎ হল। সহজে কি তারা ছেলেদের ছাড়বে?

    একটু দেরি তো হবেই। মামিরা নিশ্চন্ত হল।

    তিন দিন তিন রাত্তির কেটে গেল। স্বামীরা তবু ফিরল না। চার রাত্তির কেটে গেল,—তবু তো কেউ এল না। আর কত দেরি হবে? এখনও কি বাবা-মায়েরা ছেলেদের ছাড়ছে না? এবার মামিরা উতলা হল। জিঙ্গেস করল, ‘ভাগ্নে, অনেক দিন তো হল। এখনও কেন তোর মামারা ফিরছে না? খুব চিন্তা হচ্ছে।

    ভাগ্নে বলল, “এই তো ফিরল বলে। মামারা তাড়াতাড়িই ফিরে আসবে। কোন ভাবনা নেই?

    আরও তিন দিন তিন রাত্তির কেটে গেল। তবু স্বামীরা ফিরে এল না। একজনও এল না। মামিরা কান্নাভরা চোখে জিঙ্গেস করল, ‘ভাগ্নে, কই বাছা, মামারা তো তোর এখনও ফিরে এল না।

    ভাগ্নে এবার বলল, ‘মামি, মামাদের ভাত আলাদা আলাদা করে ভরে নোকসেক-এ রেখে দাও।

    মামিরা বুকফাটা কান্নায় ভেঙে পড়ল। একথার অর্থ–ছয় মামাই মরে গিয়েছে। হায়। ছয় স্বামীই মারা গিয়েছে। তারা আর কখনও ফিরে আসবে না। চিরকালের জন্য তারা চলে গিয়েছে। চোখের জলে বুক ভাসিয়ে মামিরা কাঁদতে লাগল। সে কি কান্না!

    মামাদের ভাগ্নে অনাথ ছেলেটি খুব ধনী হয়ে গেল। অনেক টাকাকড়ি তার, রুপোর গয়না, সোনার ভোজালি, কুনকে কুনকে ভর্তি রুপোর চাকতি। কত বড়লোক সে। আর কেউ বেঁচে নেই যে তাকে হিংসে করবে, তাকে কষ্ট দেবে, সর্বনাশ ডেকে আনবে। অনেক বড়লোক হয়ে ভাগ্নে সুখে-শান্তিতে বাস করতে লাগল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবৈদ্যুতিক চুল্লি – শঙ্কর চ্যাটার্জী
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আদিবাসী লোককথা : ২য় খণ্ড – দিব্যজ্যোতি মজুমদার

    April 27, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আদিবাসী লোককথা : ২য় খণ্ড – দিব্যজ্যোতি মজুমদার

    April 27, 2026
    Our Picks

    আদিবাসী লোককথা : ২য় খণ্ড – দিব্যজ্যোতি মজুমদার

    April 27, 2026

    বৈদ্যুতিক চুল্লি – শঙ্কর চ্যাটার্জী

    April 27, 2026

    সিদ্ধিগঞ্জের মোকাম – মিহির সেনগুপ্ত

    April 27, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }