Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ইহুদী জাতির ইতিহাস – আব্দুল্লাহ ইবনে মাহমুদ

    লেখক এক পাতা গল্প368 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অধ্যায়-৫ মসজিদুল আকসা আর বাইতুল মুকাদ্দাসের ইতিবৃত্ত

    সোনালি গম্বুজের চমৎকার মসজিদটি চোখে পড়লেই অনেকে মনে করেন, মসজিদুল আকসা বুঝি ওটাই। কিংবা, কেউ কেউ মসজিদুল আকসা বলতেই বোঝেন বাইতুল মুকাদ্দাসকে। সোনালী গম্বুজের মসজিদ আর মসজিদুল আকসা যে এক নয়, কিংবা বাইতুল মুকাদ্দাস বলতে আসলে কী বোঝায়, ইহুদী, খ্রিস্টান ও মুসলিম সকলের কাছে কেন পবিত্র এ বাইতুল মুকাদ্দাস- এগুলো নিয়েই এ অধ্যায়, যা ইতি টানবে অনেক ভুল ধারণার।

    ইসরায়েল তেলআবিব থেকে সরিয়ে ইতিহাস-বিজড়িত জেরুজালেম নগরীকে রাজধানী ঘোষণা করে ২০১৮ সালে। আব্রাহামিক সেমেটিক তিন ধর্মেরই সহস্রাধিক বছরের ধর্মীয় ইতিহাস এ নগরীকে ঘিরে রয়েছে। জেরুজালেমকে হিব্রুতে বলা হয় ‘ইয়ারুশালেইম’ বা ‘শান্তির শহর’। মধ্যপ্রাচ্যের জুদিয়া (এহুদিয়া) পাহাড়ি এলাকার মালভূমিতে ভূমধ্যসাগর আর মৃত সাগরের মাঝে এ শহরের অবস্থান। ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন উভয়েরই দাবী- জেরুজালেম তাদের রাজধানী

    জেরুজালেম নগরীর দীর্ঘ ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, এ নগরী অন্তত দুবার ধ্বংস হয়, ২৩ বার অধিকৃত হয়, ৫২ বার আক্রমণ করা হয় আর উদ্ধার করা হয় ৪৪ বার! মজার ব্যাপার এ নামটাকে কেনান দেশীরা ভিন্ন অর্থে ব্যবহার করেছিল। কুনিফর্ম হরফে লেখা লিপিতে দেখা যায়, তারা এ নগরীকে ‘উরুসালিমা’ বা শালিম এর শহর বলে, কারণ শালিম তাদের এক দেবতার নাম। এটা খ্রিস্টপূর্ব ২৪০০ সালের কথা। কিন্তু হিব্রুতে একই নামের অর্থ শান্তির শহর। তবে খ্রিস্টপূর্ব নবম শতকের দিকে আসলে ইসরায়েলিরা এখানে শহর গড়ে তুলতে কাজ শুরু করে। আরবিতে এ শহরকে কুদস বলা হয়। দ্বিতীয় শতকে রোমানরা এ শহরের নাম দিয়েছিল Aelia Capitolina (ইলিয়া কাপিতোলিনা)। কখনো ‘ইলিয়া’ নামেও পরিচিত ছিল। সেই থেকে আরবিতেও নামটি হয়ে যায় ‘ইলিয়া’ (!)।

    খ্রিস্টপূর্ব অষ্টম শতকে জুদাহ রাজ্যের প্রশাসনিক কেন্দ্র ছিল জেরুজালেম। তবে তখনকার জেরুজালেম আজকের চেয়ে ছোট ছিল, পুরোনো জেরুজালেমকে আজ ‘ওল্ড সিটি’ বলা হয়। ১৫৩৮ সালে সুলতান সুলেমান পুরোনো শহরের চারপাশে দেয়াল তুলে দেন। সেই দেয়াল দেখেই আমরা আজ পার্থক্য বুঝতে পারি। ওল্ড সিটি ঐতিহ্যগতভাবে চার অংশে বিভক্ত- আর্মেনীয়, ইহুদী, খ্রিস্টান ও মুসলিম অংশ। ১৯৮১ সালে ওল্ড সিটিকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়। ২০১৫ সালের হিসেবে জেরুজালেম শহরে বসবাস ৮ লক্ষ ৫০ হাজার লোকের। ২০১১ সালের হিসেব অনুযায়ী, শহরটির মোট জনসংখ্যার ৬২% ছিল ইহুদী, ৩৫% মুসলিম এবং ২% খ্রিস্টান।

    বাইবেল অনুযায়ী, খ্রিস্টপূর্ব প্রথম সহস্রাব্দে কিং ডেভিড বা হযরত দাউদ (আ) জেবুসাইটদের কাছ থেকে জয় করে নেন জেরুজালেম নগরী, এবং এরপর একে তার ইসরায়েল রাজ্যের রাজধানী বানান। তার পুত্র কিং সলোমন বা হযরত সুলাইমান (আ) সেখানের টেম্পল মাউন্ট এলাকায় ফার্স্ট টেম্পল বা প্রথম উপাসনালয়ের নির্মাণকাজ শেষ করেন। আর এখানেই আমাদের কাহিনী শুরু।

    প্রথমে বুঝে নেয়া যাক টেম্পল মাউন্ট (Temple Mount) কী। হিব্রুতে একে ডাকা হয় ‘হার হা-বাইত’ নামে। ‘হার’ মানে পাহাড় বা মাউন্ট। ‘বাইত’ মানে গৃহ বা ঘর। তাই এর অর্থ ‘ঈশ্বরের ঘরের পাহাড়’। জেরুজালেমের ওল্ড সিটির এ টিলার ‘টেম্পল মাউন্ট’ কমপ্লেক্সটি মুসলিমদের কাছে ‘আল হারাম আশশারিফ’ বা ‘হারাম শরিফ’ নামে পরিচিত। মক্কার মসজিদুল হারামকেও একই নামে ডাকা হয়। আবার আল হারাম আল কুদস আল শারিফ নামেও পরিচিত এ জায়গা। উমাইয়া শাসনের যুগ থেকেই এখানে রয়েছে তিনটি ঐতিহাসিক স্থাপনা- কিবলি মসজিদ (যাকে মসজিদুল আকসা মনে করা হয়), চার মিনার, ডোম অফ দ্য রক এবং ডোম অফ দ্য চেইন। ১১টি গেট দিয়ে এখানে ঢোকা যায়, যার মাঝে ১০টি মুসলিমদের জন্য, আর একটি অমুসলিমদের জন্য। প্রত্যেক দ্বারের কাছে রয়েছে ইসরায়েলি পুলিশের গার্ড পোস্ট। তবে, স্থায়ীভাবে বন্ধ করা আরও ৬টি গেট বিবেচনা করলে মোট গেট ১৭টি।

    খ্রিস্টপূর্ব ৯৫৭ সালে কিং সলোমন বা সুলাইমান (আ) নির্মাণ করেন ফার্স্ট টেম্পল বা প্রথম উপাসনালয়, যা বাইতুল মুকাদ্দাস নামে চিরচেনা। এটি ইহুদীদের প্রার্থনার কিবলা এবং মুসলিমদেরও প্রথম কিবলা ছিল বহু বছর। এদিকে ফিরেই মুসলিমরা আগে নামাজ আদায় করত মদিনায় হিজরতের ১৭ তম মাস পর্যন্ত। পবিত্র কুরআনের আয়াত অনুযায়ী, এই প্রথম উপাসনালয় নির্মাণের আগেই দাঁড়ানো অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন সুলাইমান (আ)। ইহুদী কিতাবগুলোতে এ উপাসনালয়ের বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, খ্রিস্টপূর্ব ৫৮৬ সালে ব্যবিলনীয়রা ধ্বংস করে দেয় ফার্স্ট টেম্পল।

    এহুদিয়া প্রদেশের পারস্য অঞ্চলের গভর্নর জেরুবাবেলের পৃষ্ঠপোষকতায় খ্রিস্টপূর্ব ৫১৬ সালে নির্মিত হয় সেকেন্ড টেম্পল, বা দ্বিতীয় উপাসনালয়, সেই আগের উপাসনালয়ের জায়গাতেই। যে ব্যবিলনীয়রা ৭০ বছর আগে প্রথম উপাসনালয় ধ্বংস করে দিয়েছিল। কিন্তু মজার ব্যাপার, এই জেরুবাবেল নামের অর্থই হলো “বাবেলের বীজ’। বাবেল মানে ব্যাবিলন। দুঃখের ব্যাপার, ৭০ খ্রিস্টাব্দে রোমানরা ধ্বংস করে দেয় এটিও।

    ইহুদী ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী, এ জায়গাতেই নির্মিত হবে থার্ড টেম্পল বা তৃতীয় উপাসনালয়। কিন্তু আদি সেই উপাসনালয়ের চিহ্ন এখন আর নেই বিধায় কোনো নির্দিষ্ট কাঠামোকে বাইতুল মুকাদ্দাস বলে সম্বোধন করা হয় না। ভাবছেন, ‘বাইতুল মুকাদ্দাস’ কথাটা কোথা থেকে এসেছিল? আরবিতে এর প্রচলনের অনেক আগেই হিব্রুতে সেই পবিত্র উপাসনালয় বা হোলি টেম্পলকে ‘বেইত হা-মিকদাস’ ডাকা হতো। ‘মিকদাস’ মানে পবিত্র, মুকাদ্দাস বা আল-মাক্বদিস বলতে আরবিতে যা বোঝায়, আর বেইত হলো ‘ঘর’, আরবিতে যা বাইত।

    এই ধ্বংসপ্রাপ্ত ‘বাইতুল মুকাদ্দাস’ বা ‘পবিত্র ঘর’ এখন না থাকলেও অনুমান করা যায় যে এটি এই টেম্পল মাউন্ট বা হারাম শরীফ এলাকাতেই ছিল। ঘরটি না থাকলেও ঘরের পবিত্রতা এখনো আছে এবং ছিল। তাই এ জায়গাটিকেই বাইতুল মুকাদ্দাস বলা হয়, এবং কোনো নির্দিষ্ট কাঠামোকে নয়। এ মৌলিক ধারণাটিই অনেকে বুঝতে ভুল করে, এবং মসজিদুল আকসাকে এককভাবে বাইতুল মুকাদ্দাস ভেবে প্রচার করা হয় অনেক ওয়েবসাইট ও বইতেও। ইহুদীরা এ জায়গার দিকে ফিরেই প্রার্থনা করে দিনে তিন বেলা, ঠিক যেখানে আগের দুবার বাইতুল মুকাদ্দাস নির্মাণ করা হয়েছিল, এবং যে জায়গায় তৃতীয়বারের মতো সেটি নির্মিত হবে বলে তারা বিশ্বাস করে।

    হয়তো আপনার মনে হতে পারে, এ জায়গা তো ইহুদীদের জন্য অনেক পবিত্র, তবে তাদের জন্য গেট কম কেন টেম্পল মাউন্টে ঢুকবার? সত্যি বলতে, ইহুদীরা একে এতই পবিত্র জ্ঞান করে যে, অনেক ইহুদী টেম্পল মাউন্ট বা হারাম শরিফ এলাকাতে পা ফেলে না পবিত্রতা রক্ষার্থে। কারণ, এখানেই ইহুদীদের কাছে পবিত্রতম জায়গা Holy of Holies আছে, যেখানে আর্ক অফ দ্য কোভেন্যান্ট বা তাবুতে সাকিনা (শরীয়ত সিন্দুক) ছিল। একইসাথে ছিল হযরত মূসা (আ) এর উপর বেহেশত থেকে নাজিল করা তাওরাতের দশ আদেশের ফলকগুলো। ধারণা করা হয়, ডোম অফ দ্য রকের ঠিক নিচেই এ জায়গা। যদি টেম্পল মাউন্টে হাঁটতে গিয়ে এ পবিত্র জায়গার ওপর দিয়ে পা মাড়িয়ে যায়, সেই আশংকায় বহু ইহুদী এদিকে আসে না।

    বাইতুল মুকাদ্দাসের কথা তো গেল, এবার আসা যাক মসজিদুল আকসার ব্যাপারে। এ নামটি এসেছে কুরআনের সুরা বনী ইসরাইলের প্রথম আয়াত (১৭:১) থেকে, “পরম পবিত্র মহিমাময় সত্ত্বা তিনি, যিনি স্বীয় বান্দাকে কুদরতের কিছু নিদর্শন দেখাতে রাত্রিবেলায় ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদুল হারাম (মক্কা) থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত, যার চারিপাশে আমি পর্যাপ্ত বরকত দান করেছি।”

    আকসা অর্থ ‘দূরের মসজিদ’। ৬০০ সালের পরের যে রাতের কথা এখানে বলা হয়েছে, ইতিহাস থেকে আমরা জানতে পারি, সে সময় বাইতুল মুকাদ্দাস বা সেই উপাসনালয় ধ্বংসপ্রাপ্তই ছিল। তবে তার মানে এই নয় যে, সেই এলাকা একদম শূন্য ছিল। বরং, প্রাচীর দিয়ে ঘেরাও করা ছিল সেই পবিত্র এলাকা। এবং সেখানে অনেকগুলো দ্বারও ছিল, ছিল পূর্ববর্তী নবীদের ব্যবহার করা জায়গার স্মৃতিচিহ্ন। উক্ত আয়াতেই উল্লেখ আছে ‘যার চারিপাশে আমি পর্যাপ্ত বরকত দান করেছি’ অর্থাৎ একটি ‘এলাকা’র কথাই বলা আছে। আর আশীর্বাদপুষ্ট পবিত্র এলাকা বলতে টেম্পল মাউন্ট এলাকাই আছে সেখানে। আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া গ্রন্থে দাউদ (আ)-এর মিহরাবের কথা আছে। হাদিস ও কুরআনে একে মসজিদ বলা হয়েছে, কারণ সেটি সিজদার স্থান ছিল। মসজিদ বলতে কোনো ছাদওয়ালা ইমারতকে বোঝানো হয় না সবসময়। যেমন- হাদিস অনুযায়ী, “তোমার জন্য সমগ্র পৃথিবীই মসজিদ।” (সুনান ইবনে মাজাহ)। তাছাড়া তখন মক্কার মসজিদুল হারামের ওপরেও কোনো ছাদ ছিল না।

    ইসলামে নবী (সা) এর মক্কা থেকে জেরুজালেমের রাত্রিভ্রমণকে ‘ইসরা’ বলা হয়; বাইতুল মুকাদ্দাস এলাকায় তিনি নামাজ আদায় করেন। পরবর্তীতে উমার (রা) নিজে খলিফা থাকাকালে জেরুজালেম যান, যার বর্ণনা আমরা প্রসিদ্ধ আল- বিদায়া ওয়ান নিহায়া গ্রন্থে এভাবে পাই,

    “…খলিফা উমার (রা) সম্মুখে অগ্রসর হয়ে বায়তুল মুকাদ্দাসের খ্রিস্টানদের সাথে সন্ধিচুক্তি সম্পাদন করলেন এবং শর্ত করলেন যে, তিন দিনের মধ্যে সকল রোমান নাগরিক বায়তুল মুকাদ্দাস ছেড়ে চলে যাবে। এরপর তিনি বায়তুল মুকাদ্দাসে প্রবেশ করলেন। প্রবেশ করলেন সেই দরজা দিয়ে, মিরাজের রাতে রাসুল (সা) যে দরজা দিয়ে প্রবেশ করেছিলেন। কেউ কেউ বলেছেন যে, বায়তুল মুকাদ্দাসে প্রবেশের সময়ে তিনি তালবিয়া পাঠ করেছিলেন, ভেতরে গিয়ে দাউদ (আ)-এর মিহরাবের পার্শ্বে তাহিয়্যাতুল মসজিদ নামায আদায় করলেন। পরের দিন ফজরের নামায মুসলমানদেরকে সাথে নিয়ে জামাতের সাথে আদায় করলেন- এরপর তিনি ‘সাখরা’ বা বিশেষ পাথরের নিকট এলেন। কা’ব আল আহবার (রা) থেকে তিনি ঐ স্থান সম্পর্কে জেনে নিয়েছিলেন। কা’ব (রা) এই ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন যেন তিনি মসজিদটি ওই পাথরের পেছনে তৈরি করেন। হযরত উমার (রা) বললেন, ইহুদী ধর্ম তো শেষ হয়ে গিয়েছে। তারপর বায়তুল মুকাদ্দাসের সম্মুখে মসজিদ নির্মাণ করলেন। এখন সেটি উমারী মসজিদ নামে পরিচিত…।”

    এখানে কতগুলো বিষয় খেয়াল করবার মতো, যেমন- রোমান নাগরিকরা বাইতুল মুকাদ্দাস কম্পাউন্ডে থাকত। টেম্পল মাউন্টের পবিত্র এলাকাটাই আসলে বাইতুল মুকাদ্দাস হিসেবে ডাকা হচ্ছে, যা প্রাচীরাবৃত। সাখরা নামের এক পাথরের কথা বলা হয়েছে। আর বলা হয়েছে দাউদ (আ) এর মিহরাবের কথা। এ সবগুলো জিনিস ১৪০০ বছর পর এখনো বিদ্যমান।

    হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের হিস্টোরি অব আর্ট এন্ড আর্কিটেকচার বিভাগ থেকে নেয়া নিচের ছবিতে পাঠক দেখতে পাবেন টেম্পল মাউন্টের চিহ্নিত জায়গাগুলো- যখন নামাজের সময় হলো, তখন সোফ্রোনিয়াস তাকে চার্চে আহ্বান করলেন, কিন্তু উমার (রা) “না” বললেন। তিনি জানালেন, এখন যদি তিনি এই চার্চে নামাজ আদায় করেন, তাহলে পরে মুসলিমরা এই চার্চ ভেঙে মসজিদ বানিয়ে ফেলবে। এতে খ্রিস্টানরা তাদের পবিত্র স্থান হারাবে। উমার (রা) এখানে কোনো জবরদস্তি করানো থেকে বিরত করলেন এ কারণে যে, এটাই সেই জায়গা, যেখানে খ্রিস্টানরা মনে-প্রাণে বিশ্বাস করে যে যীশুখ্রিস্ট ক্রুশবিদ্ধ হয়েছিলেন, আর এখানের গুহাতেই তাঁর দেহ রাখা হয়েছিল। উল্লেখ্য, সেই চার্চ এখনো আছে, নাম হলো Church of the Holy Sepulchre ।

    হযরত উমার (রা) চার্চের বাইরে বেরিয়ে নামাজ পড়লেন। পরে সেখানে আরেকটি মসজিদ বানানো হয়, নাম দেয়া হয় ‘মসজিদে উমার’। তবে উল্লেখ্য, কয়েক শতক পর (১০০৯ সালে) ফাতিমীয় খলিফা আল হাকিম উমার (রা) এর কথা সম্পূর্ণ অমান্য করে এই চার্চ ধ্বংস করে দেন। পরবর্তীতে তার পুত্র খলিফা আজ জাহির চার্চটি আবার নির্মাণ করার অনুমতি দেন। ১০৪৮ সালে সেটি বানানো শেষ হয়।

    ইহুদীদের জন্যও জেরুজালেম খুব পবিত্র জায়গা। খ্রিস্টান অধিকার থেকে মুক্ত করে উমার (রা) এ স্থানে ইহুদীদের পুনর্বাসনের জায়গা করে দেন। ৭০টি ইহুদী পরিবার এখানে চলে আসে।

    টেম্পল মাউন্ট কমপ্লেক্সের ভেতরে, প্রাচীরের ভেতর পবিত্র বাইতুল মুকাদ্দাস নামের এলাকাতেই উমার (রা) ছোট্ট এক নামাজ ঘর নির্মাণ করেন। উমাইয়া খলিফা আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান (৬৪৬-৭০৫) এ মসজিদটি পুনর্নির্মাণ ও প্রসারিত করা শুরু করেন। তার পুত্র খলিফা আল ওয়ালিদ (৬৬৮-৭১৫) নির্মাণকাজ শেষ করেন। এটিকেই ভাবা হয় মসজিদুল আকসা, কিন্তু আসলে না। এটিকে মসজিদ আল কিবলি বলা হয়। মিরাজের রাত্রে পবিত্র বাইতুল মুকাদ্দাসের ভেতরে যেখানে নবী (সা) নামাজ আদায় করেন বলে বর্ণিত আছে। মসজিদে উমার কিন্তু ভিন্ন আরেকটি মসজিদ। সত্যি বলতে, মসজিদে কিবলিকে আকসা মসজিদ বলাটা বেশ প্রচলিত ভুল, চিংড়িকে মাছ বলার মতোই। তাই একে গ্রহণ করে নেয়া হয়। তবে পুরো টেম্পল মাউন্ট কমপ্লেক্সকে আল-আকসা বলা হয়, বা “আল-আকসা কমপ্লেক্স/কম্পাউন্ড”।

    ৭৪৬ সালের ভূমিকম্পে কিবলি মসজিদ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। পরে ৭৫৪ সালে আব্বসীয় খলিফা আল মনসুর (৭১৪-৭৭৫) সেটি আবার নির্মাণ করেন। ৭৮০ সালে এটি আবার সংস্কার করা হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ১০৩৩ সালে মসজিদটি আরেক ভূমিকম্পে আবার ধ্বংস হয়ে যায়। দু’বছর পর ফাতিমি সপ্তম খলিফা আলী আজ জাহির (১০০৫-১০৩৬) আবারও সেই জায়গায় মসজিদটি নির্মাণ করেন। তিনি যে সীমানা অনুযায়ী মসজিদটি বানিয়েছিলেন, আজকের কিবলি মসজিদ ঠিক ততটুকু জায়গার উপরেই দাঁড়িয়ে। এমনকি, আজকের সেই মসজিদের কিবলা দেয়ালের মোজাইকও তার আমলের।

    বিভিন্ন খলিফা নানা সময়ে এ মসজিদে অনেক কিছুই সংযোজন করেন, যেমন- মিম্বর, মিনার ইত্যাদি। তবে ১০৯৯ সালে ক্রুসেডাররা জেরুজালেম জয় করে নেবার পর এ মসজিদকে প্রাসাদ হিসেবে ব্যবহার করে। আর বাইতুল মুকাদ্দাসেরই অপর যে মসজিদটি রয়েছে, অর্থাৎ যেটিকে আমরা সোনালি গম্বুজের জন্য চিনে থাকি, সেটিকে চার্চ হিসেবে ব্যবহার করে তখন তারা। তারা সেটাকে ডাকত Templum Domini বা Temple of God বা ঈশ্বরের উপাসনালয় নামে। মসজিদুল আকসাকে তারা ডাকত Temple of Solomon নামে, যদিও এর সাথে সুলাইমান (আ) এর কোনোই সম্পর্ক ছিল না। সেখানে তারা ঘোড়ার আস্তাবল স্থাপন করে। জেরুজালেমের গুল্ড সিটি ইসরায়েলের অধিকারে থাকলেও এ জায়গার মসজিদ জর্দানি- ফিলিস্তিনি ইসলামি সংঘ ‘ওয়াকফ’ এর অধীনে।

    ১১১৯ সালে মসজিদটি নাইট টেমপ্লারদের হেডকোয়ার্টার হিসেবে যাত্রা শুরু করে। তারা এ ইমারতের সাথে পূর্ব ও পশ্চিম দিকে দুটো অংশ যোগ করে। বর্তমানে পশ্চিম দিকের সেই অংশ নারীদের নামাজের জায়গা এবং পূর্ব দিকের অংশটি ইসলামি জাদুঘর হিসেবে চালু আছে। ১১৮৭ সালে সুলতান সালাহউদ্দিন জেরুজালেম জয় করবার পর পুরোই চেহারা বদলে ফেলেন এ মসজিদের। তিনি এর সংস্কার করেন এবং সুলতান নুর আল দীনের মিম্বর সেখানে যোগ করেন।

    অটোম্যান সাম্রাজ্যের সময় টেম্পল মাউন্ট এলাকায় বিভিন্ন নতুন জিনিস যোগ করা হলেও কিবলি মসজিদকে অপরিবর্তিত রাখা হয়। নতুন যোগ করা জিনিসের মাঝে ছিল কাশিম পাশার ঝর্ণা (১৫২৭) এবং নবীর গম্বুজ বা জিব্রাইলের গম্বুজ (১৫৩৮)। মসজিদটি শীর্ণ অবস্থায় চলে গেলে জেরুজালেমের গভর্নর সুলাইমান পাশা আল আদিল একে সংস্কার করেন ১৮১৬ সালে।

    বিংশ শতকে ১৯২২ সালে প্রথম সংস্কার করা হয় মসজিদটির। এরপর আরো সংস্কার করা হয়েছে বিভিন্ন সময়েই। ১৯৫১ সালের ২০ জুলাই জর্ডানের রাজা প্রথম আব্দুল্লাহকে এ মসজিদে জুম্মার নামাজে গুলি করে হত্যা করা হয়, খুনি ছিল একজন মুসলিম, নাম তার মুস্তাফা আশু (২১)। ১৯৬৯ সালের ২১ আগস্ট ডেনিস মাইকেল রোহান নামের এক খ্রিস্টান মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেয়। তার বিশ্বাস ছিল এটি ধ্বংস করলে যীশু খ্রিস্ট দ্রুত আবার পৃথিবীতে আগমন করবেন। আশির দশকে বেন শোশান ও এহুদা এতসিওন নামের দুই ইহুদী পরিকল্পনা করে বাইতুল মুকাদ্দাস এলাকার মসজিদ দুটো উড়িয়ে দেবার। এতে করে ইসরায়েলের থার্ড টেম্পল নির্মাণের কাজ ত্বরান্বিত হবে!

    ১৯৬৯ সালে মসজিদুল আকসার উপর নতুন গম্বুজ নির্মিত হয়। কিন্তু ১৯৮৩ সালে অ্যালুমিনিয়ামের বদলে সীসা দিয়ে গম্বুজকে পুনর্নির্মাণ করা হয় খলিফা আজ জাহিরের মূল নকশা ফিরিয়ে আনতে।

    আল আকসা কম্পাউন্ডে একসাথে প্রায় ৫,০০০ মানুষ নামাজ আদায় করতে পারে। কিবলি মসজিদের গম্বুজ কিন্তু সোনালি নয়, বরং কালচে ধূসর। এর ভেতরের দিকে চতুর্দশ শতকের

    ইসলামি পেইন্টিং ছিল যা ১৯৬৯ সালের আগুনে ধ্বংস হয়ে যায়। কিন্তু পরে trateggio পদ্ধতি অবলম্বন করে সম্পূর্ণ পেইন্টিং আবার ফিরিয়ে আনা হয়। মসজিদের ওজু করবার ঝর্ণাটি ‘আল-কাস’ (পেয়ালা) নামে পরিচিত।

    এবার আসা যাক সোনালি গম্বুজের ডোম অফ দ্য রকের কথায়। আরবিতে একে বলে ‘কুব্বাতুস সাখরাহ’। ‘কুব্বাহ’ হলো ‘গম্বুজ’ আর ‘সাখরাহ’ হলো ‘পাথর’। হিব্রুতে ‘কিপ্পা হা-সেলা’ (nas yon)। এটি নির্মাণ করেন উমাইয়া খলিফা আব্দুল মালিক ৬৯১ সালে। তিনি এটা ঠিক সেই জায়গায় নির্মাণ করেন যেখানে ইহুদীদের সেকেন্ড টেম্পল বা দ্বিতীয় বাইতুল মুকাদ্দাস রোমানরা ধ্বংস করে দিয়েছিল। রোমানরা সেখানে জুপিটারের মন্দির বানিয়েছিল, সেটির জায়গায় আব্দুল মালিক বানান এই ডোম অফ দ্য রক বা কুব্বাতুস সাখরাহ। গম্বুজটি ১০১৫ সালে ধ্বংস হয়ে যায়, কিন্তু ১০২২-২৩ সালে পুনর্নির্মিত হয়। ইসলামি স্থাপত্যবিদ্যার প্রাচীনতম নিদর্শনের একটি এই আটকোণা ইমারত।

    প্রশ্ন জাগতে পারে, এখানে যে পাথরের কথা বলা হচ্ছে, কী সেই পাথর? সত্যি বলতে, এ পাথর হচ্ছে এই পুরো টেম্পল মাউন্টের অন্তর্গত সবচেয়ে পবিত্র জিনিস। ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, এ পাথরের ওপর ভর রেখে হযরত মুহাম্মাদ (সা) উর্ধ্বারোহণ করেন মিরাজের রাত্রিতে। নিশ্চিত সূত্রে বর্ণিত না হলেও কথিত আছে, ফেরেশতা ইসরাফিল (আ) এ জায়গা থেকেই কিয়ামতের জন্য শিঙায় ফুঁৎকার দেবেন।

    আর, ইহুদী বিশ্বাস অনুযায়ী, এর নাম ভিত্তিপ্রস্তর, বা ফাউন্ডেশন স্টোন। হিব্রুতে ডাকা হয় এভেন হা-স্তিয়া। এটিই হোলি অফ দ্য হোলিজ এর অবস্থান বলে বিশ্বাস করা হয়। এমনকি একে মহাবিশ্বের কেন্দ্রবিন্দুও বলা হয়েছে ইহুদী কাব্বালা সাহিত্যের জোহারে। এর নিচে আছে আত্মাকুয়া বা ওয়েল অফ সোওলস নামের এক গুহা, যাকে ঘিরে আছে নানা কাহিনী- তবে সেই কথা হবে হয়তো অন্য কোনো বইতে।

    নীলচে পাথরটি মাটি থেকে দেড় মিটার ওপরে অবস্থিত। ফাউন্ডেশন স্টোনের দিকেই ইহুদীরা প্রার্থনা করে। এটিই আদি কিবলা।

    ১১৮৭ সালে সালাহউদ্দিন জেরুজালেম জয় করার পর ডোম অফ দ্য রকের ওপরের ক্রুশ নামিয়ে ফেলেন। সুলতান সুলেমান তার রাজত্বকালে (১৫২০- ১৫৬৬) এ স্থাপত্যের বাইরে টাইলস লাগিয়ে দেন পুরোটা জুড়ে। আর ভেতরে লাগানো আছে মোজাইক ও মার্বেল, যাতে লিখিত কুরআনের আয়াত। সুলতান সুলেমানের নির্দেশে টাইলজুড়ে সুরা ইয়াসিন লিখিত হয়। তার ওপরে লেখা হয় সুরা ইসরা বা সুরা বনী ইসরাইল, কারণ সেখানে নবী (সা) এর এই বাইতুল মুকাদ্দাসে আসবার কথা লিখিত আছে।

    ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধের সময় ডোম অফ দ্য রকের মাথায় ইসরাইলের পতাকা ওড়ানো হয়। কিন্তু শীঘ্রই ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মোশে দায়ানের নির্দেশে সেটি নামিয়ে ফেলা হয় এবং এর দায়িত্ব দেয়া হয় মুসলিম সংগঠন ওয়াকফের হাতে। এখনো ওয়াকফের হাতেই এর অধিকার রয়েছে।

    জর্ডানের রাজা হুসাইন ১৯৯৩ সালে তার একটি বাড়ি বিক্রি করে পাওয়া ৮.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দিয়ে ৮০ কেজি সোনা কিনে তা দান

    করে দেন এ ডোম অফ দ্য রকের জন্য। সেই সোনাই আজ জ্বলজ্বল করে ডোম অফ দ্য রকের গম্বুজে।

    ইসরাইলি পুলিশ নিশ্চিত করে যেন টেম্পল মাউন্ট এলাকায় কোনো অমুসলিম প্রার্থনা করতে না পারে। এমনকি অমুসলিমরা সেখানে কোনো প্রার্থনার বই বা ধর্মীয় পোশাক পরেও যেতে পারে না।

    মূল ধারার ইহুদী র‍্যাবাইরা ইহুদীদেরকে টেম্পল মাউন্টে যেতে নিরুৎসাহিত করেন।

    প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, টেম্পল মাউন্টের বাইতুল মুকাদ্দাস এলাকা ঘিরে রাখা প্রাচীরের নির্মাণকাজ হেরোদ দ্য গ্রেট শুরু করেন, যখন কি না সেকেন্ড টেম্পলের জন্য এলাকাটা প্রসারিত করা হচ্ছিল। সেই প্রাচীর বা দেয়ালের একটি অংশ হলো ওয়েইলিং ওয়াল (Wailing Wall) বা কোটেল (Kotel)। পুরো দেয়ালটি ওয়েস্টার্ন ওয়াল নামে পরিচিত। আরেক নাম ‘বুরাক দেয়াল’, কারণ ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, মিরাজের রাত্রে এ দেয়ালে নবী (সা) তাঁর বাহন বুরাক প্রাণীটিকে বেঁধেছিলেন।

    কিং সলোমন বা সুলাইমান (আ) বাইতুল মুকাদ্দাস নির্মাণ করলেও এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন হযরত ইয়াকুব (আ) বা বাইবেলের জ্যাকব। ইয়াকুব (আ) বীরশেবা থেকে বেরিয়ে হারান মরুর দিকে যাচ্ছিলেন। এখানে তিনি সন্ধ্যার পর ঘুমালে স্বপ্ন দেখেন যে, পৃথিবী থেকে একটি সিঁড়ি উপরে উঠে গেছে। সেখানে আল্লাহর ফেরেশতারা ওঠা-নামা করছে। স্বপ্নে আল্লাহ তাঁকে জানালেন, যেখানে হযরত ইয়াকুব (আ) শুয়ে আছেন, সেই ভূমি তিনি তাঁকে দেবেন, এবং তার বংশধরকে। তাঁর বংশধরেরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে। স্বপ্ন দেখে তিনি জেগে উঠলেন। এই সিঁড়ির স্বপ্ন ‘জ্যাকবস ল্যাডার ড্রিম’ নামে পরিচিত যা আগেও বলা হয়েছে। এ স্বপ্নের মাধ্যমে তিনি পবিত্র ভূমির প্রতিশ্রুতি পান। ‘লুজ’ নামের সেই জায়গার নাম তিনি ‘বেথেল’ (বাইতুল্লাহ) বা ‘ঈশ্বরের ঘর’ রাখলেন।

    ইবনে কাসিরের আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া গ্রন্থে আছে, তিনি ওয়াদা করলেন যে, ভবিষ্যতে তিনি যদি নিরাপদে পরিবারের কাছে ফেরত যেতে পারেন, তবে শুকরিয়া স্বরূপ ঠিক এ জায়গায় আল্লাহর জন্য একটি ইবাদতখানা নির্মাণ করবেন। পাথরের উপর বিশেষ তেল দিয়ে তিনি জায়গাটা চিহ্নিত করেও রাখলেন। নানা ঘাত-প্রতিঘাত আর কাহিনী শেষে বহু বছর পর তিনি শাখীম এলাকার ‘উরশালিম’ নামের এক গ্রামে পৌঁছান। সেখানে শাখীম ইবনে জামুরের এক টুকরো জমি তিনি ১০০ ভেড়ার বিনিময়ে কিনে নেন ও সেখানে তিনি একটি কোরবানগাহ নির্মাণ করেন। সেটির নাম তিনি রাখেন ‘এল ইলাহী ইসরাইল’ (ইসরাইলের মাবুদই আল্লাহ)। তাফসিরকারক ইবনে কাসির লেখেন, এ কোরবানগাহ নির্মাণের আদেশ আল্লাহ দিয়েছিলেন হযরত ইয়াকুব (আ)-কে এটিই পরবর্তীতে বাইতুল মুকাদ্দাস হয় সুলাইমান (আ) এর হাত ধরে।

    মসজিদুল আকসা কম্পাউন্ড বলে যে ‘স্থাপনা’ আজ দেখা যায়, নবী (সা) এর সময়ে এর কোনো অস্তিত্ব ছিল না। আবার বাইতুল মুকাদ্দাস উপাসনালয় বলে যার বর্ণনা ইহুদী কিতাবে ছিল, তা-ও ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় প্রাচীরের ভেতরে তা ছিল না। কিন্তু এ জায়গাটিকে বোঝাতে হাদিসে মসজিদুল আকসা বলেই সম্বোধন করা হয়েছে। হাদিসে আছে,

    “আবু যার গিফারী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! সর্বপ্রথম কোন মসজিদ নির্মিত হয়েছে? তিনি বলেন: মসজিদুল হারাম। বর্ণনাকারী বলেন, আমি আবার বললাম, তারপর কোনটি? তিনি বলেন: তারপর মসজিদুল আকসা। আমি জিজ্ঞেস করলাম, উভয়ের মধ্যে ব্যবধান কত বছরের? তিনি বলেন: চল্লিশ বছরের।” (বুখারি শরিফ, ৪:৫৫:৫৮৫)

    কুরআন অনুযায়ী, ইয়াকুব (আ) এর দাদা ইব্রাহিম (আ) মক্কায় মসজিদুল হারাম বা কাবাঘর নির্মাণ করেন পুত্র ইসমাইল (আ)-কে নিয়ে। অবশ্য কিছু অতি দুর্বল বা বাতিল হাদিসে আদম (আ) এর প্রথম কাবা নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। ‘হাদীসের নামে জালিয়াতি’ গ্রন্থে এ বিষয়ে বর্ণনা রয়েছে।

    এই পুরো লেখাকে সংক্ষেপে বলতে গেলে, বাইতুল মুকাদ্দাস বা পবিত্র ঘর ছিল হযরত সুলাইমান (আ) এর নির্মিত, যা টেম্পল অব সলোমন নামে পরিচিত। সেটি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় পরে দ্বিতীয় আরেকটি উপাসনালয় নির্মাণ করা হয় যাকে সেকেন্ড টেম্পল ডাকা হয়, ফলে আদি বাইতুল মুকাদ্দাস পরিচিত হয় ফার্স্ট টেম্পল নামে। এই উপাসনালয় আগে যে বিশাল এলাকা জুড়ে ছিল সেটি বাইতুল মুকাদ্দাস হিসেবে মেনে নেয়া হয়। তাই টেম্পল মাউন্ট বা বাইতুল মুকাদ্দাস এলাকা প্রায় সমার্থক। তাই বাইতুল মুকাদ্দাস বলতে কোনো নির্দিষ্ট ইমারতকে চিহ্নিত করা যায় না। কিন্তু এখন সেই বিশাল এলাকা জুড়ে রয়েছে ছোট-বড় নানা স্থাপনা। এর মাঝে একটি হলো মুসলিমদের কিবলি মসজিদ, বাইতুল মুকাদ্দাসের যে জায়গায় পূর্বে নবী (সা) মিরাজের রাত্রে নামাজ পড়েছিলেন। আর আরেকটি স্থাপনা হলো কুব্বাতুস সাখরাহ বা সোনালি গম্বুজের ডোম অফ দ্য রক। এখানে রয়েছে সেই পাথর, যার উপর নবী (সা) ভর রেখে উর্ধ্বারোহণ করেন বলে বলা হয়, এবং একইসাথে যা কি না ইহুদী ধর্মের ফাউন্ডেশন স্টোন বা ভিত্তিপ্রস্তর ও তাদের কাছে মহাবিশ্বের পবিত্রতম স্থান। এই সবগুলো স্থাপনা একত্রে যে কম্পাউন্ডে অবস্থিত, সেটিই আসলে ‘মসজিদুল আকসা’ এলাকা। ইহুদী ও খ্রিস্টানরা একে চেনে পবিত্র টেম্পল মাউন্ট নামে; একে বাইতুল মুকাদ্দাসও বলা যায়। আসলে মূল কোনো স্থাপনাই অবশিষ্ট না থাকায় নাম নিয়ে এত বিভ্রান্তি আর দোটানা। বাইতুল মুকাদ্দাস মক্কা ও মদিনার পরে মুসলিমদের কাছে তৃতীয় তীর্থস্থান।

    নিচে পুরো কম্পাউন্ডের একটি ভিউ দেখানো হলো, যেখানে বাইতুল মুকাদ্দাস আর কিবলি মসজিদ দেখা যাচ্ছে আলাদা করে-

    পুরো কম্পাউন্ডটিকে বলা হয় আল-আকসা কম্পাউন্ড, বা টেম্পল মাউন্ট কমপ্লেক্স। সত্যি বলতে, পবিত্র কুরআনে (১৭:১) মিরাজের রাত্রে নবী মুহাম্মাদ (সা)-এর ইসরা তথা মক্কা থেকে জেরুজালেম ভ্রমণের যে ঘটনা উল্লেখিত আছে, সেখানেও মসজিদুল আকসা বলা হয়েছে, খোদ কুরআনেই! কিন্তু তখন তো কোনো ইমারতই সেখানে ছিল না; আমরা ইতিহাস থেকে ভালো করেই সেটা জানি। ইসলামে, পুরো জমিনই মসজিদ বলে বিবেচিত, আর ‘আকসা” অর্থ ‘দূর’। মসজিদুল আকসা মানে দূরের মসজিদ। এখানে নবী (সা) নামাজ আদায় করেন বলে সীরাতে জানা যায়।

    এই ছবি থেকে চিনে নিন আল-আকসা। ইংরেজি মানচিত্রটিকে বাংলায় অনুবাদ করে দিলাম পাঠকদের সুবিধার্থে। ভালো করে দেখে নেয়া যাবে এখান থেকে।

    বহুদিন ধরে মুসলিমদের মাঝে বাইতুল মুকাদ্দাস আর মসজিদুল আকসা চিহ্নিতকরণ নিয়ে চলে আসা সংশয়ের সচিত্র সমাধান করাই ছিল এ অধ্যায়ের উদ্দেশ্য। সেই সাথে এ সংক্রান্ত ইতিহাসও তুলে ধরা। ইহুদী, খ্রিস্টান ও মুসলিমদের কাছে পবিত্র এ ভূমি তিন ধর্মের এক মিলনস্থল হিসেবে কাজ করে আসছে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleইহুদী জাতির ইতিহাস ২ (ইসরাইলের উত্থান-পতন) – আব্দুল্লাহ ইবনে মাহমুদ
    Next Article আমার শিল্পী জীবনের কথা – আব্বাসউদ্দীন আহমদ

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }