Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ইহুদী জাতির ইতিহাস – আব্দুল্লাহ ইবনে মাহমুদ

    লেখক এক পাতা গল্প368 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অধ্যায়-৩৭ মরুর বুকে ধূসর শৈশব

    চারিদিকে লোক পাঠানো হয়েছে শিশুটিকে খুঁজে বের করার জন্য। মক্কার সবচেয়ে সম্ভ্রান্ত কুরাইশ বংশের একটি শিশু যে হারিয়ে গেছে মক্কায় ঢুকবার সময়! দাদা আব্দুল মুত্তালিব লোকবল পাঠাবার বেশ কিছুক্ষণ পর দুজন লোক ফিরে এলো, তাদের সাথে শিশুটি। নাম তাঁর মুহাম্মাদ (সা)। যে দুজন তাঁকে খুঁজে পেলেন, তাঁদের একজনের নাম ওয়ারাকা ইবনে নাওফেল। তিনি জানালেন,

    শিশুটি মক্কার উঁচু অঞ্চলে ঘোরাফেরা করছিল। কিন্তু উপস্থিত মানুষগুলোর কেউই একটি ব্যাপার জানতেন না।

    জানতেন না যে, এই শিশুটি বড় হয়ে এই ওয়ারাকারই শ্যালক হবেন! জানতেন না যে, এই শিশুটি পরবর্তীতে নবী হয়ে সবার আগে ওয়ারাকার কাছেই আসবেন, আর একসময় শত শত কোটি মানুষের কাছে আদর্শ হবেন! ইসলাম ধর্মের শেষ নবী মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা) এর এই শিশু থেকে বড় হয়ে ওঠার কাহিনীগুলোই আজকের অধ্যায়ে উঠে আসবে। হয়তো এর বেশ কয়েকটি ঘটনা আপনি আগে শোনেননি!

    তবে এখানে একটি বড় ‘কিন্তু’ আছে। সে সময়ের আরবের যেকোনো ঘটনা আত্মস্থ করার জন্য আগে জানতে হবে সে সময় আরব আসলে কেমন ছিল ‘কেমন ছিল’ বলতে আপনি যদি ছোটবেলার ইসলাম শিক্ষা বই পড়ে, পরীক্ষার খাতায় লিখে নম্বর পাবার জন্য মুখস্থ করা কিছু অনুচ্ছেদের কথা মনে করেন, তবে ভুল ভাবছেন। ধর্ম বইতে পড়া সবকিছুই যে সঠিক ছিল না, সেটা আমরা লেখা মাধ্যমেই জানবো। তাই মূল কাহিনীতে যাওয়ার আগে অনুরোধ থাকবে, তৎকালীন আরবের পরিস্থিতিটা ভালো করে বুঝবার।

    মহানবী (সা) জন্মের প্রসিদ্ধ সাল হলো ৫৭০ খ্রিস্টাব্দ। তাই আমাদের অনুসন্ধিৎসার শুরুটা সেখান থেকেই। ঐ সময়টা এখন ইসলামের পরিভাষায় ‘জাহিলিয়া’ বা ‘অজ্ঞানতা’র সময় নামে পরিচিত। কারণ, তখন ইসলামের আলো এসে তাদের পাপাচার থেকে মুক্তির জ্ঞান দেয়নি। আজকের যে আরব আমরা দেখি, সেটি ধনদৌলতে ফুলে ফেঁপে ওঠা এক আরব। তবে পেট্রো ডলারের আগে আদৌ এমন অবস্থা ছিল না! তাহলে কেমন ছিল?

    ৫৭০ সালের কাছাকাছি সময়ে দুই পরাক্রমশালী রাজ্য পারস্য আর বাইজান্টিয়ামের মাঝের আরব কিংবা মক্কা, ইয়াসরিব (মদিনা) নিয়ে বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা ছিল না। তাদের কাছে এই অঞ্চল বর্বর বেদুইনের দেশ কিংবা বাণিজ্যের কাফেলার রুট নামেই পরিচিত ছিল। তবে হ্যাঁ, আরবের দখল পেলে মন্দ নয়! একটু মনোযোগ দিয়ে নিচের মানচিত্রটি খেয়াল করুন-

    তবে দক্ষিণ আরব, বর্তমান ইয়েমেন নিয়ে দুই পক্ষেরই বেশ আগ্রহ ছিল। কারণ, জায়গাটিতে বর্ষায় বৃষ্টি হয় ভালো, উর্বর জমিও রয়েছে। কিন্তু এর উত্তরে? উত্তরের আরব তাদের কাছে সেই বেদুইনদেরই, যারা কি না তাঁবুবাসী এবং গ্রিক ভাষায় যাদেরকে বলা হতো ‘Sarakenoi’। এই শব্দ থেকেই ‘Saracen’ (সারাসিন) শব্দটি এসেছে মুসলিমদের বোঝানোর জন্য। ক্রুসেডের ইতিহাস যারা জানেন, তারা নিশ্চয়ই ক্রুসেডার বনাম সারাসিনদের যুদ্ধের কথা জেনে থাকবেন। পারস্য কিংবা রোমান, কেউই ধারণাও করতে পারেনি যে, এই মরু থেকেই এক জাতি বেরিয়ে আসবে, যারা কি না এই দুই পরাক্রমশালী রাজ্যকেই পরাভূত করবে!

    আরব অঞ্চলকে তারা বিবেচনা করতো নিরীশ্বর এক এলাকা হিসেবে। কারণ, এই অঞ্চলে খ্রিস্ট ধর্ম, পারস্যের অগ্নিপূজক ধর্ম বা ইহুদীদের ধর্মের মতো বিশাল কোনো ধর্মের স্থান নেই। এই ধারণা আরবীয়দের মাঝেও ছিল। তারা কোনো নবীর আগমন পায়নি। অন্য বড় ধর্মগুলোর মতো সেটা তাদের জন্য কিছুটা হীনম্মন্যতার ছিল বটে; ঈসা (আ) বা যীশু, মূসা (আ) আর জরথুস্তুর কথা কেবল তারা বাণিজ্যের সময় শুনেই এসেছে। তবে কিছু কিছু আরব ইহুদী বংশ ইয়াসরিবে (মদিনা) বাস করতো, তারা মাঝে মাঝে মক্কাতেও আসতো। খায়বার আর ফাদাকেও তাদের বাস ছিল। এই হীনমন্যতা থেকেই হোক আর অন্য কিছু থেকেই হোক, খ্রিস্টান আর ইহুদীদের প্রতি বেদুইনদের একটা অনাস্থা ছিল।

    বলা হচ্ছিল যে, আরবের কিছু অংশের দখল পেলে মন্দ হতো না দুই পরাশক্তির জন্য, এবং সেটি পেয়েও যায় বাইজান্টিনরা। আজকের যে ইথিওপিয়া (আরবের দক্ষিণে), সেটি তখন আবিসিনিয়া নামে পরিচিত ছিল। সেই রাজ্যটি খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত হয়ে পড়ে। তবে মূল রোমান ক্যাথলিক খ্রিস্টধর্ম নয়। যেটি তারা পালন করতো, সেটিকে রোমান চার্চ ‘বিচ্যুতি’ (Heretic) হিসেবে দেখতো। এ মতবাদের নাম ছিল Monophysitism। এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় না গিয়ে শুধু এটুকু বলতে হয়, এত দূরে দক্ষিণে না হয়ে যদি রোমান সাম্রাজ্যের ভেতরে এরা থাকতো, তবে তাদের এ মতবাদ টিকতে দেওয়া হতো না। কিন্তু যখন দেখা গেল, এরা খ্রিস্টান হওয়ায় বাইজান্টিনদের একটি ‘আউটপোস্ট’ এত দূরে পাওয়া যাচ্ছে, তখন তারা বরং খুশিই হয়। আবিসিনিয়ার খ্রিস্টান শাসকের উপাধি হয় ‘নাজ্জাশী (Negus)। তারা তাকে ইয়েমেন দখল করার পরামর্শও দেয়।

    ওদিকে পারস্যের মাথায় হাত। তারা খেয়াল করলো যে, অগ্নিপূজা আরবকে টানবে না। তাই তারা ইহুদী ধর্মে সায় দিতে শুরু করলো। এরপর কী হয়েছিল সেটি প্রথম পর্বেই বলা হয়েছে, যার শেষ হয় হাতির ঘটনা দিয়ে।

    আরবের যে প্রান্তে রোমান সাম্রাজ্য রয়েছে, সেখানকার গাসান গোত্র অবশেষে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করে এবং পারস্য ও রোমান সাম্রাজ্যের মাঝে একটি ‘বাফার স্টেট’ বা বিভেদী/দেয়াল রাজ্য হিসেবে দাঁড়িয়ে যায়। এটি রোমানদের জন্য একটি নিরাপত্তা ছিল। ইসলামের আবির্ভাবের সময়ও ঘটনা এমনই ছিল। বাইজান্টিন সম্রাট তখন ছিলেন হেরাক্লিয়াস। যা-ই হোক, এখানে আরো অনেক কিছুই ঘটেছিল, যেসবের বর্ণনায় এ বইতে আমরা যাচ্ছি না।

    আনুমানিক প্রায় দুই হাজার বছর ধরে বেদুইনদের আরব রীতি গড়ে ওঠে। বেশিরভাগই যাযাবর হলেও, কেউ কেউ আবার আবাসযোগ্য জমি পেয়ে শহর গড়ে তোলে। বেদুইনরাই নিজেদের সংস্কৃতিকে হীন বা নিচু মনে করতে শুরু করে। তবে সেটাই যে তৎকালীন মূল বা বিশুদ্ধ আরব সংস্কৃতি, সেটা কেউ অস্বীকার করতো না। যাযাবর কিংবা শহরবাসী সকল আরবই নিজেদের মরুপুত্র মনে করতো!

    পুরো আরব জুড়ে ছড়িয়ে থাকা এই যাযাবরেরা নিজেদের মাঝে দল করে নিত। দলের আকার বেশি বড়ও হবে না, ছোটও হবে না। মরুভূমিতে খাবারের বেশ অভাব আছে, এ কারণে এক দল আরেক দলের সাথে সর্বদা মেতে থাকত কাড়াকাড়িতে। এরকম একেকটি দলকে বংশ (Tribe) বলা হতো। কোনো একজন পূর্বপুরুষের নাম দিয়ে তাদের বংশের নাম হতো। আর উপদলগুলো হতো একেকটি গোত্র (Clan)। একক পরিচয় বলে কোনো কিছুর স্থান ছিল না বেদুইনদের মাঝে। তবে বংশ-গোত্র নির্বিশেষে বলতে চাইলে ব্যবহার করা হতো ‘কওম’ শব্দটি।

    আরব বেদুইনদের নির্দয় জীবনে ‘ধর্ম’ কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার ছিল না। তারা ঈশ্বরে বিশ্বাস ঠিকই করতো। কিন্তু ঈশ্বরকে তুষ্ট রাখতে হবে, এরকম নীতি নিয়ে সময় ব্যয় করা তাদের পোষাত না। শিকার ধরে এনে পেটপূজোতেই দিন পার। আর অন্য গোত্রের সাথে যুদ্ধ তো লেগেই থাকতো। তাহলে কি তাদের কোনো আদর্শ ছিল না, যেটা সবাই মেনে চলত? ছিল। এটাকে ‘মুরুওয়াহ’ বলা হতো, যার মানে ‘বীরত্ব’। একেক বেদুইন বংশের মুরুওয়াহ ছিল একেক রকম। কারো অনেক উন্নত, কারও বা এতটা না। মুরুওয়ার প্রথম কথাই হলো, নেতার কথা মেনে চলতে হবে বিনা প্রশ্নে। পরকাল বলে কোনো কিছুতে বিশ্বাস আরবদের ছিল না। এটি একটি অদ্ভুত ভাবনা ছিল তাদের কাছে। কেউ যদি কোনো দেবতার পূজো করতও, তবে সেটা হতো ইহকালের কোনো সাফল্যের জন্য।

    হত্যাকাণ্ড ঠেকাবার জন্য যে প্রথা ছিল সেটা হলো, কেউ কাউকে হত্যা করে ফেললে, দোষ কেবল সেই খুনীর একার নয়, বরং খুনীর পুরো বংশের। যে-ই একটি হত্যাকাণ্ড ঘটলো, তখনই নিহতের বংশের মানুষেরা বেরিয়ে পড়বে প্রতিশোধ নিতে, খুনীর বংশের একজন মারা না যাওয়া পর্যন্ত প্রতিশোধ নেওয়া হবে না। অন্য বংশের কাউকে মারা কোনো অপরাধ ছিল না, নিজের কাউকে না মারলেই হলো কিংবা মিত্র বংশের কাউকে। আর কেউ যদি নিজের পরিচয় গোপন করে মেরে হারিয়ে যেতে পারে, তবে তো প্রতিশোধ নেবার প্রশ্নই আসে না। পুরো বংশের উপর আঘাত এড়ানোর জন্যই এ নিয়ম ছিল। তবে তাতে খুন- খারাবি কমেনি একদমই।

    একটি বেদুইন বংশের সম্পূর্ণ অধিকার ছিল অন্য বেদুইন বংশের কাফেলা থেকে মালামাল বা খাদ্য ছিনিয়ে নেবার। এটি অনেকটা জাতীয় খেলার মতোই ছিল। যে বংশ যত ছিনিয়ে আনতে পারে, সে বংশ তত ধনী। তবে কোনো বংশের প্রয়োজন মিটে গেলে আর ছিনিয়ে আনতো না। ফলে যেটা হতো, কোনো বংশ বেশি রাখতে পারতো না। তবে এই কাজ করতে গিয়ে কোনো হত্যাকাণ্ড নিষিদ্ধ ছিল।

    বেদুইনরা খুবই অতিথি পরায়ণ ছিল। কারণ, অন্য বংশের কাউকে আজ অনেক অতিথিপরায়ণতা দেখালে, বিপদের দিনে সেই বংশই এগিয়ে আসবে। এটি ছাড়া অন্য কোনো কারণ ছিল না। দেখা যেতো, মেয়ে শিশুদের বেঁচে থাকার হার ছেলেদের থেকে বেশি। একটি বেদুইন বংশে নির্দিষ্ট অনুপাতের বেশি যেন মেয়ে না থাকে, সেজন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণের পর হত্যা করা হতো মেয়ে শিশুদের। যে যত বেশি বিয়ে করতে পারবে, সে হতো তত ধনী। কারণ, উত্তরাধিকার হিসাব করা হতো মেয়েদের দিক থেকে। তাই একজনের যত স্ত্রী, তত বেশি উত্তরাধিকার সে নিজের বাগে আনতে পারবে। উত্তরাধিকার পায় বলেই যে তাদের অধিকার থাকবে, এমনটা তখন ছিল না মেয়েদের ক্ষেত্রে। তবে এসব করতে গিয়ে তাদের মনে কোনো অনুতাপ ছিল না। কারণ, এমনই ছিল প্রথা। আর এটাই জীবন। ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সোনালি বালুর বুকে ঘোড়া ছুটিয়ে যাওয়া, হয়তো বা রাতের কনকনে শীতের মাঝেও, আর ক্লান্ত শরীর এলিয়ে দেওয়া নিজের তাঁবুতে। ঠিক এরকম একটি জীবনই রবীন্দ্রনাথ চেয়েছিলেন-

    “ইহার চেয়ে হতেম যদি আরব বেদুয়িন!
    চরণতলে বিশাল মরু দিগন্তে বিলীন।”

    এসব বেদুইন বংশের মাঝে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা শহরগুলোর মধ্যে ছিল মক্কা, তাইফ, ইয়াসরিব (মদিনা)। মক্কা আর তাইফ মোটামুটি প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল। দুই জায়গাতেই ভালো মন্দির ছিল। লাত দেবীর শহর ছিল তাইফ, সেখানে তার মন্দির। মক্কা ছিল আরো উপরে, সেখানে আরবের সবচেয়ে পবিত্র ঘনকাকৃতির ‘কাবা’, যেখানে ৩৬০টি মূর্তি সাজানো, প্রধান দেবতা সেখানে হুবাল। সকল আরবই জানতো যে, একদা এখানে ইসমাইল (আ) বাস করতেন, জমজম কূপের কাহিনীও তাদের জানা। কিন্তু হাজার হাজার বছরের বিবর্তনে আদি বিশ্বাস পরিবর্তিত হয়ে পৌত্তলিকতা চলে এসেছে, হারিয়েছে পরকালে বিশ্বাস। একক ঈশ্বর বলে কিছুতে তাদের বিশ্বাস নেই। তবে কা’বার মালিক যে আল্লাহ, তিনি যে সর্বোচ্চ ঈশ্বর এ বিশ্বাস সকলেরই ছিল। কিন্তু এত উঁচু ঈশ্বরকে সাধারণ মানুষ প্রার্থনা করে নাগালে পাবে না বিধায় তাদের মতে দরকার মর্ত্যের দেবতাদের। লাত, উজ্জাহ, মানাত, হুবাল – এদের আবির্ভাব আর তাতে বিশ্বাস এলো এভাবেই।

    এরকমই এক সময় মক্কার কুরাইশ বংশের হাশিম গোত্রে জন্ম নিলেন মুহাম্মাদ (সা), যার আরেক নাম রাখা হয় আহমাদ। আমরা আগের অধ্যায়ে শেষ করেছিলাম, যখন তাঁকে হালিমা নিয়ে যাচ্ছিলেন তাদের বেদুইন বংশে।

    কেন মক্কার পরিবারগুলো তাদের নবজাতককে পাঠাতো বেদুইনদের কাছে? কারণ, তারা বিশ্বাস করতো, বেদুইন সংস্কৃতি হলো বিশুদ্ধ আরব, তাদের ভাষা বিশুদ্ধ আরবি, তাদের কাছে প্রথম কয়েক বছর কাটালে প্রকৃত মরুসন্তান হয়ে ফিরতে পারবে সন্তানেরা।

    ইবনে কাসির (র) রচিত সীরাত গ্রন্থ গ্রন্থ থেকে আমরা জানতে পারি, নবী মুহাম্মাদ (সা) এর জন্মের পর যাদের দুধ পান করেছিলেন তারা হলেন তাঁর বাবার রেখে যাওয়া দাসী উম্মে আয়মান বারাকা, তাঁর নিজের মা আমিনা, চাচা আৰু লাহাবের মুক্ত করে দেয়া প্রাক্তন দাসী সুওয়াইবা এবং ধাত্রী মা হালিমা। বড় হবার পর মুহাম্মাদ (সা) আয়মান বারাকাকে মুক্ত করে দেন এবং নিজের মুক্ত করা দাস তথা পালক পুত্র জায়দ (রা) এর সাথে তাঁকে বিয়ে দেন।

    হালিমা সাদিয়া (সা’দিয়া, কারণ তাদের বেদুইন বংশ সা’দ বংশ) যখন তাঁর স্বামীকে নিয়ে এতিম শিশু মুহাম্মাদ (সা)-কে নিয়ে নিজের মরু এলাকায় ফিরছিলেন তখন তাঁর শীর্ণ গাধার গতিবেগ যেন বেড়ে গেলো অনেকগুণ। এমনকি অন্য শিশু নিয়ে ফেরত বেদুইনরাও অবাক হয়ে বলল, “আবু যুওয়ায়বের কন্যা! একটু থামো অন্তত আমাদের জন্য। এটি কি সেই গাধা যার পিঠে চড়ে তোমরা এসেছিলে?” হালিমা উত্তর দিলেন, “অবশ্যই সেটাই!” তারা বলল, “আল্লাহর কসম, কিছু একটা অস্বাভাবিক ঠেকছে!”

    মরুভূমিতে ফেরার পরপরই বদলে গেল হালিমাদের জীবন। যেখানে একসময় ভেড়াগুলোর দুধই হতো না বলতে গেলে, সেগুলো এখন প্রচুর দুধ দেয়। হালিমার ভেড়াগুলোর চড়ানোর জায়গায় অনেক ঘাস উঠল। কিন্তু অন্যদের জায়গায় কোনো ঘাস ছিল না, কারণ তখন চলছিল ভয়াবহ খরা। এমনকি প্রতিবেশীরা পর্যন্ত তাদের রাখালদের এই বলে নির্দেশ দিতে লাগল যে, তারা যেন হালিমার জায়গায় গিয়ে ভেড়া চড়ায়।

    দুটি বছর বেড়ে উঠলেন শিশু মুহাম্মাদ (সা) মা হালিমার কাছে। তাঁর দুই দুধ ভাই-বোন তাঁকে জানতো তাদের কুরাইশি ভাই হিসেবে। দুধভাই আব্দুল্লাহ ইবনে আল হারিসও তখন দুধের শিশু। আর বোন ছিল উনাইসা এবং খিজামা (কিংবা হুজাফা)। খিজামার আরেক নাম ছিল শায়মা, বয়স ছিল পাঁচ বছর। খুবই শান্ত শিশু হয়ে বড় হতে লাগলেন শিশু মুহাম্মাদ (সা)। তাঁকে সবচেয়ে বেশি কোলে- পিঠে করে যিনি মানুষ করেছেন তিনি হলেন শায়মা। শায়মা তাঁকে খাওয়াতেন, গোসল করাতেন, কোলে নিয়ে ঘুরতেন। মক্কা থেকে তায়েফ যাবার পথে জায়গাটা পড়ে।

    বয়স যখন তাঁর ২ বছর, তখন হালিমা তাঁকে নিয়ে চললেন মক্কায় আসল মা আমিনার কাছে। কারণ মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এখন ফেরত দিতে হবে শিশুকে। বেদুইনদের সাথে চুক্তি এটাই যে, শিশু লালনপালনের বিনিময়ে তারা অর্থ পেত। এজন্যই ধনী ঘরের শিশু তাদের লক্ষ্য থাকতো।

    কিন্তু হালিমার মন একদম মানতে চাচ্ছিল না। কী অজুহাতে তাঁকে আরও রাখা যায় সেটাই ভাবতে লাগলেন হালিমা, শায়মা তো তাঁকে ছাড়তেই চাচ্ছিল না। মক্কায় তখন কোনো এক মহামারী চলছিল। সেই রোগের দোহাই দিয়ে শিশু মুহাম্মাদকে আরও কমাসের জন্য নিয়ে আসলেন। মহামারী শেষ হলে পরে ফিরিয়ে আনবেন। আমিনা রাজি হলেন।

    এরকম একদিন মুহাম্মাদ (সা) এর দুধভাই দৌড়ে এলো হালিমার কাছে। এসেই অস্থির হয়ে বলতে লাগলো, “আমার কুরাইশি ভাইয়ের কাছে দুজন সাদা পোশাকের মানুষ এসেছিল। ওরা তাঁকে শুইয়ে দিয়ে তলপেট চিড়ে ফেলেছে! মুহাম্মাদ (সা) মারা গেছে!”

    তখন হালিমা আর হারিস দুজনেই দৌড়ে গেলেন ঘটনাস্থলে, যেখানে মেষ চরানো হতো। গিয়ে দেখেন, ফ্যাকাশে চেহারার মুহাম্মাদ (সা) দাঁড়িয়ে আছেন। হারিস জিজ্ঞেস করলেন, “কী হয়েছে, বাছা?” তিনি উত্তর দিলেন, “দুজন লোক এসে আমার বুক চিড়ে ফেলল আর এরপর কী যেন খুঁজল ভেতরে আমি জানি না।” তারা তাঁকে তাঁবুতে নিয়ে গেলেন।

    হারিস খারাপ কিছুর আশঙ্কা করায় এ ঘটনার পর দুজনেই শিশু মুহাম্মদকে (সা) নিয়ে মক্কায় ফেরত গেলেন। ইবনে কাসিরে বর্ণিত, পথে আবিসিনিয়া থেকে আসা একদল খ্রিস্টান তাকে দেখে ছুটে এসে বলল, “এ শিশু কে?”

    “কুরাইশি একটা ছেলে মাত্র,” তারা উত্তর দিলেন।

    “আমরা একে নিয়ে যেতে চাই। ও বড় হয়ে নিশ্চয়ই বড় কিছু হবে। আমরা বুঝতে পারছি।” পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবগুলোতে পাওয়া বিবরণের সাথে মিলে যাওয়ায় তারা আন্দাজ করছিল

    হালিমা অবাক হলেন। বেশ কায়দা করেই তাদের পেছনে ফেললেন তারা।

    কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যে এর চেয়ে বড় ঘটনা ঘটে গেল। মক্কায় ঢুকার সময় তিনি বাচ্চা মুহাম্মাদ (সা)-কে হারিয়ে ফেললেন। ভিড়ের মাঝেই হারিয়ে গেল। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পেলেন না। তিনি ছুটে গেলেন দাদা আব্দুল মুত্তালিবের কাছে, ঘটনাটা জানালেন। আব্দুল মুত্তালিব কেবল বললেন, “আরে, ভেবো না, আল্লাহ ওকে ফিরিয়ে দেবেন।” তিনি লোক পাঠালেন।

    একসময় দেখা গেল ওয়ারাকা ইবনে নাওফেল শিশু মুহাম্মাদ (সা) কে নিয়ে আসছেন। এসে বললেন, “টিলার উপর ওকে খুঁজে পেলাম।”

    তাঁকে পেয়ে আমিনার কাছে নিয়ে গেলেন হালিমারা। আমিনা অবাক হয়ে বললেন, “এত আগ্রহ করে নিয়ে গেলে, এখন এত তাড়াতাড়ি ফিরিয়ে দিচ্ছ যে?”

    হালিমা একটু এড়াতে চাইলেন ব্যাপারটা, “আল্লাহ আপনার ছেলেকে বড় করেছেন এবং আমাদের দায়িত্বটুকু আমরা পালন করেছি, আমি তাঁর ব্যাপারে দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছি। তাই আপনার ছেলেকে ভালোয় ভালোয় আপনার হাতে তুলে দিলাম।” কিন্তু আমিনা বুঝলেন, কাহিনী অন্য জায়গায়। বেশি চাপাচাপি করতেই শেষ পর্যন্ত কাহিনী বলতে বাধ্য হলেন দুজন।

    আমিনা বললেন, “তোমরা ভাবছো আমার ছেলেকে জ্বিনে ধরেছে?”

    তারা বলল, “হ্যাঁ।”

    আমিনা হেসে বললেন, “আমার ছেলেকে তোমরা চিনতে পারনি!” জন্মের সময় কী দেখেছিলেন সেই ঘটনা বললেন তাঁকে। এরপর তিনি হালিমাকে আবার দিয়ে দিলেন মুহাম্মাদ (সা) কে রাখতে। [ইবনে হিশাম]

    বয়স যখন ৬ বছর, তখন সত্যি সত্যি হালিমা আমিনার কাছে ফিরিয়ে দিলেন প্রিয় মুহাম্মাদ (সা)-কে।

    প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বনু সাদ বেদুইন বংশ হাওয়াজিন বংশ সমষ্টির সদস্য ছিল। মক্কা বিজয়ের আগপর্যন্ত ইসলাম নিয়ে তাদের কোনো মাথা ব্যথাই ছিল না। এই হাওয়াজিন বেদুইনরা মক্কা বিজয়ের ঘটনার পর মক্কার কাছে জড়ো হয় মক্কা আক্রমণ করবার জন্য। তখন মুহাম্মাদ (সা) এর মুসলিম বাহিনী তাদের পরাস্ত করে হুনায়নের যুদ্ধে। যুদ্ধে পরাজিত হয় হাওয়াজিনরা। ধরা পড়ে ছয় হাজার যুদ্ধবন্দী এবং বিপুল পরিমাণ গবাদিপশু হাতে আসে মুসলিমদের।

    হাওয়াজিনদের যে অংশ ইসলাম গ্রহণ করেছিল, তাদের থেকে একটি দল মুহাম্মাদ (স) এর কাছে এলেন এবং হাওয়াজিনদের ছেড়ে দিতে অনুরোধ করলেন। বললেন, এ বন্দীদের মাঝেই তাঁর শিশুকালে পালন করা ধাত্রীরা আছেন, খালারা আছেন। তারা তো পরিবারের মতোই।

    বন্দীদের মধ্য থেকে এক ষাটোর্ধ্ব বয়স্কা নারী এগিয়ে এলেন। এসে বললেন, “চিনতে পারছেন আমাকে? আমি শায়মা। আপনারই দুধ বোন!” মহানবী (সা) দাঁড়িয়ে গিয়ে তাঁর শাল বিছিয়ে দিলেন, পাশে বসতে বললেন।

    শায়মা তখন নবীজী (সা) কে যা বললেন সেটা এরকম, “আপনি যখন ছোট ছিলেন, তখন আমার কাঁধের এখানে কামড় দিয়েছিলেন, মনে পড়ে? কামড়ের দাগটা কিন্তু এখনো আমার কাঁধে রয়ে গেছে।” এই বলে তিনি তাঁর কাঁধের দাগটা দেখালেন। দাগটা চিনবার সাথে সাথে মুহাম্মাদ (সা) এর চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে লাগলো দিনগুলোর কথা মনে করে।

    শায়মা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। নবীজী (স) তাঁকে অনেক উপহার দিয়ে নিজ বংশে পাঠিয়ে দেন। ৬,০০০ যুদ্ধবন্দীর প্রত্যেককে তিনি মুক্ত করে দেন, সবাইকে শাল উপহার দেন। সেদিন ৫ লাখ দিরহামের মতো উপহার দেয়া হয়েছিল বলে ইবনে কাসিরে উল্লেখ আছে।

    কথিত আছে, হালিমাও ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি খাদিজা (রা) জীবিত থাকাকালীন একবার বেড়াতে এসেছিলেন মক্কায়, তখন খাদিজা তাঁকে ৪০টি মেষ উপহার দেন। শেষ জীবনে তিনি মদিনায় গিয়েছিলেন। তাঁর কবর হয়েছিল জান্নাতুল বাকিতে। নিচের ছবিটি তাঁরই কবর বলে ধারণা করা হয়।

    তবে একটু আগে বলা হচ্ছিল, সাধারণত ধর্ম নিয়ে জাতিগতভাবেই বেদুইনদের মাথাব্যথা নেই তেমন। মুহাম্মাদ (সা) মারা যাবার পর বেদুইনদের অনেক বংশ ইসলাম ত্যাগ করে। হাওয়াজিনও ছিল তাদের অন্তর্গত।

    যা-ই হোক, মক্কায় ফিরবার পর মায়ের আদরে বড় হতে লাগলেন তিনি। আমিনার ইচ্ছা, ছেলেকে নিয়ে স্বামীর কবরে যাবেন। কখনও যাওয়া তো হয়নি। পাঠকদের স্মরণ করিয়ে দেয়া ভালো, বাবা আবদুল্লাহর কবর ছিল মদিনায় সেখানে আমিনার অন্য আত্মীয়রাও আছেন। মুহাম্মাদ (সা) এর মামার বাড়ি ছিল মদিনার বনি নাজ্জার।

    পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা রওনা হলেন মদিনার জন্য। তখন মদিনার নাম ছিল ইয়াস্রিব। দক্ষিণ আরবের ইহুদীদের বড় বসতি সেখানে।

    বাবার কবরে দাঁড়িয়ে কী ঝড় চলছিল তাঁর ছোট্ট হৃদয়ে, সেই বর্ণনা আমরা বইগুলোতে পাই না। মদিনার নীল আকাশ, মৌন পাহাড় আর শান্ত প্রকৃতি মুগ্ধ করবার কথা শিশু মুহাম্মাদকে (সা)। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করবার মতো ছিল মরুর বুকে এই বাগান (oasis)।

    কিন্তু মাঝে মাঝে কোনো কোনো ইহুদী এই বাচ্চা ছেলেটিকে দেখে থেমে যেতো। অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকতো।

    একদিন একজন জিজ্ঞাসা করে বসলো তাঁকে নিয়ে। আবদুল্লাহর রেখে যাওয়া এক দাসী উম্মে আয়মান বারাকা ছিল সাথে। মালিকপুত্রের সম্পর্কে উত্তর দিল, “মক্কার কুরাইশি ছেলে।”

    “ওর বাবা?”

    “মারা গেছেন।”

    চমকে উঠে চলে গেল লোকটি। কিতাব অনুযায়ী প্রতিশ্রুত নবীর তো বাবা- মা দুজনই মারা যাবার কথা।

    ইবনে কাসিরে মুহাম্মাদ (সা) জন্মের সময়ই বনু কুরাইজা ও অন্যান্য ইহুদী গোত্রের চলমান কথোপকথন লিপিবদ্ধ করা আছে কয়েকজন শ্রোতার বর্ণনায়। যেমন, একটি বর্ণনা এরকম- বনু কুরাইজার ইহুদী জুবাইর ইবনে বাতা বলছিলেন, “নবীর আগমনের সাথে যে লাল তারকা আকাশে দেখতে পাবার কথা, সেটা উদিত হয়েছে। আর একজনই বাকি ছিল যার নাম হবার কথা আহমাদ, আর এই জায়গাটি হবে সেই জায়গা যেখানে তিনি জন্মেছেন।”

    ইবনে কাসিরেই বর্ণিত আছে, একদিন দুজন ইহুদী বললেন, “তোমাদের আহমাদকে নিয়ে আসো তো দেখি।” আহমাদ (সা) আসার পর তারা তাঁকে হাত দিয়ে ধরে ধরে দেখল খুঁটিয়ে। এরপর একজন আরেকজনকে বলল, “এই ছেলেই এই জাতির নবী। সে একসময় এ জায়গায় (মদিনায়) আসবে আশ্রয় নিতে। এখানেই অনেকে বন্দী হবে, অনেকে নিহত হবে।”

    আরেকদিন এক ইহুদী তো বলেই বসলো, “শোন, ওকে নিয়ে চলে যাও। ইয়াস্রিব নিরাপদ না ওর জন্য। প্রাণের শত্রু আছে এখানে ওর।”

    ভয় পেয়ে আমিনা আসলেই মদিনা ত্যাগ করলেন তখন। ঝুঁকি নিয়ে লাভ নেই। কিন্তু ‘আবওয়া’ নামের এক জায়গা পর্যন্ত আসতেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লেন! আর মারাও গেলেন। এতিম হয়ে গেলেন মুহাম্মাদ (সা)।

    অনেক অনেক বছর পরে নবী (সা) এ জায়গাটিতে আবার আসেন। তবে তখন তিনি নবী। ইবনে কাসির (র) তাঁর গ্রন্থে ইমাম আহমদ (র) ও বায়হাকি থেকে বর্ণনা করেছেন ঘটনাটি। সাহাবীরা ভ্রমণ করতে করতে ওয়াদ্দানে পৌঁছান। সেখানে বাকিদের অপেক্ষা করতে বলে মহানবী (সা) কোথাও গেলেন, এক কবরের খোঁজে।

    অন্য সাহাবীরা তাঁকে দূর থেকে ঘিরে ছিলেন। তিনি কিছু বাক্য উচ্চারণ করছিলেন যেন কাউকে, এরপর কাঁদতে লাগলেন অঝোরে। উমার (রা) সাথে সাথে উঠে তাঁর কাছে গেলেন। বললেন, “আপনাকে কী কাঁদাচ্ছে, হে আল্লাহর রাসুল?”

    তিনি উত্তর দিলেন, “এ কবরটা আমিনা বিনতে ওয়াহাবের। আমি আল্লাহর কাছে অনুমতি প্রার্থনা করেছিলাম তাঁর কবর জিয়ারতের, তিনি কবুল করলেন। আমি তাঁর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করলাম, কিন্তু তিনি সেই ক্ষমা প্রার্থনা কবুল করলেন না। আমার এত করুণা লাগছে, এত খারাপ লাগছে আমার মায়ের জন্য, যে আমি কান্না থামাতে পারিনি।” হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবী জানান, তিনি এর চেয়ে করুণ কান্নার কিছু কোনোদিন দেখেননি। হাদিসটি সহিহ মুসলিম শরিফেও আছে।

    জন্মের ছয় মাস আগে বাবাকে হারিয়েছেন। ছয় বছর বয়সে মা-ও নেই। তখন ৫৭৬ কি ৫৭৭ সাল। পুত্রবধূর মৃত্যু সংবাদ শুনে ভেঙে পড়লেন আব্দুল মুত্তালিব। আবদুল্লাহ মারা যাবার পর যে শোকের পাথর বুকে বেঁধেছিলেন সেটা সরতে শুরু করেছিল, পুত্রবধূর গর্ভ থেকে নাতি মুহাম্মাদ (সা) জন্ম নেয়ার পর। সেই পুত্রবধূও নেই। এতিম নাতির ভার নিলেন তিনি। একদম নিজের ছেলের মতো।

    কাবার আঙিনায় রোজ বসতো দরবার। প্রভাবশালী আব্দুল মুত্তালিবের বসার জায়গাটি ছিল খুব আরামের। কেউ সেখানে বসতে সাহস পেতো না। একদিন কীভাবে যেন সেখানে মুহাম্মাদ (স) চলে এলো, এরপর শিশুসুলভ দুষ্টুমি করতে করতে বসে পড়লেন সেখানে।

    সবাই তো অস্বস্তিতে পড়ে গেলেন, কী করা যায়? পরে এক চাচা তাঁকে কোলে করে নামালেন। সেই মুহূর্তেই আব্দুল মুত্তালিব চলে এলেন আর বললেন, “আরে কী করো! ও তো আমারই ছেলে!”

    এই বলে মুহাম্মাদ (সা) কে তুলে নিলেন, নিজের পাশে বসালেন। আদর করতে লাগলেন। বললেন, “এ ছেলের ভবিষ্যতে অনেক বড় কিছু করবার আছে।” এ রকম ঘটনা প্রায়ই হতো।

    আব্দুল মুত্তালিব আয়মান বারাকাকে ডেকে বললেন, “আমার এই নাতির অবহেলা করো না। তাঁকে সেদিন গাছের কাছে দেখলাম কিছু ছেলের সাথে। ইহুদী খ্রিস্টানরা নাকি দাবি করেছে, এই ছেলে নবী হবে পরে।” তাঁকে সাথে না নিয়ে কখনো খেতে বসতেন না আব্দুল মুত্তালিব। [ইবনে কাসির]

    সেই আদরও টিকলো না বেশিদিন। তার বয়স যখন ৮ বছর ২ মাস ১০ দিন, তখন দাদা বিদায় নিলেন দুনিয়া থেকে। আল হাজুনে তাঁর কবর হয়। মারা যাবার আগে তিনি আবু তালিবের হাতে মুহাম্মাদ (সা) এর দায়িত্ব সমর্পণ করেন। কারণ আবু তালিব আর আব্দুল্লাহ আপন ভাই ছিলেন।

    সব চাচাদের উপার্জন আলাদাই ছিল। আবু তালিবের আর্থিক অবস্থা খুব একটা সচ্ছল ছিল না। তবে দিন ভালোই চলে যাচ্ছিল। দাদার মতোই চাচা আবু তালিবও তাঁকে সাথে সাথে রাখতেন। তাঁকে ছাড়া পরিবারের অন্যরা খেতেই চাইতো না। প্রতিদিন সকাল বেলা আবু তালিব বাচ্চাদের জন্য খাবারের ডালি নিয়ে আসতেন। সবাই সেখান থেকে খাবার জন্য কাড়াকাড়ি লাগিয়ে দিত। শুধু মুহাম্মাদ (সা) হাত বাড়াতেন না। এটি দেখে এরপর থেকে আবু তালিব তাঁর জন্য আলাদা খাবার আনতে লাগলেন।

    কিন্তু এরপর এমন কিছু ঘটল যেটার জন্য আবু তালিব প্রস্তুত ছিলেন না। তাঁর ভাতিজার উপর তাঁর অগোচরেই পরিকল্পিত হচ্ছিল এক গুপ্তহত্যা, অচেনা কিছু মানুষের দ্বারা। সে ব্যাপারে কথা হবে পরের অধ্যায়ে!

    তথ্যসূত্র সমূহ

    ইবনে হিশাম (র) রচিত সীরাত, ইবনে ইসহাক (র) রচিত সীরাত, ইবনে সা’দ (র) রচিত সীরাত তাবাকাত এবং ইবনে কাসির (র) রচিত সুবিশাল সীরাত গ্রন্থ, যেখানে তিনি আদি ইবনে ইসহাক ও ইবনে হিশাম উভয় গ্রন্থ পড়বার পর প্রতিটি ঘটনা বিশ্লেষণ করেছেন। অনেকে আলফ্রেড গিয়োম অনূদিত ইবনে ইসহাকের ইংলিশ ভার্শনে অনাস্থা প্রকাশ করায় ইবনে ইসহাকের ক্ষেত্রে ইবনে কাসির (র) এর বর্ণনা গ্রহণ করা হচ্ছে। আর মুহাম্মাদ (সা) এর জন্মের পূর্বের আরব ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোর আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যার জন্য সাহায্য নেয়া হয়েছে বিভিন্ন অ্যাকাডেমিক স্কলারের লেখার, যারা প্রাক-ইসলামি আরব সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখেন। তবে সেটি মূল জীবনীতে প্রভাব ফেলবে না। মূল জীবনীর জন্য প্রথম দিককার জীবনীকারদের সাহায্যই কেবল নেয়া হয়েছে অবিকৃতির জন্য।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleইহুদী জাতির ইতিহাস ২ (ইসরাইলের উত্থান-পতন) – আব্দুল্লাহ ইবনে মাহমুদ
    Next Article আমার শিল্পী জীবনের কথা – আব্বাসউদ্দীন আহমদ

    Related Articles

    আশাপূর্ণা দেবী

    সমুদ্র কন্যা – আশাপূর্ণা দেবী

    April 24, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    আমাদের মহাভারত – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    March 20, 2026
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Our Picks

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }