Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ঈশ্বরপুরের প্রেমকথা – দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য

    September 5, 2026

    উন্মাদ আশ্রম – ওবায়েদ হক

    September 5, 2026

    এক ডজন রহস্য গল্প – রজতশুভ্র মজুমদার

    September 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    উন্মাদ আশ্রম – ওবায়েদ হক

    ওবায়েদ হক এক পাতা গল্প130 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    উন্মাদ আশ্রম – ৮

    ॥ আট ॥

    একটা ছোটো চারকোনা হলুদ দালান এর সামনে দাঁড়িয়ে আছে জহির। রঙজ্বলা একটা সাইনবোর্ড মুকুটের মতো মাথায় পরে আছে ভবনটা। সাইনবোর্ডে অস্পষ্ট অক্ষরে লেখা ‘জমির উদ্দিন পাঠা’। একজন মানুষকে এভাবে অপদস্ত করার কী কারণ থাকতে পারে, যারা জানে না তারা অনেকে আগ্রহ নিয়ে কাছে আসে। কেবল কাছে আসলেই মুছে যাওয়া অক্ষরগুলোর দেহাবশেষ থেকে ‘পাঠাগার’ শব্দটা আবিষ্কার করা যায়। দূর থেকে শুধু ‘পাঠাটা দেখা যায়, ‘গার’ প্রায় মুছে গেছে

    জহির সবসময় এসব পাঠাগার, গ্রন্থাগার থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলেছে। লাইব্রেরি দেখলেই তার মনে হতো, কী অপচয়! এত এত কাগজ, কিন্তু কোনোটাই টাকা নয়। যারা লাইব্রেরিতে যায়, তাদেরকে সে তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতেই দেখতো, টাকাওয়ালা মানুষেরা কখনো এইসব গণপাঠাগারে যায় না। আজ সে নিজেই পাঠাগারের দরজায় দাঁড়িয়ে ইতস্তত করছে, এখানকার রীতিনীতি কিছুই জানে না সে। জ্ঞানমন্দিরে কী জুতা খুলে ঢুকবে? বাহিরে কোনো অপেক্ষমাণ জুতা না দেখে সে জুতা পরেই ভিতরে ঢুকলো। সাইনবোর্ডের অযত্ন ভিতরেও দৃশ্যমান, কয়েকটা নড়বড়ে টেবিলের চারপাশে বেশকিছু কাঠের বৃদ্ধ ভঙ্গুর চেয়ার ঘুণে পোকাদের খাদ্য জোগান দিচ্ছে। একটা টেবিলে বসে কিছু বুড়ো অবসর কাটাতে পত্রিকা নিয়ে টানাটানি করছে। অন্য টেবিলে কয়েকজন তরুণ চাকরির পড়া মুখস্থ করছে। বুক শেলফে ইতিহাস, সাহিত্যের বইগুলো বসে বসে ধুলো সঞ্চয় করছে। বুড়োদের পাশে একটা ভঙ্গুর চেয়ারে সে আলতো করে বসলো। পুরনো পত্রিকাগুলো স্তুপ হয়ে আছে একটা শেলফের নিচে, সেগুলোর প্রতি কারো আগ্রহ নেই। জহিরের তাতে সুবিধাই হলো, কাদেরের মৃত্যু নিয়ে পুলিশের অগ্রগতি কতটুকু হলো, তা সে নির্বিঘ্নেই জেনে নিতে পারবে।

    কী পত্রিকা হাতে নিয়ে জহির প্রথমেই উপলব্ধি করলো, দিন তারিখের সাধারণ হিসাবটা সে একেবারেই ভুলে গেছে। কত তারিখে কাদের খুন হলো, বার ছিলো সেদিন, অনেকে ভেবেও কোনোভাবেই মনে করতে পারলো না জহির। মাথার এই অংশটা স্থবির হয়ে গেছে তার। এটাও কি পাগলামির লক্ষণ? ধুলো ঝেড়ে একটার পর একটা পত্রিকা উল্টাতে লাগলো সে। পত্রিকায় কিছুক্ষণ চোখ বুলিয়েই তার মনে হলো, বাংলাদেশের সে-ই একমাত্র খারাপ মানুষ না। খবরের সাথে সাথে এই কাগজগুলো ভয় আর অসুস্থতা বিলাচ্ছে। নিয়মিত পত্রিকা পড়লে সুস্থ মানুষ অসুস্থ হয়ে যাবে, সৎ মানুষও অসৎ হওয়ার অনুপ্রেরণা পাবে। অনেকগুলো পুরনো পত্রিকা ঘেটেও কাদেরকে কোথাও পাওয়া গেল না। কোটি টাকার মাদকও কি এই খুনটাকে পত্রিকার পাতায় জায়গা দিতে পারলো না? পরিবার যাকে ত্যাগ করেছে, সাংবাদিকরাও যাকে অবজ্ঞা করেছে পুলিশ তাকে আর গুরত্ব দিবে কেন?

    পুলিশের প্রতি ভয় এবং ভরসা দুটোই কমে গেল জহিরের। অথচ আগে পুলিশের উর্দি দেখলেই মাথায় সাইরেন বেজে উঠতো। জেল থেকে ঘুরে আসার পর পুলিশভীতি তার ভয়ানক পরিমাণে বেড়ে গিয়েছিল। বছর চারেক আগে একবার পুলিশের ভয়ে মাস খানেকের জন্য রোমেনার ঘরে আশ্রয় নিয়েছিলো সে। রোমেনা তার মায়ের কাছ থেকে একটা ঘর এবং তার সব গ্রাহক উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছিলো। ট্রাক স্ট্যান্ডের পাশে এই পল্লীতেই রোমেনার জন্ম, মেয়ে হওয়াতে মা তার খুশিই হয়েছিলো, বার্ধক্যের একটা পুঁজি তার হলো। ছেলেদের খাইয়ে পরিয়ে বড়ো করার পর তারা মাকে ‘বেশ্যা’ গালি দিয়ে চলে যায়। খুব অল্পবয়সেই পণ্য হয়ে গিয়েছিলো রোমেনা, ব্যবসায় তার আপত্তি ছিলো না, ছোটো বয়স থেকেই সে নারী পুরুষের এই সঙ্গম প্রক্রিয়াকে ‘কাজ’ বলেই জেনে এসেছে। মায়ের গ্রাহকদের সাথে ‘কাজ’ করতে অস্বস্তি হতো তার। মাকে বলতো, এই লোকটা যদি তার বাবা হয়? মাথায় জোরে চাটি মেরে তার মা তাকে বলতো, ‘বেশ্যা‘র পেটে যার জন্ম, তার কোনো বাপ-ভাই হয় না, তাদের কাছে পুরুষ মানুষ শুধুই ‘কাস্টমার’।

    নিজের একমাত্র পুঁজিটা থেকে আয়ের টাকা সম্পূর্ণ উপভোগ করার আগেই মা তার মরে গেলো। মদের নেশা ছিলো রোমেনার মায়ের, যৌবনে সে মদ খেয়েছে আর বার্ধক্যে মদ তাকে খেয়েছে। মায়ের অভাব খুব বেশি পোড়ায়নি রোমেনাকে, মা মরার পর একটা টেলিভিশন কিনেছিলো সে। টেলিভিশন তাকে সঙ্গ দিয়েছে, কত নতুন কিছু শিখিয়েছে কিন্তু মাথায় কোনোদিন চাটি দেয়নি, মদ খাওয়ার বদভ্যাসও নেই টেলিভিশনটার।

    কিন্তু একটা ক্ষতি টেলিভিশনটা রোমেনার করেছিলো, তাকে প্রেম শিখিয়েছিল। টিভি দেখে সে শিখেছে, দেহ শুধু বিক্রি করা যায় না, ভালোবেসে দানও করা যায়। ঘরের বউরাও বিনিময় ছাড়া শরীর দেয় না, তারা টাকা নেয় না সত্যি কিন্তু তারা তো শাড়ি গয়না নেয়, ওরা আরো ব্যয়বহুল। সিনেমায় ভালোবাসার অদম্য শক্তি দেখে সে শিহরিত হয়। লম্বা চুলের নায়ক আর ঝলমলে পোশাক পরা নায়িকা তাকে ভালোবাসার সমস্ত শিক্ষায় শিক্ষিত করতে থাকে। ,

    ‘কাজ’ করতে তার মন আর সায় দেয় না। কোনো ‘কাস্টমার’ তো তার দিকে ওভাবে তাকায় না যেভাবে টিভিতে প্রেমকাতর পুরুষ নারীর দিকে তাকায়। তবুও ‘কাজ’ তাকে করতে হয়, আলু পটল তো প্রেমদৃষ্টি দিয়ে পাওয়া যায় না।

    জহিরকে তার মন্দ লাগে না, একটা খোঁড়া পা দেখে হিন্দি সিনেমার কোনো এক নায়কের কথা মনে পড়ে যায়, চুলগুলো একটু লম্বা হলেই চলতো। পুলিশের নাগালের বাহিরে নারীর বুকের নিরাপদ উষ্ণ আশ্রয়ে তিন দিন কেটে যাওয়ার পর জহিরের টাকা শেষ হয়ে যায়। টাকা ফুরিয়ে যাওয়ার পর সে রোমেনাকে স্বপ্ন বেচা শুরু করলো। রোমেনার সিনেমার পর্দায় ঢাকা রঙ্গিন চোখ জহিরের চোখে প্রেম দেখতে শুরু করে। সিনেমার শিক্ষা কাজে লাগিয়ে নিজেকে সে সম্পূর্ণ সমর্পণ করে দেয় জহিরের কাছে। জমানো কিছু টাকা তার আছে, তাই দিয়ে দুজনে এই ‘জালিম দুনিয়ায় ভালোবাসার সংসার গড়ে তুলবে। রোমেনা তার ঘরে আর কোনো পুরুষকে ঢুকতে দেয়নি, সে প্রতিজ্ঞা করেছে না খেয়ে মরবে, তবুও এই শরীর সে আর কাউকে দিবে না। প্রতিজ্ঞাটা মোমবাতির আগুনের উপর হাত রেখে করতে পারলে চমৎকার হতো। রোমেনার ভীষণ আফসোস হয়, ঘরে একটা মোমবাতিও নেই।

    একমাস পরে বাহিরে পুলিশের পাহারা শিথিল হলে জহির রোমেনাকে বাস্তব দুঃখের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। সুযোগ পেয়ে রোমেনার সমস্ত সঞ্চয় লুট করে সে একদিন পালিয়ে যায়। সেদিন রোমেনার তার মায়ের কথা মনে হয়েছিল। আরো একটা শিক্ষা সে পেয়েছিলো সেদিন, পুরুষ মানুষ প্রেমিক হতে পারে না, বড়জোর কামুক হতে পারে। সেদিনই টেলিভিশনটা বিক্রি করে দিয়েছিলো সে।

    পার্কের বেঞ্চে হেলান দিয়ে একটু ঘুমানোর চেষ্টা করছিলো জহির। ইদানিং চোখ বন্ধ করলেই রোমেনা হাজির হয় তার অনুযোগের দৃষ্টি নিয়ে, জহির মাথা চেপে ধরে দুই হাতে, কয়েকটা টাকার জন্য এত যাতনা তাকে কেন সইতে হচ্ছে? ভ্রমর বলে, আপনে তো স্যার মেয়েটার সঞ্চয় লুট করেননি, স্বপ্নও লুট করেছেন, অপরাধ তো ছোটো না।

    একটা সবুজ পালকে কাকটাকে কিছুটা কম কর্কশ দেখাচ্ছে। জহির মাথা চেপে ধরেই বলে, কী করলে মুক্তি পাবো?

    ক্ষমা চাইতে পারেন।

    ক্ষমা করবে আমাকে?

    তা জানি না, তবে নিজের অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা চাইলে কিছুটা শান্তি হয়তো পেতেও পারেন।

    ট্রাকস্ট্যান্ডের হলুদ দানবগুলো হামা দিয়ে ঘুমাচ্ছে। তাদের চাকার নিচে গোড়ালি সমান ধুলো। ড্রাইভার হেল্পারদের কেউ কেউ নেশা করে ঝিমাচ্ছে, কেউ আবার সিগারেটের মধ্যে গাঁজা ভরে নেশা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এসব নেশাতেও যাদের ফূর্তি জমে না, তারা পাশের সংকীর্ণ রাস্তার শেষ মাথায় গড়ে ওঠা বস্তিতে রঙের সওদা করতে যায়। সেই বস্তি থেকে ভেসে আসা গান ট্রাকস্ট্যান্ডটাকে পুরোপুরি নীরব হতে দেয় না। বস্তির আলো, হাসাহাসি আর গালাগালি হাতছানি দিয়ে ডাকে শ্রমিকদের।

    জহির বস্তির অলিগলিতে রঙ মেখে ঢঙ করে দাঁড়ানো বিজ্ঞাপনগুলোকে এড়িয়ে চলে আসে রোমেনার ঘরের সামনে। ঘরের দরজা বন্ধ, দরজার বাহিরে একটা তিন চার বছরের ছেলে বিষণ্ন মুখে বসে আছে। ছেলেটার বাম পায়ের গোড়ালির সাথে একটা রুপালি রঙের ঝকঝকে শিকল বাঁধা ছেলেটা জহিরের দিকে তাকাচ্ছে না, দূরে চায়ের দোকানে ঝুলে থাকা চিপসের প্যাকেটে সে চোখ গেঁথে রেখেছে। শিকলের বন্ধন থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য তেমন কোনো প্রয়াস তার মধ্যে দেখা যাচ্ছে না, সম্ভবত এই ব্যবস্থায় সে অভ্যস্ত। জহির ভালো করে ছেলেটাকে দেখতে থাকে, মনে হচ্ছে আগে কোথায় যেন দেখেছে তাকে।

    ছেলেটার পাশে সেলাই দেয়া একজোড়া চামড়ার চপ্পল নির্ভার হয়ে বিশ্রাম নিচ্ছে, চপ্পলের ক্ষয় হয়ে যাওয়া তলা দেখে বোঝা যায় কোনো শ্রমিকেরই হবে হয়তো। জহির সেখানে দাঁড়িয়ে দ্বিধা করছে, থাকবে নাকি চলে যাবে? আর কিছুক্ষণ এখানে দাঁড়িয়ে থাকলে হয়তো পাশের ঘরের মেয়েগুলো তাকে টিপ্পনি কাটবে, কী এমন রস এই ঘরে আছে যে সে সিরিয়াল ধরে আছে!

    চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার পরেই দরজার কপাট ফাঁক হলো, ছেলেটার পায়ের সাথে বাঁধা শিকলটা আনন্দে ঝনঝন করে উঠলো। দরজা থেকে বেরিয়ে এলো সদ্য কৈশোর পার করা এক ঘর্মাক্ত যুবক। চপ্পল জোড়া পায়ে গলিয়ে বোতাম খোলা শার্টের পকেট থেকে সিগারেট বের করে ঠোঁটে চেপে ধরলো। কিন্তু সাথে তার আগুন নেই, না পকেটে না দেহে। ঠোঁটের ফাঁকে আলগাভাবে সিগারেটটাকে ঝুলিয়ে সে দোকানের দিকে হেঁটে গেল।

    ঘরের বৈদ্যুতিক সাদা আলো রোমেনার ক্লান্ত দেহটাকে উদ্ভাসিত করলো। চোখে তার সেই চাঞ্চল্য আর নেই, চলনে নেই অপরিপক্ক চপলতা, দায়িত্বের ভার তার মধ্যে এনেছে স্থিরতা। দরজাটা পুরোপুরি খুলে সে জহিরের দিকে শূন্য দৃষ্টিতে তাকালো, যেভাবে মানুষ একটা মরা গাছের দিকে তাকায়। তার চোখের মণিতে পাথরের কাঠিন্য, চেহারায় নিস্পৃহতা। ক্লান্তি ছাড়া তার চোখেমুখে অন্য কোনো অনুভূতি ভেসে উঠলো না। আঙটা থেকে ছেলের শিকল খুলে নিয়ে তাকে নিয়ে ঘরে ঢুকলো রোমেনা, তারপর জহিরের উপস্থিতিকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে অবজ্ঞার সাথে দরজার কপাট বন্ধ করে দিলো। অপরাধের ভারে নুয়ে পড়া মাথাটা নিয়ে জহির সেখানে দাঁড়িয়ে রইলো কিছুক্ষণ। তারপর ধীর পায়ে শরীরটাকে বয়ে নিয়ে বস্তি থেকে বেরিয়ে আসলো সে।

    জহির মোটা একটা কড়ই গাছে হেলান দিয়ে বসে আছে, এই বৃদ্ধ কড়ই গাছটি নগরের গুটি কয়েক ভাগ্যবান গাছের মধ্যে একটি যাদের কালো পিচের বিস্তৃত থাবা স্পর্শ করতে পারেনি। রোমেনার চোখে একসময় সে দুর্নিবার প্রেম দেখেছে, অযৌক্তিক কল্পনা ভাসতো তার চোখে। আজ সে চোখে প্রেম জহির আশা করেনি, কিন্তু অভিযোগ, অভিমানটুকু অন্তত তার প্রাপ্য ছিলো। রোমেনার সামনে নিজেকে জড়বস্তু মনে হয়েছে তার। রোমেনা তাকে কি এতই ঘৃণা করে যে কয়েকটা গালিরও উপযুক্ত মনে করেনি তাকে?

    এইসব ভাবনা ছাপিয়ে শিকলে বাঁধা সেই ছেলেটার চেহারা মনে পড়ে জহিরের, কোথায় দেখেছে তাকে? মাথার মধ্যে স্মৃতি খুঁড়তে থাকে সে, অনেক গভীরে গিয়েও এই ছোটো ছেলেটাকে খুঁজে পেলো না। হতাশ হয়ে মাথার চুল টানতে থাকে, তাতেও লুকিয়ে থাকা স্মৃতিটা বের হয়ে আসে না। একটু শান্তির জন্য কী যে অশান্তি আমদানি করেছে সে!

    তারপর ভোর হয় একসময়, পৃথিবীর মানুষেরা খাদ্যের জন্য সংগ্রাম করতে বের হয়। সূর্য রেগে রেগে আবার ঠান্ডা হয়, জহির বসে থাকে কড়ই গাছের কোলে। আজ বহুদিন পর তার নিজের মায়ের কথা মনে পড়েছে। দেহের একটি অকেজো অঙ্গের জন্য তার প্রতি মায়ের পক্ষপাতিত্ব ছিলো, বাইরে থেকে আসা অন্য ভাইদের মা গামছা এগিয়ে দিলেও তার জন্য ছিলো মশলার সুবাস মাখা আঁচল। তার সব ভয় মায়ের বুকের ওমে শেষ হয়ে যেত, সব অশ্রু শুষে নিতো মায়ের শাড়ির জমিন। মাকে আজ তার খুব প্রয়োজন, অথচ সে জানে মায়ের আদরের আঙ্গুল আর কোনোদিন তার মাথা ছুঁয়ে দিবে না, খুব অসহায় লাগে জহিরের। কড়ই গাছের নিচে একটা ভ্রূণের মতো হাতপা গুটিয়ে বসে থাকে সে। তার শৈশবের সেই ঘরে ফিরে যায় জহির, যেখানে মায়ের গন্ধ আছে। বসার ঘরের দেয়ালে অনেকগুলো বাঁধানো ছবির মধ্যে তার নিজের সাদাকালো ছবিটাই সবচেয়ে বড়ো, এখানেও তার প্রতি মায়ের পক্ষপাতিত্ব। মনে মনে ছবিটার দিকে এক পলক তাকিয়েই চমকে ওঠে জহির। এইতো সেই ছেলেটা, রোমেনার ঘরের সামনে সে যেন নিজেকেই বসে থাকতে দেখেছে, পার্থক্য হচ্ছে একজনের পায়ে ক্রাচ অন্যজনের পায়ে শিকল।

    এক মুহূর্তে পিতা হয়ে ওঠে জহির। বুকের একটা বিরাট অংশ ফাঁকা হয়ে যায় তার, ছেলেটার ছোটো দেহ ছাড়া এই বুক আর ভরবে না। কড়ই এর কোল ছেড়ে সে নেমে আসে পথে, যে পথের শেষপ্রান্তে একজন বাবার জন্ম হবে। কিন্তু পথ যেন আজ শেষ হতে চায় না, মনে হচ্ছে কতকাল ধরে এই পথেই সে হাঁটছে। অবশেষে সে বস্তিতে ঢুকলো, উত্তেজনায় দম বন্ধ হয়ে আসছে তার। রোমেনার ঘরের সেই ফ্যাকাশে নীল দরজার সামনে এসে দেখলো আজ কপাট দুটো নির্লজ্জের মতো হাঁ হয়ে আছে। ভিতরে বাহিরে শ্রমিকদের আনাগোনা, তাদের হাতে কাঁধে বিভিন্ন মালপত্র। একটা বয়স্ক মহিলা হট্টগোল করছে আর তার পাশে কমবয়সি একটা মেয়ে বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছে। তাদের কথাবার্তায় বোঝা গেল, রোমেনা ঘর ছেড়ে দিয়ে চলে গেছে। একবার জহির তার সর্বস্ব লুট করেছে, এবার হয়তো আর কোনো ঝুঁকি নিতে চায়নি সে। নিজের ছেলেকে ছুঁতে না পারার বেদনা জহিরকে বিধ্বস্ত করে দিয়েছে। কাকটা উড়ে এসে বসেছে কাপড় শুকানোর দড়িতে। জহিরের হতাশা চোখমুখ ফুড়ে বেরিয়ে আসছে। বললো, আমার ছেলের নামটাও আমি জানতে পারলাম না।

    কাকটা ঠান্ডা গলায় বললো, সে আপনার ছেলে নয় স্যার, সে শুধু রোমেনার ছেলে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleএক ডজন রহস্য গল্প – রজতশুভ্র মজুমদার
    Next Article ঈশ্বরপুরের প্রেমকথা – দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য

    Related Articles

    ওবায়েদ হক

    একটি শাড়ি ও কামরাঙা বোমা – ওবায়েদ হক

    September 5, 2026
    ওবায়েদ হক

    তেইল্যা চোরা – ওবায়েদ হক

    July 17, 2025
    ওবায়েদ হক

    নীল পাহাড় – ওবায়েদ হক

    July 17, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    মোহিত কামাল
    রকিব হাসান
    রজতশুভ্র মজুমদার
    রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাহীন আখতার
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্তোষকুমার ঘোষ
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাগরময় ঘোষ
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুপ্রতিম সরকার
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ঈশ্বরপুরের প্রেমকথা – দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য

    September 5, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ঈশ্বরপুরের প্রেমকথা – দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য

    September 5, 2026
    Our Picks

    ঈশ্বরপুরের প্রেমকথা – দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য

    September 5, 2026

    উন্মাদ আশ্রম – ওবায়েদ হক

    September 5, 2026

    এক ডজন রহস্য গল্প – রজতশুভ্র মজুমদার

    September 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }