Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026

    ছাতিম – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    August 14, 2026

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কলকাতা নুয়া – রাজর্ষি দাশ ভৌমিক

    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক এক পাতা গল্প232 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    চড়াই-হত্যা রহস্য – ৯

    ৯

    মদনপুর থানায় এসে মনে হল সভ্যতায় ফিরে এলাম। আজকের মদনপুরকে শহর বলা চলে। আজ থেকে দুই দশক আগে মদনপুর ছিল গঞ্জ। তবু এই যে থানায় বসে আছি, ট্রেনের শব্দ ভেসে আসছে, থানার কর্মীদের বাইকে করে আসা যাওয়ার শব্দ, ভ্যানরিকশার পোঁ-প্যাঁ, মাথার ওপর পাখা ঘুরছে—সব মিলিয়ে একরকম স্বস্তি দিচ্ছিল। কনস্টেবল এসে চা আর তেলেভাজা রেখে গেছে, বড়োবাবু একটা তদন্তের কাজে বেরিয়েছেন, খবর পাঠিয়েছেন যে তিনি জলদি ফিরে আসছেন আমাদের সঙ্গে দেখা করতে। পাড়ুই বড়োবাবুর পাশে নিজের টেবিলে বসে মন দিয়ে কেস ডায়ারি লিখছে। তার কাগজের নীচে কার্বন পেপার। এক কপি ডায়ারি সিদ্ধার্থ কলকাতা নিয়ে যাবে। আমি দেখলাম পাড়ুই-এর টেবিলে একখানি ইংলিশ টু ইংলিশ পকেট ডিকশনারি রাখা।

    আমার তবু খচখচানি যাচ্ছিল না। আমি চাকরির পরীক্ষা দিয়ে গোয়েন্দা হয়েছি। গোয়েন্দা হওয়ার জন্য আমাকে ট্রেনিং নিতে হয়েছে, রহস্যোদ্ঘাটনের পদ্ধতি জানতে হয়েছে, রিপোর্ট আর চার্জশিট লেখা শিখতে হয়েছে, সিনিয়ারদের শিক্ষানবিশি করতে হয়েছে। আমাকে নিয়মিত ক্রাইম কনফারেন্স আর বিভিন্ন প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামে যেতে হয়। মিস মার্পেলের মতো অভিজ্ঞতাময় জীবন আমার নেই, ফেলুদার জিন নেই, শার্লকের ক্ষুরধার বুদ্ধি নেই, ফাদার ব্রাউনের দৈবিক অনুমানক্ষমতা নেই। আমি ক্লাসের সেই ভালো ছেলেটা, যে সারাদিন পড়ে পাশ করেছে। যতদিন এই গোয়েন্দার চাকরি আছে ততদিনই আমি গোয়েন্দা, যেদিন রিটায়ার করব সেদিন থেকে পেনশানের সুদ খাব, গোয়েন্দাগিরি আর করব না। ভাগ্যক্রমে গোয়েন্দা যখন বনে গেছিলাম, ভেবেছিলাম, আর যাই হোক—চাকুরির পরিচিত ফাঁদগুলিতে পা দেব না। কীরকম ফাঁদ? গোয়েন্দাদের জন্য কোনো একটি নির্দিষ্ট সম্ভাবনার দিকে ঝুঁকে পড়া খুব সহজ, তার ফলে কেসের ক্ষতি হয়! অন্ধ গোয়েন্দাও ভালো, কিন্তু স্বল্পদৃষ্টি বা ট্যারা গোয়েন্দার চেয়ে খারাপ কিছু নেই। ইংরেজিতে যাকে বলে, জাম্পিং ইনটু কনক্লুশানস, অর্থাৎ সমাধানের জন্য উদ্‌গ্রীব হয়ে থাকা। সেটা রহস্য সমাধানের পথ নয়, সূত্র যেমন যেমন সামনে আসবে গোয়েন্দাকে তেমন ভাবে নিজের চিন্তাভাবনা বদলাতে হবে। যেহেতু আমি ট্রেনিং নিয়ে গোয়েন্দা বনেছি, প্রতিটা কেসে একটা নির্দিষ্ট পদ্ধতি ফলো আমাকে করতে হয়। পুলিশের তদন্তপদ্ধতি আমাকে মানতে হয়। আমার ক্ষেত্রে তাই জাম্পিং ইনটু কনক্লুশান আরও ভয়ানক, নিজের মুন্ডুটাকে ভারী হালকা রাখতে হয়। পুলিশি তদন্তের প্রতিটা ধাপে দাঁড়িয়েও চারিদিকে চেয়ে দেখি, ভাবি, আর নিজেকে ক্রমাগত প্রশ্ন করি। বাড়িতে বউ আমাকে দেখে বলে, তোমাকে কী রকম যেন গোয়েন্দা বলে মনে হয় না! আমি বলি—তবে, কী মনে হয়। ও বলে, হয়তো খবরের কাগজের রিপোর্টার, ব্যাংকের ক্যাশিয়ার, এরকম কিছু হলে মানাত। আমি তো সচেতন ভাবে চেয়েছি গোয়েন্দা হতে, কিন্তু গোয়েন্দাগিরি না-ফলাতে। বাড়িতে বউ-এর সামনে তো আরওই গোয়েন্দাগিরি নয়।

    পাখিদের খুনি একজন সিরিয়াল কিলার এই তথ্য প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে আমি কি একটি সূত্রের দিকে এতই ঝুঁকে পড়েছি যে সূত্রটিকে আমার ধারণার খাপে আঁটাতে না পারলে আমি তা উড়িয়ে দিচ্ছি। মনোজ মণ্ডল বলেছেন যে লোককে তিনি দেখেছেন তার অল্প বয়েস! আমি মানতে পারছি না, তাহলে সুমারই-এর লোক কি চৌখুপির খুনি নয়, তাহলে কী কোনো গ্যাং আছে! মাস-হিস্টিরিয়াই কি তাহলে সত্য? পুলিশ ও খোঁচড়দের নজরের ফাঁক গলে দক্ষিণবঙ্গের গ্রামে গুজবের চোরাস্রোত বইছে!

    বড়োবাবুর টেবিলের ওপর রাখা তেলেভাজা আর চা ঠান্ডা হচ্ছিল। সিদ্ধার্থ বেশ ফুরফুরে মেজাজে আছে, চেয়ারের হাতলের ওপর পা তুলে কনস্টেবলের সঙ্গে খোশগল্প করছিল। সে আজ একটা ছোটোখাটো আবিষ্কার করতে পেরেছে।

    মজুমদারদের দিঘির পাড়ে দাঁড়িয়ে আমি যখন সুটি মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদ করছিলাম, সিদ্ধার্থ তখন আমবাগানে ফের একবার ঢোকে। দিঘির মাঝ বরাবর কাদা মাটি দেখে তার মনে হয়েছিল আমবাগানের ভেতর এখনও দুদিন আগের কালবৈশাখীর চিহ্ন থাকতে পারে। আমগাছের পাতার ফাঁক গলে রোদ ঢোকে কম। জমা জল থাকবে না, কিন্তু কাদা থাকবে। সিদ্ধার্থ লক্ষ করেছিল, জায়গায় জায়গায় বিক্ষিপ্ত কাদা আছেও। কিছুদূর খোঁজার পর সিদ্ধার্থ বাগানের মধ্যে এমন একটি জায়গায় পৌঁছোয় যেখানে বেশ খানিকটা জায়গা জুড়ে কাদা থকথকে। স্পষ্টতই সেখানে মানুষের পায়ের ছাপ আছে। সিদ্ধার্থ চেঁচিয়ে আমাদের ডাকে। সিদ্ধার্থের ডাক লক্ষ করে আমরা পৌঁছে যাই। কাদার ওপর পর পর তিনজোড়া পায়ের ছাপ। সিদ্ধার্থ দেখায়, প্রথম ছাপটি শুকিয়ে এসেছে, শক্ত মাটি। মাটি জুতোর আকারের আভাস দিচ্ছে, চপ্পল জাতীয় জুতো, শুকতলার কাটাকুটি শুকিয়ে কঠিন হয়ে আছে। তার পর আধো শুকনো আধা জোলো দুটি পায়ের ছাপ, বিশুদ্ধ পায়ের, জুতো-পরা পায়ের ছাপ নয়। সিদ্ধার্থ অনুমান করল—খুনির পা বেকায়দায় কাদায় পড়ে গিয়ে থাকবে। জুতো ফেঁসে যায়। ধরে নেওয়া জেতে পারে কাদা সেসময় শুকায়নি, এ অবস্থায় জুতোয় পা গলানো বেশ মুশকিলের হতে পারে। খুনি জুতো ছেড়ে, হাত দিয়ে জুতো তুলে, খালি পায়ে দৌড় দেয়।

    আদৌ এই পায়ের ছাপ খুনির কিনা তা নিয়ে আমার মনে এখনও সন্দেহ আছে। কেসে এই মুহূর্তে এতই কম সূত্র রয়েছে যে আমরা পায়ের ছাপকে অগ্রাহ্য করতে পারিনি। সিদ্ধার্থ জায়গাটাকে আমগাছের ছোটো ছোটো ডাল দিয়ে ঘিরে দিয়েছে। সদর থেকে হ্যান্ড এন্ড ফুটপ্রিন্ট স্কোয়াডের টিম এসে ফুটপ্রিন্ট নেওয়ার চেষ্টা করবে। যদিও ফুটপ্রিন্ট থেকে ফুটপ্রিন্টের মালিকের বয়েস নির্দিষ্টভাবে বলা যায় না, তবু, পারিপার্শ্বিক তথ্যের ভিত্তিতে যদি এই শেষ-রিপোর্টটি বলে দেয় খুনির বয়েস তিরিশ থেকে চল্লিশ-এর মধ্যে, তাহলে আমাকে মেনে নিতেই হবে মনোজ মণ্ডল কানে শুনে খুনির বয়েস ঠিক অনুমান করেছেন। কিন্তু যদি রিপোর্ট অনুমান করে যে খুনির বয়েস সত্তরের কাছাকাছি, তাহলে সিদ্ধার্থ প্রশ্ন তুলতে পারে, আদৌ এটা খুনির পায়ের ছাপ কিনা!

    আমি পাড়ুই-এর টেবিলের সামনে এসে ওয়েবস্টারের ডিকশনারিটা তুলে ‘আই’-এর শব্দ খুঁজছিলাম। নির্দিষ্ট শব্দটাকে খুঁজে পেয়ে, শব্দটার ওপর তর্জনী রেখে সিদ্ধার্থকে বললাম—এখন আমরা যে সিচুয়েশানটায় আছি সেটাকে ইমপাসে’ বলে।

    সিদ্ধার্থ হো হো করে হাসল। আমি তাকে বললাম যখন সে আমবাগানে পায়ের ছাপ খুঁজছে তখন সুটি আমাকে খুনির বয়েস সম্পর্কে যা বলেছে।

    সিদ্ধার্থ পাত্তা দিল না। বলল-এই সুটির বাপের বয়স কত, পাড়ুইদা?

    পাড়ুই টেবিলের ওপরে খুলে রাখা নোট দেখে বলল-নব্বই প্লাস।

    সিদ্ধার্থ আমাকে আশ্বস্ত করে বলল—এই বয়েসে লোকের কাছে যে কেউ-ই অল্প বয়েসের।

    —সত্তর বছরের খুনি হলেও?

    —ইয়েস, হোয়াই নট! সুটির বাপের যখন কুড়ি বছর বয়েস, তখন খুনি জন্মায়নি। একে তুমি বাচ্চা বলবে না তো কাকে বলবে!

    আমি সিদ্ধার্থের যুক্তিকে অকাট্য না বললেও, একেবারে উড়িয়ে দিতে পারলাম না।

    বললাম—লাস্ট হোপ—ফুটপ্রিন্ট, রিপোর্টটা পেলেই আমাকে জানিও।

    সিদ্ধার্থ মাথা নেড়ে পাড়ুই-এর সঙ্গে মদনপুরের মরশুমি সবজি বিষয়ক আলোচনায় ডুবে গেল। ঘড়ির কাঁটা সাতটা পেরিয়েছে। যা অবস্থা শেষ ট্রেন ধরেও আজ শিয়ালদা ফিরতে পারলে বেঁচে যাব। বড়োবাবুর টেবিলের ফোন থেকে বাড়িতে কল করে গিন্নিকে বলে দিলাম রাতের খাবার না রাখাই ভালো। পাড়ুই বার বার বলছিল ফাঁড়ির পেছনে সরকারি পুকুর আছে, জাল ফেলা হয়েছে। রাঁধবার অজুহাতে কনস্টেবল পালাল। আমি বলছিলাম, ব্যাধের সঙ্গে কথাবার্তা সেরে শিয়ালদার ট্রেন ধরাই উচিত কাজ হবে। সিদ্ধার্থ স্বাভাবিক ভাবেই, আমার চেয়ে বেশি ডিপ্লোম্যাটিক, সি আই ডি তে আছে। রাজ্যের নানাপ্রান্তে কাজ নিয়ে যেতে হয়, আমাদের মতো খিদিরপুর থেকে শ্যামবাজারের গণ্ডিতে ঘোরাফেরা নয়। হরেক কর্মী আর হরেক দারোগার সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাকে চলতে হয়। আমাকে বলল, মদনপুর ফাঁড়ি হলেও, ফাঁড়ি ইনচার্জের সঙ্গে হাত না-মিলিয়ে ফিরে যাওয়াটা অসৌজন্য হবে। ফাঁড়ির পুকুরের তাজা মাছ খাওয়ার লোভটাও সিদ্ধার্থ ফেলতে পারছে না। সে বলল—বড়োবাবু ফিরলে, হাত মেলানোও হয়ে যাবে আর ব্যাধকেও দেখে নেব।

    আটটা নাগাদ বড়োবাবুর জিপ এল, ফাঁড়ির কর্মীরা তটস্থ। বড়োবাবুর কামরার বাইরে হইচই থেকে মালুম হয় দর্শনপ্রার্থীরাও নড়েচড়ে বসেছে। এক কোণের টেবিল থেকে উঠে এসে পাড়ুই বড়োবাবুর চেয়ারের পেছনে এসে দাঁড়াল।

    ফাঁড়ির দোরগোড়া থেকে নানাজনকে নানারকম নির্দেশ দিতে দিতে শেষপর্যন্ত বড়োবাবু নিজের কামরায় এলেন। মধ্যবয়স্ক, মাথায় টাক, কানের কাছে কলপ করা চুল, নোয়াপাতি ভুঁড়ি। আমাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বারবার দুঃখপ্রকাশ করলেন, একটি কেসের ব্যাপারে তাকে কল্যাণী থানায় যেতে হয়েছিল; এবং কল্যাণী থানায় তার পদমর্যাদার অফিসারেরাই তার সঙ্গে কত দুর্ব্যবহার করে, কেবলমাত্র রাজনীতির নৌকায় টাল সামলাতে পারছেন না বলে তাকে দারোগা বানানো হল না, ইত্যাদি। তার ব্যাচের অন্তত দশ জন ডিএসপি র‍্যাঙ্কে চলে গেছে আর তিনি এই অজ পাড়াগাঁয়ের ফাঁড়ি সামলাচ্ছেন।

    পদমর্যাদায় তার তুল্য হলেও আমি আর সিদ্ধার্থ দুজনেই সিনিয়রিটির নিরিখে তার থেকে দশ-কুড়ি বছরের অন্তত ছোটো। তার হীনমন্যতা আমাদের পীড়া দিচ্ছিল। এসব ছোটো গল্পগাছায় আর মন ছিল না। বললাম-ব্যাধটার সঙ্গে কথা বলা যাক।

    —সে কী, এখনও বলেননি! বলে বড়োবাবু পাড়ুই-এর দিকে তাকালেন।

    পাড়ুই বলল—বাইরেই দাঁড় করিয়ে রেখেছি।

    পাড়ুই হাঁক দিয়ে বলল—অ্যাই ব্যাধটাকে নিয়ে আয়।

    বড়োবাবু একটা খাতা টেনে খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু লিখতে ব্যস্ত হলেন। অনুমান করলাম তিনি আর সি আইডি-এর তদন্তে নাক গলাতে চাইছেন না।

    একজন হোমগার্ড ব্যাধকে নিয়ে বড়োবাবুর ঘরে ঢুকল। ব্যাধের নাম উইলফ্রেড মুর্মু, শিমুরালি স্টেশানের কাছে তার চায়ের গুমটি, সকালে আর বিকালে দোকান খোলে। দুপুরের সময়টা সে গ্রামের আদারেবাদাড়ে পাখি ধরে। রোদে পোড়া চেহারা, বারমুডা পরা, গায়ে সস্তার গেঞ্জি, মাথা মুড়িয়ে চুল কাটা, চোখের নীচে গভীর কালো দাগ, হাতে পায়ের অনাবৃত অংশে পুলিশি প্রহারের চিহ্ন। অপরাধ স্বীকার করাবার জন্য ইতিমধ্যে উইলফ্রেডকে পুলিশি আতিথেয়তার সম্মুক্ষীণ হতে হয়েছে। বড়োবাবু নিজের খাতা থেকে চোখ না তুলে বললেন—এখনও জবানবন্দি দেয়নি। কড়া লোক।

    সিদ্ধার্থ বলল—প্রিলিমিনারি আইডেন্টিফিকেশান তো হয়নি!

    বড়োবাবু অবাক হয়ে ফাইল থেকে মুখ তুলে পাড়ুই-এর দিকে তাকালেন, পাড়ুই তাকে সংক্ষেপে প্রত্যক্ষদর্শীর কথা বলল। বড়োবাবু দৃশ্যতই হতাশ হলেন—অঃ ঠিকাছে, করিয়ে দেব।

    আমি জিজ্ঞাসা করলাম-কেস দিয়েছেন?

    —আপনারা আসছেন শুনে এখনও দিইনি। বললেই দিয়ে দেব।

    —চব্বিশ ঘণ্টা হয়েছে? সিদ্ধার্থ জানতে চাইল। বিরক্তভাবে। বড়োবাবু চাপ হালকা করতে হাসলেন—আজ সকালে তুলেছি।

    পাড়ুই নিজের টেবিলের ড্রয়ার থেকে প্লাস্টিকে মোড়া একটি বস্তু এনে বাড়োবাবুর টেবিলের ওপরে রাখল। বড়োবাবু তার ছন্দ ফিরে পেলেন। উইলফ্রেডকে ইশারায় ডাকলেন। উইলফ্রেডের কোমরে দড়ি, দড়ির অন্য প্রান্ত এক হোমগার্ডের হাতে ধরা। হোমগার্ড দড়ি আলগা করলে, উইলফ্রেড এগিয়ে এসে প্লাস্টিকের মোড়ক খুলে একটি লোহার অর্ধচন্দ্রাকৃতি ধারালো অস্ত্র বের করল, আকারে ইঞ্চি পাঁচেক, হাতল নেই, একপ্রান্তে লাল সুতো জড়ানো।

    বড়োবাবু ভ্রূ নাচিয়ে বললেন—মালটার কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করেছি। —ফরেনসিকে পাঠাননি?

    বড়োবাবু মাথা নাড়লেন-দুইখানা আঁকশি বাজেয়াপ্ত হয়েছিল। একটা ফরেনসিকে দিয়েছি, অন্যটা আপনাদের দেখাব বলে রেখে দিয়েছি।

    বড়োবাবুর পুলিশি কাজে আমি অভিভূত হতে পারলাম না। ব্যাধের কাছে আঁকশি পাওয়া অসংগত কিছু নয়।

    বড়োবাবু বললেন—এবাদেও এর ঘরে রেইড করে খান দশ-বারো বিভিন্নজাতের রংবেরঙের পাখি পাওয়া গেছে।

    —মরা?

    —না জ্যান্ত।

    —বন্যপ্রাণী অ্যাক্ট-এ আসছে?

    বড়োবাবু মাথা চুলকালেন। পাশ থেকে পাড়ুই বলল—টিয়া, ময়না, তিতির।

    আমরা তাকে জিজ্ঞাসা করবার পূর্বেই উইলফ্রেড ভেঙে পড়ল। আঁকশি দুইহাতে মুঠো করে ধরে সে বড়োবাবুর জুতোয় মাথা ঘষতে ঘষতে গড়াগড়ি দিচ্ছিল। পাড়ুই তাকে টানতে টানতে সরিয়ে আনে।

    হোমগার্ড পাঁজাকোলা করে উইলফ্রেডকে দাঁড় করাল।

    আমি জিজ্ঞাসা করলাম—পাখি মারিস তুই?

    উইলফ্রেড কাঁদতে কাঁদতে বললও-না ছার, পাখি মারি না ছার, জন্মে মারিনি।

    পাড়ুই মুখ ব্যাকাল—ব্যাধ আবার পাখি মারে না!

    —পাখি ধরি ছার। পাখি ধরে বেঁচি। জন্মে মারিনিকো, এই আঁকশি হাতে নিয়ে বলি।

    পাড়ুই উইলফ্রেডকে চড় মারবে বলে হাত তোলে-পাখির মাংস খাস না?

    —মুরগির মাংস খাই ছার। পাখির মধ্যে মুরগি।

    বড়োবাবুও হেসে ফেললেন। —ছাড় ছাড় পাড়ুই, কলকাতার সাহেবদের সামনে মারধোর করিস না। মদনপুরের থানার বদনাম হবে।

    সিদ্ধার্থ গ্লাভস পরে আঁকশিটা উইলফ্রেডের হাত থেকে নিজে নিল।

    ঘুরিয়ে ফিরিয়ে আঁকশিটা দেখল, ধার পরীক্ষা করল, তারপর উইলফ্রেডকে লক্ষ করে বলল—পাখি মারিস না তো এইটা কেন?

    উইলফ্রেড বলল—এটা দিয়ে পাখি ধরি যে হুজুর। এর ধারে আঠা মাখাই, তারপর আঁকশিকে বাঁশের ডান্ডার ডগায় বেঁধে দিই। যেমনটা আমপাড়ার জন্য বন্দোবস্ত হয়। চুপিচুপি বাগানে টিয়াপাখির পায়ের কাছে আঁকশি নিয়ে গিয়ে ঠেকালে পাখি আটকে যায়। খাঁচায় পুরে বেচি।

    সিদ্ধার্থ আঁকশি বেকিয়ে আমাকে দেখাল, আঁকশির ধার ভোঁতা বলেই মনে হল।

    —চড়াই ধরিস? জানতে চাইলাম।

    —না বাবু, দিব্যি কাটছি, চড়াই কে কিনবে!

    উইলফ্রেড মিথ্যা বলছে বলে আমার মনে হল না। বড়োবাবু বললেন—কালকেই তিনি এই আঁকশিটিকেও ফরেনসিকে পাঠাবেন। আমি আর সিদ্ধার্থ দুজনেই একমত হলাম যে উইলফ্রেডকে আটকে রাখার অর্থ হয় না। ফরেনসিকে কিছু পাওয়া গেলে তখন আবার ভাবা যাবে। বড়োবাবু নিমরাজি ছিলেন, তার ধারণা, উইলফ্রেডকে ছাড়লে সে মদনপুর ছেড়ে পালাবে। পাড়ুই মধ্যস্থতা করে দিল। সকাল বিকেল থানায় এসে হাজিরা দিতে হবে—এই শর্তে উইলফ্রেডকে ছাড়া হল। কাগজপত্রে সই করাতে উইলফ্রেডকে নিয়ে হোমগার্ড বেরিয়ে গেল।

    আমরাও বড়োবাবুর সঙ্গে তার কোয়ার্টারে চলে এলাম। মদনপুরে তিনি একা থাকেন, স্ত্রী-পুত্র কলকাতাবাসী, বড়োবাবু সপ্তাহান্তে কলকাতা যান। কনস্টেবলের রান্নার হাতটি খাসা। মুরগির মাংস গলা দিয়ে নামল না, পুকুরের তাজা রুইয়ের কালিয়া ভালো জমেছিল। খেয়ে উঠে, বড়োবাবুর জিপে চেপে স্টেশানের উদ্দেশে রওনা দিলাম। পাড়ুই এক হাঁড়ি রসগোল্লা জিপে তুলে দিল। বড়োবাবু হাত নাড়লেন। স্টেশানে পৌঁছে রসগোল্লার হাড়ি জিপের ড্রাইভারকে দিয়ে দেওয়া হল। লাস্ট ট্রেন অবধি অপেক্ষা করতে হয়নি, ভাগ্যক্রমে তার আগের ট্রেনটা পেয়ে গেলাম, বসবার জায়গাও মিলল।

    শিয়ালদা পৌঁছে সিদ্ধার্থ জানাল—আগামীকাল সকাল দশটায় ভবানী ভবনে অল-হ্যান্ডস ডাউন ব্রিফিং হবে। আমি আমন্ত্রিত।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleগা-ছমছমে ভৌতিক অলৌকিক – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    Next Article রাজপুত নন্দিনী – শ্রীপারাবত
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    মোহিত কামাল
    রকিব হাসান
    রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাহীন আখতার
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্তোষকুমার ঘোষ
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাগরময় ঘোষ
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুপ্রতিম সরকার
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026
    Our Picks

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026

    ছাতিম – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    August 14, 2026

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }