Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026

    ছাতিম – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    August 14, 2026

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কলকাতা নুয়া – রাজর্ষি দাশ ভৌমিক

    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক এক পাতা গল্প232 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    চড়াই-হত্যা রহস্য – ১৩

    ১৩

    লালবাজারের রেকর্ডস সেকশান নকশাল আন্দোলন চলাকালীন ও পরবর্তীকালের পুলিশি ধরপাকড়ের ফাইল আমার টেবিলে পাঠিয়ে দিল। যারা ধরা পড়েছিল তাদের বেশিরভাগই জেল খেটেছেন, বেশ কিছুজন মুচলেকা দিয়ে সাতাত্তরের আগে জেল থেকে বেরিয়ে এসেছেন, অনেকের জেল থেকে বেরোতে আশির মাঝামাঝি হয়ে গেছে। শত শত পাতার ফাইল দেখে আমার ভিরমি খাওয়ার জোগাড়। এই রেকর্ডটি যারা বানিয়েছেন তারা নমস্য ও রসিক, ফাইলের ওপরে একপাতা হাতে-লেখা নোট রয়েছে-

    ইহা ১৯৬৮ থেকে ১৯৮২-এর সময়কালে নকশাল আন্দোলন সংক্রান্ত বিভিন্ন মামলায় ধৃত অপরাধীদের তালিকা হইলেও, যিনি এই তালিকাটি ভবিষ্যতে দেখিবেন, এটি মাথায় রাখিবেন, পুলিশি নথির বাইরেও বহু ধরপাকড় হয়েছিল। যাহাদিগকে শেষ অবধি আদালত অবধি পৌঁছান গিয়াছিল ইহা তাহাদের তালিকা। যাদের সেই সৌভাগ্য হয়নি, সেই সকল নাম এইখানে পাওয়া যাবে না। পুলিশের এনকাউন্টারে মৃতদের তালিকা এবং নিখোঁজদের নামও পাওয়া যাবে না। ধন্যবাদান্তে—আর জি

    রাজনৈতিক আন্দোলনে ধরা পড়া লোকেদের অপরাধী’ বলা রাজনৈতিকভাবে সঠিক কিনা বলতে পারব না। কিন্তু ঢাউস ফাইলটি অচিরেই আমার মাথাব্যথার কারণ হল। পাতা উলটে বুঝতে পারলাম বহু নাম একাধিকবার এসেছে, কারণ তারা একাধিকবার ধরা পড়েছে। অনেককে যেসব মামুলি ধারায় কেস দেওয়া হয়েছে তাতে বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় এনারা নকশাল আন্দোলনে ছিলেন। আমার ধারণা পাতি চোর-জোচ্চোরদের নামও এই তালিকায় ঢুকে গেছে। তা-বাদে ফাইলের ওপরে তৎকালীন কর্তার স্বীকারোক্তিটি তো আছেই। এতসব মেনে নিয়েও এই শ্রমসাধ্য কার্যে প্রবৃত্ত হলাম। এখন যেটা মূল প্রশ্ন দাঁড়াল, এত নামের ভিড়ে কাকে খুঁজব আর কী খুঁজব! দুটি নাম এখনও অবধি এই তদন্তে আমার সামনে এসেছে—এক, বিশু আর দুই মধুসূদন চক্রবর্তী। বিশুর পদবি জানা নেই। যেহেতু বর্তমান ফাইলটি এক অর্থে ক্রিমিনাল রেকর্ডস, তাই ধৃতদের অপরাপর নামও নথিভুক্ত হয়েছে। কারওর ডাকনাম বিশু কিনা সেইটে দেখা যেতে পারে। মধুসূদন, মধু, মধুময় সবই দাগাব, অন্যদিকে বিশ্বজিৎ, বিশ্বরূপ মিলিয়ে একটা তালিকা বানানো যেতে পারে। লাইব্রেরির তালিকায় মধুসূদন চক্রবর্তী নামের কেউ নেই, সুতরাং এই তালিকার সঙ্গে সেই পুরোনো তালিকাটি মিলিয়ে লাভ হবে না। মধুসুদন চক্রবর্তী বা বিশু যদি ফল অফ আ স্প্যারো বা চড়াই উতরাই’ পড়েও থাকে, তাহলে ধরে নিতে হবে সে স্থানীয় কোনো লাইব্রেরি থেকে বইটি তুলেছে। লাইব্রেরির তালিকা মাথা থেকে সরিয়ে সাম্প্রতিক তালিকায় মন দিলাম।

    যত তাড়াতাড়ি ফাইলটির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম, ক্লাস্তিও তত তাড়াতাড়ি গ্রাস করল। এই বিপুল করণিক কাজ করার ধৈর্য আমার কোনো কালেই ছিল না। অলিন্দে দাঁড়িয়ে একটা সিগারেট খেয়ে মাথা হালকা হল। ফের পাতার পর পাতা আঙুল দিয়ে দিয়ে ধৃতদের তালিকা পড়ছি, তাদের শারীরিক বর্ণনা আর অপরাধের বর্ণনা পড়ছি, বিচারকের রায় দেখছি। মতিদা ঘরে ঢুকলে তার দিকে একগোছা পাতা এগিয়ে ধরে বললাম- খুঁজে দেখুন তো বিশু বা মধুসুদন চক্রবর্তী নামে কেউ আছে নাকি।

    মতিদা গ্রাহ্য না করে, ফাইলের প্রথম পাতাটা উলটে দেখলেন।

    —নকশালবাড়ি ডকুমেন্ট, পাখি এসে নকশালবাড়িতে বসেছে তাহলে…।

    আমি বিরক্ত হয়ে বললাম—অন্য কোনো উপায় থাকলে বলুন।

    —কী ইনফরমেশান চাই?

    —ওই যে দুটো নাম বললাম সে নামে কেউ ছিল কিনা!

    মতিদা জানতে চাইলেন—নকশাল পার্টির অফিসে ফোন করে জিজ্ঞাসা করছিস?

    কাজের সময় লোকটার রসিকতা অসহ্য লাগে।

    —সেটা কী আর একটা দুটো পার্টি!

    মতিদা গম্ভীরভাবে বললেন—ঠিক ঠিক, সাতাত্তরের পর থেকে কতবার যে ভেঙেছে আর কতবার যে জুড়েছে, তার কোনো হিসেব আছে! আবার এক পার্টির ভেতরে এই গ্রুপ, ওই লাইন, ওই সাব-গ্রুপ, নিজেরাই বা কী করে মনে রাখে বলত?

    —ভেতরে লোক আছে?

    মতিদা হা হা করে হাসলেন, বললেন—ক্ষেপেছিস, খোঁচড়! তাও নকশাল পার্টির ভেতরে! যেদিন ঢোকাতে পারব সেদিন রাষ্ট্রপতির পুলিশ অ্যাওয়ার্ড আমার কপালে, দেখে নিস। গোপনীয়তা আর ঘেটোশিপের ব্যাপারে এরা নটোরিয়াস। কাউকে ঢুকতে দেবে না, পুলিশকে তো আরওই না। অথচ দ্যাখ, সেই যুগ থেকে আজকের টাইমে আমাদের ফেস কত পালটে গেছে। বলে মতিদা নিজেই নিজের থুতনি নেড়ে বললেন—এখন আমাদের কত সুন্দর হিউম্যান ফেস!

    আমি তর্জনী দিয়ে নাম মেলাতে মেলাতে বললাম—এখন নকশাল মুভমেন্ট হলে তাহলে চারুবাবু আর সরোজ দত্তকে মরতে হত না?

    মতিদা উত্তর দিলেন না, বুক পকেট থেকে তার বিখ্যাত নোটবই বের করে, একটা কাগজ ছিঁড়ে তাতে খসখস করে লিখে আমার সামনে রাখলেন, বললেন—আধাঘণ্টা নিদ্রা দেব, জ্বালাসনি!

    আমি কাগজটা তুলে দেখি তাতে লেখা—অনিকেত দাশগুপ্ত, সি আই টি হাউজিং।

    —কে এই লোক? অবাক হয়ে জানতে চাইলাম।

    —এক্সপেল্ড নকশাল। জেল খেটেছেন। এখন রিসার্চ করেন, সাবজেক্ট বিবিধ—নকশাল আপরাইজিং, সোশ্যালিজম এটসেটরা, কিন্তু তোর আসল পরিচয় দিস না যেন। বলে মতিদা মুখের ওপর রুমাল দিয়ে তন্দ্রা গেলেন।

    মতিদার কথামতো পুলিশের পরিচয় গোপন করে পরদিন সি আই টি আবাসনে অনিকেত দাশগুপ্তের ফ্ল্যাটে দুপুর বারোটা বাজার আগে-আগে উপস্থিত হলাম। নকশাল ধরপাকড়ের ফাইল পড়বার সময় একটা নামে চোখ আটকেছিল—সহজ সেন, বয়স ২২, বাড়ি বারুইপুর, ধরা পড়ার সাতদিনের মাথায় দমদম সেন্ট্রাল জেলের হাসপাতালে মারা যায়। বেঁচে থাকলে সহজ সেনের বয়স আমার বড়দার বয়সি হত। আমি সহজ সেনের ভাই সাজলাম, সেই মতো একটা আই-কার্ড বানানো হল। নকশাল ফাইল থেকে সহজ সেন সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে দু-তিনপাতার একটা কাল্পনিক ফাইল বগলে রইল। পুলিশের ফিটফাট জামা কাপড় ছেড়ে জিন্‌স আর পাঞ্জাবি গায়ে চাপালাম, কাঁধে ঝোলাব্যাগ।

    তিনতলায় অনিকেত দাশগুপ্তের ফ্ল্যাট। কলিংবেল টেপবার পর এক বৃদ্ধ দরজা খুললেন, তার এঁটো হাত, বুকের কাছে ধরা। ঘোলাটে চোখ, দড়ি আঁটা চশমা বুকের কাছে ঝুলছে, নাক উঁচিয়ে জানতে চাইলেন—কাকে চান?

    আমি ঢোঁক গিলে জিজ্ঞাসা করি—অনিকেত দাশগুপ্ত?

    —আমিই, কী চাই বলুন?

    —রিসার্চের ব্যাপারে কিছু সাহায্য দরকার ছিল।

    ভদ্রলোক বিরক্তিসহকারে বললেন—কী রিসার্চ?

    আমি উত্তর দেওয়ার আগেই দরজা ছেড়ে দিয়ে বাঁ-হাত তুলে ঘরের অন্য প্রান্তে রাখা সোফাটি দেখালেন—ওইখানে বসুন, আসছি।

    আমি অনিকেতের পেছনে দরজা ভেজিয়ে সোফায় এসে বসলাম। সোফাময় বই, বইয়ের ওপর বই, আলমারিতে বই, বইয়ের সেলফে বই, খাটিয়ার ওপর বই, ডাইনিং টেবিলের ওপর বই, সেই টেবিলের প্রান্তে সবেধন নীলমণি চেয়ারটিতে গুটিশুটি মেরে বসে অনিকেত ভাত খাচ্ছিলেন। আমার দিকে তাকিয়ে একবার বললেন—খেতে বললাম না, মাসি একজনের রান্না করে দিয়ে যায়।

    অনিকেতের গলার স্বরে রুক্ষতা আছে, অথচ আন্তরিকতাও অস্পষ্ট নয়। শীর্ণ চেহারা, লম্বায় দরজার সমান, সামনের দিকে সামান্য ঝুঁকে হাঁটছিলেন। খেয়ে উঠে থালাবাসন সরিয়ে অনিকেত চেয়ারটি টেনে আমার সামনে বসলেন। তার হাতে জেলুসিলের শিশি। ছিপিতে অ্যান্টাসিড ঢেলে বললেন—ফিফটি পার্সেন্ট অফ নকশাল যে অম্বলে ভোগেন এটা জানেন?

    আমি হাসলাম, অনিকেতও হাসলেন। তিনি নিজের গলার রুক্ষতা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। নীচু গলায় জানতে চাইলেন—কীসের রিসার্চ যেন বলছিলেন?

    ভুয়ো পরিচয় দিয়ে শুরু করি-আমার নাম সাম্য সেন, আমি শহিদ সহজ সেনের ছোটোভাই। আমি দাদাকে নিয়ে একটা ডকুমেন্টারি বানানোর চেষ্টা করছি। ইচ্ছে আছে, দাদার আদর্শ, দাদার লড়াই-এর সঙ্গে সঙ্গে দাদার যারা সহযোদ্ধা ছিল, একেবারে যাকে বলা যায় বন্ধুত্বের সম্পর্ক তাদের সঙ্গে কথা বলে দাদার জীবনকে পরদায় দেখানোর চেষ্টা করব, যদিও সিনেমা না, ডকু।

    অনিকেত নাক উঁচু করে বললেন—এ কি বারুইপুরের সহজ সেন?

    —হ্যাঁ, বারুইপুর, পেয়ারাবাগান। দাদা সেভেন্টি থ্রি-তে মারা যায়। দমদম জেলে।

    অনিকেত সন্দেহজনকভাবে আমাকে দেখে বললেন—আমি তো তার বাড়ি গেছি, আপনাকে তো দেখিনি।

    —আপনাকেও আমি আমাদের বাড়িতে দেখিনি, মেজদা ছিল কি?

    আমার উত্তরে অনিকেত খুশি হলেন, মাথা নাড়িয়ে নাড়িয়ে বললেন—তা ছিলেন, তা ছিলেন।

    —সদ্য গেছিলেন?

    —এই বছর দেড়েক আগে, আমার পরবর্তী বইয়ের কাজে।

    আমি নিজের ভুয়ো আই কার্ড দেখিয়ে বললাম—আমি কলকাতায় থাকি না, বম্বেতে পড়াশুনা, সেখানেই চাকরি। একমাসের ছুটি নিয়ে এসেছি।

    —ভালো করেছেন, কিন্তু মুশকিল হল আমি মুভমেন্ট চলাকালীন সহজকে চিনতাম না। আরও বলা ভালো, সহজ যখন ধরা পড়েছে, আমি তখনও শ্রীকাকুলামে, সেখানে বসে আমি সহজের মৃত্যুর কথা জানতে পারি। হি রিফুইজড টু কমপ্লাই উইথ জেল হসপিটাল।

    আমি চুপচাপ বসে রইলাম। জানি না এই ভুয়ো পরিচয় নিয়ে আসা ঠিক হল কিনা, অনেকগুলো মানুষের নানামাপের আবেগ

    অনিকেত সোফার পেছনের জানালা দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। আমায় উদ্দেশ্য করে বললেন—আপনার আর কিছু জানার আছে? আমিও সম্বিৎ ফিরে পেলাম। হাতে ধরা ফাইল অনিকেতের দিকে এগিয়ে দিই—আমার আসার উদ্দেশ্য দাদার ব্যাপারে জানতে নয়। আমি দাদার একজন সহকর্মীর ব্যাপারে জানতে চাই। আসলে আমি চেষ্টা করছি দাদার সহযোদ্ধাদের মুখে দাদার কথা শুনতে।

    —কী নাম বলুন?

    আমি ফাইল খুলে দেখালাম, পাতার নীচের দিকে এমনি কিছু নাম লেখা, আমি তর্জনী দিয়ে শেষ নামটির দিকে অনিকেতের দৃষ্টি আকর্ষণ করলাম। অনিকেত চোখে চশমা এঁটে পড়লেন—মধুসূদন চক্রবর্তী।

    —দাদা এনার কথা বাড়িতে বেশ কয়েকবার বলেছেন। মেজদার মুখে শুনলাম। কারণ দাদা যখন মারা যাচ্ছে, আমি নেহাত শিশু, আমার কিছু মনে নেই।

    অনিকেত বললেন—এর সঙ্গে সহজ কি এক ওয়ার্ডে ছিল?

    —সেটা আমিও নিশ্চিত নই, মেজদারও মনে নেই, দাদা ধরা পড়ার পর জেল হেফাজত হয়। বাড়ির লোক দাদার মৃত্যুর আগে একবার দেখা করতে পেরেছিল। মা আর বড়দা গেছিল। তখনও বলে থাকতে পারে।

    অনিকেত মাথা নাড়লেন-মনে পড়ছে না ভাই, নকশাল মুভমেন্ট নিয়ে রিসার্চ করি বলেই তো এনসাইক্লোপিডিয়া হয়ে বসে নেই, কত নাম, কত লোক হারিয়ে গেল। কত মাল ঘাপলা মেরে আম্রিকা কেটে পড়ল। আপনি বরং ভাই পুলিশের কাছে যান, ওদের ডাটাবেস যদি দেখতে পারেন।

    আমি ইতস্তত করে বললাম- আমি পুলিশের কাছেই প্রথমে গেছিলাম। ওরা দূরদূর করে তাড়িয়ে দিচ্ছিল। একজন ডেপুটি গোছের লোক দয়াপরবশ হয়ে আপনার নাম করল।

    অনিকেত হো হো করে হাসলেন। সেই হাসির শব্দে শীতের দুপুরে তার ফ্ল্যাটের জানালা কেঁপে উঠল।

    —পার্টি থেকে আদর্শগত বিচ্যুতির কারণে বহিষ্কার হওয়ার পর থেকে দেখছি পুলিশ আমাকে খুব ভালোবেসে ফেলেছে। বলে নিজের চেয়ার ছেড়ে উঠে বইয়ের সেলফের দিকে এগুলেন। আমি বুঝতে পারছিলাম না, উঠে যাব কিনা। অনিকেত তাক থেকে নানা মাপের ডায়ারি নামিয়ে ভারি চশমার ওপর দিয়ে পড়ছিলেন।

    একবার আমার দিকে ফিরে তাকিয়ে বললেন—কীরকম চেহারা কিছু জানা আছে?

    পাখি খুনিদের চেহারার আদল যেটুকু জেনেছি সেটা বলা যেত কিন্ত সেটা ‘সহজ সেনের ভাই’-এর পক্ষে জানা সঙ্গত মনে হল না। অনিকেত আমার ভুয়ো পরিচয় ধরে ফেলতে পারেন। বললাম—চেহারা তো জানি না।

    —বয়েস? নকশাল মুভমেন্টের সময় কেমন বয়েস ছিল?

    —বলতে পারব না।

    অনিকেত খেঁকিয়ে উঠলেন—তাহলে জানোটা কী!

    আসলে পুলিশ হলে কী হবে, অনিকেতের দাবড়ানি খেয়ে আমি সত্যি চমকে উঠেছিলাম। নীচু গলায় জানালাম —বোধহয় খুব পড়াশুনা করা মানুষ হবেন।

    অনিকেত তার হাতের ডায়ারি সরিয়ে আমার দিকে ফিরে তাকালেন।

    —পড়াশুনা করা মধুসূদন চক্রবর্তী?

    —হ্যাঁ, মানে দাদা বলেছিল, যে খুব পড়াশুনা করা মানুষ।

    অনিকেত তার ডায়ারির মলাটে চাপড় মেরে চেঁচিয়ে উঠলেন—আলবাত আছে, আলবাত চিনতাম, পড়াশুনা করা, খুব পড়েন, কী পড়াশুনা করত দাদা কিছু বলেছে?

    —নাহ্ সেইটে জানা নেই।

    —পরিবেশ প্রকৃতির বই পড়ত, জীবজন্তুর বই? তাইতো? অনিকেত নিশ্চিত হতে জানতে চাইলেন।

    আমি বেশ বিস্মিত হয়েছিলাম, কিন্তু অনিকেতকে বুঝতে দিলাম না।-–আপনি চেনেন?

    অনিকেত ডায়ারি স্বস্থানে রেখে এসে চেয়ারে বসলেন। বললেন—যে মধুসূদন চক্রবর্তীর কথা আপনার দাদা বলেছেন, তিনি যদি এই লোক হবেন, তাহলে বিলক্ষণ চিনতাম। আমিও এক্সপেলড আর মধুসুদনও এক্সপেলড, আমি জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরে বিতাড়িত, আর সে জেলে ঢুকবার আগেই বিতাড়িত। হাহাহা।

    আমি ফাইল খুলে বললাম—তার সম্পর্কে বলুন, আমি নোট নিলে অসুবিধা নেই তো?

    —অবশ্যই নেই। কিন্তু… অনিকেত পলকয়েক চিন্তা করে বললেন, —সহজ আর মধুসূদন কি একসঙ্গে ওয়ার্ডে ছিল, আমার মনে পড়ছে না। আমি আশ্বস্ত করে বললাম—সেটা আমি ডাবল চেক করে নেব। আপনি মধুসূদনের কথা বলুন, আপনি কি তার সঙ্গে এক ওয়ার্ডে ছিলেন?

    —না না না না, অনিকেত মাথা ঝাঁকালেন।—আমি মধসূদনের সঙ্গে এক ওয়ার্ডে ছিলাম না, কিন্তু একই জেলে ছিলাম। ধরা পড়বার আগে আমি পার্টি সার্কেলে মধুসূদনের নাম বারকয়েক শুনে থাকব। তার সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানতাম না। আমাদের বাড়ি ছিল মালদা, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড যা করেছি তা উত্তরবঙ্গে। আর মধুসূদন দক্ষিণবঙ্গে, বাড়ি কোথায় ঠিক বলতে পারি না। তবে সিটি কলেজের ছাত্র, পরে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে শিবপুরে ঢুকেছিল, পড়া শেষ করেনি। সে পড়ুয়া ছিল এ-কথা সত্য কিন্তু পলিটিকাল স্টাডিজে তার কতটুকু গভীরতা ছিল আমার সে বিষয়ে সন্দেহ আছে। নানা বিচিত্র বিষয়ে শুনেছি তার আগ্রহ ছিল। ঘটনা হল, কলকাতা-হাওড়ার পার্টির মধ্যে তাকে বেশ আঁতেল হিসেবেই দেখা হত। নকশাল পার্টিতে আঁতেল হিসেবে একবার চিহ্নিত হয়ে যাওয়া আদৌ খুব আনন্দের বিষয় নয়। এইসব সূত্রেই, আজ আ ব্যাড এগজামপল, মধুসূদনের কথা শুনে থাকব। আমি দিনাজপুর থেকে ধরা পড়ি, পরে আমাকে দমদম জেলে নিয়ে আসা হয়। জেলের ভেতরেও পার্টির নানা দলবাজি, হরেক গ্রুপ, দলাদলি। মধুসূদন আগে ধরা পড়েছিল, বা তাকে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। জেলে সে অন্য ওয়ার্ডে থাকত। আমি তখনও তাকে দেখিনি। পরবর্তীতে মধুসূদনকে একদিন আবিষ্কার করি স্পোর্টসের সময় পাঁচিলের ধারে বসে একখানি মোটা বই পড়ছে, ওয়াইল্ড লাইফ সংক্রান্ত। কথা হয়নি সেদিন, পরবর্তীকালেও কোনোদিন মুখোমুখি আলাপ হয়নি। তার আর আমার চর্চার জায়গা সম্পূর্ণ আলাদা ছিল, কিন্তু তার পড়াশুনার কথা মাঝেমধ্যে কানে আসত। ওয়ার্ডমেটদের জিজ্ঞাসা করে মধুসূদনের পরিচয় জানলাম। জেল-সুপারকে ধরে সে নাকি জেল লাইব্রেরি ব্যবহার করার পারমিশান পেয়েছে। রাজনৈতিক চর্চায় তার আগ্রহ নেই। পশুপাখি আর গাছপালা নিয়ে পড়াশুনা করছিল।

    —এখন মধুসূদন চক্রবর্তীকে কোথায় পাব?

    অনিকেত সন্দেহজনক হাসি হাসলেন- হ্যা হ্যা, সেটাই তো আসল। হাঁটুতে চাপড় মেরে দাঁড়িয়ে, পিঠের আড় ভেঙে ধীর পায়ে তার বইয়ের আলমারির কাছে গেলেন। কাগজের ফাইলের সারি, অনিকেত আঙুল দিয়ে খুঁজে খুঁজে একটি নির্দিষ্ট ফাইল পেড়ে আনলেন, লক্ষ করলাম, ফাইলের হলুদ মলাটে সাদা একফালি কাগজ সাঁটা, লেখা- এম।

    —আপনি সবার খোঁজ রাখেন?

    অনিকেত রুক্ষভাবে বললেন—সেটা কি সম্ভব! …এই যে মধু চক্রবর্তী। ওহ্, সে তো মারা গেছে। রেললাইনে কাটা পড়ে, নাইনটি ফোরে, বৈদ্যবাটি। অনিকেত ফাইলের মলাট বন্ধ করে দড়ির গিঁট দিলেন। তার শেষ শব্দটিতে আমি আটকে গেছি—বৈদ্যবাটি। জানতে চাইলাম-ঠিকানা জানেন?

    অনিকেত চেয়ারে এসে বসলেন, মাথা নাড়লেন। মধুসূদন মারা গেছে পাঁচ বছর হল, তাই হয়তো বৈদ্যবাটি থানা মধুসূদন চক্রবর্তীর নাম তাদের তালিকায় পায়নি, আমি থুতনিতে হাত দিয়ে ভাবছিলাম—আর একটা রাস্তা বুঝি বন্ধ হয়ে এল, এবার তদন্তকে কোনদিকে ঘোরানো যায়!

    অনিকেত চশমা মুছছিলেন, আমি ভেবেচিন্তে একটা শেষ চেষ্টা করে দেখলাম—জেলের ওয়ার্ডে মধুসুদনের বন্ধুবান্ধব ছিল?

    —বন্ধুবান্ধব ছিল কিনা জানি না, পরিবার পরিজনদের কথাও বলতে পারি না, ইন্টারভিউতে তাকে দেখিনি। কী জানেন, এমন লোকদের পেছনে গুণমুগ্ধদের ছোটোখাটো ভিড় জমতে বেশি সময় লাগে না, তাই না?

    সহমত হলাম। —স্টাডি সার্কেল?

    —মধু চক্রবর্তীকে ঘিরে থাকা বৃত্তটিকে স্টাডি সার্কেল বলা ঠিক হবে না। কারণ স্টাডি, যা করার মধুই করত বলে শুনেছি, বাকিরা সার্কেলে ঘুরত।

    আরও কিছু হয়তো বলতে যাচ্ছিলাম, অনিকেত হাত তুলে আমাকে থামালেন, চোখ থেকে চশমা নামিয়ে বললেন—দিবানিদ্রা দেওয়ার সময়। আজকের ইন্টারভিউ শেষ। আর এর পর এলে ভুয়ো পরিচয় দিয়ে আসবেন না। আমি তো পার্টি থেকে এক্সপেল্ড। সুতরাং পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করতেই পারি।

    আমি জিজ্ঞাসা করার সুযোগ পাইনি কী করে তিনি আমার আসল পরিচয় ধরে ফেলেছিলেন। আমার ফ্ল্যাট-ত্যাগের অপেক্ষা না করে অনিকেত পাশের ঘরে চলে গেলেন। আমি ফ্ল্যাটের দরজা ভেজিয়ে বেরিয়ে এলাম।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleগা-ছমছমে ভৌতিক অলৌকিক – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    Next Article রাজপুত নন্দিনী – শ্রীপারাবত
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    মোহিত কামাল
    রকিব হাসান
    রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাহীন আখতার
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্তোষকুমার ঘোষ
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাগরময় ঘোষ
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুপ্রতিম সরকার
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026
    Our Picks

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026

    ছাতিম – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    August 14, 2026

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }