Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026

    ছাতিম – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    August 14, 2026

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কলকাতা নুয়া – রাজর্ষি দাশ ভৌমিক

    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক এক পাতা গল্প232 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    চড়াই-হত্যা রহস্য – ১৪

    ১৪

    পরবর্তী কাজ ছিল মধুসূদন চক্রবর্তীর সঙ্গীসাথিদের খুঁজে বের করা। মধুসূদন মারা গেলেও তিনি যে স্টাডি সার্কেলটি বানিয়েছিলেন তার সদস্যরা জীবিত থাকতে পারে। যেহেতু সেই সার্কেলের সদস্যরাও সেসময় জেলবন্দি ছিল সুতরাং তারাও নকশাল আন্দোলনে জড়িত ছিল—ধরে নেওয়া যায়। তাদের মধ্যে কেউ হয়তো মধুসূদনের পরিবেশ-প্রীতি নিজের মধ্যেও আবিষ্কার করে। আমি তাই চাইছিলাম মধুসুদনের জেলমেটদের খবর সংগ্রহ করতে। দমদম সেন্ট্রাল জেলের নকশাল পিরিয়ডের বন্দিতালিকা আনিয়ে লাভ হল না। মধুসূদন জেলে ছিলেন আট-আটটা বছর—থাকতেন জেলের জেনারেল ওয়ার্ডে—জেলের নথির স্তূপ দেখে আর সেই নথি বিশদে ঘেঁটে দেখবার প্রবৃত্তি হল না। আমি অন্য পথে ভাবলাম।

    মধুসূদন যদি পরিবেশ ও জীবজন্তু নিয়ে এতই পড়াশুনা করে থাকবেন তাহলে তার থেকে আউটপুট কী? বই লিখলেন, জার্নাল ছাপালেন? এত বিদ্যে পেটে নিয়ে কেবল লোকটা বৈদ্যবাটি স্টেশানের রেলগেটে কাটা পড়তে পারেন না। গবেষণার তো একটা প্রকাশ থাকবে। গবেষণা সংক্রান্ত লেখালিখি যদি করে থাকেন, একক ভাবে ছাপালেন, নাকি যৌথ গবেষণা? আমি মধুসুদনের কাজের সূত্রে তার সঙ্গীসাথিদের চেনবার চেষ্টা করছিলাম।

    প্রথমে কলকাতা ইউনিভার্সিটির বটানি আর জুলজি বিভাগের কয়েকজন অধ্যাপককে ফোন করলাম। তারা দুঃখের সঙ্গে জানালেন যে তাদের গবেষণার ক্ষেত্রে ওই নামে কাউকে চেনেন না, নামও শোনেননি। এর পর স্টেট ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যানিমাল হাজব্যান্ডি বিভাগে খোঁজ নিলাম। তারা তিনদিন সময় নিল, তাদের বিভাগের একজন সহসচিব মতিদাকে ফোন করে জানাল যে তাদের নথিপত্রে ও নাম নেই। তারা নিজেদের আর্কাইভ আর লাইব্রেরি ঘেঁটে দেখেছে। সহসচিব ভদ্রলোক মতিদাকে একটি সুপরামর্শ দিলেন। তাদের বিভাগের সংগ্রহশালা আকারে বড় নয়, আমরা যেন বই ও জার্নালের ব্যাপারে ন্যাশনাল লাইব্রেরির সঙ্গে দেখা করি। সরকারি দপ্তর সচরাচর অপর দপ্তরকে সহায়তা করে—এমন সুনাম নেই। কিন্তু এক্ষেত্রে বিষয়টি অন্যরকম ঘটল।

    ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে আমি নিজে গেলাম, কয়েকজন সহকর্মীকে সঙ্গে নিলাম, বই ঘাঁটার সুবিধা হবে। ডেপুটি লাইব্রেরিয়ানের ঘরে সারা দিন গ্যাঁট হয়ে বসে রইলাম। লাইব্রেরিয়ান তার কম্পিউটারে বইয়ের ক্যাটালগ দেখলেন। বললেন—লাইব্রেরি পুরোপুরি ডিজিটালাইজড হয়নি। যদিও পরিবেশ-প্রকৃতি ও জীবজন্তু সংক্রান্ত বইয়ের বিভাগে লেখক মধুসুদন চক্রবর্তীর উল্লেখ নেই। এই নামের কাছাকাছি কয়েকজন লেখক রয়েছেন। ডেপুটি লাইব্রেরিয়ানকে বলে সেই বইগুলিই আনালাম। ইতিমধ্যে আমার সহকর্মীরা আর তিনজন লাইব্রেরির কর্মচারী মিলে জার্নালের কলনাম্বার ধরে মধুসুদনকে খুঁজছে। তবু মধু পাওয়া গেল না। আমি বইগুলির লেখকদের নাম-ঠিকানা বা জীবনপঞ্জি ঘেঁটে দেখলাম। মধুসূদন চক্রবর্তীর সঙ্গে মিলছে না। একটা গোটা দিন শুধু এই বই ঘাঁটতে বেরিয়ে গেল। অথচ লোকটার হদিস পাওয়া গেল না। রাত এগারোটার সময় শেষমেশ হাল ছেড়ে দিলাম। ডেপুটি রেজিস্ট্রার হাই তুলতে তুলতে বললেন—আপনারা লিটল ম্যাগাজিনের দিকটা কেন দেখছেন না?

    আমি ক্লান্ত গলায় জবাব দিলাম—ক্যাটালগ দিন।

    ভদ্রমহিলা, ডেপুটি রেজিস্ট্রার বললেন—ওটা তো আমাদের কাছে নেই। আপনি বরং লিটল ম্যাগাজিন লাইব্রেরিতে খোঁজ করে দেখুন।

    পরদিন মতিদার থেকে ঠিকানা জেনে একটি লিটল ম্যাগাজিন লাইব্রেরিতে হাজির হলাম। লাইব্রেরিটি হাজরার কাছে একটি জীর্ণ তিনতলা বসত বাড়ির দোতলায়। একতলায় বই বাঁধাইয়ের কাজ হয়। তিনতলার বারান্দায় জামাকাপড় দড়িতে মেলা দেখে মনে হল-মানুষ থাকে। সিঁড়ি দিয়ে উঠে এলে, দোতলার দরজার সামনে লাইব্রেরির বোর্ড ঝুলছে-সমরেশ লিটল ম্যাগাজিন চর্চা পরিষদ।

    সকালে ঘুম ভাঙতে দেরি হয়েছিল। লালবাজারে হাতের কিছু কাজ সেরে ভরদুপুরে লাইব্রেরিতে হাজির হয়েছিলাম। মনে আছে, সেদিন কনকনে ঠান্ডা পড়েছিল। লাইব্রেরির দরজা ধাক্কা দিতে গিয়ে দেখি দরজার কপাট ভেজানো। চৌকাঠ পেরিয়ে ভেতরে ঢুকলাম। বাইরে থেকে লাইব্রেরিকে আকারে ছোটো মনে হয়েছিল, প্রবেশ করে বুঝলাম গোটা দোতলা জুড়ে লাইব্রেরি, দেয়াল ধরে ছাদ অবধি বইয়ের আলমারি উঠে গেছে, তাতে নানামাপের পত্রপত্রিকা রাখা। ঘরের মাঝখানে একফালি লম্বা টেবিল, তার দুধারে চেয়ার পাতা। দুজন পড়ুয়া বসে ম্যাগাজিনের পাতা উলটাচ্ছিল। ঠান্ডার হাত থেকে বাঁচতে লাইব্রেরির জানালা বন্ধ করে রাখা, টিউবলাইট জ্বলছে। আন্দাজ করলাম এই ঘরটিই রিডিং রুম। ঘরের লাগোয়া তিনটি দরজা, একটি পাল্লায় লেখা লাইব্রেরিয়ান, বাকি দুটি ঘর বোধহয় লাইব্রেরির ম্যাগাজিন রাখবার জন্য ব্যবহৃত হয়।

    লাইব্রেরিয়ান মধ্যবয়স্ক পুরুষ, পৃথুল, মাথায় অল্প চুল। আমি যখন দরজা নক করে তার ঘরে ঢুকলাম ভদ্রলোক চেয়ারে বসে ঢুলছিলেন। দরজা খোলার আওয়াজে তন্দ্রা ভেঙে বললেন—বলুন!

    আমি নিজের পরিচয় দিয়ে প্রয়োজনের কথা বললাম- মধুসূদন চক্রবর্তী নামে কাউকে চেনেন?

    ভদ্রলোক টাক চুলকে জিজ্ঞাসা করলেন—লিটল ম্যাগে লেখেন?

    আমি নিশ্চিত বলতে পারলাম না, লাইব্রেরিয়ান বললেন—নাম শুনে তো মনে পড়ছে না এঁর কোনো লেখা পড়েছি। আপনি আমাদের কালেকশান দেখুন না কেন! কোনো মেম্বারশিপ লাগবে না। আমাদের মেম্বারশিপ নেইও। পুরোটাই চ্যারিটি।

    গতকাল সারাদিন ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে খাটাখাটুনির পর, আমার আর ম্যাগাজিনের আলমারি ঘেঁটে দেখার ক্ষমতা ছিল না। লাইব্রেরিয়ানকে সেকথা বললাম। ভদ্রলোক চিন্তিত মুখে বললেন—আর কোনো ইনফরমেশান, কী বিষয়ে লেখেন, কত বয়েস?

    বেঁচে থাকলে বয়েস হত ষাট-পঁয়ষট্টি, পরিবেশ, ইয়ে পাখিটাখি নিয়ে লিখতেন, সম্ভবত।

    লাইব্রেরিয়ান মাথা নাড়লেন- না স্যার মনে পড়ছে না। তবে আমাদের পরিবেশ সংক্রান্ত অনেকগুলো ম্যাগাজিন আছে, আপনি উলটে দেখতে পারেন।

    আমি তার প্রস্তাবে পাত্তা না দিয়ে বললাম—নকশাল করতেন, মারা গেছেন।

    ভদ্রলোক যেন বাতাসের গন্ধ শুঁকছেন, এমন মুখ করে বললেন—বৈদ্যবাটির মধু চক্রবর্তী নয়তো?

    আমি উত্তেজিত হয়ে বললাম- হ্যাঁ অবশ্যই, হতেই পারে।

    ভদ্রলোক নিঃসন্দেহ হওয়ার জন্য বললেন—ট্রেনে কাটা পড়েছিলেন কি?

    —আলবাত, বৈদ্যবাটি রেলগেটে।

    —বিলক্ষণ জানি মশায়, বলে লাইব্রেরিয়ান সন্দেহের সুরে বললেন—কিন্তু তিনি পরিবেশ নিয়ে লেখালিখি করতেন বলে তো শুনিনি।

    আমি অবাক হলাম—আপনি তাহলে মধুসূদনকে কী করে চিনলেন? লাইব্রেরিয়ান একগাল হাসলেন—আরে মশায়, আমি নিজেও তো বৈদ্যবাটির লোক। বলে তার বুকে টোকা দিলেন।

    আমি বন্ধ জানালার দিকে তাকিয়ে ভাবছিলাম -অতঃপর কী করা যায়। ওদিকে লাইব্রেরিয়ান একমনে কথা বলে যাচ্ছিলেন যে তিনি আদতে বৈদ্যবাটির লোক, এই লাইব্রেরিতে চাকরি করেন, সমরেশ রায়চৌধুরি ব্যানার্জি মারা যাওয়ার আগে ট্রাস্টি করে এই লাইব্রেরিটা বসিয়ে দিয়ে গেছেন ইত্যাদি হরেক অপ্রাসঙ্গিক তথ্য।

    উঠতে যাব, এমন সময় লাইব্রেরিয়ান জিজ্ঞাসা করলেন—সালটা যেন কত?

    —কিসের সাল?

    —ডিমাইসের, কত সালে কাটা পড়লেন?

    —নাইন্টিফোর-নাইন্টিফাইভ।

    ভদ্রলোক চেয়ার ছেড়ে উঠে বিড়বিড় করতে করতে তার ঘরে রাখা আলমারিটির দিকে গেলেন। কাচের পাল্লা সরিয়ে একটা সেকেল ফোটোগ্রাফ রাখবার মতো বড়ো ডায়ারি নামিয়ে টেলিফোনের পাশে রাখলেন।

    —একটা হেল্পই আপনাকে করতে পারব। এটা আমার পার্সোনাল কালেকশান বলতে পারেন। রাজ্যে যত অল্পখ্যাত, প্রায়-অখ্যাত লোক মারা যাচ্ছেন এটা তাদের নিয়ে লেখা অবিচুয়ারির কালেকশান। এনাদের মৃত্যুর খবর কোনো বড়ো কাগজ ছাপেনি, অথচ লিটল ম্যাগাজিনে যাকে বলে ঘটা করে শোকবার্তা ছাপা হয়েছে। আমি তার পেপার কাটিং নিয়ে রাখি, এইভাবে দেখুন পাতায় পাতায় কবি, শহরের নাট্যকারদের, মাঝারি মাপের পার্টিলিডারের, বছর বছর মৃত্যুর খতিয়ান সেঁটে রেখে দিয়েছি। রিসার্চারদের মধ্যে এর একটা ভ্যালু আছে। লাইব্রেরিটাকে তো টিকিয়ে রাখতে বলে। এই ডায়ারিটা লাস্ট পাঁচ বছরের। বলতে বলতে ভদ্রলোক বুঝি নিজের পিঠে অদৃশ্য চাপড় মারছিলেন।

    আমি আদেশের সুরে বললাম—খোঁজা শুরু করুন। খানিক খোঁজাখুঁজির পর এক পাতার একটি শোকবার্তা পাওয়া গেল, ছাপা হয়েছে ‘পাললিক আজকাল’ পত্রিকার বিয়াল্লিশতম পাতায়, লাইব্রেরিয়ান আঙুল দিয়ে পাতার নীচের দিকে দেখালেন। লেখাটির শিরোনাম—নকশাল আন্দোলনের জননেতার প্রয়াণ। লিখেছেন বিশ্বেশ্বর সেন। লেখকের নামে আমার চোখ আটকাল। মনে পড়ল, চৌখুপি গ্রামের বৃদ্ধ মনোজ মণ্ডলকে খুনি নিজের নাম বলেছিল—বিশু। ডায়ারিটা নিজের দিকে ঘুরিয়ে লেখাটা পড়লাম।

    লেখাটিতে মধুসূদনের পিতামাতার পরিচয়, শৈশব, স্কুল-কলেজ সংক্রান্ত তথ্য আছে, যদিও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েই লেখক বেশি আলোচনা করেছে। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর বাকি জীবনটা মধুসূদনের আর্থিক কষ্টে কেটেছে। দুই দিদি পরপর দুবছরে মারা যায়। সম্পত্তি বলতে ছিল বৈদ্যবাটির বাড়ি, রোজগারপাতি ছিল না, দুইঘর ভাড়াটে ছাড়া। অবিচুয়ারিটিতে মধুসূদনের পাখি ও পরিবেশ-প্রীতি নিয়ে আলগোছে দুই লাইনের মন্তব্য-জেলে থাকতে মধুসূদন পরিবেশ ও জীবজন্ত সম্পর্কিত বই পড়তে আগ্রহী হয়ে ওঠে, পরবর্তীকালে ফিরে আসেন নিজের পুরোনো পড়াশুনার বৃত্তে।

    লাইব্রেরিয়ান টেবিলের উলটোদিক থেকে বললেন—এই একটা লেখাই চোখে পড়েছিল, মধু চক্রবর্তী মারা যাওয়ার পরে। এটাই ‘পাললিকের’ প্রথম সংখ্যা, তারপর থেকে প্রায় নিয়মিত বেরচ্ছে, কখনও ষান্মাসিক, কখনও ত্রৈমাসিক। ভাগগিস কেটে রেখেছিলাম।

    —বিশ্বেশ্বর সেন কে? একে চেনেন, ইনিও কি বৈদ্যবাটির?

    –ইনি লেখক, পাখিপাখালি নিয়ে এর লেখালিখি দেখেছি। আমি ডায়ারির পাতা থেকে সযত্নে সাঁটা অবিচুয়ারির জেরক্স সযত্নে ছিঁড়ে নিয়ে বললাম—বিশ্বেশ্বরের লেখালিখির স্যাম্পেল বের করুন, ঝটপট।

    লাইব্রেরিয়ান তুড়ি বাজিয়ে বললেন—পাঁচ মিনিটে আনছি। এই যাব আর এই আনব। হেলতে দুলতে উনি পাশের ঘরে গেলেন বা অন্য ঘরগুলিতে, আমি অপেক্ষা করছিলাম। ভাবছিলাম এর পরের ধাপ হবে—–যে যে পত্রিকায় বিশ্বেশ্বর লেখালিখি করে তার সম্পাদকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা।

    পাঁচমিনিটের আগেই লাইব্রেরিয়ান ঘরে ঢুকলেন, তার হাতে চার-পাঁচটি একই আকারের লিটল ম্যাগাজিন। টেবিলের ওপরে ম্যাগাজিনগুলিকে তাসের মতো ছড়িয়ে দিলাম। বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত পাললিকের কপি।

    —অনেক জায়গাতেই লেখেন, বেশি খুঁজে কাজ কী, পাললিকেই পেয়ে যাবেন। এই সংখ্যাগুলি দেখুন, লেখা থাকবে।

    পাঁচটার মধ্যে তিনটির সূচিপত্রে বিশ্বেশ্বরের নাম রয়েছে। শিরোনামগুলি অদ্ভুত—যত পাখি তত ধান, ইঁদুর না চড়াই কে বেশি ক্ষতিকর এবং সর্বশেষটি হল—বুলবুলিতে ধান খেয়েছে খাজনা দেব কীসে।

    সন্দেহ রইল না যে আমি বিশ্বেশ্বর সেনকেই খুঁজছি, বিশ্বেশ্বরই পাখির খুনি। পাললিকের একটা সংখ্যা নিয়ে বিশ্বেশ্বরের লেখা পড়া শুরু করলাম—তিন পাতার প্রবন্ধ। প্রবন্ধ না বলে অবশ্য ম্যানিফেস্টো বলা ঠিক হবে। চড়াইদের ওপর হিংসার কথা তাতে নেই। বিশ্বেশ্বর সরকারি পরিসংখ্যান ও ব্যক্তিগত নিরীক্ষার হিসেব করে দেখিয়েছেন চড়াই যত ফসলের ক্ষতি করেছে সেই পরিমাণ ফসল বাঁচানো গেলে একটা ছোটোখাটো দেশকে খাইয়ে-পরিয়ে রাখা যেত। পাললিকের অপর একটি সংখ্যা উলটালাম, বত্রিশ পৃষ্ঠার কাগজ, অনেকগুলো কবিতা, দুটি গল্প আর খুচরো প্রবন্ধ। সূচিপত্রের লেখক-কবিদের সারিতে বিশ্বশ্বরের নাম মাঝামাঝিতে রয়েছে। ভিড়ের মধ্যে লুকিয়ে থাকার সুন্দর কৌশল। এই সংখ্যায় বিশ্বেশ্বর লিখছেন—আদি অনন্ত কাল ধরে পঙ্গপাল কীভাবে ভারতে ফসলের ক্ষতি করেছে। লাইব্রেরি বলেই দুপাতার লেখাটা বসে-বসে পড়ে ফেললাম। নিবন্ধটি, যাকে বলে, টু দা পয়েন্ট, এদিক সেদিকের কোনো কথা নেই, বাক্যবিন্যাস অসঙ্গত নয়, ছোটো ছোটো প্যারা, ঐতিহাসিকদের লেখা থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, নিজের বুদ্ধিমতো আঁক কষে শেষের এক প্যারাগ্রাফে যুক্তির জাল গুটিয়েছেন।

    যে দুটি লেখা পড়লাম তাতে কোনোরকম হিংসার কথা নেই। পাখি আর ফসলের সম্পর্ক লেখককে ভাবিয়েছে, অথচ করণীয় কী হতে পারে, সে বিষয়ে লেখক মন্তব্য করেননি। ফলে পাখি মারার মতো ঘৃণ্য কাজ যে বিশ্বেশ্বর করে থাকতে পারেন সেটা পুলিশকে আদালতে প্রমাণ করতে হবে। এই প্রসঙ্গে বলি, নিবন্ধগুলিতে বিশ্বেশ্বর সেন যেসব তথ্য দিয়েছেন সরকারি পরিসংখ্যান ঘেঁটে আর যেসব ঐতিহাসিকদের লেখা উদ্ধৃত করেছেন তা আদৌ যথাযথ কিনা আমি পরীক্ষা করে দেখিনি। যেসব আঁক কষেছেন, তার অনেকটাই আমার তার ছেলেমানুষি বলে মনে হয়েছে, যদিও সেগুলি নির্ভুল কিনা তা অঙ্কের মাস্টারমশায়রা আমার চাইতে ভালো বলতে পারবেন। তার সিদ্ধান্তসমূহ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নির্ণিত হয়েছে কিনা তাও আমার বোধবুদ্ধির বাইরে। বিশ্বেশ্বরের লেখা পড়তে পড়তে আমার মনে হয়েছিল নিবন্ধগুলিতে যুক্তির জোর খাটানো আছে, লেখাগুলি পক্ষপাতদুষ্ট, এমন উদ্ভট গবেষণা আকাশ থেকে পড়তে পারে না, এর পেছনে ইন্ধন আছে। বিশ্বেশ্বর কোনো গবেষণাকেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত থাকলে বিষয়টি অন্যভাবে দেখতাম, কারণ গবেষণাকেন্দ্রগুলি দিনদিন আরও বড়ো মগজধোলাই কল হয়ে উঠছে। বিশ্বেশ্বরের মগজধোলাই সেপথে হয়েছে বলে মনে হয় না। সে স্বশিক্ষিত বলেই আমার ধারণা। সে কোনো কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকলে এতদিনে তার খবর আমাদের সামনে চলে আসত। অবশ্য হতেও পারে, বিশ্বেশ্বর প্রাণীবিদ্যা বা পরিবেশবিদ্যার অধ্যাপক, কিন্তু তাঁর মূল গবেষণার বিষয় ভিন্ন। মনের অন্ধকারে বিশ্বেশ্বর যে উদ্ভট চিন্তা লালন করেন তার প্রকাশ ঘটে চলেছে লিটল ম্যাগাজিনগুলিতে। আমি বিশ্বেশ্বরের সেই অন্ধকার মনটাকে দেখতে আর বুঝতে চাই।

    লাইব্রেরিয়ানের অনুমতি নিয়ে পাললিকের সবকটি সংখ্যা তদন্তের স্বার্থে সিজ হল। লাইব্রেরিয়ান বললেন—আরও পত্রপত্রিকায় এনার লেখা দেখেছি, খুঁজলে কয়েকটা কপি পাব।

    ধন্যবাদ জানিয়ে বললাম যে তার দরকার হবে না।

    এখন কাজ ছিল বিশ্বেশ্বরকে খুঁজে বের করা, লাইব্রেরিয়ানকে বললাম- লোকটা কে, থাকে কোথায় আর কী করে?

    লাইব্রেরিয়ান অবাক হয়ে বললে- আহা মশায়, আমি চিনি মানে লেখালিখি দেখি এদিক-সেদিক, নানা পত্রপত্রিকায়। এই লাইনে একেই চেনাজানা বলে।

    —পরিচয় নেই?

    —কস্মিনকালেও নেই, এই কাগজটিও ডাকে পাঠায়। বলে লাইব্রেরিয়ান আমার থেকে একটি কপি চেয়ে নিয়ে পত্রিকার পেছনের পাতায় দেখাল—এই যে এদের ঠিকানা, ব্যাককভারে এটা দাগ দিয়ে নীচে, প্রকাশের সাল-তারিখ, সম্পাদকের নাম-ঠিকানা লেখা। রেজিস্ট্রেশান নাম্বার নেই।

    সম্পাদকের নাম—সাধনা পাল। বৈদ্যবাটি। বৈদ্যপাড়া। পিননম্বর।

    —আপনি নিশ্চিত, এরা ডাকে কপি পাঠায়, নিজের হাতে কেনেননি? লাইব্রেরিয়ান হেসে বললেন—এত কাগজ কিনতে গেলে তো ট্রাস্ট উঠে যাবে মশায়। সব কমপ্লিমেন্টারি কপি।

    —ও আচ্ছা।

    লাইব্রেরিয়ান টেবিলের ওপার থেকে ঝুঁকে পাললিকের সম্পাদকের নাম পড়ে বললেন—এ-ও বৈদ্যবাটি।

    বিষয়টি আমিও খেয়াল করেছি, জানতে চাইলাম-চেনেন নাকি?

    —না মশায়, ফিমেলদের খবর রাখি না।

    আমি বিদ্রুপ করে বললাম—আপনি লিটল ম্যাগাজিনের লোক হয়ে নিজের পাড়ার সম্পাদককে চিনবেন না, ধুর তা হয় নাকি!

    ভদ্রলোক বিজ্ঞভাবে বললেন—বেশিরভাগ আসল সম্পাদকই নিজের বউকে সম্পাদক বানিয়ে কাগজ চালায়। সরকারি অফিসে কাজ করলে স্বনামে পত্রিকা করা মুশকিল!

    সাধনা পাল তবে আসল সম্পাদকের নিকটাত্মীয়া হতে পারেন। আমি কৌতূহলবশত জিজ্ঞাসা করলাম—আপনি বৈদ্যপাড়ায় কখনও পাললিকের সম্পাদকের খোঁজ করতে যাননি?

    —না মশায়। অত সময় কই। সকাল সকাল ট্রেন ধরে হাওড়ায় আসি। লাইব্রেরি বন্ধ করে ফিরতে ফিরতে হয়ে যায় রাত দশটা। এখন মেলা চলছে বলে রিডিং রুমে ভিড় কম। এসময় নাহলে অন্তত কুড়িটা লোক অলটাইম বসে থাকে। লোক বলতে তো আমি একা। ও আচ্ছা, এই একটি ব্যাপার, আপনার এই সম্পাদককে দরকার না? আপনি মশায় মেলায় গিয়ে দেখতে পারেন। বৈদ্যবাটি অবধি যেতে হবে না।

    —কোন মেলায়?

    —লিটল ম্যাগাজিন মেলায়, জানেন না বুঝি? রবীন্দ্রসদন-নন্দন চত্বরে চলছে তো। আজই শেষ দিন, পাললিকের স্টল থাকতেও পারে।

    লাইব্রেরিয়ান টেবিলের ড্রয়ার খুলে একটি তিনভাঁজ করা কাগজের ফোল্ডার বের করলেন। লিটল ম্যাগাজিন মেলার ব্রোশিওর। কোন কোন পত্রিকা অংশগ্রহণ করেছে তার তালিকা।

    —রেজিস্ট্রেশান না থাকলেও মেলায় স্টল নেওয়া যায়?

    —নেওয়াই যায়, তেমন কড়াকড়ি কিছু নেই। ব্রোশিওর দেখে লাইব্রেরিয়ান বললেন—স্টল নাম্বার দুশো কুড়ি, মুক্তমঞ্চের পাশে। হ্যাঁ এই তো লেখা—আজকেই শেষ দিন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleগা-ছমছমে ভৌতিক অলৌকিক – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    Next Article রাজপুত নন্দিনী – শ্রীপারাবত
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    মোহিত কামাল
    রকিব হাসান
    রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাহীন আখতার
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্তোষকুমার ঘোষ
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাগরময় ঘোষ
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুপ্রতিম সরকার
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026
    Our Picks

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026

    ছাতিম – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    August 14, 2026

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }