Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কিশোর রহস্য রোমাঞ্চ গল্পসমগ্র ১ – আলী ইমাম

    লেখক এক পাতা গল্প241 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১৫. একটা কিছু ঘটে যখন

    টেলিভিশনে একটা দারুণ ছবি চলছিল তখন। ক্যাকটাস ঝোপের পাশ দিয়ে কয়েকটা বুনো ঘোড়া টগবগিয়ে চলেছে। পাহাড়ের আড়ালে কয়েকজন মানুষ। তারা লাফ দিয়ে একটা ল্যান্ড রোভার গাড়িতে উঠল। ওরানা বুনো ঘোড়া শিকারি। বিকট শব্দ করে পাহাড়ি পথ ধরে ল্যান্ড রোভারটা ছুটল । তারপর শুরু হলো গতির তীব্রতা। ঘাসের বনে একবার হারিয়ে গিয়ে আবার ঝলমলিয়ে উঠল ঘোড়াগুলো। ল্যাসো হাতে ছুটছে শিকারিরা। শিকারিদের চোখেমুখে ঘামের বিন্দু চিকচিক করছে। টেলিভিশন জুড়ে প্রচণ্ড উত্তেজনা তখন। ওই বুঝি ঘোড়াটার গলায় ফাঁস লাগল । শিকারিটা কেমন ঝুঁকে আছে দেখো। তার হাত দুটো বুঝি নিশপিশ করছে।

    টুপুন বিস্ফোরিত হয়ে দৃশ্যটা দেখছে। তার একটা হাত হাঁটুতে চাপড় দিচ্ছে। টুপুনের মেজকাকু সোফার কোণায় বসে গম্ভীর মুখে একটা মেডিকেল জার্নালের পাতা ওল্টাচ্ছিলেন। টুপুনের উত্তেজনা দেখে কয়েকবার বিরক্ত হলেন। কী যে করছে ছেলেটা। যেন সেও ছুটে চলেছে ওই শিকারিদের সাথে। তার হাতের মুঠোতেও নিপুণভাবে ধরা আছে ল্যাসো। এক্ষুণি যেন একটা বুনো ঘোড়াকে ফাঁস লাগিয়ে সে ধরবে।

    ওই যে… একটা ঘোড়া আটকে গেছে। ঘোড়াটাকে টেনে-হিচড়ে নিয়ে যাচ্ছে ল্যান্ড রোভারটা। ক্যাকটাসের বড় বড় ফুলগুলো থেতলে যাচ্ছে। ওই তো, আরেকটা ঘোড়া নিপুণভাবে ছুঁড়ে দেয়া ল্যাসোতে আটকে যাচ্ছে। ধকধক করছে টুপুনের বুক। তার নাকের দু’পাশ ফুলে উঠিছে। আর সে চুপ করে থাকতে পারল না। চিৎকার করে উঠল টুপুন।

    মেজকাকু চমকে তাকালেন। ছবি দেখতে-দেখতে টুপুন এমনভাবে চিৎকার করে উঠবে, এমনটা তিনি ভাবতে পারেননি। তিনি মেডিক্যাল জার্নালটা সশব্দে বন্ধ করে উঠে গেলেন। যাবার আগে অবশ্য টুপুনের দিকে একবার লাল চোখে তাকিয়ে গেলেন। কিন্তু টুপুন তখন কোথায়? আরিজোনার ক্যাকটাসভরা মরুভূমির বুকে বুনো ঘোড়াদের সাথে ছুটে বেড়াচ্ছে সে দুরন্তভাবে।

    চোখের সামনে পাকানো দড়ির ঝিলিক। যাকে বলে ল্যাসো। আফ্রিকার কঙ্গো দেশেই মাসাই জাতির লোকেরা যেমন বল্লম দিয়ে বিধে ফেলে দুরন্ত সিংহকে। তেমনি যেন এই ল্যাসো। সাঁৎ করে একটা শব্দ হয়। তারপরেই ঘোড়ার গলায় ফাঁস। আফ্রিকার অনেক তৃণভূমিতে ল্যাসো ছুঁড়ে জিরাফ পর্যন্ত ধরা হয়। টুপুন হাতারি নামের একটা রঙিন ছবি দেখেছিল। তাতে এসব দৃশ্য ছিল। এই হাতারি ছবিটার কথা টুপুন অনেকদিন ভুলতে পারেনি। ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখেছে। সবুজ ঘাসের বনে ঝাঁপ দিল বুনো মহিষের ওপর। বিশাল এক পাইথন পেঁচিয়ে ধরেছে হলুদ বাঘকে। এসব টুকরো টুকরো দৃশ্য। খুব উত্তেজনায় ভরা।

    টেলিভিশনের সেই ছবিটা দেখতে দেখতে দুরন্ত হয়ে উঠল টুপুনের মন। জানালা দিয়ে বাইরে তাকাল। বাটালী পাহাড়ের বুকে আলো জ্বলছে বিন্দু বিন্দু। অনেক দূরে পার্বত্য চট্টগ্রামের জঙ্গল যেন রহস্যময় হাতছানি দিচ্ছে।

    কতদিন টুপুনের ইচ্ছে হয়েছে কাসালং কিংবা খাগড়াছড়ির গহীন অরণ্যে হারিয়ে যেতে। সাজেক ভ্যালি কিংবা পাবলাখালির বুনো পথে হেঁটে যেতে। ভাল্লাগে না এই শহরের পানসে দিনগুলো। স্কুল- শিক্ষকদের গম্ভীর মুখ। ফ্রিজে থরেথরে সাজিয়ে রাখা কলা, নাশপাতি, আপেল। সেজো আপার বানানো কাজু বাদামের আইসক্রিম। দোকান থেকে কিনে আনা কমিক্স বইগুলোর চকচকে মলাট। আজকাল এসব খুবই বিচ্ছিরি ধরনের লাগছে টুপুনের কাছে। একটা কিছু ঘটে না এই শহরে। সব কেমন ছিমছাম থাকে। একটা দারুণ কিছু ঘটে না বলে টুপুনের সব সময় আক্ষেপ। বুড়ো বাবুর্চি একবার বলেছিল লাল ঈগলের ডিম এনে দেবে। বেদেরা নাকি বিক্রি করে। টুপুনের কাছ থেকে সে জন্যে বিশ টাকাও নিয়েছিল। কিন্তু ঈগলের ডিম এনে দেয়নি। টুপুন তাগাদা দিলেই ঘোলাটে চোখ মেলে বলে একি সোজা কাজ নাকি? ঈগলের ডিম আনতে গিয়ে কতজন কামড় খেয়ে পালিয়েছে। সবাই পারে না। কেউ কেউ পারে। আমি তো বাপু সেই রকম সাহসী কোনো বেদেকেই খুঁজছি। পেলেই এনে দেব।

    রাতে ঘুমুতে গিয়ে সেই বুনো ঘোড়াদের দাপাদাপি ছবির মতো ফুটে উঠল। একটা গাড়ি পেলে পাহাড়ি এলাকায় দিব্যি চলে যাওয়া যেত। কযেকজন বন্ধু মিলে হই-হই করতে করতে ছুটে চলা। শহরের পানসে দিন নয়। পাহাড়ি এলাকার ঝকঝকে দিন। নানা ধরনের অ্যাডভেঞ্চার ঘটে যেতে পারে সেখানে। গাছ-গাছালির মাঝে কত কি যে লুকিয়ে থাকতে পারে। রহস্যের একটা অদৃশ্য জাল যেন মিশে আছে সেখানে। টুপুনের মাঝে-মাঝে মনে হয় কোনো গাছের কোটরে একটা কালোচিতা লুকিয়ে রয়েছে। অন্ধকারে চিতার চোখ দুটো জ্বলছে ধকধকিয়ে। কোনো টলটলে চোখের মায়াবী হরিণ হয়তো কচিকচি পাতা খাবার লোভে এগিয়ে আসছে। চিতাটা লাভ দেবার ভঙ্গি করছে। এইসব দৃশ্যের কথা ভেবে অস্থির হয়ে যায়। টুপুন। হঠাৎ তার মনে হয় গ্যারেজে একটা জীপ রয়েছে তাদের। নতুন গাড়ি কেনার পর থেকে সেটা আর কেউ চালায় না । ছোটবেলায় জীপে করে আব্বার সাথে হিমছড়ি গিয়েছিল। অজস্র ঝাউগাছ সেখানে। সারা দিনরাত ঝাউবনে বাতাসের মাতামাতি । জীপে করে আচ্ছামতো ঘোরা হয়েছিল সেবার।

    অনেক দিন ধরে জীপটা ব্যবহার করা হয় না। নষ্ট হয়ে যায় নি তো আবার? কাল সকালেই মিস্তিরি ডাকিয়ে খোঁজ নিতে হবে।

    ঘুমোতে যাবার আগে টুপুনের মনে হলো একটা জীপ শাঁইশাঁই করে চলেছে পাহাড়ি পথ দিয়ে। শাব্বির চালাচ্ছে। টুপুন দূরবিন দিয়ে দু পাশের গাছপালা দেখছে। কত পশুপাখি।

    সকাল হতেই টুপুন গিয়ে হাজির শাব্বিরদের বাসায়। চকবাজার থেকে একটা মিস্তিরি ডেকে আনল। কিছু টুকটাক কাজ করে সেরে মিস্তিরি জানাল, জীপটা চমৎকার রয়েছে। এরপর বেরিয়ে যাওয়ার প্ল্যান।

    পরপর কয়েকদিন শাব্বিদের চিলেকোঠার ঘরে বসে ফন্দি ফিকির আঁটা হলো। ওরা চারজন জীপ নিয়ে পাহাড়ি পথে অভিযানে যাবে । টুপুন, শাব্বির, পিন্টু আর প্রবাল। ঠিক হলো বাড়ির কাউকেই এসব বলা হবে না।

    প্রবালের এক আত্মীয় থাকে কাকঝোরা। প্রবাল শুধু এতদিন তার গল্পই শুনে এসেছে। ওখানে নাকি পাহাড়ি নদীতে মাঝে মাঝে সোনার তাল পাওয়া যায়। এই লোভে অনেকেই গিয়েছিল। কুমরির পেটে গেছে তাদের কেউ-কেউ। সাপের ছোবলে মরেছে অনেকে। কাকঝোরায় খুব কম লোক থাকে। জায়গাটার কথা মনে হলেই ভাবতে ইচ্ছে করে রহস্যের একটা মিহি কুয়াশার চাদর যেন সেখানে মিশে আছে। কাকঝোরা! ওরা ঠিক করল সেখানটিতেই যাবে প্রথম।

    কাকঝোরা যাবার ম্যাপ তৈরি করতে সাহায্য করল শাব্বিরদের বাড়ির মালী। চমৎকার রান্না করতে পারে সে। তাকেও তারা দলে নিয়ে নিল। অনেক কিছুই হয়ে গেল চুপিচুপি। পিন্টু একটা এয়ারগান ম্যানেজ করল। টুপুনের ছিল দূরবিন। মালীকে টাকা দিয়ে কয়েক দিনের খাবার কিনে নিল। প্রবাল বলল, কুঁছ পরোয়া নেহি। খাবার শেষ হলে বনের ফলমূল খাব। আমরা যাচ্ছি অ্যাডভেঞ্চারের জন্যে ।

    ওদের অভিযানের প্রস্তুতি চুপিচুপি হতে লাগল। কয়েকটা দিন কেটে গেল দারুণ রকমের উত্তেজনায়। ওদের বাড়ির লোকেরা জানল না। টুপুনদের গ্যারেজের কোণায় ফেলে রাখা জীপটা এখন রীতিমতো এক অভিযানে যাবার জন্যে তৈরি হয়ে আছে।

    এক ভোরবেলায় আবছা অন্ধকার থাকতেই জীপটা বেরিয়ে গেল পাহাড়ি এলাকার দিকে। এই পানসে শহর ছেড়ে চলে যেতে হবে।

    এখানকার দিনগুলোতে শুধু ক্লান্তি। এই ইটের দালানগুলো হারিয়ে যাক। তার বদলে দেখা দিক সারিসারি গাছপালা। কালো পিচের রাস্তার বদলে আসুক বুনোপথ। দিগন্তে দেখা যাক পাহাড়ের আবছা সারি। কাকঝোরার পথে ওদের যাত্রা শুরু হলো। হুররে, চাপা আনন্দে চিৎকার করে উঠল প্রবাল।

    চমৎকার চালাতে পারে শাব্বির। তাদের তখন গতির নেশায় পেয়েছে। কয়েকটা ছোট-ছোট শহর আর বাজার ছাড়িয়ে বিকেলের দিকেই ছমছমে পাহাড়ি এলাকা দিয়ে যেতে লাগল তাদের জীপ। একটা হাট থেকে কয়েকটা মুরগি কিনে নিল সস্তায়। মালী চমৎকার বেঁধে দেবে বলে জানাল।

    এক সময় চোখে পড়ল পানের বরোজের সারি। বিকেলের রোদ ফুরিয়ে যাচ্ছে। কি নিঝুম চারদিক। লোকজন একেবারে নেই। টুপুন দূরবীন দিয়ে পাখি দেখছে। শাব্বির শিস দিচ্ছে। কী ঝরঝরে লাগছে। অন্যরকম পরিবেশ চারদিকে। পানের বরোজ নাকি খুব ঠাণ্ডা হয়।

    হঠাৎ শাব্বির ব্রেক কষল। ক্যাঁচ।

    রাস্তার মাঝখানে একটা ল্যান্ড রোভার। কয়েকবার হর্ন দিতেই একটা লোক বেরিয়ে এল। কোনো রেড ইন্ডিয়ান সর্দার বলে মনে হয়। লোকটা তাদের দিকে এগিয়ে এল। শরীরে কালি লেগে আছে। গাড়িটা মেরামত করছিল।

    : কোথায় যাচ্ছেন আপনারা? লোকটির মুখে হাসি।

    : কাকঝোরা। প্রবাল বলল।

    : চমৎকার। আমিও সেখানে থাকি। কাকঝোরাতে আমার খামার আছে। আনারসের বাগান আছে। এদিকে এসেছিলাম পাখির স্যুটিং করতে। নতুন ধরনের বেশ কয়েকটি পাখি দেখলাম আজ।

    ওরা দেখল ল্যান্ড রোভারে একটা মুভি ক্যামেরা।

    : আমার হবি হচ্ছে পাখির ছবি তোলা। তাদের ডাক রেকর্ড করা।

    টুপুন ভাবল, বাঃ লোকটা তো বেশ ঝরঝর করে নিজের পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে। যেন তাদের সাথে অনেক দিনের চেনা ।

    : রাস্তায় আমার গাড়ি গেল খারাপ হয়ে। আমাকে আপনাদের সাথে নিলে খুশি হব । দেখুন তো, ভর সন্ধেবেলায় কী ঝামেলা!

    : চলুন, চলুন, কোনো অসুবিধে নেই। আপনাকে পেয়ে বরং ভালোই হলো।

    লোকটা একটা জ্যাকেট গায়ে দিয়ে মুভি ক্যামেরা আর একটা টেপ রেকর্ডার নিয়ে ওদের জীপে উঠে এল। প্রবাল তাকাল লোকটার দিকে ভালো করে। কত বয়স হবে? পঞ্চাশের মতো।

    : নাম কি তোমাদের? এমন দলবেঁধে চলেছ কি জন্যে? এদিকে তো লোকজন খুব একটা আসে না।

    ওরা চারজনের নাম বলল।

    : এই দেখ, আমার নামটাই তোমাদের বলা হয়নি। আমাকে সবাই ডাকে ক্যান কং সাহেব বলে। এই নামে থাইল্যান্ডে আর তাইওয়ানে এক রকম শাক হয়। অনেকটা আমাদের কলমি শাকের মতো। খুব পুষ্টিকর। আমি আমার খামারে প্রথম এর চাষ করি। আশপাশের লোকদের ক্যান কংয়ের চাষ করতে বলি। অনেকেই করে। খুব তাড়াতাড়ি বেড়ে যায় এই শাক। লাগাতেও তেমন কোনো ঝামেলা নেই। ডগা ভেঙে মাটিতে পুঁতে দিলেই হলো। বুঝলে, সেই থেকে আমার আসল নামটি হারিয়ে গেছে। সবাই ডাকে ওই ক্যান কং বলে। তা আমার কাছে তেমন খারাপ লাগে না।

    জীপ চলছে ছুটে। ওদের কাছে ভালো লাগছে লোকটার গল্প ।

    : এই তো সামনেই কাকঝোরা। তোমরা কিন্তু আজ রাতে আমার খামার বাড়িতে থাকবে। আজ তোমরা আমার গেস্ট।

    ওরা সবাই লোকটার প্রস্তাবে রাজি হয়ে গেল। নইলে এত রাতে কী বিপদই না হতো, কাকঝোরা জায়গাটা যে এতটা জংলী ধরনের হবে সেটা আগে ওরা বুঝতে পারেনি।

    : এবার বাঁ দিকে নেমে চালাও।

    মাটির রাস্তায় নেমে এলো জীপ। কাকের ডানার মতো অন্ধকার নামছে।

    : এখান থেকে নেমে এল জীপ। কাকের ডানার মতো অন্ধকার নামছে।

    : এখান থেকে শুরু হয়েছে আমার আনারসের বাগান। পুকুরগুলোত নাইলোটিকার চাষ করছি। অস্ট্রেলিয়া থেকে হাঁস মুরগি আনিয়েছি। কক্সবাজারের হোটেল আর মোটেলগুলোতে আমার খামার থেকে ডিম মাখন আর ফলের সাপ্লাই যায়।

    জীপের হেড লাইটের আলোতে টিলা জায়গার আনারস বাগান ঝলসে উঠছে। বন থেকে বেরুল টিয়ে। সোনার টোপর মাথায় দিয়ে। ছেলেবেলায় বইতে পড়েছিল।

    : এক সাথে এত আনারস!

    : আমি আনারস ক্যানিং-এর একটা ফ্যাকটরি করব ভাবছি। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে চমৎকার চালান দেয়া যেতে পারে। আমার ইচ্ছে আছে আগামী বছরের মাঝেই একটা কোল্ড ড্রিংক্স বাজারে ছাড়ব। বিদেশি একটা কোম্পানির সাথে এ নিয়ে কথাবার্তা হয়েছে। আমার আরেকটা ইচ্ছে হলো এদিকে ডুরিয়ানের চাষ করা। সিংগাপুর আর মালয়েশিয়াতে এই ফলটা খুব হয়। খেতে চমত্তার কিন্তু গন্ধটা খুব উগ্র । ডুরিয়ানের জন্যে এখানকার মাটি ভালো।

    টুপুন অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল লোকটার দিকে। নতুন ফল চাষের স্বপ্ন দেখছে। খামার-বাড়িটা বাড়াবার স্বপ্ন দেখছে। শহর ছাড়িয়ে বনভূমিতে বসে পাখির ছবি তুলছে। টেপ রেকর্ডার নিয়ে বনে-বাদাড়ে ছুটছে পাখির শিস বা ডাক রেকর্ড করতে। বিদেশে নাকি পাকির ডাকের রেকর্ড কিনতে পাওয়া যায়।

    লোকটা যেন টুপুনের মনের কথা টের পেয়ে গেছে। টেপ রেকর্ডার চালাতে চালাতে চল, আজ এতে ফেজান্ট পাখির ডাক রেকর্ড করেছি। এই পাখিগুলো খুব তাড়াতাড়ি হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের দেশ থেকে। লোকেরা এদের ডিম সংগ্রহ করছে ঝোপঝাড় খুঁজে। মানুষের হাত খুব লোভী। কোনো নিভৃতে একটি পাখি হয়তো বাসা বানিয়ে চুপচাপ আছে। সেখানেও যায় মানুষের লোভী হাত। পাখিদের নিরিবিলি বাসাগুলো তছনছ করে ভেঙে দেয়। ডিম তুলে নিয়ে আসে। কুষি কুষি বাচ্চা মেরে ফেলে।

    জীপের আলোতে একটা কাঠের বাড়ি দেখা যায়।

    : এসে গেছি। উঃ, তোমাদের না পেলে আজ খুব অসুবিধে হতো।

    কয়েকজন লোক ওদের দিকে তাকিয়ে রইল। খামারবাড়ির কর্মচারী হবে। পুকুর থেকে হাঁসের ঝাঁক কলকল করে ফিরছে। একপাশে সারিবেধে মুরগির বাসা। এক জায়গায় আনারসের ভূপ।

    : এস, ইয়াংম্যানদের দল। তোমাদের নিশ্চয় খুব খিদে পেয়ে গেছে। হাতমুখ ধুয়ে একটু বিশ্রাম নাও। আমি খাবারের বন্দোবস্ত করছি।

    চমৎকার বসার ঘর ক্যান কং সাহেবের। দেয়াল জুড়ে শুধু ফলমূল আর শাক-সবজির রঙিন ছবি। কি সতেজ লাগছে তরকারিগুলো। এত চমৎকার ছাপা। যেন টসটস করছে। টমেটোর ছবিগুলো কি ঘন লাল। শাব্বির মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে রইল সেদিকে। গাজরের কি পুষ্ট ছবি ঝুলছে। একটা বেঁটে ধরনের লোক এসে ওদের ঠাণ্ডা আনারসের জুস দিয়ে গেল। সাথে কিছু পনির। কাজু বাদাম।

    টুপুন ভাবছে খামারবাড়ির কথা। ছোটবেলায় লরা ওয়াইল্ডারের অনেকগুলো বই পড়েছিল। প্রেইরির ঘাসের বনে ছোট্ট কাঠের একটা খামারবাড়ি ছিল লরাদের। বিভিন্ন ঋতুর কি মন উতল করা বর্ণনা। পড়তে পড়তে মনটা সেই ঘাসের বনে হারিয়ে যেত। ম্যাপল পাতার রস জ্বাল দিয়ে চিনি তৈরি করত লরার বাবা। টার্কি মোরগের ঝলসানো রোস্ট খেত সবাই আয়েশ করে বড়দিনের উৎসবে। টুংটাং গীটার বাজাতো লরার বাবা।

    কাকঝোরার এই নিঝুম খামারবাড়িতে আনারসের জুস খেতে খেতে হঠাৎ এসব এলোমেলো ভাবনা হলো টুপুনের। দীঘল ঘাসের বনে পাইন কাঠের ছোট্ট একটা বাড়ি।

    ক্যান কং সাহেব একটা সবুজ সিল্কের শার্ট চাপিয়ে ঢুকলেন।

    : রান্না হতে হতে আমি তোমাদের কিছু আমার ভালো পাখির ফিল্ম দেখাই। সময়টা ভালো কাটবে।

    ক্যান কং সাহেব ঘর অন্ধকার করে প্রজেক্টার চালিয়ে দিলেন। পর্দায় ফুটে উঠল বনভূমি। ঝোপঝাড়। রঙিন ছবি।

    : এটা হচ্ছে মউচুষি বা সান বাউস। ছোট্ট বাটির মতো বাসা বানায় এরা। আর এটা হলো পিপিট পাখি। শীতের সময় পাখিরা কিভাবে বাসা তৈরি করে তার উপর স্টাডি করে আমি ছবি তুলেছি। এসব ব্যাপারে উৎসাহ পেয়েছি ওয়াল্ট ডিজনির ছবি দেখে। আঃ কী চমৎকার ছবি বানাতেন তিনি। তার কোনো তুলনাই হয় না। একটা বিশাল স্বপ্নের জগতকে তিনি অনায়াসে বানিয়ে ফেলতে পারতেন।

    বাবুর্চির মুখ দেখা গেল দরজার ওপাশে। রান্না তৈরি। ক্যান তৈরি। ক্যান কং সাহেব গল্প করতে করতে ওদের নিয়ে খাবার ঘরে গেলেন।

    : আমি এখানে ব্রকলীর চাষ করছি। ব্রকলী হলো ছোট ধরনের সবু ফুলকপি। তার ভেতরে মাংশের কিমার পুর দিয়ে খেতে খুব টেস্ট। আজ তোমাদের খাওয়াব।

    টেবিলে অনেক নতুন ধরনের শাক-সবজির তরকারি দেখল ওরা। খাবার সময় অনেক গল্প। ক্যান কং সাহেবের আগামী পরিকল্পনার কথা।

    রাত অনেক হয়ে আসছে। এবার ঘুমোতে যাবার পালা। খামারবাড়িটা চুপ হয়ে আছে। বুনো ফুলের গন্ধ ছড়াচ্ছে বাতাস। কী একটা প্রাণী যেন ডেকে উঠল!

    ওদের চারজনের কাছে সবটা মিলিয়ে এক চমৎকার অভিজ্ঞতা। একটা কিছু ঘটছে সেই থেকে আনন্দে ওদের মুখগুলো জ্বলজ্বলে হয়ে আছে। অন্তত ছাই রঙের বাড়িঠাসা শহর থেকে বেরিয়ে আসা গেছে। যেখানে নোংরা গলির সারি। ড্রেনের পানিতে মরা বেড়াল। ইলেকট্রিকের তারে কাক মরে ঝুলে থাকে। পাথরঘাটার গির্জার ঘড়িটা ঠিক সময় জানিয়ে যায়। একজন কবি লিখেছিলেন, পাথরঘাটার গির্জা যেন লাল পাথরের ঢেউ।

    এখানে, এই কাকঝোরাতে কত পাহাড়ের ঢেউ। আনারসের সমুদ্র যেন চারপাশে।

    সারাদিনের ধকলে শাব্বির, পিন্টু, প্রবাল আর মালী ঘুমিয়ে গেছে। টুপুনের ঘুম আসছে না। কোনো নতুন জায়গায় গেলে চট করে টুপুনের ঘুম আসে না। ছটফট করতে থাকে।

    একটা ঘর থেকে কেমন গড়গড় শব্দ হচ্ছে। টুপুন কৌতূহলী হয়ে উঠল। আস্তে করে দরজা খুলে বাইরে এল। কোণার ঘরটায় মৃদু নীল আলো । সেখান থেকেই শব্দটা আসছে। পা টিপে টিপে সেদিকে এগিয়ে গেল টুপুন। পর্দার ফাঁক দিয়ে দেখল ক্যান কং সাহেব প্রজেক্টার চালিয়ে ছবি দেখছেন। পর্দার দিকে তাকাল টুপুন । কোনো পাখির ছবি নয়। এক ধরনের কালো কালো পোকার ছবি। পোকাগুলো ঝাঁক বেঁধে উড়ে যাচ্ছে। আর কোনো বাগানে নেমে সব কিছু খেয়ে সাবাড় করে দিচ্ছে। একটা দৃশ্যে দেখা গেল একটা আনারস। বাগানকে কুরে কুরে খেয়ে ফেলল ওই পোকার ঝাঁক। আবছা অন্ধকারেও লক্ষ্য করল টুপুন আবার নিঃশব্দে তাদের ঘরে ফিরে গেল। পুরো ব্যাপারটা কেমন যেন লাগল তার কাছে।

    ভোর হতেই ক্যান কং সাহেব তাদের খামারের এলাকাটা ঘুরে ঘুরে দেখালেন। চমৎকারভাবে তৈরি করা হয়েছে সবজি বাগানগুলো। অনেক নতুন ধরনের শাক-সবজির সাথে পরিচিত হল ওরা।

    : এ হলো কাউলুন। মঙ্গোলিয়া থেকে এর জীন আনিয়েছি। কাউলুনের সালাদ চমকার হয়। বিরাট এলাকা জুড়ে খামার। দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। হাঁস-মুরগিগুলো কি পুষ্ট। একপাশে সালগমের চাষ করা হয়েছে। সয়াবিনের চাষও চলছে। অন্যদিকে কাজু বাদাম গাছের সারি।

    দুপুরবেলায় বিদায় নিল ওরা। ক্যান কং সাহেব ওদের বেশ কিছু ডিম আর মাখন উপহার দিলেন। বেতের একটা ঝুড়ি ভর্তি করে দিলেন।

    : ইয়াংম্যান। তোমরা অ্যাডভেঞ্চারের নেশায় ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছ। খুব ভালো লাগল তোমাদের। যাবার সময় আবার এসো।

    আবার বুনোপথ। আবার গাছ-গাছালির ছায়ায় হারিয়ে যাওয়া রাস্তা। আবার চকিতে কোনো কাঠ ময়ূরকে ঝোপের আড়ালে দেখতে পেয়ে উল্লসিত হয়ে ওঠা। জীপ চলছে সাঁই সাঁই করে।

    বিকেলের দিকে ছোট্ট একটা লোকালয়ে এল ওরা। জায়গাটার নাম ঝনিয়ামুখী।

    ঝনিয়ামুখীতে ছোট একটা বাজার রয়েছে। আশপাশের জমিতে পাহাড়ি চাষীরা আনারস ফলায়। এখানে এনে বিক্রি করে । পাইকাররা কিনে নিয়ে যায়। আনারস বিক্রি করেই এখানকার পাহাড়ি লোকদের দিন চলে।

    ওদের এখন আনারস তোলার সময়। সারা বছর পরিশ্রম করে বছরের এ সময়টার দিকে তাকিয়ে থাকে তারা। পোকার আক্রমণের খবরে তাই খুব চিন্তিত পাহাড়ি চাষিরা।

    কয়েকজন দৌড়ে এসে খবর দিল উত্তরের আনারসের বাগান পোকায় সাফ করে দিয়েছে। ঝনিয়ামুখীর সরল উপজাতি চাষিরা আতঙ্কিত হয়ে উঠল।

    ওরা থাকতে থাকতে পোকার আক্রমণের আরো খবর এল। একজন বৃদ্ধ চাষি বাজারের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ডুকরে কেঁদে উঠল । এবার আমরা শেষ হয়ে যাব। অভিশাপ লেগেছে আমাদের এলাকায়। অভিশাপ লেগেছে ঝনিয়ামুখীতে। পাকা ফল আর তোলা হবে না।

    টুপুনের গত রাতের একটা দৃশ্য ঝট করে মনে হলো। ক্যান কং সাহেব একলা পোকার ছবি দেখছেন। কিন্তু… কিন্তু পোকারা যখন ফলের বাগান তছনছ করে দিচ্ছে তখন ক্যান কং সাহেবের মুখের কোণায় চাপা হাসি কেন? নিশ্চয়ই এর মাঝে কোনো রহস্য আছে।

    সে রাতে ওরা ঝনিয়ামুখীতেই থাকবে ঠিক করেছিল। টুপুন গম্ভীর গলায় বলল, আজ রাতে আমাদের কাকঝোরাতে ফিরতে হবে।

    : কাকঝোরা কেন? সবাই অবাক।

    : কিসের অভিযান? হাওরে টুপুন, কি সব বলছিস?

    প্রবাল তাকে ধরে ঝাকুনি দিল একটা।

    : ঝনিয়ামুখীর আনারস ক্ষেতে পোকা আক্রমণের রহস্যের শুরুটা ওই খামারবাড়িতেই আছে।

    : কি যে তুই আবোল-তাবোল বলিস মাঝে মাঝে।

    শাব্বির যেন একটু বিরক্ত। এত রাতে পাহাড়ি পথে জীপ চালাবার ঝককি সে বোঝে।

    : আমরা যখন শহর ছেড়ে আসি তখন প্ল্যান করেছিলাম একটা কিছু ঘটে না বলে শহরে আমাদের বিরক্তি । কাউকে না বলে আমরা এই গহীন জঙ্গলে চলে এসেছি কেন? একটা কিছু ঘটবে এই আশায়। আর যখন এখানে সেই একটা কিছু ঘটতে যাচ্ছে তখন কি আমরা চুপচাপ থাকব?

    একসাথে অনেকগুলো কথা বলে টুপুন তাকিয়ে আছে সবার দিকে।

    : ঝনিয়ামুখীর বুকে পোকার আক্রমণ। রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে পাহাড়ের গায়ে জুম চাষ করে এখানকার লোক। কত কষ্ট করে আনারস ফলিয়েছে। সব শেষ হয়ে যাচ্ছে এক ধরনের ভয়ঙ্কর কালো পোকার আক্রমণে।

    : তা আমরা এর কি করতে পারি? পিন্টু অসহায়ের মতো জিজ্ঞেস করে।

    : আমার মন বলছে আমি এর রহস্য বের করতে পারব। তোরা সবাই আমার সাথে চল।

    কি ঘন অন্ধকার! জোনাক জ্বলছে মিটমিট করে । এক সময় হলুদ চাদ উঠে এল গাছগাছালির ফাঁকে। ফ্যাকাশে আলো। জীপটা আবার চলা শুরু করল কাকঝোর দিকে। জীপের মাঝে বসে থাকতে থাকতে ওদের বুক ধুকধুক করছিল। কে জানে কোনো গাছের ডালে কালো চিতা ওত পেতে বসে আছে কি না। হেড লাইটের আলোতে কি একটা বড়সড় প্রাণীকে রাস্তার এপাশ থেকে ওপাশে ছুটে যেতে দেখা গেল।

    : ওই যে ক্যান কং সাহেবের খামারবাড়ি। জীপ থামাও এখানে। আমরা হেঁটে যাব । মালী তুমি জীপে বসে থাক। আমরা আসছি।

    টুপুনের নেতৃত্বে ওরা চলা শুরু করল। রাতচরা কয়েকটা পাখি ডাকছে। আনারস বাগনের ভেতর দিয়ে পথ। পাশের পুকুরে একটা বড় মাছ বুঝি ঘাই মারল। সিরসির করে বাতাস বইছে। খামারবাড়িটা নিঝুম। সবাই ঘুমিয়ে আছে বোধ হয়। কোণায় একটা ঘরে মৃদু আলো জ্বলছে। ওরা চারজন চুপিসারে তার কাছে গেল। মাটিতে দাঁড়িয়ে জানালার একটা কপাট আস্তে করে ঠেলে দিল। চারজনের কৌতূহলী দৃষ্টি ঘরের ভেতর।

    র্যাকের উপর থরে থরে জার সাজানো। সব কালো পোকাতে ভর্তি। উজ্জ্বল আলো জ্বলছে ঘরে। ক্যান কং সাহেব টেবিলে ঝুঁকে কি যেন পরীক্ষা করছেন। খুট করে একটা শব্দ হল। ওরা চারজন সাঁৎ করে মাথা নামিয়ে নিল।

    : আজকের চালানটা খুব ভালো হয়েছে। ঝনিয়ামুখীর বাগান খতম।

    ঘরের ভেতর একটা বাঝখাই ধরনের গলা মশোনা গেল।

    ওরা চারজন সাবধানে মুখ তুলল। ক্যান কং সাহেবের হিসহিসে গলা।

    : আমার বাগান ছাড়া সব বাগানের ফলমূল আমি ধ্বংস করে দেব এই পোকাদের দিয়ে। শুধু আমার খামার থেকেই ট্রাক ভর্তি চালান যাবে। আশপাশের কোনো বাগান আমি আস্ত রাখব না। ঝনিয়ামুখী শেষ হয়েছে। এরপর চিতিডোংরা, হালুনীপাড়া, কাকরমুখী। সব একটা একটা করে ধ্বংস করব।

    টুপুন ফিসফিস করে বলল, সরে আয়। সব বুঝেছি। ওই পুকুর পাড়ে চল।

    চারজন চুপিসারে হেঁটে গেল। মেঘের আড়ালে চলে গেছে চাঁদ। কি ঘন অন্ধকার। এদিকটায় কলাবাগন। বাতাসে কলার পাতা সরসর করে দুলছে।

    : ঘরেই রয়েছে সব পোকা। আজ রাতেই ওদের শেষ করতে হবে। আমি আলমারিতে এসিডের জার দেখেছি।

    : ওরা চলে গেলেই আমি যাব। তোরা আমার জন্যে এখানে অপেক্ষা কর।

    টুপুন কথাগুলো খুব শান্তভাবে বলল, বিপদের মুখোমুখি হলে মাথা ঠিক রাখতে হয়। অনেক গোয়েন্দা বইতে টুপুন এ ধরনের বর্ণনা পড়েছে।

    : তোকে আমরা একলা যেতে দিতে পারি না। আমরাও যাব।

    : বেশি লোক গেলেই গোলমাল হতে পারে। প্রবাল আয়, তোরা থাক।

    ক্যান কং সাহেবের ওই ঘরটার আলো নিভে গেল। অন্ধকারের ভেতর মিশে গেল টুপুন আর প্রবাল।

    পুকুরে মাছের শব্দ। ক্যান কং সাহেব নাকি নাইলোটিকার আবাদ করবেন।

    খাবার সময় বলেছিলেন সোনালি পাকা ফলে আর রুপোলি মাছে ভরে থাকবে আমার খামারবাড়ি।

    : উফ, লোকটা কি ডেঞ্জারাস! ভয়ঙ্কর কালো পোকা পুষছে।

    পিন্টু আর শাব্বির কলাবাগানে বসে অপেক্ষা করছে। সময়গুলো মনে হচ্ছে পাথর চাপা । কেমন লাগে প্রতীক্ষা করতে।

    এক সময় টুপুন আর প্রবালকে দেখা গেল এগিয়ে আসছে। ওদের মুখে চাপা উত্তেজনা।

    : কী খবর?

    : কালো পোকারা এখন এসিডের ভেতরে মরণ সাঁতার কাটছে।

    : কেউ টের পায়নি। চল যাই।

    বুনোপথ ধরে আবার জীপ চলছে। ওদের উত্তেজনা তখনো কমেনি।

    : চিতিডোংরা, হালুনীপাড়া আর কাঁকরমুখীর ফলের বাগানগুলো ক্যান কং সাহেবের কালো পোকার আক্রমণ থেকে বেঁচে গেল।

    : কিন্তু … কিন্তু লোকটার শাস্তি হওয়া উচিত ছিল।

    : একটা শিশির মুখ হঠাৎ করে খুলে যাওয়াতে পোকার ঝাঁক তার বাগানের দিকেই গেছে।

    অন্ধকারে পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে জীপটা এগিয়ে যাবে। সবাই তাকিয়ে আছে সামনের দিকে। একটা কিছু তাহলে শেষপর্যন্ত সত্যি সত্যিই ঘটল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleনবি মুহাম্মদের ২৩ বছর – আলি দস্তি
    Next Article তারার দেশের হাঁস – আলী ইমাম

    Related Articles

    আশাপূর্ণা দেবী

    সমুদ্র কন্যা – আশাপূর্ণা দেবী

    April 24, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    আমাদের মহাভারত – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    March 20, 2026
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Our Picks

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }