Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কিশোর রহস্য রোমাঞ্চ গল্পসমগ্র ১ – আলী ইমাম

    লেখক এক পাতা গল্প241 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০২. বাদাবনের হাতছানি

    রোদের ঝাঁঝ একটু কমে আসতেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলাম । বাংলাবাজারের কাছে ছোট্ট একটি দোকান আছে। চমৎকার সবজির চপ বানায়। সেখানে গেলে কজন বন্ধু পাওয়া যাবেই। বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করার জন্যে ভীষণ ইচ্ছে করছে। ছোট্ট দোকানটিতে অসম্ভব ভিড় । এক কোণায় দেখি টুনু ভাইকে। আমাকে দেখেই হইহই করে উঠলেন।

    ভালোই হলো তোকে পেয়ে । তোর তো আবার পুরনো বইগুলোর ঘাটার অভ্যেস আছে । আজ এক বাড়িতে নিয়ে যাব। ওরা কিছু পুরনো বই বিক্রি করবে। নে, চপ খা।

    চপগুলোর উপর থেকে তখনও ধোঁয়া উঠছে। বেশ কয়েকটা সবজির চপ তেঁতুলের চাটনির সাথে মিশিয়ে খেলাম। সঙ্গে কুঁচি কুঁচি করে কাটা পুদিনার পাতা ছিল। টুনু ভাইয়ের কথা শুনে আমি ভেতরে ভেতরে উৎসাহিত হয়ে উঠি। পুরনো বই খোঁজার আমার এক দারুণ রকমের নেশা।

    একসময় ঝুপ করে সন্ধে নেমে আসে। পাশের টেবিলে একটি কিশোর সিলেটের হাওরে যে সত্যি সত্যি স্কাইল্যাবের টুকরো পড়েছে সেটাই এক বন্ধুকে আপ্রাণভাবে বোঝাবার চেষ্টা করছে। বর্ষাকালটা শেষ হয়ে এলেই ওরা সেখানে একটি অভিযান চালাবে বলেও ভাবছে।

    টুনুভাই ডিমের কারি খেতে খেতে বললেন, কপাল বটে ওই অস্ট্রেলিয়ার থর্নটন ছোঁড়াটার। নিজেদের বাগানে প্রথম কুড়িয়ে পেল স্কাইল্যাবের টুকরো। আমেরিকার কোনো এক পত্রিকায় সেই টুকরোটা প্রথমে গছিয়ে দিতেই কড়কড়ে দুলাখ টাকা পেয়ে গেল।

    সেই পত্রিকাটির নাম সানফ্রান্সিসকো একজামিনার। আমি জানিয়ে দেই।

    দোকানগুলোতে আলো জ্বলে উঠেছে। এতক্ষণ ধরে লোডশেডিং চলছিল। গাড়িঘোড়ার অবিরাম শব্দ। একটি মেয়েকে তার মা বোধ হয় করুণ সুরে ডাকছে। কে জানে, মানুষের এই ভিড়ের মাঝে মেয়েটি হারিয়ে গেছে কিনা। টুনুই পকেট থেকে কাগজ বের করে ঠিকানাটি দেখে নেন। ফরাশগঞ্জে বাসা। আমরা দুজন দোকান থেকে বেরিয়ে হাঁটতে থাকি।

    রাস্তার দু’পাশে শুধু দোকান আর গুদামঘর। শুকনো মশলা ভাই করে রাখা। লাল মরিচের পাহাড়। পেঁয়াজের স্তুপ। এদিককার দোকানগুলোতে মশলার ঝাঁঝালো গন্ধ। পেছনেই নদী। দূরের গ্রামগুলো থেকে নৌকা বোঝাই করে কাঁচা তরিতরকারি আসছে।

    বাড়িটিকে খুঁজে বের করি। ল্যাম্পপোস্টের মৃদু আলোতে টুনুভাই ঠিকানাটি মিলিয়ে দেখলেন। পুরনো তিনতলা বাড়ি। নিচতলায় একটি কবিরাজি ওষুধের দোকান। রঙচটা সাইনবোর্ডে নানা রকমের ওষুধের নাম। একটি লোক একজনের কাছ থেকে হরিতকি কিনছে।

    তাকে জিজ্ঞেস করতেই বলল,

    যিনি বই বেচবেন তিনি তিনতলায় থাকেন। সোজা সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠে যেতে হবে।

    একটি পাগল বসে ছিল সিঁড়ির দোরগোড়ায়। সে বিড়বিড় করে কী যেন বলছিল। সিঁড়ির মাথায় অল্প পাওয়ারের আলো জ্বলছে। একটি শাদা কালো মেশানো রঙের বেড়াল ধুপ করে নেমে দৌড়ে পালাল।

    আমি আর টুনুভাই কোনোমতে হাতড়ে হাতড়ে তিনতলায় উঠে এলাম। দরজা খোলা। ঘরের মাঝখানে একটি পুরনো আমলের পালঙ্ক। নানা ধরনের কারুকাজ করা। একটি বিরাট বাজপাখি যেন ডানা মেলে উড়ে আসছে। কাঠের উপর এই নকশাটি চমৎকার ফুটেছে। পালঙ্কে চাদর মুড়ি দিয়ে ফ্যাকাশে চেহারার এক বৃদ্ধ শুয়ে আছে। তার মাথার কাছে একজন যুবক দাঁড়ানো। যুবক তালপাখা দিয়ে বৃদ্ধকে বাতাস করছিল। আমাদের চোখে পড়তেই এগিয়ে এলো । টুনুভাই বললেন, পুরনো বই বিক্রির কথা।

    কথাটা কানে যেতেই বৃদ্ধ লোকটি আমাদের দিকে তাকালেন। তারপর ভাঙা ভাঙা গলায় বললেন, আসুন, বসুন। খুব টানাটানি যাচ্ছে বলে বইগুলো বিক্রি করছি। এসব আমার দাদামশায়ের সংগ্রহ। তার বই জমাবার বাতিক ছিল। খুব দুপ্রাপ্য কিছু বই আছে। জেমস টেলরের টপোগ্রাফী অব ঢাকার প্রথম সংস্করণটি আছে। ঢাউস আকারের বই। কি, জেমস টেলরের নাম কোনোদিন শোনেননি বলে মনে হচ্ছে! তা শুনবেন কোথেকে। তিনি তো আর ছায়াছবির অভিনেতা ছিলেন না। তিনি ছিলেন ১৮০৮ সালের ঢাকা শহরের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সিভিল সার্জন। ঢাকার আশপাশের অঞ্চল নিয়ে চমৎকার রিপোর্ট পাঠিয়েছিলেন। সেটাই তো ওই বই।

    একনাগাড়ে কথাগুলো বলে বৃদ্ধ হাঁপাতে লাগলেন। আমি আর টুনুভাই হরিণের চামড়া দিয়ে তৈরি কুশনে বসে শুনছি।

    ঢাকার আদি ইতিহাসের উপর বিদেশি কিছু লেখা আছে। আমি একবার ঢাকার পুরনো কিছু রাস্তার নামের ইতিহাস লিখে ইংরেজি পত্রিকায় পাঠিয়েছিলাম, ছাপেনি।

    বৃদ্ধ লোকটি পালঙ্কে ঠেস দিয়ে উঠে বসেছেন। যুবকটি তাকে শাদা পাথরের গ্লাসে পানি খেতে দিল।

    আগের দিনে ধুপখোলার মাঠে বুলবুলির লড়াই হতো। ঢাকার রইস আদমিরা মাঠে তাবু ফেলত। খাঁচাভর্তি বুলবুলি। লাল বুলবুলি। সেপাই বুলবুলি। সাংঘাতিক লড়াই হতো। একপাখি অন্যপাখির উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে রক্তারক্তি কাণ্ড ঘটাতো। ঠোট দিয়ে কামড়ে পেট ফুটো করে দিত। তাই দেখে উত্তেজিত লোক বাহবা দিত। বাজি ধরত।

    ফরাশগঞ্জের এই বৃদ্ধ লোকটির চোখে তখন হারিয়ে যাওয়া দিনের স্বপ্ন । সেসব দিনগুলোকে এরা বড় যত্ন করে আগলে রাখে। যেন মলিন না হয়ে যায়।

    খুব কষ্ট করে এসব পুঁথিপত্তর জমিয়ে রেখেছি। আমি চোখ মুঁদলেই তো সব লুটেপুটে নিয়ে যাবে। মুদি দোকানের ঠোঙা হবে।

    আমি ঘরটির চারদিকে তাকাতে লাগলাম। বিভিন্ন লতাপাতার ছবি ঝোলানো।

    বুঝলেন, একসময় অর্কিডের চাষ করতাম। বলধার জমিদারকে বহু চারা দিয়েছি। তার শখটা ভালো লাগতো খুব উৎসাহ ছিল। আমাজান থেকে পদ্মফুলের বীজ আনিয়ে শঙ্খনিধির দিঘিতে ফুটিয়েছিলেন। ইয়া বড় বড় পাতা। একটা মানুষের বাচ্চাকে সে পাতার উপর দিব্যি বসিয়ে রাখা যেত। এসব কথা আজকালকার লোকেরা জানে? সব তো শেষ হয়ে যাচ্ছে। ঢাকার শহরের দুপ্রাপ্য সব গাছপালা কেটেকুটে সাফ করে দিচ্ছে। বলধা বাগানের সেই দারুচিনি গাছটা এখনও আছে, না নেই?

    বৃদ্ধ লোকটি কথা বলতে ভালবাসেন। কথা বলার সময় তার চোখ দুটো জ্বলজ্বল করতে থাকে। দেখলেই বোঝা যায় বহু বছরের কথা জমে আছে। শোনাবার লোক পান না। সবাই হয়তো অবহেলা করে যায়। তাই এক ধরনের চাপা অভিমানে গুমড়ে মরেন ।

    আমি কিন্তু দায়ে পড়ে বইগুলো বিক্রি করছি। দরদাম না করলেই খুশি হব। আলো, পাশের ঘর থেকে বইগুলো নিয়ে এসো তো।

    একটা অদ্ভুত সুরে সামনের দেয়ালঘড়ির ভেতর থেকে ছোট্ট পেতলের পাখি ডেকে সময় জানিয়ে দিল। যুবকটি অনেকগুলো বাঁধানো বই নিয়ে এলো। বেশ কিছু বই মরক্কো চামড়ায় বাঁধানো। বৃদ্ধ লোকটি যা দাম চাইলেন, টুনুভাই তা দিয়েই কিনে নিলেন।

    সেই পুরনো বাড়ি থেকে নেমে আমাকে কয়েকটা বই দিয়ে বললেন, রাতে ভালো করে এগুলো উল্টোপাল্টে দেখ। কাল দুপুরে আমার বাসায় আসবি। বইগুলো নিয়ে তখন আলাপ করা যাবে।

    আমি খুব খুশি হলাম বইগুলো পেয়ে। কেমন পুরনো গন্ধ। নানি বাড়ির ট্রাঙ্ক খুললে এ রকম গন্ধ পাওয়া যায়। ন্যাপথোলিন মেশানো গন্ধ। অনেকগুলো বইয়ের পাতা হলদেটে, ঝুরঝুরে ।

    সিঁড়ির গোড়ায় সেই পাগলটা তেমনি বিড়বিড় করে আপন মনে হাসছে। কবিরাজি দোকানটা বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। হলুদ চাঁদ উঠেছে আকাশে। ইলেকট্রিকের তারে একটা মরা কাক ঝুলে আছে।

    সে রাতেই মাথার কাছে টেবিলল্যাম্পটা জ্বালিয়ে বইগুলো পড়তে বসলাম। একটি বই নেপালের পাহাড়ি অঞ্চলের সাধুদের উপর লেখা। এসব সাধুরা এক ধরনের রহস্যময় গাছের শেকড় খেয়ে দীর্ঘজীবী হয়। সেই গাছের শেকড়ের নাম রুণ। আরেকটি বই মঙ্গোলিয়ার যাযাবরদের জীবনযাত্রা নিয়ে খেলা। তারা কীভাবে ঘাসজমিতে বুনোঘোড়া নিয়ে দাপিয়ে বেড়ায়। বুনো তিতির দিয়ে অন্য পাখিদের শিকার করে।

    বইগুলোতে বেশকিছু কাঠের ব্লকের ছবি ছাপা হয়েছে। তাতে ছবিগুলোকে একটু রহস্যময় লাগে।

    বইগুলোর ভেতরে একটি খয়েরি চামড়ায় বাঁধানো খাতা চোখে পড়ল। সবুজ কালিতে গোটা গোটা করে লেখা। কিছুটা পড়েই বুঝলাম একজনের ডাইরি সেটা। দেড়শো বছরের পুরনো। বৃদ্ধ লোকটির দাদামশায়ের ডাইরি নাকি! বেশ গুছিয়ে লেখা। জয়দেবপুরের জঙ্গলে একবার ইংরেজ সাহেবদের সঙ্গে বাঘ শিকার করতে গিয়েছিলেন। আরেকবার শীতের সময় কক্সবাজারে ভ্রমণ করতে গিয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখেছেন এভাবে, ‘এ স্থানের বাজারগুলি সাময়িক, ইহাতে অধিকাংশ খাদ্যদ্রব্যই ক্রয়-বিক্রয় হইয়া থাকে। সমস্ত বাজার ছিল মৎস, লুনামাছ, হাঙর, কস্তুরি প্রভৃতি সামুদ্রিক দ্রব্যসম্ভারে পরিপূর্ণ। এই স্থানের প্রধান বাজারে নাম মেলিবাজার। সাব ডিভিশনাল অফিসার মেকাশি সাহেবের দুহিতার নামে এই মেলিবাজার হইয়াছে। একটি উচ্চ পর্বতের অধিত্যকা প্রদেশে একখানা সুন্দর গৃহ দেখিয়া দর্শনের অভিলাষ জন্মিল। গৃহটি চীনঘর নামে পরিচিত। কেন এই নাম হইল, জিজ্ঞাস করিয়া জানিতে পারিলাম, চীন দেশের বৌদ্ধ মন্দিরের অনুকরণে নির্মিত বলিয়া ইহার এই নাম হইয়াছে ।‘

    ভদ্রলোক খুব ঘুরতে পছন্দ করতেন। তার দিনলিপির বিবর্ণ পাতায় কয়েক মাসের বিবরণ রয়েছে। জাফলঙয়ের প্রকৃতি তাকে খুব আলোড়িত করেছিল। কীভাবে আরও পরিকল্পিতভাবে কমলার চাষ বাড়ানো যায় তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করেছেন। স্পেন থেকে জলপাই চারা এনে সেখানে চাষ করা যায় কিনা সেটা নিয়েও ভেবেছেন।

    এই রকমের ভ্রমণ করতে গিয়ে তাকে কয়েকবার মৃত্যুর মুখোমুখি পড়তে হয়েছিল। গারো পাহাড়ে এক কাপালিক তাকে আক্রমণ করে। কাপালিক তার পিঠে বাঘনখের থাবা বসিয়ে দিয়েছিল। এক মিশনারির সেবায় তিনি সেবার বেঁচে ওঠেন।

    সেই রাতে ডাইরিটি পড়তে পড়তে আমি রীতিমতো রোমাঞ্চিত হই। যেন অন্য এক পৃথিবীতে বারবার হারিয়ে যাই। এক শক্ত কব্জীওয়ালা লোককে আবিষ্কার করি। যিনি জীবনকে সারাজীবন মনে করে এসেছেন একটা বুনো মোষ। তার দুটো শিঙ তীব্রভাবে ধরে লড়াই করে গেছেন। লোকটির নানা বিষয়ে কৌতূহল ছিল। ডাইরি পড়তে পড়তে আমার মনে হচ্ছিল, আমি যেন দেড়শো বছর আগের কোনো এক দিনে চলে গেছি। শহর ঢাকার রাস্তায় তখন পালকি। নবাববাড়ি থেকে হাতির মিছিল যায়। ফিটন গাড়ি, ছ্যাকড়া গাড়ি যায়। ফরাশগঞ্জের কাছে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে ফরাসিদের বেশ কিছু কুঠিবাড়ি গড়ে উঠেছে। চন্দননগর থেকে পালতোলা বজরা আসছে। পাদরিরা ছাপাখানা বসাচ্ছে। একজন লোক হাসিমুখে যেন আমাকে সেসব দিনের কথা বলছেন।

    টেপ রেকর্ডারে একটি জাপানি সঙ্গীত মৃদু সুরে বাজছিল । সঙ্গীতের নাম চেরি ফোটার দিন। এত সূক্ষ্ম কারুকাজ আছে সঙ্গীতটিতে যে মন হয় পাতা ঝরার শব্দও ওতে বুঝি মিশে আছে। ডাইরির এক জায়গায় এসে মনে হলো কয়েকটি পাতা যেন একটু পুরু। ভাল করে লক্ষ্য করতেই বুঝলাম সেখানে পাতাগুলো খুব সূক্ষ্মভাবে সেলাই করে জোড়া লাগানো হয়েছে। কেমন যেন রহস্যের গন্ধ পেলাম। ড্রয়ার থেকে ব্লেড বের করে খুব সাবধানে খুললাম। খুলে দেখি অল্প কিছু কথা লেখা :

    ‘এ কথা কাহাকেও বলি নাই । সুন্দরবন ভ্রমণের সময় চুনকুড়ি নদীর নিকট কৈখালি গ্রামে আমি এক বৃদ্ধ বাওয়ালির সাক্ষাৎ পাই। তাহার নাম সিদ্দাই বাওয়ালি। লোকটি খালি হাতেই কয়েকটি বাঘকে মারিয়াছিল। আমি যখন তাহার সাক্ষাৎ পাই তখন সে মৃত্যুপথযাত্রী। সে জানায় গড় মুকুন্দপুরে গুপ্তধন রহিয়াছে। মহারাজ প্রতাপাদিত্যের গুপ্তধন। ঘড়া ঘড়া মোহর। তাহার নিশানা কৈখালি গ্রামের শ্মশানঘাটের কাছের পাকুড় গাছের নিচে একটি হাতির দাঁত নির্মিত বাক্সে রহিয়াছে। সেখানে খুব সাপের ভয় থাকায় আমি যাইতে পারি নাই। শহরে আসিয়াই আমি পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হইয়া শয্যাশায়ী হইয়া পড়ি। এই কথা কাহাকেও বলা হইল না।’

    পড়তে পড়তে আমার সমস্ত শরীর কাঁটা দিয়ে উঠল। পুরনো আমলের এই ডাইরির পাতায় সুন্দরবনের গুপ্তধনের সংবাদ! এখনও হয়তো লোকচক্ষুর আড়ালে রয়ে গেছে। চোখের সামনে ভেসে উঠল রহস্যে ঘেরা বাদাবন। ভাটির দেশ। গাছ-গাছালির ভেতরে গড় মুকুন্দপুরের ক্ষয়ে যাওয়া বাড়ি। নোনাধরা ইট। শ্যাওলাছছাপা দেয়াল। সাপের খোলস বাতাসে ফিনফিন করে ঝুলছে। প্যাচার ডাক। ডাইরির হলদেটে, মুচমুচে পাতাগুলো যেনো নিকষ কালো অন্ধকারের ভেতরে আমাকে নিয়ে গেল। ছলাৎ ছলাৎ করছে চুনকুড়ি। ছোট্ট গ্রাম কৈখালি। শ্মশানঘাটের পাকুড় গাছের পাতা কাঁপছে বাতাসে। যে গাছের ডালে হয়তো শকুনের বাচ্চারা মাঝরাতে কাঁদে। সেই গাছের নিচে আছে গড় মুকুন্দপুরের নিশানা। মাটির নিচে এখনও কি হাতির দাঁতের বাক্সটি আছে? সেখানে কী অজস্র সাপ কিলবিল করছে? জ্যোস্নার আলোতে সাপকে নাকি রুপোলি ঝালর বলে মনে হয়।

    সারারাত আমার ঘুম এলো না। টেপ রেকর্ডারে কখনও মেক্সিকোর পাহাড়ি গানের ক্যাসেট দিলাম। কখনও স্পেনের ফ্লেমিঙ্গো নাচের সুর। তবু সবকিছুকে ছাপিয়ে জেগে রইল গড় মুকুন্দপুরের ভাঙা চুড়ো। রাতটা ছটফট করে কাটালাম। কখন সকাল হবে । কখন টুনুভাইয়ের কাছে যাব।

    শেষরাতের দিকে একটু তন্দ্রার মতো এসেছিল। দেখলাম, গহীন জঙ্গলের ভেতর দিয়ে ডালপালা সরিয়ে আমি আর টুনুভাই হেঁটে যাচ্ছি। আমাদের সামনে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাচ্ছে একজন বাওয়ালি। ঝকড়া ঝাঁকড়া তার চুল। লোকটা অরণ্যের মাঝে একটি পরিষ্কার জায়গায় আমাদের নিয়ে গেল। সেখানে ছোট একটি বেদি। তার উপর টকটকে লাল রঙের নিশানা টাঙানো। বড় বড় মশাল জ্বলছে। কয়েকজন লোক হঠাৎ রাম দা হাতে ছুটে এলো। তারপর চিৎকার করতে করতে পশুপাখি বলি দেয়া শুরু করল। আমাদের দিকে ছুঁড়ে ছুঁড়ে দিতে লাগল ঘুঘু, বটের আর হরিয়ালের রক্তমাখা মাথা। মশালের আলোতে লোকগুলোর চেহারা কী রকম ভয়ঙ্কর দেখাচ্ছে। কখনও মুখগুলো কাছে আসছে আবার কখনও দূরে সরে যাচ্ছে। আমার ঘুম ভেঙে গেল। সমস্ত শরীর ঘামে ভিজে জবজব করছে।

    তখনও রাস্তাঘাটে লোক চলাচল ভালো করে শুরু হয়নি। টুনুভাইয়ের দরজার শিকল জোরে জোরে নাড়তে থাকি। সদ্য ঘুমভাঙা টুনুভাই দরজা খুলে আমাকে ও রকম উসকো-খুসকোভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে অবাক হয়ে যান।

    কি হয়েছে? সারারাত ঘুমাসনি?

    এটাই আমাকে সারারাত ঘুমাতে দেয়নি। বলে আমি সেই ডাইরিটি তুলে ধরি।

    কি এটা?

    দেড়শো বছরের পুরনো এক ডাইরি।

    পেলি কোথায়?

    কাল তুমি যে বইগুলো দিয়েছিলে তার মধ্যে ছিল এটা।

    কী আছে এতে?

    গড় মুকুন্দপুরের রাজা প্রতাপাদিত্যের গুপ্তধনের নিশানা!

    টুনুভাই এবার চমকে যান। ঢোক গিলে বলেন, কি সব বলছিস এই সাতসকালে। তোর কি মাথা বিগড়ে গেল নাকি?

    আমি ফিসফিস করে বলি, ঘড়া ঘড়া মোহরের খবর আছে টুনুভাই। সব বলছি। আগে এক কাপ চা খাওয়াও। দরজাটা বন্ধ করো। তারপর সব বলছি।

    এক কাপ আদা চা খেয়ে শরীরটা বেশ ভালো লাগে। ডাইরির সব কথা খুলে বলি টুনুভাইকে। তিনি মন দিয়ে শোনেন। ডাইরিটি খুলে দেখেন। চট করে সিদ্ধান্ত নিতে টুনুভাইয়ের জুড়ি নেই। শান্ত গলায় তিনি শুধু বললেন, আজ রাতের ট্রেনেই আমরা খুলনা যাচ্ছি। ঠিকমতো গোছগাছ করে নে।

    রাতের ট্রেন চলেছে সাঁই সাঁই করে। ফর্সা চেহারার এক ভদ্রলোক হিচককের একটি বই পড়ছিলেন। আমি টুনুভাইকে জিজ্ঞেস করলাম,

    তুমি জানো, ভয়াল ছবির রাজা বলা হয় কাকে?

    টুনুভাই ঝিমুতে ঝিমুতে বললেন, জানি না। এখন একটু ঘুমুতে দে তো।

    আলফ্রেড হিচকক, বলে আমি লোকটির হাতে ধরা বইটির দিকে তাকাই। কেন জানি মনে হয় ফর্সা লোকটি আমার দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছেন।

    তুমি হিচককের কোনো ছবি দেখছো? লোকটি আমার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে।

    দেখেছি। পাখিদের নিয়ে একটি ছবি। কী যেন নাম। দূর ছাই মনে পড়ছে না।

    দি বার্ডস। একঝাঁক পাখি কী করে পুরো একটা শহরকে লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছিল। কি রকম নিষ্ঠুর হয়ে মানুষের উপর আক্রমণ করছিল খুদে পাখিগুলো। মনে আছে একটি লোকের চোখ ঠুকরে ঠুকরে খেয়ে ফেলেছিল।

    ফর্সা লোকটি কেমন ফিসফিস করে বলতে থাকে।

    এটা কিন্তু খুবই খারাপ কথা যে তুমি ছবির নামটা চট করে মনে করতে পারোনি। তার মানে তোমার স্মরণশক্তি দুর্বল। এ বয়স থেকেই কীভাবে স্মরণশক্তিকে বাড়ানো যায় তার চেষ্টা করা উচিত। জানো, যে কোনো মানুষ তার মস্তিষ্কের ক্ষমতার মাত্র সামান্য অংশ ব্যবহার করে থাকে। আইনস্টাইনের মতো লোক তার মস্তিষ্কের ক্ষমতার মাত্র শতকরা তেরো ভাগ ব্যবহার করেছিলেন। আর তাতেই আমাদের আধুনিক সভ্যতাকে কতটা প্রচণ্ডভাবে নাড়া দিতে পেরেছিলেন।

    রাতের ট্রেনের এই যাত্রীকে তখন চমৎকার লাগে আমার কাছে।

    জানো, হিপনোটাইজ করে মানুষের স্মৃতিশক্তিকে অনেক বাড়ানো যায়। মানুষের মনের ভেতরের অনেক কথাকে টেনে বার করে আনা যায়। এই ধরো তুমি এখন কী ভাবছো আমি যদি হিপনোটাইজ করার বিদ্যেটা জানতাম, তাহলে ঠিক বলে দিতে পারতাম।

    বলে ফর্সা লোকটি আমার দিকে তীব্রভাবে তাকায়। আমার মাথাটা যেন একটু দুলে ওঠে। মনে হয় কামরার সব বাতিগুলো নিভে গেছে। শুধু সবুজ রঙের একটা বাতি জ্বলছে। তার মাঝে লোকটার মুখ কুয়াশার মতো মিশে আছে। সেই সবুজ আলোটা ক্রমশ তীরের মতো হয়ে উঠছে। যেন আমার শরীরের ভেতরে বিধে যাবে। আমি জোর করে মনটাকে সরিয়ে আনি। ঝট করে তাকাই জানালার বাইরের দিকে। একটা স্টেশনের আলো ক্রমশ এগিয়ে আসছে।

    ট্রেন আস্তে আস্তে এসে থামে ছোট্ট একটি স্টেশনে। মিটমিট করে কয়েকটা আলো জ্বলছে। কয়েকজন লোক লটবহর নিয়ে নামে। ফেরিঅলারা ছোটাছুটি করতে থাকে। আমার খুব তৃষ্ণা পেয়েছিল। এক ফল বিক্রেতার কাছ থেকে একটি কচি ডাব কিনে ঢকঢক করে খাই। আমার মুখ সেই পানিতে ভিজে যায়। হঠাৎ চোখ পড়ে সামনের বেঞ্চির সেই ফর্সা লোকটির দিকে। আমার দিকে কী রকম অস্বাভাবিকভাবে তাকিয়ে আছে। লোকটির ওই রকম চাউনি আমার কাছে মোটেই ভালো লাগে না।

    তুমি বুঝি ফিল্ম দেখতে ভালবাসো?

    হুম।

    আমি ফিল্ম বানাই।

    তাই নাকি! লোকটির প্রতি আমি উৎসাহিত হয়ে উঠি।

    আমি বাংলাদেশের বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর জীবনযাত্রার উপর ছবি তুলছি। এবার যাচ্ছি সুন্দরবন। বাঘ আর হরিণের উপর ছবি তুলতে। আগামী বছর অটোয়াতে এ ধরনের ডকুমেন্টারি ছবির এক বিরাট প্রতিযোগিতা হবে। আমি সেখানে এ ছবি নিয়ে যেতে চাই।

    লোকটি তার ব্রিফকেস খুলে আমাকে বিভিন্ন প্রাণীর রঙিন স্থিরচিত্র দেখায়। এই দেখ, এটা বনরুই। অনেকেই মনে করে এটা বুঝি দক্ষিণ আমেরিকার আর্মিডিলোর ছবি। যারা লম্বা জিভ দিয়ে সুড়ুৎ করে শুধু পিপড়ে খায় । জঙ্গল এলাকায় বনরুই পাওয়া যায়। দেখছো, এর পিঠ রুই মাছের মতো বড় বড় আঁশে ঢাকা । দিনের বেলায় এর কোনো পাত্তা নেই। রাত হলেই উইপোকার ঢিবি নয়তো পিঁপড়ের খোঁজে ঘুরে বেড়ায়। এদের উপর সুটিং করতে আমাকে খুব বেগ পেতে হয়েছিল ।

    লোকটি বেশ উৎসাহের সঙ্গে আমাকে ছবিগুলো দেখাতে থাকে। নোট বইতে বিভিন্ন প্রাণীর উপর নানা তথ্য লেখা। কখনও কখনও সেগুলো পড়ে শোনায়।

    এটা হলো মাছবিড়াল। হাওড়, বিল, আর নদী পাড়ের ঝোপ-জঙ্গলে থাকে। এর শরীরে বাদামি ছাপ। কপাল ঘাড় পর্যন্ত ৬ থেকে ৮টি কালো ডোরা দাগ আছে। মাছ, শামুক, ঝিনুক খায়। অনেক সময় ছোট ছোট পাখিদেরও ধরে খায়। আমি একসময় খুব ভয়ের ছবি দেখতাম। ভাবতাম ওই ধরনের ছবি বানাব। ড্রাকুলার ছবি দেখে আমি খুব উত্তেজিত হয়ে গিয়েছিলাম।

    ড্রাকুলা কে?

    এই দেখ, হিচককের নাম জানো আর ড্রাকুলার কথা জানো না। প্রিন্স ড্রাকুলা। মধ্য যুগের জার্মানির এক রাজপুত্র। জঙ্গলের ভেতরে দুর্গবাড়িতে থাকত। অদ্ভুত এক নেশা ছিল তার। মানুষের রক্ত পান করা। প্রিন্স ড্রাকুলার গা ছমছম করা কাণ্ডকারখানা নিয়ে অনেক ছবি হয়েছে। কিন্তু একটি পোলিশ ছবি দেখে আমার সব ধারণা পাল্টে গেল।

    কেন? কী ছিল সেই ছবিতে?

    ছবিটির নাম ছিল ম্যাথুসের দিন। ম্যাথুস নামের এক বুড়ো থাকত পাহাড়ি ছোট্ট গ্রামে। লেকের পাশে বাড়ি। খুব শান্ত প্রকৃতি চারদিকে। ম্যাথুস গাছপালা, কীটপতঙ্গ, পাখি আর লেকের মাছ খুব ভালবাসতো। ওর মনে হতো, সে নিজেও বুঝি প্রকৃতির এক অংশ। কেউ গাছ কাটলে সে দারুণ কষ্ট পেতো। বঁড়শি দিয়ে মাছ গেঁথে তুলতে তার খারাপ লাগতো। একবার এক শিকারি একটি বককে গুলি করেছিল। ম্যাথুস সেই গুলিবিদ্ধ বিশাল বকটিকে বুকে আগলে ছলছল করে তাকিয়েছিল। আস্তে আস্তে নেতিয়ে আসছে বকটি। ঘোলাটে চোখ মেলে ইতিউতি তাকাচ্ছে। ক্যামেরা এখানে বিগ ক্লোজ-আপে বকের চোখের ছবি নিয়েছে। বকটি একসময় মারা যায়। যেনো সভ্যতার মৃত্যু হয়। সেই ছবি আমাকে খুব আলোড়িত করেছিল। তারপর থেকে আমি আমাদের দেশের বন্যপ্রাণীদের ছবি তুলতে থাকি।

    ট্রেন আরেকটি স্টেশনে এসে থাকে। টুনুভাই দিব্যি ঘুমাচ্ছেন। ফর্সা লোকটি হঠাৎ আমার দিকে তীব্রভাবে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে, তোমরা কোথায় যাচ্ছো?

    সুন্দরবন।

    সুন্দরবনে কেন?

    আমি তখন আমতা আমতা করতে থাকি। লোকটি আমার দিকে সরাসরি তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে,

    সুন্দরবন কেন যাচ্ছো?

    আমার খুব ঘুম পাচ্ছে। আমি ঘুম জড়িত স্বরে বলি।

    তুমি ঘুমোও। নীল ঘুমের রাজ্যে তুমি চলে যাও। ঘুমটা যেন শান্ত একটি হ্রদ। তার ভেতরে ধীরে ধীরে তলিয়ে যাও তুমি। তারপর তোমার সঙ্গে আমার দেখা হবে। কথা হবে।

    আমার চোখের সামনে থেকে তখন সবকিছু ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়ে যায়। শুধু মনে হয় একটি সবুজ বাতি থেকে আলো এসে পড়েছে আমার মুখে। ট্রেন তখনও চলছে সাঁই সাঁই করে। আমার আর কিছু মনে থাকে না ।

    টুনুভাইয়ের ধাক্কায় ঘুম ভাঙে।

    ইস্, কী ঘুমকাতুরে ছেলেরে বাবা। এত ধাক্কাধাক্কি করছি।

    কামরাটি রোদে ঝলমল করছে। আমার মাথায় অসহ্য যন্ত্রণা। সেই ফর্সা লোকটিকে কোথাও দেখলাম না। ট্রেন স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছে। আমার হঠাৎ মনে হলো আমরা যে গড় মুকুন্দপুরে গুপ্তধনের খোঁজে যাচ্ছি, কৈখালি গ্রামে যাচ্ছি, সব কথা সেই লোকটা জানে।

    টুনুভাই, রাতের বেলায় একটি লোক আমাকে হিপনোটাইজ করেছিল।

    নে নে হয়েছে। এখন জলদি করে নাম । রাজ্যির সব ভুতুড়ে বই পড়ে এসব কথা বকছিস। জলদি নাম ।

    স্টেশনের কাছের একটি দোকান থেকে পেট পুরে খেয়ে নিলাম। গরম ভাত। পাঙ্গাস মাছের ঝোল। তারপর ক্ষীরের মিষ্টি।

    দুপুরবেলায় রওনা দিলাম সুন্দরবনের দিকে। লঞ্চ চলছে ভটভট করে। প্রথম আমরা যাব বুড়ি গোয়ালিনি রেঞ্জে। সেখান থেকে নৌকা করে যেতে হবে।

    দু পাশে সুন্দরী গাছের সারি। কোথাও কোথাও কাঠশালার জঙ্গল। গাঙচিল আর স্নাইপ উড়ে যাচ্ছে। গাঙচিলগুলো লঞ্চের পেছনের ছিটকে যাওয়া পানির ভেতর থেকে ছোঁ মেরে মাছ তুলে নিচ্ছে।

    গোলপাতা বোঝাই করে নৌকা যাচ্ছে। মাছ ধরার নৌকা যাচ্ছে।

    নৌকাতে মটকা ভর্তি মিঠা পানি। তেঁতুলগোলা পানি। হঠাৎ করে দেখা যায় কেওড়া গাছের জঙ্গল। সেখানে কুড়াবক থাকে। কত রকমের গাছ আছে এই জঙ্গলে। আমি সারেঙের ঘরে যাই। বৃদ্ধ সারেঙ। পেটা শরীর। বলে, বহু জাতের গাছ। সুন্দরী, গরান, কাঁকড়া, আমড়া, বান, হেতাল, গেওয়া, গোল। এদিককার গরিব লোকদের বাড়ি গোলপাতায় ছাওয়া। হেতাল গাছের ঝোপে বাঘ লুকিয়ে থাকে। আর আছে চেঁচো ঘাসের বন।

    আচ্ছা সারেঙ, এখানে বনমুরগি কেমন?

    আগে স্যার অনেক ছিল। এখন কমে গেছে। বনবিবির পুজোর জন্য বাওয়ালিরা জঙ্গলে এসে তার নামে মানত করা মোরগ মুরগি ছেড়ে দিত। সেগুলো জঙ্গলের ভেতরে লকলক করে বড় হতো। খেতে রাজ্যের পোকামাকড় আর কাঁকড়ার বাচ্চা। কাঁকড়ার বাচ্চা খেয়ে খেয়ে বনমুরগিগুলোর শরীরে তেলও হতো। এরা গাছের খোড়লে ডিম পাড়ে। তা দেয়। বাচ্চা ফোটায়। কট কট কটাস শব্দ করে ডাকে।

    লঞ্চ একসময় বুড়ি গোয়ালিনির ফরেস্ট অফিসের কাছে এসে থামে। আমি আর টুনুভাই নির্বিকার। আমরা যে ঢাকা থেকে সাঙ্ঘাতিক একটা উত্তেজনাকর কাজে এসেছি সেটা কাউকে বুঝতে দিচ্ছি না। গুপ্তধনের ব্যাপার। খুব সাবধানে থাকতে হবে। কোনোমতেই যেন কিছু ফাঁস না হয়ে যায়।

    বুড়ি গোয়ালিনিতে টুনুভাইয়ের দূর সম্পর্কের এক আত্মীয় আছেন। ভদ্রলোক বন বিভাগে কাজ করেন। তার ওখানেই উঠলাম। ভদ্রলোক খুব আমুদে। আমাদের পায়রাতলি মাছের ভাজি খাওয়ালেন।

    এসব গাছের হিসেব নিকেশ রেখে লাভ নেই। বড্ড ড্রাই কাজ। বুঝলে টুনু, ভাবছি কুমিরের চাষ করব।

    কিসের চাষ!

    কুমিরের। ইন্ডিয়াতে অনেকেই করছে। রীতিমতো কুমিরের খামার করে। ব্যাপারটা এই রকম। লোক লাগিয়ে জঙ্গলের বিভিন্ন জায়গা থেকে কুমিরের ডিম সংগ্রহ করতে হবে। তারপর সেগুলো ইনক্যুবেটরে যান্ত্রিকভাবে ফোটাতে হবে। কুমিরের বাচ্চাদের লালন করতে হবে। তারপর একটু বড় হলেই বিদেশে চিড়িয়াখানাগুলোতে পাঠাও। দারুণ ডিমান্ড রয়েছে।

    পরদিন ভোরে নৌকা করে মুকুন্দপুরের দিকে যাত্রা শুরু করলাম। সেদ্ধ ডিমের মতো মসৃণ আকাশ। আঁকাবাঁকা খাল। অনেক জায়গাতে গাছপালা ঝুঁকে থাকার জন্যে থমথমে অন্ধকার। কোথাও কোথাও গাছের শাখায় দক্ষিণ রায়ের বাসা দেখা যায়। দক্ষিণ রায় বাঘের দেবতা। বাদাবনে তার খুব দাপট।

    দক্ষিণ রায়ের মূর্তি দেখতে চমৎকার। হলুদ বরণ শরীর। মাথায় বাবরি চুল। তার উপর মুকুট। কানে কুণ্ডল। কপালে রক্ততিলক। হাতে তীর ধনুক। পিঠে ঢাল। জানু পেতে বসে আছে। সোনালি খড়ে ছাওয়া মাটির থানে দক্ষিণ রায় বসা। দেড়শো বছরের পুরনো সেই ডাইরির পাতায় দক্ষিণ রায়ের পুজোর কথা উল্লেখ করা আছে। আমাদের নৌকার মাঝিকে দেখলাম একবার নৌকা থামিয়ে ওখানে গিয়ে কিছু পয়সা দিয়ে আসতে। এ এলাকার লোক নাকি হাঁস মানত করে। মাঝির সঙ্গে আমাদের ভাব হয়ে যায়। মাঝি সুন্দরবনের পুঁথি জানে। আমরা মাঝির সেই ভরাট গলার পুঁথিপাঠ টেপ করে রাখি।

    এ বলিয়া বাঘ সব সাজিতে লাগিল।
    খান্দেওয়ালা বাঘ সেই প্রথমে সাজিল।
    সেই বাঘ হয় সেই প্রথমে সাজিল।
    সেই বাঘ হয় সব বাঘের প্রধান।
    রাক্ষস ধরিয়া খায় ভাঙ্গিয়া গর্দান।
    সাজে বাঘ বেড়াভাঙা বৃহৎ ভীষণ।
    মারিয়া অসুর সিংহ করেন ভক্ষণ ।
    সাজে বাঘ দানে ওরা চলে লম্ফ দিয়া ।
    আকাশের সূর্য চায় খাইতে ধরিয়া।
    সাজে বাঘ কালকূট ধবধব চলে।
    হাতি নিয়া দৌড় দেয় দন্তে ধরি গলে।

    দুপুরের ছলাৎ ছলাৎ নদীর ভেতরে আমরা মাঝির পুঁথিপাঠ রেকর্ড করি।

    শেষবিকেলের দিকে গাছপালার ফাঁকে ভাঙা ইটের দেউল চোখে পড়ে। কয়েকটি শামুকখোল ওদিকে উড়ে যায়। এখানকার লোক শামুকখোলকে বলে ঠুঁটিভাঙা সারস। মাঝি সেদিকে তাকিয়ে বলে, হুই যে মুকুন্দপুরের গড়।

    আমার আর টুনুভাইয়ের বুক ছলকে ওঠে। শেষবিকেলের মরে যাওয়া আলোতে সেই গড়কে খুব রহস্যময় দেখায়। আমার মনে হয় এর কোথায় জানি মাটির তলায় লুকিয়ে আছে ঘড়াভর্তি মোহর! কোথায় তার নিশানা।

    আমরা মুকুন্দপুরের বাজারে যাই। ছোট্ট কয়েকটি চালাঘর। আনাজপাতি বিক্রি হয়। গুড় বিক্রি হয়। নোনা পানির দেশ বলে এখানকার লোক বেশ গুড় খায়। কৈখালি গ্রাম এখান থেকে বেশ দূরে। পরদিন সকালে সেখানে রওনা দেব বলে ভাবি। রাতটা এখানেই কাটিয়ে দেব। মুকুন্দপুরের এক স্কুল শিক্ষকের সঙ্গে আলাপ হয়। তিনি তার বাড়িতেই রাতে থাকার নিমন্ত্রণ জানান।

    সন্ধেবেলায় আমরা গড়টা ভালো করে দেখতে যাই। গুপ্তধনের নিশানা আছে পাকুড় গাছের নিচে হাতির দাঁতের বাক্সের ভেতরে। সেটা উদ্ধার না করা পর্যন্ত গড় মুকুন্দপুর আমাদের কাছে শুধুমাত্র নোনাধরা ইটের দেয়াল। শ্যাওলা ছোপ ছোপ দেয়াল। এলোমেলো বাতাসে সাপের খোলসের ফিনফিনে দুলুনি।

    আমি আর টুনুভাই সাবধানে গড়ের ভেতরে হাঁটতে থাকি। কোথাও পড়ে আছে প্যাচার ডিম। হঠাৎ আমার মনে হয় কে যেন হেঁটে আসছে। এই নির্জন গড়ে আবার কে আসবে? টর্চটা নিবিয়ে দেয়ালে পিঠ দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি। সরু আলোর রেখা দেখা যাচ্ছে। একজন লোক এদিকে আসছে। টর্চের আলোতে লোকটিকে আমি চিনতে পারি। ট্রেনের সেই ফর্সা চিত্রপরিচালক। আমার মুখ দিয়ে বিস্ময়ের একটা শব্দ বের হতেই সে লোকটি চমকে যায়। ঠিক সেই সময়ে একটা রাতচরা পাখি বিচ্ছিরিভাবে ডেকে ওঠে। লোকটি গড় থেকে দৌড়ে পালিয়ে মিশে যায় অন্ধকারের ভেতরে। পুরো ব্যাপারটাই আমার কাছে রহস্যময় লাগে।

    পরদিন খুব ভোর থাকতেই কৈখালি গ্রামের দিকে নৌকা ছেড়ে দেই। দু’পাশে কষাড়ের ঘন জঙ্গল। একটা লোককে দেখলাম হরিণের বাচ্চা কোলে নিয়ে যেতে। মাঝে মাঝে পাখির ঝাক মাথার উপর চক্কর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে। একটি ডিঙি নৌকা কামট শিকার করে ফিরছিল। তাদের জিজ্ঞেস করতেই বলল, সামনের বাঁকটা পেরুলেই কৈখালি গ্রাম দেখা যাবে।

    আমি ভেতরে ভেতরে উত্তেজনায় টানটান হয়ে যাই। শ্মশানঘাটের কাছে পাকুড় গাছ। ট্রেজার আইল্যান্ড উপন্যাসের কথা মনে হয়। নীল রঙের কোটপরা কাপ্তান গানের সুর শিস দিতে দিতে আসছে। গানটা সমুদ্রের। লোকটার পিঠে ঝুলছে শুয়োরের লেজের মতো বেনি। গালের এক পাশে তলোয়ারের আঘাতের কাটা দাগ। সামুদ্রিক বাতাসে ভরে থাকা ছোট্ট শহরে কাপ্তান গান গাইতে গাইতে হেঁটে যাচ্ছে,

    মরা মানুষের সিন্দুক
    নজর রেখেছে পনের জন।

    হা হা হা।

    আমার মনে হতে লাগল সেই উপন্যাসের লাল কালিতে আঁকা ম্যাপটার কথা।

    বেশির ভাগ ধনরত্ন এইখানে
    লম্বা গাছ, স্পাই গ্লাস কাঁধ,
    কঙ্কাল দ্বীপ দশ ফিট
    রূপার বাঁট উত্তর কোণে পুবের দিক
    ঘেঁষে দশ হাত দূরে
    বালিয়াড়িতে সঙ্কেত চিহ্ন আছে।

    শুধু এসব মনে হচ্ছে। কৈখালির পাশ দিয়ে বয়ে গেছে চুনকুড়ি। আমরা একটা হিজল গাছের কাছে নৌকা বাঁধলাম। একজন বৃদ্ধ লোক জাল নিয়ে যাচ্ছে। তাকে ব্যগ্র কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলাম, এখানকার শ্মশানঘাটটা কোথায়?

    বৃদ্ধ কিছুক্ষণ অবাক চোখে আমাদের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর দূরের দিকে আঙ্গুল তুলে বলল, বহু বছর আগেই সেটা নদীতে তলিয়ে গেছে।

    তাকিয়ে দেখলাম দুপুরের রোদে চিকচিক করছে নদী। কয়েকটি গাঙচিল সেখানে পাঁক খেয়ে খেয়ে উড়ছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleনবি মুহাম্মদের ২৩ বছর – আলি দস্তি
    Next Article তারার দেশের হাঁস – আলী ইমাম

    Related Articles

    আশাপূর্ণা দেবী

    সমুদ্র কন্যা – আশাপূর্ণা দেবী

    April 24, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    আমাদের মহাভারত – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    March 20, 2026
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Our Picks

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }