Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কিশোর রহস্য রোমাঞ্চ গল্পসমগ্র ১ – আলী ইমাম

    লেখক এক পাতা গল্প241 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৯. বুকে জাগে ঢেউ

    সামনের লাল মাটির ঢিবিটা লাফিয়ে পার হলো কংকারী। তার শব্দ পেয়ে একটা সজারু শরীরের কাঁটা ফুলিয়ে কষাড়ের ঘন জঙ্গলে ঢুকে গেল । এই প্রাণীটিকে একবার ঐ রকম করে ছুটতে দেখে চন্দ্রকেতু বলেছিলেন:

    শল্পকী যায় তুমুল বেগে।

    সে কি আছে ভীষণ রেগে?

    কংকারী ইতিউতি তাকায়। না, সজারুটাকে কোথাও এখন দেখা যাচ্ছে না। এর তেলতেলে লাল মাংশ পুড়িয়ে খায় আদিবাসীরা।

    কংকারীর মাথাভর্তি ঝাঁকড়া চুল। কানে রক্তজবা ফুল গোঁজা। ওর বা হাতের একটা আঙুল নেই। একবার একটা হিংস্র চিতাকে আঘাত করতে গিয়ে সাহসী কিশোর কংকারী আঙুল হারিয়েছে। সে উলুঘাসের বনে ভেতর দিয়ে হেঁটে যায়। মধ্য ভাদ্রের দুপুরের রোদে হলুদ বুনোফুল ঝকঝক করছে । আকাশের রঙ এখন তিশি ফুলের মতো। বুনোফুল ঘন সবুজের মাঝে হলুদ ঝিলিক যেন। বাতাসে ঝাঝালো গন্ধ । বনতুলসীর ঝোপ থেকে একটা সোনা গুঁই মুখ বের করে জুলজুল করে তাকাতে থাকে। পাশেই বিশাল দিঘি। একপাশের সুপারি গাছের সারি । দীঘল গাছের ছায়া কাঁপে। দিঘিতে কাকের চোখের মতো পানি টলমল করছে। কলমি দামের নিচে ভেসে বেড়ায় বিশাল আকারের মাছগুলো । কখনো ঘাঁই মারে। অজস্র শাদা শাপলা ফুটে রয়েছে।

    কংকারী সেদিকে মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে রইল। মৃদুমন্দ বাতাসে শাপলা পাতা কাঁপছে। কয়েকটা জলফড়িং শরডগার উপর বসে রয়েছে। অনেকটা পথ হেঁটে আসার জন্যে কংকারী একটু ক্লান্ত। দুপুরের রোদে জঙ্গলগড়ের ভেতর দিয়ে এসেছে সে। পথটি যথেষ্ট নির্জন। তার মুখে ঘাম চিকচিক করছে। দিঘির কলাকলো বাতাস এসে তাকে খানিকটা স্নিগ্ধ করে তুলল। কাঁটার আঘাতে ওর বাঁ পায়ের একটা অংশ ছড়ে গেছে। সেখানে জ্বালা করছে। গন্ধ ভাদালের পাতা কচলে লাগিয়ে দেয়। হরিতকি গাছ থেকে কয়েকটা দুর্গা টুনটুনি ফরফর করে উড়ে যায়। কংকারী ঝোপে উঁকি মেরে পাখিদের ছোট নীল ডিম দেখার চেষ্টা করে।

    কংকারী ধীরপায়ে দিঘিতে নামে। শীতল স্পর্শ পায়। স্বচ্ছ পানির নিচে সরপুঁটিদের চলাফেরা দেখা যায়। এই মাছকে অনেকে বলে শফরী। কংকারী পানিতে নামতে থাকে। লেবুফুল পানিতে টুপটুপ করে পড়ছে। তাকে শাদা শাপলা তুলতে হবে। চন্দ্রকেতু ভীষণ খুশি হবেন এই শাপলা পেলে। জলজ উদ্ভিদ আর ফুল চন্দ্রকেতুর কাছে খুব প্রিয়। কংকারী চলেছে চন্দ্রকেতুর কুটিরের দিকে। ডাহুকপুর গ্রামের শেষ মাথায় অর্জুন গাছের নিচে চন্দ্রকেতুর ছোট কুটির। চাল বেয়ে উঠেছে উঁই কুমড়োর লতা। চন্দ্রকেতু পুঁথি রচিয়তা। ছন্দ মিলিয়ে পদ্য রচনা করেন। তালপাতায়, ভূর্জপত্রে কালো আখর টেনে পদ্য লেখেন। তার খ্যাতি ছড়িয়ে গেছে আশপাশের দশ গাঁয়ে। রাতের পর রাত জেগে ধূসর পুঁথির পাতায় স্বদেশের ইতিহাস লেখেন চন্দ্রকেতু। সমতট, হরিকেল, বরেন্দ্র বাঁকালের ইতিহাস। বঙ্গের নানা পর্বের ইতিহাস।

    চন্দ্রকেতু বিভিন্ন জনপদে গিয়ে ইতিহাসের তথ্য সংগ্রহ করেন। এ ব্যাপারে তার কোনো ক্লান্তি নেই। হয়তো শুনলেন কোনো পণ্ডিতের সংগ্রহে বিশেষ একটি পুঁথি রয়েছে। অমনি চললেন সেখানে। হয়তো জানলেন কোনো দুরূহ শ্লোকের অর্থ আবিষ্কার করতে পেরেছে কোনো মনিষী। তখন তার আশ্রমের দিকে যাত্রা। পথ যত দুর্গম হোক। ঐ অঞ্চলের প্রায় সকল খেয়াঘাটের মাঝি চেনে পরিব্রাজক চন্দ্রকেতুকে।

    চন্দ্রকেতু জানতে আগ্রহী কোন সময় থেকে এই অঞ্চলে মানুষের বসবাস শুরু হয়েছে? কোথায় রয়েছে তার প্রমাণ?

    ঐতরেয় ব্রাহ্মণে প্রথম এই জনপদের উল্লেখ পাওয়া যায়। জনপদবাসিরা তখন পরিচিত পুণ্ডু বলে। তাদের বলা হতো পক্ষী জাতি। পাখিদের সাথে তাদের তুলনা করেছেন ঋষিরা। কেন তাদের পক্ষী জাতি বলা হয়েছে? কি এর রহস্য? তবে কি ঋষিরা ঐ জনপদের মানুষের ভাষা বুঝতে পারতেন না। যেমন বোঝা যায় না পাখিদের ডাক। বৈদিক ঋষিরা অন্য ভাষার জনগণের ভাষা বুঝতে না পারলেই তাদেরকে তুলনা করতে পশুর সাথে। মানুষের সমতুল্য বলে তাদের মনে করতেন না। বেদের একটি শ্লোকে যুদ্ধরত বিপক্ষীয় শত্রুদের সম্বন্ধে বলা হয়েছে। কুকুরের ন্যায় জঘন্য শব্দকারী যারা আমাদের ধ্বংস করতে ছুটে আসছে তাদের বিনাশ কর। যারা আমাদের সাথে যুদ্ধ করতে চায় তাদের ধ্বংস কর ।

    পুঁথির পর পুঁথি উল্টে গেছে চন্দ্রকেতু। কুটিরের দাওয়ায় বসে রাতের আকাশে নক্ষত্রের দিকে মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন চন্দ্রকেতু। তারা ঝিকমিক আকাশ। রাতের সেই আকাশ বুঝি মস্ত এক নীল হরিণের পিঠ। তার মাঝে সোনালি খইয়ের মতো ফুটে আছে নক্ষত্ররাজি। পরাশরের পুঁথিতে আছে, হস্তনক্ষত্রে সূর্য প্রবেশ করলে অগস্ত্যতারা দৃশ্য হন এবং রোহিনীতে প্রবেশ করলে অগস্ত্যতারা অদৃশ্য বা অস্তগত হন।

    এই ধরনের বাক্য চন্দ্রকেতুকে বারবার ভীষণ ভাবে উদ্দীপ্ত করে। কতোটা তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণশক্তি থাকলে এ ধরনের মন্তব্য সম্ভব। চাই প্রবল নিষ্ঠ। ধৈর্য ধরে নক্ষত্রসমূহ অবলোকন করা। তারার নাম ধ্রুব,ব্রহ্মহৃদয়, অগ্নি, অগস্ত্য, লুব্ধক। অশ্বিনী নক্ষত্রে ঘোড়ার মুখ কল্পনা করা হয়েছে। তিমিমণ্ডলে মানুষের মাথাযুক্ত একটি মাছের ছবি দেখা যায়। কৃত্তিকা নক্ষত্রের ছয়টি তারা দিয়ে আগুনের শিখা কল্পনা করা হয়েছে।

    পুঁথির ধূসর পাতায় তারাদের নামগুলো দেখে চন্দ্রকেতুর মনে হতো তাতে যেন সুদূরের আভাস রয়েছে। কত নাম। হলদিবরণ, শকটমুখ, অনুসূয়া, সন্নতি, বিনতা, পূতনা, চিত্রলেখা ।

    মাটির মানুষের বুকে বুঝি ঢেউ তোলে নক্ষত্রের নীল আলো। চন্দ্রকেতু সেই নীল আলোর প্রভাবকে গভীর ভাবে অনুভব করতে চান। কত রাত প্রার্থনার ভঙ্গিতে তিনি বসে থেকেছেন উঠোনে। রাতের শিশির তাকে ভিজিয়ে গেছে। কোণার জবাগাছ থেকে লাল ফুল ঝরে গেছে দমকা বাতাসে। রাতের শিরশিরে বাতাস বয়ে গেছে। চন্দ্রকেতু কুশি ঘাসের চাটাইতে বসে ধ্যানমগ্ন। এই যে বিশাল ব্রহ্মাণ্ড, কতটুকু মাত্র তার জানতে পেরেছেন। মানুষের জানার পরিধি কত অল্প। ব্রহ্মাণ্ডের বিশালত্বের কথা ভেবে চিন্তাশক্তি আলোড়িত হয়। পুরাণ কাহিনীতে রয়েছে এই সৃষ্টিতত্ত্বের কথা। সৃষ্টির আদিতে সর্বত্র ছিল পানি। থইথই পানি। এই পানি ক্রমে ঘুরতে থাকে। ঘুরতে ঘুরতে এক সময় প্রবল ফেনার উৎপত্তি। এছাড়াও পানি থেকে বের হয়ে আর এক প্রকার শাদা জিনিস। সৃষ্টিকর্তা সেই সাদা জিনিস থেকে একটা ডিম বা অণ্ড সৃষ্টি করেন। এক সময় এই ডিমটি ফেটে দুভাগে বিভক্ত হয়ে যায় এবং এই ডিমের ভেতর থেকে আবির্ভাব হয় ব্রহ্মার । সে জন্যে একে বলে ব্রহ্মাণ্ড। এই ফাটা ডিমের এক অংশ হলো পৃথিবী। অন্য অংশ আকাশ।।

    আঃ! আকাশের কথা ভেবেই চন্দ্রকেতু আনন্দিত। পৃথিবীর মানুষজনের তুচ্ছ আচরণগুলোকে তখন ভুলে যেতে ইচ্ছে করে।

    চন্দ্রকেতু শুধু বলেন, আমাকে জ্ঞান অর্জনের শক্তি দাও। আমি জানতে চাই। জানাতে চাই।

    চন্দ্রকেতু কখনো আনমনে হাঁটতে হাঁটতে চলে যান কার্পাশ ক্ষেতের কাছে। বাতাসে কার্পাশ ফুল দোলে। তাঁতিরা সংগ্রহ করে নিয়ে যায় কার্পাশ তুলো। এ দিয়ে তৈরি হয় মিহি বস্ত্র। খুব সুনাম সেই সূক্ষ্ম বস্ত্রের । প্রাচীনকালে ছিল চার রকমের বস্ত্র। সেগুলো হলো দুকূল, পাত্রোণ, ক্ষৌম ও কাপাশিক। বঙ্গের দুকূল হলো যেমন নরম তেমনি সাদা। পুরে দুকূল হলো শ্যামবর্ণ। দেখতে মণির মতো। কামরূপের দুকূল দেখতে পালতের মতো কাপড় তৈরি করে নিপুণ পদ্ধতিতে। রেশমের উৎকৃষ্ট শ্রেণীর কাপড়ের নাম পত্রোণ। পাতার পশম। নাগবৃক্ষ, বকুল আর লিকুচ গাছের এই রেশম পোকা জন্মাত। নাগবৃক্ষের পোকা থেকে হলুদ রঙের রেশম হতো। লিকুচের পোকা থেকে গম রঙের রেশম বের হতো।

    ডাহুকপুর গ্রামে অনেকগুলো লিকুচ গাছ রয়েছে। সারি বেঁধে লাগান। অনেকে বলে মাদারগাছ।

    চন্দ্রকেতু প্রায়ই যেতেন তাঁতিপাড়ায়। কোথায় যেত এই অপূর্ব বস্ত্র ? বণিকেরা এ দেশ থেকে এসব নিয়ে যেত দূর দেশে। সাত সমুদ্র তের নদী পেরিয়ে যেত বাণিজ্যপোত। সপ্তডিঙা মধুকর রায় ঢেউ ভেঙে যায় ময়ূরপঙ্খী, মকরমুখী। কোথায় যায়? কত দূর যায়?

    ঢেউ টলমল নদীর দিকে মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে থাকেন চন্দ্রকেতু। গঙ্গা নদীর মোহনায় ছিল বিখ্যাত গাঙের বন্দর। ছিল তাম্রলিপ্তি বন্দর। পাল ফুলে ওঠে মৌসুমী বাতাসে।

    সমুদ্রের উপকূল ধরে নৌযান যায়। যেতে যেতে লঙ্কা দ্বীপ। সোজাসুজি সমুদ্র পাড়ি দিয়ে সুবর্ণভূমিতে। যবদ্বীপে। সুমাত্রায়। চম্পা দেশে মালাক্কায়। যায় বিভিন্ন মশলার দ্বীপে। যেখানে রয়েছে এলাচ, দারুচিনি, পিপুলের বন। যেখানে বাতাসে ভেসে থাকে লবঙ্গ ফুলের মউ মউ গন্ধ।

    চন্দ্রকেতুর কাছে বেশি প্রিয় এই স্বদেশের ইতিহাস। গৌরবগাথা।

    শৈশবে তাকে একবার প্রচণ্ডভাবে অপমান করেছিল ক্ষেত্রপুরের এক উদ্ধত রাজ অমাত্য। সেই অপমানের জ্বালা ভুলতে আরো বেশি করে স্বদেশের জয়গাথা জানতে চেয়েছেন।

    চন্দ্রকেতু তখন কিশোর। ক্ষেত্রপুরে গিয়েছিল একটি ভগ্ন গড় দেখতে। শুনেছেন এই গড়ের একটি রহস্যময় ইতিহাসে রয়েছে । চন্দ্রকেতু আনমনে হাঁটছিলেন গড়ের ভেতরে। বুনো লতাপাতার একটা কটু গন্ধ। কোথাও ঝুলছে সাপের ফিনফিনে খোলস। ফোকরে বসে ডাকে জলকবুতর। গড়ের এক কোণায় হঠাৎ একটি চকচকে পদার্থ দেখতে পেয়ে কৌতূহলে এগিয়ে যান চন্দ্রকেতু। পদার্থটি থেকে আলো ঠিকরে আসছিল। কি এই জিনিস। ধুলোর মাঝে পড়ে আছে। জিনিসটি যত্ন করে তুলে নেন চন্দ্রকেতু। ঘন সবুজ রঙের একটি স্ফটিক টুকরো ।

    গোলাকার। কোনো দূরবীনে বসানো ছিল হয়তো। চন্দ্রকেতু স্ফটিকটিকে চোখের সামনে তুলে ধরেন। অমনি এক আশ্চর্য রকমের অনুভূতি হয় তার। দূরের জিনিস কাছে চলে আসে। চন্দ্রকেতু স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছেন দূরের লিকুচ গাছের পাতাগুলো। সবুজ পাতার ফাঁকে চিলের বাসা। চিলের ছানাগুলো দেখা যায়। লাল মুখ হাঁ করে আছে। তার মনে পড়ে যায় শীলভদ্র শ্রমণের কথা। তিনি জানিয়েছিলেন বিশেষ এক ধরনের স্ফটিক নির্মিত দূরবিন তখন ব্যবহার করতো সমুদ্র যাত্রায় বঙ্গের নাবিকেরা। তবে কি ক্ষেত্ৰপুরের এই গড়টিতে কোনো নাবিক বাস করত? সে শুনেছে রক্তমৃত্তিকানিবাসী বুদ্ধগুপ্ত হলেন প্রথম বাঙালি নাবিক। যিনি সমুদ্র পাড়ি দিয়ে সুদূর কম্বোজ, চাম্পা দেশে গিয়েছিলেন। এই গড়ের সাথে রক্তমৃত্তিকা বিহারের সম্পর্ক ছিল । চন্দ্রকেতু কিশোরকাল থেকেই অত্যন্ত মেধাবী। শাণিত বুদ্ধির অধিকারী। যে কোনোঘটনার তাৎপর্য বোঝার ক্ষমতার তার অসাধারণ। তিনি বুঝতে পারেন পুরানো কালের ইতিহাসের এক অজানা অধ্যায়ের যোগসূত্রকে হঠাৎ করে খুঁজে পেয়েছেন তিনি। ক্ষেত্রপুরের এই গড়টি ছিল নাবিকদের ঘাঁটি। কাছেই ডাহুকপুরের তাঁতিপাড়া। আশেপাশে রয়েছে আরো কয়েকটি বিখ্যাত উঁতিদের গ্রাম। যেখানে কুশলী কারিগরেরা তৈরি করত মসলিন। বণিকেরা এই নাবিকদের যানে করে তখন বঙ্গসাগরের বন্দরে বস্ত্র পাঠাত। ক্ষেত্রপুর ছিল ভাণ্ডারিয়ক। এর মানে এমন এক স্থান যেখানে কোনোও কিছু সম্যকভাবে ভাণ্ডার করে রাখা হয়।

    ক্ষেত্রপুরের গড়ে মসলিন এনে রাখা হতো। চন্দ্রকেতু আরো কৌতূহলী হয়ে এগিয়ে যান সামনের ধ্বংসস্তূপের দিকে। আগাছায় ঢাকা। কাঁটাঝোপ সরিয়ে তাকান চন্দ্রকেতু। ডিবির মতো একটি স্থান । একধারে মাটির ভেতর থেকে বেরিয়ে এসেছে পোড়ামাটির চিত্রফলক। চন্দ্রকেতু একটি গাছের শক্ত ডাল ভেঙে মাটি সরাতে থাকে। নরম মাটি। কিছুক্ষণ সরাতেই ফলকগুলো পাওয়া গেল। ফলকের মাঝে একটি ভূর্জপুত্রের পুঁথি। পুঁথিটিকে পেয়ে বিস্ময়াভূত হন চন্দ্রকেতু। পুঁথিতে লেখা নৌযাত্রা। প্রাচীন বাঙলার নৌযাত্রার অনেক কাহিনী পাওয়া যাবে এতে। হঠাৎ কিশোর চন্দ্রকেতু দেখলেন তার সামনে এক দীর্ঘ ছায়া। ক্ষেত্রপুরের এক রাজ অমাত্য শাকন। উদ্ধত স্বভাবের মানুষ। সে এসেছিল ঐ বনে ভেষজ লতার জন্যে।

    চন্দ্রকেতুকে ভগ্ন গড়ের ভেতরে ঢুকতে দেখে কৌতূহলী হয়। এই ভগ্ন তূপের ভেতরে তো সহজে কোনো মানুষ প্রবেশ করে না। এতোক্ষণ গোপনে লুকিয়ে থেকে কিশোর চন্দ্রকেতুর কার্যলাপ লক্ষ্য করছিলো।

    চন্দ্রকেতু দেখেন তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে শাকন। চমকে যান চন্দ্রকেতু। শাকনের নিষ্ঠুর স্বভাবের কথা তিনি জানেন। শাকন প্রায়শই পাখি ধরে মুচড়িয়ে পাখির মাথা ছিড়ে ফেলে দেয়। এই বীভৎস কাজে শাকন যথেষ্ট উল্লাস অনুভব করে।

    বাজখাই গলায় শাকন জিজ্ঞেস করে,

    এই বালক, এখানে তুমি কি করছ?

    চন্দ্রকেতু সরল ভাবে হাসে। তার হাতে ধরা ভূর্জপত্রের পুঁথি।

    পুঁথি পেলাম একটা।

    তার আগে কি যেন চোখের সামনে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখছিলে? হীরে বুঝি?

    না, দূরবিনের কাঁচের টুকরো। ওটা দিয়ে আমি দূরের জিনিস দেখছিলাম।

    গর্জে উঠল শাকন। মিথ্যে কথা । তুমি এখানে এসেছ গুপ্তধনের সন্ধানে।

    ঠিক বলেছেন। আমি এখানে গুপ্ত জিনিসের খোজেই এসেছি।

    কি সে জিনিস?

    ইতিহাস।

    ইতিহাস! ওটা আবার কোন ধরনের গুপ্তধন? রসিকতা করছ আমার সাথে?

    না, । আমি আসলে প্রাচীন ইতিহাসের সন্ধানে ঘুরি । আজ এখানে এসে পেয়েছি প্রাচীন নৌযাত্রার পুঁথি।

    আমি তোমার ইতিহাসের নিকুচি করছি। তুমি সেদিনের এক বালক। ইতিহাসের কি বোঝো?

    আমি বুঝতে চাই।

    প্রবঞ্চক। জোচ্চোর ।

    শাকন যেন বাজপাখির মতো ঝাঁপিয়ে পড়ল চন্দ্রকেতুর ওপর। চন্দ্রকেতুর চুলের মুঠি ধরে ঝাঁকাতে লাগল।

    কোথায় সেই সবুজ হীরে? জলদি বের কর।

    ঘটনার আকস্মিকতায় বিমূঢ় হয়ে যান চন্দ্রকেতু। এই লোকটি তার সাথে এমন নিষ্ঠুরের মতো আচরণ করছে কেন?

    গড়ের দেয়ালের চন্দ্রকেতুর মাথা ঠুকে দিতে থাকে শাকন। তাকে তখন একটি হিংস্র বন্য বরাহের মতো লাগে।

    শাকনের চোখ দুটো ক্রমশ জবাফুলের মতো লাল হয়ে উঠছে। আঘাতে আঘাতে জর্জরিত চন্দ্রকেতু। তার চোখের সামনে যেন সবকিছু দুলে ওঠে। তিনি ঝাপসা দেখছেন। শাকন ক্রুদ্ধ স্বরে চিৎকার করছে—

    বল, কোথায় লুকিয়ে রেখেছিস গুপ্তধন?

    আমি হীরে পাইনি। সত্যি বলছি ।

    হীরে না পেলে আমি তোমাকে এখানে জ্যান্ত পুঁতে রেখে যাব । কেউ কিছু জানতে পারবে না।

    চন্দ্রকেতুর কপাল কেটে রক্তের ধারা নামছে। সে নোনা স্বাদ পায় । বাঘের থাবার মতো এগিয়ে আসছে শাকুনের লোমশ হাত।

    আর তখনি ঘটে যায় সেই আশ্চর্যজনক ঘটনাটি। ফোঁস করে একটি শব্দ শোনা যায়। একটি ফোকরের কাছে দাঁড়িয়েছিল শাকন। চন্দ্রকেতু দেখেন ফোঁকরের আবছা অন্ধকারের ভেতর থেকে ফণা তুলছে একটি কালকেউটে।

    তোকে খুন করব আমি শয়তান বালক।

    শাকন কোমর থেকে ধারালো অস্ত্র খোলে। ঠোঁট কাঁপছে চন্দ্রকেতুর। তিনি শুধু ফিসফিস করে বলেন, আমি কোনো মিথ্যে বলিনি। অন্যায় করিনি।

    একটা আর্তনাদ শোনেন চন্দ্রকেতু। কালকেউটে শাকনের চোখে মুখে তীব্র ভাবে ছোবল মারছে। শাকনের হাত থেকে অস্ত্র পড়ে যায়। টলতে থেকে বিশালদেহী শাকন। একটি অশ্বথের ঝুরি ধরে টানতে থাকে। গড়ের একটি অংশ নড়ে ওঠে। কয়েকটি ইট সরে যায়। চন্দ্রকেতু বিস্মিত হয়ে দেখে সামনে একটি প্রকাণ্ড গহ্বরের মতো সৃষ্টি হয়েছে। কেউটের ছোবল খাওয়া শাকন টলতে টলতে ঘুরপাক খেয়ে সেই কালো গর্তের কাছে যায়। শাকন সেই গভীর গর্তটি দেখতে পাচ্ছে না। দেয়ারে আঘাত পেয়ে শাকন সেই অন্ধকূপে ঝুপ করে পড়ে যায়। চন্দ্রকেতু সাবধানে এগিয়ে যান। শেষবিকেলের একচিলতে রোদ ক্ষীণভাবে পড়েছে সেই গর্তে। সাবধানে উঁকি দেন চন্দ্রকেতু। অন্ধকূপে উঁচিয়ে রাখা ধারালো বল্লমে গেঁথে আছে শাকন। এফোঁড় ওফোঁড় হয়ে গেছে। শাকনের বিস্ফারিত চোখ।

    চন্দ্রকেতু অতি সাবধানে গাছের ডাল ধরে এগিয়ে যান। তার বুকে আবার সাহস ফিরে আসছে। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন তিনি। শরীরের এখনো কাঁপুনি। কোনোমতে বটবৃক্ষের শিকড় ধরে ঐ বিপজ্জনক স্থান থেকে বেরিয়ে আসেন। তার শরীরের অনেকটা অংশ ছড়ে গেছে। ভূর্জপত্রের পুঁথিটি হারায়নি সে। সাবধানে আগলে রেখেছিল। শুধু সবুজ স্ফটিকের টুকরোটিকে খুঁজে পান না।

    গড়ের ভেতরে থেকে যখন বেরিয়ে এলেন তখন গাছপালা মাথায় লেগে রয়েছে বিদায়ী রোদের আভা। সুনসান চারদিক। বালক চন্দ্রকেতু ভূর্জপত্রের পুঁথিটি নিয়ে এগুতে থাকেন। পুঁথির নাম নৌযাত্রা । কি রয়েছে। এতে? ক্ষেত্রপুরের নাবিকেরা কিভাবে কোনো দেশে কোনো দ্বীপে গিয়েছে তার বিবরণ। চন্দ্রকেতু যেনো স্পষ্ট শুনতে পান দাঁড় ছপছপ শব্দ। পুঁথির লেখাগুলোর অর্থ জানার জন্যে অস্থির হয়ে পড়েন। ক্ষেতপুরের দুটো গ্রাম পরেই বেত্রী নদীর তীরে অনন্তপুর গ্রাম। সে গ্রামে বাস করেন কুন্তক পণ্ডিত। পুঁথির প্রাচীন লিপির পাঠোদ্ধার করতে এ অঞ্চলে একমাত্র তিনিই পারদর্শী। চন্দ্রকেতু সিদ্ধান্ত নেন তাকে কুন্তক পণ্ডিতের আশ্রমে যেতে হবে। সন্ধে হয়ে এসেছে। ক্ষেত্রপুর গ্রামটি পেছনে ফেলে খেয়াঘাটের দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন চন্দ্রকেতু। গয়না নৌকো করে অনন্তপুর যাওয়া যাবে। নদীতে ফেরা পাখিদের দেখতে পাচ্ছেন চন্দ্রকেতু বাঁশঝাড়ে ঝাঁক বেঁধে ফিরে আসছে বকেরা। বকের ছানারা শব্দ করছে। চন্দ্রকেতু বেত্রী নদীর বুক থেকে ভেসে আসা কলোকলো বাতাসের স্পর্শ পান। ক্রমশ তিনি প্রসন্ন হচ্ছেন। ক্ষেত্রপুরের গড়ের শ্বাসরুদ্ধকর ভয়ঙ্কর পরিবেশ থেকে তিনি মুক্তি পেয়েছেন। কালকেউটের ছোবলে শাকনের অপঘাত মৃত্যু না ঘটলে ঐ হিংস্র লোকটি তাকে গড়ের মাটিতে এতোক্ষণে জ্যান্ত পুঁতে ফেলত।

    অনন্তপুরের ঘাটে যখন গয়না নৌকো এসে থামল তখন বেশ রাত। তারা ঝিকমিক আকাশ। নক্ষত্রের ছায়া কাঁপছে নদীতে। খেয়াঘাটের কাছেই কুন্তক পণ্ডিতের কুটির। প্রদীপ জ্বালিয়ে পুঁথিপাঠ করছিলেন কুন্তক পণ্ডিত। মাধবীলতার ঝাড় লতিয়ে উঠেছে তার কুটিরের বেড়াতে। চন্দ্রকেতু দাঁড়ান সেখানে।

    শব্দ শুনে তাকান কুন্তক। দেখলেন আবছা অন্ধকারের মাঝে কে যেন দাঁড়িয়ে আছে।

    কে, কে ওখানে?

    আমার নাম চন্দ্রকেতু। ডাহুকপুর আমার বাড়ি। আমি আপনার কাছেই এসেছি কুন্তক।

    এত রাতে!

    কুন্তক পণ্ডিত প্রদীপ হাতে দাওয়া থেকে নেমে আসলেন। একটা রাতচরা পাখি কোথা থেকে যেন ডেকে উঠল। প্রদীপের আলোতে দেখলেন একটি মায়াবী মুখের কিশোরকে। ডাগর দুটো চোখ । কিন্তু ছেলেটির কপালের কাছে গভীর কাটা দাগ। রক্ত জমাট বেঁধে কালচে হয়ে আছে।

    তুমি আহত চন্দ্রকেতু?

    হ্যাঁ। ক্ষেত্ৰপুর গড়ে এক দুর্ঘটনায় পড়েছিলাম।

    তুমি কি এখন ক্ষেত্ৰপুর থেকে এসেছ?

    এসেছি, কারণ আমি সেখান থেকে একটি মূল্যবান জিনিস সংগ্রহ করতে পেরেছি। এই পুঁথিটি পেয়েছি।

    কই, দেখি, দেখি।

    পরম আগ্রহভরে কুন্তক পণ্ডিত চন্দ্রকেতুর কাছ থেকে ভূর্জপত্রের পুঁথিটি তুলে নেন। পাতা উল্টিয়ে বিস্মিত হন তিনি।

    এ যে খুব দুষ্প্রাপ্য পুঁথি।

    জানি, একমাত্র আপনিই পারেন এর পাঠোদ্ধার করতে। সে জন্যেই এত রাতে আপনার কাছে এসেছি।

    কুন্তক তীক্ষ্ণ চোখে তাকালেন চন্দ্রকেতুর দিকে। সেই কিশোরের চোখে তিনি জিজ্ঞাসার ঝিলিক দেখলেন। তিনি অনুভব করলেন এই কিশোর সাধারণ কেউ নয়। তার ভেতরে জন্ম নিয়েছে অজস্র কৌতূহল। এর ভেতর দিয়ে জ্ঞানের প্রবাহ সঞ্চারিত হবে। জনপদের অধিবাসীরা আলোকিত হবে এর মাধ্যমে।

    কুন্তক ভাবলেন, এই পুঁথির অর্থ তাকে বুঝিয়ে বলতে হবে।

    তুমি ভেতরে এসো চন্দ্রকেতু। আমি তোমাকে এই পুঁথির কাহিনী বলব। তার আগে তুমি হাত-মুখ ধৌত কর। খাদ্য গ্রহণ কর। পথশ্রমে ক্লান্ত তুমি।

    আমার সমস্ত ক্লান্তি দূর হয়ে যাবে যখন আপনি আমাকে এই পুঁথির কাহিনী বলবেন।

    প্রদীপে রেডির তেল ঢেলে দিলেন কুন্তক। প্রদীপ তেজী হয়ে জ্বলতে লাগল।

    পুঁথির ভেতর থেকে যেন কলকল করে উঠল নদীর স্রোত। বন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়া নৌযানের কথা। কত যে নাম সেই সব পোতের । সলব, জলবা, কোশ, বালাম, পারোন্দ, বাতারি, পাতেলা, রথগিরি, জিলিয়া।

    বেদে নৌযানের নাম অত্রিপবণ । তখন বাণিজ্য তরীতে পাল আর মাস্তুল ব্যবহৃত হতো। বড় বড় পোত যেত সমুদ্রে। চার মাস্তুল বিশিষ্ট নৌকায় ব্যবহৃত সাদা রঙ। লাল তিন মাস্তুল নৌকায়। দু মাস্তুল নৌকায় পীত রঙ। বিভিন্ন জন্তু জানোয়ার পাখির মুখের আকৃতিতে গড়া হতো নৌকার সম্মুখ ভাগ।

    তাম্রলিপ্তির বেশ কিছু দক্ষিণে কুমার নদীর মোহনায় ছিল গাঙ্গেয় বন্দর। প্রসিদ্ধ বন্দর। সেখানে নিয়ে যাওয়া হতো মসলিন।

    কুন্তক স্মিতভাবে তাকালেন চন্দ্রকেতুর দিকে।

    তোমার এই পুঁথি আমাদের কাছে এক নতুন পৃথিবীর খবর দিচ্ছে। একদা এই অঞ্চলে উৎকৃষ্ট শ্রেণীর বস্ত্র তৈরি হতো। ভোরবেলার শিশিরের মতো ছিল সেই বস্ত্র। এত মিহিন। এই পুঁথিতে রয়েছে বিভিন্ন বন্দরে যাওয়ার বিবরণ । আমাদের দেশের গৌরবগাঁথা।

    চন্দ্রকেতুর মুখ তখন আনন্দে ঝকমক করতে থাকে। দেশকে প্রচণ্ড রকমের ভালোবাসে সে।

    এ দেশের লতাপাতা সবুজ ঘাসে ঢাকা প্রান্তরে রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে বড় হয়ে উঠেছেন তিনি।

    চন্দ্রকেতুর একটি প্রিয় শ্লোক রয়েছে প্রকৃত পৈঙ্গল পুঁথিতে। সেখানে বলা হয়েছে, কলাপাতায় গরম ভাত, গাওয়া ঘি, মৌরলা মাছের ঝোল এবং নালিতা শাক যে স্ত্রী নিত্য পরিবেশন করতে পারে তার স্বামী পুণ্যবান।

    দিঘির পানিতে মাছের মতো ডুবে ডুবে অনেকগুলো সাদা শাপলা টেনে তুলল কংকারী । শাপলা ডগার কাছে তিরতির করে ভাসছে কাজলগৌরী মাছ। রুপোলি ছিপছিপে শরীর। সেদিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে কংকারীর কেমন যেন ঘোর লেগে যায়। টলটলে পানির নিচে রুপোলি কাঁপন। তরঙ্গায়িত হচ্ছে। চন্দ্রকেতু তাকে বলেছিলেন—

    জলের নিচে বাস করে যে মীণ
    সেও কি কখনো হয় খুব অচিন
    জলের নিচে মীণের ঠাঁই
    সে জগতের সন্ধান চাই।
    কি করে? জিজ্ঞেস করেছিল কংকারী।
    এর জন্যে প্রয়োজন অন্য চোখে দেখা।
    মীণ, পখি, পতঙ্গের জীবনে যা লেখা।
    আড়াল করেছে যারে বাঁধার প্রাচীর
    তারে ভেঙে জেগে ওঠো, মন করো থির।

    চন্দ্রকেতুর সব কথা কংকারী ঠিকমতো বুঝতে পারে না। কি প্রচণ্ড আবেগ মিশিয়ে কথা বলেন চন্দ্রকেতু। এক আশ্চর্য ধরনের মানুষ এই ডাহুকপুরের চন্দ্রকেতু। চারপাশের প্রকৃতির রহস্য দেখে বিস্মিত হতে জানেন। এই গুণটি আবার সব মানুষের মাঝে থাকে না। চন্দ্রকেতু যেন তার মাঝেই এই বোধটিকে ক্রমশ সঞ্চারিত করতে পারছেন। এখন উড়ে যাওয়া পাখিদের দেখলে কংকারী হঠাৎ কখনো আনমনা হয়ে যায়। ওর বুকেও জাগে ঢেউ।

    হঠাৎ শাঁই করে একটা শব্দ শোনে কংকারী। তারপর মানুষদের উল্লা ভরা চিৎকার। চমকে তাকায় কংকারী। কয়েকজন গারুড়ী জাতের লোক এসে দাঁড়িয়েছে দিঘির পাশে। কুচকুচে কালো শরীর। তাদের হাতে এক ধরনের ছোট বর্শা ট্যাডা। তারাই হইচই করে এখানে এসেছে ভেঁদড় শিকার করতে। পাশের বিলের সাথেই দিঘিটির একটি সংযোগ রয়েছে। গারুড়ীরা চামড়া আর তেলের জন্যে ভেঁদড়, শুশুক মারে। এটাই তাদের পেশা। একজন গারুড়ী ট্যাড়া দিয়ে একটা ভোঁদড়কে গেঁথে ফেলতে পেরেছে। পানিতে ছটফট করছে আহত ভোদড়টা। গরুড়ীটা কেমন নিষ্ঠুর ভাবে ভোঁদড়টাকে ক্রমাগত আঘাত করতে করতে মেরে ফেলল। দলের বাকিরা আনন্দে চিৎকার করছে। কংকারী ঠিক বুঝে উঠতে পারল না, এতে চিৎকার করার কি আছে! গারুড়ীরা মৃত ভোঁদড়টির চামড়া টেনে ছিলতে শুরু করল।

    কংকারী সাদা শাপলা নিয়ে এগিয়ে যায়। সামনের বাঁকটা পেরুলেই শিরিষ বন। তারপরেই শুরু হয়েছে ডাহুকপুরের সীমানা । ঐ গ্রামে অসংখ্য বেত ঝোপ। তার ভেতরে থাকে ডাহুক। লাজুক পাখিটি থাকে পাতার আড়ালে। কুব কুব করে ডাকে। গ্রামের নাম তাই ডাহুকপুর। কংকারীর মাথার উপর টুই টুই করে কয়েকটা হলুদ পাখি উড়ছে। বসন্তবৌরি পাখি। কংকারী ভাবছে ওর এই যাত্রায় এই পাখিরাও সঙ্গী হলো নাকি। নির্জন পথে কোনো সঙ্গীকে পেলে ভালোই লাগে। কংকারী জিজ্ঞেস করতে চায়,

    ও হলুদ পাখির দল, তোমরাও কি আমার সাথে চন্দ্রকেতুর কুটিরে যাবে?

    পাখিরা ডাকে টুই টুই।

    জানো পাখি, পদ্যকার চন্দ্রকেতু তোমাদের নিয়ে এক পুঁথি রচনা করেছেন। নাম দিয়েছেন ‘পক্ষীচরিত’।

    হঠাৎ শোঁ শোঁ করে উত্তর দক্ষিণ থেকে প্রচণ্ড বেগে বাতাস বইতে থাকে। আলো কেমন কমে আসে। আকাশ কালো হয়ে যায়। মাঠ থেকে শুকনো পাতা পাক খেয়ে উড়তে থাকে। মাঠে একটি ঘূর্ণির সৃষ্টি হয়েছে। কংকারী দৌড়ে গছের নিচে যায়। ঘূর্ণিটাকে দেখে। পাক খেয়ে ঘূর্ণিটা এগিয়ে যাচ্ছে। একটা পাখি ঐ ঘূর্ণির ভেতরে পড়ে যায়। নিমিষেই পাখিটার শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। শিমুল তুলোর মতো পাখিটার লাল মাংশ ছিড়ে খুঁড়ে উড়তে থাকে। কংকারী ভাবল যদি ঐ পাখিটার মতো সে ঘূর্ণিপাকে পড়ত। ভাবতেই তার শরীরটা কেমন শিরশির করে উঠল।

    শিরিষ বনের ভেতরে আলো-ছায়ার খেলা। কংকারীর শরীরের উপর শুকনো পাতা ঝরে পড়ে। কোথাও শালগাছ। সবুজ টিয়ার ঝাঁক বসে আছে শালের শিকড়ে। টিয়ারা যখন ট্যাঁ ট্যাঁ শব্দ করে উড়ে যায় তখন তাদের ডানার ঝাপটায় শালের মঞ্জুরী খসে পড়ে বাতাসে। কংকারী কেমন মনমাতানো গন্ধ পায়। গভীর জঙ্গলের কখনো দেখা যায় লাল পালকের বনমোরগদের। শাল গাছের খোঁড়লে কখনো চকচক করে কোনো বন মুরগির ডিম।

    দূর থেকেই দেখল কংকারী । চন্দ্রকেতু জলপায়রাদের খাওয়াচ্ছে। পাখিরা তার চারপাশে উড়ছে। কংকারীকে দেখে চন্দ্রকেতু খুশি হলেন।

    এত শাদা শাপলা এনেছো?

    আপনি ভালোবাসেন।

    জলে জন্মানো ফুল আর উদ্ভিদ আমি ভালোবাসি। আসলে আমাদের দেশটাই তো হলো গিয়ে জলজ প্রকৃতির দেশ। কত নদী নালা, খাল বিল। প্রকৃতি কত স্নিগ্ধ। মৃত্তিকা উর্বর। বলল, এত সুন্দর মনোরম দেশ কি কোথাও আছে।

    আমি আজ এখানে আসার পথে বেশ কয়েকটি নতুন ধরনের পাখি দেখতে পেয়েছি। কি যে অপূর্ব তাদের পালকের বাহার। কোনোটার ময়ূরকণ্ঠ রঙ। এত সুন্দর পাখিরা। তাদের ডানা ঝিলমিল করছে।

    তোমরা দৃষ্টিশক্তি ক্রমশ তীক্ষ্ণ কংকারী। তুমি জগত সংসারের ভিন্ন রূপ আবিষ্কার করার চেষ্টা কর। তোমাদের ভেতরে মমতা রয়েছে।

    কবি চন্দ্রকেতু, আপনার সাথে বলার পর থেকে আমি যেন আমার ভেতরে একটা পরিবর্তনকে স্পষ্ট অনুভব করতে পারছি।

    তুমি কি প্রকৃতির ভেতরে নিত্য ঘটে যাওয়া পরিবর্তনগুলো লক্ষ্য কর না। বীজ থেকে গজায় লকলকে সবুজ চারা। জলজ উদ্ভিদের ডগায় মালার মতো ঝুলে থাকে মীণের ডিম। সেগুলো যখন পোণায় রূপান্তরিত হয় তখন জলাশয়ে চঞ্চলতা বাড়ে। এভাবেই জাগে জীবন।

    কংকারীর চোখের সামনে তখন যেন উদ্ভাসিত হয় জীবনের বিচিত্র রূপ।

    ঠিক ঐ সময় সামনের পথ দিয়ে কয়েকজন গ্রামবাসীকে ভয়ার্ত ভাবে ছুটে যেতে দেখা যায়। মনে হয় তাদের কেউ বুঝি তাড়া করছে। চন্দ্রকেতু উচ্চকণ্ঠে জিজ্ঞেস করেন,

    তোমরা কোন গ্রামের অধিবাসী?

    হংসিকা।

    ইছামতীর তীরে গ্রাম। এভাবে কোথায় যাচ্ছ তোমরা?

    একজন ফিরে দাঁড়ায়। তার চোখেমুখে প্রচণ্ড উৎকণ্ঠার ছাপ।

    শুনেছি আমাদের গ্রামে আজ রাতে আক্রমণ হবে। হার্মাদরা আসছে।

    হার্মাদ। ভিনদেশি জলদস্যুর দল।

    তারাগঞ্জে আমরা এ খবর পেয়েছি। তাই নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে চলেছি।

    হংসিকা গ্রামের ভীতসন্ত্রস্ত অধিবাসীরা চলে গেল। চন্দ্রকেতু বিষন্ন মুখে সেদিকে তাকিয়ে থাকেন।

    বারবর এই জনপদের মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। এভাবে মানুষকে উৎখাত করা হয়েছে। এটা অন্যায়। ঘোরতর অন্যায়।

    কংকারী জানে, হার্মাদ হলো এদেশে আতঙ্কের আরেক নাম। এরা রাতের আঁধারে চুপিসারে আসে ছিপ নৌকা সুলুপে করে । নিঃশব্দে চলে আসে তারা। গ্রামে আগুন দেয়। মশাল ছুঁড়ে মারে ঘরের চালে । দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। হার্মাদরা খাপখোলা তলোর নিয়ে নিরীহ মানুষজনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। কুপিয়ে কুপিয়ে মারে মানুষকে হত্যা করে শিশুদের। তাদের মনে কোনো মায়াদয়া নেই। ভিনদেশি জলদস্যুদের হাত শিশুদের রক্তে রঞ্জিত হয়। তারা সেই রক্তমাখা হাত তুলে হো হো করে অট্টহাসি হাসে। তারা দূরের সাগর পারের দেশ পর্তুগালের দাগী অপরাধীর দল। চন্দ্রকেতু ফিসফিস করে বলে,

    এরা আমাদের সবুজ গ্রামগুলোকে পুড়িয়ে ছাই করে দেবে।

    এ কথা শুনে আঁতকে ওঠে কংকারী। ওর চোখের সামনে ভাসে। আগুনের শিখা। ভয়ংকর লাল জিভ বের করে আগুন ছুটে আসে। মানুষের আর্ত চিৎকার । সুলুপ থেকে লাফিয়ে নামছে হার্মাদরা। কংকারী হঠাৎ করে ফুঁসে ওঠে,

    আমি যদি কখনো হার্মাদদের বিরুদ্ধে লড়ি ।

    লড়বে। তবে তোমাকে এ জন্যে অস্ত্র চালনা শিখতে হবে। খালি হাতে তো তুমি আর লড়াইতে যেতে পার না।

    আমি অস্ত্র চালনা শিখতে চাই।

    দুর্গ একডালার নাম শুনেছ?

    শুনেছি। মেঘনার কাছে। নদী সেখানে প্রবল খরস্রোতা।

    ঐ দুর্গে আমার এক বন্ধু আছে। তুরগিল শাহ। দক্ষ সৈনিক। তার কাছে আমার একটি পত্র নিয়ে যাবে। তিনি তোমাকে অস্ত্র চালনা শেখাবেন।

    আমাকে আজই পত্রটি লিখে দেবেন?

    দেব। খাগের কলম দিয়ে শুধু পদ্যই রচনা করি না, প্রয়োজন হলে লড়াইয়ের চিঠিও লিখব। একডালা দুর্গে যেতে পারবে তো? যথেষ্ট দুর্গম পথ।

    যেতে আমাকে হবেই।

    সন্ধে হয়ে এসেছে। কাকের ডানার মতো নামছে অন্ধকার। ঝোপে জ্বলছে জোনাকি। কংকারী আজ রাতে চন্দ্রকেতুর কুটিরে থাকবে । নতুন লেখা পুঁথি শুনবে। চন্দ্রকেতু বেতের ডালা থেকে কংকারীকে তিলের নাড়, মুগের মোয়া, নারকেলের তক্তি খেতে দেয়। সাথে বটের আঠার মতো কাজলী গরুর দুধ। ক্ষুধার্ত কংকারী আয়েশ করে খেতে থাকে। চন্দ্রকেতু তাকিয়ে রযেছেন কংকারীর দিকে। এই কিশোর ছেলেটি অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। কংকারী অন্য ধরনের ছেলে। ওর ভেতরে একটা জ্বালা রয়েছে। ছেলেটা পিতৃহীন।

    কংকারী, তোমার পিতার মৃত্যু কিভাবে হয়েছিল?

    সাপে ছোবল দিয়েছিল। কালকেউটে। আমার পিতা মাঠ থেকে ফিরে বাড়ির পেছনে রক্তচন্দনের ঝোপের কাছে গিয়েছিল। হঠাৎ একটা চিৎকার শুনলাম। দৌড়ে গিয়ে দেখি পিতা মাটিতে গড়াগড়ি যাচ্ছে। মুখের কোণায় ফেনা। ঝোপের দিকে আঙুল তুলে বলল কালকেউটে। সারারাত বিষের যন্ত্রণায় ছটফট করে পিতা ভোররাতের দিকে মারা যায়। তারপর থেকে আমাদের সংসারে দারিদ্র। ভূ-স্বামীরা আমাদের ভিটে থেকে উৎখাত করে ।

    তাহলে বোঝে ভিটে হারানোর কি যন্ত্রণা। এ যেন মাটি থেকে শেকড়সুদ্ধ উপড়ে টেনে ফেলার মতো। হার্মাদরা এখন আমাদের গ্রামবাসীদের উৎখাত করতে চাইছে।

    সে রাতে রেড়ির তেলের প্রদীপের আলোতে এক মুগ্ধ কিশোরের সামনে পুঁথির পাতা খুললে কবি চন্দ্রকেতু। প্রদীপের শিখায় কংকারীর মুখ লালচে দেখাচ্ছে। বাইরে একটানা ঝিঝি ডাকছে।

    : শোনো কংকারী, এই ভূখণ্ডের মানুষেরা কিন্তু নিজের মাটিকে খুব ভালোবাসে। নদী থেকে যেমন ঢেউকে কখনো বিচ্ছিন্ন করা যায় না তেমনি স্বদেশপ্রেম থেকে মানুষকে। এই সমতট, হরিকেল, বরেন্দ্র, রাঢ়, চন্দ্রদ্বীপের মানুষেরা রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে কঠিন মাটির বুক চিরে ফসল ফলায়। তবু তাদের জীবনে এতো দুর্যোগ।

    কুটিরের জানালা দিয়ে দেখা যাচ্ছে দূরের আকাশ লাল হয়ে উঠেছে। সেদিকে তাকালো কংকারী। চন্দ্রেকেতু বললেন,

    হংসিকা গ্রাম আক্রান্ত হয়েছে।

    পুঁথির পাতা উল্টে গেলেন চন্দ্রকেতু। হংসিকা গ্রাম পুড়ছে। চন্দ্রকেতু গভীর আবেগে ভূর্জপাতায় স্বদেশের মুখ দেখেন।

    দেশের কাহিনী বলি শুন দিয়া মন
    বঙ্গাল মুলুকের কথা করিব বর্ণন।
    সুবে বাংলা সীমানার কথা যদি ধর।
    চাট্টিগ্রাম থেকে ছিল তেলিয়াগড়।
    উত্তরে পর্বতমালা দক্ষিণে মন্দারণ।
    সমুদ্রে বেষ্টিত বলে বায়ু শনশন।
    গঙ্গা নদী লখনৌতিকে দুই ভাগ করে।
    এক ভাগে বরেন্দ্র আর অন্যের রাঢ় পড়ে।
    উত্তর বঙ্গেতে ছিল পুণ্ড্রবর্ধন
    যাহার খ্যাতির কথা রচে কবিগণ।
    করতোয়া নদী তীরে বিশাল নগর
    দেশ বিদেশের বহু জন করে সেথা ঘর।
    মকরমুখীরা যায় করতোয়া দিয়ে
    পাল তুলে বাণিজ্যের পশরাকে নিয়ে।
    বরেন্দ্রের গৌড়তে ছিল বিপুল বসতি
    গ্রীস, মিশর, চীন, রোমে ছড়ায় সে খ্যাতি।
    গঙ্গার দুই স্রোত কুলুকুলু বয়
    মধ্যের ভূ-ভাগের নাম বঙ্গ বলে রয়।

    চন্দ্রকেতু সুর করে পড়ে চলেছেন। কংকারীর ভেতরে জ্বালা ছড়িয়ে যাচ্ছে। প্রচণ্ড সাহসী ছেলে সে। নিশুত রাতে একাকী মাঠ পাড়ি দেয়। হংসিকার আগুনে আকাশ নীল। সেদিকে তাকালে জ্বালা আরো বাড়ে। কালকেউটের ছোবলে মারা গেছে তার পিতা। চোখের সামনে সে দেখেছে পিতার শরীর কিভাবে বিষে জরজর হয়।

    তার ভেতরে তখন প্রতিশোধের আগুন জ্বলছিল। এরপর দিন টাংগি হাতে একাই ঝোপে ঢুকেছিল। কালকেউটের গর্তটা খুঁজে পেল। একটা ইঁদুর ছানা ধরে গর্তের ভেতরে ঢুকিয়ে দিলো। কিছুক্ষণ পরেই ফোঁস ফোঁস করে কালকেউটে মুখ বাড়াল। অমনি টাংগির কোপ বসাল কংকারী। সাপটাকে টুকরো টুকরো করে ফেলল। হার্মাদরা হচ্ছে কালকেউটের মতো। এখন ছোবল মারছে সমতটের গ্রামগুলোতে।

    আপনি আমাকে এখনি আপনার বন্ধু তুরগিল শাহের কাছে পত্র লিখে দিন। আমি কালই রওয়ানা দেব একডালা দুর্গের দিকে।

    চন্দ্রকেতু তখনি চিঠি লিখলেন। হার্মাদদের বিরুদ্ধে লড়তে হলে কংকারীকে অস্ত্র চালনায় পারদর্শী হতে হবে। অস্ত্রের কথা মনে হওয়াতে হঠাৎ চন্দ্রকেতুর মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। এক চীনা পরিব্রাজক তাকে একবার একটি অদ্ভুত ধরনের অস্ত্র উপহার দিয়েছিল। যে অস্ত্রের নির্মাণ পদ্ধতি অত্যন্ত রহস্যময়। মাত্র অল্প ক’জন কারিগর এটি তৈরি করতে পারত। এর নির্মাণ পদ্ধতিকে কঠোর ভাবে গোপন রাখা হয়েছে। সেই অস্ত্রের আশ্চর্য ক্ষমতা। কৌশলে ব্যবহার করতে পারলে একসাথে প্রচুর শত্রুকে নিহত করা সম্ভব। তবে অস্ত্রটি যথাযথভাবে চালনা করা বেশ জটিল। যখন চীনা পরিব্রাজক এটি উপহার দেয় তখন চন্দ্রকেতু যথেষ্ট বিস্মিত হয়েছিলেন। তিনি একজন কবি। পুঁথি রচয়িতা। বাস করেন কুটিরে। তপোবনে বসে একাগ্রচিত্তে সাধনা করেন। ভালোবাসেন সবুজ প্রকৃতি। জলজ ফুল, লতাপাতা, পাখি। তাকে কেন এ ধরনের একটি মারাত্মক জিনিস উপহার দেওয়া হচ্ছে! তিনি চিনা পরিব্রাজককে সমতটের প্রকৃতি বন্দনা করে লেখা একটি পুঁথি পাঠ করে শুনিয়েছিলেন। যেখানে বলা হয়েছিল, কিভাবে সমতটের জলাভূমি থেকে মাছরাঙ্গা পাখিদের ধরে রঙিন পালক সংগ্রহ করে তৈরি হয় পোশাক। যা পাঠানো হতো চিনের রাজদরবারে উপহার হিশেবে। তাকে অস্ত্রটি উপহার দেবার কারণ জানতে চেয়েছিলেন। চীনা পরিব্রাজক মা তু সান তখন হেসে বলেছিলেন, স্বদেশভূমি বিপন্ন হলে কখনো কখনো কবিকেও অস্ত্র হাতে তুলে নিতে হয়।

    সেই অদ্ভুত আকৃতির অস্ত্রটিকে তিনি এতদিন লুকিয়ে রেখেছিলেন । একটি পেটিকার ভেতরে। পেটিকাটি তার মাচার ওপরে রাখা।

    জানো কংকারী, আমার কাছে একটি চীন দেশে প্রস্তুত অস্ত্র রয়েছে।

    অস্ত্র! আপনার কাছে।

    অনেক দিন ধরে লুকিয়ে রেখেছিলাম। এখনি ওটা বের করছি। এটা তোমার কাজে আসবে।

    চন্দ্রকেতু মাচায় উঠে পুঁথি তূপের নিচ থেকে সযত্নে রাখা পেটিকাটি বের করে আনলেন। কংকারী কৌতূহলী। প্রদীপের সামনে পেটিকাটি ধীরে ধীরে খুললেন। ভেতরে চকচক করছে ধাতু নির্মিত একটা বর্তুলাকার জিনিস। যার মাঝে অনেকগুলো ছিদ্র। জিনিসটির গায়ে উড়ন্ত সাপের হিংস্র ভঙ্গি খোদাই করা। সাপের মুখ থেকে আগুনের শিখা বেরুচ্ছে। উপরে একটি ছোট আংকটা। কংকারী সেই অদ্ভুত আকৃতির অস্ত্রটি ধরে ঘোরাতে থাকে।

    এটা দিয়ে কি ভাবে শত্রুকে আঘাত করা সম্ভব?

    মা তু সান আমাকে বলেছিল এই আংটাটি ঘোরাবার একটি গুপ্ত কৌশল রয়েছে। সেটি জেনে তের বার ঘোরালে এর ছিদ্রের মুখগুলো খুলে যাবে। আর এর ভেতর থেকে তখন তীরবেগে বেরিয়ে আসবে বিষমাখানো ক্ষুদ্র বর্শা। এক সাথে বহু শত্রুকে এতে হত করা সম্ভব। মনে রাখতে হবে, আংটাটি ঘোরাতে হবে তের বার।

    কংকারীর চোখ কেমন ধকধক করে জ্বলে উঠল। কানে এসে আছড়ে পড়ছে শিশুদের কান্না। মায়েদের বিলাপ ধ্বনি। কে যেন ভেতর থেকে বলছে,

    কংকারী, তুমি এই অস্ত্রটি গ্রহণ কর। তোমার বুকে না জেগেছে। প্রতিশোর ঢেউ। তুমি নাও। তুমি প্রশিক্ষণ গ্রহণ কর। নিজেকে তৈরি করে তোল।

    কংকরী সিদ্ধান্ত নেয়। তাকে লড়তে হবে।

    আমি এটি চাই। আমি এই অস্ত্র ব্যবহারের গোপন কৌশল অবশ্যই আবিষ্কার করতে পারব।

    এটি তোমারই জন্যে কংকারী। নাও। গ্রহণ কর।

    চন্দ্রকেতু অস্ত্রসহ পেটিকাটি তুলে দিলেন কংকারীর হাতে । বাইরের পাকুড় গাছের খোড়লে বসা তক্ষক নিশি রাতের নীরবতা ভেঙে ডেকে উঠল।

    তখনো দক্ষিণের আকাশ লাল । হংসিকা গ্রামটি জ্বলছে। কংকারী তখনি রওয়ানা দিতে না হতে চাইল খেয়াঘাটের দিকে। একডালা দুর্গে যেতে বেশ সময় লাগবে। রাত তখন পুইয়ে আসছে। চন্দ্রকেতু কুটিরের ঝাঁপ কোলেন। কংকারীর মাথা হাত রাখেন চন্দ্রকেতু।

    তোমার উদ্দেশ্য সার্থক হোক। তোমার যাত্রা শুভ হোক।

    এ ঘটনার ছ’মাস পর থেকে সমতটের গ্রামে হার্মাদরা প্রবল প্রতিরোধের সম্মুখীন হতে থাকে। অসংখ্য হার্মাদ নিহত হয় ক্ষুদ্র বিষমাখানো বর্শার আঘাতে।

    দুঃসাহসী কিশোর কংকারীর কথা ছড়িয়ে যায় সমতটের গ্রাম থেকে গ্রামে। এক সময় হার্মাদরা পর্যুদস্ত হয়। তারা আর গ্রামে আক্রমণ করতে সাহস পেত না।

    কংকারীকে শেষ দেখা যায় এক শিশুকে বুকে চেপে বিষকাটালি নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়তে। সে রাতে বহু হার্মাদ বিষকাটালির পাশের গ্রাম কান্তনগরে নিহত হয়। ক্ষুদ্র বর্শা তাদের বুকে বিদ্ধ হয়েছিল। কংকারী যখন বিষকাটালিতে ঝাঁপ দেয় তখনো জ্বলছিল গ্রামটি।

    এর অনেক দিন পর এক প্রভাতে কবি চন্দ্রকেতু বিষকাটালি নদী দিয়ে নৌকা করে যাচ্ছিলেন। শেষ শরতের বাতাস বইছে। আকাশে দেখা যাচ্ছে দূরাগত পাখিদের। হঠাৎ চন্দ্রকেতু হিজল গাছের পাশে ঝোপের কাছে দুটো কঙ্কাল দেখতে পেলেন। কঙ্কাল দুটো এতদিন নদীর নিচে পানিফলের কাঁটাঝোপে আটকে ছিল। ঘূর্ণির জন্যে মুক্ত হয়ে উপরে ভেসে উঠেছে। একটি ছোট শিশুর কঙ্কালকে বুকে জড়িয়ে রেখেছে। আরেকটি কঙ্কাল। চন্দ্রকেতু কৌতূহলী হয়ে কাছে গেলেন। কঙ্কালের বাঁ হাতে চারটে আঙুলের সাদা হাড়।

    চন্দ্রকেতু তখন শুধু ফিসফিস করে বললেন, কংকারী ফিরে এসেছে।

    চন্দ্রকেতুর চোখের কোণা তখন চিকচিকি করছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleনবি মুহাম্মদের ২৩ বছর – আলি দস্তি
    Next Article তারার দেশের হাঁস – আলী ইমাম

    Related Articles

    আশাপূর্ণা দেবী

    সমুদ্র কন্যা – আশাপূর্ণা দেবী

    April 24, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    আমাদের মহাভারত – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    March 20, 2026
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Our Picks

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }