Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    গণিকা-দর্শন – অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    লেখক এক পাতা গল্প555 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১১. ব্রিটিশ-ভারতে গণিকাদের সামাজিক অবস্থা

    কলকাতায় প্রথম বিচারালয় স্থাপনের পর অ্যাটর্নি হয়ে এসেছিলেন উইলিয়াম হিকি। ১৭৭৭ সাল থেকে ১৮০৮ সাল পর্যন্ত হিকি সাহেব কলকাতায় ছিলেন। লন্ডনে ফেরার পর তাঁর স্মৃতিকথায় (১৭৪৯-১৮০৯) যা লিখেছিলেন সেটি শৈশবের কলকাতার সামাজিক ইতিহাসের প্রামাণ্য দলিল হিসাবে স্বীকৃত বলা যায়। হিকি মিস ডানডাস নামে মহানগরের এক ‘বহুজন পরিচিতা বারাঙ্গনা’র কথা তাঁর স্মৃতিকথায় উল্লেখ করেছেন। আধুনিক যুগে কলকাতা ও সন্নিহিত অঞ্চলে গণিকাবৃত্তির সূচনা যে ব্রিটিশ আমলেই হয়েছিল, তাতে কোনো সংশয় নেই। আধুনিক শহরের সমস্ত কদর্যতাকে সঙ্গে নিয়ে নগর কলকাতার ক্রমবিকাশ হয়েছে। আর এদেশে নবপর্যায়ে গণিকাবৃত্তির উদ্ভব বৃটিশদের হাত ধরেই। ১৭৯৫ সালে রুশ যুবক হেরাসিম লেবেদফ যখন কলকাতায় অস্থায়ী মঞ্চ বেঁধে প্রথম বাংলা থিয়েটারের সূচনা করলেন, তখন সেই নাটকে নারী চরিত্রে অভিনয়ের জন্য গণিকাপল্লির মেয়েদের এনেছিল। কারণ তখনকার সময়ে সাধারণ ভদ্রঘরের মেয়েদের যাত্রা নাটকে অভিনয় করা নিন্দনীয় ছিল। এমনকি যাত্রা-নাটক দেখাটাও ছিল নিন্দনীয়। বলা হত–যাত্রা দেখে ফাত্রা লোকে। সে যুগে ফাত্রা’ শব্দটি চরিত্রহীন মানুষদের বোঝাত।

    যাই হোক, হিকি সাহেবের স্মৃতিকথা থেকেই জানা যাচ্ছে, ১৭৯৫ সালের অনেক আগে থেকেই গণিকাপল্লির অস্তিত্ব ছিল। শুধু কলকাতা নয়, বাংলার সমৃদ্ধ শহরগুলি, যেখানে ব্রিটিশরা কোর্ট-কাছারি ইত্যাদি খুলেছিল, সেখানেই সন্নিহিত অঞ্চলে গণিকাপল্লি গড়ে উঠেছিল। ব্রিটিশদের সহায়ক বাবু সমাজের পৃষ্ঠপোষকতায় গণিকাপল্লিগুলো ফুলে-ফেঁপে উঠতে থাকল গোটা উনিশ শতক জুড়ে। রক্ষিতা পোষণ, গণিকাগমন তখনকার সমাজ শুধু অনুমোদনই করত না, এইসব বেলেল্লাপনা ছিল তাঁদের মর্যাদা সূচক।

    ইংরাজের নতুন ভুমিব্যবস্থা গ্রাম্য সমাজকে ভেঙে তছনছ করে দিল। ফলে বংশানুক্রমিক পেশা ও বৃত্তি থেকে উৎখাত হয়ে যেমন চোর ডাকাতের দল সৃষ্টি হয়ে শহরে আশ্রয় নিল, তেমনই দারিদ্রের তাড়নায় শহরের গণিকাপল্লিতে আশ্রয় নিল মেয়েরা। ১৮৭২ সালের সরকারি নথিপত্র থেকে জানা যায় যে, কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার গণিকারা অধিকাংশই তাঁতি, তেলি, জেলে, কৈবর্ত, ময়রা, চামার, কামার, কুমোর, যুগী, গোয়ালা, নাপিত, মালি, বেদে ইত্যাদি সম্প্রদায়ের। এই সময়ে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে গণিকাদের সংখ্যা কীরকম লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছিল, তা জানা যায় এই তথ্য থেকে। কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের ১৮৬৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বরের হিসাবমতো ৩০০০ মেয়ে গণিকাবৃত্তিতে এসেছিল। ১৮৮০ সালের এক হিসাবে শহরে গণিকাদের সংখ্যা ছিল ৭০০০, আর ১৮৯৩ সালে সেই সংখ্যাটা বেড়ে হয়েছিল ২০,১১৬। শুধু সমাজের নিম্নবর্গের মেয়েরাই নয়, কুলীন ঘরের বহু মেয়েও অবস্থার দুর্বিপাকে আশ্রয় নিত গণিকাপল্লিতে। সরকারি প্রতিবেদনে স্বীকার করা হয়েছিল যে, গণিকাদের সংখ্যা বৃদ্ধির একটা কারণ হিন্দু বিধবাদের গণিকাপল্লিতে আশ্রয়। বিধবাবিবাহ প্রথা চালু না-হওয়ায় লালসার শিকার বিধবা তরুণীদের শেষ আশ্রয় ছিল এই গণিকাপল্লি। সরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল—“হিন্দুর বিবাহ-বিচ্ছেদ নেই, বিধবা হলে হয় পবিত্র হও, নচেৎ বেশ্যা হও।” সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী হিন্দু বিধবারা প্রধানত হুগলি, বর্ধমান, হাওড়া, চব্বিশ পরগনা, মেদিনীপুর ও ওড়িশা থেকে আসত। তরুণী বিধবারা বাবুদের লালসার শিকার হতেন, কেউ কেউ গর্ভবতী হয়ে পড়তেন। শেষপর্যন্ত তাঁদের আশ্রয় হত গণিকালয়ে। দারিদ্র, দুর্ভিক্ষ, ইত্যাদি কারণে মা, মেয়ে উভয়কেই আশ্রয় নিতে হত গণিকাপল্লিতে। মুহূর্তের ভুলে (তখন তো কোনো গর্ভনিরোধক ব্যবস্থা ছিল না) গর্ভবতী নারী আত্মহত্যা না করে বাঁচার উপায় খুঁজেছেন গণিকালয়ে আশ্রয় নিয়ে। আবার বহুবিবাহের শিকার নারী প্রেমিকের হাত ধরে কুলত্যাগিনী হয়েছেন। অবশেষে এসে ভিড়তে হয়েছে গণিকাপল্লিতে।

    সতেরো শতকে তৎকালীন ভারতের পর্তুগিজ উপনিবেশ গোয়া ছিল পর্তুগিজ দাস’ নামক সম্প্রদায় নিয়ে গঠিত পর্তুগিজদের একটি শক্তিশালী ঘাঁটি। এই পর্তুগিজ দাস’ সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল অল্পবয়সি জাপানি মহিলারা, যাঁদের পর্তুগিজ বণিকেরা ধরে বেঁধে এনে যৌনদাসী হিসাবে ব্যবহার করত—এদের বলা হত “জাপানি দাস’ এবং এছাড়াও ছিল জাপান থেকে আগত বন্দি দক্ষিণ এশীয় খালাসি। অষ্টাদশ শতকের শেষে এবং ঊনবিংশ শতকের শুরুতে ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের আমলে, ব্রিটিশ সৈন্যরা তাঁদের কামনা চরিতার্থ করবার জন্য অল্পবয়সি মেয়েদের সেক্স-টুল হিসাবে ব্যবহার করে কিছু আরামপ্রদ স্থান তৈরি করেছিল। ব্রিটিশ সেনারা এই স্থানগুলি তাঁদের নিজেদের গণিকাবলয় হিসাবে ব্যবহার করত। বিবিসি’-র একটি নিবন্ধ জানাচ্ছে, ব্রিটিশ সৈন্যরা মুম্বাইয়ের মতো ভারতের বিভিন্ন শহর জুড়ে গণিকালয় তৈরি করতে সাহায্য করেছিল। ভারতীয় খালাসি সমুদ্র নাবিকরা, যাঁদের জোর করে যুক্তরাজ্যের ব্রিটিশ সেনাবিভাগে নিয়োগ করা হত, তাঁরা তাঁদের মালিকদের অনুকরণ করে অহরহ সেখানকার স্থানীয় ব্রিটিশ গণিকালয়ে গমন করত। ঊনবিংশ ও বিংশ শতকের শুরুতে উপমহাদেশীয় ইউরোপ এবং জাপান থেকে হাজার হাজার মেয়েদের ব্রিটিশ অধিকৃত ভারতবর্ষে পাচার করত; সেখানে তাঁরা গণিকা হিসাবে ব্রিটিশ সৈন্য ও ভারতীয় পুরুষদের সেবায় নিয়োজিত থাকত।

    ভারতে ব্রিটিশ শাসনকালে গণিকাদের পৃষ্ঠপোষকতা, গণিকা বৃদ্ধি এবং গণিকাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিয়ে বিস্তারিত জানতে পারা যায় পাঁচখানি আকর গ্রন্থ থেকে। যেমন–(১) ‘বেশ্যানুরক্তি বিষমবিপত্তি’–এটি ১৮৬৩ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। উনিশ শতকে গণিকাদের যাঁরা বাড়বাড়ন্ত মনে করতেন তাঁদের দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা।(২) ‘বেশ্যা গাইড’–এটিও ১৮৬৮ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। যৌন সংক্রামক রোগ প্রতিরোধের জন্য ১৪ আইন জারি করেছিল। সেই আইনে বলা হয়েছিল গণিকারা কীভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে পেশা চালিয়ে যেতে পারবে। (৩) “পাঁচালী কমলকলি’–বইটি ১৮৭২ সালে প্রকাশিত হয়। স্বাস্থ্য পরীক্ষার নামে গণিকাদের নিপীড়ন করা, অত্যাচার করা ইত্যাদি বিষয়। (৪) ‘বেশ্যাই সৰ্ব্বনাশের মূল’–বইটি প্রকাশিত হয় ১৮৭৩ সালে। বিষয় তিন নম্বর বইয়ের পরের অংশ। (৫) এলোকেশী বেশ্যা’–এটি প্রকাশিত হয় ১৮৭৬ সালে। অনাচার থেকে মুক্তির উপায় আছে খ্রিস্টধর্মে।

    উপরোক্ত গ্রন্থগুলি থেকে যেটুকু জ্ঞান আরহণ করতে পেরেছি, তা সংক্ষেপে এখানে উল্লেখ করতে পারি। উনিশ শতক জুড়ে গণিকা, গণিকাবৃত্তি ও গণিকাবাপন এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে, তাঁদের নিয়ন্ত্রণের জন্য নিজেদের স্বার্থেই বিভিন্ন আইন তৈরি করে ফেলেছিল ব্রিটিশরা। কারণ অনিয়ন্ত্রিত যৌনযাপনে সিফিলিস, গনোরিয়ার মতো মারাত্মক মারণ রোগ পড়েছিল সমাজে। পাছে গণিকারসিক ব্রিটিশদেরও আক্রমণ করে সেই ভীতিতেই গণিকাদের রোগমুক্ত রাখতে চেয়েছিল।এমতাবস্থায় সিভিল সোসাইটিও দু-ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছিল। একপক্ষ যাঁরা গণিকাদের ‘সোস্যাল এভিলস’ ভাবত, অপরপক্ষ এই আইনের ফলে গণিকাদের মধ্যে যে সংকট এসেছিল, তাঁর বিরুদ্ধে। ব্রিটিশদের কাছে সৈন্যরা ছিল অমূল্য সম্পদ। কারণ এই সৈন্যদের দিয়েই ভারতীয় নেটিভ’-দের টাইট দেওয়া হত। তাই সৈন্যদের জন্য গণিকা সুলভ করে দেওয়া হয়েছিল। ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছিল। অনিয়ন্ত্রিত যৌনসঙ্গমে যৌনরোগ মারাত্মক আকার ধারণ করেছিল। সে সময়কার রিপোর্ট বলছে, ১৮২৭ সালে ইংরেজ-সৈন্যদের মধ্যে মারণ যৌনরোগ ২৯ % থেকে বৃদ্ধি পেয়ে মাত্র দুই বছরে অর্থাৎ ১৮২৯ সালে ৩১ % হয়ে দাঁড়ায়। ১৮৬০ সালে এসে সেটা এসে দাঁড়ায় ৭০ শতাংশে। এর ফলে একে একে সৈন্যদের বরখাস্ত করতে হচ্ছিল। সৈন্যসংখ্যা কমতে থাকায় সরকারের অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়। উদ্ধার পেতে আইন জারি করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প পথ তাঁরা খুঁজে পেলেন না বিকল্প হিসাবে দুটি পথ তো খোলা ছিলই। (১) গণিকাবৃত্তি আইন করে নিষিদ্ধ করে দেওয়া। গণিকাবৃত্তিতে যাঁরা জড়িত থাকবেন তাঁদের চরম শাস্তির বিধান তৈরি করা এবং (২) সৈন্যদের গণিকা নিষিদ্ধ করা। কোনো সৈন্য যদি গণিকাগমন করে, তাঁকে কঠোর শাস্তি প্রদান করা। ইংরেজরা বিকল্প হিসাবে এই কঠিন পথদুটি গ্রহণ করলেন না, গ্রহণ করলেন সহজ পথ। এতে বাঁশও ভাঙল না, বাঁশিও বাজল। গণিকারা থাকবে, সেনারা থাকবে এবং সেনাদের যৌন বিনোদনও থাকবে। অতএব সেনাদের পৃথক গণিকালয় তৈরি করা হল সেনাছাউনিগুলোতে। সাপ্লাই অ্যান্ড ডিমান্ডের ধারা অক্ষুণ্ণ রাখতে প্রণয়ন হল ‘ক্যান্টনমেন্ট অ্যাক্ট ১৮৬৪’ ও ‘চোদ্দো আইন’। এই ক্যান্টনমেন্ট অ্যাক্ট ১৮৬৪’ আইনের বলে যেসব গণিকারা রেজিস্ট্রিভুক্ত হবে এবং কার্ডহোল্ডার হবে, একমাত্র তাঁরাই গণিকাবৃত্তি চালিয়ে যেতে পারবে। বাকিরা নয়, সেনাদের জন্য তো নয়ই।

    এতকিছু করেও সৈন্যদের মধ্যে মারণ যৌনরোগ নিশ্চিহ্ন করা যচ্ছিল না। যেহেতু সেনা তদারকির বাইরেও গণিকারা গণিকাবৃত্তি করত, সেনারা সেখানেও নিয়মিত যাতায়াত করত। এর ফলে সেনা ছাড়িয়ে সাধারণ মানুষদের মধ্যেও এই যৌনরোগ ছড়িয়ে পড়তে থাকল। ১৮৬৪ সালে কলকাতার হেলথ অফিসার ফেবর টনেয়রও জানিয়েছিলেন, সিফিলিসের মতো রোগ শুধু সেনাদের মধ্যেই নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। ১৮৬৭ সালে ‘Contagious Diseases Act, XIV of 1868’ নামে একটি খসড়া তৈরি করে তাতে fola fracal–“I beg to state that in addition to my ususal duties, I am willing to undertake the organization of the new office, to superintend the registration of the prostitution. As well as to take an active part in the sanitary inspection of the public women.” প্রণয়ন হল ‘Indian Contagious Disaases Act’ বা চোদ্দো আইন।

    কেমন ছিল সেই চোদ্দো আইন? একটু দেখে নেওয়া যাক–(১) ১৮৬৯ সালের ১ এপ্রিলের পর থেকে কলকাতা ও শহরতলিতে কোনো নারী বা কোনো ব্যক্তি নিজ নিজ বাসস্থান যে থানার অধীন সেই থানায় রেজিস্ট্রি না করে গণিকাবৃত্তি ও গণিকালয় রক্ষকের কাজ করতে পারবে না। (২) প্রত্যেক থানায় ইন্সপেক্টর নিজ নিজ থানা এলাকায় যে যে সাধারণ গণিকা ও গণিকালয় রক্ষক বাস করে তাঁদের রেজিস্ট্রি করে নিতে হবে। (৩) কোনো সাধারণ নারী গণিকাবৃত্তি করতে ইচ্ছা করলে তাঁর নিজের নাম, বয়স, জাতি বা ধর্ম, জন্মস্থান, বাসস্থান এবং যে সময়ে গণিকাপেশায় যুক্ত হয়েছে এবং যদি কোনো গণিকালয়ে বর্তমানে বাস করে, তাহলে সেই বাড়ির কর্তারও রক্ষকের নাম এবং পরে লিখিত জেনারেল রেজিস্ট্রি বুকে তার নম্বর সহ সমস্ত তথ্য থানায় নিজে এসে লেখাতে হবে। (৪) থানার ইন্সপেক্টর সেইসব বিবরণ পাওয়ামাত্র থানায় যে রেজিস্ট্রি বুক (ফর্ম–এ) রাখা থাকবে তাতে লিখে ওই টিকিট কমিশনার সাহেবের স্বাক্ষরের জন্য তাঁর অফিসে পাঠিয়ে দিতে হবে। (৫) থানায় রেজিস্ট্রি বুকের মতো সমস্ত শহর ও শহরতলির জন্য পুলিশ অফিসে যে জেনারেল রেজিস্ট্রি বুক রাখা হবে, সেই রেজিস্ট্রি বুকে কমিশনার সাহেব ওই গণিকাকে রেজিস্ট্রি করবেন। জেনারেল রেজিস্ট্রি বুকে ওই গণিকার যে নম্বর হবে সেই নম্বর রেজিস্ট্রেশন টিকিটের প্রথম ঘরে লিখতে হবে। এটা লেখা হলে উক্ত টিকিট কমিশনার বা ডেপুটি কমিশনার সাহেবের দ্বারা স্বাক্ষরিত হয়ে থানার ইন্সপেক্টরের কাছে পাঠাতে হবে। ইন্সপেক্টর নিজের রেজিস্ট্রি বুকে উক্ত রেজিস্ট্রেশন টিকিটে লিখিত নম্বর লিখে নিয়ে যাঁর টিকিট তাঁকে দেবেন। (৬) প্রত্যেক গণিকালয় রক্ষক যে থানার এলাকায় নিজের পেশায় চালায় সেই থানায় তাঁকে রেজিস্ট্রি করতে হবে আর রেজিস্ট্রি করার সময় নিজের নাম, বাসস্থান এবং যে বাড়িতে কী ঘরে কী স্থানে যৌনক্রিয়ার মাধ্যমে রোজগার করে, তা লেখাতে হবে থানার ইন্সপেক্টর উক্ত বিবরণ থানায় যে রেজিস্ট্রি বুক (ফর্ম–সি) রাখা হবে সেই বইয়ে লিখিয়ে নেবেন। তারপর রেজিস্ট্রি টিকিট (ফর্ম–ডি) লিখে ওই টিকিট কমিশনার সাহেবের স্বাক্ষরের জন্য জন্য তাঁর অফিসে পাঠিয়ে দেবে।(৭) কমিশনার সাহেব তাঁর অফিসে এক রেজিস্টার বুকে প্রত্যেক গণিকালয় রক্ষকের নাম এবং অন্যান্য তথ্য লিখে রাখবেন। (৮) কমিশনার সাহেবের অফিসের জেনারেল রেজিস্ট্রি বুকে গণিকালয় রক্ষকদের রেজিস্ট্রেশনের যে নম্বর হবে টিকিটেও সেই নম্বর দেওয়া হবে। আর ওই টিকিট কমিশনার কিংবা ডেপুটি কমিশনার সাহেবের স্বাক্ষর হলে যে থানা এলাকায় ওই গণিকালয় রক্ষক নিজের পেশা চালিয়ে যেতে চায় সেই থানার ইন্সপেক্টরের কাছে পাঠানো হবে। (৯) কমিশন সাহেবের দ্বারা টিকিটে যে নম্বর দেওয়া হবে সেই নম্বর ইন্সপেক্টর রেজিস্ট্রি বুকে লিখে যাঁর টিকিট তাঁকে ফিরিয়ে দেবে। (১০) যদি কোনো মহিলা কিংবা কোনো ব্যক্তি পূর্বোক্ত মতে রেজিস্ট্রি না করে এবং পূর্বের মতে রেজিস্ট্রেশন না করে গণিকাবৃত্তি করে কিংবা গণিকালয় চালায় তাহলে তাঁকে এবং তাঁদেরকে সমন জারি না করেই (১৮৬৮ সালের ১৪ আইন মোতাবেক) গ্রেফতার হতে হবে এবং ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সোপর্দ করা হবে বিচারের জন্য। (১১) কোনো রেজিস্ট্রিকৃত গণিকার নিজের বাসস্থান পরিবর্তন করার ইচ্ছা হয়, তখন তাঁকে কমিশনার বা ডেপুটি কমিশনার সাহেবের কাছে নিজে গিয়ে অথবা ইংরেজিতে আবেদনপত্র লিখে যে গলিতে বা অঞ্চলে বসবাস করতে ইচ্ছুক, সেই অঞ্চলের বাড়ির নম্বর এবং রক্ষকের নাম জানাতে হবে। সেইসঙ্গে পূর্বের রেজিস্ট্রিকৃত টিকিট জমা দিতে হবে সশ্লিষ্ট অফিসে। যদি কোনো গণিকালয়ে কেউ বাস করতে সিদ্ধান্ত নেয়, তবে সেই নতুন ঠিকানার গণিকালয়ের রক্ষকের নাম ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর লিখিয়ে নিতে হবে।(১২) এমন আবেদনপত্র পেলে কমিশনার সাহেব রেজিস্ট্রেশন টিকিটে ও জেনারেল রেজিস্ট্রি বুকে প্রয়োজনমতো পরিবর্তন করতে নির্দেশ দেবেন এবং পূর্বোক্ত সেই গণিকাকে ফিরিয়ে দেবেন এবং পূর্বে ওই গণিকা যে থানায় রেজিস্ট্রি হয়েছে সেই থানা থেকে তাঁর নাম পরিবর্তন করে যে থানা এলাকায় সে বাস করতে চায় সেই থানায় তাঁকে পুনরায় রেজিস্ট্রি করতে আদেশ দেবেন। (১৩) কোনো গণিকা রেজিস্টার করে অন্য শহরে কিংবা শহরতলিতে গণিকাবৃত্তি ত্যাগ করার ইচ্ছা প্রকাশ করলে তাঁকে স্বয়ং এসে কিংবা ইংরেজি ভাষায় আবেদনপত্র লিখে কমিশনার সাহেবকে জানাতে হবে যে, তাঁর নাম যেন রেজিস্ট্রি বুক থেকে মুছে ফেলা হয় এবং ওই গণিকা যথার্থভাবে বৃত্তি বা পেশা ত্যাগ করেছে এমন প্রমাণ দিলে কমিশনার সাহেব তাঁর নাম জেনারেল রেজিস্টার ও থানার রেজিস্টার থেকে মুছে দিতে আদেশ করবেন এবং সেই গণিকার রেজিস্ট্রেশন ফিরিয়ে নেবেন। সেইসঙ্গে যে পর্যন্ত ওই আবেদনপত্রের চূড়ান্ত হুকুম না-হয়, সেই পর্যন্ত কমিশনার সাহেব যদি উচিত বিবেচনা করে তাহলে সেই গণিকাকে ‘মেডিকেল টেস্ট থেকে অব্যহতি দিতে পারেন। (১৪) যদি কোনো গণিকালয়ের রক্ষক নিজের বাসস্থান বা ব্যাবসার স্থান পরবর্তন করেন, তাহলে সে যে স্থানে চলে যাচ্ছেন সেই স্থানের নাম ও নম্বর দিয়ে কমিশনার সাহেবের কাছে ইংরেজি ভাষাতে আবেদন করবে এবং সেই আবেদনপত্রের সঙ্গে রেজিস্ট্রেশন টিকিট দাখিল করবে।

    গণিকাদের স্বাস্থ্যপরীক্ষা যেন অকথ্য অত্যাচারের সামিল ছিল। কেমন ছিল সেই স্বাস্থ্যপরীক্ষা, সেটা বর্ণনা করেছে ‘সংবাদ প্রভাকর’। ১৮৬৯ সালের ১৫ এপ্রিলের একটি সংখ্যায় লিখেছে–“বেশ্যাদিগের রেজিস্ট্রারি ও ব্যাধি পরীক্ষা সম্বন্ধে রাজধানী মধ্যে যে কতপ্রকার ভয়ংকর ভয়ংকর কথা শোনা যাইতেছে, তাহা প্রকাশ করিতে হইলে বিদ্রোহীর মধ্যে গণনীয় হওয়া অসম্ভাবিত হয় না। অধিকন্তু অশ্লীলতা ও জনপ্রিয়তার হস্ত হইতে পরিত্রাণ পাওয়া দুর্ঘট হয়। কেহ বলিতেছে পুলিশের লোকেরা স্ত্রীলোকের প্রতি নির্দয় হইয়া রেজিস্ট্রারির জন্য গ্রেফতার করিতেছে। তাহাদের ক্রদনে ও আর্তনাদে পুলিশের আহ্লাদ বর্ধিত হইতেছে। কোনো-কোনো ডাক্তার অসম্ভব বল প্রকাশ করিয়া এ কাজ করিতেছেন। যাহাদের ব্যাধি নেই তাহারাও পরীক্ষার পর গৃহে আসিয়া উদর বেদনায় ৩/৪ দিন শয্যাগত থাকিতেছে। সেই ভয়ে শত শত বেশ্যা কলিকাতা পরিত্যাগ করিয়া পলায়ন করাতে বেশ্যাপল্লী সকল অন্ধকারময় হইয়াছে। যাহারা কলিকাতায় বেশ্যাবৃত্তি করিতে না চাহিয়া স্থানান্তরে যাইতে চাহে, পুলিশের লোকেরা তাহাদিগকে পথিমধ্যে এমনকী নৌকা হইতেও ধরিয়া আনিতেছে।” ভয়ংকর দুর্বিসহ সেইসব পরীক্ষা-পদ্ধতি এবং অসহায় ব্যবহারের ফলে গণিকাদের নানা সংকট দেখা দিচ্ছিল সে সময়। একথা বলাই যায়, গণিকাবৃত্তি এবং সংক্রামক যৌনব্যাধি এত বাড়াবাড়ি স্তরে পৌঁছে গিয়েছিল যে ‘চোদ্দো আইন’ খুবই জরুরি ছিল। এখন যেমন এইডসের মতো মারণ রোগের সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখতে কন্ডোমের ব্যবহার করা হয়েছে, তখন তো কন্ডোমের ব্যবহার ছিল না। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা ছাড়া বিকল্প কোথায়! গণিকাদের নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা এখনও হয়, তবে সেটা সেদিনকার মতো বিভীষিকাময় নয়। ১৮৭২ সালে ‘সোমপ্রকাশ’-এ লেখা হল–“এই আইনটি যখন হয় আমরা প্রাণপণে ইহার প্রতিবাদ করিয়াছিলাম। তখন আমাদিগের কথা রাজপুরুষদিগের ভালো লাগে নাই। কিন্তু এই আইনটি স্ত্রী সম্প্রদায়ের প্রতি অত্যাচারের কারণ হইয়া উঠিয়াছে।”

    কেমন ছিল সেই স্বাস্থ্যপরীক্ষার নামে অত্যাচার? ‘সম্বাদ ভাস্কর’ লিখছে–“উক্ত আইনের কার্ব নিৰ্বাহ জন্য লালবাজারে যেসকল ডাক্তার নিযুক্ত হইয়াছেন তাঁহারা পরীক্ষার ছলে নারীদিগের বিশেষ কষ্ট দিতেছেন, দূষ্যাদিগের অপেক্ষা নির্দোষা বেশ্যাদিগের অধিক যন্ত্রণা হইতেছে। দূষ্যাদের মধ্যে অধিকাংশই পরীক্ষার পূর্বে রোগ স্বীকার করে, সুতরাং তাহাদের আর দেহপরীক্ষার প্রয়োজন হয় না। চিকিৎসার অধীনে থাকে, যাহাদের রোগ নাই, তাহারা ব্যাধির অনস্তিত্ত্ব ব্যক্ত করে, চিকিৎসক শোনামাত্রই কেন তাহা বিশ্বাস করিবেন, কার্যতই পরীক্ষার হয়–তাহা সামান্যাকারে দর্শনাদিরূপ পরীক্ষাতেই সমাধা হইতে পারে, কিন্তু আমাদের চিকিৎসকেরা সেরূপে সন্তুষ্ট হন না–তাঁহারা ওই পরীক্ষিত বেশ্যাগণকে প্রথমত টবে বসাইয়া দেন, তাহাতে জলের সহিত জ্বালাকর পদার্থ থাকে, ওই পরীক্ষার পর গর্ভ দর্শনীয় বিশাল যন্ত্রদ্বারা দর্শন হয়, পরে উগ্রতর পিচকারি দেওয়া হইয়া থাকে। জনরবকারিরা বলেন, এই পিচকারিতে অনেকের উদর ফুলিয়া জীবন সংশয় হইয়াছে। অতএব উহা যে স্ত্রীদেহের উপযোগী স্বাভাবিক পিচকারি নহে, ইহা অবাধেই অনিষ্ট সাব্যস্ত হইতেছে। এই পিচকারি দান বিষয়ে পাত্রপাত্র বিচার নাই। ডাক্তারেরা রজস্বলাক্ষেত্রেও উহার প্রয়োগ করিতেছেন। তাহাতে আবার অধিকতর অনিষ্ট হইতেছে, অপরিমিত রুধিরক্ষরণে দুই এক তরুণীর জীবনও গিয়াছে।”

    এই বর্ণনায় স্পষ্ট হয় যে, অত্যাচার কতটা অবর্ণনীয় ছিল। এতটাই অবর্ণনীয় ছিল যে, তামাম গণিকারা দলে দলে কলকাতা ত্যাগ করে অন্যত্র পালিয়ে যেতে থাকল। কেউ কেউ কলকাতা ত্যাগ করার সঙ্গে সঙ্গে গণিকাবৃত্তিও ত্যাগ করতে থাকল। অনেকে আবার ফরাসি উপনিবেশ ফরাসডাঙায় গিয়ে দিন গুজরান করতে থাকল। ব্রিটিশ পুলিশদের আতঙ্কে এমন অবস্থা হল যে, লাল পাগড়ি পরা কোনো লোক দেখলেই পুলিশ আত্মগোপন করে ফেলত। আবার কেউ কেউ আত্মহত্যা করতে বাধ্য হত। রূপচাঁদ পক্ষী লিখলেন–

    “কারে বলিব বনমালী! এ দুখের কথা।
    হলো চৌদ্দ আইন বড়োই কঠিন বল যাই কোথা।
    ভেবে ভেবে গুমড়ে মরি এ কি আইন হলো জারী,
    দিগম্বরী করবে যত বারবণিতা।”

    এহেন পরিস্থিতে সমাজের একটা বড়ো অংশ প্রতিবাদে মুখর হয়ে উঠেছিল। ব্রিটিশ সরকার এই প্রতিবাদ গোড়ার দিকে তেমন পাত্তা না দিলেও পরে বিষয়টা নিয়ে ভাবতে বাধ্য হল। বাধ্য হল কারণ, ফরাসি উপনিবেশ ফরাসডাঙায় গণিকারা দলে দলে কলকাতা ছেড়ে যাওয়াতে ইংরেজদের মুখ পুড়েছিল। সেই মুখ রক্ষা করতে এবং এ দেশীয় ভদ্রলোকদের তীব্র সমালোচনা মুখ বন্ধ করতে সচেষ্ট হল। ইংরেজরা বুঝতে পারল এই আইনটি সম্পূর্ণভাবেই আনপপুলার। যে উদ্দেশ্যে এই আইন প্রণয়ন করা সেই সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ। সেনারা যথারীতি যৌনরোগে আক্রান্ত হচ্ছিল। তা ছাড়া এই আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে জলের মতো রাজস্ব খরচ হয়ে যাচ্ছিল। পাক্কা কুড়ি বছর এই আইন সক্রিয় ছিল। অবশেষে ১৮৮৮ সালে এই আইনটি বিলুপ্ত করে দেওয়া হল।

    ফিরে আসি গণিকাদের রেজিস্ট্রেশনের প্রসঙ্গে। কোনো প্রকার যৌনরোগ না-থাকলে তবেই একজন গণিকাপেশায় জন্য রেজিস্ট্রিভুক্ত হতে পারত এবং পেশায় যোগদান করতে পারত। যাঁরা রোগাক্রান্ত হত তাঁদের ‘লক হাসপাতাল’-এ পাঠানো হত। কী এই ‘লক হাসপাতাল’? ইংল্যান্ডে এ ধরনের হাসপাতাল ছিল, যেটা তৈরি করা হয়েছিল হিংস্র নেকড়েদের আটকে রাখার জন্য। এই হাসপাতাল লন্ডনে তৈরি করা হয়েছিল ১৭৪৬ সালে। এই লক হাসপাতাল যৌনরোগাক্রান্ত গণিকাদের রাখা হত। সরকারি নির্দেশে কলকাতার বিভিন্ন গণিকাপল্লিতে গিয়ে ব্রিটিশ পুলিশ তল্লাসি চালিয়ে মেয়েদের ডাক্তারি পরীক্ষা করতে যেত। সেইসব মেয়েদের প্রতি নৃশংসতা ক্রমশই মাত্রা ছাড়াচ্ছিল। এর ফলে কলকাতা থেকে অন্য কোনো শহরে বা অন্য কোনো গ্রামে গণিকারা পালিয়ে যেতে থাকল দলে দলে। যৌনরোগের কারণে যেসব হতভাগীদের চিকিৎসার জন্য লক হাসপাতালে যেতে হয়েছিল, তাঁদের ফিরে এসে আর পুরোনো ফিরে যেতে সাহস পেত না। রোগের ভয়ে খরিদ্দারদের আনাগোনাও ক্রমশ কমতে থাকল। সেই ভীতি আজও বহমান। তাহলে কি এটাই বুঝতে হয় ব্রিটিশ-ভারত সরকার প্রত্যক্ষভাবে নাহলেও পরোক্ষভাবে গণিকাবৃত্তিকে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল? বাঙালি ভদ্রলোক সমাজের চাপে কখনো-কখনো প্রশাসন শহরের মধ্যবিত্ত এলাকা গণিকালয় উচ্ছেদ করত। গণিকা ও গণিকাবৃত্তির বিরোধিতার কেন্দ্রে ছিলেন সেসময়ের বিশিষ্ট তরুণ বাঙালি বুদ্ধিজীবী, সমাজ-সংস্কারক পর্যন্ত। মহাভারতকার কালীপ্রসন্ন সিংহ পর্যন্ত গণিকাবৃত্তির বিরুদ্ধে জনমত সংগঠিত করেছিলেন। ব্রিটিশ-ভারত সরকারকে এ ব্যাপারে ধারাবাহিকভাবে বোঝানো চেষ্টা করে গেছেন। নগরায়নের ফলে যে নতুন অর্থনীতির উদ্ভব ঘটেছিল, শিল্পকেন্দ্রিক সেই অর্থনীতি ও সামাজিক অবস্থায় গ্রাম্যসমাজ ও পরিবারচ্যুত মানুষ যে। বিনোদনের আশায় গণিকাদের কাছে যাবে, এটাই আধুনিকতার অবধারিত পরিণতি। সেটা বুঝতে পারেনি উনিশ শতকের বিদ্যোৎসমাজ। খেতে না-পাওয়া মেয়েদের এই বৃত্তিটা এবং গণিকালয়গুলি হয়ে গিয়েছিল নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম যেখানে প্রাণ খুলে যেমন খুশি খিস্তি দিতে পারে, তেমনি নিজের গতর-খাটানো রোজগার করা অর্থ নিজের মতো করে খরচ করতে পারে।

    গোটা উনিশ শতক জুড়ে ভদ্রবাড়ির মেয়েরা চাকরি করতে বাইরে বেরচ্ছেন এমন চিত্র অতি বিরল ছিল। বলা যায়, অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার হয়তো প্রথম চিত্র এই গণিকাদের রোজগারের মধ্যেই লুকিয়ে ছিল। তা ছাড়া এ এমন এক পেশা, যে পেশায় যোগদান করলেই রোজগার নিশ্চিত। রোজগারও সীমাহীন হতে পরে। কাঁচা পয়সা যাকে বলে। এ পেশায় অনাচার, অত্যাচার, লাঞ্ছনা নিশ্চয় ছিল। সে তো গার্হস্থ্যজীবনেও কম ছিল না। সামাজিক শোষণ তো কম ছিল না মেয়েদের। সেই সামাজিক শোষণের সঙ্গে সম্পৃত্ত থাকে সমাজ, প্রশাসন ও রাষ্ট্রব্যবস্থা। গণিকাজীবনেও ছিল, আছে, থাকবে। সে সময় সর্বদাই গণিকাদের বিরুদ্ধে গৃহস্থরা মুখর ছিল। তাঁরা সর্বদা আদালতে চলে যেত গণিকাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে। আদালতও গণিকাদের বিরুদ্ধে। আদালত যারপরনাই গণিকাদের অপমানজনক কথা বলত, ভর্ৎসনা করত। এতে গণিকাদের কোনো হাত নেই। হাত আছে মূলত পুরুষতান্ত্রিক ভদ্রলোক সমাজের আধিপত্যবাদ। গণিকালয় সেই পুরুষতান্ত্রিক আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে গিয়ে নিজের পরিসর গড়ে তুলেছে। যাই হোক, তথাকথিত ভদ্রলোকদের উপর্যুপরি দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে ১৮৬৮ সালে চোদ্দো আইন প্রণয়ন করে ব্রিটিশ সরকার এদেশীয় ভদ্রলোকদের রক্ষা করল। পাশাপাশি গণিকাদের স্বাস্থ্যপরীক্ষা করিয়ে রেজিস্ট্রির মাধ্যমে পেশা চালানোর সুযোগ করে দিয়েছিল। বলা যায়, গণিকাদের সরকারি স্বীকৃতি দিয়েছিল।

    সামাজিক শ্রেণিবিন্যাস এসময়ে প্রবল হয়ে উঠছিল। গণিকা ও গণিকাবৃত্তির সমর্থন ও আপত্তিই যেন একমাত্র সত্য হয়ে উঠেছিল। সেসময়ে সাহিত্য-নাটক-যাত্রা-প্রহসনে গণিকা চরিত্র আবশ্যক অনুপ্রবেশ ঘটছিল। কেউ কেউ আবার গণিকাদের পরিত্রাণের উপায়ও বাতলে দিচ্ছিলেন। জনৈকা মিশ লেসলি লিখলেন, গণিকাদের পরিত্রাণ মিলবে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করে জিশুকে স্মরণ করে। সংখ্যায় অতি অল্প হলেও কিছু গণিকা পাপস্খলনের জন্য খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছিলেন।

    শুধু ব্রিটিশ উপনিবেশেই নয়, ফরাসি পোর্তুগিজদের উপনিবেশের ফলেও ভারত উপমহাদেশে এক অদ্ভুত পরিবর্তন লক্ষিত হল। বিদেশিরা ভারতের বাসিন্দাদের দাসানুদাস কীটাণুকীট মনে করত। পুরুষদের সহজলভ্য শ্রমিক আর মেয়েদের সহজলোভ্য ভোগ্যা মনে করত। এর ফলে অবাধ, অসংযম এবং অবাঞ্ছিত যৌনজীবনে জড়িয়ে পড়ল তাঁদের এক অংশ। গণিকাবৃত্তির রমরমা হতে শুরু করল এই সময় থেকেই। গণিকাগৃহে যাওয়া যেন এক স্ট্যাটাস সিম্বল হয়ে দাঁড়াল। সংক্রমিত হতে থাকল কালান্তক যৌনব্যাধী। তাঁদের বেপরোয়া যৌন সম্ভোগ সিফিলিস এবং গনোরিয়ার মতো যৌনব্যাধী আতঙ্কের সৃষ্টি করল। যৌনব্যাধীর আতঙ্কে বাজারও খানিকটা স্তিমিত হয়ে গিয়েছিল কিছুকালের জন্য। কন্ডোম বাধ্যতামূলক হওয়ার আগে পর্যন্ত এই ভীতি কাজ করত রসিকদের মনে। শোনা যায়, ফরাসিদের কাছ থেকেই সিফিলিস যৌনরোগটি আমদানি হয়েছিল। সিফিলিস রোগটি মূলত কুকুরদের অসুখ, কুকুরদের হত। কুকুরদের কাছ থেকে এই সিফিলিস রোগটি মানুষের শরীরে কীভাবে সংক্রমিত হল, সেটা অবশ্যই গবেষণার বিষয় হতে পারে। আতঙ্ক নিয়ে বেশ কয়েক যুগ কেটে গেল গণিকা ও গণিকাপ্রেমীদের। এরপর রসিক-রসকিনীদের চোখেমুখে ভরসার আলো দেখা গেল। সিফিলিস ও গনোরিয়া নিরাময়ের জন্য হাতে চলে এলো অব্যর্থ প্রতিষেধক মেচনিকফ মলম, পেনিসিলিন, সালফাথিয়াজোল ইত্যাদি। এইসব ওষুধের ব্যবহার বাড়তেই গণিকাদের যৌনজীবনে এক বিপ্লব ঘটে গেল। কিন্তু পূর্ব-সতর্কতা নেওয়া যায় না-বলে রোগটা থেকেই গেল। সেই অভাবটা পূরণ করে দিল কন্ডোম। এখন অবশ্য সিফিলিস, গনোরিয়ার কথা খুব একটা শোনা যায় না। বরং এখন নতুন আতঙ্ক এইডস। সেটাও প্রায় স্তিমিত। সচেতনতা ও বাধ্যতামূলক কন্ডোম ব্যবহারে যৌনরোগ এখন আর তেমন আতঙ্ক ছড়াতে পারছে না। কন্ডোম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব আলাদা একটি অধ্যায়ে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleভারতে ইসলাম ভারতীয় মুসলিম – অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article শিখণ্ডী খণ্ড – অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    আশাপূর্ণা দেবী

    সমুদ্র কন্যা – আশাপূর্ণা দেবী

    April 24, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    আমাদের মহাভারত – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    March 20, 2026
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Our Picks

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }