Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    জোনাকির রঙ – সায়ক আমান

    July 4, 2026

    জীবন স্রোতের আঁকেবাঁকে – অর্পিতা সরকার

    July 3, 2026

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    জোনাকির রঙ – সায়ক আমান

    সায়ক আমান এক পাতা গল্প285 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    জোনাকির রঙ – ১৪

    (চতুর্দশ অধ্যায়)

    “ও দাদু, দাদু… তুমি ঘুমিয়ে পড়লে?” বৃদ্ধের গায়ে হাত দিয়ে ডেকে ওঠে ছেলেটা। তার অস্থির হাত দুটো কিছুতেই মানুষটাকে শান্তিতে ঘুমোতে দেবে না।

    ঘুম ভেঙে চোখ মেলে তাকান বৃদ্ধ। স্মিত হেসে ওর মাথায় হাত রাখেন— “আমি তো আজই এতটা ট্রেনে করে এসেছি রে ব্যাটা, আজ না হয় একটু কমই গল্প শুনলি….”

    “ধুর, তুমি তো এখন আর আসতেই চাও না। কতদিন শুনিনি বল তো। কতদিন হয়ে গেল আর আসোইনি…”

    “আসিনি কি আর সাধে? গল্প জোগাড় করতে কি সময় লাগে না? সব কিছু নিজের চোখে দেখতে হয়, জানতে হয়, তারপরে তো মালমশলা মিশে গল্প তৈরি হয়….” নাতির মুখের দিকে চেয়ে মায়া হয় বৃদ্ধের, কত হাপিত্যেশ করে বসে ছিল ছেলেটা, “আচ্ছা বেশ….” বুড়ো চোখ রগড়ে ছেলেটার দিকে ফেরেন— “বল, আজ কীসের গল্প শুনবি? সাত ভূতের গল্প? নাকি প্যাঁচা-পেঁচির গল্প?”

    সজোরে দু-দিকে মাথা নাড়ে ছেলেটা –”না, সেই দুঃখী রাজকন্যার গল্প….” বুড়োর মুখে কীসের জন্য একটা ছায়া পড়ে, চুপটি করে অনেকক্ষণ ভাবেন কী সব, তারপর গম্ভীর গলায় বলেন, “তোর ওই দুঃখী রাজকন্যার গল্প শুনতে খুব ভালো লাগে, না রে?”

    উপরে-নীচে মাথা নাড়ে ছেলেটা।

    “দুঃখের গল্প শুনতে এত ভালো লাগে কেন? হাসির গল্প, মজার গল্প, ভয়ের গল্প… এসব শুনতে ভালো লাগে না?”

    “সব গল্পই তো দুঃখের হয়, দাদু, দুঃখ ছাড়া গল্প হয় নাকি?”

    “সে কী রে! সে আবার কী কথা! সব গল্পে দুঃখ হবে কেন?”

    “সব গল্পই তো শেষ হয়ে যায়। দুঃখ হবে না? শুধু যে গল্পগুলো দুঃখের হয়, সেগুলো শেষ হয়ে গেলে কষ্ট হয় না। দুঃখ কমে যায়…”

    ওর গালে একটা হাত রাখেন বৃদ্ধ। নরম গলায় বলেন, “তুই কত বড় হয়ে গেছিস রে ব্যাটা। এই সেদিন এইটুকু দেখলাম … তোকে আর সেই মেয়েটাকে….”

    “কোন মেয়েটা?”

    “তোর থেকে বছর পাঁচেকের ছোটই হবে, তোরা দুজনে পড়েছিলি সেই আলোয় ভরা মাঠটায়…..”

    এই গল্পটা আগেও বহুবার শুনেছে ছেলেটা, তা-ও বারবার শুনতে ইচ্ছা করে। বারবার প্রথমবার শোনার ভান করে। ভারী শান্তি পায় ও। ওর সঙ্গে আরও একটা না-দেখা মানুষের জীবন জড়িয়ে আছে! দুটো বিচ্ছিন্ন গাছের শিকড় দুটো বিচ্ছিন্ন মহাদেশের মাটি ফুঁড়ে একে অপরকে স্পর্শ করেছে। তাদের কেউ দেখতে পায় না, কেবল কোথাও তাদের শিকড় জড়িয়ে থাকে। বৃদ্ধ দম নিয়ে বলে চলেন, “তারপর সেই মাঠ দিয়ে সেই যে আমি ফিরছিলাম…. ভীষণ দেরি হয়ে গিয়েছিল সেদিন। তোর ঠাকুমা আবার আমার জন্য বসে থাকত কিনা, আমি বাড়ি ফিরে নারকেল আর চিনি দিয়ে মুড়ি মেখে খেতাম। সঙ্গে দুটো কাঁচালংকা। সারাদিন খেতখামারে কাজ করার পর সেইটুকু খাওয়ার জন্য আমার প্রাণটা ছটফট করত রে ব্যাটা।

    “তো আমি ফিরছি, ফিরছি, এমন সময় দেখি, দুটো ফুটফুটে ছেলেমেয়ে পড়ে আছে খেতের উপর। যেখানে ওরা পড়ে আছে, তার চারপাশটায় একটা পোড়া দাগ, আর কুঁইকুঁই করে কাঁদছে দুটিতে। বড় ছেলেটা হলি তুই। তোর বয়স তখন কত হবে? এই ধর পাঁচ কি ছয়, আর সেই মেয়েটা তখন হামাগুড়ি দিচ্ছে সবে।

    “তুই কোনওরকম করে ধরে রেখেছিস মেয়েটাকে। মেয়েটা বুঝি ঘুমোচ্ছিল। আমি প্রথমে ভেবেছিলাম, বেশিক্ষণ ঠান্ডায় পড়ে থেকে বুঝি মরেই গেছে বাচ্চাটা। আমি এগোতে যেতেই তুই ওকে পেছনে রেখে আগলে দাঁড়ালি। চিৎকার করে উঠলি জোরে! সে কী চিৎকার তোর…”

    “আমি হাত তুলে বললাম, ‘ভয় পাসনি রে বাছারা, আমি তোদের কোনও ক্ষতি করব না…” তুই তখন কথা বুঝতে পেরেছিলি কি না জানি না। হাঁপাতে হাঁপাতে মাটির উপর বসে পড়লি। তারপর হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলি বোকার মতো। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘তোরা কারা? কোথা থেকে এসেছিস?’

    “তুই কিছুই বলতে পারলি না। কেবল মেয়েটাকে কোলের উপর নিয়ে হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলি আগের মতো।

    “আমি ভাবলাম, কাদের ছেলেমেয়ে বুঝি ফেলে রেখে গেছে। বেশিক্ষণ এভাবে পড়ে থাকলে ঠান্ডাতেই মরে যাবে। ভাবলাম, আপাতত বাড়ি নিয়ে যাই, কেউ নিশ্চয়ই খোঁজ করতে আসবে। তখন মা বাপের হাতে তুলে দেব। কিন্তু ও হরি! একদিন গেল, দু-দিন গেল, কেউ আসে না। কেবল তুই সারাদিন মেয়েটাকে আগলে বসে থাকিস। তোর ঠাকুমা মেয়েটাকে দুধ খাইয়ে দেয়, সেই সময়টুকু ছাড়া সব সময় তোর কাছে থাকে। কিছুতেই কাছছাড়া করতে চাস না। তারপর…

    “এমনি করে সাত-আট মাস কাটল, বুঝলি। মেয়েটা ততদিনে সবে টলমল পায়ে দাঁড়াতে শিখেছে। কিন্তু তার চোখ দুটো ভারী অদ্ভুত! সে চোখের দিকে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকলে কেমন যেন নেশা লাগে। মাঝে মাঝে ভয়ও লাগত। এ কাদের মেয়ে নিয়ে এলাম বাড়িতে? তোর ঠাকুমা বড় ভালোবাসত তাকে। তারপর একদিন একটা কাণ্ড ঘটল…”

    “কী কাণ্ড, দাদু?”

    “সেদিন খুব ঝড়জলের রাত। দুমদুম করে বাজ পড়ছে। মনে হচ্ছে, পৃথিবীটা বুঝি এইবার ফট করে হাঁড়ির মতো ফেটে যাবে। অমন আকাশ-ভাঙা বৃষ্টি জীবনে দেখিনি। আমাদের তো মাটির বাড়ি। যে-কোনও সময় পড়বে ভেঙে।

    আমরা দুজনে তোকে আর সেই মেয়েটাকে নিয়ে ভয়ে ঠকঠক করে বসে কাঁপছি। তো এমন সময় দরজায় খুব জোরে জোরে টোকা পড়ল। এত জোরে যে মনে হল, এই বুঝি দরজা ভেঙে ফেলবে কেউ।

    “আমি ভেতর থেকে প্রশ্ন করে কারও হাঁক শুনতে পেলাম না। উঠে দরজা খুলে দিতে একটা ভারী সুন্দরী অল্পবয়সি মেয়ে ঘরে ঢুকে এল। ভারী অদ্ভুত দেখতে সেই মেয়েটাকে! সবজে চোখের মণি, এই একমাথা কোঁকড়ানো চুল, আর তেমন টিকোলো চোখ-মুখ। ঠিক যেন ভিনদেশি রূপকথার বই থেকে জেগে উঠে এই ঝড়জলের রাতে ছুটতে ছুটতে আমার ভাঙা বাড়িতে এসে পড়েছে।

    “আমি তো তাকে দেখে অবাক! সে কিন্তু আমাদেরকে দেখে এতটুকুও ঘাবড়াল না। খেয়াল করে দেখলাম তার হাতে একটা বড় কাঠের বাক্স। তার ভেতরে কী যেন আছে… সেটা টেবিলের উপর রেখে ধাতস্থ হয়ে বসতে তাকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘তুমি কে?’ সে বলল তার নাম নাকি ইলোরা। সে আসছে তোদেরকে খুঁজতে….”

    “কেন? আমাদেরকে খুঁজছে কেন?”

    “বলল, তোরা নাকি এক অন্য জগৎ থেকে কী এক গণ্ডগোল হয়ে এই পৃথিবীতে এসে পড়েছিস…”

    “কেমন জগৎ, দাদু?”

    “এক অদ্ভুত জগৎ! সেখানে সবাই খুব ভালো, সেখানে সব মানুষ খুব ভালো থাকে, কারও জীবনে কোনও দুঃখ নেই, কষ্ট নেই, যারা যারা আমাদেরকে ছেড়ে চলে যায়, সেখানে গেলে তাদের সবাইকে খুঁজে পাওয়া যায়…”

    “সত্যিই এমন জায়গা আছে, দাদু?”

    “কী করে জানব বল ব্যাটা? আমিও তো খুঁজে পাইনি। তবে খুঁজছি, একদিন নিশ্চয়ই পেয়ে যাব…”

    “তারপর সেই মেয়েটা কী বলল?”

    “মেয়েটা বলল, সে-ও নাকি ওই জগৎ থেকেই আসছে। ও এসেছে তোদেরকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে। সে কথা শুনে তো তোর ঠাকুমার সে কী কান্না! আমি কিছু বলার আগে সেই মেয়েটাই শান্ত করল তাকে। বলল, একবার যখন চলে এসেছিস, তখন এক্ষুনি আর ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারবে না। নিয়ে একসময় যাবে, কিন্তু তার আবার এক নিয়ম আছে…

    “আমরা একটু হাঁপ ছেড়ে বাঁচলাম। মেয়েটা ততক্ষণে সেই কাঠের বাক্সটা খুলে ফেলেছে। দেখলাম তার ভেতরে আছে একটা মস্ত কাচের জার।”

    “কাচের জারে কী ছিল?”

    “দেখলাম, দু-তিনটে সবজে জোনাকি উড়ে বেড়াচ্ছে সেই জারের ভেতর। কীভাবে জানি জারের ভেতর ঢুকে পড়েছে তারা। সেটা দেখিয়ে মেয়েটা আমাকে বলল, তোরা যতবার দুঃখ পাবি, কষ্ট পাবি, ততবার ওই কাচের জারের ভেতর একটা করে জোনাকি ঢুকে আসবে… এমন করে ভরতি হতে হতে যখন আর জোনাকি ঢোকার জায়গা থাকবে না, জারটা পুরোপুরি ভরে যাবে, তখন তোরা সেই অন্য জগতে চলে যেতে পারবি…. তার আগে যেতে পারবি না…”

    “তারপর কী হল, দাদু?”

    “মেয়েটা আরও বলল, তোরা দুজন একসঙ্গে থাকলে কাচের জারটা কোনওদিনই ভরবে না। ফলে সে আর তোদের নিয়েও যেতে পারবে না। তা তো হতে দেওয়া যায় না, হাজার হোক তার দায়িত্ব বলে কথা… সে শর্ত দিল, যতদিন না জারটা ভরছে, ততদিন তোদেরকে আমি রাখতে পারি। কিন্তু একসঙ্গে রাখলে চলবে না। আমি ভেবে দেখলাম এ ছাড়া তো উপায় নেই আর। ওর সঙ্গে আমার একটা চুক্তি হল…”

    “কেমন চুক্তি, দাদু?”

    “ওর সঙ্গে চুক্তি হল যে আমি তোদের দুজনকে দুটো আলাদা জায়গায় রাখব। এতটাই দূরে যে তোদের কোনওদিনও দেখা হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না। তোদেরকে একে অপরের গল্প বলব আমি, কিন্তু নাম বলব না, মুখ চিনবি না তোরা…”

    “তারপর?”

    “তো আমার সঙ্গে চুক্তি করে মেয়েটা তো চলে যাচ্ছিল, এমন সময় হঠাৎ করে সে ফিরে এল। বলল, এই যে এতদিন আমি তোদের দেখাশোনার দায়িত্ব নিয়েছি, তার বদলে ও আমাকে কিছু দিতে চায়…”

    “কী দিয়েছিল, দাদু?”

    “তোদের সেই জগত্‍টা, সেখানে তো সবাই চাইলেই যেতে পারে না… তো সেই মেয়েটা আমাকেও একটা কাচের জার দিয়ে গেল। তোদের মতো অত বড় নয়, ছোট। বলেছিল, আমার জারটাও যেদিন ভরে যাবে, সেদিন আমি ওই জগতে চলে যেতে পারব… ওখানে কোনও দুঃখ নেই, কারও কোনও অভাব নেই, কেউ বড় হয়ে যায় না, কারও বাবা-মা বুড়ো হয়ে যায় না, কারও বাবা-মা মরেও যায় না… বরঞ্চ যারা মরে গেছে, তাদেরকে আবার দেখতে পাওয়া যায়…

    “সেই মেয়েটা এখন কোথায় আছে, দাদু? সেই যে সেই দুঃখী রাজকন্যা?”

    বৃদ্ধ হাসে, বলে, “সে কথা তোকে বলি কী করে বল? তোদের যদি আবার কখনও দেখা হয়ে যায়? তাহলে তো আর সেই কাচের জার ভরবে না। আমারও কথার খেলাপ হয়ে যাবে…”

    ছেলেটা বেশ কিছুক্ষণ মন দিয়ে ভেবে দ্যাখে সত্যিই কথাটার মধ্যে যুক্তি আছে। সে প্রশ্নটা পালটে ফেলে বলে, “আচ্ছা, কোথায় আছে না-ই বা বললে, শুধু বলো কেমন আছে?”

    বৃদ্ধ চোখ বুজে চুপ করে থাকেন। কিছুক্ষণ হু হু করে রাতের হাওয়া বইতে থাকে। কী যেন একটা সুর মিশে যায় সেই হাওয়ায়। দূরে আকাশের গায়ে অসংখ্য নক্ষত্র ঝিকমিক করছে।

    “ভালো নেই রে, অনেক কষ্ট তার…”

    “আমারও কষ্ট হয় জানো, মাঝে মাঝে ভালো লাগে না কিছু…”

    “তোর সব কথা বলতে ইচ্ছা করে ওকে, তা-ই না?”

    “হ্যাঁ…” উত্তরটা দিয়ে আবার মেঝের উপরে চিত হয়ে শুয়ে পড়ে ছেলেটা। বৃদ্ধ বোঝে, ওর মন খারাপ হচ্ছে। ছেলেটার মুখের উপরে ঝুঁকে পড়ে বলেন, “দেখ, তোরা দুজন যেখানেই থাকিস-না কেন, একটা জিনিস কিন্তু একই থাকে…”

    “কী?”

    আকাশের দিকে আঙুল দেখান বৃদ্ধ, “ওই আকাশটা, আর ওর ভেতরে জ্বলতে-থাকা তারাগুলো। আচ্ছা, আকাশের এতগুলো তারার মধ্যে তোর কোন তারাটা সব থেকে ভালো লাগছে?”

    মন দিয়ে আকাশের দিকে কিছুক্ষণ চেয়ে থাকে ছেলেটা। তারপর একটা বিশেষ তারার দিকে আঙুল দেখায়। বৃদ্ধ হেসে বলেন, “আচ্ছা বেশ, তুই মন খারাপ হলে ওই তারাটার দিকে তাকিয়ে থাকিস, কেমন? আমার যখন ওই মেয়েটার সঙ্গে দেখা হবে, ওকেও বলব ওই তারাটার দিকে তাকিয়ে থাকতে…. তাহলেই দুজনের দুঃখ মিলে যাবে। দুজনে একই জিনিস দেখলে দূরত্বটা খুব কম মনে হয়, তা-ই না?”

    শতরূপ একমনে চেয়ে থাকে উজ্জ্বল তারাটার দিকে। বৃদ্ধ ওর মুখের দিকে তাকিয়ে বলেন, “ওর দুঃখের কথা তোর খুব শুনতে ইচ্ছা করে, তা-ই না?”

    “হ্যাঁ…”

    “আচ্ছা বেশ, আমি যতবার এখানে আসব, ওর সব দুঃখের কথা বলব তোকে, কেমন?”

    দু-দিকে ঘাড় নেড়ে দেয় শতরূপ। তারপর বলে, “আচ্ছা দাদু, সেই মেয়েটার কী হল? সেই যে যার সবুজ চোখ? সে আর আসেনি তোমার কাছে?”

    “আসবে, সময় হলেই সে আসবে। সে তো নিয়ে যেতে আসবে…”

    “পৃথিবীতে এত মানুষ, সবাইকে সে-ই নিয়ে যায়?”

    “না, সবাইকে নয়। যারা নিজের ইচ্ছায় চলে যেতে চায়, তাদেরকে কেবল নিয়ে যায় সে…”

    “নিজের ইচ্ছায় মানুষ চলে যেতে চায় কেন?”

    বৃদ্ধ আর কোনও কথা বলেন না। চুপ করে চেয়ে থাকেন ছেলেটার মুখের দিকে। ওর দিকে পাশ ফিরে ওকে জড়িয়ে ধরে গলার কাছে মাথাটা গুঁজে দেন।

    একটা অদ্ভুত গন্ধ পায় শতরূপ। এ গন্ধ আর কোথাও পায়নি সে। রাতের হাওয়া ঝিরঝির করে বয়ে চলে, ঝিঁঝির ডাক, বুড়ো মানুষটার ঘামের গন্ধ আর গল্প মিলে অদ্ভুত নেশা-ধরা আবেশে বেশ কিছুক্ষণ কেটে যায়।

    উত্তর না পেয়ে অস্থির হয়ে ওঠে শতরূপ, আবার বৃদ্ধকে ঠেলা দেয়, “ও দাদু, বলো। মানুষ নিজে থেকে চলে যেতে চায় কেন?”

    আর কোনও উত্তর আসে না। নরম হাওয়া গায়ে মাখতে মাখতে কখন যেন ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে পড়েছেন বৃদ্ধ।

    *

    “তারপর কী হল, দাদু?”

    পাহাড়ি রাস্তায় সন্ধ্যা নেমেছে একটু আগে। পথঘাট জনশূন্য। তারই মাঝে হেঁটে আসছেন এক বছর ষাটেকের বৃদ্ধ। তাঁর কাঁধে একটা গামছা বাঁধা। সে গামছায় আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা আছে একটা বছর পাঁচেকের মেয়ে। তার থুতনিটা রাখা বৃদ্ধের কাঁধে, বৃদ্ধ গল্প বলে চলেছেন তাকে। সে চোখ বড় করে মন দিয়ে শুনছে। মাঝে মাঝে প্রশ্ন করছে। তারপর আবার চোখ বড় করে তাকিয়ে থাকছে মাটির দিকে।

    বুনো গন্ধে ভরে আছে জায়গাটা। পাশের জঙ্গলের ভেতর থেকে মাঝেমধ্যে পশু-জন্তুর ডাক ভেসে আসছে। চাঁদের আলোয় ভেজা সেই অদ্ভুত মায়াবী পরিবেশের দিকে মন নেই মেয়েটার। বৃদ্ধ যতক্ষণ গল্প বলেন, সে মন দিয়ে শোনে। কোনওদিকে তাকায় না।

    “তারপর? তারপর ওরা নিজেদের মতো বড় হতে লাগল…. কেউ কাউকে চিনল না। ওরা নিজেরাই জানতে পারল না ওরা রোজ একে অপরের কথা ভাবে, একজনের দুঃখের কথা আর-একজন শোনে, তবে সত্যি ঘটনার মতো করে নয়, গল্পের মতো করে… একজনের দুঃখগুলো আরেকজনের কাছে জমা থাকল… কিন্তু কার কাছে জমা থাকল তা কেউ জানতে পারল না…”

    “মানে সত্যি সত্যি কথা মিথ্যে মিথ্যে করে জানল?”

    বৃদ্ধ বাচ্চা মেয়েটার মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। তারপর বলেন, “ওইজন্যই তো গল্প রে বেটি। একজনের দুঃখ অনেকজনের কাছে পৌঁছে দেওয়া…” বৃদ্ধের হাতের উপর হাত রাখতে গিয়ে একবার ককিয়ে ওঠে মেয়েটা। বৃদ্ধ হাতটা তুলে চোখের সামনে ধরেন— “কী হয়েছে তোর হাতে?”

    “কিছু না, তুমি বলো-না গল্পটা…”

    “কোন গল্পটা শুনবি বল?”

    “সেই যে সেই মেয়েটা, যার হাতে একটা জোনাকিভরা কাচের জার ছিল…”

    “বলব, আগে বল, তুই বিশ্বাস করিস এই গল্পগুলো?”

    “খুব বিশ্বাস করি।”

    একটু হিসেব কষে একটা প্রশ্ন করেন বৃদ্ধ, “যদি আমি আর না আসি, তখন কী হবে? কী বিশ্বাস করবি?”

    “তুমি আসবে না কেন?”

    “ওই যে … সেই জারটা ভরতি হয়ে গেলে তো আমি আর আসব না… তখন কী করবি?”

    “তুমি আমাকে ফেলে চলে যাবে, দাদু?” মেয়েটা এবার চিন্তায় পড়ে, “তাহলে কী হবে?”

    বৃদ্ধ এতক্ষণ সোজা রাস্তায় হাঁটছিলেন, এবার একটা সরু পথের বাঁকে ঢুকে আসেন, “এই যে আমি তোকে এত গল্প বলি, তুই নিজে নিজেকে গল্প বলা শিখে নিতে পারবি না?”

    “ধুর, নিজেকে গল্প শুনিয়ে কোনও মজা আছে নাকি?”

    বৃদ্ধ কিছুক্ষণ কী যেন ভাবেন, হঠাৎ তাঁর মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেছে, এইভাবে বলেন, “আচ্ছা বেশ, তাহলে আমি অন্য একজনকে গল্প বলা শিখিয়ে দিয়ে যাব। তুই তার কাছ থেকে শুনে নিস। আমার কাছে গল্প শুনতে যেমন লাগে, তার কাছেও গল্প শুনতে তেমনই লাগবে, দেখিস…”

    “সত্যি তো?”

    “আমি কি মিথ্যে বলেছি কখনও তোকে?”

    “কী জানি। মা বলে, তুমি নাকি বানিয়ে বানিয়ে সব মিথ্যে গল্প বলো… বাবাকেও বলতে, বাবা বিশ্বাস করত না…”

    “ধুর, তোকে না বলেছি ও তোর বাবা নয়। তুই তো এখানে জন্মাসইনি…”

    “তাহলে কে আমার বাবা? আমি কী করে জন্মেছি?”

    “তা তো জানি না। সেই যে বলেছিলাম না, অন্য একটা জগৎ থেকে এসেছিলি তুই। আমি যতদিন না সেখানে যাচ্ছি, সেখানকার রকমসকম তো বলতে পারব না।”

    মেয়েটা কিছুক্ষণ চুপ করে কী ভেবে বলে, “আচ্ছা, তুমি তাহলে সেই ছেলেটার কথা বলো, যে আমায় আগলে রেখেছিল ছোটবেলায়, ঠান্ডায় মরে যেতে দেয়নি…..”

    ভুরুর নীচে একটা হাসি খেলে যায় লোকটার, “সে আপাতত ভালো আছে। কিন্তু আমার কেমন যেন চিন্তা হয়ে ওকে নিয়ে। বড় হলে কেউ ওকে বুঝতে পারবে কি না কে জানে। ওর ধাতটা আমি চিনি….”

    “যদি বড় হয়ে ভালো না থাকে, তখন কী হবে?”

    “তখন তুই গিয়ে গল্প করিস না হয় ওর সঙ্গে… তখন তো আমি আর থাকব না, সেই সবুজ চোখের মেয়েটাও কারও উপর রেগে যেতে পারবে না…”

    মেয়েটা খুশি হতে গিয়েও হয় না, “ধুর। তুমি থাকবে না ভাবলেই কষ্ট হচ্ছে আমার…”

    “মানুষ তো চিরকাল থাকে না, বিনি। কেবল তাদের গল্পগুলো রয়ে যায়। ছোট থেকে বড় হওয়া পর্যন্ত তুই যত জায়গায় যাবি, যত মানুষের সঙ্গে পরিচয় হবে, যতবার কাঁদবি, হাসবি, তার সব কিছু শুধু গল্প হয়ে রয়ে যাবে। যেমন আজ তুই একই গল্প বারবার শুনতে চাস, তেমন যতবার সেই গল্পগুলো শুনতে চাইবি, ততবার তারা তোর কাছেই রয়ে যাবে… আচ্ছা শোন, তোকে সেই ছেলেটার গল্প বলি…”

    একটা একটা করে গল্প বলতে শুরু করেন বৃদ্ধ। ওরা কেবল গল্প দিয়েই জুড়ে থাকবে একে অপরের সঙ্গে। একজনের দুঃখ রাখা থাকবে অপরজনের কাছে। অন্তত যতদিন তিনি বেঁচে আছেন। ওরা একজন আরেকজনকে চিনবে না, চিনবে কেবল গল্পের চরিত্র হিসেবে।

    “আচ্ছা, সেই মেয়েটার কাচের জার ভরে গেলে সে যদি আমাকে নিতে আসে, তাহলে আমি একাই চলে যাব?”

    “দুজনে একসঙ্গে এসেছিস যখন, একা একা কী করে যাবি?” কিছু হিসেব করে বৃদ্ধ বলেন, “তবে তোদের যেতে ঢের দেরি আছে। আমি যতদিন থাকব, তেমন দুঃখকষ্ট হতে দেব না তোদের। তাহলেই জার আর ভরতি হবে না…”

    “আচ্ছা দাদু” নিজের নাকের উপরে হাত বুলিয়ে মেয়েটা বলে, “আমরা তিনজনেই যদি ওখানে চলে যাই? তুমি, আমি আর সেই ছেলেটা?”

    “কেন? তোর বাবা-মা-র কাছে থাকতে ইচ্ছা করে না?”

    “একদম না, আমাকে কেউ ভালোবাসে না। আমিও কাউকে ভালোবাসি না।”

    বৃদ্ধের মুখে একটা অদ্ভুত হাসি ফোটে, “জানিস, সেই ছেলেটা মাঝে মাঝে প্রশ্ন করে, মানুষ কেন এই জগৎ ছেড়ে চলে যেতে চায়? আর তুই প্রশ্ন করিস, মানুষ কেন যেতে চায় না? আমি কাকে কী উত্তর দিই বল তো?”

    হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে পড়েন বৃদ্ধ। পাশেই একটা ছোট জংলি গাছ। তার গোড়াতে গামছাটা পেতে বসে পড়েন দুজনে। মেয়েটার বয়স কম হলেও চেহারাটা বেশ গোলগাল। ফলে তাকে পিঠে নিয়ে এতদূর হাঁটতে বেশ কষ্ট হয়। কিছুক্ষণ সেখানে বসে জিরিয়ে নিয়ে আবার হাঁটতে থাকে দুজনে। আবার গল্প বলতে শুরু করেন বৃদ্ধ। সেই ছেলেটার গল্প, যার গল্প শুনতে ভালোবাসে মেয়েটা, যার সঙ্গে জন্ম ও শৈশব জুড়ে আছে ওর… “শোন বিনি, আমি যদি কোনওদিন না থাকি, তাহলে মাঝে মাঝে ওই তারাটার দিকে তাকাবি, ঠিক আছে?” আঙুল দিয়ে একটা নির্দিষ্ট তারা দেখিয়ে বলেন বৃদ্ধ।

    “তুমি কি তারায় থাকবে?”

    “না, মানুষ মরে গেলে তারায় থাকে না। ওই তারাটার দিকে চেয়ে নিজের সব দুঃখ বলে যাবি পরপর…. মনে করবি, তারাটায় তোর সব দুঃখ রাখা আছে… মনে থাকবে?”

    “হ্যাঁ দাদু …” মেয়েটার গলা ঝিমিয়ে আসে। কথাগুলো সে স্পষ্ট শুনতে পেয়েছে কি না বুঝতে পারেন না বৃদ্ধ।

    “বিনি, বিনি, শুনতে পাচ্ছিস?” ঘাড় ঘুরিয়ে মেয়েটাকে দেখার চেষ্টা করেন বৃদ্ধ। চোখ দুটো বন্ধ করে নিবিড় ঘুমে ঢলে পড়েছে মেয়েটা। নিরাপত্তা আলিঙ্গনে…

    জোনাকির রঙ – ১৫

    (পঞ্চদশ অধ্যায়)

    নীহারিকা হুড়মুড়িয়ে ঘরে ঢুকতেই জংলু আর সোমা চমকে উঠল। ওর চোখে-মুখে একটা উদ্ভ্রান্ত ভাব। যেন এইমাত্র ঝড়ের মধ্যে দিয়ে দৌড়ে আসছে। সোমাকে সোফায় বসে থাকতে দেখে কোনওদিকে না তাকিয়ে প্রশ্ন করল, “মিস্টার ঘোষ আর বিনি কোথায়?”

    সোমা একটু থতোমতো খেয়ে গিয়েছিল, সেটা কাটিয়ে বলল, “ওরা তো বোধহয় একটু আগেই সাইকেলে করে বের হল….”

    “বেরোল মানে? কোথায় গেছে?”

    “জানি না, বলল, মিস্টার ঘোষ দু-দিন পরেই চলে যাবেন। তাই কী যেন দেখাতে নিয়ে গেছে…”

    কপালে হাত দিয়ে একবার ঝাঁজিয়ে ওঠে নীহারিকা, তারপর এগিয়ে এসে সোফাটার উপর বসে পড়ে। নিজেকে শান্ত করতে করতে বলে, “কাল রাত থেকে আমার মাথাটা ভোঁ ভোঁ করছে… কতকগুলো প্রশ্ন…”

    “কেন? কী হয়েছে কাল রাতে?”

    “শতরূপ…” কথাটা বলতে গিয়ে একবার থমকায় নীহারিকা, “আচ্ছা, এই ক-দিনে মিস্টার ঘোষের আচরণে আপনার কিছু পরিবর্তন চোখে পড়েনি? মানে যখন এখানে এসেছিল, তারপর থেকে ওঁর মধ্যে কিছু একটা বদলে গেছে মনে হয়নি?”

    প্রশ্নটা শুনে খুশিই হয় সোমা–”আমারও মনে হচ্ছিল, জানেন। অনেকটা অন্যরকম হয়ে গেছেন। প্রথমে এটা-সেটা জিজ্ঞেস করতেন, কিন্তু ইদানীং মনে হয়, সব সময়ই কী যেন লুকোচ্ছেন। আগে বেশ হাসিখুশি ছিলেন। এখন কেমন মনমরা লাগে সব সময়। কী যেন ভাবছেন সর্বক্ষণ। আমি ভাবলাম লেখক মানুষ….

    “কাল রাতে হি ওয়াজ অ্যাবাউট টু কমিট সুইসাইড…”

    “সে কী! তাহলে সেদিন ছাদ থেকে….”

    “আমি জানি না, আর কিছু বুঝতে পারছি না। সব গুলিয়ে গেছে…”

    কপালের রগ টিপে ধরে নীহারিকা— “তবে একটা ব্যাপার বুঝতে পারছি—মিস্টার দত্ত ইজ অন টু সামথিং। ইচ্ছা করেই বেছে বেছে। শতরূপকে এখানে এনেছেন। ওর সঙ্গে বিনির কিছু একটা কানেকশন আছে…”

    “কানেকশন!” একবার মাথা চুলকে ইতস্তত করে সোমা, “একটা কানেকশন কিন্তু আমি প্রথম দিন বুঝতে পেরেছিলাম। বলেওছিলাম আপনাকে, হয়তো ভুলে গেছেন। ইলোরা নামটা…” গলা তুলে বিনয়কে ডাক দিল সোমা। মিনিটখানেকের মধ্যেই এসে উপস্থিত হল সে।

    “আসার দিন কী একটা হয়েছিল না? বলছিল সেদিন…” বিনয়ের মুখের দিকে চেয়ে প্রশ্ন করে সোমা।

    বিনয় উপর-নীচে মাথা নাড়ে, “একটা অ্যাক্সিডেন্ট হতে হতে বেঁচে যায় আমাদের গাড়িটা। দাদা মাথায় চোট পেয়েছিলেন, জ্ঞান আসতে বললেন, সামনে নাকি একটা বাচ্চা ছেলে এসে পড়েছিল। কিন্তু সেদিন রাস্তায় কোনও বাচ্চা ছেলে ছিল না…. তা ছাড়া যেদিন প্রথম মন্দিরে নিয়ে গিয়েছিলাম, সেদিনও একটা বাচ্চা ছেলেকে দেখে চেঁচিয়ে ওঠে। আমি কিন্তু কাউকে দেখিনি, ব্রেক কষেও দেখলাম আশপাশে কেউ নেই….”

    “হ্যালুসিনেট করছে….” বিড়বিড় করে নীহারিকা, “কিন্তু বারবার একই হ্যালুসিনেশন দুজনের মধ্যে…”

    জংলু এতক্ষণ চুপ করে বসেছিল, সে মুখ খুলল এবার, “দাদা আসার আগে স্যার বিনিদিদির সমস্ত পুরোনো ফোটো সরিয়ে ফেলতে বলেছিলেন। তখনই আমার খটকা লেগেছিল। বিশেষ করে বিনিদিদি জন্মানোরও আগের কিছু ছবি। সেগুলো বিনিদিদি দেখলে কী ক্ষতি হবে, আমি বুঝতে পারিনি…”

    “ছবিগুলো আছে তোমার কাছে?” নীহারিকা তার দিকে ঘুরে প্রশ্ন করে। “হ্যাঁ, ফেলে দিতে বলেছিল। কিন্তু অত পুরোনো ছবি আমার ফেলতে ইচ্ছা করেনি। আমার কাছেই রাখা আছে…”

    জংলু নিজেই উঠে ঘর থেকে বেরিয়ে ছবি আনতে যায়। মিনিটখানেকের মধ্যেই ড্রয়ার থেকে বের করে খামবন্দি একগোছা ছবি এনে দেয় নীহারিকাকে। নীহারিকা খামটা হাতে নিয়ে উলটেপালটে একটার পর একটা ছবি দেখতে থাকে। ঐন্দ্রিলার ছোট থেকে বড় হওয়ার বিভিন্ন সময়ের ছবি সেগুলো, সব ক-টাতেই ঐন্দ্রিলা গম্ভীর। বোঝা যায়, ছবি তুলতে বিশেষ পছন্দ করত না সে। কোনওটা বাড়ির ছাদে তোলা, কোনওটা নদীর ধারে গিয়ে। কোনওটা মা-বাবার সঙ্গে, আশিস দত্তর সঙ্গে, কোনওটা ঘুরতে আবার অচেনা কারও পাশে দাঁড়িয়ে আছে। ছবিগুলো সময়ে পিছিয়ে যাচ্ছে ক্রমশ। একটা ছবিতে এসে হঠাৎ করে থমকে যায় নীহারিকা। এই ছবিটা সম্ভবত ঐন্দ্রিলা জন্মানোর আগের। ঐন্দ্রিলার বাবা-মা এবং মিষ্টার দত্ত ছাড়া আরও একজন দাঁড়িয়ে আছে সেই ছবিতে। এই চতুর্থ ব্যক্তিকে চেনা লাগে নীহারিকার। কোথায় যেন একে আগে দেখেছে সে। কয়েক সেকেন্ড চোখ বন্ধ করে ভাবতেই মনে পড়ে যায়, হ্যাঁ, ছোটবেলায় দেখেছে। যখন শতরূপের বাড়ি যেত, তখন মাঝেমধ্যে ওর ঘরের দেওয়ালে চোখ পড়লে এই ছবিটা দেখতে পেত। এই লোকটারই একটা ছবি টাঙানো থাকত ঘরে—শতরূপের দাদু। কিন্তু তিনি এখানে কী করছেন? এদের সঙ্গে কি যোগাযোগ ছিল?

    ছবিটা সোমার দিকে তুলে ধরে নীহারিকা— “এই লোকটা কে?”

    সোমার মুখে কিছু বিস্ময়ের রেখা খেলে যায়, সেই সঙ্গে একটা ছায়া নামে— “ওঁর নাম স্যার একবার বলেছিলেন। অমরবাবু। এ বাড়িতে আরও কিছু ছবি আছে ওঁর। একসময় ওঁদের ফ্যামিলি বিজনেস দেখাশোনা করতেন। এখানেই থাকতেন। পরে নাকি তাড়িয়ে দেওয়া হয়…”

    “তাড়িয়ে দেওয়া হয় কেন?”

    সোমা মাথা নাড়ে, “তা তো জানি না, স্যারকে আমি একবার জিজ্ঞেস করেছিলাম। উনি ঠিকঠাক উত্তর দিতে চাননি…”

    অপেক্ষা না করে পকেট থেকে ফোনটা টেনে বার করে নীহারিকা। তারপর একটা নাম্বার ডায়াল করতে থাকে। তার কপালের শিরাগুলো এখন উত্তেজনায় ফুলে ফুলে উঠছে। কী একটা খটকা বারবার মনের ভেতর উঁকি দিয়েই মিলিয়ে যাচ্ছে।

    ওপাশ থেকে কয়েকবার রিং হওয়ার পরে আশিসবাবুর গলা শোনা যায়, “হ্যাঁ, মিসেস গাঙ্গুলি, আমি এখন একটা মিটিং-এ আছি, আপনাকে আমি একটু পরে…”

    “না, একটু পরে কিছু হবার নয়। আমি যা বলছি, সেটা এখনই আপনাকে শুনতে হবে, অ্যান্ড ইউ হ্যাভ টু আনসার মি নাউ। না হলে…”

    কথাটা শেষ করতে পারে না নীহারিকা। আশিস দত্তর গলা শোনা যায়, “মহামুশকিল তো! আপনি আমায় চমক-ধমক দিচ্ছেন কেন?”

    “কারণ আপনি আমার থেকে বেশ কিছু কথা লুকিয়েছেন, একটা মানুষের লাইফ নিয়ে খেলা করেছেন….”

    নীহারিকার গলার ঝাঁজটা অনুভব করতে পেরে গলাটা একটু নরম করেন ভদ্রলোক, “আচ্ছা বেশ, বলুন, আপনি কী জানতে চান। আমার পক্ষে যদি সম্ভব হয়, আমি উত্তর দেব…”

    “আপনাদের পুরোনো ছবিতে আপনার এবং ঐন্দ্রিলার বাবা-মা-র সঙ্গে চতুর্থ একজন ব্যক্তির ছবি আছে… অমরবাবু। এঁকে তাড়িয়ে দেওয়া হয় কেন?”

    উত্তর আসতে কয়েক সেকেন্ড সময় লাগে। ভারী গম্ভীর গলা শোনা যায়, “ওঃ, উনি আমাদের টি-এস্টেট আর হাউজিং দেখাশোনা করতেন। টাকাপয়সা ডিলিং-এর একটা দায়িত্ব ছিল ওঁর উপর। একবার কী সব চুরিচামারি করে ধরা পড়েন, তারপর দাদা ওঁকে কাজ থেকে তাড়িয়ে দেয়…

    “কেন মিথ্যে বলছেন বলুন তো? আমি জানি এই ভদ্রলোকই মিস্টার ঘোষের দাদু, আপনি যে ওঁকে এখানে ডেকে এনেছেন, তার সঙ্গে এঁর কিছু যোগ আছে, সেটাই জানতে চাইছি। এতদিন পর নিশ্চয়ই চুরির মাল উদ্ধার করতে ডেকে আনেননি? আপনি যদি এক্ষুনি পুরোটা আমাকে না খুলে বলেন তাহলে বাধ্য হয়ে আমাকে ঐন্দ্রিলাকে সমস্ত কথা…”

    “আরে থামুন থামুন। আপনি ব্ল্যাকমেইল করছেন কাকে? শুনুন, এতদিন পেরিয়ে গেছে, এখন ওসব ঘটনার আর তেমন কোনও ভ্যালু নেই….” কয়েক সেকেন্ড সময় নিলেন আশিস দত্ত, “আচ্ছা বেশ, আমি বলছি সবটা। যদিও তাতে আপনার কী সাহায্য হবে জানি না…”

    নীহারিকা উদ্‌গ্রীব হয়ে অপেক্ষা করতে থাকে পরবর্তী কথাগুলোর জন্য। “আপনাকে আমি ভুল কিছু বলিনি। অমর ঘোষ সত্যি আমাদের টি-এস্টেট দেখাশোনা করতেন। তখন তাঁর বয়স বছর পঞ্চাশেক হবে। তবে চুরিচামারি করার জন্য তাঁকে তাড়ানো হয়নি। হয়েছিল অন্য কারণে… আই মিন, পারিবারিক কারণে…”

    “কী কারণ?”

    “বিনির মা, মানে আমার বউদির বিয়ের আগে একটা গোপন সম্পর্ক ছিল। বিয়ের বছর চারেক পরে বউদি প্রেগন্যান্ট হয়ে পড়তেই আমার দাদা তার উপর অত্যাচার শুরু করে। কারণ দাদার পক্ষে বাবা হওয়া সম্ভব ছিল না। হি ওয়াজ ইমপোটেন্ট… দাদা বুঝতে পারে সেই গোপন প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্কের ফলেই আসন্ন সন্তান। বউদিকে মারধর করেও বিশেষ লাভ হয়নি। তার দাবি, গোপন সম্পর্ক তার একটা ছিল বটে, কিন্তু এই সন্তানের বাবা নাকি সে নয়। বউদি কোনও গোপন পদ্ধতিতে শয়তানের সাধনা করে এই সন্তান লাভ করেছে…. আপনি জিশুখ্রিস্টের গল্প জানেন তো? সেই যে হোলি ভার্জিন….”

    “জানি, তারপর?”

    “যথারীতি দাদা এসব ভুজুংভাজুং বিশ্বাস করেননি। তিনি একরকম উন্মাদ হয়ে ওঠেন। আমাদের এত বড় ব্যাবসা, মানসম্মান সব ডুবতে বসেছে, সেই সঙ্গে দাদার ইগো। তবে বাচ্চাটাকে অ্যাবর্ট করতে দেননি বউদি। একরকম জবরদস্তি করেই পৃথিবীতে আনেন তাকে। বুঝতেই পারছেন আমাদের পরিবার ওদিকে একটা লোকাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন গোছের। সেই গোপন প্রেমিককে হাতের সামনে পেলে দাদা খুনই করে ফেলবেন। অগত্যা বউদি পিঠ বাঁচাতে আমাদের ম্যানেজার অমর ঘোষকে দায়ী করেন। ওর সঙ্গেই নাকি প্রেম ছিল বউদির…”

    “সে কী! উনি মেনে নিলেন?”

    “সোজা পথে কি আর মানে? ভদ্রলোকের কিছু করার ছিল না। যা-ই হোক, জিনিসটা নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি হয়নি। বউদি নাম বলার আগে দাদাকে দিয়ে প্রতিজ্ঞা করিয়ে নিয়েছিল যে অমরবাবুকে আর যা-ই করা হোক, প্রাণে মারা হবে না। সেটা করতে না পেরে দাদা কুকুরের মতো মারধর করেন অমরবাবুকে। তারপর এস্টেট থেকে তাড়িয়ে দেন… এরপর আর ভদ্রলোককে স্বচক্ষে দেখিনি আমি…”

    নীহারিকা কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে। তারপর বলে, “আপনার বউদির সেই গোপন প্রেমিকটি কে, সেটা বুঝতে পারছি। উনি আপনাকেই বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন, তা-ই না?”

    আবার কিছুক্ষণের নীরবতা। তারপর কাটা কাটা উত্তর ভেসে আসে, “দাদা বউদির কাছ থেকে কিছু প্রেমপত্র পান। সেগুলো আমার লেখা ছিল। সমস্তটাই বিয়ের আগে লেখা…”

    “কী অদ্ভূত স্বার্থপর মানুষ আপনি!” ভর্ৎসনা করে ওঠে নীহারিকা, “নিজের পাপ একটা বাপের বয়সি লোকের ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে লজ্জা করল না?”

    “পাপ আমি চাপিয়ে দিয়েছিলাম ঠিকই, কিন্তু মিসেস গাঙ্গুলি, সে পাপটা আমার ছিল না…”

    “তার মানে?”

    “তার মানে বিয়ের পর থেকে আমার বউদির সঙ্গে কোনও সম্পর্ক ছিল না। আমি ওর সঙ্গে কখনোই ঘনিষ্ঠ হইনি। কিন্তু আমাদের সম্পর্কটার কথা দাদাকে বিশ্বাস করানো অসম্ভব ছিল। এমনকি বিনির জন্মানোর পর বছরখানেক আমি ওদের সঙ্গে যোগাযোগ প্রায় রাখিইনি….”

    থতোমতো খেয়ে যায় নীহারিকা, “তাহলে ঐন্দ্রিলার বাবা কে?” আশিস দত্তর গলা এবার খাদে নেমে আসে, “শয়তান, তন্ত্রসাধনা এইসব আলবাল জিনিসে বিশ্বাস হয় না আমার। মাঝে মাঝে মনে হয় অমর ঘোষ নিজেই বিনির বাবা। ওর মা কখনও খুলে বলেনি আমাকে। আমিও এই ব্যাপারটা নিয়ে খুব একটা বেশি ঘাঁটাইনি। ওর বাড়ির লোক কুসংস্কারাচ্ছন্ন ছিল…”

    সমস্ত ব্যাপারটা মাথার মধ্যে গুছিয়ে নেয় নীহারিকা। তারপর বলে, “অমর ঘোষকে আপনাদের এখান থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার পর তিনি আর এদিকে আসেননি?”

    “শুনেছিলাম, আসতেন। লুকিয়েচুরিয়ে। বিনিকে নাকি খুব ভালোওবাসতেন। এস্টেটের ভেতর লুকিয়েচুরিয়ে দেখা করত ওর সঙ্গে। ও ছোটবেলায় মাঝেমধ্যে পালিয়ে যেত না? পালানোটা র‍্যান্ডাম হত না। অমর ঘোষ ওকে বলে যেত, ঠিক কবে নাগাদ কোনখানে তিনি দাঁড়িয়ে থাকবেন। সেই সময় বুঝে ঐন্দ্রিলা বাড়ি থেকে পালাত। ওর বাবা-মা-র খুব একটা নজর ছিল না ওর দিকে। বাবার তো একেবারেই নয়। অন্যের সন্তানের দায় আর কে নিতে চায় বলুন? ফলে ওর পালানোটা আটকাতও না। অমর ঘোষের খুব গল্প বলার বাতিক ছিল। বানিয়ে বানিয়ে আজগুবি গল্প শোনাতেন…. তা ছাড়া ভালো গানও গাইতে পারতেন। সেসব শুনতেই বোধহয় বিনি….”

    “এসব কথা ও আমাকে বলেনি কেন?”

    “অমর ঘোষের কথা ও কাউকেই বলত না। ওটা ওর নিজের জগৎ ছিল। এমনকি ডায়েরিতেও লেখেনি। বাবা কিংবা মায়ের হাতে ডায়েরিটা পড়লে সর্বনাশ হয়ে যেত।”

    “তারপর? অমর ঘোষের সঙ্গে ওর দেখা হওয়া বন্ধ হয় কবে?”

    “তা তো জানি না। সেই পয়জনিং-এর কেসটা যখন হয়, তখন ওর তেরো বছর বয়স। তারপর থেকেই ও আমার কাছে থাকে। প্রথম বছরখানেক আগের মতোই ছিল। বাড়ি থেকে পালানোর চেষ্টা করত, মাঝেমধ্যে ভায়োলেন্ট হয়ে যেত…. তারপর হঠাৎ করেই শান্ত হয়ে যায়…. বছর তিনেক হল একেবারে অন্য মানুষ হয়ে গেছে, কেবল ওই সুইসাইড অ্যাটেম্পটগুলো ছাড়া…”

    “মানে ধরুন, ষোলো কি সতেরো বছর বয়স থেকে ও শান্ত হয়ে গেছে, তা-ও আবার হঠাৎ করেই?” মনে মনে হিসেব করে নীহারিকা। শতরূপ রেডিয়োতে কাজ করা শুরু করেছে বছর তিনেক আগে। তখন থেকেই সে শতরূপের গল্প শোনে। এবং তারপর থেকেই পুনার উল্লেখ প্রায় নেই ডায়েরিতে। বাড়ি থেকেও পালায়ওনি।

    কিছুক্ষণ থম মেরে থাকার পর মুখ খোলে নীহারিকা, “একটা কথা আমি বুঝতে পারছি না, মিস্টার দত্ত, গোটা ঘটনার মাস্টারমাইন্ড আপনি। এতদিন। পর অমর ঘোষের নাতিকে এখানে এনে ওকে গল্প বলানোর কাজটা আপনি হঠাৎ করতে গেলেন কেন? এর পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল?”

    “দেখুন মিসেস গাঙ্গুলি, আপনার সব প্রশ্নের উত্তর দিতে আমি বাধ্য নই। তা ছাড়া এই মুহূর্তে বিনির দরকারও নেই আপনাকে। আমার মিটিং আছে, আমাকে অযথা দাঁড় করিয়ে রাখবেন না….

    “উত্তরগুলো জানাটা আমার প্রয়োজন…”

    “যতটা জানানোর প্রয়োজন মনে করেছি, জানিয়েছি। তা ছাড়া মিস্টার ঘোষকে আমি আজ সকালেই বলেছি কলকাতায় ফিরে আসতে। তাহলে আমাকে এত প্রশ্ন করার মানেই তো বুঝতে পারছি না…”

    “ও রাজি হয়েছে কলকাতায় ফিরে যেতে?”

    “আশা তো করছি হয়েছে, না-হওয়ার তো কারণ দেখছি না… বিনিও হাসিখুশি, ওর টাকাপয়সাও সমস্তটা মিটিয়ে দেব…

    ফোনটা রেখে কিছুক্ষণ সিলিং-এর দিকে তাকিয়ে থাকে নীহারিকা। সোমা, জংলু আর বিনয় বসে আছে ঘরের ভেতর। সবার মুখ থমথমে। তাদের দিকে একবার চোখ বুলিয়ে নিয়ে নীহারিকা বলে, “ওরা ফিরলে ওদের একটু চোখে চোখে রাখবে। আমার মনে হয়, এই বাড়িতে কিছু একটা গণ্ডগোল ঘটতে চলেছে। দুঃসংবাদ আসতে তো বেশি সময় লাগে না।”

    “বিনিদিদি তো আগের থেকে বেশি হাসিখুশি আছে ম্যাডাম, তাহলে…”

    “আমি ওকে এতদিন ধরে দেখে আসছি। কেমন যেন মনে হচ্ছে, ওর ভেতরে এখন অন্য কিছু চলছে। হয়তো সমস্তটাই…”

    “আপনি মিস্টার ঘোষকে আগে থেকে চেনেন, তা-ই না?”

    সোমা করেছে প্রশ্নটা। চোখ নামিয়ে নেয় নীহারিকা, “ছোটবেলা থেকে। ক্লাস ফাইভ থেকে একই স্কুলে পড়েছি আমরা। অথচ আজও চিনতে পারলাম না ছেলেটাকে। ও কখন কীভাবে চিন্তা করে, আজও বুঝি না। তবে…” একটু থেমে আবার বলে নীহারিকা, “ওর ছোটবেলায় কিছু একটা ঘটেছিল। ওর মা মাঝে একবার বলেছিলেন আমাকে, কিন্তু আমি অত মন দিয়ে শুনিনি। সম্ভবত মাথার চিকিৎসা চলেছিল কিছু। কোনও ট্রমাটিক এক্সপিরিয়েন্স…” মাথায় হাত ঘষে স্মৃতি ওলটানোর চেষ্টা করে নীহারিকা। চোখটা ইতস্তত ঘরের ভেতর কোথায় ঘুরে বেড়াচ্ছিল ওর। টেবিলের উপরে ছবিগুলো এখনও ছড়িয়ে আছে, তার উপরে দৃষ্টি পড়তেই চোখ আটকে যায়। একটা ছবিতে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বিনি। গায়ে একটা ফ্রক। ফ্রকের থাইয়ের কাছে একটা পকেট। পকেটটা ফুলে আছে। বোঝা যায়, সিগারেটের কেস সাইজের কিছু একটা ঢোকানো আছে সেখানে। অন্য একখানা ছবির দিকে তাকায় নীহারিকা, এখানেও দাঁড়িয়ে আছে বিনি, ছাদে তোলা ছবি। এখানেও ফুলে আছে তার পকেটের কাছটা। আর-একটা ছবি হাতে নেয় নীহারিকা। এই ছবিতে বিনি যে জামাটা পরে আছে, তাতে কোনও পকেট নেই। কেবল হাত দিয়ে কালোমতো কিছু একটা ধরে আছে। প্রায় সব ছবিতেই বিনির আশপাশে কোথাও আছে জিনিসটা…

    “এটা কী বলো তো?” ছবির উপর আঙুল তুলে দেখায় নীহারিকা। জংলু ঝুঁকে পড়ে ছবিতে, ভালো করে দেখে নিয়ে বলে, “এটা মনে হয় সেই ক্যাসেটটা!”

    “ক্যাসেট! কোন ক্যাসেট?”

    “বিনিদিদি ছোট থেকে গান শুনত তো, অনেকগুলো ক্যাসেট ছিল দিদির কাছে। কিন্তু এই ক্যাসেটটা কিছুতেই কাছছাড়া করত না। ওইটাই মনে হয়…”

    ভালো করে দ্যাখে নীহারিকা। ক্যাসেটের গায়ে কোনও লেবেল নেই। অর্থাৎ সেটা কোনও কোম্পানির ক্যাসেট নয়। ব্যাংক ক্যাসেটে কিছু রেকর্ড করে রেখেছে কেউ…

    ‘এই ক্যাসেটটা কোথায়?”

    “বিনিদিদি এখন আর শোনে না এটা। আগের বাড়িতে রাখা আছে মনে হয়…”

    “নিয়ে আসতে হবে। কুইক….

    *

    “রূপ, এই রূপ, খেলতে যাবি না? তোকে ছাড়া খেলতে ভালো লাগে না আমার…”

    রূপ বলার চেষ্টা করে, “তুই তো চিনিস না আমাকে….

    “তোর যত বাজে কথা, তুইও তো চিনিসই না আমাকে…” মেয়েটা যেন ওর কথাটা নিজে থেকেই বুঝে নিয়ে বলে, “চিনি না তো কী হয়েছে? তোর সব কথা আমি জানি। শুধু তোকে দেখিনি কোনওদিন। তুই মুখ ঘুরিয়ে থাকিস, তাই তো দেখতে পাই না। একদিন দেখতে পাব, বল? সেদিনটা সারাজীবন মনে রাখব। সেই কখন থেকে ডাকছি তোকে…” মেয়েটার গলার মধ্যে কোথায় যেন একটা কান্না মিশে আছে। যেন কেউ এইমাত্র মেরেছে কিংবা বকে দিয়েছে। ও কাঁদতে কাঁদতে দৌড়ে এসেছে রূপের জানলায়। ওকে ডাকছে। যতবার কান্না পায়, ঠিক এই জানলাটার কাছে ছুটে আসে মেয়েটা। রূপের সঙ্গে একা একাই গল্প করে। যতক্ষণ মেয়েটা জানালায় দাঁড়িয়ে থাকে, ততক্ষণ চাইলেও রূপ পেছন ঘুরতে পারে না। মেয়েটা একাই নিজের মতো বকে যায়। এই যে এখন ডাকছে ওকে, “আজ সকাল থেকে কিছু ভালো লাগছে না রে। মা-বাবা কেউ কথা বলে না আমার সঙ্গে। ওরা সব সময় আমার উপর রেগে থাকে। আমি কী করেছি বল তো? আমার শুধু তোর সঙ্গে কথা বলতে ভালো লাগে। কিন্তু তুই উত্তর দিস না।” রূপ কিছুতেই বলতে পারে না উত্তর শোনার জন্য যতটা উতলা মেয়েটা; উত্তর দিতে, নিজের কথা বলতে ওরও ঠিক ততটাই ইচ্ছা করে। কিন্তু কিছুতেই বলতে পারে না।

    “এই রূপ, একটা সিক্রেট কথা শুনবি?” মেয়েটা এবার ফিশফিশ করে কী যেন বলতে শুরু করে… হঠাৎ ঘুমটা ভেঙে যায় রূপের। ধড়ফড় করে উঠে বসে বিছানায়। সবটাই স্বপ্ন! ওর মনটা বিষাদে ভরে যায়। দাদুর মুখে গল্প শুনে শুনে এখন গল্পগুলো মাথার ভেতর জীবন্ত হয়ে উঠতে শুরু করেছে। রোজ ভোররাতে এমন অদ্ভুত সব স্বপ্ন দ্যাখে ও। আর সব স্বপ্নের মধ্যে মিশে থাকে ওই মেয়েটা। ওর রোজকার রুটিন জানে শতরূপ। দাদুই বলে সেসব গল্প—রাজকন্যার গল্প। মাস দুয়েক পরপর দাদু আসে, আর সেইসব গল্প সংগ্রহ করে আনে। অধীর আগ্রহে বসে থাকে রূপ সেই গল্প শুনবে বলে। দাদু ওকে শিখিয়েছে, কী করে গল্প বলতে হয়। একটু একটু করে বানিয়ে বানিয়ে পরের লাইন সাজাতে হয়, কেমন করে বললে ভয় লাগে, কেমন করে বললে মজা হয়, কেমন করে বললে দুঃখ হয়। শতরূপ জানে দুঃখ, মজা, আনন্দ, ভয় এইসব ওর নতুন খেলনা। আগের খেলনাগুলো ভালো লাগে না। এই খেলনাগুলো সাজিয়ে খেলতে ওর ভারী ভালো লাগে। শব্দ দিয়ে খেলনা সাজিয়ে ও খাতার উপর লিখে রাখে। মাঝে মাঝে পড়ে শোনায় দাদুকে।

    আজ সকালে দাদুর কথা মনে পড়ে গেল হঠাৎ। কাল রাতেই তো এসেছিল দাদু। ওকে গল্প বলেছে সারারাত। তারপর কখন যেন ঘুমিয়ে গেছে। সকাল হতে দ্যাখে, ছাদে একা শুয়ে আছে। কারও সঙ্গে ঘুমোতে গিয়ে তারপর ঘুম থেকে উঠে সে নেই দেখলে কেমন যেন কষ্ট হয় শতরূপের। তাই ও নিজেই আগে উঠে চলে আসার চেষ্টা করে। কিন্তু আজ দাদু আগে উঠে গেছে। রোজ রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে ঠাকুরের ছবির দিকে তাকিয়ে প্রণাম করে শতরূপ। ঘুমোতে যাওয়ার আগে ঠাকুরের কাছ থেকে যা চাওয়া হয় তা-ই নাকি পাওয়া যায়। শতরূপ চেয়েছে, ওর বাড়ির লোকেরা সবাই যেন একদিন একসঙ্গে মরে যায়। ও তো সব থেকে ছোট, তাই ও বেঁচে থাকতে থাকতে অন্য কেউ মরে গেলে ওর খুব কষ্ট হবে। ঘুম থেকে উঠেই দাদুর জন্য মনটা ছটফট করে ওঠে শতরূপের। দেখতে ইচ্ছা করে দাদুকে। মুখে-চোখে একটু জল দিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসে ও।

    একতলায় নেমে আসতেই একটা কান্নার শব্দ শোনা যায়। চিৎকার করে কাঁদছে কেউ। মা-ও কাঁদছে। কেন? ও পায়ে পায়ে এগিয়ে যায় দাদুর ঘরের দিকে। সেদিক থেকেই আসছে কান্নার শব্দটা। ঘরের কাছে পৌঁছে দ্যাখে ওর বাবার মুখ লাল। যেন এইমাত্র ভয়ংকর কিছু একটা ঘটে গেছে। কেউ খেয়াল করে না পায়ে পায়ে ও এসে দাঁড়িয়েছে ঘরের দরজার সামনে। মা আছাড়িপিছাড়ি খেয়ে কাঁদছে, কোনওদিকে ভ্রূক্ষেপ নেই তার। ঘরের সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই উপরদিকে দৃষ্টি চলে যায় রূপের। সেখানে সিলিং থেকে ঝুলছে ওর দাদু। পা-টা মাটির দিকে নামিয়ে কী যেন দেখার চেষ্টা করছেন ঘুরে ঘুরে। একবার দেখলে মনে হয়, কোনও অলৌকিক উপায়ে ভেসে রয়েছেন ঘরের একেবারে মাঝখানটায়, যাতে বাইরে থেকে কেউ ঢুকলে সবার আগে চোখে পড়ে। শতরূপ অবাক হয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে ঝুলন্ত দেহটার দিকে, দাদুর হল কী? ওরকম দড়ি থেকে ঝুলছে কেন? এভাবে কাউকে আগে ঝুলতে দেখেনি ও। দাদু কি অন্য কিছু করতে চাইছিল? ও মন দিয়ে ভাবে। হ্যাঁ, দাদু অনেকবার বলত বটে কোথায় একটা যেন যেতে চায়—যেখানে মানুষ কখনও কষ্ট পায় না, কখনও কেউ কাউকে ছেড়ে যায় না, সবাই সব সময় সুখে-শান্তিতে বসবাস করে। দাদু কি তবে সেই জায়গাটায় যাওয়ার জন্য এত তোড়জোড় করল? হঠাৎ ওর দিকে চোখ পড়ে বাবার। দৌড়ে এসে একটানে ছেলেকে ঘর থেকে বার করে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

    “দাদুর কী হয়েছে, বাবা?”

    “তোর দাদু আর নেই রে…” চোখের জল আটকাতে আটকাতে বলেন বাবা।

    “কোথায় গেছে?”

    “চলে গেছে আমাদের ছেড়ে। তোকে ছেড়ে। ভগবানের কাছে চলে গেছে…”

    “কিন্তু দাদু তো বলত ভগবান বলে কেউ নেই… তোমরা কিছু জানো না…” বাবা রূপকে কোলে তুলে বেশ খানিকটা দূরে নিয়ে আসতে চান। ছটফটিয়ে কোল থেকে নেমে আসে রূপ। চিৎকার করে তারপর আবার ঢুকে পড়ে ঘরের ভেতর। এবার কিন্তু দেহটার দিকে তাকায় না সে। বরঞ্চ আঁতিপাঁতি করে কী যেন খুঁজতে থাকে।

    “কী করছিস তুই, রূপ?” ভদ্রলোক ধাওয়া করে ধরার চেষ্টা করেন ওকে। বাইরে লোকজনের হাঁকডাক শোনা যায়। পুলিশ ঢুকছে বাড়িতে।

    “সেই জারটা? যার ভেতর জোনাকি থাকত? জোনাকিগুলো ভরে গিয়েছিল, বলো?”

    .

    সাদা কাপড়ে মোড়া মৃতদেহটার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল পরিবারের সকলে। সবার মুখে শোকের ছায়া। পোস্টমর্টেমের পর শরীরের আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। কেবল মুখটুকু থেকে একটুখানি চাদর সরানো আছে। শববাহী গাড়ির ঠিক পাশে দাঁড়িয়ে ছিল রূপ। হঠাৎ তার একটা হাত উঠে এল গাড়ির কাচের উপর। ভেতরে চাদরের ফাঁক থেকে বেরিয়ে-থাকা অচেনা মুখের দিকে কিছুক্ষণ একটানা তাকিয়ে রইল সে। তারপর কাচের কাছে নিয়ে এল মুখটা। চাপাস্বরে বৃদ্ধকে কিছু বলতে চাইছে রূপ। কেউ শুনতে পেল না, ফিশফিশ করে সে বলল, “তুমি চিন্তা কোরো না দাদু। আমাদের জারটাও ভরতি হচ্ছে। খুব তাড়াতাড়ি আবার দেখা হবে, কেমন?” কথাটা বলে আর সেখানে দাঁড়াল না রূপ। মিষ্টি করে একগাল হেসে একদৌড়ে ঢুকে এল বাড়ির ভেতর।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleজীবন স্রোতের আঁকেবাঁকে – অর্পিতা সরকার
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    জোনাকির রঙ – সায়ক আমান

    July 4, 2026

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    জোনাকির রঙ – সায়ক আমান

    July 4, 2026

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Our Picks

    জোনাকির রঙ – সায়ক আমান

    July 4, 2026

    জীবন স্রোতের আঁকেবাঁকে – অর্পিতা সরকার

    July 3, 2026

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }