Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    জোনাকির রঙ – সায়ক আমান

    July 4, 2026

    জীবন স্রোতের আঁকেবাঁকে – অর্পিতা সরকার

    July 3, 2026

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    জোনাকির রঙ – সায়ক আমান

    সায়ক আমান এক পাতা গল্প285 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    জোনাকির রঙ – ৪

    (চতুর্থ অধ্যায়)

    কোথাও একটা শিশু জন্ম নিচ্ছে। আমি তার চিৎকার শুনতে পাচ্ছি। আমি তার মায়ের আর্তনাদ শুনতে পাচ্ছি। আমি শুনতে পাচ্ছি, সেই শিশুটা ভুলে যাচ্ছে তার মায়ের চিৎকারের কথা।

    তারপর শিশু বড় হল, জীবন চিনতে শিখল, জীবনকে ঘৃণা করতে শিখল। তারপর সে চিৎকার করতে থাকল, আর্তনাদ করতে থাকল। এবার তার মা ভুলে গেল তার চিৎকারের কথা। তার মা শিশু হতে হতে শ্রবণশক্তি হারিয়ে ফেলল, বোধশক্তি হারিয়ে ফেলল। তারপর শিশু জন্মের বিপরীতে এগিয়ে গেল। কেবল আমি শুনতে পেলাম, সমান গর্ভযন্ত্রণা সেই শিশুকেও গ্রাস করছে।

    আচ্ছা, মা ছাড়া আর কেউ কি জন্ম দিতে পারে না? বন্ধুরা, বাবা, প্রেমিক-প্রেমিকা? আমাদের জন্ম দেওয়ার যন্ত্রণা এরাও কি পায় না মাঝে মাঝে? তারপরে এরাও একদিন শিশু হয়ে বধির হয়ে যায়, বোধশক্তি হারিয়ে ফ্যালে। আমি আমার চোখের সামনে আমার সব জননীকে জন্ম নিতে দেখেছি।

    মাঝে মাঝে মনে হয় আমার এই ঘরটা মায়ের গর্ভ। অন্ধকার দিয়ে ঢেকে রাখে ঘরটা আমাকে। ঘরেরই কোথাও একটা গান চলছে।

    Hello darkness- my old friend
    I’ve come to talk with you again
    Because a vision softly creeping
    Left its seeds while I was cleeping
    And the vision that was planted in my brain
    Still remains
    Within the sound of silence…

    আমি ছোট্ট থেকে শুনি এই গানটা। যখন খুব দুঃখ হয়, আমার মুখের চামড়া যখন স্যাঁতসেঁতে হয়ে আসে, তখন খুব জোরে এই গানটা চালিয়ে দিই। মনে করি যে ‘অন্ধকার’ নামে একটা বন্ধু আছে আমার। অন্ধকার বলে নাকি আসলে কিছু হয় না। অন্ধকার মানে আলোর অনুপস্থিতি। এমন একটা কিছু আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করি, যা আসলে নেই। কোনও কিছুর অনুপস্থিতিকে আর হারানোর ভয় থাকে না। অনুপস্থিতি চিরন্তন। তাকে একবার ভালোবেসে ফেলতে পারলে উপস্থিতিকেই বড় ফাঁপা মনে হয়। ঠিক যেমন একবার মরে যেতে ইচ্ছা করলে বেঁচে থাকাটা ভীষণ মিথ্যে মনে হয়…

    জ্ঞান হওয়ার পর প্রথম আট বছর আমি দাদুকে পেয়েছিলাম। দাদু আমাকে গল্প বলত। দেশ-বিদেশের অদ্ভুত সব গল্প। সাত সমুদ্রপারের রাজপুত্রের গল্প। তারপর আমি উলটে শুতাম বিছানায়। সাতটা পোষা ভূত ছিল দাদুর। অদ্ভুত কাণ্ডকারখানা ছিল তাদের। সেসব গল্প বলতে বলতে দাদু আমার পিঠে হাত রেখে ঘুমিয়ে পড়ত।

    দাদু মারা যাওয়ার পর একটা অনুপস্থিতি রয়ে গেছে মনে হয়, অন্ধকারের মতো। অন্য হাজারটা লোকের উপস্থিতির থেকে সেটা আমাকে ঢের বেশি স্বস্তি দেয়।

    দাদু মারা যাওয়ার পর থেকে আমি একটা স্বপ্ন দেখি। আমার মনে হয়, এই পৃথিবীর কোন এক গভীর জঙ্গলের ভেতরে একটা ভীষণ নির্জন বাড়ি আছে। কাঠের বাড়ি। তার দোতলার বারান্দাটা বেশ বড়। সেই বারান্দার সামনে পাইন গাছের সার ঝুঁকে থাকে। গাছের ফাঁক দিয়ে প্রতিদিন রাতে চাঁদ দেখা যায়। কেবল দুই অন্ধ বুড়োবুড়ি থাকে সেই বাড়িতে। ওরা কেউ কাউকে দেখতে পায় না। কে জানে কবে শহরের জীবনে অতিষ্ঠ হয়ে পালিয়ে এসেছে দুজনে। তারপর এই জঙ্গলে এসে দেখা হয়েছে।

    রোজ ওরা ভাবে, একদিন বারান্দায় বসে থাকতে থাকতে ওদের চোখের দৃষ্টি ফিরে আসবে। মরে যাওয়ার আগে অন্তত একবার দুজন দুজনকে দেখতে পাবে।

    কোনও একদিন জঙ্গলে দেখা হবার পর হাঁটতে হাঁটতে দুজনে খুঁজে পেয়েছে এই বাড়িটা। হয়তো একটা জীবন একসঙ্গে কাটায়নি। ওদের জীবনের গল্পগুলো আলাদা, তবে রোজ সন্ধেবেলা যখন সমস্ত আলো নিবে আসে, তখন সেই বুড়োবুড়ি একটা হ্যারিকেন জেলে বারান্দায় চেয়ারে বসে। রোজ ভাবে আজকের দিনটাই অন্ধজীবনের শেষদিন। তাই রোজ নিজেদের জীবনের গল্প একে অপরকে শোনায় ওরা।

    একটা জীবন ওরা নিজেদের মতো কাটায় প্রত্যেকদিন।

    স্বপ্নটা যতবার দেখি, ভীষণ ইচ্ছে করে, ওই বুড়োবুড়ির গল্পের কোনও একটা চরিত্র হব একদিন আমি। আমার গোটা জীবন ধরে ওই বাড়িটাকে খুঁজে বেরিয়েছি।

    আচ্ছা, আপনি কখনও বলি কিংবা কোরবানি দেখেছেন? যখন অনেকগুলো মানুষ মিলে একটা অসহায় পশুকে হাত-পা বেঁধে জোর করে গলার নলি কেটে দেয়? তার অসহায় চিৎকার শুনেছেন? যে লোকগুলো পাশে দাঁড়িয়ে থাকে, তারা নিজেদের সান্ত্বনা দেয়, পশুটা ঈশ্বরের কাছে চলে গেল। তার জন্য অনন্ত সুখ অপেক্ষা করছে। কিন্তু তারা ভাবে না? ওই ভিড়ের মধ্যে এমন কেউ দাঁড়িয়ে থাকতে পারে, যে সে বিশ্বাসই করে না মৃত্যুর পর আর কিছু আছে বলে? তার নিজেকে সান্ত্বনা দেওয়ার মতো কিছু থাকে না। ওই রক্তাক্ত মাংসপিণ্ড হয়ে-যাওয়া পশুটার ছটফটানি তার কাছে যন্ত্রণা ছাড়া আর কিছুই নয়।

    আসলে কী জানেন, মানুষের মধ্যে কিছু কিছু বোধ আছে, যা চরমে উঠলে সে অন্যের বিশ্বাস কিংবা অনুভূতির কথা ভুলে যায়। যেমন ধর্ম, প্রেম, ঘৃণা, খিদে, যৌনতা এবং প্রতিহিংসা… প্রতিহিংসা…

    আমি একবার একটা মানুষকে ওভাবে রক্তাক্ত শরীরে ছটফট করতে দেখেছিলাম। লোকটার সমস্ত শরীরে একটা লাল রঙের কাপড় জড়ানো ছিল। আমার শরীরে কোনও কাপড় ছিল না। শুধু হাতে ছিল একটা… ছুরিই হবে… নাকি সাঁড়াশি? আমি ভুলে গিয়েছিলাম, ওই লোকটা কী বিশ্বাস করে। প্রেম, যৌনতা কিংবা ধর্ম নয়, আমার সেদিন খিদে পেয়েছিল ভীষণ। কোনও মানুষকে জ্যান্ত না রাখতে চাওয়ার ইচ্ছাটাও একটা খিদের মতো।

    যাক সে কথা, কাটাকাটির কথায় মনে পড়ল, আমি প্রথমবার আমার হাতের শিরা কেটেছিলাম দশ বছর বয়সে। কেটেছিলাম, কারণ আমার বাবাকে ওইভাবে শিরা কাটতে দেখেছিলাম। উঁহু, নিজের নয়, মায়ের। জোর করে মায়ের হাতটা টেবিলের উপর চেপে ধরে। একটা স্টিলের ঘড়ি দিয়ে হাতটা চাবকে লাল করত অবশ্য আগে।

    মা-কে চড় মারতে মারতে শিরা কেটে ফেলেছিল বাবা। তারপর ওই অবস্থাতেই চুমু খেয়েছিল মা-কে। হ্যাঁ, আমার সামনে। কী যেন একটা প্রমাণ করার ছিল বাবার…. ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আগে বলে গিয়েছিল, “আজ রাতে এসে আবার খাব তোকে…” বাবা চলে যাওয়ার পর মা-কে জিজ্ঞেস করেছিলাম, অমন করে তোমার শিরাটা কাটল কেন? মা বলেছিল, “ওইভাবে শিরা কেটে বাবা দ্যাখে, আমি কতটা ভালোবাসি তোর বাবাকে….

    আমার সেদিন খুব শখ হচ্ছিল দেখতে—আমার ভেতরে কতটা ভালোবাসা আছে নিজের জন্য। তারপর থেকে যখনই সন্দেহ হয়েছে, যখনই মনে হয়েছে, ভেতরে সব অনুভূতি শুকিয়ে গেছে, তখনই হাত কেটে দেখি।

    বাবার কথা মনে পড়ল হঠাৎ। বাবা মাঝে মাঝে আমাকেও খুব মারত। অন্য কাজের মতো মারধরটাও বেশ গুছিয়ে করত বাবা। পাখার সঙ্গে আমার দুটো হাত বাঁধত, তারপর বুক থেকে কোমরের দিকে বেল্টের আঘাতে মেরে লাল করে দিত।

    বাবা না থাকলে বাড়িতে একটা বাচ্চা ছেলে আসত। বছর কুড়ি বয়স হবে। দরজা বন্ধ করে বিকেল অবধি মায়ের ঘরে থাকত। আমার খুব কৌতূহল হত। সেক্সের ব্যাপারে তখন নতুন জানতে শিখেছি। একদিন অনেকক্ষণ পর্যন্ত কান পেতে ছিলাম মায়ের দরজায়। ভেতর থেকে কান্নার আওয়াজ আসছিল। হাউ হাউ করে কাঁদছিল মা।

    তারপর একসময় মারের আওয়াজ আসত। না, সেই ছেলেটা নয়, মা-ই মারত ছেলেটাকে। কোনও কোনওদিন তার হাত-পা কেটে দিত। ফেরার সময় কিছু টাকা নিয়ে যেত ছেলেটা।

    আমার দিকে কেমন করে যেন তাকাত মাঝে মাঝে। ছেলেটার বোধহয় পছন্দ ছিল আমাকে।

    সেটা বুঝতে পেরেই ওর সঙ্গে কথা বলেছিলাম আমি। মা-বাবা আমার হাতে কোনও টাকা দিত না। একটা বিশেষ জিনিস জোগাড় করার ছিল আমার। ছেলেটাকে দুটো মিষ্টি কথা বলতেই সে এনে দিতে রাজি হয়ে গেল।

    মোটামুটি দিন তিনেক নিজের কাছেই রেখেছিলাম সেটা। সাহস হচ্ছিল না ব্যবহার করার। তারপর একদিন বাবা আবার ঝুলিয়ে বাঁধল আমাকে। গালাগালি দিল। সেদিন বুকে-পিঠে প্রচণ্ড ব্যথা হয়েছিল। সেদিন আর সাহসের অভাব হয়নি। বাবার সকালের কফির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছিলাম জিনিসটা।

    বাবা মরেনি। তবে হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। মা-ই নিয়ে গিয়েছিল। মায়ের কোনও একটা অনুভূতি প্রবল হয়েছিল বোধহয়। জ্যান্ত রাখার খিদে। আমার আর মায়ের মধ্যে দুটো বিপরীত খিদে কাজ করত। মা বিশ্বাস করত না আমার খিদে অতটা প্রবল হওয়ার কোনও কারণ আছে।

    এখন মাঝে মাঝে শুয়ে ভাবি, আমরা সবাই ওই পাঁঠাবলির পাশে দাঁড়িয়ে-থাকা অবিশ্বাসী নাস্তিক। আমাদের অনুভূতি, রাগ, যন্ত্রণা, বিদ্বেষ, ঘৃণা আসলে বাকি কসাইদের কাছে অর্থহীন। কারণ দিনের শেষে ওই পাঁঠার যন্ত্রণাটা পাবে একটা ভোট আর অসংখ্য ধর্মান্ধ উন্মাদের ভোটে রাস্তা লাল হবে। আমরা অনুভূতিকে রক্তাক্ত মাংসপিণ্ড হতে দেখি প্রতিদিন।

    তারপর একসময় আর বাইরে বেরোই না। আর প্রতিবাদ করি না কোনও নৃশংসতার। ঘরের দরজা বন্ধ করে, শব্দ আটকে ভাবি, বাকি দুনিয়ার প্রতিটা লোক কসাই হয়ে গেছে।

    তবে আমার এই ঘরে আমি ছাড়া আরও একজন থাকে। যখনই এসব চিন্তায় ডুবে যাই, তখনই সে এসে দাঁড়ায় আমার পাশে। ওই যে এখন ডাকছে আমাকে…

    *

    ডায়েরিটা বন্ধ করে ঘর থেকে বেরিয়ে প্যাসেজটা পেরিয়ে বারান্দায় এসে দাঁড়াল শতরূপ। রাত প্রায় আড়াইটে বেজেছে। সিগারেট ধরিয়ে ধোঁয়া ছাড়ল খোলা বাতাসে। বেশ কনকনে ঠান্ডা বাতাস এসে লাগছে গায়ে। দূরে অন্ধকারের মধ্যে কে যেন নিয়ন রং দিয়ে লাইন টেনে পাহাড় এঁকেছে। নীচ থেকে ঝিঁঝির একটানা ডাক ভেসে আছে। বাকি সব অদ্ভুতরকম নিস্তব্ধ।

    সিগারেটে লম্বা টান দিয়ে একটা বেতের চেয়ারে বসে পড়ে শতরূপ। ধোঁয়াটা উড়ে যায় লালচে আকাশের দিকে। আজ বড় চাঁদ উঠেছে। সামনের বাগানটা ভরে আছে জ্যোৎস্নায়। তার উপরে কয়েকটা বড় গাছপালা ভিড় করে আছে। তাদের মাঝখানে ছোট একটা বাঁধানো পুকুর আছে। শতরূপের ইচ্ছা করল ওই পুকুরের পাড়ে গিয়ে বসতে।

    একটা হাত মাথার পেছনে দিয়ে চোখ বোজে। সঙ্গে সঙ্গেই চোখ খুলে যায়। একটা শব্দ এসেছে বাগানের দিক থেকে। কে যেন দৌড়ে গেল পুকুরের দিকে।

    চমকে উঠে সেদিকে তাকাল শতরূপ। এত রাতে কে যাবে ওদিকটায়? বাড়ির কেউ? শতরূপ যেখানে বসে আছে, সেখান থেকে সদর দরজার দিকটা দেখা যায়। সেদিকে উঁকি মেরে দেখল দরজা বন্ধ। সেখান থেকে এই মুহূর্তে কারও বেরোনো সম্ভব নয়। তবে কি বাগানের ভেতরেই লোক ছিল? সেটা অবশ্য অদ্ভুত কিছু নয়, কিন্তু যে-ই থাক, সে দৌড়োতে যাবে কেন? চোর-টোর এল নাকি?

    ভালো করে সেদিকে চেয়ে রইল শতরূপ। পুকুরের স্বচ্ছ জলটা অন্ধকারের মধ্যে জেগে রয়েছে। তার চারপাশে কাউকে দেখা যাচ্ছে না। তবে কি কানে ভুল শুনল? একটু পিছিয়ে এসে আবার চেয়ারে বসে পড়তে যাচ্ছিল, এমন সময় একটা জিনিস চোখে পড়তেই চমকে গেল সে।

    একটা মানুষ। একটা ছেলে। সে ধীরপায়ে এগিয়ে যাচ্ছে পুকুরের দিকে। যেন অন্ধকার ফুঁড়েই হঠাৎ বেরিয়ে এসেছে। এতদূর থেকেই ঘাসের উপরে তার পায়ের আওয়াজ আসছে। এই ছেলেটাকে তো এ বাড়িতে আগে দেখেনি। বিদ্যুৎ চমকের মতো উত্তর খেলে যায় তার মাথায়। দেখেছে, কিন্তু এ বাড়িতে নয়। আজ সকালে গাড়িটা অ্যাক্সিডেন্ট করার আগে এই ছেলেটাই এসে পড়েছিল গাড়ির সামনে! কিন্তু সে এখানে এল কী করে?

    কী করবে, বুঝতে পারে না শতরূপ। তার পা-টা কেঁপে ওঠে একবার। অবাক হয়ে চেয়ে দ্যাখে, ধীরে ধীরে পুকুরের বাঁধানো পাড়ে বসে পড়ে ছেলেটা। অনেকক্ষণ চেয়ে থাকে পুকুরের জলের দিকে। যেন জল থেকে কারও উঠে আসার অপেক্ষা করছে। শতরূপের একবার ইচ্ছা করে, এখান থেকে জোরে একবার ডেকে ওঠে। সকালে অমন হঠাৎ করেই কেন যে গায়েব হয়ে গেল, সেটাই জিজ্ঞেস করে।

    গলার কাছটা শুকিয়ে আসছে। কী যেন একটা আছে ছেলেটার মধ্যে। একটা অদ্ভুত উদাসীনতা। আর-একটু হলেই আঙুল থেকে খসে পড়ত সিগারেটটা। কোনওরকমে সামলে নেয়। চেয়ে দ্যাখে, এবার আগের মতোই উঠে দাঁড়িয়েছে ছেলেটা। পা বাড়িয়েছে জলের দিকে। পুকুরে ডুব দিতে চলেছে সে। ছোট্ট একটা ঝাঁপ দেয়…

    ঝুপ করে আওয়াজ শতরূপের কান অবধি ভেসে আসে। ছেলেটা কি সাঁতার জানে না? ছটফট করতে শুরু করেছে সে। হাত দুটো বারবার উঠে আসছে জলের উপরে। আর-একটু হলেই হয়তো দম আটকে যাবে। শতরূপের গলা দিয়ে একটা চাপা চিৎকার বের হয়ে আসে। ছুটে নীচে নামতে যায় সে কিন্তু বারান্দা থেকে বেরোনোর আগেই একটা ছায়ামূর্তির সঙ্গে প্রায় ধাক্কা লেগে যায়। আতঙ্কে দু-পা পিছিয়ে আসে ও, ঐন্দ্রিলা দাঁড়িয়ে আছে বারান্দায় ঢোকার মুখে। শতরূপের অন্ধকারে ঢাকা মুখের দিকে চেয়ে একটা অবিশ্বাসের ছায়া খেলে যায় তার মুখে–”আ… আপনি… এখানে…”

    ও উত্তর দেয় না, উলটে দ্রুতকণ্ঠে বলে, “একটা ছেলে ডুবে যাচ্ছে। ওই পুকুরটায়… এক্ষুনি….”

    “ছেলে! কই!” ঐন্দ্রিলা বারান্দায় বেরিয়ে এসে পুকুরের দিকে চোখ রাখে। তারপর আগের মতোই শান্ত গলায় বলে, “কিছু নেই তো পুকুরে!”

    শতরূপ চকিতে ফিরে তাকায় সেদিকে। সত্যি স্থির হয়ে আছে পুকুরের জল। মানুষ তো দূরের কথা, জলের উপরে ঢেউয়ের আলোড়ন অবধি নেই। হতবাক হয়ে নিজের মুখের উপরে একবার হাত চালায় ও। কী যেন বিড়বিড় করতে করতে বারান্দার রেলিং ধরে চারপাশে দৃষ্টি বুলোতে থাকে।

    মেয়েটা পকেট থেকে একটা লাইটার বের করে বারান্দার কার্নিশ থেকে ঝুলন্ত ল্যাম্পগুলোর সলতেয় আগুন দিতে থাকে। হলদে আলোয় ভরে যায় বারান্দার ভেতরের দিকটা, “এরপর থেকে রাতে এখানে এলে এই আলোগুলো জ্বেলে দেবেন। আর ভুল দেখবেন না…”

    শতরূপ এতক্ষণে কিছুটা শান্ত হয়েছে, মুখ ফিরিয়ে বলে, “বারান্দায় আলো জ্বললে পুকুরটা ভালো করে দেখতে পাব?”

    “উঁহু, পুকুরটা দেখতেই পাবেন না। তাহলেই আর ভুল দেখবেন না… মেয়েটা নরম করে হাসে।

    “ছেলেটাকে আমি আগেও দেখেছি, জানিস। আজ সকালেই।”

    “কোথায়?”

    কী যেন বলতে গিয়েও থেমে যায় শতরূপ। চেয়ারে এসে আবার বসে পড়ে। পুকুরের দিক থেকে দৃষ্টি সরিয়ে বলে, “এই বাড়িটায় কিছু গোলমাল আছে…”

    “সে কী! কেমন গোলমাল?”

    শতরূপ কী যেন ভাবে, তারপর বলে, “এই যেমন ধর, এতদিন যার মুখে ‘তুই’ শুনে এসেছি, তার থেকে আপনি শুনতে যেমন অস্বস্তি লাগে…. সেইরকম গোলমাল!”

    ঐন্দ্রিলা অল্প হাসে— “ব্যাস! এইটুকু! আমার ব্যাপারটা একবার ভেবে দেখুন তাহলে…

    “কোন ব্যাপার?”

    বড় করে শ্বাস নেয় সে– “মনে হয়, ঢাল-তরোয়াল ছাড়া খালি হাতেই যুদ্ধ করতে নেমে পড়েছি। কে বন্ধু, কে শত্রু জানি না। কী নিয়ে যুদ্ধ হচ্ছে, জানি না। টাকাপয়সার জন্য যুদ্ধ করছি নাকি আমার বাবা-মা-কে শত্রুপক্ষের লোক মেরে দিয়ে গেছে তাই প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য করছি, কিচ্ছু জানি না।”

    শতরূপের গলা নরম হয়ে আসে, “আমাদের গল্পগুলোও ফলো করে আমাদের। আমাদের অতীত, হারিয়ে যাওয়া মানুষ, ফিরে পাওয়া মানুষ, নতুন মানুষ, সব কিছু… তোকে দেখে মাঝে মাঝে মনে হয়, পেছন ফিরে যদি একদিন দেখি, এইসব ফলোয়ার হঠাৎ করেই গায়েব হয়ে গেছে তাহলে কেমন লাগবে?”

    “বেশ, সামনেই বারান্দা। ঝাঁপিয়ে পড়ে যান নীচে।” কৌতুকের গলায় বলে ঐন্দ্রিলা।

    “উঁহু, তা কী করে হয়?”

    “কেন হয় না?”

    “তোর আর আমার ষোলোটা বছর কেটেছে একসঙ্গে। ষোলো বছরে অন্তত ষোলো লক্ষ গল্প জমা আছে। সে গল্পগুলো তুই আর আমি ছাড়া কেউ জানে না। তুই তো ভুলেই গেছিস, এবার আমিও ভুলে গেলে গল্পগুলো আর কোথাও থাকবে না…” আবার পুকুরের দিকে তাকায় শতরূপ— “আমার স্মৃতি অনেকটা ব্যাকআপ প্ল্যান বলতে পারিস।”

    আর কোনও কথা বলে না কেউ। মৃদু হাওয়া ভেসে আসতে শুরু করেছে এতক্ষণে। একটু একটু করে দুলছে ঝুলন্ত ল্যাম্পগুলো। দপদপে আলোতে ফানুস মনে হয় তাদের। ফ্যাকাশে আকাশের বুক চিরে কয়েকটা চামচিকে কিচকিচ করতে করতে উড়ে গেল দূরে। ঝিঁঝির ডাকটা এখনও আগের মতোই শোনা যাচ্ছে।

    বুকের উপরে জ্যাকেটটা আর-একটু বেশি করে টেনে নিল শতরূপ। জ্বলন্ত সিগারেটটা ছুড়ে ফেলে দিল বাগানের দিকে। মাথার পেছনে বালিশের মতো রাখল হাতটা।

    “একটা অ্যাডভান্টেজ আছে বুঝলি, এই সব কিছু ভুলে যাওয়ার….”

    “কী?”

    “কিছু বই আর সিনেমা আছে। মাঝে মাঝে মনে হয়, সেগুলো ভুলে গেলে বেশ হত, আবার প্রথমবার দেখার অনুভূতিটা উপভোগ করতে পারতাম… যেমন ধর ‘পথের পাঁচালী’…”

    “মনে আছে আমার…”

    “হ্যারি পটার…”

    “মনে আছে…

    “অ্যালিস ইন দ্য ওয়ান্ডার…

    “সেটা কী?”

    শতরূপ হাসে। উত্তর দেয় না। ঐন্দ্রিলা আবার কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থাকে, তারপর বলে, “সোমাদি বলছিল, আপনি নাকি গল্প-উপন্যাস লেখেন!”

    উপরে-নীচে মাথা নাড়ায় শতরূপ, দীর্ঘশ্বাস মিশিয়ে বলে, “লিখি, তবে তোর ভালো লাগে না!”

    “আমার বুকশেলফে প্রচুর বই আছে, কিন্তু আপনার লেখা বই নেই। সেটা দেখেই মনে হয়েছিল…”

    “তবে আমি গল্প পড়ে শোনাতাম তোকে। গল্প শুনতে ছোট থেকে ভালোবাসতিস তুই।”

    “মানে আমার আপনার লেখা ভালো লাগত না, কিন্তু পড়ে শোনালে ভালো লাগত!”

    শতরূপ কাঁধ ঝাঁকায়, “তা-ও বলা যায় না। তবে আর কেউ পড়ে শোনানোর মতো ছিল না, অগত্যা…”

    এবার একটা বড়সড়ো হাসি ফোটে ঐন্দ্রিলার মুখে, “আপনার সঙ্গে আমার অনেকগুলো স্মৃতি আছে, তা-ই না? ছোটবেলা থেকে বড়বেলা অবধি?”

    শতরূপ উপরে-নীচে মাথা নাড়ায়।

    “কালই শুয়ে শুয়ে ভাবছিলাম কেমন যেন শিকড় নেই আমার। ছোট থেকে একটা স্ট্রং কিছু, সব ক-টা গল্পে একটা কমন চরিত্র, আজ বেশ ভালো লাগছে, জানেন…”

    “তুই রোজই এসে বসিস এখানে?” শতরূপ নিজেই বুঝতে পারে না কেন প্রসঙ্গটায় এতটা অস্বস্তি হচ্ছে ওর।

    “রোজ। আমার ঘুম আসে না। ভোরের দিকে ঘুমোই।”

    “এই বাড়িতে বোধহয় এটাই গণ্ডগোল। সহজে ঘুম আসে না।”

    “ধুর, আমার মনে হয় অন্য কথা।”

    “কী কথা?”

    “মনে হয়, এই বাড়িতে আমি ছাড়া আরও কেউ একজন ছিল। আমি তার কথা ভুলে গেছি, কিন্তু কেউ মনে করাতে চাইছে না আমাকে। সে-ও চলে গেছে। মাঝে মাঝে মনে হয়, এই বুঝি মনে পড়বে তার কথা, অমনি আবার হারিয়ে যায় সব…”

    “ছেলেবেলায় এক ইম্যাজিনারি ফ্রেন্ড ছিল তোর। পুনা। বাবা-মা বাড়িতে থাকত না তো, একেবারে ছোটবেলায় তেমন বন্ধুবান্ধব বলেও কেউ ছিল না। তাই কথা বলার মতো একজনকে বানিয়ে নিয়েছিলি। রেডিয়োতে কথা হত তার সঙ্গে…

    “তারপর?”

    “তারপর আর কী?” হাসে শতরূপ — “জঙ্গলে ঘুরে বেড়াতিস তার সঙ্গে। আর রেডিয়োর কাছে মুখ এনে কথা বলতিস। পুনাই নাকি তোকে জঙ্গল চিনিয়েছিল…. তুই অনেক বড় বয়স অবধি বিশ্বাস করতিস, পুনা কথা বলে তোর সঙ্গে… মাঝে মাঝে নাকি তাকে সশরীরে দেখতেও পেতিস!”

    “সে কী! তুই দেখতে পাসনি?”

    হঠাৎ চেয়ারে বসেই ঐন্দ্রিলার দিকে ঘুরে তাকায় শতরূপ, একটা রহস্যময় হাসি হাসে-”দেখেছিলাম। একবার।”

    “সত্যি! কী করে?”

    আড়মোড়া ভাঙে শতরূপ— “আমার গল্প তোর ভালো না-লাগার একটা বড় কারণ কী ছিল বল তো? আমি একেবারে সব তাস খেলে দিতাম না। কিছু হাতে রেখে দিতাম। তোর সেটা একদম পছন্দ ছিল না…”

    হঠাৎ শতরূপের মনে হয়, ঐন্দ্রিলা একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে ওর দিকে। ওর চোখ দুটো আগের থেকে বড় হয়ে উঠেছে। ল্যাম্পের মৃদু হলদে আলো ওর চোখে এসে পড়ে যেন আগুনের রং লাগিয়েছে চোখের মণিতে। গলার কাছটা শুকনো হয়ে আছে শতরূপের। নেশার মতো একটা ইচ্ছা চেপে ধরছে ওকে। ফিরে তাকাতে ইচ্ছা করছে ঐন্দ্রিলার দিকে। কোনওরকমে সেটা দমন করে সামনে তাকিয়ে থাকে সে।

    “আচ্ছা শোন….” ঐন্দ্রিলার গলার স্বর খানিকটা বদলেছে, “তুই আমাকে শোনাবি গল্পগুলো?”

    “কোন গল্প?”

    “আমার গল্পগুলো। রোজ রাতে আমি এসে বসি এখানে। তুই একটা একটা করে সব শোনাবি আমাকে রোজ… আমার হঠাৎ করে নিজের শিকড় খুঁজতে ইচ্ছা করছে…

    শতরূপ মন দিয়ে একবার বিচার করে দ্যাখে প্রস্তাবটা। তারপর বলে, “কিন্তু আমার গল্প তো ভালো লাগত না তোর…”

    “তুই আপাতত একমাত্র অপশন আমার… অগত্যা…”

    “আচ্ছা, ভেবে দেখব। তবে তোকে তোর ছেলেবেলার একটা পছন্দের জিনিসের সন্ধান দিতে পারি। আয় আমার সঙ্গে…”

    ঐন্দ্রিলার কাঁধে টোকা দিয়ে চেয়ার ছেড়ে সে এগিয়ে যায় ভেতরের ঘরের দিকে। বারান্দা থেকে উঠে আসতে বুকটা যেন বেশ কিছুটা হালকা লাগে তার।

    ঐন্দ্রিলার ঘরের দরজাটা খোলাই ছিল। সেটা দিয়ে ভেতরে ঢুকে আসে। বুকশেলফটার দিকে সকালেই দৃষ্টি পড়েছিল একবার। তখনই নজর পড়েছিল বইটার উপরে।

    এতক্ষণে বারান্দা থেকে উঠে এসে ঐন্দ্রিলাও ঢুকে এসেছে ঘরে। সে অবাক হয়ে চেয়ে দ্যাখে, ওর বুকশেল্ফ থেকে একটা বই টেনে বের করছে শতরূপ। পুরোনো রংচটা একটা বই। কেবল হলদে হয়ে-যাওয়া কভারের উপরে আঁকা একটা বাচ্চা মেয়ের মুখ চোখ টানে।

    “এই… বইটা কী হবে?” অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে ঐন্দ্রিলা।

    “ওই যে… শিকড় খুঁজছিলিস!”

    কথা না বাড়িয়ে বিছানার উপর গিয়ে বসে পড়ে ঐন্দ্রিলা। শতরূপ বইটা হাতে নিয়ে পাশেই একটা চেয়ারে বসে পড়ে। উত্তরের দিকে জানলাটা খোলা আছে। সেখান থেকে একটা ফিনফিনে হাওয়া এসে আছড়ে পড়ছে বইয়ের পাতায়। ছন্দে কেঁপে উঠছে যেন তারা বারবার। পাতাগুলো হলদে হয়ে গেছে। কখনও পাতার উপরে অজস্র পেনসিলের আঁকিবুকি।

    বইটা ঐন্দ্রিলার দিকে এগিয়ে দেয় শতরূপ— “এটা ছোটবেলায় পড়তিস তুই। সব থেকে প্রিয় বই ছিল।”

    “রূপকথার গল্প?”

    “একটা মেয়ের গল্প, যে একদিন খরগোশকে তাড়া করতে গিয়ে একটা গর্তে পড়ে যায়। সেই গর্তের মধ্যে ছিল….”

    “উঁহু… এভাবে বললে হবে না। পড়ে শোনা…”

    সম্বোধনটা পালটে গেছে। শতরূপ খুশি হয়। মেয়েটা বিশ্বাস করতে শুরু করেছে ওকে। মুখ একটা ছদ্মকোপ এনে বলে, “এত বড় বই একদিনে কী করে শোনাব?”

    “আজকেই শেষ করতে হবে বলেছি?”

    একটু থতোমতো খায় শতরূপ। বইটা বাংলায় লেখা। সে প্রথম পাতায় এসে প্রথম লাইনের উপরে চোখ রাখে। গলাখাঁকারি দিয়ে পড়তে শুরু করে, “সকাল থেকে মনটা ভারী ব্যাজার হয়ে ছিল অ্যালিসের। আজ ওর করার মতো কিচ্ছু নেই। পাশে বসে একটা বই পড়ছে বোন। সেটার দিকে মাঝে মাঝে উকি মেরেছে বটে, কিন্তু সে বইতে রংচঙে ছবি বা কথাবার্তা কিছুই নেই। কেবল লম্বা লম্বা লেখার দেওয়াল… ছবি আর মজার মজার কথা না থাকলে সে আবার বই হল নাকি?”

    মৃদু হাসি ফুটল ঐন্দ্রিলার মুখে। চোখ বুজে বিছানার একধারে মাথা এলিয়ে দিল সে। অন্ধকার নেমে এল চোখে।

    “কী করবে, কী করবে ভাবছে, একটা ডেইজি ফুলের মালা বানাবে কি না তা-ও ভাবছে, এমন সময় কী যেন একটা দৌড়ে গেল ওর পায়ের কাছ দিয়ে; চমকে উঠে ফিরে তাকিয়ে অ্যালিস দেখল, ও হরি! একটা গোলাপি চোখের খরগোশ … “

    কখন যেন ঘুমিয়ে পড়েছে ঐন্দ্রিলা। বাইরের ভেসে আসা হাওয়াটা এখন বই ছেড়ে ওর মুখের উপর স্পর্শ বুলিয়ে যাচ্ছে। গলা থেকে ঝুলন্ত চেনটা এসে পড়েছে বিছানার উপর। ভারী নরম আর শান্ত দেখাচ্ছে ওর মুখটা।

    উঠে দাঁড়িয়ে সুইচবোর্ডের কাছে আঙুল এনে আলোটা নিবিয়ে দেয় শতরূপ। কাছে গিয়ে একবার ঝুঁকে পড়ে ঐন্দ্রিলার মুখের উপরে। টিকোলো নাক, টানাটানা চোখের পাতা আর কম্পমান ঠোঁটের মধ্যে কোথায় যেন একটা শিশুর কোমলতা মিশে আছে মুখে। ওকে শান্তিতে ঘুমোতে দেখে অকারণেই মনটা শান্ত হয়ে যায় শতরূপের।

    চাঁদের আলো জানলা দিয়ে এসে ভিজিয়ে দিচ্ছে ঘরের মেঝে। তার ছাট এসে পড়ছে ঐন্দ্রিলার শরীরে।

    ইলোরার কথা মনে পড়ে যায়। শুধুমাত্র টাকার জন্য একটা মেয়ের… আজ গল্প শুনে ঘুমিয়ে পড়েছে, কিন্তু …

    মাথাটা ভারী হয়ে যায় শতরূপের। বইটা হাতে নিয়েই দরজা ভেজিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে সে। এসে দাঁড়ায় বারান্দায়। একটু আগের মতোই আবার খালি হয়ে গেছে বারান্দাটা। কী যেন একটা চলে গেছে সেখান থেকে। শুধু দুটো মানুষ নয়।

    সাড়ে তিনটে বাজতে চলেছে। বইটা চেয়ারের উপরে রেখে রেলিং-এর দিকে সরে আসতে যাচ্ছিল শতরূপ। এমন সময় বইয়ের ভেতর থেকে কী যেন একটা খসে পড়ে যায় নীচে। একটা খাম। বইয়ের ফাঁকে বহুদিন আগে রেখে দিয়েছিল কেউ।

    নিচু হয়ে খামটা কুড়িয়ে নেয় শতরূপ। ভাঁজ খুলে দ্যাখে তার ভেতরে দুটো কাগজ আছে। একটায় পাতা জুড়ে বড় করে লেখা— “আজকের দিনটা কোনওদিন ভুলব না।” সঙ্গে একটা তারিখ।

    অন্য কাগজটা হাতে নেয় শতরূপ। পেনসিলের ঝাপসা কালিতে কিছু লেখা আছে তাতে, একটা চিঠি। ল্যাম্পের হলদে নরম আলোতে সেই লেখাগুলোর দিকে চেয়ে অবাক বিস্ময়ে শতরূপের শরীর কেঁপে ওঠে একবার…

    “চাবিটা জোগাড় করলি কোথা থেকে বল তো?” শতরূপ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে।

    “সোমাদির সঙ্গে হাঁটতে গিয়েছিলাম খাওয়ার পর। দরজা বন্ধ করার সময়। জাস্ট অ্যাক্টিং করলাম তালা দেওয়ার। চাবি আদৌ লাগানোই ছিল না দরজায়।”

    “মানে সারারাত খোলা থাকবে দরজা!”

    “তাতে অসুবিধাটা কোথায়?”

    “যদি চুরি হয়ে যায়?”

    “আমরা বাইরে থেকে পাহারা দেব তো…”

    দুজনে মিলে এগিয়ে আসে পুকুরের দিকে। কাল শুতে যাবার আগেই ঐন্দ্রিলা বলেছিল, আজ রাতে আর বারান্দায় বসবে না। পুকুরের ধারে এসে বসবে মাঝরাতে। সেইমতো আজ রাত গভীর হতেই শতরূপের ঘরের দরজায় উপস্থিত হয় ঐন্দ্রিলা। তারপর ওকে টেনে এনেছে এই পুকুরের ধারে। ঠান্ডাটা জাঁকিয়ে পড়েছে। হিম পড়ে ঘাসগুলোও স্যাঁতসেঁতে হয়ে আছে। পুকুরের ধারে সিমেন্ট-বাঁধানো ঘাটে বসে পড়ে ওরা। ঐন্দ্রিলা একটা পা ডুবিয়ে দেয় টলটলে জলে। কনকনে ঠান্ডায় কেঁপে ওঠে শরীর। দ্রুত ধরে ফ্যালে শতরূপের হাতটা, “কী ঠান্ডা জল রে!”

    “সেটা পরের কথা, নীচে তো সাপখোপ থাকতে পারে….”

    “আমি কি সাপে ভয় পাই?”

    “না, কিন্তু আমি পাই।”

    “তাহলে তুই ডোবাস না। এই ভালো কথা, আমি কীসে ভয় পাই রে?”

    শতরূপ অনেকক্ষণ ধরে ভেবে বলে, “কই, তেমন কিছু মনে পড়ছে না। তুই ছোট থেকেই ভীষণ সাহসী…. কেবল…”

    “হ্যাঁ এই তো, আছে কিছু একটা, বল বল…”

    “মরে যাওয়াকে ভয় পেতিস…”

    “তুই পেতিস না?”

    শতরূপ ঘাড় নাড়ে, “মরে গেলে ভয়ের কী আছে? মরে গেলে তো আর জানতে পারব না যে মরে গেছি। তা ছাড়া জন্মাবার আগে এত কোটি বছর ছিলাম না পৃথিবীতে, কিছুই তো ফিল করতে পারিনি। শুধু আমি বেঁচে থাকতে থাকতে আমার কাছের মানুষগুলো মরে যাওয়ার ভয় পেতাম…”

    “এখন পাস না?”

    “এখন কাছের মানুষ বলে কেউ নেই….”

    “কোনটা বেটার বল তো? কাছের মানুষ না-থাকার একাকিত্ব, নাকি কাছের মানুষের ছেড়ে যাওয়া নিয়ে ভয় পাওয়া?”

    প্রশ্নটার উত্তর দেয় না শতরূপ। হঠাৎ ওর গলার স্বর বদলে যায়, যেন অন্য একটা মানুষ এসে ভর করেছে, “আমার কাল থেকে তোকে নিয়ে ভয় করছে জানিস?”

    “আমাকে নিয়ে! কীসের ভয়?”

    দু-দিকে মাথা নাড়ায় শতরূপ, “জানি না, মাঝে মাঝে এক-একটা মানুষকে নিয়ে অকারণেই ভয় লাগে। তাদের কোনও রোগ নেই, মাথায় ছিট নেই, সেই মুহূর্তের জন্য কোথাও চলে যাওয়ারও সম্ভাবনা নেই, তা-ও ভয় করে। এক-একটা মানুষ হয় এরকম….”

    পা-টা জল থেকে তুলে ঘাটের উপরে রাখে ঐন্দ্রিলা। শতরূপ সেদিকে তাকিয়ে বলে, “তুলে নিলি যে? কী হল?”

    “হঠাৎ একটা কথা মনে পড়ে গেল…”

    “কোনটা? তুই সাপে ভয় পেতিস?”

    “উঁহু…”

    “তাহলে?”

    ওর দিকে একটা অদ্ভুত দৃষ্টিতে চায় বিনি, চোখ দুটো চাঁদের রুপোলি আলোয় মায়াবী দেখায়— “অন্য একটা মানুষের মনে আমাদের নিয়ে সব থেকে সুন্দর অনুভূতিটা হল ভয়…. আজ অনেক বছর হয়ে গেল, কেউ ভয় পায়নি আমাকে নিয়ে…”

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleজীবন স্রোতের আঁকেবাঁকে – অর্পিতা সরকার
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    জোনাকির রঙ – সায়ক আমান

    July 4, 2026

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    জোনাকির রঙ – সায়ক আমান

    July 4, 2026

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Our Picks

    জোনাকির রঙ – সায়ক আমান

    July 4, 2026

    জীবন স্রোতের আঁকেবাঁকে – অর্পিতা সরকার

    July 3, 2026

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }