Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    জোনাকির রঙ – সায়ক আমান

    July 4, 2026

    জীবন স্রোতের আঁকেবাঁকে – অর্পিতা সরকার

    July 3, 2026

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    জোনাকির রঙ – সায়ক আমান

    সায়ক আমান এক পাতা গল্প285 Mins Read0
    ⤶

    জোনাকির রঙ – ১৮

    (অষ্টাদশ অধ্যায়)

    “এই জায়গাটা চেনো তুমি?” বিনয়ের সামনে নিজের মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় তোলা একটা ছবি তুলে ধরে নীহারিকা। বিনয় ভালো করে দেখে বলে, “এটা তো ওই খাদটা। জায়গাটা চেনা লাগছে, কিন্তু অনেকদিন যাইনি ওদিকটায়…”

    “গাড়ি বের করো, কুইক….

    বিনয় একটু থতোমতো খায়। ক্যাসেটটা এখনও শোনা শেষ করেনি নীহারিকা। তার আগেই টেপরেকর্ডারটা সরিয়ে রেখে উঠে এসে নির্দেশ দিয়েছে ওকে। সমস্ত শরীরে একটা উত্তেজনা ছুটে খেলা করছে নীহারিকার। যেন এক্ষুনি ভয়ানক কিছু একটা ঘটতে চলেছে…

    “ওখানে গাড়ি তো যায় না, ম্যাম। একটা রাস্তা আছে কিন্তু সেটা দিয়ে চালানো একটু রিস্ক হয়ে যাবে…

    “হোক, কিছু যায় আসে না…” কথাটা বলে প্রায় ছুটেই বাইরে বেরিয়ে আসে নীহারিকা। বিনয়ের একটু খটকা লাগে। টেপরেকর্ডারে এমন কী শুনল ম্যাম যে এত তাড়া পড়ে গেল? সে আর প্রশ্ন না করে গাড়িতে উঠে স্টার্ট দিল। জংলুও উঠে বসল ওদের সঙ্গে। গাড়ি চলতে শুরু করতেই ড্যাশবোর্ডের উপর একটা চাপড় মারল নীহারিকা, “তাড়াতাড়ি চালাও প্লিজ। তাড়াতাড়ি পৌঁছোতে না পারলে….” দু-পাশে রাস্তা ছুটতে শুরু করেছে ইতস্তত। বৃষ্টির তোড়ে সামনের পথটার বেশির ভাগটাই দেখা যাচ্ছে না। অদ্ভুত একটা ধোঁয়াশা উঠছে রাস্তার উপর।

    নিজের ফোনটা নীহারিকার দিকে এগিয়ে দেয় জংলু, “স্যার আপনার সঙ্গে একটু কথা বলতে চাইছেন….”

    নীহারিকা ফোনটা নিয়ে দ্যাখে, ভিডিয়ো কলে আশিস দত্তর মুখ ফুটে আছে। সেদিকে চেয়ে বলে, “আপনি আগে থেকেই সব জানতেন, তা-ই না?”

    “আমি কী জানব! আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না। হ্যাঁ, শুধু এটুকু জানতাম, বিনির কোনও মেমোরি লস হয়নি। তা ছাড়া…”

    কপালে হাত রাখে নীহারিকা। আশিস দত্ত আগের মতোই উদবিগ্ন গলায় বলেন, “আপনি কী বলছেন, আমি কিছু বুঝতে পারছি না। একটু পরিষ্কার করে বলবেন প্লিজ?”

    ঝিমঝিমে গতিতে ছুটে চলেছে গাড়িটা। বাইরেটা একবার ভালো করে লক্ষ করে বড় শ্বাস নেয় নীহারিকা, তারপর বলে, “বিনি ওর ডায়েরিতে বারবার এক অন্ধ বুড়োবুড়ির কথা বলত। যারা এক বাড়িতে থাকে, একে অপরকে দেখতে পায় না, কেবল কে কী করছে সব জানতে পারে… এই বুড়োবুড়ি আর কেউ না, ওদের নিজেদের ছোটবেলা। ওরা ছেলেবেলায় একে অপরের গল্প শুনত, দুঃখকষ্টের হদিস জানত, কিন্তু কেউ চিনত না কাউকে। মুখ দেখতে পেত না…”

    “মানে? গল্প জানত কেমন করে?”

    “মন দিয়ে শুনুন, আজ যা কিছু ঘটেছে বা ঘটতে চলেছে, তার সমস্ত কিছুর পেছনে আছে আপনার মেয়ের সাংঘাতিক কল্পনাপ্রবণতা, কারও ওকে বোঝার চেষ্টা না-করা, উপরন্তু ওর প্রতি হিংস্র আচরণ। আপনিও যদি পয়সাকড়ি দিয়ে লোকের হাতে ছেড়ে না দিয়ে একটু নজর দিতেন ওর উপর, তাহলে হয়তো এইদিন দেখতে হত না আমাদের…

    বিনি ছোট থেকে টরমেন্টেড চাইল্ড। কারও কাছে ভালোবাসা পায়নি; ওর এক দাদু, আই মিন অমর ঘোষ ছাড়া। আপনার দাদা অমর ঘোষকে তাড়িয়ে দেওয়ার পরও উনি আপনাদের বাড়ির আশপাশেই লুকিয়ে দেখা করতেন বিনির সঙ্গে। সম্ভবত রাতের এক বিশেষ সময় ঘোড়াপোড়া গাছের কাছে। ওকে গান শোনাতেন, গল্প বলতেন, তার ফাঁকেই ওকে বলতেন একটি ছেলের কথা, যার সঙ্গে জুড়ে আছে ওর জন্মবৃত্তান্ত।

    মিস্টার দত্ত, মানুষ সারাজীবন শিকড় খুঁজে চলে। একান্ত আপন কোনও সম্পর্কের খোঁজ করে, যা কোনওদিন তাকে ছেড়ে যায়নি; তাকে ঘৃণা করেনি, বিনির ক্ষেত্রে সেই খোঁজটা আরও কয়েকগুণ বেশি ছিল। ছোট থেকেই ভালোবাসা আর যত্নের জন্য হাহাকার ওর। ফলে সেই ছেলেটির সঙ্গেই নিজেকে জুড়ে নেয় বিনি। বলা বাহুল্য, এই ছেলেটিই রূপ। এভাবে কয়েক বছর চলে। একসময় দাদুর আসা বন্ধ হয়ে যায়, বিনির কাছে রূপের খবর আসাও থেমে যায়। অথচ তার মনের ভেতরে তার শিকড় হিসেবে সেই ছেলেটি রয়েই যায়। তার নাম বা চেহারা কোনওটাই তখনও জানত না বিনি। অমর ঘোষ বিনিকে বলে গিয়েছিলেন, তিনি চলে গেলে পুনা নামে কেউ একজন আসবে ওর জীবনে। সে চলে গেলে আবার অন্য একজন। এবার একটা সাইকোলজি ভালো করে বুঝুন—’পুনা’ কোনও একজন ব্যক্তি নয়। পুনা একটা পোস্ট। বিনির সব থেকে কাছের মানুষের ডাকনাম। দাদু মারা যাওয়ার পর বিনির আর কেউ ছিল না। ফলে ও মনে মনে একটা পুনা কল্পনা করে নেয়। ওর অলটার ইগো। যে বিপদে-আপদে ওকে রক্ষা করে, ওকে লড়াই করতে শেখায়, যে রেডিয়ো থেকে ওর সঙ্গে কথা বলে…. হঠাৎ রেডিয়ো কেন? কারণ অতি সহজ। যে সময় বিনি বড় হয়, তখন ক্যাসেটের চল কমে আসছে। ওর বাড়ির লোক থেকে শুরু করে ডাক্তার, কেউই ও কী কী ক্যাসেট শোনে, সেদিকে মন দেয়নি। দাদুর রেখে যাওয়া জিনিসপত্রের মধ্যে এমনই একটা ক্যাসেট খুঁজে পায় বিনি। খুঁজে পায় বললে ভুল হবে, ‘পুনা’ ওকে খুঁজে দেয়। বিনির কল্পনাপ্রবণ মন ভেবে নেয়, ঘোড়াপোড়া গাছের নীচে ওর জন্য রূপের হদিস রেখে গিয়েছিল কেউ। সেই ক্যাসেট থেকেই রূপের গলার আওয়াজ শোনে ও। রূপের নাম, ওর বলা গল্প, সব রেকর্ড করা ছিল সেখানে…”

    “কী ছিল ম্যাম, সেই ক্যাসেটে?” জংলু জিজ্ঞেস করে।

    “রূপের গলায় বলা গল্প। সম্ভবত অমর ঘোষ নিজেই রেকর্ড করেছিলেন সেটা। ক্যাসেটে ওর ডাকনামটাও বলা আছে, রূপ। রেডিয়োতে কাজ করার সময় ওর নাম ছিল আরজে রূপ। ডাকনাম, গলার আওয়াজ, গল্প বলার ধরন মিলে যেতেই বিনি বুঝতে পারে, এই ছেলেটার গল্পই দাদু বলত তাকে…

    “কী অদ্ভুত!” আশিস দত্ত নিচু গলাতেই বলেন।

    “দাদুর কাছে গল্প বলা শিখেছে বলে রূপের গল্পের সঙ্গে ওর দাদুর বলা গল্পের অদ্ভুত মিল। রূপ বিনিকে না চিনলেও বিনি রূপকে চিনতে পারে। এবার আবার ফিরে চলুন অমর ঘোষের গল্পে। বিনির দাদু ওকে বলেছিল, ওরা দুজনেই এসেছে অন্য জগৎ থেকে। একদিন আবার ফিরে যাবে সেখানে। দাদুর গল্প এতটুকু মিথ্যে মনে করে না বিনি। কারণ সেই গল্পেই একমাত্র ওর সুখের হদিস আছে, সেই গল্পেই ও একমাত্র সুখী রাজকন্যা… ওরা এ জগতে যত দুঃখ পায়, তত জোনাকি এসে একটা জার ভরতি করতে থাকে। ওরা আবার নিজেদের সেই জগতে ফিরে যেতে পারবে একটা জার ভরতি হলে…. বিনি অপেক্ষা করতে থাকে জোনাকি দিয়ে সেই জার ভরতি হবার….”

    “কিন্তু অমর ঘোষ এসব কথা ওদের মাথায় ঢুকিয়েছিল কেন?”

    “জানি না। ভদ্রলোক নিজেও মানসিকভাবে খুব একটা সুস্থ ছিলেন না মনে হয়। উনি নিজেই যদি বিনির বায়োলজিক্যাল ফাদার হয়ে থাকেন, তবে বিনি আর রূপ বায়োলজিক্যালি রিলেটেড। তবে সম্ভবত সেটা নয়। অমর ঘোষের সঙ্গে বিনির চেহারার কোনও মিল নেই। বিনির প্রকৃত বাবা কে তা আমাদের পক্ষে জানা সম্ভব নয়। ওর মায়ের তত্ত্ব আমি বিশ্বাস করি না… কেবল…

    নীহারিকা হঠাৎ থেমে যেতেই বিনয় প্রশ্ন করে, “কেবল কী?”

    “বিনির এই অদ্ভুত ক্ষমতাগুলো—আই মিন ক্লেয়ারভয়েন্স, আই সাইট হিপ্নোটিজম, ওর শরীরের অদ্ভুত হিলিং ফ্যাক্টর, এগুলো আমাকেও কেমন ধাঁধায় ফেলে দেয়। একটা মানুষকে ঘিরে এতগুলো রহস্য থাকে কী করে?

    যা-ই হোক, আমি খবর নিয়ে জেনেছি, অমর ঘোষ নিজেও আত্মহত্যা করেছিলেন। যা থেকে ওদের আরও বেশি করে মনে হয়, ওদের দাদুও কোনও চিরসুখের জগৎ ইউটোপিয়ায় চলে গেছেন। আত্মহত্যাই সেখানে যাওয়ার একমাত্র পথ…”

    “তারপর?”

    আবার বড় করে দম নেয় নীহারিকা–”মহাকালদেবের মন্দিরের কথা দাদুর থেকেই শোনে বিনি। দাদু ওকে বলে, সে মন্দিরে নাকি লুকিয়ে আছে এক আত্মহত্যার দেবতা, ইক্সট্যাব। সে-ই একদিন মুক্তি দেবে ওদেরকে। দাদু চলে যাওয়ার পর বিনি বহুবার বাড়ি থেকে পালিয়ে ওই মন্দিরে যায় বা ‘পুনা’ তাকে নিয়ে যায়। বলা বাহুল্য, সে মন্দিরে ইক্সট্যাব থাকার দূরদূরান্ত অবধি কোনও সম্ভাবনা ছিল না। ইন্সট্যাব মায়ানদের দেবতা। আদৌ মায়ানদের মধ্যেও সে দেবতা সত্যি ছিল কি না তা নিয়ে বিতর্ক আছে। কিন্তু বিনির কাছে ওর দাদুর গল্প মিথ্যে হতে পারে না। অতএব পুনা, বিনির অলটার ইগো, নিজেই সে মন্দিরে ইক্সট্যাব কল্পনা করে নেয়। মন্দিরের ভেতর ইন্সট্যাবের নাম আর ছবি খোদাই করা তারই কীর্তি…” নীহারিকার ঠোঁটের কোণে হাসি ফোটে— “মানুষই দেবতা গড়ে/ তাহারই কৃপার ’পরে করে দেবমহিমা নির্ভর।”

    কিছুক্ষণ কেউ কোনও কথা বলে না। গাড়ির বনেটের উপর বৃষ্টির ফোঁটা এসে পড়ার শব্দ আসছে। কী যেন একটা সুর মিশে আছে সেই আওয়াজে। নেশা ধরে যায়।

    “এবার উলটোদিক থেকে শুনুন। ছোটবেলায় বিনির গল্প রূপও শুনত। সে-ও একই রকম কল্পনাপ্রবণ ছোট থেকে। তার কাছেও ধীরে ধীরে বাস্তব হয়ে উঠছিল গল্পগুলো। কেবল তার ছোটবেলাটা বিনির মতো অভিশপ্ত ছিল না। সে প্রথম আঘাত পায় তার দাদুর মৃত্যুতে। নিজের চোখে দাদুর দেহ ঝুলতে দেখে তার স্থির বিশ্বাস জন্মায়, দাদু সেই অজানা জগতে চলে গেছে। তখন থেকেই মাথায় কিছু গোলমাল দেখা দেয় তার…. কল্পনার জগতে আশ্রয় নিতে চায় বারবার… রূপের বাবা-মা ওকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। সেখানে ট্রিটমেন্টের ফলে ওর দাদুর কথা মনে থাকলেও সেই গল্পগুলোর উপর বিশ্বাস হারিয়ে ফ্যালে। বা সোজা কথায়, ভুলে যায়। কেবল ভোলে না একটা জিনিস, সব সমস্যা থেকে পালানোর একমাত্র উপায় আত্মহত্যা। দুঃখ জমতে জমতে একসময় চিরসুখের দরজা খুলে যায়। এইটুকু কোনওভাবে মনে থেকে যায় তার…. ক্রমশ রূপ বড় হতে থাকে। ওর জীবনটাও একটু একটু করে কঠিন হয়ে পড়ে। বাবা-মা মারা যায়। এতগুলো মৃত্যু একসঙ্গে দেখা, মানুষের চলে যাওয়ার সঙ্গে যোগ হয় ওর ব্যক্তিগত জীবনের একাকিত্ব… এখানে আসার দিন একটা বাচ্চা ছেলেকে দেখতে পায় রূপ। ছেলেটা কখনও গাড়ির নীচে চাপা পড়ছে, কখনও জলে ডুবে মরছে। বাচ্চাটা আর কেউ নয়, রূপের নিজের ছেলেবেলা। অন্য জগতে চলে যাওয়ার ভাবনাটা ওর মন থেকে মুছে গেলেও রয়ে গিয়েছিল অবচেতনে। এখানে এসে থেকে সেটা উত্তরোত্তর আরও বাড়তে শুরু করে…” কথাগুলো শেষ করে পেছনে হেলান দিয়ে বসে নীহারিকা – “আমার ধারণা, ওদের দুজনের এখন একটাই লক্ষ্য। যেভাবে ওরা এসেছিল, সেভাবে একসঙ্গে পৃথিবী ছেড়ে, ওদের ব্যথার জগৎ ছেড়ে চলে যাওয়া…”

    কথা বলতে একটু সময় লাগে আশিস দত্তর, “বছর তিনেক আগে ও আমাকে বলেছিল রূপের কথা। ওর খোঁজখবর রাখতে বলেছিল। আমি সব কথাই ওকে জানাতাম। ওর মাথায় মাঝেমধ্যেই এমন বেয়াড়া খেয়াল চাপত। আমি আলাদা করে কিছু ভেবে দেখিনি। মাসখানেক আগে ছাদ থেকে লাফ দেওয়ার পর হসপিটালে জ্ঞান ফেরে। আমি দেখতে যেতেই অদ্ভুত একটা অনুরোধ করে আমাকে। বলে, ও নিজের গল্পগুলো শুনতে চায়, মিস্টার ঘোষের মুখে। বাকি যা কিছু হয়েছে, ওর নির্দেশ মতোই হয়েছে। মনে সবই ছিল ওর…”

    “কী অদ্ভুত মানুষ, তা-ই না? কেবল গল্প শুনবে বলে…”

    বিনয়ের কথা শেষ হবার আগেই তাকে বাধা দেয় নীহারিকা, “কী আর করবে বলো? জীবনের এক-একটা মুহূর্ত একবারই আসে আমাদের জীবনে। ওর ছোট থেকে এমন কোনও মুহূর্ত নেই, যেটা মনে করে মৃত্যুর আগের মুহূর্তে নিজের জীবনটা সার্থক মনে হবে ওর। তুমি-আমি হয়তো এই ডেসপারেশনটা বুঝতে পারব না। লোকে বলে, মরার আগে আমরা নাকি চোখের সামনে নিজেদের জীবনটা সিনেমার মতো দেখতে চাই… ও হয়তো তেমন করেই দেখতে চেয়েছিল…”

    আশিস দত্ত বলেন, “আপনি যে একসময় মিস্টার ঘোষের সব থেকে কাছের বন্ধু ছিলেন, সেটা আমি জানতে পারি মাসখানেকের মধ্যেই। ওকে জানাতেই ও একটা নতুন দাবি করে বসে। আপনাকে দিয়েই ওর চিকিৎসা করাতে হবে। আপনি বিয়ে করেছিলেন এদিকে। তাতে আমাদের সুবিধেই হয়েছিল। আসলে ও চেয়েছিল…”

    “আমার থেকেই রূপের ছেলেবেলার খবর নিত, যেগুলো ওর দাদু ওকে বলে যেতে পারেনি। আজ বুঝতে পারছি, কেন আমার অতীত নিয়ে এত আগ্রহ ছিল ওর… আসলে ও আমার থেকেও গল্পই শুনতে চেয়েছিল…”

    “দুটো মানুষ সারাজীবন শুধু গল্প দিয়ে জুড়ে রইল। কখনও ডায়েরি, কখনও অন্যের মুখে শোনা গল্প…”

    “কিন্তু ওরা এখন গেছে কোথায়?” অস্থির হয়ে প্রশ্ন করলেন আশিস দত্ত। নীহারিকা ওর ফোনে একটা ক্যামেরায় তোলা ছবি তুলে ধরে সামনে— “এই জায়গাটায়…. এবং সম্ভবত ফিরবে বলে যায়নি….

    আশিস দত্ত তাকিয়ে দেখেন, একটা হাতে আঁকা ছবি দেখা যাচ্ছে সেখানে। পাহাড়ের ফাঁকে একটা ছোট খাদ। তার একদিকে সূর্য অস্ত যাচ্ছে। সেই সূর্যের বুকে একটা চৌকো খোপ, অন্ধকার হয়ে রয়েছে সেখানটা।

    “এ ছবিটা আমি আগেও দেখেছিলাম বিনির ডায়েরিতে। কিন্তু মানে বুঝতে পারিনি। আজ বুঝতে পারছি, ওর কল্পনায় এই দরজাটাই ওদের নিয়ে যাবে অন্য জগতে।”

    একটু চুপ করে থাকে নীহারিকা। গাড়ির ভেতরের বাতাস ক্রমশ ভারী হয়ে উঠছে। বাইরে এতক্ষণে বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যা নামতে শুরু করেছে। বিনয় ক্রমাগত ঘড়ি দেখছে। সামনে রাস্তা জনশূন্য। সমস্ত চরাচর ফিরে গেছে সৃষ্টির প্রথম যুগে।

    “বিনি প্রায় কোনওদিনই কিছু লুকোতে চায়নি। ও যা বিশ্বাস করত, যা কল্পনা করত, আর যা চাইত তা সবই খোলা পড়ে ছিল সকলের চোখের সামনে। কিছু কেউ গুরুত্ব দিয়ে দেখেনি। বাবা ঘৃণা করত ওকে। মায়ের সঙ্গে কোনওদিনই বনিবনা হয়নি। আপনিও ওকে টাকাপয়সা আর দেখাশোনার লোক দিয়ে খুশি রাখতে চেয়েছিলেন। আসলে এর কোনও কিছুই কোনওদিন চায়নি ও। চেয়েছিল শুধু কিছু মুহূর্ত, যে মুহূর্তগুলোর জন্য ওর থেকে যেতে ইচ্ছা করবে, ভালো থাকতে ইচ্ছা করবে…”

    চোখ বুজে ফ্যালে নীহারিকা। শতরূপও কাউকে বুঝতে দেয়নি কিছু। ও কতবার পাগলের মতো গিয়ে কড়া নেড়েছে ওর দরজায়। কিন্তু কখনও খুঁজে পায়নি ওকে। কোথায় যেন একটা একাকিত্ব ছিল ছেলেটার মধ্যে। হয়তো ওর অবচেতন মনই ওকে বলত, ও একা নয়। কেউ একটা আছে, কোথাও না কোথাও আছে, ভেঙে যেতে গিয়েও ভেঙে যেত না… অজান্তেই হয়তো কারও জন্য অপেক্ষা করছিল ও… একটা পুরোনো সুখের ঢেউ ঝাঁপিয়ে পড়ে নীহারিকার শরীর জুড়ে। আজ থেকে কয়েক বছর আগে, প্রিয় বন্ধুকে শেষবার ছেড়ে আসার আগে ঠিক যে চাওয়াটা তার জন্যে রেখে গিয়েছিল ও, সেটা কবে যেন ওর অজান্তেই পূরণ হয়ে গেছে… ওর বন্ধ চোখের পাতা বেয়ে জল নেমে আসে…. মিনিট দশেক পর একটা বাঁকের মুখে গাড়ি থামায় বিনয়। দরজা খুলতে খুলতে বলে, “এখান থেকে দশ মিনিট হাঁটলেই খাদের ধারটায় পৌঁছে যাব…

    “দৌড়োতে হবে, এসো আমার সঙ্গে…”

    বিনয় যেদিকে দেখিয়েছিল, সেদিকে উদ্ভ্রান্তের মতো দৌড়োতে থাকে নীহারিকা। জংলু আর বিনয় অনুসরণ করে তাকে। গাছপালার সার ভেদ করে কিছুটা দৌড়োতেই ঝিলটার ধারে এসে পড়ে। বেঞ্চের উপরে ভায়োলিনটা বৃষ্টির জলে ভিজছে এখনও। সাইকেলটা একটা গাছের সঙ্গে ঠেস দিয়ে রাখা। সেটার দিকে আঙুল তুলে দেখায় জংলু, “ওই যে সাইকেলটা… ওরা তার মানে এখানেই এসেছে…”

    “এবং এখান থেকে আর কোথাও যায়নি…” থমথমে গলায় বলে নীহারিকা। খাদের দিকটায় দৌড়োতে শুরু করে ওরা তিনজন। দূর প্রান্তে এখন সূর্যটাকে আর দেখা যাচ্ছে না। ঘন অন্ধকার নামতে শুরু করেছে এর মধ্যে। বৃষ্টির জল জমেছে ঘাসের ডগায়। তার উপরে তিনজোড়া পায়ের ছপছপ আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে।

    “রূপ… বিনি….” দুজনের নাম ধরে চিৎকার করতে শুরু করে ওরা। পাহাড়ি অন্ধকারের ভেতর থেকে ধাক্কা খেয়ে ফিরে আসতে থাকে সেই শব্দ। কোনও উত্তর আসে না। খাদের ধারটায় এসে দাঁড়ায় নীহারিকা। এখান থেকে নীচের ঘন অন্ধকারের মধ্যে দাঁড়িয়ে-থাকা বিরাটাকার মহিরুহগুলোকে দেখা যায় কেবল। কয়েক হাজার মিটার খাড়াই নেমে গেছে নীচে। সেদিকে তাকালেই গা-টা ছমছম করে ওঠে। পকেট থেকে ফোন বের করে তিনজনে। সেটা চতুর্দিকে বুলিয়ে দেখতে থাকে। অসংখ্য জোনাকি উড়ছে সমস্ত জায়গাটায়। আর কোনও জনপ্রাণীর চিহ্ন নেই। একটা উত্তরহীন প্রাচীন প্রশ্নের মতো শূন্য হয়ে গেছে জায়গাটা। খাদের ধারেই মাটির উপরে বসে পড়ে নীহারিকা। ক্রমশ ক্লান্তিতে অবশ হয়ে আসছে ওর শরীর। পিঠটা এলিয়ে পড়ে নরম ঘাসের উপরে। বিনয় আর জংলু এগিয়ে আসে ওর দিকে, “কোথাও খুঁজে পেলাম না ওদের, ম্যাম। এদিকে নেই ওরা। মনে হয়…” কথাটা শেষ করতে পারে না বিনয়। নীহারিকার সমস্ত মুখের উপরে বৃষ্টির জলের আস্তরণ বইতে শুরু করেছে। মাথার উপরে চাপ চাপ মেঘে ঢাকা আকাশ। তাতে সমস্ত তারা লুকিয়ে পড়েছে। দু-হাতে মুখ ঢেকে নেয় সে। “বিনিদিদিকে নিয়ে এই ভয়টা সব সময় হত, কিন্তু দাদা…” জংলুর গলা জড়িয়ে যায়। ওরও চোখ বেয়ে জল নামতে শুরু করেছে।

    “তোর তারাটা আমায় চিনিয়ে দিলি না রূপ, চিরকাল একই রকম স্বার্থপর রয়ে গেলি তুই….” নীহারিকা বিড়বিড় করে বলে। ওর চোখ দুটো হারিয়ে গেছে আকাশের কোন প্রান্তে। মিনিটখানেক পরে বৃষ্টির তীব্রতা কমে আসে। আকাশ পরিষ্কার হয়ে আসে খানিক। দূরে বৃষ্টি-ভেজা পাহাড়ের বুকে আবার জ্বলে ওঠে হলদে আলো। একটু একটু করে উঠে বসে নীহারিকা। জোনাকিগুলো আবার জ্বলতে শুরু করেছে। শান্ত স্বরে ঝিঁঝি ডাকছে ঝোপের আড়াল থেকে। খাদের অন্ধকারের দিকে শেষ একবার তাকিয়ে নিয়ে ফেরার পথ ধরে তিনজন। একটা একটা করে তারা ফুটছে আকাশে। সেই সঙ্গে ওদের ঘিরে জ্বলতে শুরু করেছে অসংখ্য জোনাকি…

    *

    “গল্প!”

    দূরে আকাশের প্রান্তের দিকে আঙুল দেখায় শতরূপ, “দেখ, সূর্য ডুবতে আর একটু দেরি আছে। তা ছাড়া একটা জোনাকিও বাকি আছে আসতে…. শুনবি?”

    “বেশ, বল…” ঐন্দ্রিলা ওর মুখোমুখি হয়ে দাঁড়ায়। ওর ডাগর চোখ দুটো এখন অসীম জিজ্ঞাসা নিয়ে চেয়ে আছে শতরূপের দিকে। ভারী নিষ্পাপ লাগছে চোখ দুটোকে।

    “এক দেশে এক দুঃখী রাজকন্যা ছিল….”

    “দুঃখী! আগের বার যে সুখী বলেছিলি…..”

    “এটা অন্য একজনের গল্প। এর গল্প তুই জানিস না… শুধু আমি জানি। সেই দুঃখী রাজকন্যা একদিন দুঃখের থেকে অনেক দূরে পালিয়ে যেতে চেয়েছিল….”

    “তারপর? পেরেছিল পালিয়ে যেতে?”

    শতরূপ দুটো হাত ওর দু-গালে রাখে, স্থিরদৃষ্টিতে তাকায় চোখের দিকে— “না, কারণ সে একসময় বুঝতে পারে, সে আদৌ দুঃখের থেকে পালাচ্ছিল না। কেউ দুঃখের থেকে পালায় না…

    “তাহলে কীসের থেকে পালায়?”

    “মিথ্যে সুখের থেকে। সেইসব সুখ, যা ভুলিয়ে রাখে আমাদের। সেইসব মানুষের থেকে, যারা কেবল কাছে থাকার ভান করে, একসময় ঠিক চলে যায়, কিংবা যেতে দেয়। সেইসব মানুষ, যারা আসলে কিছু চায় না, যারা কাছের কেউ চলে গেলে কাঁদে না, কাছের কিছু হারিয়ে ফেলে তাদের ভেতর হাহাকার হয় না, যারা হেরে যেতে যেতে হারটাকেই স্বাভাবিক মনে করে বাকি সবাইকেও হারিয়ে দিয়েছে… দুঃখ আমাদের বাঁচিয়ে রাখে, বিনি, আমাদের বারবার বলে যায়, আমরা এখনও কিছু চাই, এখনও কিছু ভালোবাসি, এখনও কাউকে আঁকড়ে ধরতে চাই। আমরা কেউ দুঃখের থেকে পালাই না রে বিনি, আমরা পালাই নকল সুখ থেকে… আমাদের এই গোটা পৃথিবীটা কেবল মিথ্যে সুখে ভরে গেছে। শুধু দুঃখটুকুনি খাঁটি এখনও…”

    “তারপর রাজকন্যা কী করল?”

    “রাজকন্যা বুঝল ওর কাছে দুঃখ আছে। অনেক অনেক দুঃখ, ও কোথাও পালিয়ে যাবে কেন? এতটুকু মিথ্যে নেই, এতটুকু দেওয়াল নেই…. সব কিছু নষ্ট হয়ে গেছে, ছোটবেলা, কৈশোর, যৌবন…. সারা শরীরে অত্যাচারের দাগ, সারা পৃথিবীর মুখ ফিরিয়ে নেওয়া, এতগুলো মানুষের ছেড়ে চলে যাওয়া… কিন্তু মিথ্যে তো নেই… যারা চলে গেছে, তারা সত্যি চলে গেছে, যা কিছু নষ্ট হবার, সব সত্যি নষ্ট হয়ে গেছে… পৃথিবীতে আর কারও কাছে এত সত্যিকারের কিছু নেই… কারও কাছে এত দুঃখ নেই…

    “আমরা আর কোনওদিন ওই পৃথিবীটায় ফিরে যাব না, কেমন?” হাত দিয়ে শতরূপের মাথার পেছনের চুল খামচে ধরে বিনি।

    “না, কোনওদিন না। আমি আর ওখানে ফিরতে চাই না…”

    হঠাৎ পেছন থেকে ইলোরা এগিয়ে আসে বিনির সামনে। হাতের কাচের জারটা তুলে ধরে ওর মুখের কাছে। তার সবজে আলোয় ভরে আছে চারপাশ। শতরূপ এখনও আঁকড়ে ধরে আছে ওকে, ওর মুখ থেকে চাপা কিন্তু দৃঢ়স্বরে একটাই কথা বেরিয়ে আসছে। এ কথাটা কাউকে কখনও বলেনি শতরূপ। ছোট থেকে বড় হওয়া অবধি কখনও না। আজ প্রথমবার ওর চেনা খেলাটায় হেরে যাচ্ছে ও, বিড়বিড় করে বলে চলেছে, “আমি কোথাও যেতে দেব না তোকে। তুই চলে যেতে চাইলেও না…. কোনওদিন না, কোথাও না… কোথাও যেতে দেব না…

    “আমি জানি, বিশ্বাস করি তোকে….” কথাটা বলে বিনি অবাক হয়ে তাকায় ইলোরার হাতে ধরা জারটার দিকে। ইলোরার মুখে হাসি। যেন জারের ভেতরে কিছু একটা ইশারায় দেখাতে চাইছে। বিনি চেয়ে দ্যাখে, সত্যি একটা অদ্ভুত কাণ্ড ঘটছে সেখানে… জারের ভেতরের একটা জোনাকি হঠাৎই উড়তে উড়তে বেরিয়ে আসে বাইরে। যেন পথ ভুল করে খোলা হাওয়ায় বেরিয়ে এসেছে। তারপর কী খেয়ালে আরও একটু উড়ে যায় আকাশের দিকে তারপর আরও একটু পথ ভুল করে দিব্যি মজা লেগেছে তার…

    “দেখ রূপ, জোনাকিগুলো কোথায় যেন চলে যাচ্ছে। কোথায় যাচ্ছে, বল তো ওরা?” বিনি হতবাক কণ্ঠে জিজ্ঞেস করে। শতরূপও ফিরে তাকায় ইলোরার দিকে। ইলোরার মুখের দিকে চেয়ে চিৎকার করে ওঠে সে, “জারটা আবার খালি হতে পারে, তুই বলিসনি কেন?”

    ইলোরা অবজ্ঞাভরে জবাব দেয়, “এতদিন ধরে এত মানুষকে পারাপার করি, অত মনে থাকে নাকি?” কথাটা বলেই সে ফুঁসে ওঠে, “তুই এক্ষুনি যেটা বললি, সেটা আদৌ বলতে পারিস, আগে বুঝতে দিয়েছিলি আমাকে?”

    পরক্ষণেই হেসে ফ্যালে ইলোরা। জারটা নামিয়ে রাখে মাটিতে— “তোরা একসঙ্গে থাকলে জারটা আর ভরতি হবে না…” বিনির দিকে ফেরে শতরূপ— “চল, আমরা আর কারও কাছে ফিরে যাব না…”

    “সত্যি তো?”

    “একদম সত্যি, আমিও চাই না ফিরে যেতে। সেই যে তুই চাইতিস জঙ্গলের ভেতর দুটো বুড়োবুড়ির বাড়ি আছে, যেখানে তুই ছোট থেকে থাকতে চাইতিস, সেটা খুঁজে বের করব। কারও সঙ্গে আর যোগাযোগ রাখব না আমরা… সন্ধে হলে একটা ল্যাম্প জ্বালিয়ে বারান্দায় এসে বসব….”

    “রোজ ভাবব, কালই মরে যাব… রোজ এক-একটা জীবনের গল্প করব আমরা…”

    “রোজ একসঙ্গে সূর্যাস্ত দেখব…”

    ‘রোজ গান গাইব সারা সন্ধে ধরে…”

    একটা একটা করে জোনাকি উড়ে যাচ্ছে জারের ভেতর থেকে জমাট-বাঁধা মেঘ সরে যাচ্ছে আকাশ থেকে। উজ্জ্বল কতকগুলো তারা বেরিয়ে আসছে তার বদলে।

    “চলে আয় আমার সঙ্গে…” বিনির হাত ধরে টান মারে শতরূপ।

    “চল…”

    দুজনে পেছনদিকে ছুটতে থাকে। এতক্ষণ যে রাস্তাটা পেরিয়ে ওরা এসেছিল, সেই রাস্তা ধরে ছুটে যায় জঙ্গলের দিকে।

    ইলোরা পেছন থেকে চিৎকার করে ওঠে, “আমার কী হবে তাহলে? তোদের দুজনকে ফিরিয়ে না নিয়ে যেতে পারলে আমার চাকরিটা যে…” বলতে বলতেই হেসে ফ্যালে খিলখিলিয়ে। হাসতে হাসতেই বলে, “যা শালারা… আমি তো থেকেই যাব চিরকাল। কারও না কারও মাথা খাব ঠিক….”

    দূরে জঙ্গলের কোন অজানা প্রান্তে হারিয়ে যায় ওদের পায়ের আওয়াজ…

    জোনাকির রঙ – (পরিশিষ্ট)

    (পরিশিষ্ট)

    পাঁচটা বছর কেটে গেছে। বহু খোঁজখবর করার পরেও শতরূপ ঘোষ কিংবা ঐন্দ্রিলা দত্ত, কারও কোনও চিহ্ন পাওয়া যায়নি। আশিস দত্ত এখনও মেয়ের খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছেন। দেহ উদ্ধার হয়নি বলে এখনও তাদের মৃত বলে ঘোষণা করা যায়নি। জঙ্গলের ভেতরে সত্যি এমন কোনও কটেজ আছে কি না, তাতে শহর থেকে পালিয়ে আসা এক হতাশাগ্রস্ত আরজে এবং এক সুইসাইডাল তরুণী একসঙ্গে থাকে কি না, তা-ও জানা যাচ্ছে না। হয়তো মরেই গেছে তারা। খাদ থেকে ঝাঁপিয়ে, কোনও বন্য পশুর কামড়ে কিংবা জঙ্গলেরই কোনও গাছে একসঙ্গে গলায় দড়ি দিয়েছে। কে বলতে পারে? তাদের গল্প আর কেউ জানে না… তবে হ্যাঁ, একজনের খুব খোঁজ চলছে এখন। ডক্টর নীহারিকা বসু। রয়াল সোসাইটির কনফারেন্স হলে একগাদা স্যুট-টাই-পরা লোক জড়ো হয়েছে। তারা হন্যে হয়ে খুঁজে চলেছে ডক্টর বসুকে। আজ এখানেই সাইকোথেরাপি নিয়ে দীর্ঘ বক্তৃতা দেওয়ার কথা আছে। সময় পেরিয়ে যাচ্ছে অথচ তাঁর দেখা নেই! ডক্টর নীহারিকা বসু সম্প্রতি একটি বই লিখেছেন। সেমি-ফিকশন। তাঁর নিজের আন্ডারে থাকা একটি বিচিত্র কেসের বিবরণ, সঙ্গে কিছুটা কল্পনার রং মিশিয়ে লেখা। কল্পনাপ্রবণতা এবং চাইল্ডহুড ট্রমা একসঙ্গে মিলে যে মানুষের সাবকনশাসকে কোন অন্ধকারে টেনে নিয়ে যেতে পারে তা নিয়ে বিশদ আলোচনা রয়েছে সেখানে। প্রকাশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছে বইটা। কেউ কেউ বিশ্বাস করছেন, কেউ আবার বিষয়বস্তু শুনেই ফুৎকারে উড়িয়ে দিচ্ছে… বইটা লেখার পর থেকেই মানসিক স্বাস্থ্য খারাপ হতে শুরু করে ডক্টর বসুর। হাজব্যান্ডের সঙ্গেও ডিভোর্স হয়ে গেছে। মাঝেমধ্যেই নাকি বাড়ি থেকে বেরিয়ে কোথায় চলে যান তিনি। আবার ফিরে আসেন। কারও সঙ্গে বিশেষ কথা বলেন না। কিন্তু এবার ডক্টর বসু গেলেন কোথায়? অযাচিত খ্যাতির ঢেউ কোথায় নিয়ে গিয়ে ফেলল তাঁকে?

    *

    খাদের ধারে অন্ধকার নামছে ধীরে। এ জায়গাটায় বড় বড় ঘাস গজিয়েছে এখন। বেঞ্চটা ভেঙে পড়ে গেছে বহুকাল আগে। প্রজাপতিগুলোও কোথায় উধাও হয়েছে। কুটিল আদিম অরণ্য শাখা বিস্তার করে এই পাহাড়ি জায়গাটার দখল নিয়েছে।

    হঠাৎ নিস্তব্ধতার মধ্যে একটা পায়ের আওয়াজ শোনা যায়। কে এসে দাঁড়ায় খাদের ধারে। প্রায় মাঝবয়সি এক মহিলা। তাঁর জামাকাপড় বিধ্বস্ত। চুল উশকোখুশকো। সমস্ত শরীরটাকে ক্লান্তি গ্রাস করেছে। চোখের কোণে ভরাট কালি। হাতে একটা ব্রিফকেস। সেটা ছুড়ে ফেলে দেন পাশে। মাটির আঘাতে সেটা খুলে গিয়ে ভেতর থেকে কিছু টাইপ-করা কাগজ বেরিয়ে আসে।

    খাদের গভীরে একটানা চেয়ে থাকেন ডক্টর নীহারিকা বসু। মুখে পাগলের মতো কী যেন বিড়বিড় করেন। তারপর একটা পা বাড়িয়ে দেন খাদের ভেতর…

    “বলছি ও ম্যাডাম, আপনার কোনও হেল্প লাগবে?”

    পেছন থেকে একটা ডাক ভেসে এসেছে। গলার স্বরটা চেনা লাগে না ডক্টর বসুর। শুধু অন্ধকারের মধ্যেও একটা কাচের জার ভেদ করে আসা সবজে আলো ছড়িয়ে পড়ে জায়গাটায়….

    ***

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleজীবন স্রোতের আঁকেবাঁকে – অর্পিতা সরকার
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    জোনাকির রঙ – সায়ক আমান

    July 4, 2026

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    জোনাকির রঙ – সায়ক আমান

    July 4, 2026

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Our Picks

    জোনাকির রঙ – সায়ক আমান

    July 4, 2026

    জীবন স্রোতের আঁকেবাঁকে – অর্পিতা সরকার

    July 3, 2026

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }