Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    তারার দেশের হাঁস – আলী ইমাম

    লেখক এক পাতা গল্প147 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১২. ছায়া রহস্য

    ছায়া রহস্য

    সেটা ছিল লাল রোদের একটি দুপুর। সামনের বাড়ির পামগাছের ডালে বসে একটি চিল অনেকক্ষণ ধরে ডাকছে। ক’দিন থেকেই লক্ষ করছি চিলটা সেখানে বাসা বাঁধার চেষ্টা করছে। আমি মাঝে মাঝে বাইনোকুলার দিয়ে চিলটাকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখার চেষ্টা করছি। ঘাড়ের কাছে খয়েরি পালকের পাশে কিছু শাদা পালকও দেখি। কিছুদিন আগে আমি এ শহরের একমাত্র পাখি দেখার ক্লাবের সদস্য হয়েছি। কাক, চিল এবং চড়ই সম্পর্কে একটি বেশ বড় প্রবন্ধ লিখেছি। ক্লাবের মাসিক সভাতে সেটি পড়ব। পাখিগুলোর কিছু রঙিন স্লাইডও দেখাব। পত্রিকায় একটি চমৎকার খবর বেরিয়েছে। আমেরিকার একটি তিমি রক্ষাকারী সমিতি ১২০ ফুট লম্বা প্লাস্টিকের তিমির মডেলে বাতাস ভরে ভাসিয়ে দিয়েছে। নাম তার ফ্লো। ফ্লো এখন আমেরিকার বিভিন্ন শহরের উপর দিয়ে ভেসে যাচ্ছে। অনেকেই দেখছে সেই ভাসমান তিমিকে। তার গায়ে বড় বড় করে লেখা, ‘আমাদের তোমরা আর হত্যা করো না। আমরা বেঁচে থাকতে চাই।’ এই দশকে তিমি শিকার খুব বেড়ে গেছে। গোপনে বিভিন্ন সমুদ্রে দেদার তিমি হত্যা চলছে। এই হত্যালীলার হাত থেকে বাচ্চা তিমিরাও এখন আর রেহাই পাচ্ছে না। দুরন্ত সমুদ্রের বুক তাদের রক্তেও লাল হয়ে যাচ্ছে। হারপুন বিঁধে তাদের শরীরও ঝটপটিয়ে ওঠছে। শিকারিদের লোভ তিমির বিশাল চর্বির ভাণ্ডারের দিকে। তিমির শরীর যেন একটি পুরো কারখানা। তিমির হাড়ও অনেক কাজে লাগে। রহস্যময় শাদা তিমি মবিডিকের গল্প পড়েছিলাম। প্রাণিবিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন এভাবে নির্বিচারে তিমি হত্যা চলতে থাকলে প্রাণিটি ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

    এমনি করে কত প্রাণি পৃথিবীর বুক থেকে হারিয়ে গেছে। মরিশাস দ্বীপের ডোডো পাখি, নিউজিল্যান্ডের মোয়া পাখি, ক্যারিবিয়ানের কোনো কোনো দ্বীপের নেনে নামের এক জাতের হাঁস। সেই বাতাসভর্তি প্লাস্টিকের তিমি নাকি চেরী ফুলের আর, ফুজিয়ামার দেশ জাপানে। সেই দেশে একটি বিরাট সমাবেশ হবে তিমি রক্ষা সমিতির সদস্যদের। কিভাবে প্রাণিটিকে নিষ্ঠুর শিকারিদের হাত থেকে, লোভী ব্যবসায়ীদের হাত থেকে রক্ষা করা যায় তার আলোচনা চলবে। আমি যখন এই খবরটি পড়ছি তখন দরজায় ঠক ঠক শব্দ। কে এলো এই ভর দুপুরে। দরজা খুলতেই দেখি পিয়ন। হাতে চিঠি।

    আমি দেখলাম লম্বা খামের উপর থোকা থোকা চেরী ফুল আর ফুজি পাহাড়ের ছবির ঝকঝকে ডাকটিকিট। বাহ্‌, অদ্ভুত মিলে গেল তো ব্যাপারটি। সত্যি, মাঝে মাঝে এমন সব ঘটনার মিল হয়ে যায় যে রীতিমতো অবাক হয়ে যেতে হয়। টোকিও থেকে এক কোম্পানি লিখেছে বাংলাদেশের উপজাতীয়দের উপর একটি প্রামাণ্য ভিডিও তুলতে কিছুদিনের মাঝেই একটি দল আসছে। আমি যেন তাদের সাথে সবরকমের সহযোগিতা করি।

    বছর কয়েক আগে একটি জাপানি টিভি দলের সাথে সুন্দরবনে কাজ করেছিলাম। ওরা এসেছিল পৃথিবীর সবচাইতে বড় ম্যানগ্রোভ অরণ্য সুন্দরবনের উপর তথ্যচিত্র তুলতে। সেই থেকে যোগাযোগ। বাওয়ালিরা কিভাবে বনবিবিকে নিয়ে উৎসব করে। কিভাবে পাখিদের বলি দেয়, মউলরা কিভাবে সুন্দরী গাছের ডালে ঝুলে থাকা মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করে সেসব দৃশ্য তোলার জন্যে আমি তাদের সাহায্য করেছিলাম। পরিচালক হানোদা আমাকে খুশি হয়ে একটি চমৎকার জাপানি আকাই টেপরেকর্ডার উপহার দিয়েছিলেন। আমি তাতে সুন্দরবনের অনেক ধরনের রহস্যময় শব্দ রেকর্ড করে রেখেছিলাম। শীতের সময়ে পাতা ঝরার শব্দ। হরিণের বাচ্চার টিউ টিউ করুণ ডাক। ছবি তোলার সেসব দিনগুলো ছিল যথেষ্ট উত্তেজনাময়। নদীর বুক দিয়ে চলেছে আমাদের লঞ্চ। মাছ ধরার নৌকো যাচ্ছে। কত রকমের মাছ। চান্দা, ভেটকি, পায়রাতলি, কাইন, গলদা, নোনা চিংড়ি। গলদার লাল মগজ গরম ভাতের সাথে মাখিয়ে খেতে সে কি স্বাদ। কোথায় লাগে তার কাছে শহরের খাবার। চরপাটা দিয়ে জেলেরা মাছ ধরছে। ওদের কালো শরীর। বাঁশের শলা দিয়ে পাটা তৈরি হয়। বহুদূরের এলাকা থেকে লোকেরা মাছ ধরতে আসে সুন্দরবনে। জালিয়ার চরে মৌসুমি বসতি করে। হোগলা পাতার ঝুপড়ি বানিয়ে থাকে। আমরা জালিয়ার চরে শুটিং করেছিলাম। রাশি রাশি মাছ টাঙিয়ে রাখা হয়েছে। চরের বালুমাটিতে কোথাও সবুজ পাতা। পাতার নিচে তরমুজ। রঙিন ছবিতে খুব চমৎকার এসেছিল। জাপানি টিভি দলটি শুধু রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সন্ধান করত।

    কোথায় পাবে বাঘের দেখা। নদীর একপাশে ভিজে মাটিতে একবার বাঘের পায়ের ছাপ দেখা গেল। সেই ছাপের ছবি ক্যামেরায় বিগ ক্লোজ আপে তোলা হলো। মাঝে মাঝে বনের ভেতর দিয়ে ছুটে যায় হরিণের পাল। তাদের ছবি তোলা হয় টেলিলেন্সের সাহায্যে। ভাটি এলাকায় আছে পাখির বাতান। সেখানে গাছের মাথায় এসে থাকে রকমারি পাখি। কুড়া, বক, বিল বাগচু। সূর্য ডোবার পর খাবারের খোঁজে এই পাখিরা বিলের বুকে ঝপাৎ করে নামে।

    একটি কষাড় ঝোপের কাছে দেখেছিলাম একজন মানুষের বাঘে খাওয়া শরীরের কিছু অংশ। মাছি ভিনভিন করছে। সেটার ছবি তুলল হানোদা। তারপর দেখেছিলাম সেই শবদেহটিকে পাশে ফেলেই অন্য বাওয়ালিরা কাঠ কাটতে, মধু সংগ্রহ করতে বনের ভেতরে এগিয়ে যাচ্ছে। জীবিকার তাগিদে ওরা ওখান থেকে পালাতে পারে না। হানোদা এক সন্ধেবেলায় লঞ্চের রেলিংয়ে হেলান দিয়ে গম্ভীর গলায় আমাকে বলেছিল, বেঁচে থাকার জন্যে কত কষ্ট করে এখানকার লোক। শুধু কিছু ভাত, নুন আর মাছের জন্যে।

    চিঠিটা হাতে নিয়ে সেসব কথা ভাবছিলাম। আবার কিছু কাজ করতে পারব ভেবে ভালো লাগছিল।

    নির্ধারিত দিনেই জাপানি টিভি দলটি এলো। চার জনের দল। পরিচালক একজন তরুণ। নাম মিসুমিসু। হানোদার প্রিয় ছাত্র। হানোদা তার কাছে নাকি আমার কথা বলেছে। ওরা এসেই চটপট করে কাজের পরিকল্পনা করে ফেলল। সময় নষ্ট করতে মোটেই তারা রাজি নয়। পার্বত্য চট্টগ্রামে বছরের এ সময় তাপমাত্রা কি রকম থাকে সেসব তথ্য ওরা নিজ দেশে থাকতেই সংগ্রহ করেছে। এত গুছিয়ে কাজ করে জাপানিরা যে কোনো রকমের অসুবিধে অনুভবই করা যায় না। ঠিক হলো প্রথমে যাওয়া হবে বান্দরবানে। খুমি আর মুরংদের জীবনযাত্রার ওপর ছবি তুলতে। আমি দেখলাম ওরা আমাদের দেশের উপজাতীয়দের সম্পর্কে অনেক তথ্য যোগাড় করেছে। মিসুমিসুর সাথে খুব ভাব হয়ে গেল আমার। জাপানের একটি টেলিভিশন কোম্পানির সদস্য হয়ে সে ব্রাজিলের গভীর অরণ্যে ছবি তুলে এসেছে গত বছর। সেটা নাকি দারুন রহস্যময় এক জায়গা। একদল জংলির সন্ধান পেয়েছিল যারা শুধু পিঁপড়ে আর উইপোকা খায়। কোনোদিন পানির কাছে যায় নি। সমস্ত শরীরে উলকি আঁকা। মিসুমিসুর ইচ্ছে আছে বিভিন্ন দেশের উপজাতীয়দের ঘুমপাড়ানি গান নিয়ে একটি ছবি করার।

    আমি দেখেছি বিভিন্ন দেশের ঘুমপাড়ানি সুরের মাঝে, কথার মাঝে এক ধরনের চমৎকার মিল রয়েছে। আফ্রিকার জুলু জাতির মা হয়তো তার ছেলেকে ঘুম পাড়াবার সময় ঘুমপাড়ানি মাসিকে লোভ দেখাচ্ছে বাইসনের মাংশ দেবে বলে আর তোমাদের দেশে বলছে কাজলি গরুর দুধ দেবে। ল্যাপল্যাণ্ডের মায়েরা বলছে বলগা হরিণের বুটি বুটি ছাল দেবে।

    মিসুমিসুর সাথে কথা বলে আমার চমৎকার লাগল। এ ধরনের লোকদের সাথে কথা বললে কাজ করায় বেশ উৎসাহ পাওয়া যায়। মনে হয় এ্যাডভেঞ্চারে চলে যাই। কোন অরণ্যে কিংবা পাহাড়ে। যেখানে লুকিয়ে আছে গভীর রহস্য। মিসুমিসুর এক ভাই হোক্কাইডোর কাছে একটি দ্বীপে শ্যাওলার চাষ করছে। শ্যাওলা থেকে চমৎকার সব খাবার প্রস্তুত করা যায়। আগামী বছর হোক্কাইডোতে ওরা একটি অদ্ভুত রেস্তোরা খুলবে। সেখানকার মেনুতে থাকবে আশ্চর্য ধরনের কিছু খাবার। জাপানের বুনো তিতিরের কলজের স্যুপ, শ্যাওলার সালাদ, তাতানি মাছের ডিমের সাথে পায়রার বুকের নরোম মাংশের ভাজি। নানারকমের বনজ লতাপাতা দিয়ে ওরা খাবার তৈরি করবে। রেস্তোরাঁটিতে থাকবে প্রাচীন ধরনের পরিবেশ। গাছের গুড়ি কেটে বানানো হবে বসার জায়গা। গানের পরিবর্তে সেখানে বাজবে বিভিন্ন পশু পাখির ডাকের ক্যাসেট। মিসুমিসু তাদের সেই ভবিষ্যতের রেস্তোরাঁতে যাওয়ার জন্যে আমাকে আমন্ত্রণ জানালো।

    পরদিন আমরা রওয়ানা দিলাম বান্দরবানের দিকে। পাহাড়ি পথ। কোথাও জুম চাষ হচ্ছে। জঙ্গল পোড়ানো হচ্ছে। এক জায়গায় দেখলাম শসা আর ঢেঁড়সের বাগান। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাঁশের ঘর। কাঠের খুঁটির উপর ঘরগুলো। মাটি থেকে পাঁচ-ছয় ফুট উঁচুতে। বান্দরবনের রাজবাড়ি থেকে একটি জিপ সংগ্রহ করলাম। যেতে হবে থানছি থানাতে। সবটা পথ আবার জিপে যাওয়া যাবে না। ওখানেই পাহাড়ের চূড়াতে ঘর বানিয়ে থাকে খুমিরা।

    দু’পাশের অপরিচিতি গাছপালা আর পাখি দেখে জাপানি দলটি বেশ উল্লসিত। মাঝে মাঝে থেমে কিছু শূটিং করছি। খুমিরা গাছের ডালে ঘর বানায়। আমার মনে হচ্ছিল সুইস ফ্যামিলি রবিনসনের কথা। কিভাবে জাহাজডুবির পর নির্জন দ্বীপে একটি পরিবার গাছে বাসা বানিয়েছিল। খুমিদের গ্রামের চারদিকে পরিখা। সহজে যাওয়া যায় না। ওরা বেশ বিছিন্নভাবে থাকে। আমরা বান্দরবানের রাজবাড়ির একজন সদস্যকে গাইড হিশেবে সাথে করে নিয়ে গিয়েছিলাম।

    খুমিদের গ্রাম প্রধানের সাথে কথা বলে ছবি তোলার অনুমতি পাওয়া গেল। আমরা একটি খোলা জায়গায় তাঁবু বাঁধলাম। মিসুমিসুর উৎসাহ ওদের বিভিন্ন উৎসবের ছবি তোলার। একটি উৎসব হলো ‘ছাগল হত্যা’। গ্রাম প্রধানের শপথ নেবার দিন উৎসব করে। অদ্ভুত সুরে বাজনা বেজে উঠল। খুমিরা উঠোনের চারদিকে গোল হয়ে বসে। কয়েকজন লোক একটি ছাগলের পায়ে দড়ি বেঁধে বিভিন্ন দিক থেকে টানতে লাগল। এমনি করতে করতে এক সময় ক্লান্ত হয়ে গেল ছাগলটি। তখন উঠে দাঁড়াল খুমি প্রধান। টকটকে লাল চোখ তার। হাতে ধারালো অস্ত্র। এক কোপে ছাগলটিকে হত্যা করে। ফিনকি দিয়ে রক্ত ছোটে। সেই রক্তে হাত ভিজিয়ে শপথ নেয় খুমিরা। তারা অনুগত থাকবে। সারা জীবন অনুগত থাকবে গ্রাম প্রধানের কাছে।

    হত্যা করা ছাগলটির মাংশ তখন কেটে সবার মাঝে ভাগ করে দেয়া হয়। রক্তমাখা মাংশ রান্না হবে। ভোজ হবে। সবাই পেটপুরে খাবে। পোষা কুকুরের দিকেও মাংশের টুকরো ছুঁড়ে দেবে।

    এ ধরনের আরেকটি উৎসবের শুটিং করেছিলাম মুরংদের গ্রামে। উৎসবটির নাম হলো ‘নস্যাৎ পা’। জুম চাষের সময় একটি ষাঁড়ের বাচ্চাকে এক জায়গায় ঘেরাও করে আটকে রাখে। তারপর মুরং নারী পুরুষরা নাচতে নাচতে বাঁশের চোখা শলাকা দিয়ে সেই ষাঁড়কে আঘাত করতে থাকে।

    তখন মুরংদের খুব নিষ্ঠুর মনে হয়। একটানা বাজনা বাজে। ডিডিং ডং ডিডিং ডং। এমনি আঘাতে আঘাতে কাবু হয়ে যায় ষাঁড়টি। যেই ষাঁড়টি মারা যায় অমনি তার মাংশ কেটে নেয় সবাই। আগুনে ঝলসে খায়।

    সেদিন সারাদিন শুটিং করে আমরা ক্লান্ত। সাথে বাবুর্চি এনেছি। চমৎকার রান্না করে। কচি বাঁশের ভেতরে চাল ভরে সেদ্ধ করে সেই ভাত খেতে খুব মজা। কেমন মিষ্টি একধরনের গন্ধ। কিছু বনমুরগিও আনা হয়েছে। শেষ বিকেলের দিকে আমি আর মিসুমিসু একটু হাঁটতে বেরুলাম। লোকালয় ছেড়ে গেলেই কেমন নিঝুম লাগে পরিবেশ। মনে হয় কোথাও যেন কোনো শব্দ নেই। একটি অদ্ভুত আকৃতির পাহাড় দেখে আমরা কৌতূহলী হই।

    বুনো গাছপালায় জায়গাটি ঠাসা। তার মাঝে পাহাড়ের একটি গুহামুখ দেখা যাচ্ছে। ছমছমে অন্ধকার। একটা বড় আকারের গিরগিটি সাঁৎ করে এক ঝোপ থেকে অন্য ঝোপে চলে গেল। আমি চমকে যাই। গুহাটাকে কেমন রহস্যময় মনে হতে থাকে। আমি মিসুমিসুকে চলে আসতে বলি। সে নাছোড়বান্দা। আমরা শেষ বিকেলের আলোতে গুহার সামনে এসে দাঁড়াই। নিচে আরেকটি গুহা দেখা যাচ্ছে। পাহাড়ের ফাটল দিয়ে ম্লান আলো যেন সেই গুহার ভেতরে চুইয়ে নামছে। চারপাশে কোনো শব্দ নেই। হঠাৎ মিসুমিসু চমকে আমার হাত ধরে। আমি সাথে সাথে তাকাই। নিচের গুহাটিতে আবছা অন্ধকার। একটি লোকের ছায়ামূর্তি দেখা যাচ্ছে যেন। লোকটি কেমন কুঁজো হয়ে থপথপিয়ে হাঁটছে। যেন আদিম যুগের এক মানুষ। হাতে একটি পাথরের অস্ত্রের মতো কি যেন দেখা যাচ্ছে। লোকটির কাঁধে ওটা কি? বাইসনের মৃতদেহ। আশ্চর্য, এই জঙ্গলে বাইসন আসল কোত্থেকে? আমরা কি তাহলে ভুল দেখছি। কে এই লোক! আস্তে আস্তে লোকটির মূর্তি যেন বাতাসের মাঝে মিলিয়ে যায়। সেই দৃশ্য দেখে আমার কেমন শীত শীত করতে থাকে। মিসুমিসুও কেমন চুপ হয়ে যায়। আমরা দু’জন মুরং পাড়ায় হেঁটে আসি। আমাদের মাথায় শেষ বিকেলের সেই গুহার আবছা অন্ধকারের দৃশ্যটি দপদপ করতে থাকে।

    পরদিন খুব সকাল হতেই আমি আর মিসুমিসু সেই গুহার দিকে রওনা দেই। ফকফকে আলো চারদিকে। উজ্জ্বল আলো থাকলে ভয় কম লাগে। পাহাড়ের ঢালু বেয়ে নামতে আমাদের খুব কষ্ট হয়। বুনো গাছের কাটায় শরীরের অনেকটা অংশ ছিড়ে যায়। শক্ত লতা ধরে আমরা নেমে যাই। আমার তখন টারজানের ছবির কথা মনে হয়। লাল মুখের কয়েকটা বাঁদর কিচকিচ করে এক ডাল থেকে অন্য ডালে লাফাতে থাকে।

    পায়ের নিচে লম্বা ছনঘাস। সরসর শব্দ হচ্ছে। এক জায়গায় দেখি কয়েকটি পাখির কঙ্কাল পড়ে আছে।

    সামনেই সেই গুহামুখ। ভেতরে থিকথিকে অন্ধকার। একটা বড় বাজপাখি মাথার উপর দিয়ে চক্কর মারতে মারতে উড়ে গেল। উপরের দিকে তাকাই। গতকাল বিকেলে যেখানটায় আমরা দাঁড়িয়ে দৃশ্যটা দেখছিলাম সে জায়গাটিকে চিনতে পারি। আমরা আস্তে আস্তে গুহার ভেতরে প্রবেশ করি। গতকালের দেখা সেই লোকটির আস্তানা এটা। ভেতরে ঢুকে আমরা টর্চ জ্বালাই। এক ধরনের ভ্যাপসা গন্ধ। গুহাটি বেশ পরিষ্কার। আমরা এদিক ওদিকে তাকাই। কোথাও সেই মৃত বাইসনটা নেই। কোনো লোকের থাকার কোনোরকমের চিহ্ন নেই। এই গুহাতে যে কেউ বহু বছর ধরে বাস করে না এ ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত হই। তবে গতকাল শেষ বিকেলে আবছা অন্ধকারে আমরা কাকে দেখেছিলাম! মিসুমিসুকে খুব চিন্তিত মনে হয়। কি যেন গভীরভাবে ভাবছে। গুহার ভেতরে পায়চারি করছে।

    তুমি ঠিক জানো এই জঙ্গলে বাইসন পাওয়া যায় না? মিসুমিসু আমাকে প্রশ্ন করে।

    -মোটেই পাওয়া যায় না। তবে কয়েক হাজার বছর আগে নাকি এদেশে বাইসন পাওয়া যেত। বইতে পড়েছি। এমনকি নোয়াখালীর বিভিন্ন চরে, দ্বীপ হাতিয়াতে, সন্দ্বীপের ঘাসের বনে বাইসন চরতো বলে জানা গেছে।

    মিসুমিসুর মুখটাকে একটু উজ্জ্বল মনে হয়। যেন রহস্যের কালো পর্দাটির মাঝে একটুখানি আলো পেয়েছে।

    -তোমাদের এই অঞ্চলে কবে থেকে মানুষ বাস করছে?

    -নতুন পাথরের যুগ থেকে। সীতাকুণ্ডের পাহাড়ের কাছে নতুন পাথরের যুগের বেশ কিছু অস্ত্রশস্ত্র পাওয়া গেছে বছর কয়েক আগে। সেগুলো ঢাকা মিউজিয়ামে রাখা আছে। মিসুমিসুকে এবার বেশ গম্ভীর দেখায়।

    গতকাল বিকেলে আমরা যে বাইসন শিকারিকে এই গুহাতে দেখেছি সে এ যুগের নয়। সে নতুন পাথরের যুগের মানুষ।

    -মানে?

    -আর আমরা কোনো আসল লোককে দেখি নি। চার হাজার বছর আগের ছায়াকে দেখেছি।

    সেই কথা শুনে আমার আবার কেমন শীত শীত করতে থাকে। ঠিক এ ধরনের একটি ব্যাপার ব্রাজিলের জঙ্গলের এক পাহাড়ের গুহাতেও দেখেছিলাম। তারপর দেশে ফিরে কয়েকজন বৈজ্ঞানিকের সাথে আলাপ করি। তারা আমাকে নতুন এক রহস্যের সন্ধান দেয়। ব্যাপারটা অনেকটা এ রকম, একটি মানুষ এক জায়গায় কিছুক্ষণ থেকে উঠে গেলেও তার অবয়বের ছায়াটি সেখানে কিছুক্ষণের জন্যে থাকে। যেটা ঠিক খালি চোখে দেখা যায় না। বিশেষ উত্তাপের সাহায্যে সে ছায়া অবয়বের কাঠামোকে দেখা যায়। রাশিয়াতে বর্তমানে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করে চলচ্চিত্র তৈরি হচ্ছে। এর নাম হলোগ্রাফি পদ্ধতি। হাজার বছর আগে নতুন পাথরের যুগের সময় এই গুহাটিতে সেই বাইসন শিকারি বাস করত। সে হয়তো এক বিকেলে জঙ্গল থেকে একটি বাইসনকে হত্যা করে কাঁধে ফেলে তার সেই গুহাতে ফিরে এসেছিল। তার সেই দিনের ছায়ার ভিডিও ইমেজ যেকোনো ভাবেই হোক গুহার আবছা অন্ধকারে বন্দী হয়ে আছে। গুহাতে সেই বিশেষ এক ধরনের উত্তাপ সৃষ্টি হলেই সেই ছায়ামূর্তি ধীরে ধীরে ফুঠে ওঠে। আমরা গতকাল সেই বাইসন শিকারির সচল ছায়াকেই দেখেছি। এ এক রহস্য।

    আমি আর মিসুমিসু গুহার আবছা অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এলাম। মিসুমিসু শুধু বলল, কত অদৃশ্য ছবি আমাদের চারপাশে মিশে আছে। যদি সেগুলো দেখতে পারতাম।

    কয়েকটা হলুদ পাখি ডানায় রোদ মেখে সামনের ঝোপ থেকে হঠাৎ উড়াল দিল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকিশোর রহস্য রোমাঞ্চ গল্পসমগ্র ১ – আলী ইমাম
    Next Article দ্য উলফ লিডার – আলেক্সান্ডার দ্যুমা

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    আশাপূর্ণা দেবী

    সমুদ্র কন্যা – আশাপূর্ণা দেবী

    April 24, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    আমাদের মহাভারত – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    March 20, 2026
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }