Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026

    শূন্য পথের মল্লিকা – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    April 23, 2026

    মরণের আগে ও পরে – ইমাম গাজ্জালী (অনুবাদ : মাওলানা শাহ ওয়ালীউল্লাহ)

    April 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বিদ্বান বনাম বিদুষী – প্রীতম বসু

    প্রীতম বসু এক পাতা গল্প123 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বিদ্বান বনাম বিদুষী – ২

    ।। দুই।।

    ২০১৭ সাল

    অফিস-টাইমের লোকাল ট্রেনগুলোতে রোজ সকালে যেন কুম্ভমেলার ভিড়। মফস্বলের স্টেশনগুলো থেকে আকণ্ঠ প্যাসেঞ্জার গিলে ট্রেনগুলো শিয়ালদা- হাওড়ার প্ল্যাটফর্মে পৌঁছে গাদাগাদা মানুষ ওগরাতে থাকে। এই গিজগিজে মানুষদের ঘর্মাক্ত দেহের অলিগলির ভিতর দিয়ে অভ্যস্ত পায়ে চলে ট্রেনের কামরায় কামরায় উপার্জনের সন্ধানে ঘুরে বেড়ায় কিছু গরীব ফেরিওয়ালা।

    হকার গগন ঢালি ভিড় ঠেলেঠুলে আপ বজবজ লোকাল ট্রেনের কামরায় পা রাখল। তারপর বেতার-ঘোষকের মতো গলা গম্ভীর করে বলল, ‘আপনাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করব না। আজ শুধু দশটা, মাত্র দশটা শব্দের মানে জিজ্ঞাসা করব। যদি বলতে পারেন, তবে এই পাঁচশো টাকার নোট আপনার।’

    বাঁদিকে কয়েকজন প্যাসেঞ্জারের মধ্যে রাজনীতি নিয়ে উত্তেজিত তর্ক-বিতর্ক চলছিল। গগন হকারের ঘোষণায় সেখানে মুহূর্তের মধ্যে কৌতূহলের নীরবতা ডানদিকে একজন দু’হাত মেলে খবরের কাগজে মুখ ডুবিয়ে পড়ছিল, কাগজ ভাঁজ করে চশমার ফাঁক দিয়ে তার ঔৎসুক্য এবং তার দু’পাশের পরজীবী পাঠকদের চোখের বিস্ময় গগনের নজর এড়াল না। গগন দেখল কামরার মোটামুটি সকলেরই দৃষ্টি তার পাঁচশো টাকার নোটে। গোপীযন্ত্র হাতে রসকলি কপালে বাউল ভিখারিটা পর্যন্ত গান শুরু না করে টাকার দিকে তাকিয়ে। *তাহলে বলি, মন দিয়ে শুনুন,’ এবার গগন থেমে থেমে আওড়াল—‘দশটা শব্দ উপোদকী, ত্বাষ্ট্রী, সুনিষণ্ণক, উদ্দানক, শোভাঞ্জন, সুকন্দক, সিন্ধুবার, মদয়ন্তিকা, তর্বাদক আর রুদন্তিকা।’

    মুহূর্তের মধ্যে যাত্রীরা আশাহত। কারোর থুতনিতে ভাঁজ, কারোর ভ্রূ কুঞ্চিত। কেউ চশমা রুমালে মুছতে মুছতে মনে করার চেষ্টা করছে। গগন হকার নীরবতা ভাঙল—‘না পারলে লজ্জা পাবার কিছু নেই, পাশের কামরাতেও কেউ পারেনি। বাড়িতে মেয়ে বা বৌ অ্যানিমিক কিনা চেক করাতে চান? ব্লাড টেস্ট করাতে একগাদা পয়সা নষ্ট? শুধু মদয়ন্তিকার রস হাতের তালুতে লাগিয়ে দিন। যদি শরীরে হিমোগ্লোবিন ঠিকঠাক থাকে তবেই হাতে লালচে আভা দেবে, না হলে দেবে না। এখনো রাজস্থানের গ্রামে বদ্যিরা এভাবেই হিমোগ্লোবিন চেক করে। একসময় আমাদের এই বাংলাদেশেও করত, কিন্তু আজ—’

    ‘কিন্তু, মদয়ন্তিকার মানেটা কী?’ টোয়েন্টি-নাইনের তাস হাতে একজন অফিস যাত্রী জিজ্ঞাসা করল।

    ‘বলছি,’ গগন সবজান্তার মতো হাসল। ‘তারপর ধরুন সিন্ধুবার। সিন্ধুবার মানে কী?’ গগন থামল। চারদিকে আবার পরাজয়ের নীরবতা। গগন বলল, ‘বাড়ির জামা-কাপড়, বই পোকায় কাটছে? ন্যাপথলিন তো বিদেশিদের সৃষ্টি, ন্যাপথলিন আসার আগে আমাদের দেশে কি রাজা-জমিদাররা তাদের দামি কাপড়-চোপড় রক্ষা করতেন না? নিশ্চয়ই করতেন। কীভাবে? সিন্ধুবার ব্যবহার করে। যদি পয়সা বাঁচাতে চান তবে সিন্ধুবার—’

    ‘এই সিন্ধুবার বস্তুটি কোথায় পাব, ভাই,’ একজন হাই-পাওয়ার বাইফোকাল চশমা পরা প্রৌঢ় লোক জিজ্ঞাসা করল। ‘আমার নাতনি ন্যাপথলিন চিবিয়ে ফেলেছিল, বাড়িতে সে কী টেনশন—’

    ‘বড্ড বোর করছ। এই শব্দগুলোর মানে এবার বলেই ফেল—একজন মাঝবয়সী যাত্রীর দৃষ্টিতে অসহিষ্ণুতা।

    ‘এই বইটা –, গগন হকার ব্যাগ থেকে কয়েকটা চটি বই বের করল। ‘এখানে সবকটা শব্দের মানে পাবেন এবং কীভাবে পয়সা বাঁচবে সব এখানে লেখা। কিনুন ‘চলতি-চলন্তিকা’—মাত্র বিশ টাকা দাম। তিনটে পঞ্চাশ।’

    কয়েকজন প্যাসেঞ্জার বইটা হাতে নিয়ে দেখল, একজন কিনব কি কিনব না দ্বিধায় থেকে বইটা কিনেই ফেলল। বউনির টাকা কপালে ঠেকিয়ে বুক পকেটে ঢুকিয়ে এবার গগন শুরু করল দ্বিতীয় অঙ্ক। সে উচ্চকণ্ঠে বলল, ‘খনা। খনার নাম যে শোনেনি সে বাঙালি নয়। কিন্তু খনার বচনগুলো আমরা ভুলতে বসেছি অথচ খনার বচন আমাদের কত কাজে লাগতে পারে। যেমন এটা

    খনা বলে তিথি দেখে খাবে খাদ্য নানা
    পূর্ণিমা অমাবস্যায় গুরুপাক মানা
    টমেটোতে পেটে অম্ল, যত হোক স্বাদ,
    দ্বিতীয়ায় কুমড়োটি খেলে ব্রণ, দাদ
    তৃতীয়ায় পটলটি খেলে কষ্ট বাতে
    চতুর্থীতে মূলা খেলে গাড়ু হাতে রাতে’

    ‘আজকালকার সফিস্টেকেটেড মেডিকেশনের যুগে সব কিছু সব সময় খাওয়া যায়। এসব খনার বচন আউটডেটেড, ফুলশার্ট, টাই, আর কালো রোদচশমা পরা একজন যুবক বিরক্ত গলায় বলল।

    গগন ঠোঁট চেপে হেসে তার বিরক্তি ঢাকল। কাস্টমারকে চটানো তার ব্যবসায় মানা। তার ওপর এ ইংরাজি বলা কাস্টমার।

    ‘মান্ধাতা আমলের খনার পদ্যের বইগুলো এবার রদ্দিওয়ালার ঝোলায় ফেলে কাল থেকে কিছু সায়েন্টিফিক বই জোগাড় করে নিয়ে আসো,’ যুবকের ভঙ্গিতে অবজ্ঞা।

    গগন চুপ করে গেল।

    ‘কী হল দাদা, চুপ হয়ে গেলেন? খনা বোবা হয়ে গেল?’ পাশের সিটে বসা তার সহকর্মী আরেকজন টাই পরা যুবক গা-জ্বালানো হাসি হাসল। ‘বরাহমিহির খনার জিভ কেটে দিল বুঝি?’

    কামরায় অনেকে হেসে উঠল। বিনি পয়সার রঙ্গ-তামাশা। গগন বুঝল বিক্রির দফারফা। মনটা খারাপ হয়ে গেল গগনের। বইগুলো চুপচাপ ব্যাগের ভিতর ঢোকাতে লাগল।

    জানলার পাশে বসে একজন বৃদ্ধ বিরক্ত মুখে সব কিছু দেখছিল। এবার সে বলল, ‘গরীব মানুষ বই বিক্রি করছে, ওর জীবিকায় কেন বাধা দিচ্ছেন ভাই? আপনারা তো মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ। এও তো পেশায় আপনাদের মতোই

    একজন সেলসম্যান। না হয় আপনাদের মতো অত রোজগার করে না।’

    ‘আপনি কেন আমাদের সঙ্গে তুলনা করছেন?’ যুবক আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বলল। মামুলি হকারের সঙ্গে টাই পরা সেলসম্যানকে এক পঙক্তিতে বসানোতে ওর ইগোতে খুব লেগেছে। ‘একদিকে ওয়েস্টার্ন ওয়ার্ল্ডে ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো মেডিসিনের রিসার্চে কোটি কোটি ডলার ঢালছে, আর এদেশে টোয়েন্টি-ফার্স্ট সেঞ্চুরিতেও এই খনা-ফনার সব অশিক্ষিত গেঁয়ো কুসংস্কার

    ‘খনা অশিক্ষিত গেঁয়ো?’ বৃদ্ধ ফোঁস করে উঠল। ‘আর খনাকে অসম্মান করে ‘খনা-ফনা’ বলা হচ্ছে!’ বৃদ্ধের কণ্ঠস্বর হঠাৎ সপ্তমে। ‘জিভ টেনে ছিঁড়ে নেব

    বুড়োর অকস্মাৎ আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে টাই পরা স্মার্ট যুবক ঘাবড়ে গেল। বৃদ্ধ উত্তেজিত হয়ে উঠে দাঁড়াচ্ছিল, তাকে পাশের একজন অল্পবয়সী ছাত্র সামলাল—‘দাদু, এদের এই সামান্য কথায় এত উত্তেজিত হচ্ছেন কেন?’

    ‘সামান্য কথা!’ বুড়ো এবার ঝাঁঝিয়ে উঠল। ‘একজন বাঙালি মেয়েকে অত্যাচার করে তার জিভ কেটে ফেলল, রক্তপাতে তার মৃত্যু হল, অথচ দেখ তার জন্য সহানুভূতিটুকুও নেই! তা নিয়ে ঠাট্টা চলছে! ‘খনা-ফনা’ বলছে—ছিঃ!’

    ‘আমি কি অন্যায় কিছু বলেছি? বিদেশি কোম্পানিগুলো রিসার্চের জন্য—’

    ‘আমাকে বিদেশি কোম্পানির রিসার্চ দেখাতে এসো না!’ বুড়ো এবার তেড়েফুঁড়ে উঠল। ‘ছোটবেলা থেকে মা ঠাকুমার মুখে শুনে আসছি ব্ৰাহ্মি শাক খেলে স্মৃতিশক্তি বাড়ে, আজ শুনি ইউরোপের এক দু’দিনের ওষুধের কোম্পানি সেই ব্রাহ্মির ওষুধের পেটেন্ট নিয়ে বলছে ওটা নাকি তাদের আবিষ্কার! তারপর হলুদ? তিন হাজার বছর ধরে দারুহরিদ্রা আমাদের দেশে কত রোগে যে ব্যবহার হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই, এখন শুনছি কোন ফরেন কোম্পানি পেটেন্ট নিয়ে বলছে এটাও তাদের আবিষ্কার। কোট-টাই পড়ে ওদের বিলিতি ওষুধ বিক্রি করছ করো, তাই বলে আমাদের পূর্বপুরুষদের সম্বন্ধে মনে কেন এত অবজ্ঞা?’

    ডেইলি প্যাসেঞ্জাররা বচসাটা বেশি দূর গড়াতে দিল না। তারা বুড়োকে শান্ত করল। মাঝেরহাট জংশন স্টেশন এল, গগন হকার ঝোলা-ব্যাগ সামলে প্ল্যাটফর্মে নামল। জংশনে ট্রেনটা ক্রসিংয়ের জন্য দাঁড়িয়ে। দু’পা এগোতেই কে যেন পিছন থেকে বলল ‘মদয়ন্তিকা হল মেহেন্দি, সিন্ধুবার হল নিসিন্দা, উপোদকী হল পুঁইশাক, ত্বাষ্ট্রী হল থানকুনী পাতা—’

    গগন ঘাড় ঘুড়িয়ে দেখল। সেই বুড়ো। বুড়োর জ্ঞান দেখে চমৎকৃত হল সে। ‘আমার জন্য আপনি ঝামেলায়-’

    ‘খনার বচনের পদ্যটা তুমি লিখেছ?’ বুড়ো গগনের কথায় আমল না দিয়ে জিজ্ঞাসা করল।

    ‘হ্যাঁ স্যার,’ গগন স্বীকার করল। ‘এই খনার বচন বইটার অনেকগুলো পদ্যই আমার লেখা।’

    ‘খনার বচন তোমার লেখা?’

    ‘হ্যাঁ স্যার। শুধু খনা কেন, এই যে কালিদাসের হেঁয়ালি সেখানেও আমার অবদান আছে—’

    ‘আচ্ছা!’ বৃদ্ধের চোখ কপালে। কেউ যে এতটা বদ হতে পারে তা যেন বিশ্বাসই হচ্ছে না বৃদ্ধের। ‘নিজের লেখা পদ্য খনার বচন বলে চালাচ্ছ? লজ্জা করে না?’ বৃদ্ধ খুব রেগে গেল।

    ‘আজ্ঞে, খনার নামের জন্যই তো তাও কিছু বই বিক্রি হয়,’ গগন বলল। ‘বাঙালির সেন্টিমেন্ট ভাঙিয়েই খাই—’

    ‘তাই বলে বিদুষী খনার নামে মিথ্যা কথা লিখবে?’ বুড়োর রাগী দৃষ্টি। আর তাছাড়া টমেটোতো পর্তুগিজরা প্রথম এদেশে নিয়ে এল ষোড়শ’ শতাব্দীতে, আর খনা সেই ষষ্ঠ শতাব্দীর। উল্টোপাল্টা একটা কিছু লিখলেই হল!’

    গগন বোকা বোকা হাসি দিয়ে মাথার চুলে আঙুল চিরুনি করতে লাগল, তারপর ক্লান্ত গলায় বলল, ‘স্যার, দেখলেনই তো, আজকাল খনার নামেও বই বিক্রি হয় না। বাঙালির জ্যোতিষে একদম বিশ্বাস নেই। খনার জ্যোতিষের বচনগুলি বললে সবাই বলে এসব কুসংস্কার, কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।’

    ‘বৈজ্ঞানিক ভিত্তি?’ এবার বুড়ো গোলগোল চোখ করে বলল, ‘যারা বলছে তাদের ক’জন সত্যি সত্যি জ্যোতিষশাস্ত্র পড়েছে? না পড়েই বুঝে গেল কুসংস্কার? সব ‘মুখেন মারিতং জগৎ’ পণ্ডিত। ধর্মের নামে আর রাজনীতির নামে কত্ত অবৈজ্ঞানিক কাজকম্মো রোজ রোজ হয়ে চলেছে এই খোদ বাংলায়—তার বেলা কিছু নেই, দোষ যত জ্যোতিষের বেলা!’

    ‘কিন্তু এটাও তো ঠিক যে চারদিকে কত ভুলভাল জ্যোতিষী উল্টোপাল্টা পাথর দিয়ে মানুষকে ঠকিয়ে পয়সা বানাচ্ছে,’ গগন নিজেও জ্যোতিষীদের পছন্দ করে না, তাই বলেই ফেলল কথাটা।

    ‘যদি কেউ বেসুরে হেঁড়ে গলায় রবীন্দ্রসংগীত গায়, তবে কি সেটা রবীন্দ্রনাথের লেখার দোষ? বলো?’

    বৃদ্ধের চোখের দৃষ্টি অস্বাভাবিক। গগন ভয়ে ভয়ে বৃদ্ধের কথায় সায় দিল ‘আজ্ঞে না, রবীন্দ্রনাথের দোষ কেন হবে?’

    ‘তাহলে? সেই একই রবীন্দ্রসংগীত যখন ভালো গায়ক গায় তখন গান একেবারে বুকের ভিতর ঢুকে যায়। জ্যোতিষী খারাপ হলে জ্যোতিষশাস্ত্রকে কেন দোষারোপ করবে? কত ভালো ভালো জ্যোতিষী ছিল জানো আমাদের এই বাংলায়। আর খনার কথা বলছ? যদি ডিঙিবাদলের বেহুলা জ্যোতিষীর ‘বেহুলার খনা’ পুঁথিটা এদের পড়াতে পারতাম তবে এরা বুঝত খনা কীরকম বিদুষী জ্যোতিষী ছিল। এসব আজকের বাঙালির দৃষ্টির বাইরে চলে গেছে।’

    ‘কোন পাবলিশার বইটা ছেপেছে স্যার?’

    ‘নাঃ। কোনো পাবলিশার রাজিই হল না খরচা করতে। আমারও তো সে সামর্থ্য নেই যে নিজের পয়সায় বই ছাপি। ছেলেটাকে বললাম কিছু টাকা দে, ও রাজি হল না। বলল এসব বই আজকালকার ছেলে-মেয়েরা নাকি পড়ে না।’

    ‘বেহুলা! মানে মনসামঙ্গলের লখীন্দর বেহুলা?’

    ‘না এ বেহুলা অন্য এক বিদুষী। ডিঙিবাদল গ্রামে থাকত—’

    ‘ডিঙিবাদল!’ এরকম গ্রামের নাম গগন কোনোদিন শোনেনি। ‘অদ্ভুত নাম তো গ্রামের!’

    ‘ঘটনাটাই অদ্ভুত,’ বৃদ্ধ এবার চোখ গোলগোল করে বলল, ‘আকাশ থেকে শ’য়ে শ’য়ে ডিঙির বৃষ্টি হয়ে গোটা গ্রাম ধ্বংস হয়ে গেল। বুঝলে? তাই তো গ্রামের নাম ডিঙাডুবি থেকে ডিঙিবাদল হয়ে গেল।’

    ‘ডিঙির বৃষ্টি! মানে নৌকার বৃষ্টি?’ গগনের এবার সন্দেহ হল সকাল সকাল উন্মাদের পাল্লায় পড়ল না তো সে?

    ‘হ্যাঁ, হ্যাঁ। উপোদকী, সিন্ধুবার, সুকন্দক—এরকম কঠিন কঠিন শব্দের মানে তুমি জান, অথচ ডিঙি মানে যে ছোট নৌকা সেটা বলে দিতে হবে? সেই ডিঙির বৃষ্টিতে কত মানুষ ডিঙি চাপা পড়ে মরল।’

    বাসে চাপা পড়ে মৃত্যু, লরি চাপা পড়ে মৃত্যু এসব শুনেছে গগন। কিন্তু আকাশ থেকে বাদলের মতো ঝরে পড়া ডিঙি চাপা পড়ে মৃত্যু! গগন একটা ঢোঁক গিলে ফেলল।

    নাকে নেমে আসা চশমাটা উপরে তুলে গগনের দিকে ফোকাস করে চোখ কুঁচকে বৃদ্ধ বলল, ‘তুমি এত কঠিন কঠিন শব্দ শিখলে কোথা থেকে? তোমাকে তো বেশ শিক্ষিত মনে হচ্ছে।’

    ‘না না,’ গগন বিব্রত হাসি হাসল। ‘আমার বিদ্যে ক্লাস নাইন পর্যন্ত। আমি কোথা থেকে এত কঠিন কঠিন শব্দ শিখব। চোরিয়ালে গোপাল কবিরাজের দোকানে পুরিয়া বানাতাম। তিনিই আমাকে কিছু কিছু কবিরাজি শব্দ শিখিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তো দেহ রাখলেন। পেট চালাবার জন্য পেশা বদলে ট্রেনে ট্রেনে ঘুরছি আর ওই শেখা শব্দগুলোকে ব্যবহার করি লোকের কাছে বই বিক্রির জন্য। কিন্তু আপনি এত সব জানলেন কী করে? আপনি কি কবিরাজ?’

    ‘আমার দশ পুরুষ কবিরাজ ছিল।’

    ‘ওঃ, নমস্কার, কবিরাজমশাই।’

    ‘ছিলাম, এখন নই, চিকিৎসা ছেড়ে দিয়েছি। এখন সখের জ্যোতিষচর্চা করি, বৃদ্ধ প্রতিনমস্কার করল।

    ‘ওঃ, কবিরাজি ছেড়ে দিলেন?’

    ‘বয়স অনেক হল, আর ভালো লাগে না, তাছাড়া হাত কাঁপে, খলে মধু- মকরধ্বজ বাটার মতো জোর আর আঙুলগুলোতে নেই। ইচ্ছেও নেই,’ দীর্ঘশ্বাস ফেলল কবিরাজ। ‘একটাই ছেলে, সেও চলে গেল আমেরিকা।’

    ‘আমেরিকা! বাব্বা!’ গগন সম্ভ্রমের সঙ্গে বলল।

    বুড়ো বলল, ‘আমেরিকার একটা নাম করা ওষুধের কোম্পানিতে কাজ করে সে। আয়ুর্বেদের ভৈষজ্যবিষয় এবং রসতান্ত্রিক চিকিৎসার অনেক প্রাচীন সমীকরণ-তথ্য ছিল আমার কাছে লেখা। ও গবেষণা করবে বলে সব নিয়ে চলে গেল। ঠিকই করেছে! আমি তো বুড়ো হয়েছি। এসবে তো তারই উত্তরাধিকার।’ বিদেশে বসে এদেশের আয়ুর্বেদের গবেষণা? এদেশেই করতে পারতো?’

    ‘টাকা!’ বুড়োর চোখ যেন বিরক্তি বমন করল। ‘শুনলে না ট্রেনে ছোঁড়াটা বলল যে বিদেশে ওষুধের কোম্পানিগুলো কোটি কোটি টাকা খরচা করে আয়ুর্বেদের গবেষণার জন্য? ক’দিন পর হয়তো দেখবে আমাদের খনার বচনেরও একটা পেটেন্ট নিয়ে নেবে ওই ইউরোপ-আমেরিকা।’

    গগন রসিকতা ভেবে হাসতে গিয়েও থমকে গেল। গগনকে অবাক করে দিয়ে প্ল্যাটফর্মে ঘেন্নায় থুঃ করে থুথু ফেলল বুড়ো। তারপর বিড়বিড় করে কী বকতে বকতে সামনে হাঁটা লাগল। গগন হতবাক হয়ে ভাবল পাগল নাকি!

    পিছন থেকে কে যেন গগনের পিঠে হাত রাখল। পল্টু-হকার। গলায় চানাচুর,

    সল্টেড বাদামের প্যাকেটের লম্বা মালা। পল্টু বলল, ‘অ্যাই গগনদা, বিশু বলল, ‘তোমার কম্পার্টমেন্টে নাকি কে একজন বাওয়াল করেছে?’

    ‘আরে ছাড়ো পল্টু,’ গগন ব্যাপারটা উড়িয়ে দিতে চাইল।

    ‘ছাড়ব কেন? হকারদের পেটে কেউ লাথি মারবে আর আমরা ছেড়ে দেব? আমাদেরও ইউনিয়ান আছে—’

    ‘কাস্টমার হল লক্ষ্মী। ওদের চটিয়ে কী লাভ?’ গগন পল্টুকে শাস্ত করল। আর তাছাড়া, ওই যে সামনের ওই বুড়ো ভদ্রলোককে দেখছো, ও ওদের উচিত জবাব দিয়েছে।’

    ‘কোন বুড়ো? ওই যে যাচ্ছে লোকটা? আরিব্বাপস!’

    ‘ওকে চেনো তুমি?’

    ‘চিনি মানে? আমাদের সন্তোষপুরের ধন্বন্তরি কবিরাজ। বাপ ঠাকুরদার কবিরাজি জ্ঞান আর জ্যোতিষ মিশিয়ে ওষুধ দিয়ে ভালো পসার করেছিল। তবে এখন মাথার কয়েকটা ইস্ক্রু একটু ঢিলে হয়ে গেছে। ওর ছেলে তথাগত আমার বন্ধু ছিল।’

    ‘ছিল মানে? এখন নেই?’

    ‘এক ক্লাসে পড়তাম। আমি তো ইস্কুলে ক্লাস এইটে দু’বার গাড্ডা মারার পর ইস্কুল ছেড়ে দিলাম, আর তথাগত হেব্বি ব্রেনি স্টুডেন্ট ছিল। প্রত্যেক বছর ফার্স্ট। ন্যাশনাল স্কলারশিপ পেল। তারপর কলেজে ফাটাফাটি রেজাল্ট করে প্লেনে করে আমেরিকা চলে গেল। সেও অবশ্য গুরুদেব ছেলে, আজ ওর বাপের এই অবস্থা ওরই জন্য।’

    ‘কেন?’

    জিঞ্জিরা মোড়ে একটা আয়ুর্বেদিক ওষুধের কারখানা আছে। অনেক পুরোনো। আমরা ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি। একসময় ওদের ওষুধ বাজারে খুব ভালো চলত। রমরমা ব্যবসা, কলেজে পড়তে পড়তে ওই কারখানার বুড়ো মালিকের সুন্দরী নাতনিটিকে পটিয়ে ফেলল তথাগত, আর ওদের ওই আয়ুর্বেদিক কারখানাতে চাকরি নিল। তারপর লোকে বলে ও নাকি ভাবী শ্বশুরবাড়ির পয়সাতে বিলেত চলে গেল।’

    ‘ভাবী শ্বশুরবাড়ির পয়সায়?’

    ‘বাপকে তো দেখলে, একটা সামান্য কবিরাজ, বাপের অত সামর্থ্য ছিল না। ছেলেকে যে পড়াশোনা শিখিয়ে কলেজ পাশ করিয়েছে এটা কী কম খরচের! তাই ধান্ধা নিয়ে বড়লোকের মেয়েটাকে ইউজ করেছিল তথাগত। তারপর আমেরিকা পৌঁছে কিছুদিন পর প্রেমিকাকে ল্যাং মারল। ওখানে নাকি একটা আমেরিকান মেয়েকে পটিয়েছে। শুনলাম ফেসবুকে ফটো পোস্টায় দু’জনের একসঙ্গে।’

    ‘বলো কী! এদেশের প্রেমিকাকে ল্যাং মেরে দিল?’ গগন বলল। ‘হারামি তো!’

    ‘ওর হারামিপনার তো এখনো কিছুই বলিনি। তথাগতের বাপের কাছে কবিরাজি জড়িবুটি সম্বন্ধে লেখা কয়েকটা দামি পুঁথি ছিল। বুড়োর বাপ-ঠাকুর্দার থেকে পাওয়া। আরো আগেকার পুঁথি-টুথি নাকি। পুঁথিগুলো বুড়োটা নাকি যখের ধনের মতো আগলে রাখতো। বিলেতে যাওয়ার আগে তথাগত বাপকে বলল ওগুলো কি ডিম পাড়ার জন্য তোমার বিছানার নীচে তোরঙ্গে রেখেছ? আমায় দাও, আমি বিদেশে গিয়ে এসব নিয়ে রিসাচ করব।’

    ‘গুরুদেব ছেলে তো!’

    ‘এখনো তো আসলটাই শোননি। বুড়ো সাফ মানা করে বলল, তোমার মতলব আমি বুঝেছি। এগুলো আমাদের দেশের ঐতিহ্য, এগুলো বিলেতের ওষুধের কোম্পানিতে বিক্রি করবে? বিদেশে না, রিসাচ করতে হলে দেশে ফিরে এসে রিসাচ কর। তথাগত তখন খচে গিয়ে বলল এদেশে রিসাচ-ফিসাচ করা অসম্ভব। বাপও অনড়। তখন তথাগত থ্রেট করে বলল আমি তাহলে এবাড়িতে আর কক্ষনো পা রাখব না। বাপও কম জেদি না, কিন্তু ছেলে যে একটা ঢ্যামনা সাপ, সেটা বুড়ো জানতো না। বুড়ো যখন টের পেল যে তার মূল্যবান ডায়েরিগুলোর বেশ কয়েকটা হাপিস, তার গুণধর ছেলে বাপকে ছোবল মেরে তখন আমেরিকার এরোপ্লেনে বসে গেছে।’

    ‘কী ডেঞ্জারাস!’

    ‘গগনদা, কী আর বলব, বুড়ো এত বড় ধাক্কাটা সামলাতে পারল না। সেই রাত্তিরেই স্ট্রোক হল। আমরা ধরাধরি করে অ্যাম্বুলেন্স ডেকে পিজিতে নিয়ে গেলাম। বুড়ো বেঁচে গেল কিন্তু মানুষটার মেরুদণ্ড কেমন ঝুঁকে গেল।

    ‘ছেলে আর ফেরেনি এদেশে? অন্তত বুড়ো বাপকে দেখতে?’

    ‘ফিরেছিল গতবছর। তবে বাপকে দেখতে না। অন্য কাজে। বাড়ি আসেনি। কলকাতার হোটেলে এসে উঠেছিল। হঠাৎ এস্প্ল্যানেডে দেখা। বললাম—আরে গুরু তুমি! কবে এলে? আমাকে হেসে পাশ কাটাতে চাইল। আমি কি ছেড়ে দেওয়ার পাবলিক নাকি! বললাম গুরু, ইম্পোটেড মাল খাওয়াতে হবে।’

    ‘খাওয়ালো?’

    ‘ছোটবেলার পুরোনো বন্ধু তো, রিকোয়েস্ট ফেলতে পারল না। বলল রাতে আয়, স্কচ খাওয়াব। স্কচ-টচ তো বাপের জন্মে চোখেই দেখিনি। ভদ্রতা করে আমাদের ডাকঘরের হাফিজের দোকানের পাঁঠার মেটের ঝাল নিয়ে ওর হোটেলে গেলাম। গ্লাসে অল্প একটুখানি মাল ঢেলে বলল খা। আমি বললাম, শালা, হোমিপেথিক ওষুধ দিচ্ছিস নাকি? আরো মাল ঢাল। নিট মারলাম এক গ্লাস স্কচ। তারপর নেশাটা জমে উঠল, মুখের কন্টোল কমে গেল, বললাম গুরু, তুমি দেশে ফিরে এসো। তোমাদের মতো বিলিয়ান্ট ছেলেরা সবাই চলে গেলে কী করে হবে। ও বলল—রিসাচ-ফিসাচ কী সব করছে নাকি ওদেশে, আমাদের এদেশে নাকি বড় পলিটিক্স। আমি এইট ফেল, রিসাচ-ফিসাচ বুঝি না, কিন্তু পলিটিক্সটাতো বুঝি। বললাম চাড্ডি, কংগ্রেস, তিনোমূল, লেলিন- ফেলিনদের সঙ্গে দশ বছর করে খাচ্ছি, অনেক লিডারদের সঙ্গে ওঠাবসা আছে, তুই চলে আয়, দাদাদের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেব। তোরা ব্রেনি স্টুডেন্ট, তোদের লুফে নেবে। কোনো একটা বড় জায়গায় ঠিক ফিট হয়ে যাবি।’

    ‘কী বলল সে?’

    ‘তথাগত প্রথমে উত্তর দিল না, দু-আঙুলে ঝাল মেটে তুলে মুখে পুরল। চিবোতে চিবোতে চুপচাপ গ্লাসে একটা চুমুক মারল। তারপর উদাস হয়ে বলল—নারে, আসা হবে না। শুধু বাবা আর পিসির টানেই দেশে আসি। তবে দেশের ভবিষ্যতের কথা ভাবলে খুব দুঃখ হয়। বুঝলাম ফরেনের আঠা মুছে মালটার এদেশে ফেরার কোন ইচ্ছাই নেই, বাকিটা হল সাকসেসফুল মানুষের দুঃখবিলাস। ফোকোটে মাল খাওয়াচ্ছে তাই বেশি মুখ খুললাম না। শুধু বললাম—গুরু, আমাদের ভবিষ্যৎ-টবিষ্যৎ নিয়ে দুঃখ কোরো না, ওখানে যেমন চালাচ্ছ চালিয়ে যাও, আমরা এদেশের লোকেরা সুখে দুঃখে ঠিক বেঁচে থাকব। তুমি বাপের একমাত্র ছেলে, তাই মাইরি কিছু ছুটি-ছাটা জমিয়ে রেখো, যাতে বাপ মরলে বাপের মুখের আগুনটা তোমার পাশের বাড়ির বিশুকে না দিতে হয়।’

    ‘তুমি এটা বলতে পারলে?’

    ‘মালের ঘোরে বলেছি। কিন্তু তখন বুঝিনি বাপের টান-ফান সব ঢপ। পরে রমেন মোক্তারের থেকে জানলাম শালা এমন হারামি যে আগের প্রেমিকার কোম্পানির কী একটা ঘাপলা বের করে নাকি ওর আমেরিকার কোম্পানিকে দিয়ে প্রেমিকার কোম্পানির নামেই কোর্টে কেস ঠুকে দিয়েছে, আর সেই কেসের কাজেই সে ব্যাটাচ্ছেলে ইন্ডিয়া এসেছে। কী হারামি ভেবে দেখ!’

    ‘তথাগতের বাপ জানে এসব?’

    ‘কে জানে? বুড়ো তো কারোর সঙ্গে একদম মেশেটেশে না। বুড়ি অনেক আগেই ফেঁসেছে। বুড়োর এক আধপাগল বোন আছে। বিয়ে হয়নি। তারও বয়স কম না। সেও নাকি এমন বিলিয়ান্ট ছিল যে পড়তে পড়তে মাথাই নাকি খারাপ হয়ে গেছিল। মেন্টাল পেশেন্ট। ডাক্তার দেখিয়েও শুনেছি কাজ হয়নি। আমাদের পিন্টে নাকি ওই পাগলি বোনকে এই সেদিনও দেখেছে শোভাবাজার স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ভিখারি বাচ্চাদের সঙ্গে লাফিয়ে লাফিয়ে চু-কিৎ-কিৎ খেলছে। এমনি বাজারে এসে দোকানিদের সঙ্গে যখন কথা বলে তখন দূর থেকে অবশ্য নর্মাল লাগে। সেও কারোর সঙ্গে মেশেটেশে না। স্টেশন রোডের সাইবার কাফেতে সন্ধ্যায় সময় কাটায়। বুড়োর কাছেই থাকে। ওই বোনই বুড়োর দেখভাল করে।’

    পল্টু লাইনের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘ডাউন গাড়ি ঢুকছে—চলি গো।’

    প্ল্যাটফর্মে স্তম্ভিত হয়ে দাঁড়িয়ে রইল গগন। অনেক দূরে শ্লথগতিতে হেঁটে চলছে ন্যুব্জ ধন্বন্তরি কবিরাজ। প্রাচ্যের বৃদ্ধ জ্ঞানবৃক্ষের বীজ থেকে হয়তো এই মুহূর্তে পাশ্চাত্যের কোনো এক ল্যাবরেটরির প্রাচুর্যের আঁতুড়ঘরে জন্ম নিচ্ছে ঔষধের অঙ্কুর। আর সে মুহূর্তে গগনের মনে এক অদ্ভুত চিন্তার উদয় হল। গগনের মনে হলো যে, সে যেমন ট্রেনে ট্রেনে ঘুরে ফেরি করে বেড়ায়, তেমনি ধন্বন্তরি কবিরাজের ব্রিলিয়ান্ট ছেলের মতো আমাদের দেশের কত বিদ্বান মানুষ হয়তো আমাদের প্রাচীন গবেষণা বিদেশে ওষুধের কোম্পানিগুলোতে ফেরি করে বেড়াচ্ছে টাকার জন্য।

    এই বুড়ো মানুষটার জন্য বড় কষ্ট হল গগনের। গগন বিড়বিড় করে বলল, ‘শালা, কেউ বেশি শিক্ষিত, কেউ কম শিক্ষিত—জীবনের রেলগাড়িতে আমরা সকলেই খদ্দের-সন্ধানী ফেরিওয়ালা, ফারাকটা শুধু বেসাতির।’

    গগনের মনে এক অসম্ভব জেদ জন্ম নিল সে ধন্বন্তরি কবিরাজের ঝুঁকে পড়া শিরদাঁড়া আবার ঋজু করে দেবে। যে লোকটা এক কামরা মানুষের মধ্যে দাঁড়িয়ে অন্যায়ের প্রতিবাদ করার ক্ষমতা রাখে, যে লোকটা খনার অপমানের প্রতিবাদে ‘জিভ টেনে ছিঁড়ে নেব’ এ কথা উচ্চস্বরে বলার ক্ষমতা রাখে, তার শিরদাঁড়া এত সহজে বেঁকে যেতে পারে না। গগন প্রতিজ্ঞা করল সে ধন্বন্তরি কবিরাজকে আবার জাগিয়ে তুলবে, আর কিছু না পারুক, সে যেভাবেই হোক কবিরাজের অনেক আশার ‘বেহুলার খনা’ বই ছাপাবে। আর সেই বই সে নিজে ট্রেনে ট্রেনে ফেরি করে পৌঁছে দেবে পরবর্তী প্রজন্মের বাঙালির কাছে। কিন্তু বইতে কি সত্যি আকাশ থেকে নেমে আসা ডিঙির বৃষ্টি লেখা? তা কি সম্ভব?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleভৌতিক অলৌকিক – অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    Next Article আফ্রিকার লোকগল্প – অশোককুমার মিত্র

    Related Articles

    প্রীতম বসু

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026
    Our Picks

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026

    শূন্য পথের মল্লিকা – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    April 23, 2026

    মরণের আগে ও পরে – ইমাম গাজ্জালী (অনুবাদ : মাওলানা শাহ ওয়ালীউল্লাহ)

    April 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }