বিদ্বান বনাম বিদুষী – ৭
।। সাত।।
নদীর দু’পাশে ঘন আঁধার। অন্ধকার নদীর বুকে জমাট কুয়াশা। সারারাত ধরে মরণভয়ে এই ঠাণ্ডায় প্রাণপণে সালতি বেয়ে চলেছে বেহুলা। এখন সর্বাঙ্গে ব্যথা। মনে হচ্ছে শরীরের ওপর দিয়ে ওরেবত হেঁটে গেছে। উত্তর থেকে বয়ে আসা ভেজা শীতল হাওয়ায় মাথা খুব ভার, দুটো নাকই বন্ধ। ক্ষণে ক্ষণেই মুখ দিয়ে শ্বাস নিয়ে ফুসফুসে জোর করে বাতাস ঠুসতে ঠুসতে নৌকা চালিয়ে চলেছে বেহুলা। আর মাঝে মাঝেই আতঙ্কে পিছনে তাকিয়ে দেখছে—বংশী লেঠেলের দল পিছনে আসছে না তো? চারপাশে অন্ধকার, আর অনন্তকাল ধরে যেন জল থেকে আঁধার ভেদ করে কানে উঠে আসছে শব্দ ছলাৎ ছলাৎ।
আকাশে সকালের আলোর ছিটে লাগলো। দাঁড় বাইতে বাইতে এবার বেহুলা টের পেল ওর হাতের তালুতে ফোস্কা পড়েছে। একটা ফোস্কা গলে নুনছাল উঠে গেছে। দাঁড় ছেড়ে তালু টানটান করে গায়ের আলোয়ানে তালু ঘষল বেহুলা। নাছোড় কুয়াশা বিদ্যাধরীর বুক জুড়ে সাদা বাষ্পের চাদর বিছিয়ে দিয়েছে।
থামলে চলবে না। বুকে বাতাস টেনে আবার দাঁড় বাইতে লাগল বেহুলা। দু’হাত ছিঁড়ে যাচ্ছে ব্যথায়। এখন গতি অনেক মন্থর হয়ে গেছে। রাতের জোয়ারের সাহায্য না পেলে সে কিছুতেই এত দূর সালতি বেয়ে আসতে পারত না। এখন মন্দীভূত স্রোতে উত্তুরে হাওয়ার বিরুদ্ধে দাঁড় বেয়ে এগোতে কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু উপায় নেই। বেহুলা যথাশক্তি প্রয়োগ করে দাঁড় বাইতে লাগল। বেলা হলেই ধুলসার শ্মশানযাত্রীরা ওদের ভিটেতে আবার আসা আরম্ভ করবে। ধীরে নৌকা বাইলে চলবে না।
প্রাক-প্রভাতের আবছা আলোয় নদীতে আশেপাশে ছোট-বড় নৌকা নজরে আসছে। নদীর তীরে ঘুমন্ত জনপদ। ধীরে ধীরে নৌকার ভিড় বাড়তে লাগলো। সকলেই করিমগঞ্জের ঘাটের দিকে চলেছে। আরো কিছুটা দূর। বেহুলা জানে করিমগঞ্জের ঘাট থেকে দূরের সব খেয়া ছাড়ে।
ধীরে ধীরে করিমগঞ্জের ঘাট কাছে এল। সাতসকালে খুব ভিড়। সারি সারি নৌকায় তাঁতিদের কাপড়ের বড় বড় বোঁচকা তোলা হচ্ছে। সামনে ঘাটে চেঁচামেচি, ব্যস্ততা খুব। বেহুলা আঘাটায় সালতি নিয়ে এল। নৌকা থেকে নেমে নৌকা কাদায় নিয়ে এল। নৌকা বাঁধার প্রয়োজন নেই। পিছনে যাবার পথ রুদ্ধ।
নদীর পাশের কাঁচা পথে উঠল বেহুলা। কিছুটা হেঁটেই করিমগঞ্জের ঘাট। ঘাটে দুই নৌকার মাঝিরা একদল যাত্রীকে নিজের নৌকায় ঢোকাবার অধিকার নিয়ে খুব বাক্-বিতণ্ডা করছে। এই গোলমালের থেকে চোখ সরিয়ে ঘাটের সিঁড়িতে বসে থাকা একজন লোকের সঙ্গে চোখাচোখি হল বেহুলার। লোকটার দৃষ্টিটা ভালো লাগল না। মাথায় পেল্লায় পাগড়ি জড়িয়ে কলকে টানতে টানতে শকুনের মতো দৃষ্টি দিয়ে চারদিক দেখছে। বেহুলাকে দেখে কলকে রেখে লোকটা গা-মোড়া দিয়ে উঠে দাঁড়াল। তারপর বেহুলার কাছে এসে বলল, ‘কোথায় যাবে?’
বেহুলা উত্তর না দিয়ে এগিয়ে চলল ঘাটের দিকে। লোকটা নাছোড় ‘কোথায় যাবে বললে আমি মাঝির সঙ্গে কথা বলে পারানি কম করে দিতে পারি।’
লোকটাকে ঝেড়ে ফেলতে বেহুলা বলল, ‘আমি কোথাও যাচ্ছি না। গেলে আমি একলাই দরদাম করে নিতে পারতাম।’
‘বাড়ি থেকে পালিয়েছ?’ লোকটা তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে বেহুলাকে দেখে বলল। ‘একা একা শহরে হারিয়ে যাবে। তার চেয়ে আমি তোমায় নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে দেব। তোমার পারানিও আমিই দেব। তোমার মুখ দেখে মনে হচ্ছে তোমার ওপর দিয়ে অনেক ঝড়-ঝাপটা বয়ে গেছে। এসো, কিছু খেয়ে নাও এই দোকানে। ওখানে কথা বলা যাবে।’
সামনে পথের ধারে মাটিতে মাদুর বিছিয়ে বসে একটা বেদে মধু, ওষধি গাছের শিকড়, ডাহুক-বাদুড়ের হাড়, সজারুর কাঁটা, ধনেশ পাখির তেল বিক্রির জন্য সাজিয়ে সাজিয়ে রাখছিল। লোকটাকে এড়াতে বেহুলা এবার বেদের দোকানের সামনে উবু হয়ে বসল। বেদে বেহুলাকে দেখে চোখ কুঁচকে বলল, ‘তোর মনে হচ্ছে পিলের রোগ আছে। পানকৌড়ির হাড়ের রস খেলে পিলে সারে। আমার কাছে পানকৌড়ির হাড় খুব ভালো আছে। লাগবে?’
বেহুলা বলল, ‘সাপের বিষের ওষুধ হবে?’
বেদে বলল, ‘বেদের কাছে সাপের বিষের ওষুধ না থাকলে সে বেদেই না। ছোট চান্দা বড় চান্দা/কী হবে তোর দড়ি বান্ধা, এই নাও,’ বেদে কয়েকটা শিকড় বের করে দিল। ‘এগুলো কিন্তু মুখে নিয়ে চিবোতে হবে। আর রোগীকে খুব তাড়াতাড়ি বদ্যির কাছে নিয়ে যেতে হবে।’
দালালটা পিছনে দাঁড়িয়ে। নড়বার নাম নেই। বেদের সামনে বসে শিবঠাকুর। ছিলিমে তামাক টানছিল বহুরূপী। শিবের মতো জটা মাথায়, গলায় রুদ্রাক্ষের মালা তার সঙ্গে সাপ জড়িয়ে, পরনে নকল বাঘছাল, হাতে ত্রিশূল, সারা গায়ে ছাই মাখা, জটায় একটা আধফালি চাঁদও গোঁজা। বহুরূপী এবার দালালটার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘একলা সোমত্ত মেয়ে দেখলেই শহরের বাঈজীদের কোঠায় পাঠাবার জন্য মনটা উত্থাল-পাথাল করে তাই না?’
‘কী বলছ কী?’ দালাল এবার চোটপাট করে উঠল।
‘আমার দোকানের সামনে থেকে ভাগ!’ এবার বুড়ো বেদে ধমক লাগাল।
দালাল সরে যেতে বুড়ো বেদে বলল, ‘বাড়ি ফিরে যা মা। তোর মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছে বাড়ি থেকে পালিয়েছিস।’
‘ওখানে যে আমার সোয়ামির চিতা আমাকে সতী বানাবার জন্য অপেক্ষা করে আছে, দাদু। আমি গেলেই চিতায় আগুন দেওয়া হবে।’ বেহুলা বলল।
‘কোন গ্রাম?’ বহুরূপী বলল।
‘ধুলসা।’
‘ওরে বাবা ধুলসা মানে তো সতীপীঠ,’ বেদের মুখে আতঙ্ক। ‘ওখানকার জমিদার লেঠেল পাঠিয়ে তোমায় ঠিক ধরে নিয়ে যাবে। ওরা এতক্ষণে নিশ্চয়ই খোঁজাখুঁজি শুরু করে দিয়েছে।’
‘আমি তাহলে এখন কী করব? কোথায় লুকোবো?’ বেহুলা অসহায় কণ্ঠে বলল।
‘যা করার তাড়াতাড়ি করতে হবে,’ বহুরূপী বলল।
‘কী করব আমি?’
‘আমার সঙ্গে শিগগির আসো,’ বহুরূপী তাড়াতাড়ি ছিলিম উল্টো করে মাটিতে ঠুকে ছিলিম ঝোলায় ঢোকাতে ঢোকাতে উঠে দাঁড়াল।
‘কোথায়?’
‘বাঁচতে চাও তো কথা না বলে তাড়াতাড়ি আসো,’ বহুরূপী আল ধরে দূরবর্তী বাঁশঝাড়ের দিকে দ্রুতপায়ে হাঁটতে লাগল। বেহুলা বুড়ো বেদের দিকে তাকাল। বেদে বলল—‘বিশে ভালো ছেলে। ওকে আমি চিনি। ও তোমার কোনো ক্ষতি করবে না।’
বুড়ো বেদের সমর্থন পেয়ে বেহুলা এবার ভয়ে ভয়ে বহুরূপীর পিছনে পিছনে প্রায় দৌড়োতে দৌড়োতে বাঁশঝাড়ে গিয়ে ঢুকল।
‘কাপড়টা চটপট পাল্টে নাও,’ বহুরূপী ঝোলা থেকে একটা রক্তরঙা শাড়ি দিতে দিতে বলল। ‘জমিদারের এক বংশী লেঠেল আছে। খুব অত্যাচারী।
গায়ে আলোয়ান জড়ানো সত্ত্বেও পর-পুরুষের সামনে কাপড় ছাড়তে বেহুলার খুবই সঙ্কোচ হচ্ছে এটা বুঝে বহুরূপী বলল, ‘আমি পেছন ফিরে বসছি। তাড়াতাড়ি কর। খেয়া ছাড়ার আগে তোমায় তৈরি করিয়ে দিতে হবে।’
‘কোথায় যাচ্ছি আমরা?’
‘যে খেয়া প্রথমে শিঙ্গা বাজাবে তাতেই উঠে বসব।’
‘তারপর।’
ডিঙাডুবিতে আমার বাবা আর পিসি থাকে।
‘তোমার নাম কী?’ বেহুলা মৃদুস্বরে জিজ্ঞাসা করল।
‘বিশ্বনাথ।’
‘ডিঙাডুবি কোথায়?’
‘অনেক দূর। পৌঁছোতে পৌঁছোতে সন্ধ্যা হয়ে যাবে।’
যত দূর হয় ততই মঙ্গল। হে ঈশ্বর রক্ষা করো, মনে মনে ঈশ্বরকে ডাকল বেহুলা। কিন্তু আগে লেঠেলেদের নজর এড়িয়ে পৌঁছোতে হবে ডিঙাডুবি। বেহুলা তাড়াতাড়ি মা কালীর লাল শাড়ি পরে আলোয়ান গায়ে জড়িয়ে বেরিয়ে এল, নিজের শাড়ির পাড়ের দিকে তাকাল। শাড়িতে কাদা-জল মেখে গেছে। শাড়িটা বাঁশ বনে দলা পাকিয়ে পড়ে রইল। ততক্ষণে বহুরূপী অন্য সামগ্রী নিয়ে তৈরি হয়ে বসে। পটাপট একটা নকল মুণ্ডমালা বেহুলার গলায় পরিয়ে দিল, একটা রক্তরঙা টিনের জিভ লাগিয়ে দিল মুখে, মাথায় রুক্ষ পরচুল পরিয়ে দিয়ে একটা টিনের খাড়া ধরিয়ে দিল বেহুলার হাতে। তারপর নীলরং বেহুলার হাতে দিয়ে বলল, ‘তাড়াতাড়ি হাতে, পায়ে, গলায়, ঘাড়ে রঙ মেখে নাও। তুমি হলে মা কালী। তারপর আমার পিছনে পিছনে এসো। চুপচাপ। খেয়াতে কোনো কথা বলবে না। কেউ জিজ্ঞাসা করলে বলবে আমরা স্বামী-স্ত্রী বহুরূপী—গাঁয়ে ফিরছি—বুঝলে?’
বেহুলা গায়ে নীল ঘষতে লাগল।
‘এবার চল। লেঠেলরা আসার আগেই আমাদের বেরিয়ে যেতে হবে।’
বহুরূপীর পিছনে বেহুলা খেয়াঘাটের দিকে দ্রুতপায়ে এগোলো। খেয়াঘাটের কাছে এসে বেহুলার বুক ধড়াস করে উঠল। তল্লাবাঁশ হাতে কয়েকজন তাগড়া চেহারার মানুষ নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে।
‘ওরা এসে গেছে,’ বিশ্বনাথও লোকগুলোকে দেখেছে। ‘আমার পাশে পাশে থাকো। একদম ভয় পেও না।’ বিশ্বনাথ চলতে চলতে বলল।
খেয়াঘাটে পৌঁছে বেহুলা দেখল লোকগুলো অন্য কাউকে খুঁজছে। মনে স্বস্তি হল বেহুলার। খুব ভয় পেয়ে গেছিল।
শহরের খেয়া ছাড়ার শিঙ্গা বাজল। কিছু যাত্রী আলপথে দৌড়োতে দৌড়োতে আসছে। বিশ্বনাথ চেঁচিয়ে বলল, ‘জয় ব্যোম ভোলে। শিব-কালীকে ফেলে রেখে যেওনিকো।’ বিশ্বনাথ বহুরূপীর সঙ্গে কালীরূপী বেহুলা একটা ঢাকা দেওয়া গেরদারী পানসিতে উঠে আচ্ছাদনের ভিতরে ঢুকে বসল। বেহুলার বুক ধুকপুক করছে। ভগবানকে ডেকেই চলেছে, খেয়া ছাড়তে এত দেরি করছে কেন? তারপর খেয়া দুলে উঠল। মাঝির সর্দার নৌকার কাছি তুলে গলুইতে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। বেহুলার বুকের ভিতর ভীত-সন্ত্রস্ত হৃদপিণ্ডটা যেন ভরসা পেয়ে শান্ত হল।
বেশ বড় পানসি, আট জন মাল্লা চালাচ্ছে, অনেক লোক, মাল নিয়ে চলেছে উত্তরে। বেহুলার উদ্বিগ্ন চোখ দক্ষিণে, হৃৎকম্প হয়েই চলেছে। বেহুলা বিশ্বনাথকে জিজ্ঞাসা করল—কোথায় যাচ্ছে এই পানসি?’
‘নদীয়া। অনেক দূর। বিদ্যাধরী ধরে খালের মধ্যে দিয়ে ভাগীরথীতে পড়বে, সেখান থেকে নদীয়া। পথে ডিঙাডুবি পৌঁছাবে আজ সন্ধ্যায় প্রায় সূর্যাস্তের সময়। কিছু তো খাওনি, খিদে পেয়েছে নিশ্চয়ই?’
‘হ্যাঁ,’ বেহুলা মাথা নাড়লো।
বহুরূপী গামছার গিঁট খুলল। ভিতরে মুড়ি আর নুন মাখানো শুকনো খোলায় ভাজা ছোলা। বেহুলা ছোলা ভাজা—মুড়ি মুঠোয় তুলতেই হাতের তালু চিড়বিড় করে জ্বলে উঠল। বেহুলা মুড়ি মুখে ছুড়ে নিজের শাড়িতে তালু চেপে ধরল। ফোস্কা জ্বলছে! বিশ্বনাথ লক্ষ করল। নিজের বহুরূপীর সরঞ্জামের বাক্স খুলে তুলো বের করে বেহুলার হাতে দিল—‘চেপে রাখো।’
তুলো চেপে ফোস্কা বাঁচিয়ে বেহুলা খেতে লাগল। বিশ্বনাথও খেতে লাগল। খিদের অনুভূতিটাও প্রাণের ভয়ে লোপ পেয়েছিল।
নদীর দুই কূলে ঘন জঙ্গল। বিদ্যাধরীর এপথে কুমির-বাঘের ভয় থাকে, কিন্তু তার চেয়েও ডাকাতের ভয় বেশি। জঙ্গলের সঙ্কীর্ণ পথে ডাকাতদের আক্রমণ থেকে নিস্তার পেতে পাদচারী দরিদ্র তীর্থযাত্রী এবং এমনকী বৈরাগ্যবান সন্ন্যাসীরাও একসঙ্গে অনেকে মিলে চলে। তেমনই জলপথে ডাকাতদের এড়াতে নৌকাগুলো একসঙ্গে ছাড়ে আর তারা সব পাশাপাশি চলে। নৌকায় অনেক যাত্রী চলেছে, নৌকার খোলে কাপড়ের বোঁচকা। বহুরূপীর পাশে বেহুলা চুপ। মাঝে মাঝে দ্রুতগতির এক একটা ছিপ ওদের অতিক্রম করে যাচ্ছে আর বেহুলার বুকটা ছ্যাঁৎ করে উঠছে। বংশী লেঠেল না তো?
‘কখন মারা গেছে তোমার স্বামী?’ বিশ্বনাথ মৃদুস্বরে জিজ্ঞাসা করল।
‘কাল সকালে,’ বেহুলা অন্যমনস্ক হয়ে বলল, ‘কত কাজ বাকি—সিঁদুর মুছতে হবে, শাঁখা ভাঙতে হবে। কে করাবে আমায় এসব কাজ?’
বহুরূপী নকল বাঘছালের নীচে কোঁচড় থেকে তামাক বের করে ছিলিম ধরিয়ে বলল, ‘বচনপিসি সব ব্যবস্থা করে দেবে।’
খাবার পেটে পড়তে অবসন্ন বেহুলার দু’চোখ বুজে গেছিল। কখন সে বিশ্বনাথের কাঁধে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েছিল সে জানেনা। হঠাৎ স্বপ্ন দেখল ওর শরীর ঘিরে আগুন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। বেহুলা আতঙ্কে ধড়মড় করে তন্দ্রা থেকে জেগে উঠল। নৌকার পাশ দিয়ে একটা বড় ডিঙা গেল, তার ঢেউতে নৌকাটা দুলে উঠেছে।
‘ভয়ের স্বপ্ন দেখেছ?’ বহুরূপী বলল।
‘হ্যাঁ।’
‘জল খাও।’ ঘটিটা এগিয়ে দিল বহুরূপী।
বেহুলা জল খেয়ে গুটিসুটি মেরে বসল, শরীর ভালো লাগছে না। শীত করছে। দুর্বল শরীরে বেহুলা ঢুলতে লাগল।
.
খেয়া যখন বিদ্যাধরীতে ডিঙাডুবির ঘাটে এসে লাগল তখন বেহুলার শরীরে বসে থাকার মতো শক্তি নেই। চোখের দৃষ্টি ঘোলাটে, গলায় খুব ব্যথা, খুব শীত করছে। বেহুলা বুঝল শরীরে খুব জ্বর। সূর্যাস্ত হয়ে গেছে। আকাশে তখনও গোধূলির মরা আলো লেগে আছে। বেহুলা দেখল বাঁধানো ঘাটের পাথরের সিঁড়ির ফাঁক-ফোকর দিয়ে কাঁটাগাছ গজিয়ে গেছে, শ্যাওলা জমে গেছে জলের কাছাকাছি পাথরের উপর। নদীর পারে একটু দূরে একটা ভাঙা কেল্লা।
‘পর্তুগিজদের কেল্লা,’ বিশ্বনাথ বহুরূপী বেহুলার দৃষ্টি অনুসরণ করে বলল। বিশ্বনাথ নৌকা থেকে নামল।
বিশ্বনাথের পিছন পিছন ধুঁকতে ধুঁকতে বেহুলা ঘাটের সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠল। হাঁটু, গোড়ালি, কাঁধ, কনুই ব্যথায় ছিঁড়ে যাচ্ছে। একটু দূরে নদীর পারেই দেখা যাচ্ছে মাটির দেওয়াল দিয়ে ঘেরা একটা কুঠিবাড়ি।
‘ওটা ফিরিঙ্গি কুঠি,’ বিশ্বনাথ বলল।
‘কুঠিতে আলো নেই, কেউ থাকে না?’
‘মাঝেসাঝে ইংরেজদের ডাকহরকরা বা পাইকরা এসে থাকে। এখান থেকে একদিকে হুগলি নদী আর অন্যদিকে সমুদ্র দুটোই কাছাকাছি। গোরা আর মোগল সেনাদের মধ্যে বিবাদ শুরু হলে ইংরেজ বড়কর্তারা পালিয়ে এখানে এসে অজ্ঞাতবাসে থাকত শুনেছি। দরকার পড়লে সমুদ্র দিয়ে পালাতে পারত। এখানে কালেভদ্রে গোরা অফিসাররা এসে দু-একদিন থাকে। একপ্রকার পরিত্যক্তই বলতে পার।’
বেহুলার কানে এখন কিছুই ঢুকছে না। নৌকা বেশিক্ষণ অপেক্ষা করল না। নৌকা কিছু দূরে চলে গেলে বিশ্বনাথ বলল, ‘এখানে একটু বসো তুমি, আমি গায়ের রঙগুলো তুলে ফেলি,’ বিশ্বনাথ বহুরূপী কাঁধের পুঁটলি থেকে গামছা, ধুতি, পিরান বের করল, তারপর জটা, রুদ্রাক্ষ, বাঘছাল সব খুলে ফেলে কৌপীন পরা অবস্থায় গামছা নিয়ে নেমে গেল নদীর জলে।
ঘষে ঘষে গায়ের, মুখের রঙ তুলে ভালো করে ডুব দিয়ে দিয়ে চান করে ভেজা গামছা দিয়ে রগড়ে রগড়ে গা মুছে পিরান আর কোমর জড়িয়ে খাটো ধুতি পরে বিশ্বনাথ বহুরূপী একদম গেরস্থ।
শিবের রঙ তুলে ফেললে যে?’
‘উপায় নেই, পেট চালাতে বহুরূপী সেজে ঘুরি, কিন্তু বাবা দেখলে খুব দুঃখ পায়। তুমি জলে গিয়ে নিজের মুখ হাতের রঙ ধুয়ে এসো। এই গামছাটা নিয়ে যাও। আর এই যে এটা মা দুগগার কাপড়। চান করে এটা পরে নিও।’
মা কালীর জিভ, চুল, মুণ্ডমালা সব বিশ্বনাথকে দিয়ে ঘাটের সিঁড়িতে দুর্গার কাপড় আর আলোয়ান রেখে দিয়ে নেমে জলে পা দিতেই নদীর ঠাণ্ডা জল বেহুলার শরীর কাঁপিয়ে দিল। ‘খুব ঠাণ্ডা জল,’ বেহুলা বলল। তারপর বেহুলা গলা জলে দাঁড়িয়ে কাপড় দিয়ে কপাল, গাল, মুখ, হাতে, পায়ে, গলায় ঘষে ঘষে নীল রঙ মুছতে লাগল। তারপর কাঁপতে কাঁপতে সিক্ত বসনে পাড়ের সিড়িতে উঠে এল। বিশ্বনাথ সিঁড়িতে পিছন ফিরে বসে মা কালীর সাজ-সরঞ্জাম যত্ন করে পুঁটলিতে ঢোকাচ্ছে। কাপড় পাল্টে শুকনো কাপড় পরে আরাম পেল বেহুলা। মা দুগগার কাপড় সধবার। সধবার কাপড় এই শেষবারের মতো পরেছে। কাপড় পরা হলে গায়ে আলোয়ান জড়িয়ে বেহুলা বিশ্বনাথের পাশে এল। বিশ্বনাথ উঠে বলল, ‘চলো।’
নদীর পাড় ধরে বিশ্বনাথ আঘাটার দিকে চলতে লাগল, পিছনে বেহুলা। চলতে চলতে বিশ্বনাথ বলল, ‘এদিকটা সাবধানে দেখে পা ফেলো।
‘কেন?’
‘মরা গোরু-ছাগল নদীতে ভেসে এসে এই বাঁকে আটকে থাকে। শিয়াল- শকুনে খায়, তারপর ওই হাড় শুকিয়ে চিমসে হয়ে পড়ে থাকে, পায়ে ফুটলে পা বিষিয়ে যায়।’
বেহুলা সাবধানে দেখে দেখে পা ফেলতে লাগল। ওরা উপরে উঁচু পাড়ে উঠে এল।
মাঠের ধারে একটা অঞ্চল হঠাৎ নীচে নেমে গেছে। বোঝা যাচ্ছে ওটা নদীর পুরোনো খাত। এক সময় বিদ্যাধরী ওদিকে দিয়েই বয়ে যেত। এখন নদী সরে যাওয়ায় ওই খাতের সৃষ্টি হয়েছে। খাতের ভিতর কে একজন মাটি কাটছে।
‘লোকটা এখানে কী করছে এই সন্ধ্যার অন্ধকারে?’
‘ও জটা পাগলা,’ বিশ্বনাথ বলল। ‘ধনপতি সদাগরের ধন খুঁজেই চলেছে। ওর শরীরের যা অবস্থা, একটু করে মাটি কাটে, তারপর হাঁফিয়ে বসে বসে জিরোয়।’ বিশ্বনাথ চেঁচিয়ে ডাকল ‘জটাকাকা!’
জটা কোনো উত্তর দিল না।
বেহুলার খুব মায়া লাগল লোকটাকে দেখে। গায়ের ছেঁড়া পিরান দিয়ে শীর্ণ হাড়-জিরজিরে দেহ দেখা যাচ্ছে। বিশ্বনাথ গামছায় বাঁধা মুড়ি আর গুড় নিয়ে পাশের ঢালু পথে নেমে গেল খাতের দিকে। জটা মাটি খোঁড়া থামিয়ে ওদের দিকে অবাক চোখে তাকাল।
‘খাবে, জটাকাকা?’ বিশ্বনাথ গামছার গিঁট খুলে দেখাল।
‘তুই বিশে না? পাখমারা গণকের ছেলে?’ জটা হাতের আঙুলের ফাঁকের হাজা চুলকাতে চুলকাতে বলল।
‘হ্যাঁ জটাকাকা,’ বিশ্বনাথ বলল।
‘এ মেয়েটা কে রে? আগে তো কখনো এ-গাঁয়ে দেখিনি।’
‘আমার সম্পর্কের বোন হয় গো। বেহুলা।’
‘বাহ্! বেশ মিষ্টি মেয়ে তো। এখানে কিছুদিন থাকবে?’
‘হ্যাঁ, কাকা মরে গেল, একে দেখার কেউ নেই। তাই বাড়িতে নিয়ে এলাম। ওকে বচনপিসির কাছে রেখে আমি কাজের জায়গায় ফিরে যাব জটাকাকা নতুন জায়গা, ও নদীর ঘাটে এলে তুমি একটু ওর দিকে নজর রেখো কাকা।’
‘মাকালীর দিব্যি! ও মেয়ে, আমাকে একদিন আমানি পান্তা খাওয়াবি মা? সঙ্গে একটু পোস্ত বাটা? উঃ, কতদিন ভাত খাই না,’ জটা পাগলা বিশ্বনাথের দেওয়া মুড়ির দিকে চেয়েও দেখল না। আপনমনে বকবক করতে করতে আবার কোদাল হাতে খাতের মাটি কাটতে লেগে গেল। বেহুলার মনে কথাটা গেঁথে গেল। বিশ্বনাথ উঠে এসে বেহুলাকে ইশারা করল যাওয়ার জন্য।
সামনে জনশূন্য এক বিস্তীর্ণ প্রান্তর। বিশাল মাঠ। মাঠের অপর দিক দূরে অন্ধকারে মিশে গেছে জঙ্গলে। মাঠ জুড়ে এদিক সেদিকে কাঁটানটের ঝোপঝাড়ের মধ্যে দিয়ে বামে কাঁচা রাস্তা চলে গেছে গাঁয়ের দিকে। ‘এটা মল্লিক হালট, কাঁচা পথ দেখিয়ে বলল বিশ্বনাথ। ‘নদীর ঘাট থেকে জমিদারদের পালকি নিয়ে যাওয়ার জন্য মল্লিক জমিদাররা এই হালট বানিয়েছিল।’ মাঠ পেরিয়ে দূরে কিছু জনবসতির চিহ্ন দেখা যাচ্ছে আর তারপর আবার ঘন জঙ্গল। ‘হালট গিয়ে শেষ হয়েছে ওই বাঁদিকের গ্রাম ডিঙাডুবিতে। আমাদের যেতে হবে এই ডানদিকে। মাঠের ওপারে ওই দূরে।’
‘এটা তো বিশাল মাঠ! ওদিক তো দেখাই যাচ্ছে না।’
‘এটা কাপাসডাঙার মাঠ।’
বিশ্বনাথ আগে আগে চলতে লাগল। কিছু দূরত্বে পিছনে বেহুলা। বেহুলা বলল, ‘তুমি বললে তোমার বাবা তোমার বহুরূপীর সাজ দেখলে দুঃখ পায়?’
‘হ্যাঁ।’
‘কেন?’
‘আমাদের পূর্বপুরুষরা বনের পাখমারা ছিল।’
‘পাখমারা?’
‘ব্যাধ। বেদে, ব্যাধ এরা যাযাবর। এদের কোনো নির্দিষ্ট ঘরবাড়ি থাকে না। বড় বড় গ্রামের যেদিকে জঙ্গল থাকে, সেদিকে বিশাল আল দেওয়া থাকে, যাতে গ্রামে জঙ্গল থেকে হাতি গ্রামে না ঢুকতে পারে। সেই আলের ওপর ব্যাধ, ভড়, শবর, কোঞ্চ, হাড্ডি এসব যাযাবর লোকেরা তাঁবু ফেলে কিছুদিন থাকে, তারপর আবার তাঁবু গুটিয়ে তল্পিতল্পা বেঁধে সকলে মিলে অন্য গ্রামের পাশে আলের ওপর তাঁবু ফেলে। এরা জঙ্গলে ঢুকে সাতনলা, আঠাকাঠি দিয়ে পাখি শিকার করে, জঙ্গলে গর্ত করে তার ওপর ডালপালা রেখে শুয়োর ধরে মারে। কিন্তু, আমার বাবা একটু অন্যরকম ছিল। পশুপাখি শিকারে বাবার মন ছিল না। গভীর জঙ্গলে তান্ত্রিক, কাপালিকরা কঠোর গুহ্যসাধনা করত, বাবা এদের সেবা করত। একদিন বাবা গভীর জঙ্গলে পৌঁছে গেল বগলাতান্ত্রিকের সাধনস্থলে। তান্ত্রিক ধ্যানে বসে। তাঁর সামনে মৃতের করোটিতে রাখা কারণবারি। চোখ না খুলেই বলল এসেছিস। বোস। তোর জন্যই অপেক্ষা করছিলাম।’
‘অবাক কাণ্ড তো!’ বেহুলা তাড়াতাড়ি হেঁটে বিশ্বনাথের পাশাপাশি এল।
‘সেই তান্ত্রিক ত্রিকালদর্শী ছিল। মানুষের কপাল দেখে নাকি উনি মানুষের পূর্বজন্মের কিছু কথা বলে দিত। বাবাকে দেখে তান্ত্রিক বলল যে তুই পূর্বে অনেকগুলো জন্মে জ্যোতিষী ছিলি। এ জন্মে তোর এক বিশেষ উদ্দেশ্যে জন্ম হয়েছে। তোকে অসামান্য একজনের উপকার করতে হবে। বাবা বলল—আমি সামান্য মানুষ। আমি উপকার করব এক অসামান্য একজনের? বগলাতান্ত্রিক বলল হ্যাঁ। বাবা বলল বেশ। তাকে আমি কোথায় খুঁজে পাব? তান্ত্রিক বলল তোকে খুঁজতে যেতে হবে না। সে তোর কাছে নিজেই আসবে। তাঁকে দেখলেই তোর মন বলে উঠবে এই সেই মানুষ একে আমি অনেক জন্ম ধরে চিনি। বাবা বলল আপনি কীভাবে পূর্বজন্মের কথা স্মরণ করতে পারেন তা আমায় শিখিয়ে দিন। তান্ত্রিক বলল এটা শেখানো যায় না। তুই এই প্রারব্ধ নিয়েই জন্মেছিস। সেজন্যই তুই ব্যাধ-বেদেদের জীবন থেকে বারবার বেরিয়ে বেরিয়ে আসিস। তবে আমি তোকে কোষ্ঠী গণনা করা শিখিয়ে দেব। তুই কাপাসডাঙায় তাঁতিপাড়ায় গিয়ে কোষ্ঠী গণনা করে পেট চালাবি। ওখানে তোর অনেক অসুবিধা হবে। কিন্তু যতই অসুবিধা হোক, মড়ক-মহামারী হয়ে গাঁ উজাড় হয়ে যাক না কেন, তুই মাটি কামড়ে পড়ে থাকবি। যতদিন সেই মানুষ তোর কাছে না আসে ততদিন তুই ওই কাপাসডাঙা ছেড়ে কোথাও যাবি না। বাবা কয়েক বছর সেই তান্ত্রিকের আশ্রমে ছিল। তারপর একদিন তান্ত্রিক বাবাকে বলল—বেটা, তোর শিক্ষা সমাপ্ত হয়েছে এবার তুই কাপাসডাঙায় যা। তান্ত্রিকের ডেরা থেকে বেরিয়ে বাবা কিন্তু কাপাসডাঙায় না গিয়ে অন্য এক বর্ধিষ্ণু গ্রামে কিছুদিন থাকল, কিন্তু প্রকৃতি যেন চাইছিল বাবা কাপাসডাঙায় যাক। তাই বাবাকে কাপাসডাঙায় চলে আসতেই হল। তারপর এখানে এসে বে-থা করে গেরস্থ হয়ে গেল। সেই থেকেই আমরা কাপাসডাঙায়।’
‘জ্যোতিষীরা সাধারণত ব্রাহ্মণ হয়, তোমার বাবার গণকের কাজ পেতে অসুবিধা হয়নি?’
‘হয়েছে। বাবা যে আসলে পাখমারা এটা লোকে জানতে পেরে গেল। শুদ্র জাতির লোক ব্রাহ্মণের কাজ করছে এতে অনেকে আপত্তি তুলল, কিন্তু বাবার গণনা এত নির্ভুল হতে লাগল যে অচিরেই সব জাত-পাতের আপত্তি বিদ্যাধরীর জলস্রোতে ভেসে গেল। শুধু লোকে বাবাকে জ্যোতিষঠাকুর না সম্বোধন করে পাখমারা গণক বলে ডাকত। বাবা গায়ে মাখতো না। বাবা শুধু চাইতো ছেলেও জ্যোতিষী হবে। কিন্তু আমার শিরাতে পূর্বপুরুষ পাখমারাদের রক্ত বইছে। জঙ্গল আমায় টানত। আমি জিভকাটির জঙ্গলে জঙ্গলে আমার বন্ধু বুধনের সঙ্গে ঘুরে ঘুরে বেড়াতাম, বিষাক্ত পাহাড়ি মৌমাছিদের চাকের থেকে মধু পাড়তাম, আঠাকাঠি দিয়ে বগড়া ধরতাম। তারপর আমাদের এখানে বারাণসী থেকে সত্যাচার্য নামে এক গ্রহবিপ্র এল। সে নানা তুকতাক করে জমিদারকে এমন বশ করে ফেলল যে জমিদার আদেশ দিল এগ্রামে সত্যাচার্য ছাড়া আর কেউ জ্যোতিষচর্চা করতে পারবে না। ব্যাস, আমার বাবার উপার্জন একদম বন্ধ হয়ে গেল। আমি চাষবাস কোনোদিন করিনি, তাঁতের কাজও শিখিনি। খাব কী? এদিকে বাবাও তার তান্ত্রিক গুরুর কথামত কাপাসডাঙা ছেড়ে কোথাও যেতে পারছে না। তাই পেটের দায়ে আমাদের পূর্বপুরুষের বহুরূপীর পেশা ধরে আমি বেরিয়ে পড়লাম পথে। যাযাবর বহুরূপী হয়ে এগ্রাম সেগ্রাম। তাই বাবা আমায় এই বহুরূপীর পোশাকে দেখলে কষ্ট পায় খুব।
মাথা উঁচু করে দেখল বেহুলা, পশ্চিমে নদীর ওপরের আকাশে দিনের অন্তিম আলো মিলিয়ে যাচ্ছে। আধো অন্ধকারে আকাশ থেকে ডানা মেলে এক ঝাঁক নীল গলা বসন্তবৌরি ঝাঁকড়া ঝুরিওয়ালা বটগাছে উড়ে এসে রাতের আশ্রয় নিল।
বেহুলার নিজেরও এখন খুব দরকার রাতের একটা নিরাপদ আশ্রয়।
