Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026

    শূন্য পথের মল্লিকা – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    April 23, 2026

    মরণের আগে ও পরে – ইমাম গাজ্জালী (অনুবাদ : মাওলানা শাহ ওয়ালীউল্লাহ)

    April 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বিদ্বান বনাম বিদুষী – প্রীতম বসু

    প্রীতম বসু এক পাতা গল্প123 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বিদ্বান বনাম বিদুষী – ৭

    ।। সাত।।

    নদীর দু’পাশে ঘন আঁধার। অন্ধকার নদীর বুকে জমাট কুয়াশা। সারারাত ধরে মরণভয়ে এই ঠাণ্ডায় প্রাণপণে সালতি বেয়ে চলেছে বেহুলা। এখন সর্বাঙ্গে ব্যথা। মনে হচ্ছে শরীরের ওপর দিয়ে ওরেবত হেঁটে গেছে। উত্তর থেকে বয়ে আসা ভেজা শীতল হাওয়ায় মাথা খুব ভার, দুটো নাকই বন্ধ। ক্ষণে ক্ষণেই মুখ দিয়ে শ্বাস নিয়ে ফুসফুসে জোর করে বাতাস ঠুসতে ঠুসতে নৌকা চালিয়ে চলেছে বেহুলা। আর মাঝে মাঝেই আতঙ্কে পিছনে তাকিয়ে দেখছে—বংশী লেঠেলের দল পিছনে আসছে না তো? চারপাশে অন্ধকার, আর অনন্তকাল ধরে যেন জল থেকে আঁধার ভেদ করে কানে উঠে আসছে শব্দ ছলাৎ ছলাৎ।

    আকাশে সকালের আলোর ছিটে লাগলো। দাঁড় বাইতে বাইতে এবার বেহুলা টের পেল ওর হাতের তালুতে ফোস্কা পড়েছে। একটা ফোস্কা গলে নুনছাল উঠে গেছে। দাঁড় ছেড়ে তালু টানটান করে গায়ের আলোয়ানে তালু ঘষল বেহুলা। নাছোড় কুয়াশা বিদ্যাধরীর বুক জুড়ে সাদা বাষ্পের চাদর বিছিয়ে দিয়েছে।

    থামলে চলবে না। বুকে বাতাস টেনে আবার দাঁড় বাইতে লাগল বেহুলা। দু’হাত ছিঁড়ে যাচ্ছে ব্যথায়। এখন গতি অনেক মন্থর হয়ে গেছে। রাতের জোয়ারের সাহায্য না পেলে সে কিছুতেই এত দূর সালতি বেয়ে আসতে পারত না। এখন মন্দীভূত স্রোতে উত্তুরে হাওয়ার বিরুদ্ধে দাঁড় বেয়ে এগোতে কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু উপায় নেই। বেহুলা যথাশক্তি প্রয়োগ করে দাঁড় বাইতে লাগল। বেলা হলেই ধুলসার শ্মশানযাত্রীরা ওদের ভিটেতে আবার আসা আরম্ভ করবে। ধীরে নৌকা বাইলে চলবে না।

    প্রাক-প্রভাতের আবছা আলোয় নদীতে আশেপাশে ছোট-বড় নৌকা নজরে আসছে। নদীর তীরে ঘুমন্ত জনপদ। ধীরে ধীরে নৌকার ভিড় বাড়তে লাগলো। সকলেই করিমগঞ্জের ঘাটের দিকে চলেছে। আরো কিছুটা দূর। বেহুলা জানে করিমগঞ্জের ঘাট থেকে দূরের সব খেয়া ছাড়ে।

    ধীরে ধীরে করিমগঞ্জের ঘাট কাছে এল। সাতসকালে খুব ভিড়। সারি সারি নৌকায় তাঁতিদের কাপড়ের বড় বড় বোঁচকা তোলা হচ্ছে। সামনে ঘাটে চেঁচামেচি, ব্যস্ততা খুব। বেহুলা আঘাটায় সালতি নিয়ে এল। নৌকা থেকে নেমে নৌকা কাদায় নিয়ে এল। নৌকা বাঁধার প্রয়োজন নেই। পিছনে যাবার পথ রুদ্ধ।

    নদীর পাশের কাঁচা পথে উঠল বেহুলা। কিছুটা হেঁটেই করিমগঞ্জের ঘাট। ঘাটে দুই নৌকার মাঝিরা একদল যাত্রীকে নিজের নৌকায় ঢোকাবার অধিকার নিয়ে খুব বাক্-বিতণ্ডা করছে। এই গোলমালের থেকে চোখ সরিয়ে ঘাটের সিঁড়িতে বসে থাকা একজন লোকের সঙ্গে চোখাচোখি হল বেহুলার। লোকটার দৃষ্টিটা ভালো লাগল না। মাথায় পেল্লায় পাগড়ি জড়িয়ে কলকে টানতে টানতে শকুনের মতো দৃষ্টি দিয়ে চারদিক দেখছে। বেহুলাকে দেখে কলকে রেখে লোকটা গা-মোড়া দিয়ে উঠে দাঁড়াল। তারপর বেহুলার কাছে এসে বলল, ‘কোথায় যাবে?’

    বেহুলা উত্তর না দিয়ে এগিয়ে চলল ঘাটের দিকে। লোকটা নাছোড় ‘কোথায় যাবে বললে আমি মাঝির সঙ্গে কথা বলে পারানি কম করে দিতে পারি।’

    লোকটাকে ঝেড়ে ফেলতে বেহুলা বলল, ‘আমি কোথাও যাচ্ছি না। গেলে আমি একলাই দরদাম করে নিতে পারতাম।’

    ‘বাড়ি থেকে পালিয়েছ?’ লোকটা তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে বেহুলাকে দেখে বলল। ‘একা একা শহরে হারিয়ে যাবে। তার চেয়ে আমি তোমায় নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে দেব। তোমার পারানিও আমিই দেব। তোমার মুখ দেখে মনে হচ্ছে তোমার ওপর দিয়ে অনেক ঝড়-ঝাপটা বয়ে গেছে। এসো, কিছু খেয়ে নাও এই দোকানে। ওখানে কথা বলা যাবে।’

    সামনে পথের ধারে মাটিতে মাদুর বিছিয়ে বসে একটা বেদে মধু, ওষধি গাছের শিকড়, ডাহুক-বাদুড়ের হাড়, সজারুর কাঁটা, ধনেশ পাখির তেল বিক্রির জন্য সাজিয়ে সাজিয়ে রাখছিল। লোকটাকে এড়াতে বেহুলা এবার বেদের দোকানের সামনে উবু হয়ে বসল। বেদে বেহুলাকে দেখে চোখ কুঁচকে বলল, ‘তোর মনে হচ্ছে পিলের রোগ আছে। পানকৌড়ির হাড়ের রস খেলে পিলে সারে। আমার কাছে পানকৌড়ির হাড় খুব ভালো আছে। লাগবে?’

    বেহুলা বলল, ‘সাপের বিষের ওষুধ হবে?’

    বেদে বলল, ‘বেদের কাছে সাপের বিষের ওষুধ না থাকলে সে বেদেই না। ছোট চান্দা বড় চান্দা/কী হবে তোর দড়ি বান্ধা, এই নাও,’ বেদে কয়েকটা শিকড় বের করে দিল। ‘এগুলো কিন্তু মুখে নিয়ে চিবোতে হবে। আর রোগীকে খুব তাড়াতাড়ি বদ্যির কাছে নিয়ে যেতে হবে।’

    দালালটা পিছনে দাঁড়িয়ে। নড়বার নাম নেই। বেদের সামনে বসে শিবঠাকুর। ছিলিমে তামাক টানছিল বহুরূপী। শিবের মতো জটা মাথায়, গলায় রুদ্রাক্ষের মালা তার সঙ্গে সাপ জড়িয়ে, পরনে নকল বাঘছাল, হাতে ত্রিশূল, সারা গায়ে ছাই মাখা, জটায় একটা আধফালি চাঁদও গোঁজা। বহুরূপী এবার দালালটার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘একলা সোমত্ত মেয়ে দেখলেই শহরের বাঈজীদের কোঠায় পাঠাবার জন্য মনটা উত্থাল-পাথাল করে তাই না?’

    ‘কী বলছ কী?’ দালাল এবার চোটপাট করে উঠল।

    ‘আমার দোকানের সামনে থেকে ভাগ!’ এবার বুড়ো বেদে ধমক লাগাল।

    দালাল সরে যেতে বুড়ো বেদে বলল, ‘বাড়ি ফিরে যা মা। তোর মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছে বাড়ি থেকে পালিয়েছিস।’

    ‘ওখানে যে আমার সোয়ামির চিতা আমাকে সতী বানাবার জন্য অপেক্ষা করে আছে, দাদু। আমি গেলেই চিতায় আগুন দেওয়া হবে।’ বেহুলা বলল।

    ‘কোন গ্রাম?’ বহুরূপী বলল।

    ‘ধুলসা।’

    ‘ওরে বাবা ধুলসা মানে তো সতীপীঠ,’ বেদের মুখে আতঙ্ক। ‘ওখানকার জমিদার লেঠেল পাঠিয়ে তোমায় ঠিক ধরে নিয়ে যাবে। ওরা এতক্ষণে নিশ্চয়ই খোঁজাখুঁজি শুরু করে দিয়েছে।’

    ‘আমি তাহলে এখন কী করব? কোথায় লুকোবো?’ বেহুলা অসহায় কণ্ঠে বলল।

    ‘যা করার তাড়াতাড়ি করতে হবে,’ বহুরূপী বলল।

    ‘কী করব আমি?’

    ‘আমার সঙ্গে শিগগির আসো,’ বহুরূপী তাড়াতাড়ি ছিলিম উল্টো করে মাটিতে ঠুকে ছিলিম ঝোলায় ঢোকাতে ঢোকাতে উঠে দাঁড়াল।

    ‘কোথায়?’

    ‘বাঁচতে চাও তো কথা না বলে তাড়াতাড়ি আসো,’ বহুরূপী আল ধরে দূরবর্তী বাঁশঝাড়ের দিকে দ্রুতপায়ে হাঁটতে লাগল। বেহুলা বুড়ো বেদের দিকে তাকাল। বেদে বলল—‘বিশে ভালো ছেলে। ওকে আমি চিনি। ও তোমার কোনো ক্ষতি করবে না।’

    বুড়ো বেদের সমর্থন পেয়ে বেহুলা এবার ভয়ে ভয়ে বহুরূপীর পিছনে পিছনে প্রায় দৌড়োতে দৌড়োতে বাঁশঝাড়ে গিয়ে ঢুকল।

    ‘কাপড়টা চটপট পাল্টে নাও,’ বহুরূপী ঝোলা থেকে একটা রক্তরঙা শাড়ি দিতে দিতে বলল। ‘জমিদারের এক বংশী লেঠেল আছে। খুব অত্যাচারী।

    গায়ে আলোয়ান জড়ানো সত্ত্বেও পর-পুরুষের সামনে কাপড় ছাড়তে বেহুলার খুবই সঙ্কোচ হচ্ছে এটা বুঝে বহুরূপী বলল, ‘আমি পেছন ফিরে বসছি। তাড়াতাড়ি কর। খেয়া ছাড়ার আগে তোমায় তৈরি করিয়ে দিতে হবে।’

    ‘কোথায় যাচ্ছি আমরা?’

    ‘যে খেয়া প্রথমে শিঙ্গা বাজাবে তাতেই উঠে বসব।’

    ‘তারপর।’

    ডিঙাডুবিতে আমার বাবা আর পিসি থাকে।

    ‘তোমার নাম কী?’ বেহুলা মৃদুস্বরে জিজ্ঞাসা করল।

    ‘বিশ্বনাথ।’

    ‘ডিঙাডুবি কোথায়?’

    ‘অনেক দূর। পৌঁছোতে পৌঁছোতে সন্ধ্যা হয়ে যাবে।’

    যত দূর হয় ততই মঙ্গল। হে ঈশ্বর রক্ষা করো, মনে মনে ঈশ্বরকে ডাকল বেহুলা। কিন্তু আগে লেঠেলেদের নজর এড়িয়ে পৌঁছোতে হবে ডিঙাডুবি। বেহুলা তাড়াতাড়ি মা কালীর লাল শাড়ি পরে আলোয়ান গায়ে জড়িয়ে বেরিয়ে এল, নিজের শাড়ির পাড়ের দিকে তাকাল। শাড়িতে কাদা-জল মেখে গেছে। শাড়িটা বাঁশ বনে দলা পাকিয়ে পড়ে রইল। ততক্ষণে বহুরূপী অন্য সামগ্রী নিয়ে তৈরি হয়ে বসে। পটাপট একটা নকল মুণ্ডমালা বেহুলার গলায় পরিয়ে দিল, একটা রক্তরঙা টিনের জিভ লাগিয়ে দিল মুখে, মাথায় রুক্ষ পরচুল পরিয়ে দিয়ে একটা টিনের খাড়া ধরিয়ে দিল বেহুলার হাতে। তারপর নীলরং বেহুলার হাতে দিয়ে বলল, ‘তাড়াতাড়ি হাতে, পায়ে, গলায়, ঘাড়ে রঙ মেখে নাও। তুমি হলে মা কালী। তারপর আমার পিছনে পিছনে এসো। চুপচাপ। খেয়াতে কোনো কথা বলবে না। কেউ জিজ্ঞাসা করলে বলবে আমরা স্বামী-স্ত্রী বহুরূপী—গাঁয়ে ফিরছি—বুঝলে?’

    বেহুলা গায়ে নীল ঘষতে লাগল।

    ‘এবার চল। লেঠেলরা আসার আগেই আমাদের বেরিয়ে যেতে হবে।’

    বহুরূপীর পিছনে বেহুলা খেয়াঘাটের দিকে দ্রুতপায়ে এগোলো। খেয়াঘাটের কাছে এসে বেহুলার বুক ধড়াস করে উঠল। তল্লাবাঁশ হাতে কয়েকজন তাগড়া চেহারার মানুষ নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে।

    ‘ওরা এসে গেছে,’ বিশ্বনাথও লোকগুলোকে দেখেছে। ‘আমার পাশে পাশে থাকো। একদম ভয় পেও না।’ বিশ্বনাথ চলতে চলতে বলল।

    খেয়াঘাটে পৌঁছে বেহুলা দেখল লোকগুলো অন্য কাউকে খুঁজছে। মনে স্বস্তি হল বেহুলার। খুব ভয় পেয়ে গেছিল।

    শহরের খেয়া ছাড়ার শিঙ্গা বাজল। কিছু যাত্রী আলপথে দৌড়োতে দৌড়োতে আসছে। বিশ্বনাথ চেঁচিয়ে বলল, ‘জয় ব্যোম ভোলে। শিব-কালীকে ফেলে রেখে যেওনিকো।’ বিশ্বনাথ বহুরূপীর সঙ্গে কালীরূপী বেহুলা একটা ঢাকা দেওয়া গেরদারী পানসিতে উঠে আচ্ছাদনের ভিতরে ঢুকে বসল। বেহুলার বুক ধুকপুক করছে। ভগবানকে ডেকেই চলেছে, খেয়া ছাড়তে এত দেরি করছে কেন? তারপর খেয়া দুলে উঠল। মাঝির সর্দার নৌকার কাছি তুলে গলুইতে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। বেহুলার বুকের ভিতর ভীত-সন্ত্রস্ত হৃদপিণ্ডটা যেন ভরসা পেয়ে শান্ত হল।

    বেশ বড় পানসি, আট জন মাল্লা চালাচ্ছে, অনেক লোক, মাল নিয়ে চলেছে উত্তরে। বেহুলার উদ্বিগ্ন চোখ দক্ষিণে, হৃৎকম্প হয়েই চলেছে। বেহুলা বিশ্বনাথকে জিজ্ঞাসা করল—কোথায় যাচ্ছে এই পানসি?’

    ‘নদীয়া। অনেক দূর। বিদ্যাধরী ধরে খালের মধ্যে দিয়ে ভাগীরথীতে পড়বে, সেখান থেকে নদীয়া। পথে ডিঙাডুবি পৌঁছাবে আজ সন্ধ্যায় প্রায় সূর্যাস্তের সময়। কিছু তো খাওনি, খিদে পেয়েছে নিশ্চয়ই?’

    ‘হ্যাঁ,’ বেহুলা মাথা নাড়লো।

    বহুরূপী গামছার গিঁট খুলল। ভিতরে মুড়ি আর নুন মাখানো শুকনো খোলায় ভাজা ছোলা। বেহুলা ছোলা ভাজা—মুড়ি মুঠোয় তুলতেই হাতের তালু চিড়বিড় করে জ্বলে উঠল। বেহুলা মুড়ি মুখে ছুড়ে নিজের শাড়িতে তালু চেপে ধরল। ফোস্কা জ্বলছে! বিশ্বনাথ লক্ষ করল। নিজের বহুরূপীর সরঞ্জামের বাক্স খুলে তুলো বের করে বেহুলার হাতে দিল—‘চেপে রাখো।’

    তুলো চেপে ফোস্কা বাঁচিয়ে বেহুলা খেতে লাগল। বিশ্বনাথও খেতে লাগল। খিদের অনুভূতিটাও প্রাণের ভয়ে লোপ পেয়েছিল।

    নদীর দুই কূলে ঘন জঙ্গল। বিদ্যাধরীর এপথে কুমির-বাঘের ভয় থাকে, কিন্তু তার চেয়েও ডাকাতের ভয় বেশি। জঙ্গলের সঙ্কীর্ণ পথে ডাকাতদের আক্রমণ থেকে নিস্তার পেতে পাদচারী দরিদ্র তীর্থযাত্রী এবং এমনকী বৈরাগ্যবান সন্ন্যাসীরাও একসঙ্গে অনেকে মিলে চলে। তেমনই জলপথে ডাকাতদের এড়াতে নৌকাগুলো একসঙ্গে ছাড়ে আর তারা সব পাশাপাশি চলে। নৌকায় অনেক যাত্রী চলেছে, নৌকার খোলে কাপড়ের বোঁচকা। বহুরূপীর পাশে বেহুলা চুপ। মাঝে মাঝে দ্রুতগতির এক একটা ছিপ ওদের অতিক্রম করে যাচ্ছে আর বেহুলার বুকটা ছ্যাঁৎ করে উঠছে। বংশী লেঠেল না তো?

    ‘কখন মারা গেছে তোমার স্বামী?’ বিশ্বনাথ মৃদুস্বরে জিজ্ঞাসা করল।

    ‘কাল সকালে,’ বেহুলা অন্যমনস্ক হয়ে বলল, ‘কত কাজ বাকি—সিঁদুর মুছতে হবে, শাঁখা ভাঙতে হবে। কে করাবে আমায় এসব কাজ?’

    বহুরূপী নকল বাঘছালের নীচে কোঁচড় থেকে তামাক বের করে ছিলিম ধরিয়ে বলল, ‘বচনপিসি সব ব্যবস্থা করে দেবে।’

    খাবার পেটে পড়তে অবসন্ন বেহুলার দু’চোখ বুজে গেছিল। কখন সে বিশ্বনাথের কাঁধে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েছিল সে জানেনা। হঠাৎ স্বপ্ন দেখল ওর শরীর ঘিরে আগুন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। বেহুলা আতঙ্কে ধড়মড় করে তন্দ্রা থেকে জেগে উঠল। নৌকার পাশ দিয়ে একটা বড় ডিঙা গেল, তার ঢেউতে নৌকাটা দুলে উঠেছে।

    ‘ভয়ের স্বপ্ন দেখেছ?’ বহুরূপী বলল।

    ‘হ্যাঁ।’

    ‘জল খাও।’ ঘটিটা এগিয়ে দিল বহুরূপী।

    বেহুলা জল খেয়ে গুটিসুটি মেরে বসল, শরীর ভালো লাগছে না। শীত করছে। দুর্বল শরীরে বেহুলা ঢুলতে লাগল।

    .

    খেয়া যখন বিদ্যাধরীতে ডিঙাডুবির ঘাটে এসে লাগল তখন বেহুলার শরীরে বসে থাকার মতো শক্তি নেই। চোখের দৃষ্টি ঘোলাটে, গলায় খুব ব্যথা, খুব শীত করছে। বেহুলা বুঝল শরীরে খুব জ্বর। সূর্যাস্ত হয়ে গেছে। আকাশে তখনও গোধূলির মরা আলো লেগে আছে। বেহুলা দেখল বাঁধানো ঘাটের পাথরের সিঁড়ির ফাঁক-ফোকর দিয়ে কাঁটাগাছ গজিয়ে গেছে, শ্যাওলা জমে গেছে জলের কাছাকাছি পাথরের উপর। নদীর পারে একটু দূরে একটা ভাঙা কেল্লা।

    ‘পর্তুগিজদের কেল্লা,’ বিশ্বনাথ বহুরূপী বেহুলার দৃষ্টি অনুসরণ করে বলল। বিশ্বনাথ নৌকা থেকে নামল।

    বিশ্বনাথের পিছন পিছন ধুঁকতে ধুঁকতে বেহুলা ঘাটের সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠল। হাঁটু, গোড়ালি, কাঁধ, কনুই ব্যথায় ছিঁড়ে যাচ্ছে। একটু দূরে নদীর পারেই দেখা যাচ্ছে মাটির দেওয়াল দিয়ে ঘেরা একটা কুঠিবাড়ি।

    ‘ওটা ফিরিঙ্গি কুঠি,’ বিশ্বনাথ বলল।

    ‘কুঠিতে আলো নেই, কেউ থাকে না?’

    ‘মাঝেসাঝে ইংরেজদের ডাকহরকরা বা পাইকরা এসে থাকে। এখান থেকে একদিকে হুগলি নদী আর অন্যদিকে সমুদ্র দুটোই কাছাকাছি। গোরা আর মোগল সেনাদের মধ্যে বিবাদ শুরু হলে ইংরেজ বড়কর্তারা পালিয়ে এখানে এসে অজ্ঞাতবাসে থাকত শুনেছি। দরকার পড়লে সমুদ্র দিয়ে পালাতে পারত। এখানে কালেভদ্রে গোরা অফিসাররা এসে দু-একদিন থাকে। একপ্রকার পরিত্যক্তই বলতে পার।’

    বেহুলার কানে এখন কিছুই ঢুকছে না। নৌকা বেশিক্ষণ অপেক্ষা করল না। নৌকা কিছু দূরে চলে গেলে বিশ্বনাথ বলল, ‘এখানে একটু বসো তুমি, আমি গায়ের রঙগুলো তুলে ফেলি,’ বিশ্বনাথ বহুরূপী কাঁধের পুঁটলি থেকে গামছা, ধুতি, পিরান বের করল, তারপর জটা, রুদ্রাক্ষ, বাঘছাল সব খুলে ফেলে কৌপীন পরা অবস্থায় গামছা নিয়ে নেমে গেল নদীর জলে।

    ঘষে ঘষে গায়ের, মুখের রঙ তুলে ভালো করে ডুব দিয়ে দিয়ে চান করে ভেজা গামছা দিয়ে রগড়ে রগড়ে গা মুছে পিরান আর কোমর জড়িয়ে খাটো ধুতি পরে বিশ্বনাথ বহুরূপী একদম গেরস্থ।

    শিবের রঙ তুলে ফেললে যে?’

    ‘উপায় নেই, পেট চালাতে বহুরূপী সেজে ঘুরি, কিন্তু বাবা দেখলে খুব দুঃখ পায়। তুমি জলে গিয়ে নিজের মুখ হাতের রঙ ধুয়ে এসো। এই গামছাটা নিয়ে যাও। আর এই যে এটা মা দুগগার কাপড়। চান করে এটা পরে নিও।’

    মা কালীর জিভ, চুল, মুণ্ডমালা সব বিশ্বনাথকে দিয়ে ঘাটের সিঁড়িতে দুর্গার কাপড় আর আলোয়ান রেখে দিয়ে নেমে জলে পা দিতেই নদীর ঠাণ্ডা জল বেহুলার শরীর কাঁপিয়ে দিল। ‘খুব ঠাণ্ডা জল,’ বেহুলা বলল। তারপর বেহুলা গলা জলে দাঁড়িয়ে কাপড় দিয়ে কপাল, গাল, মুখ, হাতে, পায়ে, গলায় ঘষে ঘষে নীল রঙ মুছতে লাগল। তারপর কাঁপতে কাঁপতে সিক্ত বসনে পাড়ের সিড়িতে উঠে এল। বিশ্বনাথ সিঁড়িতে পিছন ফিরে বসে মা কালীর সাজ-সরঞ্জাম যত্ন করে পুঁটলিতে ঢোকাচ্ছে। কাপড় পাল্টে শুকনো কাপড় পরে আরাম পেল বেহুলা। মা দুগগার কাপড় সধবার। সধবার কাপড় এই শেষবারের মতো পরেছে। কাপড় পরা হলে গায়ে আলোয়ান জড়িয়ে বেহুলা বিশ্বনাথের পাশে এল। বিশ্বনাথ উঠে বলল, ‘চলো।’

    নদীর পাড় ধরে বিশ্বনাথ আঘাটার দিকে চলতে লাগল, পিছনে বেহুলা। চলতে চলতে বিশ্বনাথ বলল, ‘এদিকটা সাবধানে দেখে পা ফেলো।

    ‘কেন?’

    ‘মরা গোরু-ছাগল নদীতে ভেসে এসে এই বাঁকে আটকে থাকে। শিয়াল- শকুনে খায়, তারপর ওই হাড় শুকিয়ে চিমসে হয়ে পড়ে থাকে, পায়ে ফুটলে পা বিষিয়ে যায়।’

    বেহুলা সাবধানে দেখে দেখে পা ফেলতে লাগল। ওরা উপরে উঁচু পাড়ে উঠে এল।

    মাঠের ধারে একটা অঞ্চল হঠাৎ নীচে নেমে গেছে। বোঝা যাচ্ছে ওটা নদীর পুরোনো খাত। এক সময় বিদ্যাধরী ওদিকে দিয়েই বয়ে যেত। এখন নদী সরে যাওয়ায় ওই খাতের সৃষ্টি হয়েছে। খাতের ভিতর কে একজন মাটি কাটছে।

    ‘লোকটা এখানে কী করছে এই সন্ধ্যার অন্ধকারে?’

    ‘ও জটা পাগলা,’ বিশ্বনাথ বলল। ‘ধনপতি সদাগরের ধন খুঁজেই চলেছে। ওর শরীরের যা অবস্থা, একটু করে মাটি কাটে, তারপর হাঁফিয়ে বসে বসে জিরোয়।’ বিশ্বনাথ চেঁচিয়ে ডাকল ‘জটাকাকা!’

    জটা কোনো উত্তর দিল না।

    বেহুলার খুব মায়া লাগল লোকটাকে দেখে। গায়ের ছেঁড়া পিরান দিয়ে শীর্ণ হাড়-জিরজিরে দেহ দেখা যাচ্ছে। বিশ্বনাথ গামছায় বাঁধা মুড়ি আর গুড় নিয়ে পাশের ঢালু পথে নেমে গেল খাতের দিকে। জটা মাটি খোঁড়া থামিয়ে ওদের দিকে অবাক চোখে তাকাল।

    ‘খাবে, জটাকাকা?’ বিশ্বনাথ গামছার গিঁট খুলে দেখাল।

    ‘তুই বিশে না? পাখমারা গণকের ছেলে?’ জটা হাতের আঙুলের ফাঁকের হাজা চুলকাতে চুলকাতে বলল।

    ‘হ্যাঁ জটাকাকা,’ বিশ্বনাথ বলল।

    ‘এ মেয়েটা কে রে? আগে তো কখনো এ-গাঁয়ে দেখিনি।’

    ‘আমার সম্পর্কের বোন হয় গো। বেহুলা।’

    ‘বাহ্! বেশ মিষ্টি মেয়ে তো। এখানে কিছুদিন থাকবে?’

    ‘হ্যাঁ, কাকা মরে গেল, একে দেখার কেউ নেই। তাই বাড়িতে নিয়ে এলাম। ওকে বচনপিসির কাছে রেখে আমি কাজের জায়গায় ফিরে যাব জটাকাকা নতুন জায়গা, ও নদীর ঘাটে এলে তুমি একটু ওর দিকে নজর রেখো কাকা।’

    ‘মাকালীর দিব্যি! ও মেয়ে, আমাকে একদিন আমানি পান্তা খাওয়াবি মা? সঙ্গে একটু পোস্ত বাটা? উঃ, কতদিন ভাত খাই না,’ জটা পাগলা বিশ্বনাথের দেওয়া মুড়ির দিকে চেয়েও দেখল না। আপনমনে বকবক করতে করতে আবার কোদাল হাতে খাতের মাটি কাটতে লেগে গেল। বেহুলার মনে কথাটা গেঁথে গেল। বিশ্বনাথ উঠে এসে বেহুলাকে ইশারা করল যাওয়ার জন্য।

    সামনে জনশূন্য এক বিস্তীর্ণ প্রান্তর। বিশাল মাঠ। মাঠের অপর দিক দূরে অন্ধকারে মিশে গেছে জঙ্গলে। মাঠ জুড়ে এদিক সেদিকে কাঁটানটের ঝোপঝাড়ের মধ্যে দিয়ে বামে কাঁচা রাস্তা চলে গেছে গাঁয়ের দিকে। ‘এটা মল্লিক হালট, কাঁচা পথ দেখিয়ে বলল বিশ্বনাথ। ‘নদীর ঘাট থেকে জমিদারদের পালকি নিয়ে যাওয়ার জন্য মল্লিক জমিদাররা এই হালট বানিয়েছিল।’ মাঠ পেরিয়ে দূরে কিছু জনবসতির চিহ্ন দেখা যাচ্ছে আর তারপর আবার ঘন জঙ্গল। ‘হালট গিয়ে শেষ হয়েছে ওই বাঁদিকের গ্রাম ডিঙাডুবিতে। আমাদের যেতে হবে এই ডানদিকে। মাঠের ওপারে ওই দূরে।’

    ‘এটা তো বিশাল মাঠ! ওদিক তো দেখাই যাচ্ছে না।’

    ‘এটা কাপাসডাঙার মাঠ।’

    বিশ্বনাথ আগে আগে চলতে লাগল। কিছু দূরত্বে পিছনে বেহুলা। বেহুলা বলল, ‘তুমি বললে তোমার বাবা তোমার বহুরূপীর সাজ দেখলে দুঃখ পায়?’

    ‘হ্যাঁ।’

    ‘কেন?’

    ‘আমাদের পূর্বপুরুষরা বনের পাখমারা ছিল।’

    ‘পাখমারা?’

    ‘ব্যাধ। বেদে, ব্যাধ এরা যাযাবর। এদের কোনো নির্দিষ্ট ঘরবাড়ি থাকে না। বড় বড় গ্রামের যেদিকে জঙ্গল থাকে, সেদিকে বিশাল আল দেওয়া থাকে, যাতে গ্রামে জঙ্গল থেকে হাতি গ্রামে না ঢুকতে পারে। সেই আলের ওপর ব্যাধ, ভড়, শবর, কোঞ্চ, হাড্ডি এসব যাযাবর লোকেরা তাঁবু ফেলে কিছুদিন থাকে, তারপর আবার তাঁবু গুটিয়ে তল্পিতল্পা বেঁধে সকলে মিলে অন্য গ্রামের পাশে আলের ওপর তাঁবু ফেলে। এরা জঙ্গলে ঢুকে সাতনলা, আঠাকাঠি দিয়ে পাখি শিকার করে, জঙ্গলে গর্ত করে তার ওপর ডালপালা রেখে শুয়োর ধরে মারে। কিন্তু, আমার বাবা একটু অন্যরকম ছিল। পশুপাখি শিকারে বাবার মন ছিল না। গভীর জঙ্গলে তান্ত্রিক, কাপালিকরা কঠোর গুহ্যসাধনা করত, বাবা এদের সেবা করত। একদিন বাবা গভীর জঙ্গলে পৌঁছে গেল বগলাতান্ত্রিকের সাধনস্থলে। তান্ত্রিক ধ্যানে বসে। তাঁর সামনে মৃতের করোটিতে রাখা কারণবারি। চোখ না খুলেই বলল এসেছিস। বোস। তোর জন্যই অপেক্ষা করছিলাম।’

    ‘অবাক কাণ্ড তো!’ বেহুলা তাড়াতাড়ি হেঁটে বিশ্বনাথের পাশাপাশি এল।

    ‘সেই তান্ত্রিক ত্রিকালদর্শী ছিল। মানুষের কপাল দেখে নাকি উনি মানুষের পূর্বজন্মের কিছু কথা বলে দিত। বাবাকে দেখে তান্ত্রিক বলল যে তুই পূর্বে অনেকগুলো জন্মে জ্যোতিষী ছিলি। এ জন্মে তোর এক বিশেষ উদ্দেশ্যে জন্ম হয়েছে। তোকে অসামান্য একজনের উপকার করতে হবে। বাবা বলল—আমি সামান্য মানুষ। আমি উপকার করব এক অসামান্য একজনের? বগলাতান্ত্রিক বলল হ্যাঁ। বাবা বলল বেশ। তাকে আমি কোথায় খুঁজে পাব? তান্ত্রিক বলল তোকে খুঁজতে যেতে হবে না। সে তোর কাছে নিজেই আসবে। তাঁকে দেখলেই তোর মন বলে উঠবে এই সেই মানুষ একে আমি অনেক জন্ম ধরে চিনি। বাবা বলল আপনি কীভাবে পূর্বজন্মের কথা স্মরণ করতে পারেন তা আমায় শিখিয়ে দিন। তান্ত্রিক বলল এটা শেখানো যায় না। তুই এই প্রারব্ধ নিয়েই জন্মেছিস। সেজন্যই তুই ব্যাধ-বেদেদের জীবন থেকে বারবার বেরিয়ে বেরিয়ে আসিস। তবে আমি তোকে কোষ্ঠী গণনা করা শিখিয়ে দেব। তুই কাপাসডাঙায় তাঁতিপাড়ায় গিয়ে কোষ্ঠী গণনা করে পেট চালাবি। ওখানে তোর অনেক অসুবিধা হবে। কিন্তু যতই অসুবিধা হোক, মড়ক-মহামারী হয়ে গাঁ উজাড় হয়ে যাক না কেন, তুই মাটি কামড়ে পড়ে থাকবি। যতদিন সেই মানুষ তোর কাছে না আসে ততদিন তুই ওই কাপাসডাঙা ছেড়ে কোথাও যাবি না। বাবা কয়েক বছর সেই তান্ত্রিকের আশ্রমে ছিল। তারপর একদিন তান্ত্রিক বাবাকে বলল—বেটা, তোর শিক্ষা সমাপ্ত হয়েছে এবার তুই কাপাসডাঙায় যা। তান্ত্রিকের ডেরা থেকে বেরিয়ে বাবা কিন্তু কাপাসডাঙায় না গিয়ে অন্য এক বর্ধিষ্ণু গ্রামে কিছুদিন থাকল, কিন্তু প্রকৃতি যেন চাইছিল বাবা কাপাসডাঙায় যাক। তাই বাবাকে কাপাসডাঙায় চলে আসতেই হল। তারপর এখানে এসে বে-থা করে গেরস্থ হয়ে গেল। সেই থেকেই আমরা কাপাসডাঙায়।’

    ‘জ্যোতিষীরা সাধারণত ব্রাহ্মণ হয়, তোমার বাবার গণকের কাজ পেতে অসুবিধা হয়নি?’

    ‘হয়েছে। বাবা যে আসলে পাখমারা এটা লোকে জানতে পেরে গেল। শুদ্র জাতির লোক ব্রাহ্মণের কাজ করছে এতে অনেকে আপত্তি তুলল, কিন্তু বাবার গণনা এত নির্ভুল হতে লাগল যে অচিরেই সব জাত-পাতের আপত্তি বিদ্যাধরীর জলস্রোতে ভেসে গেল। শুধু লোকে বাবাকে জ্যোতিষঠাকুর না সম্বোধন করে পাখমারা গণক বলে ডাকত। বাবা গায়ে মাখতো না। বাবা শুধু চাইতো ছেলেও জ্যোতিষী হবে। কিন্তু আমার শিরাতে পূর্বপুরুষ পাখমারাদের রক্ত বইছে। জঙ্গল আমায় টানত। আমি জিভকাটির জঙ্গলে জঙ্গলে আমার বন্ধু বুধনের সঙ্গে ঘুরে ঘুরে বেড়াতাম, বিষাক্ত পাহাড়ি মৌমাছিদের চাকের থেকে মধু পাড়তাম, আঠাকাঠি দিয়ে বগড়া ধরতাম। তারপর আমাদের এখানে বারাণসী থেকে সত্যাচার্য নামে এক গ্রহবিপ্র এল। সে নানা তুকতাক করে জমিদারকে এমন বশ করে ফেলল যে জমিদার আদেশ দিল এগ্রামে সত্যাচার্য ছাড়া আর কেউ জ্যোতিষচর্চা করতে পারবে না। ব্যাস, আমার বাবার উপার্জন একদম বন্ধ হয়ে গেল। আমি চাষবাস কোনোদিন করিনি, তাঁতের কাজও শিখিনি। খাব কী? এদিকে বাবাও তার তান্ত্রিক গুরুর কথামত কাপাসডাঙা ছেড়ে কোথাও যেতে পারছে না। তাই পেটের দায়ে আমাদের পূর্বপুরুষের বহুরূপীর পেশা ধরে আমি বেরিয়ে পড়লাম পথে। যাযাবর বহুরূপী হয়ে এগ্রাম সেগ্রাম। তাই বাবা আমায় এই বহুরূপীর পোশাকে দেখলে কষ্ট পায় খুব।

    মাথা উঁচু করে দেখল বেহুলা, পশ্চিমে নদীর ওপরের আকাশে দিনের অন্তিম আলো মিলিয়ে যাচ্ছে। আধো অন্ধকারে আকাশ থেকে ডানা মেলে এক ঝাঁক নীল গলা বসন্তবৌরি ঝাঁকড়া ঝুরিওয়ালা বটগাছে উড়ে এসে রাতের আশ্রয় নিল।

    বেহুলার নিজেরও এখন খুব দরকার রাতের একটা নিরাপদ আশ্রয়।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleভৌতিক অলৌকিক – অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    Next Article আফ্রিকার লোকগল্প – অশোককুমার মিত্র

    Related Articles

    প্রীতম বসু

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026
    Our Picks

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026

    শূন্য পথের মল্লিকা – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    April 23, 2026

    মরণের আগে ও পরে – ইমাম গাজ্জালী (অনুবাদ : মাওলানা শাহ ওয়ালীউল্লাহ)

    April 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }