Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    কড়িখেলা – সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভালোবাসা নাও, হারিয়ে যেও না – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প123 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ভালোবাসা নাও, হারিয়ে যেও না – ৭

    ৭

    একদিন একজন আমাকে একটা ধাঁধা জিজ্ঞেস করেছিল।

    বাবার গুণেন কাকা, আমরাও তাঁকে কাকা বলতুম। তিনি দাদু ডাকটা পছন্দ করতেন না। তখন তাঁর অনেক বয়স, এককালে জেল–টেল খেটেছিলেন, তারপর বনগাঁ–র দিকে কোন্ আশ্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মাঝে মাঝে আসতেন কলকাতায়।

    আমি তখন সদ্য কলেজে ভর্তি হয়েছি। গুণেনকাকা বেশ রসিক ছিলেন। আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, বল্ দেখি বাবা, কোন লোকের সঙ্গে প্রত্যেকদিন সকালে আমাদের দেখা হয়, অথচ আমরা তার নাম জানি না?

    আমি একটু ভেবে বলেছিলুম, খবরের কাগজের হকার।

    গুণেনকাকা হেসে বলেছিলেন, তুই খুব ভোরে উঠিস বুঝি? খবরের কাগজের হকারের সঙ্গে প্রত্যেকদিন দেখা হয়?

    বুঝলুম ভুল বলেছি। খবরের কাগজের হকার অত্যন্ত দুর্লভ প্রাণী। মাসের মধ্যে একদিনও তাকে ধরা অতি কঠিন কাজ। তাছাড়া আমাদের দোতলায় সে কাগজ দিয়ে যায় রাস্তা থেকে ছুঁড়ে, তার মুখ আমি কোনোদিন দেখেছি কিনা মনে পড়ে না। নাম জানার তো প্রশ্নই ওঠে না।

    গুণেনকাকার ধাঁধার উত্তরটি হচ্ছে ধাঙড়। সে প্রত্যেকদিন বাড়ির মধ্যে আসে বাথরুম পরিষ্কার করে, তার মুখ চিনি, কিন্তু তার নাম জানি না।

    গুণেনকাকা বলেছিলেন, সপ্তাহে একদিন যে ধোপা আসে বাড়িতে, ক’জন তার নাম জানে? যে মুচি নিয়মিত জুতো সারায়, যে মাছওয়ালার কাছ থেকে নিয়মিত মাছ কিনি, আমরা তার নাম জানার কোনো আগ্রহই বোধ করি না। এই জন্যই মানুষে মানুষে যোগাযোগ আজকাল এত কমে গেছে। আগেকার দিনে লোকে যে গয়লা দুধ দিত তারও বাড়ির খবর, কটি ছেলেমেয়ে, তার বিবাহিতা মেয়েটি শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে সুখে আছে কিনা সে খবরও রাখত। নতুন কেউ ভিক্ষে চাইতে এলেও জিজ্ঞেস করা হতো, বাপের নাম কী, বাড়ি কোথায় ছিল? তার ফলে মানুষে মানুষে সুখ–দুঃখের অংশিদার হতো। ইংরেজদের প্রভাবে আমরা সেসব ভুলে গেছি। সহসা কেউ কারুর নাম–ধাম জানতে চাই না।

    গুণেনকাকা আমাকে কিছু শিক্ষা দিতে চেয়েছিলেন, তখন সে শিক্ষা আমি গ্রহণ করিনি। জীবনের অনেক ক্ষেত্রে নানান মানুষের সঙ্গে নিয়মিত দেখা হয়, তাদের নাম–ধাম কিছুই জানি না।

    পরদিন বাজারে গিয়ে সেই কথাই মনে পড়ল। ডিমওয়ালি বুড়ির নাম কী? কোথায় তার বাড়ি? সে একদিন তার বাড়িতে যেতে আমায় অনুরোধ করেছিল, আমি ওটা কথার কথা ভেবে তার বাড়ির কথা জানতেও চাইনি।

    হিলহিলে চেহারার কিশোরীটি আজ ঝিঙে নিয়ে বসেছে। ওর কাছ থেকে এক কিলো ঝিঙে কিনলুম। এক টাকা বারো আনা দাম, দু’টাকার নোটের চার আনা সে ফেরৎ দিতে পারছে না বলে আমি বললুম, থাক না, পরের দিন এসে নিয়ে নেব।

    তারপর জিজ্ঞেস করলুম, তোমার পাশে যে বুড়ি বসত, কী হলো তার? সে আর আসে না!

    কিশোরীটি ঠোঁট উল্টে বলল, কী জানি!

    –বাঃ, তোমার পাশে রোজ বসত, এখন আর আসে না, তার কোনো খবর নাওনি? সে কোথায় থাকে জানো?

    কিশোরীটি উত্তর না দিয়ে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। ওদের বোধহয় নিয়মকানুন আলাদা। যাকে বলে ‘জীবন সংগ্রাম’। তাই নিয়ে প্রত্যেকদিন যারা ব্যস্ত, তারা হয়তো কে এলো কে গেল তা নিয়ে মাথা ঘামায় না।

    অন্য পাশের প্রৌঢ়টি বলল, ও বুড়ি থাকে সোনারপুরে। অসুখ–বিসুখ করেছে বোধ করি।

    কিশোরী মেয়েটি তাকে ধমক দিয়ে বলল, তুমি ছাই জানো। বুড়ি থাকে কাদাগোলায়, আমাদের পাশের গাঁ। সোনারপুর থেকে আরো দুই কোরোস।

    আমি কিশোরীটিকে জিজ্ঞেস করলুম, তোমার নাম কী?

    সে লজ্জায় এদিক ওদিক মাথা দোলাতে লাগল। এটা আমিও লক্ষ করেছি যে গ্রামের ছেলেমেয়েরা নাম জিজ্ঞেস করলে খুব লজ্জা পায়।

    একটু বাদে সে বলল, ময়না। একটা ভালো নাম আছে, নাজমা।

    পাশের লোকটিকে জিজ্ঞেস করলুম, তোমার নাম কী?

    সে বলল, তার নাম খগো।

    নাম দুটো মনে রাখতে হবে। মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ। আজ মাছওয়ালা, আলুওয়ালা, নারকোলওয়ালী সবার নাম জেনে নেব।

    এরপর মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করলুম, ঐ যে বুড়ি ডিম বিক্রি করত, ওর নাম কী?

    দেখা গেল ইংরেজি সভ্যতার প্রভাব এই সবজি–বিক্রেতাদের ওপরেও পড়েছে। কিশোরী মেয়েটি বা প্রৌঢ়টি কেউ–ই ঐ ডিমওয়ালি বুড়ির নাম জানে না। অথচ কতদিন সে ওদের মাঝখানে বসেছে। দু’জনেই তাকে ডাকত দিদিমা বলে।

    কিশোরীটির কাছে আমি জানতে চাইলুম, কাদাগোলা কীভাবে যেতে হয়?

    সে তার টলটলে চোখ দুটি আমার দিকে বেশ কয়েক মুহূর্ত তুলে রাখল। তারপর বলল, আপনি কাদাগোলায় যাবেন? হি হি হি।

    –কেন, যেতে পারি না? হাসছ কেন?

    —হেঁটে যেতে হয় গো বাবু।

    –তোমার কি ধারণা আমি হাঁটতে পারি না? গাঁয়ের মানুষই শুধু হাঁটতে পারে? চার মাইল আর এমনকি রাস্তা।

    —গাঁয়ের নাম যে কাদাগোলা। এঁটেল মাটি, হি হি হি। এই বর্ষার সময় একেবারে থকথকে দই। হি হি হি। দেখুন গে, দিদিমা বোধহয় ঐ রাস্তার জন্যই আসতে পারছে না।

    প্রৌঢ় দোকানীটি পোড়খাওয়া সংসারী মানুষ। সে বলল, বাবুর কিছু টাকা পাওনা আছে, লয়? একদিন একটা বিশ টাকার লোট দিয়ে ভাংতি ল্যাননি।

    একথা ঠিক নয়, বুড়ির কাছে আমার এক পয়সা পাওনা নেই। বরং সে একদিন আমায় বিনা পয়সায় একটা ডিম দিয়েছিল। আমি যে বুড়ির কাছে কেন যেতে চাইছি তা এই লোকটিকে বোঝানো যাবে না, অন্তত আমার ভাষায়।

    খগো আবার বলল, বুইঝলেন বাবু, ও বুড়ি প্রায়ই ওর এক লাতির কথা বলত। খুব পেয়ারের লাতি। সে ছোঁড়া সোনারপুর এস্টেশানে পান–বিড়ি ফিরি করে।

    এটা একটা দরকারি সংবাদ। সোনারপুর স্টেশনে যে পান–বিড়ি বিক্রি করে তাকে খুঁজে পাওয়া সহজ।

    ময়না বলল, সে লোকটা তো একবার জেল খেটেছিল, ও দিদিমার আপন নাতি নয় গো! পাড়াতুতো।

    খগো বলল, তা হতি পারে। যা শুনিছি তাই বলিছি। বাবু জানতে চাইলেন।

    ময়নার কাছে অন্য খদ্দের এসে গেছে, তাই সে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। ওর ঝিঙেগুলো বেশ টাটকা, উড়ে যেতে বেশি সময় লাগবে না।

    সেই খদ্দেরটি চলে যেতে আমি ময়নাকে জিজ্ঞেস করলুম, এই ঝিঙে তোমাদের নিজেদের খেতের বুঝি?

    ময়না ফিক করে হেসে খগোর দিকে ফিরে বলল, পোড়া কপাল। বাবুটা কিচ্ছু বোঝে না। আমাদের আবার খেতি জমি আছে নাকি। একখানা মাত্তর ঘর সম্বল।

    খগো মাথা নাড়ল। সে বাবুশ্রেণীর অজ্ঞতা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। সেও হাসে।

    আমি তবু জিজ্ঞেস করলুম, তা হলে এ ঝিঙে কোথা থেকে আনলে?

    —হাট ঠেঙে। কাল বিকেলে হাট ছিল না?

    —হাট থেকে তুমি নিজেই জিনিস কেনো?

    –তবে আবার কে কিনবে? হি–হি–হি।

    -বাড়িতে তোমার কে কে আছে?

    –কেউ নেই, যাও, তোমার তো কেনা হয়ে গ্যাচে, এখন দোকানের সামনে থেকে সরে ডাড়াও তো।

    গুণেনকাকা যাই বলুন, মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ এখন আর তেমন সহজ নয়। এ মেয়েটি আমার বেশি প্রশ্ন পছন্দ করছে না।

    ময়না সবেমাত্র উদ্ভিন্নযৌবনা। কেউ আবার অন্যরকম সন্দেহও করতে পারে। খগো সেইরকম চোখেই চাইছে আমার দিকে। ডিমওয়ালি দিদিমার সঙ্গে আমার কীরকম ভাব ছিল তা এরা জানে, তবু তার সম্পর্কে খোঁজ খবর নেওয়া এরা এত অস্বাভাবিক মনে করছে কেন?

    অলস পায়ে আমি এগিয়ে গেলুম মূল বাজারের দিকে।

    ঘণ্টাখানেক বাদে বাজারের থলি বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে এসে আমি বালিগঞ্জ স্টেশন থেকে ট্রেন ধরলুম সোনারপুরের।

    .

    সোনারপুরের নামটা বড় বেশি উচ্চাকাঙ্ক্ষী নয়? কে এই নাম রেখেছিল? কী আছে সোনারপুরে? কোনোদিন তো সোনারপুরের বিশেষ কোনো গৌরবের কথা শুনিনি। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার একটা জংশন স্টেশন। বারুইপুর বা ক্যানিং যাবার পথে কয়েকবার এই স্টেশনটা দেখেছি, কোনোদিন ওখানে নামা হয়নি।

    পৌঁছতে বেশিক্ষণ সময় লাগল না। প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে একটা সিগারেট ধরালুম।

    নিজেকে বেশ একটা শখের গোয়েন্দার মতন লাগছে। এক বুড়ির সন্ধানে এসেছি, যার আমি নাম জানি না। বুড়ির এক নাতি পান–বিড়ি ফেরি করে এখানে, তারও নাম জানি না, চেহারা জানি না। সে নাকি একবার জেল খেটেছে। যদি বা সেই নাতিকে খুঁজে পাই, তারপর সেই নাতি যদি উল্টে আমায় জিজ্ঞেস করে, আমার দিদিমাকে আপনি কেন খুঁজছেন, তাহলে তারও কোনো বিশ্বাসযোগ্য উত্তর দিতে পারব না আমি।

    একটা ক্যামেরা আনলে মন্দ হতো না। তাহলে বলা যেত ঠিক ঐরকম একটা বুড়ির মুখ আমাদের দরকার। সত্যজিৎ রায় তাঁর ছবির জন্য দ্বিতীয় এক ইন্দির ঠাকরুন খুঁজছেন। সত্যজিৎ রায়ের নাম হয়তো এখানে অনেকেই শোনেনি, তবু যদি বলা যায় যে সিনেমার জন্য একজন বেশ ভালো মতন বুড়ি চাই, তাহলে এখানকার লোক নিশ্চয়ই আমাকে সাহায্য করার জন্য চাঙ্গা হয়ে উঠত।

    ট্রেনটা ছেড়ে যাবার পর আস্তে আস্তে প্ল্যাটফর্মের ভিড় পাতলা হলো। গোটা তিনেক চা–ওয়ালাকে দেখতে পাচ্ছি, একজনও পান–বিড়িওয়ালা চোখে পড়ল না। প্ল্যাটফর্মের মাঝখানে একটা পাকা মনোহারী দোকান আছে, সেখানে পান– সিগারেট পাওয়া যায়। এই দোকানদারই কি বুড়ির নাতি?

    কিন্তু এত বড় দোকানের যে মালিক, তার দিদিমা কেন বাজারে ক’টা ডিম বিক্রি করতে যাবে রোজ? অবশ্য বলা যায় না, অনেক ছেলে আজকাল নিজের বুড়ো বাপ–মাকেই দেখে না, ঠাকুমা–দিদিমা তো কোন্ ছার।

    খগো বলেছিল, সেই পান–বিড়িওয়ালা ঐ বুড়ির খুব পেয়ারের নাতি। তাতেও কিছু প্রমাণ হয় না। কুপুত্রকেও মা ভালোবাসে, কুনাতিকেও ঠাকুমা–দিদিমারা অগাধ প্রশ্রয় দেয়।

    দোকানটার সামনে গিয়ে দাঁড়ালুম। পকেটে সিগারেট আছে, এই দোকানে আমার কেনার মতন আর কিছু নেই।

    এক কাপ চা খাওয়া যেতে পারে।

    যতদূর সম্ভব দেরি করে তারিয়ে তারিয়ে চা–টা খেতে লাগলুম। নানান লোকজন আসছে, তাদের কথাবার্তা শুনছি। কেউ কাদাগোলা গ্রামের নাম করছে কিনা সেই সম্পর্কেই আমার বেশি কৌতূহল।

    একজন লোক দোকানদারকে ডেকে বলল, অ বিষ্টুদা শোনো। কালকের ব্যাপারটার কিছু ফয়সলা হলো? আমি কিন্তু ছাড়ব না বলে দিচ্ছি।

    দোকানদার যেহেতু উঁচু জায়গায় বসে আছে তাই তার কণ্ঠস্বরে বেশ গাম্ভীর্য। লোকটির বয়স বছর পঁয়তিরিশের হবে, মুখে তিন–চারদিনের খোঁচা খোঁচা দাড়ি।

    সে বলল, আমি কী জানি, তোর যা ইচ্ছে করগে যা।

    –তুমি মাথা গলালে, নইলে কালই আমি ওকে ছাড়তুম না।

    — আমি কী মাথা গলিয়েছি, অ্যা। ওসব ছেঁড়া ঝামেলায় আমার কি দরকার?

    —তুমি শালাকে প্রোটেকশান দিলে, আর এখন বলছ… কথা থামিয়ে লোকটি আমার দিকে আড় চোখে তাকাল। ওরা কোনো গূঢ় বিষয়ে আলোচনা করছে, যা বাইরের লোকের শোনবার কথা নয়। অনেক রেল স্টেশনেই এমন অনেক কাণ্ড হয় যার সঙ্গে ট্রেন চলাচলের কোনো সম্পর্কই নেই।

    চায়ের কাপটি নামিয়ে আমি আস্তে আস্তে সরে পড়লুম।

    দোকানদারের নাম বিষ্ট, অর্থাৎ বিষ্ণু। কোনো মুসলমানের এরকম নাম হতেই পারে না। ডাকনামও না। এ কী করে বুড়ির নাতি হবে?

    অবশ্য ময়না বলেছিল সোনারপুরের লোকটি বুড়ির পালিত নাতি। বুড়ি তো একটি হিন্দুর ছেলেকেও নাতি হিসেবে পালন করতে পারে। বুড়ি তো আমাকেও নাতির মতনই ভালোবেসেছিল।

    এই সূত্রে আর একটা কথাও মনে পড়ল। বাজারে এত লোক আসে, তার মধ্যে বেছে বেছে শুধু আমার ওপরেই বুড়ির এত স্নেহ ছিল কেন? তার একটা কারণ এই হতে পারে যে বুড়ির নিজের নাতির সঙ্গে আমার চেহারার মিল আছে। আমাকে দেখে তার কথা মনে পড়ে যেত।

    হ্যাঁ, এটাই অনেকটা যুক্তিসঙ্গত। সোনারপুর স্টেশনে ঠিক আমার মতন চেহারার একটি ছেলেকে খুঁজে বার করতে হবে। কিন্তু আমার নিজের চেহারাটা কী রকম তা কি আমি সঠিক জানি? আয়নায় যাকে দেখি সে কি হুবহু আমার নিজের ছবি, নাকি তার মধ্যেও খানিকটা ইচ্ছাপূরণ থাকে।

    সে যাই হোক, ঐ দোকানদারটিকে অনায়াসেই খারিজ করে দেওয়া যায়। এরকম চৌকো চোয়াল আমাদের চোদ্দ পুরুষের কারুর নয়।

    ঝমঝম করে এসে পড়ল আর একটা ট্রেন। অমনি জায়গাটা মাছের গন্ধে ভরে গেল। ট্রেনটা ক্যানিং থেকে আসছে। এই স্টেশনে বেশ অনেক লোক ওঠে নামে।

    একটা বেঞ্চ দেখে আমি বসলুম। পরবর্তী কার্যক্রম ঠিক করতে হবে। আশা করে এসেছিলুম, সোনারপুরে একটি মাত্র পান–বিড়িওয়ালার দেখা পাওয়া যাবে, তার সঙ্গে কায়দা করে কথা বলে অনেক খবর বার করে নেব। এমনকি তাকে কী কী প্রশ্ন করব তাও ঠিক করা ছিল।

    আরও একটা ট্রেন এলো, গেল। কিন্তু আমি স্ট্র্যাটেজি ঠিক করতে পারছি না। প্রায় এক ঘণ্টা সময় পার হয়ে গেছে। এক একবার মনে হচ্ছে বুড়ির সন্ধান আজকের মতন ছেড়ে ক্যানিং বেড়াতে চলে গেলে কেমন হয়? সেখান থেকে লঞ্চে চেপে সুন্দরবন।

    ময়লা পাজামা আর পাঞ্জাবি পরা রোগা মতন একটি ছোকরা এসে বসল আমার পাশে। পকেট থেকে একটি চ্যাপ্‌টা হয়ে যাওয়া সিগারেট বার করে সে জিজ্ঞেস করল, দাদা দেশলাই আছে?

    আমার কাছে আছে রফিকের দেওয়া একটি লাইটার। সেটা আমি হাতছাড়া করতে চাই না বলে ঝুঁকে পড়ে ছোকরাটির সিগারেট ধরিয়ে দিলুম।

    গাঁজায় দম দেওয়ার মতন জোরে একটান মেরে আরাম করে ধোঁয়া ছাড়ার পর সে বলল, জমি দেখতে এসেছেন?

    —কী?

    —এদিকে জমি দেখতে এসেছেন? আমার হাতে ভালো ভালো জমি আছে, এস্টেশান থেকে সাত মিনিট, পাকা রাস্তা। দরও সস্তা পড়বে।

    প্রস্তাবটি শুনে আমার খুশি হবারই কথা। আমাকেও কেউ জমি কেনার যোগ্য লোক মনে করে।

    আমার গোঁফ নেই, তাই ডানদিকের জুলপিটা ধরে পাক দিতে দিতে বললুম, হ্যাঁ, জমি কেনার কথা ভেবেছি বটে দু’একবার। আপনি জমি দেখাতে পারবেন?

    লোকটি কাছে সরে এসে বলল, কেন পারব না, কীরকম জমি চান বলুন? দু কাঠা, তিন কাঠার প্লট? পুকুর–বাড়ি সমেত বড় জমিও আছে। সরকারদের একটা বাড়ি, দোতলা, সঙ্গে বাগান, সেটা বিক্‌কিরি আছে।

    –কত দূরে?

    —সাইকেল রিক্সায় গেলে ঠিক আপনার লাগবে আট মিনিট।

    —এত কাছে আমার পছন্দ নয়। শহরের মধ্যে আমি জমি চাই না। কলকাতা শহরে তো বাড়ি আছেই। এদিকে বেশ একটা গ্রাম মতন জায়গা চাই, গাছপালা থাকবে।

    –বাগানবাড়ি চাইছেন?

    –না, চাইছি গ্রামের মধ্যে খানিকটা জায়গা। এদিকে কাদাগোলা নামে একটা গ্রাম আছে না?

    লোকটা বেশ কয়েক মুহূর্ত চুপ করে চেয়ে রইল আমার দিকে। তারপর আস্তে আস্তে বলল, কাদাগোলা?

    আমি বললুম, ঐ নামে গ্রাম নেই কাছাকাছি?

    —হ্যাঁ আছে, সে তো বেশ দূর।

    –কত দূর? আমি তো শুনেছি মাইল পাঁচেক হবে।

    —না–না, কী বলছেন, আট ন’ মাইল তো হবেই। ওখানে গিয়ে কী করবেন দাদা? রাস্তাঘাট ভালো নেই, বাস চলে না।

    —সাইকেল রিক্সা?

    –এই বর্ষাকালে তাও যাবে না।

    —তাহলে আর কী হবে। ঐ গ্রামটাই আমার পছন্দ।

    —গ্রামের মধ্যে বাড়ি করতে চান তো? চলুন না, ভালো গ্রামে নিয়ে যাচ্ছি। আমবাগান পাবেন, কাছেই বাস রাস্তা, সাইকেল রিক্সা পাবেন রাত এগারোটা পর্যন্ত।

    —যে গ্রামে বাস রাস্তা নেই, সেই রকম গ্রামই আমার চাই। সেখানে জমির দাম সস্তা।

    —চলুন ঐ কাদাগোলাতেই নিয়ে যাচ্ছি আপনাকে।

    –এখন?

    —হ্যাঁ, জমি দেখে বায়না করে আসবেন।

    – আপনাকে কত দিতে হবে?

    —যা খুশি হয় দেবেন। পথ খরচা হিসেবে বিশ পঁচিশ।

    –পথ খরচা মানে? গাড়ি ভাড়া করতে হবে নাকি?

    –না, আপনাকে আমি সর্টকাটে নিয়ে যাব। বলছি আমার ডেইলি একটা খরচা আছে তো।

    আমার মনের মধ্যে একটা অ্যালার্ম আছে। কোনো কোনো লোক দেখলে সেটা বেজে ওঠে। এখন আমি সেই ট–র–র–ং শব্দটা শুনতে পাচ্ছি।

    এই লোকটির চোখের মণি বেড়ালের মতন। দৃষ্টি চঞ্চল। ঘন ঘন হাঁটু দোলাচ্ছে। এই লোককে বিশ্বাস করা যায় না।

    জমি দেখাবার নাম করে নিরালায় নিয়ে গিয়ে এ আমার মাথায় ডাণ্ডা মারতে পারে।

    আমার হাত ঘড়ি, আংটি কিছু নেই। পকেটে মাত্র পঞ্চান্ন টাকা। কিন্তু প্যান্ট, শার্ট, জুতো কোনোটাই ছেঁড়া নয়। শুধু পরিষ্কার জামাকাপড়ই খুনেদের আকৃষ্ট করার পক্ষে যথেষ্ট।

    আমি লোকটির চোখে স্থির দৃষ্টি রেখে জিজ্ঞেস করলুম, আপনার নাম কী ভাই?

    – আমার নাম? ইয়ে আমার নাম এককড়ি। এককড়ি সাপুই।

    —বাড়ি কোথায়?

    —বাড়ি এই সোনারপুরেই।

    –কে কে আছে বাড়িতে?

    – আছে মা, বাবা, দুটো ছোট ভাই। কই যাবেন তো উঠুন। বেলাবেলি ঘুরে আসা যাবে।

    লোকটি নিজের নাম সত্যি বলেনি। আমার এত সব প্রশ্নও পছন্দ করছে না। আমাকে ও শহুরে বোকা বলে ধরে নিয়েছে।

    -থাক, আজ আর যাব না।

    –কেন, চলুন আজ দু’তিনটে জমি দেখাই। একবার দেখলেই তো পাকা হয় না।

    —এদিকে জমি কেনার ইচ্ছে আমার আছে। তবে আমার মামা বারণ করছেন। আমার মামা বারাসত থানার ও সি। পঞ্চানন ঘোষাল, নাম শুনেছেন? মামা শিগগিরই সোনারপুর থানায় বদলি হয়ে আসছেন। মামা তাই বলছেন, আমি আগে যাই, তারপর ওদিকে তোর জন্য ভালো জমি দেখে দেব। এখন সোনারপুর থানার যিনি ও সি, তাঁর সঙ্গেও আমার চেনা আছে। আমার মামার ওখানে তো কতবার নেমন্তন্ন খেতে গেছেন।

    লোকটি শুকনো গলায় বলল, ও!

    – মামা আসার পরই জমি দেখা ঠিক হবে না?

    —তা তো বটেই!

    –ঠিক আছে, তখন আপনার খোঁজ করব, আপনিও সঙ্গে যাবেন। পুলিশের লোক হলেই যে গ্রামের সব খবর জানবে, তার তো কোনো মানে নেই। সে খবর আপনারাই ভালো জানবেন।

    লোকটি দূরে কাকে যেন ‘এই গুপী’ বলে ডেকে সট করে উঠে চলে গেল।

    এর কাছ থেকে এইটুকুই তথ্য পেলুম যে কাদাগোলা গ্রামটি মাত্র চার–পাঁচ মাইল নয়, তার চেয়েও বেশি দূর। গ্রামের লোকের মাইলের হিসেবের ঠিক থাকে না।

    আজ আকাশে মেঘ নেই, স্বচ্ছ দিন। এখানকার লোকজনদের কাছে খোঁজ নিয়ে আমি নিজেই কাদাগোলার দিকে রওনা দিতে পারি। কিন্তু তাতে খুব একটা উৎসাহ পাচ্ছি না। গ্রামে গিয়ে সেই ডিম–বেচা বুড়ির খোঁজ করব কী করে? ঐ বয়েসের বুড়ি গ্রামে অনেক থাকে। প্রত্যেক বাড়ি বাড়ি গিয়ে উঁকি মারব? আজকাল গ্রামের লোক বাইরের মানুষ দেখলেই সন্দেহ করে।

    রেল স্টেশনে বা বাস ডিপোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দেওয়ার অভ্যেস আমার আছে। আমার ভালো লাগে, নিজেকে বেশ একা পাওয়া যায়। অনেক কথাবার্তা হয়।

    – আচ্ছা, সত্যি করে বলো তো, নীললোহিত, ঐ বুড়ির সঙ্গে দেখা করার এত গরজ কেন তোমার?

    –রোজার মাসে বুড়ির শরীর খারাপ হয়েছিল, তারপর আর আসছে না। আমার আশঙ্কা হচ্ছে, বুড়ি হয়তো অসুস্থ, আর কোনোদিনই আসতে পারবে না। ও অনুরোধ করেছিল একবার ওর বাড়িতে যেতে।

    —শুধু সেই জন্য?

    –তাছাড়া, ঐ যে স্বপ্ন দেখলুম, সেইজন্য মনটা একটু খচ্‌খচ্ করছে।

    —মনে আছে দণ্ডকারণ্যের কথা?

    –হ্যাঁ, মনে থাকবে না কেন?

    –সেখানেও একজন বুড়ির সঙ্গে তোমার দেখা হয়েছিল—কী যেন জায়গাটার নাম?

    —জগদলপুর?

    —উহুঃ!

    —হ্যাঁ–হ্যাঁ, মনে পড়েছে, কোণ্ডাগাঁও!

    –সেখানে একটা বড় বাস স্টেশন, তুমি রাত্তিরে একটা হোটেলের বাইরের খাটিয়ায় বসে রুটি–মাংস খাচ্ছিলে…একজন বুড়ি তোমার কাছে ভিক্ষে চাইতে এলো, তুমি ধমক দিয়ে বললে, দেখতা নেহি, হাত ঝুটা হ্যায়? কেইসে দেগা! বুড়ি বলল, একটু তাহলে ঘুরে আসি বাবা? তুমি তার মুখে বাংলা কথা শুনে খুব চমকে উঠলে।

    –না, খুব চমকাই নি। আগেও মধ্যপ্রদেশের সেই দুর্গম অঞ্চলে বেশ কয়েকজনের মুখে বাংলা কথা শুনেছি। দণ্ডকারণ্যের রিফিউজি ক্যাম্প থেকে অনেক বাঙালি ছিটকে বাইরে চলে এসেছে।

    —তুমি বুড়িটাকে জিজ্ঞেস করলে, আগে কোথায় বাড়ি ছিল? সে বললে, ফরিদপুর। তারপর তুমি জিজ্ঞেস করলে, কোন্ গ্রাম? সে বললে–

    –জানি, জানি, কেন নতুন করে মনে করিয়ে দিচ্ছ? সে আমার মামার বাড়ির গ্রামের এক নমঃশূদ্র। মামার বাড়িতেই সে কাজ করত।

    —শুধু তাই নয়। যখন সে বলল, তাকে বোঁচার মা নামেই সবাই চিনত, তখন তা শুনে তুমি বিচলিত হওনি? তোমার রোমাঞ্চ হয়নি সারা গায়ে?

    —হ্যাঁ, তা হয়েছিল। আমার মা–মাসির কাছে ঐ বোঁচার মায়ের অনেক গল্প শুনেছি। উনি ধাইয়ের কাজ করতেন। আমার জন্মের সময়ও উনি ধাই ছিলেন। ওর হাতেই আমি ভূমিষ্ঠ হয়েছি।

    —তুমি তোমার মামাবাড়ির নাম করতেই বুড়ি একেবারে হেসে–কেঁদে অস্থির। তুমি তোমার পরিচয় দাওনি। শুধু গ্রামটা চেনো শুনেই বুড়ির সে কি উত্তেজনা। তোমার গায়ে–মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগল। তখন তোমার কী মনে হয়েছিল?

    —মনে হয়েছিল যে অনেককাল পরে জন্মভূমির স্পর্শ পেলাম। আমি আবেগ– প্রবণ, একটুতেই কাতর হয়ে পড়ি, আমার চোখে জল এসে গিয়েছিল।

    –তারপর?

    —বেশিক্ষণ কথা বলা যায় নি। আমার বাস হর্ন দিয়েছিল।

    –বুড়ি তোমার কাছ থেকে কিছুতেই আর ভিক্ষে নেয় নি। সে তোমাকে নিয়ে যেতে চেয়েছিল তার বাড়িতে। তার নাতি–নাতনিদের দেখাবে একজন গ্রামের মানুষ।

    —যাওয়ার উপায় ছিল না, একটু পরেই বাস ছেড়ে দিল।

    —তুমি বুড়িকে কী কথা দিয়েছিলে?

    —বলেছিলুম আবার আসব। শিগগিরই। বলেছিলুম, বোঁচার মা, তোমার কাছ থেকে সব গল্প শুনব। কী করে তুমি ফরিদপুরের সেই গ্রাম থেকে এত দূর দণ্ডকারণ্যে এসে পৌঁছলে।

    –তুমি সেই কথা রাখনি।

    –ঐ পথ দিয়ে যে আর ফেরা হয়নি!

    —পরে তো আবার যেতে পারতে!

    –দ্যাখো, মধ্যপ্রদেশ কত দূর, বার বার কি আর যাওয়া যায়? জগদলপুরের এস. পি বলেছিল আবার আমাদের নেমন্তন্ন করবে…সে আর চিঠিপত্র কিছু লিখল না।

    —সেই জন্যই তুমি ঐ বুড়ির কাছে কথা রাখলে না। সে, প্রত্যেকটি বাস এসে থেমেছে, আর তোমাকে দেখবে বলে ছুটে গেছে। সেই বুড়ি, যার কোলে শুয়ে তুমি জীবনে প্রথম কেঁদেছিলে, তার বাড়িতে তুমি যাওনি, আর এই ডিমওয়ালি বুড়ির জন্য এত টান।

    –দ্যাখো, একবার একজনের কাছে কথা রাখতে পারিনি বলেই তো অন্যদের কাছে কথা রাখবার বেশি করে চেষ্টা করতে হয়।

    —ডিমওয়ালির কাছে তো তুমি কোনো কথা দাওনি। সে বলেছিল, বাবা, তুমি একদিন আমার বাড়িতে আসবে? তুমি কোনো উত্তর না দিয়ে শুধু হেসেছিলে। তারপর রূপনারায়ণের পাড়ে শুয়ে নিছক একটা দিবাস্বপ্ন দেখে…

    —কারণটা যাই হোক না কেন, পাড়াগাঁর দিকে একজনের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ায় দোষের তো কিছু নেই। কলকাতার এত কাছেই যখন।

    –আসল কারণটা তুমি স্বীকার করতে চাইছ না। আসল কারণ হচ্ছে, তুমি রোমির থেকে দূরে সরে থাকতে চাইছ!

    – না, না, না, মোটেই তা নয়। আমি রোমির খুব কাছাকাছি যেতেই চাই না। তাজমহল দূর থেকেই ভালো দেখায়।

    —দূর থেকে ভালো দেখায় বলেই কেউ দূরে থেমে থাকে না। সবাই তাজমহলের কাছেই যায়। রক্তমাংসের সুন্দরকে মানুষ অতি ঘনিষ্ঠভাবে পেতে চায়।

    –না, না, না, তুমি কী বলছ! রোমির জন্য আমি…তা একেবারেই অসম্ভব!

    –অসম্ভব হতে পারে, তবু তো ইচ্ছে হয়। রোমির ঠিকানা জানবার পর তোমার দু’একবার ইচ্ছে হয়নি ওর বাড়ির রাস্তা দিয়ে একটু হাঁটতে?

    —মোটেই না!

    —নিজের কাছেও নিজেকে লুকোচ্ছ? মানুষের দুটো সত্তা থাকতে পারে। তিনটে কি হয়? ইচ্ছে তোমার হয়েছিল ঠিকই, তবু রোমির সঙ্গে তুমি যোগাযোগ করো নি ভয়ে। তোমার ভয় রফিক তোমাকে কোনো ফাঁদে ফেলতে চাইছে।

    –যাঃ, যত সব বাজে কথা। রফিক আমার অতি ঘনিষ্ঠ বন্ধু, সে আমায় কোনোদিন ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করবে না।

    —ফাঁদে মানে বিপদে ফেলার কথা বলছি না! কিন্তু রফিক যে তোমাকে নিয়ে একটা এক্সপেরিমেন্ট করছে তাও তুমি বুঝতে পারনি? রফিক যাকে বলে, মজা?

    —কী এক্সপেরিমেন্ট?

    —রফিকের অনেক সুন্দরী সুন্দরী কাজিন আছে। তাদের অন্য কারুর সম্পর্কে কোনো কথা তুমি রফিকের মুখে কখনো শুনেছ? রোমি সম্পর্কেই রফিক বেশি উৎসাহী। রোমি প্রায়ই আসে রফিকের সঙ্গে দেখা করতে। ঈদের দিনেও রফিক যখন একা ছিল, তখন রোমি ওর ঘরে ছিল। হয়তো আগ্রহ আর উৎসাহটাই আস্তে আস্তে প্রেমে রূপান্তরিত হয়েছে।

    – ও হ্যাঁ, এটা তুমি ঠিক বলেছ। এটা হতে পারে। রোমি সম্পর্কে কথা বলার সময় রফিকের মুখ চোখ বদলে যায়। এটা রিসেন্টলি দেখছি।

    —রোমি বিদ্রোহিনী টাইপের। রফিক তো এইসবই পছন্দ করে। রফিক নিজের বাড়িতে একবার শুয়োরের সসেজ খেয়ে কী রকম হুলুস্থলু বাধিয়েছিল মনে নেই?

    —তাহলে…তাহলে…একটা জিনিস বুঝতে পারছি না, রফিক কেন রোমিকে আমার সঙ্গে একা একা ছবির প্রদর্শনীতে পাঠাতে চাইছিল?

    —তুমি একটি অতি বোকা, নীলু! একটু ভেবে দেখলেই বুঝতে। এটাই তো রফিকের মজার খেলা! তুমি যেই রোমিকে দেখে মুগ্ধ হলে, খুব একটা দেবী দেবী ভাব করে রোমিকে পুজো করতে শুরু করে দিলে, তখনই শুরু হয়ে গেল ওর এক্সপেরিমেন্ট। ও দেখতে চায়, তুমি কতটা এগোও। রোমি তোমার দিকে ঝোঁকে কি না। তাহলে ও সরে দাঁড়াবে, সে ব্যাপারে রফিক উদার!

    —রফিকটা একটা পাগল!

    –যার হাতে প্রচুর সময়, টাকাপয়সার কোনো চিন্তা নেই, তার এরকম পাগলামি বেশ মানিয়ে যায়। আমরা সবাই কিছু কিছু বে–নিয়মের কাজ করতে চাই। কিন্তু পারি না।

    —রফিককে তাহলে একটা চিঠি লিখতে হবে। ওকে জানিয়ে দেব যে জীবনে আর কোনোদিন আমি রোমির সঙ্গে দেখা করব না।

    –খবরদার ও কাজও করো না। ও রকম লিখলেই রফিক বুঝে নেবে যে রোমি সম্পর্কে তোমার দুর্বলতা একেবারে বদ্ধমূল! রোমির সঙ্গে রফিকের বিয়ে হলে তারপর কি তুমি রফিকের সঙ্গে মেলামেশা বন্ধ করে দেবে? রফিক তার বন্ধুদের ভালোবাসে, তোমাকে বেশি ভালোবাসে। রোমি সম্পর্কে তুমি বরং স্বাভাবিক হয়ে যাও। আর পাঁচটা মেয়ের মতো। রফিকের স্ত্রী হিসেবে তার সঙ্গে তোমার প্রায়ই দেখা হবে, তখন তুমি তার সঙ্গে হাসি–ঠাট্টা করবে, যেমন অন্য বন্ধুপত্নীদের সঙ্গে কর।

    —ঠিক আছে, সেটাই চেষ্টা করা যাবে তা হলে।

    —কী নীললোহিত, কষ্ট হচ্ছে?

    —কষ্ট তো হবেই একটু একটু। কোনো একজন বিশেষ রমণীকে একেবারে সাধারণ স্তরে নামিয়ে আনা কি সহজ?

    –আস্তে আস্তে সহ্য হয়ে যাবে।

    –ঠিক আছে, ঠিক আছে, তোমাকে আর সান্ত্বনা দিতে হবে না!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleনিরুদ্দেশের দেশে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)
    Next Article তার চোখের তারায় – সায়ক আমান

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    নীললোহিতের অন্তরঙ্গ – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    আকাশ পাতাল – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    Ek Pata Golpo সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    নিরুদ্দেশের দেশে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 6, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026
    Our Picks

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    কড়িখেলা – সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }