Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026

    শিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়

    July 2, 2026

    ডঃ ডেথ – সায়ন্তনী পূততুণ্ড

    July 2, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়

    নির্বাণ রায় এক পাতা গল্প212 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    শিকার না শিকারি?

    ।। শিকার না শিকারি? ।।

    পা ফেলতেই কাঠের পোলটা ক্যাচ করে উঠল। দীর্ঘদিনের অযত্নে পাটাতনগুলো জায়গায় জায়গায় আলগা হয়ে গ্যাছে। সাবধানে এগোতে লাগলাম। চাঁদের আলোয় দক্ষিণের মাঠ রহস্যময় মূর্তি ধরেছে। আমার হৃৎপিণ্ডটা ধকধক শব্দে তার অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে।

    আমার পদচারণা দৃপ্ত নয়। হাতদু’টো বুকের কাছে জড়ো করা। আমার ঠোঁট কাঁপছে— ভগবানের নাম জপ করছি। শিয়ালের কোরাস শুনে চমকে উঠলেও দাঁতে দাঁত চেপে সে এগিয়ে চলেছি। আমার গন্তব্য দক্ষিণের জঙ্গল।

    পায়ে আজ চটি না, জুতো পরে এসেছি— ছোটার জন্য।

    যদিও তার হাত থেকে পালানো এত সহজ হবে বলে মনে হয় না। এত সহজ হলে কি পাপান পারত না? এতই সহজ হলে আবির কি পারত না পালাতে?

    এদিকের মাঠটা অনেক বেশি জঙ্গুলে। এদিকে আগে পুরোনো গাড়ি, বাসের কাটাই ঘর ছিল। সে কারখানাটা পরিত্যক্ত হানাবাড়ির মতো দাঁড়িয়ে রয়েছে।

    খানিক দূরেই জঙ্গলে ঢোকার আগে জং-ধরা গাড়ির লোহার লাশগুলো ইতস্তত ছড়িয়ে রয়েছে। মাঝেমধ্যে বড়ো গাছগুলো ডালপালা মেলে ঝাঁকড়া পাতার আলখাল্লায় ঢেকে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

    প্রচণ্ড ভয় করছে আমার, তাও আমি এসেছি। কেউ জোর করেনি।

    বাবা এসেছে কলকাতা থেকে। সব শুনেছে।

    আমার জায়গা বাবা নেবে বলেছিল, কিন্তু আমি জানি যে সেই শয়তান আমাকেই ডাকবে। হয় পাপানের গলায়, নয় আবিরের— হয়তো বা নীলুর।

    তাছাড়া বাড়িতে মা’কে একা রাখাটাও বুদ্ধিমানের কাজ হবে বলে মনে হয় না।

    আমি চাই না আমার মায়ের বা বৃষ্টির অবস্থাও বাকিদের মতোন হোক।

    বৃষ্টির কাছেও আমার অনেক কিছু প্রমাণ করার আছে। সকাল- বিকেল তেন্ডুয়ার কোমর জড়িয়ে বাইকে চেপে ওকে ঘুরে বেড়াতে দেখলে আমার শরীর জ্বালা করে। কান্না পায়।

    আমিও সাহসী। আমাকে প্রমাণ করতেই হবে।

    আমার শক্ত চোয়াল আর ঠান্ডা চাহনি দেখে না করেনি বাবা। বলেছে, “কথা দে বেঁচে ফিরবি।”

    মা’কে বলা হয়েছে আজ থানায় একটা মিটিং আছে।

    শিমুলগাছার অনেকে সারা রাত ওখানেই থাকব।

    তাও জানি যে মা আজ সারা রাত দু’চোখের পাতা এক করতে পারবে না।

    আজকে যদি আমাকে প্রাণও দিতে হয় দেব, আপত্তি নেই। কিন্তু আজই যেন শিমুলগাছায় ওই নরখাদকের শেষ রাত হয়।

    আমি জানি ঠিক কোন রাস্তা ধরে আমাকে এগোতে হবে। বুক কাঁপছে। ঘেমে নেয়ে গেছি। ডানদিকের বড়ো ঝাঁকড়া গাছটায় সাব ইনস্পেক্টর মণ্ডলকাকু আছে— দুর্দান্ত টিপ।

    আরও অনেকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে এদিক-ওদিক রয়েছে। বাঁপাশের কারখানার ভাঙা পাঁচিলের আড়ালে আছেন অর্ক রায়। যদিও এই প্রস্তাবে উনি নিমরাজি ছিলেন।

    কিন্তু আর উপায় ছিল না। প্রায় এক ডজন তাজা প্রাণকে কেড়ে নিয়েছে অজানা আততায়ী। এখন উনি বসে বসে কাগজ-কলম নিয়ে তদন্ত করবেন বললে শিমুলগাছার লোক ওঁকেই জ্যান্ত ছিঁড়ে খাবে।

    আর আততায়ী যে মানুষ, ওঁর এই বিশ্বাসে চিড় ধরেছে।

    ওঁর ধারণা ছিল মৃত মানুষের ডাকের গুজব ভীতু মফস্সলি কুসংস্কারী মানুষই রটিয়েছে। তবে আজ দেখলাম উনি চুপ করে রইলেন।

    বিশু আমার আমার কানে ফিসফিস করে বলল যে জিভখোরটা নাকি ক’দিন আগে ওঁকে অ্যাটাক করেছিল— কোনোমতে প্রাণে বেঁচেছেন।

    যেটাই হোক, আজ রাতেই যেন এর শেষ হয়। গত দু’রাত ধরে টোপের ছাগল হয়ে আমি আর তেন্ডুয়া সারারাত শিমুলগাছা চষে বেরিয়েছি— কিন্তু সে আসেনি। তবে বেশিদিন তার খিদের জ্বালাকে দমিয়ে রেখে নরখাদকটা লুকিয়ে থাকতে পারবে না বলেই আমাদের বিশ্বাস।

    আমাকে শুধু বন্দুকের রেঞ্জের মধ্যে থাকতে হবে। একটু এদিক- ওদিক হলেই বিপদ। শয়তানটাকে ফাঁদে ফেলা তো যাবেই না, আমাকেও বেঘোরে প্রাণটা খোয়াতে হবে।

    একটা প্যাঁচার ডাকে চমকে উঠেছিলাম। হঠাৎ পূর্বদিক থেকে ঝোপঝাড় ভেঙে ভারী কিছু একটা ছুটে আসার শব্দ পেলাম। কী আসছে? ওদিকে তো বিশুর থাকার কথা ছিল। বিশু ঠিক আছে তো?

    আমার ডানদিকের বড়ো ঝাড়টা একবার নড়ে উঠেই থেমে গেল। আতঙ্কে আমার গলা বুজে এল। জানি যে আমি বন্দুকের রেঞ্জের মধ্যেই আছি।

    অন্ধকার ঝোপের মধ্যে দু’টো জ্বলজ্বলে চোখ দেখতে পেলাম ঠিক অন্ধকারে কুকুর বেড়ালের চোখ যেমন জ্বলে। সে আমাকে দেখতে পেয়েছে। একটা তীব্র বুনো গন্ধ আমার নাকে এসে ধাক্কা মারল। চিৎকার করে কেঁদে উঠতে ইচ্ছে করছে।

    ওরা গুলি চালাচ্ছে না কেন? ওরা কি বুঝতে পারছে না? নাকি আমাকে আক্রমণ করা অবধি অপেক্ষা করতে চাইছে?

    ঝোপটা হালকা নড়ে উঠল— চোখজোড়া অদৃশ্য। কোথায় গেল? আমার কয়েকহাত সামনেই একটা বিশাল আমগাছের গোড়ার উঠে থাকা শিকড়ের পেছনে আবার ধক করে চোখদু’টো জ্বলে উঠল। মাপছে শিকারকে মাপছে— ফাঁদ কি না নিশ্চিত হয়ে নিতে হবে না?

    এবার কি তবে ঝাঁপিয়ে পড়বে আমার ওপর? আবার খসখস করে শুকনো পাতার শব্দ তুলে সে অদৃশ্য হল।

    আমার হাঁটু কাঁপছে। দরকার নেই শিকারের-

    যে যা পারে করুক। যে পারে মরুকগে যাক। আমি বাড়ি যেতে চাই। ঢের হয়েছে। আমি বাঁচতে চাই।

    গত দু’দিনের মতো আজও যেন আক্রমণ না আসে। আমার কান্না পাচ্ছে। আজ যেন আমি বেঁচে যাই। কাল থেকে যে আসে আসুক, আমি আর নেই।

    হঠাৎ বাঁদিকের একটা জং-ধরা গাড়ির আড়াল থেকে চাপা গলা ভেসে এল, “আমাকে দেখতে এলি?”

    আবির! আবিরের গলা!

    “আয় না, এগিয়ে আয়।”

    আবির ডাকছে, আমার মাথা ঠান্ডা হয়ে এল। হাঁটু আর কাঁপছে না। আমি এগিয়ে গেলাম। গাড়ির আড়ালে কেউ নেই। কোথায় গেল আবির? সঙ্গে সঙ্গে হাতপাঁচেক দূরে একটা পোড়ো বাসের লতাপাতায় মোড়া জং-ধরা খাঁচার পেছন থেকে ডাক এল, “এগিয়ে আয়। আয় না।”

    আমি নিশ্চিন্ত হলাম। এগিয়ে গেলাম। আমি জানি ওই বাসের পেছনে যাওয়া মানেই বন্দুকের নিশানা থেকে আড়াল হয়ে যাওয়া, কিন্তু আবির ডাকছে তো।

    “আয় না…”

    আমি মন্ত্রমুগ্ধের মতো এগিয়ে চললাম।

    “আয় না…”

    বাসের পেছনটা আলো আঁধারি।

    “আয় না…” আর দু’পা এগোতেই ফটফটে জ্যোৎস্নার আলোয় তাকে দেখতে পেলাম। মানুষের মতোই দু’পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়িয়েছে সে, কিন্তু গোরিলার মতো বিশাল লম্বা দু’হাতে মাটিতে ভর দিয়ে রেখেছে সে।

    গায়ের রং ধূসর। কাঁধের ওপর মাথাটায় দু’টো ভাঁটার মতো চোখ জ্বলজ্বল করছে। আমার ঘোর লেগে গ্যাছে।

    হালকা বাইকের গর্জন শুনতে পেলাম মনে হল। যেন বহুদুর থেকে কে আমায় ডাকছে। ডাকুক। এখন আসল ডাকে আমায় সাড়া দিতে হবে। তার ধারালো দাঁতে ঘেরা মুখগহ্বর থেকে জ্যান্ত সাপের মতো বেরিয়ে এসেছে একটা মোটা জিভ। ঝুলছে তার বুক অবধি। থেকে থেকে ময়াল সাপের মতো সেটা পাক খাচ্ছে।

    সেই জিভের গায়ে অসংখ্য টিউমারের মতো কী সব ঝুলে রয়েছে।

    তা মধ্যে একটা কেঁপে উঠল, “আয় না।” আবিরের গলা।

    ঠিক তার ওপরেরটা কেঁপে উঠল, “আসবিনি ভাই?” পাপানের গলা!

    ওগুলো জিভ। শিমুলগাছার হারিয়ে যাওয়া মানুষদের জিভ। আমি জানি যে আর দু’পা এগোলেই আমি বাসের আড়ালে— বন্দুকের নিশানার বাইরে।

    কিন্তু ওরা ডাকছে যে। আমার বন্ধুরা ডাকছে যে। আমি স্পষ্ট বুঝতে পারছি যে এগিয়ে গেলেই ওদের সঙ্গে দেখা হবে। “আয় না ভাই…”

    বিশাল জীবন্ত জিভটা পেন্ডুলামের মতো দুলছে। ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে আমার দিকে।

    “আবির! ভাই আসছি আমি…” বলে পা বাড়ানোর উপক্রম করতেই “ট্যাঁ-ট্যাঁ-ট্যাঁ-ট্যাঁ” শব্দে আমার গায়ে কাঁটা দিল।

    চটকা ভাঙল।

    পেছনের ঝোপের মধ্যে থেকে আবিরের অ্যালার্ম ঘড়ি বেজে উঠেছে।

    সামনের বীভৎস মূর্তিটাকে দেখে আমি আঁতকে উঠে পিছিয়ে আসার উপক্রম করতেই প্রকাণ্ড ময়াল সাপের মতো জিভটা আমার ডান-পা’টা পেঁচিয়ে ধরে একটা হ্যাঁচকা টান মারল।

    মারতেই আমি ধরাশায়ী হলাম। একই সঙ্গে গর্জে উঠল অনেকগুলো বন্দুক। নিশানা ফসকেছে।

    আমাকে ঝোপঝাড় পাথরের ওপর দিয়ে সে টেনে নিয়ে যেতে লাগল দক্ষিণের জঙ্গলের দিকে।

    উন্মাদের মতো চেঁচিয়ে উঠলাম, “বাঁচাও! আমাকে বাঁচাও গো।”

    কী ভয়ঙ্কর ক্ষমতা সেই কদাকার বিভীষিকার। অক্লেশে একটা গোটা মানুষকে টেনে নিয়ে চলেছে শুধু জিভের জোরে। পেছনে কোলাহল শুনতে পাচ্ছি।

    কাটা ঝোপে আমার সারা শরীর ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে। দক্ষিণের জঙ্গলে গিয়ে ঢুকলেই সব শেষ। মায়ের মুখটা মনে পড়ছে।

    বাইকের গর্জনটা এগিয়ে আসছে— বুলেট। একটা কানফাটানো শব্দ। আলোর ঝলকানিতে চোখ ধাঁধিয়ে গেল। আমার পা মুক্ত। চারিদিক টলছে।

    তাও কোনোমতে উঠে বসে দেখলাম যে সোজা একটা বাইক এসে ধাক্কা মেরেছে সেই বিভীষিকার পিঠে। ছিটকে একপাশে পড়ে রয়েছে তেভুয়া।

    প্রচণ্ড অভিঘাতে মাটিতে মুখ গুঁজে পড়ে হাতড়ে হাতড়ে ওঠার চেষ্টা করছে মূর্তিটা। অনেক মানুষের মিলিত গোঙানির শব্দ ভেসে আসছে তার জিভ থেকে।

    ঘটনার আকস্মিকতায় ঘাবড়ে গিয়ে জঙ্গলের পাখিগুলো প্রচণ্ড ওড়াউড়ি-ডাকাডাকি শুরু করেছে। কান ঝালাপালা হওয়ার জোগাড়। পেছনে বুটের শব্দ পাচ্ছি। প্রচণ্ড কোলাহল।

    আমি কোনোমতে শরীরটাকে ঘেঁষটে টেনে নিয়ে চিত হয়ে পড়ে থাকা তেন্ডুয়ার কাছে এগিয়ে গেলাম। তেন্ডুয়ার দু’চোখ বন্ধ। নাক দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে রক্ত। বুকে কান পাতলাম। স্পন্দন আছে। নিশ্বাস পড়ছে।

    ঝোপঝাড় ভেঙে দুদ্দাড় করে ছুটে এলেন অর্ক রায়।

    জিন্সের কোমর থেকে টর্চ বের করে ফেললেন মাটিতে। অন্য হাতে উঁচিয়ে রাখা পিস্তল।

    আমি ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলাম। কিন্তু কোথায় কী? টর্চের আলোয় খানিকটা কালচে চটচটে রক্ত ছাড়া মাটিতে আর কিচ্ছু পড়ে নেই।

    .

    পুলিশ চিফ প্রবীর মুখার্জি ওরফে বড়োবাবু দাঁড়িয়ে ছিলেন দক্ষিণের জঙ্গলের কিনারায়।

    বুটের অর্ধেকটা ডেবে গিয়েছে স্যাঁতসেঁতে মাটির ভেতর। বাতাসে পচা পাতার গন্ধ, তার সঙ্গে মিশে আছে বারুদ, কেরোসিন আর চর্বির একটা ভারী, গা-গোলানো ঘ্রাণ।

    পেছনে দক্ষিণের জঙ্গল। স্তরে স্তরে ছায়া জমে আছে, যেন শ্বাস নিচ্ছে।

    তাঁর পেছনে গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে কয়েকজন পুলিশ, আর তাদের সঙ্গে বাগদিপাড়ায় ডাকাবুকো কিছু ছেলে— যাদের সাধারণ অবস্থায় এখানে থাকার কথা নয়, কিন্তু থাকতে হয়েছে।

    মুখগুলো ফ্যাকাশে, কিন্তু চোয়াল শক্ত। হাতে লোহার রড, পুরোনো গেট, রেলিং ভেঙে তুলে আনা শিক।

    তখনই বড়োবাবুর কানে এল বাইকের গর্জন— একটা রক্ত জল করে দেওয়া চিৎকার।

    চোখ সরু করে বড়োবাবু দেখলেন বাইকটা একটা বড়ো গাছের গায়ে ধাক্কা খেয়ে আটকে আছে। হেডলাইটটা একবার জ্বলে উঠল, আবার নিভে গেল। বড়োবাবুর বুকের ভেতরটা ধক উঠল। এক মুহূর্তের জন্য তার মনে হল ছেলেটা বুঝি শেষ।

    তারপরেই সামনের বনটা হঠাৎই হয়ে উঠল জীবন্ত।

    ফড়ফড়িয়ে মোটা ত্রিপল ছেঁড়ার মতো শব্দ হল ঝোপঝাড় ভেদ করে কিছু একটা বেরিয়ে এল।

    হেঁটে নয়— ছুটে। খুব দ্রুত। খুব বিকৃতভাবে।

    একসঙ্গে সব টর্চ জ্বলে উঠল। আলোয় বনটা কুঁকড়ে গেল।

    লম্বা অঙ্গগুলো মাটিতে পড়ছে বিক্ষিপ্তভাবে। কোনো ছন্দ নেই। আঙুলগুলো ছড়ানো, প্রতিটা আঙুলের ডগায় লম্বাটে নখ— টর্চের আলো পড়তেই ঝলসে উঠছে, যেন সুইচব্লেড খোলা হচ্ছে।

    দেহটা মাঝপথেই ভাঁজ হচ্ছে, খুলছে। গাছের গুঁড়িকে হাতল বানিয়ে উঠে পড়ছে। ফের নেমে আসছে দ্রুততার সঙ্গে। তেন্ডুয়ার বাইকের ধাক্কায় সে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে।

    “সোজা আমাদের দিকেই আসছে,” কেউ একজন ফিসফিস করে বলল।

    বড়োবাবু হাত তুললেন।

    “লাইন ভাঙবি না,” গলা স্থির, বহু বছরের আদেশ দেওয়ার অভ্যেস।

    “ভীষণ ফাস্ট…”

    চারদিক থেকে ঘেরা পড়তেই প্রাণীটা ধীর হল। মাথা কাঁপছে। হঠাৎ এই সমান্তরাল আলোর দেয়াল দেখে সে বিভ্রান্ত।

    “গরররর্!”

    সামনে বড়োবাবু। সে ঝাঁপাল বড়োবাবুর দিকে। অনেকগুলো বন্দুকের গর্জনে রাতের নীরবতা চুরমার হয়ে গেল।

    চারদিক থেকে গুলি ঢুকল ওর শরীরে। বধ করতে অক্ষম কিন্তু কাঁপিয়ে দিয়েছে— ঝাঝরা করে দিয়েছে শতাব্দী প্রাচীন লাশটাকে, ওই জিভের আশ্রয়কে।

    দৌড়ের ছন্দ ভেঙে গেল। গলা থেকে বেরোল ভেজা, দমবন্ধ করা শব্দ।

    শব্দের ভেতরে জড়ানো আরও শব্দ— বাচ্চাদের কান্না, পুরুষের হাসি, নারীর চিৎকার— সব একসঙ্গে, তালগোল পাকিয়ে।

    হাঁপাতে হাঁপাতে দৌড়ে এল পিকু আর তেন্ডুয়া। পেছনে অর্ক রায়। তারা হাতে করে ভারী কিছু চাগিয়ে ধরে আছে।

    প্রাণীটা পিছিয়ে গিয়ে একটা খাঁজকাটা পাথরের গায়ে সজোরে আছড়ে পড়ল। আর তখনই তার ব্যাপারটা সবার সামনে পরিষ্কার হল।

    একটা বিশাল লোহার হুক গেঁথে আছে তার জিভের গভীরে। বঁড়শির মতো।

    মোটা, কুৎসিত, চকচকে জিভের ঠিক মধ্যিখানে একদম কুঁড়ে ঢোকানো।

    বাইক। গতি। ইচ্ছে করে করে ধাক্কা।

    হুকের সঙ্গে বাঁধা মোটা দড়ি এখন দানবের মুখ থেকে নোঙরের মতো ঝুলছে।

    “টান!” গর্জে উঠল তেভুয়া।

    পিকু আর প্রত্যয় দু’জন পা শক্ত করে দড়ি ধরে হ্যাঁচকা মারল।

    জিভটা প্রসারিত হল, মোচড়াতে লাগল নিজেকে।

    যেন সেই জিভের নিজের পেশি আছে, নিজের ইচ্ছা আছে। প্রাণীটা

    চেঁচিয়ে উঠল— একটা কণ্ঠ নয়, বহু কণ্ঠ, একসঙ্গে।

    বিশু হুড়মুড়িয়ে উঠে পড়ল বহু বছর ধরে পড়ে থাকা একখানা মরচে- খাওয়া গাড়িতে। তার ভেতর থেকে টেনে বের করল আগে থেকে লুকিয়ে রাখা মস্ত পিতলের বাটি।

    ভেতরে জমাট বাঁধা পশুর চর্বি।

    বড়োবাবু দেশলাই জ্বাললেন। জ্বলে উঠল। কাপল। তারপর জ্বলন্ত কাঠিটা তিনি ফেলে দিলেন চর্বির বাটিতে। ওপরে ছড়ানো ছিল কেরোসিন আর মোটা কাপড়ের সলতে।

    চর্বি জ্বলে উঠল গভীর, হিংস্র শব্দে। আগুনটা ঠিকঠাক লেগেছে।

    বাঁ দিক থেকে দৌড়ে এলেন অর্ক রায়। হাঁপাচ্ছেন।

    দু’হাতে ধরা বিশাল খাঁড়া— বাজারের রক্ষাকালী মন্দির থেকে নিয়ে আসা হয়েছে।

    এক মুহূর্তও থামলেন না তিনি। কোপ নামল।

    খচাৎ!

    কালচে রক্ত ছিটকে পড়ল পাথরের গায়ে। যে চিৎকারটা পাক খেয়ে দক্ষিণের মাঠের ওপর ভেসে উঠল তা সহ্য করার মতো নয়। হাজারটা চুরি করা কণ্ঠ যেন একসঙ্গে মুক্তি পেল।

    তারপর কানে তালা ধরিয়ে দেওয়ার মতো নিস্তব্ধতা।

    দেহটা সঙ্গে সঙ্গে ধসে পড়ল। কুঁকড়ে ছোট্ট হয়ে এল।

    চামড়া ভেতরের দিকে কুঁকড়ে গেল ভিজে যাওয়া কাগজের মতো শতাব্দীপ্রাচীন মমির মতো লাশটা সকলের চোখের সামনে সেটা পচে, ফেটে, ধূসর ধুলো হয়ে মিশে গেল দক্ষিণের মাঠে।

    কিন্তু জিভটা…

    জিভটা বেঁচে রইল।

    কাটা জিভটা মাটিতে পড়ে ছটকাতে লাগল কইমাছের মতো। মোটা, পেশিবহুল। অজগরের মতো আছড়াচ্ছে। লোকজন আতঙ্কে পিছিয়ে গেল।

    “ধর!” বড়োবাবু চেঁচালেন।

    দু’টো মস্ত লোহার সাঁড়াশি দিয়ে তাকে চেপে ধরল পানু আর ভোলা। তারা ছোটোগড় ঢালাই কারখানায় কাজ করে। লোহার মতো হাত তাদের।

     শক্ত প্যাঁচে আটকে গিয়ে জিভটা উন্মত্তভাবে ছটফট করতে থাকল। কালচে তরল ছিটকে পড়ল পুলিশের বুটে আর মাটিতে। সবাই মিলে তাকে হিঁচড়ে টেনে নিয়ে গিয়ে প্রকাণ্ড পেতলের পাত্রের আগুনের ভেতর ফেলে দিল।

    আবার রক্ত জল করা চিৎকার।

    আগুনের শিখা লাফিয়ে হল। মাংসখণ্ড ফাটতে লাগল। জিভটা ফুলে উঠল, ফোসকা পড়ল, কালো হয়ে গেল। গুটিয়ে আসতে লাগল কাঁচা কাঠের মতো।

    প্রায় শেষ।

    তখনই… ঠিক তখনই…

    ছিটকে বেরোল একটা টুকরো।

    ছোটো, ধোঁয়া ওঠা অংশটা আলগা হয়ে পড়ল মাটিতে। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই পায়ের ফাঁক দিয়ে গলে গেল সেটা।

    হইহই করে উঠল সবাই— “ধর রে! ওরে ধর রে! থেঁতলে দে…”

    ঘাসের মধ্যে দিয়ে এঁকেবেঁকে হেলে সাপের মতো চকিতে সে সেঁধিয়ে গেল দক্ষিণের জঙ্গলের অন্ধকারে।

    সবাই স্থির। বড়োবাবুর চোখে হতাশা। ধোঁয়ায় চোখ জ্বলছে। বুকের ভেতর তোলপাড়।

    তেন্ডুয়া মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ল মাটিতে। অর্ক রায় হতাশভাবে শরীরটাকে ছেড়ে দিলেন একটা জং-ধরা গাড়ির বনেটে।

    বিশু কেঁদে উঠল, “না না না না…”

    হঠাৎ সবাইকে চমকে দিয়ে দক্ষিণের জঙ্গলের মধ্যে থেকে খলখলিয়ে অট্টহাসি উঠল একটা। শিকারিদের পাথরের মূর্তি বানিয়ে দিয়ে সে হাসি পাক খেতে লাগল শিমুলগাছার আকাশে বাতাসে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleডঃ ডেথ – সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    Next Article সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026
    Our Picks

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026

    শিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়

    July 2, 2026

    ডঃ ডেথ – সায়ন্তনী পূততুণ্ড

    July 2, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }