Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সায়েন্স ফিকশন সমগ্র ৬ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল এক পাতা গল্প1092 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১০. আমাদেরকে যেখানে আটকে রেখেছে

    আমাদেরকে যেখানে আটকে রেখেছে সেটা মনে হয় বড় একটা বাসার উপরের তালার একটা রুম। রুমটায় ঢুকিয়ে মানুষগুলো আমাদের হাত পায়ের বাঁধন খুলে দিয়েছে তখন আমরা নিজেরাই চোখের বাধন খুলেছি, মুখের উপর লাগানো টেপটা খুলেছি। আমরা এখন একজন আরেকজনকে দেখতে পাচ্ছি, একজনের সাথে আরেকজন কথা বলতে পারছি। প্রথম কথা বলল ঝুম্পা, “আমি যদি এই হারামজাদাদের ভূঁড়ি ফাঁসিয়ে না দেই তাহলে আমার নাম ঝুম্পা না।”

    ফারা একটু অবাক হয়ে বলল, “তুই কেমন করে ভূঁড়ি ফাঁসাবি?”

    ঝুম্পা বলল, “জানি না।”

    আমি বললাম, “এরা অনেক ক্ষমতাবান। আমাদের কীভাবে ধরে এনেছে দেখেছিস?”

    বগা জানতে চাইল, “কেন ধরে এনেছে?”

    আমি বিরক্ত হয়ে বললাম, “সেটা এখনো বুঝতে পারছিস না গাধা কোথাকার? ওরা ধরে এনেছে ব্ল্যাকহোলের বাচ্চার জন্য।”

    “কী করবে ব্ল্যাকহোলের বাচ্চা দিয়ে?”

    “কী করবে মানে? তুই দেখছিস না ব্ল্যাকহোলের বাচ্চা দিয়ে কী করা যায়? আমরা আকাশ থেকে উড়ে এসেছি ছোট বিন্দি একটা ব্ল্যাকহোলের বাচ্চা দিয়ে আর তুই জিজ্ঞেস করছিস কী করা যায়?”

    মিঠুন কোনো কথা না বলে ঘরটা ঘুরে ঘুরে দেখল। একটা টেবিল একটা চেয়ার একপাশে একটা খাট, খাটে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন বিছানা। সাথে একটা ছোট হাইফাই বাথরুম। একটা জানালা বাসার ভেতরের দিকে আরেকটা জানালা বাইরের দিকে। সেদিকে তাকালে দেখা যায় দূরে উঁচু একটা বাউন্ডারী ওয়াল। বাউন্ডারী ওয়ালের অন্যপাশে কী আছে আমরা জানি না।

    মিঠুনকে কেমন জানি মনমরা দেখাল, এদিক সেদিক দেখে বলল, “শুধু শুধু আমার জন্যে তোদের কতো রকম যন্ত্রণা। আমি মানুষটাই অপয়া। যেখানে হাত দেই সেখানেই সর্বনাশ হয়ে যায়।”

    ফারা বলল, “তুই অপয়া হবি কেন? তোর কী দোষ? তুই হচ্ছিস আমাদের সায়েন্টিস্ট।”

    মিঠুন একটা নিশ্বাস ফেলে বলল, “এখন আমাদের কী করবে কে জানে! যদি মেরে ফেলে?”

    ঝুম্পা বলল, “মেরে ফেলবে? ফাজলেমী নাকী?”

    মিঠুন, “আমাদের ব্ল্যাকহোলের বাচ্চাটা আসলে অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ। অনেক বেশী।”

    মন খারাপ মনে হয় ছোঁয়াচে, মিনি মন খারাপ করে কথা বলা মাত্র আমার সবারই কম বেশী মন খারাপ হয়ে গেল। ঝুম্পা বলল, “আমাদের মেরে ফেলুক আর না ফেলুক আমার জীবন শেষ।”

    ফারা জিজ্ঞেস করল, “কেন তোর জীবন শেষ কেন?”

    “কতো রাত হয়েছে এখনো বাসায় যাই নাই, মামা মামী কী আমাকে বাসায় ঢুকতে দিবে? দিবে না। বাসা থেকে বের করে দিবে।”

    আমি বললাম, “সেইটা নিয়ে পরে চিন্তা করা যাবে, আগে দেখ এখন কী হয়।”

    বগা বলল, “খিদে লেগেছে।”

    আমরা সবাই অবাক হয়ে বগার দিকে তাকালাম, আমি গরম হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, “এরকম সময় তোর খিদে পেয়ে গেল?”

    “খিদে পেলে আমি কি করব?”

    “চুপ করে বসে থাকবি।”

    ফারা বলল, “ব্যাস অনেক হয়েছে, এখন আর নিজেদের মাঝে ঝগড়া করিস না।”

    আমরা তখন দেওয়ালে হেলান দিয়ে মেঝেতে বসে রইলাম। কী হয় দেখার জন্যে অপেক্ষা করতে থাকি। এর চাইতে কষ্টের কিছু আছে কী না কে জানে।

     

    ঘণ্টা খানেক পরে বাইরে পায়ের শব্দ পেলাম, দরজায় একটা শব্দ হল তারপর খুট করে দরজা খুলে গেল। দরজার বাইরে কালো পোষাক পরা একজন মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। মানুষটার উঁচু চোয়াল সরু ঠোঁট। নাকের নিচে নবাব সিরাজদৌল্লার মত চিকন গোঁফ।।

    মানুষটা দরজাটা বন্ধ করে আমাদের দিকে তাকাল। চোখের দৃষ্টির মাঝে কিছু একটা আছে যেটা দেখে কেমন যেন অস্বস্তি হয়, ভয় করে।

    মানুষটা ঘরের ভেতর হাঁটল, জানালায় দাড়িয়ে বাইরে তাকাল তারপর আবার হেঁটে টেবিলটার কাছে এসে চেয়ারে পা রেখে টেবিলটাতে বসল। তারপর মিঠুনের দিকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে বলল, “তুমি নিশ্চয়ই মিঠুন।”

    মিঠুন কোনো কথা বলল না।

    মানুষটা মুখের মাঝে হাসি হাসি ভাব এনে বলল, “যার নামে বিখ্যাত মিঠুনিয়াম তৈরী হবে?”

    আমরা চমকে উঠলাম, ব্ল্যাকহোলের বাচ্চাকে মিঠুনিয়াম নাম দেওয়ার কথাটা বলেছিল ঝুম্পা, আমরা তখন ছিলাম আকাশে। এই মানুষ সেই কথা কেমন করে জানল? মানুষটা বলল, “আমার কিন্তু ব্লাকহোলের বাচ্চা নামটাই পছন্দ। এই নামটার মাঝে একটা ক্যারেক্টার আছে। ব্লা-ক-হো-লে-র বাচ-চা।” কথা শেষ করে মানুষটা হা হা করে হাসল। তখন দেখলাম তার মুখের ভিতর অনেকগুলো সোনার দাঁত, দেখে কেমন যেন ভয় ভয় লাগে। মনে হয় এটা মানুষের মুখ না এটা রাক্ষসের মুখ।

    মানুষটা হঠাৎ হাসি বন্ধ করে বলল, “ইউনিভার্সের নাইটি সিক্স পার্সেন্ট আমরা জানি না সেই লাইন্টি সিক্স পার্সেন্টকে টিপে তুমি ব্ল্যাকহোল বানিয়ে ফেলেছ–এটা কী সোজা কথা নাকী? তুমি তো অনেক কামেল মানুষ।”

    ঝুম্পা জিজ্ঞেস করল, “আপনি কেমন করে এসব কথা জেনেছেন?”

    “আমি সব জানি।” মানুষটা মুখ গম্ভীর করে বলল, “এই দেশের কোথায় কী হয় কে কী কথা বলে কার সাথে কখন কী কথা বলে আমি সব জানি। এটা হচ্ছে আমার চাকরী।”

    মিঠুন এই প্রথম একটা কথা বলল, “আপনি আমাদেরকে কেন ধরে এনেছেন?”

    “তোমাদেরকে ধরে না আনলে কী এই রকম খোলামেলা কথা বলতে পারতাম?”

    “আপনার সাথে তো আমাদের বলার কিছু নাই।”

    “আছে।”

    “কী কথা?”

    “মিনিয়াম নামটা আমার পছন্দ না। আমার পছন্দ হচ্ছে জামশেদিয়াম। বুঝেছ? জামশেদিয়াম। কেন বুঝেছ?”

    আমি বললাম, “আপনার নাম জামশেদ”

    “হ্যাঁ। আমি মেজর জামশেদ। তোমাদের ব্ল্যাকহোলের বাচ্চা আসলে বাচ্চা কাচ্চার জিনিষ না। এটা হচ্ছে বড়দের জিনিষ। তাই এটা বড়দের হাতে থাকা ভাল। এটার নামও হওয়া উচিত বড়দের নামে। বুঝেছ?”

    আমরা কেউ কোনো কথা বললাম না। জামশেদ নামের মানুষটা গম্ভীর মুখে বলল, “এখন এই ব্যাপারটা নিয়ে কথা বলি। জিনিষটা খুব সহজে কীভাবে করা যায় বল দেখি?”

    আমি বললাম, “এটা করা সম্ভব না। এটা মিঠুন আবিষ্কার করেছে এটা সবসময়ে মিঠুনের নামে থাকবে।”

    মানুষটা আমার কথা শুনে খুব অবাক হয়েছে এরকম ভাব করে বলল, “ও আচ্ছা! তাই নাকী?”।

    আমি মাথা নাড়লাম, বললাম, “হ্যাঁ।”

    “তোমার নামটা যেন কী? বগা নাকি ইবু?”

    “ইবু।”

    “শোনো ইবু–আমি বেয়াদপ ছেলে ছোকড়া পছন্দ করি না। বুঝেছ? এখন থেকে আমি পারমিশান না দিলে কোনো কথা বলবে না। শুধু শুনে যাবে। বুঝেছ?”

    আমরা কেউ কোনো কথা বললাম না। জামশেদ নামের মানুষটা বলল, “আমি তোমাদের ফ্লাইং মেশিন তুলে নিয়ে এসেছি। এর ভিতরে আছে তোমাদের ব্ল্যাকহোলের বাচ্চা। দড়ি দিয়ে বাঁধা এই যন্ত্র খুলে সেই ব্লাকহোলের বাচ্চা বের করতে সময় লাগবে পনেরো মিনিট। কাজেই ধরে নাও ব্ল্যাকহোলের বাচ্চাটা এখন আমার। আমি এখন তোমাদেরকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিতে পারি। কেন বের করছি না বল দেখি?”

    আমরা কোনো কথা বললাম না। জামশেদ বলল, “ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করছি না কারণ বের হয়েই যদি ইন্দুরের বাচ্চার মত প্যানপ্যানানী শুরু কর? কোনো ফাজিল সাংবাদিকেরা যদি তোমাদের কথা বিশ্বাস করে ফেলে? সেই ছাগল সাংবাদিক যদি তোমাদের কথা বিশ্বাস করে রিপোর্ট করে ফেলে তখন একটা কাজ বাড়বে। রিপোর্টারকে ফিনিস করতে হবে। সেইটা অবশ্যি সমস্যা না, আমি মাসে দুই চারটা সাংবাদিক জুতো দিয়ে পিশে ফেলি।” কথা শেষ করে মানুষটা চেয়ারে তার পা দিয়ে পিষে ফেলার অভিনয় করে দেখাল।

    মেজর জামশেদ নামে মানুষটার মুখের দিকে তাকিয়ে আমার শরীরটা কেমন যেন শির শির করতে থাকে। সর্বনাশ! কি ভয়ংকর মানুষ।

    জামশেদ একটু দম নিল তারপর বলল, “কাজেই আমাকে একটা জিনিষ নিশ্চিত করতে হবে, সেটা হচ্ছে তোমরা এখান থেকে বের হয়ে যেন আলতু ফালতু কথা না বল। বুঝেছ? আমার কথা বুঝেছ?”

    তার কথা বুঝতে আমাদের কোনো সমস্যা হল না। কিন্তু আমরা কোনো কথা বললাম না, চুপ করে রইলাম। জামশেদ আরেকটা কী কথা বলার জন্যে তার চকচকে সোনার দাঁত বের করে মুখ হা করল ঠিক তখন তার টেলিফোন বাজল। সে টেলিফোনের দিকে তাকিয়ে কেমন যেন কাচুমাচু হয়ে গেল। টেলিফোনটা ধরে সোজা হয়ে দাড়িয়ে গিয়ে হড়বড় করে বলল, “ইয়েস স্যার। মালিকুম স্যার।”

    টেলিফোনের অন্য পাশ দিয়ে কে কী বলছে আমরা শুনতে পেলাম না কিন্তু মনে হল মানুষটা অনেক বড় অফিসার আর সেই বড় অফিসার জামশেদকে একটা ধমক দিল। জামশেদ আরো কাঁচুমাচু হয়ে বলল, “সরি স্যার। ভুল হয়ে গেছে স্যার। ছেলেমেয়েগুলোকে রিকভার করে ভেহিকেলটা নিয়ে ফিরে আসতে আসতে দেরী হয়ে গেছে স্যার। আই অ্যাম সরি স্যার আমার আরো আগে রিপোর্ট করা উচিৎ ছিল স্যার। আর ভুল হবে না স্যার।”

    মনে হল বড় অফিসারটা বলল যে সে আমাদের দেখতে আসবে সেটা শুনে জামসেদ খুব ব্যস্ত হয়ে বলল, “না না না স্যার। আপনার আসার কোনো দরকার নাই স্যার। কোনো দরকার নাই স্যার। দে আর লাইক স্ট্রীট আরফিন। স্যার, মহব্বতজান স্কুলের ছাত্র তাই বুঝতেই পারছেন চাল চুলো নেই কিছু বদ ছেলে মেয়ে স্যার। নো ডিসিপ্লিন ইন লাইফ স্যার। স্যার, ওদের দেখলে আপনার মন খারাপ হবে স্যার।”

    জামশেদ মনে হল তার বড় অফিসারকে খুব ভয় পায়। প্রত্যেকটি বাক্যের আগে এবং পরে স্যার বলছে। তার বড় অফিসার মনে হয় ফ্লাইং মেশিন নিয়ে কিছু একটা জিজ্ঞেস করল, কারণ জামশেদ মুখ শক্ত কর বলল, “নো স্যার। আকাশে ওড়ার ভেহিকেলটা ইজ নট সায়েন্টিফিক স্যার। এই বদ ছেলেমেয়ে গুলোর মাথায় অনেক বদবুদ্ধি স্যার। একটা ঝুড়ির সাথে। হান্ড্রেডস এন্ড হান্ড্রেডস অফ বেলুন লাগিয়েছে স্যার। গ্যাস বেলুন। এতো বেলুন কোথা থেকে ম্যানেজ করেছে গড় অনলি নোজ স্যার। আমাদের রাডারে বেলুন ধরা পড়েনি, শুধু ঝুড়ি আর ঝুড়ির মাঝে ছেলে মেয়েগুলো ধরা পড়েছে। সেই জন্যে মনে হয়েছে কোনো ধরণের ফ্লাইং মেশিন স্যার। আসলে খুব জোরাস একটা সিচুয়েশন স্যার। স্যার, চরম পাবলিক নুইসেন্স স্যার। যে কোনো রকম একসিডেন্ট হয়ে যেতে পারত স্যার। বদ ছেলেমেয়ে গুলো মারা যেতে পারত স্যার। তাদের খুব কপাল ভাল আমরা তাদের রক্ষা করেছি স্যার।”

    আমাদের মনে হল জামশেদের বড় অফিসার এবারে ব্ল্যাকহোলের বাচ্চা নিয়ে কোনো একটা প্রশ্ন করল, জামশেদ তখন হা হা করে হাসার মত একটা শব্দ করল, বলল, “স্যার এটা একটা জোক স্যার। মাইক্রো রাকহোল, মাস এনার্জী কনভারসান এগুলো একেবারেই বাজে কথা স্যার। এই ছেলেমেয়েগুলো এই কথাগুলোর মানে জানা দূরে থাকুক শব্দগুলো। বানানই করতে পারবে না স্যার। নিজেদের ভিতরে এগুলো নিয়ে কথা বলতো, ভাব দেখাতো স্যার। ফাজিল ছেলেমেয়ে তো, কী বলে কী না বলে তার কোনো ঠিক ঠিকানা নেই স্যার।”

    বড় অফিসার মনে হল জামশেদের কথা পুরোপুরি বিশ্বাস করল না। জামশেদকে অনেকভাবে বোঝাতে হল যে আমরা খুবই ফালতু টাইপের ছেলে মেয়ে একটা ঝুড়ির মাঝে অনেকগুলো গ্যাস বেলুন বেঁধে আকাশে উড়ে গেছি। শেষ পর্যন্ত মনে হয় অফিসারটা জামশেদের কথা বিশ্বাস করল। জামশেদ তখন বলল, “এই ছেলেমেয়েগুলোকে আজ রাত আটকে রেখে কাল ছেড়ে দিব স্যার। স্কুলে বাসায় সব জায়গায় ওয়ার্নিং দিয়ে দেব স্যার। স্যার আপনি কোনো চিন্তা করবেন না স্যার। আমি সব ব্যবস্থা করব স্যার। এই ছেলে মেয়েগুলো খুবই ফালতু এদেরকে বেশী গুরুত্ব দেওয়া ঠিক হবে না স্যার।”

    জামশেদ ঠিক যখন টেলিফোনটা রেখে দেবে তখন ঝুম্পা চিৎকার করে উঠল, “মিথ্যা কথা! সব মিথ্যা কথা।”

    জামশেদ সাথে সাথে টেলিফোনে মাইক্রোফোনটা হাত দিয়ে চেপে ধরে যেন ঝুম্পার কথাটা অন্যদিকে শুনতে না পায়। বড় অফিসার শুনতে পেলো কী না বোঝা গেল না জামশেদ টেলিফোনটা কানে লাগিয়ে কিছু একটা শুনল, তারপর টেলিফোনটা বন্ধ করে কিছুক্ষণ সেটার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর টেলিফোনটা পকেটে রেখে ঝুম্পার দিকে তাকিয়ে হিংস্র গলায় বলল, “তোর এতো বড় সাহস?”

    ঝুম্পা বলল, “আমি জানি। এইটা আমার বড় সমস্যা।”

    “তোর কল্লা আমি ছিড়ে ফেলব।”

    “সমস্যা নাই। আমার কল্লা আমার কোনো কাজে লাগে না।”

    জামশেদ নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারল না, ঝুম্পার দিকে বিস্ফারিত চোখে তাকিয়ে রইল, তারপর তার সোনার দাঁত কিড়মিড় কিড়মিড় করতে করতে ঝুম্পার দিকে এগিয়ে এল। কাছাকাছি এসে খপ করে ঝুম্পার চুল ধরার চেষ্টা করল। কিন্তু হঠাৎ কী ঘটে গেল বুঝতে পারলাম না, দেখলাম “বাবাগো” বলে জামশেদ তার দুই পায়ের মাঝখানে ধরে মাটিতে পড়ে গেছে। ঝুম্পা প্রচণ্ড একটা লাথি মেরেছে, এমন বেকায়দা জায়গায় মেরেছে যে জামশেদের মতন মানুষ পর্যন্ত কাবু হয়ে গেছে।

    জামশেদ চোখ বন্ধ করে কয়েকটা নিশ্বাস নিল, তারপর ডান হাত পকেটে ঢুকিয়ে একটা রিভলবার বের করে আনে। রিভলবারটা সরাসরি ঝুম্পার দিকে তাক করে ঝুম্পাকে অসম্ভব খারাপ একটা গালি দিল, তারপর বলল, “বেজন্ম কোথাকার। তুই জানিস না তুই কী করেছিস? আমাকে তুই চিনিস না?”

    জামশেদ কী করত আমরা জানি না। মনে হয় আসলেই গুলী করে দিত, কিন্তু ঠিক তখন জামশেদের পকেটে টেলিফোনটা বেজে উঠে। জামশেদ এক হাতে রিভলবারটা ঝুম্পার দিকে তাক করে অন্য হাতে টেলিফোনটা বের করে নম্বরটা দেখল সাথে সাথে তার মুখের চেহারা পাল্টে গেল। যে টেলিফোনটা নিজের কানে লাগিয়ে চাপা গলায় বলল, “ইয়েস।”

    জামশেদ টেলিফোনটা হাত দিয়ে আড়াল করে রেখে চাপা গলায় কথা বলতে থাকে। কথা বলে ইংরেজীতে ইংরেজী আমি ভালো বুঝি না। কী বলছে আমরা ভালো করে শুনতেও পাচ্ছি না, সে কষ্ট করে উঠে দাঁড়িয়ে ঘরের এক কোনায় সরে গেল। কথা শুনতে না পারলেও আঁমাদের বুঝতে সমস্যা হল না যে কোনো কিছু নিয়ে দর কষাকষি হচ্ছে, “মিলিওন ডলার” কথাটা মনে হয় কয়েকবার বলা হল। আরেকটা শব্দ শুনতে পেলাম সেটা হচ্ছে “নিউক্লিয়ার বম্ব”।

    জামশেদ কথা শেষ করে আমাদের দিকে তাকাল, তার মুখ দেখে মনে হল সে আপাতত ঝুম্পাকে শাস্তি দেওয়ার চিন্তা বাদ দিয়েছে। তার চোখে মুখে এক ধরনের অস্থিরতা। রিভলবারটা মিঠুনের দিকে তাক করে বলল, “সাইনটিস্ট! তোকে দশ মিনিট সময় দিচ্ছি। এর মাঝে ব্ল্যাকহোলের বাচ্চা বের করে আমার হাতে দিতে হবে। আয় আমার সাথে।”

    জামশেদ একটু আগে আমাদের সাথে তুমি তুমি করে বলছিল, বেকায়দা জায়গায় ঝুম্পার লাথি খেয়ে এখন তুই তুই করে বলছে। জামশেদ রিভলবারটা দিয়ে মিঠুনকে আবার ইঙ্গিত করল, “আয় তাড়াতাড়ি।”

    মিঠুন মাথা নাড়ল, বলল, “সম্ভব না।”

    জামশেদ মুখ খিচিয়ে বলল, “আমি কোনো কথা শুনতে চাই না। আয়।”

    মিঠুন বলল, “ফ্লাইং মেশিন বানাতে কয়েক সপ্তাহ লেগেছে আমি দশ মিনিটে সেটা কেমন করে খুলে ফেলব?”

    “পুরোটা খুলতে কে বলেছে? শুধু ব্ল্যাকহোলের বাচ্চাটা খুলে আমাকে দিবি। আয় আমার সাথে।

    মিঠুন নড়ল না। জামশেদ তখন রিভলবারটা ঝুম্পার দিকে তাক করল, বলল, “আমি দশ পর্যন্ত গুনব। এর মাঝে যদি না আসিস এই বেজন্মাকে গুলি করে দিব।”

    ঝুম্পা বলল, “এর কথা বিশ্বাস করিস না মিঠুন। গুলি করা এতো সোজা না?”

    আমরা ঝুম্পার সাহস দেখে অবাক হলাম। ঝুম্পা ঠিকই বলে, এই সাহসটাই তার বড় সমস্যা। জামশেদ গুনতে শুরু করল আর পাঁচ পর্যন্ত যেতেই মিঠুন বলল, “ঠিক আছে আমি চেষ্টা করতে পারি।”

    জামশেদ বলল, “আয় তাহলে। অন্য সবাই এই ঘরের মাঝে থাক।”

    মিঠুন বলল, “একা আমার পক্ষে সম্ভব না। সবাইকে লাগবে।”

    জামশেদ ধমক দিয়ে বলল, “সবাইকে পাবি না। খালি একজনকে নিতে পারবি। কাকে নিবি?”

    মিঠুন বলল, “আমার সবাইকে লাগবে। অনেক কিছু খুলতে হবে।”

    জামশেদ তখন হাল ছেড়ে দিল, বলল, “ঠিক আছে, সবাই আয় তাহলে। সাবধান কেউ কোনো তেড়িবেড়ি করিব না। খুন করে ফেলব।”

    আমরা একে একে ঘর থেকে বের হলাম। জামশেদ কেমন জানি ছটফট করছে, মনে হতে থাকে হঠাৎ করে তার ভেতরে কোনো একটা তাড়া চলে এসেছে। আমাদের মাথার পিছনে রিভলবারটা ধরে আমাদেরকে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামিয়ে আনে। তারপর বারান্দা দিয়ে আমাদের হটিয়ে নিয়ে গেল। ঘরের শেষ মাথায় হলঘরের মত একটা ঘরের সামনে গিয়ে সে চাবি দিয়ে তালা খুলে ভেতরে ঢুকল। সুইচ টিপে আলো জ্বালাতেই আমরা দেখতে পেলাম ঘরের মাঝখানে আমাদের ফ্লাইং মেশিন। জামশেদ কাছাকাছি রাখা ছোট একটা টেবিলের ওপর থেকে একটা টুল বক্স নিয়ে মিঠুনের হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল, “নে, খোল।”

    মিঠুন টুল বক্সটা মেঝেতে উপুর করে ঢেলে দিল, চারিদিকে স্কু ড্রাইভার, প্লয়ার্স, ফাইল, হ্যাকস, সল্ডারিং আয়রণ এইসব ছাড়িয়ে পড়ল। মিঠুন মুগ্ধ দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ এগুলো দেখল তারপর একটা ডায়াগনাল কাটার নিয়ে কাজ শুরু করে দিল। জামশেদ পা দাপিয়ে বলল, “তাড়াতাড়ি, তাড়াতাড়ি।”

    মিঠুন ফ্লাইং মেশিনের তলায় ঢুকে কিছু জিনিষ কেটে ফেলল। স্কু ড্রাইভার দিয়ে বেশ কয়েকটা স্কু নিচের অংশটা নামিয়ে আনে। আমরা মিঠুনকে ঘিরে দাঁড়িয়ে রইলাম, তার কাজে তাকে সাহায্য করতে লাগলাম। ফ্লাইং মেশিন ওড়ার সময় যে টিউবগুলো দিয়ে আগুনের মত গরম বাতাস বের হয় সেটা খোলার পর মূল ইঞ্জিনটা চোখে পড়ল। স্টেনলেস স্টিলের একটা সিলিন্ডার সেখান থেকে অনেকগুলো তার বের হয়ে এসেছে। মিঠুন সাবধানে সিলিন্ডার আর তার বের করে আনে, তারের এক মাথায় কয়েকটা নয় ভোল্টের ব্যাটারী ঝুলছে।

    মিঠুন সব কিছু মেঝেতে রেখে জামশেদকে বলল, “এই যে এখানে ব্ল্যাকহোলের বাচ্চা।”

    জামশেদ অধৈর্য হয়ে বলল, “এতো বড় সিলিন্ডার কেমন করে নিব। খুলে বের করে দে যেন পকেটে নেয়া যায়। আমি জানি তুই এটা পকেটে নিয়ে ঘুরিস। তোদের সব কথা আমার রেকর্ড করা আছে।”

    কাজেই মিঠুন সিলিন্ডারটা খুলতে শুরু করে, ভেতরে ছোট একটা শিশি যার দুই পাশে এলুমিনিয়ামের ফয়েল লাগানো সেখান থেকে দুটো তার বের হয়ে এসেছে, সেগুলো ব্যাটারীর সাথে লাগানো। তার দুটো একসাথে করলেই বোতল থেকে আগুনের হলকার মত প্লাজমা বের হয়ে আসবে। যদি কোনোভাবে শিশিটা জামশেদের দিকে মুখ করে তার দুটি ছুইয়ে দেয়া যায় তাহলেই জামশেদ পুড়ে কাবাব হয়ে যাবে। কিন্তু একটা মানুষকে পুড়িয়ে মারা মিঠুনের পক্ষে কিংবা আমার পক্ষে সম্ভব না। আমাদের হাতে এতো বড় একটা অস্ত্র তারপরেও আমরা কিছু করতে পারছি না, জামশেদ আমাদের মাথার পিছনে রিভলবার ধরে রেখেছে, ব্যাপারটা সেও জানে।

    মিঠুন বলল, “এই শিশির ভেতরে, ব্ল্যাকহোলের বাচ্চা আছে।”

    “প্রমাণ করে দেখা।”

    “খুব ডেঞ্জারাস। একসিডেন্ট হতে পারে।”

    “আই ডোন্ট কেয়ার। কানেকশান দিয়ে দেখা ভেতর থেকে এনার্জী বের হয় তা না হলে খুন করে ফেলব।”

    আমি বললাম “মিঠুন, আমাকে শিশিটা দে আমি ধরে রাখি। তুই কানেকশান দে।”

    “ছেড়ে দিস না যেন। অনেক জোরে ধাক্কা দিবে।”

    “ছাড়ব না।”

    মিঠুন তখন আমার হাতে শিশিটা দিয়ে তার দুটো এক মুহূর্তের জন্য স্পর্শ করল। আমার মনে হল হঠাৎ করে শিশিটা ধাক্কা দিয়ে পিছনে যেতে চাইছে, আমি শক্ত করে ধরে রাখলাম আর তখন ভেতর থেকে নীল রংয়ের আলোর একটা ঝলকানী বের হয়ে সাপের মত পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে ছাদকে আঘাত করল। ছাদ থেকে কিছু প্যালেস্তারা ঝুরঝুরি করে নিচে খসে পড়ল।

    জামশেদের মুখে বিচিত্র একটা হাসি ফুটে উঠল, জিব দিয়ে সুড়ৎ করে ঝােল টেনে নেয়ার মত শব্দ করে বলল, “চমৎকার। এখন ব্যাটারীর কানেকশন খুলে দে।”

    মিঠুন শিশির সাথে লাগানো ব্যাটারী তার এলুমিনিয়াম ফয়েল সবকিছু দেখে একটা নিশ্বাস ফেলে বলল, “সময় লাগবে। শিশিটা ভেঙ্গে যেতে পারে এটা এইভাবে খোলা যাবে না।”

    “কেন খোলা যাবে না?”

    “এটা পুরোপুরি একটা সার্কিট। একটিভ সার্কিট। হঠাৎ করে টেনে খুলে দিলে যদি একটা ভোল্টেজ সার্জ যায় আমরা সবাই উড়ে যাব। ছোটখাট একটা নিউক্লিয়ার বোমা হয়ে যাবে। এটা এভাবেই নিতে হবে, শুধু লক্ষ রাখতে হবে যেন তার দুটো ছুঁয়ে না যায়, কিংবা সার্কিটে হাত না লাগে।”

    জামশেদের কথাটা পছন্দ হল না, হুংকার দিয়ে বলল, “আমি এতো কথা বুঝি না। সবকিছু খুলে দিয়ে শুধু শিশিটা দে।”

    “সম্ভব না। আপনি সাবধানে নিয়ে যান তাহলেই তো হল

    ঠিক তখন বাইরে একটা গাড়ীর শব্দ হল আর সাথে সাথে জামশেদের মুখটা কেমন যেন ফ্যাকশে হয়ে গেল। জামশেদ বলল, “ওহ নো!”

    আমাদেরকে কেউ বলে দেয়নি, কিন্তু আমরা হঠাৎ বুঝে গেলাম জামশেদের বড় অফিসার নিজের চোখে সবকিছু দেখার জন্যে চলে এসেছেন। জামশেদ হাত বাড়াল, “শিশিটা দে।”

    শিশিটা আমার হাতে, আমি বললাম, “দেব না।”

    সাথে সাথে জামশেদ রিভলবারটা মিঠুনের মাথায় ধরল, বলল “তোরা এখনো বুঝতে পারছিস না কার সাথে কী নিয়ে ইয়াকী করছিস। খেলতে খেলতে এই জিনিষ তোরা তৈরী করেছিস কিন্তু এখন এটা আর খেলনা না। এটার জন্য সারা পৃথিবীর সবাই ছুটে আসছে। সময় নষ্ট করবি না। দে।”

    “দেব না।” মিঠুন বলল, “দিয়ে দে ইবু।”

    “সত্যি দিয়ে দেব?”

    “হ্যাঁ। দিয়ে দে।”

    আমি একটা নিশ্বাস ফেলে ব্ল্যাকহোলের বাচ্চাটা জামশেদের হাতে তুলে দিলাম। জামশেদ এটা সাবধানে নিল তারপর বুক পকেটে রাখল, তার দুটো সরিয়ে রাখল যেন একটা আরেকটার সাথে ভুলে লেগে না যায়। তারপর রিভলবারটা প্যান্টে গুজে নিয়ে ঘর থেকে বের হল।

    আমরাও পিছন পিছন বের হলাম, দেখলাম বাসার সামনে একটা জীপ থেমেছে আর সেখান থেকে মাঝ বয়সী একজন মানুষ নেমে আসছে। মানুষটি জামশেদকে দেখে বলল, “এই যে জামশেদ। আমি তোমাকে খুঁজছি।”

    “জী স্যার।” জামশেদ বলল, “জী স্যার ইয়ে মানে আমি স্যার”

    “ছেলে-মেয়েগুলো কোথায়? তোমার সাথে যখন কথা বলছিলাম তখন মনে হল পিছন থেকে একটা বাচ্চা–”

    “জী স্যার। জী স্যার। বাচ্চা আছে স্যার। জামশেদ হাত দিয়ে সাবধানে বুক পকেটটা ধরে রেখে বলল, “আমি আসছি স্যার।”।

    “তুমি আসছ মানে? কোথা থেকে আসছ? আমি ছেলেমেয়েগুলোকে দেখতে চাই।”

    “অবশ্যই দেখবেন স্যার।” বলে জামশেদ সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে যেতে থাকে। আমরা স্পষ্ট বুঝতে পারলাম, সে এক্ষুণি এক দৌড় দিয়ে পকেটে করে ব্ল্যাকহোলের বাচ্চা নিয়ে পালিয়ে যাবে। আমি তখন চিৎকার করে বললাম, “ব্ল্যাকহোলের বাচ্চা নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। ধর ধর।”

    ধর ধর কথাটাতে একটা ম্যাজিক আছে। যখনই ধর ধর বলা হয় তখনই যাকে বলা হয় সে কেমন জানি ভয় পেয়ে জান নিয়ে পালাতে থাকে। এখানেও তাই হল, হঠাৎ করে জামশেদ চোরের মত পালাতে শুরু করল। আর আমরা ধর ধর বলে তাকে ধাওয়া করতে লাগলাম। সবার আগে ছুটে গেল ঝুম্পা আমি স্পষ্ট বুঝতে পারলাম সে যে কোনো মুহূর্তে জামশেদকে ল্যাঙ মেরে নিচে ফেলে দিয়ে ঝুম্পা বুকের উপর চেপে বসবে।

    তখন যেটা ভয় পাচ্ছিলাম ঠিক সেটা ঘটল। জামশেদ হঠাৎ দাড়িয়ে বলল, “খামোশ।” তারপর প্যান্টে গুজে রাখা রিভলবারটা বের করে আমাদের দিকে তাক করে ধরে বলল, “এক পা এগোলেই শেষ করে দেব।” বলে সে যে ঠাট্টা করছে না সেটা বোঝানোর জন্যে রিভলবারটা দিয়ে উপরের দিকে গুলি করল। গুলির শব্দ শুনে আমরা সবাই কেমন যেন ভ্যাবেচেকা খেয়ে গেলাম।

    জামশেদকে হঠাৎ কেমন যেন হিংস্র দেখায় সে রিভলবারটি এদিক সেদিক নাড়তে থাকে তারপর গাড়ীর ড্রাইভারের দিকে তাক করে বলল, “চাবি।“

    ড্রাইভার বলল, “চাবি? কেন?”

    জামশেদ হুংকার দিল, বলল, “কথা বলবে না, চাবি দাও।”

    ড্রাইভার বড় অফিসারের দিকে তাকিয়ে বলল, “স্যার কী করব?”

    “দিয়ে দাও। চাবিটা দিয়ে দাও।”

    ড্রাইভার পকেট থেকে চাবিটা বের করে জামশেদের হাতে ধরিয়ে দিল।

    জামশেদ গাড়ীটার দরজা খুলে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করল, ঠিক তখন ঝুম্পা ছুটে গিয়ে চিৎকার করে পিছন থেকে জামশেদের গলা ধরে ঝুলে পড়ল।

    সাথে সাথে একটা তুলকালাম কাণ্ড ঘটে গেল, জামশেদ ঝুম্পাকে ঝেড়ে ফেলার জন্যে একটা ঝাঁকুনি দিল, কোনো লাভ হল না। ঝুম্পা ঝুলেই রইল। আমরাও ছুটে গেলাম জামশেদকে ধরার চেষ্টা করলাম, আর এই হুটোপুটির মাঝে গাড়ীর ড্রাইভার জামশেদের মুখে একটা ঘুষি মেরে দিল। বগা তার চিকন পা দিয়ে জামশদকে লাথি দিল, আর বারান্দা থেকে বড় অফিসার, “সাবধান! সাবধান! গুলি করে দেবে–গুলি করে দেবে—” বলে চিৎকার করতে করতে নিচে নেমে এলেন।

    জামশেদ সত্যি সত্যি কয়েকটা গুলি করল, কিন্তু কপাল ভালো সেটা করো গায়ে লাগল না। ড্রাইভার জামশেদকে আরেকটা ঘুষি দিয়ে তাকে চেপে ধরল, বড় অফিসার এসে জামশেদের রিভলবার ধরে রাখা হাতটা মুচড়ে ধরলেন আর জামশেদ যন্ত্রণার শব্দ করে রিভলবারটা ছেড়ে দিল।

    সারাক্ষণ মিঠুন চিৎকার করে যাচ্ছিল, জামশেদকে নিয়ে হুটোপুটির কারণে কেউ তার চিৎকার শুনতে পাচ্ছিল না, জামশেদকে কাবু করার পর সবাই তার চিৎকার শুনতে পেল সে বলছে, “পকেটে ব্ল্যাক হোলের বাচ্চা পকেটে ব্ল্যাক হোলের বাচ্চা সাবধান!”

    জামশেদকে ড্রাইভার এবং আমরা সবাই চেপে ধরে রেখেছি, বড় অফিসারের হাতে রিভলবার। রিভলবার হাতে ধরে রেখে বড় অফিসার জামশেলের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন— তারপর বললেন, “তুমি? জামশেদ, তুমি? কী করছ তুমি? কী করছ?”।

    জামশেদ মাথা নিচু করে ফেলল। বড় অফিসার গিয়ে তার বুকের কাপড়টা খপ করে ধরলেন, মিঠুন চিলের মত চিৎকার করে উঠল ঠিক তখন জামশেদের পকেটে ব্ল্যাকহোলের বাচ্চা থেকে হুশ করে ভয়ংকর প্লাজমা বের হয়ে সাপের মত এঁকেবেঁকে বের হয়ে এল, জামশেদ একটা গগন বিদারী চিৎকার করে তার মাথা সরিয়ে নিল কিন্তু ততক্ষণে তার একটা কান ঝলসে গেছে, ভুরু মাথার চুল পুড়ে মূহুর্তের মাঝে তাকে অদ্ভুত একটা কাক তাড়ুয়ার মত দেখাতে লাগল।

    বড় অফিসার লাফিয়ে পিছনে সরে এলেন, মিঠুন চিৎকার করে বলল, “সাবধান! সাবধান!”

    তারপর সে খুব সাবধানে জামশেদের পকেট থেকে ব্ল্যাকহোলের বাচ্চাটা বের করে আনল। জামশেদ কাঠ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল নড়ল না, অবার হুশ করে প্লাজমা বের হয়ে তার চোখ মুখ ঝলসে দেবে সে তার ঝুঁকি নিল না।

    এর মাঝে মিলিটারীর পোষাক পরা আরো কিছু মানুষ চলে এসেছে। তারা জামশেদকে ধরে নিয়ে গেল। মুখের একপাশে ঝলসে গিয়ে তাকে এখন কেমন জানি কার্টুনের মত দেখাতে থাকে। বড় অফিসারটা আরো কিছু ফোন করলেন এবং আমরা তখন বারান্দায় পা ঝুলিয়ে বসে থাকলাম। জরুরী কাজকর্ম শেষ করে বড় অফিসার আমাদের দিকে তাকালেন, বললেন, “আমি কর্নেল কায়েস। আমাকে বলবে কী হয়েছে?”

    বগা বলল, “খিদে পেয়েছে স্যার।”

    ঝুম্পা বলল, “আজকে যখন বাসায় যাব মামী আমাকে খুন করে ফেলবে।”

    কর্নেল কায়েস ঝুম্পার দিকে তাকিয়ে চোখ টিপে বললেন, “ইয়াং লেডি তোমাকে যেটুকু দেখেছি তাতে মনে হয় না তোমাকে কেউ কখনো খুন করতে পারবে না। তারপরও বলছি, তোমার মামী যেন তোমাকে খুন করতে না পারেন আমি সেটা দেখব। আমার উপর ছেড়ে দাও।”

    ঝুম্পা বলল, “বাচা গেল।”

    কর্নেল কায়েস তখন টেলিফোনে কোথায় জানি খাবারের অর্ডার দিলেন, বললেন, “কুইক। দশ মিনিটের মাঝে ডেলিভারী চাই।” তারপর আবার আমাদের দিকে তাকালেন, বললেন, “তোমদের ওপর আমার লোকজন যে অত্যাচার করছে আমি সেজন্যে ক্ষমা চাইছি। আই এম রিয়েলী সরি।”

    একজন বড় মানুষ গুরুত্বপূর্ণ মানুষ এভাবে কথা বললে উত্তরে কী বলতে হয় আমরা জানি না, ফারা বলল, “না-না স্যার, আপনি কেন ক্ষমা চাইবেন। আপনার কী দোষ?”

    “আমার অফিসার যদি অন্যায় করে তার দায় দায়িত্ব আমার। জামশেদ কিন্তু খারাপ অফিসার ছিল না, কিন্তু তোমরা যেটাকে ব্ল্যাকহোলের বাচ্চা বলছ সেটা নিশ্চই অসম্ভব গুরুত্বপূর্ণ একটা জিনিষ এর ভেতরে নিশ্চয়ই মিলিওন মিলিওন ডলার আছে তাই লোভের কারণে এটা ঘটেছে। যখন আমরা টের পেয়েছি তোমরা আকাশে ওড়াওড়ি করছ তখন থেকে আমাদের ইন্টেলিজেন্স দিয়ে তোমাদের কথাবার্তা রেকর্ড করেছি তোমাদের ব্যাগে মাইক্রোট্রান্সমিটার বসিয়েছি। আমি অনেক কথা শুনেছি এবং খুবই অবাক হয়েছি। তারপর তো দেখতেই পেলে কী হয়েছে। যাই হোক এখন বল দেখি কী হচ্ছে। তোমাদের মুখ থেকে শুনি?”

    আমরা কর্নেল কায়েসকে সবকিছু বললাম, কোনো কিছু গোপন করলাম না। মিঠুন সবকিছুই একটু একটু করে বলে তখন আমাদের সেটা বেশী বেশী করে বলতে হয়। কর্নেল কায়েস সবকিছু শুনে অবিশ্বাসের ভঙ্গীতে মাথা নেড়ে বললেন, “ও মাই গুডনেস! কী আশ্চর্য!”

    তারপর বেশ কিছুক্ষণ নিজের মনে কিছু একটা চিন্তা করলেন তারপর বললেন, “তোমরা যেটাকে ব্ল্যাকহোলের বাচ্চা বলছ সেটা যেহেতু তোমরা আবিষ্কার করেছ কাজেই এটার মালিক তোমরা। কিন্তু তোমরা নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছ এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা জিনিস। এটা থেকে যতখুশী সম্ভব এনার্জী পাওয়া যাবে সে জন্যে নয়, এটা দিয়ে অস্ত্র তৈরি করা যাবে সেজন্যে। এখন আমরা এটাকে তোমাদের কাছে রাখতে দেব কারণ এটাকে সেফলি কীভাবে রাখা যায় সেটা তোমরাই সবচেয়ে ভালো জান। তোমরা ছোট হলেও তোমাদের যথেষ্ট দায়িত্ববোধ আছে।”

    আমাদেরকে নিয়ে কেউ কখনো কোনো প্রশংসার কথা বলে না তাই কর্নেল কায়েসের কথাগুলো শুনে আমাদের খুব অস্বস্তি হতে থাকে। আমরা একটু নড়ে চড়ে বসলাম। কী বলব বুঝতে পারলাম না।

    কর্নেল কায়েস বললেন, “আমরা পুরো বিষয়টা নিয়ে একটু চিন্তা করি তারপর তোমাদের ব্ল্যাকহোলের বাচ্চা নিয়ে কী করা যায় সেটা নিয়ে একটা সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে। যতক্ষণ সিদ্ধান্ত নেয়া না হচ্ছে তোমাদের কাছে রেখো তোমাদের চিন্তার কোনো কারণ নেই আমি আমার ডিপার্টমেন্ট থেকে তোমাদের প্রটেকশান দিব।”

    বড় মানুষেরা যেভাবে গুরুগম্ভীর আলোচনার পর গম্ভীরভাবে মাথা নাড়ে আমরা সেভাবে মাথা নাড়লাম। তারপর কর্নেল কায়েস তার গাড়ী করে আমাদের সবাইকে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার জন্যে আমাদেরকে তার গাড়ীতে তুলে নিলেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্রডিজি – মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    Next Article ভূতের বাচ্চা সোলায়মান – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    Related Articles

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    ছোটগল্প – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সাদাসিধে কথা – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মেকু কাহিনী – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    আমার বন্ধু রাশেদ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সায়েন্স ফিকশান সমগ্র ১ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    টুনটুনি ও ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }