Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সায়েন্স ফিকশন সমগ্র ৬ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল এক পাতা গল্প1092 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৪. চতুর্থ পর্ব (দশ বছর পর)

    ৪. চতুর্থ পর্ব (দশ বছর পর)

    ত্রাতিনা চোখ খুলে তাকালো। ক্যাপসুলের পরিচিত স্ক্রীনটার দিকে তাকিয়ে সে আবার চোখ বন্ধ করল। নেপচুনের কক্ষপথ পার হয়ে সে সৌরজগতের শেষ প্রান্তে পৌঁছে গেছে। পৃথিবী থেকে এখানে একটি সিগন্যাল পৌঁছাতে সময় নেয় চার ঘণ্টা। গত দশ বছরে সে দশ বার ঘুম থেকে জেগে উঠেছে। প্রতিবারই গ্রাহাকে ঘুম থেকে তুলেছে, তারপর দুজন মিলে মহাকাশযান পেপিরার খুঁটিনাটি পরীক্ষা করেছে। পৃথিবীর সাথে তথ্য বিনিময় করেছে। রুখ এবং গিসার সাথে কথা বলেছে। এই দুটি এনড্রয়েড গত বারো বছর কোনো অভিযোগ না করে কন্ট্রোল রুমে বসে পেপিরার যন্ত্রপাতি লক্ষ্য করেছে, তারা না থাকলে সে প্রতিবার এতো দীর্ঘ সময়ের জন্যে ক্যাপসুলের ভেতর ঘুমিয়ে কাটাতে পারত না।

    ত্রাতিনা আবার চোখ খুলে তাকালো। পরিচিত স্ক্রীনটিতে সবুজ একটি বাতি জ্বলছে এবং নিভছে। স্ক্রীনটি থেকে তাকে জাগিয়ে তোলার জন্যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ত্রাতিনা শরীরে শক্তি অনুভব করতে শুরু করেছে। তাকে হাত এবং পা নাড়াতে বলা হলো। তারপর মাথা ঘোরাতে বলা হলো, চোখ খুলতে এবং বন্ধ করতে বলা হলো। তারপর ছোট একটা গুণ অংক করতে দেয়া হলো। মাথার ভেতরে গুণ অংকটি শেষ করে সে ফিসফিস করে উত্তরটি বলার সাথে সাথে ক্যাপসুলের ঢাকনাটি খুলে যেতে শুরু করে। ক্যাপসুলের দুই পাশে রুখ এবং গিসা দাঁড়িয়ে আছে। তারা হাসিমুখে ত্রাতিনাকে অভিবাদন জানাল। রুখ বলল, “পেপিরাতে তোমাকে স্বাগতম ত্রাতিনা।”

    ত্রাতিনা বলল, “তোমাদের ধন্যবাদ। শেষ বছরটি কেমন কেটেছে তোমাদের দু’জনের?

    গিসা বলল, “একেবারেই উত্তেজনাহীন। তোমাকে বলার মতো কিছুই ঘটেনি। পেপিরার যন্ত্রপাতি নিখুঁত–আমার মনে হয় এতো নিখুঁত না হলেই ভালো হতো। তাহলে আমাদের জীবনে একটুখানি বৈচিত্র্য থাকতো।”

    ”ঠিক আছে। আমরা যখন পৃথিবীতে ফিরে যাব, তখন আমাদের রিপোর্টে আমি এই কথাটি লিখে দেব।”

    ত্রাতিনা তার ক্যাপসুল থেকে বের হলো। রুখ এবং গিসা তাকে দুই পাশ থেকে ধরে বের হতে সাহায্য করল। ত্রাতিনা একটা বড় নিঃশ্বাস ফেলে বলল, “এতোদিন আমরা যা জেনে এসেছি আর যা শিখে এসেছি, এখন তার পরীক্ষা হবে। তোমাদের কী মনে হয় রুখ এবং গিসা, আমাদের মিশন কী : কাজ করবে?”

    রুখ মুখ শক্ত করে বলল, “অবশ্যই করবে।”

    গিসা বলল, “এই মিশনের প্রতিটি খুঁটিনাটি অনেকবার করে দেখা হয়েছে। নিশ্চয়ই কাজ করবে।”

    ত্রাতিনা তার লাউঞ্জের দিকে যেতে যেতে বলল, “যাও গ্রাহাকে তুলে নিয়ে আস। মিশনের খুঁটিনাটিতে গ্রাহা ছিল না, তাকে আমাদের সাথে নিয়ে নেওয়ার ব্যাপারটি ভালো হল না খারাপ হল, বুঝতে পারছি না!”

    .

    কিছুক্ষণ পর লাউঞ্জে বসে খেতে খেতে ত্রাতিনা গ্রাহাকে বলল, “গ্রাহা, তুমি কী প্রস্তুত?”

    “আমি সব সময়েই প্রস্তুত।”

    “চমৎকার।”

    গ্রাহা কোয়ার্টজের জানালা দিয়ে বাইরের কুচকুচে অন্ধকার মহাকাশের দিকে তাকিয়ে বলল, “তুমি দাবি করছ আমরা এই মুহূর্তে মহাজাগতিক প্রাণী কিংবা মহাজাগতিক অস্তিত্বের মস্তিষ্কের ভেতর ঢুকে গেছি?”

    ত্রাতিনা মাথা নাড়ল।

    গ্রাহা বলল, “ব্যাপারটা চিন্তা করলেই আমার কেমন জানি গা গুলিয়ে আসে।”

    “চিন্তা করো না।”

    “হ্যাঁ। চিন্তা করছি না।”

    ত্রাতিনা রুখ এবং গিসার দিকে তাকিয়ে বলল, “তোমরা কী প্রস্তুত?”

    দু’জনেই মাথা নেড়ে বলল, “হ্যাঁ। প্রস্তুত।”

    “চল তাহলে কাজ শুরু করে দিই।”

    .

    চারজন তখন পেপিরার শেষ মাথায় গিয়ে লোডিং ডকের দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে যায়। সেখানে থার্মো নিউক্লিয়ার বোমাটি রাখা আছে। বোমাটির তিন পাশে তিনটি ছোট ট্রিটন রকেট লাগানো। গ্রাহা একটু বিস্ময়ের সাথে বলল, “আমি আগে কখনো হাইড্রোজেন বোমা দেখিনি।”

    ত্রাতিনা বলল, “দেখার কথা না! এটা রেফ্রিজিরেটর কিংবা এয়ার কুলারের মতো একটা জিনিস না।”

    গ্রাহা বিস্ময়ে মাথা নেড়ে বলল, “একটি থার্মো নিউক্লিয়ার বোমা এতো ছোট হয়, আমি জানতাম না।”

    ত্রাতিনা বলল, “আমার মনে হয় পৃথিবী যদি রাজনৈতিক নেতাদের দিয়ে শাসন করা হতো, তাহলে বোমার ওপর আরো গবেষণা হতো, বোমাগুলো আরো ছোট হতো। কিন্তু এখন যেহেতু পৃথিবী পরিচালনা করছে। বিজ্ঞানীরা, তাই যুদ্ধ বিগ্রহ নেই। বোমা নিয়েও গবেষণা নেই।”

    “ঠিকই বলেছ।”

    “আমাদের এই থার্মো নিউক্লিয়ার বোমাটির অবস্থান ঠিক করতে হবে।”

    ত্রাতিনা কন্ট্রোল প্যানেলের কিছু বোতাম টিপে কাজ শুরু করে দেয়। একটা যান্ত্রিক শব্দ হয় এবং তিনটি রকেট লাগানো থার্মো নিউক্লিয়ার বোমাটির সামনের অংশ ধীরে ধীরে উঁচু হতে থাকে। ঠিক পঁয়তাল্লিশ ডিগ্রী কোণে আসতেই সেটি থেমে গেল। ত্রাতিনা মুখে সন্তুষ্টির শব্দ করে বলল, “এখন বায়ু নিরোধক হ্যাঁচটি খুলে দিতে হবে। তাহলে রকেট তিনটি বোমাটি নিয়ে বের হয়ে যেতে পারবে।”

    রুখ এবং গিসা ঘুরে ঘুরে সবকিছু পরীক্ষা করে বলল, “সব ঠিক আছে। রকেট লাগানো বোমাটি পেপিরার মাউন্ট থেকে খুলে দেয়া হয়েছে।”

    “চল তাহলে ভেতরে যাই।”

    “চল।”

    চারজনের ছোট দলটি গোল হ্যাঁচের ভেতর দিয়ে পেপিরার ভেতরে ফিরে এলো। বায়ু নিরোধক ঢাকনা দিয়ে হ্যাঁচ বন্ধ করল। তারপর ওপরের বায়ু নিরোধক ঢাকনাটি খুলে দিল। বোমাটি এখন মহাকাশে বের হওয়ার জন্যে প্রস্তুত। শেষ মুহূর্তে ত্রাতিনা গোপন পাসওয়ার্ড দিয়ে বোমাটিকে বিস্ফোরণের জন্যে প্রস্তুত করে নিল। ঠিক তিরিশ মিনিট পরে এটি বিস্ফোরিত হবে।

    ত্রাতিনা সবাইকে নিয়ে কন্ট্রোল রুমে ফিরে আসে। নিজেদের সিটে বসে নিরাপত্তা বন্ধনী দিয়ে নিজেদের আটকে নেয়। তারপর সুইচ টিপে থার্মো নিউক্লিয়ার বোমাটি উন্মুক্ত করে দেয়। তিনটি ট্রিটন রকেট এক সাথে গর্জন করে চালু হয়ে যায়। পুরো মহাকাশযান একটা প্রবল ঝাঁকুনি অনুভব করল এবং সাথে সাথেই তারা মনিটরে থার্মো নিউক্লিয়ার বোমাটিকে উড়ে যেতে দেখল। রকেট তিনটির পিছন থেকে জ্বলন্ত গ্যাস বের হতে থাকে। এবং দেখতে দেখতে সেটি চোখের আড়াল হয়ে যায়।।

    ত্রাতিনা নিজেকে সিট থেকে মুক্ত করে বলল, “বোমাটি বিস্ফোরণের পর রেডিয়েশন মাপার জন্যে সবকিছু ঠিক আছে?”

    রুখ মাথা নাড়ল। বলল, “ঠিক আছে।”

    “চমৎকার। বোমা বিস্ফোরণের সিগন্যাল পাওয়ার সাথে সাথে আমাদের যোগাযোগ মডিউলটি চালু করতে হবে।”

    “আমরা প্রস্তুত।”

    “পরবর্তী তিরিশ মিনিট আমাদের অপেক্ষা করা ছাড়া আর কিছু করার নেই।”

    গ্রাহা বলল, “আমি সবসময়েই শুনে এসছি, অপেক্ষা করা মৃত্যু থেকেও ভয়ংকর!”

    ত্রাতিনা হাসল। বলল, “মৃত্যু মোটেও ভয়ংকর নয়।”

    ঠিক তিরিশ মিনিট পর পেপিরার ভেতরে থাকা সবগুলো তেজস্ক্রিয় মনিটর এক সাথে শব্দ করে উঠল। তখন রুখ এবং গিসা গিয়ে নিউট্রিনো বীম দিয়ে তৈরি যোগাযোগ মডিউলটি চালু করে দিল। মডিউলে মনিটরের এক কোনায় তখন একটা ছোট লাল আলো জ্বলতে এবং নিভতে থাকে।

    ত্রাতিনা গ্রাহার দিকে তাকিয়ে বলল, “যোগাযোগ মডিউল চালু হয়েছে। আমরা সিগন্যাল পাঠাতে শুরু করেছি।”

    “কী সিগন্যাল?”

    “আপাতত শুধু প্রাইম সংখ্যা। যে কোনো প্রাণী বা বুদ্ধিমান অস্তিত্ব আর কিছু জানুক বা না জানুক, প্রাইম সংখ্যার অস্তিত্ব জানে। তারা যদি আমাদের এই মহাকাশযান থেকে প্রাইম সংখ্যার সিগন্যাল পেতে থাকে, তারা জানবে আমাদেরও কোনো এক ধরনের বুদ্ধিমত্তা আছে।”

    গ্রাহা জিজ্ঞেস করল, “এখন আমরা কী করব?”

    “অপেক্ষা করা ছাড়া আর কিছু করার নেই।

    গ্রাহা মৃদু স্বরে বলল, “আমি তোমাকে আগেই বলেছি, অপেক্ষা করা মৃত্যু থেকেও ভয়ঙ্কর।”

    .

    সবাই মিলে ছত্রিশ ঘণ্টা অপেক্ষা করল। কিন্তু কিছুই হলো না। গ্রাহা বলল, “ত্রাতিনা, আমরা কতোক্ষণ অপেক্ষা করব?”

    “কেমন করে বলি।”

    “আমাদের কাছে সময়ের এক ধরনের পরিমাপ আছে। আমাদের শারীরিক ব্যাপারগুলো সেকেন্ড কিংবা মিলি সেকেন্ডে হয়। এই মহাজাগতিক প্রাণীর সময়ের পরিমাপ কী রকম? আমাদের এক সেকেন্ডের গুরুত্ব যদি তাদের একশ বছরের সমান হয়? তাহলে কী হবে?”

    ত্রাতিনা বলল, “সেটি হওয়ার কথা নয়। এটি পৃথিবীর দিকে যখন গ্রহকণাটি পাঠিয়েছিল, সেটি আমাদের সময়ের হিসেবেই পাঠিয়েছিল।”

    গ্রাহা খানিকক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, “এই মহাজাগতিক অস্তিত্ব আমাদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে কি না, সেটি আমরা কেমন করে বুঝব?”

    “যদি ধরে নিই তাদের বুদ্ধিমত্তা আমাদের থেকে বেশি, তাহলে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। একটা পিঁপড়া আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারে না, আমরা ইচ্ছে করলেই একটা পিঁপড়াকে জ্বালাতন করতে পারি।”

    এভাবে আরো বারো ঘন্টা কেটে গেল। যখন ত্রাতিনা আর গ্রাহা ক্লান্তিতে প্রায় ভেঙে পড়ছে, ঠিক তখন হঠাৎ করে পুরো মহাকাশযান অন্ধকার হয়ে গেল। মহাকাশযানের ইঞ্জিনগুলো থেমে গেল এবং মনে হলো পুরো মহাকাশযানটিতে বুঝি কবরের নীরবতা নেমে এসেছে।

    কুচকুচে অন্ধকারে গ্রাহার গলার স্বর শোনা গেল। কাঁপা গলায় সে বলল, “কী হয়েছে?”

    ত্রাতিনা শান্ত গলায় বলল, “মনে হয় মহাজাগতিক প্রাণী আমাদের সাথে যোগাযোগ করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।”

    “প্রক্রিয়াটি আমার পছন্দ হচ্ছে না।”

    “পছন্দ হওয়ার কথা নয়।”

    গ্রাহা কাঁপা গলায় ডাকল, “রুখ? গিসা-”

    ত্রাতিনা বলল, “তাদের ডেকে লাভ নেই।”

    “কেন?”

    “মহাজাগতিক প্রাণী এই মহাকাশযানের প্রতিটি যন্ত্র অচল করে দিয়েছে। রুখ আর গিসা যন্ত্র।”

    “আমাদের অচল করেনি কেন? আমরাও তো আসলে এক ধরনের যন্ত্র।”

    “মনে হয় জটিলতার জন্য। সহজ যন্ত্র অচল করেছে, জটিল যন্ত্র অচল করেনি। কিংবা করতে পারেনি।”

    খানিকক্ষণ চুপ করে বসে থেকে ত্রাতিনা বলল, “এই ঘুটঘুঁটে অন্ধকার আমার কাছে অসহ্য মনে হচ্ছে।”

    গ্রাহা বলল, “আমি দীর্ঘসময় ঘুটঘুঁটে অন্ধকারে কাটিয়েছি। ইউরোপাতে আমার সময়টি ছিল অন্ধকার এবং নিঃশব্দ। অন্ধকার নিঃশব্দ এবং শীতল।”

    ত্রাতিনা বলল, “এই মহাজাগতিক প্রাণী যদি আমাদের অচল যন্ত্রগুলো সচল না করে, তাহলে আমাদের মহাকাশযানটিও হয়ে যাবে অন্ধকার নিঃশব্দ এবং শীতল।”

    অন্ধকারে আরো কিছুক্ষণ দুইজন নিঃশব্দে বসে থাকে। হঠাৎ গ্রাহা ডাকলো, “ত্রাতিনা।”

    “বল।”

    “আমার এক ধরনের বিচিত্র অনুভূতি হচ্ছে। আমার মনে হচ্ছে কেউ একজন আমাকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে।”

    ত্রাতিনা বলল, “হ্যাঁ। আমারও বেশ কিছুক্ষণ থেকে সে রকম একটা অনুভূতি হচ্ছে।”

    “তার মানে প্রাণীটি আমাদের দেখছে।”

    “হ্যাঁ শুধু দেখছে না, খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে।”

    ত্রাতিনার মনে হতে থাকে তার শরীরের ভেতর কিছু একটা ঢুকে গেছে এবং সেটি নড়ছে। হঠাৎ করে শরীরের একটা অংশ কেমন যেন অবশ হয়ে যায়, তারপর হঠাৎ করে জীবন্ত হয়ে ওঠে। অনুভূতিটি নিচ থেকে ধীরে ধীরে উপরে উঠতে থাকে। ত্রাতিনার হঠাৎ করে মাথাটা ঘুরে ওঠে, হঠাৎ করে অসংখ্য স্মৃতি মাথার ভেতর খেলা করে যায়। মুহূর্তের জন্যে সে এক ধরনের আতংক অনুভব করে আবার পর মুহূর্তে এক ধরনের বিষাদ এসে তার উপর ভর করে।

    “আমার মস্তিষ্ক নিয়ে খেলছে।” ত্রাতিনা মনে মনে ভাবল, “আমাকে ভয় পেলে চলবে না। আমাকে শান্ত থাকতে হবে। শান্ত থাকতে হবে…”

    কিন্তু ত্রাতিনা শান্ত থাকতে পারল না, হঠাৎ অবর্ণনীয় এক ধরনের আতংকে তার সারা শরীর থরথর করে কাঁপতে থাকে। ঘুটঘুঁটে অন্ধকারে সে এক বিন্দু আলোর জন্যে হাহাকার করতে করতে জ্ঞান হারালো।

    .

    ৪.২

    ত্রাতিনা সামনে তাকালো। যতদূর চোখ যায় শুধু শূন্যতা। ত্রাতিনা মাথা ঘুরিয়ে তার চারপাশে তাকালো। কোথাও কিছু নেই। এখানেও যতদূর চোখ যায়, শুধু শূন্যতা। সেই শূন্যতার কোনো শুরু নেই, কোনো শেষ নেই। ত্রাতিনার মনে হয়, সেই শূন্যতায় সে অতলে ডুবে যাচ্ছে। কিন্তু সেই অতলেরও কোনো শেষ নেই। সে নিচে পড়তেই থাকবে, পড়তেই থাকবে। ত্রাতিনা দুই হাত দিয়ে কিছু একটা ধরতে চেষ্টা করল। ধরার কিছু নেই, শূন্যতা ধরা যায় না, দেখা যায় না, স্পর্শ করা যায় না। ত্রাতিনার মনে হতে থাকে, এক অসীম শূন্যতায় সে আটকা পড়ে আছে, এই শূন্যতা থেকে তার মুক্তি নেই।

    ত্রাতিনা চিষ্কার করে জিজ্ঞেস করল, “আমি কোথায়?” তার কণ্ঠস্বর দূরে মিলিয়ে গেল, তারপর প্রতিধ্বনিত হয়ে আবার ফিরে এল, আমি কোথায় … আমি কোথায় . . . আমি কোথায় ….

    খুব ধীরে ধীরে প্রতিধ্বনিগুলো মিলিয়ে যেতে থাকে। তারপর এক সময় আবার সেই নৈঃশব্দ্যের শূন্যতায় ডুবে যায়।

    ত্রাতিনা আবার চিৎকার করল, “আমি কোথায়?” তার চিৎকার বহু দূর থেকে প্রতিধ্বনিত হয়ে ফিরে আসে, প্রতিধ্বনিত শব্দগুলো ধীরে ধীরে মিলিয়ে যেতে থাকে। শব্দগুলো মিলিয়ে যেতে যেতে আবার নূতন করে অনুরণিত হয়, ত্রাতিনার মনে হয় সে বুঝি কারো কণ্ঠস্বর শুনতে পেয়েছে। স্পষ্ট বোঝা যায় না, কিন্তু কোনো এক ধরনের কণ্ঠস্বর। মনে হয় কেউ কিছু একটা বলছে।

    “কে?” ত্রাতিনা চিৎকার করে জিজ্ঞেস করল, “কে? কথা বলে?”

    ত্রাতিনা স্পষ্ট শুনল, কেউ একজন বলল, “আমি।”

    “আমি কে?”

    “যার কাছে এসেছ।”

    ত্রাতিনার চিন্তা এলোমেলো হতে থাকে, সে প্রাণপণ চেষ্টা করে চিন্তাকে সুনির্দিষ্ট রাখতে। অনেক কষ্ট করে সে জিজ্ঞেস করল, “এটা কী সত্যি?”

    কোনো উত্তর নেই।

    ত্রাতিনা আবার জিজ্ঞেস করল, “এটা কী সত্যি?”

    “সত্যি বলে কিছু নেই।”

    “আমি কী স্বপ্ন দেখছি?”

    “সব স্বপ্ন।”

    “আমি পৃথিবী থেকে এসেছি। তৃতীয় গ্রহ। নীল গ্রহ। পৃথিবী।”

    “জানি।”

    “পৃথিবীর মানুষ তোমার সাথে যোগাযোগ করতে চায়।”

    “জানি।”

    “পৃথিবীর মানুষ আমাকে তোমার কাছে পাঠিয়েছে।”

    “জানি।”

    ত্রাতিনা ক্লান্ত গলায় বলে, “তুমি সব জানো?”

    “হ্যাঁ।”

    “কেমন করে জানো?”

    কোনো উত্তর নেই। ত্রাতিনা আবার জিজ্ঞেস করল, “তুমি সব কিছু জানো?”

    “তুমি যা জানো, আমি তা জানি।”

    “তুমি আমার মস্তিষ্কে ঢুকেছ?”

    “ঢুকেছি।”

    “আমাদের মহাকাশযানে ঢুকেছ?”

    “ঢুকেছি।”

    “পৃথিবী থেকে আমরা যে তথ্য নিয়ে এসেছি, তুমি সব পেয়েছ?”

    “পেয়েছি।”

    “তাহলে আমরা পৃথিবীতে ফিরে যেতে পারি?”

    কোনো উত্তর নেই। ত্রাতিনা চিৎকার করে বলল, “তাহলে আমরা কী পৃথিবীতে ফিরে যেতে পারি?”

    এবারও কোনো উত্তর নেই। ত্রাতিনা চিৎকার করে বলল, “কথা বল। ফিরে যেতে পারি?”

    “যখন সময় হবে।”

    “কখন সময় হবে?”

    কোনো উত্তর নেই। ত্রাতিনা আবার জিজ্ঞেস করল, “কখন সময় হবে?” এবারও কোনো উত্তর নেই।

    ত্রাতিনা আবার গভীর শূন্যতায় ডুবে যেতে থাকে। হাত দিয়ে কিছু একটা ধরার চেষ্টা করে, কিন্তু ধরা ছোঁয়ার কিছু নেই। স্পর্শ করার কিছু নেই।

    ত্রাতিনার মনে হল, অনেক দূর থেকে তাকে কেউ ডাকছে। সত্যি কেউ ডাকছে, নাকি এটি মনের ভুল, সে বুঝতে পারল না। ত্রাতিনার মনে হল, ভয়ংকর কিছু একটা ঘটেছিল, কিন্তু সেটি কী, সে মনে করতে পারল না।

    আবার কেউ একজন তাকে ডাকল। ত্রাতিনা চোখ খুলে তাকায়। সে দেখল তার মুখের উপর গিসা ঝুঁকে পড়েছে। গিসা তাকে ডাকছে, এটি তাহলে স্বপ্ন নয়। এটি সত্যি। খুব ধীরে ধীরে ত্রাতিনার সবকিছু মনে পড়ে যায়। মহাজাগতিক প্রাণী তাদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিল। পুরো মহাকাশযানের প্রতিটি যন্ত্রপাতি অচল করে দিয়েছিল। এক সময় মনে হয়েছিল, তার মাথার ভেতর কিছু ঢুকে গেছে। প্রচণ্ড যন্ত্রণায় আর আতংকে সে জ্ঞান হারিয়েছে। জ্ঞান হারিয়ে সে খুব বিচিত্র একটা স্বপ্ন দেখছিল। সেটি কী শুধু স্বপ্ন, নাকি তার মাঝে সত্যি আছে?

    ত্রাতিনা চারপাশে তাকালো। মহাকাশযানে আলো জ্বলছে। সে ইঞ্জিনের গুঞ্জন শুনতে পাচ্ছে। অচল হয়ে যাওয়া মহাকাশযানটি আবার সচল করে দিয়েছে। ত্রাতিনা উঠে বসল। তার মাথার ভেতর এখনও দপ দপ করছে। মহাজাগতিক প্রাণী কী তাহলে তাদের মুক্তি দিয়েছে? তাহলে এখন কী তারা পৃথিবীতে ফিরে যেতে পারবে?

    ত্রাতিনা রুখকে জিজ্ঞেস করল, “সব কিছু ঠিক আছে?”

    “হ্যাঁ, ঠিক আছে।”

    “ইঞ্জিন সবগুলো চালু আছে?”

    “চালু আছে।”

    “কোয়াকম্প?”

    “কোয়াকম্প নিয়ে একটু সমস্যা। শীতল প্রবাহ ছিল না বলে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তাপমাত্রা কমে গেলে আবার চালু হবে। গিসা সেটা দেখছে।”

    “যোগাযোগ মডিউল?”

    “চালু করা হয়েছে।”

    “গ্রাহা কোথায়?”

    “দেখলাম হেঁটে হেঁটে লাউঞ্জের দিকে গেল।”

    “সে ঠিক আছে?”

    “এখন ঠিক আছে। তোমার মতো অবস্থা। অচেতন হয়ে ছিল।”

    “তোমরা কেমন ছিলে?”

    “তিরিশ মিনিটের মতো পুরোপুরি ব্ল্যাক আউট হয়ে গিয়েছিল। কী হয়েছে কিছু জানি না।”

    ত্রাতিনা উঠে দাঁড়াল। এখনো মাথার ভেতর দপ দপ করছে। সে খানিকটা টলতে টলতে হেঁটে যেতে থাকে। লাউঞ্জের সামনে তার গ্রাহার সাথে দেখা হলো। গ্রাহা লাউঞ্জের দরজার পাশে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ রক্তশূন্য।

    ত্রাতিনা জিজ্ঞেস করল, “কী হয়েছে গ্রাহা?”

    গ্রাহা কোনো কথা বলল না। শূন্য দৃষ্টিতে ত্রাতিনার দিকে তাকিয়ে রইল। ত্রাতিনা আবার জিজ্ঞেস করল, “কী হয়েছে?”

    “লাউঞ্জের ভেতর-”

    “লাউঞ্জের ভেতরে কী?”

    “যেও না।”

    ত্রাতিনা অবাক হয়ে বলল, “যাব না?”

    “না।”

    “কেন?”

    “বলতে পারব না।”

    “বলতে পারবে না?”

    “না।”

    ত্রাতিনা অবাক হয়ে বলল, “আমাকে তাহলে যেতে হবে। দেখতে হবে।”

    গ্রাহা হঠাৎ করে কেমন যেন উত্তেজিত হয়ে উঠল। বলল, “না, আমি তোমাকে যেতে দেব না।” সে দুই হাত ছড়িয়ে দিয়ে ত্রাতিনার পথ আটকে দাঁড়াল।

    ত্রাতিনা বলল, “সরে যাও গ্রাহা। আমাকে ঢুকতে দাও। আমি পেপিরার কমান্ডার হিসেবে তোমাকে আদেশ করছি।”

    গ্রাহা এক ধরনের আহত দৃষ্টিতে ত্রাতিনার দিকে তাকালো। তারপর দরজা থেকে সরে দাঁড়িয়ে ফিসফিস করে বলল, “কাজটি ভালো হলো না ত্রাতিনা।”

    ত্রাতিনা গ্রাহাকে পাশ কাটিয়ে লাউঞ্জের দরজাটা ঠেলে ভেতরে ঢুকলো এবং একটা আর্ত চিৎকার করে দরজাটি ধরে দাঁড়িয়ে থরথর করে কাঁপতে লাগল।

    লাউঞ্জের মেঝেতে দুটি দেহ। একটি তার নিজের, অন্যটি গ্রাহার। দেহ দু’টি স্থির, দেখে মনে হয় মৃতদেহ। ত্রাতিনা নিঃশ্বাস বন্ধ করে দেহ দুটোর দিকে তাকায়। মেঝেতে শুয়ে থাকা ত্রাতিনার দেহটি হঠাৎ চোখ খুলে ত্রাতিনার দিকে তাকালো, চোখের দৃষ্টি শূন্য এবং অর্থহীন। তারপর হঠাৎ তার দিকে তাকিয়ে হাসলো। কী ভয়ংকর সেই হাসি, কী অবিশ্বাস্য সেই চোখের দৃষ্টি।

    ত্রাতিনা কাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করল, “এগুলো কী জীবিত, না মৃত?”

    “জানি না কী বলব? দেহগুলো নিখুঁতভাবে তৈরি। শুধু মাথায় কোনো মস্তিষ্ক নেই। ফাঁকা।”

    ত্রাতিনার হঠাৎ সারা শরীর গুলিয়ে এলো। সে দরজা বন্ধ করে পিছিয়ে আসে। তার সারা শরীর থরথর করে কাঁপছে।

    গ্রাহা নরম গলায় বলল, “আমি তোমাকে ঢুকতে নিষেধ করেছিলাম। তুমি আমার কথা শুনলে না।”

    ত্রাতিনা গ্রাহার দিকে তাকিয়ে নিজেকে শান্ত করে বলল, “আমি পেপিরার কমান্ডার। আমার সবকিছু জানতে হবে গ্রাহা।”

    .

    ৪.৩

    ত্রাতিনা তার গ্লাসের পানীয়টিতে চুমুক দিয়ে বলল, “আমি বুঝতে পারছি না আমি যেটা স্বপ্নে দেখেছি, সেটি কী শুধুই স্বপ্ন, নাকি তার মাঝে সত্যতা আছে?”

    গ্রাহা বলল, “না ত্রাতিনা, সেটি স্বপ্ন ছিল না। কারণ অবচেতন অবস্থায় আমারও ঠিক একই অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমিও দেখেছি, আমি অসীম শূন্যতায় ভাসছি। অদৃশ্য কারো কথা শুনছি, যে বলছে আমাদের তার দরকার।”

    “কী দরকার হতে পারে আমি একটি অনুমান করতে পারি।”

    গ্রাহা বলল, “অনুমান করা খুব কঠিন না। যে কোনো বুদ্ধিমান প্রাণী হচ্ছে কৌতূহলী। বুদ্ধিমান প্রাণী সবকিছু জানতে চায়। এই মহাজাগতিক প্রাণী এই মহাকাশযানের সবকিছু জেনে গেছে, তার কাছে সব যন্ত্রপাতি তুচ্ছ! এটাকে সে পুরোপুরি অচল করেছে। তারপর আবার সচল করেছে। রুখ গিসাকে ব্ল্যাক আউট করিয়ে জ্ঞান ফিরিয়ে দিয়েছে। কোয়াকম্পের মতো কম্পিউটারকে অচল করেছে, আবার সচল করেছে। কাজেই যান্ত্রিক বিষয় নিয়ে তার কৌতূহল নেই।”

    ত্রাতিনা বলল, “তার কৌতূহল শুধু মানুষকে নিয়ে। আমাদের দু’জনকে নিয়ে।”

    “হ্যাঁ।”

    “আমাদের দুজনকে তৈরি করতে চেষ্টা করেছে। দেহের খুঁটিনাটি সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তৈরি করেছে, শুধু মস্তিষ্কটি পারেনি।”

    গ্রাহা বলল, “কীভাবে পারবে? আমাদের মস্তিষ্ক সৃষ্টি জগতের সবচেয়ে জটিল যন্ত্র, এখানে একশ বিলিয়ন নিউরন, একটি নিউরন অন্য দশ হাজার নিউরনের সাথে যুক্ত, প্রতি মুহূর্তে সিনান্স সংযোগ হচ্ছে-”

    ত্রাতিনা মাথা নাড়ল। বলল, “হ্যাঁ, আমাদের মস্তিষ্কের সম্ভাব্য সবগুলো স্টেট বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সবগুলো পরমাণুর সংখ্যা থেকে বেশি।”

    “এই মহাজাগতিক প্রাণী আমাদের সেই মস্তিষ্কটি চায়। এটি দেখতে চায়। বিশ্লেষণ করতে চায়।”

    ত্রাতিনা আর গ্রাহা যখন কথা বলছিল পাশে দাঁড়িয়ে তখন রুখ আর গিসা নিঃশব্দে তাঁদের কথা শুনছিল। এবার রুখ বলল, “তোমরা দুইজন সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছেছ। আমরা পরীক্ষা করে দেখেছি পেপিরার কক্ষপথ আটকে দেওয়া হয়েছে। এটি পরিবর্তন করা যাচ্ছে না।”

    গিসা বলল, “শুধু তাই না। পৃথিবীর সাথেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।”

    ত্রাতিনা খানিকক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর বলল, “এই মহাজাগতিক প্রাণী হুবহু মানুষের মস্তিষ্ক তৈরি করতে পারবে না। এটি বিশ্লেষণ করতে পারবে না। যার অর্থ বুঝতে পারছ?”

    গ্রাহা বলল, “হ্যাঁ, বুঝতে পারছি।”

    “যার অর্থ আমরা অনন্তকালের জন্যে এখানে আটকা পড়েছি।”

    “হ্যাঁ। আমরা অনন্তকালের জন্যে আটকা পড়েছি।”

    ত্রাতিনা তার পানীয়ের গ্লাসে চুমুক দিয়ে বলল, “কিন্তু আমরা এখানে দুইজন মানুষ। তুমি আর আমি। আমাদের দুজনেরইতো অনন্তকালের জন্যে আটকা থাকার কোনো প্রয়োজন নেই।”

    গ্রাহা একটু ঝুঁকে পড়ে বলল, “তুমি কী বলতে চাইছ?”

    “আমি বলতে চাইছি যে, একজন মানুষকেই এই মহাজাগতিক প্রাণী গিনিপিগ হিসেবে বিশ্লেষণ করুক। অন্যজন পৃথিবীতে ফিরে যেতে সমস্যা কোথায়?”

    গ্রাহা মাথা নাড়ল। বলল, “না সমস্যা নেই। একজন অবশ্যই ফিরে যেতে পারে।”

    কয়েক মুহূর্ত নিঃশব্দে বসে থাকে। গ্রাহা জিজ্ঞেস করে, “কে থাকবে, আর কে ফিরে যাবে?”

    ত্রাতিনা একটু অবাক হয়ে গ্রাহার দিকে তাকিয়ে বলে, “এটি কী রকম প্রশ্ন? অবশ্যই আমি থাকব এবং তুমি ফিরে যাবে। আমি পেপিরার কমান্ডার, পেপিরার সবার ভালোমন্দ্রের দায়িত্ব আমার। তুমি পেপিরার অতিথি, তোমাকে বাঁচিয়ে পৃথিবীতে ফিরিয়ে নিয়ে তোমার মেয়ের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব আমার।”

    গ্রাহা কোনো কথা বলল না। ত্রাতিনা বলল, “একটা ক্যাপসুলে ঢুকিয়ে আমাকে ঘুম পাড়িয়ে দিয়ে মহাকাশযান থেকে বাইরে ছুঁড়ে দিও। আমি নিশ্চিত, তাহলে মহাজাগতিক প্রাণী পেপিরাকে পৃথিবীতে ফিরে যেতে দেবে।”

    গ্রাহা এবারও কোনো কথা বলল না। ত্রাতিনা বলল, “আমার জন্যে তোমার বিচলিত হবার কোনো কারণ নেই গ্রাহা। পৃথিবীতে কোনো আপনজন আমার জন্যে অপেক্ষা করছে না। আমি অনাথ আশ্রমে বড় হয়েছি। তোমার কথা ভিন্ন। পৃথিবীতে তোমার স্ত্রী আছে। তোমার মেয়েটি তোমার জন্যে অপেক্ষা করছে।”

    গ্রাহা এবারও কোনো কথা বলল না। কিন্তু তার মুখে খুব সূক্ষ্ম একটু হাসি ফুটে উঠল। ত্রাতিনা সেটা না দেখার ভান করে বলল, “আমার মা পৃথিবীকে রক্ষা করার জন্যে প্রাণ দিয়েছে। এবারে আমার পালা। আমার মা যে কাজটি শুরু করেছিল, আমি সেটি শেষ করব।”

    গ্রাহার মুখে এবারে খুব বিচিত্র একটা হাসি ফুটে উঠল। সেদিকে তাকিয়ে ত্রাতিনা অধৈর্য হয়ে বলল, “তুমি কোনো কথা বলছ না কেন?”

    গ্রাহা এবারে মুখ খুলল, বলল, “আমি একটুখানি অপেক্ষা করছি।”

    “কিসের জন্যে অপেক্ষা করছ?”

    “তোমার রক্তে রিটিলিনটুকু মিশে যাবার জন্যে।”

    ত্রাতিনা চমকে উঠে বলল, “রিটিলিন?”

    “হ্যাঁ। তোমার জন্যে যে পানীয়টুকু এনেছি, আমি সেখানে দুই ফোঁটা রিটিলিন দিয়ে এনেছি। কিছুক্ষণের মাঝে তুমি পুরোপুরি অবসন্ন হয়ে ঘুমিয়ে পড়বে। আমি লক্ষ করেছি তোমার চোখের পিউপিল বিস্তৃত হচ্ছে, তোমার কণ্ঠস্বর একটুখানি ধীর হয়ে এসেছে।”

    ত্রাতিনা লাফিয়ে উঠে দাঁড়াতে গিয়ে আবিষ্কার করল, সে উঠতে পারছে না। কথা বলতে গিয়ে আবিষ্কার করল, তার গলা দিয়ে শব্দ বের হচ্ছে না।

    গ্রাহা একটুখানি এগিয়ে এসে ত্রাতিনার হাত স্পর্শ করে বলল, “ত্রাতিনা, তুমি এখন শুধু শুধু দাঁড়ানোর চেষ্টা করো না। কথা বলারও চেষ্টা করো না। তোমার শরীরে বিটিলিন কাজ করতে শুরু করেছে। আরো মাত্র কয়েক মিনিটি তুমি দেখতে পাবে, কথা শুনতে পাবে। তারপর তুমি ঘুমিয়ে পড়বে।”

    গ্রাহা নরম গলায় বলল, “আমি জানি তুমি পেপিরার কমান্ডার হিসেবে নিজেকে মহাজাগতিক প্রাণীর হাতে তুলে দিয়ে আমাকে পৃথিবীতে ফেরত পাঠাবে। তাই আমাকে এইটুকু অপরাধ করতে হলো। মহাকাশযানের কমান্ডারকে গোপনে রিটিলিন খাইয়ে অবচেতন করা অনেক বড় অপরাধ, ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। আমি সেই অপরাধটুকু করেছি। জেনে শুনে করেছি। এটি না করে তোমাকে আমি পৃথিবীতে ফেরত পাঠাতে পারতাম না। তুমি কিছুতেই এটা করতে দিবে না। তুমি তোমার মায়ের মতোই একজন আপাদমস্তক মহাকাশচারী।

    “আমি জানি, তুমি চাইছ আমি যেন পৃথিবীতে গিয়ে আমার মেয়ের সাথে মিলিত হই। তাকে দেখি, তার সাথে কথা বলে সময় কাটাই। ত্রাতিনা, আমি আমার মেয়ের সাথে মিলিত হয়েছি। দেখা করেছি, তার সাথে কথা বলেছি, কারণ তুমি হচ্ছ আমার সেই মেয়ে। পৃথিবীতে আমার আরও একটি মেয়ে আছে। ক্লিয়া। সম্ভব হলে তুমি ক্লিয়ার সাথে দেখা করো। সেই মেয়েটিকে আমার হয়ে একবার আলিঙ্গন করো। তাকে বলো, আমি তাকে অনেক ভালোবাসি। সৌর জগতের শেষ প্রান্তে একটি ক্রোমিয়াম ক্যাপসুলের ভেতর থেকে আমি তার দিকে তাকিয়ে আছি। তাকিয়ে থাকব।”

    গ্রাহা উঠে দাঁড়ালো। ত্রাতিনার দিকে অগ্রসর হয়ে বলল, “মা ত্রাতিনা, তুমি অচেতন হওয়ার আগে আমি তোমাকে একটি অনুরোধ করতে পারি? তুমি এখন আর কথা বলতে পারবে না। শুধু একবার একটুখানি হাসো, একটুখানি।”

    ত্রাতিনার মুখে খুব ধীরে ধীরে একটুখানি হাসি ফুটে উঠল। গ্রাহা ত্রাতিনার মাথায় হাত বুলিয়ে গভীর মমতায় ফিসফিস করে বলল, “পৃথিবীতে ফিরে যাও মা। মহাকাশের জগতে তোমার প্রয়োজন নেই। ত্রাতিনা মা আমার, তোমার প্রয়োজন পৃথিবীতে।”

    রুখ এবং গিসা নিঃশব্দে দাঁড়িয়েছিল। গ্রাহা তাদের দিকে তাকিয়ে বলল, “ত্রাতিনাকে একটা ক্যাপসুলে নিরাপদে ঢুকিয়ে দাও। তাকে শীতল করে রাখো, বারো বছর পর পৃথিবীতে ফিরে যাবার পর জাগিয়ে তুলতে হবে।”

    রুখ মাথা নাড়ল, বলল, “ঠিক আছে।”

    “আর আমার জন্যে একটা ক্যাপসুল রেডি করো। আমাকে যখন মহাকাশে ছুঁড়ে দেবে, লাউঞ্জ থেকে ওই দেহ দুটোও বাইরে ছুঁড়ে দিও। এগুলো পৃথিবীতে ফিরিয়ে নেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।”

    রুখ আবার মাথা নাড়ল। বলল, “ঠিক আছে।”

    “আমাকে ছুঁড়ে দেবার পর পেপিরার যাত্রাপথ পৃথিবীর দিকে করে নিও। আমি নিশ্চিত, মহাজাগতিক প্রাণী তখন তোমাদের ফিরে যেতে দেবে।”

    রুখ বলল, “আমরা তাই আশা করছি।”

    গ্রাহা এবার গিসার দিকে তাকিয়ে বলল, “খুব খিদে পেয়েছে। তুমি কি আমার জন্যে চমৎকার একটা ডিনার রেডি করতে পারবে? তিতির পাখির মাংস, যবের রুটি আর আঙুরের রস?”

    গিসা মাথা নাড়ল বলল, “পারব।”।

    “আমি যখন খাব, তখন তুমি কী আমার প্লেটে খাবারগুলো তুলে দেবে? আমি যখন খুব ছোট ছিলাম, তখন আমার মা যেভাবে তুলে দিতো?”

    গিসা বলল, “অবশ্যই তুলে দেব গ্রাহা, অবশ্যই তুলে দেব।”

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্রডিজি – মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    Next Article ভূতের বাচ্চা সোলায়মান – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    Related Articles

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    ছোটগল্প – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সাদাসিধে কথা – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মেকু কাহিনী – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    আমার বন্ধু রাশেদ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সায়েন্স ফিকশান সমগ্র ১ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    টুনটুনি ও ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }