Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সায়েন্স ফিকশন সমগ্র ৬ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল এক পাতা গল্প1092 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৩. তেরো বছর পর

    তেরো বছর পর

    পুকুরের বাঁধানো ঘাটে শুয়ে শামীম আকাশের দিকে তাকিয়েছিল। গভীর নীল আকাশ। সেই আকশে এক চিলতে মেঘ। সেই মেঘের কাছাকাছি একটা চিল উড়ছে। সত্যিই কী উড়ছে, নাকী ভেসে আছে? দুটি পাখা মেলে ধরে আকাশে কী সহজে একটা চিল ভেসে থাকে। কেমন করে ভেসে থাকে?

    শামীম উঠে বসে পুকুরের দিকে তাকাল, পুকুরের স্থির পানিতে একটু ঢেউ নেই, একটু আলোড়ন নেই, মনে হয় পুকুরের পানি নয়, সময় বুঝি স্থির হয়ে আছে। পুকুরের কাচের মতো স্থির পানিতে বড় বড় গাছের ছায়া পড়েছে, সেই ছায়াগুলোও স্থির। শামীম নিজের ভেতরে এক ধরনের বিষণ্ণতা অনুভব করে, কেন তার ভেতরে এই অকারণ বিষণ্ণতা সে জানে না। শামীম একবার আকাশের চিলটিকে দেখে আবার পুকুরের স্থির পানির দিকে তাকাল, এই মুহূর্তে সেরিনা পানির নিচে ঘুরে বেড়াচ্ছে, কতোক্ষণ থেকে সে পানির নিচে আছে কে জানে! পয়তাল্লিশ মিনিট? এক ঘন্টা? নাকী আরো বেশি?

    তেরো বছর আগে অজানা অচেনা একটা গ্রামের ডোবায় সেরিনাকে কোচ দিয়ে একজন প্রায় গেঁথে ফেলছিল, শামীম শেষ মুহূর্তে তাকে বাঁচিয়েছিল। টাওয়েলে পেঁচিয়ে নিয়ে এসে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেছিল। গরিলার মতো একজন ডাক্তার ঠিক করে সেরিনার চিকিৎসা করতে রাজী হয় নি বলে শামীম সেরিনাকে তার বাসায় নিয়ে এসেছিল। তাকে বাসায় নিয়ে এসেছিল বলে সে বুঝতে পেরেছিল সেরিনা অন্য সবার থেকে ভিন্ন। সালামান্ডারের মতো কিংবা অস্ট্রেলিয়ার মার্ক্সপিয়াল জুলিয়া ক্রিক ডুনার্টের মতো সেরিনা ত্বক দিয়ে নিশ্বাস নিতে পারে। শামীমের মনে হয়, মাত্র সেদিনের ঘটনা যখন সেরিনার কথা শুনে ওয়াশিংটন ডিসি থেকে পরের দিন আলেক্স এই দেশে চলে এসেছিল। পুরো এক মাস আলেক্স সেরিনার পাশে পাশে ছিল। এই অস্বাভাবিক ক্ষমতা নিয়ে যেন সুস্থ মানুষের মতো বেঁচে থাকতে পারে সে জন্যে আলেক্স একটু একটু করে সেরিনাকে প্রস্তুত করেছে। সেরিনার রক্তটাকে পরিশুদ্ধ করেছে, ত্বকটাকে কোমল করেছে, লোমকূপকে বিস্তৃত করেছে, রক্তনালীকে স্পষ্ট করেছে। ফুসফুঁসে নিমোনিয়াকে দূর করেছে। সেরিনা নামটিও আলেক্সের দেওয়া, গ্রীক উপাখ্যানে মৎস্যকন্যার নাম ছিল সাইরেন-সাইরেন থেকে সেরিনা।

    এক মাস পর আলেক্স ওয়াশিংটন ডিসি ফিরে গিয়েছিল। সেরিনার পরিচয় গোপন রেখে আলেক্সের নেচারে একটা প্রবন্ধ লেখার কথা ছিল। সেই প্রবন্ধ আর লেখা হয় নি। আলেক্স ছুটি কাটাতে মাউন্ট রেইনিয়ারের চূড়ায় উঠতে গিয়ে বরফ ধ্বসে হারিয়ে গেল। শামীমের কী অবাক লাগে, একজন মানুষ কী সহজে হারিয়ে যায়।

    শামীম কখনো ভাবে নি অজানা অচেনা একটা গ্রামের ডোবায় পরিত্যক্ত একটি নবজাতককে নিয়ে সে আবার নিজের জীবন শুরু করবে। শাহানা আর রিতু মারা যাবার পর তার জীবনটা ছিল খাপছাড়া, সে ঠিক করে নিয়েছিল বাকী জীবনটা এভাবেই কাটিয়ে দেবে। কিন্তু সেরিনার কারণে আবার তার সব হিসেব ওলট পালট হয়ে গেল। এই মেয়েটি যেন সুন্দর সুস্থ একটা জীবন পেতে পারে শামীম তার সব ব্যবস্থা করতে শুরু করেছিল, তখন একদিন রাতে তাকে ঘুম পাড়িয়ে দেবার জন্য কোলে নিয়েছে তখন হঠাৎ করে অবোধ শিশুটি তার চোখের দিকে তাকিয়ে ফিক করে হেসে দিল। এক মাসের শিশু সত্যি সত্যি কারো চোখের দিকে তাকিয়ে অর্থপূর্ণ ভাবে হাসতে পারে কী না সেটা নিয়ে তর্ক করা যেতে পারে কিন্তু শামীম কোনো আলোচনার মাঝে গেল না। সেই অর্থহীন হাসিটি তার বুকের ভিতর সবকিছু ওলট পালট করে দিল। ঠিক সেই মুহূর্তে শামীম ঠিক করল সেরিনাকে সে নিজের সন্তান হিসেবে বড় করবে। তার খাপছাড়া অগোছালো জীবনটাকে আবার নূতন করে সাজাতে হল। মফস্বলের একটা শহরে সে এসে স্থায়ী হল। শহরতলীতে বড় জায়গা নিয়ে তার বাসা। বাসার পাশে বড় পুকুর। সেই পুকুরের ঘাটে সে এখন বসে আছে, গভীর পুকুরের কালো পানির নিচে সেরিনা সাঁতার কাটছে।

    হঠাৎ পুকুরের ঠিক মাঝখানে বিদ্যুৎ ঝলকের মতো সেরিনা লাফিয়ে উঠে, তার সমস্ত শরীর পানি থেকে বের হয়ে আসে, দুই হাত দুই দিকে ছড়িয়ে সে চরকীর মতো ঘুরপাক খেতে খেতে আবার পানিতে আছড়ে পড়ে, তারপর সে পানি ছিটিয়ে সাঁতরে সাঁতরে পুকুর ঘাটের দিকে আসতে থাকে। পুকুরের সিঁড়ি ধরে সে শামীমের দিকে তাকিয়ে খিলখিল করে হেসে বলল, “আব্বু! তুমি ভয় পেয়েছ?”

    শামীম বলল, “তোর ধারণা, আমি তোকে ভয় পাই?”

    “চমকে উঠেছ কী না বল?”

    “হ্যাঁ একটু চমকে উঠেছি। হঠাৎ করে পানি থেকে লাফ দিলি তো, সেজন্যে।”

    সেরিনা পুকুর ঘাটের সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠতে থাকে, শামীমের বড় একটা টি শার্ট পরেছে, সেটা প্রায় হাঁটু পর্যন্ত নেমে এসেছে। মাথার ভিজে চুলগুলো তার মুখে লেপটে আছে। ভিজে শরীর থেকে টপ টপ করে পানি পড়ছে। সেরিনা ওপরে উঠে ভিজে শরীরে শামীমকে জাপটে ধরে আহ্লাদী গলায় বলল, “আবু আব্বু আবু আব্বু! আমার সুইট আব্বু।”

    শামীম বলল, “দিলি আমাকে ভিজিয়ে!”

    “ভিজলে কিছু হয় না আব্বু, আবার শুকিয়ে যায়।” শামীম হাত দিয়ে সেরিনাকে ধরে বলল, “তোর কিছু হয় না। তুই হচ্ছিস মৎস্যকন্যা। আমরা তো তোর মতো মৎস্যকন্যা না। মৎস্যমানবও না। আমরা হচ্ছি বোরিং মানুষ”

    “মৎস্যমানব হওয়া খুব সোজা। আমি তোমাকে শিখিয়ে দেব।”

    শামীম উঠে দাঁড়িয়ে বলল, “থাক। আমাকে আর কিছু শিখাতে হবে না।”

    সেরিনা বলল, “আব্বু! যা খিদে পেয়েছে তোমাকে কী বলব। মনে হচ্ছে আস্ত একটা ঘোড়া খেয়ে ফেলতে পারব।”

    “থাক। আস্ত ঘোড়া খেতে হবে না। ভাত খাবি আয়।”

    সেরিনা তার ভিজে শরীরে শামীমকে ধরে রাখে। সেই অবস্থায় দুইজনে পুকুর ঘাট থেকে গাছ গাছালীর ছায়া দিয়ে হেঁটে হেঁটে বাসায় ঢুকল। বাসায় কেউ নেই, সাধারণত কেউ থাকে না। সকালে একজন মহিলা এসে ঘর দোর পরিষ্কার করে দেয়। বিকেলে এসে একটু রান্না করে দেয়।

    সেরিনা তার ভেজা শরীর মোছায় কোনো চেষ্টা করল না। যতক্ষণ পানিতে ছিল একবারও সে নিশ্বাস নেয় নি। পানি থেকে উপরে উঠে ধীরে ধীরে নিশ্বাস নিতে শুরু করেছে। শরীর পুরোপুরি শুকিয়ে যাবার পর সে আবার সত্যিকার অর্থে নিশ্বাস নেবে ফুসফুস ব্যবহার করে বাতাস থেকে অক্সিজেন নেবে। যখন ছোট ছিল তখন সেরিনাকে এটা শেখাতে হয়েছে। আস্তে আস্তে এটা সেরিনার জন্যে স্বাভাবিক হয়ে গেছে। তবে তাকে সবসময় সতর্ক থাকতে হয়, যখন অন্যদের সামনে থাকে তখন তাকে ভেজা থাকলেও নিশ্বাস নেবার একটা সুক্ষ্ম অভিনয় করতে হয়।

    শামীম খাবার গরম করে টেবিলে রাখতে থাকে। সেরিনা ভেজা শরীরে ঘুর ঘুর করে শামীমকে সাহায্য করে, তারপর দুজন খেতে বসে। সেরিনার প্লেটে খাবার তুলে দেয়ার সাথে সাথে সে খাবারের ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়ল। শামীম কিছুক্ষণ তাকে খেতে দেখল তারপর বলল, “তোর এত হুড়মুড় করে খেতে হবে না। আস্তে আস্তে খা। তোর খাবার কেউ চুরি করে নেবে না!”

    সেরিনা আবার হি হি করে হাসল, বলল, “তোমাকে বলেছি না খিদে লেগেছে!”

    “এক ঘণ্টা পানির নিচে সাতরাবি, খিদে লাগবে না!”

    “আমি পানির নিচে সাঁতরাই না আব্বু।”

    “কী করিস?”

    “ঘুরে বেড়াই। শুয়ে থাকি। মাছদের সাথে কথা বলি।”

    শামীম হেসে ফেলল, “কী কথা বলিস? কেমন আছেন, ভালো আছেন? ডিম পাড়বেন?”

    সেরিনা আবার হি হি করে হাসল, বলল, “আগে মাছগুলো আমাকে দেখলে পালিয়ে যেত। এখন পালায় না। কাছে আসে। আমার সাথে সতরায়। আমি মাঝে মাঝে সাঁতারের কম্পিটিশন করি।”

    “কে জেতে?”

    “মাছ!” সেরিনা এক টুকরো সবজি চিবুতে চিবুতে বলল, “একটা জিনিস জান আব্বু?”

    “কী জিনিস?”

    “মাছগুলো কিন্তু বোকা! কুকুর বেড়াল যেরকম পোষ মানে সাথে সাথে ঘুরে বেড়ায মাছগুলো মোটেও সেরকম না। এরা পোষ মানে না।”

    শামীম বলল, “তাই তো হবার কথা! কুকুর বেড়াল হচ্ছে স্তন্যপায়ী প্রাণী। ম্যামেল। তাদের বুদ্ধি তো বেশি হবেই।”

    “মাছদের মাঝে স্তন্যপায়ী প্রাণী নেই?”

    “থাকবে না কেন? তিমি মাছ? তিমি মাছ তো আসলে মাছ না। তিমি মাছ হচ্ছে ম্যামেল। স্তন্যপায়ী প্রাণী।

    সেরিনা হতাশ ভঙ্গীতে মাথা নেড়ে বলল “আমরা তো পুকুরে তিমি মাছ পালতে পারব না! এক তিমি মাছেই পুরো পুকুর ভরে যাবে!”

    শামীম বলল, “ডলফিনও ম্যামেল। ডলফিন সাইজে ছোট আছে।”

    সেরিনা আদুরে গলায় বলল, “আব্বু আমাকে একটা ডলফিন এনে দেবে? প্লীজ প্লীজ!”

    “কি করবি?”

    “পালব। সাথে নিয়ে সাঁতরাব।”

    “এনে দিতাম কিন্তু সমস্যা আছে”

    “কী সমস্যা?”

    “এগুলো তো লোনা পানিতে থাকে, তোর পুকুরে মনে হয় না বেঁচে থাকতে পারবে।”

    সেরিনা আশা ভঙ্গের মতো একটা শব্দ করল। শামীম বলল, “তোর সমস্যাটা কী? পানির নিচেই সবকিছু করতে হবে? পানির উপর কুকুর বিড়াল গরু ছাগল কতো কী আছে? তাদের পোষ মানিয়ে তাদের সাথে সময় কাটা।”

    “সেটা তো সবসময়েই কাটাই।”

    “শুধু কুকুর বিড়াল কেন? তোর স্কুল আছে না? স্কুলের বন্ধু বান্ধব আছে না? টিচার আছে না?”

    সেরিনা বলল, “বন্ধু বান্ধব ঠিক আছে, কিন্তু টিচাররাই তো সমস্যা।”

    শামীম জিজ্ঞেস করল, “কেন? টিচাররা কী সমস্যা করল?”

    “খুবই কড়া। খালি বলে পড় পড়।“

    “বলবেই তো। টিচাররা যদি পড়ার কথা না বলে তাহলে কী বলবে? বলবে খাও খাও? ঘুমাও ঘুমাও?”

    সেরিনা মাথা নাড়ল, বলল, “আমার পড়তে ভালো লাগে না।” কারো পড়তে ভালো লাগে না। তবু পড়তে হয়।”

    “পড়ে কী হবে?”

    শামীম চোখ কপালে তুলে বলল, “বলিস কী তুই? পড়ে কী হবে মানে? না পড়ে তুই কী করবি?”

    “তুমি আর আমি ঘুরে বেড়াব। পৃথিবীর যত নদী আছে দেখব। যত লোক আছে দেখব। যত সমুদ্র আছে দেখব।”

    শামীম হেসে সেরিনার মাথার ভেজা চুল এলোমেলো করে দিয়ে বলল, “ঠিক আছে। তুই আর আমি সারা পৃথিবী ঘুরে বেড়াব। কিন্তু সে জন্যে পড়া বন্ধ করতে হবে কে বলেছে?”

    সেরিনা কিছু বলল না কিন্তু শামীমের যুক্তিটা মেনে নিল সেরকম মনে হল না। বিকেলে সেরিনা বলল, “আব্বু, আমি আবার পানিতে নামি?”

    শামীম জোরে জোরে মাথা নাড়ল, বলল, “না। তোর আলেক্স চাচা আমাকে অনেকবার বলেছে আমি যেন তোকে সবসময় পানিতে ফেলে না রাখি।”

    “কেন?”

    “তাহলে ধীরে ধীরে তুই তোর ফুসফুস ব্যবহার করতে ভুলে যাবি। চামড়ার নিচে তোর রক্তনালীগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠবে।”

    “আলেক্স চাচা আর কী বলেছে?”

    “বলেছে তুই যখন বড় হবি তখন খুব হ্যাঁন্ডসাম একটা ছেলের সাথে তোকে বিয়ে দিতে।”

    “যাও।” বলে সেরিনা শামীমকে একটা ধাক্কা দিল। “আলেক্স চাচা এটা বলতেই পারে না। আমি কোনোদিন বিয়ে করব না।”

    “ঠিক আছে করিস না।”

    “আমি তোমার সাথে থাকব।“

    “ঠিক আছে থাকিস।”

    সেরিনা একটা নিশ্বাস ফেলে বলল, “আমার খুব আলেক্স চাচাকে দেখার ইচ্ছা করে।”

    সেরিনা শামীমের কাছ থেকে অনেকবার আলেক্সের গল্প শুনেছে। সেরিনার কথা শুনে মানুষটি সেই আমেরিকার ওয়াশিংটন ডিসি থেকে রাতারাতি এই দেশে হাজির হয়েছিল। বাক্স বোঝাই করে ওষুধপত্র যন্ত্রপাতি নিয়ে এসেছিল। আলেক্স যদি তখন তাকে চিকিৎসা না করতে তাহলে সে নাকী অন্যরকম হয়ে বড় হতো। অক্সিজেনের অভাবে তার মস্তিষ্ক ঠিকভাবে তৈরি হতো না, সে নাকী অনেকটা মানসিক প্রতিবন্ধীর মতো হয়ে যেতো। যে মানুষটা তাকে ঠিক ঠিক মানুষ কিংবা মৎস্যকন্যা করে দিয়েছে তার জন্যে সেরিনা সবসময়েই এক ধরণের ভালোবাসা অনুভব করে। মাউন্ট রেইনিয়ারে বরফের ধ্বসে আলেক্স সারা জীবনের জন্যে হারিয়ে গেছে সেরিনা সেটা মানতেই পারে না!

    সেরিনা শামীমের হাত ধরে বলল, “আচ্ছা আব্বু, এ-রকম কী হতে পারে যে আলেক্স চাচা আসলে তুষার ধ্বসে মারা যায় নাই?”

    সেরিনা কী বলতে চাইছে শামীম সেটা অনুমান করার চেষ্টা করে বলল, “হতে তো পারেই। কিন্তু তাই যদি হতো তাহলে এতোদিনে কী একবার তোকে দেখতে আসতো না?”

    “এরকম কী হতে পারে না যে আলেক্স চাচা বরফ ধ্বসে মারা যায় নাই কিন্তু বরফের নিচে চাপা পড়েছে বলে তার কিছু মনে নাই!”

    শামীম অনিশ্চিতের মতো বলল, “হতে পারে।”

    “তাহলে এমন কী হতে পারে না যে একদিন হঠাৎ করে আলেক্স চাচার সবকিছু মনে পড়ে যাবে তখন আলেক্স চাচা আমাকে দেখার জন্যে ছুটে আসবে?”

    শামীম এই ছেলেমানুষ মেয়েটির দিকে এক ধরনের মমতা নিয়ে তাকাল, তারপর নরম গলায় বলল, “হ্যাঁ। হতেই তো পারে।”

    সেরিনার সারা মুখ আনন্দে ঝলমল করে উঠল, বলল, “তখন কী মজা হবে, তাই না আব্বু?”

    “হ্যাঁ। তখন অনেক মজা হবে।”

    “আমি তখন আলেক্স চাচাকে নিয়ে স্কুলে যাব।”

    “ঠিক আছে।” শামীম সেরিনার ঘাড়ে হাত দিয়ে বলল, “চল এখন আমরা হেঁটে আসি। মাঠে সব বাচ্চারা আছে তাদের সাথে খেলবি চল।”

    “চল আব্বু।”

    .

    একটু পরে দেখা গেল ধান কাটার পর খালি হয়ে যাওয়া মাঠটাতে গ্রামের ছোট বড় অনেক ছেলে মেয়ের সাথে সেরিনা খেলছে। শামীম খেতের আলে বসে থেকে সেরিনাকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে। হরিণীর মতো ক্ষীপ্র একটি মেয়ে। পানির নিচে সে কী করে শামীম কখনো দেখে নি কিন্তু মাটির ওপরে সেরিনার মতো ক্ষীপ্র একটি মেয়ে সে কখনো দেখে নি। পৃথিবীর কেউ জানে না এই মেয়েটি কী বিস্ময়কর। যদি কখনো তারা জানতে পারে তখন কী হবে চিন্তা করেই শামীমের বুক কেঁপে ওঠে।

    .

    রাতে খাওয়ার পর টেবিলের দুই পাশে শামীম আর সেরিনা বসে পড়াশোনা করছে। শামীম একটা মেডিক্যাল জার্নাল পড়ছে সেরিনা একটা জটিল এলজেবরা সমাধান করার চেষ্টা করছে। শেষ পর্যন্ত এলজেবরাটাকে ঘায়েল করে সেরিনা একটা আনন্দের ধ্বনি করল। শামীম চশমার ওপর দিয়ে সেরিনার দিকে তাকিয়ে বলল, “কী হয়েছে? এতো আনন্দ কিসের?”

    “একটা এলজেবরা করেছি।”

    “গুড।”

    “অনেক কঠিন ছিল।”

    “ভেরি গুড।”

    “এলজেবরা করে আমার মগজ জ্যাম হয়ে গেছে।”

    “এখন এই জ্যাম ছোটানোর জন্যে কী করতে হবে?”

    “আমার সাথে গল্প করতে হবে।”

    “কীসের গল্প?”

    সেরিনা লাজুক মুখে বলল, “আমার আম্মু আর আব্বুর গল্প। তুমি কেমন করে আমাকে পেয়েছ সেই গল্প।”

    শামীম মনে মনে একটা নিশ্বাস ফেলল। সেরিনাকে সে কীভাবে পেয়েছে সেই সত্যি ঘটনাটি সে কখনো তাকে বলে নি। তাকে খুঁজে পাওয়ার একটা কাল্পনিক গল্প বলেছে, সেই গল্পটি সেরিনার খুব প্রিয়। মাঝে মাঝেই সেই গল্পটি তাকে বলতে হয়। গল্পটি এতোবার বলেছে যে এখন তার নিজের কাছেই এটাকে সত্যি বলে মনে হয়।

    শামীম হাসি হাসি মুখ করে বলল, “তোকে কতোবার এই গল্প বলেছি–আর কতোবার শুনবি?”

    সেরিনা বলল, “আরো অনেকবার শুনব আব্বু। গল্পটা শুনতে আমার একটু কষ্ট হয় আবার একটু ভালো লাগে।”

    শামীম বলল, “ঠিক আছে, তাহলে কাছে আয়। আমার কাছে বস।”

    সেরিনা শামীমের কাছে এসে তার গলা ধরে বসল। শামীম তখন সেরিনাকে খুঁজে পাওয়ার সেই কাল্পনিক কাহিনীটা শুরু করে। কীভাবে একটা নদী দিয়ে সে স্পিড বোটে করে যাচ্ছে, বিশাল নদী সেখানে উথাল পাতাল ঢেউ। সেই নদীতে নৌকা করে একজন মাঝি তার স্ত্রীকে শহরের হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে। তার স্ত্রী সন্তান সম্ভবা। মাঝ নদীতে হঠাৎ ঝড় উঠেছে। সেই ভয়ংকর ঝড়ের মাঝে কীভাবে মাঝি তার নৌকাটাকে উথাল পাথাল ঢেউয়ের মাঝে হাল ধরে রেখেছে। ঠিক তখন স্ত্রীর প্রসব বেদনা উঠেছে। ডাক্তার নেই, দাই নেই, আত্মীয়স্বজন কেউ নেই তার মাঝে সন্তানের জন্ম হল, ফুটফুটে একটা মেয়ে। ঠিক তখন নৌকা পড়েছে এক ঘূর্ণির মাঝে, সাথে দমকা হাওয়া, হঠাৎ করে নৌকা কাত হয়ে গেল। সন্তান ছিটকে পড়ল নদীতে তাকে বাঁচানো জন্যে মা ঝাঁপ দিল নদীতে আর মাঝিও তখন স্ত্রী আর সন্তানকে বাঁচানোর জন্যে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে, ঘূর্ণিতে টেনে নিচ্ছে স্ত্রী আর সন্তানকে, মাঝি প্রাণপণ চেষ্টা করছে তাদের বাঁচানোর জন্যে।

    শামীম তখন সেই ভয়ংকর ঘটনার একটা শ্বাসরুদ্ধকর বর্ণনা দিল। সে কীভাবে তার স্পিড বোট নিয়ে সেখানে হাজির হল, তারপর কীভাবে দেখল প্রাণহীন বাবা কীভাবে তার প্রাণহীন স্ত্রীকে ধরে রেখেছে, আর তাদের দুজনের মাঝখানে ছোট একটা শিশু কীভাবে পানিতে ভেসে আছে। তখন শিশুটি ঠিক মাছের মতো সাঁতরে তার কাছে এসেছে, তার দৃষ্টি কী বিস্ময়কর অবাক হয়ে এই পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে আছে। সেই ছোট শিশুটি হচ্ছে সেরিনা।

    কাল্পনিক গল্প। বলতে গিয়ে শামীমের গলা ধরে আসে। শুনতে শুনতে সেরিনার চোখ ভিজে আসে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্রডিজি – মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    Next Article ভূতের বাচ্চা সোলায়মান – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    Related Articles

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    ছোটগল্প – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সাদাসিধে কথা – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মেকু কাহিনী – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    আমার বন্ধু রাশেদ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সায়েন্স ফিকশান সমগ্র ১ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    টুনটুনি ও ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }