Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সায়েন্স ফিকশন সমগ্র ৬ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল এক পাতা গল্প1092 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৩. একটা বিশাল জেনারেটরের বড় বড় নাট

    একটা বিশাল জেনারেটরের বড় বড় নাট এবং বল্টগুলো আমরা সবাই মিলে খুলছিলাম। কেন খুলছি আমরা জানি না। আমাদেরকে খুলতে বলেছে তাই খুলছি। আবার যখন লাগাতে বলবে তখন লাগাব। জেনারেটরের ভেতরে কী হয়, কেমন করে কাজ করে সেগুলো জানে মাহা। মাহা আমাদের থেকে মাত্র দুই বছরের বড়, মাথার মাঝে ক্রেনিয়াল লাগানোর পর সে কয়েকদিনের মাঝে জেনারেটর ঠিক করা শিখে গেছে। সে একটা নষ্ট জেনারেটরের সামনে দাঁড়িয়ে তার মিটারগুলো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে তারপর এখানে সেখানে ঠোকা দেয়। কিছু একটা শোনে তারপর আমাদের হাতে বড় বড় রেঞ্জ দিয়ে নাটবল্টগুলো দেখিয়ে সে আমাদেরকে বলে, “এগুলো খোলো।” আমরা সেগুলো খুলি, তখন সে জেনারেটরের ভেতর ঢুকে যায়। নানারকম তার ধরে টানাটানি করে, তারপর আমাদের বড় বড় মোটা মোটা তার ধরিয়ে দিয়ে একটা ওয়েল্ডিং মেশিন দিয়ে বলে, “ওয়েল্ড করো।” আমরা বড় বড় আর্ক জ্বালিয়ে ওয়েল্ড করি। তারপর মাহা আবার জেনারেটরের ভেতরে ঢুকে কুটুর কুটুর করে কাজ করে, তারপর কালিঝুলি মেখে বের হয়ে আমাদের নাটবল্টগুলো দিয়ে বলে “এগুলো লাগাও।” আমরা সেগুলো লাগাই। লাগানো শেষ হলে মাহা ঘুরে ঘুরে দেখে, তারপর আমাদেরকে বলে, “দূরে সরে যাও।” আমরা দূরে সরে যাই। তখন মাহা বড় বড় সুইচ গায়ের জোরে টেনে ধরে, তখন কড়াত কড়াত শব্দ করে স্পার্ক হয়, কালো ধোঁয়া বের হয় তারপর হঠাৎ করে ঘর ঘর শব্দ করে বিশাল জেনারেটর চালু হয়ে যায়। জেনারেটর ঘরের বড় বড় আলোগুলো জ্বলে ওঠে। আমরা সবাই আনন্দে চিৎকার করে উঠি, শুধু মাহা চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে। সে হাসে না, কথা বলে না, গম্ভীর মুখে জেনারেটরের দিকে তাকিয়ে থাকে। তারপর আমাদের দিকে না তাকিয়ে সে হেঁটে হেঁটে চলে যায়। আমরা পেছন থেকে দেখি তার মাথায় একটা গর্ত, সেই গর্তে একটা ধাতব সিলিন্ডার। এটা হচ্ছে ক্রেনিয়াল, এই ক্রেনিয়াল দিয়ে তার মাথার মাঝে জেনারেটরের সব কিছু ঢোকানো হয়েছে। আমাদের বন্ধু মাহা এখন বড় ইঞ্জিনিয়ার। সে এখন আমাদের সাথে বলার মতো কোনো কথা খুঁজে পায় না। আগে সে সারাক্ষণ গুনগুন করে গান গাইত, এখন গান তো অনেক দূরের কথা সে কখনো কথাই বলে না। আমি বুঝতে পারি না একজন ক্রেনিয়াল লাগিয়ে অনেক কিছু শিখে গেলে কেন সে আর তার পুরোনো বন্ধুদের সাথে কথা বলতে পারে না?

    জেনারেটরের বড় বড় নাটবল্টগুলো খুলতে খুলতে দুপুর হয়ে গেল। আমরা তখন কাজ বন্ধ করে বাইরে এসে দেয়ালের উপর পা ঝুলিয়ে বসে আমাদের খাবারের প্যাকেট বের করে খেতে থাকি। শুকনো রুটি, শুকনো কৃত্রিম প্রোটিনের টুকরা আর বোতলে করে ঝাঝালো পানীয়। বিস্বাদ খাবার, কটু পানীয় কিন্তু সেগুলোই আমরা শখ করে খাই। খাবারগুলো অনেক হিসাব করে তৈরি করা হয়, এগুলো খেলে শরীরের যা যা দরকার সব পেয়ে যায়। অসুখ হয় না, মাংসপেশি গড়ে ওঠে, হাড় শক্ত হয়। তাই আমরা সেই বিস্বাদ খাবার হইচই করে খাই, খেতে খেতে গল্প করি।

    শুধু টিশা আমদের গল্পে যোগ দেয় না। সে তার ছোট ভিডি রিডার হাতে নিয়ে একটার পর একটা বই পড়ে যায়। সে কী বই পড়ে আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, ভেবেছিলাম প্রাচীন রোমান্টিক কাব্য আসলে তা নয়, সে কঠিন কঠিন বই পড়ে। মানুষের মস্তিষ্কে কী থাকে, বীজ থেকে গাছ কেমন করে জন্মায়, অণুপরমাণুর গঠন কী রকম, আকাশ থেকে বিদ্যুৎ কেমন করে হয় এই সব নিয়ে বই। তাকে দেখে মনে হয় সে বুঝি মাথায় ক্রেনিয়াল লাগানোর আগেই সবকিছু শিখে ফেলতে চায়।

    টিশা কারো সাথে খুব বেশি কথা বলে না, কমিউনের সেই সভায় কমান্ড্যান্টের সাথে তার সেই কথোপকথনের পর অন্যেরাও তার সাথে কথা বলার সাহস পায় না। কে জানে কখন কে কী বিপদে পড়বে, কাকে আবার ডিটিউন করে দেবে!

    দেয়ালে পা ঝুলিয়ে বসে খেতে খেতে আমি দেখতে পেলাম টিশা ধসে পড়া একটা দেয়ালে হেলান দিয়ে তার ভিডি রিডারে বই পড়ছে। পাশে তার ভোলা খাবারের প্যাকেট, সেখান থেকে একটা রুটির টুকরো বের করে আধখানা খেয়ে মনে হয় খেতেই ভুলে গেছে।

    আমি দেয়াল থেকে লাফ দিয়ে নেমে টিশার কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম। আমার পায়ের শব্দ শুনে টিশা মুখ তুলে তাকাল। যদিও সে বুঝতে দিতে চায় না তারপরেও আমি বুঝতে পারলাম আমাকে দেখে তার চোখে-মুখে একটা আনন্দের ছায়া পড়ল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, “কী পড় টিশা?”

    “সময় পরিভ্রমণের উপর একটা বই।”

    “সময় পরিভ্রমণ? সেটা আবার কী?”

    “এই মনে করো ভবিষ্যতে না হলে অতীতে চলে যাওয়া।”

    আমি হেসে বললাম, “যাও! সেটা কি আবার সম্ভব নাকি?”

    টিশা মুখ গম্ভীর করে বলল, “বিজ্ঞানীরা মনে করেন সম্ভব।”

    আমি টিশার পাশে বসে বললাম, “ঠিক আছে সম্ভব হলে সম্ভব। তাতে তোমার আমার কী? তুমি কি ভবিষ্যতে যেতে পারবে? অতীতে যেতে পারবে?”

    “যেতে না পারলে নাই, কিন্তু জানতে তো ক্ষতি নেই।”

    “তার জন্য এত তাড়াহুড়ার কী আছে? ক্রেনিয়াল লাগালে একদিনে সব জেনে যাবে। এত কষ্ট করে ভিডি রিডারে বই পড়তে হবে কেন?”

    টিশা হাসল, বলল, “বই পড়তে আমার কষ্ট হয় না। আমি দিনরাত বই পড়তে পারব।”

    আমি বললাম, “তুমি পাগল।”

    টিশা হাসল, বলল, “মনে হয় তুমি ঠিকই বলেছ। মনে হয় আমি আসলেই পাগল।”

    টিশা নিঃশব্দে কিছুক্ষণ দূরে তাকিয়ে রইল, তারপর বলল, “আমার মাঝে মাঝেই মনে হয় যদি আমাদের পড়তে না শেখাত তাহলে কী হতো?”

    আমি তার কথা বুঝতে পারলাম না। বললাম, “কেন? পড়তে শেখাবে না কেন?”

    “হতেও তো পারত! সবাই মিলে ঠিক করত কাউকে পড়াতে শেখানোর দরকার নেই। যখন যোলো বছর বয়স হবে তখন মাথার মাঝে ক্রেনিয়াল বসিয়ে সেখান দিয়ে পড়তে শেখাবে!”

    আমি বিষয়টা এভাবে চিন্তা করিনি। টিশা ঠিকই বলেছে আমাদেরকে ছোট থাকতে পড়তে শিখিয়েছে। না শেখালেও ক্ষতি ছিল না। পড়তে শিখে আমাদের অবশ্যি খুব বেশি লাভ হয়নি, ক্ষতিও হয়নি। টিশার অনেক লাভ হয়েছে, সে দিনরাত বই পড়তে পারে। কে জানে এটা হয়তো লাভ না, এটা হয়তো ক্ষতি। পড়তে পড়তে টিশা অন্যরকম হয়ে গেছে, এখন সে অন্যভাবে চিন্তা করে। সে জন্য টিশা কোনদিন কোন বিপদে পড়বে কে জানে!

    আমি টিশার পাশে বসে রইলাম, টিশাও চুপচাপ বসে রইল। আমি বললাম, “তুমি খাচ্ছ না কেন? খাও।”

    টিশা বলল, “হ্যাঁ খাব।” কিন্তু টিশা খেল না, বসেই রইল।

    বিকেল বেলা যখন আমাদের কাজ শেষ হলো তখন আমরা সবাই দল বেঁধে পুরোনো জেনারেটরের বিল্ডিং থেকে বের হয়ে এলাম। সবাই গল্প করতে করতে এগিয়ে যাচ্ছে। শুধু টিশা একা একা হাঁটছে। আমি টিশার কাছে গিয়ে বললাম, “টিশা! বিকেল বেলা তুমি কী করবে?”

    “কী করব? কিছু না।”

    “চলো তাহলে প্রাচীরে যাই।” আমি জানি কংক্রিটের স্থূপ দিয়ে ঘেরাও করে তৈরি করা প্রাচীরে উঠে দূরে তাকিয়ে থাকতে টিশা খুব পছন্দ করে।

    টিশার মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল, বলল, “চলো, যাই।”

    আমরা দুজন তখন ভাঙা ধসে যাওয়া দালান, ইট পাথর কংক্রিটের জঞ্জাল, জং ধরা ভাঙা যন্ত্রপাতি পার হয়ে প্রাচীরের নিচে এসে দাঁড়ালাম। এখানে কংক্রীটের মাঝে ছোট একটা ফাঁক আছে। অনেকদিন আগে আমি আর টিশা এই ফাঁক আবিস্কার করেছি। আমরা দুজন ছাড়া আর কেউ এই ফাঁকটুকুর কথা জানে না। ইচ্ছে করলে এই ফাঁকটুকু দিয়ে শহর থেকে বের হওয়া সম্ভব-কিন্তু বের হওয়ার কোনো প্রয়োজন হয়নি বলে কখনো বের হওয়ার চেষ্টা করিনি। আমরা একবার ভেতরে উঁকি দিলাম তারপর টিশা কংক্রিটের ভাঙা টুকরোগুলোয় পা দিয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে প্রাচীরের উপরে উঠে যেতে থাকে। আমি তার মতো এত সহজে লাফিয়ে লাফিয়ে উঠতে পারি না, তাই টিশার পিছু পিছু সাবধানে প্রাচীরের উপর উঠে দাঁড়ালাম। শহরের ভেতর একটা বন্ধ বন্ধ ভাব আছে, উঁচু উঁচু দালানগুলো মনে হয় সবকিছু আটকে রেখেছে। এই প্রাচীরের উপর উঠলে দেখা যায় চারদিক খোলা, যতদূর চোখ যায় শুধু লালচে বালি। মনে হয় আকাশটা একটা বাটির মতো পুরো পৃথিবীটা ঢেকে রেখেছে।

    আমি আর টিশা যখন প্রাচীরের উপর হাঁটছি তখন হঠাৎ করে টিশা বলল, “রিহি! দেখো, দেখো।”

    আমি মাথা ঘুরে তাকালাম, বহুদূর থেকে ধুলো উড়িয়ে একটা গাড়ি ছুটে আসছে। আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম, এর আগে কখনো আমরা কেউ একটা গাড়িকে ছুটে যেতে দেখিনি। বাইরে দস্যুদল, বুনো পশু, কত রকম বিপদ, সেখানে কেউ একা যায় না। যখন এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে হয় সবাই দল বেঁধে যায়। একসাথে তখন অনেক গাড়ি থাকে। সেই গাড়ির সামনে-পিছে অস্ত্র হাতে প্রহরী থাকে। এখানে কিছু নেই, শুধু একটা গাড়ি। কী আশ্চর্য!

    গাড়িটা ধুলা উড়িয়ে ঠিক আমাদের শহরের দিকেই আসছে, দেখতে দেখতে গাড়িটা স্পষ্ট হলো। এটা আমাদের দেখা কোনো গাড়ির মতো না, এটা অন্য রকম গাড়ি। দেখে মনে হয় জোড়াতালি দিয়ে তৈরি করা গাড়ি, ভুল করে তৈরি করা গাড়ি। মনে হয় একটা বড় সাইজের খেলনা গাড়ি। গাড়ির ভেতরে কারা বসে আছে আমরা দেখতে পাচ্ছিলাম না, মনে হয় দস্যুদল। আমরা শুধু দস্যুদলের নাম শুনেছি তাদের সম্পর্কে ভয়ানক ভয়ানক গল্প শুনেছি কিন্তু কখনো তাদেরকে দেখিনি। তাই ভালো করে দেখার জন্য আমরা প্রাচীরের উপর দিয়ে ছুটে যেতে থাকি। দস্যুদল দূর থেকে আমাদেরকে গুলি করে দেবে কি না সেটা নিয়ে একটু ভয় করছিল, তাই চেষ্টা করছিলাম কংক্রিটের আড়ালে আড়ালে থাকতে।

    গাড়িটা আমাদের শহরের গেটের দিকে আসছিল। তাই আমি আর টিশাও গেটের কাছাকাছি চলে এলাম। গাড়িটা কাছাকাছি চলে এসেছে এবারে ভেতরেও দেখা যাচ্ছে। স্টিয়ারিং হাতে একজন মাত্র মানুষ–আর কেউ কোথাও নেই। একজন মানুষ একটা অদ্ভুত খেলনা গাড়িতে করে আমাদের শহরের দিকে আসছে। কেন আসছে?

    ঠিক তখন আমরা প্রথম গুলির শব্দ শুনলাম, আমাদের শহরের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সেন্ট্রি গুলি করেছে। বিদঘুঁটে খেলনার মতো গাড়িটা তখন একটা ঝাঁকুনি দিয়ে থেমে গেল। আমি আর টিশা কংক্রিটের আড়াল থেকে দেখতে পেলাম গাড়ির ভেতর থেকে মানুষটা খুব ধীরেসুস্থে বের হয়ে এল, এবার আমরা তার চেহারা দেখতে পেলাম, মাথায় একটা হ্যাঁট, মুখে দাড়ি আর গোঁফ। তার কাঁধে বিচিত্র একটা পাখি বসে আছে। মানুষটা গাড়ির ভেতর থেকে একটা ছোট লাঠি বের করল, লাঠির মাথায় এক টুকরো সাদা কাপড় বেঁধে একটা পতাকার মতো তৈরি করল, তারপর সেটা নাড়াতে নাড়াতে হেঁটে হেঁটে গেটের দিকে আসতে থাকে। মানুষটার ভেতরে কোনো ভয়-ডর নেই, কোনো দুশ্চিন্তা নেই।

    আমি অবাক হয়ে বললাম, “সাদা পতাকা দিয়ে কী করছে মানুষটা?”

    টিশা বলল, “সাদা পতাকা হচ্ছে শান্তির পতাকা। মানুষটা বোঝাতে চাইছে সে মারামারি করতে আসেনি।”

    “তুমি কেমন করে জান?”

    “আমি বইয়ে পড়েছি।”

    “মানুষটার কাঁধে ওটা কী পাখি?”

    টিশা বলল, “বাজপাখি”

    “কেন?”

    “শখ। আগে মানুষ বাজপাখি পুষত।”

    আমি আর টিশা কংক্রিটের পেছনে ঘাপটি মেরে বসে কী হয় দেখতে থাকি। মানুষটা পতাকা দুলিয়ে দুলিয়ে কাছে আসতে থাকে। তখন গেট থেকে সেন্ট্রি চিৎকার করে বলল, “দাঁড়াও।”

    মানুষটা দাঁড়িয়ে গেল। সেন্ট্রি বলল, “আর কাছে আসবে না। খবরদার।”

    মানুষটা মাথা নেড়ে রাজি হয়ে সেখানে পা ছড়িয়ে বসে গেল। আমরা দেখলাম মানুষটার বিদঘুঁটে গাড়ির ভেতর থেকে দুটো কুকুর লাফ দিয়ে নেমে এদিক-সেদিক গন্ধ শুকতে শুকতে তার দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। মানুষটার কাছে এসে কুকুর দুটো তার শরীর ঘেঁষে বসে পড়ল। মানুষটা তখন কুকুরগুলোর মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করতে থাকে।

    সেন্ট্রিগুলো যখন দেখল মানুষটা একা, তার সাথে কোনো অস্ত্র নেই, সঙ্গী হচ্ছে একটা পাখি আর দুটো কুকুর তখন তারা অনুমান করল একে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তখন তারা স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র হাতে নিয়ে লোকটার কাছে গেল, তার সাথে কিছুক্ষণ কথা বলল, আমরা দূর থেকে তাদের কথাগুলো ঠিক শুনতে পেলাম না। একটু পরে দেখলাম মানুষটা উঠে দাঁড়িয়ে আমাদের শহরের গেটের দিকে হেঁটে হেঁটে আসছে, তার পিছু পিছু দুটি কুকুর অলস ভঙ্গিতে হাঁটছে। আমাদের শহরের সেন্ট্রিরা তাদের ভয়ংকর স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র মানুষটার দিকে তাক করে ধরে রেখেছে।

    টিশা বলল, “চলো যাই।”

    “কোথায়?”

    “নিচে। দেখি মানুষটা কী করে।”

    আমি বললাম, “তুমি ভেবেছ মানুষটা কী করে সেটা তোমাকে দেখতে দেবে? নিশ্চয়ই কমান্ড্যান্টের কাছে নিয়ে যাচ্ছে।”

    “নিলে নেবে। আমাদের কাছে যেতে না দিলে চলে আসব। সমস্যা কোথায়?” কথা শেষ করে আমি কী বলি সেটার জন্য অপেক্ষা না করে টিশা কংক্রিটের টুকরোর উপর লাফ দিতে দিতে নিচে নামতে থাকে। আমি আর কী করব? তার পিছু পিছু নামতে শুরু করলাম।

    গেটের কাছাকাছি গিয়ে দেখি সেখানে মানুষের ছোটখাটো একটা জটলা। মনে হচ্ছে এই মানুষটার খবর পেয়ে অনেকেই মজা দেখতে চলে এসেছে। আমি আর টিশাও মানুষের ভিড়ের মাঝে মিশে গিয়ে কী হচ্ছে দেখার চেষ্টা করলাম।

    দূর থেকে মানুষটাকে যত বিচিত্র মনে হয়েছিল, কাছে থেকে তাকে আরো বিচিত্র মনে হলো। মাথার হ্যাঁটটা খুলে পেছনে ঝুলিয়ে নিয়েছে। মাথায় লম্বা চুল ঝুঁটির মতো বেঁধে রেখেছে। মুখ বোঝাই কাঁচাপাকা দাড়ি আর গোঁফ। রোদে পোড়া চেহারা, শুধু চোখ দুটো কেমন জানি ঝকঝক করছে। খাকি একটা শার্ট, ভুসভুসে খাকি প্যান্ট। পায়ের জুতো খুবই অদ্ভুত, আমরা কখনো এরকম জুতো দেখিনি। মনে হয় গাড়ির টায়ার কেটে নিজেই তৈরি করে নিয়েছে।

    একজন জিজ্ঞেস করল, “তুমি কে? কোথা থেকে এসেছ?”

    মানুষটা বলল, “আমি যাযাবর।”

    যাযাবর শব্দটার অর্থ বেশির ভাগ মানুষ বুঝতে পারল না। আমিও বুঝতে পারলাম না, টিশার দিকে তাকালাম, টিশা ফিসফিস করে বলল, “যারা ঘুরে বেড়ায় তারা যাযাবর।”

    “ঘুরে বেড়ায়?”

    “হ্যাঁ”

    “ঘুরে কী করে?”

    “কিছু করে না।”

    আরেকজন জিজ্ঞেস করল, “তুমি এখানে কেন এসেছ?”

    তখন সেন্ট্রি তার অস্ত্র ঝাঁকুনি দিয়ে বলল, “কোনো কথা না। কমান্ড্যান্ট আসার আগে কোনো কথা না।”

    আমাদেরকে তাড়িয়ে না দিয়ে শুধু কথা বলতে নিষেধ করেছে, তাতেই আমরা খুশি।

    কিছুক্ষণের মাঝেই কমান্ড্যান্ট আর তার সাথে দুজন সহকারী চলে এল। একজন রুপালি চুলের মহিলা অন্যজন কঠিন চেহারার

    একজন পুরুষ। কমান্ড্যান্ট আমাদের এভাবে জটলা করে থাকতে দেখে একটু বিরক্ত হলো কিন্তু চলে যেতে বলল না। সোজাসুজি বিচিত্র মানুষটার কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে কয়েক সেকেন্ড তাকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখল। ঠিক কী কারণ জানা নেই তখন কুকুর দুটো উঠে দাঁড়িয়ে নিচু গলায় চাপা গর্জন করল। ঘাড়ে বসে থাকা বাজপাখিটাও প্রথমবার মাথা ঘুরিয়ে চারদিকে দেখে ডানা ঝাঁপটে তীক্ষ্ণ এক ধরনের শব্দ করল।

    কমান্ড্যান্ট যাযাবর মানুষটিকে জিজ্ঞেস করল, “তুমি কী চাও?”

    মানুষটি বলল, “আমি কিছু চাই না।”

    “তাহলে কেন এসেছ?”

    “এমনি।”

    কমান্ড্যান্ট কঠিন গলায় বলল, “এমনি কেউ আসে না।”

    যাযাবর মানুষটি সহৃদয় ভঙ্গিতে হাসল, বলল, “আমি আসি!”

    “কেন?”

    “আমি ঘুরে বেড়াই। ঘুরে ঘুরে দেখি। দেখাতেই আমার আনন্দ। দূর থেকে দেখলাম তোমাদের শহর, তাই দেখতে এসেছি।”

    কমান্ড্যান্ট কেমন যেন অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল, বলল, “আমি তোমার কথা বিশ্বাস করি না।”

    যাযাবর মানুষটা আবার সহৃদয় ভঙ্গিতে হাসল, বলল, “তোমাকে আমার কথা বিশ্বাস করতে হবে না। আমি তোমাকে আমার কথা বিশ্বাস করতেও বলব না।”

    কমান্ড্যান্ট মুখ আরো শক্ত করে বলল, “তুমি আসলে দস্যুদলের গুপ্তচর। তুমি আমাদের শহরের ভেতরে খোঁজ নিতে এসেছ।”

    মানুষটা হাসি হাসি মুখে বলল, “তুমি যদি তাই বিশ্বাস করতে চাও, আমার কোনো সমস্যা নেই।”

    “তোমাকে আমরা অ্যারেস্ট করব।”

    “করতে চাইলে করো। আমার জন্য সেটাও হবে এক ধরনের অভিজ্ঞতা। আমি কখনো কোথাও অ্যারেস্ট হইনি।”

    কমান্ড্যান্ট তখন কেমন যেন কথা বলার উৎসাহ হারিয়ে ফেলল। হতাশভাবে মাথা নেড়ে বলল, “তুমি কী চাও ঠিক করে বলো।”

    বিচিত্র মানুষটা প্রথমবার গম্ভীর মুখে বলল, “আমি কিছু চাই না। যদি অনুমতি দাও তোমাদের শহরটা দেখব। যদি না দাও, এখানে এক-দুইদিন বসে থাকব, রাত্রে আগুন জ্বালিয়ে গিটার বাজিয়ে তোমাদের গান শোনাব। যদি সেটাও না চাও চলে যাব।” মানুষটা এক মুহূর্ত থেমে বলল, “আর, তুমি যদি চাও তাহলে—”

    “তাহলে কী?”

    “আমি তোমাদের ভাঙা অকেজো গাড়ি বাইক লরি এসব ঠিক করে দিতে পারি। আমি খুব ভালো গাড়ির মেকানিক।”

    কমান্ড্যান্ট মাথা নাড়ল, “তার কোনো প্রয়োজন নেই। আমাদের ক্রেনিয়াল লাগানো মানুষ আছে। যে কোনো বিষয়ে আমরা তথ্য মস্তিষ্কে ঢুকিয়ে দিতে পারি।”

    বিচিত্র মানুষটা কোনো কথা না বলে নিঃশব্দে হাসতে থাকে। কমান্ড্যান্ট ভুরু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল, “কী হলো? তুমি এভাবে হাসছ কেন?”

    “এমনি! তোমাদের ক্রেনিয়ালের বাইরে অনেক তথ্য আছে! যেগুলো অভিজ্ঞতা থেকে জানতে হয়। ক্রেনিয়াল লাগানো ইঞ্জিনিয়াররা যে গাড়ি ঠিক করতে পারেনি সেরকম একটা গাড়ি নিয়ে এসো, আমি তোমাকে দেখাই।”

    “তোমাকে কিছু দেখাতে হবে না।” কমান্ড্যান্ট কিছুক্ষণ কিছু একটা চিন্তা করে বলল, “ঠিক আছে, তোমাকে আমি চব্বিশ ঘণ্টা এখানে থাকার অনুমতি দিলাম, কিন্তু তোমাকে কয়েকটা আদেশ মানতে হবে।”

    “কী আদেশ?”

    “তুমি এখানেই বসে থাকবে, শহরের ভেতরে ঢুকতে পারবে।”

    “ঢুকব না।”

    “গানবাজনা হইহুল্লোড় চলবে না।”

    “ঠিক আছে।”

    “তোমার এই ঘেয়ো কুকুর আর প্যাঁচা–”

    “এটা প্যাচা না। এটা বাজপাখি।”

    “যাই হোক, এই জন্তু-জানোয়ার শহরের সীমানার বাইরে রাখবে। আমি চাই না এগুলো এখানে রোগ-জীবাণু আর ব্যাকটেরিয়া ছড়াক।”

    মানুষটি হেসে ফেলল। জিজ্ঞেস করল, “আর কিছু?”

    “শহরের মানুষের সাথে কোনো গুজুর গুজুর ফুসুর ফুসুর চলবে। কোনো ষড়যন্ত্র কোনোরকম গুজব ছড়ানো চলবে না।”

    মানুষটাকে এবারে একটু দুশ্চিন্তিত দেখাল, বলল, “তার মানে আমি কারো সাথে কথা বলতে পারব না?”

    “কথা বলতে পারবে কিন্তু গুজব ছড়াতে পারবে না।”

    “কিন্তু কোনটাকে তোমরা কথাবার্তা বলবে আর কোনটাকে তোমরা গুজব বলবে, আমি সেটা কেমন করে বুঝব?”

    “তোমার বুঝতে হবে না। তোমার সব কথাবার্তা আমরা মনিটর করব। যখন দেখবে তোমাকে ঘাড় ধরে বের করে দিচ্ছি, বুঝবে তুমি গুজব ছড়াচ্ছ।”

    মানুষটি মাথা নাড়ল, বলল, “ঠিক আছে।”

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্রডিজি – মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    Next Article ভূতের বাচ্চা সোলায়মান – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    Related Articles

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    ছোটগল্প – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সাদাসিধে কথা – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মেকু কাহিনী – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    আমার বন্ধু রাশেদ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সায়েন্স ফিকশান সমগ্র ১ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    টুনটুনি ও ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }