Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সায়েন্স ফিকশন সমগ্র ৬ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল এক পাতা গল্প1092 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৩-০৪. ক্যাম্পের বাইরে সরু একটা রাস্তা

    ০৩.

    ক্যাম্পের বাইরে সরু একটা রাস্তা। রাস্তার দুই পাশে বড় বড় গাছ। গাছের ছায়ায় শুকনো পাতা মাড়িয়ে রিটিন অন্যমনস্কভাবে হাঁটতে থাকে। রাস্তাটা ঘুরে যেতেই রিটিন ছোট একটা পানীয়ের ঘর দেখতে পেল। ঘরটা চোখে পড়তেই সে বুঝতে পারল তার আসলে খুব তৃষ্ণা পেয়েছে।

    ঘরের সামনে দাঁড়াতেই দরজাটা নিঃশব্দে খুলে গেল। ঘরের এক কোনায় সোনালি চুলের একটা কম বয়সী মেয়ে বসে আছে। মেয়েটি প্রাণপণ চেষ্টা করছে নিজের ভেতরকার উদ্বেগটুকু লুকিয়ে রাখতে কিন্তু রিটিন বুঝতে পারল মেয়েটার ভেতরে চাপা উত্তেজনা।

    রিটিন ছোট একটা গ্লাসে এক গ্লাস উত্তেজক পানীয় ঢেলে নেয়, তারপর গ্লাসটি নিয়ে মেয়েটির কাছাকাছি একটা চেয়ারে বসে। মেয়েটির সাথে চোখে চোখ পড়তেই মেয়েটি নার্ভাস ভাবে একটু হাসল। বলল, “ক্যাম্প থেকে এসেছ?”

    রিটিন মাথা নাড়ল, বলল, “হ্যাঁ।”

    “মিশিকেও গত রাতে ক্যাম্পে ধরে নিয়ে গেছে। এতক্ষণে মনে হয় ছেড়ে দেয়ার সময় হয়েছে।”

    রিটিন ভাবল জিজ্ঞেস করে মিশি কে; কিন্তু শেষ পর্যন্ত জিজ্ঞেস করল না। মেয়েটা নিজে থেকেই বলল, “মিশি আমার অনেক দিনের বন্ধু। এই শীতে আমরা বিয়ে করব।”

    রিটিন চলল, “ও আচ্ছা। চমৎকার।”

    “হ্যাঁ। অনেক কষ্ট করে, অনুমতি পেয়েছি। ক্যাটাগরি সি মানুষদের বিয়ের অনুমতি দিতে চায় না।”

    রিটিন তার গ্লাসের পানীয়ে চুমুক দিয়ে বলল, “মিশিকে ক্যাম্পে নিয়ে গেছে কেন?”

    মেয়েটা নার্ভাস ভঙ্গিতে হাসার চেষ্টা করল, বলল, “শুধু শুধু। একেবারেই শুধু শুধু। কোনো কারণ নেই। ব্রেন স্ক্যানিং করে যখন দেখবে শুধু শুধু ধরে নিয়েছে তখন ছেড়ে দেবে, তাই না?”

    রিটিন মাথা নাড়ল, বলল, “হ্যাঁ। আমাকে ছেড়ে দিয়েছে। স্ক্যান করে কিছু পায়নি।”

    মেয়েটা ছটফটে চোখে রিটিনের চোখের দিকে তাকাল, বলল, “কিছু পায়নি?”

    “না। কিন্তু ব্রেনের ভেতরে কী আছে সব জেনে গেছে।”

    মেয়েটার চোখে এবারে উদ্বেগের একটা চিহ্ন ফুটে উঠল। শুকনো ঠোঁটগুলো জিব দিয়ে ভেজানোর চেষ্টা করে বলল, “সব জেনে যায়?”

    “হ্যাঁ।” রিটিন মাথা নাড়ল, “পুরো মাথাটার ভেতরে ঢুকে যায়। একটা একটা করে স্মৃতি খুলে খুলে দেখে–”

    “সত্যি?”

    “হ্যাঁ। আমি যে এভোকাডো খেতে পছন্দ করি না সেটা পর্যন্ত জানে।”

    মেয়েটা তার হাতের পানীয়ের গ্লাসে একটা ছোট চুমুক দিয়ে বলল, “মিশির ব্রেনে নিশ্চয়ই খারাপ কিছু পাবে না।”

    রিটিন বলল, “না, নিশ্চয়ই পাবে না।”

    মেয়েটা অস্বস্তিতে ছটফট করতে থাকে। একটু পর গলা পরিষ্কার করে বলল, “কিন্তু যদি ভুলে কিছু একটা পেয়ে যায় তাহলে কী হবে?”

    রিটিন বলল, “ভুল করে কিছু পাবার কথা না।”

    মেয়েটা মাথা নাড়ল, বলল, “তা ঠিক।”

    রিটিন তার পানীয়ের গ্লাসে চুমুক দিয়ে চোখের কোনা দিয়ে মেয়েটাকে লক্ষ করে। মেয়েটা বাইরে যতই শান্ত ভাব দেখাক ভেতরে ভেতরে সে অস্থির হয়ে আছে।

    ঠিক এরকম সময় দরজাটা খুলে গেল এবং রিটিনের বয়সী একজন মানুষ ঘরের ভেতর এসে ঢুকল। মেয়েটি সাথে সাথে লাফ দিয়ে আনন্দে চিৎকার করে উঠল, “মিশি।”

    মিশি মেয়েটার কথা শুনল বলে মনে হয় না। সে পানীয় ডিসপেন্সরের কাছে গিয়ে নিজের জন্যে একটা পানীয় বেছে নেয়। মেয়েটা দুই হাত উপরে তুলে মিশির দিকে ছুটে যেতে থাকে, চিৎকার করে বলতে থাকে, “আমি তোমার জন্যে সেই সকাল থেকে বসে আছি, মিশি–”

    রিটিন দেখল মিশি একটু অবাক হয়ে মেয়েটার দিকে তাকাল, বলল, “তুমি আমাকে বলছ?”

    “তোমাকে না বললে আমি কাকে বলব? মিশি–মিশি–”

    রিটিন দেখল মেয়েটি মিশিকে জাপটে ধরল আর সাথে সাথে মিশি একটা ঝটকা দিয়ে নিজেকে মুক্ত করে নেয়। মেয়েটা প্রস্তুত ছিল না, পড়ে যেতে যেতে কোনোমতে নিজেকে সামলে নিয়ে অবাক হয়ে কাতর গলায় বলল, “মিশি–”

    মিশি বলল, “আমি মিশি না।”

    মেয়েটা প্রায় আর্তনাদ করে বলল, “কী বলছ তুমি?”

    “আমি ঠিকই বলছি। আমার নাম ক্লড।”

    “মিশি! তুমি কী বলছ এসব? তুমি আমাকে চিনতে পারছ না? আমি গ্লানা।”

    মানুষটা তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ মেয়েটার দিকে তাকিয়ে রইল তারপর বলল, “আমি তোমাকে চিনি না। কখনো দেখিনি।”

    রিটিন দেখল মেয়েটা আতঙ্কে থর থর করে কেঁপে উঠল। কাঁপা গলায় বলল, “মিশি–মিশি–”

    মানুষটা কঠিন গলায় বলল, “আমি মিশি না। তুমি কিছু একটা ভুল করছ।”

    “না, আমি ভুল করছি না মিশি! তোমার মনে নেই তোমাকে ক্যাম্পে নিয়ে গেল, তুমি আমাকে বললে-”

    মানুষটা মাথা নাড়ল, বলল, “না, আমি কাউকে কিছু বলিনি। তোমার দেখাও ভুল হয়েছে।”

    “আমার কোথাও ভুল হয়নি মিশি, তুমি মনে করার চেষ্টা করো, আমি আর তুমি”

    মানুষটা একধরনের বিস্ময় নিয়ে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে থাকে, তারপর কঠিন গলায় বলল, “তুমি কেন আমাকে এসব বলছ? আমি তোমাকে চিনি না, আমি তোমাকে কখনো দেখিনি”

    মেয়েটা হঠাৎ আকুল হয়ে কেঁদে উঠল, আর্তচিৎকার করে চলল, “মিশি, আমার মিশি–”

    মানুষটা তার পানীয়টা নিয়ে সরে গিয়ে একধরনের বিস্ময় নিয়ে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে থাকে। মেয়েটা কাঁদতে কাঁদতে ভাঙা গলায় বলল, “মিশি, সোনা আমার–আমি সারাটি জীবন তোমার জন্যে অপেক্ষা করে আছি, এখন তুমি কেন আমাকে চিনতে পারছ না? আমার দিকে একবার তাকাও, ভালো করে তাকাও”

    মানুষটা বিড়বিড় করে বলল, “তুমি ভুল করছ। ভুল-”

    রিটিন উঠে দাঁড়াল, পানীয়ের গ্লাসটা টেবিলে রেখে সে মেয়েটার কাছে এগিয়ে গিয়ে তার হাত ধরল, নরম গলায় বলল, “গ্লানা, আমার কথা শোনো”

    মেয়েটা রিটিনের দিকে তাকাল। রিটিন নিচু গলায় বলল, “তোমার মিশির মস্তিষ্ককে প্রতিস্থাপন করে দিয়েছে–এই মানুষটি মিশি না।”

    ৩৪

    “মিশি কোথায়?”

    রিটিন মাথা নিচু করল, শোনা যায় না এরকম গলায় বলল, “মিশি নেই। মিশির এই শরীরটা আছে কিন্তু সেখানে মিশি নেই–সেখানে অন্য কোনো মানুষ–”

    গ্লানা নামের মেয়েটা আর্তনাদ করে বলল, “না-না, আমি বিশ্বাস করি না, বিশ্বাস করি না–বিশ্বাস করি না–”

    রিটিন শক্ত করে মেয়েটাকে ধরে রাখল, বিচিত্র একধরনের বেদনায় তার বুকের ভেতরটা দুমড়ে-মুচড়ে যেতে থাকে।

    .

    রিটিন দীর্ঘ সময় শহরের শেষ মাথায় নদীর তীরে একটা পাথরের বেঞ্চে বসে রইল। নদী থেকে একধরনের উথালপাতাল মন খারাপ করা বাতাস বইছে। নদীর তীরে বড় বড় ঝাউগাছ, বাতাসে তার পাতা শিরশির করে কাঁপছে, গাছের পাতার শব্দে তার মন আনমনা হয়ে যায়।

    আজ সকালের ঘটনাটি তার ভেতরে সবকিছু ওলটপালট করে দিয়েছে। মিশি আর গ্লানার খুব সুন্দর একটা জীবন হতে পারত, চিন্তু ক্যাটাগরি সি মানুষের সেই সুন্দর জীবনের অধিকার নেই। এই পৃথিবীর একেবারে ছকে বাঁধা মানুষ না হলে ক্যাটাগরি সি মানুষকে পাল্টে দেয়া হয়। রিটিন অনেক চেষ্টা করেও হঠাৎ করে দেখা হওয়া রানা নামের মেয়েটির আকুল হয়ে কান্নার কথা ভুলতে পারছে না। এই মেয়েটির সাথে তার হয়তো আর কখনো দেখা হবে না। তার কথা মনে করে এরকম বিচলিত হওয়ার নিশ্চয়ই কোনো অর্থ নেই। কিন্তু তারপরও রিটিন বিচলিত হয়ে নদীর তীরে একা একা বসে রইল।

    অন্ধকার নেমে আসার পর রিটিন উঠে দাঁড়ায়। সে এখন কোথায় যাবে জানে না। উদ্দেশ্যহীনভাবে শহরে ঘুরে বেড়াবে, যখন শরীর ক্লান্ত হয়ে উঠবে সে তার ছোট ঘরটাতে ফিরে যাবে। ঘরে যদি কোনো খাবারের প্যাকেট থাকে ভালো, যদি না থাকে কয়েক গ্লাস পানি খেয়ে ঘুমিয়ে যাবে। ঠিক কী কারণ জানা নেই এই জীবনটিকে টেনে নিতে রিটিন আর কোনো আগ্রহ অনুভব করছে না।

    রিটিনের ধারণা ছিল সে পুরোপুরি উদ্দেশ্যহীনভাবে হাঁটছে, কিন্তু সে অবাক হয়ে আবিষ্কার করল হেঁটে হেঁটে কীভাবে কীভাবে জানি সে একটা আলোকোজ্জ্বল উত্তেজক পানীয়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। উপরে জ্বলজ্বলে আলোতে লেখা ‘ক্রিমিজিম’। গতকাল একটি মেয়ে তাকে বলেছে এখানে ঘাঘু ক্রিমিনালরা আড্ডা দেয়। কেউ যদি তার শরীর থেকে ট্র্যাকিওশান খুলে ফেলে দিতে চায় তাকে এখানে আসতে হবে। রিটিনের ট্র্যাকিওশানে এখন কোনো সমস্যা নেই–তার এখানে আসার কথা নয় কিন্তু সে অবাক হয়ে আবিষ্কার করল সে ক্রিমিজিমের দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকে গেল।

    ভেতরে অনেক নারী-পুরুষ উত্তেজক পানীয় খেতে খেতে হইহল্লা করছে। ঘরের ভেতর আবছা অন্ধকার, তার মাঝে দ্রুতলয়ের একধরনের সঙ্গীতের সুর, রিটিন নিজের অজান্তেই সেই সুরের সাথে তাল দিতে দিতে সামনে এগিয়ে যায়।

    ঘরের মাঝামাঝি পৌঁছানোর আগেই কম বয়সী একটা মেয়ে স্বচ্ছ একটা ট্রেতে বেশ কয়েক ধরনের পানীয়ের গ্লাস নিয়ে রিটিনের দিকে এগিয়ে আসে, মেয়েটি শরীরে কিছু একটা মেখে এসেছে, যার কারণে তার শরীর থেকে হালকা নীল একধরনের আলো বের হচ্ছে। মেয়েটি আহ্লাদী গলায় রিটিনকে জিজ্ঞেস করল, “তুমি কী খাবে গো ছেলে? আমাদের নতুন পানীয়ের চালান এসেছে।”

    “আমি কিছু খাব না।”

    “তুমি কিছু না খেলে এখানে কেন এসেছ? এখানে এলে কিছু না কিছু খেতে হয়।”

    রিটিন মাথা নাড়ল, বলল, “না, আমার মাথা শীতল রাখতে হবে। আমি এখানে একটা কাজে এসেছি।”

    মেয়েটির গলার স্বর হঠাৎ হঠাৎ করে স্বাভাবিক হয়ে যায়। সে তীক্ষ্ণ চোখে রিটিনের দিকে তাকিয়ে থেকে বলল, “কী কাজ?”

    “আমি আমার শরীর থেকে ট্র্যাকিওশানটা বের করে ফেলতে এসেছি। শুনেছি এখানে নাকি সেটা করা যাবে!”

    মেয়েটি পলকহীন চোখে তার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল। তারপর বলল, “তুমি কাকে খুন করে এসেছ?”

    “আমি কাউকে খুন করিনি।”

    “তাহলে তুমি কেন তোমার ট্র্যাকিওশান সরিয়ে ফেলতে চাইছ? তুমি জান শরীর থেকে ট্র্যাকিওশান সরিয়ে ফেললে একজন মানুষ আর একটি ব্যাকটেরিয়ার মাঝে কোনো পার্থক্য থাকে না?”

    রিটিন হাসল, বলল, “আমি ক্যাটাগরি সি মানুষ। ক্যাটাগরি সি মানুষ আর একটি ব্যাকটেরিয়ার মাঝে এমনিতেই কোনো পার্থক্য নেই।”

    শরীর থেকে হালকা নীল আলো বের হওয়া মেয়েটি কিছুক্ষণ স্থির দৃষ্টিতে রিটিনের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর দূরে একটি চতুষ্কোণ দরজা দেখিয়ে বলল, “ওই দরজাটি দিয়ে ভেতরে ঢোকো।”

    রিটিন বলল, “ধন্যবাদ তোমাকে।”

    মনে রেখো, “তুমি দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকবে কিন্তু আর কখনোই বের হতে পারবে না।”

    রিটিন হাসল, বলল, “ব্যাকটেরিয়া নিজের ইচ্ছেয় কোথাও ঢোকে না, কোথাও বের হয় না।”

    মেয়েটি বলল, “চমৎকার। যাও।”

    রিটিন হেঁটে যেতে থাকে তখন পেছন থেকে মেয়েটি আবার তাকে ডাকল। রিটিন ঘুরে তাকাতেই মেয়েটি তার ট্রে থেকে হালকা গোলাপি রঙের একটা পানীয়ের গ্লাস তুলে তার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল, “এক চুমুক দিয়ে এই পানীয়টা খেয়ে ফেলো। ভালো লাগবে। ভয় নেই তোমার মস্তিষ্ক উত্তেজিত হবে না।”

    রিটিন পানীয়ের গ্লাসটা হাতে নেয়। মেয়েটির চোখের দিকে তাকিয়ে বলল, “ধন্যবাদ।”

    রিটিন এক চুমুকে পানীয়টি খেয়ে মেয়েটিকে গ্লাসটি ফেরত দিল। তার সারা শরীরে এক ধরনের কোমল উষ্ণতা ছড়িয়ে পড়ে, নিজের ভেতর সে বিচিত্র এক ধরনের সজীবতা অনুভব করে। হঠাৎ করে তার বিষণ্ণতাটুকু কেটে সেখানে একধরনের ফুরফুরে আনন্দ এসে ভর করে।

    মেয়েটি বলল, “অপরাধী জীবনে স্বাগতম। তোমার অপরাধী জীবন আনন্দময় হোক।”

    রিটিন কোনো কথা না বলে হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে মুখটা মুছে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে সে এক মুহূর্ত দ্বিধান্বিতভাবে দাঁড়িয়ে রইল। তারপর দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে গেল।

    .

    ০৪.

    ঘরের ভেতর আবছা অন্ধকার। রিটিন একটা চেয়ারে বসে আছে। সামনে বড় টেবিল, টেবিলের অন্য পাশে একজন মাঝবয়সী মানুষ। টেবিলের উপর একটা ল্যাম্প, ল্যাম্পটা সরাসরি তার দিকে ঘুরিয়ে রেখেছে, কাজেই মানুষটাকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না। মানুষটা তৃতীয়বার তাকে জিজ্ঞেস করল, “তোমার শরীর থেকে তুমি ট্রাকিওশান সরিয়ে ফেলতে চাও?”

    রিটিন মাথা নাড়ল, বলল, “হ্যাঁ।”

    “তোমার শরীর থেকে ট্র্যাকিওশান সরিয়ে ফেললে তোমার দৈনন্দিন জীবনটা কীভাবে পাল্টে যাবে তুমি জান?”

    রিটিন মাথা নাড়ল, বলল, “না, জানি না। জানতেও চাই না।”

    “কেন জানতে চাও না?”

    “আমি বুঝতে পেরেছি ক্যাটাগরি সি মানুষ হিসেবে আমার বেঁচে থাকার কোনো অর্থ নেই। এর চাইতে একজন অপরাধীর জীবন হয়তো বেশি আকর্ষণীয়।”

    মানুষটি কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, “অপরাধী হয়ে তুমি কী কী অপরাধ করবে বলে ঠিক করেছ?”

    রিটিন হেসে ফেলল, বলল, “আইন ভাঙা হলে সেটাকে বলা হয় অপরাধ। অনেক আইন আছে যেটা থাকা উচিত না। সেই আইনগুলো ভাঙাও অপরাধ কিন্তু আমি আনন্দের সাথে সেগুলো ভাঙব। শুধু মানুষ খুন করে কিংবা মাদকের ব্যবসা করে অপরাধী হতে হবে কে বলেছে?”

    “একটা উদাহরণ দিতে পারবে?”

    “ক্যাটাগরি সি মানুষ হিসেবে আমি যদি সময় পরিভ্রমণ নিয়ে কাজ করি সেটাও একটা অপরাধ-আমার সেই অপরাধ করতে কোনো দ্বিধা নেই।”

    রিটিন টের পেল টেবিলের অন্য পাশের মানুষটি হঠাৎ সোজা হয়ে বসেছে। সামনে একটু ঝুঁকে পড়ে বলল, “তুমি সময় পরিভ্রমণ বিষয়টির কথা কেন বললে?”

    “আমি অনুমান করছি সময় পরিভ্রমণ নিয়ে একটা বড় আবিষ্কার হয়েছে। মানুষ হয়তো সময় পরিভ্রমণ করার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।”

    “তুমি কেমন করে সেটি অনুমান করেছ?”

    “আমার বাসায় শৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকটা রোবট রুটিন চেক আপের জন্যে এসেছিল। যেই মুহূর্তে আমি সময় পরিভ্রমণ কথাটি উচ্চারণ করেছি তখনই আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে আমাকে অচেতন করে ধরে নিয়ে গেছে। আমার মস্তিষ্ক স্ক্যান করেছে। কাজেই আমি ধরে নিচ্ছি সময় পরিভ্রমণ খুব স্পর্শকাতর একটা বিষয়।”

    “স্পর্শকাতর? কেন?”

    “সম্ভবত ক্যাটাগরি সি মানুষের কাছেও কোনো না কোনোভাবে সময় পরিভ্রমণের প্রযুক্তি চলে এসেছে।”

    টেবিলের অন্যপাশে বসে থাকা মানুষটা বেশ কিছুক্ষণ নিঃশব্দে বসে রইল, তারপর বলল, “তুমি যে কথাগুলো বলেছ সেগুলো তুমি সত্যি বলেছ কি না আমাদের জানা প্রয়োজন।”

    রিটিন বলল, “আমি সত্যি বলেছি।”

    “তোমার মুখের কথা যথেষ্ট নয়। আমাদের পরীক্ষা করে দেখতে হবে।”

    “কীভাবে পরীক্ষা করবে?”

    “সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে মস্তিষ্ক স্ক্যান করে দেখা। কিন্তু আমরা এখনো মস্তিষ্ক স্ক্যানার জোগাড় করতে পারিনি। তাই তোমার মস্তিষ্কের ভেতরে দেখতে পারব না। তোমাকে আমরা প্রশ্ন করব। প্রশ্নের উত্তর দেয়ার সময় তোমার মস্তিষ্কের কোন জায়গাটা অনুরণিত হচ্ছে আমরা দেখব। সেখান থেকে বুঝতে পারব তুমি সত্যি কথা বলছ নাকি মিথ্যা কথা বলছ।”

    রিটিন কোনো কথা বলল না।

    মানুষটা বলল, “কেউ যখন আমাদের কাছে আসে আমাদের নিশ্চিত হতে হয় যে সে সত্যি কথা বলছে।”

    রিটিন জিজ্ঞেস করল, “কেউ সত্যি কথা না বললে তখন তোমরা কী কর?”

    মানুষটি বলল, “তুমি আমাকে সেটা জিজ্ঞেস কোরো না, আমি এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারব না।”

    রিটিন আর কোনো প্রশ্ন করল না, সে তার প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেছে।

    .

    রিটিনের পরীক্ষাটি হলো দীর্ঘ। প্রথমে তার শরীরে একটা ইনজেকশান দেয়া হলো, সেখানে কী ছিল কে জানে কিন্তু রিটিন অনুভব করতে থাকে কোনো বিষয় নিয়ে সে আর দীর্ঘ সময় চিন্তা করতে পারছে না। তাকে যখনই কোনো একটা প্রশ্ন করা হয় সে তাৎক্ষণিকভাবে তার উত্তর দিয়ে দেয়, উত্তরগুলো হয় সংক্ষিপ্ত এবং সুনির্দিষ্ট। পুরো সময়টিতে তার মাথার মাঝে অসংখ্য প্রোব লাগানো ছিল এবং সেই সিগনালগুলোর সাথে প্রশ্নের উত্তর মিলিয়ে তার সত্যি-মিথ্যা বের করে নেয়া হয়।

    পরীক্ষার শেষের দিকে তাকে বলা হলো প্রত্যেকটা প্রশ্নে ভুল উত্তর দেয়ার জন্যে। রিটিন আবিষ্কার করল যেকোনো কারণেই হোক সেটি এখন তার জন্যে যথেষ্ট কঠিন। ভুল উত্তর দেয়ার জন্যে তাকে একটু চিন্তা করতে হয় কিন্তু সে এখন আর চিন্তা করতে পারছে না।

    রিটিনের মনে হতে থাকে তার পরীক্ষা বুঝি কখনো শেষ হবে না। কিন্তু একসময় সেটি শেষ হলো। মাঝবয়সী মানুষটি এসে তার সাথে হাত মিলিয়ে নরম গলায় বলল, “পরীক্ষায় পাস করেছ। তোমাকে আমরা আমাদের সংগঠনে নিতে পারি। তোমার ট্র্যাকিওশান আমরা সরিয়ে দেব।”

    রিটিন জড়িত গলায় বলল, “ধন্যবাদ।”

    “তোমার শরীরে ইনজেক্ট করে দেয়া গ্লিফারুলটিকে মেটাবলাইজ করার জন্যে তোমার এখন ঘুমাতে হবে।”

    “হ্যাঁ। আমার খুব ঘুম পাচ্ছে।”

    “এসো, আমার সাথে এসো।”

    মানুষটি রিটিনকে ছোট একটা খুপরির মতো ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে পরিপাটি করে সাজানো একটা বিছানা। রিটিন কোনো কথা বলে সাথে সাথে বিছানায় লম্বা হয়ে শুয়ে পড়ল এবং কিছু বোঝার আগেই গভীর ঘুমে অচেতন হয়ে গেল।

    রিটিনের ঘুম ভাঙল প্রচণ্ড ক্ষুধা নিয়ে। বিছানায় উঠে বসার পর সে কোথায় সেটি বুঝতে তার কিছুক্ষণ সময় লাগল। হঠাৎ করেই তার সবকিছু মনে পড়ে যায়। রিটিন তখন বিছানা থেকে নেমে দরজা খুলে বের হয়ে আসে। দরজার বাইরে একটা টানা বারান্দা, বারান্দার শেষ মাথায় একটি ঘরে আলো জ্বলছে। রিটিন বারান্দা দিয়ে হেঁটে ঘরটিতে উঁকি দেয়, ঘরের মাঝখানে একটা চতুষ্কোণ গ্রানাইটের টেবিল, টেবিলে হাত রেখে মাঝবয়সী একজন মানুষ ভিডি টিউবে কিছু একটা দেখছে। রিটিনকে দেখে মানুষটি মুখে হাসি ফোঁটানোর চেষ্টা করে বলল, “ঘুম ভাঙল?”

    রিটিন নিঃশব্দে মাথা নেড়ে ঘরটির ভেতরে ঢুকে মানুষটির সামনে একটা চেয়ারে বসে জিজ্ঞেস করল, “আমি কতক্ষণ ঘুমিয়েছি?”

    মানুষটি ভিডিও টিউব থেকে চোখ না সরিয়ে বলল, “অনেকক্ষণ।”

    রিটিন বলল, “আমার খুব খিদে পেয়েছে।”

    মানুষটি বলল, “পাবার কথা। পাশের ঘরে কিচেন, সেখানে খাবার রয়েছে। খেয়ে এসো। সবাই তোমার জন্যে অপেক্ষা করছে।”

    রিটিন অবাক হয়ে বলল, “আমার জন্যে?”

    “হ্যাঁ। তোমাদের মতো কয়েকজন আছে তাদের নিয়ে ট্রানা এক সাথে বসবে। যাও খেয়ে এসো।”

    রিটিন সচরাচর খায় কিচেনে বসে তার থেকে অনেক বেশি খেয়ে ফেলল। খাওয়া শেষে একটা গ্লাসে তার পছন্দের একটা পানীয় নিয়ে সে মানুষটির কাছে ফিরে আসে। মানুষটি উঠে দাঁড়িয়ে বলল, “চলো যাই।”

    বেশ কয়েকটা সরু করিডর ধরে হেঁটে দুজনে একটা বন্ধ ঘরের সামনে এসে দাঁড়াল, মানুষটি দরজা খুলে রিটিনের দিকে তাকিয়ে বলল, “যাও। ভেতরে সবাই আছে।”

    রিটিন ভেতরে ঢুকল। ঘরের মাঝখানে একটা কালো টেবিল, টেবিলের চারপাশে আরামদায়ক চেয়ার কিন্তু কেউ চেয়ারে বসে নেই। ঘরের মাঝে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পাঁচজন মানুষ, দুজন পুরুষ, তিনজন মহিলা। মানুষগুলো সবাই মধ্যবয়স্ক, সম্ভবত এদের মাঝে রিটিনের বয়স সবচেয়ে কম। রিটিন ঘরে ঢোকার সাথে সাথে সবাই মুখ তুলে তার দিকে তাকাল, রুপালি চুলের একজন মহিলা বলল, “তুমি নিশ্চয়ই রিটিন। এসো রিটিন, আমরা তোমার জন্যে অপেক্ষা করছিলাম।”

    রিটিন তার পানীয়ের গ্লাসে চুমুক দিয়ে বলল, “আমি দুঃখিত। ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে তোমাদের দেরি করিয়ে দিলাম।“

    রুপালি চুলের মহিলাটি বলল, “না, তুমি দেরি করিয়ে দাওনি। তোমার শরীরের মেটাবলিজম যথেষ্ট বেশি, তুমি অনেক তাড়াতাড়ি উঠেছ। এসো বসো। আমার নাম ট্রানা। আমাকে তোমাদের ব্রিফিংয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।”

    ঘরের মাঝে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মানুষগুলো এবারে টেবিলের চারপাশের আরামদায়ক চেয়ারগুলোতে বসে পড়ল। রিটিন টেবিলটা স্পর্শ করতেই সেখানে স্বচ্ছ একটা স্ক্রিন উজ্জ্বল হয়ে ওঠে, সেখানে টেবিলের অনন্য মানুষগুলোর পরিচয় ভেসে উঠল। একজন মেকানিক, দুজন শিক্ষক এবং আরেকজন নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করত। মধ্যবয়স্ক মেকানিকটির বয়স পঁয়তাল্লিশ, মহিলা দুজন ত্রিশ এবং পঁয়ত্রিশ। রিটিনের বিপরীতে বসে থাকা কঠিন চেহারার নিরাপত্তাকর্মীর বয়স ত্রিশ, এদের মাঝে রিটিনের বয়স সবচেয়ে কম, মাত্র তেইশ।

    ট্রানা বলল, “তোমাদের শরীর থেকে ট্র্যাকিওশান এখনো সরিয়ে নেয়া হয়নি, তাই টেবিলে রাখা ভিডি স্ক্রিনে তোমরা একে অন্যের পরিচয় জেনে নিতে পারছ। ট্রাকিওশান সরিয়ে নেয়ার পর তোমাদের আর কোনো পরিচয় থাকবে না। আমি সরাসরি কাজের কথায় চলে আসি।”

    রিটিন তার চেয়ারে একটু নড়েচড়ে বসে উৎসুক চোখে ট্রানার দিকে তাকাল। ট্রানা বলল, “পৃথিবীর মানুষকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ক্যাটাগরি এ এবং সি। তোমরা যারা এখানে এসেছ সবাই ক্যাটাগরি সি। তোমরা সবাই তোমাদের জীবনে কোনো না কোনো বৈষম্যের শিকার হয়েছ, সেই বৈষম্য থেকে তোমাদের কোনো এক ধরনের আত্মোপলব্ধি হয়েছে, তোমরা বুঝতে পেরেছ এই বৈষম্যটি অমানবিক, মানুষ হিসেবে অসম্মানজনক। তোমরা কীভাবে তার প্রতিবাদ করবে সেটি বুঝতে পারোনি, তাই এখানে এসেছ কোনো কোনোভাবে প্রতিবাদ করার জন্যে। তোমাদের ধন্যবাদ।”

    “প্রথমেই তোমাদের কিছু তথ্য দিই। পৃথিবীতে ক্যাটাগরি এ এবং সি মানুষের সংখ্যা সমান নয়। ক্যাটাগরি সি-এর মানুষ ক্যাটাগরি এ থেকে প্রায় দশ গুণ বেশি। অর্থাৎ পৃথিবীর দশ ভাগের এক ভাগ মানুষ অন্যদের উপর একধরনের কর্তৃত্ব করে যাচ্ছে–”

    রিটিন জিজ্ঞেস করল, “ক্যাটাগরি এ এবং সি আছে। ক্যাটাগরি বি নেই কেন?”

    ট্রানা হাসল, বলল, “আমি জানতাম তোমাদের কেউ না কেউ এই প্রশ্নটা করবে। সব মানুষকে শুধু দুটি ভাগে ভাগ করলে বিভাজনটি দৃষ্টিকটু মনে হতে পারে, তাই মাঝখানে একটা কাল্পনিক প্যাডিং রাখা হয়েছে। সবাই ধরে নেয় ক্যাটাগরি বিও নিশ্চয়ই আছে।”

    টেবিলের চারপাশে বসে থাকা সবাই বিস্ময়ের মৃদু শব্দ করল, একজন মহিলা অবিশ্বাসের ভঙ্গিতে মাথা নাড়ল। ট্রানা বলল, “আমি জানি তোমরা আমার কথা বিশ্বাস করতে পারছ না যে, অল্পসংখ্যক ক্যাটাগরি এ মানুষ বিপুলসংখ্যক ক্যাটাগরি সি মানুষকে পায়ের নিচে চাপা দিয়ে রেখেছে। কিন্তু জেনে রাখো আমি তোমাদের ভুল বলছি না। গত কয়েক শতাব্দীর ভেতরে মানুষ অনেক ধরনের সামাজিক উত্থান-পতনের ভেতর দিয়ে গিয়েছে, সমাজকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্যে সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হচ্ছে মানুষকে তাদের দায়িত্ব ভাগ করে দেয়া, তাদের মাথার ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়া যে, তাদের জন্ম হয়েছে। নির্দিষ্ট একধরনের কাজ করার জন্যে। তারা শুধু সেই কাজটি করতে পারবে, এর চাইতে ভিন্ন কোনো কাজ করার ক্ষমতা তাদের নেই।”

    রিটিন নিজের অজান্তেই তার মাথা নাড়ল। ট্রানা মুখে প্রায় জোর করে একধরনের হাসি ফুটিয়ে বলল, “মানুষের মাঝে বিভাজন করে তাদের নিয়ন্ত্রণ করার এই পদ্ধতিটি অনেক প্রাচীন এবং খুবই কার্যকরি। গত কয়েক শতাব্দীতে মানুষের সমাজে কোনো সংঘাত হয়নি।”

    “কিন্তু তোমরা যে রকম নিজ থেকে এই পদ্ধতিটির সমস্যাটি ধরতে পেরেছ, এর একটি সমাধান বের করতে ঘর থেকে বের হয়ে এসেছ এবং নিজের জীবনের উপর অচিন্তনীয় একটা ঝুঁকি নিয়েছ। ঠিক সেরকম আরো অনেকেই তোমাদের আগে এই কাজটি করে এসেছে। তারা সংগঠিত হয়েছে, তারা সুনির্দিষ্ট একটা লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। যখন সময় হবে তোমরা সেগুলো সম্পর্কে জানতে পারবে।”

    কঠিন চেহারার নিরাপত্তারক্ষীটি বলল, “আমাদের একটা সশস্ত্র বিপ্লব করা উচিত–”

    ট্রানা হেসে ফেলল, বলল, “সশস্ত্র বিপ্লব জাতীয় বিষয়গুলো কয়েক শতাব্দী আগেই পরিত্যক্ত হয়ে গেছে–তবে হ্যাঁ, মাঝে মাঝে আমাদের সশস্ত্র হতে হয়, ছোটখাটো গোলাগুলি বিস্ফোরণের ভেতর দিয়ে যেতে হয়। তোমরাও নিশ্চয়ই যাবে।”

    নিরাপত্তারক্ষীটি বলল, “আমি নিজের হাতে ক্যাটাগরি এ মানুষকে খুন করতে চাই।”

    ট্রানার হাসিমুখটিতে হঠাৎ একধরনের কাঠিন্য চলে আসে, সে মাথা নেড়ে বলল, “তোমাদের এখনই কিছু বিষয় বলে দেয়া দরকার। আমরা সংখ্যায় এখনো খুবই কম, কাজেই আমাদের টিকে থাকার উপায় মাত্র একটি। সেটি হচ্ছে আমরা কেউ নিজেদের ভিন্ন একটি মানুষ বলে মনে করব না। আমরা সবসময়ই মনে করব আমরা সবাই মিলে একটা অস্তিত্ব। কাজেই আমাদের কাউকেই নিজেদের গন্ডীর বাইরে যাওয়া চলবে না। যতদিন আমরা পৃথিবীর এই বিভাজনটি দূর করতে না পারব ততদিন আমরা আমাদের উপর দেয়া সুনির্দিষ্ট দায়িত্বের বাইরে কিছু করব না। আমার ক্যাটাগরি মানুষকে খুন করে ফেলার ইচ্ছা করলেও সেটা মুখে উচ্চারণ পর্যন্ত করব না।”

    শিক্ষিকা একজন মহিলা বলল, “ট্রানা–”

    ট্রানা মহিলাটির দিকে ঘুরে তাকাল, “বলো।”

    “আমরা কি সত্যি একদিন পৃথিবীর এই বিভাজন দূর করতে পারব?”

    ট্রানা হাসল, বলল, “সেই পুরানো কথাটি শুনোনি? লক্ষ্যে পৌঁছানো আমাদের উদ্দেশ্য নয়। লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্যে চেষ্টা করা আমাদের উদ্দেশ্য।”

    রিটিন বলল, “আমরা লক্ষ্যে পৌঁছাব ট্রানা।”

    “পৌঁছাব?”

    “হ্যাঁ, আমরা নিশ্চয়ই পৃথিবীর মানুষের মাঝে এই ভাগাভাগি দূর করে ফেলতে পারব।”

    ট্রানা একধরনের অন্যমনস্ক দৃষ্টিতে রিটিনের দিকে তাকিয়ে থাকে।

    মেকানিক মানুষটি বলল, “আমরা কেমন করে অগ্রসর হব ট্রানা? আমাদের পরিকল্পনাটা কী?”

    ট্রানা হাসল, বলল, “সময় হলেই জানতে পারবে। খুঁটিনাটি সবকিছু আমরা জানি না। নিরাপত্তার জন্যে সবাইকে সবকিছু জানানো হয় না। তবে তুমি জেনে রাখো আমাদের একটা পরিকল্পনা আছে।”

    রিটিন বলল, “আমি বলব পরিকল্পনাটা কী?”

    ট্রানা একটু অবাক হয়ে বলল, “তুমি জানো?”

    “না। জানি না, অনুমান করতে পারি।”

    “শুনি তোমার অনুমান।”

    রিটিন গলার স্বরটা যথাসম্ভব গম্ভীর করে বলল, “পৃথিবীর মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে হলে সবার আগে তাদের সব রকম তথ্যের দরকার। সব তথ্য সংগ্রহ করা হয় ট্র্যাকিওশান দিয়ে। ট্রাকিওশানের তথ্য প্রক্রিয়া করার জন্যে নিশ্চয়ই কোথাও না কোথাও একটা তথ্যভান্ডার আছে, বিশাল নেটওয়ার্ক আছে। আমাদের সেই তথ্যভান্ডার ধ্বংস করে নেটওয়ার্ক ছিন্নভিন্ন করে দিতে হবে। সাথে সাথে পুরো পৃথিবীর সব মানুষ মুক্ত হয়ে যাবে!”

    মেকানিক মানুষটি বলল, “তুমি মনে হয় ঠিকই বলেছ ছেলে। তোমার মাথায় বুদ্ধি আছে, কেমন করে তুমি ক্যাটাগরি সি হলে বুঝতে পারছি না!”

    নিরাপত্তাকর্মী মানুষটি বলল, “ছেলে, তুমি একটা জিনিস ভুলে যাচ্ছ।”

    “কী জিনিস?”

    “পৃথিবীর সব তথ্য সংরক্ষণ করার জন্যে যে বিল্ডিংটি আছে সেটার ভেতরে কোনো মানুষ কখনো যেতে পারবে না। থার্মোনিউক্লিয়ার বোমা ফেলেও সেটার দেয়ালে একটা ফাটল তৈরি করা যাবে না। এর ভেতরে যে নিরাপত্তা সেই নিরাপত্তা ভেঙে একটা মানুষ দূরে থাকুক একটা ব্যাকটেরিয়া পর্যন্ত যেতে পারবে না।”

    রিটিন কঠিন মুখে বলল, “তুমি কেমন করে জানো?” “আমি নিরাপত্তাকর্মী। আমি জানি।”

    রিটিন কঠিন মুখে বলল, “তবুও নিশ্চয়ই মূল তথ্যভান্ডার ধ্বংস করা যাবে। নিশ্চয়ই করা যাবে।”

    নিরাপত্তাকর্মী কঠিন মুখে বলল, “মাত্র চার বিলিয়ন বছর অপেক্ষা করতে হবে। তাহলে সূর্য রেড জায়ান্টে পরিণত হয়ে পুরো পৃথিবীকে গ্রাস করে ফেলার সাথে সাথে তোমার তথ্য ভান্ডারকেও–” কথা শেষ করে মানুষটি কাঠ কাঠ শব্দে হেসে উঠল।

    রিটিন হঠাৎ করে বুঝতে পারল কেন মানুষটি এত কম হাসে–কারণ নিরাপত্তাকর্মীর হাসিটির ভেতর কোনো আনন্দ ছিল না। আনন্দহীন হাসির মতো অসুন্দর জিনিস বুঝি পৃথিবীতে আর কিছু নেই।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্রডিজি – মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    Next Article ভূতের বাচ্চা সোলায়মান – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    Related Articles

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    ছোটগল্প – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সাদাসিধে কথা – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মেকু কাহিনী – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    আমার বন্ধু রাশেদ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সায়েন্স ফিকশান সমগ্র ১ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    টুনটুনি ও ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }