Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সায়েন্স ফিকশন সমগ্র ৬ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল এক পাতা গল্প1092 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৫-০৬. ট্রাকিওশান সরিয়ে ফেলার প্রক্রিয়া

    ০৫.

    ট্রাকিওশান সরিয়ে ফেলার প্রক্রিয়াটি ছিল যন্ত্রণাহীন, তবে খুবই সময়সাপেক্ষ। এটি রক্তের সাথে মিশে শরীরের ভেতর দিয়ে হৃৎপিণ্ডের ভেতর একটি জায়গায় স্থিতি হয়। সেখান থেকে এটাকে মুক্ত করে ধমনির ভেতর দিয়ে হাতের কোনো একটা আঙুলের মাঝে নিয়ে আসা হয়, এই সময়টিতে খুব সতর্ক থাকতে হয় যেন এটি কোনোভাবে রক্তের প্রবাহের সাথে মস্তিষ্ক চলে না যায়, একবার সেটি মস্তিষ্কে হাজির হলে আর মুক্ত করে আনা যায় না। এছাড়া ট্রাকিওশানের সিগন্যাল আদান-প্রদান মস্তিষ্কে একধরনের অনুরণন তৈরি করে, সে কারণে তখন মানুষের হ্যাঁলুসিনেশন শুরু হতে পারে।

    রিটিন একটা অপারেশন টেবিলে শুয়ে ছিল, তার শরীরের বিভিন্ন জায়গা টেবিলের সাথে আঁটকে রাখা হয়েছে–মাঝে মাঝে তাকেই নানা ধরনের শারীরিক প্রক্রিয়া করতে বলা হচ্ছিল এবং সে বাধ্য ছেলের মতো সেগুলো করে যাচ্ছে। তার উপর একজন মানুষ এবং দুইটা রোবট ঝুঁকে আছে। তারা চাপা স্বরে কথা বলছে, হঠাৎ করে তাদের মাঝে একধরনের উত্তেজনা দেখা গেল, একজন তার ডান হাতের তর্জনীটি চেপে ধরল, রোবটটি একটা সিরিঞ্জ দিয়ে তার ৩র্জনীর মাথা থেকে এক ফোঁটা রক্ত টেনে বের করে নেয় এবং তখন সম্মিলিতভাবে সবাই একটা আনন্দধ্বনি করে। রিটিন বুঝতে পারল ট্রাকিওশানটি বের করা সম্ভব হয়েছে।

    মানুষ দুজন তার শরীরের বাঁধন খুলতে থাকে। একটি রোবট বলল, “তোমাকে অভিনন্দন ছেলে, তুমি এখন একজন ট্র্যাকিওশান মুক্ত মানুষ।”

    মানুষটি বলল “অভিনন্দন শব্দটি যথার্থ হলো কি না বুঝতে পারলাম না। সম্ভবত বলা উচিত তুমি এখন থেকে একজন অভিশপ্ত মানুষ।” কথা শেষ করে মানুষটি আনন্দহীন একধরনের হাসি হাসতে থাকে।

    একটি রোবট রিটিনের ট্র্যাকিওশানসহ রক্তের ফোঁটাটি সিরিঞ্জের ভেতর থেকে একটা এম্পুলে ঢুকিয়ে দিতে থাকে। রিটিন উঠে বসতে বসতে বলল, “আমার ট্র্যাকিওশানটি এখন কী করবে?”

    মানুষটি বলল, “সংরক্ষণ করব, অনেক সময় পুরানো ট্র্যাকিওশান কাজে লাগানো যায়।”

    “আমি শুনেছি শরীর থেকে বের করলে সেটা অকেজো হয়ে যায়।”

    “হ্যাঁ। সেটাকে রক্তের প্রবাহে রাখতে হয়। যোগাযোগ না থাকলে ট্রাকিওশান নিজ থেকে বন্ধ হয়ে যায়।”

    রিটিন টেবিল থেকে নামতে নামতে বলল, “আমি কি এখন যেতে পারি?”

    “হ্যাঁ যেতে পারো। শরীর থেকে ট্র্যাকিওশান বের করার পর সবাইকে একটা কঠিন ট্রেনিংয়ের ভেতর দিয়ে যেতে হয়। তোমাকেও যেতে হবে।”

    রিটিন মাথা নাড়ল, বলল, “ঠিক আছে।”

    .

    রিটিন ভেবেছিল কঠিন শব্দটি একটি কথার কথা। কিন্তু সে আবিষ্কার করল ট্রেনিংটি সত্যিকার অর্থেই কঠিন। যেহেতু পুরো পৃথিবীটাকে সাজানো হয়েছে ট্র্যাকিওশানের তথ্যের উপর নির্ভর করে, সব মানুষ এটার ব্যবহার এত অভ্যস্ত হয়ে যায় যে, হঠাৎ করে সেটা শরীর থেকে সরিয়ে নেয়া হলে সে খুব সহজেই বিপদে পড়ে যাবে। অবাক হয়ে লক্ষ করবে ট্রেনের দরজা খুলছে না, দোকানে ঢুকতে পারছে না, রাস্তা পার হতে পারছে না, এক বোতল পানি পর্যন্ত কিনতে পারছে না। একজন মানুষ হঠাৎ করে অনুভব করতে থাকবে একটি দেহ থাকার পরও সে যেন অদৃশ্য, কেউ যেন আর তাকে দেখতে পাচ্ছে না।

    কাজেই ট্রেনিংয়ের মাঝে রিটিনকে অসংখ্যবার একই জিনিস করতে হলো যতক্ষণ পর্যন্ত মাথার মাঝে সেটা ঢুকে না যায়। শুধু মাথার মাঝে নয় যতক্ষণ পর্যন্ত বিষয়টুকু তার অবচেতন মনেও ঢুকে না যায়। দীর্ঘ দুই সপ্তাহ পর রিটিনের ইন্ট্রাক্টর ঘোষণা করল সে ইচ্ছে করলে এখন শহরে যেতে পারবে। রাস্তায় হাঁটতে পারবে। দোকানে ঢুকতে পারবে–এমনকি একটা তরুণীকে নিয়ে ক্যাফেতে পানীয় খেতেও যেতে পারবে। তবে প্রতিটি মুহূর্ত তাকে সতর্ক থাকতে হবে, এক মুহূর্তের জন্যেও ভুলতে পারবে না যে এখন সে কার্যত অদৃশ্য একজন মানুষ!

    পরদিন রিটিন প্রথমবার তার গোপন আস্তানা থেকে বের হলো। জায়গাটা শহরতলিতে একটা নির্জন এলাকা। এক পাশে একটি অরণ্য, অন্য পাশে সারি সারি ওয়ারহাউস। বড় বড় স্বয়ংক্রিয় লরি ট্রাক যাচ্ছে-আসছে। রোবটেরা সেখান থেকে মালপত্র নামাচ্ছে এবং তুলছে। রিটিন পাশের সরু রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেল এবং প্রথমবার ট্র্যাকিওশানহীনভাবে একটি স্বয়ংক্রিয় ট্রামে উঠে গেল। নিয়মটি সহজ–অন্য একজন মানুষের সাথে সাথে উঠে যেতে হবে–কারণ তার জন্যে ট্রামের দরজা খুলবে না কিংবা বন্ধ হবে না। শহরকেন্দ্রে অন্যান্য মানুষের ভিড়ে নেমে গিয়ে সে ইতস্তত হাঁটাহাঁটি করল, রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে মানুষজনকে যেতে-আসতে দেখল এবং তাদের মাঝে রোবটদের আলাদা করার চেষ্টা করতে থাকল। শুধু তাই নয় নিম্নশ্রেণির একটা সাইবর্গকে পেয়ে সে পাশাপাশি হেঁটে যেতে যেতে একটা মেটাকোড বলে সেটাকে অচল করে দিল। দূর থেকে লক্ষ করল সেটি একটি ব্যস্ত রাস্তার মাঝখানে থেমে গিয়ে হঠাৎ করে পুরোপুরি উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরতে শুরু করে এবং মুহূর্তের মাঝে অসংখ্য স্বয়ংক্রিয় গাড়ি এবং বাইভার্বালের একটি জটলা তৈরি হয়ে যায়।

    রিটিন দূর থেকে জটলাটি কিছুক্ষণ উপভোগ করে নিজের আস্তানায় ফিরে এল।

    .

    সন্ধেবেলা ডাইনিং টেবিলে একটা ঘটনা ঘটল। সে অন্যদের সাথে খেতে বসেছে, তখন হঠাৎ বুঝতে পারল ঘরের মাঝে একধরনের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে, কারণটি বোঝার জন্যে সে পাশের মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করল, “কী হয়েছে?”

    মেয়েটি বলল, “ক্লিওন।”

    “ক্লিওন কে?”

    মেয়েটি চাপা গলায় বলল, “তুমি ক্লিওনের নাম শোননি? আমাদের পুরো আন্দোলনের নেতা।”

    রিটিন অপ্রস্তুত হয়ে বলল, “কেউ আমাকে বলেনি। আমি কেমন করে জানব?”

    রিটিন মাথা ঘুরিয়ে ক্যাটাগরি সি মানব প্রজাতির অধিকার আদায়ের নেতা ক্লিওনকে দেখার চেষ্টা করতে করতে বলল, “কোন জন ক্লিওন?”

    “ওই যে বয়স্ক মানুষটি, খাবারের ট্রে থেকে খাবার নিচ্ছে।”

    ঠিক কী কারণ জানা নেই রিটিন ভেবেছিল এরকম গুরুত্বপূর্ণ মানুষটিকে নিশ্চয়ই আলাদাভাবে চোখে পড়বে কিন্তু সে দেখল ক্লিওন মানুষটির চেহারা খুবই সাধারণ। এলোমেলো চুল, মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি, পরনে একটা রং জ্বলে যাওয়া শার্ট এবং একটা বর্ণহীন ট্রাউজার।

    মেয়েটি ফিসফিস করে বলল, “কখনো ডাইনিং রুমে খেতে আসে না, আজকে কেন এসেছে কে জানে!”

    রিটিন খেতে খেতে চোখের কোনা দিয়ে ক্লিওনকে লক্ষ করার চেষ্টা করল। দেখল ক্লিওন তার ট্রেতে খাবার তুলে ডাইনিং হলের মানুষগুলোকে দেখার চেষ্টা করছে। মনে হলো সে কাউকে খুঁজছে।

    ক্লিওন রিটিনদের টেবিলের দিকে তাকাল এবং হঠাৎ করে তাদের টেবিলের দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। কাছাকাছি এসে থেমে গিয়ে রিটিনের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, “তুমি নিশ্চয়ই রিটিন?”

    টেবিলের সবাই তখন খাওয়া বন্ধ করে দাঁড়িয়ে গেছে, রিটিনও দাঁড়িয়ে গিয়ে বলল, “জি। আমি রিটিন।”

    ক্লিওন বলল, “আমি কি তোমাদের টেবিলে বসতে পারি?”

    টেবিলের সবাই একসাথে বলল, “অবশ্যই অবশ্যই।”

    একজন উঠে প্রায় দৌড়ে গিয়ে ক্লিওনের জন্যে একটা চেয়ার নিয়ে এল। ক্লিওন ঠিক রিটিনের সামনের চেয়ারটিতে বসে খাবারের ট্রেটা টেবিলের উপর রাখে। তারপর প্লেটের খাবার এবং বাটির স্যুপের দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, “স্যুপের চেহারা দেখেছ? মনে হচ্ছে হাতধোয়া পানি!”

    রিটিনের পাশে বসে থাকা মেয়েটি বলল, “কিন্তু এটি খুব পুষ্টিকর। এর মাঝে কিশিনি ফর্টি টু আছে।”

    ক্লিওন হতাশার ভঙ্গিতে মাথা নেড়ে বলল, “সেটাই হচ্ছে সমস্যা। জৈব খাবার উঠে সব কৃত্রিম খাবার। আজ থেকে পাঁচশ বছর আগে জন্ম নেয়া উচিত ছিল–তাহলে সত্যিকারের জৈব খাবার খেতে পারতাম। না জানি সেগুলো খেতে কেমন ছিল!”

    রিটিন সাহস করে আলোচনায় যোগ দিল, বলল, “আমি প্রাচীন সাহিত্যে দেখেছি সেখানে সবসময় খাবারের বর্ণনা থাকে। সেই সময় খাবারে অনেক বৈচিত্র্য ছিল।”

    ক্লিওন মাথা নাড়ল বলল, “হ্যাঁ, মানুষ তখন সভ্য ছিল। এখন আমরা অসভ্য। বর্বর।”

    ক্লিওনের কথার ভঙ্গি দেখে সবাই হেসে ওঠে। ক্লিওন এক চামচ স্যুপ খেয়ে রিটিনের দিকে তাকিয়ে বলল, “আমি আসলে তোমার সাথে কথা বলতে এসেছি।”

    রিটিনের গলায় খাবার আটকে গেল, কোনোমতে সেটা গলা দিয়ে নিচে নামিয়ে অবাক হয়ে বলল, “আমার সাথে?”

    “হ্যাঁ। তোমার সাথে।” ক্লিওন আরেক চামচ স্যুপ মুখে দিয়ে বলল, “ট্রাকিওশান সরানোর পর আজকে তুমি প্রথমবার বাইরে গিয়েছিলে?”

    রিটিন হঠাৎ একধরনের আতঙ্ক অনুভব করে। ট্র্যাক্রিওশান ছাড়া বের হবার পর তাদের খুব সতর্ক থাকার কথা। সে প্রথম দিকে সতর্ক ছিল কিন্তু ধীরে ধীরে তার ভেতর খানিকটা নির্বোধ আত্মবিশ্বাস চলে এসেছিল, শহরের কেন্দ্রে সে একটা নিচু শ্রেণির সাইবর্গকে মেটাকোড দিয়ে অচল করে দিয়েছিল।

    রিটিন যেটা ভয় পাচ্ছিল সেটাই হলো। ক্লিওন জিজ্ঞেস করল, “প্রথম দিন তুমি ঘর থেকে বের হয়ে শহরের কেন্দ্রে গাড়ি বাইভার্বাল ট্রাক লরির মহা জটলা লাগিয়ে চলে এসেছ?”

    রিটিন শুকনো মুখে মাথা নেড়ে কিছু একটা বলার চেষ্টা করল কিন্তু ক্লিওন তাকে থামিয়ে দিয়ে বলল, “সেটা ঘটিয়েছ খুব কায়দা করে, একটা পিক্সি সাইবর্গকে মেটাকোড় দিয়ে অচল করে। এমনভাবে অচল করেছ যে রাস্তার ঠিক কেন্দ্রে গিয়ে তার কোঅর্ডিনেশন নষ্ট হয়েছে।”

    রিটিন আবার কিছু একটা বলার চেষ্টা করল কিন্তু তার গলা দিয়ে কোনো শব্দ বের হলো না। ক্লিওন হাসি হাসি মুখে রিটিনের দিকে তাকিয়ে বলল, “আমার একটি প্রশ্ন।”

    রিটিন শুকনো গলায় বলল, “কী প্রশ্ন?”

    “তোমার ভয় করেনি? কাজটি অসম্ভব বিপজ্জনক ছিল। এত অবলীলায় এত বিপজ্জনক কাজ করতে তোমার ভয় করেনি?”

    রিটিন বলল “না, ভয় করেনি।”

    “কাঁদের ভয় করে না, বলো দেখি।”

    “নির্বোধদের। নির্বোধদের ভয় করে না।”

    “তুমি কি নির্বোধ?”

    রিটিন নিচু গলায় বলল, “আমি নিজেকে নির্বোধ মনে করি না। কিন্তু কী কারণ জানা নেই আমার নিজের উপর খুব বিশ্বাস–মনে

    হয় কিছু হবে না।”

    ক্লিওন কিছুক্ষণ স্থির দৃষ্টিতে রিটিনের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর বলল, “আমি তোমার মতো একজনকে খুঁজছি। যে নির্বোধ না কিন্তু নির্বোধদের মতো যার কোনো কিছু ভয় করে না।”

    “কেন?”

    “একটা মিশনে পাঠাব। এই মিশনে পাঠানোর জন্যে আমার বিশেষ একজন মানুষ দরকার। তুমি রাজি আছ?”

    “আছি। রাজি আছি।” রিটিন উত্তেজিত গলায় বলল, “অবশ্যই রাজি আছি।”

    ক্লিওন হেসে ফেলল, হাসতে হাসতে বলল, “মিশনটা সম্পর্কে কিছুই না জেনে তুমি রাজি হয়ে গেলে?”

    রিটিন মাথা নাড়ল, বলল, “হ্যাঁ। আমি কিছু জানতে চাই না। জানলে যদি ভয় পেয়ে যাই সে জন্যে আমি কিছু জানতে চাই না।”

    ক্লিওন কিছুক্ষণ রিটিনের দিকে তাকিয়ে থেকে তার স্যুপটা আরেক চামচ মুখে দিয়ে মাথা ঘুরিয়ে সবার দিকে তাকিয়ে বলল, “স্যুপটাতে একটা ঝাঝালো গন্ধ আছে। এটা কোথা থেকে এসেছে বলে মনে হয়?”

    সবাই বুঝল ক্লিওন রিটিনের বিষয়টি নিয়ে আর কারো সাথে কোনো কথা বলবে না। রিটিনের পাশে বসে থাকা মেয়েটি বলল, “এটি সিটিলা নাইন্টি টু। সিটিলা নাইন্টি টু এই ঝাঁঝালো গন্ধটি দেয়।”

    সবাই খাবার নিয়ে আলোচনা করে, মনে হতে থাকে কী দিয়ে খাবার তৈরি হয় সেটাই বুঝি আলোচনার জন্যে খুবই বিচিত্র একটা বিষয়।

    .

    ০৬.

    গভীর রাতে ছোট একটা বাইভার্বাল রিটিনকে কন্ট্রোল সেন্টারের কাছাকাছি একটা রাস্তায় নামিয়ে দিয়ে গেল। রিটিন রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে কন্ট্রোল সেন্টারটির দিকে তাকায়। এর ভেতরে ঢুকে নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের মূল কোয়ার্টজ ওয়েব গাইডগুলোর একটি অংশ তাকে ধ্বংস করতে হবে। তার কাছে কিছু সি নাইন্টি বিস্ফোরক এবং নিজেকে রক্ষা করার জন্যে একটি স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দেয়া হয়েছে। মুখ ছাড়া তার সারা শরীর কালো নিওপলিমার দিয়ে ঢাকা, অপরেশনের আগের মুহূর্তে সে মুখটিকেও ঢেকে নেবে। এই নিওপলিমার পোশাকটি অনেক যত্ন করে তৈরি হয়েছে। এটি যেকোনো বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ একদিকে শোষণ করে নিয়ে অন্যদিক দিয়ে পাঠিয়ে দেয়। নিরাপত্তার জন্যে যে অবলাল এবং অতিবেগুনি রশ্মি ব্যবহার করা হয় সেগুলোর কাছে এই পোশাকটি অদৃশ্য। মানুষের চোখে নয়।

    মানুষের চোখের সামনে না পড়ে তাকে ভেতরে ঢুকতে হবে, কাজ শেষ করতে হবে এবং বের হতে হবে। এর আগে একাধিকবার চেষ্টা করা হয়েছে, যারা চেষ্টা করছে তারা সবাই মারা গেছে, কেউ কোয়ার্টজ ওয়েব গাইডগুলো ধ্বংস করতে পারেনি। রিটিনও পারবে না–কিন্তু তবু সে চেষ্টা করবে। প্রত্যেকবার আগের বার থেকে একটু বেশি সাফল্য আসে, এভাবে একসময় সফল হবে। অন্যবারের অভিযানের তুলনায় এবারে পার্থক্য একটাই, পুরো ব্যাপারটি নিয়ে রিটিনের ভেতর খানিকটা দুর্ভাবনা আছে কিন্তু কোনো আতঙ্ক নেই।

    রিটিন এই কন্ট্রোল সেন্টারের ভেতরে কখনো যায়নি কিন্তু যারা আগে যাওয়ার চেষ্টা করেছে তাদের মস্তিষ্ক থেকে স্মৃতি সংগ্রহ করে তার মস্তিষ্কের ভেতর সেটা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। তাই রিটিন এই কন্ট্রোল সেন্টারটি সম্পর্কে এখন খুব ভালো করে জানে। কোথায় কী ধরনের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সে সম্পর্কে তার পরিষ্কার একটা ধারণা রয়েছে।

    এর আগে যারা ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেছে তারা সবাই প্রতিরক্ষা দেয়াল পার হয়ে ঢুকেছে, রিটিন সেদিক দিয়ে ঢুকবে না। সে ঠিক করেছে মূল গেট দিয়ে ঢুকবে। তার শরীরে ট্র্যাকিওশান নেই তাই মূল নিরাপত্তা সিস্টেমে সে নিশ্চয়ই অদৃশ্য।

    রিটিন তার মুখটা ঢেকে মূল গেটে এসে দাঁড়াল, এখানে কোনো মানুষ নেই, থাকার প্রয়োজনও নেই। সে গেটের উপরের দিকে তাকাল, হাই ভোল্টেজ তার এবং অদৃশ্য অবলাল রশ্মি থাকার কথা। রিটিন মাথা ঘামাল না, সে তার হুক লাগানো কর্ডটি উপরে ছুঁড়ে দিল সাথে সাথে সে একটা ক্ষীণ অ্যালার্মের শব্দ শুনতে পেল।

    রিটিন অপেক্ষা না করে কর্ড ধরে দ্রুত উপরে উঠে যায় এবং একাধিকবার শরীরে তীব্র অবলাল রশ্মির উত্তাপ অনুভব করে। পোশাকটি তাকে রক্ষা করবে–তাই রিটিন সেগুলো নিয়ে মাথা ঘামাল না।

    গেটের উপর থেকে নিচে লাফিয়ে পড়ার সাথে সাথে কয়েকজন গার্ড তার দিকে ছুটে আসে। গার্ডগুলো রোবট হলে দুর্ভাবনার কিছু নেই। তার কাছে যে জ্যামার আছে সেটা মেটাকোড ব্যবহার করে সবগুলোকে অচল করে দেবে। রিটিন কয়েক মুহূর্ত অপেক্ষা করল এবং সত্যি সত্যি রোবটগুলো অচল হয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দুলতে শুরু করে। একটি রোবট তার স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে আকাশের দিকে গুলি করতে থাকে এবং সেই শব্দ শুনে আরো অনেকে দৌড়ে আসতে থাকে।

    রিটিন অপেক্ষা না করে গেটের পাশে ছোট ঘরটায় ঢুকে পড়ল। বিস্মিত গার্ড তার দিকে তাকিয়ে তার অস্ত্রটি হাতে নেয়ার চেষ্টা করল, রিটিন সেই সুযোগ দিল না। নিজের হাতের অস্ত্রটি তুলে ফিস ফিস করে বলল, “তুমি ক্যাটাগরি এ নাকি সি?”

    গার্ডটি কিছু বলল না। রিটিন ফিস ফিস করে বলল, “বলে ফেল। ক্যাটাগরি এ হলে মেরে ফেলতে হবে। সি হলে শুধু অচেতন করে রাখব।”

    গার্ডটি শুকনো গলায় বলল, “ক্যাটাগরি সি।” সাথে সাথে রিটিন ট্রিগার টেনে ধরল এবং ধুপ করে একটা শব্দ হলো। গার্ডটি অচেতন অবস্থায় কাত হয়ে পড়ে যায়, চোখ দুটো তখনো খোলা, সেই চোখে বিস্ময়, কিন্তু কিছু দেখছে বলে মনে হলো না।

    এখন পর্যন্ত সবকিছু পরিকল্পনামতো হয়েছে, তবে কঠিন কাজটুকু এখনো শুরু হয়নি, এখন শুরু হবে। রিটিন সময় বাঁচানোর জন্যে সি নাইন্টি বিস্ফোরকগুলো বের করে হাতে নিয়ে নেয়। তারপর গার্ড রুম থেকে বের হয়ে কন্ট্রোল সেন্টারের মূল গেটের দিকে হাঁটতে শুরু করে–রিটিন ইতস্তত গুলির শব্দ শুনতে পায়, সে সেটা নিয়ে মাথা ঘামাল না। তার শরীরে ট্র্যাকিওশান নেই, কেউ তাকে লক করে গুলি করতে পারবে না। ভাগ্যক্রমে যদি তাকে লাগাতে পারে শুধু তাহলে লাগবে। আজকে এখানে একটা ভাগ্য পরীক্ষা হচ্ছে রিটিনের ভাগ্য বনাম কন্ট্রোল সেন্টারের ভাগ্য।

    মূল গেটের কাছে গিয়ে রিটিন মাটিতে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ল। তারপর হাত বাড়িয়ে সি নাইন্টি বিস্ফোরকটি উপরে ছুঁড়ে দেয়। একটি ধাতব শব্দ করে সেটি মূল গেটের লকিং মডিউলে আটকে গেল। রিটিন তখন গড়িয়ে সরে গিয়ে কানে হাত দিল। এক থেকে পাঁচ পর্যন্ত গোনার আগেই চোখধাঁধানো একটা বিস্ফোরণ হলো, প্রচণ্ড উত্তাপের একটা হলকা রিটিনের উপর দিয়ে ছুটে গেল, সে মানুষের চিৎকার এবং তীক্ষ্ণ অ্যালার্মের শব্দ শুনতে পেল। তীব্র আলোতে চারদিক হঠাৎ করে দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে যায়।

    রিটিন মাটিতে শুয়ে শুয়ে বড় বড় সার্চলাইটগুলোতে গুলি করে কয়েকটাকে অন্ধকার করে দিল। তারপর হামাগুড়ি দিয়ে সে বিস্ফোরণে উড়ে যাওয়া গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকে যায়। গেটটিতে ধোয়া এবং আগুন, রিটিন সেগুলো নিয়ে মাথা ঘামাল না। হাতের কব্জিতে লাগানো কন্ট্রোল প্যানেলে সুইচ টিপে দিতেই পায়ের তালুতে একধরনের ঝাঁকুনি অনুভব করে, সেখানে এখন হাই টিসি সুপার কন্ডাক্টরে বিদ্যুৎপ্রবাহ করিয়ে জুতোর তলায় তীব্র ম্যাগনেটিক ফিল্ড তৈরি হওয়ার কথা। রিটিন সেগুলো ব্যবহার করে একটি সরীসৃপের মতো দেয়াল বেয়ে উপরে উঠে গেল, নিচে মানুষ ছোটাছুটি করছে, চট করে কেউ এখন তাকে খুঁজে পাবে না।

    রিটিন বাতাস প্রবাহের বড় ডাক্টটা খুঁজে বের করল, এটার ভেতর দিয়ে সে নিরাপদে নেটওয়ার্ক সেন্টারে চলে যেতে পারবে, রিটিন দেরি না করে ডাক্টের ভেতর দিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে যায়। ডাক্টটাকে একটা গোলকধাঁধার মতো মনে হলেও রিটিন সেটাকে হাতের তালুর মতো চিনতে পারে, তার মস্তিষ্কে এটি প্রতিস্থাপন করা আছে।

    কিছুক্ষণের ভেতরেই সে আবার গুলির শব্দ শুনতে পেল, তার অবস্থানটি টের পেয়ে গেছে। রিটিন কয়েক মুহূর্ত ঘাপটি মেরে তার দ্বিতীয় পি নাইন্টিটি ব্যবহার করল। আবার একটি চোখধাঁধানো বিস্ফোরণ। ডাক্টটির বড় অংশ এবারে প্রচণ্ড শব্দ করে নিচে আছড়ে পড়ল এবং রিটিন কাত হয়ে থাকা সেই ডাক্ট বেয়ে নিচে এসে পড়ল। শরীরের কোথাও না কোথাও নিশ্চয়ই আঘাত পেয়েছে কিন্তু তার ভেতরে যন্ত্রণার কোনো অনুভূতি নেই। থাকার কথা নয়, আগামী দুই ঘণ্টার জন্যে তার মস্তিষ্কে যন্ত্রণার অনুভূতি অবদমিত করে রাখা আছে।

    রিটিন উঠে দাঁড়িয়ে বোঝার চেষ্টা করল সে এই মুহূর্তে কোথায় আছে। দেয়ালে বড় বড় করে কিছু একটা লেখা, রিটিন লেখাটা চিনতে পারে। এটি নিরাপত্তার একটি কোড, নেটওয়ার্ক কক্ষের পাশের ঘরে এটি থাকার কথা।

    রিটিন নেটওয়ার্ক সেন্টারের দরজাটা খুঁজে বের করল। তারপর ধোয়া এবং ধুলোতে প্রায় অন্ধকার হয়ে থাকা ঘরটির ভেতর দিয়ে নেটওয়ার্ক সেন্টারের দরজার দিকে ছুটে গেল। দরজাটি স্পর্শ করতেই সেটি খুলে গেল। রিটিনেরও সেরকম ধারণা ছিল। নেটওয়ার্ক ঘরটি তুলনামূলকভাবে অক্ষত রয়েছে, রিটিন দ্রুত কোয়ার্টজের ওয়েব গাইডগুলো খুঁজে বের করল। সেন্টারের এক কোনায় কয়েকজন মানুষ হতবিহ্বল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, কী শুরু হয়েছে তারা বুঝতে পারছে না।

    রিটিন তার মুখের উপর থেকে নিওপলিমারের টুকরোটুকু সরিয়ে সহজ গলায় বলল, “বন্ধুরা। আমরা কন্ট্রোল সেন্টার দখল করে ফেলেছি। পুরোটা আমাদের দখলে। তোমরা মিছিমিছি কোনো ঝামেলা কোরো না।”

    কাঁপা গলায় একজন মেয়ে বলল, “তোমরা কারা?”

    “তুমি যদি ক্যাটাগরি সি মানুষ হয়ে থাক তাহলে আমরা আসলে তোমাদের মতো মানুষ! পৃথিবী থেকে মানুষে মানুষে বিভাজনের জন্যে কাজ করছি।”

    মেয়েটি বলল, “কিন্তু–”

    রিটিন বাধা দিল, বলল, “আমি জানি এই বিষয়টা নিয়ে খুবই চমৎকার একটা বিতর্ক করা যেতে পারে কিন্তু আমার হাতে এখন সেটি শুরু করার সময় নেই। আমাকে এই নেটওয়ার্ক সেন্টারের কিছু অংশ উড়িয়ে দিতে পাঠানো হয়েছে। এখন সেটাই করতে হবে। যে বিস্ফোরণটি হবে তার ঝাঁপটায় তোমাদের রীতিমতো ঝাঁঝরা হয়ে উড়ে যাবার কথা। কাজেই আমার একান্ত অনুরোধ থাকবে তোমরা ঘরটা ছেড়ে বের হয়ে যাও।”

    রিটিনের কথায় কাজ হলো, মানুষগুলো রীতিমতো হুটোপুটি করে নেটওয়ার্ক ঘরটি থেকে বের হতে শুরু করে।

    রিটিন কোয়ার্টজের ওয়েব গাইডগুলোর দিকে এগিয়ে গেল। চারটি গাইডের একটিকে অক্ষত রেখে বাকি তিনটিকে ধ্বংস করতে হবে। রিটিন জানে না কেন একটাকে অক্ষত রাখতে হবে। চারটি একই সাথে ধ্বংস করা তুলনামূলকভাবে অনেক সহজ ছিল।

    রিটিন নির্দিষ্ট জায়গায় বিস্ফোরক লাগিয়ে নিরাপদ দূরত্বে সরে গিয়ে ঘাপটি মেরে শুয়ে রইল। এক থেকে পাঁচ পর্যন্ত গোনার আগেই প্রচণ্ড বিস্ফোরণে পুরো বিল্ডিং কেঁপে উঠল। কাজটা ঠিকমতো হয়েছে কি না এখন আর দেখার সময় নেই। তার কব্জিতে লাগানো ছোট প্যানেলে অ্যালার্ট সিগন্যাল আসতে শুরু করেছে, তাকে এখন বের হতে হবে। তাকে সরিয়ে নেবার জন্যে একটি ড্রোন কন্ট্রোল সেন্টারের উপরে চলে এসেছে, দেরি করার কোনো সুযোগ নেই।

    নেটওয়ার্ক সেন্টারের বড় দরজাটিতে কিছু মানুষ আর রোবট এসে ভিড় করেছে। রোবটগুলো নিয়ে দুর্ভাবনার কিছু নেই, তার জ্যামার থেকে মেটাকোড সবগুলোকে অচল করে দেবে। মানুষগুলোকে নিয়ে সমস্যা। তাকে লক্ষ করে গুলি করার চেষ্টা করছে। শরীরে ট্র্যাকিওশান নেই বলে লক করে লক্ষ্যভেদ করতে পারছে না। রিটিন পাল্টা গুলি করতে করতে বড় দরজাটি দিয়ে বাইরে বের হয়ে এল। পায়ের চৌম্বকীয় জুতো চালু করে সে আবার সরীসৃপের মতো দেয়াল বেয়ে উঠে যায়, তারপর ছাদ থেকে ঝুলে ঝুলে শ খানেক মিটার ছুটে গিয়ে বড় একটি জানালা দিয়ে বাইরে চলে এল।

    মাঝখানে ফাঁকা জায়গা, রিটিন সেখানে দাঁড়াতেই উপর থেকে একটা ড্রোন নিচে নেমে আসে, তারপর চোখের পলকে তাকে জাপটে ধরে সেটি আবার উপরে উঠে যায়। রিটিন ইতস্তত গুলির শব্দ শুনতে পায় কিন্তু সে জানে তাকে সেগুলো আর তাকে স্পর্শ করতে পারবে না। দুই ঘণ্টা পর রিটিনের সাথে ক্লিওনের দেখা হলো। ক্লিওন একটা টেবিলে পা তুলে চেয়ারে মাথা হেলান দিয়ে আধশোয়া হয়ে বসে ছিল, রিটিনকে দেখে সে সোজা হয়ে বসে বলল, “এসো রিটিন।”

    রিটিন বলল, “মিশন শেষ হয়েছে।”

    ক্লিওন বলল, “আমরা সেই খবর পেয়েছি। আমরা একটা কোয়ার্টজ গাইডের কিছু তথ্য এখন বের করে ফেলতে পারব। তোমাকে বলা হয়েছিল সেটা অক্ষত রেখে অন্যগুলো ধ্বংস করতে।”

    “মনে হয় করতে পেরেছি।”

    “হ্যাঁ। তুমি করতে পেরেছ। এখন সবগুলো কোয়ার্টজের ওয়েব গাইডের তথ্যগুলো এটা দিয়ে যাবে। আমরা বিশাল একটা তথ্যভান্ডার পেয়ে যাব। তোমাকে ধন্যবাদ রিটিন।”

    রিটিন হাসল, বলল, “আমাকে ধন্যবাদ দেয়ার কিছু নেই ক্লিওন। তুমি জানো আমাকে প্রায় প্রোগ্রাম করে পাঠানো হয়েছিল। আমি নিজে কিছু করিনি, যেভাবে প্রোগ্রাম করা হয়েছিল ঠিক সেভাবে যখন যেটা করার কথা সেটা করে গেছি!”

    ক্লিওন বলল, “এর আগে আমরা যাদের পাঠিয়েছিলাম তাদেরও আমরা ঠিক তোমার মতো প্রোগ্রাম করে পাঠিয়েছিলাম। তাদের কেউ তোমার মতো বেঁচে ফিরে আসতে পারেনি।”

    রিটিন বলল, “আমি নিশ্চয়ই অনেক ভাগ্যবান একজন মানুষ।”

    ক্লিওন মাথা নাড়ল, বলল, “না, শুধু ভাগ্য দিয়ে এটা সম্ভব না। অন্য কিছু প্রয়োজন।”

    রিটিন একটু অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, “অন্য কিছু? অন্য কিছু কী? আজকের আগে আমি জীবনে একটি অস্ত্র কখনো স্পর্শ করিনি–এখানে আমার নিজের বিন্দুমাত্র দক্ষতা ছিল না।”

    ক্লিওন বলল, “আমি তোমার দক্ষতার কথা বলছি না।”

    “তাহলে কিসের কথা বলছ?”

    “আমরা সবাই মিলে একটু আগে তোমার মিশনের খুঁটিনাটি দেখেছি, আমাদের সিস্টেম দিয়ে বিশ্লেষণ করিয়েছি। আমরা যেটা দেখেছি সেটি অবিশ্বাস্য–”

    “সেটি কী?”

    “এই মিশন থেকে তোমার জীবিত ফিরে আসার বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা ছিল না। তোমাকে লক্ষ করে মানুষ রোবট এবং স্বয়ংক্রিয় প্রতিরক্ষা অস্ত্র অসংখ্যবার গুলি করেছে। মিশন শুরু করার পাঁচ মিনিটের ভেতর তোমার সারা শরীর গুলিতে গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যাবার কথা ছিল। কিন্তু–”

    “কিন্তু কী?”

    “কিন্তু একটি গুলিও তেমার শরীরে লাগেনি। মনে হয়েছে” ক্লিওন কথা শেষ না করে থেমে গেল।

    রিটিন জিজ্ঞেস করল, “কী মনে হয়েছে?”

    ক্লিওন একটা নিঃশ্বাস নিল, নিজের হাতের দিকে তাকাল তারপর ঘুরে রিটিনের দিকে তাকাল। বলল, “মনে হয়েছে কেউ তোমাকে খুব যত্ন করে রক্ষা করছে।”

    “রক্ষা করছে? আমাকে?”

    “হ্যাঁ।”

    রিটিন প্রায় হতবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, “আমাকে কে রক্ষা করবে?”

    “প্রকৃতি।”

    “প্রকৃতি?” রিটিন হকচকিত হয়ে ক্লিওনের দিকে তাকাল; জিজ্ঞেস করল, “প্রকৃতি একজন মানুষকে রক্ষা করতে পারে?”

    ক্লিওন মাথা নাড়ল, বলল, “নিশ্চয়ই পারে। তা নাহলে তুমি কেমন করে জীবন্ত ফিরে এলে? প্রকৃতির নিশ্চয়ই যেকোনো মূল্যে তোমাকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। তোমার নিশ্চয়ই কোনো একটি কাজ করার কথা যেটি আমরা জানি না। প্রকৃতি জানে, সে জন্যে তোমাকে রক্ষা করেছে।”

    রিটিন মাথা নেড়ে বলল, “তুমি কী বলছ এসব? আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।”

    ক্লিওন হাসার চেষ্টা করল, বলল, “আমি কী বলছি সেটা আসলে আমি নিজেও বুঝতে পারছি না। কিন্তু এছাড়া আমার আর কোনো ব্যাখ্যা নেই। তোমার এখনো কোনো একটা কাজ করা বাকি। গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজ। খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজ।”

    রিটিন হকচকিতের মতো ক্লিওনের দিকে তাকিয়ে রইল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্রডিজি – মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    Next Article ভূতের বাচ্চা সোলায়মান – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    Related Articles

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    ছোটগল্প – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সাদাসিধে কথা – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মেকু কাহিনী – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    আমার বন্ধু রাশেদ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সায়েন্স ফিকশান সমগ্র ১ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    টুনটুনি ও ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }