Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সায়েন্স ফিকশন সমগ্র ৬ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল এক পাতা গল্প1092 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৮. সায়েন্স ফেয়ার শেষ হবার পর

    সায়েন্স ফেয়ার শেষ হবার পর মহব্বতজান স্কুলে কয়েকটা পরিবর্তন হল। তার মাঝে একটা হল স্কুলের ল্যাবরেটরিরে একটা চাবি আমাদের পাকাপাকিভাবে দিয়ে দেয়া হল, আমরা যখন খুশী সেখানে যেতে পারি যতক্ষণ খুশী যেখানে থাকতে পারি। ল্যাবরেটরিতে গবেষণা করছি এরকম ভান করে আমরা এখানে বসে প্রত্যেকদিন আড্ডা মারি কেউ কিছু বলে না।

    আমাদের বিজ্ঞান স্যার কালাপাহাড় মিঠুনকে যথেষ্ট সম্মান দেওয়া শুরু করলেন। সবচেয়ে বিপদ হল যখন ক্লাশে এসে কালাপাহাড় স্যার মিঠুনকে বলতে শুরু করলেন, “এই মিঠুন, তুই ক্লাশটা পড়া আমার জরুরী একটা কাজ আছে।”

    মিঠুন খুব উৎসাহ নিয়ে আমাদের বিজ্ঞান পড়ানোর চেষ্টা করতে লাগল কিন্তু কয়েকদিনের মাঝেই আমরা আবিষ্কার করলাম সে ভালো বিজ্ঞান জানতে পারে কিন্তু সে মোটেও পড়াতে পারে না। সোজা জিনিষটা এমন জটিল করে বলে যে আমরা মাথা মুণ্ডু কিছু বুঝি না। আমরা যখন কিছু একটা বুঝি না সে তখন আরো রেগে উঠতে থাকে আর যখন সে রেগে উঠে তখন মিঠুনের কথা বার্তাও ওলট পালট হতে থাকে। মিঠুনের ওপর ভর দিয়ে বিজ্ঞান স্যার আজকাল বেশীর ভাগ সময়েই ক্লাশে আসা বন্ধ করে দিলেন। তখন মিঠুনকে নিয়ে সমস্যা আরো বেড়ে গেল। কেউ মিঠুনের কোনো কথা শুনতে রাজী হতো না—সবাই মিলে হই চই চেঁচামেচি করে মিঠুনকে নিয়ে টিটকারী মারতে শুরু করল। আমরা আগেও কোনো স্যার থেকে কিছু শিখতাম না এখনো মিঠুনের কাছ থেকে কিছু শিখি না তাই আমাদের জীবনের কোনো উনিশ বিশ হল না।

    ক্লাশে আমাদের বিজ্ঞানের কোনো কিছু বোঝাতে না পারলেও মিঠুন ব্ল্যাক হোলের বাচ্চা নিয়ে তার গবেষণা কাজ ভালোই চালিয়ে গেল। এনার্জি, মোমেনটাম, গ্রাভিটি, থ্রাস্ট, লিফট, সেন্টার অফ গ্রেভিটি এরকম অনেক কঠিন কঠিন শব্দ বলতে বলতে ব্ল্যাকহোলের বাচ্চা নিয়ে কাজ করতে থাকে। কী তৈরী করছে সেটা আমাদের পরিষ্কার করে বলে না, কিংবা কে জানে হয়তো বলেছে আমাদের কাছে পরিষ্কার হয়নি। তবে আমরা সেটা নিয়ে মাথা ঘামাই না, মিঠুনের উপর আমাদের অনেক ভরসা। সে যেটা বানাচ্ছে তার জন্যে মাঝে মধ্যে কিছু কেনাকাটা করতে হচ্ছে— হেড স্যার যে দশ হাজার টাকা দিয়েছিলেন আগে তার বিশেষ কিছু খরচ হয়নি। এখন সেখান থেকে টাকা ব্যবহার করে মিঠুন প্রায়ই এটা সেটা কেনে। ল্যাবরেটরির ভেতরের ভাঙ্গা যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে—একদিন দেখলাম সিড়ির নিচে পড়ে থাকা ভাঙ্গা কিছু চেয়ার টেবিল টানাটানি করছে। সেগুলো দিয়ে কী করবে কে জানে! আমরা অবশ্যি বেশি মাথা ঘামালাম না, মিঠুন ভাঙ্গা চেয়ার টেবিলগুলো কোথায় নিতে চায় তার কাছ থেকে শুনে আমরা ধরাধরি করে সেখানে পৌঁছে দিলাম।

    এর ঠিক দুইদিন পর ইংরেজি ক্লাশে মিঠুন আমার কাছে গলা নামিয়ে বলল, “ইবু। আজ সন্ধেবেলা তুই স্কুলে আসতে পারবি?”

    আমি জিজ্ঞেস করলাম “কেন?”

    “আজকে আমি একটা জিনিষ পরীক্ষা করব।”

    “কী পরীক্ষা করবি?”

    “ব্ল্যাক হোলের বাচ্চা দিয়ে যেটা বানিয়েছি”

    “কী বানিয়েছিস?”

    “তুই আসলেই দেখবি। এখন আর কাউকে কিছু বলছি না শুধু তুই আর আমি।”

    মিঠুন যখন শুধু আমাকে ছাড়া আর কাউকে কিছু বলছে না তখন আমাকে তো আসতেই হয় তাই সন্ধেবেলা আমি চলে এলাম। আসার সময় দেখলাম বাবা অস্ট্রেলিয়ার সাথে ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলা দেখছে, আমি যখন বললাম, “বাবা একটা কাজে যাচ্ছি আসতে দেরী হতে পারে।”

    বাবা সেটা শোনার চেষ্টাও করল না, হাত নেড়ে আমাকে বিদায় করে দিল। কোথায় যাচ্ছি কেন যাচ্ছি ফিরতে কেন দেরী হবে কিছুই জানতে চাইল না।

     

    স্কুলে গিয়ে দেখি মিঠুন এর মাঝে চলে এসেছে। স্কুলের বারান্দায় বসে বসে মশার কামড় খাচ্ছে। আমাকে দেখে বলল, “এসেছিস?”

    “আয়।”

    “কোথায়?

    মিঠুন কথা না বলে সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠে ল্যাবরেটরি ঘরে চাবি খুলে ঢুকল। বলল, “যে যন্ত্রটা বানিয়েছি সেটা আজকে জোড়া লাগা, আলাদা আলাদাভাবে তৈরী হয়েছে আজকে একত্র করা হবে।”

    মিঠুন তখন পকেট থেকে একটা কাগজ বের করে ভঁজ খুলে মেঝেতে রাখল–বলল, “এইটা হচ্ছে ডিজাইন।

    আমি ডিজাইনের মাথা মুণ্ডু কিছুই বুঝতে পারলাম না। মিঠুন বলল, “আয় কাজ শুরু করি।”

    আমি বললাম, “ঠিক আছে।”

    মিঠুন তখন কাজ শুরু করল। দুইটা ভাঙ্গা চেয়ার পেরেক দিয়ে ঠুকে জুড়ে দিল। চেয়ারের পাগুলো করাত দিয়ে কেটে সেখানে নানারকম যন্ত্রপাতি লাগাতে লাগল। ড্রিল মেশিন দিয়ে ফুটো করে বড় বড় স্কু লাগাতে লাগল। অনেকগুলো টিউব বাঁকা করে লাগিয়ে দিল। মাঝখানে স্টীলের তৈরী ভারী একটা সিলিন্ডার লাগালো। সেখান থেকে অনেকগুলো তার বের হয়েছে সেই তারগুলো একটা প্যানেলের মাঝে লাগালো। প্যানেলটা চেয়ার দুটোর সামনে একটা কাঠের টুকরো দিয়ে লাগিয়ে নিল। চেয়ার দুটোর চারপাশে হার্ডবোর্ডের কয়েকটা পাখা লাগাল। দেখতে দেখতে পুরো জিনিষটা একটা জটিল যন্ত্রের মত দেখাতে থাকে, মনে হতে থাকে এটা বুঝি!

    কোনো সায়েন্স ফিকশানের সিনেমা থেকে বের হয়ে এসেছে।

    রাত দশটার দিকে আমি মিঠুনকে বললাম, “খিদে পেয়েছে।” মিঠুন বলল, “ঠিক বলেছিস। আয় খাই।”

    “কী খাবি?”

    “বাসা থেকে খাবার নিয়ে এসেছি।” বলে মিঠুন তার ব্যাগ থেকে নানা রকম খাবারের বাক্স বের করতে থাকে। পরটা, কাবাব, মিষ্টি, আপেল, দই এবং ফ্লাক্সে গরম চা। এতো খাবার যে আমরা দুজনে মিলে খেয়ে শেষ করতে পারলাম না। জিজ্ঞেস করলাম, “তুই প্রত্যেকদিন এভাবে খাস? তাহলে তো হাতীর মত মোটা হয়ে যাবি।”

    মিঠুন বলল, “না। প্রত্যেক দিন খাই না। আজকে বিশেষ দিন সেইজন্যে খাচ্ছি।”

    “আজকে বিশেষ দিন কেন?”

    “আজকে এই স্পেশাল ফ্লাইং মেশিনটা উড়াব সেই জন্যে স্পেশাল খাবার।”

    আমি চোখ কপালে তুলে বললাম, “ফ্লাইং মেশিন? এটা ফ্লাইং মেশিন? এটা উড়বে?”

    “হ্যাঁ।”

    “ঘরের ভেতর কেমন করে উড়বে?”

    “ঘরের ভেতর উড়বে না গাধা। আমরা এখন এটা বাইরে নিয়ে যাব।”

    তখন মিঠুন আর আমি ধরাধরি করে এই জটিল যন্ত্রটা ঘরের বাইরে নিয়ে গেলাম। দোতলাটা পুরো শেষ হয়নি। বিশাল অংশ খোলা ছাদ। বিল্ডিংয়ের চারপাশে বড় বড় গাছ সেই ছাদটাকে ঘিরে রেখেছে তাই বাইরে থেকে এই জায়গাটা দেখা যায় না।

    মিঠুন তার ফ্লাইং মেশিনটাকে ছাদের মাঝখানে রাখল। আবছা অন্ধকারে এটাকে কেমন যেন রহস্যময় দেখাতে থাকে। মিঠুন তখন তার ব্যাগ থেকে একটা লাইট বের করে তার কপালে বেঁধে ফেলল। সেখানে একটা সুইচ টিপে দিতেই আলোটা জ্বলে উঠে এবং মিঠুনকে তখন একজন মহাকাশচারীর মত দেখাতে থাকে।

    মিঠুন আরেকটা লাইট বের করে আমার হাতে দিয়ে বলল, “নে এটা তোর মাথায় বেঁধে নে। অন্ধকারে প্যানেলটা দেখতে পাবি।”

    অন্ধকারে প্যানেলটা আমার কেন দেখতে হবে আমি সেটা আর জিজ্ঞেস করলাম না, মিঠুনের কথা মত মাথায় বেঁধে নিলাম। মিঠুন বলল, “আয় উঠি।”

    আমি ভয়ে ভয়ে বললাম, “আগে একটু পরীক্ষা করে দেখলে হয় না এটা ঠিকমত কাজ করে কী না?”

    “সেটাই তো করতে যাচ্ছি।”

    “তাহলে উঠতে হবে কেন? না উঠে পরীক্ষা করা যায় না?”

    “আর যখন এটা উড়ে চলে যাবে তখন কী করে নামাব?”

    আমি মাথা চুলকে বললাম, “ইয়ে, মানে—”

    মিঠুন বলল, “ও! তুই ভয় পাচ্ছিস? ভয় পেলে থাক, উঠতে হবে না।”

    ভীতু বলে অপবাদ দেয়ার পর তো আর পেছানো যায় না। বললাম, “ভয় পাব কেন? ভয় পাবার কী আছে?”

    তারপর মিঠুনের ফ্লাইং মেশিনে উঠে বসলাম। মিঠুনও অন্যদিক দিয়ে উঠে বসে। ব্যাগটা পায়ের কাছে রেখে সেখান থেকে দুটো বেল্ট বের করে আনে। একটা আমার হাতে দিয়ে বলল, “বেঁধে নে।”

    আমি জিজ্ঞেস করলাম “কী বেঁধে নেব?”

    “নিজেকে চেয়ারের সাথে বেঁধে নে, সিট বেল্টের মতন।”

    আমি ভুরু কুঁচকে বললাম “কেন? বাঁধতে হবে কেন?”

    “উপর থেকে যেন পড়ে না যাস।”

    “পড়ে যাওয়ার কথা বলছিস কেন?”

    “ফ্লাইং মেশিন উড়তে উড়তে যদি কাত হয়ে যায়? উল্টো হয়ে যায়?” আমি শুকনো গলায় বললাম, “কাত হবে কেন? উল্টো হবে কেন?”

    “ব্লাকহোলের বাচ্চা দিয়ে যে ইঞ্জিনটা বানিয়েছি সেটা যদি কন্ট্রোল না করা যায় তখন যা খুশি তা হতে পারে।”

    “যা খুশি হবে মানে? কী হবে তুই জানিস না?”

    “থিওরিটিক্যালী জানি। প্র্যাকটিক্যালী যা খুশী হতে পারে।”

    আমি আমার সিট বেল্ট খুলতে খুলতে বললাম, “ মিঠুন, তুই যাআমি যাব না।”

    কিন্তু ততক্ষণে দেরী হয়ে গেছে। মিঠুন সামনের প্যানেলে কী একটা সুইচ অন করে দিল—আর সাথে সাথে মিঠুনের ফ্লাইং মেশিনটা থরথর করে কাপতে লাগল। মিঠুন অবাক হয়ে বলল, “আরে, কাপছে কেন?”

    আমিও ভয় পেয়ে বললাম, “কী হয়েছে? কাঁপছে কেন?”

    মিঠুন আমার কথায় উত্তর দিল না, প্যানেলের কী একটা হ্যান্ডেল ধরে টান দিল—তখন কাপুঁনীটা আরো বেড়ে গেল, আমি ভোঁতা একটা শব্দ শুনলাম আর নিচের দিকে তাকিয়ে দেখলাম ফ্লাইং মেশিনের নিচে দিয়ে আগুনের মত কী একটা বের হতে শুরু করেছে। আমি আমার পায়ে গরম বাতাসের একটা হলকা অনুভব করলাম। ভয় পেয়ে বললাম, “কী হয়েছে মিঠুন? কী হয়েছে?”

    মিঠুন আমার কথার উত্তর দিল না, বিড়বিড় করে বলল, “ওয়েট ব্যালেন্স হয় নাই।”

    আমি চিৎকার করে বললাম, “সেইটার মানে কী? “টেক অফের সময় সমস্যা হতে পারে। শক্ত করে ধরে রাখিস?”

    “কী শক্ত করে ধরে রাখব?”

    মিঠুন হ্যান্ডেলটা আরো জোরে টেনে ধরল আর ঠিক তখন ফ্লাইং মেশিনটা পিছন দিকে কাৎ হয়ে গেল, আমি চিৎকার করে ভয়ে চোখ বন্ধ করে সামনে ঝাঁপিয়ে পড়লাম। ফ্লাইং মেশিনটা পিছন দিকে আরো কাত হয়ে আরো জোরে থর থর করে কাপছে-মনে হচ্ছে এক্ষুনি ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে। ভয়ে আতংকে আমি চিৎকার করে বললাম, “নামব, আমি নামব। এইখানে থাকব না। তোর ফ্লাইং মেশিনের খেতা পুড়ি।”

    আমি সিট বেল্ট খুলে নেমে যাচ্ছিলাম, মিঠুন তখন চিৎকার করে বলল, “খরবদার!” তারপর হাত দিয়ে আমকে খপ করে ধরে ফেলল আর পুরো ফ্লাইং মেশিনটা তখন ডান দিকে কাত হয়ে গেল।

    আমি চোখ খুলে তাকালাম আর হঠাৎ আমার নিশ্বাস বন্ধ হয়ে গেল, ভয়ে আতংকে আমি জমে গেলাম। ফ্লাইং মেশিনটা আসলে ছাদের উপর নেই, কাঁপতে কাঁপতে সেটা উপরে উঠে যাচ্ছে, এর মাঝে আমরা কয়েকশ ফুট উপরে উঠে গেছি, নিচে স্কুল বিল্ডিংটাকে এখন একটা পোড়ো বাড়ীর মত মনে হচ্ছে।

    মিঠুন বলল, “সীট বেল্ট বেঁধে ফেল।”

    আমি ভাঙ্গা গলায় বললাম, “খোদার কসম লাগে। নিচে নামা।

    মিঠুন বলল, “সীট বেল্ট বাঁধ।”

    আমি প্রায় কেঁদেই ফেললাম “নামা মিঠুন! তাড়াতাড়ি নামা।”

    মিঠুন ধমক দিয়ে বলল, “সিট বেল্ট বাঁধ তা না হলে লাথি দিয়ে নিচে ফেলে দেব।”

    মিঠুন সত্যি সত্যি লাথি দিয়ে ফেলে দেবে সেটা বিশ্বাসযোগ্য কোনো কথা না কিন্তু আমি তখন বাধ্য হয়ে কাঁপা হাতে সিট বেল্ট বাঁধলাম। মিঠুন হ্যান্ডেলটা নাড়াচাড়া করতে থাকে আর ফ্লাইং মেশিনটার কাপুনী কখননা বাড়তে থাকে কখনো কমতে থাকে। আমি ভয়ে নিচে তাকিয়ে দেখলাম, ফ্লাইং মেশিনের নিচে দিয়ে আগুনের শিখার মতো কিছু একটা বের হচ্ছে আর আমরা আস্তে আস্তে উপরে উঠছি। নিচে দোকানপাট, রাস্তা, গাড়ী, ট্রাক, টেম্পাে সবকিছু ছোট হয়ে আসছে। আমার সমস্ত শরীর শক্ত হয়ে আছে, প্রতি মুহূর্তে মনে হচ্ছে এই বুঝি ফ্লাইং মেশিন নিয়ে আমরা হুড়মুড় করে নিচে আছাড় খেয়ে পড়ে একেবারে ছাতু হয়ে যাব।

    কিন্তু আমরা হুড়মুড় করে পড়ে গেলাম না, আকাশে ঝুলে থাকলাম। আমি কাঁদো কাঁদো গলায় বললাম, “এই মিঠুন! আর কতো উপরে যাবি? এখন থামা।”

    “ঠিক আছে এখন উপরে উঠা বন্ধ করে দিই।”

    “হ্যাঁ। শুধু বন্ধ করিস না, নিচে নেমে যা।”

    মিঠুন বলল, “আগেই নিচে নামব কেন? সামনে পিছনে যাব না?”

    “সামনে পিছে যাবি?”

    “হ্যাঁ।” বলে মিঠুন আরেকটা হ্যান্ডেল ধরে টান দেয়। সাথে সাথে পুরো ফ্লাইং মেশিনটা একটা আঁকুনী দিয়ে সামনে যেতে থাকে। আমি মুখে ঠাণ্ডা বাতাসের ঝাপটা টের পেলাম, ভয়ে ভয়ে বললাম, “কতো জোরে যাচ্ছি?”

    “ঘণ্টায় ষাট সত্তুর কিলোমিটার হবে।”

    “এতো জোরে যাওয়ার দরকার আছে?”

    মিঠুন আমার কথার উত্তর না দিয়ে হ্যান্ডেলটা সামনে ঠেলে দিল, সাথে সাথে ফ্লাইং মেশিনটা ঝাকুনী দিয়ে কাত হয়ে যায়, আমি ভয়ে চিৎকার করে উঠলাম। মিঠুন বলল, “ভয় পাস নে এখন এটাকে ঘোরাচ্ছি।”

    “আর ঘুরাতে হবে না। এখন নিচে নামা।”

    মিঠুন বলল, “নামাব। আগে ভালো করে টেস্ট করে নেই।”

    “আকাশে ঝুলে থেকে টেস্ট করানোর দরকার আছে? নিচে নেমে টেস্ট করা যায় না?”

    মিঠুন বলল, “আকাশে সামনে পিছে ডানে বায়ে উপরের নিচে সবদিকে ফাঁকা-নিচে এই রকম ফাঁকা জায়গা পাবি?”

    আমি দুর্বলভাবে বললাম, “প্রথম দিনেই সব টেস্ট করে ফেলতে হবে? কাল পরশুর জন্যে কিছু রাখবি না?”

    “কাল পরশুরটা কাল পরশু দেখা যাবে। আজকেরটা আজকে। মিঠুন আমার দিকে তাকিয়ে হাসল, চাঁদের আলোতে তার হাসিটা অবশ্যি খুব ভালো দেখা গেল না। মিঠুন এবারে তার ব্যাগটা খুলে ভিতর থেকে ফ্লাক্সটা বের করে বলল, “আয় চা খাই।”

    আমি চোখ কপালে তুলে বললাম, “চা? তুই এখন চা খাবি?”

    “হ্যাঁ। উপরে একটু শীতশীত করছে। চা খেলে শরীর গরম হবে। ফ্লাইং মেশিনটা পার্ক করে রেখেছি, এখন একজায়গায় দাঁড়িয়ে আছে।”

    আমি নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারলাম না—যখন দেখলাম সত্যি সত্যি মিঠুন ফ্লাক্স থেকে একটা প্লাস্টিকের কাপে চা ঢেলে আমার দিকে এগিয়ে দিল। আমি কাঁপা হাতে কাপটা নিলাম মিঠুন তখন তার নিজের জন্যে এক কাপ ঢেলে নিয়ে খুব তৃপ্তি করে চায়ের কাপে চুমুক দিল। কেউ যদি একদিন আগেও আমাকে বলত যে পরের দিন আমি আকাশে ঝুলে থেকে চা খাব আমি কী সেটা বিশ্বাস করতাম?

    চা খেতে খেতে মিঠুন বলল, “আমাদের এই ফ্লাইং মেশিনের সুবিধে কী জানিস?”

    “কী সুবিধা?”

    “এইখানে যে ফুয়েল আছে সেটা কোনোদিন শেষ হবে না”। “শেষ হবে না?”

    “না। এনার্জীটা খরচ হয় ই ইকুয়েলস টু এম সি স্কয়ার দিয়ে। তার মানে শক্তি প্রায় অফুরন্ত। তাছাড়া—”

    “তাছাড়া কী?”

    “যখন এনার্জী ব্যবহার করি না তখন আমার ধারণা ব্লাকহোলের বাচ্চা চারপাশের ভর শুষে বড় হতে থাকে। এটা যেহেতু অন্যরকম ভর তাই আমরা টের পাই না। তবে—”

    “তবে কী?”

    মিঠুন উত্তর না দিয়ে হঠাৎ করে মুখ সুঁচালো করে কিছু একটা ভাবতে লাগল। আমার কাছে পুরো ব্যাপারটা একটা অবাস্তব স্বপ্নের মত মনে হতে থাকে। গভীর রাতে আমি আর মিঠুন আকাশে ঝুলে ঝুলে চা খাচ্ছি। শুধু তাই না মিঠুন চা খেতে খেতে বৈজ্ঞানিক চিন্তার মাঝে ডুবে আছে। সত্যি কথা বলতে কী প্রথম প্রথম আমার যেরকম অসম্ভব ভয় লাগছিল, মনে হচ্ছিল এক্ষুণি বুঝি ধপাস করে আকাশ থেকে পড়ে যাব এখন আর সেরকম মনে হচ্ছে না। মনে হচ্ছে আকাশে ঝুলে থাকা এমন কিছু অসম্ভব ব্যাপার না।

    আমি চা শেষ করে বললাম, “মিঠুন এখন নিচে চল।”

    “হ্যাঁ” মিঠুন বলল, “একটু একটু ঠাণ্ডা লাগছে।”

    মিঠুন তার কপালে লাগানো লাইটটা জ্বালিয়ে প্যানেলটা দেখে একটা সুইচ টিপে আরেকটা হ্যান্ডেল ধরে নিজের দিকে টেনে আনে। ফ্লাইং মেশিনটা একটা ঝাঁকুনী দিয়ে নিচে নামতে থাকে। আমি নিচের দিকে তাকালাম, সেখানে ঘুটঘুটে অন্ধকার। মিঠুনকে জিজ্ঞেস করলাম, “স্কুলটা কোন দিকে?”

    “কী জানি?”

    “কী জানি মানে?”

    আমি রেগে উঠে বললাম, “না জানলে যাবি কেমন করে?”

    “সেটাই তো বুঝতে পারছি না!” মিঠুন বলল, “যখন সামনে পিছে ডানে বায়ে গেছি তখন অনেক দূরে সরে গেছি। তাছাড়া

    “তাছাড়া কী?”

    “বাতাসেও মনে হয় সরে এসেছি।”

    “এখন?”

    মিঠুন মাথা চুলকালো, “স্কুলটা খুঁজে বের করতে হবে।“

    “কেমন করে খুঁজে বের করবি?”

    মিঠুন মাথা নাড়ল, বলল, “জানি না আমি এর আগে কখনো আকাশে হারিয়ে যাইনি।”

    সেটা সত্যি কথা। নিচে হারিয়ে গেলেও রাস্তা ধরে এগিয়ে গেলে কোথাও না কোথাও পৌঁছানো যায়। আকাশে কোনো রাস্তা নেই—আকাশে হারিয়ে গেলে কোনদিকে যেতে হবে বোঝার কোনো উপায় নেই।

     

    অনেক কষ্ট করে যখন শেষ পর্যন্ত স্কুলটা খুঁজে পেলাম তখন ভোররাত হয়ে গেছে। ফ্লাইং মেশিনটা নিচে নামিয়ে মিঠুন বলল, “এতো রাতে বাসায় গিয়ে কী হবে? আর স্কুলে ঘুমিয়ে যাই।”

    আমি বললাম, “তোর বাসায় চিন্তা করবে না?”

    “নাহ!” মিঠুন বলল, বাসায় বলেছি আজ রাতে তোর বাসায় থেকে রাত জেগে সমাজ পাঠ পড়ব।”

    “সমাজ পাঠ?”

    “হ্যাঁ।” মিঠুন তার ফ্লাইং মেশিনের যন্ত্রপাতিগুলো টানাটানি করে কী যেন দেখল তারপর মুখ দিয়ে সন্তুষ্টির মত শব্দ করল। তারপর আমার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, “তোর বাসায় চিন্তা করবে না?”

    আমি মাথা নাড়লাম, বললাম, “না। আমার বাসায় আব্দু ছাড়া আর কেউ নাই। আব্ব আমাকে নিয়ে কখনো মাথা ঘামায় না। কয়েক রাত বাতে না গেলেও আব্ব বুঝতেই পারবে না।”

    মিঠুন বলল, “তোর কী মজা!”

    আমি ছোট একটা নিশ্বাস ফেললাম। সত্যিই কী আমার অনেক মজা।

    মিঠুন ল্যাবরেটরি ঘরের মাঝখানে একটা টেবিলে উঠে বলল, “উড়তে পারলাম কী না?”

    “পেরেছিস। তুই একটা জিনিয়াস।”

    “সত্যি? তোর তাই মনে হয়?”

    “হ্যাঁ। সুপার জিনিয়াস।”

    মিঠুন বাচ্চা ছেলের মত খুশী হয়ে উঠল, “শুধু তুই ভালো ভাবে দেখেছিস। সবাই শুধু বকাবকি করে।”

    “এই ফ্লাইং মেশিন দেখলে বাককি করবে না। যেই দেখবে সেই ট্যারা হয়ে যাবে কেনো সন্দেহ নাই।”

    “সত্যি?”

    “হ্যাঁ। প্রথমবার উঠার সময় একটু ভয় পেতে পারে কিন্তু একটু অভ্যাস হয়ে গেলে ট্যারা হয়ে যাবে। কোনো সন্দেহ নাই।”

    মিঠুন টেবিলটাতে লম্বা হয়ে শুয়ে পড়ল। আমি আরেকটা টেবিলে শুয়ে পড়লাম। সারারাত ঘটনাগুলো মাথার মাঝে খেলা করছিল। মনে হচ্ছিল বুঝি ঘুমই আসবে না, কিন্তু এক সময় সত্যিই ঘুমিয়ে গেলাম।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্রডিজি – মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    Next Article ভূতের বাচ্চা সোলায়মান – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    Related Articles

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    ছোটগল্প – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সাদাসিধে কথা – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মেকু কাহিনী – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    আমার বন্ধু রাশেদ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সায়েন্স ফিকশান সমগ্র ১ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    টুনটুনি ও ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }