Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সায়েন্স ফিকশন সমগ্র ৬ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল এক পাতা গল্প1092 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১৫-১৬. নির্জন রাস্তা দিয়ে তানুস্কা

    ১৫.

    নির্জন রাস্তা দিয়ে তানুস্কা তার ভ্যানটি চালিয়ে নিচ্ছে। তানুস্কার পাশে রিটিন নিঃশব্দে বসে আছে। পেছনের সিটে নীল ঘুমিয়ে আছে। তাদেরকে প্রায় বারোশত কিলোমিটার যেতে হবে, একটানা গাড়ি চালিয়ে গেলেও চব্বিশ ঘণ্টা থেকে বেশি লেগে যাবে। একটানা গাড়ি চালানো সম্ভব নয়, রিটিন গাড়ি চালাতে পারে না। সে যে পৃথিবী থেকে এসেছে সেখানে কোনো মানুষ গাড়ি চালায় না। একজন মানুষ যে গাড়ি নামের এই বিপজ্জনক যন্ত্রটাকে সরু একটা রাস্তার উপর দিয়ে ঠিকভাবে চালিয়ে নিতে পারে সেটি নিজের চোখে দেখেও রিটিনের এখনো বিশ্বাস হয় না।

    ভ্যানের পেছনে রিটিনের যন্ত্রপাতি। একটি ধাতব টিউব, এর ভেতরে সে পাঁচশত বছরের জন্যে ঘুমিয়ে যাবে। এই টিউবটিকে শীতল রাখার জন্যে ছোট একটি ফিউসান ইঞ্জিন, সেটাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্যে যন্ত্রপাতি। মাটি খুঁড়ে নিচে নামার জন্যে কিছু ভারী যন্ত্রপাতি। পাঁচশ বছর পর আবার এই যন্ত্রপাতিগুলো ব্যবহার করে সে উপরে উঠে নিয়ন্ত্রণ ভবনে ঢুকে যাবে। নিয়ন্ত্রণ ভবন ধ্বংস করার জন্যে তার কাছে প্রচুর বিস্ফোরক, যে বিস্ফোরক দিয়ে সম্ভবত পৃথিবীর একটা বড় শহর ধ্বংস করে ফেলা সম্ভব। এছাড়া আছে কিছু ভয়ংকর দর্শন অস্ত্র। বারোশত কিলোমিটার যাবার সময় পথে যদি কোনো কারণে পুলিশ তাদের থামিয়ে পেছনে কী আছে সেটা পরীক্ষা করতে চায় তাহলে খুব বড় বিপদে পড়ে যেতে পারে! তবে পাঁচশ বছর পরের প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি এই মুহূর্তে কেউ যেন চিনতে না পারে সে জন্যে যথেষ্ট যত্ন করে নকল খোলস দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। বাইরে থেকে এগুলোকে পানির পাম্প, সার ছিটানোর স্প্রে, ট্রাক্টরের ইঞ্জিন এরকম মনে হবে।

    রিটিন তানুস্কাকে সবকিছু খুলে বলেছে। তানুস্কা সবকিছু খুঁটিনাটি বুঝেছে তা নয় কিন্তু অন্তত এটুকু বুঝতে পেরেছে তার সাথে হঠাৎ করে ক্ষণিকের পরিচয়ের এই মানুষটির উপর ভবিষ্যতের পৃথিবীর বিশাল একটি দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এই মানুষটিকে ধরে রাখা যায় না। ভবিষ্যৎ থেকে একজন মানুষ তার কাছে চলে এসেছে এই বিষয়টিই সে এখনো পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছে না।

    নির্জন পথে গাড়ি চালাতে চালাতে দুজনে কথা বলছে। প্রথম প্রথম তাদের কথা হয়েছে নিজেদের জগৎ নিয়ে, একসময় সেই কথার প্রয়োজন ফুরিয়েছে, তখন কথা শুরু হয়েছে নিজেদের নিয়ে। নিজেদের কথা শেষ হওয়ার পর কথা হয়েছে একজন অপরজনকে নিয়ে।

    গাড়ি চালাতে চালাতে একসময় তানুস্কা গাড়ি থামিয়েছে। কোনো একটা পার্কে কিংবা বনভূমিতে গাড়ি থামিয়ে বিশ্রাম নিয়েছে। তানুস্কা গাড়ির সিট লম্বা করে গুটিসুটি হয়ে ঘুমিয়ে গেছে, রিটিন নীলকে কোলে নিয়ে তার সাথে গল্প করছে।

    যখন তাদের ক্ষুধা পেয়েছে তখন তারা পথের ধারে কোনো একটা ছোট ক্যাফেতে গাড়ি থামিয়ে কিছু একটা খেয়েছে। গাড়ি চালাতে চালাতে হঠাৎ যদি নদীতীরে কিংবা পাহাড়ের পাদদেশে অপূর্ব একটি দৃশ্য ফুটে ওঠে তখন তারা সেখানে তাদের গাড়ি থামিয়ে পথের ধারে পা ছড়িয়ে বসে থেকেছে। কখনো দুজনে নিচু গলায় কথা বলে, কখনো চুপচাপ বসে থাকে। কখনো তানুস্কা করুণ সুরে একটি গান গায়। তানুস্কার মিষ্টি গলার স্বর শুনে রিটিন আনমনা হয়ে যায়। বুকের ভেতর থেকে হাহাকারের মতো একটি দীর্ঘশ্বাস বের হয়ে আসে।

    তৃতীয় দিন সকাল বেলা তারা তাদের গন্তব্যে পৌঁছাল। রাস্তা থেকে নেমে তাদের আরো ভেতরে যেতে হবে, পুরো এলাকাটি একটি বনভূমি। এখানে কেমন করে এত যন্ত্রপাতি নিয়ে যাবে তানুস্কা ঠিক অনুমান করতে পারছিল না, কিন্তু সে দেখল কাজটি বেশ সহজ। রিটিন যেসব যন্ত্রপাতি এনেছে তার মাঝে একটি হচ্ছে মিনি বাইভার্বাল। তার উপর সবকিছু চাপিয়ে রিটিন কিছুক্ষণের মাঝেই সবাইকে নিয়ে বনভূমির গভীরে ঢুকে গেল।

    ঠিক কোথায় হিমঘরটি বসাবে সেটি রিটিন খুব নিখুঁতভাবে বের করল। জায়গাটি নিশ্চিত করার পর রিটিন যন্ত্র দিয়ে মাটি খুঁড়তে শুরু করল। প্রায় পাঁচশ মিটার গভীরে পাথরের নানা স্তর ভেদ করে সে একটা ছোট ঘর তৈরি করে নেয়, তারপর সেখানে যন্ত্রপাতি নামাতে থাকে।

    সন্ধেবেলার আগেই তার কাজ শেষ হয়ে যায়। এখন শুধু ভেতরে গিয়ে টিউবের ভেতরে আশ্রয় নেয়া। পুরো সময়টুকু তানুস্কা একটা গাছের গুঁড়িতে চুপচাপ বসে ছিল। নির্জন বনভূমিতে পাখির ডাক, গাছের পাতার শব্দ কিংবা বুনো পশুর পদচারণা কিছুই সে শুনছিল না। যখন রিটিন তার কাছে বিদায় নিতে এল তখন তানুস্কা প্রথমবার ভেঙে পড়ল। রিটিনকে গভীর আলিঙ্গনে কিছুক্ষণ ধরে রেখে ছেড়ে দিয়ে বলল, “তোমাকে ছেড়ে দিতে মন চাইছে না রিটিন। মনে হচ্ছে তোমাকে বুকে চেপে ধরে রাখি।”

    রিটিন নিচু গলায় বলল, “যে কষ্ট মানুষ সইতে পারে না, মানুষকে সেই কষ্ট কেন পেতে হয় আমি জানি না।” তারপর মুখে জোর করে একটু হাসি ফুটিয়ে বলল, “অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে তানুস্কা। তুমি এখন যাও, তোমাকে অনেকটা পথ যেতে হবে।”

    তানুস্কা চোখের পানি লুকিয়ে হেঁটে যেতে থাকে। কয়েক পা গিয়ে হঠাৎ করে সে আবার ছুটে ফিরে আসে। রিটিনকে জাপটে ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে বলল, “আমি পারব না রিটিন। আমি তোমাকে ছেড়ে যেতে পারব না, আমাকে তুমি তোমার সাথে নিয়ে যাও।”

    নীল অনুচ্চ স্বরে বলল, “মা। রিটিন তোমাকে নিয়ে গেলে আমি কার সাথে থাকব?”

    রিটিন নিঃশব্দে পাথরের মতো দাঁড়িয়ে রইল।

    দুই ঘণ্টা পর তানুস্কা তার ভ্যানটি চালিয়ে উত্তরে যেতে থাকে। সে তার মস্তিষ্কটিকে পুরোপুরি শূন্য করে রাখার চেষ্টা করছে।

    ঠিক তখন রিটিন মাটির পাঁচশ মিটার নিচে একটা টিউবের ভেতর শুয়ে তার মাথার কাছে একটা যন্ত্রপাতির প্যানেলের সুইচ টিপে দেয়। খুব অস্পষ্ট একটা চাপা গুঞ্জন শুনতে পেল। টিউবের ভেতর একধরনের মিষ্টি গন্ধ ছড়িয়ে পড়তে থাকে। রিটিনের চোখে ঘুম নেমে আসতে থাকে।

    সুদীর্ঘ একটি ঘুম। টানা পাঁচশ বছরের ঘুম।

    .

    ১৬.

    খুব ধীরে ধীরে রিটিনের ঘুম ভেঙে যায়। প্রথমে কিছুক্ষণ রিটিন বুঝতে পারে না সে কোথায় আছে, কেন আছে। ধীরে ধীরে তার চেতনা ফিরে আসতে থাকে এবং হঠাৎ করে তার সবকিছু মনে পড়ে যায়। তানুস্কা তাকে গভীর আলিঙ্গনে ধরে রেখে আকুল হয়ে কাঁদছে, দৃশ্যটার কথা সে ভুলতে পারছে না, কিন্তু সেই ঘটনাটি ঘটেছিল আজ থেকে পাঁচশ বছর আগে। পাঁচশ বছর দীর্ঘ সময়, এই সময়ে পুরো পৃথিবী ওলটপালট হয়ে গেছে। পৃথিবীর এই সময়ে তানুস্কা নেই–রিটিন সেটি মেনে নিতে পারছিল না। তার মনে হতে থাকে ক্যাপসুল থেকে বের হয়ে এলেই দেখবে ঘন অরণ্য। সামনে ছুটে গেলেই দেখবে তানুস্কা তার ভ্যানটিতে হেলান দিয়ে বিষণ্ণ মুখে দাঁড়িয়ে আছে। কাছে দাঁড়িয়ে আছে নীল, তার মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করছে কী হচ্ছে।

    রিটিন জানে আসলে গত পাঁচশ বছরে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। সে মাটির গহ্বরে যে কক্ষটিতে শুয়ে আছে তার উপরে সেই অভিশপ্ত নিয়ন্ত্রণকক্ষ। তাকে সেখানে যেতে হবে, কক্ষটিকে ধ্বংস করতে হবে। তানুস্কা নেই। নীল নেই, কয়েকদিনের সেই দিনগুলোর কোনো অস্তিত্ব নেই। সেটি শুধুমাত্র স্মৃতি। তার মস্তিষ্কের কিছু কিছু নিউরনে জমা করে রাখা একটি পরাবাস্তব স্মৃতি।

    রিটিন তার মাথা থেকে সব চিন্তা জোর করে সরিয়ে দিল। তাকে যে কাজ করার জন্যে পাঠানো হয়েছে তাকে সেই কাজটি শেষ করতে হবে। পৃথিবীতে মানুষের বিভাজনটি শেষ হবে কি হবে সেটা নির্ভর করছে সামনের কয়েকটি ঘণ্টায় সে ঠিক করে তার দায়িত্বটি শেষ করতে পারবে কি না তার উপর।

    রিটিন সরু ক্যাপসুলটিতে উঠে বসে। মাথার কাছে রাখা মনিটরটির দিকে তাকায়, ছোট প্যানেলটির কয়েকটি জায়গা স্পর্শ করতেই তার শরীরে কিছু উত্তেজক তরল প্রবাহিত হতে শুরু করে এবং প্রায় সাথে সাথেই রিটিন সতেজ অনুভব করতে থাকে।

    রিটিন ছোট ক্যাপসুলটির ভেতর বসে তার ব্যাক প্যাকটি পরীক্ষা করল। এর ভেতর যে পরিমাণ বিস্ফোরক আছে সেটি দিয়ে পুরো একটি শহরকে মুহূর্তে ধ্বংস করে ফেলা সম্ভব। রিটিন তার পোশাক পাল্টে নেয়, স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রগুলো পরীক্ষা করে তারপর উপরের মাটি ভেদ করে বের হয়ে আসার কাজে লেগে যায়।

    রিটিন পুরো সিস্টেমটি পরীক্ষা করল, সবকিছু ঠিকভাবে কাজ করছে। এখন কয়েকটি বোতাম টিপে তাকে অপেক্ষা করতে হবে। নিও মিসাইল উপরের মাটি পাথর কংক্রিট ধাতব শিলা সবকিছু কেটে একটা গোল গর্ত তৈরি করে দেবে। রিটিনকে সেই গর্ত দিয়ে নিয়ন্ত্রণকক্ষের ভেতর ঢুকে যেতে হবে। সেখানে কী দেখবে সে জানে না।

    রিটিন কন্ট্রোল প্যানেলের বোতামগুলো স্পর্শ করল। সাথে সাথে সে একটি ঝাঁকুনি অনুভব করল এবং ভোতা একটি যান্ত্রিক শব্দ শোনা যেতে থাকে। রিটিন মনিটরের দিকে তাকিয়ে নিঃশ্বাস বন্ধ করে বসে থাকে।

    রিটিন ভেবেছিল গর্তটি করতে বুঝি অনেক সময় নেবে। কিন্তু বেশি সময় নিল না, হঠাৎ করে যান্ত্রিক শব্দটি থেমে যায় এবং মনিটরে একটা লাল বাতি জ্বলতে থাকে। রিটিনের বের হবার সময় হয়েছে।

    রিটিন তখন ক্যাপসুল খুলে বের হয়ে আসে। ঠিক তার মাথার উপর গোল একটি গর্ত। মাটি পাথর ধাতব দেয়াল আর কংক্রিট কেটে গর্ত করা হলে নিচে যে পরিমাণ জঞ্জাল আর ধুলো বালি থাকার কথা সেরকম নেই। গর্ত করায় যে নিও মিসাইলটি ব্যবহার হয়েছে সেটি নিশ্চয়ই প্রথম শ্রেণির যন্ত্র।

    রিটিন তার শরীরে জেট প্যাক লাগিয়ে নিল, তারপর ব্যাক প্যাকের বিস্ফোরকের সুইচটা টিপে সেটাকে ট্রিগার করে নিল। তারপর গর্তের নিচে দাঁড়িয়ে জেট প্যাকটির কন্ট্রোল রডটি ধরে চাপ দিতেই সে ধীরে ধীরে উপরে উঠতে শুরু করে। উপরে কী আছে সে জানে না। বের হওয়ামাত্রই গুলি করে তাকে ছিন্নভিন্ন। করে দেবে কি না সেটাও সে জানে না। দিলেও ক্ষতি নেই, সে যতক্ষণ বেঁচে থাকবে বিস্ফোরকটি নিজে নিজে বিস্ফোরিত হবে না, তার নিজের হাতে সেটিকে বিস্ফোরিত করতে হবে। কিন্তু কোনো কারণে সে মারা গেলে বিস্ফোরকটি নিজে নিজে বিস্ফোরিত হবে।

    গর্তটির মুখের কাছে এসে সে এক মুহূর্ত অপেক্ষা করে, তারপর একটা ঝটকা দিয়ে উপরে উঠে আসে। একটা আলোকোজ্জ্বল হলঘর, চারপাশে থরে থরে যন্ত্রপাতি সাজানো। যন্ত্রপাতিগুলো আশ্চর্য রকম নীরব, এতগুলো যন্ত্র থেকে বিন্দুমাত্র শব্দ বের হচ্ছে না। রিটিন অস্ত্রটি হাতে নিয়ে তার দৃষ্টি ফিরিয়ে মাথা ঘুরিয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে হঠাৎ করে পাথরের মতো স্থির হয়ে যায়। অনেকগুলো মানুষ সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে তার দিকে নিস্পলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। মানুষগুলো সবাই একই রকম। সাদা ওভার অল পরে আছে। আর সবচেয়ে যেটি আশ্চর্য সেটি হচ্ছে সবগুলো মানুষ শুধু যে দেখতে একরকম তা নয় মানুষগুলোর মুখের অভিব্যক্তি এক রকম। তারা সবাই একসাথে মুখটা উপরে তুলে রিটিনের দিকে তাকাল, তারপর এক সাথে সবাই চোখের দৃষ্টি নামিয়ে আনে।

    রিটিন শক্ত করে অস্ত্রটা ধরে রাখল, যদি মানুষগুলো বিন্দুমাত্র বিপদের আভাস দেয় এক পশলা গুলি দিয়ে সবাইকে শেষ করে দেবে। কিন্তু মানুষগুলো একটু নড়ল না, কোনো রকম বিপজ্জনক কিছু করল না, শুধুমাত্র স্থির দৃষ্টিতে রিটিনের দিকে তাকিয়ে রইল।

    রিটিন মুখে একটা হাসি ফুটিয়ে আনার চেষ্টা করে বলল, “শুভ সকাল।”

    মানুষগুলো কোনো উত্তর না দিয়ে তার দিকে নিস্পলক চোখে তাকিয়ে রইল। রিটিন বলল, “আমি বলেছি শুভ সকাল।”

    এবারে মানুষগুলো একজন কিংবা বেশ কয়েকজন মিলে বলল, “আসলে সময়টা সকাল না। সন্ধে হয়ে গেছে।”

    গলার স্বর যান্ত্রিক। রিটিন অস্ত্রটা তাক করে রেখে বলল, “তোমরা কী রোবট?”

    মানুষগুলো পুতুলের মতো একসাথে মাথা নাড়ে, তারপর বলে, “না, আমরা রোবট না। আমরা মানুষ।”

    রিটিন অবাক হয়ে লক্ষ করল সবগুলো মানুষ মিলে কথা বলছে কিন্তু তারা এক সাথে কথা বলছে না, একেকজন একেকটা শব্দ উচ্চারণ করছে, কিন্তু এত বিস্ময়করভাবে একজনের পর আরেকজন কথা বলে যাচ্ছে যে শুনে মনে হচ্ছে বুঝি একজন কথা বলছে।

    রিটিন অস্ত্রটা তাক করে ধরে রেখে বলল, “তোমরা ক্লোন।”

    “হ্যাঁ, আমরা একে অপরের ক্লোন।”

    রিটিন কী বলবে বুঝতে পারল না। একটু ইতস্তত করে বলল, “তোমাদের সাথে পরিচিত হয়ে খুশি হলাম।”

    মানুষগুলো উত্তর দিল না, তার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে রইল। রিটিন বলল, “আমি একটা বিশেষ কাজ করতে এসেছি। আশা করি তোমরা আমাকে কাজটা করতে দেবে। আমার কাজে বাধা দেবে না।”

    “কী কাজ?”

    “আমি এই যন্ত্রগুলো ধ্বংস করতে এসেছি। যদি আমার কাজে বাধা দাও আমায় তোমাদেরকে মেরে ফেলতে হবে।”

    মানুষগুলো নিচু গলায় কিছু একটা বলল, রিটিন ঠিক বুঝতে পারল না। জিজ্ঞেস করল, “কী, বললে তোমরা?”

    “বলেছি যন্ত্রগুলো ধ্বংস করলে আমরা এমনিতেই মরে যাব।”

    “এমনিতেই মরে যাবে? কেন?”

    “আমরা হচ্ছি যন্ত্রগুলোর আত্মা। যন্ত্রগুলো আমাদের শরীর। শরীর ধ্বংস হলে আত্মা বেঁচে থাকে না।”

    রিটিন শব্দ করে হাসল। বলল, “যন্ত্র হচ্ছে যন্ত্র। যন্ত্রের আত্মা থাকে না। তোমরা নিশ্চিন্ত থাকো তোমরা মারা যাবে না। কিন্তু আমার কাজে বাধা দিলে তোমাদের অবশ্যই মেরে ফেলতে হবে।”

    মানুষগুলো কোনো কথা না বলে রিটিনের দিকে তাকিয়ে রইল। রিটিন বলল, “তোমরা পেছন দিকে সরে যাও আমি এখন যন্ত্রগুলোতে বিস্ফোরক লাগাব।”

    মানুষগুলো জিজ্ঞেস করল, “কেন তুমি যন্ত্রগুলো ধ্বংস করতে চাও?”

    “এই যন্ত্রগুলো দিয়ে পৃথিবীর মানুষের বিভাজন করা হয়। আমরা বিভাজন দূর করে দিতে চাই।”

    “পৃথিবীতে কি অনেক মানুষ?”

    রিটিন একটু অবাক হয়ে মানুষগুলোর দিকে তাকাল, জিজ্ঞেস করল, “তোমরা পৃথিবীর কিছু জানো না?”

    মানুষগুলো বলল, “এটা আমাদের পৃথিবী। এই যন্ত্রগুলো আমাদের শরীর, আমরা যন্ত্রগুলোর আত্মা। বাইরের পৃথিবীতে কী আছে আমরা জানি না। জানতেও চাই না।”

    এই নিয়ে দ্বিতীয়বার মানুষগুলো যন্ত্রের আত্মা কথাটি বলেছে। কেন বলেছে কে জানে। রিটিন তার কাঁধ থেকে ব্যাকপ্যাকটা খুলে ভেতর থেকে বিস্ফোরকগুলো বের করতে থাকে। ছোট ছোট চতুষ্কোণ ব্লক। উপরে একটি ডায়াল, ডায়ালটিতে সময় নির্ধারণ করে দিতে হয়। নির্ধারিত সময়ে বিস্ফোরকগুলো বিস্ফোরিত হয়।

    রিটিন একটা বিস্ফোরক হাতে নিয়ে মানুষগুলোকে লক্ষ করে বলল, “তোমরা পেছনে সরে যাও, এই বিস্ফোরকগুলো প্রচণ্ড শক্তিশালী। যখন যন্ত্রগুলো ধ্বংস হবে তখন দূরে থাকতে হবে।”

    মানুষগুলো বলল, “আমরা কি যন্ত্রগুলোর কাছে থাকতে পারি?”

    রিটিন মাথা নাড়ল, বলল, “না। পারো না।”

    “জন্ম থেকে আমরা এই যন্ত্রগুলোকে লালন করেছি। মৃত্যুর সময় আমরা তার পাশে থাকতে চাই।”

    রিটিন কঠিন মুখ করে বলল, “না, আমি যখন যন্ত্রগুলো ধ্বংস করব তখন তোমরা তার কাছে থাকতে পারবে না। আমি যন্ত্র ধ্বংস করতে এসেছি, মানুষ ধ্বংস করতে আসিনি। যাও, পিছিয়ে যাও।”

    মানুষগুলো পিছিয়ে গেল না। বলল, “তুমি কেন যন্ত্রগুলো ধ্বংস করতে চাও? যন্ত্রগুলো ধ্বংস করলে আমরাও ধ্বংস হয়ে যাব।”

    “না, তোমরা ধ্বংস হবে না।”

    “এই যন্ত্র ছাড়া আমাদের জীবনে আর কিছু নেই।”

    “এখন থাকবে। এখান থেকে বের হওয়ার পর তোমাদের নতুন একটা জীবন হবে।”

    “কিন্তু কেন যন্ত্রগুলো ধ্বংস করতে চাও?”

    রিটিন মাথা ঘুরিয়ে মানুষগুলোর দিকে তাকিয়ে বলল, “তোমরা কি জানো এই যন্ত্রগুলো কী করে?”

    “না। জানি না।”

    “তাহলে জেনে রাখো। এই যন্ত্রগুলো পৃথিবীর সব মানুষের সব তথ্য সংরক্ষণ করে। সেই তথ্য দিয়ে মানুষের সাথে মানুষের বিভাজন করা হয়। যদি এই যন্ত্রগুলো ধ্বংস করে দেয়া হয় তাহলে মানুষে মানুষে আর বিভাজন থাকবে না।”

    মানুষগুলো এক সাথে মাথা নাড়ল, তারপর বলল, “যন্ত্র দিয়ে কী হয় আমরা জানতে চাই না, আমরা শুধু যন্ত্রটা চাই।”

    রিটিন মানুষগুলোর দিকে তাকাল এবং হঠাৎ করে বুঝতে পারল এই মানুষগুলো কিছুতেই তাকে যন্ত্রগুলোর মাঝে বিস্ফোরক লাগাতে দেবে না। শুধু তাই নয়, এই মানুষগুলো একে অপরের ক্লোন, তারা এক সাথে একভাবে চিন্তা করে, তাই হঠাৎ করে সবাই যদি তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে সে তাদের থামাতে পারবে না। মানুষগুলোর মাথায় কী আছে সে জানে না। তারা কী ভাবছে সেটাও সে জানে না।

    রিটিন অস্ত্রটা হাতে ধরে চিৎকার করে বলল, “তোমরা সবাই পিছিয়ে যাও। নইলে আমি গুলি করব। পিছিয়ে যাও।”

    মানুষগুলো যন্ত্রের মতো এক পা পিছিয়ে গেল। শুধু পিছিয়ে গেল না, একজন থেকে আরেকজন সরে গেল। এরা নিজেদের ভেতর একটা দূরত্ব তৈরি করছে।

    রিটিন আবার চিৎকার করল, “পিছিয়ে যাও।”

    মানুষগুলো আবার এক পা পিছিয়ে গেল, রিটিন লক্ষ করল কেউ একটু বেশি পিছিয়েছে, কেউ কম। মানুষগুলো আসলে বৃত্তাকারে তাকে ঘিরে ফেলার চেষ্টা করছে। রিটিন প্রথমবার এক ধরনের বিপদ আঁচ করতে পারে, কিছু একটা ঘটছে যেটা সে বুঝতে পারছে না। হঠাৎ করে তার কী মনে হলো কে জানে, সে মাথা ঘুরিয়ে পেছন দিকে তাকাল, দেখল পেছন থেকে নিঃশব্দে অনেকগুলো ক্লোন তার দিকে এগিয়ে আসছে।

    কিছু বোঝার আগেই সবগুলো ক্লোন এক সাথে তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। রিটিন হাতের স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রটা দিয়ে গুলি করার চেষ্টা করল কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে, কেউ একজন পেছন থেকে তার মাথায় আঘাত করেছে। কী হচ্ছে বোঝার আগেই চারদিক অন্ধকার হয়ে যায়। রিটিন শক্ত গ্রানাইটের মেঝেতে লুটিয়ে পড়ার আগে আবছা আবছা দেখতে পেল অসংখ্য ক্লোন হিংস্র মুখে তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে, মনে হচ্ছে তার সমস্ত শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে।

    জ্ঞান হারানোর আগে রিটিন হঠাৎ করে নিজের ভেতর এক ধরনের প্রশান্তি অনুভব করে। ক্লোনগুলো তাকে এখানে মেরে ফেলবে। তাতে এখন আর কিছু আসে যায় না। বিস্ফোরকগুলো তার শরীরের সাথে ট্রিগার করে রাখা আছে। তার হৃৎস্পন্দন থেমে যাওয়া মাত্রই বিস্ফোরকগুলো বিস্ফোরিত হয়ে সবকিছু ধ্বংস করে ফেলবে।

    সে বেঁচে থাকবে না কিন্তু মৃত্যুর ভেতর দিয়ে তার দায়িত্ব সে পালন করে যাবে। ক্লোনগুলোর হিংস্র আঘাতে ক্ষত বিক্ষত হতে হতে রিটিন তার চোখ বন্ধ করল। ধীরে ধীরে সে অচেতন অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে, জীবনের শেষ মুহূর্তটি সে সুন্দর কিছু ভাবতে চায়।

    রিটিনের চোখের সামনে তানুস্কার চেহারাটি ভেসে ওঠে। রিটিন দেখল তানুস্কা গভীর মমতা নিয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে।

    রিটিন তখন জ্ঞান হারাল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্রডিজি – মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    Next Article ভূতের বাচ্চা সোলায়মান – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    Related Articles

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    ছোটগল্প – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সাদাসিধে কথা – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মেকু কাহিনী – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    আমার বন্ধু রাশেদ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সায়েন্স ফিকশান সমগ্র ১ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    টুনটুনি ও ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }