Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প412 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১৫. আকাশলাল হাসিমুখে মাথা নাড়ল

    পনেরো

    আকাশলাল হাসিমুখে মাথা নাড়ল।

    ‘আপনার নাক, চোখের ওপরের সামান্য পরিবর্তনেই সেটা সম্ভব। আর তার জন্যে মুখে কোনও দাগ হবে না। ব্যাপারটা কখন করতে হবে?’ —স্বজন জিজ্ঞাসা করল।

    ‘আরও দুটো দিন আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে ডাক্তার।’

    ‘তার মানে আরও দুটো দিন আমাদের ওই ভাবে বন্দি হয়ে থাকতে হবে?’ স্বজনের গলায় আগের অসন্তোষ ফিরে এল।

    হায়দার বলল, ‘আপনার ওপর কোনও রকম অত্যাচার করা হচ্ছে না। হ্যাঁ, আপনার চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। কিন্তু বুঝে দেখুন, এ ছাড়া আমাদের সামনে অন্য কোনও পথ খোলা নেই। এই মুহূর্তে ভার্গিস সাহেবের চোখে আপনি পলাতক। সমস্ত শহর চষে বেড়াচ্ছে পুলিশ আপনাকে খুঁজে বের করতে। আপনি ধরা পড়লে আমাদের পরিকল্পনা বাতিল হয়ে যেত। তা ছাড়া, আপনি এখন অনেক কিছু জেনে গিয়েছেন। আশা করি আমাদের সমস্যাটা আপনি বুঝতে পারছেন।’ হায়দার ধীরে ধীরে কথাগুলো বলল।

    ‘হ্যাঁ, বুঝতে পারছি। একটি মানুষকে তার বর্তমান পরিচয় পাল্টাতে সাহায্য করতে হবে। কিন্তু মনে রাখবেন, হাতের ছাপ এক থেকে যাবে। প্রতিপক্ষ বুদ্ধিমান হলে ধরা পড়তে বেশি দেরি হবে না। যাক্‌ গে! কিন্তু ব্যাপারটা কিরকম গোপন থাকছে?’

    আকাশলাল বলল, ‘এই ঘরের বাইরে আর একজন ঘটনাটা জানবে।’ সে হায়দারের দিকে তাকাল, ‘ডেভিডের ফিরে আসা উচিত ছিল।’

    হায়দার ঘড়ি দেখে মাথা নাড়ল।

    স্বজন উঠে দাঁড়াল, ‘আমি এবার যেতে পারি?’

    ‘অবশ্যই। ডাক্তার, আপনার মন পরিষ্কার হয়েছে তো?’

    ‘না। এখানে আসার পথে আমরা একটা নির্জন বাংলোয় আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিলাম। সেখানে মাটির নীচের ঘরে কফিনের মধ্যে একটি মৃতদেহ দেখতে পাই।’

    ‘বাবু বসন্তলালের মৃতদেহ।’ হায়দার বলল।

    ‘তাকে কি আপনারাই খুন করেছেন?’

    ‘এই প্রশ্নের উত্তর জেনে আপনার কি লাভ?’ আকাশলাল গম্ভীর হল।

    ‘কাউকে খুন করে ওই ভাবে রেখে দেওয়া আমাকে বিস্মিত করেছে।’

    ‘ও। না, আমরা খুন করিনি। বিপ্লব শুরু হলে হয়তো বাবু বসন্তলাল আক্রান্ত হতেন। এই লোকটা নিজের স্বার্থের জন্যে মন্ত্রী এবং বোর্ডের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এ দেশের অর্থনীতির বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে। আমরা ওর বিচার করতাম। আমরা ভেবে পাচ্ছি না কে ওকে খুন করল! জানি দায়টা আমাদের ওপর চাপিয়ে দিলে ভার্গিসদের সুবিধে হয়। আর কিছু?’

    স্বজন আর দাঁড়াল না।

    বৃদ্ধ ডাক্তার চলে গিয়েছিলেন। আকাশলালের সামনে হায়দার, ডেভিড এবং ত্রিভুবন বসে আছে। ত্রিভুবন জিজ্ঞাসা করল, ‘সোমকে নিয়ে কি করব?’

    হায়দার বলল, ‘লোকটাকে ভার্গিস খুঁজে পেলে শেষ করে দেবে।’

    ডেভিড বলল, ‘তা হলে ওকে ভার্গিসের হাতে তুলে দেওয়াই ভাল।’

    ‘কিন্তু এই মুহূর্তে সোম ভার্গিসের শত্রু।’ হায়দার বলল।

    আকাশলাল এবার কথা বলল, ‘না। ও ভার্গিসের শত্রু হতে পারে কিন্তু আমাদের মিত্র ভাবার কোনও কারণ নেই। একটা লোক এত বছর ধরে যে অত্যাচার করে গেছে তা আমরা রাতারাতি ভুলে যেতে পারি না। ও চাইবে ভার্গিসের ওপর প্রতিশোধ নিয়ে বোর্ডের আস্থা অর্জন করতে। ত্রিভুবন, এই মুহূর্তে ভার্গিসের চেয়ে সোম আমাদের কাছে কম বিপজ্জনক নয়। আর যাকেই হোক, মেরুদণ্ডহীন প্রাণীকে প্রশ্রয় দিলে নিজেদের সর্বনাশই ডেকে আনা হবে।’

    এখন নিশুতি রাত। তবে আজকের রাতটার সঙ্গে বছরের অন্যান্য রাতের কোনও মিল নেই। আজ এই নগরের পথে পথে মাঠেঘাটে অজস্র মানুষ জেগে আছে সকাল হওয়ার জন্য।

    যাদের পকেটে পয়সা নেই, হোটেল বা ধর্মশালার চার দেওয়ালের মধ্যে যারা আশ্রয় নিতে পারেনি তারা আগুন জ্বেলে গল্পগুজব করে যাচ্ছে খোলা আকাশের নীচে বসে। একটাই তো রাত আর রাত ফুরোলেই উৎসব।

    পুলিশ প্রাণপণে শৃঙ্খলা বজায় রাখছে এখনও। কিছু রাস্তায় নো এন্ট্রি করে দেওয়া হয়েছে, ফুটপাত থেকে নীচে নামতে দেওয়া হচ্ছে না সর্বত্র। তবে এই জনতরঙ্গকে নিয়ন্ত্রণ করা সহজ কাজ নয়। ভালয় ভালয় উৎসবপর্ব চুকে গেলে এরা শহর ছেড়ে গেলে হাঁফ ছেড়ে বাঁচবে পুলিশ। ভার্গিসের নির্দেশ ছিল এই মানুষের দঙ্গলে আকাশলালদের খুঁজতে হবে। লুকিয়ে পথে নেমে পড়ার এমন সুবর্ণসুযোগ আকাশলাল হারাবে না, ভার্গিস এ ব্যাপারে সুনিশ্চিত। কিন্তু এই হাজার হাজার মানুষের ভেতর সন্ধান-কাজ চালানো যে অসম্ভব ব্যাপার তা কাজে নেমে বোঝা যাচ্ছে। বরং আইন ভাঙার ভয় দেখিয়ে গরিব মানুষগুলোর কাছে যা পাওয়া যায় তাই হাতিয়ে নেওয়াই অনেক সহজ ব্যাপার বলে মনে করছে পুলিশরা।

    ত্রিভুবন চুপচাপ এই ভিড়ে মিশে গিয়েছিল। রাতটা যদি আজকের রাত না হত তাহলে তার পক্ষে এমন নিশ্চিন্তে হাঁটা সম্ভব ছিল না। আকাশলালের খুব কাছের লোকদের মধ্যে যে সে অন্যতম তা পুলিশ যেমন জানে নগরের সাধারণ মানুষেরও অজানা নেই। ত্রিভুবনের বয়স অল্প এবং সে সুদর্শন। সুবেশে থাকলে ফিল্মস্টার বলে ভুল হয়। সাধারণ মানুষ তাই তাকে সহজেই মনে রাখে। আকাশলালকে ধরে দিলে পুরস্কার দেওয়া হবে, সরকারি এই ঘোষণার পর সে দিনের বেলায় রাস্তায় বেরুনো বন্ধ করেছে, কিন্তু সংগঠনও অন্যান্য কাজ চালাতে তাকে রাতের পর রাত জেগে থাকতে হয়। আগামী কাল একটা চূড়ান্ত ব্যাপার হয়ে যাচ্ছে। হায়দার কিংবা ডেভিডের যতই আপত্তি থাকুক, ত্রিভুবনের মনে হয় চুপচাপ ইঁদুরের মত লুকিয়ে থাকার চেয়ে এখন মরিয়া হওয়া ঢের ভাল।

    চারচকের কাছে এসে দেখল ফুটপাতের মানুষজন চুপচাপ আর রাস্তা দিয়ে একটার পর একটা পুলিশের লরি যাচ্ছে। লরিভর্তি পুলিশের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে ধরা। ওরা যতক্ষণ যাচ্ছিল ততক্ষণ আগন্তুক মানুষেরা কথা বলেনি, চলে যাওয়া মাত্র যে গুঞ্জন শুরু হল তাতে স্পষ্ট বোঝা গেল পুলিশদের এমন টহল দেওয়া কেউ পছন্দ করছে না।

    দূরে পাহাড়ে পাহাড়ে ঢাক বাজছে। মিছিল আসছে এক একটা গ্রাম থেকে। ত্রিভুবন নিশ্চিত আজ চেকপোস্টের পাহারাদাররা হাল ছেড়ে দেবে। শহরে ঢোকার সময় এতক্ষণ পর্যন্ত যে কড়াকড়ি ওরা করে যাচ্ছিল তা শিথিল হবেই। ছোট-ছোট মিছিলগুলোয় ভক্ত মানুষদের আটকাতে ওরা সাহস পাবে না। তাই সে নির্দেশ পাঠিয়েছিল সোমকে নিয়ে ওইরকম একটা মিছিলে মিশে শহরে ঢুকে পড়তে। চারচকের পাশে ফোয়ারার কাছে সে অপেক্ষা করবে, তা হেনার জানা আছে। ওদের দেরি হচ্ছে কেন তা সে বুঝতে পারছিল না। ত্রিভুবন ঘড়ি দেখল। রাত একটা। ফোয়ারাটা আজ আরও ফুর্তি নিয়ে আকাশে জল ছুঁড়ছে। ওর গায়ে আলো পড়ায় দৃশ্যটা চমৎকার। নিজের গায়ে হাত বোলাল সে। দাড়ি গোঁফের জঙ্গলে সুন্দর মুখটাকে আড়াল করে রেখেছে অনেকদিন হল। কিন্তু গায়ের রং আর চোখ মাঝে মাঝেই বিশ্বাসঘাতকতা করে ফেলে। আগামী কাল ঘটনাটা ঘটে গেলে ভার্গিস সাহেব থিতিয়ে যাবেন চূড়ান্ত জয় হয়ে গেল ভেবে। তার কিছুদিন পরে শুরু হবে আসল খেলা। শরীরের শেষবিন্দু রক্ত সক্রিয় থাকতে সেই খেলায় সে হার মেনে নেবে না। বারো বছর বয়সে নেওয়া প্রতিজ্ঞাটা আজও তাকে মাঝে মাঝে উন্মাদ করে তোলে। পাঁচ কিলোমিটার রাস্তা হেঁটে শহরে পড়তে আসত ওরা। গ্রাম থেকে বেরিয়ে পাকদণ্ডি দিয়ে ওঠানামা করতে করতে শহরের স্কুলে ঠিক সময়েই পৌঁছে যেত। স্কুলটা ছিল গরিব ছেলেমেয়েদের জন্যে। কথাটা সেই সময়েই ওরা শুনেছিল। ত্রিভুবন ভাবত বাবা মা গরিব হলে তাদের ছেলেমেয়েকে গরিব বলা হয় কেন? গরিব হওয়া যদি দোষের হয় তাহলে ছেলেমেয়েরা কেন দোষী হবে? পড়াশুনায় ভাল ছিল সে, কিন্তু দেখতে ভাল ছিল অনেক বেশি। সবাই তার দিকে প্রশংসার চোখে তাকাত আর সেটা উপভোগ করতে তার মন্দ লাগত না।

    ত্রিভুবনের বাবা ছিলেন সাধারণ একজন চাষি। ভুট্টা এবং কফি চাষ করে কোনও মতেই সংসার চলত না বলে একটা দোকান খুলেছিলেন গ্রামে। মা বসতেন সেই দোকানে। ধার দিয়ে দিয়ে দোকানটাকে ফাঁকা করে ফেলেছিলেন বাবা। আর যাই হোক ব্যবসা করার বুদ্ধি তাঁর ছিল না। বরং ও ব্যাপারে মা ছিলেন অনেক আঁটোসাঁটো। দোকান খোলার পরই মা বাবার মধ্যে ঝগড়া হতে দেখেছে সে। একবার শহরে মাল কিনতে গিয়ে বাবা আর ফিরে এলেন না। অনেক চেষ্টা করেও তাঁর খোঁজ পাওয়া গেল না। হাল ছেড়ে দেননি মা। নিজেই দোকান চালাতেন, লোক দিয়ে চাষ করতেন। তার মা সুন্দরী ছিলেন কিন্তু একা হয়ে যাওয়ার পরেও কোনও পুরুষকে কাছে ঘেঁসতে দিতেন না। একবার পুলিশ বাহিনী গ্রামে এল। ওরা গ্রামে এলেই যে যার ঘরের দরজা বন্ধ করে দিত। শুধু গ্রামপ্রধানকে হাতজোড় করে ওদের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যেত। বাহিনীর ক্যাপ্টেন গ্রামপ্রধানের কাছে খাবার দাবার চাইল। তার ব্যবস্থা হল। তখন তার নজর পড়ল মায়ের মুদির দোকানের ওপর। সরাসরি এসে লোকটা মায়ের কাছে মদ কিনতে চাইল।

    মা খুবই বিনীত ভঙ্গিতে জানিয়ে দিল যে তিনি মদ বিক্রি করেন না।

    লোকটা হা হা করে হাসল, পাহাড়ে মুদির দোকান অথচ লুকিয়ে লুকিয়ে মদ বিক্রি করে না বন্দুক দিয়ে ছবি আঁকার মতো ব্যাপার। ওসব গপ্পো ছেড়ে বোতল বের করো।

    গ্রামপ্রধান মায়ের হয়ে বলতে এসে প্রচন্ড ধমক খেল। শেষ পর্যন্ত অসহায় হয়ে মা প্রাণের দায়ে গ্রামে যেসব ঘরে চোলাই হয় তাদের দ্বারস্থ হলেন। কিছুটা মদ জোগাড় করে ক্যাপ্টেনকে দিয়ে বললেন, ‘এর বেশি কিছু করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।’

    ক্যাপ্টেন লোকটা আর বেশি এগোয়নি। কিন্তু দলটা চলে যাওয়ামাত্র গ্রামের লোকজন গোলমাল পাকানো শুরু করল। মা একজন মেয়ে হয়ে পুলিশকে মদ খাইয়েছে, এটা যে কত বড় সামাজিক অপরাধ তা সবাই মাথা নেড়ে নেড়ে বলতে লাগল। বাধ্য হয়ে গ্রামপ্রধান বিচারের আসর বসাল। তাতে রায় দেওয়া হল গ্রামের সবাইকে এক বেলা ভরপেট খাইয়ে দিতে হবে। ব্যাপারটা মায়ের পক্ষে অসম্ভব ব্যাপার ছিল। ওটা করতে গেলে দোকানে আর একটা কণাও থাকবে না। ত্রিভুবন তখন ছোট। তার প্রতিবাদ করার শক্তিও হয়নি। ব্যাপারটা নিয়ে যখন কদিন ধরে গ্রামে বেশ হইচই হচ্ছে তখন দ্বিতীয় পুলিশবাহিনী এল। মানুষজন যে যার ঘরের দরজা বন্ধ করলেও মা তাঁর দোকানে চুপচাপ বসে ছিলেন। এই দলের ক্যাপ্টেন লোকটা নিষ্ঠুর চেহারার। গ্রামপ্রধানকে ডেকে বলল, ‘এই সুন্দরী মেয়েটা একা দোকান চালায় নাকি?’

    গ্রামপ্রধান মাথা নেড়ে বলল, ‘হ্যাঁ। ওর স্বামী হারিয়ে গেছে।’

    ‘বাঃ। এখন কার সঙ্গে আছে?’

    ‘ওর ছেলে সঙ্গে থাকে।’

    ‘খুব ভাল কথা। ওকে বলো আজ রাত্রে আমরা এই গ্রামে থাকছি আর আমি ওর অতিথি হব। যেন ভাল করে যত্ন করে। নইলে তোমাদের গ্রাম থেকে জনা-দশেক ধরে নিয়ে যেতে হবে।’

    তখন জোর করে জোয়ান ছেলেদের ধরে নিয়ে গিয়ে বিনিপয়সায় সরকারি কাজ করানো হত। কাজ শেষ করে যারা ফিরে আসত তারা বাকি জীবনটা সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারত না। দরজা বন্ধ থাকা সত্ত্বেও ঘরে ঘরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল। গ্রামপ্রধান বিরস মুখে মায়ের কাছে এলে মা চিৎকার করে বললেন ‘আমি কি রাস্তার মেয়ে যে যাকে তাকে ঘরে তুলব।’

    গ্রামপ্রধান মিনমিন করে বলল, ‘তুমি শুধু একটু যত্ন করো, তোমাকে যে শাস্তি দেওয়া হয়েছে তা মাপ করে দেওয়া হবে। কাউকে খাওয়াতে হবে না।’

    ক্যাপ্টেন কথাটা শুনতে পেয়েছিল, ‘বাঃ, এর ওপর শাস্তিটাস্তিও চাপানো হয়েছে দেখছি। এত সুন্দর মেয়েকে কোন শালা শাস্তি দেয়, অ্যাঁ? কাউকে খাওয়াতে হবে না, শুধু আমাকে খাওয়ালেই চলবে।’ লোকটা কথা বলতে বলতে দোকানে উঠে মায়ের কাঁধে হাত রাখতে যেতেই মা ওকে প্রচন্ড জোরে ধাক্কা মারলেন। লোকটা টাল সামলাতে না পেরে চিত হয়ে পড়ে গিয়ে আচমকা স্থির হয়ে গেল।

    সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য পুলিশরা ছুটে গেল দোকানে। ক্যাপ্টেনকে ধরাধরি করে তুলতেই দেখা গেল তার পিঠ থেকে গলগল করে রক্ত পড়ছে আর সেখানে একটা বঁটির ফলা অনেকটা বিঁধে রয়েছে। ক্যাপ্টেনের সহকারী ঝটপট মাকে চুল ধরে টেনে নীচে নামাতেই ত্রিভুবন আড়াল থেকে বেরিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল, ‘মারছ কেন? আমার মাকে মারছ কেন তোমরা? মা তো কিছু করেনি। ওই লোকটাই মাকে মারতে গিয়েছিল। ছেড়ে দাও-।’

    ওরা ত্রিভুবনকে তুলে একপাশে ছুঁড়ে ফেলে দিল। আছাড় খাওয়ামাত্র ত্রিভুবনের মনে হল পৃথিবীটা অন্ধকার হয়ে গেছে। যখন জ্ঞান ফিরল তখন পুলিশরা গ্রামে নেই। উঠে বসে সে শুনতে পেল ক্যাপ্টেনের মৃতদেহের সঙ্গে ওরা তার মাকেও ধরে নিয়ে গেছে। সে শূন্য দোকানটার দিকে অবশ চোখে তাকাল। আর তখনই কানে এল গ্রামের মানুষ বলাবলি করছে যে ওরা আজই মাকে মেরে ফেলবে। সঙ্গে সঙ্গে তার শরীরে সাড় ফিরে এল। টলতে টলতে সে দৌড়াতে লাগল পাকদণ্ডির পথ ধরে। পুলিশগুলো যদি শহরে ফিরে যায় তাহলে এপথেই তাদের পাওয়া যাবে। কিন্তু শহরের মুখটায় পৌঁছেও সে পুলিশ বাহিনীর দেখা পেল না। তখন খেয়াল হল ওদের সঙ্গে যদি গাড়ি থাকে তাহলে ওরা ঘুরপথে এতক্ষণ নিশ্চয়ই শহরে ঢুকে গিয়েছে।

    আগুপিছু চিন্তা না করে সে হাঁটতে হাঁটতে যখন দুর্গের মতো হেডকোয়ার্টার্সের সামনে পৌঁছাল, তখন দিন মরে এসেছে। হেডকোয়ার্টার্সের মূল গেটেই সেপাইরা তাকে বাধা দিল। অনেক আকুতি মিনতি করা সত্ত্বেও ওরা তাকে ভেতরে ঢুকতে দিতে নারাজ। ঠিক সেই সময় একটা জিপ ভেতর থেকে বেরোতে গিয়েও দাঁড়িয়ে গেল। জিপের সামনে বসা অফিসার সেপাইদের জিজ্ঞাসা করল গোলমাল কিসের?

    সেপাইরা ত্রিভুবনকে ধরে নিয়ে গেল অফিসারের সামনে, ত্রিভুবন উত্তেজিত হয়ে কথাগুলো বলতে বলতে কেঁদে ফেলল।

    অফিসার চুপচাপ শুনল। ‘যে ক্যাপ্টেন গ্রামে গিয়েছিল তার নাম জানো?’

    ‘না। আমার মায়ের কোনও দোষ নেই। ওরা অন্যায় করে ধরে নিয়ে গেছে মেরে ফেলবে বলে।’

    ‘তোমার মা কেমন দেখতে?’

    ত্রিভুবন ঢোক গিলল। মা কেমন দেখতে? মায়ের চেয়ে দেখতে ভাল এমন কাউকে সে এখনও দ্যাখেনি। কিন্তু বারো বছর বয়সেই সে বুঝে গিয়েছিল ওই প্রশ্নটার মানে কি। সে দাঁতে দাঁত চেপে জবাব দিয়েছিল, ‘ভাল।’

    ‘তুমি জিপে উঠে বোসো। দেখি ওরা কোথায়?’

    হঠাৎই আশার আলো দেখতে পেল যেন। জিপে যেতে যেতে অফিসার জিজ্ঞাসা করল, ‘তোমাদের গ্রাম কোনদিকে?’

    দিকটা জানিয়ে দিল ত্রিভুবন। অফিসার বাঁ হাতে তার গাল টিপে ধরল। ‘তুমি খুব মিষ্টি দেখতে। অত ভয় পাচ্ছ কেন? আমার সঙ্গে থাকলে তোমার কোনও ভয় নেই।’

    কোনও মতে নিজেকে ছাড়িয়ে নিল ত্রিভুবন। ওই বয়সেই সে গ্রামের কিছু লোকের আদর কবার ভঙ্গি থেকে বুঝে গিয়েছিল কোনও কোনও পুরুষ কেন এমন আদর করে। তার মন বলল এই অফিসার লোকটা খারাপ, খুব খারাপ। কিন্তু দ্রুত ছুটে যাওয়া জিপ থেকে নেমে যাওয়ার কোনও উপায় নেই। আর নেমে গেলে মায়ের সন্ধান পাওয়া মুশকিল হয়ে যাবে।

    সন্ধে নেমে আসছে দ্রুত। নির্জন পাহাড়ি রাস্তায় হঠাৎ পুলিশের বড় ভ্যানটাকে আসতে দেখা গেল। মুখোমুখি দাঁড়িয়ে জিপ থামতেই ভ্যানটাও থামল। ত্রিভুবন দেখল ক্যাপ্টেনের সেই সহকারীটা এগিয়ে এসে অফিসারকে স্যালুট করল। ‘স্যার। একটা খারাপ খবর আছে।’

    অফিসার জিজ্ঞাসা করল, ‘মেয়েটা কোথায়?’

    ক্যাপ্টেনের সহকারী হকচকিয়ে গেল। খবরটা এত তাড়াতাড়ি কি করে ওপরতলায় পৌঁছে গেল তাই বোধহয় বুঝতে চেষ্টা করছিল। সে কিন্তু কিন্তু করে জবাব দিয়েছিল, আমরা ধরে নিয়ে এসেছিলাম। মার্ডার চার্জ স্যার। গাড়ি অনেক নীচে ছিল। হেঁটে আসার পথে বাথরুম পেয়েছে বলায় ওকে একলা ছেড়ে একটু সরে এসেছিলাম ভদ্রতা করে। সেই সুযোগে নীচে ঝাঁপ দিয়ে পড়ে।’

    ‘মরে গেছে?’

    ‘এখনও মরেনি।’

    ‘কোথায়?’

    ‘ভ্যানেই আছে।’

    অফিসার গাড়ি থেকে নেমে ভ্যানের পেছনের দিকে যেতেই ত্রিভুবন ছুটল সঙ্গে। মা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল কেন? প্রশ্নটা তার ছোট্ট বুকটায় উত্তাল হয়ে উঠেছিল। ভ্যানের দরজা সেপাইরা খুলে দিতেই অফিসারের মৃতদেহটা দেখা গেল। স্থির হয়ে আছে। তার পাশে রক্তাক্ত মহিলাটি তার মা? অফিসারের নির্দেশে শরীরটা নামানো হল। মায়ের গালের মাংস খুবলে খুবলে তুলে নেওয়া হয়েছে যেন। কোমরের খোলা চামড়ায় দাঁতের চিহ্ন স্পষ্ট। দুটো পা রক্তাক্ত। অফিসার বলল, ‘হুঁ । চমৎকার আছড়ে ছিলে তোমরা। ওকে আমার জিপে তোল।’

    মায়ের চেহারা এমন ভীতিকর হয়ে গেছে যে গলা দিয়ে স্বর বেরুচ্ছিল না ত্রিভুবনের। অফিসারের জিপ সোজা চলে এল শহরের হাসপাতালে। মাকে ভর্তি করে দেওয়া হল সেখানে। ডাক্তাররা বলল বাঁচানোর চেষ্টা করবে। অফিসার বলল, ‘যাক, কাজ শেষ। আজ রাত্রে চলো, আমার কাছে থাকবে।’ বলে একটা চোখ কোঁচকাল।

    সঙ্গে সঙ্গে পালিয়ে ছিল ত্রিভুবন। অফিসার কিছু বোঝার আগেই একটা গলির মধ্যে ঢুকে পড়েছিল। তারপর শহরের এ গলি ও গলিতে সময় কাটিয়ে আবার ফিরে গিয়েছিল হাসপাতালে মধ্যরাতে। ঠিক তখনই ক্যাপ্টেনের সহকারীকে সে দেখতে পেল হাসপাতালে ঢুকতে। সন্তর্পণে একজন অ্যাটেনডেন্টকে ডেকে কিছু বলে টাকা দিল লোকটা। অ্যাটেনডেন্ট মাথা নেড়ে ভেতরে চলে গেল। মিনিট পনের বাদে ফিরে এসে সে সহকারীকে জানাল, ‘কাজ হয়ে গেছে।’

    লোকটা খুশি মুখে বেরিয়ে গেল। ভোর হবার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করল গতরাত্রে মা হার্টফেল করে মারা গেছেন।

    যোল বছর আগের এই ঘটনার কথা মনে এলেই এখনও শরীর শক্ত হয়ে যায়। মনে হয় যেন আজই ঘটে গেছে এগুলো। সেই সহকারী ক্যাপ্টেনকে সে নিজের হাতে খুন করেছে বছর তিনেক হল, তবু জ্বালা মেটেনি। সেই অফিসারটি এখন তাদের লক্ষ্য। অনেক নীচে থেকে ভালমানুষের মুখোশ পরে পরে আজ পুলিশ কমিশনার হয়ে গেছে লোকটা। নিশ্চয়ই ওর মনে নেই যোল বছর আগে জিপে বসে যার গাল টিপেছিল সে আজ শত্রুদের অন্যতম।

    ‘ওকে নিয়ে এসেছি।’

    গলাটা কানে যাওয়ামাত্র চমকে ফিরে তাকাল ত্রিভুবন। তার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে হেনা। দূরে গাছের তলায় আরও দুজন মানুষ দাঁড়িয়ে। ত্রিভুবন জিজ্ঞাসা করল, ‘কোনও ঝামেলা হয়নি তো?’ হেমা কাছে এগিয়ে আসতে মাথা নেড়ে না বলল।

    ‘ও কি তোমার পরিচয় জেনেছে?’

    ‘না। তবে শহরে ঢোকার পর আর আমাদের সঙ্গে থাকতে চাইছে না। চেকপোস্টে ওকে আড়াল করে আমরা নিয়ে এসেছি। তুমি কথা বলবে?’

    ‘না। আমরা চাই না ও কালকের সকালটা দেখুক।’

    ‘ও। এটা আগে জানালে সুবিধে হত।’

    ‘সিদ্ধান্ত একটু আগে নেওয়া হয়েছে।’ কথাটা বলে ত্রিভুবন হাঁটতে লাগল। রাত আর বেশি নেই। এখন যেটুকু সময় পাওয়া যাবে একটু শুয়ে নেওয়া দরকার।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleউত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার
    Next Article ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    সাতকাহন ১ – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }