Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প412 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২৭. মুখের চেহারা এখন স্বাভাবিক

    সাতাশ

    মানুষটির মুখের চেহারা এখন স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। চেতনা ফিরে এসেছে। মাঝে মাঝেই সে সেটা জানান দিচ্ছে। বৃদ্ধ ডাক্তার এরকম সময়ে সমানে কথা বলে যান। যন্ত্রণা এড়াতে ঘুমের ওষুধ যতটা সম্ভব কম ব্যবহার করার পক্ষপাতী তিনি, অন্তত এই পর্যায়ে। পেশেন্ট নিজে শক্তি অর্জন করুক। মানসিক জোর অসুস্থতাকে দ্রুত সারিয়ে ফেলে। আজ বৃদ্ধ ডাক্তারের পাশে স্বজন দাঁড়িয়ে আছে। তাকে দিয়ে এরা যেটা করাতে চাইছে সেটা করতে গেলে পেশেন্টকে সম্পূর্ণ সুস্থ হতে হবে। আকাশলালকে সেই অবস্থায় পেতে গেলে এখনও দিন দশেক অপেক্ষা করতে হবে তাকে এবং সেটা আর সম্ভব নয়।

    পৃথার পক্ষে আর এই বন্দি জীবনে থাকা সম্ভব নয়। বেচারার সহ্যশক্তি এখন শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। বই পড়ে এবং টেলিভিশন দেখে কোনও মানুষ দিনের পর দিন একটি ঘরে কাটিয়ে দিতে পারে না। এখন নিজেদের সম্পর্কটাও আগের মতো স্বাভাবিক নয়। একই ঘরে পাশাপাশি থেকেও পৃথা তাকে আদর করার কথা খেয়ালই করতে পারছে না। যে পৃথার শরীরের প্রতি স্বজনের যে টান এতদিন টানটান ছিল তাও যেন কোথায় হারিয়ে গেল। দুটো মানুষ একটা ঘরে প্রায় পুতুলের মতো বেঁচে থাকার জন্যে বেঁচে আছে।

    পৃথা পালাতে চেয়েছিল। স্বজন উদ্যোগ নেয়নি। এই বাড়ি থেকে যদি বা কোনও মতে পালানো যায়, এই শহর থেকে বাইরে যাওয়া সম্ভব নয়। টিভিতে বলছে শহরে কারফিউ চলছে। রাস্তাঘাটে একটাও মানুষ নেই, যানবাহন নেই। মাত্র দু’ঘণ্টার জন্যে যখন কারফিউ তুলে নেওয়া হচ্ছে আজ থেকে কিন্তু সেই সময়টায় কতদূরে যাওয়া সম্ভব? পুলিশ তো তাদের ইতিমধ্যেই এদের লোক বলে ধরে নিয়েছে। অতএব এদের সাহায্য ছাড়া শহর ছেড়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

    বৃদ্ধ ডাক্তার বললেন, ‘আর কোনও বিপদ নেই। ব্লাড প্রেশার প্রায় নর্মাল, পাল্‌সও ঠিক আছে। কয়েকদিনের বিশ্রামে উন্ড ঠিক হয়ে যাবে। আমার আর থাকার কোনও প্রয়োজন নেই।

    ‘আপনারা একসঙ্গে যাবেন।’ নিচু স্বরে পাশে দাঁড়ানো ত্রিভুবন কথা বলল।

    ‘একসঙ্গে মানে?’

    ‘পুলিশের চোখ এড়িয়ে ওঁকেও বাইরে যেতে হবে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে। আমাদের পক্ষে বার বার ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়। একটু বোঝার চেষ্টা করুন।’

    ‘কি বুঝব? আমি সব কিছু বোঝাবুঝির বাইরে।’ বৃদ্ধ মাথা নাড়লেন, ‘দেশের বাইরে গিয়ে আমি কি করব? কোথায় যাব? না, না, পুলিশ আমাকে কিছু করবে না। কেউ জিজ্ঞাসা করলে বলব কিছুদিন বাইরে বেড়াতে গিয়েছিলাম। ইন্ডিয়ায় যেতে গেলে তো ভিসা লাগে না।’

    ত্রিভুবন বলল, ‘এসব আলোচনা আমরা এ ঘরের বাইরে গিয়ে করতে পারি।’

    এই সময় আকাশলাল চোখ খুলল। ওর মুখে যন্ত্রণার ছাপ স্পষ্ট। বৃদ্ধ ডাক্তার ঝুঁকে পড়লেন, ‘ইয়েস মাই বয়, ইউ আর অলরাইট। এনি প্রবলেম?’

    আকাশলালের ঠোঁট ঈষৎ ফাঁক হল, ‘মাথা-মাথার-উঃ।’

    ‘মাথার ভেতরে যন্ত্রণা হচ্ছে? হুম্‌। আমি ওষুধ দিচ্ছি। ইট উইল বি অল রাইট!’

    স্বজন জিজ্ঞাসা করল, ‘মাথায় যন্ত্রণা কেন?’

    বৃদ্ধ ডাক্তার ঘুরে দাঁড়ালেন, ‘এটা হওয়াই স্বাভাবিক।’

    ত্রিভুবন সন্ত্রস্ত হল। স্বজন কোনও কিছুই জানে না। আকাশলালের শরীরে কেন দু-দুবার অপারেশন করা হয়েছে সে কথা ওকে বলার দরকার নেই। সে বৃদ্ধ ডাক্তারকে বলল, ‘ওঁকে ওষুধ দিন, কথা বলবেন না।’

    ‘কেউ কিছু জিজ্ঞাসা করলে উত্তর দেব না এমন শিক্ষা আমার নেই।’ বৃদ্ধ ডাক্তার জবাব দিলেন।

    ‘আপনি মিছিমিছি সময় নষ্ট করছেন।’ ত্রিভুবন গম্ভীর গলায় বলল।

    বৃদ্ধ ডাক্তার এবার আকাশলালের দিকে মন দিলেন। আর একটা ইনজেকশন যেন বাধ্য হয়েই দিতে হল তাঁকে। ত্রিভুবন ওদের নিয়ে পাশের ঘরে ফিরে এসে দেখল হায়দার সেখানে অপেক্ষা করছে। হায়দার জিজ্ঞাসা করল, ‘ইমপ্রুভমেন্ট কতখানি?’

    বৃদ্ধ ডাক্তার বললেন, ‘অনেকটা। যা আশা করেছিলাম তার থেকে অনেক ভাল।’

    ত্রিভুবন বলল, ‘কিন্তু এখনও সেন্স পুরো আসেনি।’

    বৃদ্ধ ডাক্তার ঘুরে দাঁড়ালেন, ‘কি রকম? একটা মানুষ তার শরীরের যন্ত্রণার কথা জানিয়ে দিচ্ছে এটা আপনার কাছে কিছুই মনে হচ্ছে না?’

    ‘আমি কয়েকবার কথা বলার চেষ্টা করেছিলাম, চিনতেই পারল না।’

    ‘আপনি কি মনে করেন অপারেশনের দুদিন পরে পেশেন্ট ফুটবল খেলবে?’

    হায়দার জিজ্ঞাসা করল, ‘ঠিক আছে। উনি হেঁটে চলে বেড়াবার মতো সুস্থ কতদিনে হবেন?’

    ‘ওর শরীরের কন্ডিশনের ওপর সেটা নির্ভর করছে। এখন যেরকম অবস্থা তাতে দিন চারেক যথেষ্ট। এই সময় মাথার যন্ত্রণা হতে পারে, একটু জ্বর আসতে পারে। আমার ভয় ছিল ওর লাংসে জল জমে যেতে পারত। জমেনি। ওটা ঠিক আছে। ইনফ্যাক্ট এখন রুটিন চেক-আপ, নির্দিষ্ট ওষুধ আর পথ্য হলেই চলবে। আমার থাকার দরকার নেই।’ বৃদ্ধ ডাক্তার বললেন।

    ত্রিভুবন বলল, ‘উনি হেঁটে চলে বেড়ানো পর্যন্ত আপনি থাকবেন। আসুন আমার সঙ্গে।’

    বৃদ্ধ ডাক্তার কাঁধ ঝাঁকালেন। বিড়বিড় করতে করতে তিনি ত্রিভুবনকে অনুসরণ করলেন।

    ‘অপারেশন করতে হয়েছিল কেন?’ স্বজন জিজ্ঞাসা করল।

    ওঁর হার্টের প্রবলেম ছিল।’ হায়দার তাকাল স্বজনের দিকে, ‘আমি খুবই দুঃখিত আপনাদের এভাবে থাকতে হচ্ছে বলে। কিন্তু আরও চার-পাঁচদিন অপেক্ষা করা ছাড়া কোনও উপায় নেই।’

    ‘আছে। আমি আগামী কাল অপারেশন করতে চাই।’

    ‘সে কী! এই অবস্থায়?’

    ‘দেখুন দুটো কারণের কথা আমি বলব। প্রথমটা হল, পেশেন্ট এখন একটা ঘোরের মধ্যে রয়েছে। তার শরীর যন্ত্রণা পাচ্ছে। এই অবস্থায় আমার কাজ বোঝার ওপর শাকের আঁটির মতো ব্যাপার হবে। বাড়তি কষ্টটুকু পেশেন্ট টের পাবে না। সুস্থ স্টেজে ফিরে যাওয়ার পরেই আবার ওঁকে অসুস্থ করে তোলা অর্থহীন। আর দ্বিতীয়ত, আমার স্ত্রী এখানে আর দুটো দিন থাকলে পাগল হয়ে যাবেন। বুঝতেই পারছেন আমি সেটা চাই না।’

    ‘দেখুন ডাক্তার, আপনার সিনিয়ার আপনাকে এখানে পাঠিয়েছেন। আপনার ওপর আমরা ভরসা করছি। কিসে পেশেন্টের ক্ষতি হবে না তা আপনিই ভাল জানেন।’

    ‘নিশ্চয়ই। কিন্তু একটা কথা— !’

    ‘বলুন।’

    ‘আমি যখন এসেছিলাম তখন উনি অসুস্থ ছিলেন। দেখে মনে হয়েছিল একটা বড় ধকল সামলে উনি তখন আরোগ্যের পথে। এরই মধ্যে আবার অপারেশন করতে হল কেন?’

    ‘প্রথম অপারেশন সম্পূর্ণ সফল হয়নি বলে দ্বিতীয়বার করা প্রয়োজন হয়েছিল।’

    স্বজন কাঁধ নাচাল, ‘ঠিক আছে। আমি আগামী কাল সকালে কাজ শুরু করব। আমার যা যা প্রয়োজন আমি ওই ভদ্রলোককে তার একটা লিস্ট দিয়েছি বাকিটা আমার সঙ্গেই আছে। কালকের দিনটা আমি দেখতে চাই। কিন্তু পরশু আমি ফিরে যাবই।’

    হায়দার বলল, ‘আপনি যদি বলেন অপারেশন সাকসেকফুল তা হলে আপনার যাওয়ার ব্যবস্থা হবে।’

    ‘আমি তো মিথ্যেও বলতে পারি।’ স্বজন হাসল।

    ‘তাহলে আপনি নির্বাচিত হতেন না।’

    ঘরে ফিরে এসে স্বজন দেখল পৃথা বিছানায় কুঁকড়ে পড়ে আছে। ওর মুখ বালিশে ডোবানো। পৃথা যে ঘুমোচ্ছে না তা স্বজন জানে। ওর নার্ভের যা অবস্থা তাতে ঘুম আসা সম্ভব নয়। সে বলল, ‘পৃথা, আমরা পরশু কলকাতায় ফিরছি।’

    কথাটা শেষ হতেই পৃথা চমকে মুখ তুলল। তারপর লাফিয়ে বিছানা থেকে নেমে ছুটে এসে স্বজনকে জড়িয়ে ধরল। এবং তারপরেই ফোঁপানি শুনতে পেল স্বজন, ‘সত্যি বলছ, বলো, সত্যি তো?’

    স্বজন ওকে জড়িয়ে ধরল, ‘একদম সত্যি।’ সে পৃথার শরীরের কাঁপুনি টের পাচ্ছিল। গত কয়েকদিনে পৃথা তাকে একবারও আলিঙ্গন করেনি। আজ এই অবস্থায় স্বজনের শরীরে বিদ্যুৎ এল। পৃথা বলল, ‘কাল নয় কেন?’ ওর মুখ স্বজনের বুকে চেপে রয়েছে।

    ‘কাল সকালে অপারেশন করব। ডাক্তার হিসেবে চব্বিশ ঘণ্টা আমার অপেক্ষা করা উচিত।’

    ‘ঠিক বলছ তো?’ পৃথা মুখ তুলল। ওর দুই চোখে জল, কিন্তু ওই জলে আনন্দ আছে।

    ‘হ্যাঁগো।’ স্বজন মুখ নামাল।

    শুকনো তপ্ত ঠোঁটে ঠোঁট নেমে আসামাত্র ঝড় উঠল। এতদিনের কষ্ট, অভিমান, ক্রোধ মুছে গেল আচমকা। বিশ্বচরাচর বিস্মৃত হয়ে গেল আচম্বিতে। দুটো শরীর কিছুক্ষণ পৃথিবীর যাবতীয় ঝড় একত্রিত করে চুরমার হতে লাগল। তারপর বিছানায় পাশাপাশি নিথর হয়ে শুয়ে রইল ওরা পরস্পরকে আঁকড়ে ধরে। একসময় পৃথা বলল, ‘পরশু কখন যাব?’

    ‘কারফিউ থাকলে যে-সময়টা শিথিল হয় সেই সময়ে।’

    ‘এখান থেকে সোজা কলকাতায় তো?’

    ‘একদম সোজা।’

    পৃথা নিঃশ্বাস ফেলল। স্বস্তির নিঃশ্বাস। স্বজন পাশ ফিরল। স্ত্রীর মুখের দিকে তাকাল। এই মুহূর্তে ওকে অনেকটা স্বাভাবিক ঠেকছে। সে ধীরে ধীরে ওর মাথায় হাত বোলাতে লাগল।

    হঠাৎ পৃথা জিজ্ঞাসা করল, ‘লোকটা খুব গম্ভীর ধরনের?’

    ‘কোন লোকটা?’

    ‘আকাশলাল?’

    ‘হ্যাঁ, ব্যক্তিত্ব আছে।’

    ‘ও কী হতে চায়?’

    ‘কী হতে চায় মানে?’

    ‘মুখের চেহারা কী রকম করতে চাইছে?’

    কিছু বলেনি। ও ওর মুখাবয়ব পাল্টাতে চাইছে।’

    পৃথা উঠল। ব্যাগ থেকে একটা কাগজ কলম বের করে কীসব আঁকল মন দিয়ে। ওকে দেখছিল স্বজন। এতক্ষণে মেয়েটা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পেরেছে।

    ‘কী করছ?’

    ‘বিরক্ত কোরো না।’ কপট গাম্ভীর্য পৃথার মুখে।

    স্বজন অপেক্ষা করল। কাগজটা নিয়ে পৃথাই চলে এল কাছে, ‘লোকটার মুখ এইরকম করা নিশ্চয়ই অসম্ভব নয়!’

    স্বজন হো হো করে হাসল, ‘এ তো হিটলারের মুখ।’

    ‘ও তো তাই। জোর করে আমাদের আটকে রেখেছে।’

    ‘তা বলতে পার, হিটলারি কায়দায়, কিন্তু একটু পার্থক্য আছে। আকাশলাল তার দেশকে স্বৈরতন্ত্র থেকে উদ্ধার করতে চায়, জনসাধারণকে তাদের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিতে চায়। নিজের নিরাপত্তা ঠিক রাখতেই ও আমাদের আটকে রাখতে বাধ্য হয়েছে।’

    ‘বাধ্য হয়েছে!’ তেতো গলায় বলল পৃথা, আমরা যদি টুরিস্ট লজে থাকতাম, নিজেরা ঘুরে বেড়াতাম আর ঠিক কাজের সময় তোমায় যদি ডেকে আনত, তাহলে কী অসুবিধে হত?’

    ‘সেটা বলতে পার। কিন্তু কারফিউ-এর মধ্যে কোথাও যেতে পারতে না তুমি।’ বলেই হেসে ফেলল স্বজন, ‘তুমি তিনদিন টিভি খুলতে দাওনি। পৃথিবীতে কী হচ্ছে আমি জানি না। এখন কি ম্যাডামের অনুমতি পেতে পারি?’

    পৃথাও হাসল। তারপর উঠে গিয়ে রিমোট এনে টিভি চালু করল। সঙ্গে সঙ্গে পর্দায় একটি রাজপথের ছবি ফুটে উঠল। ঘোষকের গলা শোনা গেল, ‘সন্ত্রাসবাদীরা শহরের রাজপথের নীচে গোপনে সুড়ঙ্গ খুঁড়েছিল কবরখানায় পৌঁছানোর জন্যে। এই সুড়ঙ্গ খুঁড়তে ঠিক কতদিন সময় লেগেছে তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা গবেষণা করছেন। সুড়ঙ্গের মধ্যে যারা আটকেছিল তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ অনেক গোপন তথ্য জানতে পেরেছে। পুলিশ কমিশনার মিস্টার ভার্গিস বলেছেন, ওই সব তথ্য পাওয়ার পর সন্ত্রাসবাদীদের ধ্বংস করতে বেশি সময় লাগবে না।

    টিভিতে সুড়ঙ্গের ছবি ভেসে উঠল এবং সেইসঙ্গে কবরখানার। ঘোষকের গলা শোনা গেল, ‘আকাশলালের মৃতদেহ কবর দেওয়ার পর তাকে অপহরণ করার মধ্যে যে রহস্য রয়েছে তা পুলিশ মহল উদ্ধার করার চেষ্টা করছেন। আকাশলালের সহকারী ডেভিডের মৃত্যু না হলে পুলিশ এতদিনে আরও তথ্য জানতে পারতেন। গত রাত্রে ওয়াশিংটনে এক বোমা বিস্ফোরণে তিনজন মানুষ নিহত হয়েছেন। সংবাদ সংস্থা জানাচ্ছেন— ।’ টিভি বন্ধ করে দিল পৃথা।

    স্তম্ভিত স্বজন স্ত্রীর দিকে তাকাল। নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিল না।

    পৃথা ওর দিকে তাকিয়ে বলল, ‘আকাশলালের মৃতদেহের কথা বলল কী করে?’

    ‘শুনলাম। আমি কিছুই বুঝতে পারছি না পৃথা। টিভিতে সুড়ঙ্গ দেখাল, আকাশলালের মৃতদেহ চুরি করার জন্যে সুড়ঙ্গ হয়েছে বলল অথচ— ।’ ওকে রীতিমত বিভ্রান্ত দেখাচ্ছিল।

    ‘তুমি নিজের চোখে একটু আগে আকাশলালকে দেখে এসেছ?’

    ‘নিশ্চয়ই। কাল সকালে লোকটাকে অপারেট করব।’

    পৃথা মাথা নাড়ল, ‘তাহলে এটা পুলিশি অপপ্রচার। আকাশলাল মারা গিয়েছে বলে পাবলিককে বুঝিয়ে বোকা বানাতে চাইছে।’

    ‘আমার তা মনে হয় না।’

    ‘মনে হয় না?’

    ‘না। পুলিশ সত্যি মনে করছে আকাশলালের মৃতদেহ চুরি হয়ে গেছে। পুলিশের পক্ষে সবার নজর এড়িয়ে রাস্তার নীচে দিনের পর দিন ধরে সুড়ঙ্গ খোঁড়া সম্ভব নয়।’

    ‘তাহলে তুমি কাকে দেখে এলে?’

    ‘আমার কি দেখতে ভুল হয়েছে?’ বিড় বিড় করল স্বজন, ‘শুয়ে থাকলে মানুষের চেহারা অবশ্য একটু অন্যরকম দেখায়। নাঃ, এত বড় ভুল হবে না।’

    ‘আশ্চর্য! ডেডবডি কবর থেকে উঠে এখানে শুয়ে থাকবে কী করে?’

    ‘যদি ডেডবডি না হয়? যদি জীবিত অবস্থায় ওকে কবর দেওয়া হয়?’

    ‘তুমি কি পাগল? পুলিশ ওকে জীবিত অবস্থায় কবর দেবে কেন?’

    ‘পুলিশ যদি মৃত বলে ভুল করে থাকে?’

    ‘উল্টোপাল্টা বলছ। পুলিশের ডাক্তার নেই? ডাক্তার মৃত বা জীবিত বুঝবে না!’

    ‘নিশ্চয়ই বুঝবে। কিন্তু বুঝেসুঝেই যদি করে থাকে! পুলিশের ডাক্তার তো এদের লোক হতে পারে। পারে না? আকাশলাল জানত এভাবেই বেরিয়ে আসবে, তাই আগে থেকে সুড়ঙ্গ খুঁড়িয়ে রেখেছিল। মৃত্যুটা একটা ভাঁওতা। ওপরে যে লোকটা শুয়ে আছে তার ওপর দু-তিন দিন আগে একটা বড় অপারেশন হয়েছে। আমাকে বলা হল হার্টের ব্যাপার। যা অ্যারেঞ্জমেন্ট দেখলাম তা বড় নার্সিংহোমের ভাল অপারেশন থিয়েটারের চেয়ে কোনও অংশে কম নয়। আমি বুঝতে পারছি না পৃথা। মৃত বা অর্ধমৃত কোনও মানুষকে কবরে শুইয়ে আবার তুলে এনে বাঁচানো আমার জ্ঞানে সম্ভব নয়। অথচ লোকটা বেঁচে আছে।’

    পৃথা স্বামীর পাশে এসে দাঁড়াল। কাঁধে হাত রাখল, ‘তুমি এ নিয়ে ভাবছ কেন? পরশুর পর তো আমরা এখানে থাকছি না। কাল তোমার কাজটুকু ঠিকঠাক করে দাও।’

    টেলিফোন বাজল। ভার্গিস রিসিভার তুলে শুনলেন, ‘স্যার প্রধান বাস টার্মিনাসে একটু আগে বোমা ফেটেছে। আমাদের একটা জিপ আর দুজন কনস্টেবল প্রচণ্ড আহত হয়েছে।’

    ‘বোমাটা ছুঁড়ল কে?’

    ‘ধরতে পারা যায়নি। একটু আগে কারফিউ শিথিল হওয়ায় রাস্তায় মানুষের ভিড় ছিল।’

    ‘সার্চ পার্টি পৌঁছে গিয়েছে?’

    ‘হ্যাঁ। এর এক মিনিট বাদেই ভিক্টোরিয়া সিনেমা হলের সামনে আর একটি পুলিশের ভ্যান আক্রান্ত হয়। সেখানেও আড়াল থেকে বোমা ছোঁড়া হয়েছে। কর্তব্যরত সার্জেন্ট গুলি চালালে একজন পথচারী নিহত হয়েছেন।’

    ‘পথচারী বলবেন না, টেররিস্ট বলে ঘোষণা করুন।’

    ‘এইমাত্র আর একটি ইনসিডেন্টের খবর এসেছে স্যার। বারো নম্বর রাস্তার মোড়ে এবার গ্রেনেড ছোঁড়া হয়েছে। হ্যাঁ স্যার, গ্রেনেড। একটা পুলিশ ভ্যান বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। ছজন পুলিশ অফিসার এবং কনস্টেবল স্পট ডেড।’

    দাঁতে দাঁত চাপলেন ভার্গিস, ‘ওরা হঠাৎ এটা শুরু করল কেন?’

    ‘স্যার, দুজন লোক টেলিফোন করে বলেছে ওরা ডেভিডের হত্যার বদলা নিচ্ছে।’

    ‘কারফিউ ইমপোজ করুন। ইমিডিয়েটলি। নো মোর রিল্যাক্সসেসন। রাস্তায় যাকে দেখা যাবে তাকেই গুলি করে মারা হবে।’ রিসিভার নামিয়ে রাখলেন ভার্গিস। তাঁকে খুব উত্তেজিত দেখাচ্ছিল। লোকগুলো এবার মরিয়া হয়ে তাঁকে ভয় দেখাচ্ছে। ভয় দেখিয়ে কেউ তাঁকে দাবিয়ে রাখতে পারবে না। ডেভিডের হত্যার বদলা? দরকার হলে ওর মৃতদেহ মেলার মাঠে ঝুলিয়ে রাখবেন তিনি। পচে পচে খসে না যাওয়া পর্যন্ত পাবলিক দেখুক। হঠাৎ সেই মেয়ে রিপোর্টারের কথা মনে পড়ল ভার্গিসের। ইন্টারকমে আদেশ দিলেন তাকে তাঁর ঘরে নিয়ে আসার জন্যে।

    মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই ভার্গিস অনীকাকে তাঁর সামনে দেখতে পেলেন। ততক্ষণে চুরুট ধরিয়ে ফেলেছেন তিনি। সেই অবস্থায় বললেন, ‘আপনার বন্ধুরা বোমা ছুঁড়ছে, গ্রেনেড ছুঁড়ছে। এর বদলে আমাকে কিছু তো করতে হয়!’

    ‘আমার কোনও বন্ধু এখানে নেই।’

    ‘আলবত আছে। তারাই আপনাকে পাঠিয়েছিল। ডেভিডের সৎকারের জন্যে। আমি সেটা অ্যালাউ না করতে ওরা পুলিশ মারছে।’

    ‘এসব কথা অনর্থক আমাকে বলছেন!’

    ‘শুনুন মিস, বাজে কথা শোনার সময় আমার নেই। কে আপনাকে পাঠিয়েছে?’

    ‘যে লোকটি আমাকে অনুরোধ করেছিল তাকে আমি চিনি না।’

    ‘আমি এখনও আপনার সম্মান বজায় রেখেছি। আমি যদি হুকুম দিই তাহলে আমার লোকজন আপনাকে মার্সিলেসলি রেপ করতে পারলে খুশি হবে।’

    ‘আমি জানি না কোনও রেপ মার্সি-সহকারে করা সম্ভব কিনা।’

    ‘ওঃ, আপনার কি ভয় বলে কিছু নেই?’

    ‘নিশ্চয়ই আছে। কিন্তু একটা কথা ভেবে অবাক হচ্ছি, আপনি আপনার লোকদের দিয়ে ওই কাজটা করাবেন কেন? আমি কি এতই সাবস্ট্যান্ডার্ড?’

    এমন সংলাপ জীবনে কখনও শোনেননি ভার্গিস। তাঁর চোয়াল ঝুলে গেল। তিনি কোনও মতে বলতে পারলেন, ‘বসুন।’

    অনীকা বসল। তারপর জিজ্ঞাসা করল, ‘আমি কি এক কাপ ভাল কফি পেতে পারি?’

    ভার্গিস মাথা নাড়লেন, ‘না। আপনি কিছুই পেতে পারেন না। ডেভিডের সৎকারের অধিকার যদি আপনাকে দিই তাহলে শহরে গোলমাল থেমে যাবে?’

    ‘বলতে পারছি না। কারণ কারা গোলমাল করছে আমি জানি না।’

    ‘ওয়েল! আপনি প্রথমবার কবরখানায় কেন গিয়েছিলেন?’

    ‘আকাশলালের মৃত্যুর খবর আমাকে বিস্মিত করেছিল। কিন্তু মনে হয়েছিল ওর পারিবারিক কবরখানায় আগাম গিয়ে সৎকারের খবর নিয়ে আসি।’

    ‘হুম’! ‘দ্বিতীয়বার গেলেন কেন?’

    ‘আমার সন্দেহ হয়েছিল কোথাও কোনও গোলমাল হয়েছে।’

    ‘কী গোলমাল?’

    ‘ওর মৃত্যুটা আমার কাছে স্বাভাবিক নয়!’

    ‘ডাক্তার সেই সার্টিফিকেট দিয়েছে।’

    ‘হতে পারে। কিন্তু আমি একজন মানুষকে মাটিতে কান পেতে কিছু শুনতে দেখেছিলাম। পরে সুড়ঙ্গের খবরটা পাই। সুড়ঙ্গ খোঁড়া হয়েছিল আকাশলালের শরীর কবর থেকে তোলা হবে বলেই। অর্থাৎ আকাশলাল জীবিত অবস্থায় সুড়ঙ্গ খোঁড়ার পরিকল্পনা করেছিল। কারণ সে জানত আপনার এখানে পৌঁছে সে মারা যাবে অথবা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করা হবে। এই ব্যাপারটা আমার কাছে স্বাভাবিক লাগছে না।’

    ঠিক তখনই টেলিফোন বাজল। রিসিভার তুলতেই ডেস্ক থেকে তাঁকে জানানো হল মিনিস্টার তাঁকে এখনই দেখা করতে বলেছেন। এই প্রথম মিনিস্টার তাঁর সঙ্গে সরাসরি কথা বললেন না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleউত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার
    Next Article ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    সাতকাহন ১ – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }