Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প412 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩২. ব্যান্ডেজটা মুখে জড়িয়ে

    বত্রিশ

    সন্তর্পণে ব্যান্ডেজটা মুখে মাথায় জড়িয়ে ঘরে ফিরে এল সে। একটু চিন্তা করলেই মাথার ভেতর যে কষ্টটা দপদপিয়ে ওঠে সেটা জানান দিচ্ছে। খাটে শুয়ে সে সামনের দিকে তাকাতেই হায়দারকে দেখতে পেল। হায়দার তার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।

    অস্বস্তি হল ওর। হায়দারকে তার চেনা চেনা মনে হচ্ছে কিন্তু ঠিক ঠাওর করতে পারছিল না। হায়দার তার শত্রু না বন্ধু তাও বুঝতে অসুবিধে হচ্ছে। বরং যে-বুড়োমানুষটা একটু আগে এসেছিল তাকে অনেক স্বাভাবিক বলে মনে হয়েছিল। সে দেখল হায়দার চোখ ফিরিয়ে জানলার বাইরে তাকাল। যেন খুব দুশ্চিন্তায় পড়েছে এমন ভাব। হঠাৎ মনে হল ওই লোকটা তাকে আটকে রেখেছে। এই ঘরে এমন অসুস্থ হয়ে তার থাকার কথা নয়। তবে তাকে এখানে আটকে রাখার পেছনে কি উদ্দেশ্য কাজ করছে সেটা বোঝা যাচ্ছে না। ও কি তাকে মেরে ফেলতে চায়? অথবা কারও হাতে তুলে দেবার জন্যে অপেক্ষা করছে? মাথার যন্ত্রণা তীব্র হয়ে উঠতেই সে অস্ফুট শব্দ উচ্চারণ করল। চমকে তার দিকে তাকাল হায়দার। তারপর দ্রুত উঠে এল পাশে, ‘শরীর খারাপ লাগছে নাকি?’

    সে মাথা নাড়ল, না।

    হায়দার কয়েক মুহূর্ত চুপ করে রইল। তারপর বলল, ‘তোমার কি সব কথা মনে আছে?’

    সে চোখ বন্ধ করল। কি উত্তর দেওয়া উচিত? কোনও কথা মনে ঠিকঠাক আসছে না, সেটা জানিয়ে দেবে?

    উত্তর না পেয়ে হায়দার বলল, ‘এইজন্যে আমি ঝুঁকি নিতে নিষেধ করেছিলাম। যে কোনও মুহূর্তে তোমার মৃত্যু হতে পারত। কবরের নীচে শুয়ে যে বেরিয়ে আসে তার কাছে জীবনমৃত্যু সমান। তুমি ভাগ্যবান যে এখনও বেঁচে আছ। কিন্তু কি ভাবে বেঁচে আছ তা আমার জানা দরকার। শুনতে পাচ্ছ আমার কথা?’

    ‘হুঁ।’ সে খুব নিচু স্বরে জানাল।

    ‘দ্যাখো আকাশলাল, তুমি নেতা, আমাদের দেশের নেতা। তোমার মুখের দিকে সমস্ত দেশের নির্যাতিত মানুষ তাকিয়ে আছে। কিন্তু অপারেশনের ফলে যদি তোমার মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয় তা হলে তুমি কারও উপকারে আসবে না। আমার কথা বুঝতে পারছ?’ হায়দার ঝুঁকে কথা বলছিল।

    ‘হ্যাঁ।’ সে ঠোঁট ফাঁক করল।

    ‘পুলিশ তোমকে খুব শিগগির আবার খুঁজতে শুরু করবে। এখন পর্যন্ত তোমার ডেডবডির খবর নিচ্ছিল ওরা। কিন্তু আমাদের কিছু মানুষকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। যে কোনও মুহূর্তেই তারা জেনে যেতে পারে তুমি বেঁচে আছ। আমার কথা তুমি বুঝতে পারছ?’

    সে উত্তর দিল না। তার মস্তিষ্ক কাজ করছিল না। অদ্ভুত অবসাদ তাকে আচ্ছন্ন করে ঘুমের দেশে নিয়ে গেল। হায়দার সেটা লক্ষ করে বিরক্তি নিয়ে সরে এল। তার মনে হল সেই মানুষটা আর নেই। এখনকার আকাশলালকে পাহারা দেওয়া আর মৃতদেহ আগলে বসে থাকা একই ব্যাপার।

    ঘুম ভাঙতেই সে জানলার দিকে তাকাল। কেউ নেই ওখানে। জানলাটাও বন্ধ। ঘরে একটা আবছা অন্ধকার। সে মুখ ফেরাল, কেউ নেই এখানে। হায়দার কোথায় গেল? টয়লেটের দরজাটাও খোলা। সে উঠে বসল। তোমার মস্তিষ্ক যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তা হলে তুমি কারও উপকারে আসবে না। হায়দারের কথাগুলো মনে পড়তেই সে শক্ত হল। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না সে জানে না কিন্তু কিছুই মনে পড়ছে না এখনও। উপকারে না এলে হায়দার কি তাকে মেরে ফেলবে? সে শঙ্কিত হল।

    তাকে আকাশলাল বলে ডেকেছে হায়দার। ওটাই তার নাম। তার অপারেশন হয়েছিল, কবরের নীচে ছিল। সেখান থেকে নিশ্চয়ই তুলে আনা হয়েছে। তার মানে মরে গেলেও আবার তাকে বাঁচানো হয়েছে। সেটা কিভাবে সম্ভব হল তা বোঝা যাচ্ছে না। কিন্তু পুলিশ তার খোঁজ করছে কারণ দেশের নির্যাতিত মানুষের জন্যে সে কিছু করতে গিয়েছিল। কি সব ধোঁয়াশা ধোঁয়াশা কথা।

    আকাশলাল খাট থেকে অন্যমনস্ক হয়ে নামতে যেতেই টাল সামলাতে পারল না। উল্টে পড়ে গেল মেঝের ওপর। মাথাটা বেশ জোরেই ঠুকে গেল খাটের পায়ায়। তীব্র ব্যথায় চিৎকার করে উঠল সে। সেই চিৎকার শুনে কেউ ছুটে এল না। বেশ কয়েক মিনিট মড়ার মতো পড়ে রইল আকাশলাল। দপদপ করছে সমস্ত মাথা। সেটা একটু কমতে সে টলতে টলতে টয়লেটে পৌঁছে গেল। শরীরের ভার হালকা করে মনে হল অনেকটা ভাল লাগছে। আয়নার দিকে তাকাল সে। ব্যান্ডেজমোড়া মুণ্ডখানা কি বীভৎস দেখাচ্ছে। সে নিজের বুকে হাত দিল। চামড়া উঁচু ঠেকল। ক্রমশ হাত নামাতে সে একটা সরলরেখায় মোটা আলের মত কিছু টের পেল বুকের ওপর। চটজলদি জামা সরিয়ে সে শুকিয়ে যাওয়া সেলাই দেখতে পেল। অপারেশন। এখানে অপারেশন হয়েছিল। কেউ চায়নি, সে জোর করেছিল। হঠাৎ বুড়ো ডাক্তারের মুখ চোখের সামনে ভেসে উঠতেই আকাশলাল উত্তেজিত হল। হ্যাঁ, মনে পড়ছে। তার একটু একটু করে মনে পড়ছে। বুড়ো ডাক্তারকে রাজি করাতে তার অনেক সময় লেগেছিল। এ রকম এক্সপেরিমেন্ট এখনও পৃথিবীতে কেউ করেনি। কিন্তু বুড়ো নামের জন্যে লোভী হয়ে ছিল শেষপর্যন্ত। ভার্গিসের হাত থেকে বাঁচার আর কোনও পথ ছিল না। ভার্গিস? একটা বিশাল শরীরের মানুষকে মনে পড়ল। বুলডগ। হাতে চুরুট নিয়ে সারা দেশ খুঁজে বেড়াচ্ছে তাকে। তারপরেই খেয়াল হল হায়দারের কথা। হায়দার বলছিল ভার্গিসের আর চাকরি নেই। কেন?

    এলোমেলো ভাবে ছুটে আসা স্মৃতিকে সাজাতে অনেক সময় লাগলেও কিছু কিছু জায়গায় জোড় লাগছিল না। খাটে শুয়ে শুয়ে আকাশলাল সেই চেষ্টা করছিল। কিছু কিছু ঘটনার কথা স্পষ্ট মনে পড়ছিল আবার কোনও কোনও মুখ বা ঘটনা উধাও। শেষপর্যন্ত আকাশলাল যা ভাবতে পারল তা হল স্বৈরাচারী রাষ্ট্রশক্তির বিরুদ্ধে দীর্ঘকাল সংগ্রাম চালিয়েছিল তারা। দেশের অনেক মানুষ শুধু প্রাণের ভয়ে এবং সংস্কারের কারণে তাদের সঙ্গে যোগ দেয়নি। তার সঙ্গী-সাথীদের অনেকেই পুলিশের হাতে মারা গিয়েছে। তার মাথার মূল্য অনেক টাকা ঘোষণা করা হয়েছিল। ভার্গিস নামের এক পুলিশ অফিসার তাকে ধরার জন্যে মরিয়া হয়ে উঠেছিল। সেই বুড়ো ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে সে ধরা দেয়। বুড়ো তার বুকের মধ্যে অপারেশন করেছিল। প্রথমবার কে জানত। দ্বিতীয়বার, যখন তাকে মৃত ভেবে পুলিশ কবর দিয়েছিল তখন সঙ্গীরা সেখান থেকে তুলে নিয়ে আসার পর বুড়ো অপারেশন করে বাঁচিয়ে তোলে। সে যে বেঁচে আছে তার প্রমাণ এ সব ভাবতে পারছে। কিন্তু অনেক কিছু তার মনে আসছে না। তার নিজস্ব বাড়ি কোথায় ছিল? তার কোনও আত্মীয়স্বজন আছে কি না? এই ছোট্ট ঘরে সে কেন পড়ে আছে? আর ওই লোকটা যে তাকে পাহারা দিচ্ছে সে তার মিত্র কি না! লোকটাকে সে আগে দেখেছে। কিন্তু ডেভিড অথবা আবছা ত্রিভুবনের সঙ্গে এই লোকটার মুখ গুলিয়ে যাচ্ছিল তার কাছে। ত্রিভুবন অথবা ডেভিডের নামও স্পষ্ট মনে আসছিল না।

    দরজায় শব্দ হল। কেউ সেটা খুলল। পায়ের আওয়াজ কাছে আসার পর সে মেয়েটিকে দেখতে পেল। ওর হাতে দুটো কৌটো। চোখাচোখি হতে হাসল মেয়েটা, তারপর জিজ্ঞাসা করল, ‘খিদে পেয়েছে?’

    আকাশলাল মাথা নাড়ল, হ্যাঁ।

    মেয়েটি সঙ্গে সঙ্গে একটা কৌটো নিয়ে এগিয়ে এল। ঢাকনা খুলে সামনে ধরে জিজ্ঞাসা করল, ‘উঠে বসে খেতে পারবে?’

    আকাশলালের ভাল লাগল। সে ধীরে ধীরে উঠে বসে দেখল দুটো মোটা রুটি আর আলুর তরকারি রয়েছে কৌটোর ভেতরে। সে হাত বাড়িয়ে কৌটোটা নিল।

    মেয়েটা বলল, ‘ওরা বলে তোমার মাথায় অপারেশন হয়েছে। কিন্তু তা হলে মুখ ঢাকা থাকবে কেন? মুখে কি হয়েছিল?’

    ‘আমি জানি না।’ রুটি ছিড়ল আকাশলাল। খুব শক্ত।

    মেয়েটা হাসল, ‘তোমার মুখ কেমন দেখতে আমি জানি না।’

    কি জবাব দেবে আকাশলাল। সে রুটি চিবোতে লাগল। চোয়ালে সামান্য চিনচিনে ব্যথা হলেও সে উপেক্ষা করল। মেয়েটা বলল, ‘তোমার সঙ্গী খুব রাগী, না?’

    ‘জানি না।’ গ্রাম্য রান্নাও এখন ভাল লাগছে আকাশলালের।

    ‘ও বলেছে আর কেউ যেন এ ঘরে না ঢোকে। তোমাদের পুলিশ খুঁজছে?’

    ‘কি জানি!’

    ‘তোমাকে যেদিন প্রথম এখানে ভ্যানে চাপিয়ে এনেছিল সেদিন তুমি মড়ার মতো শুয়েছিলে। আমি ভেবেছিলাম ঠিক মরে যাবে।’

    ‘মরে তো যাইনি।’

    ‘হুম্। এক একজনের জান খুব কড়া হয়।’

    ‘এই জায়গাটার নাম কি?’

    ‘কূংলু।’

    ‘এখান থেকে শহর কতদূরে?’

    ‘একদিন হাঁটলে একটা শহরে যাওয়া যায়। সেখানে দুটো সিনেমা হল আছে বলে শুনেছি।’

    ‘ও। বড় শহর? সেখানে মেলা হয়?’

    ‘ও, সে অনেকদূর। গাড়িতে একদিন লাগে।’

    ‘তুমি খুব ভাল মেয়ে।’

    ‘কেউ বলে না এ-কথা।’ মেয়েটা যেন লজ্জা পেল।

    ‘তোমার বিয়ে হয়নি?’

    ‘হয়েছিল। কিন্তু তাকে পুলিশ জেলে রেখে দিয়েছে।’

    ‘কেন?’

    ‘কেন আবার? সে আকাশলালের দলে কাজ করত। সবাই বলে আর কখনও সে ফিরে আসবে না। আর এক বছর দেখি—।’

    আকাশলালের বুকের ভেতর চিনচিন করে উঠল, ‘তারপর?’

    ‘তারপর আবার বিয়ে করব। আমাকে বিয়ে করার জন্যে সাতজন হাঁ করে বসে আছে। আমিও তো মানুষ। কতদিন আর উপোস করে বসে থাকি বলে?’

    ‘ওই সাতজন এই গ্রামের ছেলে?’

    ‘না। চার জন বাইরের। একজনের আবার ঘোড়ার গাড়ি আছে।’

    ‘তুমি কি তাকেই বিয়ে করবে?’

    ‘দেখি। ঘোড়ার গাড়িতে চড়তে আমার খুব ভাল লাগে। আমি চালাতেও পারি। তুমি যদি চড়তে চাও তা হলে আমি ব্যবস্থা করতে পারি।’

    ‘সেটা মন্দ হয় না।’

    ‘কিন্তু ওই গাড়ি এই গ্রামে আনা যাবে না। সবার চোখ টাটাবে। ঘোড়ার গাড়িতে যদি তোমাকে উঠতে হয়, তা হলে হেঁটে নীচের ঝরনা পর্যন্ত যেতে হবে। ওইখানে আমি গাড়িটাকে নিয়ে আসতে পারি, ও রাগ করবে না।’

    ‘তার মানে তুমি ওকেই বিয়ে করবে।’

    ‘উপায় কি? সাতজনের মধ্যে ওই সবচেয়ে ভাল। তবে একবছর অপেক্ষা করতে হবে আমাকে।’

    ‘তোমার স্বামীর নাম কি?’

    ‘বীর বিক্রম।’

    খাওয়া হয়ে গিয়েছিল। আকাশলাল কৌটোটা ফেরত দিয়ে জল চাইলে মেয়েটা ঘরের এক কোণে রাখা পাত্র থেকে কৌটোয় ঢেলে এনে খাওয়াল।

    আকাশলাল জিজ্ঞাসা করল, ‘তা হলে কখন তুমি আমাকে ঘোড়ার গাড়িতে চড়াচ্ছ?’

    ‘কাল ভোরবেলা। খুব ভোরে। সে সময় গ্রামের সবাই ঘুমিয়ে থাকে। কিন্তু তুমি কি রাস্তা চিনে ঝরনার ধারে একা যেতে পারবে?’

    ‘কিভাবে যাব বলে দাও।’

    মেয়েটা চোখ বন্ধ করে ভেবে নিয়ে বলল, এখান থেকে বেরিয়েই বাঁ দিকে হাঁটবে। সরু পায়ে চলা পথ সোজা নীচে নেমে গিয়েছে। তারপর একটা মাঠ পাবে। মাঠের ডানদিক দিয়ে একটু এগোলেই নীচে আর একটা রাস্তা দেখতে পাবে। তার গায়েই ঝরনা।

    ‘কাল ভোরবেলায় তো?’

    ‘হাঁ।’ মেয়েটা কয়েক পা পিছিয়ে গেল, ‘কিন্তু এমন মুখ নিয়ে কি যাওয়া ঠিক হবে?’

    ‘আমি ব্যান্ডেজ খুলে যাব। তোমার চিন্তা নেই।’

    মেয়েটা খালি কৌটো নিয়ে বেরিয়ে গেল একগাল হেসে। দ্বিতীয় কৌটোটা রেখে গেল ঘরে হায়দারের জন্যে। আবার শুয়ে পড়ল আকাশলাল। তার মন বলছিল এই ভাল হল। এখানে থাকতে তার একটুও ইচ্ছে হচ্ছে না। হায়দারকে বিশ্বাস করতে পারছে না সে। কিন্তু পায়ে হেঁটে নিকটবর্তী শহরেও তার পক্ষে যাওয়া সম্ভব নয়। এ ভাবে শুয়ে থাকলেও শরীর সারতে কতদিন লাগবে তা ঈশ্বরই জানেন। এই মেয়েটা সরল। তাই ধরে নেওয়া যায় সত্যি কথা বলছে। ওর ঘোড়ার গাড়িতে চেপে যদি নিকটবর্তী শহরে যাওয়া যায় তাহলে—! কিন্তু অতটা পথ মেয়েটা যেতে রাজি হবে কেন?

    দরজায় শব্দ কানে আসতেই চোখ বন্ধ করল আকাশলাল। তার কানে হায়দারের গলা পৌঁছালেও সে ফিরে তাকাল না।

    ‘এখন তো ঘুমের ওষুধ দিচ্ছি না, তবু দিনরাত ঘুমাচ্ছে কি করে?’ হায়দার বলল।

    বুড়োর গলা কানে এল, ‘অতবড় ধকল গেছে, শরীরের সব শক্তি তত বেরিয়ে গেছে। লিডার আবার আগের মত হয়ে যাবে তো?’

    ‘সেটাই সন্দেহের। মনে হচ্ছে ওর ব্রেন চোট খেয়েছে।’

    ‘সে কি?’

    ‘হ্যাঁ। সবকথা ঠিকঠাক বুঝতে পারছে বলে মনে হয় না।’

    ‘তা হলে কি হবে?’

    ‘দেখি, ভেবে দেখি।’ হায়দারের গলা একটু থেমেই আবার সরব হল, ‘আরে! খাবার দিয়ে গেছে! একটা কৌটো কেন?’

    ‘ভুলে গেছে হয় তো। বড্ড চঞ্চল। আমি দেখছি।’ বুড়ো বেরিয়ে গেল।

    আকাশলাল টের পেল হায়দার একা বসে খাবার খেয়ে যাচ্ছে। আগে কখনই সে তার জন্যে অপেক্ষা না করে খাবার খেতে পারত না। প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে মানুষের ব্যবহার কি দ্রুত বদলে যেতে শুরু করে। আকাশলাল নিঃশ্বাস ফেলল। সেটা কানে যেতেই খাওয়া থামিয়ে হায়দার তাকাল, ‘তুমি কি জেগে আছ?’

    ‘হ্যাঁ!’

    ‘কেমন লাগছে?’

    ‘ঠিক আছি।’

    ‘রুটি তরকারি খাবে?’

    ‘খেয়েছি।’

    ‘তাই নাকি? তা হলে তো ভালই হয়ে গেছ। তোমার কি সব কথা মনে পড়ছে?’

    ‘হ্যাঁ।’

    ‘সব?’ হায়দারের গলায় এখনও সন্দেহ, ‘ইন্ডিয়া থেকে একজন ডাক্তার তার স্ত্রীকে নিয়ে এসেছিল তোমার অপারেশনের জন্যে। মনে আছে কি অপারেশন করেছিল?’

    ব্যাপারটা মুহূর্তে ধোঁয়াশা। সেরকম কিছু হয়েছিল বলে মনে পড়ছে না। কেন এসেছিল? কে এসেছিল? অপারেশন তো বুড়ো ডাক্তার করেছিল। সেটা হয়েছিল বুকের ভেতরে। তা হলে কি মুখে কোনও অপারেশন হয়েছিল? সে মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলল।

    হায়দার উত্তেজিত, ‘কি অপারেশন? কোথায় করেছিল?’

    নিঃশব্দে হাত তুলে নিজের মুখ দেখিয়ে দিল আকাশলাল।

    ‘গুড। ওঃ, বাঁচালে তুমি। তোমাকে নিয়ে কি করা যায় ভেবে পাচ্ছিলাম না। শোন, ভার্গিস নেই। রাজধানীতে এখন অনেকরকম গোলমাল শুরু হয়ে গেছে। আমাদের সেখানে যাওয়া উচিত। কিন্তু তোমার যা শরীরের অবস্থা গাড়ি ছাড়া যেতে পারবে না। আমাদের ভ্যানটার এখানে ফিরে আসার কথা ছিল। এখনও যে কেন সেটা আসছে না তা বুঝতে পারছি না। তুমি কিছুদিন এখানেই থেকে যাও। এই বুড়ো খুবই বিশ্বস্ত। পাশের গ্রামে একটা ঘোড়ার গাড়ির সন্ধান পেয়েছি। লোকটা রাজি হচ্ছে না অত দূরে গাড়ি নিয়ে যেতে। কিন্তু দরকার হলে জোর করতে হবে। আমি আগামী কাল সকাল নটা নাগাদ রওনা হয়ে যাব। ওখান থেকে খবর না পাঠানো পর্যন্ত তুমি এখানেই থেকে যেয়ো। সুস্থ হলে তোমায় নিয়ে যাওয়া হবে।’ হায়দার বলল।

    ‘তুমি এখন সেখানে গিয়ে কি করবে?’

    ‘ম্যাডামের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। ম্যাডাম সাহায্য না করলে তোমাকে নিয়ে ভার্গিস আসার আগে বেরিয়ে আসতে পারতাম না।’

    ‘ম্যাডাম?’ খুব চেনা চেনা লাগছিল সম্বোধনটা।

    ‘তোমার সঙ্গে ম্যাডামের যে গোড়া থেকে সংযোগ ছিল তা তুমি আমাদের বলোনি। নেতা হলেও এতটা ঝুঁকি নেওয়া তোমার উচিত হয়নি। তুমি মারা যাওয়ার পর উনি আমাদের সঙ্গে, মানে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। প্রথমে আমার বিশ্বাস হয়নি ঠিক, পরে—। যাকগে। আমি কি তোমার মুখের ব্যান্ডেজ খুলে ড্রেস করে দেব?’

    ‘এখন নয়।’

    ‘ঠিক আছে। কাল সকালেই করব। যাওয়ার আগে তোমার পরিবর্তিত মুখটাকে আমার দেখে যাওয়া দরকার।’ হায়দার খাওয়া শেষ করে বাইরে বেরিয়ে গেল।

    আকাশলাল নিঃশ্বাস ফেলল। সব কথা তার মাথায় ঠিকঠাক ঢুকছে না। ম্যাডাম কে? তিনি কেন তাদের সাহায্য করছেন? চোখ বন্ধ করতেই তার ঘুম এসে গেল।

    ঘুম ভাঙামাত্র আকাশলালের অস্বস্তি শুরু হল। কি যেন করতে হবে? তারপরেই মনে পড়ে গেল। ঘরের ভেতরটা এখন অন্ধকারে ঠাসা। শুধু ওপাশ থেকে নাক ডাকার শব্দ ভেসে আসছে। সে হায়দারের আবছা মূর্তি দেখতে পেল। ইজিচেয়ারে শুয়ে ঘুমোচ্ছে। এখন কত রাত?

    নিঃশব্দে খাট থেকে নামল আকাশলাল। গতকালের চেয়ে আজ শরীর বেশ ঝরঝরে। মাথার যন্ত্রণাটা তেমন নেই। সে সোজা হয়ে দাঁড়াল। তারপর পা টিপে টিপে জানলার কাছে পৌছে আকাশ দেখল। আকাশে এখন শুকতারা জ্বলছে। বাইরের অন্ধকার তেমন গাঢ় নয়। সে নীচের দিকে তাকাল। হায়দার ঘুমাচ্ছে মড়ার মতো। হঠাৎ অন্ধকারেই কিছু একটা চোখে পড়ল। কালো-মতো বস্তুটা ইজিচেয়ারের হাতলের ওপর হায়দারের নেতিয়ে থাকা হাতের পাশে পড়ে আছে। আকাশলাল সেটা তুলে নিতেই রিভলভারটাকে অনুভব করল। তা হলে হায়দারের কাছে রিভলভার ছিল।

    অস্ত্রটাকে পকেটে পুরে সে দরজার দিকে এগোল। এখনও রাত শেষ হয়নি। মেয়েটা কি এরই মধ্যে একা বেরিয়ে গেছে পাশের গ্রামের প্রেমিকের ঘোড়ার গাড়ি নিয়ে আসতে? এত সাহস কি ওর হবে? কিন্তু ও যখন বলেছে তখন তার যাওয়া উচিত। না হলে বেলা বাড়লে হায়দার তাকে একা এখানে রেখে চলে যাবে। তারপর কি হবে কে বলতে পারে?

    দরজাটা খোলার সময় সামান্য আওয়াজ হল। আকাশলাল মুখ ফিরিয়ে দেখল শায়িত শরীরটা নড়ছে না। সে চট করে বাইরে বেরিয়ে এল। সঙ্গে সঙ্গে হিম বাতাসে তার সবঙ্গ কেঁপে উঠল। ভোরের আগে পৃথিবীর বোধহয় বেশি শীতের দরকার হয়। অন্ধকার পাতলা হলেও সে যখন ঢালু পথ বেয়ে নেমে যাচ্ছিল তখন অসুবিধেটাকে টের পেল। মন যা চাইছে শরীর তার সঙ্গে পাল্লা দিতে পারছে না। নিঃশ্বাসের কষ্ট বাড়ছে, সেই সঙ্গে ক্লান্তি। মাঝেমাঝেই দাঁড়িয়ে বিশ্রাম নিতে হচ্ছিল তার। পকেটে হাত যেতেই অস্ত্রটির অস্তিত্ব টের পেয়ে মনে অন্য ধরনের সাহস তৈরি হচ্ছিল।

    এখন গ্রামের সমস্ত মানুষ ঘুমে অচেতন। আকাশলাল ধীরে ধীরে মাঠে নেমে এল। এটুকু আসতেই মনে হচ্ছিল তার শরীরের সমস্ত শক্তি শেষ হয়ে গিয়েছে। সে ওপরের দিকে তাকাল। গ্রামটা এখন কুয়াশায় ঢাকা পড়েছে। এবং তখনই নিজের মুখের কথা মনে এল। এই অবস্থায় যে দেখবে সেই অবাক হবে। ভয়ও পেতে পারে। একটা পাথরের ওপর বসে পড়ল আকাশলাল। তারপর সন্তর্পণে ব্যান্ডেজ খুলতে লাগল। পাকগুলো খুলে এল সহজেই। গতকালের জড়ানোটা সম্ভবত ঠিক ছিল না। এবার তুলোর প্যাড। সেগুলো যেন চামড়ার সঙ্গে শক্ত হয়ে এঁটে আছে। অনেকটা তোলার পরও হাতের তালুতে ওদের অস্তিত্ব ধরা পড়ছিল। টেনে ছিঁড়তে ভয় লাগছিল তার। একটা আয়না থাকলে বোঝা যেত মুখের চেহারা এখন কি রকম দেখাচ্ছে। কিন্তু ব্যান্ডেজ খোলার পর বেশ হালকা লাগছে মাথাটা। অনেকদিন পরে দুই গালে মুখে হাওয়া লাগায় অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছে। আকাশলাল উঠল। একসময় সে যখন ঝরনার কাছে পৌঁছাতে পারল তখন শুকতারা ডুবে গেছে। পুবের আকাশে হালকা ছোপ লাগছে। সুনসান রাস্তার ধারেকাছে কেউ নেই। ধীরে ধীরে ঝরনার কাছে পৌঁছে সে জলে হাত দিল। কনকনে ঠাণ্ডা। হঠাৎ খেয়াল হতে সে এক আঁজলা জল তুলে নিয়ে মুখের ওপর রাখল। মনে হচ্ছিল ঠাণ্ডা জল চামড়া কেটে ফেলছে। কিন্তু কিছুক্ষণ পর কয়েক আঁজলা জলের ঝাপটা পাওয়ার পর মুখটা বেশ পরিষ্কার হয়ে গেল। আকাশলাল টের পেল তার মুখে এখন তুলোর অস্তিত্ব নেই। ঠিক তখনই তার কানে একটা শব্দ এল। ঘোড়ার নালের শব্দ।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleউত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার
    Next Article ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    সাতকাহন ১ – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }