Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প412 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩৩. ঝরনার ধারে পাহাড়ের গায়ে

    তেত্রিশ

    ঝরনার ধারে পাহাড়ের গায়ে শরীরটা আড়ালে রেখে আকাশলাল দাঁড়িয়ে-ছিল। যে আসছে তাকে না দেখে দেখা দেওয়া উচিত নয়। নিজের বুদ্ধিসুদ্ধি ফিরে আসছে ভেবে সে খুশি হল। একটু বাদেই শব্দটা কাছে এগিয়ে এল। হঠাৎই আড়াল থেকে একটা ঘোড়া এবং তার পেছনে সাধারণ চেহারার গাড়ি বেরিয়ে এল যেন। গাড়িটি চালাচ্ছে সেই মেয়েটি, তার পাশে একজন তরুণ। এই কাকভোরে ওরা দুই গ্রাম থেকে এসে কোথায় মিলিত হল কে জানে!

    আকাশলাল দেখতে পেল ঘোড়ার গাড়িটাকে থামিয়ে মেয়েটা ওপরের দিকে তাকিয়ে কিছু একটা বলল ছেলেটাকে। ছেলেটা মাথা নেড়ে নেমে পড়ল গাড়ি থেকে। তারপর ঝরনার দিকে এগিয়ে এল। হয়তো মেয়েটা একাই তার সঙ্গে দেখা করতে চাইছে কিন্তু ছেলেটা আর একটু এলে সে ধরা পড়ে যাবে। আকাশলাল বাধ্য হয়ে আড়াল থেকে বেরিয়ে এল।

    তাকে দেখতে পেয়ে ছেলেটা বেশ অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে গেল। দাঁড়িয়ে পেছন ফিরে মেয়েটাকে কিছু বলল। মেয়েটা এদিকে তাকাতেই আকাশলাল হাত নাড়ল। ততক্ষণে ছেলেটার পাশ কাটিয়ে সে কাছে এগিয়ে এসেছে। মেয়েটা বলল, ‘আপনাকে একদম চিনতে পারছি না।’

    ‘ব্যান্ডেজ খোলার পর কি রকম দেখাচ্ছে? খুব খারাপ?’

    ‘যাঃ! আপনি খুব সুন্দর। ও আমার বন্ধু!’

    ‘সাতজনের একজন?’

    একটুও লজ্জা পেল না মেয়েটি। মাথা নেড়ে বলল, ‘না। সাতজনের মধ্যে সেরা। আপনার সঙ্গী আজ ওর এই গাড়ি নিয়ে শহরে চলে যাচ্ছে। ওকেও সঙ্গে যেতে হবে। আমার সেটা একদম ইচ্ছে নয়।’

    ‘কেন?’ আকাশলাল জিজ্ঞাসা করল।

    ‘লোকটাকে আমার একদম পছন্দ নয়।’

    ‘তোমার বন্ধু যদি আমাকে নিয়ে শহরে যেত তা হলে কি তুমি আপত্তি করতে?’

    মেয়েটি হাসল, ‘না। আপনি ভাল লোক।’

    আকাশলাল ছেলেটির দিকে তাকাল, তা হলে ভাই, তুমি আমার একটা উপকার করো। আমার এখনই এই জায়গা ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত। তুমি আমাকে এমন কোথাও পৌছে দাও যেখান থেকে আমি সদরে যাওয়ার গাড়ি পেয়ে যেতে পারি।’

    ‘এখনই?’ ছেলেটা যেন অবাক হয়েই ছিল।

    ‘হ্যাঁ। নইলে তোমার বিপদ হতে পারে। আমার সঙ্গী আগে শহরে পৌছালে বীরবিক্রমকে মুক্ত করবে। সে ফিরে এলে তোমার বান্ধবী আর কখনই কোনও পুরুষকে বিয়ে করতে পারবে না।’

    ‘আপনার বন্ধু কি আকাশলালের লোক?’

    ‘হ্যাঁ।’

    ‘কিন্তু আমরাও আকাশলালের সমর্থক।’

    ‘বেশ। আকাশলাল তোমাদের কথা জানতে পারলে বীরবিক্রমকে একবছরের মধ্যে গ্রামে ফিরতে দিত না। এটা আমি বাজি রেখে বলতে পারি।’

    ছেলেটা মেয়েটার কাছে এগিয়ে গেল। ওদের মধ্যে নিচু গলায় কিছু কথা হল যা শোনার চেষ্টা করল না আকাশলাল। মেয়েটা এবার তাকে বলল, ‘আপনার শরীর খারাপ। আপনার যেতে খুব অসুবিধে হবে। আপনি কাল পর্যন্ত ঘরের বাইরে যেতে পারেননি।’

    আকাশলাল বলল, “তুমি ঠিকই বলেছ বোন। কিন্তু চলে যাওয়া ছাড়া আমার উপায় নেই।’

    শেষ পর্যন্ত ওরা রাজি হল। মেয়েটা নেমে এল গাড়ি থেকে। ছেলেটি লাগাম ধরে আকাশলালকে ইশারা করতে সে মেয়েটির কাছে গেল, ‘তোমাকে একটা অনুরোধ করব। আমাদের এই যাওয়ার কথা তুমি কাউকে বোলো না। এতে আমার যেমন ক্ষতি হবে তেমনি তোমার বন্ধুরও হবে।’

    মেয়েটি হাসল, ‘আপনি ভয় পাবেন না। আমি কাউকে কিছু বলব না।’

    মিনিট পাঁচেক বাদে ওরা পাহাড়ি পথ দিয়ে চলছিল। ছেলেটি গম্ভীর মুখে লাগাম ধরে তার ঘোড়াটিকে চালনা করছিল। গাড়ি চলা শুরু করলে আকাশলাল বেশ বিপাকে পড়েছিল। গাড়ির দুলুনি তার শরীরকে স্বচ্ছন্দ রাখছিল না। একটু বাদেই পেট গুলিয়ে উঠল। বমি বমি পাচ্ছিল। কিন্তু সে নিজেকে ঠিক রাখতে প্রাণপণ চেষ্টা করছিল। ধীরে ধীরে চলনটা অভ্যেসে এসে যাওয়ার পর সে কিছুটা সুস্থ বোধ করল।

    এখন সূর্য উঠে গেছে কিন্তু রোদ পাহাড়ে ছড়িয়ে পড়েনি। হিম হিম বাতাস আর ভেজা গাছপালার ছাউনির মধ্যে দিয়ে পাহাড়ি পথ বেয়ে গাড়িটা ছুটে যাচ্ছিল।

    আকাশলাল জিজ্ঞাসা করল, ‘তোমার নাম কি ভাই?’

    ‘জীবনলাল।’

    ‘কি করো তুমি?’

    ‘চাষবাস দেখি। জিনিসপত্র বিক্রি করি। মাঝে মাঝে শহরে যাই, প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে এনে গ্রামে গ্রামে ঘুরে বিক্রি করি। আপনি কি করেন?’

    ‘আমি? আকাশলালের বিপ্লবী দলে আছি।’

    ‘মিছি মিছি সময় নষ্ট করছেন। আকাশলাল মরে যাওয়ামাত্র বিপ্লব শেষ হয়ে গিয়েছে।’

    ‘তুমি তাই মনে করো?’

    ‘হ্যাঁ। আমার মনে হয় আকাশলালও দেশের মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।’

    ‘কি রকম?’

    ‘পুলিশ ওঁকে খুঁজে পাচ্ছিল না। উনি যদি কোনও মতে গ্রামে চলে আসতেন তা হলে আগামী একশো বছরেও খুঁজে পেত না। উনি নিশ্চয়ই সেটা জানতেন। অথচ উনি স্বেচ্ছায় মেলার মাঠে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা দিলেন। ওঁর মতো নেতা কেন ধরা দিতে যাবে? উনি জানতেন না ধরা দেওয়া মানে বিপ্লব শেষ হয়ে যাওয়া?’

    ‘হ্যাঁ। এটা ওর ভাবা উচিত ছিল।’

    ‘দেখুন না, ওঁর ধরা দেওয়ার পরই ডেভিডকে পুলিশ ধরে গুলি করে মারল। কয়েকদিন আগে ত্রিভুবনকে সীমান্তের কাছে পুলিশ হত্যা করেছে।’

    ‘তুমি এদের চোখে দেখেছ?’

    ‘না। নাম শুনেছি।’

    ‘হায়দারকে দেখেছ?’

    ‘না। কাল একটা লোক এসেছিল আমার গাড়িটার জন্যে। সন্দেহ হচ্ছিল খুব কিন্তু লোকটা অন্য নাম বলেছে। শুনলাম ও আপনার সঙ্গে থাকে।’

    ‘কিন্তু আকাশলালের মৃতদেহ তো কবর থেকে ওর বন্ধুরা তুলে নিয়ে গেছে।’

    ‘সেটা জানি। কিন্তু মৃত মানুষ বিপ্লব করে না।’

    আকাশলাল মাথা নাড়ল। কথাটা ঠিক। মৃত মানুষ বিপ্লব করে না। সে নিজে এখন সব অর্থে মৃত। হঠাৎ মনে পড়ে যাওয়ায় সে প্রশ্ন করল, ‘তুমি কখনও আকাশলালকে দেখেছ?’

    জীবনলাল এমনভাবে তাকাল যেন কোনও ছেলেমানুষি প্রশ্ন শুনল। সে হাসল, ‘আকাশলাল কোথায় থাকত কেউ জানত না। কিন্তু তাকে দ্যাখেনি এমন মানুষ এদেশে খুঁজে পাবে না। সামনা সামনি না দেখতে পেলেও ছবিতে দেখেছে। এমন কোনও এলাকা নেই যেখানে তাঁর ছবি টাঙিয়ে ধরিয়ে দিতে বলেনি এই সরকার।’

    ‘তুমি তা হলে তাকে দেখলেই চিনতে পারবে?’

    ‘পারতাম। এখন তিনি নেই, সেই সুযোগও আমি পাব না।’

    আকাশলাল নিঃশ্বাস চাপল। বেশ জোর দিয়ে কথাগুলো বলল ছেলেটা। ও যে মিথ্যে বড়াই করছে, তা মনে হচ্ছে না। তা হলে তার মুখে কি এমন অপারেশন হয়েছে যাতে চেহারা এত পাল্টে গেল? সেই ডাক্তার দম্পতি, যার কথা হায়দার বলেছিল, যদি তার মুখে অপারেশন করে থাকে তা হলে কেন করল? যাতে তার চেহারা বদলে যায়, লোকে দেখে চিনতে না পারে সেই কারণে কি? আকাশলালের মনে দুটো প্রশ্ন তীব্র হল। তার পরিবর্তিত মুখের সঙ্গে কে কে পরিচিত? অপারেশন করার সময় ডাক্তার নিশ্চয়ই দেখেছিল। কিন্তু ব্যান্ডেজ খোলার সময় না থাকায় মুখের পরিবর্তিত আকার তার অজানা থেকে গেছে। হায়দার তার সঙ্গে ছিল, ধরে নেওয়া যেতে পারে কিন্তু ব্যান্ডেজ খোলার সুযোগ সে পায়নি। এই জীবনলাল যদি তাকে আকাশলাল বলে চিনতে না পারে তা হলে বদলে যাওয়া মুখ দেখে হায়দারও তাকে চিনতে পারবে না।

    দ্বিতীয় চিন্তাটা জোরালো। সত্যি কি সে নিজে আকাশলাল? তার স্মৃতিতে যা কিছু শেষ পর্যন্ত ধরা দিচ্ছে তাতে আকাশলাল হবার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু সেই ফাঁকগুলো যা সে মনে করতে পারছে না, তা মনে না পড়া পর্যন্ত সে নিজেকে আকাশলাল ভাবতে ভরসা পাচ্ছে না। বোঝা যাচ্ছে দেশের মানুষের কাছে আকাশলাল মৃত। লোকটা স্বেচ্ছায় পুলিশের হাতে ধরা দিয়েছিল। কেন? এ প্রশ্নের উত্তর তার নিজের জানা নেই। ধরা পড়ার পর তার মৃত্যু হল কি ভাবে? মৃত্যুর পরে তাকে কবর দেওয়া হয়েছিল। সেই কবর থেকে যদি সঙ্গীরা বের করে আনে তা হলে মৃত মানুষকে কি করে আবার জীবন্ত করে তুলল ডাক্তার। এটা কি বিশ্বাসযোগ্য? ফলে আকাশলাল কিছুতেই বেঁচে থাকতে পারে না। তা হলে সে কে?

    প্রশ্নটা তাকে পীড়িত করলেও সে ধন্ধে পড়েছে স্মৃতিগুলোর জন্যে, যা তার মনে মেঘের মতো ভেসে আসছে মাঝে মাঝে। এগুলো কেউ তাকে বলেনি। অথচ সে মনে করতে পারছে। তা হলে এর পেছনে সত্য আছে। আর একটা কথা, গতকাল খাট থেকে নামবার সময় পড়ে গিয়ে আঘাত লাগার পর থেকে সে এগুলো মনে করতে পারছে। কেন?

    আকাশলাল জীবনলালকে বোঝাল আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশের অত্যাচারে সে এমন অসুস্থ ছিল যে দেশের খবরাখবর জানার সুযোগ হয়নি। এমনকি আকাশলাল কি ভাবে মারা গেল তাও তার জানা নেই। ফিরে গিয়ে বোকা বনে যাওয়ার আগে সে যদি এ-ব্যাপারে জানতে পারে তা হলে ভাল হয়। জীবনলাল ছেলেটি সাদাসিধে। সে গল্প করার সুযোগ পেয়ে এক এক করে সব ঘটনা বলে যেতে লাগল। অবশ্য এই বর্ণনার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার খুঁটিনাটির মিল ছিল না। সরকারি রেডিও এবং মুখে মুখে প্রচারিত ঘটনায় যে কল্পনার মিশেল থাকে তাকেই জীবনলাল সত্য ভেবে বলে গেল। তবু তার মধ্যে অনেকটা জেনে নিতে পারল আকাশলাল। সে আরও জানতে পারল, আকাশলালকে যে ডাক্তার চিকিৎসা করত সেই বুড়োমানুষটা সীমান্ত পার হতে গিয়ে মরে গেছে।

    অনেক অনেক দিন বাদে বিছানা থেকে সরাসরি উঠে যে পরিশ্রম আজ হয়েছে সেটা টের পাওয়ার আগেই গাড়ির একপাশে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েছিল আকাশলাল। গাড়ির চলার সঙ্গে সঙ্গে তার শরীরে দুলুনি লাগছিল তাতে ঘুমটা আরও গভীর হয়ে গেল। তার মাথাটা কাঠের সিটে মাঝে মাঝে ঠুকে গেলেও সে টের পাচ্ছিল না।

    জীবনলালের বয়স বেশি নয়। কিন্তু সে উৎসাহী এবং, কর্মঠ বলে ওই অল্প বয়সেই ভাল রোজগার করতে আরম্ভ করেছে। অবশ্য গাঁয়ের মানুষের কাছে যে রোজগার ভাল বলে মনে হয় সেটা ওই রকমই। ছেলেটার সঙ্গে প্রেম করার জন্যে অনেক মেয়ে মুখিয়ে আছে, কিন্তু তার মন সে দিয়ে ফেলেছে বীরবিক্রমের বউকে। অবশ্য আর এক বছর পরে ওকে কারও বউ বলা যাবে না। গ্রামের আইন অনুযায়ী যত বছর আলাদা থাকলে এবং সেই সময় সন্তান না জন্মালে স্ত্রীর ওপর স্বামী অধিকার হারাবে তত বছর পার হতে আর এক বছর বাকি আছে। বীরবিক্রমের জেল খেটে বেরিয়ে আসার কোনও সম্ভাবনা নেই। যদিও জীবনলাল আকাশলালের সমর্থক এবং সেই কারণে বীরবিক্রমের মিত্র তবু এই একটি ক্ষেত্রে সে লোকটাকে পছন্দ করছে না। তা ছাড়া বিয়ের পর তোকটা বউকে যত্ন করেনি, মাত্র চারদিনের জন্যে নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিল আর তা থেকেই প্রমাণ হয় ও বউকে ভালবাসে না। সে যে বীরবিক্রমের বউকে ভালবাসে তা অনেকেই পছন্দ করে না। সে জানে অনেকেই মেয়েটার সঙ্গে মিশে ফালতু মজা করতে চায়। কিন্তু মেয়েটা যে তাকে ছাড়া আর কাউকে পাত্তা দেয় না এ-কথাটাও তো ঠিক। তাই কাল রাত্রে যখন মেয়েটা তাকে বলল, অসুস্থ মানুষটাকে একটু ঘোড়ার গাড়িতে চাপিয়ে ঘোরাতে হবে তখন সে আপত্তি করেনি। বস্তুত গাড়িটা তার গর্ব। এবং ঘোড়াটাও। আশেপাশের কয়েকটা গ্রামেও এমন ঘোড়ার গাড়ি খুঁজে পাওয়া যাবে না। কাল বিকেলে যখন লোকটা তার গাড়ি ভাড়া করতে এল তখন সে রাজি হতে চায়নি। অনেক কম টাকা দিচ্ছিল লোকটা। ব্যবসা করতে এসে সে খদ্দের পেলে ফিরিয়ে দেয় না। যদিও লোকটাকে পছন্দ হচ্ছিল না তবু টাকাটার জন্যে একবারে হ্যাঁ বলেনি। এখন মনে হচ্ছে সেটা না বলে ঠিকই করেছে। এই লোকটা যে তার পাশে ঘুমিয়ে আছে সে যে অনেক টাকা দেবে এমন ভরসা নেই কিন্তু যদি বীরবিক্রমের জেল থেকে বেরিয়ে আসা বন্ধ করতে পারে তা হলে টাকা না পেলেও তার চলবে।

    ঘণ্টা তিনেক টানা চলার পরে গাড়িটা একটা ছোট্ট পাহাড়ি গ্রামে ঢোকার পর জীবনলাল ঠিক করল আধঘণ্টাটাক ঘোড়াটাকে বিশ্রাম দেওয়া দরকার। এই গ্রামটা ছোট কিন্তু পথের ধারে একটা চা এবং রুটিতরকারির দোকান আছে। সকাল থেকে কিছু খাওয়া হয়নি। জীবনলাল গাড়ি দাঁড় করিয়ে গাড়ির পেছন থেকে কিছু ঘাস টেনে বের করে ঘোড়টার সামনে রেখে তার সঙ্গীর দিকে তাকাল। লোকটা মরে গেল নাকি। গাড়ি থেমেছে অথচ ওর ঘুম ভাঙছে না? সে কাছে গিয়ে আকাশলালের হাঁটুতে চড় মারল ‘এই যে! উঠবেন?’

    দ্বিতীয় বারে আকাশলাল চোখ মেলল। যেন গভীর কুয়োর নীচে থেকে সে ওপরে উঠে আসছে এমন মনে হল। চোখ খুলে চার পাশটা অচেনা মনে হল তার।

    জীবনলাল জিজ্ঞাসা করল, ‘চা খাবেন?’

    ধীরে ধীরে মাথা নাড়ল সে। জীবনলাল বলল, ‘আপনার শরীর ঠিক আছে তো?’

    ‘হ্যাঁ।’ নীচে নামার চেষ্টা করে আকাশলাল বুঝতে পারল তার মাথা ঘুরছে। সে কোনও রকমে মাটিতে সোজা হয়ে দাঁড়াতেই জীবনলাল হাঁকল, ‘চারটে রুটি, সবজি আর দুটো চা।’

    রুটি এবং সবজি শব্দ দুটো কানে যাওয়ামাত্র আকাশলাল টের পেল তার খুব খিদে পেয়েছে। কিছু খেলে শরীরের আরাম হবে। সে টলতে টলতে দোকানের সামনে রাখা কাঠের বেঞ্চিতে গিয়ে বসে পড়ল।

    তার চোখের সামনে একটা ঢালু উপত্যকা রোদে ঝলমল করছে। আহা, কি মিষ্টি রোদ। পৃথিবীটাকে মাঝে মাঝে এমন সুন্দর লাগে। মনটা ঈষৎ ভাল হয়ে গেল তার।

    পাশাপাশি বসে খাবার খেয়ে নিল জীবনলাল। খাওয়া শেষ করে জল পান করে বলল, ‘একটা কথা, আপনার নামটা এখনও জানা হয়নি।’

    আকাশলাল ছেলেটার দিকে তাকাল। তারপর হেসে বলল, ‘আমাকে আঙ্কল বলল।’

    ‘ও, ঠিক আছে। আপনার কাছে টাকা আছে তো?’

    ‘টাকা?’

    ‘হ্যাঁ, পথে কয়েকবার খাবারের দাম দিতে হবে। তা ছাড়া আমার গাড়ির ভাড়া। ভাল খদ্দেররা আমাকে খাওয়ার টাকা দিতে দেয় না অবশ্য।’

    ‘আমার কাছে তো কোনও টাকা নেই।’

    ‘তার মানে?’ জীবনলাল আঁতকে উঠল।

    ‘আমি অসুস্থ হয়ে বিছানায় শুয়েছিলাম এতদিন। তোমার বান্ধবী বলতে ওর নির্দেশ-মতন আজ চলে এসেছি। আমি টাকা কোথায় পাব?’

    ‘সে কি। তা হলে এসব খরচ কে দেবে?’ জীবনলাল রেগে গেল।

    ‘দ্যাখো ভাই, আমি বুঝতে পারছি সমস্যাটা। তবে তুমি যদি আমাকে বিশ্বাস করো, তা হলে আমি কথা দিচ্ছি যা খরচ হবে তার দ্বিগুণ আমি শোধ করে দেব।’

    ‘দূর মশাই। আমি আপনার নাম পর্যন্ত জানি না, বিশ্বাস করব কি?’ জীবনলাল বলতেই দোকানি বলে উঠল, ‘জীবনলাল, তুমি অর্ডার দিয়েছ, দাম তোমার কাছ থেকে নেব।’

    ‘ঠিক আছে ঠিক আছে। সেটা তোমাকে ভাবতে হবে না।’ দোকানিকে ঝাঁঝিয়ে কথাগুলো বলে জীবনলাল তাকাল, ‘আপনার কাছে কি নেই?’

    সঙ্গে সঙ্গে মনে পড়ে গেল আকাশলালের। সে পকেটে হাত রেখে বলল, ‘আছে। আমার কাছে একটা রিভলভার আছে। ওটা বিক্রি করলে কত দাম পাওয়া যাবে?’

    ‘রিভলভার?’ বিড় বিড় করল জীবনলাল।

    ‘হ্যাঁ। নেবে?’

    ঠিক তখনই গাড়ির আওয়াজ পাওয়া গেল। ওরা মুখ ঘুরিয়ে দেখল দু-দুটো পুলিশ-জিপ উঠে আসছে নীচের রাস্তা ধরে। জিপ দুটোয় অস্ত্রধারী পুলিশ ভর্তি।

    ঠিক চায়ের দোকানের সামনে জিপ দুটো দাঁড়িয়ে গেল। আকাশলালের বুকের ভেতর শব্দ হচ্ছিল। তার মনে হচ্ছিল এখনই পালানো দরকার। কিন্তু কি করে সে এখান থেকে পালাবে? তার দুটো পায়ে বিন্দুমাত্র শক্তি নেই এখন।

    প্রথম জিপ থেকে কয়েকজন পুলিশ নামল। একজন অফিসার দোকানিকে জিজ্ঞাসা করল ‘কুংলু গ্রামটা এখান থেকে কত দূর?’

    ‘বেশি দূরে না। এই জীবনলাল, কত দূর হবে?’ দোকানদার এদিকে তাকাল।

    জীবনলালের ভাল লাগছিল না। পুলিশদের সে সহ্য করতে পারে না। তা ছাড়া তার খদ্দেরের টাকাপয়সা নেই জেনে মেজাজ খারাপ হয়ে ছিল। সে বলল, ‘অনেক দূর।’

    অফিসার সামনে এগিয়ে এসে সরাসরি একটা বুট পরা পা জীবনলালের ভাঁজ করা হাঁটুতে রেখে জিজ্ঞাসা করল, ‘দোকানি বলছে বেশি দূরে নয় তুই বলছিস অনেক দুর। কোনটা সত্যি? মিথ্যে কথা বললে চামড়া ছাড়িয়ে নেব।’

    হাঁটুর ব্যথা সহ্য করে জীবনলাল বলল, ‘হেঁটে গেলে আট ঘণ্টা, ঘোড়ার গাড়িতে চার ঘণ্টা। আমি কি করে কাছে বলব?’

    বুট সরিয়ে নিল অফিসার, ‘তোর নাম কি?’

    ‘জীবনলাল।’

    ‘আকাশলাল তোর কে হয়?’

    ‘কেউ নয়।’

    ‘কুংলু গ্রামে দুটো বিদেশি অনেকদিন ধরে রয়েছে। জানিস?’

    ‘না। আমি ওই গ্রামে থাকি না।’ জীবনলাল মাথা নাড়ল, ‘ও থাকত।’

    ‘অ্যাই, তোর নাম কি?’ অফিসার আকাশলালের দিকে তাকাল।

    ‘গগনলাল।’

    ‘বাঃ। নামের কায়দা খুব। গগনলাল? আকাশলাল কেউ হয়?’

    ‘সে তো মরে গেছে।’

    ‘শালা মরে গিয়েও ভূত হয়ে আমাদের নাচাচ্ছে। তোদর গ্রামে বিদেশি আছে?’

    ‘হ্যাঁ। দুজন।’ আকাশলাল বলল।

    ‘তুই দেখেছিস?’

    ‘হ্যাঁ। একজনের মাথায় ব্যান্ডেজ।’

    খবর পেয়ে অফিসারকে খুশি দেখাল। ‘তোরা আমাদের সঙ্গে চল।’

    আকাশলাল মাথা নাড়ল, ‘মরে যাব সাহেব। আমার শরীর খুব খারাপ! মুখ দিয়ে রক্ত উঠছে। শহরের হাসপাতালে যাচ্ছি ডাক্তার দেখাতে।’

    সঙ্গে সঙ্গে প্রায় ছিটকেই সরে গেল অফিসার। একটু বাদে জিপ দুটো উঠে গেল ওপরে। জীবনলাল তারিফ করল, ‘তোমার বেশ বুদ্ধি। তা আঙ্কল, মুখ দিয়ে রক্ত বেরুবার মতো গগনলাল নামটাও কি বানানো?’

    আকাশলাল হাসল। উত্তর দিল না। দাম মিটিয়ে দিয়ে জীবনলাল বলল, ‘শোন, তোমাকে টাকা পয়সা দিতে হবে না। কিন্তু কথা দিতে হবে যাতে বীরবিক্রম এক বছরের মধ্যে ফিরে না আসে সেই ব্যবস্থা তুমি করবে।’

    কথা দিলাম।’

    পরের দিন সন্ধের মুখে ওরা রাজধানীতে পৌঁছে গেল। পথে যে কটা পুলিশি জেরার সামনে পড়েছিল তা পেরিয়ে আসতে তেমন অসুবিধে হয়নি। আকাশলাল খুবই নিশ্চিত হয়েছিল এই ভেবে যে হয় সে আদৌ আকাশলাল নয় অথবা মুখের ওপর অপারেশন হওয়ায় তার চেহারা একদম বদলে গেছে।

    শহরে ঢুকে জীবনলাল জিজ্ঞাসা করল, ‘তুমি কোথায় যাবে আঙ্কল?’

    আকাশলাল বলল, ‘জানি না। দেখি।’

    ‘তোমার পকেটে তো পয়সাও নেই।’

    ‘হ্যাঁ। কিন্তু আমি তোমার কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকলাম ভাই।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleউত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার
    Next Article ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    সাতকাহন ১ – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }